Login | Register

ফতোয়া: স্বামী-স্ত্রী

ফতোয়া নং: ৩৭৮১
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়,...

প্রশ্ন
আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়, অনেকে বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর মা-বাবা কিংবা গার্ডিয়ানদের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখে। এখন ঐ ছেলে- মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আংটি পরানোর দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয় না। এটি উভয় পক্ষের মাঝে সামাজিকভাবে কেবলমাত্র বিবাহের
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা বুঝায়। সুতরাং ইজাব-
কবুল ছাড়া শুধু আংটি পরানোর কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য হবে না। তাই ইজাব-কবুলের আগে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা বৈধ নয়। প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আকদ না করিয়ে আংটি পরিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এভাবে রেখে দেওয়ার রেওয়াজটি ঠিক নয়। এ কারণে ছেলে-মেয়ে ও তাদের নিকটজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করার গুনাহ বাড়তে
থাকে।
উল্লেখ্য যে, বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কাবিন করা শর্ত নয়; বরং দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিয়ের ইজাব-কবুল করার দ্বারাই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়। -রদ্দুল মুহতার ১/১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১ ও ৩/১৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৩৭
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার...

প্রশ্ন
আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে
দেয়। ফলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অনেক
দিন পর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়। তখন আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে রাত যাপন করে। এরপর তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোনো বাধা
আছে কি?
উত্তর
স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা
অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও
সে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই আপনার স্বামীর সাথে
আপনার বোনের বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি এবং তার সাথে একত্রে থাকাও হারাম হয়েছে। সুতরাং এগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনার বোনের জন্য
তার পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ
হওয়াও বৈধ হবে না। উল্লেখ্য, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে উম্মতের একটা বড় অংশের মাঝে ইসলামী শিক্ষার চর্চা এতটাই কমে এসেছে যে, ইসলামের মৌলিক বিধানাবলির জ্ঞানটুকুও অনেক মানুষের থাকে না। হালাল-হারাম বিষয়ক বিধানাবলি তো ঐসব
জরুরিয়াত (অপরিহার্য জ্ঞান)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা
অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। আর এক
বোন বিবাহে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা যে হারাম তা তো এতই স্পষ্ট মাসআলা যে, সকলেরই তা জানা। মোটকথা, এই মারাত্মক গুনাহের কারণে এর সাথে
সম্পৃক্ত সকলকেই খাঁটি মনে তাওবা-ইস্তেগফার
করা উচিত। এবং দ্বীনী ইলম অর্জন করা ও তা আমলে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই পুরোপুরি সচেষ্ট হওয়া উচিত। - সূরা নিসা (৪) : ২৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১০৭; মুখতাসারুত তহাবী ৪/৩৩০; আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৬;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৩৬
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি...

প্রশ্ন
বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে বাসার বাইরে চলে যান। তাকে বললে তিনি শোনেন না। তাই ইদ্দত পালন না করলে কী আযাব এবং
জাহান্নামের ভয়াবহতা রয়েছে তা জানতে চাই।
যাতে করে আমার মাকে জানালে তিনি সঠিকভাবে ইদ্দত পালন করতে পারেন।
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চার মাস দশ দিন স্ত্রীর
জন্য নিজ গৃহে ইদ্দত পালন করা শরীয়তের একটি
গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান। কুরআন মজীদে আল্লাহ
তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমাদের
মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে
যায়, উক্ত স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন
প্রতীক্ষায় রাখবে (ইদ্দত পালন করবে)। -সূরা
বাকারা (২) : ২৩৪ খুসাইফ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি
সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ.-কে জিজ্ঞাসা
করলাম,যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে (ইদ্দত
অবস্থায়) কি ঘর থেকে বের হতে পারবে? তিনি
বললেন,না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস
১৯১৯৮
সুতরাং বিনা ওজরে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া
জায়েয হবে না। আর শরীয়তের হুকুমের লঙ্ঘন করাই
পাপ। আর পাপ বলতেই ঈমানের উন্নতির পথে বাধা এবং আখেরাত ও কবরের যিন্দেগী সুখময় হতে
বাধা। মুমিনের জন্য শুধু এতটুকু কথাই কোনো ফরয-
ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য যথেষ্ট। অবশ্য জীবিকা কিংবা অন্য কোনো মানবিক
প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার অবকাশ
আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আবার
বাড়িতে ফিরে আসা জরুরি। আর দিনে কোনো বিশেষ ওজরে বের হলেও রাতে অবশ্যই নিজ গৃহেই অবস্থান করতে হবে।
-ফাতহুল কাদীর ৪/১৬৬-১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী
৫/২৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৮; আদ্দুররুল
মুখতার ৩/৫৩৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭১২
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে...

প্রশ্ন
আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে লোকজন তাকে দেখতে দেয়নি এবং তারা বলে, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। জানতে চাই, স্ত্রীর ইন্তেকালের পর স্বামী স্ত্রীর চেহারা দেখতে পারে কি না? তেমনিভাবে স্বামীর ইন্তেকালের পর স্ত্রী তার চেহারা দেখতে পারবে কি?
উত্তর
মৃত স্ত্রীর চেহারা স্বামী দেখতে পারবে। তদ্রূপ মৃত স্বামীর চেহারাও স্ত্রী দেখতে পারবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটিকে তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখতে না দেওয়া অন্যায় হয়েছে।
-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৭৭; ইলাউস সুনান ৫/২২৩;
আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
২/১৩৭; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪০৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭০৪
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

একদিন কোনো একটি বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আমার ঝগড়া বেধে যায়।...

