Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ২৬৬ ঠিক করুন


করেছিলেন ? কুরায়শ বৎশকে মর্যাদা ৷র আসনে আসীন করেছিলেন ৷ এ জন্যে আরব জাতি র্তাকে
মুজা ৷’ম্মি বা “একত্রকা ড়ারী” নামে আখ্যা ৷য়িত করেছে ৷৩ তার সম্পর্কে জনৈক ক বৃ বলেছেন :

ন্,ট্রুপ্ণ্ র্দু১এ
“তোমাদের পুর্বপুরুষ কি একত্রকারী উপাধিতে ভুষিত ছিলেন না ? তার মাধ্যমে আল্লাহ্
তাআল৷ ফিহ্র গোত্রের সকল শাখাকে একত্রিত করেছেন ৷”

হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না তা নয় ৷ যুবক বলল, আপনাদের মধ্যে কি আব্দ
মানাফ আছেন, যিনি সকল ওসীয়াণ্ডে র কেন্দ্রবিন্দু এবং সকল নেতার নেতা ? আবু বকর (রা)
বললেন না, সেই ৷ যুবক বলল,৩ তবে আপনাদের মধ্যে কি আমর ইবান আব্দ মানড়াফ হাশিম
আছেন, যিনি নিজ গোত্র ও মক্কাবাসীদের জন্যে রুটি ছারীদ থাওয়াতেন ? তার সম্পর্কে কবি
বলেছেন :

উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন আমর নিজ সম্প্রদায়ের লোকদের ছারীদ দিয়ে আপ্যায়িত করেছেন ৷
মক্কার লোকেরা তখন ছিল ক্ষুধার্ত, নিরন্ন ও শীর্ণকায় ৷
ৰুওাছুট্রু খু ৷ ছুাছু,ড়ু ন্ঢুট্রুহুএ্ ৷
তারা শীত ও গ্রীষ্ম উভয় ঋতুতে তার নিকট অ ৷সার জনােই ক ৷ফেলা পরিচালনা করত ৷
ৰুওাট্রুটুগু
কুরায়শ বংশ ছিল একটি শিরস্ত্রাণের ন্যায় ৷ এরপর সেটি বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ল ৷
সেটির শীর্ষ অংশ নির্ধারিত থাকল একান্ত ভাবে আব্দ মানাফ গোত্রের জন্যে ৷

আব্দ মানাফ গোত্রের লোকেরা সকলেই সৎকর্মশীল ৷৩ তাদের ন্যায় সৎকর্মণীল লোক

সচরাচর দেখা যায় না ৷ তারা মেহমা নদের উদ্দেশ্যে বলে থাকে আসুন আসুন আতিথ্য গ্রহণ
করুন ৷

চমৎকার ও চিত্তাকর্ষক রং য়ের ভেড়াকে তারা বিনা দ্বিধায় যেহমানদের জন্যে যবাহ্
করে দেয় ৷ তরবারি দ্বারা শত্রুপক্ষকে প্রতিহত করে তারা নিজেদের শিরস্ত্রাণ ৷ও ঘুকুট রক্ষা
করে ৷ ১
এ এএ এএ
থােশ আমদেদ, আপনি য়দি তাদের মহল্লায় যান তবে, তারা সকল প্রকারের
অপমান-লাঞ্চুন৷ ও মিথ্যা অপবাদ থেকে আপনাকে রক্ষা করবে ৷ ২



১ সাদা লোমের মধ্যে কালো চুল ৷ ২ ৰু১৷ সংকট, বিপদ, উপবাস


পৃষ্ঠা ২৬৭ ঠিক করুন


হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না, তিনি আমাদের লোক নন ৷ যুবক বলল, আপনাদের
মধ্যে কি আবদুল মুত্তা ৷লিব আছেন, যিনি শায়বাতুল হামৃদ বা সকল সুনামের যোগ্য পাত্র, যিনি
মকী ক ৷৷ফেল র নে৩ তা, যিনি শুন্যে বিচরণকা রী পাথী এবং মাঠে-প্রা ৷ন্তরে বিচরণকারী জীব জত্তুকে
খাদ্য দ ৷নকারী, যার মুখমওল অন্ধকার রাতে চকচক করে মোতি বিকিরণ করতো ৷ হযরত আবু
বকর (বা) বললেন, না তিনি আমাদের পােত্রভুক্ত নন ৷ যুবকটি বলল, তাহলে কি আপনারা
আরাফাতের অধিবাসী ? হযরত আবু বকর (বা) বললেন, না তা নয় ৷ সে বলল আপনি কি
বায়তৃল্লাহ্শ ৷রীফের তত্ত্বাবধানকারীদের গোত্র ? তিনি বললেন না, তা নয় ৷ সে বলল তবে
আপনি কি নাদওয়৷ ও পরামর্শদাতা ৷সদস্যদের দলভুক্ত ?৷ তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে
বলল , তবে কি হাজীদের পানি পরিবেশনকাবীদের গোত্রভুক্ত? তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে
বলল, তবে কি হাজীদের সেবাকারীদের দলভুক্ত ? তিনি বললেন, না, তাও নয় ৷ সে বলল,
তবে কি আপনি হাব্জীদেরকে দেশে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব পালনকারীদের অন্তর্ভুক্ত ? তিনি
বললেন, না ৷ তা নয় ৷ এবার হযরত আবু বকর (রা) যুবৰ্ড়াপ্ক্কর হাত থেকে তার উটের লাগান
টেনে নিলেন ৷ যুবকটি তাকে লক্ষ্য করে বলল :

