Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ১৬১ ঠিক করুন




;;fl



এ১া৷এ ন্ঠোষ্ট্রপ্রুছুএন্
াঠু ংএএ র্চুব্লু১ম্ ণ্এ ৷ট্রএ্া এা৷ ৷ এংএএ হ্াপুও৷াট্রুষ্ট্রুব্রট্রুা শুাএ ;াপু ৰুড্রু এট্রু৷ ৷ট্রুএ;ন্এ এে ৷
ঞ,নিট্রুষ্পব্রএন্ক্লো এৰুা৷ধ্প্রু;ণ্এা;ঞান্াএাণ্ণ্এন্াগ্রান্এাশ্ন্



ন্এ;ষ্ এএছুছু ৷’ এ৷ ড্রুট্রুন্ষ্াএ টুএে ণ্এ ৷ ঠুাঠুগ্রান্ ’;ণ্ ংান্ট্রুরুা ৷

“পরম দয়ালু দয়াময় আল্লাহর নামে ৷ আসহাম ইবন আবজুর নাজা স্পোর পক্ষ থেকে আল্লাহর
রাসুল মুহাম্মদ (না)-এর প্রতি ৷ হে আল্লাহর নবী আপনার উপর শান্তি বর্ধিত হোক এবং
আল্লাহর রহমত ও বরকত নাযিল হোক ! যে মহান সত্তা আমাকে ইসলামের প্রতি হিদায়াত
করেছেন তিনি ব্যতীত কোন ইলড়াহ্ ও উপাস্য নেই ৷ হে আল্লাহর রাসুল ! আপনার চিঠি আমার
নিকট পৌছেছে ৷ ওই চিঠিতে আপনি ঈস৷ ৷-(আ) এর বর্ণনা দিয়েছেন ৷ আসমান ও যমীনের
প্ৰতিপালকের কসম, ঈসা (আ) সম্পর্কে আপনি যা, উল্লেখ করেছেন তিনি তার চাইতে
এতট্রুকুও অতিরিক্ত নন ৷ আপনি আমার প্ৰতি যে বিষয়গুলো সম্বলিত পত্র প্রেরণ করেছেন তা
আমি উপলব্ধি করেছি ৷ আপনার চাচাত ভাই ও তার সাথীদের জন্যে আতিথ্যের ব্যরস্থুা
করেছি ৷ আ ৷মি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি সতাবাদী এবংঅ ৷ল্লাহ্র সত্যায়িত রাসুল আ ৷মি আপনার
প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছি এবং আপনার চাচাত ভাইয়ের নিকট বায়আত করেছি ৷ আর
আপনার চাচাত ভাইয়ের মাধ্যমে বিশ্ব-প্রতিপালক আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছি ৷ হে
আল্লাহর নবী আমি বারিহা ইবন ইসহাম ইবন আবজুরকে আপনার নিকট প্রেরণ করলাম ৷

আমি ৫৩ ৷ আমার নিজের ব্যতীত ৩অন্য কারো উপর কর্তৃহ্শীল নই ৷ আপনি যদি চান, তাহলে
আমি আপনার খিদমতে হা ৷যির হবে৷ ৷ তবে আমি নিশ্চিত সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি যা বলেন, তা
অকাট্য সত্য ৷ ”

পরিচ্ছেদ
কুরায়শদের বয়কট

রাসুলুল্লাহ (না)-কে সাহায্য করার প্রশ্নে বনু হাশিম ও বনু আবদিল মুত্তালিব গোত্রের
আহ্বানের প্রেক্ষিতে কুরায়শী অন্যান্য গোত্রের৷ বিরোধিতা করে এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
তাদের নিকট হস্তান্তর না করা পর্যন্ত ওই গোত্রদ্বয়ের সাথে ৰিয়ে-শাদী ও রেচা-কেনার সম্পর্ক
ছিন্ন রাখার ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করে এবং দীর্ঘদিন য়াবত ওদেরকে আবু
তালিব গিরিসঙ্কটে অন্তরীণ করে রাখে ৷ এ বিষয়ে৩ ৷দের নিবর্তামুলক ও অন্যায় চুক্তিপত্র তৈ


পৃষ্ঠা ১৬২ ঠিক করুন

এবং এ সকল প্রেক্ষাপটে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নবুওয়াত ও সভ্যতার পক্ষে প্রকাশিত দলীল-
প্রমাণাদি এ পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে ৷

