Login | Register

ফতোয়া: স্বামী-স্ত্রী

ফতোয়া নং: ৪৮২৯
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

চাচার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী তথা চাচীকে বিবাহ করা ৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক লোক তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। তালাকের পর তার আপন ভাতিজা উক্ত মহিলাকে বিয়ে করে ফেলে। এখন জানার বিষয় হল, চাচীকে ভাতিজার এ বিবাহ হয়েছে কি না?
উত্তর
চাচার তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী তথা চাচীকে বিবাহ করা জায়েজ আছে। তবে শর্ত হল ইদ্দত শেষ হবার পর বিবাহ করতে হবে। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি ঐ ভাতিজা চাচীকে তার ইদ্দতের পর বিবাহ করে থাকে তাহলে বিবাহ সঠিক হয়েছে ৷
- সূরা নিসা: আয়াত ২৪; আহমাকামুল কুরআম লিল জাস্সাস ২/১৩৯ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২৮
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

মৃত স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দেখা ও গোসল দেয়া ৷

প্রশ্ন
স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে একে অপরের লাশ দেখতে পারবে কিনা? এবং একে অপরকে গোসল দিতে পারবে কি না? কুরআন হাদীসের আলোকে জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
স্বামী বা স্ত্রী মারা গেলে একে অপরকে দেখতে পারবে ৷ এতে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ৷ এবং স্ত্রী তার মৃত স্বামীকে গোসল দিতে পারবে। কেননা বিশুদ্ধ সত্রে বর্নিত আছে যে, হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস রা. তাকে গোসল দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে স্ত্রী মারা গেলে স্বামী তার মৃত স্ত্রীকে গোসল দিতে পারবে না ৷
সুনানে আবু দাউদ ৪/৩০, হাদীস ৩১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৮৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৩
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর জন্য অলংকার ব্যবহার ও সাজগুজ করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর কিছুদিন আগে আমার খালু মারা গেছে ৷ আমার খালার চুড়ি চেইন হাতের বালা নাকফুল সহ ইত্যাদি অনেক স্বর্নের অলংকার আছে ৷ জানার বিষয় হলো, খালা এখন এসব অলংকার ব্যবহার করতে পারবে কি না?
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত শেষ হবার আগ পর্যন্ত কোন প্রকার সাজগুজ বা অলংকার পরিধান করা জায়েজ নেই । তাই আপনার খালার জন্য তার ইদ্দত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত চুড়ি, চেইন হাতের বালা ইত্যাদি কোন কিছুই পরা যাবে না। তবে ইদ্দত শেষ হবার পর জায়েজ৷ তখন সব ধরণের অলংকার পরিধান ও সাজগুজ করতে পারবে ।
উল্লেখ্য যে, স্বামীর মৃত্যুর পর মহিলার ইদ্দতের সময় হল ৪মাস ১০দিন। চার মাস দশদিন পর্যন্ত সাজগুজ এবং অলংকার পরিধান করা নিষেধ। এর পর সবকিছু বৈধ ৷
-সূরা বাকারা , আয়াত: ২৩৫; আবু দাউদ, হাদীস নং-২৩০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক-৩/২৬৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০১
তারিখ: ১৪/১/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রী স্বামীকে তুমি আমার বাবা আমি তোমার মা বললে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার বড় ভাই ভাবির সাথে ঝগড়া করে এক পর্যায়ে ভাবি ভাইকে বলে,তুমি আমার বাবা আর আমি তোমার মা লাগি ৷ তাই জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় আমার ভাই ও ভাবির ইসলামের বিধান অনুযায়ী স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক থাকে কি না? দায়া করে জানাবেন ৷
উত্তর
স্ত্রী স্বামীকে এ ধরনের কথা বলা মারাত্বক গুনাহ। তাই আপনার ভাবির জন্য তৌবা করা উচিত এবং ভবিষ্যতে এসব কথা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য ৷ তবে উক্ত কথার কারণে আপনার ভাই ও ভাবির বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। তাদের বৈবাহিক বন্ধন বহাল আছে।
সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২২১০; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৩
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

গর্ভবতী-নারীর নামাজ ও চাল-চলন ৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমার স্ত্রী ৭ মাসের গর্ভবতী ৷ এখন খুব বেশি অসুস্থ থাকে , বিশেষ করে সকাল বেলায় ৷ ডাক্তার বলেছেন সকালে ঘুম থেকে দেরিতে উঠতে ৷ তাই আপনার নিকট জানতে চাই, গর্ভবতী মহিলাদের নামাজের সময়ের ব্যাপারে কোন শীথিলতা আছে কি না? বিশেষ করে ফজর নামাজ দেরিতে পড়তে পারবে কি না?
উত্তর
কোনভাবেই নামাজের নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,
ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ
ﻣَﻮْﻗُﻮﺗًﺎ
“নিশ্চয় নিদিষ্ট সময়ে ছালাত আদায় করা মুমিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।
সূরা নিসা- ১০৩
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি নামাজের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সুতরাং ঐ সময়ে আদায় করাটাই আবশ্যক। ফজর নামাজের সময় সুবহে সাদিক হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত। সুতরাং এই
সময়ের ভেতরেই আদায় করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকারের শীথিলতার অনুমোদন নেই৷ এমনকি গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও নেই।
হ্যাঁ, শিশু গর্ভে থাকা অবস্থায় একজন নারী ও শিশুর
শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য ঘুম অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। গর্ভাবস্থায় রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম না হলে স্বাস্থ্যহানী ঘটে। কিন্তু নামাযের গুরুত্ব এত বেশি যে এর কারনে ফজর- নামাজ সময় মত আদায়ের ব্যাপারে অবহেল প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই।
তাই আপনার স্ত্রীর জন্য পরামর্শ হলো,
১৷ তার মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে যে, আমি অবশ্যই ফজরের নামাজ আদায় করবো।
২৷ সে ইশার নামাজ সময়ের শুরুতে পড়ে নিবে। তারপর প্রয়োজনীয় কাজ সেরে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়বে। দেরি করে ঘুমোতে যাওয়া যাবে না অন্তত এতটা আগে রাতের বিছানায় যাবে যাতে করে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টা নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায় এবং ফজর যথাসময় পড়া যায়।
৩৷ প্রতিদিন দুপুরের খাবারের পর আসর পর্যন্ত ঘুুমাবে। এতে ‘কাইলুলাহ্’র সুুন্নাত আদায় হবে। স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে।
৪৷ গর্ভাবস্থায় যে ব্যাপারটি পরিবারের সকলকে মনে রাখতে হবে, সেটি হল, গর্ভবতী নারির এবং তার ভেতরে বেড়ে ওঠা শিশুর যত্ন নেয়া সকলেরই কর্তব্য। সুুতরাং তার শারীরিক- মানসিক সুুস্থতার প্রতি যত্নশীল-দৃষ্টি পরিবারের সকলকে বিশেষত স্বামীকে সবসময় রাখতে হবে। এতে গর্ভবতী মা যেমন সুস্থ থাকবে, সুস্থ থাকবে তার সন্তানও। মনে রাখা উচিত, সুস্থ-সন্তান যেমন অবশ্য-কাম্য, অনুরূপভাবে সন্তান নেক হওয়াও অপরিহার্য-কাম্য। আর গর্ভবতী নারির চাল-চলন ও গতিবিধির বিস্তর প্রভাব সন্তানের ওপর পড়ে। সুতরাং গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ইবাদত করার পাশাপাশি গোনাহ ছেড়ে দেয়ার ফিকির অধিক করাটাই হবে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। এতে গর্ভবতী মা যেমন মহান আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে ওঠবে, এমনিভাবে তার ভেতরে বেড়ে ওঠা সন্তানও নেক, ভাল হবে। ইনশাআল্লাহ্।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৮৮
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রী স্বামিকে তালাক বা ডিভোর্স প্রদান করা ও পুনরায় সংসার করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমাকে একটু হেল্প করবেন! আমি বিয়ে করেছি দুই বৎসর হয়েছে ৷ বিয়ের ছ'মাস পর বিদেশে চলে আসি ৷ আমাদের স্বামি-স্ত্রীর সংসার ভাল-ই চলছি ৷ কিন্তু আমি বিদেশে আসার সাত মাস পর থেকে আমার স্ত্রীর অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে বলে জানতে পারি৷ একদিন তার ফোন অনেক্ষন বিজি পেয়ে তাকে অনেক গালাগালি করি ও ধমক দেয় ৷ একপর্যায় সে আমাকে বলে তাকে তালাক দিয়ে দিতে ৷ না দিলে সে নিজেই নিজেকে তালাক দিয়ে চলে যাবে ৷ আমি বললাম আমি তো তোমাকে তালাক দেয়ার অধিকার দেইনি ৷ তুমি তালাক দিলেও তালাক হবে না ৷ তথাপিও সে নিজেকে নিজে তালাক দিয়েছে ৷ এবং কোর্টে গিয়ে ডিভোর্স লেটার তৈরি করেছে ৷ আমি ঐ ডিভোর্স লেটারে কোন স্বাক্ষর করি নি, সে একা-ই স্বাক্ষর করেছে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে ৷ অতপর পাচ মাসতার বাবার বাড়ি ছিল, ততদিন পর্যন্ত তার সাথে কোন যোগাযোগ নেই ৷ পাচ মাস পর আমার শাশুরী আমার সাথে যোগাযোগ করে আমাদের মাঝে সম্পর্ক গড়ানোর কথা বলেন ৷ আমার স্ত্রীও রাজি হয় ৷ এ অবস্থায় আমরা আবার কিভাবে এক হতে পারি ৷ নতুন করে বিয়ে করতে হবে কিনা? বিস্তারিত জানালে খুব উপকৃত হবো ৷
উত্তর
স্ত্রী তখনি নিজের উপর তালাক পতিত করতে পারে, যখন স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকার প্রদান করে থাকে। তাছাড়া স্ত্রী চাইলেই নিজের উপর তালাক প্রদানের অধিকার রাখে না।
বাংলাদেশের আইন অনুপাতে বিয়ের সময় যে কাবিন নামা করা হয়ে থাকে, উক্ত সরকারি কাবিননামার ১৮ ও ১৯ ধারায় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকার দিয়েছে কি না? দিলে কী কী শর্তে অধিকার প্রদান করেছে? এ মর্মে একটি অপশন রয়েছে।
যদি উক্ত ধারায় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক পতিত করার অধিকার প্রদান করে থাকে, এবং স্বামী উক্ত কাবিন
নামার নিচে সাইন করে থাকে, তাহলে স্বামী কর্তৃক স্ত্রী নিজের উপর তালাক পতিত করার অধিকারপ্রাপ্তা হয়। তখন কাবিনের উপরোক্ত ধারা অনুপাতে শর্ত পাওয়া গেলে স্ত্রী নিজের উপর তালাক পতিত করার অধিকার পাবে। যদি শর্ত না পাওয়া যায়, কিংবা স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান না করে থাকে, তাহলে স্ত্রী
নিজের উপর তালাক পতিত করার অধিকার পায় না।
এবং ডিভোর্স লেটারে স্বামির স্বাক্ষর ছাড়া স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয় না ৷
অতএব প্রশ্নোক্ত সুরতে আপনি যদি আপনার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার না দিয়ে থাকেন বা কাবিন নামায় তালাক প্রদানের অপশনে তালাক দেবার অধিকার না থাকে, এবং ডিভোর্স লেটারে স্বাক্ষর না করে থাকেন ৷ তাহলে আপনার স্ত্রী নিজেকে নিজে তালাক দেয়ার কারনে উক্ত তালাক পতিত হয়নি ৷ আপনি নতুন বিয়ে ছাড়া এমনি পরস্পরে মিলেমিশে পুনরায় ঘর সংসার করতে পারবেন ৷
উল্লেখ্য, ভবিষ্যতে যেন এধরেন ঘটনা পুনরাবৃত্ত না হয় সেদিকে স্বচেষ্ট হোন ৷ দুজনেই ইসলামি নিয়মাবলি পুর্নাঙ্গরুপে মেনে সঠিক ভাবে চলার পুর্ন চেষ্টা করবেন ৷
রদ্দুল মুহতার ৪/৪৫৬; ফতওয়ায়ে আলমগীরি ১/৩৭৯; মুহীতুল বুরহানী ৪/৪৮৬; ফাতাওয়াযে তাতারখানিয়া ৩৮০ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৮৭
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

