Login | Register

ফতোয়া: জাকাত

ফতোয়া নং: ৪৯৪৫
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

যাকাত গ্রহিতাকে যাকাতের কথা না জানিয়ে যাকাতের টাকা দিলে যাকাত আদায় হবে কি?

প্রশ্ন
আমার এক দরিদ্র পরিচিত লোক অসুস্থ ৷ তাকে আমি দেখতে যাই। সাথে তার জন্য আমার যাকাতের টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাই। এবং যাকাতের কথা উল্লেখ না করে টাকাটা তাকে প্রদান করি। সে মনে করেছে এমনি তাকে দিয়েছি ৷ জানার বিষয় হল, টাকাটা যে যাকাতের, একথা না বলে দেয়ার কারণে আমার ১০ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে কি?
উত্তর
যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে যাকাতের টাকা দেয়ার সময় যাকাতের কথা না জানিয়ে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়, যদি যাকাত দাতা দেয়ার সময় যাকাতের নিয়তে দিয়ে থাকে ৷ সুতরাং প্রশ্নে বর্নিত অসুস্থ লোকটি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে আপনার ১০ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৪৪
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

শাড়ী, লুঙ্গি বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত প্রদান করা ৷

প্রশ্ন
হযরত একটি প্রশ্ন! বর্তমানে রমযান আসলে দেখা যায়, যাকাতের শাড়ী লুঙ্গি ইত্যাদি বিতরন করা হয় ৷ আমরা জানি যাকাত মু্ল্য হিসাব করে নগদ টাকা দ্বারা আদায় করতে হয় ৷ তাই জানতে চাই, নগদ টাকা ছাড়া শাড়ী, লুঙ্গী বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত আদায় করলে কি যাকাত আদায় হবে? দলিল সহ জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে নগদ টাকা প্রদান করলে যেভাবে যাকাত আদায় হয় তেমনিভাবে যাকাতের নিয়তে অন্য কোনো পণ্য কিনে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়। অতএব শাড়ী, লুঙ্গী বা অন্য কোনো পন্য দ্বারা যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷ তবে কোনো পণ্য দ্বারা যাকাত আদায় করার চেয়ে নগদ টাকা দ্বারা আদায় করাই উত্তম। কারণ এতে দরিদ্র ব্যক্তি যেকোনো প্রয়োজন পুরন করতে সক্ষম হয়৷
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৪১
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

অগ্রীম যাকাত প্রদানের বিধান ৷

প্রশ্ন
হযরত! আমার যাকাতের বছর পুর্ন হবে আরো দেড় মাস পর ৷ আমি যদি এ রমযানে রমযানে সম্পদ হিসাব করে যাকাতের বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যাকাত দিয়ে দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে ? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য অগ্রীম যাকাত আদায় করা জায়েয। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বছর পুর্ন হওয়ার আগে আপনার সম্পদ হিসাব করে এ রমযানে অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷
-জামে তিরমিযী, হাদীস: ৬৭৮;খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪১;ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৪;রদ্দুল মুহতার ২/২৯৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩১
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

সদাকাতুল ফিতর কখন, কার উপর ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন
হুজুর সদাকাতুল ফিতর সম্পর্কে কিছু জানার ছিল৷
১৷ কার উপর কি পরিমান মাল থাকলে সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব?
২৷ সদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময় কখন? রমযানে আদায় করলে হবে কি না?
৩৷ কি ধরনের মাল থাকলে সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়? যাকাতের মত নির্দিষ্ট মাল নাকি যেকোনো মাল নেসাব পরিমান থাকলেই সদাকাতুল ফিতর আবশ্যক?
বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর প্রয়োজন অতিরিক্ত যেকোনো ধরনের মালের মালিক হলে, এবং তা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমুল্যের হলে ব্যক্তির উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব ৷ সদাকাকুল ফিতর আবশ্যক হওয়ার জন্য যাকাতের মত নির্দিষ্ট মাল থাকা জরুরী নয় ৷ কারো যদি প্রয়োজন অতিরিক্ত ঘর, বাড়ি, জমি, ফ্রীজ, খাট এমন কি পরিধানের জামাও থাকে আর তার মু্ল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমুল্যের হয় ৷ তাহলে তার উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে ৷ যদিও সদাকাতুল ফিতর ঈদুল ফিতরের দিন ওয়াজিব হয় তথাপিও রমযানে আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে ৷
-হেদায়া, ১/১৮৫; রদ্দুল মুহতার,৩/৯৯; নুরুল ইযাহ,৯১; ফতওয়ায়ে দারুল উলুম,৬/৩৩৬৷
উত্তর প্রদানে মুফতীঃ মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩০
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: জাকাত

কার উপর কি পরিমান সম্পদ থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

প্রশ্ন
হযরত! একটি প্রশ্ন, কার উপর যাকাত ফরজ? কি পরিমান ও কেমন মাল থাকলে যাকাত দিতে হয়? এবং কি পরিমান যাকাত দিতে হয়৷ স্ববিস্তারে জানতে চাই ৷
উত্তর
প্রাপ্র বয়স্ক পুরুষ কিংবা মহিলা সাড়ে সাত তোলা স্বর্ন বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মালিক হলে বা নিত্য প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মুল্যের সমপরিমান ক্যাশ টাকা বা ব্যবসায়িক পন্যের মালিক হলে, এক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হবে ৷
যাকাত যুগ্য সমস্ত সম্পদের চল্লিশ ভাগে এক ভাগ যাকাত আদায় করা আবশ্যক ৷
উল্লেখ্য যে, কারো নিকট শুধু স্বর্ন থাকলে তা সাড়ে সাত ভরির কম হলে অথবা শুধু রুপা থাকলে এবং তা সাড়ে বায়ান্ন ভরির কম হলে যাকাত দিতে হবে না ৷ আর যদি স্বর্নের সাথে রুপা বা টাকা অথবা ব্যবসায়িক পন্য থাকে তাহলে সবকিছুর সমষ্টির মুল্য সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমুল্যের হলেই যাকাত আবশ্যক হয়ে যাবে৷
-আল হেদায়া ১/১৯৬; আল মাবসূত লিস সারাখসী,২/১৯১; তাতারখানিয়া, ২/২৩৭; রদ্দুল মুহতার, ৩/২২৯; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/১৭৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩৪
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: জাকাত

ব্যাংকে জমানো টাকার সাথে সুদী টাকার যাকাত ৷

প্রশ্ন
আমার ব্যাংক একাউন্টে জমানো টাকার সাথে সুদী টাকাও আছে ৷ যাকাত দেয়ার সময় সম্পুর্ন টাকার ই যাকাত দিয়ে থাকি ৷ এক বন্ধু বলল সুদী টাকার যাকাত নেই ৷ তাই মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে সঠিক সমাধান চাই ৷ এবং এ ক্ষেত্রে আমার করনীয় কি জানতে চাই ৷
উত্তর
যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত, যা একমাত্র হালাল সম্পদের উপর আসে এবং তা হালাল সম্পদ দ্বারাই আদায় করতে হয়। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা একমাত্র হালাল বস্তু ই কবুল করেন।
-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৪১০
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ব্যাংক একাউন্টে জমানো মূল টাকার ২.৫% টাকার যাকাত দিবেন।
আর সুদী টাকা হারাম হওয়ার কারনে পুরোটাই ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেয়া আবশ্যক ।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৪; ফাতহুল বারী ৩/৩২৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/১৪৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩২
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: জাকাত

ঘর নির্মানের জন্য জমানো টাকায় যাকাত ৷

প্রশ্ন
আমার বড় ভাই দুবাই থাকে। ঘর নির্মাণের ৭/৮ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। আমার বাবার একাউন্টে জমা আছে ৷কিন্তু এদিকে বাড়ি বন্টন করতে দেড়ি হওয়ায় ঘরের কাজ ধরতেও দেড়ি হচ্ছে । এখন জানার বিষয় এই টাকার যাকাত দিতে হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত সুরতে ব্যাংকে জমানো টাকাগুলো ঘর নির্মাণের জন্য হলেও এর উপর বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার যাকাত আদায় করতে হবে।
-আলবাহরুর রায়েক ২/২০৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩১
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: জাকাত

নাবালেগ মেয়ের স্বর্নের যাকাত পিতার উপর ফরজ কি না?