যুহরী থেকে মুসা ইবন উকবা বর্ণনা করেছেন যে, মুশরিকগণ ইতোপুর্বে মুসলমানদের প্রতি
যত অত্যাচার ও জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছিল পরবর্তীতে তারা তার চেয়েও কঠোরতর নির্যাতন
চালাতে শুরু করে ৷ যার ফলে মুসলমানদের জীবনযাত্রা দৃর্বিষহ হয়ে উঠে ৷ র্তারা নানা প্রকারের
কঠোর বিপদ-আপদের সম্মুখীন হন ৷ প্রকাশ্যে রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে হত্যার ষড়যন্থে ঐকমত্যে
পৌছে ৷ ওদের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করে আবু তালিব নিজে বনু আবদুল ঘুত্তালিব গোত্রের সকল
লোককে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট উপস্থিত হতে বললেন এবং হত্যা প্রবাসীদের হাত থেকে
তাকে রক্ষা করার নির্দেশ দিলেন ৷ বনু আবদুল মুত্তালিব গোত্রের মুসলিম-কাফির নির্বিশেষে
সকলে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর পাশে এসে র্দাড়ান ৷ কেউ আসেন ৷:ণাষ্ঠীগত সম্মান রক্ষার তাড়নায়
আর কেউ আসেন ঈমানী চেতনার ৷ কুরায়শের লোকেরা দেখল যে, স্বগােত্রীয় লোকেরা তার
পক্ষপাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন এবং ঐ প্রশ্নে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠেছেন ৷ তখন
মুশরিকরা সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, তাকে হত্যা করার জন্যে ওরা বতক্ষণ তাদের হাতে সমর্পণ
না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ওদের সাথে উঠাবসা করবে না দিক্রয়-বিক্রয় করবে না এবং
ওদের ঘর-বাড়ীতে প্রবেশ করবে না ৷ এমর্মে তারা একটা চুক্তিনামা ও অঙ্গীকার-পত্র সম্পাদন
করে নিল যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে সমর্পণ না করা পর্যন্ত তারা বনু হাশিম গোত্রের সাথে কোন
আপােস-মীমাংসা করবে না এবং কোন প্রকারের সহানুভুতি-সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে না ৷ এ
প্রেক্ষিতে বনু হাশিম গোত্রের লোকজন আবু তালিব গিরিসঙ্কটে অম্ভরীণ থাকেন ৷ এ সময়ে
র্তারা অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে পতিত হন ৷ কুরায়শরা এদের হাট-বাজার বন্ধ করে দেয় ৷ তাদেরকে
তারা কোন ভােগ্যপণ্য বিক্রির জন্যে মক্কায় আসতে দিত না ৷ আবার তাদের কিছু ক্রয়ের
প্রয়োজন হলে কুরায়শী লোকেরা, এগিয়ে গিয়ে তা ক্রয় করে নিত যাতে অম্ভরীণ লোকদের
নিকট ওই পণ্যদ্রব্য পৌছতে না পারে ৷ এর দ্বারা তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল রাসুলুল্পাহ্
(না)-কে নাগালের মধ্যে পাওয়া এবং তাকে হত্যা করা ৷ চাচা আবু তালিব তখন রাসুলুল্লাহ্
(না)-কে রক্ষা করার জন্যে নানা কৌশল অবলম্বন করতেন ৷ রাতের বেলা অম্ভরীণ লোকেরা
যখন ঘুমেড়াতে যেত, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে তার বিছানায় শোয়াতেন ৷ উদ্দেশ্য হল
কোন ষড়যন্ত্রকারী যদি সেখানে থাকে, তবে সে যেন রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে ওখানে দেখে ৷ পরে
সবাই ঘুমিয়ে পড়লে আবু তালিব তীর কোন পুত্রকে কিৎবা ভাইকে কিত্বা চাচাত ভাইকে
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর বিছানায় যেতে বলতেন এবং রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে অন্য একটি বিছানায়
নিয়ে আসতেন এবং তিনি সেখানে ঘুমােতেন ৷ এ অবস্থায় তৃতীয় বছরের মাথায় বনু আবৃদ
মানাফ, বনু কুসাই এবং বনু হাশিমের নারীদের গর্ভজাত কতক লোক এ অমানবিক আচরণের
জন্যে নিজেদেরকে দােষারোপ করে ৷ তারা উপলব্ধি করে যে, এর মাধ্যমে তারা আত্মীয়তা
বন্ধন ছিন্ন করেছে এবং মানবাধিকার লংঘন করেছে, ৷ সে রাতেই তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে,
ইতোপুর্বে সম্পাদিত চুক্তিনামা তারা ভঙ্গ করবে এবং ওই চুক্তির সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে ৷
এদিকে আল্লাহ্ তাআলা তাদের চুক্তিপত্রের প্রতি উইপােকা পাঠালেন ৷ চুক্তিপত্রের যে যে স্থানে
চুক্তি বিষয়ক শব্দ ছিল সে যে স্থানগুলো পােকাংত খেয়ে ফেলে ৷ বর্ণিত আছে যে, চুক্তিপত্রটি


পৃষ্ঠা ১৬৩ ঠিক করুন


কাবাগৃহের ছাদের সাথে ঝুলানাে ছিল ৷ অ ৷ল্লাহ্ তাআলার নামের ন্থানগুলোও পােকায় খেয়ে
ফেলে ৷ ফলে শিরক, জুলুম-অত্যাচার এবং আত্মীয়ত ৷ ছিন্নকাবী বিষয় সম্বলিত বিবরণগুলো
অবশিষ্ট থাকে ৷ চুক্তিনামার এ অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহ্ত তা আল৷ প্রিয়নবী (সা) ৫ক অবহিত
করেন ৷ তিনি চাচা আবু তালিবকে এটা জানান ৷ আবৃত তালিব বললেন উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির
কলম, সে নিশ্চয়ই আমার সাথে মিথ্যা কথা বলেনি ৷ বনু আবদিল মুত্তালিব গোত্রের কতক
সঙ্গীৰুসাথী নিয়ে তিনি মাসজিদুল হারামে উপস্থিত হন ৷ সেখানে কুরায়শগণ উপ ত ছিল ৷
তাদেরকে এদিকে আসতে দেখে কুরায়শগণ মনে করেছিল যে, সুকঠিন দুঃখদুর্দশায় অতিষ্ঠ
এরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে হস্তান্তর করার উদ্দেশ্যে গিবিসংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে ৷ সেখানে
উপস্থিত হয়ে আবুত তালিব বললেন, ৫তামাদের এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে তা আমরা এখন
তোমাদেরকে বলবো না ৷ তোমরা যে চুক্তিনাম৷ তৈরী করেছ আগে সেটি নিয়ে আস ৷ তারপর
৫তামাদের আর আমাদের মাঝে কোন আপোস রফা হলেও হতে পারে ৷ চুক্তিনাম৷ উপ
করার পুর্বে তারা সেটি দেখে ফেলে কিনা এ আশং কায তিনি এ কথা বললেন ৷ রাসুলুল্লাহ্
(সা) ৫ক তাদের হাতে সমর্পণ ৷করা হবে এ ব্যাপারে সন্দেহ সং শ৫য়র উ৫র্ধ্ব উঠে এবং নিশ্চিত
হয়ে তারা চুক্তিনামাটি হাযির করে ৷ সেটি সকলের সম্মুখে রাখা হয় ৷ তারা বলল, এখন সে
সময় এসেছে যে, তোমরা আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করবে এবং এমন এক বিষয়ের প্রতি তোমরা
ফিরে আসবে যা ৫ত ৷মাদের সম্প্রদায়কে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবে ৷ ওই একটি মাত্র ব্যক্তি
আমাদের ও ৫তামাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্নতিন্ন করে দিয়েছে ৷ তোমরা নিজেদের সম্প্রদায় ও
গােত্রকে ধ্বংস ও বিপর্যস্ত করে দেয়ার জন্যে ওই বিপজ্জনক লোকটিকে আস্কারা দিয়েছ

