Login | Register

ফতোয়া: পর্দা

ফতোয়া নং: ৪৯১১
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: পর্দা

রোযা অবস্থায় নাক, কান, চোখে ড্রপ ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
হযরত রোযা অবস্থায় নাক কানে ড্রপ ব্যবহারের হুকুম কি? আর কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করার ফলে মুখে তিক্ততা অনুভব হয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙ্গবে না। যদিও তিক্ততা মুখে বা গলায় অনুভব হয় ৷ আর চোখের এ বিষয়টি সাধারণ কিয়াস বহির্ভুত সরাসরি আসার দ্বারা প্রমাণিত ৷
আধুনিক ডাক্তারদের আধুনিক উন্নতমানের থিউরী অনুযায়ী কানের ভিতরে এমন কোনো রাস্তা নেই যা দিয়ে সরাসরি গলায় কোনো কিছু পৌছে ৷ অতএব কানে ড্রপ ব্যবহার করার কারণে রোযা ভাঙ্গবে না ৷ অবশ্য কানের পর্দা ফাটা থাকলে রোজা ভেঙ্গে যাবে ৷
আর নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে যেহেতু সরাসরি গলায় পৌছে তাই রোযা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না ৷ এতে রোযা ভেঙ্গে যাবে ৷
-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪; আল ইসলাম ওয়াত্তীব্বুল হাদীস, পৃ: ৩২২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭১
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: পর্দা

মহিলাদের হজ্বের জন্য পাসপোর্টের ছবি তোলা ও পর্দা লঙ্গনের আশংকায় বদলি হজ্ব করানো ৷

প্রশ্ন
আমার খালা একজন আলেমা ৷ তার উপর হজ্ব ফরজ হয়েছে ৷ তিনি পর্দার প্রতি অনেক গুরুত্ব দেন ৷ পাসপোর্টের ছবির কথা শুনে তিনি অত্যান্ত মনক্ষুন্ন হন ৷ কারন ছবি অনেক পরপুরুষের নজরে পরবে ৷ তাই তিনি অত্যান্ত চিন্তত এবং তিনি নিজে হজ্বে না গিয়ে বদলি হজ্ব করানো ইচ্ছা পোষন করছেন ৷ তাই জানার বিষয় হলো, এসব বিবেচনায় খালার জন্য নিজে হজ্বে না গিয়ে বদলি হজ্ব করানোর সুযোগ আছে কিনা?মহিলাদের হজ্বর জন্য পাসপোর্টের ছবি তোলা বৈধ কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
একজন পর্দানশীন মুমিন নারীর জন্য তার চেহারা পরপুরুষের সম্মুখে প্রকাশ হওয়া এবং তার ছবি অন্যদের সামনে প্রদর্শিত হওয়া স্বভাবতই মনোক্ষুন্নের কারণ। তবে পর্দা যেমন আল্লাহ তাআলার বিধান তেমনি হজ্বও তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ফরয বিধান । সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার উপর যদি হজ্ব ফরয এবং নিজে হজ্ব করার মতো শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য থাকে, তার নিজের হজ্ব নিজেকেই গিয়ে করতে হবে। পাসপোর্টের ছবি পরপুরুষ দেখবে-এই কারণে বদলি করানো জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে বদলি করালে তার ফরয হজ্ব আদায় হবে না।
আর হজ্বের জন্য ছবি এবং ইমিগ্রেশনে চেক-আপ ইত্যাদি সব কিছুই হজ্বের ব্যবস্থাপনাগত বিষয়। হজ্ব কারি ব্যক্তির এসব বিষয়ে কিছুই করার থাকে না ৷ বরং সে আইনগতভাবেই এসব কাজ করতে বাধ্য। তাই এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়ের দায়ভার কর্তৃপক্ষের উপরই বর্তাবে। তার কোন গুনাহ হবে না ৷
-আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৯৮; আল বাহরুর রায়েক ৩/৬০ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩৮
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: পর্দা