শ্শ্শ্শ্শ্


“বন্যায় ভেসে আসা ঝিনুক প্রতিযোগিতায় নেমেছে অপর ঝিনুকের সাথে ৷ প্রবাহ কখনো
এটিকে উপরে উঠার কখনো বা নীচে নামায় ৷ ” তারপর সে বলল , আল্লাহর কসম , হে কুরাযশ
বংশীয় লোক! আপনি যদি একটু অপেক্ষা করেন, তবে আমি আপনাকে সম্যক বলে দিতে
পারবো যে, আপনি কুরায়শের মুল বংশের অন্তর্ভুক্ত-শাখা গোত্রের নয় ৷

বর্ণনাকারী বলেন, এবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদের দিকে তাকালেন মুচকি হেসে ৷ হযরত
আলী (বা) বলেন, আমি বললাম, হে আবু বকর ৷ বেদৃঈন আরব যুবকের সম্মুখে আপনি এক
-মস্ত ঝামেলায় পড়েছিলেন বটে ৷ তিনি বললেন, হে হাসানের পিতা ! তা-ই, বিপদের উপর বড়
বিপদ এবং ৎকটের উপর মহাসংকট থাকে ৷ কথায় বিপদ টেনে আংন ৷

বর্ণনাকারী হযরত আলী (বা) বলেন, তারপর আমরা একটি মজলিসে উপস্থিত হলাম ৷
সেটি একটি গুরু-গন্তীর ও শান্ত মজলিস ৷ সেখানে ব্যক্তিতৃসম্পন্ন নেতৃস্থানীয় লোকজন উপ
ছিলেন ৷ হযরত আবু বকর (রা) এগিয়ে গিয়ে ওদেরকে সালাম দিলেন ৷ বন্তুত সকল ভাল
কাজেই হযরত আবু বকর অগ্রগামী ৷ হযরত আবু বকর (বা) বললেন, আপনারা কোন
সম্প্রদায়ের লোক ? ওরা বলল, বনু শাযবান ইবন ছালড়াবা গোত্রের লোক ৷ আবু বকর (বা)
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দিকে তাকিয়ে বললেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্যে কুরবান হোন,
ওদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ওদের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন কেউ নেই ৷ এক বর্ণনায় আছে যে,
ওদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ওরা ছাড়া এমন কেউ নেই, যাদের ওযর গ্রহণ করা যায় ৷ এরাই
তাদের সম্প্রাদয়ের শ্রেষ্ঠ সম্প্রদায় ৷ ওই মসলিসে মাফরুক ইবন আমর, হানী ইবন কুবায়সা,
মুছান্ন৷ ইবন হারিছা, নুমান ইবন শুরায়ক প্রমুখ নেতা ছিলেন ৷ মাফরুক ইবন আমরের সাথে
হযরত আবু বকর (বা) এর অধিকতর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ৷ বাগাি৩ ৷ ও ভাষা সৌকর্যে মাফরুক
ছিল তাদের মধ্যে অগ্নণী ৷৩ তার চুলের দুটো বেণী ঝুলে থাকত ৩বুক পর্যন্ত ৷ সে বসেছিল হযরত


পৃষ্ঠা ২৬৮ ঠিক করুন


আবু বকর (রা)-এর নিকটে ৷ আবু বকর (রা) বললেন, তোমাদের সংখ্যা কত ? সে বলল,
আমাদের লোকসংখ্যা এক হাজারের উপরে ৷ এ সংখ্যাকে কম মনে করো না ৷ আমাদের হাজার
লোকের এই দল কখনো পরাজিত হয় না ৷ আবু বকর (বা) বললেন, (তামাদের নিরাপত্তা
পদ্ধতি কেমন ? সে বলল, আমরা অভাব-অনটনে আছি ৷ তবে আমাদের প্ৰতেব্রুকেই কঠোর
পরিশ্রমী এবং নিজ নিজ নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মাঝে
এবং তোমাদের শত্রুদের মাঝে যুদ্ধ বিগ্রহের ফলাফল কেমন ? মাফরুক বলল, আমরা যখন
ক্রদ্ধ হই, তখন আমরা প্রচণ্ডভাবে শত্রুর যুকাবিলা করি ৷ আমরা ছেলে ণ্মযেদের চাইতে বলিষ্ঠ
অশ্বদলকে প্রাধান্য দেই ৷ দুগ্ধবতী উদ্রীর চাইতে যুদ্ধাস্ত্রকে সাহায্য তো আসে আল্লাহর পক্ষ
থেকে ৷ কখনো আমরা বিজয়ী হই, কখনো হই পরাজিত ৷ আমার মনে হয় আপনি কুরায়শ
গোত্রের লোক ৷ হযরত আবু বকর (বা) বললেন, তোমরা শুনে থাকতে পাব যে, আল্লাহর রাসুল
এস্যেছন ৷ এই যে, ইনি সেই রাসুল ৷ মাফরুক বলল, আমরা অবশ্য শুনেছি যে তিনি তা বলে
থাকেন ৷ এবার সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দিকে তাকাল ৷ রাসুলুল্লাহ (না) বলে পড়লেন ৷ আবু
বকর (রা) নিজ কাপড় দ্বারা ৩ারে১ ছায়া দিওে লাগণেন ৷ রাসুপুল্লাহ ৷ সা) বললেন, “আমি
তোমাদেরকে আহ্বান করছি যাতে তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন মাবুদ নেই ৷
তিনি একক-লা শরীক ৷ আর একথা সাক্ষ্য দাও যে, আমি আল্লাহর রাসুল ৷ তোমরা আমাকে
যেন আশ্রয় দাও এবং সাহায্য কর যাতে আল্লাহ আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন আমি তা
সোকজনের নিকট প্রচার করতে পারি ৷ কুরায়শরা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে র্দড়াড়িয়েছে ৷ তারা
আল্লাহর রাসুলকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সত্য বাদ দিয়ে মিথ্যার মধ্যে ডুবে আছে ৷ আল্লাহ
কারো মুখাপেক্ষী নন ৷ তিনি প্রশংসাহ ৷