আবু তালিব বললেন, আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদেরকে একটি ন্যায়ানুগ প্রস্তাব
দেয়ার জন্যে ৷ আমার ভাতিজ৷ কখনো মিথ্যা বলে না ৷ সে আমাকে জ৷ ৷নিয়েছে যে, তোমাদের
নিকট যে চুক্তিনাম৷ রয়েছে তার সাথে আল্লাহ তা আলার কোন সম্পর্ক নেই ৷ ৫সটি৫তঅ আল্লাহ
তা আলার যত নাম ছিল তার সবগুলো তিনি মিটিয়ে ৫ফলেছেন ৷ তোমাদের অকৃতজ্ঞতা,
আমাদের সাথে আত্মীয়ত৷ ছিন্ন করা এবং আমাদের প্রতি তোমাদের জুলুম নির্যাতনের
বিষয়গুলো তাতে অবশিষ্ট রেখেছেন ৷ সুতরাং ভাতিজ৷ যা বলেছে ঘটনা যদি তা ই হয়ে থাকে,
তাহলে তোমরা হুশিয়ার হও ! আল্লাহর কলম, আমাদের শেষ ব্যক্তিটির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত
আমরা কখনো তাকে তোমাদের হাতে সমর্পণ করব না ৷ আর সে যা বলেছে তা যদি অসত্য
হয়, তবে আমরা নিশ্চয় ত ৷কে তোমাদের হাতে তুলে দিব ৷ এরপর তোমরা তাকে হত্যা করবে,
নাকি জীবিত রাখবে সেটা৫ তামাদের ইচ্ছা ৷৩ তারা বলল, ঠিক আছে, আপনার প্রস্তাবে আমরা
রাযী ৷ এরপর তারা চুক্তিনামা খুলল এবং সতবােদী সতাযিত ৩রাসুল যেমন বলেছেন ঘটনা হুবহু

৫তমনি দেখতে পেল ৷

কুরায়শরা যখন ৫দখল ৫য, ঘটনা আবৃত তালিবের বংনাি মুতাবিকই ঘটেছে তখন তারা
বলল, আল্লাহর কলম, এটি নিশ্চয়ই ৫তামাদের ওই লোকের জাদু৷ এ কথা বলে তারা

তোপুর্বেকার সম্মতি প্রত্যাহার করে এবং পুর্বের চাইতে ৩ও জঘন্য কুফরী৫ত প্রত্যাবর্তন করে
এবং রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার স্বগাে ত্রীয়দের প্রতি কঠোর জুলুম-নির্যাতনের অঙ্গীকারে অবিচল

থাকে ৷


পৃষ্ঠা ১৬৪ ঠিক করুন


আবু তালিব গোত্রের লোকজন বললেন, আমরা নই বরং আমাদের বিরোধী পক্ষই জাদৃমন্ত্র
ও মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার যোগ্যতর পাত্র ৷ তোমরা কী মনে কর ? আমরা তো
দেখছি যে, আমাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের প্রশ্নে তোমরা যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছ আমাদের কর্ম
অপেক্ষা সেঢিই জাদুমস্তেব বলে অভিহিত হওয়ার অধিকতর যোগ্য তামাদের এ ঐকমত্যের
বিষয় যদি জাদুর ভেল্কিবাজি না হতো, তা হলে তোমাদের চুক্তিনামা নষ্ট হত না ৷ সেটিতো
তোমাদেরই হাতে ছিল ৷ ওই চুক্তিনামায় মহান আল্লাহ্র যত নাম ছিল্ তিনি তার সবগুলো মুছে
দিয়েছেন ৷ আর সীমালংঘন ও সত্যাদ্রাহিতার কথাগুলো অবশিষ্ট ৰু;বরু,থছেন ৷ এখন বল, আমরা
জাদুকর, নাকি তোমরা ?

এ প্রেক্ষিতে বনু আবৃদ মানাফ, বনু কুসাই, হাশিমী নারীদের গ্ার্ভজাত কতক কুরায়শী
পুরুষ যাদের মধ্যে ছিলেন আবুল ’বুখতারী, মুতঈম ইবন আদী, যুহায়র ইবন আবু উমাইয়া
ইবন মুগীরা, যামআ ইবন আসওয়াদ, হিশাম ইবন আমর (চুক্তিনামাটি তার কাছে ছিল ৷ তিনি
বনু আমির ইবন লুওয়াই গোত্রের লোক ছিলেন) এবং বনু আমির ঢপাত্রের অন্য কতক স্স্থাত ও
নেতৃস্থানীয় লোক বলে উঠলেন এ চুক্তিনামায় যা আছে তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক বা
দায়-দায়িতৃ নেই ৷

তখন আবু জাহ্ল (তার উপর আল্লাহ্র লানত বর্নিত হোক) বলল, এটি একটি পুর্ব
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ৷ রাতের বেলা এ ষড়যন্ত্র চুড়ান্ত করা হয়েছে ৷ এরপর চুক্তিনাম৷ সম্পর্কে, যারা
চুক্তিনাম৷ প্রত্যাখ্যান ও সেটির সাথে সম্পর্কচুতির ঘোষণা দিলেন তাদের প্ৰশংসায় এবং
আবিসিনিয়ার নড়াজাশীর প্রশংসা করে আবুতালিব একটি কবিতা রচনা ও আবৃত্তি করেন ৷

