Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ১৩১ ঠিক করুন


অন্যদিকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যদি নিম্নস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তাহলে যারা
মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত শুনতে চাইতেন, তারা তা শুনতে পেতেন না ৷ এই প্রেক্ষিতে
পাঠ করবেন না যায় ফলে ওরা সবইি আপনার নিকট থেকে দুরে সরে যায় ৷ ৷ঠু ;ষ্১!ট্রু
এবং অতিশয় ক্ষীণস্বরেও পাঠ করবেন না ৷ তা হলে তো গোপনে শ্ররণকারীরা তা শুনছুত পাবে
না ৷ এমনও হতে পারে যে, সে যা শুনবে তাতে তার অম্ভরে থােদাভীতি সৃষ্টি হবে এবং সে
উপকৃত হবে ৷ মৈং ম্রাট্রু৷ ;,ং ; :fi;; ৷ টু ররং এ দুয়ের মধ্যপস্থা অবলম্বন করুন!

পরিছেদ : সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর আবিসিনিয়ায় হিজৱত

মুসলমানদের মধ্যে যারা অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন , তাদের প্রতি মুশরিকদের
অত্যাচার-নির্যাতন, নির্দয় প্রহার এবং অপমান, লাঞ্চুনার কথা ইভােপুর্বে আলোচিত হয়েছে ৷
আল্লাহ তাআলা প্রিয়নবী (সা) থেকে ওদেরকে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং চাচা আবু তালিবের
মাধ্যমে তাকে কাফিরদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন ৷ এ বিষয়ে ইতোপুর্বে উল্লেখ করা
হয়েছে ৷ সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহ্র জন্যে ৷

ঐতিহাসিক ওয়াকিদী বলেন, তারা নবুওয়াতের পঞ্চম বছর রজব মাসে আবিসিনিয়ায়
উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ৷ সর্বপ্রথম ১ ১জন পুরুষ এবং : জন মহিলা সেখানে হিজৱত করেন ৷
পদব্রজে এবং সওয়ারীতে আরোহণ করে তারা সাগর তীরে গিয়ে পৌছেন ৷ এরপর অ র্ধ
দীনারের বিনিময়ে আবিসিনিয়া পর্যন্ত একটি নৌকা ভাড়া করেন ৷ তারা হলেন উছমান ইবন
আফ্ফান, তার সহধর্মিণী রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর কন্যা রুকাইয়া , আবু হুযায়ফা ইবন উতবা , তার
শ্রী সাহ্লা বিনত সুহায়ল, যুবায়র ইবন আওঅ্যাম , মুসআব ইবন উমায়র , আবদুর রহমান ইবন
আওফ , আবু সালামা ইবন আবদুল আসাদ, তার শ্রী উন্মু সালামা বিনত আবু উমাইয়া, উছমান
ইবন মাযউন, আমির ইবন রাবীআ আল-আনাসী, তার শ্রী লায়লা বিনত আবু হাছামড়াহ্, আবু
সাবুরা ইবন আবু রুহাম মতান্তরে আবু হাতির ইবন আমর, সুহায়ল ইবন বায়দা, আবদুল্লাহ
ইবন মাসউদ বাযিয়াল্লাহু আনহুম কৃআজমাঈন ৷

ইবন জারীর (র) প্রমুখ বলেন, মহিলা ও শিশু ব্যতীত শুধু পুরুষ ছিলেন ৮২ জন ৷ আমার
ইবন ইয়াসির (বা) তাদের সাথে ছিলেন কিনা সে বিষয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে ৷ তিনি যদি
তাদের সাথে থাকেন, তবে তাদের সংখ্যা হবে ৮৩ ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক (র) বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (না) তার সড়াহাবীদের উপর আপতিত
মুশরিকদের জুলুম-নির্যাতন দেখলেন এবং এও দেখলেন যে, আল্লাহ তাআলা নিজ কুদরতে
এবং আবু তালিবের মাধ্যমে তাকে ওদের জুলুম থেকে রক্ষা করছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) কিভু
নিজে তার সাহাবীদেরকে বিপদাপদ ও জুলুম-নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারছেন না ৷ তখন
তিনি সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা যদি আবিসিনিয়া চলে যেতে, তাহলে ভাল
হত ৷ কারণ, সেখানে একজন রাজা আছেন যিনি কারো প্রতি জুলুম করেন না ৷ এবং সেটি
একটি ভাল রাজ্য ৷ ওখানে গেলে আল্লাহ তাআলা তােমাদেরকে এই জুলুম-নির্যাতন থেকে
মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন ৷ এ প্রেক্ষিতে জুলুম-অত্যাচার থেকে মুক্তি এবং দীন-ধর্ম রক্ষার


পৃষ্ঠা ১৩২ ঠিক করুন


লক্ষে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাহাবীগণের একটি দল আবিসিনিয়ায় হিজরত করলেন ৷ এটি হল
ইসলাম গ্রহণের পর মুসলমানদের প্রথম হিজরত ৷ সর্বপ্রথম র্ষারা বের হলেন, তারা হলেন
উছমান ইবন আফ্ফান (বা) , তার শ্রী ও রড়াসুলুল্লাহ্ (না)-এর কন্যা রুকাইয়া (রা) ৷

