Login | Register

ফতোয়া: জাকাত

ফতোয়া নং: ৭৩২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

জনাব, নি¤œলিখিত মাসআলার শরয়ী ফায়সালা দানকরে বাধিত করিবেন।ক. আমার ব্যবসা...

প্রশ্ন

জনাব, নি¤œলিখিত মাসআলার শরয়ী ফায়সালা দানকরে বাধিত করিবেন।

ক. আমার ব্যবসা থেকে খরচাদি বাদে উদ্বৃত্ত টাকা জমা করা হয় পরবর্তীতে বড় কোন একটি বিনিয়োগের জন্য। অর্থাৎ ব্যবসায়িক কাজে অথবা কোনো বাড়ি করার জন্য। বিনিয়োগের সুযোগ আসার আগ পর্যন্ত উক্ত টাকা আমি আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে এফডিআর করে রাখি। যা ২/১ বছর পর ভাঙ্গিয়ে মূল টাকা বিনিয়োগ করি এবং ব্যাংক কর্তৃক প্রদেয় মুনাফার টাকা আলাদা একটি একাউন্টে রেখে দেই, যা গরীবদের মধ্যে প্রয়োজনমত বিতরণ করা হয়। এবং অতীতে এ ধরনের টাকা দিয়ে জনকল্যাণার্থে রাস্তা তৈরিতে এবং পাবলিক টয়লেট তৈরিতে খরচ করা হয়েছে।

খ. এ ছাড়া সরকারী’ আধা-সরকারী সংস্থার সাথে ব্যবসা করতে হলে এবং কোনো লাইসেন্স নিতে হলে সেখানেও কিছু টাকা জামানত অত্যাবশ্যক হয়। উক্ত জামানতের নগদ অর্থ না দিয়ে এফডিআর আকারে জমা করা হয় এবং মেয়াদান্তে তাতেও কিছু টাকা মুনাফা আসে যা (ক) এর পদ্ধতিতে খরচ করি।

আমার এই পদ্ধতি ঠিক আছে কি না? যদি সহীহ না হয় তাহলে অন্য কোনো সহীহ পথ আছে কি না?

উল্লেখ থাকে যে, উক্ত (ক) এবং (খ) -এ বর্ণিত এফ ডি আর ভাঙ্গানোর আগ পর্যন্ত উক্ত টাকার নিয়মিত যাকাত দিয়ে থাকি।

প্রকাশ থাকে যে, আমি নিজে ব্যবসায়িক অথবা কোন বিনিয়োগের কাজে ব্যাংক থেকে কোনো ঋণ গ্রহণ করি না।

উত্তর

(ক, খ) ব্যাংকে জমাকৃত টাকার মালিক আপনি নিজে। সুতরাং পুনরায় বিনিয়োগ করা বা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা ঠিক আছে। আর ব্যাংক থেকে প্রদত্ত টাকা গরিব-মিসকিনের হক। তাদেরকে দিয়ে দেওয়াই কর্তব্য। সুতরাং এ টাকা গরিব-মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে কিংবা তাদের পেছনে ব্যয় করা বা এমন খাতেও দেওয়া যেতে পারে যার ভোক্তা বা ব্যবহারকারী শুধুই গরিবরা।

তবে কিছু ওলামায়ে কেরাম যেহেতু এ ধরনের টাকা জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে খরচ করারও অনুমতি দিয়ে থাকেন, এ হিসেবে অতীতে এ টাকা দিয়ে রাস্তা তৈরি করা বা বাথরুম বানিয়ে দেয়ার দ্বারাও আপনি দায়িত্বমুক্ত হয়ে গেছেন।

অবশ্য এগুলোর ব্যবহারকারী যেহেতু শুধু গরিবরা নয় তাই সামনে থেকে এ টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় না করে গরিবদেরকেই মালিক বানিয়ে দিতে হবে। এফডিআর করলেও জমার উপর বছরান্তে যাকাত দিতে হয়। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/১৭০; ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৭; কেফায়াতুল মুফতী ১০/২৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭৩১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাত প্রদানকালে ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়া জরুরি কি না? ঈদের দিন...

প্রশ্ন

যাকাত প্রদানকালে ব্যক্তিকে জানিয়ে দেওয়া জরুরি কি না? ঈদের দিন অনেক গরীব-মিসকিন বখশিশ চায়, তাদেরকে বখশিশ স্বরূপ যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

যাকাত প্রদানের সময় গ্রহীতাকে যাকাতের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। এক্ষেত্রে দাতার নিয়তই যথেষ্ট। অতএব, যাকাতের যোগ্য কেউ বখশিশ চাইলে তাকে না জানিয়ে যাকাতের টাকা প্রদান করলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু নিজ গৃহের কর্মচারী বা অধীনস্ত কর্মচারিদেরকে যাকাতের টাকা ঈদবোনাস হিসাবে দেওয়া যাবে না। কারণ সেগুলো তাদের পারিশ্রমিকেরই অংশবিশেষ। অবশ্য কর্মচারীকে তার নির্ধারিত বেতন ও বোনাস দেওয়ার পর গরিব হওয়ার কারণে যাকাত থেকে কিছু দিতে চাইলে তা জায়েয হবে।

-আল বাহরুর রায়েক ২/২১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭৩১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাতের টাকা মসজিদ মাদরাসার নির্মাণকাজে ব্যয় করা যাবে কি?

প্রশ্ন

যাকাতের টাকা মসজিদ মাদরাসার নির্মাণকাজে ব্যয় করা যাবে কি?

উত্তর

না, মসজিদ মাদরাসার নির্মাণ কাজে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না; বরং যাকাত আদায় হওয়ার জন্য শর্ত হল, যাকাত গ্রহণের যোগ্য কাউকে যাকাতের টাকার পূর্ণ মালিক বানিয়ে দেওয়া।

-মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক ৪/১১৩; হেদায়া ১/২০৫; ফাতহুল কাদীর ২/২০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৮২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭৩১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমরা ৩০ জন সদস্য মিলে একটি সমিতি করেছি। এতে প্রত্যেক...

প্রশ্ন

আমরা ৩০ জন সদস্য মিলে একটি সমিতি করেছি। এতে প্রত্যেক সদস্যকে এককালীন ১০০০/- টাকা করে জমা দিতে হয়েছে। ফলে মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩০,০০০/- টাকা। বিগত দু’বছর ব্যবসায় খাটিয়ে লাভ হয়েছে ১২০০/- টাকা। কিন্তু আমরা এ টাকার যাকাত পরিশোধ করিনি। এখন আমাদের জানার বিষয় হল, আমাদেরকে কি উক্ত টাকার যাকাত পরিশোধ করতে হবে?

উত্তর

সমিতির উপর যাকাত ফরয হয় না। যাকাত ফরয হয় ব্যক্তির উপর। তাই সমিতির সদস্যদের মধ্যে যার সমিতিতে জমাকৃত অর্থসহ অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদ মিলে নেসাব পরিমাণ হবে তার উপর যাকাত ফরয হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১২৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮১; মাজমাউল আনহুর ১/২৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭৩০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার কাছ থেকে একজন ১লাখ টাকা ধার নিয়েছে। আমার কাছে...

প্রশ্ন

আমার কাছ থেকে একজন ১লাখ টাকা ধার নিয়েছে। আমার কাছে যে নগদ টাকা আর গয়না আছে, তার যাকাত তো আমি দিবই। কিন্তু ওই ধার নেওয়া টাকার যাকাতও কি আমাকে দিতে হবে?

উত্তর

হাঁ, ওই এক লাখ টাকার যাকাতও আপনাকে দিতে হবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/৩০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একটি সরকারী চাকুরিতে কর্মরত আছি। আমার বেতনের নির্দিষ্ট একটা...

