Login | Register

ফতোয়া: স্বামী-স্ত্রী

ফতোয়া নং: ৭৩৩৭
তারিখ: ১৯/১১/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ঘুম থেকে জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে পানি ছিটানো ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার একটি প্রশ্ন,আমার বান্ধবীর কাছ থেকে শুনেছি স্বামীকে নামাযের জন্য জাগ্রত করার উদ্দেশ্যে পানি ছিটাও দেয়া যাবে ৷ এটা কতটুকু সঠিক? জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
স্বামী যদি বদমেজাজী না হয় , পানি ছিটালে স্ত্রীর উপর রাগান্বিত না হয় ৷ বরং খুশি হয়ে এটাকে গনিমত মনে করে ৷ তাহলে স্বামি-স্ত্রী একে অপরকে নিদ্রা থেকে জাগানোর উদ্দেশ্যে পানি ছিটালেও আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর রহমত বর্ষণ করেন ৷ কেননা হাদীস শরীফে আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্নিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং সে তার স্ত্রীকেও ঘুম থেকে জাগ্রত করে নামায পড়ায় এমনকি না উঠলে, তার মুখে সামান্য পানি ছিটিয়ে দেয়, তাহলে তার উপর আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষণ করেন । অনুরুপ কোন স্ত্রী যদি রাত্রিকালে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায পড়ে এবং তার স্বামীকে নামাযের জন্য জাগ্রত করে, এমনকি না জাগলে স্ত্রী তার চেহারায় হালকা পানি ছিটিয়ে দেয়, তাহলে তার প্রতিও আল্লাহ তায়ালা রহমত বর্ষন করেন ৷
-সুনানে আবি দাউদ, ১/২০৫, হাদীস নং ১৪৫০; সুনানে নাসাঈ,১/ ১৮৩, হাদীস নং ১৬০৯; মেশকাত শরীফ,১/১০৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৭২৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক বন্ধু মাঝেমধ্যে রসিকতার ছলে স্ত্রীকে আপু বলে ডাকে।...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু মাঝেমধ্যে রসিকতার ছলে স্ত্রীকে আপু বলে ডাকে। আমিও দু একদিন আমার স্ত্রীকে আপু বলে ডেকেছি। আমার প্রশ্ন হল, স্ত্রীকে আপু বলে ডাকলে বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা হয় কি?

উত্তর

স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকা মাকরূহ। হাদীস শরীফে এসেছে,

عَنْ أَبِي تَمِيمَةَ الْهُجَيْمِيِّ، أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِامْرَأَتِهِ: يَا أُخَيَّةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أُخْتُكَ هِيَ؟ فَكَرِهَ ذَلِكَ وَنَهَى عَنْهُ.

এক লোক তার স্ত্রীকে বোন বলে ডাকলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে তা অপছন্দ করেন এবং তাকে এভাবে ডাকতে নিষেধ করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২২০৪

তবে কেউ এমন বলে ফেললে এর কারণে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।

-ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০৭; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

গত কয়েক মাস আগে আমার স্ত্রী মারা যায়। এরপর আমি...

প্রশ্ন

গত কয়েক মাস আগে আমার স্ত্রী মারা যায়। এরপর আমি নতুন বিবাহ করি। জানতে চাই, আমার প্রথম স্ত্রীর মা তথা প্রথম শাশুড়ির সাথে এখন কি দেখা করতে পারব? সঠিক উত্তর জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

স্ত্রী বেঁচে থাক বা না থাক সর্বাবস্থায় স্ত্রীর মা মুহাররামাতের অন্তর্ভুক্ত। তাই আপনার ঐ শাশুড়ির সাথে এখনও দেখা করতে পারবেন।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১০৮২১; কিতাবুল আছল ৪/৩৬১; মাবসূত, সারাখসী ৪/১৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক চাচাত ভাইয়ের সাথে এক মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল।...

প্রশ্ন

আমার এক চাচাত ভাইয়ের সাথে এক মেয়ের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। প্রথমদিকে মেয়ের পরিবার জানত না। কিন্তু কিছুদিন পর মেয়েটি অন্তস্বত্তা হয়ে যায়। পরিবারের চাপাচাপিতে সে সব খুলে বলে। ওরা মামলা করে। এখন মেয়ের পরিবার ঐ ছেলের সাথেই বিয়ে দিতে চায়। জানার বিষয় হল, তাদের বিবাহ সহীহ হবে কি না? এবং তাদের দাম্পত্য জীবন সহীহ হবে কি না? নাকি এতে অন্য কোনো বিধান রয়েছে।

উত্তর

আপনার চাচাত ভাইয়ের জন্য ঐ মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া সহীহ হবে, এবং বিয়ের পরে তাদের জন্য স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে কোনো বাধা নেই।

عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ قَالَ : سُئِلَ عَنِ الرَّجُلِ يَفْجُرُ بِالْمَرْأَةِ ثُمَّ يَتَزَوَّجُهَا، قَالَ : هُوَ أَحَقُّ بِهَا، هُوَ أَفْسَدَهَا.

হযরত জাবের ইবনে যায়েদ রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে পুরুষ কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার করেছে সে কি তাকে বিয়ে করতে পারবে? তিনি বললেন, যে তার সম্ভ্রম নষ্ট করেছে সেই তো তার বেশি হকদার। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদীস : ১৭০৫৪

প্রকাশ থাকে যে, ব্যভিচার জঘন্যতম গুনাহের কাজ। বড় মাপের কবীরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন-

وَ لَا تَقْرَبُوا الزِّنٰۤی اِنَّهٗ كَانَ فَاحِشَةً وَ سَآءَ سَبِیْلًا

আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। সেটা অশ্লীলতা ও নিকৃষ্ট পন্থা। -সূরা বনী ইসরাইল ( ১৭) : ৩০

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ

কোন ব্যক্তি মুমিন থাকা অবস্থায় ব্যভিচার করতে পারে না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৭

সুতরাং তাদের উভয়ের কর্তব্য খাঁটি দিলে তাওবা ইস্তিগফার করা।

-ফাতহুল কাদীর ৩/১৪৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/১০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪৮৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কোনো মহিলার স্বামী খোলা তালাক দিলে খোলা তালাকদাতা স্বামী তার...

প্রশ্ন

কোনো মহিলার স্বামী খোলা তালাক দিলে খোলা তালাকদাতা স্বামী তার স্ত্রী থেকে কী পরিমাণ বিনিময় নিতে পারবে? উত্তরটা জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

খোলা তালাক যদি স্বামীর দোষের কারণে হয়ে থাকে তাহলে তালাকদাতার জন্য খোলার বিনিময়ে স্ত্রী থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করা বৈধ হবে না। আর স্ত্রীর দোষের কারণে হয়ে থাকলে মহর সমপরিমাণ নেওয়া বৈধ হবে। এরচেয়ে বেশি নেওয়া মাকরূহ বা অনুত্তম হবে।

প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,

إذا جاء الأمر من قبلها حل له ما أخذ منها، فإن جاء من قبله لم يحل له ما أخذ منها.

‘খোলা তালাক যদি মহিলার দোষের কারণে হয়ে থাকে তাহলে স্বামীর জন্য তার থেকে যা নিবে তা বৈধ হবে। আর যদি স্বামীর দোষে হয় তাহলে স্ত্রী থেকে যা নিবে তা বৈধ হবে না।’ -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১১৮২৫

আর ইমাম যুহরী রাহ. বলেন,

لا يحل للرجل أن يأخذ من امرأته شيئا من الفدية حتى يكون النشوز من قبلها، قيل له: وكيف يكون النشوز؟ قال: النشوز: أن تظهر له البغضاء، وتسيء عشرته، وتظهر له الكراهية، وتعصي أمره.