প্রশ্ন
একদিন কোনো একটি বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আমার ঝগড়া বেধে যায়। একপর্যায়ে আমি বলি, তুই যদি আর একটা কথা বলিস তাহলে তোকে ছেড়ে দেব। তারপরও সে কথা বলে। তখন আমি বলি, যা তোকে ছেড়ে দিলাম। উক্ত কথার দ্বারা আমার তালাক দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। তাকে চুপ করানোর জন্য বলেছিলাম। আমি জানতে চাচ্ছি, উক্ত কথার কারণে আমার স্ত্রী কি তালাক হয়ে গেছে?
উত্তর
আমাদের সমাজে তোকে ছেড়ে দিলাম বাক্যটি তালাকের জন্যই ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত কথা দ্বারা তালাকের উদ্দেশ্য না থাকলেও আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন আপনি পুণরায় সুষ্ঠুরূপে ঘর-সংসার করতে চাইলে ইদ্দতের মধ্যে রজআত অর্থাৎ স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। রজআতের উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে, ইদ্দতের ভিতরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করা। যেমন, এ কথা বলবেন যে, তোমাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করলাম। এর দ্বারাই আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুণঃবহাল হয়ে যাবে। আর যদি আপনি ইদ্দতের ভিতরে (ঋতুমতী মহিলার জন্য তিনটি হায়েয অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত আর অন্তঃসত্তা মহিলার জন্য সন্তান প্রসব পর্যন্ত) রজআত না করেন তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আবার ঘর-সংসার
করতে
চাইলে নতুন মোহর ধার্য করে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে বিবাহ করতে হবে। প্রকাশ থাকে যে, এই স্ত্রীকে ইদ্দতের ভিতরে কিংবা ইদ্দত শেষ হয়ার পর পুণরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে পরবর্তীতে আপনি দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। তাই পরবর্তীতে এই স্ত্রীকে কখনো দুই তালাক দিলে পূর্বের এক তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক হয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ করেও একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই সামনে থেকে তালাক বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া অন্যায়। অনেক ক্ষেত্রে তালাক স্ত্রী- সন্তানের উপর এবং নিজের উপরও জুলুমের কারণ হয়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য। -বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩০০;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৬৩; রদ্দুল মুহতার
৩/২৯৯; আলবাহরুররায়েক ৪/৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৭৫
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং সে তার ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছে।অপরদিকে ছেলের বাবা সন্তানকে তার কাছেই
রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে? আশা করি জানিয়ে বাধিত করবেন। উলেস্নখ্য, মহিলার দ্বিতীয় স্বামীর সাথে উক্ত সন্তানের কোনো
ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।
উত্তর
সন্তান লালন-পালনের অধিকার মূলত মায়ের। তবে মা সন্তানের মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার আর সন্তান লালন- পালনের অধিকারী থাকে না। সেক্ষেত্রে এ অধিকার ক্রমান্বয়ে নিম্নে বর্ণিত আত্মীয়গণ লাভ করে।
যথা-ক) শিশুর নানী খ) শিশুর দাদী গ) শিশুর খালা ঘ) শিশুর ফুফু
ঙ) আসাবা (শরীয়ত নির্ধারিত নিকটাত্মীয়)-এর ক্রমানুসারে পুরুষ আত্মীয়গণ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা গায়রে মাহরামকে বিয়ে করার কারণে তার লালন-পালনের অধিকার বাতিল হয়ে গিয়েছে। এখন উপরে বর্ণিত শিশুর নারী আত্মীয়গণ অর্থাৎ নানী, দাদী, খালা, ফুফু
যদি বিদ্যমান না থাকে কিংবা তারা দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মত বা অসমর্থ্য হয় তাহলে সেক্ষেত্রে পিতা নিজে তার সন্তা লালন-পালনের অধিকারী হবে।
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৭০;
বাযলুল
মাজহূদ ১১/১৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৬৭-১৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৫৫-৫৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৭৫-২৭৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৬৮
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক মহিলা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। তার...

প্রশ্ন
জনৈক মহিলা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর শিশুটির ছোট খালা তাকে লালন-পালন করেন এবং তাকে তার দুধও পান করান। কয়েক বছর পর শিশুটির খালু ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে ছেলেটির পিতা তার দুধ মা (খালা)-কে বিবাহ করতে চাচ্ছে। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকেও সম্মতি রয়েছে। প্রশ্ন হল, তাদের এ বিবাহ কি শরীয়তসম্মত হবে?
উত্তর
হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতার জন্য সন্তানের দুধ মাতা-খালাকে বিবাহ করা জায়েয হবে। কেননা কোনো মহিলা সন্তানের দুধ মা হলেই তার সাথে পিতার বিবাহ নাজায়েয হয়ে যায় না। তবে তাদের এ বিবাহ উক্ত মহিলার স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর হতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া
১/৪১৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৬৭
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি পড়ালেখা করে। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি পড়ালেখা করে। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি বড়
প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। ঐ প্রতিষ্ঠানে
ভর্তি হওয়ার জন্য অবিবাহিত হওয়া শর্ত। কিন্তু সে বিবাহিত ছিল। তাই
বিবাহিত হওয়া সত্তে¡ও ভর্তি হওয়ার জন্য সে তার জীবন
বৃত্তান্তে অবিবাহিত লিখে এবং পরবর্তীতে
মৌখিকভাবেও একথা স্বীকার করে যে, সে অবিবাহিত, তার কোনো স্ত্রী নেই। বর্তমানে
সে ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন
ছাত্র। জানার বিষয় হল, এভাবে বলা ও লিখার কারণে তার স্ত্রীর
উপর কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে?
উত্তর
বিবাহিত হওয়া সত্তে¡ও মিথ্যা বলে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেওয়া এবং স্ত্রী নেই বলা মারাত্মক অন্যায় ও কবীরা গুনাহ হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তাআলার নিকট কায়মনোবাক্যে ইস্তিগফার করতে হবে। অবশ্য এভাবে মিথ্যা বলা ও লেখার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেনি এবং স্ত্রীর উপর কোনো তালাকও
পতিত হয়নি। তাদের বিবাহ যথারীতি বহাল রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, নিজে অবিবাহিত প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে ভর্তি হওয়া
মারাত্মক অন্যায় হয়েছে। এটি ধোঁকা ও প্রতারণার শামিল। যা কোনো মুসলমানের কাজ নয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৭১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৮৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৫৬
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি এবং আমার স্ত্রীর মাঝে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া লেগে...