প্রশ্ন

আমি একটি সরকারী চাকুরিতে কর্মরত আছি। আমার বেতনের নির্দিষ্ট একটা অংক প্রতি মাসে সরকার প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামুলক কেটে রাখে। যার উপর চাকুরি শেষে অধিক হারে সুদ দেওয়া হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল-

১. মূল বেতনের অতিরিক্তটা নেওয়া কি আমার জন্য বৈধ হবে?

২. এই টাকার উপর কি প্রতি বছর আমাকে যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

১. সরকারী প্রতিষ্ঠানের বাধ্যতামূলক জিপি ফান্ডে যতটুকু জমা করা আবশ্যক শুধু ততটুকু রাখা হলে জমাকৃত অংশ এবং অতিরিক্ত অংশ পুরোটাই আপনার জন্য বৈধ। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত অংশকে সরকারীভাবে সুদ বলা হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে তা সুদের অন্তর্র্ভুক্ত নয়।

২. ঐ টাকা হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তার উপর যাকাতও ফরয নয়। হস্তগত হওয়ার পর থেকে তা যাকাতযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে।

প্রকাশ থাকে যে, প্রভিডেন্ট ফান্ডে যতটুকু বাধ্যতামূলক কেটে রাখা হয় তার চে বেশি কাটানো নাজায়েয। অতিরিক্ত কাটালে শুধু কর্তিত টাকা অর্থাৎ জমাকৃত টাকা হালাল হবে। স্বেচ্ছায় জমার উপর অতিরিক্ত যা দেওয়া হবে তা সুদ ও হারাম হবে। আর কেউ যদি স্বেচ্ছায় জিপি ফান্ডে জমা করে তাহলে মূল জমার উপর তাকে বছরান্তে যাকাত দিতে হবে।

-মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৭৯; আহকামুল কুরআন জাসসাস ১/৪৬৭; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার অধীনে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী কাজ করে। আমি রমযান...

প্রশ্ন

আমার অধীনে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী কাজ করে। আমি রমযান মাসে যাকাত আদায় করি। যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় আমার কাছে বেতন বাবদ তাদের বেশ টাকা পাওনা থাকে। আমি উক্ত টাকা ঋণ হিসেবে বিয়োগ করে অবশিষ্ট সম্পদের যাকাত আদায় করি। মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, আমার এভাবে যাকাত আদায় করা ঠিক আছে কি?

উত্তর

হাঁ, কর্মচারীদের বেতন বাবদ পাওনা অর্থ আপনার ঋণ। অতএব তা বাদ দিয়ে যাকাত আদায় করা ঠিক আছে।

প্রকাশ থাকে যে, কর্মচারীদের বেতন যথা সময়ে আদায় করে দেওয়া কর্তব্য। ইসলামে এর গুরুত্ব অনেক। যথাসময়ে তাদের প্রাপ্য না দেওয়া এবং বিলম্ব করা গুনাহ।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪০; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই পাগল। সম্প্রতি আমার বাবা মারা গিয়েছেন।...

প্রশ্ন

আমার ভাই ছোটবেলা থেকেই পাগল। সম্প্রতি আমার বাবা মারা গিয়েছেন। সম্পত্তি বণ্টনের সময় আমরা ঐ ভাইকে মীরাছ দিয়েছি। সে প্রায় ১ লক্ষ টাকা পেয়েছে। এখন জানতে চাই, তার উপর কি যাকাত ফরয হবে?

উত্তর

না, আপনার উক্ত ভাইয়ের উপর যাকাত ফরয নয়। তার সম্পদের যাকাত দিতে হবে না। কেননা পাগল ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হয় না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৬২; বাদায়েউস সনায়ে ২/৮২; ফাতহুল কাদীর ২/১১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

ঢাকার ওয়াশপুর এলাকায় আমার একটি জমির উপর ৩ তলা ভবন...

প্রশ্ন

ঢাকার ওয়াশপুর এলাকায় আমার একটি জমির উপর ৩ তলা ভবন নির্মাণের চুক্তি হয় একটি হাউজিং কোম্পানির সাথে। বিনিময় ছিল ৪৮ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যে ৩৩ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এদিকে ভবন নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। অবশিষ্ট ১৫ লক্ষ টাকা ধীরে ধীরে কিস্তিতে কয়েক মাসে পরিশোধ করব। এদিকে এখনই আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই জানতে চাই, এখন যাকাতের হিসাবের সময় এই ১৫ লক্ষ টাকা যাকাতের হিসাব থেকে বিয়োগ হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার যেহেতু যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে এবং বাকি পনের লক্ষ টাকা পরবর্তীতে কিস্তিতে ধীরে ধীরে আদায় করতে হবে। তাই এ টাকা গত বছরের যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে না। অতএব এই পনের লক্ষ টাকারও যাকাত দিতে হবে।

-জামিউর রুমূয ১/৩০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৯১; রদ্দুল মুহতার ২/২৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার বাড়ীতে ঘর করা জরুরি। তাই ঘর করার জন্য আমি...

প্রশ্ন

আমার বাড়ীতে ঘর করা জরুরি। তাই ঘর করার জন্য আমি কিছু কিছু করে টাকা জমাচ্ছি। এখন আমার ঘর করতে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মত লাগে। কিন্তু আমি গত দুই বছরে প্রায় দেড় লাখ টাকার মত জমিয়েছি। ইচ্ছা হল দুই বা আড়াই লাখ টাকা হলে ঘর করা শুরু করবো, বাকি নগদে মিলিয়ে। এখন প্রশ্ন হল, আমার এই জমাকৃত টাকার উপর কি যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

জমাকৃত টাকাগুলো যদি নেসাব পরিমাণ হওয়ার পর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই এর দ্বারা নির্মাণ সামগ্রী কিনে ফেলা হয় তাহলে তার আর যাকাত দিতে হবে না। তবে নেসাবের উপর বছর পুরা হওয়ার কাছাকাছি হয়ে গেলে যাকাত থেকে বাঁচার জন্য এমনটি করা হলে তা অন্যায় হবে। আর বাড়ী বানানোর জন্য জমাকৃত টাকা নেসাব পরিমান হলে এবং বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলে এর যাকাত দিতে হবে। বছর অতিক্রান্ত হওয়া পর তা খরচ করে ফেললেও ঐ যাকাত মাফ হবে না।

-বাদায়েউস সনায়ে ২/১০১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার দোকানে পণ্য আছে মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার।...

প্রশ্ন

আমার দোকানে পণ্য আছে মোট ৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার। সাথে মানুষের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য ছোট-বড় মিলে ১৫টি সাইকেলও আছে। প্রশ্ন হল, এখন আমি কীভাবে যাকাত আদায় করব? দোকানের মোট পুঁজির সাথে সাইকেলগুলোর মূল্য যোগ করে, নাকি পৃথক পৃথকভাবে আদায় করব? দ্রম্নত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ভাড়ার বস্ত্তর মূল্যের উপর যাকাত আসে না। বরং তা থেকে অর্জিত আয় উদ্বৃত্ত থাকলে তারযাকাত দিতে হয়। তাই আপনাকে ঐ তিন লক্ষ ৮০ হাজার টাকার সাথে শুধু সাইকেলগুলো থেকেভাড়া বাবদ প্রাপ্ত আয়ের যা জমা আছে তার যাকাত দিতে হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫০; আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ ১/১৮২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

প্রতি বছর আমি লুঙ্গি, শাড়ি ইত্যাদির মাধ্যমে যাকাত আদায় করি।...