মহিলাদের সম্মিলিত উচ্চস্বরে যিকির করা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকজন মিলে সালাতুত তাসবীহ পড়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি একজন ইমাম ৷ আমার দুটি প্রশ্ন ৷
(১) আমার মহল্লায় কিছু মহিলা যিকির মাহফিল করে ৷ তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উচু আওয়াজে যিকির করে ৷ এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত ?
(২) কিছু মহিলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকজন মিলে সালাতুত তাসবীহ নামায পড়ে ৷ এটা কি বৈধ?
উত্তর
(১) যিকির করা উত্তম ও সাওয়াবের কাজ ৷ কিন্তু তার জন্য মহিলাদের জমা হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই ৷ মহিলাদের আওয়াজও সতরের অন্তর্ভূক্ত। তাই কোন অবস্থাতেই মহিলাদের একসাথে জমা হয়ে উচ্চস্বরে যিকির করা জায়েয নয় । এতে ছাওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে। আর এ যিকির করতে গিয়ে যদি এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাওয়ার সময় পর্দার খেলাফ হয়, তাহলে তা হবে জঘন্ন পর্যায়ের গুনাহ ৷ ফরজ লঙ্গন করে উত্তম কে নিয়ে লিপ্ত হওয়া ৷ তাই মহিলাদের যিকির জোরে নয়, বরং নিঃশব্দে বা শুধু নিজে শোনার মত অল্প আওয়াজে একাকী যিকির করতে হবে। এর দ্বারাই তাদের যিকিরের ফজীলত লাভ হবে। এজন্য তাদের কর্তব্য তারা প্রত্যেকে যার যার মত একাকি নিজ নিজ ঘরে বসে নির্জনে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর যিকির করবে।
-সূরাহ নূর, ৩০,৩১; মিশকাত শরীফ, ১৯৭; ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫ / ৩২৭৷
(২) ফেতনার আশংকায় মহিলাদের ফরয নামায আদায়ের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া জায়েয নেই ৷ আর
সালাতুত তাসবীহ হল, নফল নামায। সুতরাং মহিলাদের
জন্য সালাতুত তাসবীহ তথা নফল নামায বাড়ি বাড়ি গিয়ে আদায় করা কোন ভাবেই বৈধ হবে না ৷ তাই তাদের জন্য কর্তব্য হলো সালাতুত তসবীহ নামায পড়তে হলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ঘরে একাকী আদায় করবে ৷
-ফাতহুল ক্বদীর- ১/৩৬৩; বাহরুর রায়েক- ১/৬১৫; মারাক্বিউল ফালাহ- ৩৮৬ আদ্দুররুল মুখতার মাআ রদ্দিল মুহতার- ১/৫৬৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২৭
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: পর্দা

সৎ শাশুড়ির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করা ৷

প্রশ্ন
আমার স্ত্রীর ছোটে বেলায় মা মারা যান ৷ তার বাবা পুনরায় বিয়ে করেন ৷ এখন তার সৎ মা-ই আমার শাশুড়ী ৷ তো আমি জানি শাশুড়ি মাহরাম ৷ তার সাথে দেখা দেওয়া জায়েয। তবে জানার বিষয় হলো, স্ত্রীর সৎ মা তথা আমার সৎ শ্বাশুড়ীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ
জায়েয হবে কিনা ?
উত্তর
না, সৎ শাশুড়ি অর্থাৎ স্ত্রীর সৎ মা মাহরাম নয়। তার সাথে পর্দা করা জরুরি। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার সৎ শাশুড়ির সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করা জায়েয হবে না ৷
-আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৯ আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৪৯
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: পর্দা