‘তালাকের বিনিময়ে স্ত্রী থেকে কিছু নেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হবে না যতক্ষণ না অবাধ্যতা স্ত্রীর পক্ষ থেকে না হবে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল, অবাধ্যতা কখন সাব্যস্ত হবে? তিনি বললেন, সে যদি স্বামীর সাথে বিদ্বেষ প্রকাশ করে, তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে, তার প্রতি অপছন্দ প্রকাশ করে ও তার হুকুম অমান্য করে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১১৮১৫; কিতাবুল আছল ৪/৫৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৫; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৪/৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে, স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামী ফিতরা আদায়...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে, স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামী ফিতরা আদায় করে দেয়। স্ত্রী নিজে তার ফিতরা আদায় করে না। এতে কি স্ত্রীর সদাকাতুল ফিতর আদায় হবে? অথচ তার সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার মতো সম্পদ আছে। আর স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া আদায় করলে আদায় হবে কি না?

উত্তর

হাঁ, স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর সদাকাতুল ফিতর আদায় করে দেওয়ার যেহেতু প্রচলন আছে তাই স্বামী স্ত্রীর সদাকাতুল ফিতর আদায় করে দিলে আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তার অনুমতি নেওয়া জরুরি নয়। এবং এ কারণে স্বামী সওয়াবের অধিকারী হবে। নাফে রাহ. বলেন,

كَانَ ابْنُ عُمَرَ يُعْطِيهِ عَمَّنْ يَعُولُ مِنْ نِسَائِهِ

‘আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন।’ -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০৪৫৫

তবে স্ত্রীর দায়িত্ব হল, হয়ত সদাকাতুল ফিতর নিজে আদায় করা, বা তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা হয়েছে কি না এর খোঁজ নেওয়া।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩/১০৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি দিনের বেলা ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে ওঠার পর স্ত্রী...

প্রশ্ন

আমি দিনের বেলা ঘুমিয়ে ছিলাম। ঘুম থেকে ওঠার পর স্ত্রী বলছে, আমি নাকি ঘুমন্ত অবস্থায় অস্ফুট স্বরে তোমাকে তালাক দিলাম কথাটি বলেছি। কিন্তু আমি এর কিছুই জানি না। আমার মামা শশুর বলছেন, এর দ্বারা আমার স্ত্রী নাকি তালাক হয়ে গেছে। হুযুরের কাছে জানতে চাই, ঘুমের ঘোরে আমি কী বলেছি তা তো জানি না। তবুও আমার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে?

উত্তর

ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক পতিত হয় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলেও তা পতিত হয়নি। হাদীস শরীফে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ: عَنِ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ، وَعَنِ الصَّبِيِّ حَتَّى يَحْتَلِمَ، وَعَنِ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ.

‘তিন শ্রেণীর মানুষ থেকে কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে; ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার আগ পর্যন্ত, নাবালেগ বালেগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ও পাগল ব্যক্তি সুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত।’-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩০১৬

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক ধর্তব্য নয়।

-কিতাবুল আসার ২/৪৫১; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১১৪২৫; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৫/১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৯১; রদ্দুল মুহতার ৩/২৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি নিয়মিত মসজিদেই নামায পড়ি। কখনো মসজিদে যেতে দেরি হয়ে...

প্রশ্ন

আমি নিয়মিত মসজিদেই নামায পড়ি। কখনো মসজিদে যেতে দেরি হয়ে গেলে বাড়িতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে জামাত করি। এক্ষেত্রে তাকে আমার ডান পাশে একটু পেছনে দাঁড় করাই। অর্থাৎ তার পায়ের আঙ্গুল আমার গোড়ালির পরে হয়ে থাকে। আমার এ নিয়ম কি ঠিক আছে?

উত্তর

না, প্রশ্নোক্ত নিয়ম ঠিক নয়। এক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম হল, স্ত্রীকে নিজের এক কাতার পেছনে দাঁড় করানো। হাদীস শরীফে আছে, আনাস রা. বলেন,

صَلَّيْتُ أَنَا وَيَتِيمٌ فِي بَيْتِنَا خَلْفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَأُمِّي أُمُّ سُلَيْمٍ خَلْفَنَا

‘আমাদের ঘরে আমি এবং এক ইয়াতিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে (জামাতের সাথে) নামায পড়েছি। আর আমাদের পেছনে আমার মা উম্মে সুলাইম (ইকতিদা করেন)। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৭২৭

তবে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নিয়মসম্মত না হলেও আপনাদের ঐ নামাযগুলো আদায় হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, উম্মে সুলাইম রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাহরাম ছিলেন।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭২৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন...

প্রশ্ন

কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে হায়েয অবস্থায় সহবাস করে। এখন তার করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

হায়েয অবস্থায় জেনেশুনে স্ত্রী সহবাস করা হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তারা আপনাকে হায়েয সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন, তা অপবিত্রতা। অতএব তোমরা হায়েযের সময় স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক এবং তাদের নিকটবর্তী হয়ো না। যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। Ñসূরা বাকারা (২) : ২২২

সুতরাং ঐ ব্যক্তির কর্তব্য হল, আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা-ইস্তিগফার করা।

আর এক্ষেত্রে হায়েযের শুরুর দিকে সহবাস হলে এক দীনার আর শেষ দিকে হলে অর্ধ দীনার সদকা করার কথা কোনো কোনো হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে তাওবা-ইস্তিগফারের পাশাপাশি উপরোক্ত নিয়মে সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।

প্রকাশ থাকে যে, দীনার একটি স্বর্ণমুদ্রা। যা বর্তমান হিসেবে ৪.৩৭৪ গ্রাম সমপরিমাণ স্বর্ণ।

Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২০১; বাযলুল মাজহূদ ২/২৭৮; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৭; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৭; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

গত জানুয়ারি মাসে আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে। ইদ্দতের...

প্রশ্ন

গত জানুয়ারি মাসে আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে। ইদ্দতের এক হায়েয অতিবাহিত হওয়ার পরপরই অন্য একজন পুরুষের সঙ্গে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি। এরপর থেকে দুই সপ্তাহ যাবত আমরা একসঙ্গেই থাকছি। এখন জানতে পারলাম যে, ইদ্দতের মাঝখানে হওয়ায় আমাদের বিবাহটি সহীহ হয়নি। কথাটি কি সঠিক? সঠিক হলে এখন আমাদের করণীয় কী? উল্লেখ্য, বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক জীবন যাপন করতে আমার পূর্ণ আগ্রহ রয়েছে।

উত্তর

ইদ্দত চলাকালীন অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নিষিদ্ধ। তাই ইদ্দত অবস্থায় আপনাদের উক্ত বিবাহটি সহীহ হয়নি। এতদিন একত্রে বসবাস করা হারাম হয়েছে। আপনাদের কর্তব্য হল, এখনই আলাদা হয়ে যাওয়া এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তওবা-ইস্তেগফার করা। তবে তালাক প্রদানের পর পূর্ণ ইদ্দত (তিনটি মাসিক স্রাব) অতিবাহিত হলে আপনি বর্তমান লোকটির সঙ্গে নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারবেন।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৬৯; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

একদিন কোনো একটি বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আমার ঝগড়া বেধে যায়।...

প্রশ্ন

একদিন কোনো একটি বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে আমার ঝগড়া বেধে যায়। একপর্যায়ে আমি বলি, তুই যদি আর একটা কথা বলিস তাহলে তোকে ছেড়ে দেব। তারপরও সে কথা বলে। তখন আমি বলি, যা তোকে ছেড়ে দিলাম। উক্ত কথার দ্বারা আমার তালাক দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। তাকে চুপ করানোর জন্য বলেছিলাম। আমি জানতে চাচ্ছি, উক্ত কথার কারণে আমার স্ত্রী কি তালাক হয়ে গেছে?