বায়হাকী (র) ইয়াকুব ইবন সুফিয়ান কাতাদা (র) সুত্রে বর্ণনা করেছেন ৷ তিনি
বলেছেন, সর্বপ্রথম সপরিবারে যিনি হিজরত করলেন তিনি হলেন উছমান ইবন আফ্ফান (বা) ৷
আমি নাযর ইবন আনাসকে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন যে , আমি আবু হামযা অর্থাৎ আনাস
ইবন মালিক (রা)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলছিলেন, উছমান ইবন আফ্ফান (রা)
আবিসিনিয়ায় হিজরতের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলেন ৷ তার সাথে ছিলেন তার শ্ৰী নবী
দুহিতা রুকাইয়া (বা) ৷ দীর্ঘদিন পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ্ (না) তাদের কোন ঘেড়াজখবর পাচ্ছিলেন না ৷
এরপর এক কুরায়শী মহিলা তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলে, হে মুহাম্মদ ৷ (না) আমি তো
আপনার জামাতাকে দেখে এসেছি ৷ তার সাথে তার শ্ৰীও আছেন ৷ ওদের কী অবস্থায় দেখে
এসেছ ? রাসুলুল্লাহ্ (সা) জিজ্ঞেস করলেন ৷ সে বলল, আমি দেখেছি যে, ত্রীকে একটি গাধার
পিঠে তুলে দিয়ে তিনি পাধাটিকে ইাকিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) বললেন, খ্যাঃ
ট্রুর্দু৷ ৷ — আল্লাহ্ তাআলা তাদের সঙ্গে থাকুন ৷ লুতের (আ) পর উছমানই সর্বপ্রথম সপরিবারে
হিজরত করেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, হিজরতকারীদের মধ্যে ছিলেন আবু হুযায়ফা ইবন উতবা তার শ্রী
সাহ্লা বিনত সুহায়ল ইবন আমর, সেখানে তাদের একটি পুত্র সন্তান ভুমিষ্ঠ হয়, তার নাম
মুহাম্মাদ ইবন আবু হুযায়ফা, যুবায়র ইবন আওআম, মুসআব ইবন উমায়র , আবদুর রহমান
ইবন আওফ, আবু সালামা ইবন আবদুল আসাদ, তার শ্রী উন্মু সালামা বিনত আবু উমাইয়া
ইবন মুগীরা ৷ সেখানে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়, তার নাম যায়নাব, উছমান ইবন
মাযউন, আমির ইবন রাবীআ, ইনি খাত্তাব পরিবারের মিত্র ছিলেন ৷ তার গোত্র হল বনু আনায
ইবন ওয়াইল গোত্র, তীর শ্ৰী লায়লা বিনত আবু হাছামাহ্ ৷ আবু সাবুরা ইবন আবু রুহাম
আমিরী, তার শ্ৰী উম্মু কুলছুম বিনত সুহায়ল ইবন আমর, মতান্তরে আবু হাতির ইবন আমর
ইবন আবৃদ শামস ইবন আবদুদ ইবন নাসর ইবন মালিক ইবন হাসল ইবন আমির ৷ কথিত
আছে যে, তিনি সবার আগে ওখানে পৌছেছিলেন এবং সুহায়ল ইবন বায়যা ৷ আমার নিকট
বর্ণনা পৌছেছে যে, উল্লিখিত ১০ জন পুরুষ সর্বপ্রথম আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন ৷ কেউ কেউ
বলেছেন যে, উছমান ইবন মাযউন তাদের নেতৃত্বে ছিলেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, এরপর যাত্রা করেন জা’ফর ইবন আবু তালিব (বা) ৷ তার সাথে
ছিলেন তার শ্ৰী আসমা বিনৃত উমায়স ৷ সেখানে র্তাদের পুত্র সন্তান আবদুল্লাহ ইবন জাফরের
জন্ম হয় ৷ এরপর একের পর এক মুসলমানগণ সেখানে হিজরত করতে থাকেন ৷ ফলে
আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের একটি বিরাট দল একত্রিত হয় ৷

মুসা ইবন উক্বা মনে করেন যে, আবু তালিব ও তার মিত্র গোত্রগুলো যখন রাসুলুল্লাহ্
(না)-এর সাথে পিরিসঙ্কটে অম্ভরীণ ছিলেন, তখন মুসলমানদের আবিসিনিয়ায় হিজরতের ঘটনা
ঘটে ৷ অবশ্য এ মন্তব্য সন্দেহাভীত নয় ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷


পৃষ্ঠা ১৩৩ ঠিক করুন


মুসা ইবন উকব৷ এও মনে করেন যে জা ফর ইবন আবৃত তালিব আ ৷বিসিনিয়ায় গিয়েছিলেন
সেখানে দ্বিতীয় দলের হিজরতকালে ৷ আর দ্বিতীয় হিজরতের ঘটনা ঘটেছিল প্রথম
হিজরতকারীদের কতক মক্কা ফিরে আসার পর ৷ আবিসিনিয়ায় অবস্থানকালে তাদের নিকট
সংবাদ পৌছেছিল যে মক্কার মুশবিকগণ ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তারা রীতিমত নামায
আদায় করছে ৷ এ সংবাদ শুনে তাদের কতক মক্কায় ফিরে আসেন ৷ যারা ফিরে এসেছিলেন,
তাদের মধ্যে উছমান ইবন মাযউনও ছিলেন ৷ এখানে এসে তারা দেখতে পেলেন যে,
মুন্ণবিকদের ইসলাম গ্রহণের সং বাদ সঠিক নয় ৷ ফলে তারা পুনরায় আবিসিনিয়ায় চলে যান ৷
অবশ্য তাদের কতক মক্কায় থেকে যান ৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে নতুন করে আরো কিছু মুসলমান
আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন ৷ এটিই আবিসিনিয়ায় দ্বিতীয় হিজরত ৷ এর বিস্তারিত বিবরণ পরে
আলোচিত হবে ৷ মুসা ইবন উকবা বলেন, জা ফর ইবন আবুত৷ তালিব আবিসিনিয়ায় গমন করেন
দ্বিতীয় দলের সাথে ৷ আর ইবন ইসহড়াক বলেন,৩ তিনি আবিসিনিয়ায় গিয়েছেন তথায় প্রথম
হিজরতকালে ৷ ইবন ইসহাকের বক্তব্যটিই অধিকতর সঠিক ৷ এ বিষয়ে আলোচনা পরে
আসছে ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷ তবে কথা হল, তিনি প্রথম হিজরতকারীদের দ্বিতীয় দলে
ছিলেন ৷ হিজরতকা রীদেরকে তিনিই সম্রাট৷ নাজ্জ ৷শীর নিকট উপস্থিত করেছিলেন এবং তাদের
পক্ষ থেকে সম্র৷ ৷ট ও অন্যদের সাথে কথা বলেছিলেন ৷ একটু পরেই আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করব ৷

জাফর ইবন আবৃত তালিবের সাথী হয়ে যারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন ইবন
ইসহড়াক তাদের নাম উল্লেখ করেছেন ৷৩ তারা হলেন আমর ইবন সাঈদ ইবন আস, তার শ্রী
ফাতিম৷ বিনত সাফওয়ান ইবন উম৷ ইয়৷ ইবন মুহবিছ ইবন শাক্ আল-কিনড়ানী, আমরের ভাই
থালিদ, খালিদের শ্রী উমাইয়া, বিনত খাল্ফ ইবন আসআদ আল খুযাঈ , সেখানে তাদের পুত্র
সন্তান সাঈদের জন্ম হয়, তার মাত৷ যাকে পরবর্তীতে যুবায়র (বা) বিয়ে করেন তার ঔরসে
উমর ও খালিদের জন্ম হয়, আবদুল্লাহ ইবন জাহশ ইবন রিছাব, তার ভাই উবায়দৃল্লাহ্, তার
সাথে তার শ্রী উম্মু হাবীবাহ্ বিনত আবী সুফিয়ান, বনু আসাদ ইবন থুয়ায় গোত্রের কায়স ইবন
আবদুল্লাহ্ তার শ্রী আবু সুফিয়ানের আযাদকৃত ক্রীত দাস ইয়াসারের কন্যা বারকাহ বিনত
ইয়াসার , মুআয়কীব ইবন আবু ফা ৷তিম৷ ইনি ছিলেন সাঈদ ইবন আসের আযাদকৃত ক্রী৩দাস ,
ইবন হিশাম বলেন, মুআয়কীব ছিলেন দাওস গোত্রের লোক ৷

