Login | Register

ফতোয়া: জাকাত

ফতোয়া নং: ৫৪০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একজনের কাছে ১০০/-টাকা পেতাম। সে টাকাটা নিয়েছিল আমাকে একটি...

প্রশ্ন

আমি একজনের কাছে ১০০/-টাকা পেতাম। সে টাকাটা নিয়েছিল আমাকে একটি জিনিস কিনে দিবে বলে। কিন্তু সে তা কিনে দেয়নি। টাকা চাইলে সে একাধিকবার তারিখ করেও তা পরিশোধ করেনি। এখন আমার বিষয় হল, আমি কি সে টাকা যাকাত হিসেবে ধরতে পারব? উল্লেখ্য যে, সে যাকাত গ্রহণের যোগ্য।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ১০০/-টাকা যাকাত হিসাবে গণনা করা যাবে না; বরং আপনার উপর ফরয হওয়া যাকাতের সমুদয় অর্থ পৃথকভাবে আদায় করা ফরয। তবে উক্ত দেনাদারকে যাকাতের অর্থ দেওয়ার পর তা থেকে নিজের পাওনা উসুল করা যাবে।

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৬৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমাদের মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রতি বছর সকল ছাত্রদেরকে এক সেট করে...

প্রশ্ন

আমাদের মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রতি বছর সকল ছাত্রদেরকে এক সেট করে কাপড় দিয়ে থাকে। এ বাবদ যত টাকা ব্যয় হয় তার পুরোটা যাকাত ফাণ্ড থেকে বহন করা হয়। জানতে চাই যেসব ছাত্র আর্থিকভাবে স্বচ্ছল তারা কি সে কাপড় গ্রহণ করতে পারবে?

উত্তর

যাকাত গরীব-মিসকীনদের হক। এমন গরীব, যার কাছে মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই আর অপ্রাপ্ত বয়ষ্ক হলে সে নিজে অথবা তার অভিভাবক মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয় তাহলে যাকাত গ্রহণ করতে পারে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাদরাসার যেসব ছাত্র ব্যক্তিগতভাবে নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক কিংবা যেসব নাবালেগের পিতা নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক তাদের জন্য উক্ত কাপড় গ্রহণ করা জায়েয হবে না।

না।-সূরা তওবা : ৬; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/১২৮; তাফসীরে কুরতুবী ৮/১৬৭; সহীহ বুখারী ১/১৮৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি আমার অফিসের গরীব শ্রমিকদের জন্য পরিচিত লোকজনের নিকট থেকে...

প্রশ্ন

আমি আমার অফিসের গরীব শ্রমিকদের জন্য পরিচিত লোকজনের নিকট থেকে যাকাতের টাকা এনে তাদের দিয়ে থাকি। এটা তাদের বেতন ও শ্রমের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। একজন গরীব শ্রমিক আমার কাছ থেকে কিছু ঋণ নিয়েছিল, কিন্তু সে তা পরিশোধ করতে পারছিল না। আমি তাকে বললাম, তোমাকে কিছু যাকাতের টাকা দিব। তা দিয়ে তুমি আমার ঋণ পরিশোধ করে দিও। সে ঐ টাকা দিয়ে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছে। জানার বিষয় এই যে, শ্রমিকের সাথে এ ধরনের কথার কারণে কি যাকাত আদায়ে কোনো অসুবিধা হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যাকাত আদায় হয়ে গেছে। ঐ শ্রমিকের সঙ্গে ঋণ আদায়ের বিষয়ে পূর্ব আলোচনা করার কারণে যাকাত আদায়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৩৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২১/৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

এক ব্যক্তি ধনী মানুষ। তার উপর যাকাতও ফরয। কিন্তু তার...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ধনী মানুষ। তার উপর যাকাতও ফরয। কিন্তু তার স্ত্রীর কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। স্বামীর কাছ থেকে যে পরিমাণ মহর পেয়েছিল তা খরচ হয়ে গেছে। জানার বিষয় এই যে, ঐ মহিলাকে যাকাত দেওয়া যাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মহিলাকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে তার ভরণ-পোষণ ও জরুরি ব্যয় যদি স্বামী যথাযথভাবে দিয়ে থাকে তাহলে তাকে যাকাত না দিয়ে প্রয়োজন আছে এমন কোনো দরিদ্রকে দেওয়াই শ্রেয়।

মাবসূত সারাখসী ৩/১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮; হেদায়া ২/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; ফাতহুল কাদীর ২/২১১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৬; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪২৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

জনৈক ব্যক্তির নিকট যাকাতযোগ্য ৬০,০০০/- টাকা রয়েছে। পাশাপাশি তার মালিকানায়...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির নিকট যাকাতযোগ্য ৬০,০০০/- টাকা রয়েছে। পাশাপাশি তার মালিকানায় পাঁচ ভরি স্বর্ণও আছে। সে শুধু টাকার যাকাত আদায় করবে, নাকি স্বর্ণের যাকাতও আদায় করতে হবে? মেহেরবানী করে ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতিসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির নিকট ৬০,০০০/- টাকা থাকায় সে এমনিতেই যাকাতের নেসাবের অধিকারী। আর যাকাতের নেসাবধারী ব্যক্তির নিকট স্বর্ণ, রূপা ও ব্যবসার সম্পদ যে পরিমাণেই থাকুক তার যাকাত দিতে হয়। তাই ঐ ব্যক্তিকে তার মালিকানাধীন ৫ ভরি স্বর্ণেরও যাকাত দিতে হবে।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৩০; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

জনৈকা বিধবা মহিলার কয়েকজন নাবালেগ সন্তান আছে। তাদের তিনি নিয়ে...

