Login | Register

আল বিদায়া ওয়ান্নিহায়া - খন্ড ৩

পৃষ্ঠা ৯৫ ঠিক করুন


গুশুগুন্টুএ ট্র্দঔা ৰুষ্ টু১ৰুষ্এ ংণ্ঠ এেএ — ফ্তেৰু; ৷ছু১র্দ্রএ ৰুন্ন্ছুটুউ ;ব্লু; ;:’
কুরায়শ গোত্র তাদের খ্যাত অথ্যাত এবং উচু নীচু সবাইকে আমাদের বিরুদ্ধে
প্রতিযােগিত ৷র জন্যে আহ্বান করেছে ৷ কিন্তু তারা সফল হতে প ৷রেনি বরং৩ তাদের বুদ্ধিবিভ্রম
ঘটেছে ৷
াৰুঠুছুৰু’; ঢ়’ব্র,
সুপ্রাচীনকাল থেকেই আমরা কোন প্রকার জুলুম-নির্যাতনকে সমর্থন করি না ৷ কেউ
অহংকারবশত ঘাড় বীকা করলে আমরা তা সোজা করে দিই ৷
ঠুৰুহ্ন১১
সকল দুঃখ-দুর্দিনে আমরা কুরায়শ গোত্রের মর্যাদ৷ রক্ষা করি এবং যে কেউ এই বংশের
ঘর-দোর ও দুর্গ-কুঠুরীতে আক্রমণের দুরভিসন্ধি করে আমরা তাকে প্রতিহত করি ৷

শ্

আমাদের মাধ্যমেই বীক৷ লাঠি সোজা হয়েছে এবং আমাদের দ্বারাই এ বংশের শিকড় ও
মুল পত্র পল্লবিত ও বিকশিত হয়েছে ৷
পরিহেদ

রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে জব্দ করার উদ্দেশে ঘুশরিকরা যে সব নিদর্শন ও
অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের দাবী জানিয়েছিল

তাদের এ দাবী ছিল সত ব্রুদ্রোহিতামুলক ৷ হিদায়াত কামনা ও সৎপথপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে নয় ৷
এ জন্যেই তাদের অধিকা ৎশ আবদা ৷রই পুরণ করা হয়নি ৷ কা ৷রণ, মহান আল্লাহর নিশ্চিত জানা
ছিল যে, তাদের পেশকৃত দাবী ও ঘটনাগুলাে স্বচক্ষে দেখা সত্বেও তা ৷রা তাদের সত্যদ্রোহিতায়
অন্ধ হয়ে থাকবে এবং তাদের গোমরাহীর অন্ধকারে আবর্তিত হতে থাকবে ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ
তাআলা বলেন :

শ্ষ্ ) ষ্ ; ষ্৷ ;; ষ্!শ্ষ্!শ্ষ্াপ্শ্ শ্ : : শ্ম্শ্শ্ষ্ $« :াশ্ :৮


তারা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলে, তাদের নিকট যদি কোন নিদর্শন আসতো,
তবে অবশ ৷৩ৰুই ৷ ৷রা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত ৷বলুন, নিদর্শন তো অ ৷ল্লাহ্র ইখতিয়ারভুক্ত ৷
তাদের নিকট নিদর্শন আসলেও তারা যে বিশ্বাস করবে না তা কিভা ৷বে তোমাদের বোধগম্য
করা যাবে ? তারা যেমন প্রথমবার তাতে বিশ্বাস করেনি তে মন আমিও তাদের অম্ভরে ও নয়নে
বিভ্রান্তি সৃষ্টি করব এবং তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় উদভ্রান্তের মত ঘুরে বেড়াতে দেব ৷ আমি
তাদের নিকট ফেরেশতা প্রেরণ করলেও এবং মৃতেরা তাদের সাথে কথা বললেও এবং সকল
বস্তুকে তা ৷দের সম্মুখে হাবিব করলেও যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন নতার৷ বিশ্বাস করবে না ৷ কিন্তু
তাদের অধিকাং শই অজ্ঞ (৬৪ ১০৯ ১১১) ৷


পৃষ্ঠা ৯৬ ঠিক করুন


মহান আল্লাহ আরো বলেন :

পুরুা

যাদের বিরুদ্ধে আপনার প্রতিপালকের বাণী সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না,
এমনকি ওদের নিকট প্রত্যেকটিনিদ র্শনুঅ্যাংলেও যতক্ষণ না তারা মর্মত্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে
(১০ : ৯৬৯ ৭) ৷
আল্লাহ তাআলা অন্যত্র বলেন :
ব্লুওাট্রু৷ ৷ ৷হুট্রু
পুর্ববর্তিগণ কতৃকি নিদর্শন অস্বীকার করাই আমাকে নিদর্শন প্রেরণ করা থেকে বিরত রাখে ৷

আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শন স্বরুপ ছামুদ জাতিকে জ্জী দিয়েছিলাম ৷ এরপর তারা সেটির প্রতি জুলুম
করেছিল ৷ আমি ভীতি প্রদর্শনের জন্যেই নিদর্শন প্রেরণ করি (১৭ : ৫৯) ৷

মহান আল্পাহ্ আরো বলেন :



