Login | Register

ফতোয়া: স্বামী-স্ত্রী

ফতোয়া নং: ৬১৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছে। আমার ১৪ মাসের একটি...

প্রশ্ন

আমাকে আমার স্বামী তালাক দিয়ে দিয়েছে। আমার ১৪ মাসের একটি পুত্র সন্তান আছে তাকে লালন পালনের জন্য নিজের কাছে রেখে দেই। কিছুদিন আগে তার বাবা (আমার তালকদাতা স্বামী) এসেছে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আমি তাকে দেইনি। তার সন্তান তাকে না দেওয়া কি আমার জন্য অন্যায় হয়েছে? কুরআন-হাদীসের আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় এ শিশুকে নিজের কাছে রেখে দেওয়া আপনার অন্যায় হয়নি। বরং আপনার অন্যত্র বিবাহ না হলে শিশুর বয়স সাত বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার লালনপালনের সর্বাধিক অধিকারী আপনিই। হাদীস শরীফে এসেছে, জনৈক মহিলা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, এটা আমার পুত্র। আমার উদর ছিল তার গর্ভাশয়, আমার স্তন ছিল তার পানপাত্র, আমার কোল ছিল তার বিশ্রামস্থল। তার পিতা আমাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিতে চাচ্ছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার অন্যত্র বিবাহ হওয়ার আগ পর্যন্ত তুমিই তার লালনপালনের অধিক হক রাখ।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৭০

অবশ্য মায়ের কাছে থাকলেও ঐ শিশুর যাবতীয় খরচ পিতাকেই বহন করতে হবে। আর সাত বছর বয়স হওয়ার পর পিতা চাইলে ছেলেটিকে নিজ দায়িত্বে নিয়ে যেতে পারবেন।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৭০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৭৩, ৪১১; ফাতহুল কাদীর ৪/১৮৪, ১৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৬৬, ৬১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার স্বামী আশুলিয়ায় এক গার্মেন্টসে কাজ করত। আমরা সেই গার্মেন্টসের...

প্রশ্ন

আমার স্বামী আশুলিয়ায় এক গার্মেন্টসে কাজ করত। আমরা সেই গার্মেন্টসের নিকটে একটি বাসা ভাড়া করে থাকি। গত দু মাস পূর্বে হঠাৎ সে মারা যায়। এখন আর্থিক অভাব-অনটনের কারণে বাসার ভাড়া দিতে পারছি না। তাই এ অবস্থায় ইদ্দতের বাকি দিনগুলো বাপের বাড়ি গিয়ে অতিবাহিত করতে পারব কি? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বাসার ভাড়া প্রদান করা যেহেতু আপনার জন্য কষ্টকর তাই এ পরিস্থিতিতে পিত্রালয়ে গিয়ে ইদ্দতের বাকি দিন অতিবাহিত করা জায়েয হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৫-২৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৪৭; আলমওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ২৯/৩৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অনেক সময় আমার স্ত্রী ও আট বছরের নাবালেগ ছেলেকে নিয়ে...

প্রশ্ন

অনেক সময় আমার স্ত্রী ও আট বছরের নাবালেগ ছেলেকে নিয়ে জামাতে নামায পড়ি। জানতে চাই, এভাবে শুধু স্ত্রী ও নাবালেগ ছেলে কিংবা তাদের একজনকে নিয়ে জামাতে নামায পড়া যাবে কি? যদি জামাত করা সহীহ হয় তাহলে এক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী?

উত্তর

পুরুষের জন্য মসজিদের জামাতে নামায পড়া জরুরি। বিনা ওযরে ফরয নামায ঘরে আদায় করা ঠিক নয়। একাধিক হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। তবে কখনো মসজিদের জামাত না পেলে সেক্ষেত্রে একাকী নামায না পড়ে বাসায় স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে জামাতে নামায পড়াই উত্তম।

এক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি হল, মহিলারা ইমামের পিছনে দাঁড়াবে। আর নাবালেগ ছেলে ইমামের ডান পাশে দাঁড়াবে।

হাদীস শরীফে আছে, আবু বকরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদিন) মদীনার উপকণ্ঠ থেকে নামায পড়ার জন্য এসে দেখেন সবাই (জামাতের সাথে মসজিদে) নামায পড়ে ফেলেছে। তখন তিনি ঘরে গিয়ে লোকজন জমা করে তাদের নিয়ে (জামাতের সাথে) নামায পড়ে নেন।-আলমুজামুল আওসাত, তবারানী ৪৬১

আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং আমার পরিবারস্থ একজন মহিলাকে নিয়ে নামায পড়েছেন। তখন আমাকে তাঁর ডান পাশে এবং ঐ মহিলাকে পিছনে দাঁড় করিয়েছেন।

-সুনানে নাসায়ী ১/৯২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, ৩/৫৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি বিবাহ করে ১৯৭১ সালে। তার বিবাহের মোহর ধার্য...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বিবাহ করে ১৯৭১ সালে। তার বিবাহের মোহর ধার্য করা হয় ১০০ রুপি। কিন্তু সে এখনো তার মোহর পরিশোধ করেনি। এখন তার জন্য করণীয় কী? সে কি ১০০ রুপিই মোহর দিবে না বেশি দিবে?

উল্লেখ্য, সে সময় ১০০ রুপির মূল্য ১০ দিরহামের বেশি ছিল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যে মুদ্রা দ্বারা মহর ধার্য করেছিল তা পরবর্তীতে যেহেতু অচল হয়ে গেছে এবং নতুন মূল্যমানের নতুন মুদ্রা চালু হয়েছে তাই এখন ঐ ব্যক্তি স্ত্রীর মহর রূপার মূল্য হিসেবে আদায় করবে। অর্থাৎ মহর ধার্য করার সময় ১০০ রুপি দিয়ে যতটুকু রূপা পাওয়া যেত ততটুকু রূপা বা তার বর্তমান বাজারমূল্য পরিশোধ করে দিবে। এছাড়া মার্কিন ডলারের হিসেবেও তা পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ ১৯৭১ সালে ১০০ রুপিতে যে কয় ডলার পাওয়া যেত এখন তত ডলার বা তার সমমূল্যের টাকা প্রদান করেও মহর আদায় করতে পারবে।

উল্লেখ্য যে, মহর স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার। স্বামীর কর্তব্য হল যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি স্ত্রীর মহর আদায় করে দেওয়া। কিন্তু বর্তমান সমাজে এ বিষয়ে অনেক অবহেলা করা হয়। লোক দেখানোর জন্য মোটা অংকের মহর ধার্য করা হয়। তারপর তা আদায়ের ক্ষেত্রে গড়িমসি করা হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তা আদায়ও করা হয় না। এসব কিছুই জুলুম এর অন্তর্ভুক্ত।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩৩৫৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৫১০; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫৩৩; রদ্দুল মুহতার ৩/১০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

প্রতিদিন সকালে আমি কিছুক্ষণ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করি। কোনো দিন...

