Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ১৫১ ঠিক করুন


আমি বলি, নাজাশী (রা)-এর জানাযায় আবু হুরায়ারা (রা)-এর উপস্থিতি একথা প্রমাণ
করে যে, খায়বার বিজয়ের পর তার ইনতিকাল হয়েছে ৷ খায়বার বিজয়ের দিনে জাফর ইবন
আবু তালিব (রা) অবশিষ্ট মুহাজিরদেরকে নিয়ে আবিসিনিয়া থেকে মদীনায় ফিরে এসেছিলেন ৷
এ প্রেক্ষিতেই রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছিলেন, আল্লাহর কলম, আমি বুঝে উঠতে পারছি না, আমি
জাফরের আগমনে বেশী আনন্দিত, না খায়বার বিজয়ের জন্যে বেশী আনন্দিত ৷ র্তারা ফিরে
আসার সময় নাজাশীর পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর জন্যে প্রচুর উপচৌকন নিয়ে
এসেছিলেন ৷ আবু মুসা আশআরী (রা)-এর সাথিগণ এবং আশআরী সম্প্রদায়ের নৌকাযাত্রী
লোকজন জাযম্ম ইবন আবু তালিবের সহযাত্রী হয়েছিলেন ৷

নাজাশীর পক্ষ থেকে রাসুলুল্পাহ্ (সা)-এর খিদমত করার জন্যে উপহার সামগ্রী ও জাফর
ইবন আবু তালিবের সাথে নাজাশী তার এক ভ্রাতুম্পুত্রকে প্রেরণ করেছিলেন, ওই ভ্রাতুম্পুত্রের
নাম ছিল ঘু-নাখতারা কিত্বা ঘু-মাখমারা ৷ সুহায়লী বলেন, নবম হিজরীর রজব মাসে নাজাশীর
ইনতিকাল হয় ৷ এ মন্তব্যের যথার্থতা পর্যালোচনা সাপেক্ষ ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

বায়হাকী বলেন, ফকীহ্ আবু ইসহড়াক আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন,
নাজাশীর পাঠানো প্রতিনিধিদল রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর উপস্থিত হওয়ার পর তিনি নিজে তাদের
খিদমত করতে লাগলেন ৷ সাহাবায়ে কিরাম আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! ওদের খিদমতের
জন্যে আমরাই তো যথেষ্ট ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ওরা আমার সাহাবীদের প্রতি সম্মানজনক
আচারণ করেছে, তার বিনিময়ে আমি নিজ হাতে ওদের প্রতিদান দিতে চাই ৷

এরপর বায়হাকী (র) বলেন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন ইস্পাহানী আর কাতাদা
(র) সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, নাজাশীর প্রতিনিধি দল রাসুলুল্লাহ্ (সা)-এর নিকট
উপস্থিত হয় ৷ তখন তিনি নিজে ওদের সেবা করতে শুরু করেন ৷ সাহাবায়ে কিরাম (বা) আরয
করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ! আপনার পক্ষ থেকে আমরাই তো ওদের সেবা করার জন্যে যথেষ্ট ৷
উত্তরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ওরা আমার সাহাবীদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ করেছে,
আমি নিজ হাতে ওদেরকে কিছু প্রতিদান দেয়া পসন্দ করি ৷ আওযাঈ থেকে তালহা ইবন যায়দ
একা এ হড়াদীছ বর্ণনা করেছেন ৷

বায়হাকী (র) আরো বলেন, আবুল হুসাইন ইবন বিশরান আমর সুত্রে বর্ণনা করেন ৷
তিনি বলেন, আমর ইবন আস আবিসিনিয়া থেকে ফিরে এসে তার বাড়িতে অবস্থান করছিল ৷
বাইরে বের হচ্ছিল না ৷ লোকজন বলল, ওর কি হল, বাড়ী থেকে বের হয় না কেন ? তখন
আমর বলল, নাজাশী আসহড়ামা বিশ্বাস করে যে, তোমাদের প্রতিপক্ষ মুহাম্মাদ (সা) একজন
সত্য নবী ৷

ইবন ইসহড়াক বলেন, আমর ইবন আস এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবু রাবীআ সাহাবীপণকে
ফেরত আনতে ব্যর্থ হয়ে নাজাশীর পক্ষ থেকে অনাকাডিক্ষত উত্তর নিয়ে কুরায়শদের নিকট
ফিরে আসে ৷ এদিকে উমর ইবন খাত্তাব (রা) ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছিলেন ৷ তিনি ছিলেন
অত্যন্ত ব্যক্তিতুসম্পন্ন ও আত্মমর্ষাদাশীল লোক ৷ তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কারো ছিল না ৷
তীর এবং হামযার মাধ্যমে রাসুলুল্পাহ্ (সা)-এর সাহাবীপণ নিরাপত্তা লাভ করেছিলেন ৷ এসকল


পৃষ্ঠা ১৫২ ঠিক করুন


পরিস্থিতি কুরায়শদেরকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে ৷ আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (বা) বলেন, হযরত
উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পুর্ব পর্যন্ত আমরা কাবা শরীফের নিকট নামায আদায় করতে
পারতাম না ৷ হযরত উমর (রা) যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন তিনি কুরায়শদের বিরুদ্ধে
চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এবং নিজে কাবা শরীফে নামায আদায় করলেন ৷ আমরাও তার সাথে
সেখানে নামায আদায় করলাম ৷

