Login | Register

ফতোয়া: সফর

ফতোয়া নং: ২৮৬১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু...

প্রশ্ন
হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু মনে হজ্ব করার খুব আগ্রহ ছিল। এরপর মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম- এর হজ্ব সফরনামা ‘‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’’ পড়ে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ফলে ২০১০ সালে আমার এক বন্ধুর সাথে হজ্বে যাই। আমার হজ্বের যাবতীয় খরচ সে বহন করেছে এ শর্তে যে, পরবর্তীতে সময়-সুযোগমতো তাকে আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে দিব। হজ্ব করে আসার পর দুই বছরের মধ্যে আমি তাকে ঐ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এখন আমার কাছে অনেক টাকা পয়সা আছে। এ বছর আমি আবার হজ্ব করতে চাচ্ছি। তাই হুযুরের নিকট জানতে চাই যে, আমার অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব কি ফরয হিসেবে আদায় হয়েছে? আর এ বছর আমি কোন হজ্বের নিয়ত করব, ফরয নাকি নফল হজ্বের? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
অস্বচ্ছল অবস্থায় কেউ ঋণ করে হজ্ব আদায় করলেও তা ফরয হিসেবেই আদায় হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ হজ্ব ফরয হিসেবেই আদায় হয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে হজ্ব করলে তা নফল গণ্য হবে। তবে ঐ হজ্বের এহরামের সময় আপনি যদি সুনির্দিষ্টভাবে নফল হজ্বের নিয়ত করে থাকেন তা নফল হিসেবেই আদায় হয়েছে। ফরয হজ্ব আদায হয়নি। সামনে তা আদায় করে নিতে হবে। -গুনইয়াতুন নাসিক ৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪১; আলবাহরুল আমীক ১/৩৮৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব...

প্রশ্ন
আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব ফরয। আমার স্বামীর দ্বীনের বুঝ নেই। তার উপর হজ্ব ফরয হওয়া সত্তে¡ও তিনি হজ্ব করছেন না। আমি অনুমতি চাচ্ছি আমাকেও অনুমতি দিচ্ছেন না। আমার জানার বিষয় হল, আগামী বছর আমার ভাই হজ্বে যাবেন। স্বামীর অনুমতি ছাড়াই আমি ভাইয়ের সাথে হজ্বে যেতে পারব কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
হজ্ব আল্লাহ তাআলার মহান হুকুম। শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ ফরয। হজ্ব ফরয হলে বিলম্ব করা গুনাহ। তাই আপনাদের উভয়েরই অনতিবিলম্বে হজ্বে যাওয়া আবশ্যক। কোনো কারণে স্বামীর যেতে যদি বিলম্ব হয় আর আপনার মাহরামের ব্যবস্থাও হয়ে যায় তবে স্বামীর জন্য আপনাকে বাধা দেওয়া ঠিক হবে না। তাই স্বামীকে এ বিষয়
বোঝাতে চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে তাকে রাজি করে তার সাথেই হজ্বে যান। যদি তিনি না যান তবে আপনি ভাইয়ের সঙ্গে ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য যেতে পারবেন। কেননা ফরয হজ্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল হজ্ব কিংবা ওমরা আদায়ের জন্য সফর করতে চাইলে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। তার অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৫; গুনইয়াতুন নাসিক ২৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৬১
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

আমি ঢাকার উত্তরায় থাকি। বাড়ি উত্তরবঙ্গের নাটোরে। গ্রামের বাড়ি যেতে...

প্রশ্ন
আমি ঢাকার উত্তরায় থাকি। বাড়ি উত্তরবঙ্গের নাটোরে। গ্রামের বাড়ি যেতে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে বাসে উঠি। উত্তরা থেকে গাবতলী বেশ লম্বা পথ। মাঝপথে অনেক সময় নামায পড়তে হয়। বিপাকে পড়ে যাই নামায কীভাবে পড়ব। তাই জানার
বিষয় হল,
উত্তরা থেকে গাবতলী আসার পথে যেসব নামায পড়ব তা কি কসর পড়ব? সঠিক উত্তরটি জানালে কৃতজ্ঞ
থাকব।
উত্তর
সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেও ঢাকা সিটির ভিতরে আপনাকে পূর্ণ নামায আদায় করতে হবে। গাবতলীর দিকে আমিনবাজার ব্রীজ বর্তমান ঢাকা সিটির শেষ সীমানা। তাই আমিনবাজার ব্রীজ অতিক্রম করার পর থেকে কসর শুরু করবেন। -কিতাবুল আছল ১/২৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৫৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি।...