আবু মুসা ৷আশআরী আবদুল্লাহ্ ইবন কায়স তিনি উতবা ইবন রাবীআর’ পরিবারের মিত্র
ছিলেন এ বিষয়ে আমরা পরে আলোচনা করব, উত বা ইবন গাযওয়ড়ান, ইয়াযীদ ইবন ঘুম আ
ইবন আসওয়াদ , আমর ইবন উম৷ ইয়৷ ইবন হারিছ ইবন আসাদ, তুলায়ব ইবন উমায়ব ইবন
ওয়াহ্ব ইবন আবু কাহীর ইবন আবদ, সুওয়াইবিত ইবন হুরায়মাল৷ সাআদ ইবন জুহম ইবন
কায়স আল আবদাবী, তার সাথে ছিলেন তার শ্ৰী উম্মু হারমালাহ্ বিনত আবদুল আসওয়াদ ইবন



১ দুই মুলকপি এবং সীরাতে ইবন হিশাম প্ররুই মুহাজিরদের সংখ্যা এবং তাদের সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য
রয়েছে ৷ এই গ্রন্থের সংকলক যেহেতু ইবন ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেহেতু ইবন হিশামসহ যে কোন
একটি মুল কপির সাথে যে তথ্যের মিল রয়েছে সেটিকে আমরা নির্ভরযোগ্যরুপে চিহ্নিত করেছি ৷


পৃষ্ঠা ১৩৪ ঠিক করুন


খুযায়মা তার দুই পুত্র আমর ইবন জুহম এবং খুযায়মা ইবন জুহম, আবু রওম ইবন উমায়র
ইবন হাশিম ইবন আবৃদ মানড়াফ ইবন আবদুদ্দার ফিরাস ইবন নায্র ইবন হারিছ ইবন
কালদাহ্, সাআদ (রা) এর ভাই আমির ইবন আবু ওয়াক্কাস, মুত্তালিব ইবন আঘৃহার ইবন আবদৃ
আওফ আবৃ ঘুহরী, তার শ্রী রামলা বিনত আবু আওফ ইবন যবীরা সেখানে তার পুত্র
আবদুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন, আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, তার ভাই উতবা, মিকদড়াদ ইবন
আসওয়াদ্ হারিছ ইবন খালিদ ইবন সাখর অড়াত-তায়যী, তার শ্রী রাবতা বিনত হারিছ ইবন
জাবীলা, সেখানে তাদের ছেলে মুসা, এবং তিন মেয়ে আইশা, যয়নাব ও ফাতিমার জন্ম হয় ৷
আমর ইবন উছমান ইবন আমর ইবন কাআব ইবন সাআদ ইবন তায়ম ইবন মুররা, শাম্মড়াস
ইবন উছমান ইবন শারীদ আল মাখবুমী ৷ কথিত আছে যে, তিনি অত্যন্ত সৃদর্শন ছিলেন বিধায়
তার এরুপ নামকরণ করা হয়েছিল ৷ মুলত তার নাম ছিল উছমান ইবন উছমান ৷ হাব্বার ইবন
সুফিয়ান ইবন আবদুল আসাদ আল মাখবুমী , তার ভাই আবদুল্লাহ, হিশাম ইবন আবু হুযায়ফা
ইবন মুগীরা ইবন আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন মাখবুম সালামা ইবন হিশাম ইবন মুগীরা,
আইয়াশ ইবন আবু রাবীআ ইবন মুগীরা, মুআত্তাব ইবন আওফ ইবন আমির তাকে আইহামা
নামেও ডাকা হত, তিনি বনু মাখবুম গোত্রের মিত্র ছিলেন ৷

উছমান ইবন মাযউন-এর দুই ভাই কুদামা ও আবদুল্লাহ, সাইব ইবন উছমান ইবন মাযউন,
হাতির ইবন হারিছ ইবন মা’মার ৷ তার সাথে ছিলেন তার শ্রী ফাতিমা বিনত মুজাল্লিল ৷ তাদের
দু’ পুত্র মুহাম্মদ ও হারিছ, হাতিবের ভাই খাত্তাব, খাত্তাবের শ্রী ফুকায়হা বিনত ইয়াসার, সুফিয়ান
ইবন মা’মার ইবন হাবীব, তার ত্রী হাসানা, তাদের দু’পুত্র জাবির ও জুনড়াদা ৷ হাসান এর পুর্ব
স্বামীর ঔরসজাত পুত্র শুরাহবীল ইবন আবদুল্লাহ, তিনি গাওদা ইবন মুছাহিম ইবন তড়ামীম
গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন ৷ তিনি শুরড়াহবীল ইবন হাসানা নামেও পরিচিত উছমান ইবন রাবীআ
ইবন ইহবান ইবন ওয়াহাব ইবন হুযাফা ইবন জুমাহ্, খুনড়ায়স ইবন হুযাফা ইবন কায়স ইবন
অড়াদী, আবদুল্লাহ ইবন হারিছ ইবন কায়ছ ইবন আদী ইবন সাঈদ ইবন সাহ্মন্ হিশাম ইবন
আস ইবন ওয়াইল ইবন সাঈদ, কায়স ইবন হুযাফা ইবন কায়স ইবন আদী, তার ভাই
আবদুল্লাহ, আবু কায়স ইবন হারিছ ইবন কায়স ইবন আদী র্তার বৈমড়াত্রেয় ভাইগণ হারিছ,
মা’মার সাইব’ বিশর ও সাঈদ এবং বৈপিত্রেয় ভাই সাঈদ ইবন কায়স ইবন আদী, তার মুল
পরিচয় সাঈদ ইবন অড়ামর তড়ামীমী, উমায়র ইবন রিছাব ইবন হুযায়ফা ইবন মাহশাম সাঈদ
ইবন সাহম, বনু সাহম গোত্রের মিত্র মাহমিয়্যা ইবন জুয আয্ যুবায়দী, মা’মার ইবন
আবদুল্লাহ আল আদাবী, উরওয়া ইবন আবদুল উয্যা, আদী ইবন নায়লা ইবন আবদুল
উঘৃযা, তার পুত্র নু’মান, আবদুল্লাহ ইবন মাখরামাহ্ আল-আমিরী, আবদুল্লাহ ইবন সুহায়ল
ইবন আমর, সালীত ইবন আমব , তার ভাই সুকরান, তার সাথে তার ত্রী সওবিত যামআ,
মালিক ইবন রাবীআ,-র্তার ত্রী উম্রা বিনত সাআদী, আবু হাতির ইবন আমর আল
আমিরী, তাদের মিত্র সাআদ ইবনখাওলা (তিনি ইয়ামানী বংশোদ্ভুত ছিলেন) আবু উবায়দা
আমির ইবন আবদুল্লাহ ইবনুল জাররাহ্ আল-ফিহ্বী, সুহায়ল ইবন বায়যা (বায়যা তার
মাতা ছিলেন ৷ বায়যার মুল নাম দা’দ বিনত জাহদাম ইবন উমাইয়া ইবন যারব ইবন
হারিছ ইবন ফিহর এই সুহায়ল হলেন সুহায়ল ইবন ওয়াহব ইবন রাবীআ ইবন হিলাল


