Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ২৫৬ ঠিক করুন


ইমাম আহমদ আবদুর রহমান ইবন খালিদ ইবন আবু জাবাল উদওয়ানী তার পিতা
থেকে বর্ণনা করেছেন যে , তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে ছাকীফ গোত্রের পুর্ব প্রান্তে একটি লাঠি
কিংবা ধনৃকে ভর করে দাড়িয়ে থাকতে দেখেছিলেন ৷ তখন তিনি সাহায্য লাভের আশায় তাদের
নিকট আগমন করেছিলেন ৷ আমি তাকে বলতে শুনেছি ;,াপু:৷ ৷দ্ভু ন্ঢুট্রুপু ৷, এই সুরা শেষ
পর্যন্ত ৷ বর্ণনাকারী বলেন, আমি জাহিলী যুগে এই সুরা মুখস্থ করে কেলেছিলাম ৷ তখনও আমি
মুশরিক ছিলাম ৷ এরপর ইসলাম গ্রহণের পরে আমি তা তিলাওয়াত করি ৷ বর্ণনাকারী বলেন,
ছাকীফ পােত্রর লোকেরা তখন আমাকে ডেকে বলেছিল, এই লোকের মুখ থেকে তুমি কী
শুনেছ ? তার মুখ থেকে শোনা সুরাটি আমি ওদের নিকট তিলাওয়াত করলাম ৷ ওদের সাথে
কুরা য়শী লোক যারা ছিল তারা বলল, আমাদের এই লোক সম্পর্কে আমরা অধিক অবগত ৷

সে যা বলছে, আমরা যদি তা সত্য বলে জানতাম, তাহলে আমরা অবশ্যই তার অনুসরণ
করতাম ৷

সহীহ্ বৃখারী ও মুসলিমে আছে, আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহড়াবেৰু বরাৰ্ঢুত আইশা (রা)
থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, উহুদ দিবস কি
অপেক্ষা অধিক কঠিন কোন দিবস আপনার জীবনে এসেছে ? উত্তরে তিনি বললেন, তোমার
সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আমি যে নির্যাতন ভোগ করেছি তার চেয়েও কঠিন নির্যাতন ভোগ
করেছি আকবাে দিবসে ৷ সেদিন আমি নিজেকে আবৃদ ইয়ালীল ইবন আবৃদ কিলড়ালের পুত্রদের
নিকট পেশ করেছিলাম ৷ আমি যা চেয়েছিলাম সে মতে তারা সাড়া দেয়নি ৷ তখন আমি ফিরে
আসছিলাম ৷ আমি তখন দুঃখে ব্যথায় জর্জরিত ৷ শ্রাম্ভ-ক্লান্ত ৷ কারণ আল ছাআলিব নামক স্থানে
এসে আমি সন্বিৎ ফিরে পাই ৷ আমি আমার মাথা উঠিয়ে দেখলাম একখণ্ড যেঘ আমাকে ছায়া
দিয়ে যাচ্ছিল ৷ তাকিয়ে দেখি, সেখানে জিবরাঈল (আ) ৷ তিনি আমাকে ডেকে বললেন,
আপনার সম্প্রদায় আপনাকে কী বল্যেছ এবং কী প্রভ্যুত্তর দিয়েছে তা আল্লাহ্ তাআলা
শুনেছেন ৷ তিনি আপনার সাহায্যে পাহাড়ের দায়িতৃপ্রাপ্ত ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন ৷ ওদেরকে
আপনি যে শাস্তি দিতে চান ফেরেশতাকে তা করার নির্দেশ দিন ৷ সে তা করে দেবে ৷ এরপর
পাহাড়ের ফেরেশতা আমাকে সালাম দিয়ে ঢেকে বললেন হে মুহাম্মদ (সা ) ! আল্লাহ্ তা আলা
আমাকে পাঠিয়েছেন ৷ আপনার গোত্রের লোকেরা আপনাকে কী উত্তর দিয়েছে তা তিনি
শুনেছেন ৷ আমি পাহাড়ের দায়িতৃপ্রাপ্ত ফেরেশতা ৷ আল্লাহ তাআলা আমাকে আপনার নিকট
প্রেরণ করেছেন ৷ আপনি ওদেরকে যে শাস্তি দিতে চান, সে মতে আপনি আমাকে নির্দেশ দিন ৷
আপনি যদি চান তবে এই দুই পাহাড় দিয়ে তাদেরকে চাপা দেয়া হবে ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)
বললেন, না, তা নয় ৷ আমি বরং আশা করছি যে, তাদের বৎশে আল্লাহ্ তাআলা এমন লোক
দিবেন, যারা আল্লাহর ইরাদত করবে তার সাথে কাউকে শরীক করবে না ৷

পরিচ্ছেদ

জিনদের রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর কুরআন তিলাওয়ড়াত শ্রবণ

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক এ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ্ (না ) এর
তাইফ থেকে ফিরে আসার সময় ৷ নাখলা নামক স্থানে রাত্রি যাপনের পর সাহাবীগণসহ তিনি


পৃষ্ঠা ২৫৭ ঠিক করুন


ফজ্যরর নামায আদায় করছিলেন ৷ সেখানে জিনেরা তার কুরআন৩ তিলাওয়াত শুনেছিল ৷ ইবন
ইসহাক বলেন, ওই জিনদের সংখ্যা ছিল সাত ৩৷ ওদের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তাআলা
নাযিল করলেন ;;

াঢু;’া)ছুৰু র্দুা৷)
স্মৃরণ কর, আমি তোমার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম একদল জিনা:ক, যারা কুরআন পাঠ
শুনছিল (৪৬ ও ২৯) ৷
তাফসীর গ্রন্থে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ তার কিছুটা এই গ্রন্থে
ইণ্ডে তাপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷ আল্লাহ্ই ভ ল জানেন ৷