প্রশ্ন
আমার তিন মেয়ে। সবাই এখনো ছোট ৷ একজনের বয়স ৭ ৷ আরেকজনের ৫ আরেকজনের ৩ ৷ তারা প্রত্যেককে আমি পাঁচ ভরি পরিমান স্বর্নের অলঙ্কার বানিয়ে দিয়েছি ৷ তবে তারা ছোট বিধায় সেগুলো আমার কাছেই থাকে ৷ জানার বিষয় হলো, তারা নাবালেগ হওয়ার কারনে এগুলো কি আমার মালিকানায় রয়ে গেছে? আমার কি এগুলোর
যাকাত আদায় করতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে অলঙ্কারগুলোর মালিক আপনার মেয়েরাই। কারন পিতা তার নাবালেগ সন্তানকে শুধু মৌখিকভাবে কোনো কিছু দিলেই সন্তান তার মালিক হয়ে যায়। এর জন্য নাবালেগদের হস্তগত করা জরুরী
নয়। অতএব আপনাকে এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে না। এবং মেয়েরাও যেহেতু এখনো নাবালেগ, তাই তাদের উপরও সেগুলোর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। তবে তারা বালেগ হওয়ার পর প্রত্যেকজনের অলঙ্কারগুলো যদি অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে মেয়েরা প্রত্যেকেই পৃথকভাবে এর যাকাত আদায় করবে।
-মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস: ৩২২; ফাতওয়ায়ে খানিয়া ৩/২৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৪৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

স্ত্রীর মোহরের টাকায় যাকাত৷

প্রশ্ন
বিবাহে আমার মোহর ধার্য করা হয়েছিল দুই
লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। বিবাহ হয়েছে প্রায় ২
বছর আগে। মোহর বাবদ কোনো টাকা আমাকে আমার স্বামী দেয়নি। প্রশ্ন হল, মোহরের টাকা হাতে না আসলেও বছর অতিবাহিত হওয়ার কারণে ধার্যকৃত মোহরের উপর যাকাত ফরয হবে কি না? জানালে উপকৃত
হব।
উত্তর
না, মোহর হস্তগত না হওয়া পর্যন্ত আপনাকে
এর যাকাত দিতে হবে না; বরং হস্তগত হওয়ার পরই
তা যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে গণ্য হবে।
-কিতাবুল আসল ২/৯০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৩০৬; ফাতহুল কাদীর ২/১২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭৪৩
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

এতিম ছাত্রকে খানা দিয়ে যাকাত প্রদান করা৷

প্রশ্ন
মাদরাসার একজন এতীম ছাত্রকে যাকাত প্রদানের নিয়তে আমি নিয়মিত তার টিফিন
ক্যারিয়ারের বক্সে খানা দিয়ে আসছি। প্রশ্ন
হল, এ পদ্ধতিতে আমার যাকাত প্রদান করা সহীহ কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
উত্তর
হ্যাঁ, এ পদ্ধতিতে আপনার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে খাবারের মূল্য যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে, বেশি ধরা যাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৩; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ২৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৪২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

ধার দেয়া টাকার যাকাত৷

প্রশ্ন
এক বছর পূর্বে জনৈক ব্যক্তি আমার থেকে নেসাব পরিমাণ টাকা ধার নেয়। এক বছর পর এক পঞ্চমাংশ টাকা পরিশোধ করেছে। এ টাকা ব্যতীত আমার কাছে অন্য কোনো টাকা জমা নেই। জানার বিষয় হল, এখন কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করা ফরয?
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার ঐ টাকার মেয়াদ এক বছর অতিক্রম হওয়ায় এর উপর যাকাত ফরয হয়েছে। আপনি ইচ্ছা করলে এখনই পুরো ঋণের টাকার যাকাত আদায় করে দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে যতটুকু হস্তগত হয়েছে এখন শুধু সে অংশের যাকাত প্রদান করতে পারেন। এরপর অবশিষ্ট টাকা যখন হস্তগত হবে তখন সেগুলোর বিগত দিনের যাকাতও আদায় করতে হবে। -মাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০, ৩০৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭৩৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

সৎ দাদীকে যাকাত ফেতরা দেওয়া৷

প্রশ্ন
সৎ দাদী (তথা আপনা দাদী নয়) কে যাকাত ও ফেতরা দেওয়া জায়েয হবে
কি না?
উত্তর
হ্যাঁ, সৎ দাদীকে যাকাত-ফেৎরা দেওয়া
যাবে।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭০৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

হিজড়াদের জন্য ইসলামের বিধি-বিধান৷

প্রশ্ন
হুজুর,হিজড়ারাও এক ধরণের মানুষ। কিন্তু ওদেরও কি আমাদের মত বিচার হবে? ওদের উপরও কি ইসলামী বিধি-বিধান আছে? আমাদের নবীজী
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওদের ব্যপারে কী বলেছেন? আমাদের আচরণ ওদের সাথে কেমন হওয়া উচিত?
উত্তর
আমাদের সমাজব্যবস্থা জোর করে হিজড়াদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখে। সামাজিক সম্মান,শিক্ষা,কর্ম,বাসস্থান ইত্যাদির নূন্যতম অধিকার এ সমাজ থেকে ওদের দেয়া হয় না। সত্যিকারার্থে ওরা
প্রতিবন্ধী হলেও প্রতিবন্ধীদের দেয়া সুযোগ-সুবিধাটুকুও ওদের দেয়া হয় না। আমাদের এ অবক্ষয়ের জন্য দায়ী আমাদের কুসংস্কার ও ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব। অথচ ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী হিজড়াগণ সাধারণ মানুষের মতই তাদের পূর্ণ অধিকার লাভ করবে। লেখা-পড়া, শিক্ষা-দীক্ষা, চাকরী- বাকরী, ব্যবসা-বাণিজ্য, উত্তরাধিকার, সম্পদের মালিকানা; ধর্ম কর্ম, সামাজিক ও উন্নয়ন কাজের সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রেই তাদের ন্যায্য অধিকার ইসলাম স্বীকার করেছে।
ইসলামের দৃষ্টিতে তারা আলাদা কোনো লিঙ্গ নয়; বরং ইসলাম আধুনিক- বিজ্ঞানের মতই তাদেরকেও
নারী ও পুরুষের অন্তর্ভুক্ত করেছে। যার কারণে ইসলাম তাদের ব্যাপারে আলাদা কোন বিধান আরোপ করার প্রয়োজন মনে করে নি। এ ব্যাপারে ইসলাম একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেটা হল, দেখতে হবে হিজড়ার প্রস্রাব করার অঙ্গটি কেমন? সে কি পুরুষদের গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? না নারীদের মত গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? গোপনাঙ্গ যাদের মত হবে হুকুম তাদের মতই হবে। অর্থাৎ গোপনাঙ্গ যদি পুরুষালী হয়, তাহলে পুরুষ। যদি নারীর মত হয়, তাহলে নারী। আর যদি কোনোটিই বোঝা না যায়, তাহলে তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই হিসেবেই তাদের উপর শরয়ী বিধান আরোপিত হবে।
হাদীস শরীফে এসেছে– হযরত আলী রা. রাসূল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, প্রসূত বাচ্চা যে পুরুষ নারী তা জানা যায় না তার বিধান কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন যে, সে মিরাস পাবে যেভাবে প্রস্রাব করে।
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১২৯৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩০৪০৩৷
এ হাদীসে স্পষ্ট যে,পৌরুষপ্রবণ হিজড়াদের জন্য সুস্থ পুরুষদের বিধান প্রযোজ্য হবে। নারীত্বপ্রবণ হিজড়াদের জন্য সুস্থ নারীদের বিধান প্রযোজ্য হবে। আর দুইয়ের মাঝামাঝি হিজড়াদের জন্য সুস্থ নারীদের বিধান প্রযোজ্য হবে। সুতরাং ঈমান, ইসলাম, নামাজ, রোজা, হজ্জ, জাকাত এমনকি বিয়ে- শাদীসহ সকল ইসলামী বিধিবিধান তাদের উপর নারী ও পুরুষ হিসেবেই বর্তাবে।
অনুরূপভাবে হালাল হারাম, ন্যায় অন্যায় ও জান্নাত জাহান্নামও তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
হাওয়াশী আল আশবাহ ওয়ান৷নাযায়ির-ইবনু নুজাঈম, ছায়্যিদ আহমাদ হামুভী; ফাতাওয়া আবদুল হাই লাক্ষৌনভী, পৃ ৪০১; ফাতাওয়ায়ে অযীযী,৷শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছে দেহলভী, পৃ ৫৩৯৷
অতএব, তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
বদলাতে হবে। তারাও মানুষ। আমাদের মতই মানুষ। তবে যেমন অনেক মানুষের শারিরিক ত্রুটি থাকে। এটিও তাদের তেমনি একটি ত্রুটি। এ ত্রুটির কারণে তারা মনুষ্যত্ব থেকে বেরিয়ে যায় না। বরং অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মতই তারা আরো বেশি স্নেহ, মমতা ও ভালবাসা পাবার অধিকার রাখে। তাদের ঘৃণা নয়, ভালবাসা ও স্নেহ দিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে দেয়া
উচিত। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা, খারাপ মন্তব্য করা মারাত্মক গোনাহের কাজ।যেকোনো মুসলমানকে গালি দেয়া, তাচ্ছিল্য করা যেমন কবিরা গোনাহ, তেমনি তাদের গালি দেয়া, তাচ্ছিল্য করাও কবিরা গোনাহ।
উল্লেখ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, হিজড়া হলো মনোদৈহিক বৈকল্য বা শরীরবৃত্তিয় ও মনোজাগতিক বিকাশের অপূর্ণতা। এটি হরমোনঘটিত একটি সমস্যা। শরীরের যে হরমোনের কারণে একজন মানুষ পুরুষ বা নারী বৈশিষ্টের অধিকারী হয়,৷সে হরমোন পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকাই এর প্রধান কারণ। সুতরাং অত্যাধুনিক হরমোন চিকিৎসার মাধ্যমে এবং ক্ষেত্রবিশেষ শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে এর পুরোপুরি স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বিজ্ঞ উলামায়ে
কিরামের সুচিন্তিত মতামত, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারের সিদ্ধান্ত, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতা।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