মহিলাদের দাড়ি, গোঁফের পশম তুলে ফেলা ও ভ্রু প্লাক করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার একটি প্রশ্ন, আমার গোঁফের পশম বড়,
এবং ভ্রূ কিছুটা চওড়া। তাই সুন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আমার স্বামী ভ্রূ প্লাক করতে ও চেহারার অন্যান্য পশম তুলে ফেলতে বলছেন। আপনার কাছে জানতে চাই, আমি কি স্বামির কথা মত ভ্রূ প্লাক করতে ও চেহারার অন্যান্য
লোম তুলে ফেলতে পারব?
উত্তর
মহিলাদের দাড়ি, গোঁফে লোম গজালে তা তুলে ফেলা বৈধ ৷ তাই আপনি আপনার গোঁফের পশম তুলে ফেলতে পারবেন ৷ কিন্তু ভ্রূ প্লাক করা বৈধ নয়।
স্বামী বললেও সুন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ভ্রু প্লাক করা বৈধ হবে না। তাই ভ্রু প্লাক করতে পারবেন না ৷ কারন হাদীসে ভ্রু প্লাক কারী মহিলাদের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে।
সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৩৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/১৯৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৮৪
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক সাথে দুই স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করা ৷ 

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আমার একটি প্রশ্ন ছিল৷ আমার এক বন্ধু দুই বিয়ে করেছে ৷ দুই স্ত্রী ই আছে ৷ সে লজ্জায় অন্য কারো কাছে বলতে পারছে না ৷ সে জানতে চায় সে কি এক সাথে দুইজন স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করতে পারবে?
উত্তর
স্ত্রী সহবাস নির্জনে করা আবশ্যক৷ যেমনি অন্য লোকের সামনে স্ত্রী সহবাস করা হারাম তেমনি এক স্ত্রীর সামনে অন্য স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও হারাম । এগুলো পাশ্চাত্যের নোংরামী ও পশুত্বের আলামত। এসব ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৪/৩৮৮; আল মুগনী ৮/১৩৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৮১
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

ধৌত না করে নতুন জামা পরে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
কদিন আমি নতুন একটি তৈরি পাঞ্জাবী কিনে আনি৷ জুমার দিন উক্ত জামা পরে নামাযে যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী বলে উঠলো তুমি নতুন জামা পরে নামাযে যাচ্ছো? নতুন জামা পরে না ধুয়ে যে নামায পড়া যায় না তুমি জানো না? অতপর জামা খুলে অন্য কাপড় পরে নামায যাই ৷ আমার জানার বিষয় হলো, নতুন জামা কি নাপাক? না ধুয়ে তা পরে কি নামায পড়া যায় না?
উত্তর
নতুন কাপড়ে দৃশ্যমান নাপাকি না থাকলে বা নাপাক লেগেছে বলে সুনিশ্চিত জামা না থাকলে শুধু সন্দেহের বশে কাপড়কে নাপাক সাব্যস্ত করা হবে না। এমতাবস্থায় উক্ত কাপড় পরে নামায পড়া যাবে ৷
যদি কোন নাপাক দেখা যায়, বা উক্ত কাপড়ে নাপাক আছে মর্মে জানা থাকে, তাহলেই কেবল উক্ত কাপড়কে নাপাক সাব্যস্থ হবে। এবং উক্ত কাপড় পরে নামায হবে না ৷ ধৌত করে নামায পড়তে হবে ৷
তবে সর্বাবস্থায় নতুন কাপড় ধুয়ে পরিধান করাই উত্তম।
আল আশবাহ ওয়ান নাজায়ের ১/১৮৩; রদ্দুুল মুহতার ১/১৫১ ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৮০
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

ধৌত না করে নতুন জামা পরে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
কদিন আমি নতুন একটি তৈরি পাঞ্জাবী কিনে আনি৷ জুমার দিন উক্ত জামা পরে নামাযে যাওয়ার সময় আমার স্ত্রী বলে উঠলো তুমি নতুন জামা পরে নামাযে যাচ্ছো? নতুন জামা পরে না ধুয়ে যে নামায পড়া যায় না তুমি জানো না? অতপর জামা খুলে অন্য কাপড় পরে নামায যাই ৷ আমার জানার বিষয় হলো, নতুন জামা কি নাপাক? না ধুয়ে তা পরে কি নামায পড়া যায় না?
উত্তর
নতুন কাপড়ে দৃশ্যমান নাপাকি না থাকলে বা নাপাক লেগেছে বলে সুনিশ্চিত জামা না থাকলে শুধু সন্দেহের বশে কাপড়কে নাপাক সাব্যস্ত করা হবে না। এমতাবস্থায় উক্ত কাপড় পরে নামায পড়া যাবে ৷
যদি কোন নাপাক দেখা যায়, বা উক্ত কাপড়ে নাপাক আছে মর্মে জানা থাকে, তাহলেই কেবল উক্ত কাপড়কে নাপাক সাব্যস্থ হবে। এবং উক্ত কাপড় পরে নামায হবে না ৷ ধৌত করে নামায পড়তে হবে ৷
তবে সর্বাবস্থায় নতুন কাপড় ধুয়ে পরিধান করাই উত্তম।
আল আশবাহ ওয়ান নাজায়ের ১/১৮৩; রদ্দুুল মুহতার ১/১৫১ ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৭৮
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

বিয়ের কথা পাকাপাকির পর আংটি পরিয়ে রাখা৷

প্রশ্ন
আমার ছোটবোনের বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর উভয় পক্ষের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখতে চায়। এটা কি শরীয়তসম্মত কিনা? এমতাবস্থায় ছেলে- মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
শুধু আংটি পরানোর মাধ্যমে বিবাহ সংঘটিত হয় না। আংটি পরানো দ্বারা উভয় পক্ষের মাঝে সামাজিকভাবে বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা বুঝায় মাত্র। অতএব ইজাব- কবুলের মাধ্যমে বিবাহ পড়ানো ছাড়া শুধু আংটি পরানোর দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য হবে না। তাই বিবাহ পড়ানোর আগে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ, কথা-বার্তা ও মেলামেশা কোন কিছুই বৈধ হবে না ।
সুতরাং আপনার ছোট বোনের বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আকদ না করিয়ে আংটি পরিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এভাবে রেখে দেওয়া শরীয়তসম্মত নয়। এ
কারণে ছেলে-মেয়ে ও তাদের নিকটজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করলে সবাই গুনাহগার হবে ৷
উল্লেখ্য যে, বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কাবিন করা শর্ত নয়,বরং দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিয়ের ইজাব-কবুল করার দ্বারাই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়। তাই আপনার বোনের আংটি পরানোর সময় যদি কাবীন নাও করেন, দু'জন শাক্ষীর সামনে ইজাব কবুলের মাধ্যমে বিবাহ পরিয়ে দিলে দেখা-সাক্ষাৎ মেলামেশা সহ সব কিছু বৈধ হয়ে যাবে ৷
আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১, ৩/১৪৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৭৫
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

তিন তালাক প্রাপ্তা মেয়েকে নিজ ভগ্নিপতির সাথে বিয়ের পর প্রথম স্বামির নিকট পুনরায় বিবাহ দেয়া ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন আছে, তা হলো, আমার ছোট বোনকে দুই বছর আগে তার স্বামী তিন তালাক দিয়ে দিয়েছিল। অতপর তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এখন তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়েছে । তাই আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে তার সঙ্গে এক রাত যাপন করে তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার পুর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে কিনা?
উত্তর
স্ত্রীর আপন বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও সে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই আপনার স্বামীর সাথে আপনার বোনের বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি এবং তার সাথে রাত যাপন করাও হারাম হয়েছে। অতএব এর উপর ভিত্তি করে আপনার বোনের জন্য তার পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ হবে না।
উল্লেখ্য, স্ত্রীর ছোট বোনের সাথে রাত যাপন করার কারণে তারা মারাত্মক গুনাহগার হয়েছে ৷ অতএব এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকেই খাঁটি মনে তাওবা-ইস্তেগফার
করা উচিত। এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ যেন পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে সচেষ্ট হয়ে প্রয়োজনিয় দ্বীনী ইলম অর্জন করে তা আমলে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই পুরোপুরি সচেষ্ট হওয়া উচিত।
সূরা নিসা : ২৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১০৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৬; মুখতাসারুত তহাবী ৪/৩৩০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৬৩
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

দুনিয়াতে একাধিক স্বামী ওয়ালি মহিলার জান্নাতে যে হবে তার স্বামী ৷

প্রশ্ন
আমরা জানি দুনিয়াতে যার সঙ্গে যার বিবাহ হয়েছে মুমিন হলে আখেরাতেও সেই স্বামী-স্ত্রী বহাল থাকবে৷ তাহলে দুনিয়াতে যে মহিলার একাধিক বিবাহ হয়েছে। অর্থাৎ তালাকের পর বা স্বামী মারা যাওয়ার পর পুনরায় বিবাহ বসছে৷ জান্নাতের যাওয়ার পর উক্ত মহিলার স্বামী হবে কে?
উত্তর
দুনিয়াতে একাধিক স্বামী ওয়ালি মহিলার জান্নাতে স্বামী কে হবে এ নিয়ে দুটি মত রয়েছে৷ যথা-
১৷ মহিলার সর্বশেষ স্বামী যে হবে সেই হবে জান্নাতে তার স্বামী৷
হয়রত মুযযাবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাঃ যখন উম্মে দারদা কে স্বামি মারা যাওয়ার পর বিবাহের প্রস্তাব দিলেন, তিনি অস্বিকার করে বললেন আমি আবু দারদা থেকে শুনিছে, নবীজি সাঃ বলেছেন মহিলাদের দুনিয়ার সর্বশেষ স্বামী হবে তার আখেরাতে স্বামী ৷ অতএব তুমি যদি আখেরাতে আমাকে স্বামী হিসেবে পেতে চাও আর কারো কাছে বিয়ে বসবে না৷
২৷ মহিলাকে এখতিয়ার দেয়া হবে যে, তুমি যাকে
ইচ্ছা তাকেই স্বামী হিসেবে গ্রহণ করতে
পারো৷
উম্মে হাবীবা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি নবীজি সাঃ কে জিজ্ঞেস করলে ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাদের মাঝে মহিলার দুনিয়াতে একাধিক স্বামি রয়েছে৷ আখেরাতে তার স্বামী কে হবে? নবীজি সাঃ বললেন আখেরাতে তাকে ইচ্ছাধীকার দেয়া হবে যাকে ইচ্ছা তাকে স্বামী হিসেবে গ্রহন করতে পারবে৷
বুস্তানুল আরেফীন: ২৪৮; আত তাযকিরা ২/১৪৫; ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৩/৪৩০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৪৬
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত’ কথাটির সত্যতা৷