প্রশ্ন

প্রতি বছর আমি লুঙ্গি, শাড়ি ইত্যাদির মাধ্যমে যাকাত আদায় করি। এ বছরও যাকাতের নিয়তে ঢাকা ইসলামপুর থেকে ৪০০টি লুঙ্গি ও ৩০০টি শাড়ি ক্রয় করে কুড়িগ্রামগামী একটি বাসের ছাদে এগুলো উঠিয়ে দেই। বাস কর্তৃপক্ষ কুড়িগ্রাম জেলা বাস টার্মিনালে এগুলো নামিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে আমার পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়ে যায়। গিয়ে দেখি, কাপড়ের গাঁটরিটি খুলে পড়ে আছে। তাতে ৬০/৭০টি লুঙ্গি, শাড়িও নেই।

প্রশ্ন হল, আমাকে এখন আবার নতুন করে ক্রয় করে যাকাত দিতে হবে, নাকি প্রথমবার যাকাতের নিয়তে ক্রয় করার দ্বারাই যাকাত আদায় হয়ে গেছে?

উত্তর

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধির নিকট যাকাতের মাল পৌঁছে দেওয়ার আগেযাকাত আদায় হয় না। এক্ষেত্রে যাকাতের নিয়তে ক্রয় করা বা কোনো স্থানে পৃথক করে রাখাযাকাত আদায়ের জন্য যথেষ্ট নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হারিয়ে যাওয়া কাপড়গুলো যাকাতহিসেবে কর্তন হবে না। ঐ পরিমাণ যাকাত আপনাকে আদায় করতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২১১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আল্লাহর রহমতে আমার ছোটখাটো একটা ব্যবসা আছে। প্রতি রমযানের শেষের...

প্রশ্ন

আল্লাহর রহমতে আমার ছোটখাটো একটা ব্যবসা আছে। প্রতি রমযানের শেষের দিকে আমি ব্যবসার বাৎসরিক হিসাব সম্পন্ন করি। কিন্তু রমযানের শুরু থেকে যাকাত দেওয়া শুরু করে দেই। এ বছর ঈদের আগের দিন হিসাব শেষে দেখলাম, আমার যে পরিমাণ যাকাত ওয়াজিব হয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা হয়েছে।

আমি জানতে চাই, যাকাত হিসেবে অতিরিক্ত যে অংশ আমি আদায় করেছি তা কি আমি আগামী বছরের যাকাত হিসেবে গণ্য করতে পারব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ বছর যে পরিমাণ যাকাত ফরয ছিল তার অতিরিক্ত যা যাকাত হিসেবে দিয়েছেনতা আপনি আগামী বছরের যাকাতের মধ্যে গণ্য করতে পারবেন।

-কিতাবুত তাজনীস ২/৩৩১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/২৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার বাবার ইন্তেকালের পর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে বেশ কিছু সম্পদ...

প্রশ্ন

আমার বাবার ইন্তেকালের পর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে বেশ কিছু সম্পদ আমার মালিকানায় আসে। যার সবই প্রায় বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার। আমার স্বামী আর্থিকভাবে ততটা স্বচ্ছল নন। আমি চাচ্ছি, ব্যবসা করার জন্য তাকে মোটামুটি বড় একটা মূলধনের মালিক বানিয়ে দিতে। কিন্তু কোম্পানি থেকে আমার যে লাভ আসে তার অধিকাংশই আমার অলঙ্কারাদি ও অন্যান্য সম্পদের যাকাত হিসেবে আদায় করে দিতে হয়।

জানার বিষয় হল, আমি যাকাতের অংশসহ পুরো লভ্যাংশের টাকা আমার স্বামীকে দিতে পারব কি? না যাকাতের অংশ তাকে দেওয়া যাবে না?

উত্তর

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। তাই আপনার স্বামী অসচ্ছল হলেও তাকেআপনি যাকাতের টাকা দিতে পারবেন না।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩৯৫; মুখতাসারুল কুদূরী ১২৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাত হিসাবের সময় কি স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা হিসাব থেকে বাদ...

প্রশ্ন

যাকাত হিসাবের সময় কি স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা হিসাব থেকে বাদ দিয়ে যাকাত হিসাব করা হবে, না বাদ দেওয়া হবে না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

অনাদায়ী মোহরের টাকা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে না। তবে যদি আপনি চলতি যাকাতবর্ষের মধ্যেই মোহর আদায় করে দেওয়ার ইচ্ছা করেন তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ পরিমাণ টাকা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে।

উল্লেখ্য, বিশেষ কোনো ওজর ছাড়া মহর আদায়ে বিলম্ব করা উচিত নয়। বরং একসাথে না পারলে ধীরে ধীরে হলেও তা আদায় করে দেওয়া উচিত।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার এক প্রতিবেশী, যিনি মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনের ছোট...

প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী, যিনি মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনের ছোট একটি চাকরি করেন। চাকরি ও ক্ষেতের ফসলের আয় দ্বারা তার সংসার মোটামুটি চলে। অতিরিক্ত বেশি কিছু থাকে না। এ ছাড়া তার তিনটি নারিকেল ও সুপারির বাগান রয়েছে, যেগুলোর মূল্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা। তার দশ বছরের একটি ছেলেকে তিনি আমার কথায় মাদরাসায় পড়াতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু তিনি মাদরাসার খরচাদি দিতে রাজি নন। তার কথা হল, আপনি পারলে আপনার দায়িত্বে নিয়ে পড়ান, অন্যথায় থাক। যদিও তিনি চেষ্টা করলে মোটামুটি খরচ বহন করতে পারবেন। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমি কি আমার বা অন্য কারো যাকাতের টাকা থেকে ঐ ছেলের মাদরাসার খরচ চালাতে পারব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বিবরণ থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, আপনার প্রতিবেশী যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত নয়। কেননা প্রশ্নে উল্লেখিত নারিকেল ও সুপারির বাগানগুলি তার প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদ। এ সম্পদের কারণে তার উপর যদিও যাকাত ফরয নয়। কিন্তু এ কারণে সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে না। অতএব তার না-বালেগ সন্তানকেও যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে না। উল্লেখ্য যে, সন্তানদেরকে প্রয়োজনীয় ও দ্বীনী শিক্ষা দেওয়া পিতার কর্তব্য। পিতার সামর্থ্য থাকলে এর খরচ বহন করা তারই দায়িত্ব। মাদরাসায় পড়লেই অন্যের খরচে পড়াতে হবে এ মানসিকতা সহীহ নয়। অবশ্য ছেলেটির পিতা খরচ দিতে সম্মত না হলে আপনারা চাইলে নফল দান দ্বারা তার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারবেন। কিন্তু যাকাতের টাকা থেকে তার পেছনে খরচ করা যাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৫৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৭, ৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একজন ছাত্র। আমার পাঁচ ভরি স্বর্ণ আছে। বর্তমানে এছাড়া...

প্রশ্ন

আমি একজন ছাত্র। আমার পাঁচ ভরি স্বর্ণ আছে। বর্তমানে এছাড়া আমার অন্য কোনো সম্পদ নেই। তবে পড়ার জন্য সংগ্রহ করা অনেক কিতাব আছে, যার মূল্য প্রায় দুই লক্ষ টাকা।

প্রশ্ন হল, আমার কি এই কিতাবগুলোর যাকাত দিতে হবে? যদি আদায় করতে হয়

তাহলে কি উক্ত স্বর্ণের মূল্যের সাথে কিতাবের মূল্য যোগ করে মোট টাকার যাকাত আদায় করতে হবে, নাকি শুধু কিতাবের মূল্যের যাকাত দিতে হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উপর যাকাত ফরয নয়। কারণ আপনার নিকট প্রয়োজন অতিরিক্ত যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। স্বর্ণের নেসাব সাড়ে সাত ভরি। সেখানে আপনার কাছে রয়েছে পাঁচ ভরি, যা নেসাবের চেয়ে কম। আর আপনার কিতাবাদি যেহেতু পড়ার জন্য তাই এগুলো যাকাতের হিসাবে ধর্তব্য হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/১২০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ব্যবসার জন্য তিন লক্ষ...

