Login | Register

ফতোয়া: সফর

ফতোয়া নং: ৫৪৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমরা রমযানে ও তাবলীগের চিল্লার জন্য বের হয়ে থাকি। চিল্লা...

প্রশ্ন

আমরা রমযানে ও তাবলীগের চিল্লার জন্য বের হয়ে থাকি। চিল্লা থেকে ফিরে এসে মাদরাসায় ২/৩ দিন থাকতে হয়। আমরা জানি, মাদরাসা ওয়াতনে ইকামাত। অপর দিকে ওয়াতনে আছলী মাদরাসা থেকে মুদ্দতে সফর থেকেও বেশি দূরে। এখন প্রশ্ন হল, তাবলীগের সফর দ্বারা ওয়াতনে ইকামাত বাতিল হবে কি না এবং মাদরায় ফিরে এসে ২/৩ দিন থাকলে কসর করতে হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মাদরাসায় অল্প সময়ের জন্য ফিরে এলেও আপনি মুকীম হবেন। কেননা, মাদরাসা আপনার জন্য ওয়াতনে ইকামত। আর ওতনে ইকামত শুধু সফর দ্বারা বাতিল হয় না; আপনি ঐ স্থান একেবারে ত্যাগ করার নিয়তে সামানপত্র নিয়ে সফর করলে তখনই এখানকার ইকামত বাতিল হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মেরাজের ঘটনা কি কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? মেরাজ অস্বীকার করলে কি...

প্রশ্ন

মেরাজের ঘটনা কি কুরআন-হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? মেরাজ অস্বীকার করলে কি ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে? মেরাজ স্বপ্নে হয়েছিল এমন আকীদা রাখা কেমন? হযরত আয়েশা রা. নাকি স্বশরীরে মেরাজ স্বীকার করতেন না?

উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেরাজ কুরআন-হাদীস ও ইজমায়ে উম্মত-এর অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। মেরাজ সত্য-এই বিশ্বাস রাখা ফরয। অস্বীকার করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। আর মেরাজ যে সশরীরে ও জাগ্রত অবস্থায় হয়েছিল তা যে শুধু রূহানী বিষয় ছিল না এ বিষয়টির উপরও ঈমান রাখা জরুরি। সকল সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের বিশ্বাসও এটিই।

আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.-এর থেকে যে কথা বর্ণনা করা হয় তা ঠিক নয়। একে তো সেটির সনদ দুর্বল। আর ইমাম আবুল আব্বাস ইবনে সুরাইজ বলেছেন, এ উক্তিটি হযরত আয়েশা রা.-এর উপর আরোপ করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি তা বলেননি অথচ তার নামে একথা চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। (শরহুল মাওয়াহিব, যুরকানী ৮/৭)

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত সফরের কথা সূরা বনী ইসরাঈলের শুরুতে এবং উর্ধ্ব জগতের সফরের কথা সূরা নাজমের ১৩ থেকে ১৮ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআন মজীদের আয়াত, সহীহ হাদীস ও উম্মতের ইজমা দ্বার প্রমাণিত বিষয়ের বিপরীত ঐ ধরনের যয়ীফ বর্ণনার কোনো স্থান নেই তা বলাই বাহুল্য।

এ প্রসঙ্গে ইমাম আবুল খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া বলেন, ইসরার হাদীসের উপর মুসলিমদের ইজমা রয়েছে এবং বেদ্বীন ও মুলহিদরা তা থেকে বিমুখ হয়েছে। তারা ফুঁৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়। আর আল্লাহ তার নূরকে পূর্ণ করবেন। যদিও কাফেররা অপছন্দ করে।

বিস্তারিত জানার জন্য আলকাউসারে (আগস্ট ’০৬) প্রকাশিত হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব দামাত বারাকাতুহুমের প্রবন্ধটি পড়া যেতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

অর্ধ রাত্রির পর এশার নামায পড়া মাকরূহ কি না? মাকরূহ...

প্রশ্ন

অর্ধ রাত্রির পর এশার নামায পড়া মাকরূহ কি না? মাকরূহ হলে মাকরূহ তাহরীমী না তানযিহী? যদি সফরের কারণে বিলম্ব হয় তাহলেও কি মাকরূহ?

উত্তর

বিনা ওজরে মধ্য রাতের পর পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করা মাকরূহ। এ বিষয়ে ফকীহগণ একমত। তবে এটিকে কেউ কেউ মাকরূহে তাহরীমী বললেও আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রাহ. ইমাম তহাবী রাহ.-এর উদ্ধৃতিতে মাকরূহ তানযিহীর মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। পরবর্তী ফকীহদের অনেকে এ মতকে গ্রহণ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, সফরের কারণে বিলম্বিত হলে তা ওজরের অন্তর্ভুক্ত।

শরহু মাআনিল আছার ১/১৮; মাবসূত সারাখসী ১/১৪৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৩৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯; হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ১/২০১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪০৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৯৯; রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৯; মুখতাসারুত তহাবী পৃ. ২৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক) মুসাফিরের জন্য জুমআর নামাযের হুকুম কী? অর্থাৎ বিষয়টি কি...

প্রশ্ন

ক) মুসাফিরের জন্য জুমআর নামাযের হুকুম কী? অর্থাৎ বিষয়টি কি এমন যে, তার জন্য জুমআর নামায না পড়ে যোহর পড়ারও অনুমতি আছে, তবে জুমআ পড়লেও পড়তে পারবে, নাকি জুমআর নামায না পড়া তার জন্য বাধ্যতামূলক। খ) মুসাফির জুমআর ইমামত করতে পারবে কি?

উত্তর

ক) মুসাফিরের জন্য জুমআ পড়া ফরয নয়। সে যোহর বা জুমআ যে কোনোটি পড়তে পারে।

খ) হ্যাঁ, মুসাফির জুমআর ইমামতিও করতে পারবে। এবং তার পিছনে মুকীমের ইক্তিদা সহীহ হবে।

খ) হ্যাঁ, মুসাফির জুমআর ইমামতিও করতে পারবে। এবং তার পিছনে মুকীমের ইক্তিদা সহীহ হবে।

আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৩, ১৫৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার জন্মস্থান ফরিদপুর। তবে ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় পড়াশুনা করেছি। অতঃপর...

প্রশ্ন

আমার জন্মস্থান ফরিদপুর। তবে ছোটবেলা থেকেই ঢাকায় পড়াশুনা করেছি। অতঃপর ঢাকায় এক মসজিদে ইমামতি করছি এবং বিয়ে-শাদি করে বাসা ভাড়া নিয়ে ঢাকাতেই থাকি। বছরে দু’একবার দু’ একদিনের জন্য বাড়িতে যাই। সেখানে আমার আব্বা ও ভাইয়েরা থাকেন। জানার বিষয় হল, আমি তো ঢাকাকে ওয়াতনে ইকামত বানিয়েছি। এখন আমি যখন বাড়িতে যাব সেখানে আমি মুসাফির হব কি না?

উল্লেখ্য, আমার পিতা যেখানে থাকেন সেটা নিজের বাড়ি নয়; বরং প্রায় চল্লিশ বছর যাবত মাদরাসার কোয়াটারে আছেন আমার জন্মস্থান এটিই এবং দু বছর পূর্বে আমার আম্মার ইনে-কালের পর তাঁকে ঐ এলাকাতেই দাফন করা হয়েছে। এখান থেকে পূর্বের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাও নেই।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ফরিদপুরের বর্তমান বাসস্থান আপনাদের ওয়াতনে আসলী। আর ঢাকা আপনার ওয়াতনে ইকামত হলেও বাবার আবাসস'ল যেহেতু আপনি ত্যাগ করার নিয়ত করেননি তাই আপনি যখন আপনার বাবার ফরিদপুরের ঐ বাড়িতে যাবেন তখন মুকিম থাকবেন। আপনাকে সেখানে পূর্ণ নামায পড়তে হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯; রদ্দুল মুহতার ২/১৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজন থেকে মুদারাবা ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছি। ব্যবসার মাল...

প্রশ্ন

আমি একজন থেকে মুদারাবা ব্যবসার জন্য টাকা নিয়েছি। ব্যবসার মাল কিনতে আমাকে প্রায়ই ঢাকা, চট্টগ্রাম যাতায়াত করতে হয়। আসা-যাওয়ার পথে কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ি। যেমন জ্বর, সর্দি-কাশি ইত্যাদি তাহলে চিকিৎসার জন্য মুদারাবা ফাণ্ড থেকে টাকা নিতে পারব কি না? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ব্যবসার জন্য সফর করলে মুদারাবা কারবারি ব্যবসার ফাণ্ড থেকে কেবল সফর সংক্রান্ত খরচ নিতে পারবে। যেমন-যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ। চিকিৎসার খরচ নিতে পারবে না। তবে পুঁজিদাতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুমতি দিলে চিকিৎসার খরচ নিতে পারবে।

বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৪৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৩/৩৭১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৭/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের পূর্বে যে অসুখে আক্রান্ত...