প্রশ্ন

জনৈকা বিধবা মহিলার কয়েকজন নাবালেগ সন্তান আছে। তাদের তিনি নিয়ে খুবই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার সাংসারিক খরচাদির কোনো ব্যস্থা নেই। তার ভাইরা তাকে সহযোগিতা করে। ভাইরা তার দূরাবস্থা দেখে তাকে যাকাতের টাকা থেকে দিয়ে আসছে। বড় ভাই একথা জানার পর অন্য ভাইদেরকে বললেন, তোমরা যে যাকাত দিচ্ছ তার কোনো টাকা-পয়সা বা গয়নাগাটি আছে কি না জান? তখন ভাইরা বলল, আরে না, সে গয়নাগাটি কোথায় পাবে? আমরা কোনোদিন তাকে গয়নাগাটি পরতে দেখিনি। আর তার সংসারই চলে না। সেখানে তার কাছে জমা টাকা থাকবে কি করে? পরে বোনকে জিজ্ঞাসা করে দেখা গেল তার কাছে ১ তোলা দুই আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন আছে। আর ৬ হাজার টাকা আছে। এখন জানতে চাই, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে কি না? যদি যাকাত দেওয়া না যায় তাহলে এত দিন যা দেওয়া হয়েছে তার হুকুম কি? যাকাতদাতাদের যাকাত আদায় হয়েছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

স্বর্ণের ঐ চেইনের মূল্য এবং ৬ হাজার টাকা মিলে নেসাবের (সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্যের) চেয়ে বেশি হয়ে যায়। আর এ পরিমাণ সম্পদশালী ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যায় না। তাই উক্ত সম্পদ থাকা অবস্থায় তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা কোনো ক্রমেই বৈধ নয়। তবে প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ভাইগণ এতদিন যেহেতু তাকে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত মনে করেই যাকাত দিয়েছে তাই তাদের বিগত দিনের যাকাত আদায় হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে যেন এ ধরনের ভুল না হয়।

বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন, আমার নিকট এখন জমা টাকা...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তার ছেলেকে বললেন, আমার নিকট এখন জমা টাকা নেই। তুমি তোমার টাকা দ্বারা আমার যাকাত আদায় করে দাও। পরে তোমাকে দিয়ে দিব। ছেলে পিতার যাকাত আদায় করে দিল। এখন জানার বিষয় এই যে, ছেলে নিজের টাকা দ্বারা পিতার যাকাত আদায় করার দ্বারা পিতার যাকাত আদায় হয়েছে কি?

উত্তর

জ্বী, পিতার যাকাত আদায় হয়েছে। কেননা, এক্ষেত্রে ছেলে থেকে টাকা ঋণ নিয়ে তা দ্বারা যাকাত আদায় করা হয়েছে। আর ঋণের টাকা দিয়েও যাকাত আদায় করা যায়।

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমরা সম্পদের উপর এক মাস পূর্বে যাকাতের বছর পূর্ণ হয়েছে।...

প্রশ্ন

আমরা সম্পদের উপর এক মাস পূর্বে যাকাতের বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু তখন যাকাত আদায় করিনি। মাসখানেকের মতো দেরি হয়েছে। ইতিমধ্যে আরো কিছু টাকা আমার মালিকানায় এসেছে। জানার বিষয় হল, এই টাকার যাকাতও কি পূর্বের টাকার সাথে এখনই আদায় করতে হবে? না তার উপর বছর পূর্ণ হতে হবে?

উত্তর

যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর আপনি যে টাকার মালিক হয়েছেন তার যাকাত এখন ফরয নয়; পুনরায় বছর পূর্ণ হলে তখন যে স্থিতি থাকবে তার যাকাত দিতে হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৭; মাবসূত সারাখসী ২/১৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

একজন লোকের উপর যাকাত ওয়াজিব। তার এক ছেলে মাদরাসায় পড়ে...

প্রশ্ন

একজন লোকের উপর যাকাত ওয়াজিব। তার এক ছেলে মাদরাসায় পড়ে এবং সে বালেগ। তার মাদরাসার পড়াশোনার খরচ কি তার বাবা যাকাতের টাকা থেকে দিতে পারবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বালেগ সন্তান যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলেও পিতা-মাতার যাকাত তাকে দেওয়া জায়েয নয়। পিতা নিজের যাকাতের অর্থ থেকে তাকে পড়ার খরচ দিলে যাকাত আদায় হবে না।

আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমরা জানি, মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে এদের কাউকে যাকাত দেওয়া যায় না।...

প্রশ্ন

আমরা জানি, মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে এদের কাউকে যাকাত দেওয়া যায় না। প্রশ্ন হল, সৎ মাকে যাকাত দেওয়া যাবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ মা আর্থিকভাবে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার কাছে এ পরিমাণ টাকা আছে, যার উপর যাকাত ফরয...

প্রশ্ন

আমার কাছে এ পরিমাণ টাকা আছে, যার উপর যাকাত ফরয হয়। অপর দিকে যাকাত গ্রহণের যোগ্য এক ব্যক্তির কাছে অনেক টাকা ঋণ পাই। তার কাছে টাকা চাইলে বলে, আজ নয় কাল দেব, কাল নয় পরশু। আমার জানার বিষয় হল, আমার কাছে বিদ্যমান টাকার উপর যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয়েছে তা যদি আমি যাকাত আদায়ের নিয়তে ঐ ঋণের টাকা হতে মাফ করে দেই তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি? অথবা ঐ ঋণের টাকার উপর যে পরিমাণ যাকাত ফরয হয়েছে তা যদি আমি ঐ ঋণের টাকা হতে যাকাতের নিয়তে মাফ করে দেই তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

উত্তর

ঋণ মাফ করে দেওয়ার দ্বারা যাকাত আদায় হয় না। তাই ঋণের পুরোটা বা আংশিক যাকাতের নিয়তে ছেড়ে দিলে যাকাত আদায় হবে না। তবে ঋণ গ্রহীতাকে যাকাতের টাকা নগদ দান করার পর তার থেকে আপনার পাওনা উসূল করে নিতে পারেন। এতে আপনার যাকাতও আদায় হবে এবং তার ঋণমুক্তির ব্যাপারে সহযোগিতাও করা হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; হাশিয়া শালবী ১/২৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৪; রদ্দুল মুহতার ৩/১৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার এক প্রতিবেশী যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। আমি তাকে যাকাত দিতে...