;,৷ ৷টুট্রুা£ন্ত্রট্রু
এবং তারা বলে, কখনো আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের
জন্যে ভুমি হতে প্রস্রবণ উৎসারিত করবে ৷ অথবা তোমার থেজুরের ও আৎগুরের এক বাগান
হবে যার ফাকে ফাকে তুমি অজস্র ধারায় প্রবাহিত করে দিবে নদী-নলাে ৷ অথবা তুমি যেমন
বলে থাক তদনুযায়ী আকাশকে থণ্ডবিখণ্ড করে আমাদের উপর ফেলবে অথবা আল্লাহ তাআলা
ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করবে ৷ অথবা একটি স্বর্ণ নির্মিত গ্রহ হবে, অথবা
তুমি আকাশে আরোহণ করবে; কিন্তু তোমার আকাশে আরোহণে আমরা কখনো ঈমান আনব
না যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ করবে যা আমরা পাঠ করব ৷ বলুন, ন্
পবিত্র মহান আমার প্রতিপালকচ্ আমি তো হলাম কেবল একজন মানুষ একজন রাসুল ( ১ ৭ :
৯০-৯৩) ৷
এ সকল আয়াত এবং এগুলোর সাথে সামঞ্জস্যশীল অন্যান্য আয়াত সম্পর্কে তড়াফসীর
গ্রন্থের সংশ্লিষ্ট স্থানসমুহে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি ৷ সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ্র ৷

ইউনুস এবং যিয়াদ হযরত ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন,
একদা সুর্যান্তের পর কুরায়শ বংশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা কাবাগৃহের নিকট সমবেত হয় ৷ ইবন
আব্বাস (বা) উপস্থিত লোকদের নাম উল্লেখ করেছেন ৷ তাদের একে অন্যকে বলল যে,
তোমরা মুহাম্মাদ (না)-এর নিকট প্রতিনিধি প্রেরণ কর এবং তার নিকট ষুক্তিতর্ক পেশ কর
যাতে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে তার কোন ওযর-আপত্তি না থাকে ৷ এরপর তারা তার নিকট এই
বলে লোক পাঠায় যে, তোমার সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় সল্লাম্ভ ব্যক্তিবর্গ সমবেত হয়েছেন, তারা


পৃষ্ঠা ৯৭ ঠিক করুন


তোমার সাথে কথা বলবেন ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না) সব সময় এটাই কামনা করতেন তারা যেন
সৎপথে আসে ৷ তাদের সত্যদ্রোহিতায় তিনি দুঃখ পেতেন ৷ তাদের উপস্থিতির কথা শুনে তিনি
ধারণা করেন যে, ঈমান আনায়নের ব্যাপারে তাদের মনে কোন নতুন অনুভুতি সৃষ্টি হয়েছে ৷
তইি সংবাদ শুনে দ্রুত তিনি তাদের নিকট উপস্থিত হন এবং তাদের নিকট গিয়ে বলেন ৷

তারা বলল, হে মুহাম্মাদ ! আমরা তোমার নিকট সংবাদ পাঠিয়েছি এজন্যে যে এ বিষয়ে
আমরা তোমার ওযর-আপত্তির পথ বন্ধ করে দিতে চাই ৷ তুমি তোমার সম্প্রদায়ের মধ্যে যে
বিশৃৎখলা সৃষ্টি করেছ কোন মানুষ তার নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে তেমন কিছু করেছে বলে
আমাদের জানা নেই ৷ তুমি আমাদের পুর্বপুরুষদের দৃর্নড়াম করেছ, আমাদের ধর্মের দোষত্রুটি
বর্ণনা ও সমালোচনা করেছ ৷ আমাদের জ্ঞানী-গুণী লোকদেরকে তুমি মুর্থ বলেছ ৷ আমাদের
উপাস্যগুলােকে তুমি পালমন্দ করেছ ৷ আমাদের ঐক্যবদ্ধ সম্প্রদড়ায়কে তুমি বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত
করে দিয়েছ ৷ এমন কোন মন্দ কাজ ও মন্দ আচরণ নেই; যা তুমি আমাদের সাথে করনি ৷
তোমার এরুপ প্রচারের দ্বারা ধন-সম্পদ সংগ্রহ করাই যদি উদ্দিষ্ট হয়, তবে আমাদের সকলের
ধন-সম্পদ থেকে কিছু কিছু আমরা তোমাকে দিয়ে দিব যার ফলে ভুমি আমাদের সকলের
চইিতে অধিক সম্পদশালী হয়ে যাবে ৷ সম্মান ও মর্যাদাই যদি তোমার কাম্য হয়, তবে আমরা
তোমাকে আমাদের সকলের নেতা রুপে বরণ করে নিব ৷ তুমি যদি রাজা হতে চাও আমরা
তোমাকে আমাদের রাজারুপে গ্রহণ করব ৷ আর তোমার নিকট এসকল বিষয় সংবাদ নিয়ে যে
আসে, যে যদি জিন হয়ে থাকে যাকে তুমি দেখতে পাও এবং যে তোমাকে কাবু করেছে, তবে
তার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করার জন্যে চিকিৎসা খাতে যত অর্থ-কড়ি লাগে আমরা তা
ব্যয় করে তোমাকে সুস্থ করে তৃলব ৷ এর কােনটিই যদি তুমি গ্রহণ না কর, তবে তোমার কোন
ওমর-আপত্তি আমরা মেনে নেব না ৷