আমি বলি , সহীহ্ ৰুখারীতে ইবন মাসউদ (রা)-এর একটি হাদীছ আছে ৷ তিনি বলেছেন,
“হযরত উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমরা শক্তিশালী হতে লাগলাম যিয়াদ
বৃকাঈ বলেন, ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন, হযরত উমর (রশ্মি-এর ইসলাম গ্রহণ করাই ছিল
একটি বিজয় ৷ র্তার হিজরত ছিল বিরাট সাহায্য এবং তার শাসন ছিল একটি রহমত ৷ হযরত
উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণের পুর্বে আমরা কাবা শরীফের নিকট নামায আদায় করতে
পারতাম না : তার ইসলাম গ্রহণ করার পর কুরায়শদের প্রতি তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন এবং
কা’বাগৃহের নিকট নামায আদায় করলেন ৷ আমরাও তার সাথে নামায আদায় করলাম ৷

ইবন ইসহাক বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাহাবীপণের আবিসিনিয়ার হিজরতের পর
হযরত উমর (রা) ইসলাম গ্রহণ করেন ৷ ইবন ইসহড়াক উম্মে আবদুল্লাহ বিনত আবু হাছামা
থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা আবিসিনিয়ার দিকে যাচ্ছিলাম ৷
জরুরী প্রয়োজনে আমির (রা) বাইরে গিয়েছিলেন ৷ হঠাৎ উমর এসে উপস্থিত হলেন ৷ তিনি
আমার নিকট এসে দীড়ালেন ৷ তখনও তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি ৷ তার বহু জুলুম-নির্যাতনের
শিকার আমরা হয়েছিলাম ৷ উমর (রা) বললেন, হে উম্মে আবদুল্লাহ তোমরা কি দেশ ছেড়ে চলে
যাচ্ছে ? আমি বললাম হ্যা আপনারা যখন আমাদেরকে নানা ভাবে কষ্ট দিচ্ছেন নির্যাতন
করছেন, তখন আমরা আল্লাহর দুনিয়ার অনব্লি কোন দেশে চলে যাব ৷ যেখানে মহান আল্লাহ
আমাদের নিষ্কৃতির ব্যবস্থা করবেন ৷ তখন উমর বললেন, তাই হোক আল্লাহ তোমাদের সহায়
হোন ৷ সে মুহুর্তে আমি উমরের মধ্যে এমন নম্রতা ও উদারতা লক্ষ্য করলাম, যা ইতোপুর্বে
কখনো তার মধ্যে দেখা যায়নি ৷ এরপর তিনি নিজ গন্তব্যে চলে গেলেন ৷ আমার যা মনে হল
আমাদের দেশত্যাগে তিনি ব্যথিত হয়েছিলেন ৷ ইতোমধ্যে প্রয়োজন সমাধা করে আমির ফিরে
এলেন ৷ আমি বললাম, হে আবু আবদুল্লাহ! একটু আগে আপনি যদি উমরের নম্রতা ও উদারতা
এবং আমাদের ব্যাপারে দুঃখিত হওয়ার পরিস্থিতিটা দেখতে পেতেন! আমির বললেন, উমর
ইসলাম কবুল করুন তুমি কি তা“ কামনা কর ? আমি বললাম হ্যা, তা বটে ৷ তিনি বললেন,
খাত্তারের গাধা যতক্ষণ ইসলাম গ্রহণ না করবে, ততক্ষণ তোমার এ দেখা সত্বেও তাতে উমরের
ইসলাম গ্রহণের সম্ভাবনা নেই ৷ উম্মে আবদুল্লাহ বলেন , ইসলামের প্রতি উমরের অনমনীয়তা,
রুক্ষতা ও কঠােরতার প্রেক্ষিতে তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন ৷

আমি বলি যারা মনে করেন যে, হযরত উমর (বা) : :তম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি এ
বর্ণনা তাদের মন্তব্যকে রদ করে দেয় ৷ কারণ, আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলমানদের সংখ্যা
৮ : এর উপরে ছিল ৷ তবে উপরোক্ত মন্তব্য সঠিক বলে ধরে নেয়া যাবে তখন, যখন বলা হবে
যে, হিজরতকারীদের হিজরতের পর যারা মক্কায় অবশিষ্ট ছিলেন তাদের সংখ্যা অনুসারে হযরত


পৃষ্ঠা ১৫৩ ঠিক করুন


উমর (বা) : :তম ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তি ৷ অবশ্য , হযরত উমর (বা)-এর ইসলাম গ্রহণ
বিষয়ক যে ঘটনা ইবন ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তাতে উপরোক্ত ব্যাখ্যার সমর্থন পাওয়া যায় ৷
ইবন ইসহাক বলেছেন হযরত উমর (রা)-এর ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কিত যে ঘটনা আমার নিবল্ট
এসেছে তা এরুপ :

তার বোন ফাতিম৷ বিনত খাত্তাব ছিলেন সাঈদ ইবন যায়দ ইবন আমর ইবন নুফায়ল এর
শ্রী ৷ র্তার৷ স্বামী-দ্রী ণুজনেই ইওে তাপৃর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ র্তার৷ ইসলাম গ্রহণের
বিষয়টি উমর থেকে গোপন রেখেছিলেন ৷ বনু আদী গোত্রের নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ নামের
এক ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন ৷ তার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি তিনিও নিজ সম্প্রদায়ের
লোকদের নিকট থেকে ৷:গপন রেখেছিলেন ৷ খাব্বাব ইবন আরত (বা) বিভিন্ন সময়ে উমরের
বোন ফাতিমার বা তে এসে র্তাকে কুরআন শিক্ষা দিতেন ৷

একদিন উমর নাঙ্গা তরবাবি হাতে রাসুলুল্লাহ্ (না) ও তার সাথীদেরকে হত্যা করার
উদ্দেশ্যে রওনা হন ৷ তাকে জানানো হয় যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) ও তার সাহাবীগণ সাফ৷ পাহাড়ের

কাছাকাছি ৷ রাসুলুয়াহ্ (সা) এ-র নিকট তখন তার চাচা হামযা (রা), আবু বকর ইবন আবু
কুহাফ৷ (বা ) এবং আলী ইবন আবৃত তালিব (রা) সহ মক্কায় অবস্থানকারী মুসলমানগণ ছিলেন ৷
৷ ৩ারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেননি ৷