প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। আমি তাকে যাকাত দিতে চাই। কিন' যাকাত বলে দিতে লজ্জা হয়। এখন আমি যদি যাকাতের টাকা যাকাতের কথা উল্লেখ না করে যাকাতের নিয়তে তাকে প্রদান করি তবে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, এভাবেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। যাকাত আদায়ের জন্য গ্রহীতাকে যাকাত দেওয়া হচ্ছে একথা বলা জরুরি নয়। যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে যাকাতের কথা উল্লেখ না করেও যাকাতের টাকা দেওয়া যায়।

আলবাহরুর রায়েক ২/২১২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৬৬; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯০; মাজমাউল আনহুর ১/২৯০; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

জনৈক ব্যক্তি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হওয়ার ব্যাপারে আমার সন্দেহ হয়েছিল,...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হওয়ার ব্যাপারে আমার সন্দেহ হয়েছিল, পরবর্তীতে প্রবল ধারণা হয়েছিল যে, সে আর্থিক দিক থেকে যাকাত গ্রহণের যোগ্য তাই আমি তাকে যাকাত দিয়েছি। কিন' পরে প্রকাশ পেল যে, আসলে সে যাকাত গ্রহণের যোগ্য ছিল না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এই যাকাত আদায় হবে কি না, নাকি পুনরায় এই যাকাত দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনি যেহেতু প্রবল ধারণা অনুযায়ী যাকাত গ্রহণের যোগ্য মনে করেই তাকে যাকাত দিয়েছেন তাই আপনার যাকাত আদায় হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে ভুল বুঝা গেলেও তা পুনরায় আদায় করতে হবে না। সামনে থেকে যাকাত দেওয়ার পূর্বে যথাসম্ভব ভালোভাবে যাচাই করে নিবেন।

সহীহ বুখারী ১/১৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯-১৯০; হিদায়া (ফাতহুল কাদীর) ২/২১৪-২১৫; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা...

প্রশ্ন

সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, সৎ দাদীকে যাকাত-ফেৎরা দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

বিবাহে আমার মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার...

প্রশ্ন

বিবাহে আমার মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বিবাহ হয়েছে প্রায় ২ বছর আগে। মোহর বাবদ কোনো টাকা আমাকে আমার স্বামী দেয়নি। প্রশ্ন হল, মোহরের টাকা হাতে না আসলেও বছর অতিবাহিত হওয়ার কারণে ধার্যকৃত মোহরের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

না, মোহর হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে এর যাকাত দিতে হবে না; বরং হস্তগত হওয়ার পরই তা যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে গণ্য হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৯০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৬; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

মাদরাসার একজন এতীম ছাত্রকে যাকাত প্রদানের নিয়তে আমি নিয়মিত তার...

প্রশ্ন

মাদরাসার একজন এতীম ছাত্রকে যাকাত প্রদানের নিয়তে আমি নিয়মিত তার টিফিন ক্যারিয়ারের বক্সে খানা দিয়ে আসছি। প্রশ্ন হল, এ পদ্ধতিতে আমার যাকাত প্রদান করা সহীহ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

হ্যাঁ, এ পদ্ধতিতে আপনার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে খাবারের মূল্য যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে, বেশি ধরা যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

এক বছর পূর্বে জনৈক ব্যক্তি আমার থেকে নেসাব পরিমাণ টাকা...

প্রশ্ন

এক বছর পূর্বে জনৈক ব্যক্তি আমার থেকে নেসাব পরিমাণ টাকা ধার নেয়। এক বছর পর এক পঞ্চমাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। এ টাকা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোনো টাকা জমা নেই। জানার বিষয় হল, এখন কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করা ফরয?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার ঐ টাকার মেয়াদ এক বছর অতিক্রম হওয়ায় এর উপর যাকাত ফরয হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই পুরো ঋণের টাকার যাকাত আদায় করে দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে যতটুকু হস্তগত হয়েছে এখন শুধু সে অংশের যাকাত প্রদান করতে পারেন। এরপর অবশিষ্ট টাকা যখন হস্তগত হবে তখন সেগুলোর বিগত দিনের যাকাতও আদায় করতে হবে।

-মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০, ৩০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার ছোট দুটি মেয়ে আছে। একজনের বয়স চার বছর। আরেকজনের...

প্রশ্ন

আমার ছোট দুটি মেয়ে আছে। একজনের বয়স চার বছর। আরেকজনের বয়স ছয় বছর। মোট আট ভরি স্বর্ণ দিয়ে দুই মেয়ের জন্য আমি দুটি গলার হার এবং দুই জোড়া কানের দুল তৈরি করেছি। তারা যেহেতু এখনো ছোট তাই তাদেরকে হস্তান্তর করিনি। বর্তমানে সেগুলো আমার কাছেই আছে। তবে আমার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে বলে রেখেছি যে, অলঙ্কারগুলোর মালিক দুই মেয়ে। অন্য কেউ নয়। জানতে চাই,

হস্তান্তর না করার কারণে এগুলো কি আমার মালিকানায় রয়ে গেছে? আমার কি এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অলঙ্কারগুলোর মালিক আপনার দুই মেয়েই। কেননা পিতা তার নাবালেগ সন্তানকে শুধু মৌখিকভাবে কোনো কিছু দিলেই সন্তান ঐ বস্ত্তর মালিক হয়ে যায়। এর জন্য নাবালেগদের হস্তগত করা আবশ্যক নয়। অতএব আপনাকে এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে না। আর এখন ঐ মেয়েরাও যেহেতু নাবালেগ তাই তাদের উপরও এখন সেগুলোর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। তবে তারা যখন বালেগ হবে তখন অলঙ্কারগুলো যদি অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে নিয়মানুযায়ী মেয়েরা এর যাকাত আদায় করবে।

-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৩২২; আসসুনানুল কুবরা ৬/১৭০; জামিউ আহকামিস সিগার ১/৪৯, ২৫০; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯; আলবমাবসূত, সারাখসী ১২/৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার ছোট ভাই বিদেশ থাকে। সে বাড়ি নির্মাণের জন্য ত্রিশ...