মহিলা মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে পড়ালেখা করা৷

প্রশ্ন
বর্তমানে প্রচলিত মহিলা মাদ্রাসায় প্রাপ্ত বয়স্কা অবিবাহিতা মেয়েরা আবাসিক থেকে পড়তে পারবে কিনা? মাহরাম ছাড়া দূরে কোথাও ‍গিয়ে সেখানে অবস্থান করে পড়ালেখা করা কতটুকু শরিয়তসম্মত?
উত্তর
প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের জন্য ইসলামের বিধান হলো, প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া ৷ বাড়ীতেই অবস্থান করা।
কেননা নবী করীম সাঃ ইরশাদ করেছেন: মহিলা হলো গোপনীয় বস্তু, যখন সে বাহিরে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি দেয়; যেন তাকে এবং তার দ্বারা অন্যদেরকে বিপথগামী করতে পারে।
মিরকাত 6/282৷
এজন্য ফুকাহাগন মহিলাদের ঘর হতে বের হতে নিষেধ করেছেন। তারা দ্বীনের প্রয়োজনীয় ইলম যেমন: নামায,রোজা ও অন্যান্য মাস’য়ালা মাহরামের কাছ থেকে জেনে নিবে।
তবে ঘরে শিখানোর মত কোন মাহরাম না থাকলে; যেমন,আজকাল অধিকাংশ অভিভাবকেরই এ অবস্থা যে, তারা তাদের পরিবাস্থদের দ্বীন শিখাবে তো দুরের কথা তারাই দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ। ফলে তাদের পরিবারও দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞই থাকে। এমতাবস্থায় জরুরী মাস’য়ালা শিখার জন্য প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েরা পূর্ণ শরয়ী পর্দা করে কোন মাদ্রাসায় আবাসিক থেকে পড়ালেখা করতে পারবে। তবে নিম্মোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে।
১৷ যাতায়াতের সময় অভিভাবক সাথে থাকা।
২৷ আসা-যাওয়ার সময় সুগন্ধি যুক্ত আতর, সেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার না করা।
৩৷ যেখানে পড়া-শুনা করবে সেখানে পরিপূর্ণ পর্দার
ব্যবস্থা থাকা।
৪৷ বিনা প্রয়োজনে মেয়েদের আওয়াজ পুরুষরা না শুনা।
সূরা আহযাব: ৩৩, তাফসীরে রুহুল মা'আনী ২২/২৪৮; সহীহ বোখারী ১/১৪৭; মেরকাত শরহে মেশকাত ৬/২৮২; আদ দুররুল মুখতার ৩/৩২৪; আল বাহরুর রায়েক ৪/৩৩১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৬৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: পর্দা

মহিলাদের জন্য পুরুষ বক্তাদের চেহারা দেখে বয়ান শোনা৷

প্রশ্ন
আমরা জানি গায়রে মাহরাম নারীদের দিকে তাকানো পুরুষদের জন্য হারাম। মহিলাদের জন্যও কি একই হুকুম প্রযোজ্য? মহিলাদের জন্য টিভি বা কোন ইসলামিক প্রোগ্রামে কোন শাইখের চেহারা দেখে সরাসরি বয়ান শোনা কি জায়েজ? আমাদের দেশে অনেক জায়গায় হলরুম ভাড়া করে ইসলামিক প্রোগ্রাম হয়, সেখানে নারীরা পেছনের আসনে বসেন কিন্তু সরাসরি শাইখের চেহারা দেখে কথা শোনেন। এটা কি জায়েজ হচ্ছে? জানাবেন আশা করি। জাযাকাল্লাহ খায়রান।
উত্তর
পর্দার ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মাঝে ক্ষাণিক পার্থক্য আছে। যেমন আকৃষ্টতা থাকুক বা না থাকুক কোন অবস্থাতেই তীব্র প্রয়োজন ছাড়া পুরুষদের জন্য গায়রে মাহরাম নারীদের দিকে তাকানো জায়েজ
নয়।
কিন্তু নারীদের বেলায় দুই সূরত। যথা-

আকৃষ্ট হবার শংকা থাকা অবস্থায় তাকানো।

আকৃষ্ট হবার শংকা না হওয়া অবস্থায় তাকানো। এক্ষেত্রে প্রথম সূরতে নারীদের জন্য পর পুরুষের দিকে তাকানো জায়েজ নয়। তবে দ্বিতীয় সূরতে জায়েজ আছে। যদিও উত্তম নয়। আর বিশেষ করে ওয়াজ মাহফিলের মত গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবগাম্ভির্যপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নারীদের বক্তার দিকে তাকিয়ে বয়ান শোনা কিছুতেই শোভন নয়। আকৃষ্ট হবার শংকা না থাকলেও মাহফিলগুলোতে প্রজেক্টর ইত্যাদির মাধ্যমে সরাসরি দেখানো উচিত নয়। আর যদি আকৃষ্ট হবার শংকা থাকে, তাহলে এভাবে দেখে বয়ান শোনা কিছুতেই জায়েজ হবে না। [কিতাবুল ফাতওয়া-৬/১০১] আম্মাজান আয়শা রাঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আড়ালে থেকে হাবশীদের খেলা দেখেছিলেন। বুখারী, হাদীস নং-৫১৯০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: পর্দা