বায়হাকী (র) বলেন, আমার শায়খ আবু আবদুল্লাহ হাফিয এরুপই বর্ণনা করেছেন, মুসা
ইবন উকবার বর্ণনার ন্যায় ৷ অর্থ৷ ৷ৎ ইবন লাহিয়৷ উরওয়া ইবন যুবায়র সুত্রে ৷ ইতোপুর্বে
মুসা ইবন উক্বার বর্ণনা উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন, আ ৷বিসিনিয়ায় হিজরতের ঘটনা
ঘটেছিল রাসুলুল্লাহ্ (সা ) এর নিদেশে শিআরে আবু তালিব তথা আবু তালিবের গিরিসঙ্কটে
অম্ভরীণ হওয়ার পর ৷ ণ্

আমি বলি, আবৃত তালিবের যে লামিয়া কাসীদ৷ ৷র কথা আমরা পুর্বে উল্লেখ করেছি, সেটিও
তিনি রচনা করেছিলেন তাদের গিরিসঙ্কটে অবস্থান নেয়ার পর ৷ সুতরাং সেখানেই কবিতাটির
উল্লেখ করা অধিকতর যুক্তিযুক্ত ছিল , যা আমরা করে এসেছি ৷ আল্লাহ্ তা আ ৷লাই ভাল জানেন ৷

এরপর বায়হাকী (র) ইউনুস সুত্রে মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
রাসুলুল্লাহ্ (সা ) তার রিসালাতে র বাণী প্রচার করেই যাচ্ছিলেন ৷ বনু হ শিম ও বনু আবদুল
ঘুত্তালিরের লোকজন তার সহায়তায় এগিয়ে এসেছিলেন ৷ তারা তাকে ওদের হাতে সমর্পণ
করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন ৷ মুলত কুরায়শ সম্প্রদায়ভৃক্ত অন্যান্য গোত্রের ন্যায় বনু হাশিম
এবং বনু আবদুল মুত্তালিব গোত্রও ধর্ম বিশ্বাসে রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর বিরোধী ছিল ৷ কিন্তু তারা
নিজেদের জ্ঞাতি ভাইকে লাঞ্ছিত করা ও অত্যাচারীদের হাতে সমর্পণ করা থেকে নিজেদেরকে
বীচিয়ে রেথেছিল ৷


পৃষ্ঠা ১৬৫ ঠিক করুন


বনু হাশিম এবং বনু আবদুল মুত্তালিব গোত্রীয়র৷ যখন ঐরুপ অবস্থান গ্রহণ করলেন এবং
কুরায়শরাও বুঝে নিল যে, মুহাম্মাদ (সা) কে হাতে পাওয়ার আর কোন উপায় নেই, তখন তারা
বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিব গোত্রের বিরুদ্ধে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জন্যে একমত হয় ৷ তারা
এ বিষয়ে একমত ৩হয় যে হাশিমী ও মুত্তা ৷লিবীদের কা ৷উকে তারা বিয়ে করবে না এবং নিজেদের
কাউকে ওদের নিকট বিয়ে দািব না ৷৩ তাদের নিকট কিছু বিক্রি করবে না এবং তাদের থেকে
কিছু ক্রয় করবে না ৷ এমর্মে তারা একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করে এবং সেটি কা বাগৃহে ঝুলিয়ে
রাখে ৷ এরপর তারা মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ৷ তারা তাদেরকে বন্দী করে এবং নানা
রকম নির্যাতনউৎপীড়ন করতে থাকে ৷ কঠিন থেকে কঠিনতর বিপদ নেমে আসে মুসলমানদের
উপর এবং এটা তাদেরকে প্রচণ্ডতাবে নাড়৷ দেয় ৷ এরপর ঘৃহাম্মদ ইবন ইসহাক রাসুলুল্লাহ্
(না) স-হ হাশিমী ও মুত্তালিবীদের আবু৩ তালিব পিরিসঙ্কটে মবন্থান গ্রহণ এবং সেখানে যে
দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেন তার দীর্ঘ বর্ণনা দেন ৷ ওই বর্ণনায় আছে যে খাদ্যের অভাবে ক্ষুধার্ত ও
ষ্ণ৩ার্ততৃ শিশুদের আহাজারী পিরিসঙ্কটের বাইর থেকেও পৃশান৷ যেত ৷ অবশেষে সাধারণভাবে
কুরায়শের লোকজন অম্ভরীণ লোকদের ওপর পরিচালিত অত্যাচার-নির্যাতনকে ঘৃণার চোখে
দেখতে থাকে এবং নির্যাতনমুলক চুক্তিপত্রের প্রতি নিজেদের নারাযী প্রকাশ করে ৷

বর্ণনাকারিগণ একথাও উল্লেখ করেন যে, আপন দয়ায় মহান আল্লাহ ওই চুক্তিনামার প্রতি
উইপোকা প্রেরণ করেন এবং চুক্তিনামায় আল্লাহর নাম উল্লিখিত সকল স্থান পোকাতে থেয়ে
ফেলে ৷ অবশিষ্ট থাকে শুধু জুলুম-নির্যা৩ ৩ন, আত্মীয়৩ ৷ ছিন্ন করা এবং মিথ্যাচারগুলাের বিবরণ ৷
এরপর মহান আল্পাহ্ এ বিষয়ে রড়াসুলুল্লাহ্ (সা) কে অবহিত করেন এবং তিনি চাচা আবু
তালিবকে তা জানান ৷ বর্ণনাকারিগণ এরপর মুসা ইবন উকবার বর্ণনার ন্যায় অবশিষ্ট ঘটনা
সবিস্তারে বর্ণনা করেন ৷