পৃষ্ঠা ১৩৫ ঠিক করুন


ইবন দাববাহ ইবন হারিছ, আমর ইবন আবু সারাহ ইবন রাবীআ ইবন হিলাল ইবন মালিক

ইবন দাব্বাহ ইবন হারিছ, ইয়ায ইবন যুহায়র ইবন আবু শাদ্দাদ ইবন রাবীআ ইবন হিলাল
ইবন মালিক ইবন দাব্বাহ, আমর ইবন হারিছ ইবন যুহায়র ইবন আবী শাদ্দাদ ইবন রাবীআ,
উছমান ইবন আবদ গানাম ইবন যুহায়র , সাঈদ ইবন আবদ কায়স ইবন লাকীত এবং তার ভাই
হারিছ ৷ তারা ফিহর বংশের অন্তর্ভুক্ত ৷

ইবন ইসহাক বলেন, অনুষঙ্গী হিসেবে পমনকারী নাবালক পুত্রগণ এবং সেখানে

জন্মগ্রহণকারী শিশুগণকে বাদ দিয়ে হিসেব করলে আবিসিনিয়ায় হিজরতকারী মুসলামানদের

ৎখ্যা হয় ৮৩ ৷ অবশ্য, যদি আম্মার ইবন ইয়াসির (রা) কে হিজরতকারীদের মধ্যে গণ্য করা
হয়, তবে ৮৩ জন হবে ৷ তবে তার আবিসিনিয়ায় গমন সম্পর্কে নিশ্চিত ভাবে জানা যায় না ৷

ইবন ইসহাক যে উল্লেখ করেছেন যে, মক্কা থেকে র্যারা আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছেন,
তাদের মধ্যে আবু মুসা আশআরীও রয়েছেন আমার মতে তার এই মন্তব্য নির্ত্যাযোগ্য মনে হয়
না ? এ প্রসঙ্গে ইমাম আহমদ (র) বলেন, হাসান ইবন মুসা ইবন মাসউদ (বা) থেকে
বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে নাজাশী নিকট প্রেরণ করলেন ৷
আমরা সংখ্যায় প্রায় ৮০ জন ছিলাম ৷ তাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ, জাফর,
আবদুল্লাহ ইবন আরফাতা, উছমান ইবন মাযউন এবং আবু মুসা ৷ র্তারা নাজাশীর নিকট
এলেন ৷ অন্যদিকে কুরায়শ গোত্রের লোকেরা আমর ইবন আস এবং আমার ইবন ওয়ালীদকে
মুল্যবান উপটোকন দিয়ে নাজাশীর নিকট প্রেরণ করে ৷ নাজাশীর দরবারে উপস্থিত হয়ে তারা
তাকে সিজদা করে এবং খুব দ্রুত তাদের একজন তার ডানদিকে এবং অপরজন বামদিকে বসে
পড়ে ৷ তারপর তারা তাকে বলে, আমাদের স্বগােত্রীয় কিছু লোক আমাদের প্ৰতি বিরুপ হয়ে
এবং আমাদের ধর্ম ত্যাগ করে আপনার বাজে এসে আশ্রয় নিয়েছে ৷ নাজাশী বললেন, ওরা
এখন কোথায় ? তারা বলল, আপনার রাজ্যেই আছে ৷ ওদেরকে ডেকে পাঠান ৷ নাজাশী
তাদেরকে ডেকে আনলেন ৷ হযরত জাফর (রা ) তার সাথীদেরকে বললেন, “আজ আমি
আপনাদের সকলের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখব ৷ সকলে তা মেনে নিলেন ৷ তিনি নাজাশীকে
সালাম দিলেন, বিন্দু সিজদা করলেন না ৷ রাজ-দরবারের লোকেরা বলল, আপনি জাহীপনাকে
সিজদা করলেন না কেন ? হযরত জাফর উত্তরে বললেন, আমরা মহান আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য
কাউকে সিজদা করি না ৷ নাজাশী বললেন, এ কেমন কথা ? জাফর (রা) বললেন, “আল্লাহ
তাআলা আমাদের প্ৰতি একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন ৷ ওই রাসুল আমাদেরকে নির্দেশ
দিয়েছেন আমরা যেন একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সিজদা না করি ৷ তিনি আমাদেরকে
নামায আদায় করতে এবং যাকাত দানের নির্দেশ দিয়েছেন ৷” কুরায়শ প্রতিনিধি আমর বলে
উঠলেন, ওরা ঈসা ইবন মারয়ামের ব্যাপারে আপনার বিশ্বাসের বিপরীত বিশ্বাস পোষণ করে ৷
নাজাশী বললেন, ঈসা (আ) এবং তার মা মারয়াম সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী ? তিনি বললেন,
তাদের সম্পর্কে আমরা ঠিক তা-ই বলি যা আল্লাহ্ বলেছেন, আর তা হলো , তিনি আল্লাহর
কালেমা ও বাণী এবং তার বহু ৷ এ রুহকে তিনি সতীসাধবী কুমারী মারয়ামের প্ৰতি নিক্ষেপ
করেছেন ৷ কোন পুরুষ ওই কুমারীকে স্পর্শ করেনি এবং কোন পুরুষ তার মধ্যে সন্তানের বীজ