প্রশ্ন

প্রতিদিন সকালে আমি কিছুক্ষণ কোরআন শরীফ তেলাওয়াত করি। কোনো দিন ঠিক সে সময় আমার এক বছরের ছেলেটি বুকের দুধের জন্য কান্নাকাটি শুরু করে। অযু ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কায় সহসা বাচ্চাকে দুধ দিই না, অন্য কিছু দিয়ে ভোলানোর চেষ্টা করি। কিন্তু এতে সব সময় কাজ হয় না। তখন আমার স্বামীও খুব বিরক্ত হন। এমতাবস্থায় আমি কী করতে পারি। জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

শিশুকে বুকের দুধ পান করালে অযু নষ্ট হয় না। তাই কুরআন তিলাওয়াতের সময় বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর প্রয়োজন হলে খাওয়াতে পারবেন। অতপর পুনরায় অযু না করে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন।

-আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ২৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/৩৭০; আলআউসাত ১/২৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক ব্যক্তি ঢাকায় সরকারি চাকরি করে। তাকে তার পিতা অনেক...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ঢাকায় সরকারি চাকরি করে। তাকে তার পিতা অনেক টাকা পয়সা খরচ করে পড়াশোনা করিয়েছে এই আশায় যে, সে বড় হয়ে চাকরি করে তাদেরকে টাকা-পয়সা উপার্জন করে দিবে। এখন তার স্ত্রী, স্বামীর মাতাপিতার সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকে। ছেলে পিতা থেকে আলাদা হয়নি। ছেলে, স্ত্রী ও মাতাপিতার খরচ বাবদ প্রতি মাসেই টাকা পাঠিয়ে থাকে। তারপরও তার কাছে অনেক টাকা থেকে যায়। জানার বিষয় হল, তার অতিরিক্ত টাকার মালিক কে? এক ব্যক্তি বলেছেন, যৌথ পরিবারে থাকা অবস্থায় সন্তানের সব উপার্জনের মালিক পিতা। এ কথাটি কতটুকু ঠিক? এ সম্পর্কে বিস্তারিতত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছেলে চাকরি থেকে যা উপার্জন করবে এর মালিক ছেলেই। সংসারের জন্য খরচ করার পর যা অবশিষ্ট থাকবে সেগুলোর মালিকানা ছেলের। অবশ্য ছেলের দায়িত্ব হল, মা-বাবার প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আর প্রশ্নে বর্ণিত ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। শুধু যৌথ পরিবারে থাকলেই পিতা ছেলের উপার্জনের মালিক হয়ে যায় না। বরং এর জন্য আরো কিছু শর্ত রয়েছে, যা এক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩০/১৩৯; শরহুল মাজাল্লা ৪/৩২০; আলফাতাওয়াল খাইরিয়্যাহ ২/৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তির বিবাহের কথাবার্তা চলছিল। অতপর পাত্রী দেখতে গিয়ে কথা...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির বিবাহের কথাবার্তা চলছিল। অতপর পাত্রী দেখতে গিয়ে কথা প্রসঙ্গে মেয়েকে বলে ফেলে যে, বিয়ের পর আমার কথা (হুকুম) না শুনলে তালাক। এখন তার জানার বিষয় হল, সত্যিই কি তার সঙ্গে বিয়ের পর যদি কখনো ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বা ভুলে তার হুকুম না মানে তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে? যদি হয় তাহলে কয় তালাক পতিত হবে এবং সে অবস্থায় করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মেয়েটি যদি বিয়ের পর কখনো স্বামীর কথা অমান্য করে তবুও ঐ কথার কারণে কোনো তালাক পতিত হবে না।

উল্লেখ্য যে, এ ধরনের কথাবার্তা বলা অন্যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তা বিবাহ নষ্ট হওয়ার কারণও হয়ে যায়। তাই এরূপ বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৪/৮; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ২৯/২০; হীলায়ে নাজেযা ২০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আদর সোহাগ করে বা ভুলে স্বামী স্ত্রীকে বোন বললে শরীয়তের...

প্রশ্ন

আদর সোহাগ করে বা ভুলে স্বামী স্ত্রীকে বোন বললে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি না? এবং এতে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে কি না?

উত্তর

স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করা ঠিক নয়। কেননা হাদীস শরীফে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করেন এবং এমনটি বলতে নিষেধ করেন। (সুনানে আবু দাউদ ১/৩০১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৭/১৫২)

সুতরাং এমন সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৮; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের এলাকায় অনেক বিয়েতে বিশাল অংকের মোহরানা ধার্য করা হয়,...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় অনেক বিয়েতে বিশাল অংকের মোহরানা ধার্য করা হয়, যা পরিশোধ করা হয় না। অনেক সময় তা পরিশোধ করা ছেলের সাধ্যাতীত থাকে। ধার্যের সময় বলা হয়, মোহরানা দেয়ইবা কে, নেয়ই বা কে? তবে বংশ মর্যাদা অনুযায়ী বড় মোহরানা ধার্য করতে হবে। এটা কি বৈধ?

উত্তর

বিবাহের সময় যে মোহর ধার্য করা হবে স্বামীকে তার পুরোটাই পরিশোধ করতে হবে। কাবিনে লিখিত পুরো মোহর স্ত্রীর প্রাপ্য হক। যদি বাস্তবে মোহর আদায়ের ইচ্ছা না থাকে বরং শুধু লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে বেশি পরিমাণ মোহর ধরা হয় তবে তা জায়েয হবে না। কিন্তু এরপরও যেই মোহরই ধার্য করা হবে তা পুরোটাই পরিশোধ করতে হবে। সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত মোহর ধার্যের সময়ের কথা মোহর দেয়ইবা কে, নেয়ই বা কে-বললেও মোহর হিসাবে যা ধরা হবে তা পুরোটাই আদায় করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, মোহর ধার্য করার ক্ষেত্রে উত্তম পন্থা হল, স্ত্রীর বংশে তার সমমানের নারীদের বাস্তবসম্মত মোহর এবং স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এ দুটি বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে মোহর নির্ধারণ করা এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্ত্রীকে তা পরিশোধ করে দেওয়া।

-রদ্দুল মুহতার ৩/১০২; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস : ৭৫০৭; তাফসীরে কুরতুবী ৫/৬৭; ফাতহুল মুলহিম ৩/৪৭৬; মাজমূ ফাতাওয়া, লাখনবী ৩/৪৮; ইমদাদুল আহকাম ২/৩৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দেয়। সে সময় তাদের একটি...

প্রশ্ন

এক মহিলাকে তার স্বামী তালাক দেয়। সে সময় তাদের একটি পুত্রসন্তান ছিল। দুই মাস আগে গ্রামের এক লোকের সাথে ঐ মহিলার দ্বিতীয় বিবাহ হয়েছে। ঐ লোকটির সাথে এদের ইতিপূর্বে আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সন্তানের বর্তমান বয়স তিন বছর। এখন পিতা তার সন্তানকে নেওয়ার জন্য পিড়াপীড়ি করছে। এক্ষেত্রে শরয়ী হুকুম কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্তক্ষেত্রে সন্তানের মা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণে তার ঐ সন্তান লালনপালনের অধিকার শেষ হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় শিশুর নিম্নোক্ত আত্মীয়গণের কেউ থাকলে ক্রমান্বয়ে তারা ঐ শিশুর লালনপালনের অধিকারী হবে-১. নানী ২. দাদী ৩. বোন ৪. খালা ও ৫. ফুফু।

যদি এদের কেউ না থাকে বা তারা সন্তানের দায়িত্ব নিতে না চায় তবে পিতা শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে মা তাকে আটকে রাখতে পারবে না। উল্লেখ্য যে, সর্বক্ষেত্রে সন্তানের লালন-পালনের খরচাদি পিতাকেই বহন করতে হবে।

-সুনানে আবু দাউদ ৩/১১০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/২৯১; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমরা জানি, মদ খেয়ে তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যায়।...