পথে উমরের সাথে দেখা হয় নুআয়ম ইবন আবদুল্লাহ (বা ) এর ৷ নুআয়ম বললেন উমর
কোথায় যাচ্ছা উমর বলল, “যাচ্ছি তো ধর্মন্৩ চ্যাপী মুহাম্মদ (সা) এর উদ্দেশে ৷ সে কুরায়শ
জাতির ঐক্য বিনষ্ট করেছে ৷ জ্ঞানী-গুর্ণীদেরকে মুর্থ ঠাওরিয়েছে ৷ কুরায়শদের ধর্মের নিন্দা ও
দােষারোপ করেছে এবং আমার দেবতাদেরকে গালমন্দ করেছে ৷ আমি তাকে খুন করব ৷
নুআয়ম (বা) বললেন, উমর ! তোমাদের আত্মগরিমা তোমাকে প্রভাবিত করেছে ৷ তুমি যদি
মুহাম্মদ (সা) কে খুন কর তবে তুমি কি মনে করেছ যে আবৃদ মানাফ গোত্র তোমাকে
দুনিয়াতে বিচরণ করার জন্যে ছেড়ে দেবে ? আগে নিজ পরিবারের দিকে ফিরে গিয়ে তাদেরকে
ঠিক কর ৷ উমর বললেন, আমার পরিবারের কার কথা বলছ ? নুআয়ম বললেন, তোমার চাচাত
ভাই ও ভগ্নিপতি সাঈদ ইবন যায়দ এবং তোমার সহােদরা ফাতিমার কথা বলছি ৷ আল্লাহর
কলম, তারা দু’জনে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং মুহাম্মদ (সা)-এর দীন কবুল করেছেন ৷ তুমি
আগে ওদেরকে ঠিক কর ৷ উমর তখন ছুটে গেলেন তার বোন ফ তিমার বাড়ী অভিমুখে ৷
খাব্বাব ইবন আরত তখন ফাত ৷তিম৷ (রা) এর বাড়ীতে ছিলেন ৷ সুরা ছু-৷ হা লিখিত একটি কপি
থেকে তিনি ফাতিমাকে কুরআন পাঠ শিক্ষা দিচ্ছিলেন ৷ উমরের আগমন জড়াচ করতে পেরে
খাব্বাব (বা) একটি ক্ষুদ্র কক্ষে অথবা গৃহকােণে লুকিয়ে গেলেন ৷ ফাতিম৷ (বা) কুরআনের
কপিটি তার উরুর নীচে লুকিয়ে রাখলেন ৷ গৃহের দরজার পাশে এসেই উমর ফাতিমাকে
খাব্বাবের কুরআন শেখানাের শব্দ শুনেছিলেন ৷ ঘরে প্রবেশ করে ফাতিমাকে বললেন একটু
আগে আমি কিসের শব্দ শুনছিলাম ? ফ৷ ৷তিমাও তার স্বামী বললেন, কই না তো আপনি কিছুই
শুনেননি ৷ উমর হুৎকার ছেড়ে বললেন, আমি অবশ্যই শুনেছি ৷ আর আল্লাহর কসম, আমি


পৃষ্ঠা ১৫৪ ঠিক করুন


জানতে পেয়েছি যে, তোমরা দৃ’জনে মুহাম্মদ-এর দীন কবুল করেছ ৷ এ বলে তিনি তীর
ভগ্নিপতি সাঈদ ইবন যায়দের উপর আক্রমণ করলেন এবং তাকে বেধড়ক পেটাতে লাগলেন ৷
ফাতিমা তার স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলেন ৷ উমর তাকেও প্রহারে প্ৰহারে রক্তাক্ত করে
তুললেন ৷ শেষ পর্যন্ত ফাতিমা (রা) ও তার স্বামী বললেন, “হ্যা, আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি
এবং আল্লাহ ও তার রড়াসুলের প্রতি ঈমান এসেছি ৷ এখন আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন ৷”

বোনের রক্তাক্ত শরীর দেখে উমর নিজের কৃতকর্মের জন্যে পাঠজ্জিত হলেন এবং প্রহার
বন্ধ করে দিলেন ৷ বোন ফ তিমাকে বললেন, ইতোপুর্বে তোমরা যা করছিলে সেটি আমাকে
দাও ৷ মুহাম্মাদ কি নিয়ে এসেছেন তা আমি একটু দেখি ৷ উমর লেখাপড়া জানা লোক ছিলেন ৷
ফাতিমা (রা) বললেন, আপনি সেটির অমর্যাদ৷ করবেন বলে আমার আশংকা হচ্ছে ৷ তিনি
বললেন, না, ভয় করো না ৷ পাঠ শেষে ওই কপি ফাতিমাকে ফিরিয়ে দিবেন বলে তিনি আপন
উপাস্যের শপথ করলেন ৷ একথা শুনে হযরত উমর ইসলাম গ্রহণ করবেন এমন আশার সঞ্চার
হয় ফ নিমাব মনে ৷ ফাতিমা (রা) বললেন, ভাইয়া! শিরক অনুসরণ করার কারণে আপনি
অপবিত্র হয়ে আছেন ৷ পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত কেউ এটি স্পর্শ কররু ন্ পারে না ৷ উমর উঠে
দাড়ালেন এবং গোসল সেরে এলেন ৷ ফাতিমা (রা) লিপিক৷ টি তাকে দিলেন ৷ তাতে সুরা ত্া-হা
লিখিত ছিল ৷ উমর তা পাঠ করতে লাগলেন ৷ শুরু থেকে কিছু পাঠ করার পর তিনি বলে
উঠলেন, কী চমৎকার! এটি কত সুন্দর ও মর্ষাদাপুর্ণ বাণী ৷ উমরেব কথা শুনে খাব্বাব ইবন
আরত গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন, হে উমর ! আল্লাহ্র কসম , আমি নিশ্চিত
আশা রাখি যে, রাসুলুল্লাহ (সা) এর দৃআর প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ আপনাকে বিশেষভাবে
কবুল করেছেন ৷ কারণ আমি গতকাল রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বলতে শুনেছি তিনি বলছিলেন
৷ ণ্া৷ ৷ হে আল্লাহ আবুল
হিকাম ইবন হিশাম অথবা উমর ইবন খাত্তাবের দ্বারা আপনি ইসলামের শক্তি বৃদ্ধি করে দিন ৷
সুতরাং হে উমর আপনি আল্লাহ্কে ভয় করুন, তার পথ অবলম্বন করুন ৷