পৃষ্ঠা ১৩৬ ঠিক করুন


বপন করেনি ৷ একথা শুকৃন নাজ৷ ৷শী মাটি থেকে একটি শুকনো কাঠ তুলে নিলেন এবং বললেন
কৃহ আবিসিনীয় সম্প্রদায়, পাদ্রী ও ধর্ম যাজকগণ! আমরা ঈস৷ (আ) সম্পর্কে যা বলি এরাত
থেকে এতটুকুও বাড়িয়ে বকৃলনি ৷ হে আগন্তুক প্রতিনিধিদল ! সাদর অভিনন্দন, আপনাদের প্রতি
এবং যার পক্ষ থেকে আপনারা এসেছেন তার প্রতি ৷ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে , তিনি আল্লাহর
রাসুল এবং তিনি সেই ব্যক্তি র্ষার বর্ণনা আমরা ইনজীল কিভাবে পাই এবং তিনিই সেই রাসুল
ঈস৷ (আ) র্যার আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন ৷ আপনারা আমার রাকৃজ্যর যেখানে ইচ্ছা বসবাস
করতে থাকুন ৷ আল্লাহর কসম, আমি যদি এখন রাজ্য পরিচ৷ ৷লনার দায়িত্বে না থাকতাম, তকৃব
আমি নিশ্চয়ই তার নিকট যেতাম এবং তার জুতা বহন করতাম ৷ এরপর তার নির্দেশে কুরায়শী
প্রতিনিধি দলের দেয়৷ উপচৌকন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয় পরবর্তীতে অন্যতম
হিজর৩ কারী হযরত আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) এর অব্যবহিত পরেই আবিসিনিয়া থেকে
ফিরে আসেন এবং বদকৃরর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন ৷

বর্ণিত আছে যে, নাজাশীর মৃত্যু সং বাদ কৃপকৃয় রাসুলুল্লাহ্ (না) তার মাগকৃফরাকৃতর জন্যে
দুআ করেন ৷ এটি একটি মযবুত ও সুদৃঢ় সনকৃদ বর্ণিত ৷ এর বর্ণনা রীতিও চমৎকার ৷ এ বর্ণনা
থেকে প্রতীয়মান হয় যে আবু মুসা (বা) যে সকল লোকের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা মক্কা থেকে
আবিসিনিয়৷ গিয়েছিলেন ৷ অবশ্য, এটা সঠিক হকৃব তখন যদি তার নাম কোন বর্ণনাকা বীর পক্ষ
থেকে সং কৃযাজিত না হয়ে থাকে ৷ আবু ইসহাক সুবায়ঈ থেকে অন্য সনকৃদও এরুপ বর্ণিত
আছে ৷

হাফিয আবু নৃআয়ম (র) আদদালাইল’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, সুলায়মান ইবন
আহমদ আবু মুসা (রা) সুত্রে বর্ণনা ককৃরন, তিনি বকৃলন রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাকৃদরকৃক
নিকৃর্দশ দিকৃলন জা ফর ইবন আবু৩ তালিব (রা) এর সাথে নাজাশীর রাকৃজ্য চলে যেতে ৷
কুবাযশ্ গণ এ সং বাদ অবগত হয় ৷ তারা প্রচুর পরিমাণে উপহার র উপচৌকনসহ আমর ইবন
আস ও আম্মার৷ ইবন ওয়ালীদকৃক নাজা শীর নিকট পাঠায় ৷৩ তারা উপহার সামশ্রী নিয়ে নাজ ৷শীর
দরবারে উপস্থিত হয় ৷ নাজাশী ওই সব উপহার গ্রহণ করেন ৷ তারা তাকে সিজদ৷ করে ৷
এরপর আমর ইবন আস বলেন, “আমাদের দেশের কতক লোক আমাদের পিতৃধর্ম ত্যাগ করে
পালিয়ে একৃস আপনার রাকৃজ্য অবস্থান করছে ৷” অবাক হয়ে নাজাশী বলকৃলন, ওরা আমার
রাকৃজ্য অবস্থান করছে ? তারা বলল, ইা, আপনার রাজ্যেই ৷ নাজাশী আমাদেরকে ডেকে
পাঠালেন ৷ হযরত জাফর (রা) আমাদেরকে বলকৃলন, আজ আমিই আপনাদের পক্ষে বক্তব্য
রাখব, আপনাদের কেউ কো ন কথা বলকৃবন না ৷ এরপর আমরা নাজাশীর নিকট উপস্থিত হই ৷
তিনি তখন আপন আসনে উপবিষ্ট ৷ আমর ইবন আস তার ডানদিকৃক আর আম্মারা তার নাম
দিকৃক বসা ছিলেন, পাদ্রীগণ দু সারিকৃ বসা ছিলেন ৷ কুরায়শ প্রতিনিধি আমর ও আম্মারাহ্
রাজাকে পুর্বেই বলে কৃরকৃখছিকৃলন যে, ওরা আপনাকে সিজদ৷ করকৃব না ৷ আমরা ওখানে
পৌছানাের পর উপস্থিত পাদ্রী ও যাজকগণ আমাদেরকে বলল, “আপনারা জাহীপনাকৃক সিজদা
করবেন ৷” হযরত জাফর (রা) বললেন, আমরা মহান আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সিজদ৷ করি না ৷
আমরা যখন নাজাশীর নিককৃট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি জাফরকৃক বলকৃলন, তুমি সিজদা


পৃষ্ঠা ১৩৭ ঠিক করুন


করলে না কেন ? হযরত জাফর (রা) বললেন, আমরা মহান আল্লাহ্ ব্যতীত কাউকে সিজদা
করি না ৷ নাজাশী বললেন, সেটি কিরুপ? হযরত জাফর (রা) বললেন, আল্লাহ্ তাআলা
আমাদের প্রতি একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন ৷ তিনি সেই রাসুল, ঈসা ইবন মারয়াম তার পরে
আহমদ নামের যে রাসুলের আগমনী সুসংবাদ দিয়েছিলেন ৷ ওই রাসুল আমাদেরকে একমাত্র
আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ দিয়েছেন ৷ তিনি
আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন নামায আদায় করি, যাকাত দিই ৷ তিনি আমাদেরকে
সৎকাজ করার আদেশ দিয়েছেন এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ করেছেন ৷ নাজাশী তার কথায়
চমৎকৃত হন ৷ এ অবস্থা দেখে আমর ইবন আস নাজাশীকে বললেন, “আল্লাহ সম্রাটের মঙ্গল
করুন, ওরা ঈসা (আ)-এব ব্যাপারে আপনার বিরুদ্ধ মত পোষণ করে ৷ নাজাশী জাফর
(রা) কে বললেন, আপনাদের নবী হযরত মারিয়াম পুত্র ঈসা (আ) সম্পর্কে কী বলেন ? উত্তরে
জাফর (বা) বললেন, তিনি তো তাই বলেন, যা আল্লাহ্ তাআলা নিজে বলেছেন আর তা
হলো, তিনি আল্লাহ্র প্রেরিত রুহ, এবং আল্লাহর কালেমা ও বাণী ৷ আল্লাহ্ তাআলা র্তাকে
এমন একজন সতী-সাত্রী কুমারীর গর্ভ থেকে বের করেছেন কোন পুরুষ যার নিকট যায়নি এবং
যার মধ্যে কোন সন্তানের বীজ নিক্ষেপ করেনি ৷ তারপর নাজাশী মাটি থেকে একটি শুকনো
কাঠ তুলে নিয়ে বললেন, হে পাদ্রী ও যাজক সম্প্রদায় ! মারয়াম পুত্র সম্পর্কে আমরা যা বলি,
ওরা তা থেকে এতটুকুও অতিরিক্ত বলে না ৷ এমনকি এই শুকনো কাঠ পরিমাণও নয় ৷ ”