মাফরুক বলল, হে কুরায়শী ভাই ! আপনি আর কোন বিষয়ে দাওয়াত দেন ? উত্তরে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) তিলাওয়াত করলেন :



৫াৰু৷ ব্লু,পু ১৷ ৷, ড্রু;, ৷ ধ্ন্ ৷,হ্রর্স্ট,পু;’; ৰুা৷ ”,হ্রট্রুাহ্র ,ট্ট’ঝু , ন্,;ঢু, ং,দ্বু;৷ ৷ট্রু,া;; পুা’;

বল, এসো, তোমাদের প্ৰতিপালক তোমাদের জন্যে যা নিষিদ্ধ করেছেন তোমাদেরকে তা
পাঠ করে শুনাই ৷ তা এই?, তোমরা তার কোন শরীক নির্ধারণ করবে না ৷ পিতামাতার প্রতি
সদ্ব্যবহার করবে ৷ দারিদ্রোর আশংকায় তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না ৷
আমিই তোমাদেরকে এবং তাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি ৷ প্রকাশ্য হোক কিৎবা গোপন হোক
অশ্লীল আচরণের নিকটেও যাবে না, আল্লাহ যা হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন যথার্থ কারণ
ব্যতিরেকে তাকে হত্যা করবে না ৷ তোমাদেরকে তিনি এই নির্দেশ দিলেন যাতে তোমরা
অনুধাবন কর ৷ ইয়াতীম বয়প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সুদুদ্দেশ্য ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হবে
না এবং পরিমাণ ও ওজন ন্যায্যতাবে পুরোপুরি দেবে ৷ আমি কাউকে তার সাধ্যাভীত তার
অর্পণ করি না ৷ যখন তোমরা কথা বলবে, তখন ন্যায় কথা বলবে স্বজনের সম্পর্কে হলেও
এবং আল্লাহ প্রদত্ত অংগীকার পুর্ণ করবে ৷ এভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন


পৃষ্ঠা ২৬৯ ঠিক করুন


তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর এবং এ পথই আমার সরল পথ ৷ সুতরাং এরই অনুসরণ করবে এবং
ভিন্ন পথ অনুসরণ করবে না ৷ করলে সেটি তোমাদেরকে তার পথ হতে বিচ্ছিন্ন ক্রবে ৷ এভাবে
আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিলেন যেন তোমরা সাবধান হও” (৬ : ১ ৫ ১ ১ ৫৩ ) ৷

মাফরুক বলল, হে কুরায়শী লোক ! আপনি আর কোন কোন বিষয়ের প্রতি আহ্বান করেন ?
আল্লাহর কলম, এটি তো দৃনিয়ায় বসবাসকারী কারো কথা নয় ৷ তাদের কারো কথা হলে
আমরা অবশ্যই তা জানতাম ৷ এবার রাসুলুল্পাহ্ (সা) তিলত্ত্বওয়াত করলেন :

০ ) ৩

ছা

“আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয় স্বজনকে দানের নির্দেশ দেন এবং তিনি
নিষেধ করেন অশ্লীলত ৷, অসৎ কার্য ও সীমাল০ মনে, তিনি ণ্ত ৷মাদেরকে উপদেশ দেন যাতে
তোমরা শিক্ষাগ্নহণ কর ৷ (১৬ : ৯০)
মাফরুক বলল, হে কুরায়শী ভাই! আপনি তো বড় সুন্দর চরিত্র এবং মহৎ কাজের দিকে
আহ্বান করেন ৷ যারা আপনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আপনার ৰিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা
নিশ্চয়ই আপনার প্রতি অপবাদ দিয়েছে ৷ অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল যে , হানী ইবন কাবাসীকে
সে এই আলোচনায় শামিল করতে চাচ্ছিল ৷ বস্তুত সে বলল, ইনি হানী ইবন কাবীসাহ্ ৷
আমাদের বয়োজ্যষ্ঠ ও ধর্মীয় প্রধান ৷ হানী বলল, হে কুরায়শী ভাই আমি আপনার বক্তব্য
শুনেছি ৷ আপনি যা বলেছেন সত্য বলেছেন ৷ তবে শুধু একটি মজলিসে বসেই আপনার
পেশকৃত বিষয় যাচাই-কাছ ই না করে আমরা যদি আপনার এবং আপনার ধর্মের অনুসরণ শুরু
করি, তবে তা হবে আমাদের পদস্থালন ও ত্রুঢিপুর্ণ মতামত প্রদান তা হবে আমাদের স্থুলবুদ্ধি
ও অপরিণামদর্শিতার পরিচায়ক ৷ চট জলদি কাজ করলে ত্রুটিই হয় ৷ আমরা ছাড়া আমাদের
নিজ এলাকায় অনেক লোক আছে ৷ ওদের উপর কোন সিদ্ধ ত চাপিয়ে দিতে আমরা চাই না ৷
বরং এবারের মত আমরাও ফিরে য ৷ই, আপনিও ফিরে যান ৷ আপনিও অপেক্ষা করুন, আমরাও
অপেক্ষা করি ৷ দেখি শেষ পর্যন্ত কি হয় ৷ মনে হচ্ছিল যে, সে মুছান্ন৷ ইবন হারিছাকে
আলোচনায় শরীক করতে চায় ৷ সে বলল, ইনি ঘুছান্ন৷ আমাদের প্রবীণ ব্যক্তি ও সামরিক
নেতা ৷ মুছান্ন৷ বলল, হে কুরায়শী লোক ৷ আপনার বক্তব্য আমি ওনেছি ৷ তা আমাকে মুগ্ধ
করেছে ৷ হানী ইবন কড়া ৷বীসা আপনাকে যে উত্তর দিয়েছে আমার উত্তরও তাই ৷ আপনার সাথে
একটি বৈঠক করেই যদি আমরা আমাদের দীন-ধর্ম ত্যাগ করে আপনার অনুসরণ শুরু করি,
তবে তা হবে আমাদের নির্বৃদ্ধিত ৷ ৷ আমাদের অবস্থান দুটো জনপদের মধ্যখানে ৷ একটি
ইয়ামামা অপরটি সামাওয়া ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন ওই দুটো কী ? সে বলল, একটি উন্মুক্ত
মরু প্রাম্ভর ও আরব ভুখণ্ড আর অপরটি পারস্য সাম্রাজ্য ও তথাকার জলাভুমি, আমরা এখন
পারসিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ রয়েছি ৷ পারস্য সম্রাটের সাথে আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে যে,
আমরা যেন নতুন কোন পক্ষের সাথে যোগ না সেই এবং নতুন মতবাদ প্রচারকারী কাউকে যেন
আমরা আশ্রয় না দিই ৷ আপনি যে মতামত প্রচার করছেন, তার অনুসরণকারীরা নিশ্চয়ই