প্রশ্ন
ভাইয়া আমি জানতে চাই, ‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত’ এ কথাটি সত্য? এটি কি হাদীস?
উত্তর
এই কথাটির আরবী হলো, الجنة تحت اقدام الازواج হুবহু এ শব্দে-বাক্যে হাদীস নয়৷ অনেকে কথাটাকে হাদীস হিসেবে পেশ করে থাকে। যা উচিত নয়৷
তবে কিছু হাদীসে এর মর্মার্থ পাওয়া যায় বিধায় কথাটাকে সম্পূর্ণ মিথ্যাও বলা যাবেনা। যেমন এক হাদীসে এসেছে- একবার এক নারী সাহাবী রাসূলের কাছে এলেন নিজের কোনো প্রয়োজনে। যাওয়ার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কি স্বামী আছে? তিনি বললেন, জী, আছে। নবীজী বললেন, তার সাথে তোমার আচরণ কেমন? সে বলল, আমি যথাসাধ্য তার সাথে ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি। তখন নবীজী বললেন,
ﻓﺎﻧﻈﺮﻱ ﺃﻳﻦ ﺃﻧﺖ ﻣﻨﻪ، ﻓﺈﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﺟﻨﺘﻚ ﻭﻧﺎﺭﻙ
তার সাথে তোমার আচরণের বিষয়ে সজাগ থাকো, কারণ সে তোমার জান্নাত বা তোমার জাহান্নাম।
মুআত্তা মালেক, হাদীস ৯৫২; মুসনাদে আহমাদ, ৪/৩৪১
হাদীস ১৯০০৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ২৭৬৯৷
অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
ﺇﺫﺍ ﺻﻠﺖ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺧﻤﺴﻬﺎ ، ﻭﺻﺎﻣﺖ ﺷﻬﺮﻫﺎ ، ﻭﺣﺼﻨﺖ ﻓﺮﺟﻬﺎ ، ﻭﺃﻃﺎﻋﺖ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻗﻴﻞ ﻟﻬﺎ : ﺍﺩﺧﻠﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻣﻦ ﺃﻱ ﺃﺑﻮﺍﺏ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﺷﺌﺖ
নারী যখন পাঁচ ওয়াক্ত নামায ঠিকমত আদায় করবে, রমযানের রোযা রাখবে, আপন লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, স্বামীর আনুগত্য করবে তখন সে জান্নাতের যেই দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।
সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৪১৬৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ মাজিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৩৬
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রী স্বামীকে বাপ বলার হুকুম৷

প্রশ্ন
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া হয়৷ এক পর্যায়ে স্বামী স্ত্রীকে প্রহার করতে থাকে। এরই মাঝে স্ত্রী স্বামীকে বাপ বলে সম্বোধন করে। জানার বিষয় হলো, এতে শরয়ী কোনো সমস্যা হয়েছে কি না? তাদের এখন বিবাহ বন্ধন বহাল আছে কি না?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে প্রশ্নোক্ত স্বামী- স্ত্রীর বৈবাহিক বন্ধন নষ্ট হয় নাই৷ এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বাহল রয়েছে। তবে স্মরণ রাখতে হবে স্ত্রীর জন্য
স্বামীকে এ ধরনের কথা বলা সম্পূর্ণ শরিয়ত পরিপন্থী, জঘন্য গুনাহ ও গর্হিত কাজ। অতএব তাকে তওবা ইস্তিগফার করতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কথার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। এবং স্বামির জন্যও কর্তব্য অগত্যা স্ত্রীর সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত না হওয়া ৷ এবং কোন ধরনের মারপিট না করা৷
- আল বাহরুর রায়েক : ৪/১৫৯; ফাতওয়া শামি : ৩/৪৬৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭২৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী ও স্ত্রী একসাথে জামাতে সালাত অাদায় করা ৷

প্রশ্ন
বাড়িতে স্বামী ও স্ত্রী কি একসাথে জামাতে
সালাত অাদায় করতে পারেন? যদি পারেন তাহলে কিভাবে পড়বে?
উত্তর
পুরুষের জন্য মসজিদের জামাতে নামায পড়া জরুরি। বিনা ওযরে ফরয নামায ঘরে আদায় করা ঠিক নয়। একাধিক হাদীসে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে কখনো মসজিদের জামাত না পেলে সেক্ষেত্রে একাকী নামায না পড়ে বাসায় স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে জামাতে নামায পড়াই উত্তম। এক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি হল, স্ত্রী ইমামের পিছনে দাঁড়াবে।
হাদীস শরীফে আছে, আবু বকরা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মদীনার উপকণ্ঠ থেকে নামায পড়ার জন্য এসে দেখেন সবাই জামাতের সাথে মসজিদে নামায পড়ে ফেলেছে। তখন তিনি ঘরে গিয়ে লোকজন জমা করে তাদের নিয়ে জামাতের সাথে নামায পড়ে নেন।
আলমুজামুল আওসাত, তবারানী ৪৬১
আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এবং আমার পরিবারস্থ একজন মহিলাকে নিয়ে নামায পড়েছেন। তখন আমাকে তাঁর ডান পাশে এবং ঐ মহিলাকে পিছনে দাঁড় করিয়েছেন।
নাসায়ী ১/৯২৷ যোগাযোগ
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭২৩
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রীকে বোন,স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করা৷

প্রশ্ন
স্ত্রী বা স্বামী আদর করে ভাই বা বোন বলতে পারে কিনা ইসলামের দৃষ্টিতে জানাবেন।
উত্তর
মহব্বত করে স্ত্রীকে বোন,স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করা ঠিক নয়। কেননা হাদীস৷শরীফে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। হাদীসে আছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা অপছন্দ করেন এবং এমনটি বলতে নিষেধ করেন।
সুনানে আবু দাউদ ১/৩০১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৭/১৫২।
সুতরাং এমন সম্বোধন থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে এ কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।
–আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৮; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮৷
উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি নাহলেও এক্ষেত্রে বিশেষত স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা দ্বারা একটি ক্ষতির আশঙ্কাও কিন্তু আছে তাহল,স্বামী যদি স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা দ্বারা এরূপ নিয়ত করে যে,আমার বোন যেমন আমার জন্য হারাম, তুমিও তেমনি আমার জন্য হারাম; তাহলে ‘যিহার’ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় স্ত্রী হারাম হয়ে যায় যতক্ষণ না স্বামী ‘কাফ্ফারা’ আদায় করে।
আর যিহারের কাফ্ফারা হচ্ছে- ধারাবাহিকভাবে দু’মাস ছিয়াম পালন করা বা ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়ানো।
– সুরা আল- মুজাদালাহ-০৩ সুতরাং এজাতীয় অনাকাঙ্ক্ষিত অহেতুক ঝামেলা এড়াতে স্ত্রীকে বোন সম্বোধন করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।
প্রয়োজনে
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১৮
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

বিবাহিত মেয়েকে তালাক বা ডিভোর্স ছাড়া অন্যত্রে বিবাহ দেওয়া৷

প্রশ্ন
এক মেয়ের একবার বিয়ে হওয়ার পর স্বামি খারাপ হওয়ার কারনে, মেয়ের পরিবার মেয়েকে স্বামির বাড়ি থেকে নিয়ে এসে দ্বিতীয় বার বিবাহ দেয়, অতঃপর পরিবার জানতে পারলো যে প্রথম স্বামি তালাক না দিলে বা ডিভোর্স না হলে দ্বিতীয় বার বিবাহ দেওয়া যায় না । আর এ বিষয়টি তারা ১বছর পর জানতে পারলো । এখন তাদের করণীয় কী ? জানালে অনেক উপকার হয়৷
উত্তর
কারো বিবাহে থাকা অবস্থায় অন্য কারো সাথে বিবাহ করলে তা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সহীহ হয় না। তাই মেয়েটি স্বামী ছাড়া আন্যজনের সাথে রাত্রি যাপনের কারণে কঠিন গোনাহগার হয়েছে। মেয়েটি আরেকজনের বিবাহে আছে জেনেও যদি পরিবারের
লোকজন দ্বিতীয় বিবাহ দিয়ে থাকে, তাহলে পরিবারের লোকজন ও মারাত্মক গোনাহের কাজ করেছে। এর জন্য সবাইকে তওবা করতে হবে।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু দ্বিতীয় বিবাহই শুদ্ধ হয়নি। তাই দ্রুত দ্বিতীয় স্বামী থেকে স্ত্রীকে আলাদা করতে হবে।
এবং উক্ত মহিলাকে প্রথম স্বামীর কাছেই ফেরত পাঠাতে হবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রথম স্বামী থেকে তালাক নেয়ার পর ইদ্দত পালন শেষে অন্য কারো সাথে বা যার সাথে দ্বিতীয়বার পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়েছিল তার সাথে বিবাহ দিতে পারবে।
প্রথম স্বামীর কাছে ফেরত যাবার ক্ষেত্রে স্মরণ রাখতে হবে যে, যদি প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ হয়েছে একথা না জেনে দ্বিতীয় স্বামী বিবাহ করে থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিবাহ হয়নি জানার পর প্রথম স্বামীর কাছে যখন স্ত্রী ফেরত যাবে, তখন প্রথম স্বামীর জন্য বিবাহ করা জরুরী নয়। কিন্তু উক্ত মহিলার ইদ্দত পালন করে প্রথম স্বামীর কাছে যাওয়া জরুরী। ইদ্দত পালনের আগে যাওয়া জায়েজ নয়।
তবে যদি দ্বিতীয় স্বামী জেনে- শুনেই বিবাহ করে থাকে। অর্থাৎ উক্ত মহিলা আরেকজনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আছে একথা জেনেই বিবাহ করে থাকে। তাহলে উক্ত মহিলার প্রথম স্বামীর কাছে ফেরত যাওয়ার জন্য ইদ্দত পালনের কোন প্রয়োজন নেই। এমনিতেই ফেরত চলে যাবে। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় স্বামীর জন্য মহিলার সাথে সহবাস করা জায়েজ নয়। হারাম হবে।
বাদায়েউস সানায় ২/৫৪৭; রদ্দুল মুহতার ৫/১৫৭; কাযিখান ফিল হিন্দিয়া ১/৩৬৬; ২৮০; খোলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১১৮; হিন্দিয়া ১/১৮০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জন্মদিন বা মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা৷