“হে প্রতিনিধিদল, সাদর অভিনন্দন আপনাদের প্ৰতি এবং আপনারা মার পক্ষ থেকে
এসেছেন তার প্ৰতি ৷ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর রাসুল এবং তিনি সেই মহান পুরুষ
হযরত ঈসা (আ) যীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন ৷ আমি যদি রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বে না
থাকতাম, তবে আমি অবশ্যই তার নিকট যেতাম এবং তার পাদুকাদ্বয়ে চুঘু থেতাম ৷ আপনারা
আমার রাংজ্য যেখানে ইচ্ছা বসবাস করুন ৷ তিনি আমাদেরকে খাদ্য ও পােশাক-পরিচ্ছদ দানের
নির্দেশ দিলেন এবং কুরায়শ প্রতিনিধিদের উপহার সামগ্রী ফেরত দেয়ার আদেশ করলেন ৷

আমর ইবন আস ছিলেন একজন বেটে মানুষ ৷ আর আম্মারা ছিল সুদর্শন ব্যক্তি ৷ তারা
দু’জনে সাগর তীরে এসে পানি পান করেন ৷ আমরের সাথে তার ত্রীও ছিলেন ৷ পানি পান করার
পর আম্মারা তার সাথী আমরকে বলল, তুমি তোমার ন্তীকে নির্দেশ দাও সে যেন আমাকে চুমু
খায় ৷ আমর বললেন, তাতে ভোর লজ্জা হয় না ৷ কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আম্মারা তার
সাথী আমরকে তুলে সমুদ্রে নিক্ষেপ করে ৷ আমরের কাকুতি-মিনতি ও প্রাণে ৰ্বাচানাের দােহাই
দেয়ার প্রেক্ষিতে আম্মারা তাকে নৌকায় তুলে নেয় ৷ এ ঘটনায় আম্মারার প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে
উঠেন আমর ৷ প্ৰতিশোধ গ্রহণের উদ্দেশ্যে তিনি নাজাশীকে গিয়ে বলেন যে, আপনি ঘর থেকে
বেরিয়ে গেলে আম্মারা গিয়ে আপনার ব্রীর সাথে কুকর্ম করে ৷ নাজাশী তখন আম্মারাকে ডেকে
আনেন ৷ তারপর তার পুরুষাঙ্গে ছিদ্র করে দেন ৷ অবশেষে সে বন প্রাণীদের সাথে ঘুরে
বেড়াতো ৷ হাফিয বায়হাকী (র) আদ-দালাইল গ্রন্থে আবু আলী হাসান ইবন সালাম আস
সাওয়াক সুত্রে উবায়দুল্লাহ্ ইবন মুসা থেকে নিজস্ব সনদে এরুপ বর্ণনা করেছেন, “তিনি
আমাদের জন্যে খাদ্য ও বত্রের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন” পর্যন্ত ৷

€০য়ো
১ ৮ ——

পৃষ্ঠা ১৩৮ ঠিক করুন


বায়হাকী (র) বলেন, এটি একটি বিশুদ্ধ সনদ ৷ বাহ্যত মনে হয় যে আবিসিনিয়ায়
হিজরতের অব্যাহিত পুর্বে হযরত আবু মুসা (রা) মক্কাভ্রুত ই অবস্থান করছিলেন এবং সেখান
থেকে তিনি জা ফর ইবন আবৃত তালিবের সাথে আবিসিনিয়ায় উদ্দেশ্যে বা তা ত্রকরেন ৷ তবে বিশুদ্ধ
সনদে ইয়াযীদ ইবন আবদুল্লাহ আবু মুসা (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন যে তারা ইয়ামানে
অবস্থান কালে সং বাদ পান যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) হিজরত করেছেন ৷ ফলে তারা পঞ্চাশাধিক
লোক একটি নৌকা ৷য় করে হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হন ৷

নৌকা তাদেরকে আবিসিনিয়ায় রাজা নাজাশীর দরবারে নিয়ে ( শীছায় সেখানে জা ফর

ইবন আবৃত তালিব ও তার সাথীদের সাথে তাদের সাক্ষাত হয় ৷ জ ফর ইবন আবুত তালিব

তাদেরকে সেখানেই অবস্থান করতে বলেন ৷ ফলে, তারা সেখানে থেকে যান ৷ অবশেষে
খায়বারের যুদ্ধের সময় তারা সকলে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট এসে ৷;পাছেন ৷

এরপর বায়হাকী বলেন, জা ফর ইবন আবৃত তালিব এবং নাজাশীর মধ্যে আলাপচারিতার
সময় আবু মুসা (রা) উপস্থিত ছিলেন এবং পরে তিনি তা বর্ণনা করেছেন৷ তবে যে বর্ণনায়
আবু মুসার এ বক্তব্য এসেছে, “রাসুলুল্লাহ্ (সা) আমাদেরকে নির্দেশ দিলেন জাফরের সাথে
আবিসিনিয়ায় যেতে ৷ ” সে বর্ণনায় সম্ভবত বর্ণনা ৷কা ৷রীর ভুল হয়েছে ৷ আল্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইমাম বুখারী (র) “আবিসিনিয়ায় হিজরত” অধ্যায়ে অনুরুপ উদ্ধৃত করেছেন ৷ তিনি
বলেছেন, মুহাম্মাদ ইবন আলা আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেছেন, রাসুলুল্লাহ্
(সা) হিজরণ্ডে তর উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন আমরা এ স বাদ অবগত হলাম ৷ আমরা তখন
ইয়ামানে ৷ এরপর হিজরতের উদ্দেশ্যে আমরা একটি নৌকায় আরোহণ করি ৷ নৌকা
আমাদেরকে আবিসিনিয়ায় নাজাশীর নিকট নিয়ে পৌছায় ৷ সেখানে জা ফর ইবন আবৃত তালিব
(রা)-এর সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয় ৷ আমরা তার সাথে সেখানেই অবস্থান করতে থাকি ৷
অবশেষে আমরা ফিরে অ সি এবং খায়বার বিজয়কালে রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে আমাদের
দেখা হয় ৷ আমাদের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, হে নৌকার আরোহিগণ তামর৷ দুটো
হিজরহ্বত র মুহাজির’ ৷