প্রশ্ন

আমার ছোট ভাই বিদেশ থাকে। সে বাড়ি নির্মাণের জন্য ত্রিশ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু যে জমিতে বাড়ি নির্মাণের কথা ছিল তা নিয়ে তখন মামলা চলছিল। তাই নির্মাণ কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এদিকে মামলা নিষ্পত্তি হতে এক বছর লেগে গেল। এখন এই টাকার যাকাত দিতে হবে কি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত টাকাগুলো বাড়ি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হলেও এর উপর বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তার যাকাত আদায় করতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার ব্যাংক একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। তার কিছু সুদও...

প্রশ্ন

আমার ব্যাংক একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। তার কিছু সুদও আছে। প্রতি বছর যাকাত আদায় করার সময় পেরেশান হয়ে যাই এই ভেবে যে, মূল টাকার সাথে সুদী টাকার যাকাত দিব কি না? কিন্তু কোনো মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা না করে প্রতি বছরই মূল টাকার যাকাতের সাথে সুদী টাকারও যাকাত দিতাম। এক বন্ধু আমকে বলল, সুদের উপর তো যাকাত ফরয হয় না। এখন আমি মুফতী সাহেবের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।

উত্তর

আপনার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত মূল টাকার আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিবেন। আর সুদী টাকা পুরোটাই ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া হারামের বোঝা থেকে নিষ্কৃতির জন্য সদকা করে দিবেন।

উল্লেখ্য, যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত, যা একমাত্র হালাল সম্পদের উপর আসে এবং তা হালাল সম্পদ দ্বারাই আদায় করতে হয়। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা একমাত্র হালাল বস্ত্তই কবুল করেন।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৪১০

অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হারাম সম্পদ থেকে সদকা কবুল করা হয় না।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৪; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ১১২; ফাতহুল বারী ৩/৩২৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/১৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

একব্যক্তি দরিদ্র লোককে যাকাতের নিয়ত ছাড়া এমনি সদকা করেছে। পরক্ষণেই...

প্রশ্ন

একব্যক্তি দরিদ্র লোককে যাকাতের নিয়ত ছাড়া এমনি সদকা করেছে। পরক্ষণেই লোকটির হাতে টাকা থাকতেই সে তা যাকাত হিসাবে দেওয়ার নিয়ত করল। এর দ্বারা তার যাকাত আদায় হবে কি না?

উত্তর

লোকটি ঐ টাকা খরচ করার আগেই দাতা যদি প্রদত্ত টাকা যাকাত হিসেবে নিয়ত করে তবে তা যাকাত হিসাবে গণ্য হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২১০; আননাহরুল ফায়েক ১/৪১৮; মাজমাউল আনহুর ১/২৯০; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার পিতা বার্ধক্যের দরুণ রোযা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। জানতে...

প্রশ্ন

আমার পিতা বার্ধক্যের দরুণ রোযা রাখার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন। জানতে চাই, তার ফিদয়া আদায় করতে হবে কি না? আমার পিতার উপর যাকাত ফরয নয়। তিনি খুব একটা স্বচ্ছল নন। এ অবস্থায় কি তাকে ফিদয়া আদায় করতে হবে? এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, তাকে রমযানের প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে ফিদয়া আদায় করতে হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- (তরজমা) ‘আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ্য নেই তারা একজন মিসকীনের খানা সমপরিমাণ ফিদয়া দিবে।’ (সূরা বাকারা : ১৮৪)

এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরয না হলেও ফিদয়া দিতে হবে। কারণ ফিদয়া দেওয়ার জন্য নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা জরুরি নয়। আর এক রোযার ফিদয়া একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া যায়। তবে একজনকে দেওয়া উত্তম।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি ইটের ব্যবসা করি। ইটের ভাটা আছে। জানতে চাই, ভাটার...

প্রশ্ন

আমি ইটের ব্যবসা করি। ইটের ভাটা আছে। জানতে চাই, ভাটার যাকাত আদায় করব কীভাবে? কিছু ইট কাঁচা কিছু ইট ভাটায় পুড়ছে আর কিছু পরিপূর্ণ ইট। আবার মাটিও কিনে রাখি। লাকড়ি ও কয়লার স্টক থাকে। এগুলোর উপর যাকাত দিতে হবে কি না? দিলে কী উপায়ে।

উত্তর

কাঁচা, পাকা ইট এবং যে ইট পুড়ছে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তদ্রূপ ইট তৈরির জন্য যে মাটির মজুদ রাখা হয়েছে তারও যাকাত দিতে হবে। এসব কিছু পাইকারী বিক্রি করে দিলে যে দাম পাওয়া যায় সে হিসেবে যাকাত দিবে।

আর ভাটার জ্বালানী হিসাবে যে কয়লা বা লাকড়ির স্টক থাকবে তার যাকাত দিতে হবে না।

-হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৪০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২, ১৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৮; আননাহরুল ফায়েক ১/৪৩৯; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৪৫
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাত গ্রহিতাকে যাকাতের কথা না জানিয়ে যাকাতের টাকা দিলে যাকাত আদায় হবে কি?

প্রশ্ন
আমার এক দরিদ্র পরিচিত লোক অসুস্থ ৷ তাকে আমি দেখতে যাই। সাথে তার জন্য আমার যাকাতের টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাই। এবং যাকাতের কথা উল্লেখ না করে টাকাটা তাকে প্রদান করি। সে মনে করেছে এমনি তাকে দিয়েছি ৷ জানার বিষয় হল, টাকাটা যে যাকাতের, একথা না বলে দেয়ার কারণে আমার ১০ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে কি?
উত্তর
যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে যাকাতের টাকা দেয়ার সময় যাকাতের কথা না জানিয়ে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়, যদি যাকাত দাতা দেয়ার সময় যাকাতের নিয়তে দিয়ে থাকে ৷ সুতরাং প্রশ্নে বর্নিত অসুস্থ লোকটি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে আপনার ১০ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৪৪
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

শাড়ী, লুঙ্গি বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত প্রদান করা ৷