উত্তরে রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, আপনারা যা বলছেন তার কােনটিই আমার ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য নয় ৷ আমি যে বিষয়টি নিয়ে এসেছি তা দ্বারা আপনাদের ধন-সম্পদ হস্তগত করা
আমার উদ্দেশ্য নয় ৷ আপনাদের মাঝে সম্মানজনক স্থান লাভ করাও আমার উদ্দেশ্য নয় ৷
রাজতৃও আমি চাই না ৷ বরং মহান আল্লাহ্ আমাকে আপনাদের নিকট প্রেরণ করেছেন
রাসুলরুপে ৷ তিনি আমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আমি
যেন আপনাদেরকে পুরস্কারের সুসংবাদ এবং শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করি ৷ আমি আমার
প্রতিপালকের দেয়া রিসালাতের বাণী আপনাদের নিকট পৌছিয়ে দিলাম এবং আপনাদের
কল্যাণ কামনা করছি ৷ আমি যা এসেছি আপনারা যদি তা গ্রহণ করেন, তবে ইহ্কালীন ও
পরকালীন কল্যাণ আপনারা লাভ করতে পারবেন, আর যদি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আমি
ধৈর্য ধারণ করব যতক্ষণ না আল্লাহ্র পক্ষ থেকে আপনাদের ও আমার ব্যাপারে কোন ফায়সালা
আসছে ৷

এরপর কুরায়শের লোকেরা বলল, আমরা তোমাকে যে সকল প্রস্তাব দিয়েছি, তার
কােনটিই যদি তুমি গ্রহণ না কর, তবে অন্য একটি কাজ কর ৷ তুমি তো জান যে, আমাদের
দেশ খুব ছোট, আমাদের ধন-সম্পদ খুবই কম এবং আমরা খুব দুঃখ-কষ্টে জীবন যাপন করি ৷

১৩ ণোণোণো(ট্রুঘ্নেরাঃ৪গাে০ওেয়াে

পৃষ্ঠা ৯৮ ঠিক করুন


তোমার প্রতিপালক যিনি তোমাকে রিসালাত সহকারে পড়াঠিয়েছেনঃ তুমি তার নিকট এ আর্জি
পেশ কর, তিনি যেন আমাদের এলাকাকে সংকুচিত করে রাখা এই পাহাড়টি দুরে সরিয়ে দেন
এবং আমাদের দেশের আয়তন বাড়িয়ে দেন ৷ আরো নিবেদন পেশ কর, তিনি যেন আমাদের
দেশে সিরিয়া ও ইরাকের ন্যায় নদ-নদী প্রবাহিত করে দেন ৷ আমাদের মৃত পুর্বপুরুষদেরকে
পুনর্জীবিত করে দেন ৷ পুনরুজ্জীবিত মানুষদের মধ্যে যেন কুসাঈ ইবন কিলাবও থাকেন ৷
কারণ, তিনি একজন সত্যবাদী ও শ্রদ্ধাভাজন প্রবীণ লোক ছিলেন ৷ তিনি পুনরুজ্জীবিত হয়ে
এলে তুমি যা বলছ, তা সত্যি কি মিথ্যা আমরা তাকে জিজ্ঞেস করব ৷ আমরা তোমাকে যা
বললাম, তুমি যদি তা করে দেখাতে পার এবং আমাদের পুর্বপুরুষেরা যদি তোমাকে সতাবাদী
বলে প্রত্যায়ন করেন, তবে আমরা তোমাকে সত্যবাদী বলে মেনে নেব ৷ আমরা তখন আল্লাহ্র
নিকট তোমার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে বলে বুঝতে পারব এবং এও বুঝতে পারব যে, তুমি যেমন
বলছ ঠিকই আল্লাহ্ তাআলা তোমাকে রাসুলরুপে প্রেরণ করেছেন ৷

রাসুর্চুলুল্লাহ্ (সা) তাদেরকে বললেন, ওই সব কাজ করার জন্যে তো আমাকে প্রেরণ করা
হয়নি ৷ আমি তো আপনাদের নিকট এসেছি সে সব বিষয় নিয়ে, যেগুলো সহকারে আল্পাহ্
তড়াআলা আমাকে পাঠিয়াছেন ৷ যে সব বিষয়সহ আমি আপনাদের প্রতি প্রেরিত হয়েছি, সে
গুলো আমি আপনাদের নিকট পৌছিয়ে দিয়েছি ৷ আপনারা যদি সেগুলো গ্রহণ করেন, তবে
ইহকালে ও পরকালে আপনাদের কল্যাণ হবে ৷ আর যদি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আমি
ধৈর্য-ধারণ করব এবং আল্লাহ্ তাআলার নির্দেশের অপেক্ষায় থাকব যতক্ষণ না আল্লাহ্ তাআলা
আমারও আপনাদের মাঝে ফায়সালা করে দেন ৷

তারা বলল, আমরা যা চেয়েছি তুমি যদি তা করতে না পার , তবে তুমি এ কাজটি কর যে, ,
তুমি তোমার প্রতিপালককে বল, তিনি যেন আমাদের নিকট একজন ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন ,
যে তোমার কথাগুলো সত্য বলে প্রত্যায়ন করবে এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের
তর্যভিযােগগুলো খণ্ডন করবে ৷ আর তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট নিবেদন পেশ করবে তিনি
যেন আমাদের জন্যে রাগ-বাগিচা, সম্পদরাশি এবং স্বর্ণ, রৌপোর প্রাসাদরাজির ব্যবস্থা করে
দেন ৷ তোমার জীবিকা অষেষণের ঝামেলা থেকে যেন তিনি তোমাকে মুক্ত করে দেন ৷ আমরা
তো তোমাকে দেখছি যে, জীৰিকার তাকীদে তুমি হাটে-বাজারে যাচ্ছ এবং জীবিকা অম্বেষণ
করছ যেমনটি আমরা করছি ৷ যদি এটুকু করতে পায়, তার তোমার প্রতিপালকের নিকট
তোমার মর্যাদা ও গুরুত্ব কতটুকু তা আমরা বুঝতে পারব ৷ তুমি যেমন নিজেকে রাসুল বলে
মনে করছো তা যদি সঠিক হয়েই থাকে, তবে একাজগুলো তুমি কর ৷