পৃষ্ঠা ২৭০ ঠিক করুন


রাজা-বাদশাহদের কোপানলে পড়বে ৷ বন্তুত আরব অঞ্চল স লগ্ন এলাকা য় কেউ এ ক জ করলে
সে দােষের ক্ষমা পাবে এবং তার ওযর গ্রহণ করা হবে ৷ পক্ষান্তরে পারসিক অঞ্চল স লগ্ন
এলাকায় যে আপনার ধর্যমতের অনুসরণ করবে তার অপরাধ ক্ষমা করা হবে না এবং তার
ওমর-আপত্তি গ্রহণ করা হবে না ৷ আপনি যদি চান, তবে আরব অঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় আমরা
আপনাকে সাহায্য করব এবং আপনার নিরাপত্তা বিধান করব ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, সত্য কথা বলে আপনারা মন্দ করেননি ৷ বন্তুত যে ব্যক্তিই
আল্লাহর দীন প্রচারে নেমােছ, তার উপর চারিদিক থেকে নির্যাতন নেমে এসেছে ৷ এরপর
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আচ্ছা আপনারা বলুন তো অল্পকিছু দিন পর আল্লাহ ত৷ আলা যদি
ওদের ধন-সম্পদওলাে আপনাদের হাতে দিয়ে দেন এবং ওদের কম্যাদেরকে আপনাদের
শয্যাসঙ্গিণী বানিয়ে দেন, তবে কি আপনারা মহান আল্লাহ্র তাসবীহ পাঠ ও পবিত্রত৷ বর্ণনা
করবেন ? নুমান ইবন শুরায়ক বলল, হে কুরায়শী লোক! তেমন পরিস্থিতি কী আর হবে ?
রাসুলুল্লাহ (সা) এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন :

!ট্রুা

“হে নবী! আমি তে৷ আপনাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরুপে এবং সুস০ বাদদাতা ও সতর্ককারী-
রুপে ৷ আল্লাহ্র অনুমতিক্রমে তার দিকে আহ্বানকারীরুপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরুপে (৩৩ :
৪৬) ৷

“এরপর হযরত আবু বকর (রা) এর হাত ধরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে উঠে
গেলেন ৷ আলী (বা) বলেন, তারপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদের প্ৰতি তাকিয়ে বললেন হে
আলী! জাহিলী যুগে আরবরা কোন মহান চরিত্রের মাধ্যমে পরস্পর দ্বন্দু-সহুঘাত থেকে
নিজেদেরকে রক্ষা করত ? এবার আমরা আওস ও খাযরাজ গোত্রের মজলিসে উপস্থিত হলাম ৷
তারা কালবিলম্ব না করে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর হাতে বায়আত গ্রহণ করল ৷ আলী (রা ) বলেন,
ওরা ছিলেন স৩ ত্যবাদী ও ধৈর্যশীল ৷ ওই সকল লোকদের বংশ ৷পরিচয় সম্পর্কে হযরত আবু
বকর (রা ) অবগত ছিলেন বলে রাসুলুল্লাহ্ (সা) খুশী হলেন ৷ এর কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
তার সাহাবীণণের নিকট ফিরে গেলেন ৷ তিনি তাদেরকে বললেন, তোমরা বেশী বেশী আল্লাহ
তাআলার প্রশংসা কর ৷ কারণ, আজ রাবীআর বংশধবগণ পারসিকদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ
করেছে ৷ তারা ওদের রাজা বাদশাহদেরকে অবিলম্বে হত্যা করবে, তাদের সৈন্যদের রক্তপাত
বৈধ জ্ঞ ন করবে এবং আমার বদৌলতে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এ ঘটনা
ঘটেছিল য়ুকারের পার্শ্ববর্তী কারাকির নামক স্থানে ৷ এ সম্পর্কে করি আ শা ৷বলেন :

-ছুপুট্রুগ্ট্রু ন্!ট্রুঘ্রদ্বু! ৰু;ৰুা১
বনু বুহল ইবন শায়বান গো ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে যে নৈপুণ্য দেখিয়েছে, তার
জন্যে আমার উন্থী ও উষ্টীর আরোহী তাদের প্রতি উৎসর্গ হোক ৷

ত্রপুড্রুট্রুশ্যু


পৃষ্ঠা ২৭১ ঠিক করুন


শত্রুপক্ষকে তারা আক্রমণ করেছে কারাকির অঞ্চলে ৷ শত্রুদের নেতৃত্বে ছিল হামরুয ৷ শেষ
পর্যন্ত তারা পালিয়ে গিয়েছে ৷ >