উমর বললেন, হে খাব্বাব ! আমাকে বল, মুহাম্মদ (সা) কোথায় আছেন ? আমি যাতে তার
নিকট গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করতে পারি ৷ খাব্বাব (রা) বললেন, কতক সাহাবীসহ মুহাম্মদ (সা)
সাফ৷ পাহাড়ের পাদদেশে একটি বাড়ীতে অবস্থান করছেন ৷ উমর তার তরবারি হাতে নিলেন ৷
সেটি কােষমুক্ত করে রাসুলুল্লাহ্ (না) ও তার সাহাবীদের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে ছুটে
চললেন ৷ গন্তব্যে পৌছে তিনি দরজায় করাঘাত করলেন ৷ শব্দ শুনে একজন সাহাবী দরজায়
র্ফাক দিয়ে বাইরে তাকালেন ৷ খোলা তরবারি হাতে উমরকে দেখে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে তিনি
রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট ফিরে যান এবং বললেন ইয়া রাসুলাল্লাহ্ ৷ খোলা তরবারি হাতে
উমর দ্বার প্রান্তে দাড়িয়ে আছেন ৷ হযরত হামযা (রা) বললেন, ওকে আসতে দাও, সে যদি ভাল
চায় তবে আমরা তাকে সে সুযোগ দিব ৷ আর সে যদি কোন মন্দ উদ্দেশ্যে এসে থাকে তবে
তার নিজ তরবারি দিয়েই আমরা তাকে হত্যা করব ৷

রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, ওকে ভেতরে আসার অনুমতি দাও ৷ অনুমতি দেয়৷ হল ৷ কক্ষে
প্রবেশ করার পর রাসুলুল্পাহ্ (না) তার প্রতি এগিয়ে গেলেন ৷ উমরেব কােমর অথবা চাদরের


পৃষ্ঠা ১৫৫ ঠিক করুন


গিট ধরে তিনি সজেড়ারে এক বাড়াকুনি দিলেন ৷ তারপর বললেন, “খাত্তাব তনয় ৷ কি উদ্দেশ্যে
এসেছ ? আল্লাহর কসম, তুমি এ মন্দ পথে থেকে যাও আর শেষ পর্যন্ত তোমার উপর আল্লাহর
গযব নাযিল হোক তা আমি চাই না ৷ এবার উমর বললেন ইয়া রাসুলাল্পাহ্! আমি এসেছি
আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়ন করার জন্যে এবং তার প্ৰতি আল্লাহর পক্ষ থেকে
নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ৷ বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) সজােরে তাকবীর
বলে উঠলেন ৷ তাতে ঐ ঘরে অবস্থানকারী সকলে বুঝে নিলেন যে, হযরত উমর (রা) ইসলাম
গ্রহণ করেছেন ৷ তখন থেকে সাহাবায়ে কিরড়াম (বা) ছেড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েন এবং হযরত
হামযা (রা) এর ইসলাম গ্রহণের পর হযরত উমর (রা) বাড়ি ইসলাম গ্রহণ করায় মুসলমানদের
মনােবল বহুলাংশে বৃদ্ধি পায় ৷ তারা আশ্বন্ত হন যে, এরা দু’জনে এখন রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করবেন এবং এদের সাহায্যে মুসলমানগণ শক্রদের অত্যাচারের মুকাবিলা
করবেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, মদীনায় অবস্থানকারী বর্ণনাকায়িপণ হযরত উমর (রা) এর ইসলাম
গ্রহণ সম্পর্কে এরুপ বর্ণনা করেছেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন, আবদুল্লাহ ইবন আবু নাজীহ মকী
তার সমসাময়িক আতা’ , মুজাহিদ এবং অন্যান্য বর্ণনাকারী থেকে হযরত উমরের ইসলাম গ্রহণ
সম্পর্কে তার নিজের বর্ণনা এভাবে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি বলতেন আমি ইসলাম থেকে
বহুদুরে অবস্থান করছিলাম ৷ জাহিলী যুগে আমি মদ পানে আসক্ত ছিলাম ৷ মদ ছিল আমার প্রিয়
বন্তু ৷ আমি রীতিমত মদপান করতাম ৷ হাঘুরা নামক স্থানে আমাদের এক মদপানের আসর
বসত ৷ কুরড়ায়শের অভিজাত লোকজন সেখানে সমবেত হত ৷ এক রাতে আমি সাথীদের সঙ্গে
সাক্ষাতের জন্যে সেখানে যাই ৷ কিন্তু ওদের কাউকেই সেখানে পেলাম না আমি মনে মনে
বললাম , তাহলে অমুক মদ্যপের নিকট যাই আশা করি তার নিকট মদ পাব এবং সেখানে মদ
পান করব ৷ আমি তার বাড়ি পৌছি কিত্তু তাকেও পেলাম না ৷ এবার মনে মনে বললাম , এখন
যদি কাবাগৃহে গিয়ে সাতবার কিৎবা সত্তরবার তাওয়াফ করি , তবে তাওতো ভাল হয় ৷