যিয়াদ সুত্রে মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে ইবন হিশাম বলেন, কুরায়শরা যখন
দেখল যে, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাহাবীগণ এমন এক স্থানে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, যেখানে
তারা শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করেছেন, তাদের মধ্যে যারা নাজাশীর নিকট গিয়েছেন তিনি
তাদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছেন ৷ এ ছাড়া ইতোমধ্যে হযরত উমর (রা) ইসলাম গ্রহণ
করেছেন, এখন উমর (রা) ও হড়াময৷ (রা) দৃ’জনেই রাসুলুল্লাহ্ (না) ও তার সাহাবীদের সাথে
রয়েছেন ৷ বিভিন্ন গোত্রে উপগােত্রে-ইসলামের দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ছে ৷ এ পরিস্থিতিতে
কুরায়শগণ এক সমাবেশে মিলিত হয় এবং তারা বনু হাশিম ও বনু আবদুল মুত্তালিব গোত্রের
বিরুদ্ধে এমন একটি চুক্তিনড়াম৷ সম্পাদনের বিষয়ে পরামর্শ করে যার বিষয়বস্তু এ হবে যে, তারা
ওদের নিকট নিজেদের পুত্রকন্যা বিয়ে দিবে না, ওদের নিকট কিছু বিক্রি করবে না এবং ওদের
থেকে কিছু ক্রয়ও করবে না ৷ আলোচনা শেষে তারা এ বিষয়ে একমত হয় এবং একটি
চুক্তিনামা তৈরী করে সকলে তা মেনে চলতে অঙ্গীকারাবদ্ধ হয় ৷ গুরুত্ব বৃদ্ধির জন্যে তারা
সেটিকে কা বাগৃহের অভ্যন্তরে ঝুলিয়ে রাখে ৷ চুক্তিনামাঢির লেখক ছিল মানসুর ইবন ইকরিমা
(ইবন আমির ইবন হাশিম ইবন আবৃদ মানাফ ইবন আবদিদ্দার ইবন কুসাই) ৷ ইবন হিশাম
বলেন, কারো কারো মতে সেটি লিখেছিল নাযর ইবন হারিছ ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) ওই লেখকের


পৃষ্ঠা ১৬৬ ঠিক করুন


জন্যে বদ-দু আ করেছিলেন ৷ ফলে তার হাতের কতক আঙ্গু ল অবশ হয়ে যায় ৷ ওয়াকিদী
বলেন, চুক্তিনামাটি লিখেছিল৩ তাল্হ৷ ইবন আবু তা ৷লহ৷ আবদ৷ ৷মী ৷

আমি বলি প্রসিদ্ধ কথা হচ্ছে মানসুর ইবন ইকরিমা ই চুক্তিনামা ৷টির লেখক ছিল ৷ যেমনটি
ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন ৷ তারই৷ হত ৩অবশ হয়ে গিয়েছিল ৷ ওই হাত দ্বারা সে কোন কাজ
করতে পারত না ৷ এ প্রসংগে কুরায়ভৈশর লোকজন রলত, দেখ দেখ, ওই যে মানসুর ইবন
ইকরিমা ! ওয়াকিদী বলেন, চুক্তিনামাটি কাবাগৃহের অভ্যন্তরে ঝুলানাে ছিল ৷

ইবন ইসহাক বলেন কুরায়শর৷ যখন এই চুক্তি সম্পাদন করে তখন বনু হাশিম ও বনু
আবদুল মুত্তালিব গোত্রের লোকেরা আবু৩ তালিবের নিকট উপস্থিত হয় এবং তার সাথে তারা
সবাই আবু তালিব পিরিসঙ্কট গিয়ে সমবেত হয় ৷ আবু লাহাব আবদুল উঘৃয৷ ইবন আবদুল
মুত্তালিব বনু হাশিম গোত্র ছেড়ে বেরিয়ে যায় ৷ সে কুরায়শদের সাথে মিলিত হয় এবং তাদের
শক্তি বৃদ্ধি করে ৷

হুস৷ ৷ইন ইবন আবদুল্লাহ আমাকে জা ৷নিয়েছেন যে, আপন সম্প্রদায়কে ত্যাগ করে
কুরায়শদের শক্তি বৃদ্ধি করার পর আবু লাহাব হিনদ বিনত উতব৷ ইবন য়াবীআর সাথে সাক্ষাত
করে ৷ সে হিনৃদকে বলে, হে উতবার কন্যা! আমি কি লাভ ও উঘৃযা প্রতিমাকে সাহায্য করতে
পেরেছি ? এবং যে ব্যক্তি তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে , সেগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করে আমি
কি ভাবে ত্যাগ করতে পেয়েছি ? হিন্দ বলল, ইা, অবশ্যই, হে আবু উতবা ! আল্লাহ আপনার
কল্যাণ করুন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আমার নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, আবু লাহাব যে সব কথাবার্তা
বলত, তার একটি এই, “মুহাম্মাদ (সা) আমাকে বহ বিষয়ের ভয় প্রদর্শন করেছে ৷ অথচ তার
কিছুই আমি এখনও বাস্তবে দেখতে পাচ্ছি না ৷ যে মনে করে যে, ওগুলো মৃত্যুর পর পাওয়া
যাবে ৷ এরপর আমার হাতে আর কীইবা দেয়৷ হবো একথা বলে সে তার দু’হাতে কু দেয় এবং
বলে “(তারা দুহাত ধ্বংস হয়ে যাক, মুহাম্মদ (সা) যা বলছে তার কিছুই তো তােদের মধ্যে
দেখছি না ৷ এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তা ৷আলা না ৷যিল করলেন গ্র ৰু৷ ৷ ৷ ;ন্ ;দ্র ধ্বংস
হো ক আবু লাহাবের দু হাত এবং£ সে নিজেও ধ্বংস হোক১ ৷

ইবন ইসহাক বলেন, চুক্তিনামা সম্পাদনে কুরায়শকুল যখন ঐক্যবদ্ধ হল এবং যা করার তা
করল , তখন আবু তালিব নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি করলেন :

আমাদের মাঝে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সে সম্পর্কে আমার পক্ষ থেকে লুওয়াই
পােত্রকে বিশেষ করে লুওয়াই গোত্রের খুস এবং বনু ক আর উপগােত্রকে এ সং বাদ
পৌছিয়ে দাও ৷