প্রথম সন্তান হওয়ার ভিন্ন ফযীলত৷ 

প্রশ্ন
আমার একটি মেয়ে সম্তান হয়েছে । আলহামদুলিল্লাহ । সবাই বলে যে – “প্রথম সন্তান মেয়ে হলে ভাগ্যবান” । উক্তিটি কি সঠিক ? বিস্তারিত জানালে খুশি হব । আহালে হক মিডিয়ার প্রচার ও প্রসার এর জন্য অনেক দুয়া ও শুভ কামনা রইল ।
উত্তর
পবিত্র কুরআনে কন্যা সন্তান জন্ম হওয়াকে সুসংবাদ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেটিকে সুসংবাদ বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তা প্রাপ্ত হওয়াতো অবশ্যই ভাগ্যবানের নিদর্শন বৈ কিছু
নয়।
তবে প্রথম সন্তান কন্যা হওয়ার আলাদা ফযীলত আছে বলে কোন বিশুদ্ধ বর্ণনা দৃষ্টিগোচর হয়নি।
‎ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺑُﺸِّﺮَ ﺃَﺣَﺪُﻫُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺄُﻧْﺜَﻰ ﻇَﻞَّ ﻭَﺟْﻬُﻪُ ﻣُﺴْﻮَﺩًّﺍ ﻭَﻫُﻮَ
‎ﻛَﻈِﻴﻢٌ l ﻳَﺘَﻮَﺍﺭَﻯ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻘَﻮْﻡِ ﻣِﻦْ ﺳُﻮﺀِ ﻣَﺎ ﺑُﺸِّﺮَ ﺑِﻪِ
‎ﺃَﻳُﻤْﺴِﻜُﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﻫُﻮﻥٍ ﺃَﻡْ ﻳَﺪُﺳُّﻪُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺘُّﺮَﺍﺏِ ﺃَﻟَﺎ ﺳَﺎﺀَ ﻣَﺎ
‎ﻳَﺤْﻜُﻤُﻮﻥَ তাদের কাউকে যখন কন্যা সন্তানের ‘সুসংবাদ’ দেয়া হয় তখন তার চেহারা মলিন হয়ে যায় এবং সে অসহনীয় মনস্তাপে ক্লিষ্ট হয়। সে এ সুসংবাদকে খারাপ মনে করে নিজ সম্প্রদায় থেকে লুকিয়ে বেড়ায় (এবং চিন্তা করে ) হীনতা স্বীকার করে তাকে নিজের কাছে রেখে দেবে,নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে। কত নিকৃষ্ট ছিল তাদের সিদ্ধান্ত। সূরা নাহল,আয়াত : ৫৮-৫৯ হাদীসের মাঝে কন্যা সন্তান লালন পালনের অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন- হযরত আম্মাজান আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
‎ﻣَﻦِ ﺍﺑْﺘُﻠِﻲَ ﻣِﻦْ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺒَﻨَﺎﺕِ ﺑِﺸَﻲْﺀٍ ﻛُﻦَّ ﻟَﻪُ ﺳِﺘْﺮًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺭِ
যাকে এরূপ কন্যা সন্তানের ব্যাপারে পরীক্ষা করা হয়, সে কন্যা সন্তান তার জন্য জাহান্নামের আগুন হতে পর্দা হবে। বুখারী, হাদীস নং-১৪১৮
‎ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ – ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ :- ﻗﻮﻟﻪ – ﺻﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
‎ﻭﺳﻠَّﻢ – ))ﺑﺸﻲﺀٍ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﻨﺎﺕ :(( ﻳُﻔﻴﺪ ﺑﻌﻤﻮﻣﻪ، ﺃﻥَّ
‎ﺍﻟﺴِّﺘْﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﻳﺤﺼﻞ ﺑﺎﻹﺣﺴﺎﻥ ﺇﻟﻰ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﻣِﻦ
‎ﺍﻟﺒﻨﺎﺕ .
‎ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
‎ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﺭَﺟُﻞٍ ﺗُﺪْﺭِﻙُ ﻟَﻪُ ﺍﺑْﻨَﺘَﺎﻥ،ِ ﻓَﻴُﺤْﺴِﻦُ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻤَﺎ
‎ﻣَﺎ ﺻَﺤِﺒَﺘَﺎﻩُ – ﺃَﻭْ ﺻَﺤِﺒَﻬُﻤَﺎ – ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﺩْﺧَﻠَﺘَﺎﻩُ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔَ
হযরত আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোন ব্যক্তির দু’টি কন্যা সন্তান থাকলে, সে তাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করলে যতদিন একত্রে বসবাস করবে, তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ
করাবে।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৩৭০, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২১০৫, ৩৪১৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: পর্দা