উত্তর

আমাদের সমাজে তোকে ছেড়ে দিলাম বাক্যটি তালাকের জন্যই ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত কথা দ্বারা তালাকের উদ্দেশ্য না থাকলেও আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এখন আপনি পুণরায় সুষ্ঠুরূপে ঘর-সংসার করতে চাইলে ইদ্দতের মধ্যে রজআত অর্থাৎ স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন।

রজআতের উত্তম পদ্ধতি হচ্ছে, ইদ্দতের ভিতরে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করা। যেমন, এ কথা বলবেন যে, তোমাকে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করলাম। এর দ্বারাই আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুণঃবহাল হয়ে যাবে।

আর যদি আপনি ইদ্দতের ভিতরে (ঋতুমতী মহিলার জন্য তিনটি হায়েয অতিক্রান্ত হওয়া পর্যন্ত আর অন্তঃসত্তা মহিলার জন্য সন্তান প্রসব পর্যন্ত) রজআত না করেন তবে ইদ্দত শেষ হওয়ার সাথে সাথে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে আবার ঘর-সংসার করতে

চাইলে নতুন মোহর ধার্য করে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে বিবাহ করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, এই স্ত্রীকে ইদ্দতের ভিতরে কিংবা ইদ্দত শেষ হয়ার পর পুণরায় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করলে পরবর্তীতে আপনি দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। তাই পরবর্তীতে এই স্ত্রীকে কখনো দুই তালাক দিলে পূর্বের এক তালাকের সাথে মিলে তিন তালাক হয়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ করেও একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই সামনে থেকে তালাক বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া অন্যায়। অনেক ক্ষেত্রে তালাক স্ত্রী-সন্তানের উপর এবং নিজের উপরও জুলুমের কারণ হয়। তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা কর্তব্য।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৬৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৯৯; আলবাহরুররায়েক ৪/৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি এক লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য হয়নি। এ অবস্থায়...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি এক লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য হয়নি। এ অবস্থায় লোকটি তাকে তালাক দেয়। জানতে চাই, ঐ ব্যক্তির উপর কি পূর্ণ দেন মোহর আদায় করা জরুরি?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্তক্ষেত্রে স্বামীকে পূর্ণ মোহর আদায় করতে হবে। কেননা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মিলন না হলেও শুধু নির্জনবাসের দ্বারাই পূর্ণ মোহর ওয়াজিব হয়ে যায়। তবে যদি সহবাসের প্রতিবন্ধক কোনো ওজর থাকা প্রমাণিত হয় যেমন, স্ত্রী হায়েয অবস্থা থাকা বা উভয়ের কেউ যদি এমন অসুস্থ থাকে, যা সহবাসের প্রতিবন্ধক হয় তাহলে অর্ধেক মোহর আবশ্যক হবে।

-কিতাবুল আসল ৪/৪৩৬-৪৩৭; হেদায়া ফাতহুল কাদীর ৩/২১৭ বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮৪, ৫৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১১৪, ১১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার...

প্রশ্ন

আমার একজন ছোট বোন আছে। এক দেড় বছর আগে তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। ফলে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। অনেক দিন পর তারা আবার একসঙ্গে থাকতে আগ্রহী হয়। তখন আমার স্বামী আমার বোনকে বিয়ে করে এবং তার সঙ্গে রাত যাপন করে। এরপর তাকে তিন তালাক দিয়ে দেয়। এখন ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আমার বোন তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে আর কোনো বাধা আছে কি?

উত্তর

স্ত্রীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা বৈধ নয়। করলেও সে বিবাহ শুদ্ধ হয় না। তাই আপনার স্বামীর সাথে আপনার বোনের বিবাহটি শুদ্ধ হয়নি এবং তার সাথে একত্রে থাকাও হারাম হয়েছে। সুতরাং এগুলোর উপর ভিত্তি করে আপনার বোনের জন্য তার পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াও বৈধ হবে না।

উল্লেখ্য, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে উম্মতের একটা বড় অংশের মাঝে ইসলামী শিক্ষার চর্চা এতটাই কমে এসেছে যে, ইসলামের মৌলিক বিধানাবলির জ্ঞানটুকুও অনেক মানুষের থাকে না।

হালাল-হারাম বিষয়ক বিধানাবলি তো ঐসব জরুরিয়াত (অপরিহার্য জ্ঞান)-এর অন্তর্ভুক্ত, যা অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরয। আর এক বোন বিবাহে থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিবাহ করা যে হারাম তা তো এতই স্পষ্ট মাসআলা যে, সকলেরই তা জানা।

মোটকথা, এই মারাত্মক গুনাহের কারণে এর সাথে সম্পৃক্ত সকলকেই খাঁটি মনে তাওবা-ইস্তেগফার করা উচিত। এবং দ্বীনী ইলম অর্জন করা ও তা আমলে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকেই পুরোপুরি সচেষ্ট হওয়া উচিত।

- সূরা নিসা (৪) : ২৩; সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১০৭; মুখতাসারুত তহাবী ৪/৩৩০; আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৬;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৭১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিলে ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর ভরণ-পোষণ কে...

প্রশ্ন

স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিলে ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর ভরণ-পোষণ কে বহন করবে?

উত্তর

সাধারণ তালাকের মতো খোলা তালাকের ক্ষেত্রেও ইদ্দত চলাকালীন স্ত্রীর ভরণ-পোষণ স্বামীকেই বহন করতে হবে। তবে যদি খোলা তালাকের চুক্তির সময় ইদ্দতের মধ্যে ভরণ-পোষণ না দেওয়ার শর্ত করা হয় তাহলে তা সহীহ হবে এবং সেক্ষেত্রে স্ত্রী ইদ্দতকালীন ভরণ-পোষণ পাবে না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৮৮১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৫২-৪৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৩৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ৪/৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়,...

প্রশ্ন

আমি জানি, বিয়ে করার জন্য কাবিন শর্ত। বর্তমানে দেখা যায়, অনেকে বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর মা-বাবা কিংবা গার্ডিয়ানদের সম্মতিতে কাবিন না করে শুধু আংটি পরিয়ে রাখে। এখন ঐ ছেলে-মেয়ে পরস্পরে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে কি? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আংটি পরানোর দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয় না। এটি উভয় পক্ষের মাঝে সামাজিকভাবে কেবলমাত্র বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা বুঝায়। সুতরাং ইজাব-কবুল ছাড়া শুধু আংটি পরানোর কারণে তারা স্বামী-স্ত্রী গণ্য হবে না। তাই ইজাব-কবুলের আগে তাদের দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা বৈধ নয়।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে বিবাহের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর আকদ না করিয়ে আংটি পরিয়ে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এভাবে রেখে দেওয়ার রেওয়াজটি ঠিক নয়। এ কারণে ছেলে-মেয়ে ও তাদের নিকটজনদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা করার গুনাহ বাড়তে থাকে।

উল্লেখ্য যে, বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কাবিন করা শর্ত নয়; বরং দু’জন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ সাক্ষীর সামনে বিয়ের ইজাব-কবুল করার দ্বারাই বিবাহ সংঘটিত হয়ে যায়।

-রদ্দুল মুহতার ১/১১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১ ও ৩/১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

ইনশাআল্লাহ বলে তালাক দিলে কি তালাক হবে? না হলে এর...