প্রশ্ন

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তিকালের পূর্বে যে অসুখে আক্রান্ত হয়েছিলেন তা কোন দিন শুরু হয়েছিল? সফর মাসের শেষ বুধবার তিনি আরোগ্য লাভ করেছিলেন-এ কথা কি ঠিক? সফর মাসের শেষ বুধবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ হয়েছিলেন এক ব্যক্তি এমন বক্তব্য দিলে শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন আপত্তি করে। সঠিক বিষয়টি কী জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

সফর মাসের শেষ বুধবার রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরোগ্য লাভ করেছিলেন-এ কথা ঠিক নয়; বরং সফর মাসের শেষ বুধবার তাঁর অসুস্থতা শুরু হয়েছিল এবং এই অসুখেই তিনি ইন্তেকাল করেন।

আসসীরাতুন নববিয়্যাহ, ইমাম যাহাবী পৃ. ৩৯৮; সুবুলুল হুদা ওয়াররাশাদ ১২/২৩৫; ফাতহুল বারী ৭/৭৩৫; আলবিদায়া ওয়াননিহায়া ৮/২৫-২৬; আলকামেল ফিত-তারীখ ২/৩১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজন অবিবাহিতা মেয়ে। আমার বয়স আঠারো। আমি এ বছর...

প্রশ্ন

আমি একজন অবিবাহিতা মেয়ে। আমার বয়স আঠারো। আমি এ বছর হজ্ব করতে চাচ্ছি। আমি কি আমার খালা, খালুর সঙ্গে হজ্বে যেতে পারব? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মহিলাদের জন্য মাহরাম পুরুষ ছাড়া সফর করাও নাজায়েয। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীসে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কোনো মহিলা যেন মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ্বের উদ্দেশ্যে না যায়।’

সুতরাং খালু যেহেতু মাহরাম নয়, তাই খালা সঙ্গে থাকলেও তাদের সাথে হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না। পরবর্তীতে কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে।

সহীহ মুসলিম ১/৪৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; হেদায়া ১/২৩৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩৩০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৩/৫৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি উমরা করেছেন এবং কয়টি...

প্রশ্ন

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়টি উমরা করেছেন এবং কয়টি হজ্ব করেছেন? বিদায় হজ্ব কত সনে হয়েছিল?

উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি উমরা করেছেন। প্রত্যেকটি যিলকদ মাসে। প্রথমটি হুদায়বিয়ার উমরা, যা ষষ্ঠ হিজরীতে হয়েছে। কাফেরদের প্রতিরোধের কারণে বাইতুল্লাহ শরীফে এ বছর যাওয়া হয়নি। হুদায়বিয়াতেই ইহরাম ত্যাগ করেছিলেন। দ্বিতীয় উমরা পরবর্তী বছর হয়েছে। তৃতীয় উমরাতুল জি’রানা। হুনাইন থেকে ফেরার পথে জি’রানা থেকে ইহরাম বেঁধে ছিলেন। চতুর্থটি বিদায় হজ্বের সাথে করেছেন। তাহলে সর্বমোট উমরা চারটি হলেও পৃথক সফরে পূর্ণ উমরা হয়েছে মোট দুইটি।

আর হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মাত্র হজ্ব করেছেন। সেটি হল বিদায় হজ্ব। বিদায় হজ্ব দশম হিজরীতে হয়েছে। হিজরতের আগে কয়টি হজ্ব করেছেন এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা বলা যায় না। জামে তিরমিযীর এক বর্ণনায় দুইটির কথা আছে। তবে অন্যান্য দলীল দ্বারা তাবেয়ীন ও মুহাদ্দিসগণ আরো বেশি সংখ্যক হজ্বের কথা উল্লেখ করেছেন। এমনকি ইবনুল আমীর রাহ. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের আগে প্রতি বছরই হজ্ব করতেন। এটাই স্বাভাবিক। এর সঠিক সংখ্যা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।

সুবুলুল হুদা ওয়ার রাশাদ ৮/৪৪৪-৪৪৯; শরহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়াহ ৪/১৪১; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৭/৪০৬; সহীহ বুখারী ১/২৩৮; সহীহ মুসলিম ১/৩৯৪; জামে তিরমিযী ১/১৬৮; সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ২২০; মাআরিফুস সুনান ৬/২০; ফাতহুল বারী ৩/৭০২; উমদাতুল কারী ১০/১১৩; যাদুল মাআদ ৩/২৫৬; আল কামিল ফিততারীখ ২/৩০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি কয়েক দিন আগে বরিশালের উদ্দেশে সফর করেছিলাম। যাওয়ার সময়...

প্রশ্ন

আমি কয়েক দিন আগে বরিশালের উদ্দেশে সফর করেছিলাম। যাওয়ার সময় সদরঘাট থেকে লঞ্চে উঠলাম। তখন লঞ্চটি ঘাটের সাথে বাঁধা অবস্থায় ছিল। ইতিমধ্যে আসরের সময় হয়ে গেলে আমি কসর নামায পড়িনি; বরং পূর্ণ চার রাকাত পড়েছি। জানতে চাই, আসর নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে? উপরোক্ত অবস্থায় কি আমি মুসাফির ছিলাম নাকি মুকীম?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লঞ্চটি ঘাট ত্যাগ না করা পর্যন্ত আপনি মুকীম ছিলেন। তাই ঘাটে থাকা অবস্থায় পূর্ণ নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

বিষয় : মসজিদের বর্তমান আয়তন আনুমাণিক ১৫ হাত (উ. দ.)...

প্রশ্ন

বিষয় : মসজিদের বর্তমান আয়তন আনুমাণিক ১৫ হাত (উ. দ.) ২৭ (পূ. প.) এর সহিত (১৫হাত উ. দ.) (২০ হাত পূ. প.) সমপ্রসারিত টিনসেট ভবন সংযুক্ত মুসল্লীগণের স্থান সংকুলানের অসুবিধাহেতু এবং কতেক মুসল্লীগণের আসার জন্য চলাচলের পথের দূরত্ব বেশি বোধ হওয়া।

উপরোল্লিখিত বিষয় ও কারণে বর্তমান মসজিদ ভবনের সমপ্রসারণ ও উন্নয়ণ ব্যাহত হচ্ছে মর্মে জনমনে আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এলাকার উত্তর-পূর্ব কোণায় অবস্থিত বাসস্থানের মুসল্লীগণ কর্তৃক মসজিদ ভবন স্থানান্তরের উদ্যোগী হয়। বর্তমান অবস্থিত বসবত-বাড়ি এলাকার একান্ত অভ্যন্তরে যাতায়াতে দূরত্ব মহিলাদের পর্দা রক্ষা, মসজিদের সীমিত পরিসরে পুকুর ভরাট ব্যতীত উত্তর দক্ষিণে (কাতা/সারি দীর্ঘায়িত করার জন্য) সমপ্রসারন করা সম্ভব হচ্ছে না। ঐ এলাকার জনগণ আর্থিকভাবেও অধিক দান-খায়রাত ও চাঁদার মাধ্যমে বর্ধিত ভবন নির্মাণে অধিকতর অবদান রাখতে পারবে বলেও মতামত প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য যে, ১। মসজিদ ভবন বসতবাড়ি সংলগ্ন বিধায়, মসজিদে আগত মুসল্লীগণের যাতায়াতে আশ পাশে অনেক সময় মহিলাদের উপস্থিতিতে পর্দা রক্ষার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ২। মসজিদ ভবনের অনতিদূরে কোনো কোনো স্থানে গোয়ালঘর থাকায় মাঝে মধ্যে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও কষ্টকর হচ্ছে। ৩। মসজিদ থেকে আবাসিক এলাকার পূর্ব উত্তর কোণের বাসিন্দা অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ লোকের জন্য বিদ্যমান দূরত্ব বেশি এবং নতুন/প্রস্তাবিত এলাকায় নতুন ভবন নির্মিত হলে সদর খোলামেলা জনসাধারণের চলাচলের পথি পার্শ্বে অবস্থান হবে, ঐ এলাকাবাসীর যাতায়াত পথ ও কষ্ট হ্রাস হবে এবং সর্বসাধারণের চলাচল পথের পার্শ্বে মুসল্লী স্যাখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা। ৪। স্থানান্তরে মসজিদ এলাকার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমাংশের জনসাধারণ/মুসল্লীগণের জন্য কোনো সুবিধা হবে না (বরং অসুবিধা হতে পারে বিধায়) তারা এ ব্যাপারে উৎসাহী নয় বলে বোধ হয়। ৫। মসজিদ এলাকার উত্তর-পশ্চিম এলাকায় অবস্থিত মুসল্লীগণের কতক অংশ স্থানান্তরের পক্ষে কতক অংশ স্থানান্তরের উৎসাহী নয় বলে প্রতীয়মান হয়। পুরাতন মসজিদ ভবন নির্মাণকারী মরহুম চৌধুরী পাটারীর স্ত্রী এবং ওয়াকফদাত্রী মেহেরজান ভানু কর্তৃক সম্পাদিত রেজিষ্টার্ড দলিলের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :

ওয়াকফ সম্পত্তি মোতাওয়াল্লী কর্তৃক কাহারও নিকট স্থায়ীভাবে লাগিত পত্তন করতে পারিবে না, করিলে তাহা অগ্রাহ্য ও অশুদ্ধ হইবে।