-ট্টত্র ঞদু ভ্রুান্ৰু ং ঞ’ ং >; এট্টগু১ৰু , ১১ ১ৰুণ্ এ ১ ১১ ঞন্ৰু ঞ
ওদের পালিয়ে যাওয়৷ র সময় যুহল ইবন শায়বানের মত অশ্বারােহীকে যারা দেখেছে তাদের
দু’ চোখ সার্থক বটে ৷

১পু)ন্থে
ওরাও আক্রমণ করেছে আমরাও আক্রমণ করেছি ৷ আমাদের মাঝে বন্ধুত্ব স্থাপিত হয়েছে ৷
এক সময় আমাদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ ছিল ৷ এখন যে অবস্থা দুর হয়েছে ৷

এটি একটি অত্যন্ত বিরল বর্ণনা ৷ এটি আমরা এজন্যে উল্লেখ করলাম যে, এতে রাসুলুল্লাহ্
(সা)-এর নবুওয়াতের প্রমাণ, তার অনুপম চরিত্র অনিন্দাসুন্দর আদর্শ এবং আরবদের ভাষা
সৌকর্যের অনেক তথ্য রয়েছে ৷

অন্য সনদেও এটি বর্ণিত হয়েছে ৷ তাতে আছে যে, ত্ম্যওস ও খাযরাজ গোত্র যখন
পারসিকদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হল এবং ফুরাত নদীর নিকটবর্তী কা ৷রাকির অঞ্চলে যুদ্ধ অব্যাহত
ছিল, তখন তারা মুহাম্মদ (সা) নামটিকে তাদের পতাকা বানাল ৷ ফলে তারা পারসিকদের
বিরুদ্ধে বিজয় না ৩ করল ৷ পরবর্তীকালে তারা ইসলাম গ্রহণ করেন ৷

ওয়াকিদী বলেন, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াবিস আবাসীর তার পিতার বরা তার দাদা থেকে
বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিনার আমাদের র্তাবুতে এসেছিলেন ৷
আমাদের র্তাবু ছিল মাসজিদের খায়ফ-এর পাশে জামরাতুল উলা-এর বিপরীতে ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) এলেন তার সওয়ারীতে আরোহণ করে ৷ পেছনে বসিয়েছিলেন যায়দ ইবন হারিছা
(রা)-কে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে দাওয়াত দিলেন এবং আল্লাহর প্রতি আমার জন্যে
আহ্বান জানালেন ৷ আল্লাহ্র কসম , আমরা তার ডাকে সাড়া দেইনি ৷ হায় আমাদের কল্যাণ
আমাদের ভাগ্যে নেই ৷ তার কথা এবং তার আহ্বান আমরা হব্লুজ্জর মওসুমে শুনেছি ৷ তিনি
আমাদের নিকট এসে র্দাড়িয়েছিলেন এবং আমাদেরকে আল্লাহর প্ৰতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ৷
আমরা র্তার আহ্বানে সাড়া দেইনি ৷ মায়সারা ইবন মাসরুক আবাসী আমাদের সাথে ছিলেন ৷
মায়সারা বললেন, আমরা যদি এই ব্যক্তিকে সত্য বলে মেনে নিই এবং আমাদের সাথে করে
স্বদেশে নিয়ে যাই, তবে তা হবে আমাদের বিচক্ষণতার পরিচায়ক ৷ আমি আল্লাহর কসম করে
বলছি, তার দীন ছড়িয়ে পড়বে এবং অবশ্যই সর্বত্র পৌছে যাবে ৷ লোকজন বলল, থাক বড়াপু,
র্যাকে আয়ত্তে আনার সামর্থ আমাদের নেই, র্তাকে আপনি আমাদের সাথে জড়াবেন না ৷
রাসুলুল্পাহ্ (সা) মায়সারার প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং তার সাথে কথা বললেন ৷ মায়সারা বলল,
আপনার কথা কতই না সুন্দর ৷ কতই না দীপ্তিময় ৷ কিন্তু আপনার বিষয়ে আমার স্বজাতি আমার
বিরোধিতা করছে ৷ বন্তুত স্বজাতির লোকজনকে নিয়েই ব্যক্তির অবস্থান ৷ সম্প্রদায়ের লোকজন
সহযোগিত্০ ৷ না করলে ব্যক্তি হয়ে পড়ে সমাজচুক্তে একঘরে ৷



১ এই পংক্তি এবং পরবর্তী পংক্তি করি আশার কাব্য গ্রন্থে পাওয়া যায়নি ৷


পৃষ্ঠা ২৭২ ঠিক করুন


এরপর বাসুলুল্লাহ্ (সা) সেখান থেকে চলে গেলেন ৷ লোকজন নিজ নিজ পরিবারের নিকট
ফিরে গেল ৷ মায়সারা ওদেরকে বললেন, চল, সকলে ফাদাক নামক স্থানে যাই ৷ সেখানে কতক
ইয়াহুদী আছে ৷ এই লোক সম্পর্কে আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করি ৷ তারা ইয়াহ্রদীদের নিকট
গেল ৷ ইয়াহ্রদীরা তাদের সম্মুখে একটি লিপি পেশ করে তা পাঠ করতে লাগল ৷ তাতে
বাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর উল্লেখ ছিল যে, তিনি উঘী ও আরব বংশীয় নবী ৷ তিনি পাধাব পৃষ্ঠে
আরোহণ করবেন ৷ সামান্য খাবারে সত্তুষ্ট থাকবেন ৷ খুব লম্বাও নন, একেবারে বেটেও নন ৷
তার চুল খুব কােকড়ানােও নয়, একেবারে সােঝাও নয় ৷ তার দুচোখে সুর্যোদয়কালীন লালিমা ৷
ইয়াহ্রদীরা এও বলে দিল যে, তােমাদেরকে যিনি আহবান জানাচ্ছেন তিনি যদি এই লিপিতে
বর্ণিত ব্যক্তি হন, তবে তোমরা তার ডাকে সাড়া দাও এবং তার দীন গ্রহণ কর ৷ আমরা তাকে
হিংসা করি ৷ আমরা তার অনুসরণ করব না ৷ তার কারণে আমরা ন্প্াড় বিপদগ্নস্ত ৷ আরবের
লোক দুভাগে বিভক্ত হবে ৷ একদল তার অনুসরণ করবে ৷ অপর দল তার বিরুদ্ধে লড়াই
করবে ৷ তোমরা অনুসরণকারীদের দলে থেকাে ৷