প্রশ্ন

ইনশাআল্লাহ বলে তালাক দিলে কি তালাক হবে? না হলে এর কারণ কী? দলিলপ্রমাণসহ জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

তালাকের সাথে ইনশাআল্লাহ বললে তালাককে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়। তাই ইনশাআল্লাহ বলে তালাক দেওয়ার অর্থ হল আল্লাহ যদি চান তাহলে স্ত্রী তালাক। এই শর্তটি পাওয়া যাওয়ার বিষয়ে যেহেতু নিশ্চিত হওয়া যায় না তাই ইনশাআল্লাহ বলে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হয় না।

ইমাম মুহাম্মাদ রাহ. তার কিতাবুল আছারে ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে বলে ইনশাআল্লাহ তুমি তিন তালাক। তার এ কথার দ্বারা স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হবে না। -কিতাবুল আছার ৫১১

ইমাম আবদুর রাযযাক রাহ. তার মুসান্নাফে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, আবু হানীফা এমনই বলতেন, মানুষরাও এ মতের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমার মতও এটিই।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১১৩২৭; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৫/৮৬; ফাতহুল কাদীর ৩/৪৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি পড়ালেখা করে। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি পড়ালেখা করে। উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি বড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। ঐ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য অবিবাহিত হওয়া শর্ত। কিন্তু সে বিবাহিত ছিল। তাই বিবাহিত হওয়া সত্তে¡ও ভর্তি হওয়ার জন্য সে তার জীবন বৃত্তান্তে অবিবাহিত লিখে এবং পরবর্তীতে মৌখিকভাবেও একথা স্বীকার করে যে, সে অবিবাহিত, তার কোনো স্ত্রী নেই। বর্তমানে সে ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্র।

জানার বিষয় হল, এভাবে বলা ও লিখার কারণে তার স্ত্রীর উপর কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে?

উত্তর

বিবাহিত হওয়া সত্তে¡ও মিথ্যা বলে নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেওয়া এবং স্ত্রী নেই বলা মারাত্মক অন্যায় ও কবীরা গুনাহ হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তাআলার নিকট কায়মনোবাক্যে ইস্তিগফার করতে হবে। অবশ্য এভাবে মিথ্যা বলা ও লেখার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেনি এবং স্ত্রীর উপর কোনো তালাকও পতিত হয়নি। তাদের বিবাহ যথারীতি বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, নিজে অবিবাহিত প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানের শর্ত ভঙ্গ করে সেখানে ভর্তি হওয়া মারাত্মক অন্যায় হয়েছে। এটি ধোঁকা ও প্রতারণার শামিল। যা কোনো মুসলমানের কাজ নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৭১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

মাস কয়েক আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের দিন আমার শাশুড়ি...

প্রশ্ন

মাস কয়েক আগে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের দিন আমার শাশুড়ি কিছু অলংকার নিয়ে এসে বলেন, এটা আমার পক্ষ থেকে গিফট, এটা আমার বড় ছেলের পক্ষ থেকে, এটা আমার ছোট ছেলের পক্ষ থেকে। আমাকে ঐ অলংকারগুলো পরিয়েও দেন।

আমার জানার বিষয় হল, এ অলংকারগুলোর কি আমি মালিক হয়ে গেছি, নাকি আমার স্বামী চাইলে এগুলোকে মহর হিসেবে গণ্য করতে পারবেন? বিষয়টির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ অলংকারগুলো দেওয়ার সময় আপনার শাশুড়ি যেহেতু তার পক্ষ থেকে এবং স্বামীর দুই ভাইয়ের পক্ষ থেকে গিফটের (হাদিয়ার) বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাই ঐ অলংকারগুলো আপনার জন্য হাদিয়া হিসেবেই গণ্য হবে। সেগুলোর মালিক সরাসরি আপনিই। আপনার স্বামীর জন্য এ অলংকারগুলো মহর হিসেবে গণ্য করা জায়েয হবে না। কেননা মহর দেওয়ার দায়িত্ব স্বামীর উপর। স্বামী নিজে কিংবা তার পক্ষ থেকে কেউ মহর হিসেবে আদায় করলেই তা মহর হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু স্বামী পক্ষের আত্মীয়স্বজন স্ত্রীকে হাদিয়া হিসেবে কোনো কিছু দিলে তা স্বামী দিয়েছে বলে ধর্তব্য হবে না। সুতরাং স্বামীর জন্য সেগুলোকে মহর হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ পৃ. ১৬২; শরহুল মাজাল্লাহ, খালেদ আতাসী ৩/৩৪৭-৮; রদ্দুল মুহতার ৩/১৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার...

প্রশ্ন

আমার স্ত্রী দেড়মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। আর তা কিছু গোশতের টুকরার আকারে বেরিয়ে আসে। এরপর ৫/৬ দিন পর্যন্ত রক্ত আসে। স্রাবের সময়ও তার এমনই দেখা যায়। ঐ দিনগুলোতে সে নামায পড়েনি। আমার স্ত্রী মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চায় যে, তার ঐ নামায কি কাযা করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গর্ভটির যেহেতু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হয়নি তাই ৫/৬ দিন পর্যন্ত যে রক্ত এসেছে তা হায়েয হিসেবে গণ্য হবে;নেফাস নয়। আর উভয় অবস্থাতেই যেহেতু মহিলাদের নামায পড়া থেকে বিরত থাকা জরুরি তাই আপনার স্ত্রী ঐ দিনগুলোর নামায ছেড়ে দিয়ে ঠিকই করেছেন। তা কাযা করতে হবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর ১/১৬৫-১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/ ৩০২-৩০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার প্রতিবেশী বকর তার স্ত্রীর প্রতি জুলুমের আচরণ করে। স্ত্রী...

প্রশ্ন

আমার প্রতিবেশী বকর তার স্ত্রীর প্রতি জুলুমের আচরণ করে। স্ত্রী অতিষ্ঠ হয়ে তার কাছে তালাক চায়। কিন্তু বকর শর্ত দিয়েছে যে, তালাক দিলে তাকে তার দেওয়া মহর ফেরত দিতে হবে। এতে স্ত্রী সম্মত হলে বকর তাকে সে মহরের বিনিময়ে এক তালাক দিয়ে দেয়। প্রশ্ন হল, উক্ত অবস্থায় বকরের জন্য তার দেওয়া মহর তালাকের বিনিময়ে ফেরত নেওয়া বৈধ হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নের বক্তব্য অনুযায়ী বাস্তবেই বকরের জুলুমের কারণে যদি তার স্ত্রী তালাক নিতে বাধ্য হয়ে থাকে তবে বকরের জন্য এ স্ত্রী থেকে তালাকের কারণে মহর ফেরত নেওয়া বা অন্য কিছু নেওয়া বৈধ হবে না।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ১৯ ও ২০ নং আয়াতে এ ধরনের ক্ষেত্রে স্ত্রী থেকে সম্পদ গ্রহণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

আমর বিন দীনার রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, স্বামী যদি তার স্ত্রীর সাথে অসদাচরণ করে তাহলে স্ত্রী কোনো কিছুর বিনিময়ে তালাক চাইলেও স্বামীর জন্য তা নেওয়া বৈধ হবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক,হাদীস : ১১৮২২

ইবনে শিহাব যুহরী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, স্বামীর জন্য তার স্ত্রী থেকে তালাকের বিনিময়ে কোনো কিছু নেওয়া তখনি বৈধ হবে যখন স্ত্রীর অবাধ্যতার কারণেই স্বামী তাকে তালাক দিয়ে থাকে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১১৮১৫

অনুরূপ বক্তব্য হযরত উরওয়া, আতা, আমর বিন শুআইব প্রমুখ তাবেয়ী থেকেও বর্ণিত আছে।

(দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৮৭৩৭-১৮৭৪২) -বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৩৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮৮; আহকামুল কুরআন, থানবী ১/৪৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মাঝেমধ্যেই ঝগড়া করে। স্ত্রী সর্বদা ঝগড়ার...