মোতাওয়াল্লী ওয়াফক সম্পত্তি দান বিক্রি বা রেহান বা কোনো প্রকার নামান্তর রূপান্তর এবং যে কার্যে সম্পত্তির হানি জনক হয় তাহা করিতে পারিবে না। মোতাওয়াল্লীর কৃত কার্যের ত্রুটিতে ওয়াকফ সম্পত্তির কোনো অংশের ক্ষতি হইলে মোতাওয়াল্লী তাহার ক্ষতিপূরণ করিতে মুসল্লী ও মহল্লার সরদারগণের নিকট বাধ্য থাকিবে। কোনো মোতাওয়াল্লী অন্যথা করিলে ওয়াকফ সম্পত্তি রেহান দিলে বা দান বিক্রি করিলে গ্রহীতা আমার ওয়াকফ নামার স্বত্ব ও মর্মানু-সন্ধান না করিয়া গ্রহণ করিলে গ্রহীতার পক্ষে তাহা অশুদ্ধ ও অকর্মন্য হইবে।

আমার অত্র ওয়াকফ নামা সম্বলিত নিয়ম প্রণালী ও স্বত্ত্বসমূহ আমার কোনো ওয়ারিশগণ স'লবর্ত্তীগণ কর্তৃক কেহ কোনো প্রকার রদবাতিল বা পণ্ড করিতে পারিবে না। তাহা চিরকাল অক্ষুণ্ন ও বলবৎ থাকিয়া কার্যে পরিণত থাকিবে। এতদার্থে ওয়াকফ নামাপত্র লিখিয়া দিলাম।

বর্ণিত পরিস্থিতিতে ওয়াকফ নামার শর্তের আলোকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যমান মসজিদ ভবন নতুন স্থানে স্থানান্তরের শরীয়তসম্মত কি না সেই বিষয়ে মতামত/ফতোয় প্রদানের জন্য উপস্থাপন/দাখিল/পেশ করা হইল।

উত্তর

পূর্ব নৌওয়াগাঁও তিত্তল পাটারীবাড়ি জামে মসজিদ (থানা : রামগঞ্জ, জিলা : লক্ষীপুর) স্থানান্তরের সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্নপত্রের বিবরণ ও প্রশ্নকারীর মৌখিক বর্ণনা এবং প্রশ্নপত্রের সাথে সংযুক্ত ওয়াকফ দলীলের বিশ্লেষণ দ্বারা যে বিষয়গুলো লক্ষ্য করা যায় তা নিম্নরূপ

১। ওয়াকফ দলীলের ৪ নং ধারার শেষাংশ : মোতাওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তি স্থায়ীভাবে কারো নিকট লাগিত পত্তন করতে পারবে না। করলেও তা অগ্রাহ্য ও অশুদ্ধ গণ্য হবে।

২। ৫নং ধারায় : মোতাওয়াল্লী ওয়াকফ সম্পত্তির দান, বিক্রি বা রেহান কিংবা কোনো প্রকার নামান্তর রূপান্তর এবং যে কার্যে সম্পত্তির হানি হয় তা করতে পারবে না। মোতাওয়াল্লীর কৃতকার্যের ত্রুটির কারণে ওয়াকফ সম্পত্তির কোনো অংশে ক্ষতি হলে সে মুসল্লী ও মহল্লার সরদারগণের নিকট তার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বাধ্য থাকবে। কোনো মোতাওয়াল্লী এর অন্যথা করলে ওয়াকফ সম্পত্তি রেহান দিলে বা দান বিক্রি করলে গ্রহীতা ওয়াকফ নামার শর্ত ও মর্মানুসন্ধান না করে গ্রহণ করলে তা অশুদ্ধ ও অগ্রাহ্য হবে।

৩। ৭ নং ধারা : ওয়াকফ নামার নিয়ম-প্রণালী ও স্বত্তসমূহ আমার কোনো ওয়ারিশ বা স'লবর্তীগণের কেউ কোনো প্রকার রদবদল বা পণ্ড করবে না ও করতে পারবে না। তা চিরকাল অক্ষুন্নভাবে বলবৎ থেকে বাস-ব কার্যে পরিণত হবে।

ওয়াকফনামার উপরোল্লিখিত ধারাগুলো ও উত্থাপিত বিষয়টির সার্বিক অবস্থা যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণপূর্বক নিম্নে প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া হল।

প্রথমতঃ শরীয়তসম্মত পন্থায় মসজিদ নির্মিত হয়ে গেলে তা সর্বদার জন্য মসজিদ হিসেবেই থাকবে। এর বিক্রি, স্থানান্তর রদবদল কোনোটিই জায়েয নয। হাদীস শরীফে এসেছে :

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় তার একটি ভূ সম্পদ সদকা (ওয়াক্‌ফ) করতে চাইলেন। এটি ছিল একটি খেজুর বাগান এবং এর নাম ছিল ‘ছামাগ’। উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একটি উত্তম সম্পদের মালিক হয়েছি এবং আমি তা সদকা করতে চাই। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তা এভাবে সদকা (ওয়াকফ) কর যে, তা বিক্রি করা যাবে না, দান করা যাবে না এবং এতে উত্তরাধিকার চলবে না। তবে এ থেকে উৎপন্ন ফলফলাদী (নির্ধারিত খাতে) ব্যয় করা হবে। ফলে উমর রা. এভাবে তাঁর উক্ত সম্পদ সদকা করেন যে, তা জিহাদ, দাসমুক্তি, মিসকীন, অতিথি সেবা, মুসাফির এবং আত্মীয়-স্বজনের জন্য (ব্যয়িত হবে)। (সহীহ বুখারী ১/৩৮৭)

দ্বিতীয়তঃ প্রশ্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে ওয়াকফদাত্রী মহিলা স্পষ্ট ভাষায় ওয়াকফিয়া সম্পত্তির বিক্রি, রদবদল বা অন্য যে কোনো প্রকারের রূপান-র সম্পূর্ণ নিষেধ করে দিয়েছেন। আর শরীয়তে ওয়াকফকারীর শরীয়তসম্মত যে কোনো বৈধ শর্ত গ্রহণযোগ্য ও আমলযোগ্য। এর বরখেলাফ করা যাবে না। ইসলামী ফিকহবিদদের স্বীকৃত মূলনীতি হল : ওয়াকফকারীর (বৈধ) শর্তাবলি শরীয়তের দলীলের ন্যয় অবশ্য পালনীয়।

তৃতীয়তঃ প্রশ্নে বর্ণিত ওজর বা সমস্যাগুলোও এমন গুরুতর ও জটিল নয়, যার ভিত্তিতে একটি মসজিদ স্থানান্তরের প্রস্তাব করা যেতে পারে।

অতএব এসব দিক ও বিষয়ের বিবেচনায় উক্ত মসজিদ অন্য এলাকায় স্থানান্তরের করা জায়েয হবে না। আর বর্তমান মসজিদে যেহেতু মুসল্লীদের সংকুলান হচ্ছে না তাই উত্তর ও পূর্ব পার্শ্বে পুকুর থেকে মসজিদের যে জায়গা আছে তা ভরাট করে তাতে মসজিদ সমপ্রসারণ করা যেতে পারে। কিংবা প্রয়োজনে বহুতল মসজিদ নির্মাণ করা যেতে পারে। এছাড়া অন্য যেসব সমস্যা রয়েছে মহল্লাবাসী ও মসজিদ কর্তৃপক্ষ যৌথ উদ্যোগে সেগুলো সমাধানের ব্যবস্থা করবে। বিশেষ করে মসজিদে মুসল্লীদের যাতায়াতের দরুণ যেন মহিলাদের পর্দা বিঘ্নিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধ থেকে মসজিদের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

তারপরও যদি কিছু সমস্যা থেকে যায় তবে দ্বীনের খাতিরে তা সহ্য করে নিতে হবে।

মসজিদ স্থানান্তরের: আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৮৪৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৮; হিদায়া ২/৬৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৮; মাবসূত সারাখসী ১২/৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪২৪; ফাতহু কাদীর ৫/৪৪৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৭০; মাজমাউল আনহুর ২/৫৯৬ মসজিদ সমপ্রসারণ : ফাতহুল কাদীর ৫/৪৪৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৭৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪২১; আলইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ পৃ. ৭৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমরা ৪ জন তামাত্তু হজ্বের নিয়তে উমরার ইহরাম করে মক্কা...

প্রশ্ন

আমরা ৪ জন তামাত্তু হজ্বের নিয়তে উমরার ইহরাম করে মক্কা এসেছি। আমরা মক্কাতে প্রায় ১৫ দিন থাকলাম। এখন মদীনা মুনাওয়ারা যাচ্ছি। মদীনা থেকে হজ্বের ১/২ দিন আগে মক্কা ফিরব। জানতে চাই, যারা মদীনা থেকে হজ্বের ইহরাম করবে তাদেরকে কি তাওয়াফে কুদূম করতে হবে?

উত্তর

না। তাদের তাওয়াফে কুদূম করতে হবে না। আপনারা যেহেতু এই সফরেই তামাত্তু হজ্বের উদ্দেশ্যে উমরা করেছেন তাই আপনারা তামাত্তুকারী। আর তামাত্তুকারীর উপর তাওয়াফে কুদূম নেই। তাওয়াফে কুদূম কেবল ইফরাদ ও কিরান হজ্বকারীদের জন্য সুন্নত। তামাত্তুকারীদের জন্য নয়।

মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ১৪১; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

যদি কোনো মুকীম ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযে কোনো মুসাফির...