প্রশ্ন

আমি আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে ব্যবসার জন্য তিন লক্ষ টাকা ধার নিয়েছি। পরিশোধের নিশ্চয়তাস্বরূপ তার কাছে ১৫ ভরি স্বর্ণ বন্ধক রেখেছি। দুই বছর হয়ে গেছে। এখনও আমি সেই টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। তাই স্বর্ণগুলোও এখনও বন্ধক রয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, ঐ স্বর্ণগুলোর বিগত দুই বছরের যাকাত দিতে হবে কি না?

উত্তর

বন্ধকী বস্তুর উপর যাকাত ফরয। তাই বিগত দুই বছরের যাকাত আপনাকে দিতে হবে। তবে এখনই দেওয়া আবশ্যক নয়। যখন তা ফিরিয়ে আনবেন তখন বিগত বছরগুলোর যাকাত আদায় করলেই চলবে। আর চাইলে বন্ধক থাকা অবস্থায়ই ঐ স্বর্ণের যাকাত বছরে বছরে আদায় করে দিতে পারেন।

-কিতাবুল আছল ৩/১৭৫; মাবসূত, সারাখসী ২১/১২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এটি পরিপূর্ণভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান।...

প্রশ্ন

আমি সরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এটি পরিপূর্ণভাবে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। জমা রাখা টাকার একটি ন্যূনতম পরিমাণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত করা হয়ে থাকে। আমি ইচ্ছা করলে বেশি টাকাও জমা রাখতে পারি। ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সলে বেতনের প্রায় অর্ধেক জমা রেখেছিলাম। এতে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা সরকারী বাধ্যবাধকতার অতিরিক্ত জমা করেছি। এই টাকার উপর মুনাফা দেওয়া হয়। চাকরি হতে অবসর গ্রহণের সময় এই টাকা উঠানো যায়। তবে নিজ প্রয়োজনে এই টাকার ৮০% যে কোনো সময় লোন পাওয়া যায়। তবে উক্ত টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করা লাগে।

এ অবস্থায় আমার জানার প্রয়োজন-

ক) এই মুনাফা নেওয়া বৈধ হবে কি?

খ) এই জমানো টাকার উপর প্রতি বছর যাকাত আদায় করতে হবে কি?

উত্তর

সরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে চাকরিজীবীর বেতনের যে অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে কেটে রাখা হয় তার উপর সুদের নামে অতিরিক্ত যা দেওয়া হয় তা চাকরিজীবীর জন্য গ্রহণ করা জায়েয আছে। এটাকে সুদ বলা হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে তা সুদ নয়।

আর প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত আরো টাকা নিজ থেকে কাটানো জায়েয নেই। কেউ কাটালে এ টাকার উপর যা অতিরিক্ত দেওয়া হবে তা নাজায়েয ও সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

সুতরাং ২০০২ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আপনার জন্য বাধ্যতামূলক অংশের অতিরিক্ত টাকা জমা করা বৈধ হয়নি। এ কারণে আপনার সুদি চুক্তির গুনাহ হয়েছে। এখন সম্ভব হলে আপনার কর্তব্য হবে, বাধ্যতামূলকের অতিরিক্ত যা জমা করেছেন তার সুদসহ উঠিয়ে ফেলা এবং এই সুদ সওয়াবের নিয়ত ব্যতীত গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া। আর এখন উঠানো সম্ভব না হলে চাকরি শেষে যখন সব টাকা উঠাবেন তখন হলেও ঐচ্ছিক জমাকৃত অংশের সুদ সদকা করে দিতে হবে। আর নিজ বেতনের জমাকৃত অংশ আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

প্রকাশ থাকে যে, বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের মূল ও অতিরিক্ত হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত তা যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই তা হস্তগত হওয়ার পর বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না।

আর আপনি স্বেচ্ছায় যে এক লক্ষ টাকা জমা করেছিলেন এ টাকার যাকাত জমার বছর থেকেই দিতে হবে। এ টাকার অতিরিক্তটা যাকাতযোগ্য নয়; বরং তা পুরোটাই সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকাযোগ্য।

-মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৫১১; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; ইমদাদুল আহকাম ৩/৪৮০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার এক ভাই ছোটবেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে রূপার মেডেলসহ...

প্রশ্ন

আমার এক ভাই ছোটবেলায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে রূপার মেডেলসহ রূপার তৈরি আরও নানা জিনিস পুরস্কার পেয়েছে। যার পরিমাণ প্রায় ৬৫ তোলা।

আমি জানতে চাই, এখন বালেগ হওয়ার পর কি তার উপর এগুলোর কারণে যাকাত ওয়াজিব হবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাঁ, বালেগ হওয়ার পর তাকে এই রূপাগুলোর যাকাত দিতে হবে। বালেগ হওয়ার পর থেকে প্রত্যেক বছর ২.৫% করে রূপা বা তার মূল্য যাকাত দিতে হবে।

-মাবসূত, সারাখসী ২/১৮৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৩৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার স্বামী অনেক বছর যাবৎ একটি রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরে...

প্রশ্ন

আমার স্বামী অনেক বছর যাবৎ একটি রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরে অবস্থানরত। তিনি বড় কোনো আয়-উপার্জন করেন না। আমি একটি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করি এবং আমার উপার্জনেই সংসার চলে। আমার নিজের উপর যাকাত ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার স্বামী ও সন্তানদের পক্ষ থেকেও কি আমাকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে?

উল্লেখ্য, আমার স্বামী ও সন্তানদের এ পরিমাণ সম্পদ নেই যে, তাদের উপর যাকাত বা সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়।

উত্তর

না, স্বামী ও সন্তানদের সদকায়ে ফিতর আপনাকে আদায় করতে হবে না। স্বামীর উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হোক বা না হোক স্ত্রীর জন্য তা আদায় করা আবশ্যক নয়। আর পিতার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হলে নাবালেগ সন্তানের ফিতরা পিতাকেই আদায় করতে হয়। সন্তানের মায়ের উপর এ দায়িত্ব বর্তায় না।

উল্লেখ্য, মা সামর্থ্যবান হলেও সন্তানদের সদকায়ে ফিতর দেওয়া তার উপর ওয়াজিব হয় না।

-কিতাবুল আছল ২/১৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৩; আল বাহরুর রায়েক ২/২৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার উপর হজ্ব ফরয। যাব যাব করে এখনো যাওয়া হয়নি।...

প্রশ্ন

আমার উপর হজ্ব ফরয। যাব যাব করে এখনো যাওয়া হয়নি। হজ্বের উদ্দেশ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা আড়াই বছর যাবৎ ব্যাংকে জমা আছে। তো এই টাকার উপরও কি প্রতি বছর যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

জ্বি হাঁ, হজ্বের উদ্দেশ্যে জমানো টাকার উপরও প্রতি বছর যাকাত দিতে হবে। বিগত দুই বছরের যাকাত না দেওয়া হলে সেটাও আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে নিয়ম হল, পূর্বের বছরের যাকাত বাদ দিয়ে পরবর্তী বছরের যাকাতের হিসাব বের করা। অতএব প্রথম বছরের যাকাত পাঁচ লক্ষ টাকার উপর ১২,৫০০/-, দ্বিতীয় বছরের যাকাত ৪,৮৭,৫০০/- টাকার উপর ১২,১৮৭.৫/- ও চলতি বছরের যাকাত ৪,৭৫,৩১২.৫/- টাকার উপর ১১,৮৮২.৮১/- টাকা আদায় করতে হবে।

আর যত দ্রুত সম্ভব হজ্ব আদায় করে নিতে হবে। কেননা বিনা ওজরে হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করা গুনাহ।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪০; ফাতহুল কাদীর ২/১১৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯-২৬১, ৪৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একটি পুকুরে মাছ চাষ করি। পাঁচ-ছয় মাস পরপর মাছ...