প্রশ্ন
জন্ম দিন বা মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা যায়েজ আছে কি?
উত্তর
জন্মদিন বা হ্যাপি বার্থ ডে পালন করা এবং সেদিনে বিশেষ দোআ, সালাম বা উপহার পেশ করা, বয়স অনুসারে বছর গুনতি করে মোমবাতি জ্বালিয়ে তা ফুঁ দিয়ে নিভানো অতঃপর কেক কেটে খাওয়া প্রভৃতি
বিধর্মীয় প্রথা, মুসলিমদের জন্য তা বৈধ নয়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির আনুরূপ্য অবলম্বন করবে, সে ব্যক্তি সেই জাতিরই দলভুক্ত।”
সহীহুল জামে হা/ ৬০২৫
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, ইসলামে শোক পালনেরও নির্দিষ্ট নিয়মনীতি রয়েছে। তা হলো কেউ মারা গেলে শোক পালন করবে তিন দিন। তিন দিন পরে শোক পালনের কোনো সুযোগ নেই, বরং চতুর্থ দিন থেকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করবে, তবে স্বামী মারা গেলে স্ত্রী চার মাস দশ দিন অথবা গর্ভস্থিত সন্তান যদি থাকে প্রসব হওয়া পর্যন্ত শোক পালন করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ‘কোনো মহিলা যে আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাস করে, সে যেন তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন না করে, তবে স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে। (বুখারি, মুসলিম)।
অতএব ইসলামের বিধান হলো কেউই তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন করবে না। শুধু মহিলারা স্বামী মারা গেলে চার মাস দশ দিন অথবা সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত শোক পালন করবেন ।
ইসলামে মৃত্যুর চতুর্থ দিনে কুলখানি করা এবং চল্লিশতম দিবসে চেহলাম করার কোনো বিধান নেই এমনিভাবে মৃত্যু দিবস পালন করা, মৃত্যু দিবস উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদের বিশেষ আয়োজন করা, নতুন করে আবার শোক দিবস পালন করা ইসলামে নেই। এসব অনিসলামিক কাজ৷ এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য৷
মৃত ব্যক্তিদের ব্যাপারে যা করণীয় ইসলামে রয়েছে তা হলো, সব সময়ই তাদের জন্য দোয়া করা।
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

ইসলামি দৃষ্টিকোণে জন্ম নিয়ন্ত্রন৷

প্রশ্ন
পরিবার পরিকল্পনা বা জন্ম নিয়ন্ত্রণ করতে
চাইলে ইসলামের নির্দেশনা কি?দলিল সহ জানালে
উপকৃত হব।
উত্তর
জন্ম নিয়ন্ত্রনের মৌলিকভাবে তিনটি পদ্ধতি রয়েছে—
এক.স্থায়ী পদ্ধতি– যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ অবৈধ। আল্লামা বদরুদ্দিন আইনী (র.) বুখারী শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন:
‎ﻭ ﻫﻮ ﻣﺤﺮﻡ ‎ﺑﺎﻻﺗﻔﺎﻕ
অথাৎ স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন সর্বসম্মতক্রমে হারাম।
উমদাতুল ক্বারীঃ ১৪/১৪ পৃঃ
দুই.অস্থায়ী পদ্ধতি– যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না। যেমন : আযল করা (সহবাসের চরম পুলকের মুহুর্তে স্ত্রীর যোনীর বাহিরে বীর্যপাত ঘটানো), Condom Jelly, Cream, Foam, Douche ইত্যাদি ব্যবহার করা, পিল (Pill) খাওয়া,জরায়ুর মুখ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া, ইঞ্জেকশন নেয়া ইত্যাদি।
এ পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে।
—দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।
— কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে।
—মহিলা অসুস্থ ও দূর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হলে।
হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন আমরা
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে আযল যা জন্ম নিয়ন্ত্রণের একটা পুরনো ও অস্থায়ী পদ্ধতি করতাম।
বুখারী ২/৭৮৪
তিন.গর্ভপাত ঘটানো ( Abortion)।এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বহু পুরাতন একটি পদ্ধতি। জন্মনিয়ন্ত্রণের (Contraceptives) উপায়- উপাদানের অনেক উন্নতি সত্ত্বেও আজ অবধি দুনিয়ার বিভিন্ন স্থানে এপদ্ধতিও চালু আছে। এ পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য
আশঙ্কাজনক হয় এবং গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবেনা।
আল্লামা ইবনে তাইমিয়া বলেন,উম্মতে মুসলিমার সকল ফুকাহা এব্যপারে একমত, রূহ আসার পর গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও হারাম। কারণ এটা ﺍﻟﻮﺃﺩ (সূক্ষ সমাহিত) এর অন্তরভুক্ত; যে ব্যপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,
‎ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺍﻟْﻤَﻮْﺀُﻭﺩَﺓُ ﺳُﺌِﻠَﺖْ – ﺑِﺄَﻱِّ ﺫَﻧْﺐٍ ﻗُﺘِﻠَﺖْ
যখন (কেয়ামতের দিন) জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে,কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে…….’
তাকবীর ৮-৯। ফিকহী মাসায়েল ৪/২১৭৷
উক্ত আলোচনা থেকে আশা করি এটা পরিস্কার হয়েছে যে, ইসলাম জন্মনিয়ন্ত্রণের সকল পদ্ধতি নয়;বরং বিশষ
পদ্ধতির এবং সাধারণ অবস্থাতে নয়;বরং বিশেষ অবস্থাতে এর অনুমোদন দেয়। অন্যথায় সাধারণ অবস্থায় ইসলাম মানুষকে অধিক সন্তানলাভের প্রতি উৎসাহ দিয়েছে এবং যে সব নারীরা অধিক সন্তানের প্রসবনী হয়ে থাকে, তাদের বিবাহ করতে নির্দেশ দিয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “তোমরা অধিক সন্তানের প্রসবনী ও স্বামীদের অধিক ভালোবাসে এ ধরনের মেয়েদের বিবাহ কর, কারণ, কিয়ামতের দিন আমি আমার উম্মত বেশি হওয়ার কারণে আল্লাহর দরবারে গর্ব করব।”
আবু দাউদ, নাসায়ী। হায়াতুল মুসলিমিন, পৃষ্ঠা-১৮৯
সুতরাং খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ইত্যাদির অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে, দৈহিক সৌন্দর্য বা ফিগার ঠিক রাখার উদ্দেশ্যে ,কন্যাসন্তান জন্ম নেয়ার ভয়ে যাতে পরবর্তীতে এদের বিয়ে শাদীর ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, অধিক সন্তান নেয়াকে লজ্জার বিষয় মনে করে পরিবার পরিকল্পনার কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে না।
বিশেষত অভাবের কারণে সংসারকে সচ্ছল করার নিয়তে জন্ম নিয়ন্ত্রণ করলে আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। কেননা রিজিকের মালিক আল্লাহ।আল্লাহ বলেছেন ‘’দারিদ্রতার ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানকে হত্যা কর না। তাদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই খাদ্য প্রদান করে থাকি। নিশ্চয় তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ…
’’ সূরা ইসরা, আয়াত-৩১ অন্যত্র তিনি বলেন, ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﻳَﻌِﺪُﻛُﻢُ ‎ﺍﻟْﻔَﻘْﺮَ .
“শয়তান তোমাদের অভাবের ওয়াদা দেয়।” (সূরা আল-
বাক্বারা)
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে,আজকাল যদিও সন্তান হত্যার পরিবর্তে নানাবিধ উপায়ে তাদের জন্মের পর বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, তবুও সন্তান জন্মানোর ফলে আর্থিক আশংকাজনিত ভুল ধারণা জন্মনিরোধের অন্যতম
কারণ। সুতরাং এবিষয়ে প্রত্যেক মুসলমানকে ভেবে চিন্তে সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে,দুনিয়ার সামান্য ভোগবিলাস, কষ্ট বা লজ্জার ভয়ে আমরা যেন আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান ও আখেরাতকে বরবাদ না করে দেই। আল্লাহ সহীহ সমঝ দান করুন ।আমীন।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭০৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী-স্ত্রী একে অপরের লজ্জাস্থানে মুখ দেয়া৷

প্রশ্ন
স্ত্রী কি তার স্বামীর লজ্জাস্থানে মুখ দিতে পারবে? অথবা স্বামীর জন্য কি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানে মুখ দেয়া
কি বৈধ?
উত্তর
স্বামী তার স্ত্রীর বা স্ত্রী তার স্বামীর যৌনাঙ্গে মুখ
দেয়া মাকরুহে তাহরীমি৷ এগুলো নোংরামী এবং পশুত্বের নিদর্শন। মনুত্ববান ও সুরুচিপুর্নবান মানুষ এগুলো করতে পারবে না৷
ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩৭২; ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-২৯/১৪২৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

উকীল বাপের জন্য কথিত কন্যাকে বিবাহ করা৷

প্রশ্ন
আস সালাই মুলাই কম আমি মোঃ কামরুজ্জামান খান পিতা মৃত হাজী গোলাম মাওলা থান বয়স ৩৫ গত ১মাস আগে আমার এক বন্ধুর সাথে আমারই এক বান্ধবীর বিয়ের ব্যবস্থা করি তবে কি কেউ কাউকে আগে থেকে চিন্তনা এবং আমি তাদের উকিল বাপ হই। বিয়ের পড় তাদের মাঝে জগড়া সাবক্ষনিক লেগেই থাকে । আমার সেই বান্ধবী আমাকে বলে সে নাকি আত্ব হত্যা করবে। কারন আমার সেই বন্ধু জুয়া ণেশ এবং নারীর প্রতি একটু দুর্বল। ঘড় ভাংগনের পর্যায় ।আমি চাই ছিলাম একটি বিপথ গামী বৈক্তিকে যদি ভালো করা যায়। কিন্তু আমি তাদের মাঝে বিয়ে দিয়ে এখন আমি নিজেকে নিজে অনেক বড় অপরাধী মনে করি । আমার প্রশ্ন হলো আমি আমার সেই বান্ধীর কে বিয়ে করতে পারবো কি না। যেহেতু আমার সেই বান্ধবীকে আমি আমার সেই বন্ধুর ব্যাপারে সকল প্রকার তত্থ্য মিথ্যা ‍দিয়েছিলাম।
উত্তর
বিয়ে করা যায় তথা গায়রে মাহরাম কোন মেয়ে কোন ছেলের বান্ধবী হতে পারে না। এসব বন্ধু বান্ধবী বানিয়ে কথা বলা, একসাথে চলাফেরা করা বিধর্মীয়ানা কালচার। এসব থেকে মুক্ত থাকা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক। যদি উক্ত মেয়েটির স্বামী তাকে তালাক দেয়, তাহলে মেয়েটি উদ্দত শেষে আপনি তাকে বিয়ে করতে
পারেন।
কিন্তু আপনার কথিত বন্ধু কর্তৃক তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হওয়া এবং তার ইদ্দত পালন শেষ হবার আগে তাকে কিছুতেই বিয়ে করতে পারবেন না। তালাকপ্রাপ্তা হবার পর এবং ইদ্দত (তিন হায়েজ অতিক্রম হওয়া) শেষ হবার পর তাকে বিয়ে করতে পারবেন। উকীল বাপ বলতে ইসলামে কিছু নেই। এগুলো সামাজিক কুপ্রথা। এসব পরিত্যাগ করা উচিত। এসবের কোন ভিত্তি নেই। সুতরাং যে মেয়ের উকীল বাপ সেজেছে তাকে শরয়ী কোন বাঁধা না থাকলে বিয়ে করাতে কোন সমস্যা নেই।
দলিলঃ
সুরা বাকারা আঃ ২২৮; ফতওয়াযে হিন্দিয়া ১/২৮০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৪৭; বাহরুর রায়েক ৩/ ১০৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

পরকিয়ার মাধ্যমে জন্ম নেয়া সন্তানের জনক কে হবে?