তাইফ থেকে প্ৰতদ্রাবর্তনের পথে রাসুলুল্লাহ্ (সা) মু৩ তঈম ইবন আদীর দায়িত্বে মক্কায়
প্রবেশ করেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সম্প্রদায়ের লোকজন এবার আরো কঠোর ভাবে তার প্রতি
হিৎসা বিদ্বেষ, শত্রুত৷ ও বিদ্রোহ শুরু করে দিল ৷ মহান আ ৷হ্ই সাহায় ৷৷কাে ৷রী এবং তার উপরই
ভরসা ৷

উমাবী তার মাগাযী গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) মক্কায় র্তাকে আশ্রয় দেয়ার
প্রস্তাব সহকারে আরীকাত না৷মের এক ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন আখনাস ইবন শুরায়কের
নিকট ৷ সে বলল, আমরা কুরায়শ গোত্রের মিত্র ! কুরায়শ বৎশে বিপর্যয় ও অশান্তি সৃষ্টিকারী
কোন লোককে আমরা আশ্রয় দিতে পারি না ৷ এরপর আশ্রয় কামনা করে তিনি দুত পাঠালেন
সুহায়ল ইবন আমরের নিকট ৷ সে বলল, আমরা আমির ইবন লুওয়াই-এর বংশধর ৷ ইবন
লুওয ই এর বিরুদ্ধাচরণকারী কাউকে আমরা আশ্রয় দিতে পারব না ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
প্রস্ত৷ ৷ব পাঠালেন মুতঈম ইবন আদীর নিকট ৷ যুতঈম বললেন তাই হয়ে তাকে আসতে বল
রাসুলুল্লাহ্ (সা)৩ তা ৷র নিকট গেলেন এবং সেখানে বা ৷ত্রি যাপন করলেন ৷ সকাল বেলা রাসুলুল্লাহ্
(সা) কে সাথে নিয়ে মু৩ তঈম বের হলেন ৷ মু৩ তঈমের সংগী হল৩ তার পুত্ররা ৷ ওরা ছয়জন কি
সাতজন ৷ সব৷ ৷ই তরবারি সজ্জিত ৷ তারা মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করল ৷ রাসুলুল্লাহ (সা) এর
উদ্দেশ্যে মু৩ তঈম বললেন, যান তাওয়াফ করুন ৷ ওরা সকলে তরবারি উঠিয়ে তাওয়াফের
এলাকায় পাহারা দিচ্ছিল ৷ কিছুক্ষ্যণর মধ্যে আবু সুফিয়ান এলেনমু তঈমের নিকট ৷ তিনি
বললেন, আপনি কি ওর আশ্রয়দা৩ তা নাকি তার অনুসারী ? মু৩ তঈম বললেন, আমি ওর
আশ্রয়-দাতা ৷ আবু সুফিয়ান বললেন, তবে আপনার আশ্রয়দানকে অবমাননা করা হবে না ৷
আবু সুফিয়ান কিছুক্ষণ মুতঈমের নিকট বললেন ৷ ইতোমধ্যে রাসুলুল্পাহ (সা) তাওয়াফ শেষ
করলেন ৷ তিনি ঘরে ফিরে এলেন ৷ ওরাও ফিরে এল ৷ আবু সুফিয়ান চলে গেলেন তার
সাথীদের নিকট ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কয়েক দিন ওখানে অবস্থান করলেন; এরপর মদীনায়
হিজরত করার অনুমতি এল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর মদীনায় হিজরৰ৩ র অল্প কিছু দিন পর
মুতঈম ইবন আদীর ওফাত হয় ৷ তখন কবি হাসৃসান ইবন ছাবিত বললেন আল্লাহর কসম
আমি অবশ্যই তার গোকাগাথা গা ৷ইব ৷


পৃষ্ঠা ২৫৮ ঠিক করুন


মানব জাতির কে ন ব্যক্তি যদি এককভাবে চিরদিনের জন্যে মর্যাদাবান হয়, তবে সেই
একক ব্যক্তি হল মুতঈম ৷ সে তার মর্যাদা ৷কে সমুন্নত করেছে ৷

৷ ট্রু)টুঠুট্রু ট্রু:ন্টুৰুা
(হে মুতঈম শত্রুদের হাত থেকে আপনি তা ৷ল্লাহ্র রাসুলকে আশ্রয় দিয়েছেন ৷ ফলে শত্রুরা

সব ই চিরদিনের জন্যে তথা যত দিন হাজী সাহেবান ইহরাম ব৷ ৷ধা ও খোলার জন্যে৩ তালবিয়া
পাঠ করবেন ততদিনের জন্যে আপনার গোলামে পরিণত হল ৷


মা দ গোত্র, কাহতান গোত্র এরং জুরহুম গোত্রের অবশিষ্ট লেক্যেদরকে যদি তার সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করা হয় —

াটুাষ্ট্রট্রুা
তবে তারা সকলে বলবে যে, তিনি প্ৰতিবেশীর নিরাপত্তা যিধানকারী, দায়িত্ব পালনকারী
এবং অঙ্গীকার রক্ষাকারী ৷

যাদের উপর সুর্য উদিত হয় তাদের মধ্যে তার মত সম্মানী ও মর্যাদবােন দ্বিতীয়টি নেই ৷
-াহ্রদুত্রএ৷ এে ৷ ৷ৰুার্টুগ্লুাষ্কৃ
তিনি যখন কিছু প্রত্যাখ্যান করেন তখন প্রত্যাখ্যান করেনই ৷ স্বডাব চরিত্রে তিনি নম্র ও
ভদ্র ৷ অন্ধকার রাতে তিনি প্রতিবেশীর নির্বিব্ল ঘুমের নিশ্চয়তা দানকারী ৷
আমি বলি, মৃত তঈম ইবন আদীর এই অবদানের প্রেক্ষিতে বদর যুদ্ধের বন্দীদের সম্পর্কে

রাসুলুল্লড়াহ্ (সা) বলেছিলেন যে, এখন যদি মুতঈম ইবন আদী জীবিত থাকতেন এবং এই
নেতাদের মুক্তির আবেদন করতেন, তার তার সম্মানে আমি এদের সবাইকে যুক্তি দিয়ে দিতড়াম ৷