ইমাম মুসলিম (র) আবু কুরায়ব এবং আবু আমির আবদুল্লাহ ইবন বুরাদ সুত্রে আবু উসামা
থেকে নঅনুরুপ বর্ণনা করেছেন ৷৩ তারা দু’ জনে অন্যত্র এ বিষয়ে আরও দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছেন ৷

জাশীর সাথে হযরত জা’ ফর ইবন আবৃত তালিবের কথোপকথনের ঘটনাটি হাফিয ইবন
আসাকির তার ইতিহাস গ্রন্থে “জা ৷ফর ইবন আবৃত তালিবের প্রসঙ্গ” অধ্যায়ে জা ফর (রা) এর
নিজের জবানীতে উতদ্ধৃ করেছেন ৷ আবার তিনি আমর ইবন আগের বর্ণনাও উদ্ধৃত করেছেন ৷
তিনি এ প্রসঙ্গে ইতোপুর্বে উল্লিখিত ইবন মাসউদ (রা) এর বর্ণনাটিও উদ্ধৃত করেছেন ৷ হযরত
উম্মু সা ৷লাম৷ (রা) এর একটি বর্ণনা তিনি এসেছেন যা একটু পরেই আমরা উল্লেখ করব ৷ বন্তুত
জাফর ইবন আবুত তালিবের নিজের বর্ণনাটি বিশুদ্ধতর ৷ ইবন আসাকির সেটি উল্লেখ করেছেন
এভাবেং : আবুল কাসিম আবদুল্পাহ্ ইবন জা ফর তার পিত ৷ সুত্রে বর্ণনা করেছেন যে,
তিনি বলেছেন, আবু সুফিয়ড়ানের পক্ষ থেকে সংগৃহীত মুল্যবান উপহারসাযগ্রী নিয়ে কুরায়শের
লোকেরা আমর ইবন আস ও আম্মার৷ ইবন ওয়ালীদকে নাজাশীর নিকট প্রেরণ করে ৷ আমরা


পৃষ্ঠা ১৩৯ ঠিক করুন


তখন আবিসিনিয়ায় ৷ তারা নাজাশীকে বলল, আমাদের কতক নীচু স্তরের মুর্থ লোক দেশ ছেড়ে
আপনার বাজে এসে আশ্রয় নিয়েছে ৷ আপনি ওদেরকে আমাদের হাতে তুলে দিন ৷ রাজা
বললেন, না, ওদের বক্তব্য না শুনে আমি ওদেরকে তোমাদের হাতে তুলে দেব না ৷” রাজা
আমাদের নিকট লোক পাঠালেন ৷ আমরা তার দরবারে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, ওরা এসব
কী বলছে ? আমরা বললাম, ওরা তো এমন এক সম্প্রদায় যারা মুর্তি পুজা করে ৷ এদিকে
আল্লাহ্ তাআলা আমাদের মধ্যে একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন ৷ আমরা ওই রাসুলের প্রতি
ঈমান এসেছি এবং তাকে সত্য বলে গ্রহণ করেছি ৷ কুরায়শ প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে নাজাশী
বললেন, এদের মধ্যে কি তোমাদের কোন দাস-দাসী আছে ? ওরা বলল, না সেই ৷ রজাে
বললেন, এদের কারো কাছে কি ,তোমাদের কোন পাওনা আছে ? ওরা বলল, না, সেই ৷ এবার
রজো বললেন, “তবে ওদের ব্যাপারে নাক গলিয়াে না ৷ ওদেরকে ওদের মত থাকতে দাও ৷ ”

হযরত জাফর (বা) বলেন, আমরা দরবার থেকে বেরিয়ে এলড়াম ৷ এরপর অড়ামর ইবন
আস রাজাকে বলল, এরা ঈসা (আ) সম্পর্কে আপনি যা বলেন তার বিপরীত বলে ৷ রাজা
বললেন, ঈসা (আ) সম্পর্কে আমি যা যদি তারা যদি সেরুপ না বলে, তবে আমি তাদেরকে এক
মুহুর্তও আমার রা জেব্র থাকতে দেব না ৷ রাজা আমাদেরকে পুনরায় ডেকে পাঠালেন ৷
আমাদেরকে দ্বিতীয়বার ডাকা আমাদের নিকট প্রথমবারের চেয়ে গুরুতর মনে হল ৷ তোমাদের
নবী হযরত ঈসা (আ) সম্পর্কে কী বলেন ? রাজা জিজ্ঞেস করলেন ৷ আমরা বললাম, তিনি
বলেন যে, ঈসা (আ) আল্লাহর রুহ এবং ভুড়ার কালেমা, যা তিনি সতী-সাধ্বী কুমারীর মধ্যে
নিক্ষেপ করেছেন ৷ রাজা লোক পাঠিয়ে বললেন, অমুক পাদ্রী এবং অমুক যাজককে ডেকে নিয়ে
আন ৷ কতক যাজক ও পাদ্রী উপস্থিত হল ৷ রাজা বললেন, আপনারা ঈসা (আ) সম্পর্কে কী
বলেন ? তারা বলল, আপনি তো আমাদের মধ্যে সবচাইতে জ্ঞানী ব্যক্তি, আপনি কী বলে ?
নাজাশী ইতোমধ্যে মাটি থেকে কিছু একটা হাতে তুলে নিলেন এবং বললেন : “এরা ঈসা (আ)
সম্পর্কে যা বলছে মুলত ঈসা (আ) তার চাইতে এতটুকুও বেশী নন ৷ এরপর রাজা আমাদের
উদ্দেশ্যে বললেন, তোমাদের কাউকে কি কেউ কোন কষ্ট দেয় ? আমরা বললাম, জী হী৷ তখন
রাজাদেশে জনৈক ঘোষক ঘোষণা দিয়ে বলল: এদের কাউকে যদি কেউ কষ্ট দেয়, তবে চার
দিরহাম জরিমানা দিতে হবে ৷ তারপর আমাদেরকে বললেন, এতে তোমাদের চলবে তো ?
আমরা বললড়াম , জী না ৷ তখন তিনি জরিমানা দ্বিগুণ নির্ধারণ করে দিলেন ৷ হযরত জা’ফর (রা )
বলেন, পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ্ (সা) যখন হিজরত করে মদীনা এলেন এবং সেখানকার কর্তৃতৃ
লাভ করলেন, তখন আমরা রাজাকে বললাম, রাসুলুল্লাহ্ (সা) মদীনায় হিজরত করে সেখানকার
কর্তৃতৃ লাভ করেছেন, আর চুয কাফির নেতাদের কথা আমরা আপনাকে বলেছিলাম ওরা নিহত
হয়েছে ৷ এখন আমরা রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর সাথে মিলিত হতে চাই ৷ আপনি আমাদের যাওয়ার
অনুমতি দিন ৷ নাজাশী বললেন : ঠিক আছে, তাই হবে ৷ তিনি আমাদের যানবাহনের ব্যবস্থা
করে দিলেন এবং আমাদেরকে প্রয়োজনীয় সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে দিলেন ৷ তারপর বললেন,
“আমি আপনাদের প্ৰতি যে সদ্ব্যবহার করেছি তাকে বলবেন ৷ আর এ লোক আমার প্রতিনিধি
হিসাবে আপনাদের সাথে যাবে ৷ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং
তিনি নিশ্চয়ই আল্লাহ্র রাসুল ৷ আপনারা তাকে বলবেন, তিনি যেন আমার জন্যে আল্লাহর