এবার মায়সারা বললেন, হে আমার সম্প্রদায় ৷ জেনে রেখো , এ বিষয়টি এখন সুস্পষ্ট ৷ তার
লোকজন বলল, তবে আগামী হজ্জ মওসুমে আমরা আবার মক্কায় যাব এবং তার সাথে সাক্ষাত
করব ৷ তারা তাদের দেশে ফিরে গেল ৷ মায়সারা তাদের এই আচরণ সমর্থন করলেন না ৷
বন্তুত তাদের কেউই এ যাত্রার বাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর অনুসরণ করেনি বা ইসলাম ও গ্রহণ করেনি ৷

এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজরত করে মদীনায় এলেন ৷ পরে বিদায় হজ্জ সম্পাদন করলেন ৷
তারপর একদিন তার সাথে মায়সারা-এর সড়াক্ষাত হয় ৷ বাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন তাকে চিনতে
পারেন ৷ মায়সারা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্! আল্লাহর কসম, যেদিন আপনি আমাদের নিকট
এসেছিলেন সেদিন থেকে আমি আপনার অনুসরণ করার জন্যে উদগ্রীব হয়ে আছি ৷ কিন্তু যা
হবার তা হয়ে গেছে ৷ আমার ইসলাম গ্রহণে বিলম্ব হয়ে গেল ৷ আমার সাথে তখন যারা ছিল
তাদের শেষ বাসস্থান কোথায় হবে ইয়া রাসুলাল্লাহ্৷ বাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “ইসলাম ধর্ম
ছাড়া অন্য ধর্মানুসারী হয়ে যাব মৃত্যু হবে সে জাহান্নামে যাবে ৷ মায়সারা বললেন, সকল প্রশংসা
আল্লাহর, যিনি আমাকে রক্ষা করেছেন ৷ এরপর মায়সারা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং সুন্দর
ভাবে ইসলামী জীবন যাপন করলেন ৷ হযরত আবু বকর (বা) তাকে বিশেষ মর্যাদার চোখে
দেখতেন ৷

ওয়াকিদী পৃথক পৃথক ভাবে সকল গোত্রের আলোচনা করেছেন ৷ বনু আমির গোত্র,
গাস্সান গোত্র, বনু ফাযারা, বনু মুরবা, বনু হানীফা, বনু সুলায়ম , বনু আবাস, বনু নাযর ইবন
হাওয়াযিন, বনু ছালাবা ইবন ইকাবা কিনদাহ, কাল্ব, বনু হারিছ ইবন কাআব, বনু আযরা, বনু
কায়স ইবন হাতীম ও অন্যান্য গোত্রের নিকট বাসুলুল্লাহ্ (সা) উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ ওয়াকিদী
তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন ৷ তা থেকে কতক বিশুদ্ধ বর্ণনা আমরা উদ্ধৃত করেছি ৷ সকল
প্রশংসা আল্লাহর ৷

ইমাম আহমদ বলেন, আসওয়াদ জাবির ইবন আবদুল্লাহ (বা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি
বলেন, হরুজ্জর মওসুমে আবাফার ময়দানে গিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা) দীনের দাওয়াত দিয়ে বলতেন ,


পৃষ্ঠা ২৭৩ ঠিক করুন


এমন কেউ আছ কি, যে আমাকে তার সম্প্রদায়ের নিকট নিয়ে যাবে ? কুরায়শর৷ তো আমাকে
আমার প্রতিপালকের বাণী প্রচারে বাধা দিচ্ছে ৷ একদিন হামাদান অঞ্চলের এক লোক তীর
নিকট এল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তাকে বললেন “আপনি কোন অঞ্চলের লোক ? সে বলল আমি
হামাদান অঞ্চলের লোক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনার সম্প্রদায়ের লোকজন কি আমার
নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারবে ? যে বলল, জী ইব্রুড়া পারবে ৷ পরক্ষণে লোকটির আশংকা
হলো, না আমি তার সম্প্রদায়ের লোকজন নিরাপত্তা-চুক্তি ভঙ্গ করে ৷ তাই সে রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর নিকট ফিরে এসে বলল, এ যাত্রা আমি আমার সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট গিয়ে
আপনার কথা বলি ৷ তারপর আগামী বছর আমি আপনার নিকট ৰুভ্রপ্লোব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, তবে তাই হোক ৷ লোকটি চলে গেল ৷ এদিকে রজব মাসে আনসারদের প্রতিনিধিদল
রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট উপস্থিত হল ৷

সুনানে আরবাআ তথা প্রসিদ্ধ চারটি সুনড়ান হাদীছ গ্রন্থের সংকলকগণ ইসরাঈলের বরাতে
এ হাদীছটি উল্লেখ করেছেন ৷ ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এটির সনদ হাসান ও সহীহ্ ৷

আনসায়দের মক্কায় আগমন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর হাতে বায়আত গ্রহণ