বাবার কাছে থাকা নাবালেগ ছোট মেয়ের স্বর্ন-রুপার উপর যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ছোট দুটি মেয়ে আছে। একজনের বয়স চার বছর। আরেকজনের বয়স ছয় বছর। মোট আট ভরি স্বর্ণ দিয়ে দুই মেয়ের জন্য আমি দুটি গলার হার এবং দুই জোড়া কানের দুল তৈরি করেছি। তারা যেহেতু এখনো ছোট তাই তাদেরকে হস্তান্তর করিনি। বর্তমানে সেগুলো আমার কাছেই আছে। তবে আমার স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে বলে রেখেছি যে, অলঙ্কারগুলোর মালিক দুই মেয়ে। অন্য কেউ নয়। জানতে চাই, হস্তান্তর না করার কারণে এগুলো কি আমার মালিকানায় রয়ে গেছে? আমার কি এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অলঙ্কারগুলোর মালিক আপনার দুই মেয়েই। কেননা পিতা তার নাবালেগ সন্তানকে শুধু মৌখিকভাবে কোনো কিছু দিলেই সন্তান ঐ বস্তুর মালিক হয়ে যায়। এর জন্য নাবালেগদের হস্তগত করা আবশ্যক নয়। অতএব আপনাকে এগুলোর যাকাত আদায় করতে হবে না। আর এখন ঐ মেয়েরাও যেহেতু নাবালেগ তাই তাদের উপরও এখন সেগুলোর যাকাত আদায় করা ফরয নয়। তবে তারা যখন বালেগ হবে তখন অলঙ্কারগুলো যদি অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে নিয়মানুযায়ী মেয়েরা এর যাকাত আদায়
করবে।
-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৩২২, ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৪,ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

বাড়ি নির্মানের জন্য জমানো টাকায় যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ছোট ভাই বিদেশ থাকে। সে বাড়ি নির্মাণের জন্য ত্রিশ লাখ টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু যে জমিতে বাড়ি নির্মাণের কথা ছিল তা নিয়ে তখন মামলা চলছিল। তাই নির্মাণ কাজে হাত দেওয়া যায়নি। এদিকে মামলা নিষ্পত্তি হতে এক বছর লেগে গেল। এখন এই টাকার যাকাত দিতে হবে কি? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত টাকাগুলো বাড়ি নির্মাণের জন্য বরাদ্দ হলেও এর উপর বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তার যাকাত আদায় করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: জাকাত

ব্যাংকে জমানো টাকা ও তার সুদের উপর যাকাত৷

প্রশ্ন
আমার ব্যাংক একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। তার কিছু সুদও আছে। প্রতি বছর যাকাত আদায় করার সময় পেরেশান হয়ে যাই এই ভেবে যে, মূল টাকার সাথে সুদী টাকার যাকাত দিব কি না? কিন্তু কোনো মুফতী সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা না করে প্রতি বছরই মূল টাকার যাকাতের সাথে সুদী টাকারও যাকাত দিতাম। এক বন্ধু আমকে বলল, সুদের উপর তো যাকাত ফরয হয় না। এখন আমি মুফতী সাহেবের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।
উত্তর
আপনার ব্যাংক একাউন্টে গচ্ছিত মূল টাকার আড়াই পার্সেন্ট যাকাত দিবেন। আর সুদী টাকা পুরোটাই ছওয়াবের নিয়ত ছাড়া হারামের বোঝা থেকে নিষ্কৃতির জন্য সদকা করে দিবেন। উল্লেখ্য, যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত, যা একমাত্র হালাল সম্পদের উপর আসে এবং তা হালাল সম্পদ দ্বারাই আদায় করতে হয়। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা একমাত্র হালাল বস্ত্তই কবুল করেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৪১০ অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, হারাম সম্পদ থেকে সদকা কবুল করা হয় না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২২৪; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ১১২; ফাতহুল বারী ৩/৩২৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/১৪৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: জাকাত

তাবলীগের ছয় উসুল পুর্নদ্বীন কিনা!

প্রশ্ন
তাবলীগ জামাত বিরোধী অনেক ভাই প্রায়ই একটি অভিযোগ করে থাকেন যে, তাবলীগ জামাআতের ছয় উসুলে পূর্ণ ইসলাম নেই। তাই এ মেহনত করা জায়েজ নয়।
উত্তর
এ অভিযোগটি একটি অজ্ঞতার পরিচয়বাহী ও হিংসাত্মক অভিযোগ। যার কোন ভিত্তি নেই। তাবলীগের ছয় উসুলের মাঝে পূর্ণ ইসলাম আছে একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন নাকি? তারাতো সর্বদা একথার দাওয়াত দেন যে, ছয় উসূলের উপর চললে পূর্ণ দ্বীনের উপর চলা সহজ হয়। একথা কোন তাবলীগী ভাই বলেন না যে ছয় উসূলই পূর্ণ দ্বীন। সাথে সাথে তাবলীগ তথা দ্বীনের দাওয়াত শুধু একথার উপর দেয়া হয় না যে, শুধুমাত্র ছয় উসূল মানতে হবে, বরং দাওয়াত দেয়া হয় পূর্ণ শরীয়তের পাবন্দ হতে হবে। তাই নয় কি? সুতরাং এ দাবি করা যে, যেহেতু ছয় উসূলে পূর্ণ দ্বীন নেই, তাই তাবলীগী ভাইয়েরা অপূর্ণাঙ্গ দ্বীনের দিকে আহবান করে। কারণ ছয় উসুলের দাওয়াতের মাধ্যমে পূর্ণ দ্বীনের দিকেই আহবান
করা হয়।
যেমনটি আল্লাহ তায়ালা ছয়টি বিষয়ের অনুসরণ করলে বান্দা সফলকাম হয়ে যাবে মর্মে সূরায়ে মু’মিনূন এ ঘোষণা করেন-
‎ﻗَﺪْ ﺃَﻓْﻠَﺢَ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨُﻮﻥَ ‏( 1 ‏) ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺻَﻼﺗِﻬِﻢْ
‎ﺧَﺎﺷِﻌُﻮﻥَ ‏( 2 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥَ ‏( 3 ‏)
‎ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻠﺰَّﻛَﺎﺓِ ﻓَﺎﻋِﻠُﻮﻥَ ‏( 4 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻟِﻔُﺮُﻭﺟِﻬِﻢْ
‎ﺣَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ ‏( 5 ‏) ﺍﻟﻰ ﺍﺧﺮ - ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻷَﻣَﺎﻧَﺎﺗِﻬِﻢْ ﻭَﻋَﻬْﺪِﻫِﻢْ
‎ﺭَﺍﻋُﻮﻥَ ‏( 8 ‏) ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﺻَﻠَﻮَﺍﺗِﻬِﻢْ ﻳُﺤَﺎﻓِﻈُﻮﻥَ ‏( 9 ‏)
‎ﺃُﻭْﻟَﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻮَﺍﺭِﺛُﻮﻥَ ‏( 10 ‏) ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺮِﺛُﻮﻥَ ﺍﻟْﻔِﺮْﺩَﻭْﺱَ ﻫُﻢْ
‎ﻓِﻴﻬَﺎ ﺧَﺎﻟِﺪُﻭﻥَ ‏( 11 ) ১-নিশ্চয় সফলতা অর্জন করেছে মুমিনগণ। ২-যারা তাদের নামাযে আন্তরিকভাবে বিনীত। ৩-যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। ৪- যারা যাকাত সম্পাদনকারী। ৫-যারা নিজ লজ্জাস্থান সংরক্ষণ করে। ৮- এবং যারা তাদের আমানত ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। ৯-এবং যারা নিজেদের নামাযের পরিপূর্ণ রক্ষাবেক্ষণ করে। ১০ এরাই হল সেই ওয়ারিশ। ১১-যারা জান্নাতুল ফিরদাউসের উত্তারাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে সর্বদা থাকবে। {সূরা মুমিনুন-১-১১} এ আয়াতে সমূহে লক্ষ করুন-ছয়টি কাজ করলে আল্লাহ তায়ালা সফলকাম হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। সেই সাথে জান্নাতী হওয়ার ঘোষণেও দিয়েছেন। অথচ এ ছয় কাজে রোযার কথা নেই। নেই হজ্বের কথাও। তাহলে কি আল্লাহর বলা সফলকাম হওয়ার জন্য রোযা রাখার প্রয়োজন নেই? নেই হজ্ব ফরজ হলে হজ্ব আদায়েরও। এ দু’টি গুরত্বপূর্ণ ফরজ ছাড়াই কি ব্যক্তি জান্নাতী হয়ে যেতে পারে?
কিভাবে?
এর জবাব যেমন-এ ছয়টির মাঝেই পূর্ণ দ্বীন শামিল। তেমনি তাবলীগের ছয় উসূলের দাওয়াতের দ্বারাও পূর্ণ দ্বীনের উপর আমলের দিকেই আহবান করা হয়। যা কিছুতেই দ্বীনকে সীমাবদ্ধ করা নয়, যেমন আল্লাহ তায়ালা সীমাবদ্ধ করেন নি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৮
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: জাকাত