প্রশ্ন
আমি এবং আমার স্ত্রীর মাঝে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া লেগে থাকত। এর মধ্যে আমাদের একটি পুত্র সন-ান জন্ম লাভ করে। ছেলে জন্মের পর থেকে আমাদের ঝগড়া আরো বেড়ে যায়। তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে তালাক না দিয়ে আমার শ্যালিকা তার ছোট বোনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। তারপর আমরা ঢাকায় এসে বাসা নিয়ে থাকি। ঢাকা যাওয়ার ১৫দিন পর আমার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মোহরানা পরিশোধ করে বিদায় করে দিয়েছি। এখন আমার (প্রথম স্ত্রীর বোন) ২য় স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করছি। জানতে চাই, এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে
কি না?
উত্তর
কোনো মহিলার সাথে বিবাহ বহাল থাকা অবস'ায় তার আপন বোনকে বিবাহ করা হারাম। বিবাহ করলে তা শুদ্ধ হয় না। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী শ্যালিকার সাথে আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। তার সাথে দাম্পত্য মেলামেশা সম্পূর্ণ হারাম। এখনই পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি। শ্যালিকার সাথে বৈধভাবে সংসার করতে চাইলে স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর শ্যালিকাকে নতুনভাবে মহর ধার্য করে যথা নিয়মে বিবাহ করতে হবে। আর এতদিনের হারাম কার্যকলাপের জন্য আল্লাহর দরবারে তওবা-ইসি-গফার করতে হবে। আহকামুল কুরআন জাসসাস ২/১৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬৪; মাজমাউল আনহুর ১/৪৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৯/২১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫০৩

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২২১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলা তার স্বামীর কাছে মহরের টাকা পেত। বিয়ের এক...

প্রশ্ন
এক মহিলা তার স্বামীর কাছে মহরের টাকা পেত। বিয়ের এক বছর পর মহিলা স্বামীকে স্বেচ্ছায় বলল, আমার মহরের টাকা দিতে হবে না। তা তোমাকে দিয়ে দিলাম। এর কিছুদিন পর কোনো এক বিষয় নিয়ে পরস্পর ঝগড়া হয়েছে। তখন থেকে মহিলা মহরের টাকা দাবি করছে। এখনও মহিলা স্বামীর কাছে মহরের টাকা চায়। প্রশ্ন হল, স্বামীর জন্য ঐ মহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে কি? উল্লেখ্য, মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এ কথা বলেছিল যে, মহরের টাকা দিতে হবে না।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবেই যদি ঐ মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহর মাফ করে দিয়ে থাকে তাহলে তা মাফ হয়ে গেছে। সুতরাং এরপর মহিলার জন্য পুনরায় মহর দাবি করা অন্যায়। স্বামীর জন্য তার মহরের দাবি পূরণ করা জরুরি নয়। তবে সামর্থ্য থাকলে তা পুরো বা আংশিক আদায় করে দিলেই ভালো। উল্লেখ্য যে, মহর স্ত্রীর প্রাপ্য হক। তার উপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে বা তাকে লজ্জায় ফেলে এ হক মাফ করানো যাবে না। অবশ্য মহিলা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিনা চাপে নিজ থেকে মহরের হক ছেড়ে দেয় তাহলে তা মাফ হয়ে যাবে। -সূরা নিসা : ৪; আহকামুল কুরআন, কুরতুবী ৫/১৮; সহীহ বুখারী ১/৩৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৯১;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২১৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলা চার ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা গেছে। তার...

প্রশ্ন
এক মহিলা চার ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা গেছে। তার পিতামাতা ও স্বামী পূর্বেই মারা গেছে। এখন আমার প্রশ্ন
হল, ঐ মহিলার সম্পত্তি তার ছেলেমেয়ের মাঝে কীভাবে
বণ্টন করা হবে?
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের রেখে যাওয়া সমুদয় সম্পদ থেকে প্রথমে প্রয়োজন হলে তার কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচ আদায় করবে। এরপর তার কোনো ঋণ থাকলে তাও আদায় করতে হবে। এরপর তার শরীয়তসম্মত কোনো অসিয়ত থাকলে অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে তা আদায় করতে হবে। তারপর তার অবশিষ্ট সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে (প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে) নিম্নে বর্ণিত শতকরা হারে বণ্টিত
হবে।
প্রত্যেক ছেলে শতকরা ২০% আর প্রত্যেক মেয়ে ১০% করে পাবে। -সূরা নিসা : ১১; সহীহ বুখারী ২/৯৯৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৭৫; মাবসূত সারাখসী ২৯/১৩৯;

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৫৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক স্ত্রী, কয়েকজন ছেলেমেয়ে আছে। আমার কিছু স্থাবর সম্পত্তি,...