প্রশ্ন

যদি কোনো মুকীম ব্যক্তি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযে কোনো মুসাফির ইমামের পিছনে ইকতিদা করে তাহলে মুসাফির ইমামের নামায শেষ করার পর অবশিষ্ট রাকাতদ্বয়ে মুকীম মুকতাদীকে কেরাত পড়তে হবে কি না?

উত্তর

চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামযের শেষ দুই রাকাতে কারো জন্যই কেরাত নেই। মুসাফির ইমামের পেছনে মুকীম মুকতাদীর জন্যও একই হুকুম। তবে সে সূরা ফাতেহা পড়বে কি না এ বিষয়ে মতানৈক্য আছে। বিশুদ্ধ মত হল, এক্ষেত্রে মুকীম মুকতাদী শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহাও পড়বে না।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৫; ফাতহুল কাদীর ২/১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২১৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫৪৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একবার খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হলাম। অসুস্থ অবস্থায় মান্নত...

প্রশ্ন

আমি একবার খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হলাম। অসুস্থ অবস্থায় মান্নত করলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে সুস্থ করেন তাহলে আমি হজ্ব করব। তখন আমার আর্থিক অবস্থা এমন ছিল যে, আমার উপর হজ্ব ফরয়।

প্রশ্ন হল, আমার উপর আগে থেকেই হজ্ব ফরয হয়ে আছে এখন যদি হজ্ব করি তাহলে কি এর দ্বারা আমার ফরয হজ্ব এবং মান্নতের হজ্ব উভয়টি আদায় হবে? এক সফরেই উভয় হজ্ব আদায়ের কোনো পদ্ধতি আছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি নিজের ফরয হজ্ব এবং মান্নতের হজ্ব উভয়টির আদায়ের নিয়তে হজ্ব করবেন। এতে এক সাথে দুটি দায়িত্বই আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আপনি যে কোনোটি নির্দিষ্ট করে আদায় করেন তাহলে যেটির নিয়ত করবেন শুধু সেটিই আদায় হবে। অন্যটি আদায় হবে না।

গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৩৪৮; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪৬৭-৪৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। আমরা স্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস করি। বর্তমানে...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। আমরা স্থায়ীভাবে সেখানেই বসবাস করি। বর্তমানে আমি ঢাকার মিরপুর ১২ এর একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করি। বিভিন্ন সময় ছুটিতে বাড়ি যাই। আর বাকি সময় ঢাকাতেই থাকি।

প্রশ্ন হল, বাড়িতে যাওয়ার সময় পথে আমাকে নামায পূর্ণ পড়তে হবে নাকি কসর? আর কসর করলে কখন থেকে শুরু করব এবং কোথায় গিয়ে কসর করা বন্ধ করব?

উত্তর

ঢাকা থেকে চাঁদপুরের দূরত্ব সফরসম। তাই এ পথে সফর অবস্থায় নামায কসর পড়তে হবে। আপনার বর্তমান আবাসস্থল ঢাকার সিটি কর্পোরেশনের সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে মুসাফির গণ্য হবেন। অর্থাৎ নদীপথে পোস্ত-গোলা ব্রীজ এলাকা এবং সড়ক পথে যাত্রাবাড়ি-শনির আখড়া এলাকা অতিক্রম করলে (ঢাকা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের জন্য) মুসাফিরের হুকুম শুরু হবে। শেষ হবে আপনার স্থায়ী বসবাসের এলাকা গ্রামে প্রবেশের পূর্ব পর্যন্ত। নিজ গ্রাম বা শহরে প্রবেশ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন।

ইলাউস সুনান ৭/৩১০; ফাতহুল বারী ২/৪৭১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৬২; মাবসূত সারাখসী ১/২৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কারো ঢাকা শহরে ও গ্রামের বাড়িতে নিজস্ব বাসস্থান রয়েছে। গ্রামের...

প্রশ্ন

কারো ঢাকা শহরে ও গ্রামের বাড়িতে নিজস্ব বাসস্থান রয়েছে। গ্রামের বাড়ি সফরসম দূরত্বে। স্বামী ঢাকায় কর্মরত ছিলেন বিধায় ঢাকাতেই তারা বসবাস করেন। ছুটির সময় বা ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে গেলে গ্রামের বাড়িতেও থাকেন। স্বামী মৃত্যু বরণ করার পর গ্রামের বাড়িতে স্বামীকে দাফন করা হয়েছে। এখন স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে স্বামীর মালিকানাধীন ঘরে ইদ্দত পালন করতে পারবে কি না? অথবা কিছু দিন শহরের বাড়ি আর কিছু দিন গ্রামের বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে পারবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা মতে যেহেতু স্ত্রী মৃত্যু পর্যন- স্বামীর শহরস্থ বাড়িতেই ছিল তাই তার জন্য সেখানে ইদ্দত পালন করা জরুরি। অবশ্য যদি স্ত্রী লাশের সাথে গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়ে থাকে তাহলে শহরে না এসে গ্রামের বাড়িতেই ইদ্দত পালন করবে। তবে যে বাড়িতেই ইদ্দত শুরু করা হোক সেখানেই ইদ্দত পূর্ণ করবে। একান- কোনো ওজরে সেখানে ইদ্দত পালন করা কঠিন হয়ে গেলে এর কাছাকাছি কোনো উপযুক্ত স্থানে ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দত অবস্থায় শরয়ী ওজর ছাড়া সফর করা নিষিদ্ধ। তদ্রূপ একাধিক স্থানে রাত্রি যাপনও নিষিদ্ধ। তাই ইদ্দত চলাকালীন শহর ও গ্রাম দুই জায়গা মিলে ইদ্দত পালন করা বা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শরয়ী ওজর ব্যতীত যাতায়াত করা যাবে না।

সূরা তালাক : ১; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫২; ফাতহুল কাদীর ৪/১৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

তাবলীগে যখন চিল্লায় বের হই তখন কাকরাইলের বড়দের কাছে শুনেছি,...

প্রশ্ন

তাবলীগে যখন চিল্লায় বের হই তখন কাকরাইলের বড়দের কাছে শুনেছি, আমরা চিল্লায় মুসাফিরের হুকুমে থাকব। কিন্তু বেহেশতি জেওরে বা অন্যান্য কিতাবে দেখলাম যে, ১৫ দিনের নিয়ত করলে মুকীম হিসেবে গণ্য হবে। তবে এই ক্ষেত্রে ৪০ দিন থাকার নিয়ত করা সত্ত্বেও কিভাবে আমরা মুসাফিরের হুকুমে রইলাম?

উত্তর

সফর সম দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছলে মুকীম হওয়ার জন্য কোনো একটি গ্রাম বা একটি শহরে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করা জরুরি। এক ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম বা ভিন্ন ভিন্ন দুই সিটি কিংবা এক থানার বিভিন্ন স্থানে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম হবে না। মুসাফিরই থাকবে।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চিল্লায় বের হয়ে যদি কোনো গ্রাম বা সিটিতে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত থাকে তবে মুকীম গণ্য হবে। চাই ঐ গ্রাম বা সিটির বিভিন্ন মসজিদ মিলেই ১৫ দিন থাকা হোক বা এক জায়গাতেই থাকা হোক। বেহেশতী জেওর-এ মুকীম হওয়ার অর্থও তাই।

চিল্লায় যেহেতু কোনো এক গ্রাম বা সিটিতে সাধারণত ১৫ দিন একাধারে থাকা হয় না তাই এক্ষেত্রে ১৫ দিনের বেশি সফর হলেও মুকীম হবে না। এজন্যই কাকরাইল থেকে মুসাফির হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৮-২৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১-১৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫-১২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক ব্যক্তি রমযান মাসে সফর করার কারণে কয়েক দিনের রোযা...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযান মাসে সফর করার কারণে কয়েক দিনের রোযা রাখতে পারেনি। রমযানের শেষ দিকে সে অসুস' হয়ে পড়ে এবং অনেক দিন অসুস' থাকার পর মারা যায়। প্রশ্ন এই যে, উক্ত ব্যক্তির এই রোযার উপর কি কোনো ধরনের কাফফারা দেওয়া ওয়াজিব?

উত্তর

ঐ রোযাগুলোর কাফফারা দিতে হবে না। কারণ সফর শেষে লাগাতার অসুস'তার দরুণ সে কাযা আদায়ের সুযোগ পায়নি। আর কাযা আদায়ের মতো সুস'তা ফিরে না পেলে ফিদয়া বা কাফফারা কোনোটি ওয়াজিব হয় না।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৩; হাশিয়াতু তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৩৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২৩-৪২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে।...

প্রশ্ন

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে। ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সঙ্গে তার ছোট ভাই থাকবে। ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মামাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাই তাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?

উত্তর

মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজ্বের সফরে যাওয়াও নিষেধ। মামাতো বোনের স্বামী মাহরাম নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে না। বরং স্বামী বা কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও।

-সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪; মুখতাসারুত তহাবী ৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; যুবদাতুল মানাসিক ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বন্ধু সাঈদ। তার বাড়ি কুমিল্লা লাকসাম। সে চট্টগ্রামে এক...

