Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ১৪১ ঠিক করুন


উপহার দিয়ে দিয়ে ৷ তারপর রাজার জন্য নির্ধারিত উপহার তাকে দেবে ৷ পলায়নকারীদের
সাথে রাজার কথােপকথন হওয়ার পুর্বে যদি তার কাছ থেকে ওদেরকে ফেরত তে পার তবে
তাই করবে ৷ পরিকল্পনা মুতাবিক আমব ইবন তাস এবং আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ নাজাশীর
দরবারে উপস্থিত প্রত্যেক সেনাপতিকে নির্ধারিত উপহার প্রদান করে ৷ তারা বলে যে, আমরা এ
রাজেব্রু এসেছি আমাদের কতক মুর্থ লোককে ফেরত নিয়ে যেতে ৷ ওরা পিতৃধর্ম ত্যাগ করেছে
কিন্ত আপনাদের ধর্মও গ্রহণ করেনি ৷ ওদের সম্প্রদায়ের লোকজন আমাদেরকে এ জন্যে
জাইাপনার নিকট পাঠিয়েছে যে, তিনি যেন ওই লোকওলোকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেন ৷
আমরা এ বিষয়ে জাহীপনার সাথে যখন আলোচনা করব তখন আপনারা সেনাপতিবর্গ
ওদেরকে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে তাকে উৎসাহিত করবেন তার বলল, আমরা তাই করব ৷
এরপর তারা নাজ৷ শীর নিকট যায় এবং তার জন্যে নির্ধারিত উপচোকন তার হাতে তুলে দেয় ৷
মক্কা থেকে প্রেরিত উপচৌকন সামগ্রীর মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় ও মুল্যবান ছিল চামড়া ৷ মুসা ইবন
উকবা উল্লেখ করেছেন যে, তারা তাকে একটি ঘোড়া ও একটি ণ্রশমী জুব্বাও উপহার দেয় ৷
উপহার হস্তান্তর করে তারা বলল০ ং

রাজন! আমাদের সম্প্রদায়ের কতক মুর্থ যুবক পিতৃধর্ম ত্যাগ করেছে কিন্ত আপনার ধর্মও
গ্রহণ করেনি ৷৩ তারা এমন একটি নতু ন ধর্ম এসেছে যা সম্পর্কে আমরা কিছুই জ্ঞাত নই ৷ এখন
তারা আপনার রাজে৷ এসে আশ্রয় নিয়েছে ৷ ওদের বাপ-চাচা ও সম্প্রদায়ের লোকেরা
আমাদেরকে আপনার নিকট পাঠিয়েছে যাতে করে আপনি এদেরকে ওদেব নিকট ফেরত
পাঠিয়ে দেন ৷ এ লোকগুলাে কিত্তু ভীষণ দান্তিক ৷ ওরা কোন দিন আপনার ধর্ম গ্রহণ করবে না
যে আপনি তাদেরকে নিরাপত্তা দেবেন ৷ একথা শুনে রাজা ক্রুদ্ধ হন ৷ তিনি বললেন, না,
আল্লাহর কসম, ওদেরকে ডেকে এনে ওদের কথা না শোনা এবং ওদের প্রকৃত অবস্থা না জানা
পর্যন্ত আমি ওদেরকে ফেরত দেব না ৷ ওরা তো এমন কতক লোক, মারা আমার রাজে আশ্রম
নিয়েছে এবং অন্যের প্রতিবেশী হওয়া অপেক্ষা আমার প্রতিবেশী হওয়ার অ্যাধিকার দিয়েছে ৷
হা৷ এরা না বলেছে ওরা যদি সত্যি সত্যি সেরুপ হয়ে থাকে, তবে আমি ওদেরকে ফেরত
পাঠিয়ে দেব ৷ কিভু ওরা যদি সেরুপ না হয়, তবে আমি ওদেরকে আশ্রয় দেবে৷ ৷ ওদের উপর
কোন প্রকার হস্তক্ষেপ করব না এবং ওদের প্রতিপক্ষকে খুশী করব না ৷ মুসা ইবন উকবা
বলেন, তখন পারিষদ নাজাশীকে ইঙ্গিতে বলেছিলেন যেন ওদেরকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া
হয় ৷ রাজা বললেন, না, আল্লাহ্র কসম, ওদেরকে ফেরত দেব না

হিজরতকারী মুসলমানপণ রাজ-দরবারে এলেন ৷ তারা রাজাকে সালাম দিলেন বর্টে, কিস্তু
সিজদা করলেন না ৷ রাজা বললেন, হে লোকসকল! বল দেখি, তোমাদের সম্প্রদায়ের যারা

তোপুর্বে আমার নিকট এলো৩ তারা আমাকে যে ভাবে অভিবাদন জ নালে৷ তোমরা সেভাবে
অভিবাদন জানালে না কেন ? আমাকে আগে বল, ঈস৷ (আ) সম্পর্কে ৫৩ ৷মাদের বক্তব্য কী এবং
তোমাদের ধর্ম কি ? তোমরা কি খৃক্টান ? মুসলমানগণ উত্তরে বললেন, না, আমরা খৃক্টান নই ৷
তিনি বললেন, তাহলে তোমরা কি ইয়াহুদী ? তারা বললেন, না, আমরা ইয়াহুদীও নই ৷ তিনি
বললেন তাহলে তোমরা তোমাদের স্বজাতির ধর্মানুসারী ?৩ তারা বললেন না, আমরা তাও নই ৷


পৃষ্ঠা ১৪২ ঠিক করুন


এবার রাজা বললেন, তাহলে তোমাদের ধর্ম কি ?৩ তারা বললেন, ইসলাম ৷ রাজা বললেন:
ইসলাম কী ?ত তারা বললেন, আমরা আল্লাহর ইবাদত করি ৷ তার সাথে কা ৷উকে শরীক করি না ৷
তিনি বললেন, এই ধর্ম কে নিয়ে এসেছেন ?ত তারা বললেন, এটি আমাদের নিকট নিয়ে
এসেছেন আমাদের মধ্যকার একজন ৷ আমরা তাকে সম্যক চিনি ৷ তার বংশ পরিচয় জানি ৷
আমাদের পুর্ববর্তী সম্প্রদায়সমুহের প্রতি ৩আল্পাহ তাআলা যেমন রাসুল প্রেরণ করেছেন, তেমনি