প্রশ্ন
আমার এক স্ত্রী, কয়েকজন ছেলেমেয়ে আছে। আমার কিছু স্থাবর সম্পত্তি, জমা- জমি ও বাড়িঘর আছে। দেনাকর্জও আছে। এ অবস্থায় আমার উক্ত ওয়ারিশদের মধ্যে সহায় সম্পত্তি ইত্যাদি বণ্টন করে যেতে চাই। সামান্য নিজের নামে রাখতে ইচ্ছুক। এ অবস্থায় আমাকে শরয়ী আইন মোতাবেক কী করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নের বক্তব্য অনুসারে আপনার উপর যেহেতু মানুষের দেনা-পাওনা আছে তাই প্রথমে তা পরিশোধ করে দিতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে স্ত্রী, ছেলে- মেয়ে তথা সম্ভাব্য ওয়ারিশদেরকে দান করতে চাইলে সেক্ষেত্রে এটি যেহেতু
আপনার উদ্দেশ্যের বিবেচনায় মৃত্যুপরবর্তী
মীরাছেরই পূর্ববণ্টন তাই এক্ষেত্রে মীরাছের নীতিমালা অনুসারে প্রত্যেককে তার অংশ লিখে দখল বুঝিয়ে দিবেন। আর আপনি নিজের নামেও কিছু সম্পত্তি রাখতে চাইলে রাখতে পারবেন। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ছাড়া আপনার আর কোনো ওয়ারিশ (এক্ষেত্রে পিতামাতা) না থাকলে এদের মাঝে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পদ বণ্টন করবেন। স্ত্রীকে শতকরা ১২.৫ অংশ। অতপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলেমেয়েদের মাঝে ‘ছেলে, মেয়ের দ্বিগুণ পাবে’- এই মূলনীতির ভিত্তিতে বণ্টন করবেন। আর যতটুকু সম্পত্তি নিজের নামে রাখবেন, আপনার মৃত্যুর পর কেবল ঐ অংশের মধ্যে মীরাছের বিধান প্রযোজ্য হবে। -তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৭৫; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৮/২৫৯-২৬০; আলমাদখালুল ফিকহিল আম ২/৯৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৪০, ২৯/১৪৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৫৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জায়েদ ইন্তেকালের সময় মা, বাবা, দুই ছেলে, এক মেয়ে, একজন...

প্রশ্ন
জায়েদ ইন্তেকালের সময় মা, বাবা, দুই ছেলে, এক মেয়ে, একজন বাপ-শরিক ভাই, একজন মা-শরিক ভাই ও স্ত্রী রেখে যায়। মাননীয় মুফতী সাহেবের খেদমতে অধমের জানার বিষয় হল, জায়েদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে কে কতটুকু পাবে?
উত্তর
মৃত জায়েদের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ থেকে প্রথমে তার কাফন-দাফনের খরচ (প্রয়োজন হলে) সম্পন্ন করবে। অতপর তার কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এরপর তার কোনো বৈধ অসিয়ত থাকলে তা অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে পূর্ণ করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। এক্ষেত্রে জায়েদের বাবা ও মা প্রত্যেকে সমুদয় সম্পদের এক ষষ্ঠাংশ করে পাবে এবং স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ। তাদের অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ তার ছেলেমেয়েগণ ‘‘এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান’’ হিসেবে লাভ করবে। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
করেছেন-
‎ﻳُﻮﺻِﻴﻜُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻓِﻲ ﺃَﻭْﻟَﺎﺩِﻛُﻢْ ﻟِﻠﺬَّﻛَﺮِ ﻣِﺜْﻞُ ﺣَﻆِّ ﺍﻟْﺄُﻧْﺜَﻴَﻴْﻦِ
(তরজমা) আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। ... তার (মৃতের) সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের এক ষষ্ঠাংশ; ... আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক অষ্টমাংশ।-সূরা নিসা ৪ : ১১-১২
সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী জায়েদের
সমুদয় সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নবর্ণিত শতকরা হারে বণ্টিত হবে- ১। জায়েদের বাবা : শতকরা ১৬.৬৬৬ ভাগ ২। জায়েদের মা : শতকরা ১৬.৬৬৬ ভাগ ৩। জায়েদের স্ত্রী : শতকরা ১২.৫০ ভাগ ৪। জায়েদের প্রত্যেক ছেলে : শতকরা ২১.৬৬৬ ভাগ ৫। জায়েদের মেয়ে : শতকরা ১০.৮৩
ভাগ।
উল্লেখ্য যে, জায়েদের বাবা ও ছেলে জীবিত থাকার কারণে প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তার বাপ-শরিক ভাই ও মা-শরিক ভাই কোনো অংশ পাবে না। -সূরা নিসা ৪ :
১১-১২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪৬
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার...

প্রশ্ন
আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। আর তা কিছু গোশতের টুকরার আকারে বেরিয়ে আসে। এরপর ৫/৬ দিন পর্যন্ত রক্ত আসে। স্রাবের সময়ও তার এমনই দেখা যায়। ঐ দিনগুলোতে সে নামায পড়েনি। আমার স্ত্রী মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চায় যে , তার ঐ নামায কি কাযা করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গর্ভটির যেহেতু অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ হয়নি তাই ৫/৬ দিন পর্যন্ত যে রক্ত
এসেছে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে;নেফাস নয়। আর উভয় অবস্থাতেই যেহেতু মহিলাদের নামায পড়া থেকে বিরত থাকা জরুরি তাই আপনার স্ত্রী ঐ দিনগুলোর নামায ছেড়ে দিয়ে ঠিকই করেছেন। তা কাযা করতে হবে না। -আলবাহরুর রায়েক ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর ১/১৬৫-১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/ ৩০২-৩০৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

সেহরী খাওয়ার পর আমার স্বামী আমার সঙ্গে সহবাস করেন। তখনো...

প্রশ্ন
সেহরী খাওয়ার পর আমার স্বামী আমার সঙ্গে সহবাস করেন। তখনো আযান হয়নি, সেহরীর সময় বাকি ছিল, জানতে চাই আমাদের রোজার হুকুম কি? রোজা কি ভেঙ্গে গেছে? ভেঙ্গে গেলে কাফফারা দিতে হবে কিনা?
উত্তর
না। প্রশ্নে বর্নিত অবস্থায় রোজা ভাঙ্গে
নি।
কারন সুবহে সাদেকের পুর্ব পর্যন্ত খানাপীনা, স্ত্রী-সহবাস সবকিছু বৈধ। যদিও স্ত্রী সহবাস সেহরী! খাওয়ার পর হয়। ঃ- মেশকাত পৃষ্ঠা ১৭৪; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম। ৬/৪৯৬; মাসায়েলে রোজা ৫৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৫৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

দুই মাস পূর্বে আমার বিয়ে হয়। আমার স্ত্রীর আচরণে আমরা...