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার জনৈক ব্যক্তি অপরের বিবাহিতা স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে এবং তার স্বামীর অজান্তে দৈহিক মেলামেশার ফলে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, ছেলেটির বয়স বর্তমানে ৬-৭ বছর। বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমেও ছেলেটি তার বলে প্রমাণিত হয়েছে। এখন সে নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। এমতাবস্থায় জানার বিষয় হচ্ছে ১. বর্তমানে তার করণীয় কী? ওই মহিলার সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ বৈধ হবে কি না? ২. সন্তানের প্রকৃত পিতা শরীয়তের দৃষ্টিতে কে? এবং কার উত্তরসূরি হিসেবে মিরাছ পাবে?
উত্তর
১. অতীতের অবৈধ সম্পর্কের কারণে যে গোনাহ হয়েছে তার জন্য খাঁটি মনে তাওবা করবে। ওই মহিলার সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ বৈধ হবে না। সূরা নিসা-৬৩, সূরা নূর-৩০, আদ্দুররুল মুখতার ১/২৪১৷ ২. শরীয়তের দৃষ্টিতে ওই মহিলার স্বামীই সন্তানের প্রকৃত পিতা বলে গণ্য হবে এবং তারই উত্তরসূরি হিসেবে মিরাছ পাবে। আবু দাউদ ১/৩১০, রদ্দুল মুখতার ২/৫৫০, ফতাওয়া দারুল উলুম ১১/৫১১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া বিবাহের বিধান৷ ও বিপরীতমুখি হাদীসের জবাব৷