প্রশ্ন

আমার বন্ধু সাঈদ। তার বাড়ি কুমিল্লা লাকসাম। সে চট্টগ্রামে এক ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে। বাড়ি থেকে ঐ কোম্পানির দূরত্ব প্রায় দুইশত কিলোমিটার। তাই ওখানে অস্থায়ীভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এবং সেখানে সাত, আট দিন থাকার নিয়তে কুমিল্লা থেকে বের হয় এবং সাত আট দিন থাকার পর পরই কুমিল্লায় ফিরে আসে। এখন জানতে চাই, ঐ বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে কি মুকীম হবে, নাকি মুসাফির? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। উল্লেখ্য, ঐ বাড়িতে সে একাই থাকে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার বন্ধু চট্টগ্রামের ঐ বাড়িতে এক নাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। সুতরাং একবার যদি তিনি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পরবর্তীতে ঐ এলাকার বসবাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্যও সেখানে গেলে মুকীম গণ্য হবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৮, ১/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজন ড্রাইভার। ঢাকায় থাকি। কিন্তু দৈনিক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম...

প্রশ্ন

আমি একজন ড্রাইভার। ঢাকায় থাকি। কিন্তু দৈনিক গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করতে হয়। সেখানে নামায কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব? উল্লেখ্য, সেখানে আমার থাকার নির্ধারিত স্থান নেই। হোটেলে থাকি।

উত্তর

চট্টগ্রাম সফরকালে পথিমধ্যে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। আর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে এক এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত না থাকলে সেখানেও মুসাফির হিসাবে নামায কসর করবেন।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৮৫২
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: সফর

ঘুরতে গেলেও কি নামায কসর পড়তে হবে?

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমাদের বাড়ি ঢাকা ৷ আমরা কয়েকজন বন্ধু কয়েকদিনের জন্য কক্সবাজার এসেছি ঘুরতে ৷ আপনার নিকট জানার বিষয় হলো, ঘুরতে আসার কারনেও কি আমাদের নামায কসর পড়তে হবে? এবং আমরা জামাতে পড়লে কি পুর্ন পড়ব নাকি কসর পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
সফর সমপরিমান রাস্তা অতিক্রম করার নিয়তে নিজ এলাকা থেকে বের হলেই মুসাফির ৷ অতএব আপনারা ঘুরতে যাওয়ার কারণেও মুসাফির হিসেবে গন্য হবেন ৷ অতএব আপনাদের নামায কসর তথা চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামায দু রাকাত করে পড়তে হবে ৷ এবং মুসাফির ইমামের পিছরে পড়লে নামায কসর পড়বেন ৷ মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে পুর্ন পড়তে হবে৷
-ইলাউস সুনান ৭/৩১০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬১; ফাতাওয়া খানিয়া
১/১৬৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭১ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮১৪
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: সফর

লং ড্রাইভিংয়ে ড্রাইভারদের নামাযের বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি ঢাকা সিলেট রোডে গাড়ি চালাই । আমার বাসা ঢাকায় । প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে সিলেটে
আসা-যাওয়া করতে হয়। মাঝে মাঝে সিলেটে থাকি ৷ তবে নির্ধারিত কোন বাসা নেই ৷ হোটেলে থাকি ৷ জানার বিষয় হলো আমি সিলেটে আসা-যাওয়ার সময় ও সেখানে থাকলে নামায কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত ক্ষেত্রে সিলেটে সফরকালে পথিমধ্যে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। ঢাকা সীমানা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নামায কসর পড়বেন ৷ এবং সিলেটে পৌঁছে এক এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত না থাকলে সেখানেও মুসাফির হিসাবে নামায কসর করবেন। আর যদি ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পুর্ন নামায পড়বেন ৷
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৭২
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: সফর

মোজার উপর মাসাহ করার বিধান ৷

প্রশ্ন
মোজার উপর মাসাহ করার হুকুম কি? কি ধরনের মোজার উপর মাসাহ করা যাবে? আমাদের দেশে প্রচলিত কাপেড়র তৈরী মোজার উপর মাসেহ করা যাবে কি? অযু করে মোজাহ পরার পর কতদিন পর্যন্ত মাসাহ করা যাবে? বিস্তারিত জানাবেন!
উত্তর
মোজা যদি চামড়ার তৈরি হয় বা এমন কোন জিনিষের তৈরি হয় যা পরিধান করার পর পায়ে পানি পরলে পানি চামড়ায় পৌছে না যেমন পুলিশের বুট ইত্যাদি, অথবা মোজা এতটুকুই মোটা ও শক্ত কাপড়ের হয় যে, মোজাকে কোন কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই শুধু মোজা পা দিয়ে চার মাইলের মত হাটা যাবে, কিন্তু মোজা ছিড়বে না ৷ এসব মোজা যদি দিয়ে যদি টাখনু ঢাকা থাকে, এমকতাবস্থায় তার উপর মাসাহ করা বৈধ ৷
অতএব আমাদের দেশের প্রচলিত কাপড়ের পাতলা মোজার উপর মাসাহ করা কিছুতেই জায়েজ নয়।
পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করার পর মুকিম হলে একদিন এক রাত পর্যন্ত আর মুসাফির হলে তিনদিন তিন রাত পর্যন্ত উক্ত মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে। অতপর মোজা খুলে পুনরায় পা ধুয়ে নিতে হবে৷
দলিলঃ
আবু দাউদ হাদীস নং ১৫৭, ১৫৯; হেদায়া ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০১ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৫৪
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: সফর

মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়া৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক মহিলার স্বামী মারা গেছে কয়েক বছর আগে। মহিলাটি এ বছর হজ্জ পালনের ইচ্ছা করেছে। অথচ তার মাহরাম বলতে এমন কেউ নেই, যে তাকে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব নিয়ে যাবেন। তবে, এ বছর তার বোন আর বোনের স্বামী এ বছর হজ্জ পালনে যাবেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, মহিলাটি তার বোন আর বোনের স্বামীর সাথে কি হজ্জ পালন করতে যেতে পারবেন?
উত্তর
মহিলারা কোনো অবস্থাতেই মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ্জে যেতে পারবেন না। আর ভগ্নিপতি মাহরাম নয়। সুতরাং বোন সঙ্গে থাকলেও ভগ্নিপতির সঙ্গে হজে যাওয়া মহিলাদের জন্য জায়েজ নয়। সুতরাং উক্ত মহিলার নিজের মাহরাম সাথে থাকতে হবে৷ নিজ মাহরাম ব্যতিত হজ্জ পালনে যেতে পারবে না।
তবে এক ব্যক্তি কয়েকজনের মাহরাম হতে পারবে৷ যেমন একজন পিতা তার কয়েকজন মেয়েকে নিয়ে হজে যেতে পারে। মেয়েদের প্রত্যেকেরই যেহেতু পিতা মাহরাম । সুতরাং তাতে অসুবিধা নেই।
হাদীস শরীফে এসেছে, ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট
যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,৷তুমিও তার সাথে হজ্বে
যাও।
সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস৷সানায়ে ২/২৯৯;৷আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭২২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: সফর

বিয়ের আগে প্রেম করা ৷

প্রশ্ন
কিছু মনে করবেন না! ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্য ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে কি না?
অর্থাৎ প্রেম ভালবাসা। উত্তর দিবেন..প্লিজ...
উত্তর
বিয়ের পূর্বে প্রেম- ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলা ইসলামি-শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয় এজন্য যে, ইসলামের বিধি- বিধান অনুযায়ী কোন পরনারী কোন পরপুরুষের সান্নিধ্যে আসতে পারেনা। দেখা-সাক্ষাৎ বা ফোন, নেট ইত্যাদির মাধ্যমে প্রেমালাপ করা যায়না। ইসলামি- শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলো একপ্রকার যিনা বা ব্যভিচার। এমনকি মনে মনে কল্পনা করে তৃপ্তি অনূভব করার দ্বারাও অন্তরের যিনা হয়। যা হারাম এবং কবিরা গুনাহ।
সহীহ মুসলিম ২/৩৩৬৷
মূলতঃ ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্যে ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটাই পদ্ধতি-বিয়ে। সুতরাং শরীয়তের বাঁধা না থাকলে এবং বিয়ের জন্য উপযুক্ত মনে হলে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিবে। প্রস্তাব গৃহীত হলে বিয়ের মাধ্যমে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে প্রস্তাব গৃহীত না হলে ভুলে যাবে। ভুলে না যাওয়ার মানে হচ্ছে, শয়তানের পক্ষ থেকে বিপথগামী হওয়ার জন্য
ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কোন পুরুষ যেন অপর কোন মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, কোন স্ত্রীলোক যেন কোন মাহরাম সঙ্গী ব্যতীত সফর না করে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ)! অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমার
স্ত্রী হজ্জে যাবে। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তবে যাও নিজ স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর’।
সহীহ বুখারি;হাদিস নং- 2798
অপর হাদিসে বলা হয়েছে, ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়
সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২১৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৫৮৬৷
প্রয়োজনে
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭১৬
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: সফর

তাবলীগের চিল্লায় মুকিম নাকি মুসাফির?