রাসুলুল্পাহ্ (সা) তাদেরকে বললেন, আমি ওসব কিছুই করব না, আমি আমার
প্রতিপালকের নিকট এ জাতীয় কোন আবেদন করব না ৷ এ সকল কাজ করার জন্যে আমাকে
আপনাদের প্রতি প্রেরণ করা হয়নি ৷ বরং আল্লাহ্ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন
সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রুপে ৷ আমি যা এসেছি আপনারা যদি তা গ্রহণ করেন, তবে তাতে
আপনাদের ইহকাল-পরকালের কল্যাণ হবে ৷ আর যদি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আমি ধৈর্য


পৃষ্ঠা ৯৯ ঠিক করুন


ধারণ করব আল্লাহর নির্দেশের জন্যে যতক্ষণ না আল্পাহ্ তাআলা আমাদের ও আপনাদের মাঝে
ফায়সালা করে দেন ৷

এরপর তারা বলল, তুমি তো বলে থাক যে, তোমার প্রতিপালক যা চান তা করেন, তাহলে
তাকে বলে আকাশটাকে ভুপাতিত করে দাও ৷ এরুপ না করলে আমরা কখনো তোমার প্রতি
ঈমান আনব না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন, এটি আল্লাহর ইখতিয়ারাধীনই তিনি চাইলে
তোমাদের জন্যে তা ঘটাবেন ৷

এরপর তারা বলল, হে মুহাম্মদ! আমরা যে তোমার সাথে বৈঠকে বসব, তোমার নিকট
এসব প্রশ্ন করব এবং তোমার নিকট যা দাবী করলাম এগুলো দাবী করব এসব বিষয় কি পুর্ব
থেকেই তোমার প্রতিপালকের জানা ছিল না ’! যদি জানা থাকে, তবে তিনি তো আগে-ভাগে
তোমাকে তা জানিয়ে দিতে পারতেন এবং এমন উত্তর শিখিা:য় দিতে পারতেন যা দ্বারা তুমি
আমাদের যুক্তি খণ্ডন করতে পারতে ৷ তোমার আনীত বিষয়াদি যদি আমরা গ্রহণ না করি, তবে
তিনি আমাদের ব্যাপারে কী করবেন তা তো তোমাকে জানিয়ে দিতে পারতেন ৷ আমরা সংবাদ
পেয়েছি যে, ইয়ামামা অঞ্চলের অধিবাসী রাহমান নামের এক ব্যক্তি তোমাকে এসব শিখিয়ে
দেয় ৷ আল্পাহ্র কসম, আমরা কখনই ওই রাহমানের’ প্ৰতি ঈমান আনব না ৷ হে মুহাম্মদ! এ
সকল বক্তব্য দ্বারা আমরা তোমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের শেষ সুযোগ দিয়েছি ৷ আল্লাহর কসম,
তুমি আমাদের ব্যাপারে যা করে যাচ্ছ বিনা বাধড়ায় তা করে যাওয়ার জন্যে আমরা তোমাকে
সুযোগ দিব না ৷ বরং তা প্রতিরোধ করতে গিয়ে হয়ত আমরা তোমাকে ধ্বংস করে দিব নতুবা
তুমি আমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে ৷

মুশরিকদের কেউ কেউ বলেছিল, আমরা তো ফেরেশতড়াদের উপাসনা করি ৷ তারা আল্লাহ্র
কন্যা ৷ ওদের কেউ কেউ বলেছিল, আমরা কখনই তোমার প্রতি ঈমান আনব না যতক্ষণ না
তুমি আল্লাহ্কে এবং ফোরশতাদেরকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত কর ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)-কে
এসব কথা বলার পর তিনি ওখান থেকে চলে যান ৷ তার সাথে উঠে এল আবদুল্লাহ ইবন আবী
উমাইয়া ইবন মুপীরা ইবন আবদুল্লাহ ইবন উমর ইবন মাখযুম ৷ সে ছিল রাসুলুল্পাহ্ (না)-এর
ফুফু আবদুল মুত্তালিবের কন্যা আতিকার পুত্র ৷ সে বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার সম্প্রদায় তোমার
নিকট এ প্রস্তাবগুলাে পেশ করেছে অথচ তুমি এর কােনটিই গ্রহণ করলে না ৷ এরপর তারা
নিজেদের কল্যাণের জন্যে বেশ কিছু দাবী উত্থাপন করল, যার দ্বারা তারা আল্লাহ্র নিকট
তোমার প্রকৃত মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হতে পারত তাও তুমি করলে না ৷ এরপর তারা
তাৎক্ষণিক ও শীঘ্র শাস্তি আনয়নের দাবী জানান, যে শাস্তির ব্যাপারে তুমি তাদেরকে সতর্ক
করছিলে ৷ আল্লাহ্র কসম, আমি তোমার প্রতি কখনই ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি
আকাশের সাথে একটি সিড়ি স্থাপন কর এবং আমাদের সম্মুখে ওই সিড়ি যেয়ে আকাশে
আরোহণ কর ৷ এরপর সাথে করে একটি উন্মুক্ত কিতাব নিয়ে আসে-আর তোমার সাথে থাকবে
৪জন ফেবেশতা যারা সাক্ষ্য দািব যে, তুমি বা কালো তা যথার্থ ৷ আল্লাহ্র কসম তুমি যদি
এটুকু করতে পার, তবে আমার ধারণা যে, তোমাকে সত্যবাদী বলে মেনে নিতে পারবে! ৷
এরপর সে রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট থেকে চলে যায় ৷ দুঃখ ভারাক্রাত্ত হৃদয়ে রাসুলুল্লাহ্ (সা)