প্রশ্ন

আবদুল্লাহ ও তার স্ত্রী মাঝেমধ্যেই ঝগড়া করে। স্ত্রী সর্বদা ঝগড়ার সময় বলে,আমাকে ছেড়ে দাও। এ কথাটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আবদুল্লাহ একবার রাগের মাথায় বলে ফেলে যে,এই কথা তুমি আর একবার বললে তুমি তালাক। এখন জানার বিষয় হল,

ক) স্ত্রী যদি আবার রাগের মাথায় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথাটি বলে তবে তার কী হুকুম? তালাক হলে কয় তালাক হবে এবং সেক্ষেত্রে তারা একত্রিত হতে চাইলে কী করণীয়?

খ) স্বামীর জন্য তার উক্ত কথা থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় আছে কি?

দয়া করে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আবদুল্লাহ ঐ কথা বলার পর তার স্ত্রী যদি পরবর্তীতে কখনো ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ঐ কথা বলে তবে তার উপর এক তালাক রজয়ী পতিত হয়ে যাবে। এরপর ইদ্দতের ভেতরেই আবদুল্লাহ যদি তাকে আবার স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করে নেয় তবে সে তার স্ত্রী হয়ে যাবে। নতুন করে বিবাহ করা লাগবে না। কিন্তু ইদ্দতের ভেতরে যদি স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ না করে বা স্বামী-স্ত্রী সুলভ আচরণও না হয় তবে তালাকটি বায়েন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে উভয়ে একত্রিত হতে চাইলে নতুন মহর ধার্য করত পুনরায় বিবাহ করতে হবে।

এভাবে এক তালাক হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে আবদুল্লাহ দুই তালাকের অধিকারী থাকবে। এক্ষেত্রে স্ত্রী যদি আবারও ঐ কথা বলে তাহলে পূর্বের শর্তের কারণে পুনরায় তালাক হবে না। আরো উল্লেখ্য যে, আবদুল্লাহর ঐ শর্ত একবার কার্যকর হওয়ার আগে তা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই তালাক থেকে বাঁচতে চাইলে স্ত্রীকে উক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২০, ১/৪১৬;ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫৪;আলবাহরুর রায়েক ৪/৮,৪/১৪;আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের গ্রামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। গত তিন মাস আগে দুই পক্ষের মুরব্বিরা বসে উভয়কে বিবাহ পড়িয়ে দেয়। বিবাহের তিন মাস পরেই উক্ত মেয়ে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে। এ নিয়ে গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আমরা জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত সন্তানের নসব কি ঐ ছেলের দিকে সাব্যস্ত হবে? আর গর্ভবতী অবস্থায় সংঘটিত উক্ত বিবাহ কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত বিবাহ সহীহ হয়েছে। আর ঐ নারীর স্বামী (বিবাহের পূর্বে যার সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল সে) যদি নবজাতককে নিজের সন্তান হিসেবে মেনে নেয় তাহলে শিশুটি তার সন্তান বলেই বিবেচিত হবে এবং এ সন্তানের বংশসূত্র তার সাথেই সম্পৃক্ত হবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৭২-১৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

দুই মাস পূর্বে আমার বিয়ে হয়। আমার স্ত্রীর আচরণে আমরা...

প্রশ্ন

দুই মাস পূর্বে আমার বিয়ে হয়। আমার স্ত্রীর আচরণে আমরা সবাই অতিষ্ঠ। তার সাথে আমার সম্পর্ক ভাল না। তাই আমি তাকে সন্তান-সন্তুতি হওয়ার আগেই তালাক দিতে চাচ্ছি। আমার ছোট ভাই মাদরাসায় লেখাপড়া করে। তার সাথে এ ব্যাপারে পরামর্শ করলে সে আমাকে তিন তুহুরে তিন তালাক দিতে বলে। এ পদ্ধতি কি উত্তম হবে? আর এভাবে তিন তালাক দিয়ে দিলে মহিলার ইদ্দত শুরু হবে কখন থেকে? প্রথম তালাকের পর নাকি তৃতীয় তালাকের পর? দয়া করে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক খুবই অপছন্দনীয়। ক্ষেত্রবিশেষে এর প্রয়োগ স্ত্রী-সন্তানের প্রতি জুলুমও বটে। তাই অত্যন্তভেবেচিন্তে মুরবিব ও আলেমদের সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্তনেওয়া উচিত। আর তালাকের আগে উভয় পক্ষের মুরবিবদের নিয়ে সমঝোতা ও মীমাংসার চেষ্টা করা কর্তব্য। এরপরও যদি উভয়ের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি না ঘটে এবং একত্রে থাকলে একে অপরের হক আদায় করা এবং শরীয়তের হুকুম অনুযায়ী চলা সম্ভব না হয় তখন চাইলে তালাক দিতে পারবে। আর তালাক দেওয়ার সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হল, হায়েয/নেফাস থেকে পবিত্র হওয়ার পর তার সাথে মিলন থেকে বিরত থাকা অবস্থায় এক তালাক দেওয়া। এরপর আর তালাক না দেওয়া। এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ততার সাথে স্বামী-স্ত্রীসূলভ কোনো আচরণও না করা। এক্ষেত্রে ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে তালাকটি বায়েনে পরিণত হয়ে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর মহিলাটি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এটি স্ত্রী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সবচেয়ে উত্তম পন্থা। (আল আওসাত, ইবুনল মুনযির ৯/১৩৯)

অবশ্য প্রত্যেক পবিত্রতায় একটি করে তালাক দেওয়ার পদ্ধতিও জায়েয। আর এভাবে তিন তালাক দিলে মহিলার ইদ্দত শুরু হবে প্রথম তালাকের পর থেকেই।

অবশ্য এভাবে তিন তালাক দেওয়ার চেয়ে পূর্বোক্ত নিয়মে এক তালাক দেওয়ার পদ্ধতি অধিক উত্তম। এ ছাড়া এক তালাক দিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কখনো একত্রিত হতে চাইলে নতুন বিবাহের মাধ্যমে এরও সুযোগ থাকে।

-সূরা নিসা ৪ : ৩৪-৩৫; রদ্দুল মুহতার ৩/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৪০-১৪২, ৩/২৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

দুই মাস আগে আমার এক সহকর্মীর স্ত্রী মারা যান। মারা...

প্রশ্ন

দুই মাস আগে আমার এক সহকর্মীর স্ত্রী মারা যান। মারা যাওয়ার পর এক লোক আমার ঐ সহকর্মীকে বলেছে যে, স্ত্রী মারা গেলে স্বামী আর শাশুড়ির সাথে দেখা দিতে পারে না। এখন আমার সহকর্মী জানতে চাচ্ছে, ঐ লোকের কথা কি ঠিক? স্ত্রী মারা যাওয়ার পর স্বামী কি স্ত্রীর মায়ের সাথে দেখা দিতে পারবে?

উত্তর

শাশুড়ি (স্ত্রীর আপন মা) স্থায়ী মাহরামের অন্তুর্ভুক্ত। স্ত্রী মারা গেলে কিংবা তালাকপ্রাপ্তা হলেও স্বামীর জন্য স্ত্রীর মার সাথে দেখাসাক্ষাৎ করা বৈধ এবং তাকে বিবাহ করা হারাম।

-সূরা নিসা, ৪ : ২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৬৭; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট...

প্রশ্ন

আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট বোন অর্থাৎ আমার দুধ মায়ের ননদের সাথে আমার বিবাহের আলোচনা চলছে। গ্রামের এক মুরুববী এসে বললেন, এ বিয়ে শুদ্ধ হবে না। কারণ, সে আমার মাহরাম। আবার অন্য এক মুরুববী বললেন, এতো দূরের সম্পর্কে বিবাহ হতে কোনো সমস্যা নেই। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই বিবাহের হুকুম কী? আমার দুধ মাতার ননদের সাথে আমার বিবাহ কি শুদ্ধ হবে?