প্রশ্ন

আমরা জানি, মদ খেয়ে তালাক দিলে তালাক পতিত হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের এলাকার একজন মুফতী সাহেব বললেন, মদ খেয়ে পাগলের মতো মাতাল হয়ে গেলে ঐ পর্যায়ে পৌঁছার পর তালাক দিলে তালাক পতিত হবে না। এই ফতোয়াটি কতটুকু সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মদ বা নেশাদ্রব্য সেবনের কারণে বেহুঁশ বা মাতাল হয়ে কোনো ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দিলেও তাকার্যকর হয়ে যায়। এক্ষেত্রে তালাক পতিত না হওয়ার কথাটি সঠিক নয়।

প্রখ্যাত তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে মুসাইয়িব রাহ. ও সুলাইমান ইবনে ইয়াসার রাহ.কে মাতাল ব্যক্তির(তালাক প্রদান) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা উভয়ে জবাবে বলেছেন, মাতাল ব্যক্তির তালাকপতিত হয়ে যাবে।-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ২১৬

উল্লেখ্য যে, নেশাদ্রব্যের সেবন বা ব্যবহারকে আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণরূপে হারাম করেছেন এবং এথেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া মদ পানের পার্থিব ক্ষতিও অনেক। তাইসকলকে এ থেকে বিরত থাকতে হবে।

-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ২১৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৪৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৩৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

গতমাসে স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সে আমাকে বলল,...

প্রশ্ন

গতমাসে স্ত্রীর সাথে আমার ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে সে আমাকে বলল, ‘আমারে ছাইড়া দে। তোর ভাত আমি খামু না। তোর ঘরও আমি করমু না।’ উত্তরে আমি ক্ষিপ্ত হয়ে বললাম, ঠিক আছে, আমিও তোরে ছাইড়া দিলাম। জানার বিষয় হল, এর দ্বারা কি তালাক হয়েছে? যদি তালাক হয়ে থাকে তাহলে কীভাবে আমার স্ত্রীকে স্ত্রীরূপে পেতে পারি?

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আমাদের মাঝে তালাক বিষয়ক কোনো ঘটনা ঘটেনি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজঈ পতিত হয়েছে। ইদ্দতের ভিতরে মৌখিক বা লিখিতভাবে তাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করে নিলেই আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনর্বহাল হয়ে যাবে। এভাবে ইদ্দতের ভিতরে ফিরিয়ে নিলে নতুন করে বিবাহ করা লাগবে না। কিন্তু ইদ্দত অবস্থায় তাকে এভাবে ফিরিয়ে না নিলে কিংবা তার সাথে স্ত্রী সুলভ আচরণও না হলে এই ইদ্দত শেষে তালাকটি বায়েনে পরিণত হবে এবং আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যাবেন। তখন পুনরায় সুষ্ঠুভাবে দাম্পত্যজীবন গড়তে চাইলে নতুন মোহর ধার্য করে যথানিয়মে নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৩১; রদ্দুল মুহতার ৩/২৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/১৩৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৭৯, ১/৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/৪৯; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৫/১৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

পাঁচ বছর আগে মুহাম্মাদ আদনান নাজিবের সাথে আমার বিয়ে হয়।...

প্রশ্ন

পাঁচ বছর আগে মুহাম্মাদ আদনান নাজিবের সাথে আমার বিয়ে হয়। ইতিমধ্যে আমাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে হয়েছে। বিয়ের কাবিন নামার ১৮ নং ধারায় আমার স্বামী আমাকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেয়নি। কিন্তু পরবর্তীতে মৌখিকভাবে আমাকে এই বলে তালাক গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে যে, আমি যদি কোনো দিন তোমার গায়ে হাত তুলি অর্থাৎ মারধর করি তাহলে তুমি স্বেচ্ছায় তালাক গ্রহণ করতে পারবে। গত বছর থেকে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। সে ঠিকমতো ভরণ-পোষণ দেয় না। আমার ছেলে মেয়ের যত্ন নেয় না। আমি খরচ চাইলে রাগারাগি করে। বেশ কয়েকবার সে আমাকে খুব মারধরও করেছে। তাই আমি গত ২/১/২০১২ তারিখে আমাকে তালাক গ্রহণের প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এক তালাকে বায়েন গ্রহণ করেছি। কিন্তু এখন সে আমার ও আমার পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করে ও বার বার ক্ষমা চেয়ে আমাকে পুনরায় নিতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, উল্লেখিত অবস্থায় আমার তালাক গ্রহণ সঠিক হয়েছে কি না? যদি হয়ে থাকে তাহলে আমার জন্য তার কাছে পুনরায় ফিরে যাওয়ার শরীয়তসম্মত কোনো পন্থা আছে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা সত্য হলে আপনি যেহেতু স্বামীপ্রদত্ত ক্ষমতাবলেই এক তালাকে বায়েন গ্রহণ করেছেন তাই এর দ্বারা আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। ইদ্দত শেষে আপনি ইচ্ছা করলে অন্যত্র বিবাহ করতে পারেন। আর পূর্বের স্বামীর সাথে পুনরায় ঘরসংসার করতে

চাইলে ইদ্দতের ভিতরে বা পরে নতুন মোহর ধার্য করে যথানিয়মে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪০১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৫১৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৩২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

যায়েদের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে সায়েমাকে বিবাহ করেছে। পূর্বে...

প্রশ্ন

যায়েদের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে সায়েমাকে বিবাহ করেছে। পূর্বে সায়েমার বিবাহ হয়েছিল লাবীবের সাথে। লাবীব থেকে তার একজন সন্তানও আছে। যার নাম রাকীব। জানার বিষয় হল, সায়েমার বর্তমান স্বামী যায়েদ থেকে রাকীব মিরাছ পাবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী রাকীব যায়েদের ওয়ারিশ নয়। তাই সে যায়েদ থেকে মিরাছ পাবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/২১৬; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ৫১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক চাচার বিয়ে হয়েছে বছর খানেক আগে। বিয়েতে মোহর...

প্রশ্ন

আমার এক চাচার বিয়ে হয়েছে বছর খানেক আগে। বিয়েতে মোহর ধার্য করা হয়নি। এখন ঐ চাচির পরিবার হতে মোহর পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। চাচার সম্পদ থেকে চাচির মোহর দেওয়া কি ওয়াজিব?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার সম্পদ থেকে চাচির মোহর আদায় করা জরুরি। কেননা, মোহর স্ত্রীর প্রাপ্য হক। মোহর আদায় না করে স্বামী মারা গেলে স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে সম্পদ বণ্টনের পূর্বেই অন্যান্য ঋণের ন্যায় এটিও আদায় করতে হয়। মোহর যদি পূর্বে ধার্য করা না হয় (যেমন প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পূর্বে মোহর ধার্য ছিল না) তাহলে সেক্ষেত্রে মোহরে মিছিল আদায় করতে হয়। মোহরে মিছিল হল, স্ত্রীর পিতার দিকের বিবাহিতা মহিলা আত্মীয় অর্থাৎ বোন, ফুফু ও চাচাতো বোনদের মধ্যে যারা দ্বীনদারী, বয়স, সৌন্দর্য, গুণাবলি, বংশ মর্যাদা ও জ্ঞান-গরিমা ইত্যাদিতে তার মতো হয় তাদের মোহরের অনুপাতে অনুরূপ মোহর নির্ধারণ করা।

-মাবসূত, সারাখসী ৫/৬২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪৬; রদ্দুল মুহতার ৩/১৩৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলা তার স্বামীর কাছে মহরের টাকা পেত। বিয়ের এক...