দীনের দাওয়াত নিয়ে রাসুলুল্লাহ্ (না) এর আরব গোত্রসমুহ গমন

ইবন ইসহাক বলেন এরপর রাসুলুল্পাহ্ (সা) মক্কা আগমন করলেন ৷ তার সমাজের
লোকজন এখন র্ত ৷র ৷বিরােধিতা ও তার দীন প্রত ক্লাখ্যানে জঘন্য ষড়য়ন্ত্রকারী ৷ মাত্র অল্প সং খ্যক
দুর্বল ও শক্তিহীন ঈম৷ ৷ানদ র লোক তার পক্ষে ছিল ৷ হক্কজ্জর মওসুমে৩ তিনি বিভিন্ন আরব গোত্রের
মধ্যে উপস্থিত হতেন এবং তাদেরকে বলতেন যে, তিনি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রেরিত পুরুষ
প্রেরিত রাসুল ৷ তারা যেন তাকে সত্য বলে মেনে নেয় এবং বিরোধী পক্ষের অত্যাচার-নির্যাতন
থেকে যেন তাকে রক্ষা করে তিনি তাদের পতি সেই অনুরোধ জানাতেন ৷ যাতে করে আল্লাহ্
তাআলা যা নিয়ে তাকে প্রেরণ করেছেন তা সকলের নিকট পৌছিয়ে দিতে পারেন ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন রাবীঅ৷ ইবন আববাদ বলেন, আমি আমার পিতার সাথে
মিনাতে অবস্থান করছিলাম ৷ তখন আমি বয়সে নবীন যুবক ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) তখন আরবের


পৃষ্ঠা ২৫৯ ঠিক করুন


বিভিন্ন গোত্রের তাবুতে উপস্থিত হচ্ছিলেন আর বলছিলেন, “হে অমুক গোত্র ৷ আমি তোমাদের
প্ৰতি আল্লাহ্র রাসুল ৷ আমি তােমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর ৷
তার সাথে কাউকে শয়ীক করো না ৷ তোমরা যে সব দেবদেবীর পুজা করছ, তা বর্জন কর ৷
তোমরা আমার প্রতি ঈমান আনয়ন কর এবং আমাকে সত্য বলে মেনে নাও ৷ আর তোমরা
আমার শত্রুদেরকে প্রতিহত কর যাতে করে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন
আমি তা সকলের নিবল্ট পৌছাতে পারি ৷ বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পিছে পিছে
একজন লোক উপস্থিত ৩হত ৷ সে ছিল ফর্স৷ মুখ, কুয়াের মত বড় বড় চোখ বিশিষ্ট, তবে টেরা
চোখের লোক ৷ তার পরিধানে ছিল আদনী জামা ও চাদর ৷ রাসৃলুল্লাহ, (না) তার বক্তব্য শেষ
করলে ওই ব্যক্তিটি দাড়িয়ে বল৩ ,“হে অমুক গোত্র! এই লোক ণ্তামাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছে
যাতে তোমরা লাভ ও উয্য৷ দেবীকে বত্ত-নি কর ৷ আর বনু মালিক ইবন আকিয়াশ গোত্রের জিন
মিত্রদেরকে ছেড়ে তোমরা যেন তার নব উদ্ভাবিত গোমরাহীর পথে যাও ৷ খবরদার ৷ তোমরা
তার আ ৷নুগত্য করে৷ না এবং তার কথা শ্রবণ করে৷ না ৷ বর্ণনাকবী বলেন আমি তখন আমার
পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, পিতা ! এই যে লোকটি রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পিছে পিছে ছুটছে আর

তার বিরোধিতা করে চলেছে সে লোকটি কে ? আমার পিতা বললেন যে হল আবদুল
ঘুত্তা ৷লিবের পুত্র আবদুল উঘৃযা আবু লাহাব ৷ সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চাচা

ইমাম আহমদ রাবীআ ইবন আব্বাদ থেকে বর্ণিত ৷ তিনি জাহিলী যুগের লোক
ছিলেন ৷ পরে ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ তিনি বললেন, আমি জাহিলী যুগে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
যুল-মাজায বাজারে দেখেছিলাম ৷ তিনি তখন বলছিলেন :
া,’ৰুাষ্ট্রষ্ইএা৷৷ ১া৷ ৰুা৷ ১৷ ৷,পুটুট্রু১ ,র্চুা৷ fi fl
“হে লোক সকল! তোমরা “লা ইলাহ৷ ইল্লা ৷ল্লাহ্ বল, তাহলে সফলকাম হবে ৷” লোকজন
তার নিবল্ট সমবেত ছিল ৷৩ তার পেছনে ছিল বড় বড় চােখওয়ালা ফর্স৷ ৷চেহারার একজন টেরা
লোক ৷ তার দুটি ঝু টি ছিল ৷ সে বলছিল, ওই লোকটি ধর্মত্যাপী ও মিথ্যাবাদী ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) যেখানেই যাচ্ছিলেন, লোকটিও সেখানে উপস্থিত হচ্ছিল ৷ আমি লোকঢির পরিচয় জিজ্ঞেস
করলাম ৷ উত্তরে বলা হল যে, সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর চাচা আবু লাহাব ৷

বায়হাকী রাবীআ দুওয়ালী থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
দেখোছিলাম যুল ম-াজায বাজারে ৷ তিনি লোকজনের তাবুত্তে তাবুতেগ্ গিয়ে গিয়ে তাদেরকে
আল্লাহর দিকে আহ্বান করছিলেন ৷৩ তার পেছনে পৌর বর্ণের একজন টের৷ চোখের লোক ছিল;
সে বলছিল হে লোকসকল! এই মানৃষটি যেন ( ৷মাদেরকে নিজ নিজ ধর্ম ও পিতৃধর্য সম্পকে
প্রভাবিত করতে না পারে ৷ আ ৷মি বললাম এই লোকটি কে ? উপস্থিত লোকেরা বলল, যে আবু
লাহাব ৷ আবু নুআয়ম “আদ-দালাইল” গ্রন্থে ইবন আবু যি’ ব সাঈদ ইবন সালাম৷ সুত্রে