প্রশ্ন
হযরত একটি প্রশ্ন! বর্তমানে রমযান আসলে দেখা যায়, যাকাতের শাড়ী লুঙ্গি ইত্যাদি বিতরন করা হয় ৷ আমরা জানি যাকাত মু্ল্য হিসাব করে নগদ টাকা দ্বারা আদায় করতে হয় ৷ তাই জানতে চাই, নগদ টাকা ছাড়া শাড়ী, লুঙ্গী বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত আদায় করলে কি যাকাত আদায় হবে? দলিল সহ জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে নগদ টাকা প্রদান করলে যেভাবে যাকাত আদায় হয় তেমনিভাবে যাকাতের নিয়তে অন্য কোনো পণ্য কিনে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়। অতএব শাড়ী, লুঙ্গী বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷ তবে কোনো পণ্য দ্বারা যাকাত আদায় করার চেয়ে নগদ টাকা দ্বারা আদায় করাই উত্তম। কারণ এতে দরিদ্র ব্যক্তি যেকোনো প্রয়োজন পুরন করতে সক্ষম হয়৷
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৪১
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

অগ্রীম যাকাত প্রদানের বিধান ৷

প্রশ্ন
হযরত! আমার যাকাতের বছর পুর্ন হবে আরো দেড় মাস পর ৷ আমি যদি এ রমযানে রমযানে সম্পদ হিসাব করে যাকাতের বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যাকাত দিয়ে দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে ? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য অগ্রীম যাকাত আদায় করা জায়েয। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বছর পুর্ন হওয়ার আগে আপনার সম্পদ হিসাব করে এ রমযানে অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷
-জামে তিরমিযী, হাদীস: ৬৭৮;খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪১;ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৪;রদ্দুল মুহতার ২/২৯৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৩১
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

সদাকাতুল ফিতর কখন, কার উপর ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন
হুজুর সদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে কিছু জানার ছিল৷
১৷ কার উপর কি পরিমান মাল থাকলে সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব?
২৷ সদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময় কখন? রমযানে আদায় করলে হবে কি না?
৩৷ কি ধরনের মাল থাকলে সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়? যাকাতের মত নির্দিষ্ট মাল নাকি যেকোনো মাল নেসাব পরিমান থাকলেই সদাকাতুল ফিতর আবশ্যক?
বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর প্রয়োজন অতিরিক্ত যেকোনো ধরনের মালের মালিক হলে, এবং তা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমুল্যের হলে ব্যক্তির উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব ৷ সদাকাকুল ফিতর আবশ্যক হওয়ার জন্য যাকাতের মত নির্দিষ্ট মাল থাকা জরুরী নয় ৷ কারো যদি প্রয়োজন অতিরিক্ত ঘর, বাড়ি, জমি, ফ্রীজ, খাট এমন কি পরিধানের জামাও থাকে আর তার মু্ল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমুল্যের হয় ৷ তাহলে তার উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে ৷ যদিও সদাকাতুল ফিতর ঈদুল ফিতরের দিন ওয়াজিব হয় তথাপিও রমযানে আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷
-হেদায়া, ১/১৮৫; রদ্দুল মুহতার,৩/৯৯; নুরুল ইযাহ,৯১; ফতওয়ায়ে দারুল উলুম,৬/৩৩৬৷
উত্তর প্রদানে মুফতীঃ মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৩০
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

কার উপর কি পরিমান সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

প্রশ্ন
হযরত! একটি প্রশ্ন, কার উপর যাকাত ফরজ? কি পরিমান ও কেমন মাল থাকলে যাকাত দিতে হয়? এবং কি পরিমান যাকাত দিতে হয়৷ স্ববিস্তারে জানতে চাই ৷
উত্তর
প্রাপ্র বয়স্ক পুরুষ কিংবা মহিলা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মালিক হলে বা নিত্য প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মুল্যের সমপরিমান ক্যাশ টাকা বা ব্যবসায়িক পন্যের মালিক হলে, এক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হবে ৷
যাকাত যুগ্য সমস্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগে এক ভাগ যাকাত আদায় করা আবশ্যক ৷
উল্লেখ্য যে, কারো নিকট শুধু স্বর্ন থাকলে তা সাড়ে সাত ভরির কম হলে অথবা শুধু রুপা থাকলে এবং তা সাড়ে বায়ান্ন ভরির কম হলে যাকাত দিতে হবে না ৷ আর যদি স্বর্নের সাথে রুপা বা টাকা অথবা ব্যবসায়িক পন্য থাকে তাহলে সবকিছুর সমষ্টির মুল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমুল্যের হলেই যাকাত আবশ্যক হয়ে যাবে৷
-আল হেদায়া ১/১৯৬; আল মাবসূত লিস সারাখসী,২/১৯১; তাতারখানিয়া, ২/২৩৭; রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৯; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/১৭৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৩৪
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: জাকাত

ব্যাংকে জমানো টাকার সাথে সুদী টাকার যাকাত ৷

প্রশ্ন
আমার ব্যাংক একাউন্টে জমানো টাকার সাথে সুদী টাকাও আছে ৷ যাকাত দেয়ার সময় সম্পুর্ন টাকার ই যাকাত দিয়ে থাকি ৷ এক বন্ধু বলল সুদী টাকার যাকাত নেই ৷ তাই মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে সঠিক সমাধান চাই ৷ এবং এ ক্ষেত্রে আমার করনীয় কি জানতে চাই ৷
উত্তর
যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত, যা একমাত্র হালাল সম্পদের উপর আসে এবং তা হালাল সম্পদ দ্বারাই আদায় করতে হয়। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা একমাত্র হালাল বস্তু ই কবুল করেন।
-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৪১০
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমানো মূল টাকার ২.৫% টাকার যাকাত দিবেন।
আর সুদী টাকা হারাম হওয়ার কারনে পুরোটাই ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেয়া আবশ্যক ।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৪; ফাতহুল বারী ৩/৩২৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/১৪৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৩২
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: জাকাত

ঘর নির্মানের জন্য জমানো টাকায় যাকাত ৷

প্রশ্ন
আমার বড় ভাই দুবাই থাকে। ঘর নির্মাণের ৭/৮ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। আমার বাবার একাউন্টে জমা আছে ৷কিন্তু এদিকে বাড়ি বন্টন করতে দেড়ি হওয়ায় ঘরের কাজ ধরতেও দেড়ি হচ্ছে । এখন জানার বিষয় এই টাকার যাকাত দিতে হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে ব্যাংকে জমানো টাকাগুলো ঘর নির্মাণের জন্য হলেও এর উপর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার যাকাত আদায় করতে হবে।
-আলবাহরুর রায়েক ২/২০৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৩১
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: জাকাত

নাবালেগ মেয়ের স্বর্নের যাকাত পিতার উপর ফরজ কি না?