তাকে আমাদের প্ৰতি রাসুলরুপে প্রেরণ করেছেন ৷ তিনি আমাদেরকে সততা, সত বােদিতা,
প্রতিজ্ঞা ৷পুরণ ও আমানত রক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন এবং মুর্তিপুজা করতে নিষেধ করেছেন ৷ তিনি
আমাদেরকে আদেশ করেছেন একক লা-শরীক আল্লাহর ইবাদত করতে ৷ আমরা তাকে সত্য
নবী বলে বরণ করে নিয়েছি ৷ আল্লাহর বাণী উপলব্ধি করেছি এবৎ তিনি যা এসেছেন তা যে
আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছেন তা অনুধাবন করেছি ৷ আমরা এরুপ করার কারণে আমাদের
সম্প্রদায় আমাদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে৷ তার৷ সতব্রবাদী নবীর সাথে শত্রুত৷ পোষণ
করেছে ৷ তাকে মিথ্যাবাদী ঠাওরিয়েছে এবং তাকে হত্যার প্রয়াস পেয়েছে ৷ তারা আমাদেরকে
মুর্তিপুজায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছে ৷ ফলে, আমরা আমাদের প্রাণ বীচানাে ও ধর্ম রক্ষার জন্যে
আপনার নিকট পালিয়ে এসেছি ৷

রাজা বললেন, আল্লাহর কসম, এতো সেই জোাতির উৎস থেকে উৎসারিত যেখান থেকে
এসেছিল হযরত মুসা (আ)-এর ধর্ম ৷

হযরত জাফর (বা) বললেন, অভিবাদন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে বলেছেন
যে, জান্নাতরাসীদের অভিবাদন হল “সালাম” ৷ তিনি আমাদেরকে সালামের মাধ্যমে অভিবাদন

জানানো র নির্দেশ দিয়েছেন ৷ সুতরাং আমরা পরস্পার যে ভ ৷বে অভিবাদন জানাই, আপনাকেও

সে ভ ৷রে অভিবাদন জা ৷নিয়েছি ৷ আর ঈস৷ ইবন মারয়াম (আ) সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হল,
তিনি ভাল ল্লাহ্ তা আলার বান্দ৷ ও রাসুল ৷ তিনি মারয়ামের প্ৰতি নিক্ষিপ্ত অ ৷ল্লাহ্র কালেম৷ ও রুহ
এবং তিনি সতী-সাধবী কুমারী মাতা ৷র পুত্র ৷ এবার রাজা একটি শুষ্ক কা ৷ষ্ঠখণ্ড হাতে তুলে নিলেন
এবং বললেন, এরা যা বলেছে মারয়াম পুত্র ঈসাত ৷র চেয়ে এতর্টুকুও অতিরিক্ত নন ৷ তখন
আবিসিনিয়ার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ বললেন, রাজন হাবশী লোকজন আপনার একথা শুনলে
তার৷ অবশ্যই আপনাকে সিংহাসনচ্যুত করবে ৷ তিনি বললেন, আল্লাহর কলম, আমি ঈস৷ (আ)
সম্পর্কে যা বলেছি কখনােতার ব্যতিক্রম কিছু বলব না ৷ আল্লাহ যখন আমাকে আমার রাজতু
ফিরিয়ে দেন, তখন লোকজন তো আল্লাহর আনুগত্য করেনি ৷ সুতরাং আমিও আল্লাহর দীনের
ব্যাপারে লোকজনের কথা মানবাে না ৷ এ জাতীয় অপকর্ম থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা
করি ৷ ইবন ইসহাক সুত্রে ইউনুস বর্ণনা করেছেন যে, রাজা নাজাশী মহাজিরগণের নিকট লোক
পাঠিয়ে তাদেরকে একত্রিত তহওয়ার নির্দেশ দিলেন ৷ তিনি মুসলমানদের কথা শুনবেন আমর
ইবন আস এবং আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআর নিকট এর চেয়ে ৫ক্ষাভের বিষয় অন্য কিছু ছিল
না ৷ নাজাশীর দুত আগমন করার পর মুসলমানগণ একত্রিত হলেন এবং পরস্পর আলোচনা
করলেন যে, তারা কী বলবেন ? শেতষে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, পরিস্থিতি য ই হোক আল্লাহ্র
কসম ,আমরা ত ৷ই বলব, যা আমরা জানি ৷ আমরা যে দীনের উপর আছি এবং রাসুলুল্লাহ (সা)
আমাদের নিকট যা নিয়ে এস্যেছন, তাই বলবো ৷ তাতে যা হয় হবে ৷