৷ ৷ মোঃ ণ্৷ ৷



১ সুরা লাহাব : আয়াত ১ ৷


পৃষ্ঠা ১৬৭ ঠিক করুন

তোমরা কি জ নো না যে, আমরা মুহাম্মাদ (সা) কে নবীরুপে পেয়েছি যেমন নবী ছিলেন
মুসা (আ) ৷ প্রাচীন কিতাবসমুহে মুহাম্মদ (সা) এর নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে ৷

তার প্রতি ৩আল্লাহ্র বন্দোগণের ভালবাসা রয়েছে ৷ আল্লাহ তা জানা যাকে ভালবাসা দিয়ে

বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেন, তার চেয়ে উত্তম অন্য কেউ হয় না>া



তে ৷মাদের কিতড়ারুবয় মধ্যে তোমরা বিপদাপদ সম্পর্কিত যে সকল বিবরণ পেয়েছ
তোমাদের দৃর্তোগ স্বরুপ হযরত সালিহ্ (আ)-এর উদ্রীর চীৎকারের ন্যায় সেগুলো তোমাদের
উপর আপতিত হবেই ৷

ৰু ন্


তোমরা সচেতন হও সতর্ক হও, কবর খোড়ার আগেই এবং সজাগ হও সে সময় আসার
আগে যখন নির্দোষ ব্যক্তি দোষী ব্যক্তির ন্যায় বিপন্ন হয়ে যাবে ৷

াটুট্রু ট্রু;ছু ছুাঠু
তোমরা মিথ্যাবাদীদের অনুসরণ করো না এবং বন্ধুত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপনের পর
আমাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি ভঙ্গ করো না ৷

গ্র১-১ত্র
কঠিন যুদ্ধ বিগ্রহ তোমরা টেনে এলো না ৷ অনেক সময় স্বাদ গ্রহণকারীর জন্যে যুদ্ধের দুধ
ভীষণ তিক্ত হয় ৷

বড়ায়তুল্লাহ্ শরীফের মালিকের কসম, আমরা আহমদ (সা)কে কখনো হস্তান্তর করব না
কোন কুকুরের হাতে এবং না কে ন দৃংখ-দৃর্দশা র মুখে ৷

আমরা আহমদ (সা) কে তোমাদের হাতে সমর্পণ করব না যতক্ষণ না আমাদের আর
তে ড়ামাদের মাঝে যুদ্ধ বিজেতা অশ্বদল এবং যুদ্ধে পারদর্শী হস্তগুলোর ফায়সালা হয় ৷ যে হস্ত
কাসাসী তরবারি দ্বারা দৃর্ধর্য যােদ্ধাকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেয় ৷

ব্লুদ্বুট্রুছুৰুা
শ্ , ,



১ সুহায়লী বলেন ও )ন্া১ ৰুাট্রু ব্যাকরণগত দিক থেকে এটি একটি জটিল বড়াক্যাত্শ ৷


পৃষ্ঠা ১৬৮ ঠিক করুন


ফড়ায়সালা হবে একটি সংকীর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে তুমি দেখতে পাবে তীর ও বল্লমেব
ভগ্নাং শগুলাে এবং দেখতে পাবে কালো কালো বড় বড় শকুন, যেন সেগুলো একত্রিত হয়েছে
পানির ঘ৷ ৷ভ্রুট ৷


আস্ত স্তব৷ বল ও অশ্বশালায় অশ্বদলের উত্তেজনাকর পায়চারি এবং সাহসী বীর যোদ্ধাদের সদম্ভ
ইাকডাক যেন নিজেই একটি যুদ্ধক্ষেত্র ৷

শ্শ্শ্শ্শ্

আমাদের পিতা হাশিম কি যুদ্ধ করার জন্যে লুঙ্গি গুটিয়ে কােমর বাধেননি ? এবং৩ তিনি

কি তার বংশধরদেরকে বল্লম নিক্ষেপ ও তরবারির পরিচালনায় পারদর্শী হওয়ার উপদেশ
দিয়ে য ৷ননি ?

যুদ্ধ-ব্বিাহে আমরা ক্লান্ত হই না যতক্ষণ না যুদ্ধ নিজেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে ৷ মাঝে মাঝে যে

সকল কঠিনও ওবড় বড় বিপদাপদ আমাদের উপর আপতিত হয় তাতে আমরা কোন অভিযোগ
করি না ৷ আমরা তাতে ক্লান্ত হই না ৷


আমরা কিভু তখনও নিরাপত্তারক্ষী ও সুবিবেচক থাকি, যখন প্রচণ্ড ভয়ে অন্যান্য বীর
যোদ্ধাদের প্রাণ উড়ে যায় ৷

ইবন ইসহাক বলেন এরপর রাসুলুল্লাহ্ (না) ও তার সঙ্গীপণ দুই বছর বা তিন বছর
সেখানে অন্তরীণ থাকলেন ৷ ভীষণ দুঃখ কষ্টে তাদের দিন কাটে ৷ কুরায়শ বংশের যারা
আত্মীয়-বৎসল ছিল গোপনে তাদের পাঠানো সামান্যদ্রব্য সামগ্রী ব্যতীত অন্য কিছুই তাদের
নিকট পৌছাতে৷ না ৷