হযরত উমর (রা) বলেন, এরপর আমি মাসজিদুল হারামে আসি ৷ হঠাৎ দেখতে পাই
রাসুলুল্লাহ্ (সা) দাড়িয়ে নামায আদায় করছেন ৷ তিনি তখন সিরিয়ার দিকে মুখ করে নামায
আদায় করতেন ৷ তার এবং সিরিয়ার মধ্যখানে থাকত কাবাগৃহ ৷ রুকন-ই-আসওয়াদ এবং
রুকন-ই-ইয়ামানীর মধ্যবর্তী স্থান ছিল তার নামাযের স্থান ৷ উমর (রা) বলেন, তাকে দেখে
আমি মনে মনে বললাম, আজ রাতে আমি যদি মুহাম্মদের কথাবার্তা ওনি, তাহলে আমি বুঝতে
পারব যে, তিনি কী বলেন ? আমি মনে মনে বললাম, তার কাছে গিয়ে আমি যদি শুনি, আহলে
তিনি আমাকে দেখে ফেলবেন এবং তাতে তার একাগ্রতা বিব্লিত হবে ৷ তাই আমি হড়াজারে
আসওয়ড়াদের দিকে আসি এবং কাবার গিলাফের মধ্যে ঢুকে পড়ি ৷ তারপর ধীরে ধীরে অতি
সন্তর্পণে অগ্রসর হই ৷ গিলাফের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে আমি ঠিক তার সম্মুখে গিয়ে তার
দিকে মুখ করে দাড়িয়ে যাই ৷ তার মাঝে আর আমার মাঝে ব্যবধান শুধু কাবার পিলাফ টুকু ৷
তার কুরআন পাঠ শুনে আমার মন বিচলিত হয় ৷ আমার কান্না এসে পড়ে এবং ইসলাম আমার
অস্তরে স্থান করে নেয় ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নামায শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি ওখানে দাড়িয়ে


পৃষ্ঠা ১৫৬ ঠিক করুন


থাকি ৷ নামায শেষ করে তিনি চলে যান ৷ তিনি ফিরে গিয়ে ইবন আবু হুসা ৷ইনের গৃহে উঠতেন ৷
ইবন আবুল হুসাইনের গৃহ ছিল আদ দারুর রাকতায় ৷ সেটি পরবর্তীতে মুআবিয়ার
মালিকানা ধীনে আসে ৷

উমর (রা) বলেন, আমি তার পেছন পেছন যাত্রা করি ৷ হযরত আব্বাসের বাড়ী এবং ইবন
আযহারের বাড়ীর মধ্যবর্তীন্থানে আমি ত ব নাগাল পাই ৷ আমার পদধ্বনি শুনে তিনি আমাকে
চিহ্ন ফেললেন ৷ তিনি মনে করেছিলেন ত বুাক কষ্ট দেয়ার ওত তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যেই
বুঝি আমি তার নিকট উপস্থিত হয়েছি ৷ত তাই তিনি আমাকে সজোরে ধমক দিলেন ৷
তারপর বললেন, “ইবনুল খড়াত্তাব! এ সময়ে তুমি এখানে কেন ? আমি বললাম, ” আমি
এসেছি আল্লাহর প্রতি এবং৩ ৷ তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়ন করার জন্যে এবং আল্লাহর পক্ষ
থেকে যা এসেছে তা সত্য বলে মেনে নেয়ার জন্যে ৷” আমার উত্তর শুনে তিনি আল্লাহর প্রশংসা
করলেন এবং বললেন :

“হে উমর মহান আল্লাহ তে তামাকে হিদায়াত দান করেছেন ৷’ তারপর তিনি আমার বুকে
হাত বুলিয়ে দিলেন এবং ঈমানে আমার দৃঢ়তার জন্যে দু অ করলেন ৷ এরপর আমি চলে
পেলাম ৷ তিনি ঘরে ঢুকে পড়লেন ৷ ইবন ইসহাক বলেন উমরের ইসলাম গ্রহণ উক্ত ঘটনা
দু’টির কো ৷নটির প্রেক্ষিতে হয়েছিল তা আল্লাহ তা’আলা ই জা নেন ৷

আমি বলি, উমর (রা) এর জীবনী গ্রন্থের প্রথম ভাগে আমি তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা
এবং এ সম্পর্কিত যত তবর্ণনা ও মন্তব্য রয়েছেত তার সবগুলো বিস্তারিত৩াবে উল্লেখ করেছি ৷
সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷

ইবন ইসহাক বলেন, নাফি’ ইবন উমর (রা) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন যে,
হযরত উমর (রা) যখন ইসলামগ্রহণ করলেন, তখন তিনি বললেন, কুরায়শের মধ্যে সবচেয়ে
দ্রুত বার্তা প্রচার করতে পারে কে ? তাকে বলা হল যে জামীল ইবন মা’মা ৷র জুমাহী তা পারে ৷
পরের দিন সকালে উমর (রা)ত তার নিকট পেলেন ৷ আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) বলেন আমিও
তিনি কী করেন তা দেখার জন্যে তার পেছনে পেছনে পেলাম ৷ তখন আমি এ বয়সের বালক
যে, যা দেখি তা বুঝতে পারি ৷ উমর (রা) এলেন জামীলের নিকট ৷ তাকে বললেন, মি কি