প্রশ্ন
আমার বাড়ি কুমিল্লা, আমি আল্লাহর রাস্তায় এক সালের জন্য বের হয়েছি, প্রতি চিল্লার পর কাকরাইলে আসি, সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়, যা আমার বাড়ি থেকে ৪৮ মাইলের দূর৷ কোথাও গিয়ে পনের দিন থাকা হয় না, এমতাবস্তায় আমরা মুকিম নাকি মুসাফির? নামায কসর পড়বো নাকি ফোল পড়বো? দয়া করে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব৷
উত্তর
কোন এক গ্রামে বা কোন এক সিটিতে লাগাতার পনের দিন থাকার নিয়ত না করলে মুসাফিরই থাকবে। তাই একাকী নামায পড়লে বা নিজেরা নামায পড়লে কসর তথা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযগুলো দু রাকাত করে আদায় করতে হবে। কিন্তু মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে পুরা নামাযই পড়তে হবে।
উল্লেখ্য যে, যদি এক সিটি বা এক গ্রামেরই একাধিক মসজিদে বা এক মসজিদেই পনের দিন থাকার নিয়ত করেন, তাহলে মুকীম হয়ে যাবেন৷ তখন নামায পূর্ণই পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।
ফতওয়াযে কাজীখান ফিল হিন্দিয়া ১/১৬৪; আদ দুররুল মুখতার ২/৫৯৯,৬০৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৬৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

মেয়েদের জন্য মেডিকেল কলেজে পড়া সম্পর্কিত একটি বিষয়৷

প্রশ্ন
আমি একজন ৫ম বর্ষ মেডিকেল ছাত্রী। আমাদের একাডেমিক কোর্স ৬ বছর। তাবলীগের মেহনতের সাথে জড়ার পর আমি পূর্ণ শরয়ী পর্দা শুরু করি আল্লাহর ইচ্ছায়। এবং মাহরামের গুরুত্ব বুঝতে পারি। যেহেতু

আমাকে পড়াশোনার খাতিরে হাত মোজা খুলতে হতো এবং পুরুষ রোগী ধরতে হতো।

মাহরাম ছাড়া হোষ্টেলে থাকতে
হতো।

ক্লাস করতে বাসে করে ৩০ মিনিটের রাস্তা পাস করে কলেজ গেইট যেতে
হতো।

ভাইভা বোর্ড টিচাররা আমি যে প্রকৃত পরীক্ষার্থী এটা বুঝতে নেকাব খুলতে চাপ দিতো, মাঝে মাঝে ফেইলও করাতো। সেহেতু আমি গোনাহের ভয়ে পড়া বাদ দিয়ে চলে আসি। আমার হাজবেন্টও চায় না আমি পড়ি। কিন্তু আমার শ্বশুর শ্বাশুরী খুব চান আমি পড়াটা শেষ করি। ফেমিলি থেকে খুবমুখে আমি দেওবন্দের ওয়েব সাইটে প্রশ্ন করি। আর মুফতী মানসূরুল হক দা.বা. এর কাছে আমার স্বামী পরামর্শ চান। উনি বলেন, পড়া জায়েজ নেই। কিন্তু দেওবন্দ মাদরাসা থেকে পড়া শেষ করতে পারবো এ মর্মে এ্যানসার আসে। আমাদের স্থানীয় উলামাও বলেন পড়া শেষ করতে যা শুনে আমার পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ীর পরিবার পক্ষ থেকে খুব চাপ আমার উপর। কিন্তু আমার একটুও ইচ্ছে করে না। এখন যেসব শ্রদ্ধেয় উলামাগণ পড়তে বলেছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে, বর্তমান জমানায় দ্বীনদার মহিলাদের খুব দরকার। যেহেতু আমি পড়েই ফেলেছি, তাই আমার পড়া কমপ্লিট করাটাই উম্মতের খিদমাত হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে হাত মোজা খুলতে সমস্যা নেই। এখন আমি কি করতে পারি শরীয়া
মতে?
আমার অনেক ফ্রেন্ড এরও একই জিজ্ঞাসা। উল্লেখ্য যে, আমার বাসা ঢাকায় আর কলেজ নোয়াখালী। মাহরাম গিয়ে আমার সাথে থাকবে এর কোন সুযোগ নেই।
উত্তর
বোন! আপনার পূর্ণ বিবরণ পড়ে আমাদের চোখের কোণের বেদনাশ্রু জমাট বেঁধেছে। হায়! একটি মুসলিম প্রধান দেশে একজন মুসলিম নারী তার ধর্ম পালন করতে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। এর চেয়ে বড় আফসোস ও হতাশার আর কী হতে পারে? আমরা সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন রাখবোঃ নারীদের জন্য পৃথক মেডিকেল কলেজ এবং পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে পড়াশোনা করার পরিবেশ কায়েম করার জন্য। শুরুতে কয়েকটি মৌলিক কথা বলিঃ

পর্দা রক্ষা করা ফরজ। [সূরা নূর-৩০-৩১]

মাহরাম ছাড়া সফরের দূরত্বে ভ্রমণ করা বৈধ নয়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-৪২৩]

মাহরাম ছাড়া অনিরাপদ কোথাও নারীদের জন্য থাকা বৈধ নয়। [রদ্দুল মুহতার-২/১৫৭]

দ্বীনী শিক্ষার সাথে সাথে যে শিক্ষা মানুষের আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত। সেসব বিষয় শিক্ষা করাও ফরজে কেফায়া তথা একদলের উপর শিক্ষা করা ফরজ। ডাক্তারী পড়াশোনা মানুষের আবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণের অন্তর্ভূক্ত। তাই একদল মানুষের জন্য ডাক্তারী পড়াও ফরজ। সেই হিসেবে আপনার ডাক্তারী পড়াটি একটি শরয়ী ফরীজা আদায়েরই একটি মাধ্যম। তাই এটিকে একদম হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। আপনার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমাদের পরামর্শ হল, যেহেতু আপনার একাডেমিক পড়াশোনার ৬ বছরের কোর্সের মাঝে ৫ বছর ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি আছে আর মাত্র এক বছর। সেই সাথে আপনি বিবাহিত। পূর্ণ পর্দা রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছেন। তা’ই আপনার উচিত বাকি পড়াশোনাটাও শেষ করা। বাকি প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে শরীয়তের যেটুকু বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে ইনশাআল্লাহ তা আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। [মুস্তাফাদ- ফাতাওয়া উসমানী-১/১৬৯] বাকি সফরের দূরত্বের সফরের সময় একজন মাহরামকে সাথে রাখার চেষ্টা করুন। ঢাকায় বাসা থাকা অবস্থায় নোয়াখালী মেডিকেলে না পড়ে ঢাকায় বাকি পড়াটা শেষ করতে পারেন। কিংবা নোয়াখালীতে বাবা মায়ের সাথে বা শ্বশুর শ্বাশুরীর সাথে বাসা নিয়ে বাকি পড়াটা শেষ করতে পারেন। এক্ষেত্রে শরয়ী বিধান লঙ্ঘণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া আরো কমে
যাবে।
‎ﻗَﺎﻝَ ﻓِﻲ ﺗَﺒْﻴِﻴﻦِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡِ : ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻓَﺮْﺽُ ﺍﻟْﻜِﻔَﺎﻳَﺔِ ﻣِﻦْ
‎ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ، ﻓَﻬُﻮَ ﻛُﻞُّ ﻋِﻠْﻢٍ ﻟَﺎ ﻳُﺴْﺘَﻐْﻨَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﻗِﻮَﺍﻡِ ﺃُﻣُﻮﺭِ
‎ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻛَﺎﻟﻄِّﺐِّ ﻭَﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏِ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻣﻘﺪﻣﺔ - 1/42 )
‎ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ ﺃَﺻَﺎﺑَﺘْﻬَﺎ ﻗُﺮْﺣَﺔٌ ﻓِﻲ ﻣَﻮْﺿِﻊٍ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻠﺮَّﺟُﻞِ ﺃَﻥْ
‎ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﺇﻟَﻴْﻬَﺎ ﻟَﻜِﻦْ ﺗُﻌْﻠِﻢُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً
‎ﺗُﺪَﺍﻭِﻳﻬَﺎ، ‏( ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﻴﺔ، ﺍﻟْﺒَﺎﺏ
‎ﺍﻟﺜَّﺎﻣِﻦ ﻓِﻴﻤَﺎ ﻳَﺤِﻞّ ﻟِﻠﺮّﺟﻞِ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞّ
‎ﻟَﻪُ - 5/330 )
‎ﻭَﺍﻟﻄَّﺒِﻴﺐُ ﺇﻧَّﻤَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟَﻪُ ﺫَﻟِﻚَ ﺇﺫَﺍ ﻟَﻢْ ﻳُﻮﺟَﺪْ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ
‎ﻃَﺒِﻴﺒَﺔٌ ﻓَﻠَﻮْ ﻭُﺟِﺪَﺕْ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟَﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﻟِﺄَﻥَّ ﻧَﻈَﺮَ
‎ﺍﻟْﺠِﻨْﺲِ ﺇﻟَﻰ ﺍﻟْﺠِﻨْﺲِ ﺃَﺧَﻒُّ ﻭَﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﻠﻄَّﺒِﻴﺐِ ﺃَﻥْ ﻳُﻌَﻠِّﻢَ
‎ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﺇﻥْ ﺃَﻣْﻜَﻦَ ‏( ﺍﻟﺒﺤﺮ ﺍﻟﺮﺍﺋﻖ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﻴﺔ، ﻓﺼﻞ
‎ﻓﻰ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻭﺍﻟﻠﻤﺲ، ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﻣَﻦْ ﺍﺷْﺘَﻬَﻰ ﺇﻟَﻰ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ
‎ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢَ - 8/192 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৫১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পার্থক্য৷