মুহাম্মদ ইবন ঘুনকাদির থেকে অনুরুপ বর্ণনা করেছেন
এরপর বায়হাকী শুবা কিনানা গোত্রের এক লোক থেকে বর্ণনা করেছেন, যে বলেছে
যে, আমি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে দেখেছিলাম যুল-মাজায বাজারে ৷ তিনি বলছিলেন, হে লোক


পৃষ্ঠা ২৬০ ঠিক করুন


সকল তোমরা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বল, তাহলে তোমরা সফলকাম হবে ৷” তখন আমি
দেখতে পাই যে, অন্য একজন মানুষ তার পেছনে দাড়িয়ে তার প্রতি ধুলি নিক্ষেপ করছে ৷ সে
ছিল আবু জাহ্ল ৷ আবু জাহ্ল বলছিল, হে লোক সকল! এই মানুষটি যেন তোমাদেরকে
তোমাদের দীনের ব্যাপারে প্রভাবিত করতে না পারে ৷ সে চায় যে, তোমরা লাভ ও উবৃযার
উপাসনা ত্যাগ কর ৷ এ বর্ণনায় আছে যে, পেছনের ব্যক্তিটি ছিল আবু জাহ্ল ৷ এটি
বর্ণনাকারীর ভ্রান্তিও হতে পারে ৷ অথবা এমনও হতে পরে যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিরুদ্ধে
অপপ্রচারের জন্যে তার পেছনে কখনো থাকত আবুজাহ্ল আর কখনো থাকত আবু লাহাব ৷
উভয়ে পালা করে তাকে কষ্ট দিত ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, ইবন শিহাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, দীনের আহ্বান নিয়ে
রাসুলুল্পাহ্ (সা) কিন্দা গোত্রের র্তাবুতে উপস্থিত হন ৷ সেখানে তাদের দলপতি মালীহ্ উপস্থিত
ছিল ৷ তিনি ওদেরকে আল্লাহ্র দিকে ভাকলেন এবং নিজেকে তাদের নিকট পেশ করলেন ৷
তারা তার ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানাল ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, মুহাম্মদ ইবন আবদুর রহমান ইবন, হুসাইন আমার নিকট বর্ণনা
করেছেন যে, রাসুলুল্পাহ্ (সা) কালব গোত্রের বড়ানু আবদুল্লড়াহ্ নামক উপগােত্রের র্তাবুতে উপস্থিত
হয়ে তাদেরকে আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দিলেন এবং তাকে নিরাপত্তা দানের অনুরোধ জানালেন ৷
তিনি বললেন, হে বনু আবদুল্লাহ্! আল্পাহ্ তাআলা তো তোমাদের গোত্রীয় পিতাকে একটি
সুন্দর নাম দিয়েছেন ৷ তারা তার দাওয়ত গ্রহণ করেনি এবং তার অনুরোধ রক্ষা করেনি ৷
আমাদের এক সঙ্গী আবদুল্লাহ ইবন কাআব ইবন মালিকের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাকে বলেছেন যে ,
রাসুলুল্লাহ্ (না) বনু হানীফা গোত্রের তাবুতে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি আহ্বান
জানিয়েছিলেন এবং তাকে নিরাপত্তা দানের প্রস্তাব পেশ করেছিলেন ৷ উত্তরে তারা যে কদর্য
ভাষা ব্যবহার করে আরবের অন্য কেউ তা করেনি ৷

রাবী বলেন, যুহরী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমির ইবন
সা’সাআহ গোত্রের নিকট উপস্থিত হয়ে তাদেরকে আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং
তাকে নিরাপত্তা দানের অনুরোধ জানিয়েছিলেন ৷ বুহায়রা ইবন ফিরাস নামের তাদের একজন
প্রত্যুত্তরে বলেছিল, আল্লাহ্র কলম, কুরায়শের এই যুবকটিকে যদি আমি আমার অধীনস্থ করতে
পারতাম, তবে তার মাধ্যমে আমি সমগ্র আরব ভুখণ্ডে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারব ৷ তারপর সে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে বলল, আচ্ছা আমরা যদি আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরণ করি,
তারপর আপনি আপনার বিরোধীদের উপর বিজয় লাভ করেন, তাহলে আপনার পর আমরা কি
রাজত্বের মালিক হব ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, কর্তৃত্ব ও রাজত্ব মুলত আল্লাহ্র হাতে ৷ তিনি
যাকে চান তা দান করেন ৷ তখন বুহায়রা বলল, এ কেমন কথা যে, আপনাকে রক্ষার জন্যে
আমরা অড়ারবদের আক্রমণের মুখে বুক পেতে দেব আর আপনি বিজয়ী হলে রাজত্ব যাবে
অন্যের হাতে ! যাকগে আপনার অনুসরণ করার আমাদের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তারা তার
অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করল ৷