জান হে জামীল! আমি ওে ৷ ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং মুহাম্মদ (সা ) এর ধর্মে প্রবেশ করেছি ৷
ইবন উমর (রা) বলেন, আল্লাহর কসম, সে আর দেরী করেনি, কে ন উত্তরও দেয়নি এবং
চাদরটি টেনে নিয়ে ছুটে চলল ৷ আমি আর উমর (বা) তার পেছনে পেছনে ছুটলাম ৷
মাসজিদুল হারামের দরজায় গিয়ে সে দীড়ায় এবং উট্চ্চস্ব৪রে চীৎকার করে বলে, হে কুরায়শ
সম্প্রদায় ! ওরা তখন কাবাগৃহের আশে-পাশে তাদের আসবে উপস্থিত ছিল ৷ তোমরা শুনে
নাও, খাত্তাবের পুত্র ধর্মত্যাগী হয়েছে ৷ তখন তার পেছন থেকে উমর (রা) বলে উঠলেন,
সে মিথ্যা বলেছে, আমি বরং ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং সাক্ষ্য দিয়েছি যে, আল্লাহ ব্যতীত
কোন ইলাহ্ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসুল ৷ একথা শুনে তারা সবাই হযরত উমর
(রা)-এর উপর বাপিয়ে পড়ে ৷ তিনি একা ওদের সকলের বিরুদ্ধে লড়তে লাগলেন ৷ ওরা সবাই
একযোগে তার বিরুদ্ধে লড়তে লাগল ৷ এভাবে যুদ্ধ চলতে চলতে সুর্য এসে পড়ল তাদের


পৃষ্ঠা ১৫৭ ঠিক করুন


মাথার উপর ৷ এবার তিনি ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লেন ৷ ওরা সকলে তখন র্তাকে যেরাও করে
রয়েছে ৷ তিনি বলছিলেন, তোমাদের বা মন চায় করতে পার, তবে আল্লাহর কলম করে বলছি,
আমরা যদি সংখ্যায় ৩০০ জন থাকতাম, তাহলে কি আমরা তোমাদেরকে এমন ছেড়ে দিতাম ,
না তোমরা আমাদের এভাবে ছেড়ে দিতে ?

তারা এ পরিস্থিতিতে ছিল ৷ হঠাৎ রেশমী চাদর ও নকশা খচিত জামা গায়ে বয়োবৃদ্ধ এক
কুরায়শী ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয় ৷ সে বলে, তোমাদের কী হলো হে ? তার বলল, উমর
ধর্মত্যাগী হয়েছে ৷ বৃদ্ধটি বলল, থাম, একজন লোকতার নিজের জন্যে যা ভাল মনে করেছে
তা গ্রহণ করেছে ৷ এখন তোমরা কী করতে চাও ? তোমরা কি মনে করেছ আদী গোত্রের
লোকেরা তাদের একজন লোককে এ অবস্থায় তোমাদের হাতে ছেত্তঢ় দেবে ? তোমরা ওর পথ
ছেড়ে দাও ৷ আল্লাহ্র কসম , এরপর তারা ভয় পেয়ে সকলে তার কাছ থেকে এমন ভাবে সরে
পড়ে যেমন কাপড় গা থেকে সরে পড়ে যায় ৷

ইবন উমর (রা) বলেন, পরবর্তীতে আমার পিতা যখন মদীনায় হিজরত করলেন, তখন
আমি বললাম, পিতা মক্কায় যেদিন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেদিন আপনার উপর
আক্রমণকারী লোকজনকে ধমক যেয়ে যে ব্যক্তি আপনার নিকট থেকে সরিয়ে দিয়েছিল,
সে ব্যক্তিটি কে ছিল ? উত্তরে তিনি বললেন, বৎস, সে হল ত্মাস ইবন ওয়াইল সাহমী ৷ এটি
একটি মযবুত ও উৎকৃষ্ট সনদ ৷ এ বর্ণনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, উমর (রা) বিলন্বে ইসলাম
গ্রহণ করেছিলেন ৷ ক বণ উহুদ যুদ্ধের দিন ইবন উমর নিজেকে মুজাহিদ তালিকাভুক্ত করার
জন্যে উপস্থিত হয়েছিলেন ৷ তখন তার বয়স মাত্র চৌদ্দ বছর ৷ উহুদের যুদ্ধ স ঘটিত
হয়েছিল তৃতীয় হিজরীতে ৷ যখন তার ৷প৩ ৷ ইসলাম গ্রহণ করেন, তখন তিনি মোটামুটি

লা-ক চতুর ছিলেন ৷ এ হিসেবে ধরে নেয়া যায় যে, হযরত ৩উমর (বা) ইসলাম গ্রহণ করেছেন
চহিজররুত র চার বছর পুর্বে ৷ এ হিসেবে তার ইসলাম গ্রহণের ঘটনা ঘটে নবুওয়াতের নবম
বছরে ৷ আল্লাহ্ই ভাল জা নেন ৷

বায়হাকী (র) বলেন, হাকিম ইবন ইসহড়াক সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
রাসুলুল্পাহ্ (সা) মক্কায় অবস্থান করছিলেন ৷ তার নবুওয়াতের কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায়
আবিসিনিয়া থেকে প্রায় কুড়ি জন খৃণ্টান রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর থেদমতে হাযির হয় ৷ তখন তিনি
একটি মজলিসে বসা ছিলেন ৷ তারা তার সাথে আলাপ-আলোচনা করে এবং বিভিন্ন বিষয়ে
জিজ্ঞাসাবাদ করে ৷ কুরায়শের কতক লোক কাবাগৃহের আশে-পাশে তাদের আসবে উপস্থিত
ছিল ৷ রাসুলুল্পাহ্ (না)-কে তাদের যা জিজ্ঞেস করার ছিল তা জিজ্ঞেস করার পর তিনি
তাদেরকে আল্লাহ্ তাঅড়ালার দিকে দাওয়াত দেন এবং তাদের নিকট কুরআন তিলাওয়াত
করেন ৷ কুরআন তিলাওয়াত শুনে তাদের দু’চোখ যেয়ে অশ্রু গড়াতে থাকে ৷ তারা তার
আহ্বানে সাড়া দেয়, তার প্রতি ঈমান আনয়ন করে ৷ তাকে সত্যবলে মেনে নেয় এবং তার
সম্পর্কে তাদের ইনজীল কিত ড়াবে যেসকল পরিচয় পেয়েছে তার মধ্যে যে গুলোর সত্যতা
উপলব্ধি করে ৷