প্রশ্ন

এক মহিলা তার স্বামীর কাছে মহরের টাকা পেত। বিয়ের এক বছর পর মহিলা স্বামীকে স্বেচ্ছায় বলল, আমার মহরের টাকা দিতে হবে না। তা তোমাকে দিয়ে দিলাম। এর কিছুদিন পর কোনো এক বিষয় নিয়ে পরস্পর ঝগড়া হয়েছে। তখন থেকে মহিলা মহরের টাকা দাবি করছে। এখনও মহিলা স্বামীর কাছে মহরের টাকা চায়।

প্রশ্ন হল, স্বামীর জন্য ঐ মহরের টাকা পরিশোধ করতে হবে কি? উল্লেখ্য, মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এ কথা বলেছিল যে, মহরের টাকা দিতে হবে না।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাস্তবেই যদি ঐ মহিলা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহর মাফ করে দিয়ে থাকে তাহলে তা মাফ হয়ে গেছে। সুতরাং এরপর মহিলার জন্য পুনরায় মহর দাবি করা অন্যায়। স্বামীর জন্য তার মহরের দাবি পূরণ করা জরুরি নয়। তবে সামর্থ্য থাকলে তা পুরো বা আংশিক আদায় করে দিলেই ভালো।

উল্লেখ্য যে, মহর স্ত্রীর প্রাপ্য হক। তার উপর কোনো চাপ প্রয়োগ করে বা তাকে লজ্জায় ফেলে এ হক মাফ করানো যাবে না। অবশ্য মহিলা যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিনা চাপে নিজ থেকে মহরের হক ছেড়ে দেয় তাহলে তা মাফ হয়ে যাবে।

-সূরা নিসা : ৪; আহকামুল কুরআন, কুরতুবী ৫/১৮; সহীহ বুখারী ১/৩৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৯১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৯৫, ৩৯৬, ৪০২; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৫০; হেদায়া ৩/২৯০; রদ্দুল মুহতার ৩/১১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলা চার ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা গেছে। তার...

প্রশ্ন

এক মহিলা চার ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা গেছে। তার পিতামাতা ও স্বামী পূর্বেই মারা গেছে। এখন আমার প্রশ্ন হল, ঐ মহিলার সম্পত্তি তার ছেলেমেয়ের মাঝে কীভাবে বণ্টন

করা হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের রেখে যাওয়া সমুদয় সম্পদ থেকে প্রথমে প্রয়োজন হলে তার কাফন-দাফন সংক্রান্ত খরচ আদায় করবে। এরপর তার কোনো ঋণ থাকলে তাও আদায় করতে হবে। এরপর তার শরীয়তসম্মত কোনো অসিয়ত থাকলে অবশিষ্ট এক তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে তা আদায় করতে হবে। তারপর তার অবশিষ্ট সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে (প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ৪ ছেলে ও ২ মেয়ে) নিম্নে বর্ণিত শতকরা হারে বণ্টিত হবে।

প্রত্যেক ছেলে শতকরা ২০% আর প্রত্যেক মেয়ে ১০% করে পাবে।

-সূরা নিসা : ১১; সহীহ বুখারী ২/৯৯৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৭৫; মাবসূত সারাখসী ২৯/১৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৮; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৮৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি হঠাৎ বিয়ে করে ফেলেছে। বন্ধু-বান্ধবদের জানানোর সুযোগ পায়নি।...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হঠাৎ বিয়ে করে ফেলেছে। বন্ধু-বান্ধবদের জানানোর সুযোগ পায়নি। একদিন সে তার স্ত্রীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিল পথিমধ্যে তার এক বন্ধু তাকে বলল, তোমার সাথে এই মেয়েটি কে? সে তখন কৌশলগতভাবে বলল, সে আমার বোন। আমার প্রশ্ন হল, উল্লেখিত অবস্থায় কি তার স্ত্রী হারাম হয়ে গেছে? যদি হারাম হয়ে থাকে তাহলে করণীয় কী?

উত্তর

স্ত্রীকে বোন বলার কারণে সে স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়নি। তবে বোন বলার কারণে দুটি গুনাহ হয়েছে : ১. স্ত্রীকে বোন বলা, যা শরীয়তে নিষিদ্ধ। ২. মিথ্যা বলা, যা হারাম কাজ। সুতরাং লোকটিকে তাওবা করে নিতে হবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২১০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আননাহরুল ফায়েক ২/৪৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আবদুল করীমের মা মারা গেলে তার পিতা এক বিধবা মহিলাকে...

প্রশ্ন

আবদুল করীমের মা মারা গেলে তার পিতা এক বিধবা মহিলাকে বিবাহ করে। ঐ মহিলাটির পূর্বের স্বামী থেকে একটি মেয়ে ছিল, সেও এখন থেকে মায়ের সাথে বাড়িতে থাকে, মেয়েটি বড় হলে আবদুল করীম তাকে বিবাহ করতে চায়। এলাকার সাধারণ জনগণ বলল, তুমি তাকে কিভাবে বিবাহ করবে? সে তো তোমার সৎ বোন। জনগণের বাধা দেওয়া সত্ত্বেও আবদুল করীম ঐ মেয়েটিকে বিবাহ করে ঘর সংসার করছে।

এখন আমার জানার বিষয় হল, আবদুল করীম ও তার সৎ বোনের (সৎ মায়ের পূর্বের স্বামীর মেয়ে) মাঝে বিবাহ সহীহ হয়েছে কি না এবং বর্তমান ঘর সংসার করার কারণে তারা গুনাহগার হচ্ছে কি না? উল্লেখ্য, আবদুল করীমও ঐ মেয়েটির মাঝে কোনো দুধ সম্পর্কও নেই।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মেয়েটির সাথে আবদুল কারীমের বিবাহ সহীহ হয়েছে। কারণ উভয়ের বাবা-মা ভিন্ন এবং তাদের মাঝে রক্তের সম্পর্ক নেই।

-সূরা নিসা : ২৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৩২; আলমুগনী ৯/৫২৫; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ১/১৬; ইমদাদুল আহকাম ২/২৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের এলাকায় এক ছেলে এ শর্তে বিয়ে করেছে যে, মেয়ে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ছেলে এ শর্তে বিয়ে করেছে যে, মেয়ে পক্ষ তাকে বিদেশ পাঠাবে। বিবাহের মধ্যে এ ধরনের শর্ত করা কি জায়েয?

উত্তর

না। এ ধরনের শর্ত করা জায়েয নয়। কেননা, মেয়ে বা মেয়েপক্ষ থেকে শর্ত করে বা চাপ প্রয়োগ করে কোনো অর্থ, সম্পদ বা সেবা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম। এটা পরিষ্কার ঘুষ। আর সহীহ হাদীসে আছে, আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. বলেন, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহিতা উভয়ের প্রতি অভিশাপ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ ৪/২১০; জামে তিরমিযী ১/১৫৯; ইবনে মাজাহ ২/৩২৩; সুনানে বায়হাকী ১০/২৬৫; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮/১৪৮)

সুতরাং আকদের সময় এ ধরনের শর্ত করা হলেও তা বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আর এই শর্তের সুবাদে স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো কিছু নেওয়া হলে তা ফেরত দেওয়া অপরিহার্য।

আলফাতাওয়াল খাইরিয়্যাহ ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৭০১; আলবাহরুর রায়েক ৬/২৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমরা জানতাম, চুলের খোপা বেঁধে নামায পড়া যায়। কিছু দিন...