পৃষ্ঠা ২৬১ ঠিক করুন


হভ্রুজ্জর মওসুম শেষে লোকজন নিজ নিজ দেশে ফিরে গেল ৷ বনু আমির গোত্রের লোকেরা
তাদের এক বয়ােবৃদ্ধ নেতৃস্থানীয় লোকের নিকট উপস্থিত ৩হল ৷ বার্ধক্যের কারণে তিনি হরুজ্জ
যেতে পারেননি ৷ প্রতিবছর হজ্জ থেকে ফিরে গিয়ে তারা ওই বছর মক্কায় সং ঘটিত বিষয়সমুহ
তাকে জ নাতে৷ ৷ এবার তার নিকট উপস্থিত হওয়ার পর এই মওসুমে সংঘটিত ঘটনাবলী
সম্পর্কে তিনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন ৷ তারা বলল, কুরায়৷ বংশের বনী আবদুল
যুত্তালিবের এক যুবক আমাদের নিকট এসেছিল ৷ সে দাবী করে যে, সে নবী ৷ তাকে রক্ষা
করার জন্যে, তাকে সাহায্য করার জন্যে এবং তাকে আমাদের দো৷ নিয়ে আসার জন্যে সে
আমাদেরকে অনুরোধ করে ৷ একথা শুনে বৃদ্ধ লোকটিত ৷র মাথায় হাত দিয়ে বললেন হে
আমির গোত্র! তোমাদের জন্যে কি ধ্বৎ স এসে গেল ? যে সুযোগ তোমরা হাতছাড়া করেছ তা
কি আর ফিরে পাবে ? অমুকের প্রাণ যার হাতে তার কসম করে বলছি ৷ ইসমাঈলের বৎশধরেরা
তো এমন বানােয়াট কথা বলে না ৷ তিনি যা এসেছেন তা তো নিশ্চিত সত্য ৷ তোমাদের
বিবেক-বিবেচনা তখন কোথায় ছিল ?

মুসা ইবন উকব৷ যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, ওই বছরগুলোতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) প্রতি হজ্জ
মওসুমে আরব গোত্রদের নিকট উপস্থিত হতেন ৷ প্রত্যেক সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকদের
সাথে তিনি কথা বলতেন ৷ আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দেয়ার সাথে তাদের নিকট তিনি তার
নিজের নিরাপত্তা প্রদানের প্রস্তাব পেশ করতেন ৷ তিনি বলতে ন যে আমি তােমাদেরকে কোন
বিষয়ে জবরদস্তি করব না ৷ আমার পেশকৃত করা যার ভাল লাগবে, যে তা গ্রহণ করবে ৷ যার
ভাল লাগবে না, আমিত তার উপর তা চাপিয়ে দেবো না ৷ আমি চাই যে, আমাকে হত্যার যে
ষড়যন্ত্র চলছে তোমরা তা থেকে আমাকে রক্ষা করবে যাতে আমি আমার প্রতিপালকের
ব্রিসালাত সকলের নিকট পৌছিয়ে দিতে পারি এবং আমার ব্যাপারে এবং আমার সাথীদের
ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সাল৷ পুর্ণ হয় ৷ কিন্তু তাদের কেউই তার প্রস্তাব গ্রহণ করেনি ৷ যে
গোত্রের নিকটই তিনি উপস্থিত তহয়েছেন, সে গোত্রই বলেছে যে, একজন মানুষ সম্পর্কে তার
স্বগােত্রীয় লোকজনইভ ৷ল জানে ৷ তোমরা কি মনে করছ যে, যে লােকটি নিজের সম্প্রদায়ের
মধ্যে অশাস্তি সৃষ্টি করেছে যার ফলে তারা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে সে কী করে আমাদেরকে
সংশোধন ও পরিশুদ্ধ করবে ? মুলতত তাকে আশ্রয় দেয়ার দায়িতু টি আল্লাহ্ তা জানা
আনসারদের জন্যে নির্ধারিত করে রেখেছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে মর্যাদাবান
করেন ৷

হাফিয আবু নুআয়ম আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা)
আমাকে বলেছিলেন, আমি তো আপনার নিকট এবং আপনার স্বগােত্রীয়দের নিকট আশ্রয় ও
নিরাপত্তা পাচ্ছি না ৷ আপনি কি আমাকে আগাষীকাল বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন যাতে করে
আমি অন্য গোত্রের লোকজনের নিকট গিয়ে থাকতে পারি ? বাজার ছিল আরবদের
মিলন মেলা ৷ বর্ণনাকারী বলেন, তখন আমি তাকে নিয়ে গেলাম এবং বললড়াম, এটি কিন্দাহ
গোত্রের তাবু ৷ ইয়ামান থেকে যারা হজ্জ করতে আসে, তাদের মধ্যে এরা শ্রেষ্ঠ ৷ এটি বকর
ইবন ওয়াইল গোত্রেরত তাবু ৷ আর এগুলো হলো আমির ইবন সা স আ গোত্রের তাবু ৷ এগুলো


পৃষ্ঠা ২৬২ ঠিক করুন


থেকে যে কোন একটি তুমি নিজের জন্যে বেছে নাও ৷ তিনি প্রথমে কিন্দা গোত্রের নিকট
গেলেন ৷ বললেন আপ-ণর৷ কোন দেশের লোক ? তারা বলল, আমরা ইয়ামানের অধিবাসী ৷
ইয়ামানের কোন গোত্র ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন ৷ তারা বলল, কিন্দা গোত্রের লোক ৷ তিনি
বললেন, কিন্দা গোত্রের কােনৃ শাখার অন্তর্ভুক্ত আপনারা ? তারা বলল, “আমির ইবন মুআবিয়াহ
শাকার অন্তর্ভুক্ত ৷ তিনি বললেন, “আপনারা কি কল্যাণ চান ? তারা বলল, কেমন কল্যাণ ?
তিনি বললেন, আপনারা এই সাক্ষ্য দিবেন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই, আর নামায
আদায় করবেন এবং আল্লাহ্র পক্ষ থেকে যা এসেছে তাতে বিশ্বাস করবেন ৷

আবদুল্লাহ ইবন আজলাহ্ বলেছেন যে, আমার পিতা তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়
লোকদের বরাতে আমাকে জানিয়েছেন যে, কিন্দা গোত্রের ণ্লড়াত্ব;ণ্কর৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
বলেছিল, “আপনি যদি বিজয়ী হন, তাহলে আপনার পর রাজত্ব আমাদেরকে দেবেন তো ?
তিনি বললেন :