প্রশ্ন

আমি একটি পুকুরে মাছ চাষ করি। পাঁচ-ছয় মাস পরপর মাছ বিক্রি করি। ঐ টাকা দিয়ে সংসার চালাই। এবং ঐ টাকা দিয়েই আবার পোনা কিনে পুকুরে ছাড়ি। যদি কিছু টাকা বেশি হয় তাহলে আরেকটা পুকুর নিই। প্রশ্ন হল, মাছ বিক্রি করার টাকাটা তো এক বছর পূর্ণ হয় না। বছর শেষ হওয়ার আগেই টাকা শেষ হয়ে যায়। তাহলে এই টাকার উপর যাকাত আসবে কীভাবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

টাকা যেমন যাকাতযোগ্য সম্পদ তদ্রূপ ব্যবসার মালও যাকাতযোগ্য সম্পদ। আপনার হাতে সারা বছর নেসাব পরিমাণ টাকা জমা না থাকলেও আপনার চাষের মাছ তো থাকে। চাষের মাছও যাকাতযোগ্য সম্পদ। অতএব বছর শেষে পুকুরে কী পরিমাণ মাছ আছে তা অনুমান করে নেসাবের সমমূল্যের হলে যাকাত দিতে হবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭১০৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০১৬৮; কিতাবুল আছল ২/৯৭; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৩০০-৩০১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার পিতার ইন্তেকালের পর উত্তরাধিকার সূত্রে আমি নগদ পনের লক্ষ...

প্রশ্ন

আমার পিতার ইন্তেকালের পর উত্তরাধিকার সূত্রে আমি নগদ পনের লক্ষ টাকা ও অন্যান্য সম্পত্তি লাভ করি। এই টাকা আমার নিকট চার বছর জমা ছিল। এরপর আমার বাড়ি নির্মাণ বাবদ তা ব্যয় হয়েছে। এখন সামান্য কিছু টাকাই আমার কাছে আছে। টাকাগুলো থাকা অবস্থায় আমি সেগুলোর কোনো যাকাত আদায় করিনি। জানার বিষয় হল, বাড়ি নির্মাণ বাবদ আমার যে টাকা খরচ হয়ে গেছে সেগুলোর বিগত বছরগুলোর যাকাত কি আদায় করতে হবে?

উত্তর

হাঁ, আপনাকে ঐ পনের লক্ষ টাকার বিগত চার বছরের যাকাত দিতে হবে। বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করার কারণে পিছনের বছরগুলোর যাকাত মাফ হয়ে যায়নি।

চার বছরের প্রথম বছরে আপনাকে পনের লক্ষ টাকারই যাকাত দিতে হবে। আর পরবর্তী বছরের ক্ষেত্রে পূর্বের বকেয়া যাকাত বাদ দিয়ে বাকি টাকার যাকাত দিতে হবে। সে হিসেবে প্রথম বছরের যাকাত হবে ৩৭,৫০০/- টাকা। দ্বিতীয় বছরের যাকাত হবে ৩৬,৫৬২.৫০/- টাকা। তৃতীয় বছরের যাকাত হবে ৩৫,৬৪৮.৪৩/- টাকা। চতূর্থ বছরের যাকাত হবে ৩৪,৭৫৭.২৫/-টাকা। সুতরাং ঐ চার বছরে আপনার যাকাত ওয়াজিব হয়েছে সর্বমোট ১,৪৪,৪৬৮.২৫/- টাকা। এটা এখনও আপনার উপর আবশ্যক রয়ে গেছে।

আর আপনার নিকট বর্তমানে যে টাকা আছে তা থেকে এই বকেয়া যাকাত বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা নেসাব পরিমাণ হলে যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর সে টাকার বর্তমানের যাকাতও আপনাকে আদায় করতে হবে। আর যদি নেসাব পরিমাণ না থাকে তবে যাকাত ফরয হবে না।

-আলজামিউল কাবীর ১৬; মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৮০-১৮১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাতের নেসাব কী? এ বছরের যাকাতের নেসাবের পরিমাণ জানতে চাই।...

প্রশ্ন

যাকাতের নেসাব কী? এ বছরের যাকাতের নেসাবের পরিমাণ জানতে চাই। স্বর্ণের যাকাত কি এক বছর পর দিতে হয়? আমার যাকাত এক বছর হওয়ার আগেই আমি কিছু টাকা দিয়ে দিয়েছিলাম তা কি বৈধ হবে? আর কারো উপর নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ আছে কিন্তু তা মাত্র দুই মাস হয়েছে এমন ব্যক্তিকে কি যাকাত দেওয়া যাবে? আর আমার একটি স্বর্ণের আংটি ছিল, যা ১ বছর হওয়ার আগেই বিক্রি করেছিলাম। এখন কি সেই আংটিরও যাকাত দিতে হবে?

উত্তর

বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী (ভরি প্রতি প্রায় ৬৫০/- টাকা হিসাবে) রূপার নেসাব হয় ৩৪০০০/- টাকা। তাই কারো নিকট ঐ পরিমাণ টাকা থাকলে বা স্বর্ণ-রূপা কিংবা টাকা ও স্বর্ণ-রূপা এবং ব্যবসায়িক পণ্য মিলে নেসাব পরিমাণ থাকলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। তদ্রূপ কারো নিকট শুধু স্বর্ণ থাকলে সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা শুধু সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা থাকলে তার উপর যাকাত ফরয হবে। এর কম থাকলে যাকাত ফরয হবে না।

নেসাব পরিমাণ সম্পদের উপর এক বছর অতিবাহিত হলে যাকাত দিতে হবে। তাই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যে আংটি বিক্রি করা হয়েছে তার যাকাত প্রদান করতে হবে না।

আর গরিব-মিসকীনরাই হল যাকাতের প্রকৃত হকদার। তাই কারো নিকট প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে ঐ সম্পদের উপর বছর অতিক্রান্ত না হলেও তাকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির কাছে নেসাব পরিমাণ স্বর্ণ থাকার কারণে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৯৬৬, ৯৯৪৮, আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৯, ১/২৬৪; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩০৫, ২/২৬৬, ২/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৩, ২/৩৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি ঢাকায় একটি মাদরাসায় পড়াশুনা করি। একদিন এক দরিদ্র লোক...

প্রশ্ন

আমি ঢাকায় একটি মাদরাসায় পড়াশুনা করি। একদিন এক দরিদ্র লোক এসে চিকিৎসার জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা চাইল। খবর নিয়ে জানতে পারলাম তার বাড়ি ভোলা। এবং সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। আর এদিকে আমি ইতিপূর্বে একটি কসম করে ভঙ্গ করেছি। তাই ভাবলাম, আমাকে তো দশজন দরিদ্রকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে বা এর মূল্য দিতে হবেই তাহলে এই ব্যক্তিকে দুই বেলার মূল্য ১০০ টাকা দিয়ে দেই। কিন্তু আমার কাছে মাত্র পঞ্চাশ টাকা ছিল। তাই এক বেলার নিয়তে দিয়ে দেই। পরে জনৈক আলেম বিষয়টি জানতে পেরে বললেন, এভাবে কাফফারা আদায় হবে না। একজনকে পূর্ণ দুই বেলার মূল্যই দিতে হবে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ আলেম কি ঠিক বলেছেন?