পৃষ্ঠা ১৫৮ ঠিক করুন


তার মজলিস থেকে ফেরার পথে কতক কুরায়শ লোকসহ আবু জাহ্ল তাদের সম্মুখে এসে
দাড় ৷য় ৷ সে তাদের উদ্দেশ্যে বলে, ওে ৷মাদের এ আরোহী দলকে অ ৷ল্পাহ্ তা আলা ব্যর্থ করে
দিন ৷ তোমাদের ধর্মানুসারী লোকের, ওে ৷মাদেরকে প্রেরণ করেছিল এজন্যে যে, তোমরা এই
লোকের নিকট আসবে এবং৩ তার ঘোজখবর নিয়ে ওদেরকে জ নারে ৷ কিংব্লু তোমরা করেছ
কী ? তার মজলিসে বসেছ আর শেষ পর্যন্ত নিজেদের ধর্ম তা৷গ করে সে তােমাদেরকে
যা বলল, তাকে সর্ব সত্য বলে মেনে নিলে! তোমাদের চাইতে অধিক মুর্থ কোন প্রতিনিধিদল
আমরা দেখিনি ৷

প্রতিনিধিদল বলল, আমরা আপনাদেরকে মুর্থ বলব না ৷ আপনাদের প্রতি সালাম ৷
আমাদের কর্ম আমাদের জন্যে আর আপনাদের কর্ম আপনাদের জন্যে ৷ আমাদের কল্যাণ
সাধনে আমরা কমতি করব না ৷ কথিত ৩আছে যে ওরা ছিল নাজরানের খৃন্টান প্রতিনিধিদল ’
আল্লাহ্ই ভ ৷ল জানেন ৷ কথিত আছে যে, নিম্নোক্ত আয়াত গুলো ওদেরকে উপলক্ষ করে নাযিল
হয়েছেং :
ট্রু,ঠু ’এা৷
যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম, তারা এটিতে বিশ্বাস করে ৷ যখন তাদের নিকট এটি
তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা এটিতে ঈমান আমি, এটি আমাদের
প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আগত সত্য ৷ আমরা তো পুর্বেও আত্মসমর্পণকারী ছিলাম ৷ ওদেরকে
দ্বিগুণ পারিশ্রমিক দেয়৷ হবে ৷ কারণ, তারা ধৈর্যশীল এবং তারা ভাল দ্বারা মন্দকে প্রতিরোধ
করে এবং আমি ওদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে ৷ ওরা যখন অসার বাক্য শ্রবণ
করে , তখন তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলে” “আমাদের কাজের ফ ল আমাদের জন্যে এবং
তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্যে, তোমাদের প্রতি সালাম আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাই না”
(২৮ : ৫ ২ ৫ ৫ ) ৷
পরিছেদ

বায়হাকী (র) আদ-দা লাইল গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “নাজাশীর নিকট রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর
পত্র বিষয়ক পরিচ্ছেদ” তারপর তিনি হাকিম ইবন ইসহাক সুত্রে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি
বলােছলা



; ,



০ ধ্

াৰু,ৰ্ট হ্;া,ট্রু;১ ১াট্রু ভ্রুা৷ ৷ ১৷ ৷


পৃষ্ঠা ১৫৯ ঠিক করুন


ট্রু,ৰুষ্ এেট্রুশ্রো ৷ ন্,;র্প৷ ৷টুট্রুগ্লু;
;াপ্রুপু;;ৰু
এটি রাসুলুল্লাহ-এর পক্ষ থেকে আবিসিনিয়ায় রাজা আসহাম নাজাশীর প্রতি প্রেরিত লিপি ৷
শান্তি বর্ধিত হোক তার উপর যে হিদায়াতের পথ অনুসরণ করে ৷ আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি
ঈমান আনয়ন করে এবং সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই ৷ তিনি একক, তার
কোন শরীক নেই ৷ তিনি শ্রী কিৎবা সন্তান গ্রহণ করেননি এবং যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দেয় যে,
মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল ৷ আমি আপনাকে আল্লাহ তাআলার প্রতি দাওয়াত
দিচ্ছি ৷ আমি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল ৷ আপনি ইসলাম গ্রহণ করুন, তাহলে নিরাপত্তা পাবেন ৷
হে কিতাবিগণ! এসো সে কথায় যা আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে অভিন্ন ৷ যেন আমরা
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করি ৷ কোন কিছুকেই তার শরীক না করি এবং
আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত প্রতিপালকরুপে গ্রহণ না করে ৷ যদি তারা মুখ ফিরিয়ে
দেয়, তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলিম (২৩) (৩ : ৬৪ ) হে নাজাশী ! আপনি যদি
ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান, তবে আপনার সম্প্রদায়ের সকল খৃক্টানের পাপ আপনার উপর
বতাবে ৷
বায়হাকী (র) আবিসিনিয়ায় হিজরত সম্পর্কিত ঘটনা বর্ণনা করার পর এভাবে চিঠি বিষয়ক
আলোচনা উল্লেখ করেছেন ৷ অবশ্য এভাবে উল্লেখ করার যথার্থতা সন্দেহমুক্ত নয় ৷ কারণ,
এচিঠি দেয়া হয়েছিল হযরত জাফর (রা) ও তীর সঙ্গীগণ যে নাজাশীর সাথে কথা বলেছিলেন
যে নাজাশীর পরে ক্ষমতাসীন নাজাশীকে ৷ বন্তুত মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে রাসুলুল্লাহ্ (না)
আল্লাহ্র প্রতি দাওয়াত দিয়ে অন্যান্য রাষ্ট্ৰনায়কদেরকে যে পত্রাবলী দিয়েছিলেন এটি তারই
একটি ৷ এ সময় তিনি রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াস, পারস্য সম্রাট কিসরা, মিসর-রাজ ফিরআওন
এবং আবিসিনিয়ায় রজো নাজাশীর নিকট পত্র প্রেরণ করেছিলেন ৷