প্রশ্ন

আমরা জানতাম, চুলের খোপা বেঁধে নামায পড়া যায়। কিছু দিন পূর্বে আমাদের গ্রামের জনৈক মহিলা বলল, তার স্বামী কোনো হুজুরের কাছে শুনেছে যে, খোপা বেঁধে নামায পড়লে নামায হয় না। চুল ছেড়ে নামায পড়তে হয়। ঐ মহিলার স্বামীর কথা সঠিক কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

না, তার কথা ঠিক নয়। মহিলারা খোপা বেঁধেও নামায পড়তে পারবে। এতে দোষের কিছু নেই।

উল্লেখ্য যে, নামায অবস্থায় মহিলাদের চুল পরিপূর্ণরূপে ঢেকে রাখা জরুরি। সুতরাং তারা চুল এভাবে রাখবে, যেন রুকু-সিজদা বা অন্য কোনো অবস্থায় তা বেরিয়ে না পড়ে।

-নাইলুল আওতার ২/৩৮৬; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/৩২৬; মাআরিফুস সুনান ৩/৪৭০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫; আলইনায়া ১/১২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

হযরত যাকারিয়া আ. সম্পর্কে লোকমুখে শুনা যায় যে, তাকে কাফেররা...

প্রশ্ন

হযরত যাকারিয়া আ. সম্পর্কে লোকমুখে শুনা যায় যে, তাকে কাফেররা হত্যার জন্য ঘিরে নিলে তিনি নিরুপায় হয়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলে গাছ দ্বিখন্ডিত হয়ে যায়। তিনি ঐ গাছের মধ্যে আশ্রয় নেন। গাছ পূর্ববৎ হয়ে যায়। কিন্তু তাঁর জামার আচল বের হয়ে থাকায় কাফেররা চিনে ফেলে এবং অস্ত্র দিয়ে গাছ চিরে, এতে নবীও দুই ভাগ হয়ে যান। এরূপ একটি কাহিনী শুনা যায়। এটা কতটুকু সত্য?

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সহীহ হাদীসে তা পাওয়া যায় না। ইবনে কাছীর রাহ. আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া(২/২২৮-২২৯) গ্রন্থে এই ঘটনাটি খুবই আপত্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন। সুতরাং তা বর্ণনা করা যাবে না। হযরত যাকারিয়া আ. ও অন্যান্য নবীদের সম্পর্কে করআন মজীদ ও সহীহ হাদীসে যতটুকু বর্ণনা আছে ততটুকু জানাই আমাদের জন্য যথেষ্ট। তাই হযরত যাকারিয়া আ.-এর সম্পর্কে কুরআন মজীদের কয়েকটি আয়াতের তরজমা ও একটি সহীহ হাদীসের অনুবাদ পেশ করা হল। (তরজমা) আপনার পালনকর্তার অনুগ্রহের বিবরণ, তার বান্দা যাকারিয়া আ.-এর প্রতি, যখন তিনি নিজ পালনকর্তাকে গোপনে আহবান করেছিলেন। তিনি প্রার্থনা করলেন, হে আমার পালনকর্তা! আমার অস্থিসমূহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বার্ধক্যে মস্তক সুশুভ্র হয়ে গেছে। (মাথার সমস্ত চুল পেকে সাদা হয়ে গেছে)। হে আমার পালনকর্তা! আপনাকে ডেকে আমি কখনো বিফল মনোরথ হইনি। আর আমি আমার পরে স্বজনবর্গ হতে আশঙ্কা করছি ( যে, তারা শরীয়তের এবং ধর্মের সেবা করবে না।) এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা। অতএব আপনি বিশেষভাবে আপনার পক্ষ থেকে আমাকে একজন ওয়ারিশ (পুত্র) দান করুন। সে আমার এবং ইয়াকুব-এর বংশের উত্তরাধিকারী হবে। হে আমার পালনকর্তা! তাকে আপনি সন্তোষজনক করুন। (আল্লাহ তাআলা বললেন,) যে যাকারিয়া! আমি তোমাকে একটি পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। ইতিপূর্বে আমি এ নামে কারো নামকরণ করিনি। তিনি বললেন, হে আমার পালনকর্তা! কেমন করে আমার পুত্র হবে, অথচ আমার স্ত্রী যে বন্ধ্যা। আর আমিও যে বার্ধক্যের শেষ প্রান্তে উপনীত। তিনি বললেন, এমনিতেই হবে। তোমার পালনকর্তা বলে দিয়েছেন, এটা আমার জন্য সহজ। ... (সূরা মারইয়াম : ১-১১)

সহীহ মুসলিমে (২/২৬৮) হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি নিজ হাতে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং পেশায় তিনি ছিলেন একজন ছুতার।-শরহুন নববী মুসলিম ১৫/১৩৫

কুরআন মজীদের নিম্নোক্ত সূরাগুলোতেও তার সম্বন্ধে আলোচনা আছে। সূরা আলইমরান : ৩৭-৪১; সূরা আম্বিয়া : ৯০-৯৮; সূরা আনআম : ৮৫; সূরা হুদ : ৭২-৭৩।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি বিবাহের কয়েক মাস পর কয়েকজন লোকের সামনে স্ত্রীর...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বিবাহের কয়েক মাস পর কয়েকজন লোকের সামনে স্ত্রীর অনুপস্থিতে তাকে তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে। তালাক গ্রহণের ক্ষমতা প্রদানের বিষয়টি স্ত্রীর কাছে পৌঁছার আগেই মহিলাটি নিজ থেকে তালাকে বায়েন গ্রহণ করে।

জানতে চাই, ঐ মহিলার তালাক গ্রহণ করা সহীহ হয়েছে কি না?

উল্লেখ্য যে, তাদের বিবাহের কাবীননামার ১৮ নং ধারায় লেখা আছে যে, না, তালাকের অধিকার দেওয়া হয়নি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি মহিলাটি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি অবগত হওয়ার আগেই তালাক গ্রহণ করে থাকে তাহলে তার তালাক গ্রহণ সহীহ হয়নি এবং ঐ তালাক কার্যকর হয়নি। কারণ স্ত্রী তালাক গ্রহণের অনুমতি না জেনে তালাক গ্রহণ করলে তা কার্যকর হয় না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫২১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা যাবে কি? যদি বলা যায় তাহলে ওই...

প্রশ্ন

শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা যাবে কি? যদি বলা যায় তাহলে ওই হাদীসের ব্যাখ্যা কী হবে, যে হাদীসে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে?

উত্তর

হাদীসে যে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন করতে নিষেধ করা হয়েছে এর অর্থ বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল পরিচয় গোপন রেখে নিজের পিতার নাম উল্লেখ না করে, অন্যের নাম প্রকাশ করা। যেমন-আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান যেখানে কোনো ব্যক্তির জন্মদাতা পিতার নাম প্রকাশ করা জরুরি হয়। আর স্বামী বা স্ত্রীর পিতা-মাতাকে সম্মানার্থে আব্বা-আম্মা বলে সম্বোধন করার দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না। তাই শ্বশুর-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা হাদীসের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয় এবং তা জায়েয।

আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৫৪; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৭৬৬; ৬৭৬৮, ৪৩২৬, ৪৩২৭,৩৫০৮; উমদাতুল কারী ১৬/৭৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১২-১১৫; ইকমালুল মুলিম ১/৩১৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৯/২১০; তাফসীরে কুরতুবী ১২/৬৭; ফাতহুল মুলহিম ১/২৩৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৯/৪৯-৫২; মুসনাদে আহমদ ১/১৭৪, ৩/৮৯; ফয়যুল কাদীর ৬/৪৬; কেফায়াতুল মুফতী ৯/১১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক মহিলার স্বামী মারা যাওয়ায় সে ইদ্দত পালন করছে। এ...