পৃষ্ঠা ১০০ ঠিক করুন


তার পরিবার পরিজনের নিকট ফিরে আসেন ৷৩ তারা যখন তাকে ভোকছিল, তখন যে বিরাট
আশা নিয়ে তিনি ওদের নিকট গিয়েছিলেন, সে আশা ভঙ্গ হওয়ায় তিনি খুবই মর্মাহত হন ৷
যখন দেখা গেল যে, তারা রাসুলুল্লাহ্ (না) থেকে দুরে সরে থাকতে চায় এবং তাদের সম্মিলিত
ওই সমাবেশ ছিল অৰিচার, সীমালৎঘন ও সতব্রদ্রোহিত ড়ার মজলিস ৷ তখন মহান আল্লাহর
হিকমত ও তার রহমতের দাবী ছিল যে, ওদের আহ্বানে সাড়া দেয়া যাবে না ৷ কেননা, মহান
আল্লাহর সম্যক জ ৷ন৷ ছিল যে, তাতে ও ওরা ঈমান আনয়ন করবে না ৷ ফলশ্রুতিতে বরং তাদের
শাস্তি-ই ত্বরান্বিত হবে ৷

এ প্রস গে ইমাম আহমদ (র) বলেন, উছমান ইবন মুহাম্মদ ইবন আব্বাস (বা) থেকে
বর্ণিত ৷ তিনি বলেন মক্কার অধিবাসিগণ রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট অনুরোধ করেছিল তিনি
যেন তাদের জন্যে সাফ৷ পাহাড়কে স্বর্ণে রুপান্তরিত করে দেন এবং অন্যান্য পাহাড়গুলোকে
তাদের নিকট থেকে দুরে সরিয়ে দেন যাতে তারা স্বাচ্ছন্দো (ক্ষত-ফসল উৎপাদন করতে পারে ৷
আল্লাহ তা আলার পক্ষ থেকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বলা হল যে, আপনি ইচ্ছা ৷করলে৩ তাদের ওই
অনুরোধের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে পারেন আর ইচ্ছ করলে তাদের আবদা রগুলো পুরণও করে
দেখাতে পারেন ৷ তবে তখনও যদিত ৷র৷ কুফরী করে, তাহলে তারা নিশ্চয় তাৎক্ষণিকভা ৷বে

ধ্বংস হয়ে যাবে, যেমন হয়েছে তাদের পুর্ববর্তী উম্মত ৩৷ তখন রাসুলুল্লাহ (সা) বললেন, আমি
বরং তাদের ব্যাপারে অপেক্ষা করব ৷ এ প্ৰসৎগে আল্লাহ তাআলা বলেন :

া ড্রুব্লু


পুর্ববর্তিগণ কর্তৃক নিদর্শন অম্বীক৷ ৷র করাই আমাকে নিদর্শন প্রেরণ করা হতে ৩বিরত রাখে ৷

আমি শিক্ষাপ্রদ নিদর্শনস্বরুপ ছামুদ জাতিকে উষ্টী দিয়েছিলাম, এরপর তারা তার প্রতি জুলুম
করেছিল (১ ৭ ৫৯) ৷

ইমাম নাসা ৷ঈ (র)-ও অনুরুপ হাদীছ হযরত জারীর (র ) থেকে বর্ণনা করেছেন ৷

ইমাম আহমদ (র) বলেন, আবদুর রহমান হযরত ইবন আব্বাস (বা) থেকে বর্ণিত ৷
তিনি বলেন, কুরায়শ বংশের লোকজন রাসুলুল্লাহ্ (সা) কে বলেছিল আপনি আমাদের জন্যে
আপনার প্ৰতিপালকের দরবারে দুআ করুন যাতে তিনি সাফা পাহাড়কে আমাদের জন্যে স্বর্ণে
পরিণত করে দেন তাহলে আমরা আপনার প্রতি ঈমান আনব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) বললেন,
তোমরা কি সত্যিই ঈমান আনবে ? তারা বলল, ছুব্রু৷ আমরা ঈমান আনব ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা)
দুআ করলেন ৷ হযরত জিবরাঈল (আ) এলেন ৷ তিনি বললেন , হে মুহাম্মদ ৷ আপনার
প্রতিপালক আপনাকে সালাম বলেছেন এবং এ কথা বলেছেন যে, যদি আপনি চান তবে সাফা
পাহাড় স্বর্ণে পরিণত হবেই ৷ কিন্তু এরপর যদি ওদের কেউ কুফরী করে, তবে আমি এমন শান্তি
দিব যা বিশ্বের কাউকেই দেব না ৷ আর আপনি যদি চান তবে আমি তাদের জন্যে রহমত ও
তাওবার দরজা খুলে দেব ৷ রাসুপুহু:া৷হু (সা) বললেন, তাহলে রহমত ও তাওবার দরজাই বরং
খুলে দিন ৷ দুটো হাদীছের সনদই উৎকৃষ্ট বটে ৷ বেশ কিছু সংখ্যক তাবিঈ থেকে এ হাদীছখানা