প্রশ্ন
আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। প্রতি এক মাস পর পর গ্রামের বাড়িতে যাই। জানার বিষয় হল, আসা-যাওয়ার পথে মুসাফির হিসেবে নামায পড়ব, নাকি মুকীম হিসেবে? দলিল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার গ্রাম থেকে ঢাকা শহর যেহেতু সফরসম দূরত্বে অবস্থিত তাই যাওয়ার সময় ঢাকা সিটি থেকে বের হওয়ার পর থেকে আপনার গ্রামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত এবং ফেরার সময় আপনার গ্রাম থেকে বের হওয়ার পর হতে ঢাকা সিটিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত পুরো সময় মুসাফির থাকবেন। তাই এ সময় আপনি মুসাফির হিসেবে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়বেন। তবে মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায পুরোই পড়তে হবে। -মুসনাদে আবু ইয়ালা ৫/৩৩০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৫৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১০৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৩০
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি...

প্রশ্ন
জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি আমি কি তাহলে নানা বাড়ীতে গেলে মুকীম থাকব? প্রকাশ থাকে যে, আমি আমার পিতা-মাতার সাথে তাদের বাড়িতেই থাকি। নানা বাড়িতে থাকি না।
উত্তর
কোথাও জন্মগ্রহণের দ্বারাই ঐ স্থান ওয়াতনে আসলী হয়ে যায় না। বরং স্থায়ীভাবে বসবাস করলে তা ওয়াতনে আসলী হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু নানা বাড়ী বসবাস করেন না বরং পিত্রালয়ই হচ্ছে আপনার স্থায়ী আবাসস্থল তাই পিত্রালয়ই আপনার ওয়াতনে আসলী গণ্য হবে এবং সেখানে আপনি মুকীম হবেন। -আলমাবসূত ১/২৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৪২
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি? (খ) এক মহিলার...

প্রশ্ন
(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি? (খ) এক মহিলার স্বামী ও সন্তান নেই। তার বয়স ৬৮ বছর। চলাফেরা করতে পারেন। তিনি কি তার হজ্ব কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন?
উত্তর
(ক) স্বামী বা যথাযথ অভিভাবকের অনুমতি থাকলে এবং মাহরাম পুরুষ সাথে থাকলে মহিলারাও বদলী হজ্বে যেতে পারবে।-গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩৭; মানাসিক মোল্লা আলী কারী, ৩৩৭; আল মাসালিক ফিল মানাসিক ২/৮৯৩; আলবাহরুল আমীক
৪/২২৬৮
(খ) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা বয়স্কা হলেও যেহেতু তিনি চলাফেরা করতে পারেন সুতরাং তার সাথে হজ্ব করার মত কোনো মাহরাম পুরুষ থাকলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো জায়েয হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহরামের ব্যবস্থা না হলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো বা বদলী হজ্বের ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরি হবে। আর হজ্বের সফরে স্বামী বা পুত্র থাকা জরুরি নয়। বরং অন্য যে কোনো মাহরাম সঙ্গী (যেমন : ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি) পাওয়া গেলেও বদলী করানো যাবে না, নিজেই যাওয়া ফরয হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতহুল কাদীর ৩/৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৪১
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার...

প্রশ্ন
হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে দাদি হজ্ব করতে পারবেন এ পরিমাণ সম্পদ মিরাস হিসেবে পেয়েছেন। গত বছর দাদি তাঁর প্রতিবেশী এক লোকের সাথে হজ্ব করতে যান। জানার বিষয় হলো, বৃদ্ধা মহিলার জন্য কি পর- পুরুষের সাথে হজ্ব করতে যাওয়া বৈধ হবে? যদি বৈধ না হয় তাহলে তার হজ্ব কি আদায় হয়ে যাবে?
উত্তর
বৃদ্ধা মহিলার জন্যও মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার অনুমতি নেই। হাদীস শরীফে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে এবং মাহরাম না থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ যেন তার কাছে গমন না করে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চাচ্ছে। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তার (স্ত্রীর) সাথেই হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৩৮ আরেক হাদীসে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্ব করতে না যায়। সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩ তারপরও কোনো মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ্ব আদায় করে তাহলে তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাহরাম ছাড়া যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে। উল্লেখ্য যে, মাহরাম ছাড়া হজ্বে গেলে অনেক জায়গায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। সৌদী দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় অন্যকে মাহরাম দেখাতে হয়। এজেন্সিওয়ালারা পরপুরুষকে মাহরাম হিসেবে দেখিয়ে তার ভিসার ব্যবস্থা করে থাকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করতে গিয়ে এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া খুবই ঘৃণিত কাজ এবং অন্যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদদুর ১/৪৮৪; গুনয়াতুন নাসিক পৃ ২৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৩৬
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা...