প্রশ্ন

এক মহিলার স্বামী মারা যাওয়ায় সে ইদ্দত পালন করছে। এ অবস্থায় কি সে নাকফুল পরতে পারবে? রঙিন কাপড় পরতে পারবে? চুল আচড়াতে পারবে? একজন বললেন, চুল আচড়ানো নিষেধ। তাহলে এত লম্বা চুল না আচড়ালে তো জট বেঁধে যাবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য ইদ্দত অবস্থায় সকল প্রকার সাজসজ্জা ত্যাগ করা জরুরি। তাই অলংকার পরা যাবে না। এমনকি নাকফুলও খুলে রাখতে হবে। আর রঙিন সাধারণ ব্যবহৃত কাপড় পরতে পারবে। সাদা কাপড় পরা বাধ্যতামূলক নয়। তবে পুরাতন কাপড় থাকলে নতুন কাপড় পরবে না। তদ্রূপ ঝলমলে কাপড় থেকেও বিরত থাকবে। সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে চুল আচড়াতে পারবে না। তবে চুলের স্বাভাবিকতা রক্ষা করার জন্য আচড়ানোর প্রয়োজন হলে তা পারবে। এটা নিষিদ্ধ নয়।

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩০৪; মুসনাদে আহমদ ৬/৩০২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/২৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক ব্যক্তি তার ১৩ বছর বয়সের সাবালিকা কন্যার নিকট স্থানীয়...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি তার ১৩ বছর বয়সের সাবালিকা কন্যার নিকট স্থানীয় একটি ছেলের সঙ্গে তার বিবাহের ব্যাপারে তার মতামত জানতে চায়। মেয়ে হ্যাঁ, না কিছুই না বলে চুপ থাকে। তবে মেয়ে মনে মনে উক্ত বিবাহের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নারাজ ছিল। এ অবস্থায় তাদের আকদ হয় এবং এখনো মেয়েটি নারাজ হয়েই ঘর-সংসার করছে। জানতে চাই, তাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে কি না? এবং তাদের জন্য এখন ঘর-সংসার করা কি বৈধ হচ্ছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা মতে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। কারণ বিয়ে সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়ার সময় মেয়ের চুপ থাকা এবং প্রত্যাখ্যান না করা এবং পরবর্তীতে ঘর-সংসার করা মেয়েটির সম্মতির প্রকাশ্য প্রমাণ। সুতরাং এক্ষেত্রে নারাজ থাকার অর্থ এই বিয়ে তার মনোপুত না হওয়া এবং এ স্বামীর সঙ্গে ঘর-সংসারে সন'ষ্ট না হওয়া। এটি বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। অসন'ষ্টচিত্তে সম্মতি দিলেও বিয়ে সহীহ হয়ে যায়।

সহীহ মুসলিম ১/৪৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮৭; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৩৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/২৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার বড় ভাইয়ের বিয়েশাদির আলোচনা চলছিল। পাত্রী দেখতে বিলম্ব হয়ে...

প্রশ্ন

আমার বড় ভাইয়ের বিয়েশাদির আলোচনা চলছিল। পাত্রী দেখতে বিলম্ব হয়ে যায়। ইতিমধ্যে মুহররম মাস এসে পড়ে। কথা ছিল পাত্রী দেখে পছন্দ হলে ৫/১০ দিনের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাবে। কিন্তু মুরব্বীগণ সতর্ক করে দিলেন, এটা মুহাররম মাস। এ মাসে বিয়ে অশুভ। তাই আমরা বিয়ের বিষয়টা স্থগিত রেখেছিলাম। জানতে চাই, এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

উত্তর

মুহাররম মাসে বিয়ে-শাদী অশুভ মনে করা একটি কু-ধারণা, যা সম্পূর্ণ অবাস্তব। কোনো দিন বা মাসকে অলক্ষুণে মনে করা জাহেলী যুগের ধারণা। শরীয়ত এ ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও শিরকী ধারণা বলে অভিহিত করেছে। হাদীস শরীফে এসেছে, কুলক্ষণ গ্রহণ করা শিরক। (সুনানে আবু দাউদ ২/১৯০)

মুহাররম মাসে হযরত হুসাইন রা.-এর শাহাদতের কারণে একশ্রেণীর লোক এ মাসকে অশুভ মনে করে থাকে, যা তাদের মনগড়া বিষয়। হযরত হুসাইন রা.-এর শাহাদত অবশ্যই মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত হৃদয় বিদারক, কিন্তু এ কারণে কোনো মাস বা সময়কে অশুভ মনে করার অবকাশ নেই। পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে সব আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটে। কোনো দিবস-রজনী, সপ্তাহ, মাসের এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। জাহেলী যুগে শাওয়াল মাসে বিবাহ-শাদি করাকে অশুভ মনে করা হত। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. এই ধারণাকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসেই বিয়ে করেছেন এবং এ মাসেই বিবাহ-রজনী উদযাপন করেছেন। অথচ তাঁর অনুগ্রহ লাভে আমার চেয়ে অধিক সৌভাগ্যবতী স্ত্রী আর কে আছে? (সহীহ মুসলিম হাদীস : ১৪২৩)

অতএব প্রমাণিত হল, কোনো দিন বা মাসকে কোনো কাজের জন্য অশুভ মনে করা ঠিক নয়। এ ধারণা সম্পূর্ণ অলীক, শিরকপ্রসূত।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি বিবাহের সময় স্ত্রীর মহর বাবদ ধার্য টাকা কিছু পরিশোধ...

প্রশ্ন

আমি বিবাহের সময় স্ত্রীর মহর বাবদ ধার্য টাকা কিছু পরিশোধ করি এবং অবশিষ্ট টাকা পরে দেব বলে ওয়াদা দেই। আমার জানার বিষয় হল, আমি কি এখন আমার স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারব?

উত্তর

হ্যাঁ, পারবেন। মহরের টাকা বাকি থাকলে স্বামী স্ত্রীকে স্পর্শ করতে পারে না-এ ধারণা ভুল। তবে নগদ আদায়যোগ্য মহর পরিশোধ করা না হলে, স্ত্রী শুরু থেকেই স্বামীকে নিজের নিকট আসা থেকে বারণ করতে পারে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নগদ মহর তো আপনি দিয়েই দিয়েছেন। সুতরাং স্পর্শ না করার বিষয়টি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১১৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৭৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১৬; রদ্দুল মুহতার ৩/১১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি এক মাসের চুক্তিতে ২,৫০০/- টাকার বিনিময়ে ১টি রুম ভাড়া...

প্রশ্ন

আমি এক মাসের চুক্তিতে ২,৫০০/- টাকার বিনিময়ে ১টি রুম ভাড়া নিয়েছি। ৭/৮ দিন থাকার পর বাসার পানির পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে পানি এতই খারাপ হয়েছে যে, খাওয়া-দাওয়া, অযু-গোসল ইত্যাদি কোনো কাজে ব্যবহারের যোগ্য ছিল না। এমনকি এ কারণে আমার এক বাচ্চার ডায়রিয়া হয়েছে এবং আমার স্ত্রী ও আরেক বাচ্চা অসুস্থ হয়েছে। তারপরও আমি ৪/৫ দিন বাহির থেকে পানি এনে সকল কাজ করি। পরবর্তীতে পানির লাইন ঠিক না করার কারণে ১২ দিন পর বাসা ছেড়ে দিই। এখন বাড়িওয়ালা বলছে, ঐ মাসের পূর্ণ ভাড়া দেওয়ার জন্য। আমি বলছি যে, আমি যুক্তিসঙ্গত কারণে বাসা ছেড়েছি। বিনা কারণে বাসা ছাড়িনি। তাই যতদিন ছিলাম ততদিনের ভাড়া দিব।

জানিয়ে বাধিত করবেন যে, শরীয়তের আলোকে কার কথা সঠিক?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী বাসার পাইপ ফিটিংসের ত্রুটির কারণেই যদি পানি খারাপ হয়ে থাকে, আর বাড়িওয়ালাকে অবগত করার পরও তা ঠিক না করে থাকে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পুরো মাসের ভাড়া দেওয়া আপনার জন্য জরুরি নয়; বরং ১২ দিনের পূর্ণ ভাড়া সকল বিলসহ আদায় করতে হবে। অবশ্য পানি যতদিন ব্যবহার উপযোগী ছিল ততদিনের পানির বিল আদায় করতে হবে।

হেদায়া ৩/২৯৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৯, ৮০ ও ৮১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১২২, ১৬১; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৫২; মাজমাউল আনহুর ৩/৫৫৫; আলকিফায়া ৮/৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/৩৫; ফাতাওয়া খায়রিয়া ২/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৮; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ২/৬০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

গত কিছুদিন আগে আমাদের সিলেট শহরে একটি গানের আয়োজন করা...