পৃষ্ঠা ১৪০ ঠিক করুন


দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ৷ জাফর (বা) বলেন, আমরা সেখান থেকে যাত্রা করে মদীনায়
এসে পৌছলাম ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর সাথে আমাদের সাক্ষ্যত হল ৷ তিনি আমাকে বুকে জড়িয়ে
ধরলেন ৷ তারপর বললেন, এখন আমি খায়বর বিজয়ের আনন্দে বেশী আনন্দিত, নাকি
জাফরের আপমনে বেশী আনন্দিত, তা বুঝতে পারছি না ৷ এটা ছিল খায়বর রিজয়কালেব
ঘটনা ৷ এরপর রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন ৷ নাজাশীর প্রতিনিধি বললেন, এ যে জাফর, র্তাকে
জিজ্ঞেস করুন, আমাদের রাজা তীর সাথে কেমন আচরণ করেছেন ?

জাফর বললেন, হ্যা অবশ্যই রাজা আমাদের সাথে এরুপ এরুপ সদাচারণ করছেন ৷
আমাদের যানবাহন ও পাথেয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ৷ তিনি সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, আল্লাহ
ব্যতীত কোন মা’বুদ নেই এবং আপনি আল্লাহ্র রাসুল ৷ তিনি আমাকে বলেছেন, আমি যেন
আপনাকে বলি র্তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে ৷ এসব শুনে রাসুলুল্লাহ্ (সা) উঠে দীড়ালেন এবং
উযু করে নিলেন ৷ তারপর ,,;ৰুগুা৷ )@ছু ৷ স্পোা৷৷ “হে আল্লাহ নাজাশীকে ক্ষমা করুন
বলে উপর্বুপরি তিনবার দুআ করলেন ৷ প্রতিবার উপস্থিত মুসলমানগণ আমীন বলেন ৷ এরপর
হযরত জাফর (বা) প্রতিনিধিকে বললেন, আপনি এবার আপনার দোশ যেতে পারেন এবং
সেখানে গিয়ে আপনার রাজাকে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর দরবারে যা লক্ষ্য করলেন সে সম্পর্কে
অবহিত করবেন ৷

ইবন আসাকির এটি হাসানগ্ড়ারীব পর্যায়ের বর্ণনা বলে উল্লেখ করেছেন ৷ হযরত উম্মে
সালামা (রা) এর বর্ণনা এই, ইউনুস ইবন বুকায়র উম্মে সালামা (বা) থেকে বর্ণনা করেন
যে, তিনি বলেছেন, মক্কায় সাহাবীগণের জীবন যাত্রা যখন দুর্বিষহ হয়ে উঠে এবং তারা
চরমভাবে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হতে থাকেন দীন-ধর্ম পালনের প্রেক্ষিতে নানা প্রকার
জুলুম-পীড়নের সম্মুখীন হচ্ছিলেন, নিজ সম্প্রদায় এবং তার চাচা আবু তালিবের প্রভাবে
রাসুলুল্লাহ্ (সা) মোটামুটি নিজে কিছুটা রক্ষা পেলেও তার সাহাবীগণকে রক্ষায় তিনি অপারগ
হয়ে পড়েছিলেন ৷ এমন পরিস্থিতিতে তিনি তার সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে বললেন,
আবিসিনিয়ায় একজন রাজা আছেন, তার রাজ্যে কারো প্রতি জুলুম করা হয় না ৷ তোমরা সবাই
তীর বাজে চলে যাও ৷ এখানে তোমরা যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেড়া, সেখানে গেলে
আশা করি আল্লাহ তড়াআলা তা থেকে নিকৃতি দেবেন ৷ তখন আমরা ওই রাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা
করি ৷ সেখানে আমরা সবাই একত্রিত হই ৷ আমাদের দীনের ব্যাপারে নিরাপদ হয়ে আমরা
একটি ভাল দেখে ভাল পরিবেশে গিয়ে পৌছি ৷ সেখানে আমাদের উপর কোন
জুলুম-অতাড়াচারের আশংকা ছিল না ৷ কুরায়শের লোকেরা যখন লক্ষ্য করল যে, আমরা একটি
নিরাপদ বাসস্থান পেয়েছি, তখন তারা আমাদের প্রতি আরো মারযুখো হয়ে উঠে ৷ তারা একমত
হয় যে, আমাদেরকে ওই রাজ্য থেকে বের করে তাদের হাতে সোপর্দ করে দেয়ার জন্যে তারা
নাজাশীর নিকট একটি প্রতিনিধিদল পাঠাবে ৷ তারা আমর ইবন আস এবং আবদুল্লাহ ইবন
আবু রাবীআকে নাজাশীর নিকট পাঠায় ৷ তারা নাজাশী এবং তার প্রত্যেক সেনাপতির জন্যে
পৃথক পৃথক উপহারসামগ্রী প্রন্তুত করে ৷ প্রতিনিধি দু’জনকে তারা নির্দেশ দেয় যে , রাজার সাথে
পলায়নকারীদেরকে প্রত্যর্পণের আলোচনা শুরু করার পুর্বেই প্রত্যেক সেনাপতিকে নির্ধারিত



Execution time: 0.15 render + 0.01 s transfer.