পৃষ্ঠা ১০১ ঠিক করুন


মুরসাল পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে ৷৩ তারা হলেন সাঈদ ইবন জুবায়র, কা৩াদা, ইবন জুরায়জ
প্রমুখ ৷

ইমাম আহমদ ও তিরমিযী (র) আবদুল্লাহ্ ইবন মুবারক আবু উমামা১ (রা) সুত্রে বর্ণনা
করেন যে, রাসুলুল্লাহ্ (সা) বলেছেন, আমার প্রতিপালক মক্কাভুমির সবটাই আমার জন্যে স্বর্ণে
পরিণত করে দিলে আমি তাতে খুশী হবো কিনা জানতে চেয়েছেন ৷ আমি বলেছি যে, তা করার
দরকার নেই ৷ আমি বরং একদিন তৃপ্তির সাথে আহার করব এবং একদিন উপােস করব ৷
তাতেই আমি সভুষ্ট ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) হুবহু একথাটিই বলেছিলেন কিৎবা এ মর্মের উক্তি
করেছিলেন ৷ তিনি আরো বলেছিলেন, আমি যখন উপােস থাকর, তখন বিনয় সহকারে,
কান্নাকাটি করে আপনার দরবারে দুআ করব এবং আপনাকে স্মরণ করব ৷ আর যখন তৃপ্ত হয়ে
যাব, তখন আপনার প্রশংসা করব ও গােকর আদায় করব ৷ এটি ইমাম আহমদ (র)-এর বর্ণনা
তিরমিযী (র) এটিকে হাসান বলে অভিহিত করেছেন ৷

মুহাম্মদ ইবন ইসহাক ইবন আব্বাস (রা) সুত্রে বর্ণনা করেন ৷ তিনি বলেন কুরায়শ
ৎশের লোকেরা নাযর ইবন হারিছ এবং উকবা ইবন আবী মুআয়৩ তকে মদীনায় ইয়াহুদীদের
নিকট প্রেরণ করেছিল ৷ত তারা ওদেরকে বলেছিল তোমরা দু’ জন গিয়ে ইয়ড়াহ্রদী৷ যা জকদের নিকট
মুহাম্মদ (সা) এর পরিচয় দেবে এবং তার বক্তব্য সম্পর্কে জ্ঞাত করবে এবং তার সতাসত্য
সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস করবে ৷ কারণ, তারা প্রথম আসমানী কিতাবপ্রাপ্ত সম্প্রদায় ৷ নবী
রাসুলগণ সম্পর্কে তাদের সেই জ্ঞান আছে যা আমাদের নেই ৷ ওরা দু জন যাত্রা করে এবং
মদীনায় গিয়ে পৌছে ৷ রাসুলুল্লাহ্ (সা) এর পরিচয় ক র্যকলাপ ও৩ তার কতক বক্তব্য উল্লেখ
করে ওরা ইয়াহুদী যাজকদেরকে তার সত্যাসত্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ৷ ত ৷র৷ দু জলে বলেছিল
আপনারা তাওরাত কি৩াবপ্রাপ্ত সম্প্রদায় ৷ আমরা আপনাদের নিকট এসেছি এ উদ্দেশ্যে যে
আমাদের ওই সােকটি সম্পর্কে আপনারা আমাদেরকে প্রকৃত ৩তথ্য জানাবেন ৷ ইয়াহদী যাজকগণ
ওদেরকে বলল, আমরা তেড়ামাদেরকে তিনটি প্রশ্ন শিখিয়ে দিচ্ছি ৷ তোমরা তাকে ওই বিষয়
সম্পর্ক জিজ্ঞেস করবে ৷ তিনি যদি ওগুলোর ঠিক ঠিক উত্তর দিতে পারেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই
রিসাল৩ প্রাপ্ত নবী ৷ আর তা না পারলে নিশ্চয়ই সে মিথ্যাবাদী , প্রতারক ৷ এরপর তার সম্পর্কে
তােমরাই তোমাদের সিদ্ধ৷ ৷স্ত নিবে ৷

প্রথমত, তোমরা তাকে জিজ্ঞেস করবে সেই একদল যুবক সম্পর্কে, যার৷ প্রথম যুগে
হারিয়ে গিয়েছিল ওদের পরিণতি কী হয়েছিল ? কারণ তাদেরকে কেন্দ্র করে আশ্চর্যজনক ঘটনা
ঘটেছিল ৷ দ্বিতীয়ত তাকে জিজ্ঞেস করবে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে পৃথিবীর পুর্ব প্রান্ত থেকে
পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত ভ্রমণ করেছিল তার বৃত্তান্ত কী ? তৃতীয়৩ তাকে জিজ্ঞেস করবে রুহ সম্পর্কে ৷
রুহ কী ? তিনি যদি এগুলো সম্পর্কে তোমাদেরকে জানাতে পারেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই নবী ৷
তোমরা তার অনুসরণ করবে ৷ অন্যথায় সে একজন মিথ্যাবাদী ৷ তার সম্পর্কে তোমরা যা
করতে চাও করবে ৷

১ কোন কোন কপিতে কাসিম ইবন আবু উমাম৷ বলা হয়েছে ৷ মুলত তিনি হলেন কাসিম ইবন আবদুর রহমান ,
বনী উমাইয়া দিমাশকী এর মুক্ত ক্রীতদাস ৷ তিনি আবু উমাম৷ ব্যতীত অন্য কোন সাহাবী থেকে হাদীছ
বর্ণনা করেননি ৷