পৃষ্ঠা ১৪৩ ঠিক করুন


রাজ দরবারে উপস্থিত হওয়ার পর জা ফর ইবন আবৃত তালিব (রা) সকলের পক্ষে কথা
বললেন ৷ রাজা বললেন, তোমরা যে ধর্ম অনুসরণ করছো, সেটা কী ? তোমরা তে৷ স্বজাতির
ধর্ম ত্যাগ করেছে৷ অথচ ইয়াহুদী কিত্বা খৃক্টান ধর্মও গ্রহণ করোনি ৷ জাফর (রা) বললেন,
“রাজন, আমরা ছিলাম অংশীবাদী ৷ আমরা মুর্তিপুজ৷ করতাম ৷ মৃত প্রাণীর গোশত থেতাম ৷
প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ করত ৷ম ৷ খুন খারাবী ও অন্যান্য অপকর্মকেও আমাদের কেউ
কেউ বৈধ মনে করত ৷ আমরা হালাল-হারামের ধার ধরতাম না ৷ এ অবস্থায় আল্লাহ তা আলা
আমাদের প্রতি আমাদেরই মধ্য থেকে একজন লোককে রাসুলরুপে প্রেরণ করলেন ৷ তার
সতবােদি৩ ৷ প্ৰতিজ্ঞাপুরণ ও আমানত দারী সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত ছিলাম ৷ তিনি
আমাদেরকে আহ্বান জানলেন আমরা যেন এক লা শয়ীক আল্লাহর ইবাদত করি ৷ আমরা
যেন আত্মীয়৩ ৷ বন্ধন ছিন্ন না ৷করি ৷ প্রতিবেশীর হক নষ্ট না করি ৷ মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে
নামায আদায় করি ৷ তার সত্তুষ্টির জন্যে রোযা পালন করি এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো
ইবাদত না করি ৷
ইবন ইসহাক থেকে যিয়াদ উদ্ধৃত করেছেন যে জা ফর ইবন আবু৩ তালিব আরো বলেন,
“ওই রাসুল আমাদেরকে আল্লাহর প্রতি আহবান জানান ৷ তিনি আদেশ করেন আমরা যেন
আল্লাহ্র একতুবাদ মেনে নিই, তাৱ ইবাদত করি আর আমাদের পুর্বপুরুষপণ এবং আমরা
আল্লাহ্ ব্যতীত যে মুর্তিপুজ৷ ও পাথরপুজ৷ করতাম, তা যেন পরিহার করি ৷ তিনি আমাদেরকে
সত্য কথা বলার জন্যে, আমানত পরিশোধের জন্যে, আত্মীয়ত৷ রক্ষার জন্যে, সৎ প্রতিবেশী
সুলভ আচরণ করার জন্যে এবং হারাম কাজও খুন খারাবী থেকে বেচে থাকার জন্যে নির্দেশ
দেন ৷ অশ্লীল৩ ৷, মিথ্যাচ৷ ৷র, ইয়াভীমের সম্পদ আত্মসাৎ সতী সাধৰী নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ
আরোপ করতে তিনি ধারণ করেন ৷ তিনি আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন আল্লাহর
ইবাদত করি ৷৩ তার সাথে কিছুকে শরীক না করি, নামায আদায় করি, যাকাত দেই এবং বোমা
পালন করি ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এভাবে ইসলামের বিধি-বিধানের কথা তারা এক এক করে
তার নিকট পেশ করেন ৷ অত: পর আমরা সেই রাসুলকে সত্য বলে গ্রহণ করি ৷৩ তার প্রতি
ঈমান আনয়ন করি ৷ অ ৷ল্লাহ্র নিকট থেকে তিনি যা ৷নিয়ে এসেছেন আমরা তা অনুসরণ করি ৷
এ প্রেক্ষিতে আমরা একক, অনন্য ল৷ ৷-শরীক আল্পাহ্র ইবাদত করতে থাকি ৷ তার সাথে কা ৷উকে
শরীক করা থেকে বিরত থাকি ৷ তিনি আমাদের জন্যে যা হারাম বলে ঘোষণা করেছেন
আমরা সেগুলোকে হারামরুপে বর্জন করতে থাকি এবং তিনি যা হালাল ঘোষণা দিয়েছেন তা
হালালরুপে গ্রহণ করি ৷ এই পরিস্থিতিতে আমাদের সম্প্রদায়ের লোকজন আমাদের শত্রু
হয়ে উঠে ৷ আমাদেরকে আমাদের দীন-ধর্ম থেকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে এবং আল্লাহর
ইবাদত ছেড়ে মুর্তিপুজায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে আমাদের উপর তারা নির্যাতন
চালাতে থাকে ৷ আমরা পুর্বে যেমন নাপাক ও অপবিত্র কাজগুলো হালাল মনে করতাম এখনও
যেন তা করি , সে জন্যে তার৷ আমাদেরকে দুঃখ-কষ্ট দিতে থাকে ৷ তারা যখন আমাদের
উপর নির্যাতন চালাল, আমাদের জীবন দৃর্বিষহ করে তুলল এবং আমাদের ধর্ম পালনে বাধা
সৃষ্টি করল, তখন আমরা আপনার রাজ্যে পালিয়ে এলাম ৷ অন্য সকলের পরিবর্তে আপনাকেই
আমরা বেছে নিলাম ৷ অন্যদের পরিবর্তে আপনার প্ৰতিবেশকেই অগ্ৰাধিকার দিলাম ৷ রাজনা


পৃষ্ঠা ১৪৪ ঠিক করুন


আমাদের একান্ত আশা যে, আপনার আশ্রয়ে আসার পর কেউ আমাদের উপর জুলুম করতে
পারবে না ৷

রাবী বলেন, তখন নাজাশী বললেন, তোমাদের নবী তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন
তার কোন অংশ কি তোমার নিকট আছে ? ইতোমধ্যে তিনি তার ধর্মযাজকদেরকে ডেকে
এসেছিলেন ৷ তার পাশে বলে তারা ধর্মগ্রন্থ খুলে বসলেন ৷ হযরত জ্বাফর বললেন, হা৷ বাণী
আছে ৷ রাজা বললেন, তা নিয়ে এসো এবং পড়ে শুনাও ? হযরত জাফর সুরা মারয়ামের গুরু
থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করলেন ৷ তা শুনে নাজাশী র্কাদতে’ শুরু করলেন ৷ অশ্রুতে তার
দাড়ি ভিজে গেল ৷ ধর্মযাজকরা কেদে কেদে তাদের ধর্মগ্রন্থ ভিজিয়ে ফেললেন ৷ এবার রাজা
বললেন, এই বাণী নিশ্চয়ই সেই জ্যোতির্ময় উৎস থেকে উৎসারিত হয়েছে, যেখান থেকে মুসা
(আ)-এর বাণী উৎসারিত হয়েছিল ৷ কুরায়শ প্রতিনিধিদেরকে তিনি বললেন, তোমরা সোজা
চলে যাও ৷ আমি এদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দেবাে না এবং এ বিষয়ে আমি তােমাদেরকে
খুশী করতে পারব না ৷ বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরাও ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম ওদের
দুজনের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ আমাদের প্রতি অনেকটা সহানুভুতিশীল ছিল ৷

এরপর আমর ইবন আস বলল, আল্লাহর কসম , পরের দিন আমি আবার যাব এবং এমন
কাজ করব যে, এই সবুজেব দেশ থেকে আমি ওদেরকে সমুলে উৎপাটিত করে দেব ৷ আমি
রাজাকে বলব, রাজা যে ঈসা (আ)-এর উপাসনা করে থাকেন সেই ঈসাকে ওরা দাস বলে
বিশ্বাস করে ৷ আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ তাকে বলল, “তুমি ওসব করো না ৷ কারণ, ওরা
আমাদের বিরোধিতা করলেও তারা তো আমাদের আত্মীয়, আমাদের উপর তাদেরও একটা হক
রয়েছে ৷ সে বলল, না, আল্লাহর কসম, আমি ওই কাজ করবই ৷

পরের দিন যে রাজ-দরবারে উপস্থিত হয়ে বলে, রাজন! ওরা তো ঈসা (আ) সম্পর্কে
গুরুতর কথা বলে ৷ ওদেরকে ডেকে এনে ঈসা (আ) সম্বন্ধে ওদের বিশ্বাসের কথা জিজ্ঞেস
করুন ৷