এ ঘটনার বর্ণনাকারী হলেন সুওয়াইদ১ ইবন সামিত ইবন আতিয়্যা ইবন হাওত ইবন
হাবীব ইবন আমর ইবন আওফ ইবন মালিক ইবন আওস ৷ তার মাতার নাম লায়লা বিনৃত
আমর নাজ্জারিয়্যা ৷ লায়লা ছিলেন আবদুল মুত্তালিবের মা সালমা বিনত আমরের বোন ৷ এ
হিসাবে সুওয়াইদ হলেন রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দাদা আবদুল মুত্তালিবের খালাত ভাই ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন ইয়ড়াসার বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) এভাবেই কাজ চালিয়ে
যাচ্ছিলেন যে, হরুজ্জর মওসুমে লোকজন একত্রিত হলে তিনি তাদের নিকট যেতেন এবং তার
নিকট আগত হিদায়াত ও রহমতের কথা তাদের নিকট পেশ করতেন ৷ আরবের কোন
নামী-দামী ও গুরুত্বপুর্ণ লোক মক্কায় এসেছে শুনলে তিনি তার নিকট উপস্থিত হতেন এবং
তাকে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, আসিম ইবন উমর তার
সম্প্রদায়ের বয়ােজ্যেষ্ঠদের থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তারা বলেছেন যে, বনু আমর ইবন আওফ
গোত্রের সুওয়াইদ ইবন সামিত হজ্জ কিংবা উমরা উপলক্ষে মক্কায় এসেছিলেন ৷ আপন
সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি সুওয়াইদ “আল কামিল” নামে পরিচিত ছিলেন ৷ তার শক্তি-সামর্থ,
বুদ্ধি , বিবেচনা এবং মর্যাদার নিরিখে তারা র্তাকে এ নামে ডাকত ৷ তিনি বলেন :
র্দু;ন্ওৰু ৷১ণ্ এণ্এ এএান্ এএ ;;ন্ৰুণ্ এ এ ;:;;; :>১ ১১ রা
সাবধান, এমন বহু লোক আছে তুমি যাকে সত্যবাদী বলে মনে কর ৷ তার গোপন
কথাবার্তা যদি তুমি জানতে , তবে তার মিথ্যাচার তোমাকে পীড়া দিত ৷
তার কথা শুনে মনে হয় সে যেন উপস্থিত, আসলে (স উপস্থিত নয় ৷ আর তার অনুপস্থিতি
কালে তার কথাবার্তা যেন বক্ষে ছুরিকাঘাত ৷



১ সুহায়লী বলেছেন সুওয়াইদ ইবন সাল;ত ইবন হাওত ৷


পৃষ্ঠা ২৭৪ ঠিক করুন



স্ ; ,

তার প্রকাশ্য অবস্থান ৫তামাকে আনন্দ দান করে ৷ কিন্তু তার চামড়ার নীচে রয়েছে
প্রত ৷রণার মাদুলী, যা৫ তামার পিঠকে ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়ে ৷

অন্তরে সে যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে তার হিংস্র দৃষ্টির মাধ্যমে তার দ,পু চক্ষু তা
প্রক কা ৷ করে দেয় ৷



হে)গ্লুছু
তুমি তো দীঘদিন আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছ, এবার একটু ম ৷মার কল্যাণ সাধন কর ৷
উত্তম বন্ধু তো নেই যে কল্যাণ সাধন করে ক্ষতবিক্ষত করে না ৷

বন্তুত তার মক্কায় আগমনের সংবাদ শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) তার নিকট গেলেন এবং তাকে
আল্লাহর প্রতি ও ইসলামের প্রতি আহ্বান জানালেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (,সা) এর উদ্দেশ্যে সুওয়াইদ
বললেন, আমার নিকট যা আছে আপনার নিকটও সম্ভব৩ ৩তাই আছে ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন
তোমার নিকট কী আছে ? সে বলল, আমার নিকট লুকমানের লিপি অর্থাৎ লুকমানের প্রজ্ঞাময়
বাণী আছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তা আমার নিকট পেশ কর ৷ সুওয়াইদ তাই করলেন ৷
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এ তো চমৎকার বাণী ৷৩ তবে আমার নিকট যা আছে তা এর চাইতে
উত্তম ৷ আমার নিকট আছে কুরআন মজীদ ৷ আল্লাহ তা জানা সেটি আমার প্রতি নাযিল
করেছেন ৷ সেটি ৫জ্যাতি ও পথ-প্ৰদর্শক ৷ এ পর্যায়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তার নিকট কুরআনের কিছু
ংশ পাঠ করলেন এবং তাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন ৷ তখনই সুওয়৷ ৷ইদ বললেন,
এটি ৫৩ তা সুমহান বাণী ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) চলে এলেন ৷ সুওয়াইদ ফিরে গেলেন মদীনায়
তার নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ৷ তার তার কিছু দিনের মধ্যে খাযরাজ গোত্রের লোকেরা তাকে
হত্যা করে ৷ তার সম্প্রদায়ের লোকজন বলত যে, আমরা দেখেছি সুওয়াইদ মুসলমান অবস্থায়
নিহত হয়েছেন ৷ বুআছ যুদ্ধের পুর্বে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ৷ বায়হাকী (র) হাকিম
ইবন ইসহাক সুত্রে এই বর্ণনাটি আরো সংক্ষিপ্ত আকারে উদ্ধৃত করেছেন ৷