মেয়ের জন্য পর্দা রক্ষা করে ভিন্ন ভাষা শিক্ষার কোর্স করা৷

প্রশ্ন
বর্তমানে জাপানে আছি। এবং জাপানি ভাষা রপ্ত করা আমার জন্য খুবই জরুরি। এর জন্য আমাকে ক্লাস করতে হবে যেখানে পুরুষ শিক্ষক এবং ছাত্ররাও থাকতে পারে। এমতাবস্থায় নিকাব সহ পর্দা রক্ষা করে যদি ক্লাস করি তবে কি গুনাহ হবে? শরীয়তে এর বিধান কি? যথাসম্ভব দ্রুত উত্তর দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। আল্লাহ আপনাদের ভাল করুন।
উত্তর
মেয়ের জন্য পর্দা পূর্ণভাবে রক্ষা করে ক্লাস
করাতে, শিক্ষা গ্রহণ করতে কোন
সমস্যা নেই। অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনি
জাপানি ভাষা শিক্ষা গ্রহন করতে পারবেন৷
‎ﻗَﺎﻝَ ﻓِﻲ ﺗَﺒْﻴِﻴﻦِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡِ : ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻓَﺮْﺽُ ﺍﻟْﻜِﻔَﺎﻳَﺔِ ﻣِﻦْ
‎ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ، ﻓَﻬُﻮَ ﻛُﻞُّ ﻋِﻠْﻢٍ ﻟَﺎ ﻳُﺴْﺘَﻐْﻨَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﻗِﻮَﺍﻡِ ﺃُﻣُﻮﺭِ
‎ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻛَﺎﻟﻄِّﺐِّ ﻭَﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏِ ﻭَﺍﻟﻨَّﺤْﻮِ ﻭَﺍﻟﻠُّﻐَﺔِ ﻭَﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡِ ‏( ﺭﺩ
‎ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻣﻘﺪﻣﺔ- 1/42 ) উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৫৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: পর্দা

আমরা জানি, শাশুড়ির সাথে দেখা দেওয়া জায়েয। প্রশ্ন হল, শাশুড়ি...

প্রশ্ন
আমরা জানি, শাশুড়ির সাথে দেখা দেওয়া জায়েয। প্রশ্ন হল, শাশুড়ি যদি
আপন না হয় অর্থাৎ স্ত্রীর সৎ মা হয়
তাহলে কি তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ
জায়েয হবে?
উত্তর
না, সৎ শাশুড়ি (অর্থাৎ স্ত্রীর সৎ মা) মাহরাম নয়। তার সাথে পর্দা করা জরুরি। দেখা-সাক্ষাত করা জায়েয নয়। -আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৯

ফতোয়া নং: ৪১৪৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: পর্দা

আমার আম্মা গত বছর ইন্তেকাল করেছেন। আব্বা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন।...