পৃষ্ঠা ১০২ ঠিক করুন


নাযর ও উকবা ফিরে এল কুরায়শ সম্প্রদায়ের নিকট ৷ তারা বলল, হে কুরায়শ সম্প্রদায় !
আমরা এমন বিষয় নিয়ে এসেছি যা তোমাদের মাঝে এবং মুহাম্মাদ (সা)-এরমাঝে স্পষ্ট
মীমাংসা করে দিয়ে ৷ ইয়াহ্রদী যাজকদল আমাদেরকে পরামর্শ দিয়েছে তাকে কয়েকটি বিষয়
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে ৷ উক্ত বিষয়গুলো তারা ওদেরকে জানায় ৷

তখন কুরায়শের লোকেরা রাসুলুল্লাহ্ (না)-এর নিকট আসে এবং বলে, হে মুহাম্মদ !
আমাদেরকে এ বিষয়গুলো সম্পর্কে অবহিত কর দেখি ৷ ইয়াহ্রদীদের নির্দেশিত বিষয়গুলো তারা
র্তাকে জিজ্ঞেস করে ৷ রাসুলুল্পাহ্ (সা) বললেন, আপনারা যা জিজ্ঞেস করেছেন, সে সম্পর্কে
আলি আগামীকাল আপনাদেরকে জানার ৷ তিনি ইনশাআল্লাহ্ বলতে ঐসময় তুলে যান ৷ ওরা
প্রন্থান করল ৷ এদিকে রাসুলুল্লাহ্ (সা) একে একে পনের দিন অপেক্ষা করলেন বিন্তু ঐ সম্পর্কে
কোন ওহী নাযিল হলো না, হযরত জিবরাঈল (আ) ও আসলেন না ৷ মক্কার অধিবাসীরা খুশীতে
আটখানা ৷ তারা বলছিল, মুহাম্মদ (সা) আমাদেরকে পরেরদিন উত্তর দেয়ার অঙ্গীকার করেছে,
অথচ পনের দিনের মাথায়ও সে আমাদেরকে প্রশ্নক্তেড়া৷ সম্পর্কে কোন উত্তর দিচ্ছে না ৷ ওহী বন্ধ
থাকায় রাসুলুল্লাহ্ (সা) দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন ৷ মক্কাবাসীদের অব্যাহত কটুক্তি ও তিরষ্কড়ার
র্তাকে পীড়া দিচ্ছিল ৷ অবশেষে সুরা কাহ্ফ নিয়ে হযরত জিবরাঈল (আ) এলেন ৷ মুশরিকদের
আচরণে ক্ষুব্ধ ও অধৈর্য হয়ে উঠার রাসুলুস্লাহ্ (না)-এর প্রতি মৃদু তিরঙ্কার রয়েছে এ সুরার ৷
এতে তাদের প্রশ্নকৃত যুবকের তথ্য এবং পৃথিবী প্রদিক্ষণকারী ব্যক্তির বর্ণনা রয়েছে ৷ অন্যত্র রুহ
সম্পর্কে আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন :

; :৩ শ্শ্০!শ্০শ্ষ্৷ শ্০গ্রষ্ধ্০ণ্০
¥ flfl

ওরা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে ৷ বলুন, রুহ আমার প্রতিপালকের আদেশ

ঘটিত এবং তােমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দেয়া হয়েছে (১৭ : ৮৫) ৷ ঐ বিষয়ে আমরা

ৎখানুপুংখ ও বিস্তারিত ভাবে তড়াফসীর গ্রন্থে আলোচনা করেছি ৷ সে সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞান
আহরণে কারো আগ্নহ থাকলে সেখানে দেখে নিতে পারবেন ৷

মুশরিকদের প্রশ্ন উপলক্ষে আরো নাযিল হল :
আপনি কি মনে করেন যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসিগণ আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে
বিস্ময়কর : (১৮ : ৯) ৷ এরপর তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন ৷ অবশ্য

মধ্যখানে নিশ্চয়তাসুচক ইনশাআল্পাহ্ (যদি আল্পাহ্ চান) বলার শিক্ষা দেয়া হয়েছে ৷ শর্তসুচক
অর্থে নয় ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ্ তাআলা বলেন :

শ্ শ্
া;৷ ৷ ষ্ণু

মোঃ


পৃষ্ঠা ১০৩ ঠিক করুন


কখনো আপনি কোন বিষয়ে বলবেন না ৷ “আমি এটি আপামীকাল করব” আল্লাহ্ ইচ্ছা
করলে একথা বলা ব্যতীত ৷ তবে যদি ভুলে যাও তবে তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করবে
(১৮ : ২৩) ৷

হযরত খিযির (আ)-এর আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্টতা থাকায় প্রসংপক্রমে এরপর হযরত
মুসা (আ)-এর কথা আলোচনা করা হয়েছে ৷ তারপর আলোচনা করা হয়েছে যুলকারনায়ন এর
কথা ৷ এ প্রসংগে আল্লাহ্ তড়াআলা বলেন :