প্রশ্ন
আমার তিন মেয়ে। সবাই এখনো ছোট ৷ একজনের বয়স ৭ ৷ আরেকজনের ৫ আরেকজনের ৩ ৷ তারা প্রত্যেককে আমি পাঁচ ভরি পরিমান স্বর্নের অলঙ্কার বানিয়ে দিয়েছি ৷ তবে তারা ছোট বিধায় সেগুলো আমার কাছেই থাকে ৷ জানার বিষয় হলো, তারা নাবালেগ হওয়ার কারনে এগুলো কি আমার মালিকানায় রয়ে গেছে? আমার কি এগুলোর
যাকাত আদায় করতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে অলঙ্কারগুলোর মালিক আপনার মেয়েরাই। কারন পিতা তার নাবালেগ সন্তানকে শুধু মৌখিকভাবে কোনো কিছু দিলেই সন্তান তার মালিক হয়ে যায়। এর জন্য নাবালেগদের হস্তগত করা জরুরী
নয়। অতএব আপনাকে এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে না। এবং মেয়েরাও যেহেতু এখনো নাবালেগ, তাই তাদের উপরও সেগুলোর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। তবে তারা বালেগ হওয়ার পর প্রত্যেকজনের অলঙ্কারগুলো যদি অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে মেয়েরা প্রত্যেকেই পৃথকভাবে এর যাকাত আদায় করবে।
-মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস: ৩২২; ফাতওয়ায়ে খানিয়া ৩/২৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৪৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

স্ত্রীর মোহরের টাকায় যাকাত৷

প্রশ্ন
বিবাহে আমার মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই
লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বিবাহ হয়েছে প্রায় ২
বছর আগে। মোহর বাবদ কোনো টাকা আমাকে আমার স্বামী দেয়নি। প্রশ্ন হল, মোহরের টাকা হাতে না আসলেও বছর অতিবাহিত হওয়ার কারণে ধার্যকৃত মোহরের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? জানালে উপকৃত
হব।
উত্তর
না, মোহর হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে
এর যাকাত দিতে হবে না; বরং হস্তগত হওয়ার পরই
তা যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে গণ্য হবে।
-কিতাবুল আসল ২/৯০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৬; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৪৩
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

এতিম ছাত্রকে খানা দিয়ে যাকাত প্রদান করা৷

প্রশ্ন
মাদরাসার একজন এতীম ছাত্রকে যাকাত প্রদানের নিয়তে আমি নিয়মিত তার টিফিন
ক্যারিয়ারের বক্সে খানা দিয়ে আসছি। প্রশ্ন
হল, এ পদ্ধতিতে আমার যাকাত প্রদান করা সহীহ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
উত্তর
হ্যাঁ, এ পদ্ধতিতে আপনার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে খাবারের মূল্য যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে, বেশি ধরা যাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ২৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৪২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

ধার দেয়া টাকার যাকাত৷

প্রশ্ন
এক বছর পূর্বে জনৈক ব্যক্তি আমার থেকে নেসাব পরিমাণ টাকা ধার নেয়। এক বছর পর এক পঞ্চমাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। এ টাকা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোনো টাকা জমা নেই। জানার বিষয় হল, এখন কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করা ফরয?
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার ঐ টাকার মেয়াদ এক বছর অতিক্রম হওয়ায় এর উপর যাকাত ফরয হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই পুরো ঋণের টাকার যাকাত আদায় করে দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে যতটুকু হস্তগত হয়েছে এখন শুধু সে অংশের যাকাত প্রদান করতে পারেন। এরপর অবশিষ্ট টাকা যখন হস্তগত হবে তখন সেগুলোর বিগত দিনের যাকাতও আদায় করতে হবে। -মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০, ৩০৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৩৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

সৎ দাদীকে যাকাত ফেতরা দেওয়া৷

প্রশ্ন
সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা দেওয়া জায়েয হবে
কি না?
উত্তর
হ্যাঁ, সৎ দাদীকে যাকাত-ফেৎরা দেওয়া
যাবে।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭০৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