প্রশ্ন
রাসুল সাঃ বলেছেন: যে নারী তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই বিবাহ করে,
তার বিবাহ বাতিল বাতিল বাতিল৷ আবু দাউদ তিরমিযি মেশকাত হাদিস নং ৩১৩১৷
কিন্তুু কিছুদিন আগে একটা আপু বল্লো এই
হাদিসের ব্যাখ্যা আছে। মেয়ে যদি প্রাপ্তবয়স্কা
হয় তাহলে আভিভাবকের অনুমতি না নিলেও বিয়ে জায়েয হবে। অবশ্য মা বাবাকে কষ্ট দিলে তার জন্য গোনাহ্গারও হবে। কিছুদিন আগে আমার একটা বান্ধবী বাসায়
না জানিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করে বিয়ে করে ফেলেছে। আমি ওকে হাদিসটা দেখিয়েছিলাম এবং মা
বাবাকে জানিয়ে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছিলাম
কিন্তুু সে বল্লো ওরা রাজি হবেনা। বিয়ে করে
ফেল্লে পরে মেনে নেবে। তো আমার কথা আর শোনেনি। তখন আমি জানতামনা এই হাদিসের
ব্যাখা আছে। এর আরো পরে শোনেছি। যাইহোক এখন জানতে চাই ওদের বিয়ে কি
শরিয়ত সম্মতভাবে হালাল হয়েছে? এই হাদিসের ব্যাখাটা জানতে চাই।
উত্তর
যদি দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সমঝদার সাক্ষ্যির সামনে প্রাপ্ত বয়স্ক পাত্র ও পাত্রি যদি প্রস্তাব দেয় এবং
অপরপক্ষ তা গ্রহণ করে নেয়, তাহলে ইসলামী শরীয়া মুতাবিক বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকের সম্মতি থাকুক বা না থাকুক। অভিভাবক জানুক বা
না জানুক। তবে যদি গায়রে কুফুতে বিবাহ করে, তথা এমন পাত্রকে বিবাহ করে, যার কারণে মেয়ের
পারিবারিক সম্মান বিনষ্ট হয়, তাহলে পিতা সে বিয়ে আদালতের মাধ্যমে ভেঙ্গে দিতে পারে। যদি
কুফুতে বিবাহ করে, তাহলে পিতা এ অধিকারও পাবে না। সুতরাং আপনারা উভয়ে যদি প্রাপ্ত
বয়স্ক অবস্থায় দুইজন প্রাপ্ত বয়স্ক সাক্ষ্যির উপস্থিতিতে বিয়ের প্রস্তাব ও প্রস্তাব গ্রহণ সম্পন্ন করে
থাকেন, তাহলে আপনাদের বিয়ে ইসলামী শরীয়া মুতাবিক শুদ্ধ হয়ে গেছে। যদিও আপনাদের পরিবার
কিছুই জানে না। কিংবা যদি তারা অনুমতি নাও দিয়ে থাকে।
‎ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ؛ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
‎ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺍﻟْﺄَﻳِّﻢُ ﺃَﺣَﻖُّ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻬَﺎ ﻣِﻦْ ﻭَﻟِﻴِّﻬَﺎ .
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৮৮৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৪২১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৯৮, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৩৪, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১০৮, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৩২৬০, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪০৮৪, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৩৫৭৬ ৷
‎ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻗَﺎﻝَ : ” ﺟَﺎﺀَﺕِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ
‎ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﻳَﺎ
‎ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﺇِﻥَّ ﺃَﺑِﻲ ﻭَﻧِﻌْﻢَ ﺍﻟْﺄَﺏُ ﻫُﻮَ، ﺧَﻄَﺒَﻨِﻲ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻋَﻢُّ
‎ﻭَﻟَﺪِﻱ ﻓَﺮَﺩَّﻩُ، ﻭَﺃَﻧْﻜَﺤَﻨِﻲ ﺭَﺟُﻠًﺎ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻛَﺎﺭِﻫَﺔٌ . ﻓَﺒَﻌَﺚَ ﺭَﺳُﻮﻝُ
‎ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﺑِﻴﻬَﺎ، ﻓَﺴَﺄَﻟَﻪُ ﻋَﻦْ
‎ﻗَﻮْﻟِﻬَﺎ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﺻَﺪَﻗَﺖْ، ﺃَﻧْﻜَﺤْﺘُﻬَﺎ ﻭَﻟَﻢْ ﺁﻟُﻬَﺎ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺎﻝَ
‎ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻟَﺎ ﻧِﻜَﺎﺡَ ﻟَﻚِ،
‎ﺍﺫْﻫَﺒِﻲ ﻓَﺎﻧْﻜِﺤِﻲ ﻣَﻦْ ﺷِﺌْﺖِ
হযরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মেয়ে রাসূল সাঃ এর
কাছে এল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা! কতইনা উত্তম পিতা! আমার চাচাত ভাই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল আর তিনি তাকে
ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি। এ ব্যাপারে রাসূল সাঃ তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে এমন পাত্রের
সাথে বিয়ে দিচ্ছি যার পরিবার ভাল নয়। তখন রাসূল সাঃ মেয়েটিকে বললেন, “এ বিয়ে হবে না, তুমি যাও, যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নাও”।
সুনানে সাঈদ বিন মানসূর, হাদীস নং-৫৬৮, মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১০৩০৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৫৯৫৩, দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদিসীল হিদায়া, হাদীস নং-৫৪১
‎2469 – ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺣُﺴَﻴْﻦٌ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺟَﺮِﻳﺮٌ، ﻋَﻦْ ﺃَﻳُّﻮﺏَ، ﻋَﻦْ
‎ﻋِﻜْﺮِﻣَﺔَ، ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ : ” ﺃَﻥَّ ﺟَﺎﺭِﻳَﺔً ﺑِﻜْﺮًﺍ ﺃَﺗَﺖِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ
‎ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﺬَﻛَﺮَﺕْ ﺃَﻥَّ ﺃَﺑَﺎﻫَﺎ ﺯَﻭَّﺟَﻬَﺎ ﻭَﻫِﻲَ
‎ﻛَﺎﺭِﻫَﺔٌ ﻓَﺨَﻴَّﺮَﻫَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ”
‎ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ ﻋﻠﻰ ﺷﺮﻁ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ . ‎ﻭﺃﺧﺮﺟﻪ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ‏(2096 ‏) ، ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ‏( 1875 ‏) ، ‎ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ “ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ ” ‏( 5387 ‏) ، ﻭﺃﺑﻮ ﻳﻌﻠﻰ ‎‏(2526 ‏) ، ﻭﺍﻟﻄﺤﺎﻭﻱ 4/365 ، ﻭﺍﻟﺪﺍﺭﻗﻄﻨﻲ ‎3/234 235- ، ﻭﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ 7/117 ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﺣﺴﻴﻦ ‎ﺑﻦ ﻣﺤﻤﺪ ﺍﻟﻤﺮﻭﺫﻱ، ﺑﻬﺬﺍ ﺍﻹﺳﻨﺎﺩ . ‎ﻭﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﻪ ‏( 1875 ‏) ، ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ‏(5389 ‏) ، ‎ﻭﺍﻟﺪﺍﺭﻗﻄﻨﻲ 3/235 ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﻣُﻌﻤﺮ ﺑﻦ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ، ‎ﻋﻦ ﺯﻳﺪ ﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ، ﻭﺍﻟﺪﺍﺭﻗﻄﻨﻲ 3/235 ﻣﻦ ﻃﺮﻳﻖ ‎ﺃﻳﻮﺏ ﺑﻦ ﺳﻮﻳﺪ، ﻋﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺍﻟﺜﻮﺭﻱ، ﻛﻼﻫﻤﺎ ﻋﻦ ‎ﺃﻳﻮﺏ ﺍﻟﺴﺨﺘﻴﺎﻧﻲ، ﺑﻪ .
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। কুমারী মেয়ে রাসূল সাঃ এর কাছে এসে বলল, আমার পিতা আমার
অপছন্দ সত্বেও বিয়ে দিয়েছে, তখন রাসূল সাঃ সে মেয়েকে অধিকার দিলেন, যাকে ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে বা এ বিয়ে রাখতেও পারে।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৪৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৮৭৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৯৬, সুনানুল কুবরা নাসায়ী, হাদীস নং-৫৩৬৬, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৩৫৬৬
‎ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺟَﺎﺀَﺕْ ﻓَﺘَﺎﺓٌ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ
‎ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ” ﺇِﻥَّ ﺃَﺑِﻲ ﺯَﻭَّﺟَﻨِﻲ ﺍﺑْﻦَ
‎ﺃَﺧِﻴﻪِ، ﻟِﻴَﺮْﻓَﻊَ ﺑِﻲ ﺧَﺴِﻴﺴَﺘَﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ،
‎ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﻗَﺪْ ﺃَﺟَﺰْﺕُ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻊَ ﺃَﺑِﻲ، ﻭَﻟَﻜِﻦْ ﺃَﺭَﺩْﺕُ ﺃَﻥْ ﺗَﻌْﻠَﻢَ
‎ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀُ ﺃَﻥْ ﻟَﻴْﺲَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟْﺂﺑَﺎﺀِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮِ ﺷَﻲْﺀٌ “
হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক মহিলা নবীজী সাঃ এর কাছে এসে বলল, আমার পিতা আমাকে তার ভাতিজার কাছে বিয়ে দিয়েছে, যাতে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। রাবী বলেন, তখন রাসূল সাঃ বিষয়টি মেয়ের ইখতিয়ারের উপর ন্যস্ত করেন, অর্থাৎ ইচ্ছে করলে বিয়ে রাখতেও পারবে, ইচ্ছে করলে ভেঙ্গেও দিতে পারবে তখন মহিলাটি বললেন, আমার পিতা যা
করেছেন, তা আমি মেনে নিলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল, মেয়েরা যেন জেনে নেয় যে, বিয়ের ব্যাপারে পিতাদের চূড়ান্ত মতের অধিকার নেই ৷
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৮৭৪, মুসনাদে ইসহাক বিন রাহুয়াহ, হাদীস নং-১৩৫৯, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৩৫৫৫
উল্লেখিত হাদীস ছাড়াও আরো এমন অনেক হাদীস রয়েছে, যা স্পষ্ট ভাষায় প্রমাণ করে যে, বিয়ের
ক্ষেত্রে অভিভাবক নয়, প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এক্ষেত্রে পিতা বা অভিভাবকের
হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। সুতরাং প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা
অভিভাবক ছাড়া বিয়ে করে নিলে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।
বিপরীতমুখী হাদীসের জবাব৷
যে সকল হাদীস দ্বারা একথা বুঝা যায় যে, অভিভাবক ছাড়া বিয়ে সম্পন্ন হয় না, সেগুলোর অনেকগুলো জবাব মুহাদ্দিসীনে কেরাম ও ফুক্বাহায়ে কেরাম দিয়েছেন। প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসটি আমরা দেখে নেই, তাহলে উত্তর দিতে সুবিধা হবে
‎ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
‎ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏«ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٍ ﻧَﻜَﺤَﺖْ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺇِﺫْﻥِ ﻣَﻮَﺍﻟِﻴﻬَﺎ،
‎ﻓَﻨِﻜَﺎﺣُﻬَﺎ ﺑَﺎﻃِﻞ«ٌ، ﺛَﻠَﺎﺙَ ﻣَﺮَّﺍﺕٍ ‏« ﻓَﺈِﻥْ ﺩَﺧَﻞَ ﺑِﻬَﺎ ﻓَﺎﻟْﻤَﻬْﺮُ
‎ﻟَﻬَﺎ ﺑِﻤَﺎ ﺃَﺻَﺎﺏَ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﻓَﺈِﻥْ ﺗَﺸَﺎﺟَﺮُﻭﺍ ﻓَﺎﻟﺴُّﻠْﻄَﺎﻥُ ﻭَﻟِﻲُّ ﻣَﻦْ
‎ﻟَﺎ ﻭَﻟِﻲَّ ﻟَﻪُ »
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে মহিলাকে তার অভিভাবক বিয়ে দেয়নি, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। এরপর স্বামী যদি তার তার সাথে মিলামিশা করে তবে সে মহরের অধিকারী হবে স্বামী তার সাথে হালাল পদ্ধতিতে মেলামেশা করার কারণে। আর যদি তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়, তবে যার অভিভাবক নেই, বাদশাই তার অভিভাবক বলে বিবেচিত হবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৮৭৯, সুনানে তিরামিজী, হাদীস নং-১১০২, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস
নং-১৮৭৯
হাদীসটির বিষয়ে মন্তব্য
ইমাম বুখারী রহঃ বলেন, হাদীসটি মুনকার। আলইলালুল কাবীর-২৫৭
ইমাম তিরমিজী রহঃ বলেন, হাসান। সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১০২
ইমাম তাহাবী রহঃ বলেন, হাদীসটি ফাসিদ। শরহু মাআনিল আসার-৩/৭
ইবনে কাত্তান রহঃ বলেন, হাদীসটি হাসান। আলওয়াহমু ওয়ালইহামু-৪/৫৭৭
জবাব নং ১
আমরা শক্তিশালিত্বের দিক থেকে আমাদের বর্ণিত হাদীসকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ থেকে বর্ণিত হাদীসটির বিষয়ে ইমাম বুখারী রহঃ থেকে মুনকার হওয়ার এবং ইমাম তাহাবী রহঃ থেকে ফাসিদ হওয়ার কালাম রয়েছে। তাই আমরা এর উপর আমল করি না। পক্ষান্তরে আমাদের উপরে বর্ণিত সহীহ মুসলিম ও মুয়াত্তা মালিকের বর্ণনাটি সহীহ।
জবাব নং-২
এ হাদীস দ্বারাই বুঝা যাচ্ছে যে, এখানে বিবাহ বাতিল হয়ে যাওয়া উদ্দেশ্য নয়। কারণ হাদীসের শেষাংশে বলা হচ্ছে, স্ত্রী মহরের অধিকারী হবে। যদি বিবাহ শুদ্ধই না হতো, তাহলে মোহর আবশ্যক হওয়ার কথা আসছে কেন? মোহরতো বিবাহের মাধ্যমে আবশ্যক হয়। বিবাহ ছাড়া আর্থিক জরিমানার জন্য ব্যবহৃত হয় আরবী ﻋﻘﺮﺍ শব্দ ব্যবহৃত হয়। অথচ এখানে ব্যবহৃত করা হয়েছে। মোহর শব্দ। যা বিবাহের সাথে খাস। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে এখানে আসলেই বিবাহ বাতিল হয়ে যায়, এটি উদ্দেশ্য নয়। বরং ধমকী দেয়া উদ্দেশ্য। যেন অভিভাবকদের না জানিয়ে মেয়েরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়।
জবাব নং ৩
‎ﺃَﻥَّ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ، ﺯَﻭْﺝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﺯَﻭَّﺟَﺖْ
‎ﺣَﻔْﺼَﺔَ ﺑِﻨْﺖَ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ، ﺍﻟْﻤُﻨْﺬِﺭَ ﺑْﻦَ ﺍﻟﺰُّﺑَﻴْﺮِ . ﻭَﻋَﺒْﺪُ
‎ﺍﻟﺮَّﺣْﻤﻦِ ﻏَﺎﺋِﺐٌ ﺑِﺎﻟﺸَّﺄْﻡِ .
যেমন প্রশ্নে উল্লেখিত অভিভাবক ছাড়া মহিলা কর্তৃক বিয়ে সম্পন্ন না হওয়ার হাদীসটি হযরত আয়শা সিদ্দিকা রাঃ এর। অথচ খোদ আয়শা রাঃ তার ভাই আব্দুর রহমানের মেয়ে হাফসাকে তার অভিভাবক আব্দুর রহমানকে ছাড়াই নিজে বিয়ে দিয়েছিলেন মুনজির বিন যুবায়েরের সাথে।
মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-২০৪০৷ তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৪২৫৫, সুনানুস সাগীর লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৩৭৪, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৩৫২২৷
সুতরাং বুঝা গেল যে, উক্ত হাদীস দ্বারা খোদ বর্ণনাকারী হযরত আয়শা রাঃ নিজেই বিবাহ শুদ্ধ হয় না একথা বুঝেন নি। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বিয়ে অসম্পূর্ণ হয় অভিভাবক ছাড়া। কারণ, যে অভিভাবক মেয়েকে লালন পালন করল, তাকে না জানিয়ে বিয়ে করাটাতো অসম্পূর্ণই। তাই বলা হয়েছে তা বাতিল। বাতিল মানে অসম্পূর্ণ।
যেমন আরেক হাদীসে এসেছে-
‎ﻋَﻦْ ﺟَﺎﺑِﺮِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ
‎ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﺃَﻳُّﻤَﺎ ﻣَﻤْﻠُﻮﻙٍ ﺗَﺰَﻭَّﺝَ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﺇِﺫْﻥِ ﺳَﻴِّﺪِﻩِ،
‎ﻓَﻬُﻮَ ﻋَﺎﻫِﺮ«ٌ
অনুবাদ- হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে গোলাম মনীবের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করে তাহলে সে জিনাকারী।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৭৮, তিরমিজী, হাদীস নং-১১১১৷
আসলে কি গোলাম জিনাকারী হবে? একথাতো কেউ বলেন না। এখানে যেমন সবাই বলেন যে, এর দ্বারা ধমকী দেয়া উদ্দেশ্য। ঠিক তেমনি যেন কোন মেয়ে তার অভিভাবক ছাড়া বিয়ে না করে, কারণ মেয়ে মানুষ হওয়ার কারণে সে পাত্র নির্ণিত করতে ভুল করতে পারে, তাই সতর্ক করে বলা হয়েছে তার বিবাহ বাতিল হওয়ার সমতূল্য। যেমন গোলামের বিবাহ জিনার সমতূল্য। আসলে যিনা নয়।
জবাব নং ৪
আসলে বাতিল বলে হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে, যদি মেয়ে গায়রে কুফুতে বিয়ে করে, তাহলে তার বিয়ে অভিভাবক এসে বাতিল করে দিতে পারে। সে হিসেবে তার বিয়েকে বাতিল বলা হয়েছে।
জবাব নং-৫
বাতিল দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যদি নাবালেগ বা পাগল মেয়ে বিয়ে করে, তাহলে তার বিবাহ বাতিল। এভাবে আমরা উভয় হাদীসের উপর আমল করতে পারি।
বিস্তারিত জানতে পড়ুন- ১- ইলাউস সুনান-১১/৬৫-৭০, ২- মিরকাতুল মাফাতীহ-৬/২৬৫-২৭৪, ৩- তুহফাতুল আলমায়ী-৩/৫১৫-৫১৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাদহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্ত্রী তার মৃত স্বামীকে গোসল দেওয়া৷

প্রশ্ন
আমার স্বামী মৃত্যুশয্যায় শায়িত। আমি সবসময় তার খেদমতে নিয়োজিত। এখন আমার একান্ত ইচ্ছা, তার ইন্তিকালের পর তাকে নিজ হাতে গোসল দিব। আমি জানতে চাই, আমার জন্য এটা জায়েয
হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, আপনার মৃত স্বামীকে আপনি গোসল দিতে পারবেন। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস রা. তাকে গোসল দিয়েছিলেন। আবু দাউদ ৪/৩০, হা : ৩১৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩; আলমাবসূত সারাখসী ২/৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; রদ্দুল মুহতার
২/১৯৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

উত্তেজনাবশত লজ্জাস্থান দিয়ে হালকা পানি বের হলে করনীয়৷

প্রশ্ন
অনেক সময় দেখা যায় স্ত্রীর সাথে কথা বলার সময় বা খেলা করার সময় বা স্পর্শ করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, আবার কখনো এমনি উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে লজ্জাস্থান দিয়ে হালকা পাতলা পানি বের হয়৷ এমতাবস্থায় করনীয় কি? তখন গোসল ফরজ হয়ে যায়? নাকি অযু করলেই চলবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত সুরতে উত্তেজনার ফলে বীর্য বের হবার আগে যে পানি লজ্জাস্থান দিয়ে বের হয়, নারী হোক পুরুষ হোক সেটিকে মযী বলা হয়৷ মযী বের হলে অজু ভেঙ্গে যায়। যেমন প্রস্রাব বের হলে অযু ভেঙ্গে সায়৷
তবে গোসল করা ফরজ হয় না। তাই যে স্থানে বা কাপড়ের যেই অংশে তা লেগেছে তা ধুয়ে নামায পড়া যাবে।
দলিলঃ
হেদায়া ১/৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২৯; ফতওয়ায়ে শামী ১/৩১৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