প্রশ্ন
দুই মাস পূর্বে আমার বিয়ে হয়। আমার স্ত্রীর আচরণে আমরা সবাই অতিষ্ঠ। তার সাথে আমার সম্পর্ক ভাল না। তাই আমি তাকে সন্তান-সন্তুতি হওয়ার আগেই তালাক দিতে চাচ্ছি। আমার ছোট ভাই মাদরাসায় লেখাপড়া করে। তার সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করলে সে আমাকে তিন তুহুরে তিন তালাক দিতে বলে। এ পদ্ধতি কি উত্তম হবে? আর এভাবে তিন তালাক দিয়ে দিলে মহিলার ইদ্দত শুরু হবে কখন থেকে? প্রথম তালাকের পর নাকি তৃতীয় তালাকের পর? দয়া করে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক খুবই অপছন্দনীয়।
ক্ষেত্রবিশেষে এর প্রয়োগ স্ত্রী-সন্তানের
প্রতি জুলুমও বটে। তাই অত্যন্তভেবেচিন্তে মুরবিব ও আলেমদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তনেওয়া উচিত। আর তালাকের আগে উভয় পক্ষের মুরবিবদের নিয়ে সমঝোতা ও মীমাংসার চেষ্টা করা কর্তব্য। এরপরও যদি উভয়ের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি না ঘটে এবং একত্রে থাকলে একে অপরের হক আদায় করা এবং শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী চলা সম্ভব না হয় তখন চাইলে তালাক দিতে পারবে। আর তালাক দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হল, হায়েয/নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর তার সাথে মিলন থেকে বিরত থাকা অবস্থায় এক তালাক দেওয়া। এরপর আর তালাক না দেওয়া। এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ততার সাথে স্বামী-স্ত্রীসূলভ কোনো আচরণও না করা। এক্ষেত্রে ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে তালাকটি বায়েনে পরিণত হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর মহিলাটি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এটি স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সবচেয়ে উত্তম পন্থা। (আল আওসাত, ইবুনল মুনযির ৯/১৩৯) অবশ্য প্রত্যেক পবিত্রতায় একটি করে তালাক দেওয়ার পদ্ধতিও জায়েয। আর এভাবে তিন তালাক দিলে মহিলার ইদ্দত শুরু হবে প্রথম তালাকের পর থেকেই। অবশ্য এভাবে তিন তালাক দেওয়ার চেয়ে
পূর্বোক্ত নিয়মে এক তালাক দেওয়ার পদ্ধতি
অধিক উত্তম। এ ছাড়া এক তালাক দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কখনো একত্রিত হতে চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে এরও সুযোগ থাকে। -সূরা নিসা ৪ : ৩৪-৩৫; রদ্দুল মুহতার ৩/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৪০-১৪২, ৩/২৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৫৬
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক মহিলার স্বামী কুয়েতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত...

প্রশ্ন
জনৈক মহিলার স্বামী কুয়েতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত ২৫ রজব কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মামিত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উদঘটিত হয় যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তখন উভয় দেশের দূতাবাসের আলোচনার ফলে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়। গত ২৪ শাবান বাংলাদেশ দূতাবাস মৃত ব্যক্তির পরিবারকে খবরটি নিশ্চিত করে। জানার বিষয় হল, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী কবে থেকে ইদ্দত গণনা শুরু করবে? মৃত্যুবরণ করার সময় থেকে নাকি সংবাদ পাওয়ার পর থেকে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ মহিলা মৃত্যুর দিন থেকেই ইদ্দত গণনা করবে। কেননা স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর খবর না পেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ইদ্দত শুরু হয়ে যায়। সুতরাং উক্ত মহিলা অন্তঃসত্ত্বা না হলে স্বামীর মৃত্যুর দিন ২৫ রজব থেকে চার মাস দশদিন ইদ্দত পালন করবে। আর অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্তইদ্দত পালন করবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৯২৪৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৫/২৪৮-২৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫২০; আলবাহরুর রায়েক
৪/১৪৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪২
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার কাছে হজ্বের...

প্রশ্ন
আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার কাছে হজ্বের খরচ পরিমাণ টাকা আছে। তবে আমার উপর স্ত্রীর মোহর বাবদ ১ লক্ষ টাকা ঋণ আছে, যা বিয়ের সময় পরে আদায়ের কথা হয়েছিল। এখন মহরের ঐ টাকা আদায় করলে হজ্বের যথেষ্ট পরিমাণ টাকা অবশিষ্ট থাকবে না। এ অবস্থায় আমার উপর কি হজ্ব করা ফরয হবে, নাকি আগে মোহর আদায় করতে হবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রীর মোহর বাকি থাকলেও তা আদায়ের আগে হজ্বে যেতে পারবেন এবং এর দ্বারা আপনার ফরয হজ্বই আদায় হবে। বকেয়া মোহর যেহেতু আপনাকে এখনই আদায় করতে হচ্ছে না তাই এ কারণে হজ্ব বিলম্বিত করা ঠিক হবে না। হ্যাঁ, আপনি যদি এ টাকা থেকেই স্ত্রীর মোহর আদায় করে দেন তাহলে অবশিষ্ট টাকা দ্বারা যেহেতু হজ্বের খরচ হবে না তাই এক্ষেত্রে হজ্বও ফরয হবে না। কিন্তু যদি এখন মোহর আদায়ের নিয়ত না থাকে তবে ঐ টাকার কারণে হজ্ব ফরয হবে।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬১; আলমানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৩; আলবাহরুল আমীক ১/৩৭৭; ইরশাদুস সারী ৫৯; আলজাওহারাতুন নাইয়্যিরাহ ১৯২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৩৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মাঝেমধ্যেই ঝগড়া করে। স্ত্রী সর্বদা ঝগড়ার...