উত্তর

আপনার দুধ মাতার স্বামী আপনার দুধ পিতা। তার বোন আপনার দুধ সম্পর্কের ফুফু। আপন ফুফুর মতোই দুধ ফুফুর সাথে বিবাহ হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জন্ম সূত্রের কারণে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে বিবাহ হারাম।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪৪৪; শরহে মুসলিম, নববী ১০/১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩-৯৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন

অসুস্থ অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে রক্ত দিতে পারবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, স্বামী স্ত্রী একে অন্যকে রক্ত দিতে পারবে। এতে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা...

প্রশ্ন

পুরুষদের জন্য তাদের দাদী শাশুড়ি বা নানী শাশুড়ির সাথে দেখা করার কী হুকুম? অনেকে মনে করে তাদের সাথে দেখা করার অনুমতি নেই। আসলে শরীয়ত এ ব্যাপারে কী বলে?

উত্তর

দাদী শাশুড়ি ও নানী শাশুড়ির সাথে দেখা সাক্ষাৎ করা জায়েয। তারা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) এবং তোমাদের স্ত্রীদের মা’দেরকে তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে।-সূরা নিসা : ২৩ সকল মুফাসসির ও ফকীহগণ একমত যে উক্ত বিধানে স্ত্রীর মায়ের মা ও স্ত্রীর পিতার মাও অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীরে মাযহারী ২/২৭০; কিতাবুল আছল ৪/৩৬১; হেদায়া ৮/৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৮;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ছয় বছর দাম্পত্য জীবন যাপনের পর একপর্যায়ে তার স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। তাদের চার বছর বয়সী একটি ছেলেসন্তান আছে। বর্তমানে তার স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং সে তার ছেলেকে নিজের কাছে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। অপরদিকে ছেলের বাবা সন্তানকে তার কাছেই রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে? আশা করি জানিয়ে বাধিত করবেন। উলেস্নখ্য, মহিলার দ্বিতীয় স্বামীর সাথে উক্ত সন্তানের কোনো ধরনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই।

উত্তর

সন্তান লালন-পালনের অধিকার মূলত মায়ের। তবে মা সন্তানের মাহরাম ব্যতীত অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার আর সন্তান লালন-পালনের অধিকারী থাকে না। সেক্ষেত্রে এ অধিকার ক্রমান্বয়ে নিম্নে বর্ণিত আত্মীয়গণ লাভ করে। যথা-ক) শিশুর নানী খ) শিশুর দাদী গ) শিশুর খালা ঘ) শিশুর ফুফু ঙ) আসাবা (শরীয়ত নির্ধারিত নিকটাত্মীয়)-এর ক্রমানুসারে পুরুষ আত্মীয়গণ। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা গায়রে মাহরামকে বিয়ে করার কারণে তার লালন-পালনের অধিকার বাতিল হয়ে গিয়েছে। এখন উপরে বর্ণিত শিশুর নারী আত্মীয়গণ অর্থাৎ নানী, দাদী, খালা, ফুফু যদি বিদ্যমান না থাকে কিংবা তারা দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মত বা অসমর্থ্য হয় তাহলে সেক্ষেত্রে পিতা নিজে তার সন্তান লালন-পালনের অধিকারী হবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৭০; বাযলুল মাজহূদ ১১/১৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৬৭-১৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৫৫-৫৫৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২৭৫-২৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট...

প্রশ্ন

আমি ছোট বেলায় যার দুধ পান করেছি তার স্বামীর ছোট বোন অর্থাৎ আমার দুধ মায়ের ননদের সাথে আমার বিয়ের আলোচনা চলছে। গ্রামের এক মুরববী বললেন, এ বিয়ে শুদ্ধ হবে না। কারণ দুধ সম্পর্কের কারণে সে আমার মাহরাম। কিন্তু অন্য এক মুরববী বলেছেন, এই বিয়েতে কোনো সমস্যা নেই। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিয়ের হুকুম কী? আমার দুধমায়ের ননদের সাথে আমার বিবাহ কি শুদ্ধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনার দুধ মায়ের স্বামী আপনার দুধ সম্পর্কের পিতা। আর তার বোন আপনার দুধ সম্পর্কের ফুফু। আপন ফুফুর মতোই সে আপনার মাহরাম এবং তার সাথে আপনার বিবাহ হারাম। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রক্তের সম্পর্কের কারণে যাদের সাথে বিবাহ হারাম, দুধের সম্পর্কের কারণেও তাদের সাথে বিবাহ হারাম।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৪৪

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি দুধ মায়ের ননদকে বিয়ে করতে পারবেন না।

-শরহুল মুসলিম, নববী ১০/১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩-৯৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৯৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক সাথী গত কয়েকমাস আগে বিবাহ করেছে। বেশ কয়েকদিন...

প্রশ্ন

আমার এক সাথী গত কয়েকমাস আগে বিবাহ করেছে। বেশ কয়েকদিন পর আমার সাথে দেখা হলে আমি তাকে বলি, তোমার বিয়ের ওলিমা খাওয়াতে হবে। তখন সে রসিকতা করে বলল, তোর ভাবিকে তো অনেক আগে তালাক দিয়ে দিয়েছি। অথচ সে তালাক দেয়নি। জানার বিষয় হল, এ কারণে কি তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে গেছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার সাথী যদি বাস্তবেই তার স্ত্রীকে আগে তালাক না দিয়ে থাকে তবে এভাবে মিথ্যা বলার দ্বারা তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়নি। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল আছে। তবে তালাকের বিষয়ে এভাবে রসিকতা করা অন্যায়। অনেক ক্ষেত্রে রসিকতা করতে গিয়ে তালাক হয়ে যায়। এছাড়া এতে মিথ্যা বলার গুনাহ তো হয়েছেই। তাই এজন্য তাকে তওবা করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/৫১৩; রদ্দুল মুহতার ৩/২৩৬; ফাতহুল কাদীর ৩/৩৫৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪০১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

এক ব্যক্তি দুটি বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হওয়ার...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি দুটি বিয়ে করেছে। প্রথম স্ত্রীর কয়েকজন সন্তান হওয়ার পর সে মারা যায়। এরপর লোকটি আরেকটি বিয়ে করে। এর কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তির বড় ছেলে পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর বোনকে বিয়ে করে। এখন প্রশ্ন হল, ঐ ছেলের জন্য সৎ মায়ের বোনকে বিয়ে করা কি বৈধ হয়েছে? সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ ছেলের জন্য বাবার স্ত্রীর (সৎ মায়ের) বোনকে বিয়ে করা বৈধ হয়েছে। কেননা সে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নয়।

-রদ্দুল মুহতার ৩/৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মুহাববত করে কখনো কখনো আপু মনি...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মুহাববত করে কখনো কখনো আপু মনি বলে ডাকে। শরীয়তের দৃষ্টিতে এতে কোনো অসুবিধা আছে কি? এ কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি? স্ত্রীকে বোন বা আপু বলে ডাকার হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

স্ত্রীকে এভাবে সম্বোধন করা মাকরূহ ও গুনাহের কাজ। হাদীস শরীফে এসেছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বোন বলে সম্বোধন করল। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে এ থেকে তাকে নিষেধ করলেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২০৪