যুহরী বলেন, সকল রাষ্ট্র প্রধানের নিকট রাসুলুল্লাহ্কেই মর্মের পত্র প্রেরণ করেছিলেন ৷
সকল চিঠিতেই এ আয়াত ছিল ৷ এটি সুরা আবুল-ইমরানের আয়াত ৷ এটি যে মাদানী সুরা
তাতে কোন দ্বিমত নেই ৷ এ আয়াতগুলাে সুরার প্রথম দিকের আয়াত ৷ আলোচ্য সুরার প্রথম
দিকের ৮৩ টি আয়াত নাজরানের খৃষ্টান প্রতিনিধিদেরকে উপলক্ষ করে নাযিল হয়েছে ৷
তাফ্সীর গ্রন্থে আমরা এটি উল্লেখ করেছি ৷ সকল প্রশংসা আল্লাহর ৷

সুতরাং এ পত্রখানা দেয়া হয়েছিল দ্বিতীয় নাজাশীকে ৷ প্রথম নাজাশীকে নয় ৷ বর্ণনায়
আসহাম” নামের উল্লেখ সম্ভবত কোন বর্ণনাকারীর নিজস্ব উপলব্ধি প্রসুত সংযোজন ৷ আল্লাহ্ই
ভাল জানেন ৷

এ আলোচনার সাথে উপরোক্ত পত্র অপেক্ষা নিম্নে বর্ণিত পত্রটি উদ্ধৃত করা অধিকতর

প্রাসংগিক ও খুক্তিসংগত ৷ বায়হাকী (র) উল্লেখ করেছেন যে, হাকিম মুহাম্মদ ইবন ইসহাক
সুত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) জাফর ইবন আবু তালির ও তার সঙ্গীদের


পৃষ্ঠা ১৬০ ঠিক করুন


প্রতি সহানুভুতিপুর্ণ আচরণ করার অনুরোধ সম্বলিত একটি চিঠি সহকারে আমর ইবন উমাইয়া
যামারীকে নাজাশীর নিকট প্রেরণ করেছিলেন ৷

৮ণ্৷ ৷

হু)
স্ফো
ৰুর্দু৷ ’, ষ্ ৷ব্লু

শ্ শ্ ঙ্গু;

এ ৷ শ্া ৷ ৷ ;£:;; ংাপুষ্ড়ু ণ্এ৷ ৷ ট্রুার্দু,ৰু, প্রুর্দুএেপু ১ছু(; ;১ত্র ৷শঃ ংর্ত্য চ্প্রুষ্টুষ্টুট্র ছু ব্লুব্লু ঠুাড়ু
— পুরু;পু;ট্রু ন্;ব্লু ৷ স্পো ণ্ ১াহ্র;;া
ৰু;ম্পা ৷ ৷ ৷

পরম দয়ালু, দয়মিয় আল্লাহর নামে ৷ আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ (সা ) এর পক্ষ থেকে
আবিসিনিয়ার রাজা আসহাম নাজাশীর প্ৰতি ৷ আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক ৷ আপনার নিকট
আমি সর্ব ধিপনি পবিত্র, নিরাপত্তা বিধায়ক ও রক্ষক মহান আল্লাহর প্রশংসা পেশ করছি ৷ আমি
সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ঈস৷ (আ) আল্লাহর রুহ ও বাণী ৷ আল্লাহ তা আলা নিক্ষেপ করেছেন
সতী-সাধ্বী, পবিত্রাত্ম৷ মারয়ামের নিকট ৷ ফলে তিনি ঈস৷ (আ) কে গর্ভে ধারণ করেছেন ৷
মহান আল্লাহ হযরত ঈস৷ (আ) কে সৃষ্টি করেছেন তীর রুহ ও কু দ্বারা যেমন হযরত আদম
(আ) কে সৃষ্টি করেছেন৩ তার কুদরতী হাত ও কু দ্বারা ৷ আমি আপনাকে একক, লা শরীক
আল্লাহর প্ৰতি আহ্বান জ নাচ্ছি এবং তারই আনুগণ্ডে ৷ অবিচল থাকার দা ৷ওয়াত দিচ্ছি ৷ আমি
আরও দাওয়াত দিচ্ছি, আপনি যেন আমার অনুসরণ করেন এবং আমার প্ৰতি ঈমান আনয়ন
করেন ৷ কারণ, আমি আল্লাহ তাআলার রাসুল ৷ আমার চাচাত ডাই জাফর এবং তার সাথে
কতক মুসলমানকে আপনার নিকট প্রেরণ করলাম ৷ ওরা আপনার নিকট পৌছলে ওদের
আতিথ্য দেবেন ৷ ওদের প্রতি রুঢ় আচরণ করবেন না ৷ আমি আপনাকে এবং আপনার
বাহিনীকে মহামহিম আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি ৷ আমি রিসালাতের বাণী পৌছিয়েছি এবং
উপদেশ দিয়েছি ৷ আপনারা আমার উপদেশ গ্রহণ করুন ৷ শাস্তি বর্নিত হোক তাদের উপর
যারা হিদায়াতের অনুসরণ করে ৷

রাসুলুল্লাহ (না)-এর প্রেরিত পত্রের উত্তরে নাজাশী নিঃম্নাক্ত চিঠি প্রেরণ করেন :



Execution time: 0.11 render + 0.01 s transfer.