প্রশ্ন
আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াত খরচ ও সফর অবস্থায় থাকা-খাওয়ার খরচ ব্যবসার টাকা থেকেই নিয়ে থাকি। কিছুদিন পূর্বে ব্যবসার কাজে ঢাকা যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত চিকিৎসার খরচ আমি ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারব কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনুমতি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁ, তারা অনুমতি দিলে নিতে পারবেন। অবশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে সফর করলে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সাধারণ খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারবেন। -কিতাবুল আছল ৪/১৭-১৮০; আততাজরীদ ৭/৩৫১৭; মুজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/৩৫৩, ৩৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৪৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৬৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি।...

প্রশ্ন
গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি। যাওয়ার পথে পিপাসা লাগায় সফরে আছি বলে পানি পান করি এবং অল্প নাস্তাও করি। পরে মনে পড়ে, আমি তো মুকীম অবস্থায় রোযা রেখেছি। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই, ঐ রোযা ভাঙ্গার কারণে কি আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় রোযা রাখার পর
সফরের
অজুহাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয হয়নি। রোযা ভাঙ্গার কারণে গুনাহ হয়েছে। ঐ রোযাটি কাযা করে নিতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব
হবে না।
উল্লেখ্য, সফর অবস্থায় রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু মুকীম বা মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখলে শুধু সফরের অজুহাতে তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়। -কিতাবুল আছল ২/১৬৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৬৫
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার বিবাহ হয়।...

প্রশ্ন
প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার
বিবাহ হয়। বিবাহের একমাস পর সড়ক
দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যায়। মালিহা এখন
তার বাবার বাড়িতে ইদ্দত পালন করছে। ইতোমধ্যে তার বিবাহের প্রস্তাব আসা শুরু
হয়েছে। মালিহার কানাডা প্রবাসী খালাতো ভাই
সপনের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব এসেছে। সপন একমাস পর আবার কানাডায় চলে যাবে। তাই সে চাচ্ছে, এই মাসের মধ্যেই বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে ফেলতে। কিন্তু মালিহার ইদ্দত শেষ হতে এখনো প্রায় তিন মাস বাকি। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় সপনের জন্য কি মালিহাকে বিবাহ করা জায়েয হবে?
উত্তর
স্ত্রী অন্তসত্ত্বা না হলে স্বামীর
মৃত্যুতে স্ত্রীর জন্য চার মাস দশ দিন ইদ্দত
পালন করা ওয়াজিব। ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাদেরকে বিয়ে করা ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সবই নাজায়েয। ইদ্দতের ভেতর কোনো নারী বিবাহ করলে তা সহীহ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) তোমরা (ইদ্দতের) নির্দিষ্টকাল পূর্ণ
না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ কার্য সম্পন্ন করার
সংকল্পও করো না।-সূরা বাকারা : ২৩৫ অন্যত্র ইরশাদ করেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদের রেখে মৃত্যুবরণ করে তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে।-সূরা বাকারা : ২৩৪ অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সপনের জন্য মালিহাকে ইদ্দতের ভেতর বিবাহ করা জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে সুযোগ থাকলে সপন তার সফরকে বিলম্বিত করবে। অন্যথায় মালিহার ইদ্দত চার মাস দশ দিন শেষ হওয়ার পর সপন তার কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করিয়ে নিবে। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪২৬, ১/৪৩০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৪


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০২৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে।...

প্রশ্ন
এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে। ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সঙ্গে তার ছোট ভাই থাকবে। ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মামাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাইতাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?
উত্তর
মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজ্বের সফরে যাওয়াও নিষেধ। মামাতো বোনের স্বামী মাহরাম নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে না। বরং স্বামী বা কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুলস্নাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪; মুখতাসারুত তহাবী ৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; যুবদাতুল মানাসিক ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.11 render + 0.00 s transfer.