রাজা পুনরায় আমাদের নিকট লোক পাঠালেন ৷ আল্লাহর কসম , এসময়ে আমরা যে
বিপদের সম্মুখীন হই ইতােপুর্বে আর তেমনটি হইনি ৷ আমরা একে অন্যকে বললাম, যদি ঈসা
(আ) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন তবে কী উত্তর দিবে ? আমাদের সকলে বলল, তার সম্পর্কে
আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন এবং আমাদের নবী (সা) আমাদেরকে যা বলার নির্দেশ দিয়েছেন,
আমরা তাই বলব ৷ তখন তারা সকলে রাজার নিকট গিয়ে উপস্থিত হলেন ৷ তার সেনাপতিগণ
তখন তার পাশে উপবিষ্ট ৷ আমাদের উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ঈসা (আ) সম্পর্কে তোমরা কী
বলো ? সবার পক্ষ থেকে জাফর (বা) বললেন, আমরা এটা বলি যে, তিনি আল্লাহর বন্দো,
আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর রুহ এবং আল্লাহর কালেমা, সতী-সাধবী কুমারীর প্ৰতি আল্লাহ সেটিকে
নিক্ষেপ করেছেন ৷ একথা শুনে নাজাশী যমীনের দিকে হাত নামালেন এবং দু’ আঙ্গুলের মাঝে
একটি ছোট শুকনো কাষ্ঠখও তুলে নিয়ে বললেন, আপনি ঈসা (আ) সম্পর্কে যা বলেছেন ঈসা
(আ) তা থেকে এতৃটুকুও বেশী নন ৷


পৃষ্ঠা ১৪৫ ঠিক করুন


রাজার এ বক্তব্যে সেনাপতিদের মধ্যে গুঞ্জরণ সৃষ্টি হয় ৷ তিনি বললেন আল্লাহর কলম,
তোমরা গুঞ্জরণ কর আর অসত্তুষ্ট হও আমি যা বলেছি৩াই সঠিক ৷ ঘুসলমানদেরকে উদ্দেশ্য
করে তিনি বললেন, আপনারা যেতে পারেন ৷ এ রাজে৷ আপনারা সম্পুর্ণ নিরাপদ ৷ কেউ
আপনাদেরকে পালি দিলে জরিমানা দিতে হবে ৷ কেউ আপনাদের পালি দিলে জরিমানা দিতে
হবে ৷ কেউ আপনাদেরকে পালি দিলে জরিমানা দিতে হবে ৷ একে একে তিনবার তিনি এ
ঘোষণা দিলেন ৷ আপনাদের কাউকে কষ্ট দিয়ে আমি স্বর্ণখণ্ডের অধিকারী হব, তাও আমি পসন্দ
করি না ৷ ইবন ইসহাক থেকে যিয়াদের বর্ণনায় আছে আমি স্বর্ণের মালিক হই তাও আমার
পসন্দ নয় ৷ ইবন হিশাম বলেন রাজা তখন স্বর্ণখণ্ডের পরিবর্তে স্বর্ণের পাহাড়’ শব্দ
বলেছিলেন ৷

এরপর নাজাশী বললেন, আল্লাহ্ তাআলা যখন আমাকে রাজতু ফিরিয়ে দিলেন, তখন
তিনি আমার থেকে ঘুষ নেননি আর তখন লোকজন আমার আনগত ৷ করেনি ৷ তাহলে আমি
তাদের কথা মানতে যাবো কেন ? তারপর তিনি তার লোককে বললেন কুরায়শ প্রতিনিধিদের
দেয়া ৷উপচৌকন সামগ্রী ফিরিয়ে দাও ৷

ওসবে আমার প্রয়োজন নেই ৷ আর তাদেরকে বললেন, তোমরা দু’জন আমার রাজ্য ছেড়ে
চলে যাও ৷ এরপর তারা যা নিয়ে এসেছিল তা সহ ব্যর্থতার গ্নানি নিয়ে চলে গেল ৷ আমরা
উত্তম রাবষ্ট্ৰর উত্তম মানুষের প্রতিবেশে সেখানে বসবাস করতে থাকি ৷

ইতে ৷মধ্যে আরিসিনিয়ার জনৈক বিদ্রোহী ব্যক্তি নাজাশীর রাজ্য কেড়ে নিতে উদ্যত হয় ৷
এতে আমরা ভীষণ দুঃখ পাই ৷ আমরা এ জন্যে শং ত হয়ে পড়ি যে, সে লোক যদি ক্ষমতায়
অধিষ্ঠিত হয়, তবে নাজাশী আমাদের যেরুপ কদর করেছেন ওই ব্যক্তি তা নাও করতে পারে ৷
আমরা আল্লাহর দরবারে নাজাশীর জন্যে দুআ ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকি ৷ নাজাশী
যুদ্ধাভিযানে বের হলেন ৷ আমরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাহাবীগণ নিজেদের মধ্যে আলোচনা
করলাম যে, আমাদের মধ্য থেকে ঘটনাস্থুলে কে যাবে এবং দেখবে কোন পক্ষ বিজয়ী হচ্ছে ৷
যুবায়র (রা) বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন বটে ,কিত্তু তিনি বললেন, “আমি মাঝে” ৷ উপস্থিত
সাথিগ ৷ণ চামড়ার একটি মশক ফুলিয়ে তার বুকের নীচে বেধে দেন ওই মশকে ভর করে সাতার
দিয়ে তিনি নীলনদ পার হন ৷ তিনি নদীর অপর তীরের যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে পৌছেন ৷ শেষ পর্যন্ত
রাজত্বের দাবীদ৷ ৷র বিদ্রোহী লোকটি পরা ৷স্ত ও নিহত হয় ৷ নাজা ৷শীর জয় হয় ৷ যুবায়র (রা) ফিরে
আসেন ৷ দুর থেকে চাদর যেড়ে৩ তিনি আমাদেরকে বিজয়ের সৃসং বাদ জ৷ ৷নিয়ে বলেন, সুসংবাদ
গ্রহণ করুন, আল্লাহ্ তা জানা নাজাশীকে জয়ী করেছেন ৷ আমি বললাম আল্লাহর কসম
নাজাশীর বিজয়ে আমরা যা খুশী হয়েছিলাম অন্য কোন বিষয়ে তে মন খুশী হয়েছি বলে
আমাদের জানা নেই ৷ এরপর আমরা সেখানে বসবাস করতে থাকি ৷ ইতোমধ্যে আমাদের কেউ
কেউ মক্কায় ফিরে আসেন এবং কেউ কেউ ওখানে থেকে যান ৷