ওরা আপনাকে যুলকারনায়ন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ৷ বলুন, আমি তোমাদের নিকট তার
সম্পর্কে বর্ণনা করব ( ১ ৮ : ৮৩) ৷ এরপর আল্লাহ্ তাআলা যুলকারনায়নের বিষয়াদি ও
ঘটনাবলী বিবৃত করেছেন ৷
সুরা বনী ইসরাঈলে আল্লাহ্ তড়াআলা বলেন :
ছু;;১
ওরা আপনাকে রুহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ৷ বলুন, রুহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত
অর্থাৎ সেটি আল্লাহ্র এক বিস্ময়কর সৃষ্টি এবং এক বিশেষ নির্দেশ ৷ আল্লাহ্ তাআলার কুদরত
ও প্রজ্ঞার ওই বিশেষ সৃষ্টির তত্ত্ব ও রহস্য অনুধাবন করা তোমাদের সাধ্যাতীত ব্যাপার ৷ তাই
আল্লাহ্ তাআলা বলেন ণ্তামাদেরকে সামান্য জ্ঞানই
দেয়া হয়েছে ৷
সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহুদিপণ মদীনা শরীফে রাসুলুল্লাহ্
(না)-কে এ প্রশ্ন করেছিল এবং তখন তিনি এ আয়াতখানা পাঠ করে শুনিয়েছিলেন ৷ তাহলে
এটা বলতে হবে যে, তখন আয়াতখানা পুনরায় নাযিল হয়েছিল অথবা প্রশ্নের উত্তর হিসেবে
তিনি এ আয়াত পাঠ করেছিলেন ৷ মুলত আয়াতটি পুর্বেই নাযিল হয়েছিল ৷ কেউ কেউ অবশ্য
বলেন যে, এ আয়াত মুলত সুরা বনী ইসরাঈলের অন্তর্ভুক্ত নয়, এটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে ৷
তাদের এ মন্তব্যের যথার্থতা সন্দেহাডীত নয় ৷ আস্লাহ্ই ভাল জানেন ৷

ইবন ইসহাক বলেন, আবুতালিব যখন শংকিত হয়ে পড়লেন যে, আরবের লোকজন তার
সম্প্রদায়সহ সকলে মিলে তার উপর আক্রমণ করবে, তখন তিনি নিম্নোক্ত কবিতা আবৃত্তি
করলেন ৷ এ কবিতায় তিনি হারাম শরীফের আশ্রয় কামনা করেছেন এবং হারাম শরীফের
কারণে তার মর্যাদার কথা প্রকাশ করেছেন ৷ এতদসত্বেও তিনি তার সম্প্রদায়ের নেতৃবর্গসহ
অন্যান্য সকলকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাসুলুল্পাহ্ (না)-কে তিনি ওদের হাতে
সমর্পণ করবেন না এবং কোন বিপদের মুখে তিনি তাকে ছেড়ে দিবেন না ৷ রাসুলুল্লাহ্ (না)-কে
রক্ষার জন্যে প্রয়োজনে তিনি নিজের প্রাণ বিসর্জন দেবেন ৷ এ প্রসংগে তিনি বললেন :

৷ পু;; ড়া, ৷ট্টধ্রু,


পৃষ্ঠা ১০৪ ঠিক করুন


আমি যখন সম্প্রদায়ের লোকদেরকে দেখলাম যে, তাদের মধ্যে কোন দয়ামায়া নেই এবং
আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের সকল মাধ্যম তারা ছিন্ন করে দিয়েছে ৷

৩ শ্ )

তারা প্রকাশে৷ আমাদের সাথে শত্রুতা পোষণ ও অত্যাচার করার ণ্ঘাষণা ৷দিয়েছে ! তারা
দুর-দুরান্তের শত্রুপক্ষের নির্দেশ অনুসরণ করছে ৷
ট্রুাণ্াঠুন্া৷এ মোঃ এ,

আমাদের বিরুদ্ধে তারা এমন এক সম্প্রদায়ের সাথে মৈত্রী চুক্তি করেছে যারা আমাদের
বিরুদ্ধে অপবাদ রটড়ায় এবং আমাদের অবর্ত্যা৷নে যারা আমাদের প্ৰতিহিংসায় দাতে আঙ্গুল
কামড়ায় ৷



# ; : ’ , fl

ওদের জন্যে আমি নিজেকে সংযত ণ্রখেছি উত্তরাধিকার সুত্রে প্রাপ্ত তীক্ষ্ণধার তরবারি এবং
সোজা সরল বর্শা থাকা সত্বেও ৷

আমার জ্ঞাতিগােষ্ঠি ও পরিবারের লোকদেরকে আমি বায়তৃল্লাহ্ শরীফের নিকট উপ

করেছি এবং বায়তুল্পাহ্ শরীফের দেয়ালের সাথে লাগানো গিলাফের আশ্রয় নিয়েছি ৷

আমরা সবাই এক সঙ্গে বায়তৃল্লাহ্ শরীফের প্রধান ফটক্যে৷ সামনে দা ৷ড়িয়েছিলাম ৷ যেখানে
এসে প্রত্যেক তীর্থযাত্রী নিজ নিজ মানত পুর্ণ করে ৷



যেখানে আশআর গোত্রের লোকেরা তাদের সওয়ায়ী উটগুলো বসার ৷ আসাফ ও নাইলা
প্রতিমাদ্বয়ের মধ্যবর্তী পানি প্রবাহের স্থলে ৷
উটগুলোর বাহুদেশে কিৎবা ঘাড়ে চিহ্ন খচিত ৷ সিদ্দীস ও বড়াযিল নামক স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী
স্থানে ৷
ব্লুট্রঠু ৷ দ্বু,;
ওই উট পালে নর উট ওই গুলোর শ্বেতবর্ণ মাথা , ঘাড় ও গলদেশের সৌন্দর্য এবং
চাকচিক্য দেখে তোমার মনে হবে ওই গুলো যেন ফলবান বৃক্ষশাখা ৷



Execution time: 0.10 render + 0.01 s transfer.