“রাজত্ব আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা ৷তা দান করবেন ৷” তখন তারা বলল, যদি তাই
হয়, তবে আপনি যা নিয়ে এসেছেনত ৩াদিয়ে আমাদের কোন দরকার নেই ৷ কালবী বলেছেন
যে, তারা বলেছিল, আপনি কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যগুলো থেকে বিচ্ছিন্ন করতে
আরবদের মুক৷ ৷বিলায় আমাদেরকে যুদ্ধে জড়াতে এসেছেন ? আপনি বরং আপনার সম্প্রদায়ের
নিকট ফিরে যান, আপনার আনীত দীনে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই ৷ তিনি তাদের নিকট
থেকে ফিরে এলেন ৷

এরপর তিনি গেলেন বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের লোকজনের নিকট ৷ আপনারা কোন
গোত্রের লোক ? তিনি জিজ্ঞেস করলেন৷ তারা বলল, বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের লোক ৷ তিনি
বললেন, বকর ইবন ওয়াইল গোত্রের কোন শাখার আপনারা অন্তর্ভুক্ত? তারা বলল, কা য়স ইবন
ছালাবা শাখার ৷ তিনি বললেন, আপনাদের সংখ্যা কেমন ? তারা বলল, প্রচুর ধুলোবালির
ৎখ্যার ন্যায় ৷ তিনি বললেন, আপনাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেমন ? তারা বলল, আমাদের
নিজস্ব কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই ৷ পারস্য সম্রাট আমাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন ৷ সুতরাং
ওদেরকে বাদ দিয়ে আমরা কাউকে রক্ষা করতে পারব না এবং ওদেরকে ডিঙ্গিয়ে আমরা
কাউকে আশ্রয় দিতে পারব না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, তবে আপনারা আল্লাহর সাথে এই
ওয়াদায় আবদ্ধ হন যে, তিনি যদি আপনড়াদেরকে র্বাচিয়ে রাখেন, তারপর আপনারা ওই
পারসিকদের স্থান দখল করতে পারেন, তাদের ত্রীদেরকে বিবাহ করতে পারেন এবং তাদের
ছেলেদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করতে পারেন, তাহলে আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে ৩৩ বার
সৃবহড়ানাল্লাহ্, ৩৩ বার আলহামদৃ লিল্লাহ্ এবং ৩৪ বার আল্পাহু আকবার পাঠ করবেন ৷ ওরা
বলল, আপনি কে ? তিনি বললেন, আমি আল্লাহর রাসুল ৷ এরপর তিনি সেখান থেকে চলে
গেলেন ৷ তার চলে যাবার পর আবু লাহাব সেখানে উপস্থিত হল ৷ কালবী বলেন, তার চাচা
আবুলাহাব তার পেছনে লেগে থাকত এবং লোকজনকে বলত ৷ তোমরা তার কথা গ্রহণ করো
না ৷ বন্তুত আবু লাহাব ওখানে উপস্থিত হওয়ার পর লোকজন তাকে বলল, আপনি কি ওই


পৃষ্ঠা ২৬৩ ঠিক করুন


লোকটিকে চিনেন ? আবু লাহাব বলল, হী৷ আমি ভাবে তিনি ৷ যে আমাদের মধ্যে সস্রান্ত
ব্যক্তি ৷ তোমরা তার সম্পর্কে কি জানতে চ্চ্ছে ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওদেরকে যে বিষয়ে
ন্ দাওয়াত দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে তারা আবু লাহাবকে জানাল এবং তারা বলল যে,
সে নিজেকে আল্লাহর রাসুল বলে দাবী করে ৷ আবু লাহাব বলল, তার কথা গ্রহণ করে তোমরা
তাকে উপরে তুলে দিও না ৷ সে একজন পাগল, মাথায় যা আসে তাই বলতে থাকে ৷ তারা
বলল, তা বটে, আমরা তাকে পাগল বলেই মনে করেছি, যখন সে পারসিকদের বিরুদ্ধে
আমাদের বিজয়ের কথা বলেছে ৷
কালবী বলেন, আবদুর রহমান মুঅইিরী তার সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় লোকদের বরাতে
আমার নিকট বর্ণনা করেছে যে, তারা বলেছে, আমরা উকায মেলায় ছিলাম ৷ তখন রাসুলুল্লাহ্
(সা) আমাদের নিকট উপস্থিত হলেন ৷ তিনি বললেন, আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক ?
আমরা বললাম , আমরা আমির ইবন সাসাআ গোত্রের লোক ৷ তিনি বললেন, আপনারা আমির
ইবন সাসাআ গোত্রের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত ৷ তারা বলল, বনু কাআব ইবন রাবীআ শাখার ৷
তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে নিরাপত্তা লাভের পরিবেশ কেমন ? আমরা বললাম, আমরা যা
বলি, তার প্রতিবাদ করার কথা কেউ চিস্তাও করতে পারে না আর মেহমানদের আপ্যায়নের
জন্যে আমাদের জ্বালানাে আগুন কখনো নিভানাে হয় না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, “আমি
আল্লাহ্র প্রেরিত রাসুল ৷ আমি আপনাদের নিকট এসেছি এ জন্যে যে, আপনারা আমাকে আশ্রয়
দেবেন যাতে করে আমি আমার প্রতিপালকের দেওয়া রিসালাতের বাণী মানুষের নিকট পৌছিয়ে
দিতে পারি ৷ আপনাদের কারো উপর আমি কোন বিষয়ে জবরদস্তি করব না ৷ তারা বলল,
আপনি কুরায়শের কোন শাখার লোক ? তিনি বললেন, বনু আবদুল মুত্তালিব শাখার ৷ তারা
বলল, তা হলে আবৃদ মানাফ গোত্রের লোকদের মধ্যে আপনার অবস্থান কেমন ৷ তিনি বললেন,
তারাই তো সর্বপ্রথম আমাকে প্রত্যাখ্যান করে তাড়িয়ে দিয়েছে ৷ তারা বলল, আমরা আপনাকে
তাড়িয়ে দেবাে না ৷ আবার আপনার প্ৰতি ঈমানও আনব না ৷ আমরা আপনাকে নিরাপত্তা দেবাে
যাতে করে আপনি আপনার প্ৰতিপালকের রিসলোঃতর বাণী পৌছিয়ে দিতে পারেন ৷ বন্তুত তিনি
তাদের সাথে বসবাস করতে লাগলেন ৷ তারা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করছিল ৷ ইতোমধ্যে
বুহায়রা ইবন ফিরাস কুশায়রী তাদের নিকট আগমন করে ৷ সে বলল, তোমাদের মধ্যে এই
লোকটি কে ৷ আমি তো তাকে চিনতে পারছি না ৷ ওরা বলল, তিনি হলেন মুহাম্মাদ ইবন
আবদুল্লাহ কুরায়শী ৷ সে জিজ্ঞেস করল, তোমাদের সাথে তার সম্পর্ক কী ৷ তারা বলল, সে তো
নিজেকে আল্লাহ্র রাসুল বলে দাবী করে ৷ সে আমাদেরকে অনুরোধ জানিয়েছে আমরা যেন
তাকে নিরাপত্তা দিই যাতে সে তার প্রতিপালকের দেয়া রিসালাতের বাণী প্রচার করতে পারে ৷
বুহায়রা বলল, তোমরা তাকে কি উত্তর দিয়ে ছ ৷ তারা বলল, আমরা তাকে স্বাগত জানিয়েছি ৷
আমরা তাকে আমাদের দেশে নিয়ে বার এবং তাকে নিরাপত্তা দেবাে যেমন করে আমরা
নিজেদের নিরাপত্তা বিধান করি ৷ বুহায়রা বলল, এই মেলা থেকে তোমরা যে কঠিন দায়িতু নিয়ে
যাচ্ছে অন্য কেউ তত কঠিন কিছু নিয়ে যাচ্ছে বলে আমার জানা নেই ৷ তোমরা তাকে সাথে
করে নিয়ে গিয়ে বিপর্যয়ের সুচনা করছো ৷ তারপর তোমরা অন্যান্য মানুষের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত
হবে শেষপর্যন্ত আরবরা ঐক্যবদ্ধ ভাবে তোমাদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করবে ৷ সবাই তোমাদের