যুহরী বলেন, উম্মে সালাম৷ (রা) থেকে বর্ণিত এই বর্ণনা আমি উরওয়া ইবন যুবায়র
(রা) কে শুন ই ৷ তখন উরওয়া বললেন, আল্লাহ্ যখন আমার রাজত্ব ফিরিয়ে দিলেন, তখন
তিনি তো আমার নিকট থেকে ঘুষ নেননি যে, আমি তার ব্যাপারে ঘুষ নিব ? এবং তখন


পৃষ্ঠা ১৪৬ ঠিক করুন


জনসাধারণ আমার আনুগত্য করেনি যে, আমি এ বিষয়ে তাদের আনুগত্য করব ? নাজাশীর এই
বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুমি জানাে ? আমি বললাম, জী না, তা তো জানি না ৷ এ বিষয়ে আবু বকর
ইবন আবদুর রহমান উম্মে সালামার বরাতে আমাকে কিছু বলেননি ৷ উরওয়া বললেন , হযরত
আইশা (বা) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নড়াজাশীর পিতা নিজেও একজন রাজা ছিলেন ৷
তার একটি ভাই ছিল ৷ ভাইটির ছিল ১২ টি পুত্র ৷ পক্ষাম্ভরে নজোশীর পিতার তিনি ছিলেন
একমাত্র পুত্র ৷ আবিসিনিয়ার অধিবাসিগণ নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে পরামর্শ করে যে, আমরা যদি
এখন ক্ষমতাসীন রাজাকে হত্যা করে তার ভাইকে সিংহাসনে বসাই, তাহলে আমাদের রাম্বীয়
অবকাঠামো ও সার্বভৌমতৃ দীর্ঘ দিন সুসংহত থাকবে আর রাজার ভাইয়ের রয়েছে ১ ২জন পুত্র ৷
পিতার মৃত্যুর পর এই ১২জন পুত্র ধারাবাহিক ভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্ষম হবে ৷ ফলে
দীর্ঘদিন যাবত বাধা-বিপত্তি ও মতভেদ ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালিত হয়ে ৷ এই পরিকল্পনায় তারা
ক্ষমতাসীন রাজাকে হত্যা করে এবং তার ভাইকে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে ৷ নাজাশীও তার
চাচার নিকট উপস্থিত হন এবং তার উপর প্রভাব বিস্তার করেন ৷ পরিস্থিতি এমন দাড়ায় যে,
তার পরামর্শ ছাড়া রাজা কোন কাজই করতে পাতেন না নাজাশী অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও ৰিচক্ষণ
লোক ছিলেন ৷ রাজার নিকট নাজড়াশীর মর্যাদা দেখে লোকজন শংকিত হয়ে পড়ে ৷ তারা
বলাবলি করত , এই যুবক তো তার চাচার উপর প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে ৷ এক সময় সে যে
রাজার পদ দখল করেবসবে না সে ব্যাপারে আমরা তো নিশ্চিত নই ৷ আমরা তার পিতাকে
হত্যা করেছি তা সে জানে ৷ সুতরাং একবার যদি সে রাষ্টীয় ক্ষমতা দখল করতে পারে, তবে
আমাদের সকল সস্রান্ত লোককে সে খুন করে ফেলবে ৷ তাকে মেরে ফেলার জন্যে কিৎবা দেশ
থেকে বহিষ্কার করার জন্যে তারা সলা-পরামর্শ করতে থাকে ৷ তারপর তার চাচার নিকট গিয়ে
বলে, আপনার উপর এই যুবকের প্রভাব আমরা লক্ষ্য করেছি ৷ আপনি তো জানেন যে, আমরা
তার পিতাকে হত্যা করে আপনাকে তার স্থানে বসিয়েছি ৷ এখন যে পরিস্থিতি তাতে সে যে
একদিন সিংহড়াসন দখল করবে না সে ব্যাপারে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না ৷ ক্ষমতা আয়ত্ত
করতে পারলে যে আমাদের সকলকে খুন করে ফেলবে ৷ আপনি হয় তাকে হত্যা করুন, না হয়
তাকে দেশান্তরিত করুন ৷

রাজা বললেন, “ধিক, গতকাল তোমরা তার পিতাকে হত্যা করেছ আর আজকে আমি
তাকে হত্যা করব ? তবে আমি তাকে দেশ থেকে বের করে দিব ৷ তারা নাজাশীকে নিয়ে বের
হয় এবং একটি বাজারে নিয়ে ৬০০ কিৎবা ৭০০ দিরহামে বিক্রি করে দেয় ৷ ব্যবসায়ী তাকে
নৌকায় তুলে যাত্রা করে ৷ সন্ধ্যড়া বেলা হেমন্তকালীন প্রচণ্ড ঝড়-তৃফান শুরু হয় তার চাচা বৃষ্টিতে
নেমেছিলেন ৷ প্রচণ্ড বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয় ৷ লোকজন ছুটে যায় তার পুত্রদের নিকট ৷ তারা
লক্ষ্য করে যে, তাদের সকলেই অযােগ্য ও গণ্ডমুর্থ ৷ তাদের কারো মধ্যেই কোন প্রকারের
সদ্গুণ ছিল না ৷ ফলে তাদের মধ্যে মারাত্মক মতানৈক্য দেখা দেয় ৷ তারা পরস্পরে বলাবলি
করে যে, তোমরা যাকে গতকাল বিক্রি করে দিয়েছিলে, সে ব্যতীত এমন কোন রাজা তোমরা
খুজে পাবে না যে তোমাদেরৰু রাঃজ্য শৃৎখলা ফিরিয়ে আনতে পারবে ৷ আবিসিনিয়ার
অধিবাসীদের কল্যাণ যদি তোমাদের কাম্য হয়, তবে তাকে দুরে নিয়ে যাওয়ার পুর্বেই খুজে


পৃষ্ঠা ১৪৭ ঠিক করুন


নিয়ে এসো ৷ নাজাশীর খোজে ওরা বেরিয়ে পড়ে ৷ অবশেষে তাকে খুজে পায় এবং ফিরিয়ে
নিয়ে আসে ৷ রাজমুকুট পরিয়ে তারা তাকে সম্রাটের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে ৷