উত্তর

হাঁ, তিনি ঠিকই বলেছেন। কাফফারা আদায়ের জন্য দশজন মিসকীনের প্রত্যেককে দুই বেলা খাওয়াতে হবে বা দুই বেলা খাবারের মূল্য দিতে হবে। কাউকে শুধু এক বেলা খাওয়ালে বা এক বেলার মূল্য দিলে তা কসমের কাফফারার অন্তর্ভুক্ত হবে না। অবশ্য নির্দিষ্ট ঐ দরিদ্র ব্যক্তিকেই যদি আরেক বেলা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তখন কসমের কাফফারা হিসেবে ধর্তব্য হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৭/১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১০৮; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি আমার দোকানে কয়েকজন কর্মচারী রেখেছি। তাদের সাথে চুক্তি হয়েছে...

প্রশ্ন

আমি আমার দোকানে কয়েকজন কর্মচারী রেখেছি। তাদের সাথে চুক্তি হয়েছে যে, তাদেরকে প্রত্যেক মাসে বেতন তো দেওয়া হবে। সাথে ঈদ ইত্যাদি উপলক্ষে নির্ধারিত অংকের বোনাসও দেওয়া হবে। এখন জানার বিষয় হল, আমি কি যাকাতের টাকা থেকে তাদেরকে বোনাস দিতে পারব?

উত্তর

যাকাতের টাকা দ্বারা কর্মচারীদেরকে ঈদ বোনাস দেওয়া জায়েয হবে না। কেননা বোনাস পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত। আর যাকাত সম্পূর্ণ বিনিময়হীনভাবেই দেওয়া আবশ্যক। তাই যাকাতের টাকা দিয়ে বোনাস দিলে যাকাত আদায় হবে না।

অবশ্য কর্মচারীকে তার নির্ধারিত বেতন ও বোনাস দেওয়ার পর গরিব হওয়ার কারণে যাকাত থেকে কিছু দিতে চাইলে তা জায়েয হবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্তটা যাকাত বলে দেওয়াই শ্রেয় হবে। যাতে সে যাকাতের টাকাকে মালিকের অনুগ্রহ বা বোনাসের অতিরিক্ত বিভিন্ন সময় যা আশা করে সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত মনে না করে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

চলতি বছরসহ গত তিন বছর যাবৎ আমার মালিকানায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত...

প্রশ্ন

চলতি বছরসহ গত তিন বছর যাবৎ আমার মালিকানায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা রয়েছে। কিন্তু কোনো বছরের যাকাতই আমি আদায় করিনি। এ বছর তিন বছরের যাকাত একসাথে আদায় করতে চাচ্ছি। এখন আমি কোন বছরের যাকাত কত টাকা আদায় করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি প্রথম বছরে ২,২০,০০০/- টাকার উপর ৫,৫০০/- টাকা যাকাত আদায় করবেন। দ্বিতীয় বছরে ৫,৫০০/- টাকা বাদ দিয়ে মোট ২,১৪,৫০০/- টাকার উপর ৫,৩৬২.৫০/- টাকা যাকাত দিবেন। আর চলতি বছরে গত দুই বছরের যাকাতের মোট ১০,৮৬২.৫০/- টাকা বিয়োগ করে ২,০৯,১৩৭.৫০/- টাকার উপর ৫,২২৮.৪৩/- টাকা যাকাত দিবেন।

উল্লেখ্য যে, যাকাত ইসলামের একটি মৌলিক ফরয বিধান। তা আদায়ে বিলম্ব করা বা শিথিলতা প্রদর্শন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

-কিতাবুল আছল ২/৫৯; ফাতহুল কাদীর ২/১১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৩২; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি কে? আত্মীয়কে কি যাকাত দেওয়া যায়?...

প্রশ্ন

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি কে? আত্মীয়কে কি যাকাত দেওয়া যায়? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

যে ব্যাক্তির নিকট প্রয়োজনীয় সামান্য অর্থ সম্পদ আছে অথবা কিছুই নেই তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। তদ্রƒপভাবে যার কাছে ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য সমপরিমাণ প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ নেই তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। অনুরূপভাবে যার কাছে এ পরিমান সম্পদ আছে কিন্তু সে এমন ঋণগ্রস্থ যে, ঋণ পরিশোধ করে দিলে তার কাছে এ পরিমাণ সম্পদ থাকে না তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে। তবে শিল্পঋণের হুকুম এ থেকে ভিন্ন। অর্থাৎ কারো যদি ব্যক্তি মালিকানায় নেসাব পরিমাণ যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকে এবং শিল্পঋণও থাকে তাহলে সে ব্যক্তিগত যাকাতযোগ্য সম্পদের যাকাত আদায় করবে। ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে শিল্পঋণ বাদ দিবে না।

আর ভাই বোন ভাতিজা, ভাগনে, চাচা, মামা, ফুফু, খালা, শ্বশুড়-শাশুড়ী প্রমুখ আত্মীয় স্বজন গরীব অসহায় হলে তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে নিজের পিতা-মাতা,দাদা-দাদী, নানা-নানী, প্রমুখ ঊর্ধ্বতন আত্মীয় স্বজন এবং ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়-স্বজন গরীব হলেও তাদেরকে যাকাত দেওয়া জাযেয হবে না। তদ্রƒপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবে না।

প্রকাশ থাকে যে, যাকাত গ্রহণ করতে পারে এমন আত্মীয়স্বজনকে যাকাত দিলে যাকাত দেওয়ার সওয়াবের পাশাপাশি আত্মিয়তার সম্পর্কের হক আদায়ের সাওয়াবও হবে।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ৩/৮, ১১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪০-২৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯,৩৪৩, ৩৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একজন চাকুরিজীবী। পাশাপাশি আমার একটি ব্যবসাও আছে। বিগত জুন...

প্রশ্ন

আমি একজন চাকুরিজীবী। পাশাপাশি আমার একটি ব্যবসাও আছে। বিগত জুন মাস থেকে আমার যাকাত-বর্ষ শুরু হয়েছে। তখন ব্যবসার পণ্য-মূল্য ও নগদ টাকা মিলিয়ে আমার কাছে সর্বমোট চার লক্ষ টাকা ছিল। ধীরে ধীরে আামর ব্যবসায় উন্নতি হয়েছে। বেতনের টাকা থেকেও কিছু কিছু জমা হয়েছে। এখন যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় ক্যাশ টাকা ও পণ্য মূল্য মিলিয়ে প্রায় আট লক্ষ টাকার সম্পদ আমার মালিকানায় আছে। জানার বিষয় হল, বছরের মাঝখানে আমার যে আয় হয়েছে সেগুলোর হিসাব কীভাবে করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে পূর্ণ আট লক্ষ টাকারই যাকাত দিতে হবে। কেননা যাকাত বর্ষের মাঝেও যা আয় হয় সব মিলে বছরের শেষ দিনে যা থাকে সবটার উপর যাকাত ফরয হয়।

Ñমুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৪১; মাবসূত, সারাখসী ২/১৬৫; কিতাবুল আসল ২/৮৯; কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৩০৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩১৯-৩২৩; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/১৪৭-১৪৮; ইলাউস সুনান ৯/৪৮-৫০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার কয়েকটি গাড়ি আছে। যেগুলো একটি ‘‘রেন্ট এ কার’’-এর মাধ্যমে...