তাই এমন বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। অবশ্য উক্ত কারণে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো ক্ষতি হয়নি।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২০৪; বাযলুল মাজহূদ ১০/৩২২; ফাতহুল কাদীর ৪/৯১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭০; আলবাহরুর রায়েক ৪/৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি মারা যায়। তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি মারা যায়। তার বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন কেউ নেই। শুধু তার চাচাত ভাইয়ের তিনজন মেয়ে আছে। এছাড়া তার নিকটাত্মীয় বলতে আর কেউ নেই। অপরদিকে সে জীবিত অবস্থায় তার অধিকাংশ সম্পদই মসজিদের জন্য অসিয়ত করে যায়। এখন প্রশ্ন হল, তার এ অসিয়তের কী হুকুম? তা কি পুরোটাই কার্যকর হবে? আমরা তো জানি, ওয়ারিসগণ না মানলে অসিয়ত মৃতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কার্যকর হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে মৃতের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ওয়ারিস নেই তাই এক্ষেত্রে কি ভিন্ন কোনো হুকুম হবে, না একই হুকুম? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চাচাত ভাইয়ের মেয়েরা মৃতের ওয়ারিস। তাই নিয়ম অনুযায়ী মৃতের এক তৃতীয়াংশ সম্পদের ভেতর তার অসিয়ত সহীহ হয়েছে। এটা আদায় করা ওয়ারিসদের উপর কর্তব্য। আর এক তৃতীয়াংশ সম্পদের অতিরিক্ত অংশের অসিয়ত যদি ওয়ারিশগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেনে নেয় এবং তা কার্যকর করতে চায় তবে তা করতে পারবে। কিন্তু তারা সম্মতি না দিলে শুধু এক তৃতীয়াংশের ভেতরেই তা কার্যকর হবে এর অতিরিক্তের অসিয়ত বাতিল গণ্য হবে। এক্ষেত্রে বাকি সকল সম্পদ তার ঐ তিন ভাতিজির মাঝে সমানভাবে বণ্টন হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৪৭, ৪৫৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৬৪-৭৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমার মেয়ের স্বামী আমার নাতির আকীকা করেনি।...

প্রশ্ন

সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আমার মেয়ের স্বামী আমার নাতির আকীকা করেনি। অদূর ভবিষ্যতে আকীকা করার সম্ভাবনাও কম। নানা হিসেবে আমি নিজ টাকায় নাতির আকীকা করলে আকীকা হবে কি না এবং তা জায়েয কি না? আমি আমার বাড়িতে নাতির আকীকা করতে চাই, আমার বাড়িতে আকীকা করলে হবে কি না? গরু বা ছাগল কোন্ পশু দিয়ে আকীকা করা উত্তম? নাতি জন্মের পর পরই আমার মেয়ের শ্বাশুড়ি আকীকা করার গরু নানা বাড়ি থেকে দিতে হয় বলে আমার মেয়ের নিকট গরু দাবী করেছে। এ প্রসঙ্গে ফতোয়া কী? মেয়ের শ্বাশুড়ির দাবির প্রেক্ষিতে আমি আমার নাতির আকীকা করার জন্য গরু বা ছাগল দিলে তা কি যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে? আমার মেয়ের স্বামী সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আকীকা করছে না। এতে শরীয়তের বিধান কী? আকীকার গোশত নাতির দাদার বাড়িতে না পাঠালে আকীকা কবুল হবে কি না? তাছাড়া আকীকার পশু জবাই করে গোশত কোনো আত্মীয়স্বজনকে না দিয়ে সব গোশত এতিমখানায় দিয়ে দিলে আকীকা হবে কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

আকীকা করা মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে আকীকা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সন্তানের আকীকা করা পিতার দায়িত্ব; নানার দায়িত্ব নয়। কেননা সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব যার উপর শরীয়ত তাকেই আকীকা করার নির্দেশ দিয়েছে। অবশ্য পিতার অনুমতিক্রমে নানা নাতির আকীকা করলে তা সহীহ হবে। কেননা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৌহিত্র হাসান-হুসাইনের আকীকা করেছিলেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৮৩৪)

আর এক্ষেত্রে নানা চাইলে তার নিজ বাড়িতেও আকীকা করতে পারবেন।

ছেলের আকীকার জন্য দুটি ছাগল দেওয়া উত্তম। কেননা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলের পক্ষ থেকে দুটি ছাগল আর মেয়ের পক্ষ থেকে একটি ছাগল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫১৩)

প্রকাশ থাকে যে, মেয়ের শ্বাশুড়ির ঐ কথা ঠিক নয়। শ্বাশুড়ির জন্য পুত্রবধুর কাছে আকীকার গরু দাবি করা জায়েয হয়নি। এটি যৌতুকের অন্তর্ভুক্ত।

আর আকীকার পুরো গোশত এতিমখানায় দিয়ে দিলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

তবে উত্তম হলো তিন ভাগ করে একভাগ নিজেদের জন্য রাখা, একভাগ প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া এবং একভাগ ফকীর-মিসকীনকে দেওয়া। আর আত্মীয়দের অংশ থেকে সন্তানের দাদা ও অন্যান্য আত্মীয়দেরকেও দেওয়া উচিত।

-আলমওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমি বাংলা এক বইয়ে তিরমিযী শরীফের বরাত দিয়ে উল্লেখ দেখতে...

প্রশ্ন

আমি বাংলা এক বইয়ে তিরমিযী শরীফের বরাত দিয়ে উল্লেখ দেখতে পেলাম যে, বিভিন্ন দিন সম্পর্কে বলেছেন, এই দিন স্ত্রী সহবাস করলে সন্তান পিতামাতার নাফরমান হয়। ঐদিন সহবাস করলে সন্তান অন্ধ হয়। আরো অনেক কিছু।

আমার জানার বিষয় হল, হাদীসে এমন কোনো দিন বা সময়ের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বইয়ের ঐ কথাগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। এগুলো হাদীস নয়। তিরমিযী শরীফ বা অন্য কোনো হাদীসের কিতাবে এ ধরনের কোনো বর্ণনা নেই। মানুষের বানানো কথাবার্তাকে হাদীসের কিতাবের মিথ্যা উদ্ধৃতি দিয়ে হাদীস হিসেবে চালিয়ে দেওয়া ভয়াবহ কবীরা গুনাহ।

হাদীস শরীফে এসেছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, অর্থ : যে ব্যক্তি জেনেশুনে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করল সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১০৭

প্রকাশ থাকে যে, স্ত্রী মিলনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বা দিন তারিখের সীমাবদ্ধতা নেই। মাসিকের দিনগুলো ছাড়া অন্য যে কোনো সময় স্ত্রী মিলন বৈধ।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমাদের এলাকার এক লোক পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে। একপর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে বলে, তুমি যদি তোমার মেয়ের বাড়িতে কোনো জিনিস দাও তাহলে তোমাকে তোমার পিতার বাড়িতে চলে যেতে হবে। বৃদ্ধকালেও স্ত্রী যদি কোনো জিনিস দেয় তখনও কি এ কথার কারণে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে?

জানার বিষয় হল, ক) এই শর্ত কতদিন বাকি থাকবে এবং এই শর্ত হতে মুক্তি পাওয়ার উপায় কি?

খ) স্ত্রীর ছেলেরা যদি বোনের বাড়িতে কোনো জানিস দেয় তাহলে তখন স্বামীর এই শর্ত পাওয়া যাবে কি না এবং স্বামীর এই শর্ত পাওয়া গেলে কী করতে হবে?