কথিত আছে যে, একদিন হার্কীম ইবন হিযাম ইবন খুওয়ায়লিদ ইবন আমাদের সাথে আবু
জাহ্ল ইবন হিশামের সাক্ষাত হয় ৷ হার্কীমের সাথে একজন ক্রীতদাস ছিল ৷ সে গম বহন করে
নিয়ে যাচ্ছিল ৷৩ তাদের উদ্দেশ্য ছিল৩ তার ফুফু খাদীজা বিনৃত খুওয়ায়লিদ (রা)-এর নিকট তা’
পৌছিয়ে দেয়া ৷ খাদীজা ৷(রা) তখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে গিরিসঙ্কটে অন্তরীণ ছিলেন ৷
আবু জাহ্ল তার পিছু নিল ৷ সে বলল, তুমি কি বনু হাশিমের নিকট খাদ্য নিয়ে যাচ্ছ ? শাসিয়ে
দিয়ে সে আরো বলল, আল্লাহর কসম, তুমি খাদ্য নিয়ে ওদের নিকট যেতে পারবে না ৷ যদি
যাও, তবে আমি তোমাকে মক্কায় অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে ছাড়ব ৷ তখন সেখানে উপস্থিত হয়
আবুল বুখতারী ইবন হিশাম ইবন হারিছ ইবন আসাদ ৷ সে বলল, তোমাদের দুজনের মধ্যে কি
ঘটনা ঘটেছে ? আবু জাহ্ল অভিযোগ করে বলল, হাকীম ইবন হিযাম বনু হাশিমের নিকট খাদ্য
নিয়ে যাচ্ছে ৷ আবুল বুখ৩ তারী বলল, সে তো খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে৩ তার ফুফুর জন্যে ৷ আমি
ওকে খ৷ দ্যসামগ্রীসহ পাঠিয়েছি ৷ খাদীজার নিকট খাদ্য পৌছাতে তুমি কি বাধা দেবে ? ওর পথ


পৃষ্ঠা ১৬৯ ঠিক করুন


ছেড়ে দাও ৷ ওকে যেতে দাও ৷ আবু জাহ্ল কথা শুনল না ৷ ফলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও
মারামারি শুরু হয় ৷ একটি উটের চোয়াল নিয়ে আবুল বুখতারী তাকে মেরে রক্তাক্ত করে দেয়
এবং মাটিতে ফেলে পায়ে মাড়িয়ে দেয় ৷ কাছে দাড়িয়ে হযরত হাময৷ (বা) এসব দেখছিলেন ৷
নিজেদের মধ্যে মারামাবির এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর নিকট ৷;পীছুক আর তাতে তিনি খুশী
হন এটাতারা পসন্দ করেনিা

বস্তুত এমন দুঃসময়েও রাসুলুল্লাহ্ (না) তার সম্প্রদায়ের লোকজনকে দিনে-রাতে

প্রকাশ্যে-গোপনে রীতিমত আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছিলেন ৷ তিনি কাউকে ভয়
করছিলেন না ৷ এভাবে কুরায়শদেব আক্রমণ থেকে আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ (না)-কে রক্ষা
করলেন ৷ তার চাচা এবং ববু হাশিম ও বনু মুত্তালিব গোত্রদ্বয় তার সাহায্যে এগিয়ে এল ৷
রাসুলুল্লাহ (না)-কে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে তারা অম্ভরায়
হয়ে র্দাড়াল ৷ তখন কুরায়শর৷ তার সুনাম ও সমালোচনা শুরু করে ৷ তাকে নিয়ে ঠ ট্টা বিদ্র্যপ
করতে থাকে এবং তার বিরুদ্ধে অযথা ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করতে থাকে ৷ এদিকে কুরায়শদের এ
সকল অন্যায় আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে কুরআনের আয়াত নাযিল হতে
থাকে ৷ যারা তার সাথে শত্রুতা পোষণ করত, তাদের সম্পর্কেও আয়াত আসতে থাকে ৷ এ
জাতীয় কতক কাফির লোকের কথা কুরআন মজীদে এসেছে স্পষ্ট ভাবে নাম উল্লেখ করে ৷ আর
কতকের কথা এসেছে সাধারণভাবে ৷ এ প্রসৎগে ইবন ইসহাক আবু লাহাব এবং তাকে উপলক্ষ
করে সুরা লাহাব (সরা নং ১ ১১) নাযিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ৷ অনুরুপতাবে কাফির
উম ৷ইয়৷ ইবন থা ৷লফকে উপলক্ষ করে ;ট্রুট্রুট্রু৷ ;;;;¢ এহ্র৷ ৰু)ঠুড্রু পুর্ণ সুরা (সুরা নং ১০৪) নাযিল
হওয়ার কথা এবং আস ইবন ওয়াইলকে উপলক্ষ করে পুব্রেট্রু ৷াপ্রু )ব্লুদ্বু ;;; ৷ ৷ fl ৷
৷ ৰু৷ প্রুট্রু ৰুা৷এ :-,::;’:; (১৯৪ ৭৭) আয়াত নাযিল হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন ৷

এ বিষয়ে ইতে তাপুর্বে কিছু তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে ৷ আবু জাহ্ল ইবন হিশাম রাসুলুল্লাহ
(সা) কে বলেছিল, তুমি আমাদের উপাস্যকে পালমন্দ করা বন্ধ করবে, না হয় আমরা তোমার
উপাস্যকে গালমন্দ করব ৷ তখন আল্লাহ্ত তা আল৷ নাযিল করলেন এট্রু’ৰু :-,,, ;;;;;; ;-,;fl ৷

-ণ্ংা; )ঠুছু ৷ );; ধ্া৷ ৷ ৷স্পে ধ্া৷ ৷ যারা আল্লাহ ব্যতীত অর্নোর উপাসনা করে

তাংদর উপাস্যদেরকে তোমরা পালমন্দ কর না ৷ তাহলে সীমালৎঘন ও অজ্ঞতাবশত তারা
তা আল্লাহ্কে পানি দিয়ে (৬০ : ১ :৮)১ নায্র ইবন হারিছ ইবন কালদা ইবন আলকামা মতাস্তরে
আলকামা ইবন কালদা সম্পর্কে ইবন ইসহাক উল্লেখ করেছেন যে , রাসুলুল্লাহ্ (না) যে সকল
মজলিসে বসে কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং আল্লাহর দাওয়াত তেন তার উঠে যাওয়ার
পর নাযর ইবন হারিছ ওই সকল মজলিসে বসত ৷ সে রুস্তম এবং ইসকড়ানদিয়ারের ক হিনী
এবৎপ পারসিক সম্রাটদের আমলে তাদের যুদ্ধ বিগ্রহের কথা আলোচনা করত ৷ তারপর বলত
আল্লাহর কসম, মুহাম্মদ (সা) এর কথা আমার কথায় চেয়ে মোটেই উত্তম নয় ৷ আমার এগুলো
যেমন লিখিত কাহিনী তার কথাও তেমন লিখিত কা ৷হিনী ৷ এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ৩ তা জানা নাযিল