প্রশ্ন
আমার আম্মা গত বছর ইন্তেকাল করেছেন। আব্বা দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন। সৎ মা
(আব্বার দ্বিতীয় স্ত্রী)-এর পিতা ক’দিন পরপর আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
আমি তাকে নানা ডাকি। তাকে মাহরাম মনে করে তার সামনে অবাধে যাওয়া-আসা করতাম। কিন্তু
ক’দিন আগে আমার চাচাতো বোন বলল, সৎ মায়ের পিতার সাথে পর্দা করা জরুরি। এখন
জানার বিষয় হল, তার কথা কি সঠিক?
উত্তর
হাঁ, সে ঠিকই বলেছে। সৎ মায়ের পিতা মাহরাম নয়। তার সাথে পর্দা করা ফরয।
ফাতাওয়া খায়রিয়া ১/৩৯; আননাহরুল ফায়েক ২/৪৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ৫/১০৫; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১
ফতোয়া নং: ৩৭৮০
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: পর্দা

আমাদের কলেজে মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি। এমনকি পরীক্ষার সময় মেয়েদের...

প্রশ্ন
আমাদের কলেজে মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি। এমনকি পরীক্ষার সময় মেয়েদের সাথে বসতে হয়। কারণ আমাদের রোল অনুযায়ী সিট প্ল্যান করা হয়। এ অবস্থায় আমি কীভাবে আমার মহামূল্যবান ঈমান ঠিক রাখতে পারি?
উত্তর
আমাদের দেশে সরকারী/ বেসরকারী বিভিন্ন মানের একাধিক বয়েজ কলেজ আছে। আপনার কর্তব্য ছিল প্রথম থেকেই বয়েজ কলেজে এডমিশন নেয়া। সেক্ষেত্রে আর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হত না। এখন যদি আপনার জন্য বয়েজ কলেজে ট্রান্সফার হওয়া সম্ভব হয় তাহলে তাই সমীচীন হবে। যতদিন তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি যথাসম্ভব দৃষ্টিকে সংযত রাখবেন। মেয়েদের সাথে উঠাবসা ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন। আর কখনো ভুল হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করবেন। দৃষ্টি ও মন হেফাযত রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করবেন। সময় পেলে হক্কানী আলেম ও আল্লাহ ওয়ালাদের সাথে উঠাবসা করবেন এবং তাদের ওয়ায-নসীহত শুনবেন। প্রকাশ থাকে যে, সহশিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী। এতে পর্দার হুকুম লঙ্ঘনের গুনাহ ছাড়াও আরো অনেক গুনাহর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ ধরনের পরিবেশ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা মুসলমানের কর্তব্য। -সূরা নূর : ৩০; তাফসীরে কুরতুবী ১২/১৪৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৩৭৩; ফাতহুল বারী ২/৩৯২;
ফতোয়া নং: ২৮৫৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: পর্দা

তিন তালাকপ্রাপ্তা এবং বিধবা মহিলাদের জন্য কি স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত...

প্রশ্ন
তিন তালাকপ্রাপ্তা এবং বিধবা মহিলাদের জন্য কি স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করা জরুরি? বাবার বাড়িতে গিয়ে ইদ্দত পালন করতে পারবে কি না? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কী?
উত্তর
তালাকপ্রাপ্তা এবং বিধবা মহিলার জন্য স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। বিশেষ ওজর ব্যতীত স্বামীর বাড়ি ছাড়া বাবার বাড়িতে কিংবা অন্য কোথাও গিয়ে ইদ্দত পালন করা জায়েয নেই। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তাদেরকে (ইদ্দতরত মহিলাকে) তাদের ঘর থেকে বের করে দিও না। আর তারা নিজেরাও যেন বের না হয়। যদি না তারা কোনো প্রকাশ্য অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। -সূরা তালাক : ১
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) তোমরা ঐ (তালাক প্রদত্ত) স্ত্রীদেরকে তোমাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা অনুপাতে থাকার ঘর দাও যেখানে তোমরা বসবাস কর। আর তাদেরকে সঙ্কটে ফেলার জন্য (বাসস্থান সম্বন্ধে) কষ্ট দিও না। -সূরা তালাক : ৬
উল্লেখ্য যে, তালাকপ্রাপ্তা মহিলার ইদ্দতের সময় তার স্বামী ভিন্ন ঘরে বসবাস করবে। মহিলার ঘরে নয়।
আরো উল্লেখ্য যে, স্বামীর বাড়িতে যদি পর্দার সাথে থাকার ব্যবস্থা না হয় কিংবা তার জন্য সেখানে থাকা বেশি কষ্টকর বা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয় তাহলে সে বাড়ি ত্যাগ করে বাবার বাড়ি কিংবা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে ইদ্দত পালন করতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে যেখানে যাবে সেখানেই ইদ্দত পূর্ণ করবে। ইদ্দত শেষ হওয়ার আগে বিনা জরুরতে সেখান থেকে অন্যত্র থাকা জায়েয হবে না।
হযরত ফাতেমা বিনতে কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছি, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে এখন আমি আমার সাথে ব্যভিচারের ভয় করছি। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্থানান্তর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৯১৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১২/১৪৫; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়াইতিয়্যাহ ২৯/৩৪৭
ফতোয়া নং: ২৮২০
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: পর্দা