হিজড়াদের জন্য ইসলামের বিধি-বিধান৷

প্রশ্ন
হুজুর,হিজড়ারাও এক ধরণের মানুষ। কিন্তু ওদেরও কি আমাদের মত বিচার হবে? ওদের উপরও কি ইসলামী বিধি-বিধান আছে? আমাদের নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওদের ব্যপারে কী বলেছেন? আমাদের আচরণ ওদের সাথে কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর
আমাদের সমাজব্যবস্থা জোর করে হিজড়াদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখে। সামাজিক সম্মান,শিক্ষা,কর্ম,বাসস্থান ইত্যাদির নূন্যতম অধিকার এ সমাজ থেকে ওদের দেয়া হয় না। সত্যিকারার্থে ওরা
প্রতিবন্ধী হলেও প্রতিবন্ধীদের দেয়া সুযোগ-সুবিধাটুকুও ওদের দেয়া হয় না। আমাদের এ অবক্ষয়ের জন্য দায়ী আমাদের কুসংস্কার ও ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব। অথচ ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী হিজড়াগণ সাধারণ মানুষের মতই তাদের পূর্ণ অধিকার লাভ করবে। লেখা-পড়া, শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরী- বাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, উত্তরাধিকার, সম্পদের মালিকানা; ধর্ম কর্ম, সামাজিক ও উন্নয়ন কাজের সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রেই তাদের ন্যায্য অধিকার ইসলাম স্বীকার করেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে তারা আলাদা কোনো লিঙ্গ নয়; বরং ইসলাম আধুনিক- বিজ্ঞানের মতই তাদেরকেও
নারী ও পুরুষের অন্তর্ভুক্ত করেছে। যার কারণে ইসলাম তাদের ব্যাপারে আলাদা কোন বিধান আরোপ করার প্রয়োজন মনে করে নি। এ ব্যাপারে ইসলাম একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেটা হল, দেখতে হবে হিজড়ার প্রস্রাব করার অঙ্গটি কেমন? সে কি পুরুষদের গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? না নারীদের মত গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? গোপনাঙ্গ যাদের মত হবে হুকুম তাদের মতই হবে। অর্থাৎ গোপনাঙ্গ যদি পুরুষালী হয়, তাহলে পুরুষ। যদি নারীর মত হয়, তাহলে নারী। আর যদি কোনোটিই বোঝা না যায়, তাহলে তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই হিসেবেই তাদের উপর শরয়ী বিধান আরোপিত হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে– হযরত আলী রা. রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, প্রসূত বাচ্চা যে পুরুষ নারী তা জানা যায় না তার বিধান কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন যে, সে মিরাস পাবে যেভাবে প্রস্রাব করে।
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১২৯৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩০৪০৩৷
এ হাদীসে স্পষ্ট যে,পৌরুষপ্রবণ হিজড়াদের জন্য সুস্থ পুরুষদের বিধান প্রযোজ্য হবে। নারীত্বপ্রবণ হিজড়াদের জন্য সুস্থ নারীদের বিধান প্রযোজ্য হবে। আর দুইয়ের মাঝামাঝি হিজড়াদের জন্য সুস্থ নারীদের বিধান প্রযোজ্য হবে। সুতরাং ঈমান, ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত এমনকি বিয়ে- শাদীসহ সকল ইসলামী বিধিবিধান তাদের উপর নারী ও পুরুষ হিসেবেই বর্তাবে।
অনুরূপভাবে হালাল হারাম, ন্যায় অন্যায় ও জান্নাত জাহান্নামও তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
হাওয়াশী আল আশবাহ ওয়ান৷নাযায়ির-ইবনু নুজাঈম, ছায়্যিদ আহমাদ হামুভী; ফাতাওয়া আবদুল হাই লাক্ষৌনভী, পৃ ৪০১; ফাতাওয়ায়ে অযীযী,৷শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছে দেহলভী, পৃ ৫৩৯৷
অতএব, তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
বদলাতে হবে। তারাও মানুষ। আমাদের মতই মানুষ। তবে যেমন অনেক মানুষের শারিরিক ত্রুটি থাকে। এটিও তাদের তেমনি একটি ত্রুটি। এ ত্রুটির কারণে তারা মনুষ্যত্ব থেকে বেরিয়ে যায় না। বরং অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতই তারা আরো বেশি স্নেহ, মমতা ও ভালবাসা পাবার অধিকার রাখে। তাদের ঘৃণা নয়, ভালবাসা ও স্নেহ দিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে দেয়া
উচিত। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা, খারাপ মন্তব্য করা মারাত্মক গোনাহের কাজ।যেকোনো মুসলমানকে গালি দেয়া, তাচ্ছিল্য করা যেমন কবিরা গোনাহ, তেমনি তাদের গালি দেয়া, তাচ্ছিল্য করাও কবিরা গোনাহ।
উল্লেখ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, হিজড়া হলো মনোদৈহিক বৈকল্য বা শরীরবৃত্তিয় ও মনোজাগতিক বিকাশের অপূর্ণতা। এটি হরমোনঘটিত একটি সমস্যা। শরীরের যে হরমোনের কারণে একজন মানুষ পুরুষ বা নারী বৈশিষ্টের অধিকারী হয়,৷সে হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকাই এর প্রধান কারণ। সুতরাং অত্যাধুনিক হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে এবং ক্ষেত্রবিশেষ শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে এর পুরোপুরি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞ উলামায়ে
কিরামের সুচিন্তিত মতামত, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতা।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

বাবার কাছে থাকা নাবালেগ ছোট মেয়ের স্বর্ন-রুপার উপর যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ছোট দুটি মেয়ে আছে। একজনের বয়স চার বছর। আরেকজনের বয়স ছয় বছর। মোট আট ভরি স্বর্ণ দিয়ে দুই মেয়ের জন্য আমি দুটি গলার হার এবং দুই জোড়া কানের দুল তৈরি করেছি। তারা যেহেতু এখনো ছোট তাই তাদেরকে হস্তান্তর করিনি। বর্তমানে সেগুলো আমার কাছেই আছে। তবে আমার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে বলে রেখেছি যে, অলঙ্কারগুলোর মালিক দুই মেয়ে। অন্য কেউ নয়। জানতে চাই, হস্তান্তর না করার কারণে এগুলো কি আমার মালিকানায় রয়ে গেছে? আমার কি এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অলঙ্কারগুলোর মালিক আপনার দুই মেয়েই। কেননা পিতা তার নাবালেগ সন্তানকে শুধু মৌখিকভাবে কোনো কিছু দিলেই সন্তান ঐ বস্তুর মালিক হয়ে যায়। এর জন্য নাবালেগদের হস্তগত করা আবশ্যক নয়। অতএব আপনাকে এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে না। আর এখন ঐ মেয়েরাও যেহেতু নাবালেগ তাই তাদের উপরও এখন সেগুলোর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। তবে তারা যখন বালেগ হবে তখন অলঙ্কারগুলো যদি অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে নিয়মানুযায়ী মেয়েরা এর যাকাত আদায়
করবে।
-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৩২২, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৪,ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