গ) স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে তুমি তোমার মেয়ের বাড়িতে কোনো জিনিস দিতে পার তখন স্ত্রী যদি কোনো জিনিস দেয় তখন স্বামীর পূর্বের শর্ত পাওয়া যাবে কি না? দলিল-প্রমাণের সাথে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি (অর্থাৎ যদি তোমার মেয়ের বাড়িতে কোনো জিনিস দাও তাহলে তোমাকে তোমার পিতার বাড়ি চলে যেতে হবে) স্বামী যদি তালাক প্রয়োগের নিয়তেই বলে থাকে তাহলে ঐ মহিলাটি মেয়ের বাড়িতে ভবিষ্যতে কখনো কিছু দিলেই এক তালাকে বায়েন হয়ে যাবে। এমনকি স্বামীর আদেশক্রমে নিজে কিছু দিলেও তালাক হয়ে যাবে। হ্যাঁ, স্বামী নিজে দিতে চাইলে তাকে জিনিস পত্র জোগাড় করে বা প্রস্ত্তত করে দিতে পারবে। আর তার ছেলে নিজ থেকে বোনের বাসায় কিছু দিলেও কোন অসুবিধা নেই, একারণে তালাক পতিত হবে না।

আর উপরোক্ত কথাটি যদি তালাকের নিয়তে না বলে থাকে তাহলে মহিলাটি মেয়ের বাড়িতে কোনো কিছু দিলে তালাক পতিত হবে না। এখানে উল্লেখ্য যে, ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য মা-ববার উপর বিভিন্ন হক রয়েছে। তারা উভয়ে মা-বাবা থেকে ভালো আচরণ পাওয়ার অধিকার রাখে। তবে এক্ষেত্রে অসমতা বা সীমালঙ্ঘন কোনোটিই ঠিক নয়। সুতরাং স্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো সীমালঙ্ঘন হয়ে থাকলে সেটা সুন্দরভাবে বোঝানো যেত। তা না করে স্বামী যে পন্থা অবলম্বন করেছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৪৬১; রদ্দুল মুহতার ৩/৩০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২০; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাবা মায়ের সাথে দীর্ঘদিন যাবত ঝগড়া...

প্রশ্ন

আমার স্ত্রীকে নিয়ে আমার বাবা মায়ের সাথে দীর্ঘদিন যাবত ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে। কিছুদিন আগে আমার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি রাগ করে বললাম, ঠিক আছে, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দিব তখন আপনারা বিপদমুক্ত হয়ে যাবেন। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত কথা দ্বারা কি আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে? দয়া করে তাড়াতাড়ি জানালে উপকৃত হব। উল্লেখ্য, উক্ত কথা দ্বারা আমার তালাক দেওয়া উদ্দেশ্য ছিল না। বরং উদ্দেশ্য ছিল আমার আম্মাকে ভয় দেখানো।

উত্তর

ঐ কথা বলার দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর কোনো তালাক পতিত হয়নি। কেননা ঐ বাক্যে স্ত্রীকে পরবর্তীতে তালাক দেওয়া হবে শুধু এতটুকুই বলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো তালাক দেওয়া হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, তালাক শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘৃণ্যতম বিষয়। মা-বাবা আদেশ করলেও যথাযথ কারণ ছাড়া তালাক দেওয়া যাবে না। বর্তমান সময়ে তালাক স্ত্রীর প্রতি অনেক ক্ষেত্রে যুলুম। উভয় পরিবারে ফেতনারও কারণ হয়ে যায়। তাই শুধু ঝগড়া-ঝাটির কারণে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। মুরববীদের সাথে ঝগড়া না করা এবং তাদেরকে সম্মান করা প্রত্যেকের দায়িত্ব। স্ত্রীকে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। আর শ্বশুর-শাশুড়ির কর্তব্য বউয়ের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেওয়া এবং তার সাথে স্নেহ-মমতার আচরণ করা।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮৪; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ১/৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়িতে যাওয়ার জন্য আমার...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়িতে যাওয়ার জন্য আমার থেকে অনুমতি চায়। আমি তাকে সাফ মানা করে দেই। তারপর কথার এক পর্যায়ে সে আমার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়। আমি তাকে বারবার তর্ক করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও সে আমার সাথে তর্ক করেই যাচ্ছে। ফলে এক পর্যায়ে আমি রাগের মাথায় তালাকের নিয়তে বলে ফেলি, যাও, তুমি আজ থেকে স্বাধীন। পরক্ষণেই আমি ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হই। এখন আমি জানতে চাই, আমার উক্ত কথার দ্বারা তালাক পতিত হয়েছে কি না? আর হয়ে থাকলে এখন আমাদের ঘর-সংসার করার জন্য করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ কথা বলার দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে বায়েন পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং তাকে ঐ দিন থেকেই ইদ্দত পালন করতে হবে। অবশ্য আপনারা যদি উভয়ে পুনরায় সুষ্ঠুরূপে ঘর সংসার করতে চান তাহলে ইদ্দতের ভিতরে বা পরে নতুন করে মোহর ধার্য করে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। এভাবে দ্বিতীয়বার তাকে বিবাহ করলে আপনি দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই স্ত্রীকে কখনো দুই তালাক প্রদান করলেই তার সাথে স্থায়ীভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন এভাবে নতুন বিবাহ করেও একত্রে থাকার সুযোগ থাকবে না।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক খুবই অপছন্দনীয়। তাই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তালাক দিয়ে দেওয়া অন্যায়। ক্ষেত্রবিশেষে তা স্ত্রী-পুত্রের প্রতি যুলুমও বটে। তাই তালাক দিতে চাইলে ভেবে-চিন্তে মুরববীদের সাথে পরামর্শ করে এবং বিজ্ঞ আলেম থেকে মাসআলা জেনে নিবে। রাগের বশবর্তী হয়ে কখনো তালাক দিবে না। কেননা এর পরিণাম অনেক ভয়াবহ ও লজ্জাকর।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৯৫, ২/৫৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/১৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৭২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার নাবালেগ মেয়ের সাথে আমার বন্ধু রায়হানের নাবালেগ ছেলে রাকিবের...

প্রশ্ন

আমার নাবালেগ মেয়ের সাথে আমার বন্ধু রায়হানের নাবালেগ ছেলে রাকিবের বিবাহ হয় গত দুই বছর আগে। কিছুদিন আগে তার সাথে আমার ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে সে তার নাবালেগ ছেলের পক্ষ থেকে আমার মেয়েকে তালাক দেয়। কিন্তু এখন পুনরায় আমাদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়েছে। তাই সে তার ছেলের সাথে আমার মেয়ের পূর্বের বিবাহকে বহাল রাখতে চাচ্ছে। আমার জানার বিষয় হল, তার পূর্বের ঐ তালাক কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

তালাক দেওয়ার অধিকার শুধু স্বামীর। ছেলে নাবালেগ হলেও পিতা ছেলের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার রাখেন না। তাই রায়হান সাহেব তার নাবালেগ সন্তানের স্ত্রীকে যে তালাক দিয়েছেন তা কার্যকর হয়নি। অতএব আপনার মেয়ের ঐ বিবাহ পূর্বের মতোই বহাল আছে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৪; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ২৯/১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: স্বামী-স্ত্রী

আমার এক বন্ধু গত তিন মাস আগে বিয়ে করেছে। কিন্তু...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু গত তিন মাস আগে বিয়ে করেছে। কিন্তু বউকে নিজের বাড়িতে তুলে আনেনি। কারণ বাড়ি নির্মাণ কাজ এখনো পুরাপুরি শেষ হয়নি। তাই আরো কয়েক মাস পরে তুলে আনবে। তবে সে তার শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া-আসা করে। এখন তার স্ত্রী তার কাছে খরচাদি চেয়েছে। তাই জানার বিষয় হল, স্ত্রীর খরচাদি দেওয়া তার উপর জরুরি কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রীর খরচাদি দেওয়া স্বামীর উপর ওয়াজিব। কেননা এক্ষেত্রে স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীর বাড়ি যেতে অসম্মতি নেই। স্বামীই বরং স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেনি। সুতরাং এক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামী থেকে খোরপোষ দাবি করতে পারবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪২২; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/২৭৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৫৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.