প্রশ্ন
আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মাঝেমধ্যেই ঝগড়া করে। স্ত্রী সর্বদা ঝগড়ার সময় বলে,আমাকে ছেড়ে দাও। এ কথাটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আবদুল্লাহ একবার রাগের মাথায় বলে ফেলে যে,এই কথা তুমি আর একবার বললে তুমি তালাক। এখন জানার বিষয় হল, ক) স্ত্রী যদি আবার রাগের মাথায় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথাটি বলে তবে তার কী হুকুম? তালাক হলে কয় তালাক হবে এবং সেক্ষেত্রে তারা একত্রিত হতে চাইলে কী করণীয়? খ) স্বামীর জন্য তার উক্ত কথা থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় আছে কি? দয়া করে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আবদুল্লাহ ঐ কথা বলার
পর তার স্ত্রী যদি পরবর্তীতে কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ঐ কথা বলে তবে তার উপর এক তালাক রজয়ী পতিত হয়ে যাবে। এরপর ইদ্দতের ভেতরেই আবদুল্লাহ যদি তাকে আবার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নেয় তবে সে তার স্ত্রী হয়ে যাবে। নতুন করে বিবাহ করা লাগবে না। কিন্তু ইদ্দতের ভেতরে যদি স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করে বা স্বামী- স্ত্রী সুলভ আচরণও না হয় তবে তালাকটি বায়েন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে উভয়ে একত্রিত হতে চাইলে নতুন মহর ধার্য করত পুনরায় বিবাহ করতে হবে। এভাবে এক তালাক হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে আবদুল্লাহ দুই তালাকের অধিকারী থাকবে। এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি আবারও ঐ কথা বলে তাহলে পূর্বের শর্তের কারণে পুনরায় তালাক হবে না। আরো উল্লেখ্য যে, আবদুল্লাহর ঐ শর্ত একবার কার্যকর হওয়ার আগে তা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই তালাক থেকে বাঁচতে চাইলে স্ত্রীকে উক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২০, ১/৪১৬;ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫৪;আলবাহরুর রায়েক ৪/৮,৪/১৪;আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৫৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৩৭
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের গ্রামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। গত তিন মাস
আগে দুই পক্ষের মুরব্বিরা বসে উভয়কে বিবাহ
পড়িয়ে দেয়। বিবাহের তিন মাস পরেই উক্ত মেয়ে
একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে। এ নিয়ে গ্রামে
উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আমরা জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত সন্তানের নসব কি
ঐ ছেলের দিকে সাব্যস্ত হবে? আর গর্ভবতী
অবস্থায় সংঘটিত উক্ত বিবাহ কি সহীহ হয়েছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত বিবাহ সহীহ হয়েছে। আর ঐ
নারীর স্বামী (বিবাহের পূর্বে যার সাথে অবৈধ
সম্পর্ক ছিল সে) যদি নবজাতককে নিজের সন্তান
হিসেবে মেনে নেয় তাহলে শিশুটি তার সন্তান বলেই
বিবেচিত হবে এবং এ সন্তানের বংশসূত্র তার সাথেই সম্পৃক্ত হবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৭২-১৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮০৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার প্রতিবেশী বকর তার স্ত্রীর প্রতি জুলুমের আচরণ করে। স্ত্রী...

প্রশ্ন
আমার প্রতিবেশী বকর তার স্ত্রীর প্রতি জুলুমের আচরণ করে। স্ত্রী অতিষ্ঠ হয়ে তার কাছে তালাক চায়। কিন্তু
বকর শর্ত দিয়েছে যে, তালাক দিলে তাকে তার দেওয়া মহর ফেরত দিতে
হবে। এতে স্ত্রী সম্মত হলে বকর তাকে সে মহরের বিনিময়ে এক তালাক দিয়ে দেয়। প্রশ্ন হল, উক্ত অবস্থায় বকরের জন্য তার দেওয়া মহর তালাকের
বিনিময়ে ফেরত নেওয়া বৈধ হবে কি?
উত্তর
প্রশ্নের বক্তব্য অনুযায়ী বাস্তবেই বকরের জুলুমের কারণে যদি তার স্ত্রী তালাক নিতে
বাধ্য হয়ে থাকে তবে বকরের জন্য এ স্ত্রী থেকে তালাকের কারণে মহর ফেরত নেওয়া বা অন্য কিছু নেওয়া বৈধ হবে না। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার
১৯ ও ২০ নং আয়াতে এ ধরনের ক্ষেত্রে স্ত্রী থেকে সম্পদ গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আমর বিন দীনার রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, স্বামী যদি তার স্ত্রীর সাথে অসদাচরণ করে তাহলে স্ত্রী কোনো কিছুর বিনিময়ে তালাক চাইলেও স্বামীর জন্য তা
নেওয়া বৈধ হবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক,হাদীস : ১১৮২২
ইবনে শিহাব যুহরী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, স্বামীর জন্য তার
স্ত্রী থেকে তালাকের বিনিময়ে কোনো কিছু
নেওয়া তখনি বৈধ হবে যখন স্ত্রীর অবাধ্যতার কারণেই স্বামী তাকে তালাক দিয়ে থাকে। -মুসান্নাফে আবদুর
রাযযাক, হাদীস : ১১৮১৫
অনুরূপ বক্তব্য হযরত উরওয়া, আতা, আমর বিন শুআইব প্রমুখ তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত আছে। (দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,
হাদীস : ১৮৭৩৭-১৮৭৪২)
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৫৫
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা...