বাড়ি নির্মানের জন্য জমানো টাকায় যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ছোট ভাই বিদেশ থাকে। সে বাড়ি নির্মাণের জন্য ত্রিশ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু যে জমিতে বাড়ি নির্মাণের কথা ছিল তা নিয়ে তখন মামলা চলছিল। তাই নির্মাণ কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এদিকে মামলা নিষ্পত্তি হতে এক বছর লেগে গেল। এখন এই টাকার যাকাত দিতে হবে কি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত টাকাগুলো বাড়ি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হলেও এর উপর বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তার যাকাত আদায় করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬১৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

ব্যাংকে জমানো টাকা ও তার সুদের উপর যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ব্যাংক একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। তার কিছু সুদও আছে। প্রতি বছর যাকাত আদায় করার সময় পেরেশান হয়ে যাই এই ভেবে যে, মূল টাকার সাথে সুদী টাকার যাকাত দিব কি না? কিন্তু কোনো মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা না করে প্রতি বছরই মূল টাকার যাকাতের সাথে সুদী টাকারও যাকাত দিতাম। এক বন্ধু আমকে বলল, সুদের উপর তো যাকাত ফরয হয় না। এখন আমি মুফতী সাহেবের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।
উত্তর
আপনার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত মূল টাকার আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিবেন। আর সুদী টাকা পুরোটাই ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া হারামের বোঝা থেকে নিষ্কৃতির জন্য সদকা করে দিবেন। উল্লেখ্য, যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত, যা একমাত্র হালাল সম্পদের উপর আসে এবং তা হালাল সম্পদ দ্বারাই আদায় করতে হয়। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা একমাত্র হালাল বস্ত্তই কবুল করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৪১০ অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হারাম সম্পদ থেকে সদকা কবুল করা হয় না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৪; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ১১২; ফাতহুল বারী ৩/৩২৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/১৪৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৫২৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: জাকাত

তাবলীগের ছয় উসুল পুর্নদ্বীন কিনা!

প্রশ্ন
তাবলীগ জামাত বিরোধী অনেক ভাই প্রায়ই একটি অভিযোগ করে থাকেন যে, তাবলীগ জামাআতের ছয় উসুলে পূর্ণ ইসলাম নেই। তাই এ মেহনত করা জায়েজ নয়।
উত্তর
এ অভিযোগটি একটি অজ্ঞতার পরিচয়বাহী ও হিংসাত্মক অভিযোগ। যার কোন ভিত্তি নেই। তাবলীগের ছয় উসুলের মাঝে পূর্ণ ইসলাম আছে একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন নাকি? তারাতো সর্বদা একথার দাওয়াত দেন যে, ছয় উসূলের উপর চললে পূর্ণ দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়। একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন না যে ছয় উসূলই পূর্ণ দ্বীন। সাথে সাথে তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত শুধু একথার উপর দেয়া হয় না যে, শুধুমাত্র ছয় উসূল মানতে হবে, বরং দাওয়াত দেয়া হয় পূর্ণ শরীয়তের পাবন্দ হতে হবে। তাই নয় কি? সুতরাং এ দাবি করা যে, যেহেতু ছয় উসূলে পূর্ণ দ্বীন নেই, তাই তাবলীগী ভাইয়েরা অপূর্ণাঙ্গ দ্বীনের দিকে আহবান করে। কারণ ছয় উসুলের দাওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ দ্বীনের দিকেই আহবান
করা হয়।
যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ছয়টি বিষয়ের অনুসরণ করলে বান্দা সফলকাম হয়ে যাবে মর্মে সূরায়ে মু’মিনূন এ ঘোষণা করেন-
‎ﻗَﺪْ ﺃَﻓْﻠَﺢَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ‏( 1 ‏) ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻼﺗِﻬِﻢْ
‎ﺧَﺎﺷِﻌُﻮﻥَ ‏( 2 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥَ ‏( 3 ‏)
‎ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻠﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻓَﺎﻋِﻠُﻮﻥَ ‏( 4 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻔُﺮُﻭﺟِﻬِﻢْ
‎ﺣَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ ‏( 5 ‏) ﺍﻟﻰ ﺍﺧﺮ - ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻷَﻣَﺎﻧَﺎﺗِﻬِﻢْ ﻭَﻋَﻬْﺪِﻫِﻢْ
‎ﺭَﺍﻋُﻮﻥَ ‏( 8 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺻَﻠَﻮَﺍﺗِﻬِﻢْ ﻳُﺤَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ ‏( 9 ‏)
‎ﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻮَﺍﺭِﺛُﻮﻥَ ‏( 10 ‏) ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺮِﺛُﻮﻥَ ﺍﻟْﻔِﺮْﺩَﻭْﺱَ ﻫُﻢْ
‎ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ‏( 11 ) ১-নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। ২-যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। ৩-যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। ৪- যারা যাকাত সম্পাদনকারী। ৫-যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। ৮- এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। ৯-এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষাবেক্ষণ করে। ১০ এরাই হল সেই ওয়ারিশ। ১১-যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তারাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। {সূরা মুমিনুন-১-১১} এ আয়াতে সমূহে লক্ষ করুন-ছয়টি কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সফলকাম হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেই সাথে জান্নাতী হওয়ার ঘোষণেও দিয়েছেন। অথচ এ ছয় কাজে রোযার কথা নেই। নেই হজ্বের কথাও। তাহলে কি আল্লাহর বলা সফলকাম হওয়ার জন্য রোযা রাখার প্রয়োজন নেই? নেই হজ্ব ফরজ হলে হজ্ব আদায়েরও। এ দু’টি গুরত্বপূর্ণ ফরজ ছাড়াই কি ব্যক্তি জান্নাতী হয়ে যেতে পারে?
কিভাবে?
এর জবাব যেমন-এ ছয়টির মাঝেই পূর্ণ দ্বীন শামিল। তেমনি তাবলীগের ছয় উসূলের দাওয়াতের দ্বারাও পূর্ণ দ্বীনের উপর আমলের দিকেই আহবান করা হয়। যা কিছুতেই দ্বীনকে সীমাবদ্ধ করা নয়, যেমন আল্লাহ তায়ালা সীমাবদ্ধ করেন নি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.