প্রশ্ন

আমার কয়েকটি গাড়ি আছে। যেগুলো একটি ‘‘রেন্ট এ কার’’-এর মাধ্যমে ভাড়ায় চালিত হয়। প্রতি মাসে এগুলোর ভাড়া বাবৎ আমার যে আয় হয় পরিবারের ব্যয় নির্বাহের পরও তার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমা থাকে। এভাবে অনেক টাকা জমা হলে তা দিয়ে আমি আরেকটি গাড়ি ক্রয় করি। এছাড়া কোনো গাড়ি পুরোনো হয়ে গেলে তা বিক্রি করে দেই। জানার বিষয় হল, আমার এই গাড়িগুলোর মূল্য ধরে যাকাত দিতে হবে কি না? আর নতুন গাড়ি ক্রয়ের জন্য যে টাকা জমা করি সেগুলোর ক্ষেত্রে কী বিধান?

উত্তর

রেন্ট এ কার বা ভাড়ায় চালিত গাড়ি যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই আপনার ঐ গাড়িগুলোর মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে না। তবে সেগুলো থেকে ভাড়া বাবৎ অর্জিত আয়ের যে অংশ প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের পর অতিরিক্ত থাকবে তা যাকাতযোগ্য সম্পদের মধ্যে গণ্য হবে। সুতরাং যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় আপনার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ বা তার বেশি যত টাকা থাকবে সবগুলোর যাকাত দিতে হবে। এমনকি গাড়ি ক্রয়ের নিয়তে জমাকৃত টাকারও বছরান্তে যাকাত দিতে হবে।

অবশ্য যাকাত-বর্ষ পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই যদি গাড়ি কিনে ফেলেন তাহলে সে টাকার যাকাত দিতে হবে না।

Ñকিতাবুল আসল ২/৯৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৬১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৬৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি একজন ইয়াতিম ছেলের লেখা-পড়ার খরচ বহন করি। সে এখন...

প্রশ্ন

আমি একজন ইয়াতিম ছেলের লেখা-পড়ার খরচ বহন করি। সে এখন এক হেফয খানায় পড়ে। অনেক সময় আমার সাথী সঙ্গীরা তার জন্য আমাকে যাকাতের টাকা দিয়ে থাকে। এখন জানার বিষয় হলো, আমি তো তার খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছি, এ অবস্থায় তার খরচের জন্য অন্য কারো থেকে যাকাত নেওয়া জায়েয হবে কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলেটি যেহেতু যাকাত গ্রহণের যোগ্য আর তার দেখাশোনার দায়িত্ব আপনি নিয়েছেন। তাই তার জন্য নিজের যাকাত থেকে খরচ করা কিংবা অন্য থেকে যাকাত নিয়ে তার জন্য খরচ করা উভয়টিই জায়েয। আর তার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে যাকাত থেকে খরচ করা যাবে নাÑ এ ধারণা ঠিক নয়। এ ক্ষেত্রে অন্য কেউ যাকাত দিলে ছেলেটির পক্ষ থেকে আপনি তা গ্রহণ করলেই যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব হলো ঐ টাকা ছেলেটির জন্যই ব্যয় করা। আর ছেলেটিকে নিজের যাকাত দিতে চাইলে তাকে যাকাতের মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ যাকাতের টাকা বা তা দ্বারা ক্রয়কৃত আসবাব পত্র তার মালিকানায় দিয়ে দিতে হবে। নিজ ঘরে খানা খাওয়ালে তা দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। অবশ্য যাকাত থেকে তার খানার টাকা বা মাদ্রাসার অন্যান্য ফি আদায় করতে পারবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা ১/১৭৭-১৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

কী কী জিনিসের উপর যাকাত আসে? সবিস্তারে জানানোর অনুরোধ রইলো।

প্রশ্ন

কী কী জিনিসের উপর যাকাত আসে? সবিস্তারে জানানোর অনুরোধ রইলো।

উত্তর

তিন ধরনের সম্পদ যাকাতযোগ্য সম্পদ। ১. দেশী বিদেশী মুদ্রা ও টাকা-পয়সা। তা নিজের কাছে জমা থাক কিংবা ব্যাংকের কোন একাউন্টে বা বন্ড, সঞ্চয় পত্র ইত্যাদিতে থাকুক অথবা ব্যাংক গ্যারান্টি হিসাবে জমা থাক সবই যাকাতযোগ্য সম্পদ। এ ছাড়া ব্যবসার মূলধন, পণ্যের বকেয়া মূল্য এবং কাউকে দেওয়া ঋণও এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

২. সোনা-রূপা। অলঙ্কার হোক বা অন্যান্য সামগ্রী, ব্যবহৃত হোক বা অব্যবহৃত সর্বাবস্থায় তা যাকাতযোগ্য সম্পদ। (সোনা-রূপা ছাড়া অন্য কোন ধাতুর অলঙ্কার বা মূল্যবান পাথর ইত্যাদি ব্যবসার পণ্য না হলে তা যাকাতযোগ্য সম্পদ নয়।)

৩. ব্যবসার সম্পদ। ব্যবসার মালামাল ও পণ্য। ব্যবহারের নিয়ত ছাড়া কেবল বিক্রির নিয়তে কোন কিছু ক্রয় করলে তা ব্যবসার পণ্য হিসেবে গণ্য হবে, চাই তা স্থাবর সম্পত্তি হোক বা অস্থাবর কোন পণ্য এবং তা যাকাতযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। যেমন, কেউ একটি জমি বিক্রির উদ্দেশ্যে ক্রয় করলো। তা ব্যবসা পণ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। এমনিভাবে দোকান বা কারখানার বিক্রির মালামাল এবং মজুদকৃত কাঁচামাল সবই যাকাতযোগ্য সম্পদ। অবশ্য ব্যবসার উপকরণ সামগ্রী যাকাতযোগ্য সম্পদ নয়। যেমন, অফিস,কারখানা, মেশিনারিজ, অফিস ও কারখানার কাজে ব্যবহৃত গাড়ী ও আসবাব পত্র। এছাড়া ভাড়ার জন্য বাড়ী, গাড়ী ও এ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৯৯৭৪, ১০৫৫৭, ১০৫৬০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৫৪-৭০৬১; কিতাবুল আসল ২/৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭, ২৬২, ৩০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার জন্ম সাল ২৭-১১-১৯৯১। সেই হিসেবে আমার বর্তমান বয়স ২৪...

প্রশ্ন

আমার জন্ম সাল ২৭-১১-১৯৯১। সেই হিসেবে আমার বর্তমান বয়স ২৪ বছর ২ মাস। ১৩ বছর বয়সে আমি বালেগা হয়েছি। (অর্থাৎ ২০০৪-এ) ২২ বছর বয়স অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে আমি নিয়মিত নামায, রোযা, বোরকা পরা শুরু করেছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাকে কত বছরের নামায, রোযা কাযা করতে হবে। কেউ কেউ বলে, বালেগা হওয়ার সময় থেকে কাযার হিসাব শুরু হবে। আবার কেউ কেউ বলে, বালেগা হওয়ার পূর্বেই অনেকে নারী পুরুষের পার্থক্য বুঝতে পারে। এজন্যেই অনেকে ৯ বছর থেকে কাযার হিসাব করতে বলেন। এখন আমি সর্বমোট কয় ওয়াক্ত নামায ও কতগুলো রোযা কাযা আদায় করব? নামায রোযা ব্যতীত অন্য কোনো ইবাদাত আছে কি যা আমাকে এখন কাযা করতে হবে? কাযা নামাযের নিয়ত ও কাযা রোযার নিয়ত কিভাবে করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যেহেতু ২০০৪ সালেই প্রাপ্তবয়স্কা হয়েছেন তাই তখন থেকে যতদিন নামায পড়া হয়নি ততদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরয এবং বিতর নামায হিসাব করে কাযা করতে হবে। তবে মাসিকের দিনগুলোর নামায যেহেতু মাফ তাই সেগুলোর কাযা করতে হবে না। আর বালেগা হওয়ার পর থেকে যতগুলো রমযানে রোযা রাখেননি ততদিনের রোযার কাযা করতে হবে। আর বালেগা হওয়ার পূর্বের নামায-রোযার কাযা করতে হবে না।