সৎ দাদীকে বিয়ে করা৷

প্রশ্ন
আমার দাদা বৃদ্ধ বয়সে এক যুবতীকে বিয়ে করেছেন, পরে দাদা মারা যান ৷ আমার স্ত্রীও রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়৷ আমি চেয়েছিলাম শরিয়তসম্মত হলে দাদার স্ত্রীকে বিয়ে করতে ৷ তাই জানার বিষয় হলো, দাদার বিবাহকৃত কোনো নারীকে (সৎ দাদী) বিয়ে করা বৈধ হবে কি?
উত্তর
দাদার স্ত্রী ( সৎ দাদী) মাহরামের অন্তর্ভুক্ত।
তাকে বিবাহ করা জায়েয নয়, হারাম৷ অতএব আপনি আপনার সৎ দাদীকে বিয়ে করতে পারবেন না৷
-সূরা নিসা ২২; তাফসীরে মাযহারী (সূরা নিসা অংশ) ২/৫৪; আহকামুল জাসসাস ২/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫৩৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

ওয়ারিসের জন্য সম্পত্বির অসিয়ত৷

প্রশ্ন
মাস্টার আবদুর রউফের তিন ছেলে। বড় দুই ছেলেকে লেখা-পড়া করিয়ে ও বিদেশ পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু ছোট ছেলের জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি। এজন্য মৃত্যুর সময় স্ত্রীকে ডেকে বিশ্বরোড সংলগ্ন পাঁচ গন্ডা জমি ছোট ছেলের জন্য অসিয়ত করে গেছেন। বড় ছেলেরা বিদেশ থাকায় তাদেরকে বলে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা শুনে বলল, আমাদের ছোট ভাই হিসেবে আমরা তার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। তবে বাপ-দাদার মিরাসী সম্পত্তি তাকে এককভাবে দিতে পারব না। এখন প্রশ্ন হল, এ অসিয়ত পূর্ণ করতে হবে কি না? এ অসিয়ত অমান্য করতে কোনো সমস্যা হবে কি না?
উত্তর
ওয়ারিসের জন্য সম্পদের অসিয়ত শরীয়তসম্মত নয়। কেউ করলেও তা কার্যকর হয় না। তাই ঐ ব্যক্তির অসিয়তটি সহীহ হয়নি। তা আমলযোগ্য নয়। হ্যাঁ, সকল ওয়ারিস স্বতস্ফূর্তভাবে নিজেদের অংশ থেকে মৃতের ছোট ছেলেকে অতিরিক্ত যদি কিছু দিতে চায়, তাহলে এর অবকাশ আছে। -সহীহ বুখারী ১/৩৮৩; সুনানে নাসাঈ ২/১১৩; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১৮২; তাকমিলা ফাতহুল কাদীর ৯/৩৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৫৮
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়,...

প্রশ্ন
আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়, অনেকে
বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর মা- বাবা কিংবা গার্ডিয়ানদের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখে। এখন ঐ ছেলে-মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আংটি পরানোর দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয় না। এটি উভয় পক্ষের মাঝে সামাজিকভাবে কেবলমাত্র বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা বুঝায়। সুতরাং ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু আংটি পরানোর কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য
হবে না। তাই ইজাব-কবুলের আগে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা বৈধ নয়।
প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আকদ না করিয়ে আংটি পরিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত
এভাবে রেখে দেওয়ার রেওয়াজটি ঠিক নয়। এ কারণে ছেলে-মেয়ে ও তাদের নিকটজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করার গুনাহ বাড়তে থাকে।
উল্লেখ্য যে, বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কাবিন করা শর্ত নয়; বরং দু’জন প্রাপ্ত
বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিয়ের ইজাব- কবুল করার দ্বারাই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়।
-রদ্দুল মুহতার ১/১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১
ও ৩/১৪
ফতোয়া নং: ৪৪৫৭
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিলে ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর ভরণ-পোষণ কে...

প্রশ্ন
স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিলে
ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর ভরণ-পোষণ কে বহন করবে?
উত্তর
সাধারণ তালাকের মতো খোলা তালাকের ক্ষেত্রেও ইদ্দত চলাকালীন
স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীকেই বহন করতে হবে। তবে যদি খোলা তালাকের চুক্তির
সময় ইদ্দতের মধ্যে ভরণ-পোষণ না দেওয়ার শর্ত করা হয় তাহলে তা সহীহ হবে এবং সেক্ষেত্রে স্ত্রী ইদ্দতকালীন ভরণ পোষণ: পাবে না।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস
১৮৮১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৫২-৪৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৩৯; ফাতহুল
কাদীর ৪/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/৮৯
ফতোয়া নং: ৪৪৪১
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার আব্বা দুই বিবাহ করেন। প্রথম পক্ষে তিন মেয়ে হওয়ার...

প্রশ্ন
আমার আব্বা দুই বিবাহ করেন। প্রথম পক্ষে তিন মেয়ে হওয়ার পর ঐ স্ত্রী ইন্তেকাল
করেন। পরবর্তীতে আমার আম্মাকে বিবাহ
করেন। আব্বার প্রথম পক্ষের বড়
মেয়ের মেয়ের মেয়ে তথা বড়
মেয়ের নাতনীর সাথে আমি কিছুদিন পূর্বে
বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু ধর্মীয় দিক
থেকে কেউ কেউ এ বিষয়ে প্রশ্ন
উঠালে আমি বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হই।
অতএব মহোদয়ের কাছে আমি এ বিষয়ে
মাযহাব বর্ণনাসহ ফকীহদের বিস্তারিত মতামত
জানতে একান্ত আগ্রহী।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মেয়েটি আপনার
মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তার সাথে আপনার বিবাহ
শুদ্ধ হয়নি। কুরআন মাজীদের সূরা নিসার ২৩ নং
আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন , ( তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা , তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন , তোমাদের
ফুফু , তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগ্নিকন্যা ...।
উক্ত আয়াতে মাহরামের আলোচনায় যে ভগ্নিকন্যা এসেছে তাতে বোনের
মেয়েসহ তার অধস্তন সকল কন্যা অন্তর্ভুক্ত।
এতে আপন বোনের মেয়ে , বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে এবং বৈমাত্রেয় বোনের মেয়ে এবং এদের অধস্তন সকল কন্যার হুকুম
সমান।
তাই এখন আপনাদের কর্তব্য হল, এখনি পৃথক হয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা।
উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত হুকুমটি (ভগ্নিকন্যার
অধস্তনগণ মাহরাম হওয়া) সর্বসম্মত মাসআলা।
এতে কোনো ইমাম বা কোনো মাযহাবের দ্বিমত নেই। আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১২৩; তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫; কিতাবুল আছল ৪/৩৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬০; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৭৷

ফতোয়া নং: ৪৪২৮
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আসসালামু আলাইকুম, মুরগির নারি ভুরি খাওয়া জায়েজ নয়, তাহলে গরুর...

প্রশ্ন
আসসালামু আলাইকুম, মুরগির নারি ভুরি খাওয়া জায়েজ নয়, তাহলে
গরুর নারি ভুরি খাওয়া কি জায়েজ না কি না
জায়েজ? এই দুই টার মধ্যে পারথক্ক কি ?
রেফেরেন্স সহ জানালে খুশি হব।
উত্তর
‎ﻭﻋﻠﻴﻜﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺑﺮﻛﺎﺗﻪ ‎ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ গরুর নাড়ি তথা রগ খাওয়া জায়েজ নয়। তবে ভুরি খাওয়া জায়েজ আছে। তবে ময়লা থেকে পরিস্কার করে নেয়া আবশ্যক। মুরগীর নাড়ি থাকে, কিন্তু ভুরি বলতে কিছু থাকে কি না? আমাদের জানা নেই। হালাল পশুর ৭টি অঙ্গ হারাম। যথা- ১- প্রবাহিত রক্ত। ২- নর প্রাণীর পুং লিঙ্গ। ৩- অন্ডকোষ। ৪- মাদী প্রাণীর স্ত্রী লিঙ্গ। ৫- মাংসগ্রন্থি। ৬- মুত্রথলি। ৭- পিত্ত। এছাড়া বাকি সবই খাওয়া জায়েজ।
‎ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﺑَﻴَﺎﻥُ ﻣَﺎ ﻳَﺤْﺮُﻡُ ﺃَﻛْﻠُﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺟْﺰَﺍﺀِ ﺍﻟْﺤَﻴَﻮَﺍﻥِ ﺍﻟْﻤَﺄْﻛُﻮﻝِ
‎ﻓَﺎَﻟَّﺬِﻱ ﻳَﺤْﺮُﻡُ ﺃَﻛْﻠُﻪُ ﻣِﻨْﻪُ ﺳَﺒْﻌَﺔٌ : ﺍﻟﺪَّﻡُ ﺍﻟْﻤَﺴْﻔُﻮﺡُ، ﻭَﺍﻟﺬَّﻛَﺮُ،
‎ﻭَﺍﻟْﺄُﻧْﺜَﻴَﺎﻥِ، ﻭَﺍﻟْﻘُﺒُﻞُ، ﻭَﺍﻟْﻐُﺪَّﺓُ، ﻭَﺍﻟْﻤَﺜَﺎﻧَﺔُ، ﻭَﺍﻟْﻤَﺮَﺍﺭَﺓُ ﻟِﻘَﻮْﻟِﻪِ
‎ﻋَﺰَّ ﺷَﺄْﻧُﻪُ } ﻭَﻳُﺤِﻞُّ ﻟَﻬُﻢُ ﺍﻟﻄَّﻴِّﺒَﺎﺕِ ﻭَﻳُﺤَﺮِّﻡُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢُ
‎ﺍﻟْﺨَﺒَﺎﺋِﺚَ { [ ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ : 157 ] ﻭَﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺷْﻴَﺎﺀُ ﺍﻟﺴَّﺒْﻌَﺔُ ﻣِﻤَّﺎ
‎ﺗَﺴْﺘَﺨْﺒِﺜُﻪُ ﺍﻟﻄِّﺒَﺎﻉُ ﺍﻟﺴَّﻠِﻴﻤَﺔُ ﻓَﻜَﺎﻧَﺖْ ﻣُﺤَﺮَّﻣَﺔً . ( ﺑﺪﺍﺋﻊ
‎ﺍﻟﺼﻨﺎﺋﻊ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺘﻀﺤﻴﺔ، ﺑﺎﺏ ﺻﻔﺔ ﺍﻟﺘﻀﺤﻴﺔ، ﻓَﺼْﻞٌ
‎ﻓِﻲ ﺑَﻴَﺎﻥُ ﻣَﺎ ﻳَﺤْﺮُﻡُ ﺃَﻛْﻠُﻪُ ﻣِﻦْ ﺃَﺟْﺰَﺍﺀِ ﺍﻟْﺤَﻴَﻮَﺍﻥِ
‎ﺍﻟْﻤَﺄْﻛُﻮﻝِ - 5/61 ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ - 5/290 ،
‎ﻭﻓﻰ ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻷﺿﺤﻴﺔ )
‎ﺍﻟﻐُﺪَّﺓُ ﻭﺍﻟﻐُﺪﺩَﺓُ : ﻛُﻞُّ ﻋُﻘْﺪَﺓٍ ﻓِﻲ ﺟَﺴَﺪِ ﺍﻹِﻧﺴﺎﻥ ﺃَﻃﺎﻑ
‎ﺑِﻬَﺎ ﺷَﺤْﻢ . ﻭﺍﻟﻐُﺪَﺩُ : ﺍﻟَّﺘِﻲ ﻓِﻲ ﺍﻟﻠَّﺤْﻢِ، (ﻟﺴﺎﻥ ﺍﻟﻌﺮﺏ،
‎ﻓﺼﻞ ﺍﻟﻐﻴﻦ ﺍﻟﻤﻌﺠﻤﺔ ) ‎ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺍﻋﻠﻢ ﺑﺎﻟﺼﻮﺍﺏ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৪৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন...