প্রশ্ন
পুরুষদের জন্য তাদের
দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা করার
কী হুকুম? অনেকে মনে করে তাদের সাথে দেখা করার অনুমতি নেই। আসলে শরীয়ত এ ব্যাপারে কী বলে?
উত্তর
দাদী শাশুড়ি ও নানী শাশুড়ির সাথে দেখা সাক্ষাৎ
করা জায়েয। তারা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) এবং তোমাদের স্ত্রীদের মা’দেরকে তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।- সূরা নিসা : ২৩ সকল মুফাসসির ও ফকীহগণ একমত যে উক্ত বিধানে স্ত্রীর মায়ের মা ও স্ত্রীর পিতার মাও অন্তর্ভুক্ত। তাফসীরে মাযহারী ২/২৭০; কিতাবুল আছল ৪/৩৬১; হেদায়া ৮/৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৫৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন
অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে রক্ত দিতে পারবে। এতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫১১
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন
অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে রক্ত দিতে পারবে। এতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫১০
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা...

প্রশ্ন
পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা করার কী হুকুম? অনেকে মনে করে তাদের সাথে দেখা করার অনুমতি নেই। আসলে শরীয়ত এ ব্যাপারে কী বলে?
উত্তর
দাদী শাশুড়ি ও নানী শাশুড়ির সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা জায়েয। তারা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) এবং তোমাদের স্ত্রীদের মা’দেরকে তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।-সূরা নিসা : ২৩ সকল মুফাসসির ও ফকীহগণ একমত যে উক্ত বিধানে স্ত্রীর মায়ের মা ও স্ত্রীর পিতার মাও অন্তর্ভুক্ত। তাফসীরে মাযহারী ২/২৭০; কিতাবুল আছল ৪/৩৬১; হেদায়া ৮/৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৩৮
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক ব্যক্তি দুটি বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হওয়ার...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি দুটি বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হওয়ার পর সে মারা যায়। এরপর লোকটি আরেকটি বিয়ে করে। এর কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তির বড় ছেলে পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করে। এখন প্রশ্ন হল, ঐ ছেলের জন্য সৎ মায়ের বোনকে বিয়ে করা কি বৈধ হয়েছে? সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
হ্যাঁ, ঐ ছেলের জন্য বাবার স্ত্রীর (সৎ মায়ের) বোনকে বিয়ে করা বৈধ হয়েছে। কেননা সে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নয়। -রদ্দুল মুহতার ৩/৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩২২
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক সাথী গত কয়েকমাস আগে বিবাহ করেছে। বেশ কয়েকদিন...

প্রশ্ন
আমার এক সাথী গত কয়েকমাস আগে বিবাহ করেছে। বেশ কয়েকদিন পর আমার সাথে দেখা হলে আমি তাকে বলি, তোমার বিয়ের ওলিমা খাওয়াতে হবে। তখন সে রসিকতা করে বলল, তোর ভাবিকে তো অনেক আগে তালাক দিয়ে দিয়েছি। অথচ সে তালাক দেয়নি। জানার বিষয় হল, এ কারণে কি তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে গেছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার সাথী যদি বা স্তবেই তার স্ত্রীকে আগে তালাক না দিয়ে থাকে তবে এভাবে মিথ্যা বলার দ্বারা তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়নি। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল আছে। তবে তালাকের বিষয়ে এভাবে রসিকতা করা অন্যায়। অনেক
ক্ষেত্রে রসিকতা করতে গিয়ে তালাক হয়ে যায়।
এছাড়া এতে মিথ্যা বলার গুনাহ তো হয়েছেই। তাই এজন্য তাকে তওবা করতে হবে। -কিতাবুল আছল ৪/৫১৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৩৬; ফাতহুল কাদীর ৩/৩৫৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪০১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৭৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩২১
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং সে তার ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। অপরদিকে ছেলের বাবা সন্তানকে তার কাছেই রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে? আশা করি জানিয়ে বাধিত
করবেন। উলেস্নখ্য, মহিলার দ্বিতীয় স্বামীর
সাথে উক্ত সন্তানের কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।
উত্তর
সন্তান লালন-পালনের অধিকার মূলত মায়ের। তবে মা সন্তানের মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার আর সন্তান লালন- পালনের অধিকারী থাকে না। সেক্ষেত্রে এ
অধিকার ক্রমান্বয়ে নিম্নে বর্ণিত আত্মীয়গণ
লাভ করে। যথা-ক) শিশুর নানী খ) শিশুর দাদী গ) শিশুর খালা ঘ) শিশুর ফুফু ঙ) আসাবা (শরীয়ত নির্ধারিত নিকটাত্মীয়)-এর ক্রমানুসারে পুরুষ আত্মীয়গণ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা গায়রে মাহরামকে বিয়ে করার কারণে তার লালন-পালনের অধিকার বাতিল হয়ে গিয়েছে। এখন উপরে বর্ণিত শিশুর
নারী আত্মীয়গণ অর্থাৎ নানী, দাদী, খালা, ফুফু
যদি বিদ্যমান না থাকে কিংবা তারা দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মত বা অসমর্থ্য হয় তাহলে সেক্ষেত্রে পিতা নিজে তার সন্তান লালন-পালনের অধিকারী হবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৭০; বাযলুল মাজহূদ ১১/১৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৬৭-১৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৫৫-৫৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৭৫-২৭৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩২০
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট...