১ সুরা আনআম ৷; আয়াত ১০৮ ৷

€০া৷া

২২ ম্প

পৃষ্ঠা ১৭০ ঠিক করুন


এগুলো তো সেকালের উপকথা, যা সে লিখে নিয়েছে ৷ এগুলো সকাল সন্ধ্যা তার নিকট পাঠ
করা হয় (২৫ং : ৫) ৷ আল্লাহ তা আল৷ অন্যত্র বলেনং : ণ্ ;; ৷ এএে ৷ ৰুাটু< ৰুাট্রু , দুর্তো ৷গ
প্রত্যেক ঘোর মিথ্যাবাদী পাপীর (৪৫ : ৭) ৷

ইবন ইসহাক বলেন, একদিন বাসুলুল্লাহ্ (সা) ওয়ালীদ ইবন মুগীরাকে নিয়ে মসজিদে বসে
ছিলেন ৷ তখন নায্র ইবন হাবিছ এসেত তাদের নিকট বসে ৷ মজলিসে কুরায়শের অন্যান্য
লোকজনও ছিল ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কথা বলছিলেন ৷ নাযব ইবন হারিছ তার কথায় বাধা দেয় ৷
রাসুলুল্লাহ (সা) এমন জোরালো ভাষায় নাযরেব প্রত্যুত্তর দেন যে, সে লা-জবাব হয়ে যায় ৷
এরপর তিনি নাযব ইবন হারিছ ও অন্যান্য লোকদের নিকট এ আয়াত তিল ওয়াত করেন :

ন্১াটুদ্বু$ ;,াব্র, ’;,ং,টু;,া, (,; ণ্;; ৷ ণ্ন্;ড্রুন্,; মোঃ ণ্এ৷ ৷ ;,ং,টু; ট্রু,; ৰু,,; ;এ ৷;, ণ্ব্লু; ৷
ণ্,ং,;;,পু;;;ন্৷ ধ্রু;ছুন্হুশ্ ট্রু’;, ;হুৰুহৃ; ৷হ্;ট্রুন্ষ্ ংণ্’;এ — টু;ং;এ১ ৷বু,পু ,-; টুাও ; ঞ;১; ; ৷ইণ্ গু;খৃ

তোমরা এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের উপাসনা কর, সেগুলো তো জাহান্নামের
ইন্ধন, তোমরা সকলে তার মধ্যে প্রবেশ করবে ৷ ওগুলো ৷যদি প্রকৃত ৩ই ইলাহ্ হত তবে ওগুলো

হান্নামে প্রবেশ করত না ৷ ওদের সকলেই তার মধ্যে স্থায়ী হবে ৷ সেখানে থাকবে তাদের
আর্তনাদ এবং সেখানে তারা কিছুই শুনতে পাবে না (২১ : ৯৮ ১ : : ) ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা)
সেখান থেকে উঠে গেলেন ৷ এবার সেখানে উপস্থিত হল আবদুল্লাহ ইবন যাবআরী সাহ্মী
সেখানে সে বসল, ওয়ালীদ ইবন মুগীরা তাকে বলল, আল্লাহর কসম, একটু আগে আবদুল
মুত্তালিবের পৌত্রের ঘুক৷ ৷বিলায় নাযব ইবন হ বিছ দাড াণ্ডে তই পারেনি ৷ মুহাম্মদ (সা) বলেছে যে,
আমরা সবাই এবং আমরা যাদের উপাসনা করি তারা সবাই জাহান্নামের ইন্ধন হব ৷ আবদুল্লাহ
ইবন যাবআরী বলল, আল্লাহর কসম, আমি যদি তাকে পেতাম, তবে উপযুক্ত জবাব দিয়ে
দিতাম ৷ তোমরা মুহাম্মদ (সা)-ফে জিজ্ঞেস কর অ ৷ল্লাহ্ ব্যতীত অন্য যাদের আমরা উপাসনা
করি তারা এবং আমরা উপাসকরা সকলেই কি জাহান্নামের ইন্ধন হবে ? তাহলে আমরা তো
ফেরেশতাদের উপাসনা করি, ইয়াহ্রদীগণ নবী উযায়র (আ)-এর উপাসনা এবং খৃক্টানগণ নবী
ঈসা (আ) এর উপাসনা করে ৷ ইবন যাবআরীর কথায় ওয়ালীদ নিজে এবং তার সাথে যায়া
মজলিসে উপস্থিত ছিল সকলে খুব খুশী হয় ৷৩ তারা বুঝতে পারে যে, এটি উপযুক্ত উত্তর এবং
তাতে যাবআ ৷রীর জয় সুনিশ্চিত ৷ এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ (সা)-এর নিকট পৌছে ৷ ফলে ব্যাখ্যার
তিনি বলেন, আল্লাহ ব্যতীত যে সকল উপাস্য নিজেদের উপাসনা ভালবাসে, সে সকল উপাস্য
তাদের উপাসকদের সাথে জাহান্নামের ইন্ধন হবে ৷ ওরা তো মুলত শয়তানের উপাসনা করে
এবং শয়তানগণ যাদের উপাসনার নির্দেশ দেয়, সেগুলোর উপাসনা করে ৷ এ প্রেক্ষাপটে আল্লাহ
তাআলা নাযিল করলেন :

;া;

এে ণ্ণ্ট্ট ক্কু শ্যে



Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.