প্রশ্ন

গত কিছুদিন আগে আমাদের সিলেট শহরে একটি গানের আয়োজন করা হয়েছিল। এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণ তাতে বাধা দিলেও তারা তা করেছে। একপর্যায়ে মুসলমান সন্তানদের কেউ কেউ গানকে খুব ভালো বলে হাত তালি দেয়। এতে এলাকার এক লোক বলেন, গুনাহকে ভালো বলার কারণে তাদের ঈমান নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের বউ তালাক হয়ে গেছে। একথা ঠিক কি না? তাদের এখন করণীয় কী?

উত্তর

গান গাওয়া, গান শোনা এবং কোনো গানকে ভালো বলা নিঃসন্দেহে কবীরা গুনাহ। হাদীস শরীফে গান শোনা এবং গান গাওয়ার ব্যাপারে কঠোর শাস্তির কথা এসেছে। তবে কোনো গানকে ভালো বললেই ঈমান চলে যাবে একথা ঠিক নয়। কেননা গান ভালো বলার অর্থ এও হতে পারে যে, গানটি তাদের কাছে শুনতে ভালো লাগে। তাই প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী গানের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তওবা-ইস্তিগফার করা জরুরি। তবে উপরোক্ত কথার দ্বারা তাদের ঈমান নষ্ট হয়নি এবং তাদের স্ত্রীও তালাক হয়নি।

সহীহ বুখারী ৮৩৭; ফাতহুল মুলহিম ২/৪৩৬; ফাতহুল বারী ১০/৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৭৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি ত্রিশ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে একটি মেয়েকে...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ত্রিশ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে একটি মেয়েকে বিয়ে করে এবং তার সাথে বাসর হয়। তবে তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রী সূলভ কোনো আচরণ হয়নি। এ অবস্থায় লোকটি তাকে তালাক দেয়। জানতে চাই, মেয়েকে কি ইদ্দত পালন করতে হবে এবং ঐ ব্যক্তিকে কি মোহর দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু বাসর হওয়ার পর তালাক দেওয়া হয়েছে তাই মেয়েটির উপর ইদ্দত পালন করা জরুরি এবং লোকটির উপর পূর্ণ মোহর (ত্রিশ হাজার টাকা) দেওয়াও জরুরি। কেননা, ইদ্দত হওয়া এবং পূর্ণ মোহর প্রাপ্তির জন্য স্বামী-স্ত্রী সুলভ আচরণ শর্ত নয়; একত্রে নির্জন কক্ষে অবস্থানই যথেষ্ট।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৯/২০৬; ইলাউস সুনান ১১/৮৯; হিদায়া ২/৩৪৫; ফাতহুল কাদীর ৩/২১৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৩৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫৪৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া হলে স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে, তুমি আমার বাবা...

প্রশ্ন

স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া হলে স্ত্রী যদি স্বামীকে বলে, তুমি আমার বাবা অথবা আমি তোমার মা তাহলে ইসলামের বিধান অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক থাকে কি না?

উত্তর

এ ধরনের কথা বলা গুনাহ। তবে স্ত্রীর ঐ কথার কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। তাদের বৈবাহিক বন্ধন অটুট রয়েছে।

সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২২১০; আসসুনানুল কুবরা বায়হাকী ৭/৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

হাদীসে যে ‘দৈয়জ’ শব্দ এসেছে এর অর্থ কী? ‘দৈয়জ’ সম্পর্কে...

প্রশ্ন

হাদীসে যে ‘দৈয়জ’ শব্দ এসেছে এর অর্থ কী? ‘দৈয়জ’ সম্পর্কে হাদীসে কী বলা হয়েছে? বিস্তারিত জানাবেন বলে আশা করি।

উত্তর

হাদীস শরীফের ঐ শব্দটি হল দাইয়ূছ। এর অর্থ হল, এমন স্বামী যে স্ত্রী বা পরিবারের কোনো মহিলাকে পাপাচার, ব্যভিচার করতে বাধা দেয় না। এককথায় বলা যায়, অসতী স্ত্রী বা নারীর আত্মমর্যাদাহীন নির্বিকার স্বামী বা অভিভাবক।

এ সম্পর্কিত একটি হাদীস হল, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির উপর আল্লাহ তাআলা জান্নাতকে হারাম করেছেন : ১। মদে অভ্যস্ত ব্যক্তি ২। পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান এবং ৩। দাইয়ূছ- যে তার পরিবার বা স্ত্রীর পাপাচারকে সমর্থন করে।

মুসনাদে আহমদ হাদীস : ৫৩৭২; বুলূগুল আমানী ৩/৩৫৫৬ হাদীস : ৯৯৭৫; মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ২/২২২; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার চেহারায় গোঁফের স্থানে বড় আকারে লোম রয়েছে এবং আমার...

প্রশ্ন

আমার চেহারায় গোঁফের স্থানে বড় আকারে লোম রয়েছে এবং আমার ভ্রূ কিছুটা চওড়া। আমার স্বামী সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমার ভ্রূ জোড়া চিকন করতে ও চেহারার অন্যান্য লোমগুলো তুলে ফেলতে বলছেন। জানতে চাই, এভাবে ভ্রূতে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা ও চেহারার অন্যান্য লোম তুলে ফেলার অনুমতি আছে কি না?

উত্তর

মহিলাদের গোঁফ, দাড়ি বা এর আশপাশের স্থানে কোনো লোম গজালে তা তুলে ফেলার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভ্রূ চিকন করা বৈধ নয়। স্বামী চাইলেও তা করা জায়েয হবে না। কেননা হাদীস শরীফে এ জাতিয় মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।

সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৩৯; সহীহ মুসলিম হাদীস : ৫৫২৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৯৫; ফাতহুল বারী ১০/৩৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৫; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি এবং আমার স্ত্রীর মাঝে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া লেগে...

প্রশ্ন

আমি এবং আমার স্ত্রীর মাঝে বিয়ের পর থেকেই ঝগড়া লেগে থাকত। এর মধ্যে আমাদের একটি পুত্র সন-ান জন্ম লাভ করে। ছেলে জন্মের পর থেকে আমাদের ঝগড়া আরো বেড়ে যায়। তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় তাকে তালাক না দিয়ে আমার শ্যালিকা তার ছোট বোনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। তারপর আমরা ঢাকায় এসে বাসা নিয়ে থাকি। ঢাকা যাওয়ার ১৫দিন পর আমার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে মোহরানা পরিশোধ করে বিদায় করে দিয়েছি। এখন আমার (প্রথম স্ত্রীর বোন) ২য় স্ত্রীকে নিয়ে ঘর-সংসার করছি। জানতে চাই, এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি না?