প্রশ্ন
কিছুদিন যাবৎ একটি মহল থেকে শুনা যাচ্ছে যে, পুরুষ মহিলার নামাযে কোন পার্থক্য নেই৷ কুরআন হাদীসে নাকি কোন পার্থক্যের কথা নেই৷ এতে জনসাধারন মারাত্বক বিভ্রান্তিতে পড়েছে৷ বিশেষ করে ইন্টার্নেটে একশ্রেনীর লোকেরা সরলমনা ইসলামপ্রীয় মেয়েদের কে বিভ্রান্ত করছে৷ তারা জর্জরিত হচ্ছে বহু সমস্যায়৷ মুফতী সাহেবের নিকট আকুল আবেদন এ বিষয়ে হাদীস মুতাবিক সঠিক সমাধান দিয়ে মুসলিম বোনদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন৷
উত্তর
আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে৷ বিশেষ হেকমতের কারনেই মানুষকে পুরুষ ও মহিলা দুটি শ্রেনীভুক্ত করেছেন৷ মানুষ হিসেবে দুশ্রেনীর মাঝে ব্যবধান না থাকলেও বিশেষ কিছু দিক বিবেচনায় অনেক পার্থক্য রয়েছে৷ পার্থক্যের দিকটি বাহ্যিক জীবনে যেমন গুরত্ব দেয়া হয়েছে৷ ইবাদতের ক্ষেত্রেও পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে৷ যেমন-
১৷ মহিলা পুরুষ উভয়ের উপর হজ্ব ফরজ৷ কিন্তু মহিলা যদি সফরের দুরত্ব থেকে আসে তাহলে পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে তার সাথে মাহরাম পুরুষ থাকা শর্ত৷ (দলিল বুখারী হাঃ ১০৮৬; মুসলিম হাঃ ১৩৩৮)
২৷ ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ৷ অথচ মহিলাদের জন্য মাথা ঢাকা ফরজ৷ ( আবু দাউদ হাঃ ১৮৩৩; বায়হাকী ৯১২৮)
৩৷ পুরুষ উচু আওয়াজে তালবিয়া পড়বে, অথচ মহিলারা নিম্ন আওয়াজে পাঠ করা জরুরী ( দারাকুতনী হাঃ ২৮৪১)
৪৷ মহিলাদের রমল নিষেধ৷ পুরুষ রমল করবে৷ ( দারাকুতনী ২৭৪০)
৫) হালাল হওয়ার সময় পুরুষ মাথা মুন্ডাবে ৷ মহিলাদের মাথা মুন্ডানো হারাম ৷ ( দারাকুতনী ২৬৪০)
৬৷ পুরষের সতর নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত৷ মহিলাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুর্ন শরীর৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩)
৭৷ আযান ইকামত পুরুষের জন্য মহিলাদের জন্য নয়৷ ( বায়হাকী হাঃ ১৯৫৯,১৯৬৩)
৮৷ ইমাম খতিব হওয়া পুরুষের কাজ মহিলাদের নয়৷ (বুখারী হাঃ ৪৪২৫, মুসতাদরাকে হাকেম,হাঃ ৭৯৫২)
৯৷ জুমার নামায পুরুষের জন্য ফরজ, মহিলাদের নয়৷ ( বায়হাকী ১৯৬০)
এছাড়াও বহু বিষয়ে পুরুষ মহিলার মাঝে পার্থক্য রয়েছে৷
উপরোক্ত মাসালাগুলোতে লক্ষনীয় বিষয় হলো, অনেক কাজ ফরজ হওয়া সত্বেও মহিলাদের পর্দার বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের জন্য সতন্ত্র হুকুম দেয়া হয়েছে৷
ঠিক তেমনি নামাযের মধ্যেও পুরুষ মহিলার বহু পার্থক্য রয়েছে৷ নিম্নে তা সংক্ষেপে হাদীস সহ উল্যেখ করা হলো৷
১৷ তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষ কান পর্যন্ত হাত উঠাবে ৷ মহিলারা বুক পর্যন্ত৷ ( জুযয়ে রফয়ে ইদাইন পৃ ১৪, মুজামুল কাবীর হাঃ ২৪৯০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা হাঃ ২৪৮৬, ২৪৮৭)
২৷ তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষ চাদর থাকলে ভিতর থেকে হাত বের করবে মহিলারা ওড়নার ভিতর থেকে হাত বের করবে না৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩, ইবনে হিব্বান হাল ৫৫৯৮, ৫৫৯৯,
৩৷ হাত উঠানোর সময় পুরুষ হাত বুকে মিলাবে না৷ মহিলারা বুকের সাতে মিলিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রজ্জাক ৫০৮০, ইবনে আবি শাইবা ২৪৮৯)
৪৷ পুরুষ হাতের আঙ্গুল সর্বাবস্থায় সাভাবিক রাখবে, মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
৫৷ পুরুষ হাত নাভির নিচে বাধবে, মহিলাগন বুকের উপর বাধবে, কারন বুকে হাত বাধলে সতরের জন্য অধিক উপযুক্ত৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩)
৬৷ পুরুষ ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা বাম হাতকে শক্ত করে ধরবে৷ মহিলারা আলত ভাবে রাখবে৷ ( বুখারী হাঃ ৭৪১, ৪১৮)
৭৷ দাড়ানোর সময় মহিলারা দু পা মিলিয়ে রাখবে৷ পুরুষ দুপায়ে মাধ্যখানে ফাকা রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
৮৷ মহিলারা সবসময় ক্বেরাত আস্তে পড়বে৷ ( বুখারী হাঃ ৬৮৪,১২০১, ১২০৪)
৯৷ রকুতে পুরুষের মাথা, কোমর, পিঠ সমান থাকবে৷ মহিলারা পুরোপুরি ঝুকবে না, হাত হাটু পর্যন্ত পৌছে পরিমান ঝুকবে৷ কারন এভাবে অধিক পর্দা হয়৷
১০৷ মহিলারা রুকুতে উভয় পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখবে, পুরুষ ফাকা করে রাখবে৷
১১৷ মহিলারা বাহুদ্বয় পাজরের সাথে মিলিয়ে রাখবে ৷ পুরুষ মিলাবে না৷
( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
১২৷ রুকুতে পুরুষ উভয় হাতে হাটু শক্ত করে ধরবে মহিলারা সাভাবিক রাখবে৷ ( বুখারী হাঃ ৫৬৭৩, ৬৪৬৩)
১৩৷ রুকুতে মহিলারা হাতের আঙ্গুল মিলিয়ে রাখবে৷ পুরুষ ছড়িয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৪)
১৪৷ সিজদায় পুরুষ উভয় হাত কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত জমিন থেকে উপরে রাখবে, মহিলারা জমিনে বিছিয়ে রাখবে৷ (বায়হাকি হাঃ৩২৮৫,৩২৮৬)
১৫৷ সেজদায় পুরুষ পেট উরু থেকে পৃথক রাখবে৷ মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাঃ ৫০৮৬, ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৬)
১৬৷ সেজদায় পুরুষ বাহু পাজর থেকে পৃথক রাখবে, মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ২৭৯৭)
১৭৷ সেজদায় পুরুষ পায়ের পাতা খাড়া রাখবে৷ মহিলারা ডান দিক দিয়ে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রজ্জাক হাঃ ৫০৮২)
১৮৷ বসার ক্ষেত্রে পুরুষ বাম পায়ের উপর বসবে, মহিলারা নিতম্বের উপর বসবে৷ ( বায়হাকি ৩২৮৩, ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৯)
১৯৷ পুরুষ বাম পা বিছিয়ে রাখবে, মহিলারা উভয় পা ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে৷ ( ইলাউস সুনান ৩/২৭)
২০৷ পুরুষ উভয় উরু স্বাভাবিক রেখে বাম পায়ের পাতার উপর বসবে, মহিলারা উভয় পায়ের উরু মিলিয়ে রাখবে৷ (বায়হাকি হাঃ ৩২৮৩)
২১৷ পুরুষ বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রাখবে৷ মহিলারা ডান পায়ের গোছা বাম বায়ের গোছার উপর রাখবে৷ (বায়হাকী হাঃ ৩২৮৩)
২২৷ পুরুষ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক রাখবে৷ মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ (যখীরা ২/১৯৩)
২৩৷ নামাযে পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা ফরজ৷ আর মহিলাদের জন্য চেহারা হাত কব্জি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ব্যতিত সম্পুর্ন শরীর ঢেকে রাখা ফরজ৷ (তিরমিযি হাঃ ১১৭২)
উল্লিখিত বর্ননা থেকে হাদীসের আলোকেই স্পষ্টভাবে প্রমানিত যে, পুরুষ ও মহিলার নামায এক রকম নয়৷ বরং বহু পার্থক্য রয়েছে৷
যারা বলে পার্থ্য নেই৷ তাদের হাদীসের নুন্যতম জ্ঞান রাখে না৷ গ্রহনযুগ্য কোন দলিল প্রমানের উপর ভিত্তি না করেই এসব অবান্তর কথা বলে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে৷
আল্লাহ তায়ালা এসব ফেতনাবাজদের ফেতনা থেকে সকলকে, বিশেষ করে মা বোনদের কে রক্ষা করুন৷ সহীহ বুঝে আমল করে উভয় জগতে ধন্য হওয়া তৌফীক দান করুন৷ আমীন৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৩১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

অস্থায়ী বাড়িতে পনের দিনের কম থাকার নিয়তে গেলে কসর নামায পড়বে কিনা?