আমাদের এলাকার এক মসজিদের ইমাম আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি সেখানে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক মসজিদের ইমাম আলিয়া মাদরাসার শিক্ষক। তিনি সেখানে উপযুক্ত বয়সের ছেলে- মেয়েদেরকে পড়ান। জানার বিষয়
হল,পর্দার বিধান লঙ্ঘনকারী ইমামের পিছনে নামায পড়ার বিধান কী?
বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানতে চাই।
উত্তর
সহশিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি শরীয়তের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী। পর্দার বয়স হয়ে যাওয়ার পর গায়রে মাহরাম মেয়েদেরকে
সরাসরি পড়ানো নাজায়েয। এতে পর্দার হুকুম লঙ্ঘনের গুনাহ ছাড়াও আরো অনেক গুনাহর আশঙ্কা থাকে। নিয়মিত এমন গুনাহর কাজে লিপ্ত ব্যক্তি ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়।
শরীয়তের দৃষ্টিতে ইমামতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সংশ্লিষ্ট মাসআলা- মাসাইল জানেন এবং সুন্নতের অনুসারী পরহেযগার ব্যক্তিই এ পদের যোগ্য। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি ঐ সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় ইমাম
হওয়ার যোগ্য নয়। এ ধরনের ব্যক্তির ইমামতি মাকরূহে তাহরীমী। তবে এমন ব্যক্তির পিছনে নামায আদায় করলেও তা
আদায় হয়ে যাবে।
প্রকাশ থাকে যে, মসজিদ কমিটির কর্তব্য হল, যথাসম্ভব উপযুক্ত ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নির্বাচন করা,প্রকাশ্যে গুনাহয়
লিপ্ত কিংবা শরীয়তের বিধানের প্রতি উদাসীন ব্যক্তিকে এ পদে নিয়োগ না দেওয়া।
-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯২; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৮; শরহুল মুনইয়াহ ৫১৩
ফতোয়া নং: ২৮১০
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: পর্দা