ইয়াস ইবন মুআয-এৱ ইসলামগ্রহণ

ইবন ইসহাক বলেন, হুসাইন ইবন আবদুর রহমান মাহমুদ ইবন লাবীদ সুত্রে বর্ণনা
করেন, তিনি বলেন, এক সময় আবুল হায়সার আনাস ইবন রাফি’ মক্কায় আগমন করে ৷
আবদুল আশআল গোত্রের একদল যুবক ছিল তার সাথে ৷ তাদের একজন ইয়াস ইবন মুআ য ৷
তারা এসেছিল খাযরাজ গোত্রের আক্রমণ থােক নিজেদের সম্পুদায়কে রক্ষার ল৫ক্ষ্য
কুরায়শদের সাথে মৈত্রী চুক্তি সম্পাদন করতে ৷ তাদের আগমনের স বাদ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর
নিকট পৌছে ৷ তিনি তাদের নিকট এসে বসেন এবং বলেন, ৫৩ আেরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছ
তার চাইতে অধিক ভ ৷ল একটি ব্যবস্থা কি৫ তামরা গ্রহণ করবে ? ওরা বলল, সেটা কী?
রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তার বান্দাদের প্রতি আমি তার প্রেরিত রাসুল ৷


পৃষ্ঠা ২৭৫ ঠিক করুন


আমি তাদেরকে আহ্বান জানাই তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে, তার সাথে কাউকে শরীক না
করে ৷ আল্লাহ তাআলা আমার প্ৰতি কিতাব নাযিল করেছেন ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তাদের
নিকট ইসলামের পরিচয় তুলে ধরেন এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন ৷ তখন
ইয়াস ইবন মুআয বললেন, তিনি তখন একজন নবীন যুবক) হে আমার সম্প্রদায়, আপনারা যে
উদ্দেশ্যে এসেছেন তার চাইতে এটি অধিকতর উত্তম ও কল্যাণকর ৷ একথা শুনে দলনেতা
আবুল হায়সার আনাস ইবন রাফি’ এক মুঠো র্কাকরযুক্ত মাটি নিয়ে ইয়াস ইবন মুআয-এর মুখে
নিক্ষেপ করে ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর উদ্দেশ্যে সে বলে, আপনি চলে মনে আপনার সাথে
আমাদের কোন সম্পর্ক নেই ৷ আমরা অন্য কাজে এসেছি ৷ ইয়ান চুপ হয়ে গেল ৷ রাসুল (সা)
উঠে এলেন ৷ ওরা মদীনায় ফিরে গেল ৷ ইতোমধ্যে আওস ও খাযরাজ <:গড়াত্রের মধ্যে বুআছ যুদ্ধ
সংঘটিত হল ৷ অল্প কিছু দিনের মধ্যে ইয়াস-এর মৃত্যু হয় ৷ মাহমুস ইবন লাবীদ বলেন
ইয়াসের সম্প্রদায়ের লোকজন আমাকে বলেছে যে, ওরা তাকে দেখেছে যে , সে সব সময়
সুবহড়ানাল্লাহ্, আলহামদৃ লিল্লাহ্, আল্লাহ আকবর ও লা-ইলাহা ইল্লল্লাহ্ পাঠ করতো ৷ আমৃত্যু
সে নিয়মিত এগুলো পাঠ করেছে ৷ সে যে মুসলমান রুপে মৃত্যুবরণ করোচ্চু তাতে কারো সন্দেহ
নেই ৷ ওই মজলিসে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর মুখে সে যা শুনেছে তার্তেহ সে ইসলামের মর্ম
উপলব্ধি করে এবং ইসলামের প্ৰতি আকৃষ্ট হয় ৷

বুআছ যুদ্ধের ব্যাখ্যায় আমি বলি যে, মদীনায় একটি স্থানের নাম বুআছ ! সেখানে একটি
প্রচণ্ড ও ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয় আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যে ৷ উভয় গোত্রের বহু সড্রান্ত
ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ওই যুদ্ধে নিহত হয় ৷ মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন নেতা জীবিত ছিল ৷
ইমাম বুখড়ারী (র) তার সহীহ্ গ্রন্থে উবায়দ ইবন ইসমাঈল আইশা (রা) থেকে বর্ণনা
করেছেন যে , তিনি বলেছেন, বুআছ যুদ্ধের দিনটি একটি উল্লেখষেগ্যে দিন ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা)এর মিশনের সাফল্যের পটভুমিরুপে আল্লাহ তাআল ওই দিনটি দান করেছেন ৷ এই
যুদ্ধের পর রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় আগমন করেন ৷ যুদ্ধের ফলে তখন মদীনায় নেতারা১
পরস্পর বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন ছিল ৷ ইতোমধ্যে ওদের বড় বড় নেতারা নিহত হয়েছিল ৷

পরিচ্ছেদ
আনসারগণের ইসলামগ্রহণের সুচনা

ইবন ইসহড়াক বলেন , যখন আল্লাহ তাআলা তার দীনকে বিজয়ী করার , নবীকে সম্মানিত
করার এবং নবীকে দেয়া তীর প্রতিশ্রুতি পুরণ করার ইচ্ছা করলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
হহুজ্জর মওসুমে কতক আনসড়ারী লোকের সঙ্গে সাক্ষাত করলেন ৷ তখনও তিনি অন্যান্য বারের
ন্যায় নিজেকে আরব পােত্রগুলোর নিকট পেশ করলেন ৷ এক সময় তিনি আকারায় এসে
উপস্থিত হলেন ৷ সেখানে খাযরাজ গোত্রের কিছু লোকের সাথে তার সাক্ষাত হয় ৷ আল্লাহ
তাআলা ওই লোকগুলোর কল্যাণ চেয়েছিলেন ৷ নিজ সম্প্রদায়ের বয়োবৃদ্ধ লোকদের সুত্রে
আসিম ইবন উমর ইবন কাতাদা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তাদের সাথে যখন
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাক্ষাত হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, আপনারা কোন গোত্রের লোক ?
তারা বললেন, আমরা খাযরাজ গোত্রের লোক ৷ তিনি জিজ্ঞেস করলেন ইয়াহুদীদের মিত্র ? র্তারা



Execution time: 0.05 render + 0.01 s transfer.