পৃষ্ঠা ২৬৪ ঠিক করুন


বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে ৷ তার সম্প্রদায় তার সম্পর্কে অধিকতর ওয়াকিফহা ৷ল ৷ সে যদি কোন কল্যাণ
নিয়ে আসে তবে তা গ্রহণ করে ওরা শ্রেষ্ঠ সৌভাগ্যের অধিকারী হবে ৷ তোমরা কি একজন
অবাঞ্ছিত লোককে সাথে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা ৷করছে৷ যার সম্প্রদায় তাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং
তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে ৷ তোমরা কি তাকে আশ্রয় দিতে ও সাহায্য করতে চাও ? তোমাদের
মনোভাব কতইনা মন্দ !

বুহায়রা এবার রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর দিকে ফিরে তাকাল ৷ সে বলল “তুমি তোমার
সম্প্রদায়ের নিকট চলে যাও ৷ আল্লাহর কসম এখন তুমি যদি আমাণ্ ৷ব সম্প্রদায়ের নিকট না হয়ে
অন্য কোথাও হতে, তবে আমি ণ্৩ ৷মার গর্দান উড়িয়ে দিতাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা৩ তার উটনীর
পিঠে সওয়ার হলেন ৷ খবীছ বুহায়রা এসে উটনীটির চলার পথ বোধ করে দেয় ৷ ফলে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে নিয়ে উটনীটি লাফিয়ে উঠে এবং তাকে পিঠ থােক ফেলে দেয় ৷

বনু আমির গোত্রের নিকট তখন আমির ইবন কুরাত-এর কন্য৷ দাবাআ অবস্থান করছিল ৷
মক্কায় যে সকল মহিলা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি ঈমান এসেছিলেন তিনি ছিলেন তাদের
একজন ৷ গোষ্ঠীর লোকদের সাথে দেখা করার জন্যে তিনি এখানে এসেছিলেন ৷ তিনি বললেন,
হে আমিরের বং শধর এখন তো আমির জীবিত নেই ৷ তোমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর
প্রতি এমন অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে অথচ তোমরা ৷কেউ তাকে রক্ষ৷ করছ না ? এবার তার
তিন চাচাত ই বুহায়রাকে আক্রমণ করার জন্যে উঠে দাড়াল ৷ অপর দু জন প্রস্তুত হল
বুহায়রাকে সাহায্য করার জন্যে ৷ ফলে উভয়পক্ষের একেকজন তার প্রতিপক্ষকে আক্রমণ
করল ৷ রাসুলুল্লাহ (না)-এর পক্ষের প্রত্যেক লোক তার প্রতিপক্ষকে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার
বুকের উপর উঠে বসল এবং তাদেরকে চপেটাঘাত করতে থাকে ৷ রাসুলুল্লাহ্ ( সা ) দু আ করে
বললেন হে আল্লাহ এই তিনজনকে বরকত দিন আর ওই তিনজনকে লা নত দিন ৷ এই তিন
জন যারা রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে সাহায্য করেছিলেন তারা পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং
যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন ৷৩ তারা হলেন সাহ্লের দু’ পুত্র গাতীফ এবং পাতফান আর তৃভীয়জন
হলেন আবদুল্লাহ ইবন সালামা-এর পুত্র উরওয়৷ কিৎব৷ উযরা ৷

হাফিয সাঈদ ইবন ইয়াহ্ইয়৷ ইবন সাঈদ উমড়াবী তার মাপাষী গ্রন্থে তার পিতার বরাতে
উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন ৷ অপর তিনজন ধ্বংস হয়েছিল ৷ ওরা হল বুহায়রা ইবন ফিরাস ,
হড়াযান ইবন আবদুল্লাহ ইবন সালাম৷ ইবন কুশায়র এবং আকীল গোত্রের মুআবিয়৷ ইবন
উবদাে ৷ তাদের প্রতি আল্লাহর লানত ৷ এটি একটি বিরল বর্ণনা ৷ সে জন্যে আমরা এটি উদ্ধৃত
করলাম ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন

আমির ইবন সাসাআ-এর ঘটনা বর্ণনা এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর প্রতি ওদের অশালীন
প্ৰত্যুত্তর বর্ণনা উপলক্ষে হাফিয আবু নুআয়ম কাআব ইবন মালিক (বা) থেকে উক্ত হাদীছের
সমর্থক একটি হাদীছ বর্ণনা করেছেন ৷ অন্যদিকে আবু নুআয়ম, হাকিম ও বায়হাকী (র) প্রমুখ
৩া৷বান ইবন আবদুল্লাহ রাজালী আলী ইবন আবু৩ তালিব সুত্রে যেটি বর্ণনা করেছেন সেটি
এর চেয়েও দীর্ঘ এবং আশ্চর্যজ নক ৷ আলী ইবন আবু৩ তালিব বলেছেন আল্লাহ তা আলা তার
রাসুলকে নির্দেশ দিলেন তিনি যেন আরবের বিভিন্ন গোত্রের নিকট গিয়ে ইসলামের দাওয়াত


পৃষ্ঠা ২৬৫ ঠিক করুন


দেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) মিনার পথে বের হলেন ৷ সাথে আবু বকর (বা) এবং আমি ৷ আমরা

আরবদের এক মজলিসে উপস্থিত হই ৷ আবু বকর (বা ) এগিয়ে গিয়ে ওদেরকে সালাম দিলেন ৷

সকল ভাল কাজে হযরত আবু বকর (বা) আমাদের মধ্যে অগ্রগামী থাকতেন ৷ ব০ শ পরিচিতি

সম্পর্কে তার ব্যাপক জ নাশুন ৷ছিল ৷ তিনি বললেন, আপনারা কোন সম্প্রদায়ের লোক ? তারা

বলল, রাবীআ সম্প্রদায়ের লোক ৷ তিনি বললেন, মুল রাবীআ গোত্রের, না শাখা গোত্রের ? তারা

বলল, মুল রাবীআ গোত্রের ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তবে কোন মুল গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ? তারা

বলল, যুহল-ই-আকবর গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ৷ আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মধ্যে কি

আওফ আছেন, যীর সম্পর্কে বলা হয় যে আওফের উপত্যকায় উক্তাপ নেই ? তারা বলল, না ৷

আবু বকর (বা) বললেন, তোমাদের মধ্যে কি বুস৩ তাম ইবন্ ৷ কায়স আছে, হাড়ার উপাধি

পতাকাবাহী এবং যিনি গোত্রের উৎস ৷ তারা বলল, না, সেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন,

তোমাদের মধ্যে কি হাওফাযান ইবন শুরায়ক আছে যার উপাধি রাজার হম্ভা ও আত্মরক্ষাকারী ?
তারা বলল, না, সেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন তোমাদের মধ্যে কি জাসসাস ইবন মুবৃরা ইবন

যুহ্ল আছে, যার উপাধি হল আত্মসং যমী ও প্রতিবেশীদের হিফায়তকারী ? তারা বলল না,
নেই ৷ আবু বকর (রা) বললেন,রু তোমাদের মধ্যে কি মুযদালিফ আছেন, যিনি তুলনাহীন একক
শিরস্ত্রাণেব অধিকারী ? তারা বলল, না, ত ৷ই তিনি বললেন তবে তোমরা কি কিনদা-রাজাদের
মাভুল বং শ ? তারা বলল, না, তা নয় ৷ তিনি বললেন, তবে তোমরা কি লাখামী রাজাদের স্খাশুর

গোত্র ? তারা বলল, না ৷ তা নয় ৷ এবার হযরত আবু বকর (রা) তাদেরকে বললেন, তবে
তোমরা উর্ধ্বতন যুহলের গোত্রভুক্ত নও, বরং তোমরা অধস্তন যুহলের বংশধর ৷

বর্ণনাকারী বলেন, তখনই দাপফাল ইবন হানযালা যুহালী নামের এক যুবক লাফিয়ে এসে
হযরত আবু বকর (রা) এর উষ্টীর লাগাম চেপে ধরল এবং বলল :


যিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন আমরা নিশ্চয়ই তাকে তার বংশ পরিচয় সম্পর্কে
জিজ্ঞেস করব ৷ পোশাক দেখে আমরা তাকে চিনতে পারছি না কি০ বা তার সম্পর্কে আমরা
অজ্ঞ ৷

হে আগত্তুক৷ আপনি তো আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আমরা আপনাকে জানালাম ৷
আমাদের কিছু আমরা গোপন রাখিনি ৷ এবার আমরা আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই ৷
আপনার পরিচয় কি ? হযরত আবু বকর (বা) বললেন, আমি কুরায়শ ৎশের লোক ৷ যুবকটি
বলল , বাহ্ বাহ্ আপনি তো নেতৃতু দানকারী আরবের অগ্রগাযীও শীর্ষ স্থানীয় বংশের অন্তর্ভুক্ত ৷
সে এবার বলল , আপনি কুরায়শের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন ৷ তায়ম ইবন মুররা
শাখার অন্তর্ভুক্ত ৷ সে বলল, আপনি কি শত্রুপক্ষেব বক্ষ লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করতে
পারেন ? কুসা ৷ই ইবন কিলাব কে আপনাদের গো ৷ত্রভুক্ত ? যিনি মক্কা দখলকারীদের অধিকাং শকে
হত্যা আর অবশিষ্টদেরকে দেশাম্ভরিত করেছিলেন ? নিজের সম্প্রদায়ভুক্ত লোকদেবকে
বিভিন্নন্থান থেকে এনে মক্কায় পুনর্বাসন করেছিলেন ৷ তারপর ওই জনপদের কর্তৃতু গ্রহণ



Execution time: 0.10 render + 0.01 s transfer.