ক্রেতা ৷ব্যবসায়ীটি বলল, আপনারা আমার নিকট থেকে যুবককে যখন ফিরিয়ে নিয়ে
গেলেন, তখন আমার মুল্যট৷ ফেরত দিন ৷ লোকজন বলল, না তা দেয়৷ হবে না ৷ সে বলল
তাহলে আল্লাহ্র কসম, আমি নিজে৩ার সাথে কথা বলব ৷ ব্যবসায়ী নিজে নাজাশীর সাথে
সাক্ষাত করে বলল, রাজন! আমি একটি যুবক ক্রয় করেছিলাম ৷ বিক্রেতাদেরকে আমিত
মুল্যও পরিশোধ করে দিয়েছি ৷ পরে তারা এসে আমার নিকট থেকে যুবকটিকে কেড়ে নেয় ৷
কিভু আমার মুল্য ফেরত দেয়নি ৷ নাজাশী সর্বপ্রথম উথাপিত এই মামলায় নিজের দৃঢ়তা
প্রদর্শন করে রায়ে বললেন, “তোমরা হয় ব্যবসায়ীর মুল্য ফেরত দিবে নতুবা :তামাদের
বিক্রীত যুবক৩ তাকে ফিরিয়ে দেবে ৷ ওই যুবককে নিয়ে যেখানে ইচ্ছা যে চলে যাবে ৷ তারা
বলল, আমরা বরং তার মুল্য ফিরিয়ে দেব ৷ তারা মুল্য ফেরত দিয়ে দেয় ৷ এই ঘটনার
প্রেক্ষাপটেই নাজাশী বলেছিলেন, “আমার রাজতৃ আমার নিকট ফিরিয়ে দেয়ার সময় মহান
আল্লাহ্ তাে আমার নিকট থেকে ঘুষ নেননি যে, তার ব্যাপারে আমি ঘুষ নেব, আর আমার
ক্ষেত্রে লোকজন তাে আমার আনুগত্য করেনি যে, আমি তাদের কথা মত চলবাে !”

মুসা ইবন উকবা (রা) বলেন, নাজাশীর পিতা ছিলেন আবিসিনিয়ার রাজা ৰু তার পিতার
যখন মৃত্যু হয়, তখন নাজাশী ছিলেন ছোট শিশু ৷ মৃতুাকালে নিজ ভাইকে তিনি ওসীয়াত
করেছিলেন০ ং “আমার পুত্র সাব৷ লক না হওয়া পর্যন্ত রাজতৃ তোমার হাতে থাকবে ৷ সাবালকতু
প্রাপ্তির পর সেই রাজা হবে ৷” পরব ত ৷ তার ভাই নিজে রাজত্বের জন্য লালাযিত হয়ে পড়ে
এবং জনৈক বাবসায়ীর নিকট নাজাশীকে বিক্রি করে দেয় ৷ ওই রাতেই নাজাশীর চাচার মৃত্যু
হয় ৷ আবিসিনিয়ার জনগণ তখন নাজাশীকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে তার মাথায় রাজমুকুট পরিয়ে
দেয় ৷ মুসা ইবন উকবা এভাবে সৎক্ষিপ্তাকারে এ বর্ণনা উদ্ধৃত করেন ৷ ইবন ইসহাকের বর্ণনাটি
অধিকতর বিস্তারিত এবং সুবিন্যস্ত ৷ আল্পাহ্ই ড়াল জানেন ৷

ইবন ইসহাকের বর্ণনায় আছে যে, কুরায়শ প্রতিনিধি হিসেবে নাজাশীর নিকট আমর ইবন
ভাল এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবু রাবীআকে প্রেরণ করা হয়েছিল ৷ পক্ষান্তরে মুসা ইবন উকবা,
উমাবী এবং অন্যান্যদের বর্ণনায় এসেছে যে, তারা আমর ইবন আস এবং আম্মারা ইবন
ওয়া ৷লীদ ইবন মুগীরাকে প্রেরণ করেছিল ৷ কাবা শরীফের সম্মুখে নামায আদায়ের সময় যেদিন
রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পিঠে উটের নাড়িভুড়ি লে দেয়৷ হয়েছিল, সে দািনর ঘটনায় উপস্থিত
কাফিরদের হাসাহাসির প্রেক্ষিতে ৩রাসুলুল্লাহ্ (সা) যে সাতজনের বিরুদ্ধে বদ দু আ করেছিলেন
আম্মারা ইবন ওয়ালীদ ইবন মুগীরা ছিল তাদের একজন ৷ ইতাে ৷পুর্বে আবু মুসা আশআরী ও
ইবন মাসউদ (না)-এর হাদীছে এ ঘটনা আলোচিত হয়েছে ৷ বন্তুত আমর ইবন আস এবং
আম্মারা ইবন ওয়ালীদ ইবন মুগীরা দুজনে যখন মক্কা থেকে বের হয়, তখন আমর ইবন
আসের সাথে তার শ্রী ছিল ৷ আম্মারা ছিল সুদর্শন যুবক ৷ তারা দু’জ্যন একসাথে নৌকায় উঠে ৷
অম্ম৷ ৷রার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমরের শ্ৰীর উপর ৷ সে আমর ইবন আসকে সমুদ্রে ফেলে দেয়
যাতে সে সাগরে ডুবে মরে যায় ৷ কিভু আমর সা৩ রিয়ে জীবন রক্ষা করে এবং নৌকায় উঠে


পৃষ্ঠা ১৪৮ ঠিক করুন


পড়ে ৷ আম্মারা বলল, আপনি সাতারে পারদর্শী এটা জানলে আমি আপনাকে সাগরে ফেলতাম
না ৷ আন্মারার প্রতি প্রচণ্ড বিক্ষুদ্ধ হয় আমর ৷ হিজরতকারী মুসলমানদের প্রত্যর্পাণর ব্যাপারে
নড়াজাশীর নিকট তারা যখন ব্যর্থ হয়, তখন আম্মারা জনৈক আবিসিনীয় লোকের নিকট যায় ৷
এদিকে আমর দেখা করে নড়াজাশীর সাথে এবং আম্মারার বিরুদ্ধে বিষোদগার করে তার কান
ভারী করে তোলে ৷ এরপর নাজাশীর নির্দেশে আম্মারাকে জাদু করা হয় ৷ ফলে সে উন্মাদ হয়ে
যায় ৷ সে বন্য প্রাণীদের সাথে বনে-জঙ্গলে ঘৃরাফেরা করতে থাকে ৷