(ক) যে ব্যক্তির উপার্জন হালাল-হারাম মিশ্রিত হয় আর সে কাউকে...

প্রশ্ন
(ক)
যে ব্যক্তির উপার্জন হালাল-হারাম
মিশ্রিত হয় আর সে কাউকে কোনো
কিছু হাদিয়া দেওয়ার সময় আমি এ
হাদিয়াটি আমার হালাল উপার্জন
হতে দিচ্ছি , এ কথা উল্লেখ না করে
তাহলে কি এ হাদিয়াটি তার হালাল
উপার্জন থেকে দিয়েছে এরূপ ধরে তা
গ্রহণ করা এবং ব্যবহার করা যাবে?
(খ)
উপরোক্ত শ্রেণীর ব্যক্তিদের হাদিয়া কেউ কবুল করার পর হাদিয়া গ্রহিতা তা কিছুদিন ব্যবহার করে অথবা ব্যবহার না করেই অন্যকে আবার যদি তা হাদিয়া দিয়ে দেয় তাহলে দ্বিতীয় ব্যক্তির জন্য এই হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?
উত্তর
(ক) হারাম মাল থেকে হাদিয়া দিলে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে না। আর যার উপার্জন হালাল-হারাম মিশ্রিত সে কোনো কিছু হাদিয়া দিলে তা হালাল মাল থেকে দিয়েছে বলে জানা গেলে তা নেওয়া বৈধ হবে। হারাম মাল থেকে দিয়েছে জানা গেলে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। আর যদি হাদিয়া কোন মাল থেকে দিয়েছে তা জানা না যায় তাহলে এক্ষেত্রে তার অধিকাংশ উপার্জন হালাল হলে উক্ত হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে। আর যদি তার অধিকাংশ উপার্জন হালাল না হয়ে থাকে তাহলে তার হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে
না।
মাবসূত, সারাখসী ১০/১৯৭ ; খুলাসাতুল ফাতাওয়া
৪/৩৪৮ ; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০০৷ (খ) উপরোক্ত ক্ষেত্রসমূহে যাদের থেকে হাদিয়া গ্রহণ করা হারাম তাদের থেকে কেউ হাদিয়া গ্রহণে করে ফেললে তা নিজে ব্যবহার করতে পারবে না ; বরং যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে সদকা করে দিতে হবে। তা কোনো সামর্থ্যবানকে দেওয়া যাবে না। সামর্থ্যবান কাউকে দিলে সে যদি জানে যে , এটা হারাম তাহলে তার জন্য তা গ্রহণ করা জায়েয
হবে না।
সূরা তাওবা : ৬০ ; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১৮
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: জাকাত

একজন সাধারণ সরকারী চাকুরিজীবীর নিজের প্রয়োজন অতিরিক্ত তেমন কোনো অর্থ...

প্রশ্ন
একজন সাধারণ সরকারী চাকুরিজীবীর নিজের প্রয়োজন অতিরিক্ত তেমন
কোনো অর্থ নেই। কিন্তু সরকারী
চাকুরিজীবী হিসেবে তো প্রভিডেন্ট
ফান্ডে তার একটা বড় অংক জমা হয়, যা
সে রিটায়ার্ডের পরে পাবে। লোকটির
বেতনের টাকা দিয়ে চলা খুব মুশকিল।
কিছু ঋণ আছে। এখন সে ঋণ আদায় ও
খরচের জন্য যাকাত নিতে পারবে কি?
এ ব্যক্তিকে যাকাত দিতে কোনো
অসুবিধা আছে কি? প্রভিডেন্ট
ফান্ডের অর্থ এক্ষেত্রে কোনো প্রভাব
ফেলবে কি? প্রকাশ থাকে যে, সরকার
বাধ্যতামূলকভাবে যতটুকু কেটে রাখে
ততটুকুই সে জমা করে এর বেশি জমা
করে না।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। সরকারী বাধ্যতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা যেহেতু চাকুরি অবস্থায় চাকুরিজীবীর হস্তগতই হয় না এবং এতে তার মালিকানাও প্রতিষ্ঠিত হয় না তাই এই ফান্ড থাকা সত্ত্বেও লোকটি দরিদ্র বা ঋণগ্রস্ত হলে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। এই ফান্ডের টাকা তার যাকাত গ্রহণের জন্য প্রতিবন্ধক হবে না। -আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; ইমদাদুল মুফতীন পৃষ্ঠা : ৩৯৪; ইমদাদুল আহকাম ২/১৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১২৮
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

মুহতারাম মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি এ...

প্রশ্ন
মুহতারাম মুফতী সাহেবের কাছে আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি এ বছরের যাকাতের সাথে সাথে আগামী দুই তিন বছরের যাকাত একসাথে অগ্রিম আদায় করে দেই, তাহলে কি আমার অগ্রীম যাকাত আদায় হবে?
উত্তর

ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ যাকাত মূলত আদায় করতে হয়,
বছরান্তে হাতে থাকা সম্পদের উপর ভিত্তি করে। যত সম্পদ থাকবে, তার চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হয়। তবে যাকাত আবশ্যক হবার পর, অগ্রীম দুই এক বছরের যাকাতের টাকা যাকাতের নিয়তের সাথে আদায়
করলেও তা আদায় হবে। তবে আগামী বছর আসলে হিসেবে করে দেখতে হবে, কত টাকা যাকাত এসেছিল? আর কত অগ্রীম আদায় করা হয়েছে? যদি দেখা যায়, যাকাত বাবদ আরো টাকা দিতে হবে, তাহলে আরো যাকাত আদায় করতে হবে। আর যদি দেখা যায়, অতিরিক্ত আদায়
করেছে, তাহলে তা পরবর্তী বছরের যাকাতের সাথে এ্যাড করেনিতে পারবে।
‎( ﻭَﻟَﻮْ ﻋَﺠَّﻞَ ﺫُﻭ ﻧِﺼَﺎﺏٍ ) ﺯَﻛَﺎﺗَﻪُ (ﻟِﺴِﻨِﻴﻦَ ﺃَﻭْ
‎ﻟِﻨُﺼُﺐٍ ﺻَﺢَّ ) ﻟِﻮُﺟُﻮﺩِ ﺍﻟﺴَّﺒَﺐِ، (ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ
‎ﻣﻊ ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ، ﻣﻄﻠﺐ ‎ﺍﺳﺘﺤﻼﻝ ﺍﻟﻤﻌﺼﻴﺔ ﺍﻟﻘﻄﻌﻴﺔ ﻛﻔﺮ ﺑﺎﺏ ﺯﻛﺎﺓ ‎ﺍﻟﻐﻨﻢ- 2/293 ) ‎ﻭﻟﻮ ﻣﺮ ﺑﺄﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﺼﺪﻗﺎﺕ، ﻓﺄﺧﺬﻭﺍ ﻣﻨﻪ ‎ﻛﺜﻴﺮﺍً ﻣﻤﺎ ﻋﻠﻴﻪ ﻇﻨﺎً ﻣﻨﻬﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻋﻠﻴﻪ ﻟﻤﺎ ‎ﺃﻥ ﻣﺎﻟﻪ ﺃﻛﺜﺮ ﻳﺤﺘﺴﺐ ﺍﻟﺰﻳﺎﺩﺓ ﻟﻠﺴﻨﺔ ‎ﺍﻟﺜﺎﻧﻴﺔ؛ ( ﺍﻟﻤﺤﻴﻂ ﺍﻟﺒﺮﻫﺎﻧﻰ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ، ‎ﺍﻟﻔﺼﻞ ﺍﻟﺘﺎﺳﻊ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﺴﺎﺋﻞ ﺍﻟﻤﺘﻌﻠﻘﺔ ‎ﺑﻤﻌﻄﻰ ﺍﻟﺰﻛﺎﺓ- 3/226 ، ﻃﺤﻄﺎﻭﻯ ﻋﻠﻰ ‎ﻣﺮﺍﻗﻰ ﺍﻟﻔﻼﺡ 588- ‎ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ
ফতোয়া নং: ৪১২৬
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে...

প্রশ্ন
আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায়-
ক) যে কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া
সুন্নত।
খ) সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার
বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
ক) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কুরআন মজীদের স্বতন্ত্র একটি আয়াত, যা দুই সূরার মাঝে পার্থক্য করার
জন্য আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং মুসল্লিদেরকে পরিপূর্ণ খতম শোনাতে চাইলে যে
কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় এ কারণে মুসল্লিদের খতম
অপূর্ণ থেকে যাবে। আর ইমামের জন্য সব নামাযেই সূরা ফাতিহা এবং সকল সূরার শুরুতে অনুচ্চস্বরে
বিসমিল্লাহ বলা মুস্তাহাব।
-আসসিআয়াহ ২/১৭০; ইহকামুল কানত্বরা ফী আহকামিল বাসমালাহ ১/৭১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৮;
মাজমুআতুল ফাতাওয়া, লাখনভী রাহ. ১/৩১৫
খ) কুরআন মজীদ খতম করার ক্ষেত্রে সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই। সাহাবা-
তাবেয়ীন থেকেও এমন কোনো আমলের প্রমাণ নেই। ফিকহবিদগণ এই আমলকে অপছন্দ
করেছেন। সুতরাং তারাবীতে কুরআন খতমের সময় সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার প্রচলনটি ঠিক নয়। তাই এ
থেকে বিরত থাকবে এবং অন্য সূরার ন্যায় যথানিয়মে একবারই পড়বে।
-ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৬; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫০৯; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫১০

একটি আকুল আবেদন!
অনুগ্রহপুর্বক সকলেই পড়ুন ও শেয়ার করুন৷
প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনদের প্রতি আকুল আবেদন, টাকা পয়সা স্বর্ন অলংকার ধন সম্পদ সবই আল্লাহর দান৷ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দান করেন, যার কাছ থেকে ইচ্ছা নিয়ে যান৷ তাই অবশ্যই সম্পদশালীদের সম্পদের সঠিক ব্যবহার করা উচিৎ৷ অভাবীদের প্রতি দৃষ্টি রাখা, অভাব মুচন, আল্লাহর রাস্তায় দান সদকা করা উচিৎ৷
বিশেষ করে সম্পদ দাতা মহান আল্লাহ তায়ালা আপনার সম্পদে যা ফরজ করেছেন, যাকাত, ফিতরা তা অবশ্যই সঠিক ভাবে আদায় করা উচিৎ৷ পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে হিসাব করে নির্ধারিত পরিমানের চেয়ে সতর্কতামুলক বেশি দেয়া উচিৎ৷
এবং এ ক্ষেত্রে অবশ্যই মনে রাখা উচিৎ যাকাত ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ৷ নামায যেমন ফরজ যাকাত তেমনি ফরজ৷
তাই যাকাত যেকোন মানুষকে দিয়ে দিলেই আদায় হবে না৷ বরং উপযুক্ত ব্যাক্তির কাছে পৌছাতে হবে৷
এবং যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে লোক দেখানো যেন না হয়, অন্যথায় অনেক টাকা যাকাত দিতে পারেন কিন্তু কোন সাওয়াব পাওয়া যাবে না৷
নবীজী সাঃ বলেছেন তোমরা তোমাদের সম্পদ এমনভাবে দান করো যেন ডান হাতে দান করলে বাম হাত টের না পায়৷
তাই সবদিকে সতর্ক অবলম্বন করা উচিৎ৷ আর সর্বদিকে সতর্কতা অবলম্বন করেই আপনার যাকাত ফিতরার টাকা যেন সঠিকভাবে সঠিক স্থানে সঠিক পাত্রে ব্যবহৃিত হয়, আপনাদের প্রতি আমার আকুল আবেদন, গুরাবা ফান্ড, লিল্লাহ বর্ডিং বিশিষ্ট মাদ্রাসায় প্রদান করুন৷ এর দ্বারা গরীব অসহায় ছাত্রদের অভাব মুচনের পাশাপাশি ইলমেরও খেদমত হয়ে যাবে৷
আমাদের মাদ্রাসায়ও গুরাবা ফান্ড রয়েছে৷ যেখানে শুধু যাকাত ফিতরার টাকা জমা করে উপযুক্ত খাতে সঠিক পাত্রে ব্যবহার করা হয়৷ আলহামদুলিল্লাহ৷
তাই কোন আগ্রহি ভাই ও বোন যদি আমাদের মাদ্রাসায় আপনার যাকাত ফিতরার টাকা দিতে আগ্রহী হোন নিম্নে বর্নিত একাউন্ট বা বিকাশ নাম্বারে প্রেরনের পর অবশ্যই যোগাযোগ নাম্বারে টাকার পরিমান ও বাবত জানাবেন৷
একাউন্ড নং ৩৬০৬৮ আল আরাফা ব্যাংক ৷ বিকাশ নম্বার 01717971791 যোগাযোগ নাম্বার 01756473393
আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝে আমল করে উভয় জগতে ধন্য হওয়ার তৌফিক দান করুন ৷ সকলেকে সঠিক প্রতিদান দান করুন৷ আমিন৷
ফতোয়া নং: ৪১২৪
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমি প্রতি রমযানে যাকাত আদায় করি। কিন্তু এ বছর ব্যবসায়িক...

প্রশ্ন
আমি প্রতি রমযানে যাকাত আদায় করি। কিন্তু এ বছর ব্যবসায়িক ঝামেলার কারণে রমযানে যাকাত আদায় করা হয়নি। তিন মাস যাওয়ার পর পনের মাসের একত্রে যাকাত আদায় করেছি। রমযান পর্যন্ত যাকাতযোগ্য সম্পদের ব্যালেন্স ছিল প্রায় আশি লক্ষ টাকা। তিন মাস পর কোটি টাকা হয়েছে। তাই কোটি টাকার যাকাত আদায় করেছি। আমার এ আদায় কি ঠিক হয়েছে? এখন এ বছরের তিন মাসের যাকাত দিলাম। তাহলে কি আগামী রমযানে বাকি নয় মাসের যাকাত দিলে চলবে?
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী এক কোটির মধ্যে আশি লক্ষ টাকার যাকাত গত বছরের যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর বিশ লক্ষ টাকার যাকাত অগ্রিম আদায় হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। সুতরাং আগামি রমযানে যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ হিসাব করে সেখান থেকে বিশ লক্ষ টাকা বাদ দিয়ে বাকিটার যাকাত আদায় করতে হবে।
উল্লেখ্য, যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পরই যাকাত ফরয হয়। যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার আগে যাকাত দিলে তা অগ্রিম গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে বর্ষ শেষে যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে সমন্বয় করে নিতে হবে।

ফতোয়া নং: ৪১১৭
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশী অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে...