প্রশ্ন
কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন তার করণীয় কী? দয়া
করে জানাবেন।
উত্তর
হায়েয অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা
ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তারা আপনাকে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে
দিন, তা অপবিত্রতা। অতএব তোমরা হায়েযের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং
তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। Ñসূরা বাকারা (২) : ২২২
সুতরাং ঐ ব্যক্তির কর্তব্য হল, আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।
আর এক্ষেত্রে হায়েযের শুরুর দিকে সহবাস হলে এক দীনার আর শেষ দিকে হলে
অর্ধ দীনার সদকা করার কথা কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই
এক্ষেত্রে তাওবা-ইস্তিগফারের পাশাপাশি উপরোক্ত নিয়মে সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।
প্রকাশ থাকে যে, দীনার একটি স্বর্ণমুদ্রা। যা বর্তমান হিসেবে ৪.৩৭৪ গ্রাম সমপরিমাণ স্বর্ণ।
জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২০১; বাযলুল মাজহূদ ২/২৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৭;
ফাতহুল কাদীর ১/১৪৭; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৮
ফতোয়া নং: ৪১২২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

সেহরী খাওয়ার পর আমার স্বামী আমার সঙ্গে সহবাস করেন। তখনো...

প্রশ্ন
সেহরী খাওয়ার পর আমার স্বামী আমার সঙ্গে সহবাস করেন। তখনো আযান হয়নি, সেহরীর সময় বাকি ছিল, জানতে চাই আমাদের রোজার হুকুম কি? রোজা কি ভেঙ্গে গেছে? ভেঙ্গে গেলে কাফফারা দিতে হবে কিনা?
উত্তর
না। প্রশ্নে বর্নিত অবস্থায় রোজা
ভাঙ্গে নি। কারন সুবহে সাদেকের পুর্ব পর্যন্ত খানাপীনা, স্ত্রী-সহবাস সবকিছু বৈধ। যদিও স্ত্রী সহবাস সেহরী! খাওয়ার পর হয়।
#মেশকাত পৃষ্ঠা ১৭৪; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম। ৬/৪৯৬; মাসায়েলে রোজা ৫৭
ফতোয়া নং: ৪১১৪
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার...

প্রশ্ন
আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা
ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। আর তা কিছু গোশতের টুকরার আকারে বেরিয়ে আসে। এরপর ৫/৬ দিন পর্যন্ত রক্ত আসে। স্রাবের সময়ও তার এমনই দেখা যায়। ঐ দিনগুলোতে সে নামায পড়েনি। আমার স্ত্রী মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চায় যে , তার ঐ নামায কি কাযা করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গর্ভটির যেহেতু অঙ্গ-
প্রত্যঙ্গ হয়নি তাই ৫/৬ দিন পর্যন্ত যে রক্ত এসেছে তা হায়েয হিসেবে গণ্য
হবে;নেফাস নয়। আর উভয় অবস্থাতেই যেহেতু মহিলাদের নামায পড়া থেকে বিরত থাকা জরুরি তাই আপনার স্ত্রী ঐ দিনগুলোর নামায ছেড়ে দিয়ে ঠিকই করেছেন। তা কাযা করতে হবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর ১/১৬৫-১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/ ৩০২-৩০৩
ফতোয়া নং: ৪১১২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন...

প্রশ্ন
কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন তার করণীয় কী? দয়া
করে জানাবেন।
উত্তর
হায়েয অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা
ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তারা আপনাকে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে
দিন, তা অপবিত্রতা। অতএব তোমরা হায়েযের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং
তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়।
সূরা বাকারা (২) : ২২২
সুতরাং ঐ ব্যক্তির কর্তব্য হল, আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।
আর এক্ষেত্রে হায়েযের শুরুর দিকে সহবাস হলে এক দীনার আর শেষ দিকে হলে
অর্ধ দীনার সদকা করার কথা কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই
এক্ষেত্রে তাওবা-ইস্তিগফারের পাশাপাশি উপরোক্ত নিয়মে সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।
প্রকাশ থাকে যে, দীনার একটি স্বর্ণমুদ্রা। যা বর্তমান হিসেবে ৪.৩৭৪ গ্রাম সমপরিমাণ স্বর্ণ।
জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২০১; বাযলুল মাজহূদ ২/২৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৭;
ফাতহুল কাদীর ১/১৪৭; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৮

ফতোয়া নং: ৩৭৮১
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়,...

প্রশ্ন
আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়, অনেকে বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর মা-বাবা কিংবা গার্ডিয়ানদের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখে। এখন ঐ ছেলে- মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আংটি পরানোর দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয় না। এটি উভয় পক্ষের মাঝে সামাজিকভাবে কেবলমাত্র বিবাহের
সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা বুঝায়। সুতরাং ইজাব-
কবুল ছাড়া শুধু আংটি পরানোর কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য হবে না। তাই ইজাব-কবুলের আগে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা বৈধ নয়। প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আকদ না করিয়ে আংটি পরিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এভাবে রেখে দেওয়ার রেওয়াজটি ঠিক নয়। এ কারণে ছেলে-মেয়ে ও তাদের নিকটজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করার গুনাহ বাড়তে
থাকে।
উল্লেখ্য যে, বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কাবিন করা শর্ত নয়; বরং দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিয়ের ইজাব-কবুল করার দ্বারাই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়। -রদ্দুল মুহতার ১/১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১ ও ৩/১৪
ফতোয়া নং: ৩৭৩৭
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার...

প্রশ্ন
আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে
দেয়। ফলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অনেক
দিন পর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়। তখন আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে রাত যাপন করে। এরপর তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোনো বাধা
আছে কি?
উত্তর
স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা
অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও
সে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই আপনার স্বামীর সাথে
আপনার বোনের বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি এবং তার সাথে একত্রে থাকাও হারাম হয়েছে। সুতরাং এগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনার বোনের জন্য
তার পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ
হওয়াও বৈধ হবে না। উল্লেখ্য, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে উম্মতের একটা বড় অংশের মাঝে ইসলামী শিক্ষার চর্চা এতটাই কমে এসেছে যে, ইসলামের মৌলিক বিধানাবলির জ্ঞানটুকুও অনেক মানুষের থাকে না। হালাল-হারাম বিষয়ক বিধানাবলি তো ঐসব
জরুরিয়াত (অপরিহার্য জ্ঞান)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা
অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। আর এক
বোন বিবাহে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা যে হারাম তা তো এতই স্পষ্ট মাসআলা যে, সকলেরই তা জানা। মোটকথা, এই মারাত্মক গুনাহের কারণে এর সাথে
সম্পৃক্ত সকলকেই খাঁটি মনে তাওবা-ইস্তেগফার
করা উচিত। এবং দ্বীনী ইলম অর্জন করা ও তা আমলে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই পুরোপুরি সচেষ্ট হওয়া উচিত। - সূরা নিসা (৪) : ২৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১০৭; মুখতাসারুত তহাবী ৪/৩৩০; আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৬;
ফতোয়া নং: ৩৭৩৬
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি...

প্রশ্ন
বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে বাসার বাইরে চলে যান। তাকে বললে তিনি শোনেন না। তাই ইদ্দত পালন না করলে কী আযাব এবং
জাহান্নামের ভয়াবহতা রয়েছে তা জানতে চাই।
যাতে করে আমার মাকে জানালে তিনি সঠিকভাবে ইদ্দত পালন করতে পারেন।
উত্তর
স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চার মাস দশ দিন স্ত্রীর
জন্য নিজ গৃহে ইদ্দত পালন করা শরীয়তের একটি
গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান। কুরআন মজীদে আল্লাহ
তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমাদের
মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে
যায়, উক্ত স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন
প্রতীক্ষায় রাখবে (ইদ্দত পালন করবে)। -সূরা
বাকারা (২) : ২৩৪ খুসাইফ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি
সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ.-কে জিজ্ঞাসা
করলাম,যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে (ইদ্দত
অবস্থায়) কি ঘর থেকে বের হতে পারবে? তিনি
বললেন,না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস
১৯১৯৮
সুতরাং বিনা ওজরে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া
জায়েয হবে না। আর শরীয়তের হুকুমের লঙ্ঘন করাই
পাপ। আর পাপ বলতেই ঈমানের উন্নতির পথে বাধা এবং আখেরাত ও কবরের যিন্দেগী সুখময় হতে
বাধা। মুমিনের জন্য শুধু এতটুকু কথাই কোনো ফরয-
ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য যথেষ্ট। অবশ্য জীবিকা কিংবা অন্য কোনো মানবিক
প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার অবকাশ
আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আবার
বাড়িতে ফিরে আসা জরুরি। আর দিনে কোনো বিশেষ ওজরে বের হলেও রাতে অবশ্যই নিজ গৃহেই অবস্থান করতে হবে।
-ফাতহুল কাদীর ৪/১৬৬-১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী
৫/২৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৮; আদ্দুররুল
মুখতার ৩/৫৩৬
ফতোয়া নং: ৩৭১২
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে...

প্রশ্ন
আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে লোকজন তাকে দেখতে দেয়নি এবং তারা বলে, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। জানতে চাই, স্ত্রীর ইন্তেকালের পর স্বামী স্ত্রীর চেহারা দেখতে পারে কি না? তেমনিভাবে স্বামীর ইন্তেকালের পর স্ত্রী তার চেহারা দেখতে পারবে কি?
উত্তর
মৃত স্ত্রীর চেহারা স্বামী দেখতে পারবে। তদ্রূপ মৃত স্বামীর চেহারাও স্ত্রী দেখতে পারবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটিকে তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখতে না দেওয়া অন্যায় হয়েছে।
-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৭৭; ইলাউস সুনান ৫/২২৩;
আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
২/১৩৭; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪০৮

Execution time: 0.03 render + 0.02 s transfer.