জনৈক ব্যক্তি সার্বিকভাবে দ্বীনদার ও সম্ভ্রান্ত। পরিবারের সবাই দ্বীন-ধর্ম বিশেষত...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি সার্বিকভাবে দ্বীনদার ও সম্ভ্রান্ত। পরিবারের সবাই দ্বীন-ধর্ম বিশেষত পর্দা-পুশিদার ব্যাপারে খুবই সচেতন। বর্তমানে
উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। হজ্বে যেতে হলে আইডি কার্ড ও পাসপোর্ট করতে
হবে। এগুলোতে ছবি অত্যাবশ্যকীয়। ছবি যদিও
কোনো মহিলার মাধ্যমে তোলা সম্ভব হবে কিন্তু
পাসপোর্টের ছবি অনেক পরপুরুষের নজরে পড়বে।
বিশেষ করে জেদ্দায় পাসপোর্টের ছবি দেখিয়ে তার বাহককে তালাশ করা হয়। মুফতী ছাহেবের খেদমতে
আরজ এই যে, এসব বিবেচনায় উক্ত ব্যক্তির
স্ত্রীর জন্য নিজে হজ্বে না গিয়ে বদলি হজ্ব করানোর সুযোগ আছে কি?
উত্তর
পর্দার বিধানের প্রতি যথাযথভাবে আমল করা এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় মানসিকতা ও ঈমানী গায়রত ও জযবা প্রশংসনীয় বিষয়। একজন পর্দানশীন মুমিন নারীর জন্য তার চেহারা পরপুরুষের সম্মুখে
অনাবৃত হওয়া এবং তার ছবি অন্যদের সামনে প্রদর্শিত হওয়া স্বভাবতই মনোকষ্টের কারণ। তবে পর্দা যেমন আল¬াহ তাআলার বিধান তেমনি
হজ্বও তাঁরই গুরুত্বপূর্ণ ফরয হুকুম। বান্দার কর্তব্য হল, সর্বদা নিজের জযবা ও আবেগের উপর আল্লাহ তাআলার হুকুমকে প্রাধান্য দেওয়া এবং আল্লাহ তাআলার হুকুমের সামনে নিজের যুক্তি ও আবেগকে সমর্পিত করা। এটিই প্রকৃত বন্দেগী। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার উপর যেহেতু হজ্ব ফরয এবং নিজে হজ্ব করার মতো শারীরিক শক্তি-সামর্থ্য তার আছে তাই তার নিজের হজ্ব নিজেকেই গিয়ে করতে হবে। পাসপোর্টের ছবি পরপুরুষ দেখবে-এই কারণে বদলি করানো জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে বদলি করালে তার ফরয হজ্ব আদায় হবে না।
প্রকাশ থাকে যে, হজ্বের জন্য ছবিযুক্ত পাসপোর্ট
করা এবং ছবি পাসপোর্ট ইমিগ্রেশনে চেক-আপ
হওয়া এসব কিছুই হজ্বের ব্যবস্থাপনাগত বিষয়।
হজ্বে গমনেচ্ছু ব্যক্তির এসব বিষয়ে কিছুই করার
থাকে না; বরং এখানে সে আইনগতভাবেই এসব কাজ
করতে বাধ্য। তাই এসব ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা
সংক্রান্ত বিষয়ের দায়ভার কর্তৃপক্ষের উপরই
বর্তাবে। -আল বাহরুর রায়েক ৩/৬০; আদ্দুররুল মুখতার
২/৫৯৮
ফতোয়া নং: ২৫২৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: পর্দা

এক ব্যক্তি সেদিন পর্দার আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, কোনো মহিলার...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি সেদিন পর্দার আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, কোনো মহিলার যখন ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়ে যায় তখন আর তার সাথে পর্দার বিধান থাকে না। তাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েয। তার এ কথা কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
বেগানা নারীর সাথে পর্দা করা ফরয। বয়স্কা মহিলার সাথেও পর পুরুষের পর্দা করা জরুরি। তবে অতিশয় বৃদ্ধা মহিলা, যাকে দেখলে পর পুরুষের কোনো আকর্ষণই সৃষ্টি হয় না- এ ধরনের বুড়ি মহিলার ক্ষেত্রে শুধু চেহারার পর্দার ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। এ বয়সেও পর পুরুষের সামনে চুল ইত্যাদি পরিপূর্ণ ঢেকে রাখতে হবে। অবশ্য এগুলো ঢেকে শুধু চেহারা খোলা রাখা বৈধ। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) আর বয়স্কা বৃদ্ধা নারীগণ যাদের বিবাহের কোনো আশা নেই তারা যদি তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের (অতিরিক্ত) বস্ত্র খুলে রাখে তাহলে তাদের জন্য কোনো দোষ নেই। তবে এ থেকে বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। -সূরা নূর : ৬০ উল্লেখ্য, অতিশয় বুড়ি মহিলার সাথে চেহারার পর্দার বিধানের উক্ত শিথিলতা নির্দিষ্ট কোনো বয়সের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বৃদ্ধা হওয়ার পাশাপাশি চেহারার আকর্ষণ এবং গড়ন ভেঙ্গে পড়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই কোনো মহিলার বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হয়ে গেলেই তার সাথে পর পুরুষের দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েয-এমন কথা ব্যাপকভাবে বলা ঠিক নয়। বরং ৬৫ বছর পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো মহিলার শারীরিক গঠন ও চেহারার আকর্ষণ যদি বাকি থাকে তাহলেও ঐ মহিলার চেহারার পর্দার হুকুম বহাল থাকবে। তার ক্ষেত্রে উক্ত ছাড় প্রযোজ্য হবে না। -আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৩৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৪৮৬-৭; তাফসীরে কুরতুবী ১২/২০৩

Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.