প্রশ্ন
আমার বন্ধু সাঈদ। তার বাড়ি কুমিল্লা লাকসাম। সে চট্টগ্রামে এক ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে। বাড়ি থেকে ঐ কোম্পানির দূরত্ব প্রায় দুইশত কিলোমিটার। তাই ওখানে অস্থায়ীভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এবং সেখানে সাত, আট দিন থাকার নিয়তে কুমিল্লা থেকে বের হয় এবং সাত আট দিন থাকার পর পরই কুমিল্লায় ফিরে আসে। এখন জানতে চাই, ঐ বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে কি মুকীম হবে, নাকি মুসাফির? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। উল্লেখ্য, ঐ বাড়িতে সে একাই থাকে।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার বন্ধু চট্টগ্রামের ঐ বাড়িতে এক নাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। সুতরাং একবার যদি তিনি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পরবর্তীতে ঐ এলাকার বসবাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্যও সেখানে গেলে মুকীম গণ্য হবেন। -বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৮, ১/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৪২৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: সফর

আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার
উদ্দেশে আমি গ্রামের বাড়ি থেকে
ফেনী শহর পর্যন্ত আসি। তখন যোহরের
সময় হলে দুই রাকাত কসর পড়ে গাড়িতে
উঠি। কিছুদূর যাওয়ার পর বাড়ি থেকে
একটি জরুরি ফোন আসে। ফলে সেখান
থেকে বাড়ি চলে আসি। বাড়ি ফেরার
পরও যোহরের সময় বাকি ছিল। এতে
আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয় যে, আমি
সফরের উদ্দেশে বের হলেও যেহেতু
সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই
যোহরের সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে
এসেছি তাই আমাকে পুনরায় ঐ যোহরের
নামায পড়তে হবে কি? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যখন যোহরের নামায আদায় করেছেন তখন যেহেতু আপনি সফর মুলতবি করেননি বরং ঐ সসয় মুসাফির অবস্থায়ই ছিলেন তাই আপনার ঐ যোহর নামায যথাযথভাবে আদায় হয়েছে। তাই পরবর্তীতে যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে সফর বাতিল করে মুকীম হয়ে গেলেও ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১২২, ১১৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১০৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার
নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে
প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে।
-শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১০২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট...

প্রশ্ন
আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট
যাওয়া-আসার সময় আমি কি মুকীম হব, নাকি মুসাফির?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিমানবন্দরের
পথে ও বিমান বন্দরে মুকীম থাকবেন তাই পুরো নামাযই পড়তে হবে। কেননা
মুসাফির হওয়ার জন্য নিজ শহরের আবাদি অতিক্রম করা শর্ত। তদ্রূপ সফর থেকে ফিরে বিমান বন্দরে অবতরণ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন। নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মদীনার ঘর-বাড়ি অতিক্রম করলে তখন নামায কসর পড়তেন এবং সফর থেকে ফেরার সময় মদীনার বসতিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত কসর পড়তেন।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩২৩, ৪৩১৯, ৪৩২১; কিতাবুল আছল ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৪, ২৭৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৮৩
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট...

প্রশ্ন
আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়া- আসার সময় আমি কি মুকীম হব, নাকি মুসাফির?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিমানবন্দরের পথে ও বিমান বন্দরে মুকীম থাকবেন তাই পুরো নামাযই পড়তে হবে। কেননা মুসাফির হওয়ার জন্য নিজ শহরের আবাদি অতিক্রম করা শর্ত। তদ্রূপ সফর থেকে ফিরে বিমান বন্দরে অবতরণ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন। নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মদীনার ঘর-বাড়ি অতিক্রম করলে তখন নামায কসর পড়তেন এবং সফর থেকে ফেরার সময় মদীনার বসতিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত কসর পড়তেন। -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩২৩, ৪৩১৯, ৪৩২১; কিতাবুল আছল ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৬২
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত...

প্রশ্ন
যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত নির্ধারিত মুসাফিরের
সীমার অনেক উপরে। এখন প্রশ্ন হল, সে বাড়িতে যাওয়ার সময়
এবং বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তায় কছর নামায পড়বে কি? যদি কছর পড়তে হয় তাহলে সে
তার বাড়ি/চাকরিস্থলে পৌঁছার কতটুকু সীমানা পর্যন্ত পড়বে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যায়েদের চাকরিস্থল যেহেতু সফরসম দূরত্বে তাই সেখানে যাতায়াতের সময় তার বাসস্থানের এলাকা ত্যাগ করার পর পথিমধ্যে সে মুসাফির গণ্য হবে এবং নামায কছর করবে। আর চাকরিস্থলে ১৫ দিনের নিয়তে কখনো থাকা না হলে সেখানেও সে মুসাফির থাকবে। অবশ্য চাকরিস্থলে যদি কখনো ১৫ দিনের নিয়তে অবস্থান করে থাকে তবে তখন থেকে চাকরিস্থলে সে মুকীম। এক্ষেত্রে নিজ গ্রামের সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে চাকরিস্থলের এলাকায় প্রবেশের আগ পর্যন্ত সে মুসাফির গণ্য হবে। আর চাকরিস্থলে একবার মুকীম হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কখনো অল্প সময়ের জন্য গেলেও সেখানে সে মুকীম
হবে।
আর এক্ষেত্রে চাকরিস্থলে সে যেহেতু মুকীম তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে চাকরিস্থলের এলাকা অতিক্রম করার পর থেকে সে মুসাফির গণ্য হবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৪৪
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার
২/১২৪

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৫১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: সফর

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা...

প্রশ্ন
আমি একজন ব্যবসায়ী।
বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াত খরচ ও সফর অবস্থায় থাকা- খাওয়ার খরচ ব্যবসার টাকা থেকেই
নিয়ে থাকি। কিছুদিন পূর্বে ব্যবসার কাজে ঢাকা
যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় আমি মারাত্মক ভাবে আহত হই। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত চিকিৎসার খরচ আমি ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারব কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কারীদের অনুমতি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁ, তারা অনুমতি দিলে নিতে পারবেন। অবশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে সফর করলে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সাধারণ খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারবেন।
-কিতাবুল আছল ৪/১৭-১৮০; আততাজরীদ
৭/৩৫১৭; মুজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী
৪/৩৫৩,
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার
২/১২৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: সফর

বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই...

প্রশ্ন
বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ
তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই আমি প্রায় সময়ই ফজর
ও যোহরের নামাযের পর মসজিদে কিছুক্ষণ
কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করি। অনেক সময় ঝিমুনি
এলে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ি।
জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় মসজিদে ঘুমানো কি
দোষণীয়? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
না, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি ইবাদত করতে গিয়ে
মসজিদে ঘুম এসে গেলে তা দোষণীয় হবে না। তবে এ সময়ও নফল ইতিকাফের নিয়ত করে
নেওয়া উত্তম। আর সাধারণ অবস্থায় মুসাফির ও
ইতিকাফকারী ছাড়া কিংবা দ্বীনী কাজের জরুরত ছাড়া
অন্যদের জন্য মসজিদে ঘুমানো মাকরূহ। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তোমরা মসজিদকে ঘুমানোর স্থান বানিও না। -জামে তিরমিযী ১/৪৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৬১২;
আততাজনীস ১/৩৬৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর
১/২৭৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৬৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন।...

প্রশ্ন
জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে
তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন। সেখানে তিনি বিশ
দিন থাকবেন। কিন্তু দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার
পর হঠাৎ বাড়ি থেকে তার মেয়ের অসুস্থতার খবর
আসে। তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে আরো একদিন থেকে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্তনেন। পেছনের দশদিনের চার রাকাত বিশিষ্ট নামায তো তিনি
মুকীম হিসেবে আদায় করেছেন কিন্তু এখন যেহেতু
তার বিশ দিন থাকা হচ্ছে না বরং সামনের একদিনসহ মোট এগারো দিন থাকা হবে তাই এ
অবস্থায় আগামী একদিনের নামায চট্টগ্রাম শহরে
থাকা অবস্থায় কীভাবে পড়বেন? কসর, নাকি পূর্ণ
নামায পড়বেন?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহরে থাকাকালীন
আগামী একদিনের নামাযও তাকে মুকীম হিসেবেই আদায় করতে হবে। কসর করা যাবে না। কেননা
চট্টগ্রাম শহরে পনেরো দিন বা তার অধিক থাকার
নিয়তে প্রবেশ করার দ্বারা তিনি সেখানে মুকীম
হয়ে গেছেন। সফরসম দূরত্বের উদ্দেশ্যে ঐ স্থান
ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি মুকীমই থাকবেন।
শুধু নিয়ত পরিবর্তনের কারণে ইকামতের হুকুম
বাতিল হবে না। তাই রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে
যখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি শহরের সীমানা অতিক্রম করবেন তখন থেকে তিনি মুসাফির গণ্য
হবেন।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া
৫/১৭৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.22 render + 0.02 s transfer.