এ বিষয়ে উমাভী একটি দীর্ঘ ঘটনা উল্লেখ করেছেন ৷ তাতে এ কথাও আছে যে, হযরত
উমর ইবন খাত্তাব (রা)-এর শাসনামল পর্যন্ত আম্মারা জীবিত ছিল ৷ জনৈক সাহাবী বন্য জম্বুর
সাথে বিচরণকারী আম্মারাকে ফীদ পেতে ধরে ফেলেছিলেন ৷ সে তখন বলছিল, “আমাকে
ছেড়ে দাও না হয় আমি মারা যাব ৷” তাকে ছেড়ে না দেয়ায় তার মৃত্যু হয় ৷ আল্লাহ্ই ভাল
জানেন ৷

কেউ কেউ বলেছেন যে, হিজরতকারী মুসলমানদেরকে ফেরত পাঠানোর জন্যে কুরায়শ
নড়াজাশীর নিকট দৃ’দফা প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল ৷ একবার পাঠিয়েছিল আমর ইবন অড়াস এবং
আম্মারা ইবন ওয়ালীদকে ৷ দ্বিতীয়বার পাঠিয়েছিল আমর ইব ন আস এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আবু
রাবীআকে ৷ আবু নুআয়ম তার “দালাইল” গ্রন্থে স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেছেন ৷ আল্লাহ্ই ভাল
জানেন ৷

কেউ কেউ বলেছেন, দ্বিতীয় দফায় প্রতিনিধি প্রেরণের ঘটনা ঘটেছিল বদর যুদ্ধের পর ৷
এটি যুহরীর উক্তি ৷ বদরের যুদ্ধে নিহত কাফিরদের প্রতিশোধ নেয়ার উদ্দেশ্যে ঘৃসলমানদেরকে
ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব সহকারে তারা দ্বিতীয় দফায় প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল ৷ কিন্তু নজােশী তাদের
প্রস্তাব গ্রহণ করেননি ৷ আল্লাহ তাআলা তার প্রতি সভুষ্ট হোন এবং তাকে সতুষ্ট করুন ৷

ইবন ইসহাক সুত্রে যিয়াদ উল্লেখ করেছেন যে, ম্সলমানদেরকে ফেরত আনার জন্যে
কুরায়শদের কুট-কৌশল সম্বন্ধে জানার পর আবু তালিব নাজাশীর নিকট কয়েকটি কবিতার
চরণ লিখে পাঠান ৷ নড়াজাশীর নিকট আশ্রয় গ্রহণকারী মুসলমানদের প্ৰতি ইনসাফ প্রদর্শন ও
সদয় আচরণ করার জন্যে তিনিনাজাশীকে উৎসাহিত করেন ৷ কবিতার চরণগুলো এই ;;
ট্রু প্লুর্চুব্রৰুা৷
আহ্ৰু আমি যদি জানতে পারতাম ওই দুর দেশে কেমন আছে জাফর ও আমর এবং কেমন
আছে আমর নিকটাত্মীয় শত্রুর শত্রুরা ৷
ঢ়;
নড়াজাশীর সদাচরণ ও সহানুভুতি কি জাফর ও তার সাথীদের ভাগ্যে জুর্টেছে ? নাকি কোন
বিরোধী পক্ষের ষড়যন্ত্র তাদেরকে ওই সহানুভুতি থেকে বঞ্চিত করেছে ৷

০ :



পৃষ্ঠা ১৪৯ ঠিক করুন


আমি জানি “আপনার জয় হোক” আপনি একজন সম্মানিত ও মর্যাদাবান ব্যক্তি ৷ দুরদুরাম্ভ
থেকে আগত পথিক আপনার নিকট দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হয় না ৷
-ইৰুগ্লুপ্প ও
আমি এও জানি যে, মহান আল্লাহ আপনাকে শক্তি ও প্রাচুর্য দান ও অনুগ্রহ দানে ধন্য
করেছেন এবং সকল প্রকার কল্যাণ অর্জনের উপায়-উপকরণ আপনার নিকট মওজুদ রয়েছে ৷

ইবন ইসহাক থেকে ইউনুস বর্ণনা করেছেন যে, ইয়াষীদ ইবন রুমান উরওয়া ইবন যুবায়র
থেকে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি বলেছেন, নাজাশী কথাবার্তা বলেছিলেন হযরত উছমান ইবন
আফ্ফড়ান (রা)-এর সাথে ৷ তবে প্রসিদ্ধ বংনাি হল, তিনি কথা বলেছিলেন হযরত জাফর
(রা)-এর সাথে ৷

ইবন ইসহাক থেকে যিয়াদ বুকাঈ বলেছেন, ইয়াষীদ ইবন রুমান উরওয়া সুত্রে হযরত
অইিশা (বা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, নাজাশীর মৃত্যুর পর সর্বত্র আলোচিত হত
যে, তার কবরের উপর সর্বদা ৫জ্যাতি ও আলো দেখা যেত ৷ ইমাম আবু দাউদ
মুহাম্মদ ইবন ইসহাক সুত্রে ওই সনদে উদ্ধৃত করেছেন যে, যখন নাজাশীর মৃত্যু হয়, তখন
আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতাম যে, তার কবরের উপর সর্বদা আলো ও £জ্যাতি
দৃশ্যমান হচ্ছে ৷

যিয়াদ বংনাি করেছেন, মুহাম্মদ ইবন ইসহাক থেকে তিনি বলেছেন যে, জাফর ইবন
মুহাম্মদ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন আবিসিনিয়ার অধিবাসীরা একত্রিত হয় ৷
তারা নাজাশীকে বলে, আপনি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছেন ৷ একথা বলে তারা তার বিরুদ্ধে
বিদ্রোহ ঘোষণা করে ৷ রাজা হযরত জাফর ও তার সাথীদের নিকট সংবাদ পাঠান এবং একটি
নৌকা প্রস্তুত করে দিয়ে তাদেরকে বলেন যে, আপনারা ভালোয় ভালোয় এ নৌকাতে উঠুন ৷
আমার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমি পরাজিত হলে আপনারা যেখানে ইচ্ছা চলে যাবেন
আর আমি বিজয়ী হলে আমার রাজেইি থাকবেন ৷ এরপর তিনি এক টুকরা কাগজ নিলেন ৷
তাতে লিখলেন, “তিনি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই, মুহাম্মদ (সা)
আল্লাহ্র বান্দা ও রাসুল ৷ তিনি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, ঈসা (আ) আল্লাহর বন্দো , তার রাসুল
তার রুহ এবং তীর কালেমা, যেটিকে তিনি মারয়ড়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন ৷” লিখিত
কাগজঢি তিনি তার জুবৃবার ডান কাধের মধ্যে লুকিয়ে রাখলেন ৷ এরপর তিনি আবিসিনীয়দের
নিকট গেলেন ৷ তারা তখন তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে সারিবদ্ধভাবে দীড়িয়েছিল ৷ তিনি
বললেন, আবিসিনিয়বাসিগণ! তোমাদের সম্মান পাওয়ার জন্যে আমি কি সর্বাধিক যোগ্য পাত্র
নই? তারা বলল, “ইব্রুা,অবশ্যই ৷ তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে আমার আচার-আচরণ
কেমন ? তারা বলল, সুন্দর ও সবেত্তিম চরিত্র ৷ তিনি বললেন, এখন তোমাদের মধ্যে আমার
অবস্থান কেমন ? তারা বলল, আপনি আমাদের ধর্মত্যাগ করেছেন এবং আপনি মনে করেন যে,
ঈসা (আ) আল্লাহ্র বন্দো ও রাসুল ৷ তিনি বললেন, ঈসা সম্বন্ধে তোমরা কি বল ? তারা বলল,
আমরা বলি যে, তিনি আল্লাহর পুত্র ৷ নাজাশী তার জুব্বার উপর দিয়ে বুকে হাত রেখে এই
সাক্ষ্য দিয়ে বললেন, ঈসা ইবন মারয়ড়াম এর চেয়ে মোটেই অতিরিক্ত কিছু নন ৷ অর্থাৎ তিনি যা