প্রশ্ন
আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশী অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
তাকে আমি হাসপাতালে দেখতে যাই।
সাথে তার জন্য আমার যাকাতের
টাকা থেকে পাঁচ হাজার
টাকা নিয়ে যাই। তন্মধ্যে যাকাতের নিয়তে এক হাজার টাকার কিছু জিনিস
কিনে নিয়ে যাই। আর বাকি চার
হাজার টাকা তাকে প্রদান করি।
জানার বিষয় হল, আমার পুরো পাঁচ
হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায়
হয়েছে কি?
উত্তর
অসুস্থ লোকটি যাকাত গ্রহণের যোগ্য
হলে আপনার পুরো পাঁচ হাজারই যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে। কেননা যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে নগদ
টাকা প্রদান করলে যেভাবে যাকাত আদায় হয় তেমনিভাবে যাকাতের
নিয়তে কোনো পণ্য কিনে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়। তবে কোনো পণ্য দ্বারা যাকাত আদায় করার চেয়ে নগদ অর্থ দ্বারা আদায় করাই শ্রেয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬-২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪
ফতোয়া নং: ৪১১৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

রমযানের ২৫ তারিখে আমার যাকাতের বছর পূর্ণ হয়। আমি সবসময়...

প্রশ্ন
রমযানের ২৫ তারিখে আমার যাকাতের বছর পূর্ণ হয়। আমি সবসময় ২৫ রমযান বা তারপর দু একদিনের মধ্যেই যাকাত আদায় করে থাকি। কিন্তু এ বছর একজন দরিদ্র লোককে রমযানের আগেই যাকাত দিয়ে দিয়েছি। প্রশ্ন হল, যাকাতের বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যাকাত দিলে তা আদায় হবে কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
হ্যাঁ, নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য বছর পূর্ণ হওয়ার আগেও যাকাত আদায় করা জায়েয। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার অগ্রিম যাকাত দেওয়া শুদ্ধ হয়েছে।
-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৬৭৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৭৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৯৩
ফতোয়া নং: ৪১১৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমি মোহর বাবদ ৪ ভরি স্বর্ণালংকারের মালিক। যার বর্তমান বাজারমূল্য...

প্রশ্ন
আমি মোহর বাবদ ৪ ভরি স্বর্ণালংকারের মালিক। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় আড়াই
লক্ষ টাকা। এছাড়া যাকাতযোগ্য অন্য কোনো সম্পদ আমার নেই। আমার স্বামী তার বেতন থেকে প্রতি মাসে হাত খরচের জন্য ১০০০/-টাকা দিয়ে থাকেন, যা আমার ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় হয়ে যায়। মাস শেষে আর কোনো টাকা অবশিষ্ট থাকে না। প্রশ্ন হল, আমাকে কি ঐ অলংকারের যাকাত আদায় করতে হবে?
উত্তর
আপনার কাছে যেহেতু ঐ স্বর্ণালংকার ব্যতীত রূপা, টাকা-পয়সা বা ব্যবসার সম্পদ নেই এবং
আপনার মালিকানাধীন স্বর্ণও নেসাব পরিমাণ নয় তাই আপনাকে ঐ অলংকারের যাকাত আদায় করতে হবে না।
-মাবসূত সারাখসী ২/১৯০, ১৯৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪৯; আলমুহীতুল
বুরহানী ৩/১৫৬-১৫৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪

ফতোয়া নং: ৪১০১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমার কাছে এক লক্ষ টাকা আছে, যা আমার খোরপোষের বাইরে।...

প্রশ্ন
আমার কাছে এক লক্ষ টাকা আছে, যা আমার খোরপোষের বাইরে। ঐ টাকার
উপর কি যাকাত ফরয হবে? আর ফরয হলে কত টাকা আদায় করতে হবে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
হাঁ, এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর এ থেকে আপনার মালিকানায় যা থাকবে এবং অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদসহ সবগুলোর উপর যাকাত ফরয। আর যাকাত দিতে হবে ২.৫% হিসাবে যেমন,এক লক্ষ টাকায় দুই হাজার পাঁচ শত টাকা। -আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৩৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৫; ফাতাওয়া খানিয়া
১/২৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯; রদ্দুল মুহতার
২/৩০০
ফতোয়া নং: ৩৭০৭
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

নূরুল হক আমার প্রতিবেশী। সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। কিন্তু সে...

প্রশ্ন
নূরুল হক আমার প্রতিবেশী। সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত। কিন্তু সে অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। আমি তাকে যাকাতের টাকা দিলে সে লজ্জা পাবে। এখন যদি আমি তার বুঝমান ছেলেকে ঈদ-বখশিশ হিসেবে যাকাতের টাকা দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?
উত্তর
নূরুল হক যেহেতু যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত তাই তার নাবালেগ বুঝমান ছেলেকে যাকাতের নিয়তে ঈদ বখশিশ হিসেবে টাকা দিলেও তা দ্বারা যাকাত আদায় হয়ে যাবে। -ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৮৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৫৬
ফতোয়া নং: ৩৭০৬
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: জাকাত

আমার এক গরীব প্রতিবেশীর কাছ থেকে আমি দশ হাজার টাকা...

প্রশ্ন
আমার এক গরীব প্রতিবেশীর
কাছ থেকে আমি দশ হাজার টাকা পাই। কয়েক বছর হয়ে গেল, কিন্তু তিনি টাকাটা দিতে পারছেন না। আমি যদি যাকাত আদায়ের নিয়তে ঐ দশ
হাজার টাকা মাফ করে দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?
উত্তর
না, এভাবে ঋণ মাফ করার দ্বারা যাকাত আদায় হবে না। কেননা, যাকাত আদায়ের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিকে যাকাতের মাল নগদে মালিক বানিয়ে দেওয়া শর্ত। সুতরাং ঐ ব্যক্তি যদি
বাস্তবেই যাকাত গ্রহণের যোগ্য
হয় তাহলে আপনি যাকাত বাবদ তাকে নগদ দশ হাজার টাকা দিয়ে দিতে পারবেন। অতপর তার থেকে আপনার ঋণ উসুল করে নিতে পারবেন।
-কিতাবুল আছল ২/১২৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৩১; রদ্দুল মুহতার ২/২৭০-২৭১

ফতোয়া নং: ৩০৩৬
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

রমযানের ২৫ তারিখে আমার যাকাতের বছর পূর্ণ হয়। আমি সবসময়...

প্রশ্ন
রমযানের ২৫ তারিখে আমার যাকাতের বছর পূর্ণ
হয়। আমি সবসময় ২৫ রমযান বা তারপর দু একদিনের
মধ্যেই যাকাত আদায় করে থাকি। কিন্তু এ বছর একজন দরিদ্র লোককে রমযানের আগেই যাকাত
দিয়ে দিয়েছি। প্রশ্ন হল, যাকাতের বছর পূর্ণ
হওয়ার আগে যাকাত দিলে তা আদায় হবে কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
হ্যাঁ, নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের জন্য বছর
পূর্ণ হওয়ার আগেও যাকাত আদায় করা জায়েয। সুতরাং
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার অগ্রিম যাকাত দেওয়া শুদ্ধ হয়েছে। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ৬৭৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৭৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪১;
ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৯৩
ফতোয়া নং: ৩০৩৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমি প্রতি রমযানে যাকাত আদায় করি। কিন্তু এ বছর ব্যবসায়িক...

প্রশ্ন
আমি প্রতি রমযানে যাকাত আদায় করি। কিন্তু এ বছর
ব্যবসায়িক ঝামেলার কারণে রমযানে যাকাত আদায় করা
হয়নি। তিন মাস যাওয়ার পর পনের মাসের একত্রে
যাকাত আদায় করেছি। রমযান পর্যন্ত যাকাতযোগ্য
সম্পদের ব্যালেন্স ছিল প্রায় আশি লক্ষ টাকা। তিন
মাস পর কোটি টাকা হয়েছে। তাই কোটি টাকার যাকাত আদায় করেছি। আমার এ আদায় কি ঠিক হয়েছে? এখন এ বছরের তিন মাসের যাকাত
দিলাম।
তাহলে কি আগামী রমযানে বাকি নয় মাসের যাকাত
দিলে চলবে?
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী এক কোটির মধ্যে
আশি লক্ষ টাকার যাকাত গত বছরের যাকাত হিসেবে
গণ্য হবে। আর বিশ লক্ষ টাকার যাকাত অগ্রিম আদায়
হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। সুতরাং আগামি রমযানে যাকাতযোগ্য সকল সম্পদ হিসাব করে
সেখান থেকে বিশ লক্ষ টাকা বাদ দিয়ে বাকিটার
যাকাত আদায় করতে হবে।
উল্লেখ্য, যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পরই যাকাত ফরয
হয়। যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার আগে যাকাত দিলে তা
অগ্রিম গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে বর্ষ শেষে যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে সমন্বয় করে নিতে হবে।
ফতোয়া নং: ৩০১৬
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশী অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে...