উত্তর

কোনো মহিলার সাথে বিবাহ বহাল থাকা অবস'ায় তার আপন বোনকে বিবাহ করা হারাম। বিবাহ করলে তা শুদ্ধ হয় না। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী শ্যালিকার সাথে আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। তার সাথে দাম্পত্য মেলামেশা সম্পূর্ণ হারাম। এখনই পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি। শ্যালিকার সাথে বৈধভাবে সংসার করতে চাইলে স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর শ্যালিকাকে নতুনভাবে মহর ধার্য করে যথা নিয়মে বিবাহ করতে হবে। আর এতদিনের হারাম কার্যকলাপের জন্য আল্লাহর দরবারে তওবা-ইসি-গফার করতে হবে।

আহকামুল কুরআন জাসসাস ২/১৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬৪; মাজমাউল আনহুর ১/৪৭৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ৯/২১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে স্বীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়েছে এবং এক পর্যায়ে সে স্বপ্নে তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিয়েছে। জানতে চাই, এই ব্যক্তি তার স্ত্রীকে স্বপ্নে তালাক দেওয়ার কারণে তালাক হয়েছে কি না?

উত্তর

ঘুমন্ত অবস্থায় বা স্বপ্নে স্ত্রীকে তালাক দিলে তা কার্যকর হয় না । অতএব প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির স্বপ্নে দেওযা তালাকও কার্যকর হয়নি। তাদের বিবাহ পূর্বের মতো যথারীতি বহাল রয়েছে।

-সুনানে নাসায়ী ৬/১৫৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৬/৪১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৯১; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ২/১১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

একব্যক্তি তার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ের মেয়েকে বিবাহ করতে চাচ্ছে।...

প্রশ্ন

একব্যক্তি তার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়ের মেয়েকে বিবাহ করতে চাচ্ছে। আমার প্রশ্ন হল, তার জন্য ঐ মেয়েকে বিবাহ করা জায়েয হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

উল্লেখ্য যে, সে তার স্ত্রীর সাথে ঘরসংসার করছে।

উত্তর

স্ত্রীর পূর্বের স্বামী থেকে যে সন্তানাদি হয়েছে পরবর্তী স্বামীর জন্য তারাও মাহরাম। তাই প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির জন্য আগের ঘরের মেয়ের মেয়েকে বিবাহ করা সম্পূর্ণ হারাম। তার সাথে স্ত্রী হিসাবে বসবাস করলে ব্যভিচারের গুনাহ হবে এবং বর্তমান স্ত্রীর সাথেও বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাবে।

-সূরা নিসা ২৩; রূহুল মাআনী ৪/৬৩৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

দাদার বিবাহকৃত কোনো নারীকে (সৎ দাদী) বিয়ে করা বৈধ হবে...

প্রশ্ন

দাদার বিবাহকৃত কোনো নারীকে (সৎ দাদী) বিয়ে করা বৈধ হবে কি?

উত্তর

দাদার স্ত্রী মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তাকে বিবাহ করা জায়েয নয়।

-সূরা নিসা ২২; তাফসীরে মাযহারী (সূরা নিসা অংশ) ২/৫৪; আহকামুল জাসসাস ২/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪; ফাতহুল কাদীর ৩/১২০; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৩২
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

একজন ব্যক্তির উপর কার কার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব? এবং কার পক্ষ থেকে ওয়াজিব নয়?

প্রশ্ন
শ্রদ্ধেয় মুফতী সাহেব! আমার জানার বিষয় হল, একজন ব্যক্তি ফিতরা দেয়া উপযুক্ত হওয়ার পর তার জন্য আর কার কার ফিতরা আদায় করা আবশ্যক? স্ত্রী, প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে মা বাবার ফিতরা কি তার জন্য আদায় করা ওয়াজিব? আর যদি সে তাদের ফিতরা আদায় করে দেয় তাহলে কি তাদের অনুমতি লাগবে? অনুমতি ছাড়া আদায় হবে কি না? স্ববিস্তারে জানতে চাই ৷
উত্তর
ব্যক্তির উপর ফেতরা ওয়াজিব হওয়ার পর তাদের ফেতরাও তার জন্য আদায় করা ওয়াজিব যাদের উপর তার পুর্ন কর্তৃত্ব রয়েছে ৷ যেমন নাবালেগ ছেলে মেয়ে ৷ পাগল বালেগ ছেলে মেয়ে ৷
অবশ্য নাবালেগ ছেলে মেয়ে বা বালেগ পাগল ছেলে মেয়েরা যদি মালদার হয় তাহলে তাদের মাল থেকে আদায় করলেও চলবে ৷
অতএব বাবা তার নিজের ও তার নাবালেগ সন্তান , বালেগ পাগল সন্তানদের ফিতরা আদায় করা আবশ্যক ৷ স্ত্রী কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফিতরা তার মাল থেকে আদায় করা আবশ্যক নয় ৷ তবে যদি সে তার নিজ মাল থেকে আদায় করে দেয় তাহলে আদায় হয়ে যাবে ৷ যদিও তাদের অনুমতি না নেওয়া হয় ৷
বলা বাহুল্য যে, যদি স্ত্রী কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফিতরার নেসাব পরিমান ব্যক্তিগত মাল থাকে তাহলে তাদের ফিতরা আদায় করতে হবে ৷ অন্যথায় ফিতরা দিতে হবে না ৷
তেমনি বাবা না থাকলে দাদার জন্য তার নাবালেগ নাতি নাত্নী এবং বালেগ পাগল নাতি নাত্নী গরীব হলে তাদের ফিতরা আদায় করা আবশ্যক ৷
সন্তানদের জন্য মা বাবা দাদা দাদীর ফিতরা দেওয়া আবশ্যক নয় ৷ তারা মালদার হলে, নিজ মাল থেকে আদায় করবে ৷ মাল না থাকলে আদায় করতে হবে না ৷ তবে যদি সন্তান মা বাবা দাদা দাদীর ফিতরা দিয়ে দেয় তাহলে আদায় হয়ে যাবে ৷ এ ক্ষেত্রে এক সংসার হলে, অনুমতির প্রয়োজন নেই ৷ ভিন্ন সংসার হলে অনুমতি নিয়ে আদায় করতে হবে ৷
-বাদায়েউস সানায়ে ২/২০২; রদ্দুল মুহতার,৩/১১৫; ইলমুল ফিকহ,৩/৫২; ফতওয়ায়ে দারুল উলুম, ৬/৩২৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯২২
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা ও চুমু খাওয়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর রোযা রেখে স্ত্রীকে চুমু দিলে কি কোন সমস্যা হবে? স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? জড়িয়ে ধরার সময় পুরুষাঙ্গ দিয়ে পাতলা পানি বের হলে রোযার কি হুকুম? জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
রোযা অবস্থায় স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলে বা চুমু খেলে রোযা ভাঙ্গবে না ৷ এবং এমতাবস্থায় পুরুষাঙ্গ দিয়ে মযি তথা পাতলা পানি বের হলেও রোযার কোনো ক্ষতি হবে না ৷ তবে যদি জড়িয়ে ধরলে বা চুমু খেলে বীর্য বের হয়ে যায় তাহলে রোযা ভেঙ্গে যাবে ৷
অবশ্য, রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরলে বা চুমু খেলে নিজেকে কন্ট্রোল রাখতে সমস্যা হয় বা সহবাসে লিপ্ত হওয়ার উপক্রম হয় তাহলে জড়িয়ে ধরা বা চুমু খাওয়া মাকরুহ ৷
-আদদুররুল মুখতার ২/১১২; আননাহরুল ফায়েক ২/২৭; আল মারাকি আলত ত্বাহতাবী, পৃ: ৫৬০; ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৫/১৮৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.16 render + 0.02 s transfer.