পৃষ্ঠা ১৫০ ঠিক করুন


লিখেছেন তার অতিরিক্ত কিছু নন ৷ এতে তারা তার প্রতি সভুষ্ট হয় এবং স্বগৃহে ফিরে যায় ৷ এ
ৎবাদ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট পৌছে ৷ নাজাশী যখন ইনতিকাল করেন, তখন রাসুলুল্লাহ
(না) তার জানাযার নামায আদায় করেন এবং তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ৷

সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে হযরত আবু হুরায়রা (যা) থেকে বর্ণিত আছে যে, যেদিন
নাজাশীর মৃত্যু হয়, সেদিন রাসুলুল্লাহ্ (না) তার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করেন এবং সাহাবায়ে
কিরামকে নিয়ে জানাযার নামায়ের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে আসেন ৷ এরপর সবাইকে সারিবদ্ধভাবে
দাড় করিয়ে চার তাকবীরের সাথে জানাযার নামায আদায় করেন ৷

ইমাম বুখারী (র) বলেন, “নাজাশীর ইনতিকাল বিষয়ক অধ্যায় আবু রাবী হযরত
জাবির (যা) থেকে বর্ণিত ৷ তিনি বলেন, নাজাশী যখন ইনতিকাল করেন , তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা)
বললেন, আজ একজন নেক্কার লোক ইনতিকাল করেছেন ৷ তোমরা সকলে প্রন্তুত হও,
তোমাদের ভাই আসহামাহ্-এর জন্যে জানাযার নামায পড় ৷ আনাস ইবন মালিক, আবদুল্লাহ
ইবন মাসউদ ও অন্যন্যে অনেক সাহাবী থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে ৷ কোন কোন বর্ণনায় আছে
যে , তীর নাম মুসহিমা ৷ তিনি মুলত আসহামাহ্ ইবন আবহুর ৷ তিনি একজন নেক্কার,
বুদ্ধিমান, মেধাবী, ন্যায়পরায়ণ ও বিজ্ঞ লোক ছিলেন ৷ আল্পাহ্ তার প্রতি সত্তুষ্ট হোন এবং তাকে
সত্তুষ্ট করুন ৷
ইবন ইসহাক সুত্রে ইউনুস বলেন, নাজাশীর মুল নাম মাসহড়ামা ৷ বায়হাকী এটির বিশুদ্ধ
রুপ আসহ্াম বলে মন্তব্য করেছেন ৷ অড়াসহড়াম শব্দের অর্থ দান-দক্ষিণা ৷ তিনি এও বলেছেন যে
নাজাশী হল আবিসিনিয়া রাজ্যের উপাধি ৷ যেমন বলা হয় কিসরা, হিরাকল প্রভৃতি ৷
আমি বলি হিরাকল দ্বারা সম্ভবত রোম সম্রাট কায়সারের কথা বুঝানো হয়েছে ৷ কারণ,
রোমান নগরসমুহের দ্বীপণ্ডলোসহ সিরিয়ার রাজাকে বলা হয় কায়সার ৷ পারস্য সম্রাটের উপাধি
কিসরা ৷ সমগ্র মিসরের সম্রাটের উপাধি ফিরআওন ৷ আলেকজাদ্রিয়ার রাজার উপাধি
,মুকাওকিস ৷ ইয়ামান ও শাহারর রাজার উপাধি তুবৃবা’ ৷ আবিসিনিয়ার রাজার উপাধি নাজাশী ৷
গ্রীস এবং কারো কারো মতে ভারতবর্ষের সম্রাটের উপাধি বাতলীমুস এবং তৃর্কদের সম্রাটের
উপহ্ণ্র্দুহ্৷ খাকান ৷
কোন কোন আলিম বলেছেন, যেহেতু নাজাশী তার ঈমান গ্রহণের বিষয়টি গোপন রাখতেন
এবং যেদিন তার ইনতিকাল হয়, সেদিন সেখানে তার জানাযার নামায পড়ার কেউ ছিল না,
যেহেতু রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় তার জানাযার নামায আদায় করেন ৷ এ প্রেক্ষিতেই ফকীহ্গণ
বলেছেন যে, কোন ব্যক্তি যে দেশে মৃত্যুবরণ করে, সে দেশে যদি তার জানাযা পড়া হয়, তবে
যে দেশে সে অনুপস্থিত, সে দেশে তার জানাযা পড়া বৈধ নয় ৷ এজন্যে মদীনা মুনাওয়ারা
ব্যতীত অন্য কোন স্থানে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর জানাযার নামায হয়নি ৷ মক্কাতেও নয়, অন্য কোন
স্থানেও নয় ৷ হযরত আবু বকর (রা) , উমর (রা) , উছমান (রা)-সহ অন্যান্য সাহাবীর ক্ষেত্রেও
এমন কোন বিবরণ পাওয়া যায় না যে, তারা যেখানে ইনতিকাল করেছেন এবং যেখানে র্তাদের
জানাযা হয়েছে, সেখানে ব্যতীত অন্য কোন শহরে ভীদের জানাযা হয়েছে ৷



Execution time: 0.21 render + 0.01 s transfer.