আর বিগত বছরগুলোতে আপনার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকলে এবং তা আদায় না করে থাকলে হিসাব করে তা আদায় করতে হবে। এছাড়া হজ্ব ফরয হয়ে থাকলে হজ্বও করে নিতে হবে।

কাযা নামাযের নিয়ত এভাবে করবেন (ফযরের ক্ষেত্রে) আমি অনাদায়ী প্রথম ফজরের নামায আদায় করছি। (যোহরের ক্ষেত্রে) আমি অনাদায়ী প্রথম যোহর নামায আদায় করছি।

এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তে প্রথম অনাদায়ী নামাযটি আদায়ের নিয়ত করবেন।

আর রোযার ক্ষেত্রেও এভাবে নিয়ত করবেন যে, আমি অনাদায়ী প্রথম ফরয রোযা আদায় করছি।

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯৪০; সহীহ বুখারী, হাদীস ৩২১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৫৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যদি কোনো ব্যক্তির বৈধ সম্পদ এ পরিমাণ না থাকে, যার...

প্রশ্ন

যদি কোনো ব্যক্তির বৈধ সম্পদ এ পরিমাণ না থাকে, যার উপর যাকাত ওয়াজিব হয়। কিন্তু তার কাছে হারাম সম্পত্তিও রয়েছে যেগুলো যোগ করলে যাকাত ওয়াজিব হয়। এমন ব্যক্তির উপর যাকাত ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর

হারাম মালের উপর যাকাত আসে না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির যদি সত্যিই হালাল সম্পদ নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, হারাম মাল পুরোটাই মালিকের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। মালিক জানা না থাকলে গরীব-মিসকীনকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়া জরুরি। তা কোনো অবস্থায়ই নিজে ভোগ করা জায়েয হবে না।

Ñফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমাদের একজন আত্মীয় কিছু ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে...

প্রশ্ন

আমাদের একজন আত্মীয় কিছু ঋণ রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিও এতই সামান্য যে, তা দিয়ে সব ঋণ পরিশোধ হবে না। এছাড়া তার সন্তানদের পক্ষেও নিজেদের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করি তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি না?

উত্তর

যাকাতের অর্থ দিয়ে কোনো মৃতের ঋণ পরিশোধ করলে যাকাত আদায় হয় না। অবশ্য মৃত ব্যক্তির ওয়ারিসগণ যাকাতের উপযুক্ত হলে তাদেরকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যেতে পারে। অতপর তারা চাইলে তা দ্বারা মায়্যেতের ঋণ আদায় করে দিতে পারবে।

Ñহেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমি আমার যাকাতের টাকা তিন ভাগ করে কিছু অংশ গরীব...

প্রশ্ন

আমি আমার যাকাতের টাকা তিন ভাগ করে কিছু অংশ গরীব আত্মীয়-স্বজনকে দান করি। আর কিছু অংশ ভিক্ষুকদেরকে দান করি। আর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে যাকাতের কাপড় ক্রয় করে বিতরণ করি। গরীব আত্মীয়-স্বজনদের অবস্থা তো আমি জানি। কিন্তু কাপড় বিতরণের সময় যে-ই আসে তাকে দিয়ে দেই। আলাদাভাবে খোঁজ-খবর নেওয়ার সুযোগ হয় না। ভিক্ষুকদের ক্ষেত্রেও এমন হয় যে, যে হাত পাতে তাকেই দেই। অথচ তাদের মধ্যে অনেক পেশাদার ভিক্ষুকও থাকে। তো এভাবে দিলে আমার যাকাত আদায় হবে কি? নাকি বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানা জরুরি?

উত্তর

যাকাতের অর্থ উপযুক্ত ব্যক্তিকে প্রদান করা যাকাত আদায়কারীর কর্তব্য। কেউ যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত বলে প্রবল ধারণা হলে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।

আর ঘোষণা দিয়ে যাকাতের কাপড় বা অর্থ বিতরণ করা হলে সেক্ষেত্রে আগত লোকদের অবস্থা একটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। যেন যাকাত তার হকদারদের কাছেই পৌঁছে। অবশ্য নিজের প্রবল ধারণা অনুযায়ী কাউকে দরিদ্র মনে করে যাকাত দিয়ে দিলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে পরে ভুল প্রমাণিত হলে অর্থাৎ সে দরিদ্র ছিল নাÑএমন প্রমাণিত হলেও ঐ যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি যাকাতের উপযুক্ত নয় তার জন্য যাকাত গ্রহণ করা কোনো অবস্থায়ই বৈধ নয়। কেউ গ্রহণ করে ফেললে তার দায়িত্ব হবে মালিককে তা ফেরত দেওয়া কিংবা কোনো দরিদ্রকে সদকা করে দেওয়া।

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৫৩০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১২৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৩; ফাতহুল কাদীর ২/২১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৭-৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার বিয়ের সময় মোহর নির্ধারণ করা হয় এক লক্ষ পঞ্চাশ...

প্রশ্ন

আমার বিয়ের সময় মোহর নির্ধারণ করা হয় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বিয়ের সময় আমার স্বামী পঞ্চাশ হাজার টাকা আদায় করে দেন। বাকি এক লক্ষ টাকা চার বছর পর দিয়েছেন। এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ চার বছরের যাকাত আদায় করা কী আমার উপর ফরয?

উত্তর

মোহরের টাকা হস্তগত হওয়ার আগ পর্যন্ত স্ত্রীর উপর যাকাত দেওয়া ফরয হয় না। তাই ঐ এক লক্ষ টাকার উপর বিগত বছরের যাকাত দিতে হবে না।

-কিতাবুল আছল ২/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

আমার এক গরীব প্রতিবেশীর কাছ থেকে আমি দশ হাজার টাকা...

প্রশ্ন

আমার এক গরীব প্রতিবেশীর কাছ থেকে আমি দশ হাজার টাকা পাই। কয়েক বছর হয়ে গেল, কিন্তু তিনি টাকাটা দিতে পারছেন না। আমি যদি যাকাত আদায়ের নিয়তে ঐ দশ

হাজার টাকা মাফ করে দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

না, এভাবে ঋণ মাফ করার দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। কেননা, যাকাত আদায়ের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে যাকাতের মাল নগদে মালিক বানিয়ে দেওয়া শর্ত। সুতরাং ঐ ব্যক্তি যদি বাস্তবেই যাকাত গ্রহণের যোগ্য হয় তাহলে আপনি যাকাত বাবদ তাকে নগদ দশ হাজার টাকা দিয়ে দিতে পারবেন। অতপর তার থেকে আপনার ঋণ উসুল করে নিতে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ২/১২৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৩১; রদ্দুল মুহতার ২/২৭০-২৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: জাকাত

নূরুল হক আমার প্রতিবেশী। সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। কিন্তু সে...

প্রশ্ন

নূরুল হক আমার প্রতিবেশী। সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। কিন্তু সে অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। আমি তাকে যাকাতের টাকা দিলে সে লজ্জা পাবে। এখন যদি আমি তার বুঝমান ছেলেকে ঈদ-বখশিশ হিসেবে যাকাতের টাকা দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

নূরুল হক যেহেতু যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত তাই তার নাবালেগ বুঝমান ছেলেকে যাকাতের নিয়তে ঈদ বখশিশ হিসেবে টাকা দিলেও তা দ্বারা যাকাত আদায় হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.05 render + 0.01 s transfer.