প্রশ্ন
আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশী অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকে আমি হাসপাতালে দেখতে যাই। সাথে তার জন্য আমার যাকাতের টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যাই। তন্মধ্যে যাকাতের নিয়তে এক হাজার টাকার কিছু জিনিস কিনে নিয়ে যাই। আর বাকি চার হাজার টাকা তাকে প্রদান করি। জানার বিষয় হল, আমার পুরো পাঁচ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে কি?
উত্তর
অসুস্থ লোকটি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে আপনার পুরো পাঁচ হাজারই যাকাত হিসাবে আদায় হয়েছে। কেননা যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তিকে নগদ টাকা প্রদান করলে যেভাবে যাকাত আদায় হয় তেমনিভাবে যাকাতের নিয়তে কোনো পণ্য কিনে দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যায়। তবে কোনো পণ্য দ্বারা যাকাত আদায় করার চেয়ে নগদ অর্থ দ্বারা আদায় করাই শ্রেয়। -বাদায়েউস সানায়ে ২/১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৬-২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪
ফতোয়া নং: ৩০১৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

গত মুহাররমের ৭ তারিখে আমার এক আত্মীয় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল...

প্রশ্ন
গত মুহাররমের ৭ তারিখে আমার এক আত্মীয় সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন। তার উপর যাকাত ফরয ছিল। তার যাকাত- বর্ষের তারিখ ছিল ১ মুহাররম। প্রতি বছর তিনি হিসাব করেই যাকাত আদায় করতেন। কিন্তু এবার আর সে সুযোগ তার হয়নি এবং তিনি এ ব্যাপারে কোনো অসিয়ত করেননি। এখন তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানার বিষয় হল, তাদেরকে কি মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার অনাদায়ী যাকাত আদায় করতে হবে, নাকি তার যাকাতের টাকাও অন্যান্য সম্পদের মতো মীরাছ হিসেবে বণ্টিত হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি যেহেতু তার যাকাত আদায়ের অসিয়ত করেননি তাই তার পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে যাকাত আদায় করা জায়েয হবে না; বরং তার পরিত্যক্ত পুরো সম্পদই মীরাছ হিসেবে ধর্তব্য হবে। অবশ্য ঐ ব্যক্তির বালেগ ওয়ারিশগণ নিজেদের অংশ থেকে তার অনাদায়ী যাকাত দিয়ে দিলে তারা সওয়াবের অধিকারী হবে এবং মৃত ব্যক্তিও এর দ্বারা উপকৃত হবে ইনশাআল্লাহ। আর এক্ষেত্রে যদি সকল ওয়ারিশ বালেগ হয় এবং তারা প্রত্যেকেই স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে কাজটি করতে চায় তাহলে ইজমালি সম্পদ থেকেও কাজটি সমাধা করতে পারবে। -শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৩৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৮৫, ১৮৬; দুরারুল হুককাম ১/১৭৯
ফতোয়া নং: ৩০১০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমার স্ত্রীর ৫০ হাজার টাকার মহর অনাদায়ী আছে। যা পরবর্তী...

প্রশ্ন
আমার স্ত্রীর ৫০ হাজার টাকার মহর অনাদায়ী আছে। যা পরবর্তী সময় আদায় করার কথা। আমি সুযোগমতো তা আদায় করব। এখন প্রতি বছর যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে এই পঞ্চাশ হাজার টাকা বাদ দিয়ে বাকি সম্পদের যাকাত আদায় করব? নাকি তা বাদ দেওয়া যাবে না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আপনার স্ত্রীর মহরের টাকা যেহেতু নগদে আদায় করছেন না তাই তা বর্তমানে যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ যাবে না। এখন আপনাকে পুরো সম্পদেরই যাকাত দিতে হবে। -আলবাহরুর রায়েক ২/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৩
ফতোয়া নং: ৩০০৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমাদের বিশজনের একটা সংগঠন আছে। আমরা সবাই মিলে টাকা জমা...

প্রশ্ন
আমাদের বিশজনের একটা সংগঠন আছে। আমরা সবাই মিলে টাকা জমা করি। বর্তমানে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা হয়েছে। তবে আলাদা আলাদাভাবে প্রত্যেকের প্রায় আট হাজার টাকা করে জমা হয়েছে। আমাদের এই টাকার উপর কি যাকাত ওয়াজিব হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সমিতির শুধু
ঐ টাকার কারণে পৃথকভাবে কারো উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং সমিতির সমষ্টিগত সম্পদের উপরও যাকাত আসবে না। তবে কোনো সদস্যের নিকট যদি সমিতির টাকাসহ যাকাতযোগ্য আরো সম্পদ থাকে এবং উভয়টি মিলে নিসাব পরিমাণ হয়ে যায় তাহলে তার উপর
যাকাত ফরয হবে। -সুনানে আবু দাউদ ১/২১৮-২১৯;
সহীহ
বুখারী ১/১৯৫; কিতাবুল আছল
২/৬৭;
আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৫৩; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২১৬
ফতোয়া নং: ২৮৬৫
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

এক ব্যক্তির তিন মেয়ে দুই ছেলে। তাদের মধ্যে এক ছেলে...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তির তিন মেয়ে দুই ছেলে। তাদের মধ্যে এক ছেলে পড়াশোনা করে। ছেলে হল বালেগ। আমার প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তির নগদ ২ লক্ষ টাকা আছে। সে জানে তার উপর যাকাত ওয়াজিব হয়েছে। টাকাগুলো ২ বছর তার অধীনে আছে। সে যাকাতের টাকাগুলো তার ঐ ছেলের পিছনে খরচ করতে চাচ্ছে। এটা কী বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
সন্তানাদিকে যাকাত দেওয়া জায়েয নয়। সন্তান বালেগ হলেও সে পিতামাতার যাকাত গ্রহণ করতে পারবে না। তাই সন্তানকে যাকাতের টাকা দিলে বা তার পড়ালেখার পেছনে এ টাকা খরচ করলে যাকাত আদায় হবে
না।
-আল মুহীতুল বুরহানী ৩/২১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৬
ফতোয়া নং: ২৮৬৪
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমাদের বাসা ক্যান্টনমেন্টে। গাজীপুরে আমাদের একটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। আমরা...

প্রশ্ন
আমাদের বাসা ক্যান্টনমেন্টে। গাজীপুরে আমাদের একটি পাঁচতলা বাড়ি আছে। আমরা সেটি ভাড়া দেই। আমাদের ঐ বাড়ির উপর কি যাকাত দিতে হবে?
উত্তর
না, ঐ বাড়ির মূল্যের উপর যাকাত দিতে হবে না। তবে ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া বছর শেষে নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৫৩; হাশিয়াতুত
ফতোয়া নং: ২৮৬৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমি ও আমার স্ত্রী উভয়েই নেসাবের মালিক। আমার শ্বশুর অনেক...