প্রশ্ন
আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট বোন অর্থাৎ আমার দুধ মায়ের ননদের সাথে আমার বিয়ের আলোচনা চলছে। গ্রামের এক মুরববী বললেন, এ বিয়ে শুদ্ধ হবে না। কারণ দুধ সম্পর্কের কারণে সে আমার মাহরাম। কিন্তু অন্য এক মুরববী বলেছেন, এই বিয়েতে কোনো সমস্যা নেই। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিয়ের হুকুম কী? আমার দুধমায়ের ননদের সাথে আমার বিবাহ কি শুদ্ধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আপনার দুধ মায়ের স্বামী আপনার দুধ সম্পর্কের পিতা। আর তার বোন আপনার দুধ সম্পর্কের ফুফু। আপন ফুফুর মতোই সে আপনার মাহরাম এবং তার সাথে আপনার বিবাহ হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে বিবাহ হারাম।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৪৪
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি দুধ মায়ের
ননদকে বিয়ে করতে পারবেন না। -শরহুল মুসলিম, নববী ১০/১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩-৯৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৯৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৪৪
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অসুস্থ মহিলার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রন শরিয়তে জায়েজ আছে কি?

প্রশ্ন
অসুস্থ মহিলার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রন শরিয়তে জায়েজ আছে কি?
উত্তর
অসুস্থতা যদি এমন হয় যে, বাচ্চা নিলে মৃত্যুর আশংকা আছে। তাহলে স্বামীর অনুমতি ছাড়া ই জন্ম নিয়ন্ত্রন করা জায়েজ আছে। আর যদি এমন অসুস্থ হয় যে, মৃত্যুর আশংকা নেয়, তবে কষ্ট বেশি বা রুগ বৃদ্বি হবে, তাহলে স্বামীর অনুমতি নিয়ে নিয়ন্ত্রন ব্যাবস্তা গ্রহন করতে পারবে। নতুবা পারবে না। আর যদি এই বিশ্বাস রেখে জন্ম নিয়ন্ত্রন করে যে, বাচ্চা বেশি হয়ে গেলে খাওয়াতে পারবে না। দারিদ্রতা আসবে তাহলে জন্ম নিয়ন্ত্রন করা হারাম হবে।
দলিলঃ-
নাহরুল ফায়েক। শামী ২/৩৯০.(বাবুন নেকাহির রাকিক) এমদাদুল মুফতিয়িন পৃঃ৮০৯

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০১৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মুহাববত করে কখনো কখনো আপু মনি...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মুহাববত করে কখনো কখনো আপু মনি বলে ডাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো অসুবিধা আছে কি? এ কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি? স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকার হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
স্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা মাকরূহ ও গুনাহের কাজ। হাদীস শরীফে এসেছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করল। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে এ থেকে তাকে নিষেধ করলেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২০৪ তাই এমন বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। অবশ্য উক্ত কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়নি। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২০৪; বাযলুল মাজহূদ ১০/৩২২; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০০৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে...

প্রশ্ন
প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রেখে ইন্তেকাল করেন। এত বছর পর্যন্ত তাদের স্থাবর সম্পত্তি (জমিজমা) ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হয়নি। এখন সে সম্পত্তি শরীয়ত মোতাবেক বণ্টন করা হবে। অতীতে মরহুমের ছেলে ঐ স্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু টাকা খরচ করেছে (কারণ কিছু জমি নিয়ে মামলা মুকাদ্দমা সংক্রান্ত ঝামেলা ছিল, যা নিষ্পত্তি করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে ইত্যাদি) তবে মেয়েরাও মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে খরচে শরিক হয়েছিল। এখন সম্পত্তি বণ্টনে ছেলে দাবি করছে যে, যত টাকা সে অতীতে খরচ করেছে তার সমান ভাগ মেয়েদেরকে নিতে হবে এবং ঐ টাকার যে অংশ তাদের ভাগে পড়বে তারা এর দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে। সে এর কারণ দেখাচ্ছে যে, অতীতের চেয়ে বর্তমানে টাকার মূল্য কমে গেছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, ছেলের দাবি মোতাবেক মেয়েদেরকে তাদের অংশের চেয়ে বেশি আদায় করতে হবে কি? শরীয়ত মোতাবেক তারা এখন কত টাকা পরিশোধ করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে যত টাকা খরচ হয়েছে অর্থাৎ ছেলে যা খরচ করেছে এবং মেয়েরা মাঝেমধ্যে যা দিয়েছে সবগুলো হিসাব করে প্রত্যেক ওয়ারিসের উপর তাদের হিস্যা অনুপাতে বর্তাবে। প্রশ্নোক্ত ওয়ারিসদের হিস্যা হল : স্ত্রী : ১২.৫%, ছেলে : ৪৩.৭৫% এবং প্রত্যেক মেয়ে : ২১.৮৭৫% করে। অতএব মরহুমের স্ত্রী তার হিস্যা অনুসারে উক্ত খরচের এক অষ্টমাংশ বহন করবে। অতপর অবশিষ্ট খরচের দুই চতুর্থাংশ ছেলে, একভাগ প্রথম মেয়ে এবং অপর ভাগ দ্বিতীয় মেয়ে বহন করবে। মেয়েরা পূর্বে যা খরচ করেছে তা বাদ দিয়ে তাদের অংশের বাকি টাকা তাদের ভাইকে পরিশোধ করবে। এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে ছেলে অন্যদের পক্ষ থেকে যা খরচ করেছে তা ঋণ হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই প্রত্যেক ওয়ারিসের হিস্যা অনুপাতে যত টাকা আসে তত টাকাই তার প্রাপ্য। এক্ষেত্রে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার অজুহাতে মেয়েদের থেকে তাদের হিস্যার অতিরিক্ত দাবি করা জায়েয হবে না। অবশ্য ছেলে সকলের পক্ষ থেকে নিজ টাকা দ্বারা কাজটি সমাধা করার জন্য সওয়াবের অধিকারী হবে। -আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬২; রাসাইলে ইবনে আবেদীন ২/৬২; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৩০৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৪৮; আসসিরাজী ফিলমিরাছ ১২

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.