প্রশ্ন
আমি ও আমার স্ত্রী উভয়েই নেসাবের মালিক। আমার শ্বশুর অনেক সম্পদের মালিক ছিলেন। কিন্তু তার সৎ ভাইয়েরা জালিয়াতি করে সব সম্পদ লুটে নেয়। পরবর্তীতে মামলা মোকদ্দমা করেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। এ অবস্থায় আমার শ্বশুর ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি বেশ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। বাড়ির ভিটা ছাড়া কোনো সম্পদই তার অবশিষ্ট নেই। পরিবারের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮ জন। এদের মধ্যে ৫ জন প্রাপ্ত বয়স্ক বাকি ৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বড় ছেলে স্বল্প বেতনে শিক্ষকতা করে এবং মাত্র এক হাজার টাকা পরিবারে খরচ হিসেবে দেয়। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাদের অবস্থা ভাল। আমার শ্বশুরের আত্মীয়স্বজন আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। তারা আমার শ্বশুর বাড়িতে নির্দিষ্ট সময় বিশেষ করে দুই ঈদে তাদের আর্থিকভাবে সহায়তা করে থাকে। সাহায্যের ধরন থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তাদেরকে যাকাতের টাকা দ্বারা সাহায্য করা হয়। আমার জানার বিষয় হল, আমরা যেহেতু উভয়েই নেসাবের মালিক তাই আমাদের জন্য শ্বশুর বাড়ির খাবার-দাবার কি বৈধ? সেখান থেকে আমাদেরকে কোনো কিছু দিলে তা নেওয়া যাবে কি? যদি না হয় তাহলে আমরা যদি সেখানে বেড়াতে যাই তখন আমাদের করণীয় কী?
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার শ্বশুর বাড়ির লোকজনের জন্য যাকাত গ্রহণ করা জায়েয। তারা যাকাত হস্তগত করার পর এ থেকে আপনাদেরকে কোনো কিছু হাদিয়া দিলে কিংবা দাওয়াত করে খাওয়ালে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে। কেননা যাকাত গ্রহণের যোগ্য ব্যক্তি যাকাত হস্তগত করার পর তা তার নিজস্ব মাল হয়ে যায়। তা যাকাতের মালের হুকুমে থাকে না। অতএব তারা নিজেদের অন্যান্য সম্পদের মতো এই টাকা থেকেও ধনী-গরিব যে কাউকে দাওয়াত দিতে পারবে এবং ধনীদের জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫০৯৭; ফাতহুল বারী ৫/২৪৩; শরহুল মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২০৩; উমদাতুল কারী ৯/৯২; বাযলুল মাজহূদ ৮/১৯৮; আলইসতিযকার ৫/৭৪; মানাসিক
৩৯৩
ফতোয়া নং: ২৮৪৪
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমার নিকট নগদ কোনো টাকা নেই। কেবল বিয়ের সময় মহর...

প্রশ্ন
আমার নিকট নগদ কোনো টাকা নেই। কেবল বিয়ের সময় মহর এবং উপঢৌকন হিসেবে পাওয়া তিন ভরি স্বর্ণ আছে। আর আমার ভাইয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি পাথর সেট আছে। এটি অনেক দামি পাথর দ্বারা তৈরি, যার মূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এছাড়া যাকাতযোগ্য আর কোনো সম্পদ আমার নেই। হুজুরের নিকট জানতে চাই যে, এ অবস্থায় আমার উপর যাকাত ফরয কি
না?
উত্তর
ব্যবহৃত পাথর দামি হলেও তার উপর যাকাত আসে না। তাই আপনার উক্ত পাথর সেটের উপর যাকাত আসবে না। সুতরাং আপনার নিকট যদি বাস্তবেই তিন ভরি স্বর্ণ ছাড়া যাকাতযোগ্য অন্য কোনো সম্পদ (তথা নগদ টাকা, রূপা বা ব্যবসার পণ্য) না থাকে তাহলে শুধু ঐ স্বর্ণের কারণে আপনার উপর যাকাত ফরয হবে না। কেননা শুধু স্বর্ণের উপর যাকাত ফরয হওয়ার জন্য সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণের মালিক হতে হবে। এরচেয়ে কম স্বর্ণ থাকলে এবং যাকাতযোগ্য অন্য কোনো সম্পদ (যেমন, নগদ টাকা, রূপা বা ব্যবসার পণ্য) না থাকলে যাকাত ফরয হবে
না।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৯৬৬, ১০১৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১৫৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৯৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬, ২/২২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭৮, ১/১৮০; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৩; দুরারুল হুককাম ফী শরহি গুরারিল আহকাম
১/১৭৫
ফতোয়া নং: ২৮৪৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

আমি একজন চাকরিজীবী। গত বছরের শুরুর দিকে আমার কাছে যাকাতের...

প্রশ্ন
আমি একজন চাকরিজীবী। গত বছরের শুরুর দিকে আমার কাছে যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদ ছিল। দু’তিন মাস পর আমার ছেলে গাড়িতে এক্সিডেন্ট করে। তখন তার চিকিৎসার পিছনে আমার সব টাকা খরচ হয়ে যায়। আরো কিছু টাকা ঋণও করতে হয়। পরবর্তীতে আবার আল্লাহর রহমতে নেসাবের চেয়েও বেশি টাকা-পয়সার মালিক হয়ে যাই। শুনেছি, যাকাত ফরয হওয়ার জন্য নাকি বছরের শুরু আর শেষে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকা যথেষ্ট। পুরো বছর থাকা জরুরি নয়। তাহলে উক্ত অবস্থায় বছরের শুরু-শেষ নেসাবের মালিক হওয়ার কারণেই কি আমার উপর যাকাত ফরয হয়ে গেছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার নিকট তখন যদি টাকা-পয়সা ছাড়া যাকাতযোগ্য আর কোনো সম্পদ না থেকে থাকে তাহলে আপনার উপর গত বছরের যাকাত ফরয হয়নি। কারণ বছরের মাঝে কিছু সময় আপনার কাছে যাকাতযোগ্য কোনো সম্পদই ছিল না। অথচ যাকাত ফরয হওয়ার জন্য বছরের শুরু-শেষ নেসাবের মালিক হওয়ার সাথে সাথে পুরো বছর অল্প হলেও প্রয়োজন অতিরিক্ত যাকাতযোগ্য সম্পদ থাকা জরুরি। বছরের মাঝখানে কখনো
যাকাতযোগ্য সম্পদ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেলে ঐ
বছরের হিসাবও বাদ হয়ে যায়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে গত বছরের যাকাত দিতে হবে না। এক্ষেত্রে আপনি যখন থেকে পুনরায় নেসাবের মালিক হয়েছেন তখন থেকে নতুন করে যাকাতবর্ষ গণনা শুরু করতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩০২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৮১

নবীজি সাঃ এর রমযানের প্রস্তুতি।
রজব মাজ থেকেই রাসুল সাঃ রমযানের প্রস্তুতি গ্রহন করতেন।
প্রস্তুতি দুই ভাবে নেওয়া।
(১) রজব মাস থেকে মাঝে মাঝে তুলনামুলক বেশি রোজা রেখে অভ্যস্ত হওয়া।
(২) রজব মাস থেকে অন্যান্য আমল যেমন নফল নামায কোরান তিলাওয়াত ইত্যাদি বেশি বেশী করে অভ্যস্ত হয়ে প্রস্তুতি গ্রহন করা।
এবং সময়ে সময়ে এই দোয়াটি পড়া ﺍﻟﻠﻬﻢَّ ﺑﺎﺭِﻙْ ﻟﻨﺎ ﻓﻲ ﺭَﺟَﺐَ
‎ﻭﺷَﻌْﺒﺎﻥَ . ﻭﺑَﻠِّﻐْﻨﺎ ﺭﻣَﻀَﺎﻥَ উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শা‘বান। ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।
অনেককে দেখা যায় এই হাদীসের বিভিন্ন ফযীলত বর্ননা করে, যেমন একশ জনকে দোয়াটি পৌছালে, বা আকশবার দোয়াটি পড়লে একশ বছরের গোনাহ মাফ হবে, বা একশ রাকাত নামাযের ছাওয়াব হবে ইত্যাদি। এগুলো মিথ্যা বানোয়াট।
তাই এ ধরনের কাজ ও বিশ্বাস থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।
কারন ইসলাম বড়াবাড়ি ছাড়াছাড়ি কোনটাকেই সমর্থন করে না।
আল্লাহ ছহীহ বুঝে আমল করে উভয় জাহানে ধন্য হওয়ার তৌফীক দান করুন। আমীন।
ফতোয়া নং: ২৮৩৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: জাকাত

কোন অমুসলিমকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে কিনা? দিলে যাকাত আদায়...

প্রশ্ন
কোন অমুসলিমকে যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে কিনা? দিলে যাকাত আদায় হবে কিনা?
উত্তর
না, অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া যাবে না। যদি কেউ দেয়, তাহলে তার যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় যাকাত আদায় করতে হবে।
দলিলঃ সুরা তাওবা আয়াত নং ৬০; নাসায়ী শরীফ ৩/৪৯; বাহরুর রায়েক ২/২৬৬; জাওহারাতুন নায়িরা ১/৪৯৮.

Execution time: 0.04 render + 0.02 s transfer.