Login | Register

ফতোয়া: সফর

ফতোয়া নং: ৬৪৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার...

প্রশ্ন

হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে দাদি হজ্ব করতে পারবেন এ পরিমাণ সম্পদ মিরাস হিসেবে পেয়েছেন। গত বছর দাদি তাঁর প্রতিবেশী এক লোকের সাথে হজ্ব করতে যান। জানার বিষয় হলো, বৃদ্ধা মহিলার জন্য কি পর-পুরুষের সাথে হজ্ব করতে যাওয়া বৈধ হবে? যদি বৈধ না হয় তাহলে তার হজ্ব কি আদায় হয়ে যাবে?

উত্তর

বৃদ্ধা মহিলার জন্যও মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার অনুমতি নেই। হাদীস শরীফে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে এবং মাহরাম না থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ যেন তার কাছে গমন না করে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চাচ্ছে। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তার (স্ত্রীর) সাথেই হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৩৮

আরেক হাদীসে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্ব করতে না যায়। সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩

তারপরও কোনো মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ্ব আদায় করে তাহলে তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাহরাম ছাড়া যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে।

উল্লেখ্য যে, মাহরাম ছাড়া হজ্বে গেলে অনেক জায়গায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। সৌদী দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় অন্যকে মাহরাম দেখাতে হয়। এজেন্সিওয়ালারা পরপুরুষকে মাহরাম হিসেবে দেখিয়ে তার ভিসার ব্যবস্থা করে থাকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করতে গিয়ে এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া খুবই ঘৃণিত কাজ এবং অন্যায়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদদুর ১/৪৮৪; গুনয়াতুন নাসিক পৃ ২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে।...

প্রশ্ন

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে। ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সঙ্গে তার ছোট ভাই থাকবে। ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মামাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাই তাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?

উত্তর

মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজ্বের সফরে যাওয়াও নিষেধ। মামাতো বোনের স্বামী মাহরাম নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে না। বরং স্বামী বা কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুলস্নাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও।

-সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪; মুখতাসারুত তহাবী ৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; যুবদাতুল মানাসিক ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি।...

প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি। যাওয়ার পথে পিপাসা লাগায় সফরে আছি বলে পানি পান করি এবং অল্প নাস্তাও করি। পরে মনে পড়ে, আমি তো মুকীম অবস্থায় রোযা রেখেছি। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই, ঐ রোযা ভাঙ্গার কারণে কি আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় রোযা রাখার পর সফরের অজুহাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয হয়নি। রোযা ভাঙ্গার কারণে গুনাহ হয়েছে। ঐ রোযাটি কাযা করে নিতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব হবে না।

উল্লেখ্য, সফর অবস্থায় রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু মুকীম বা মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখলে শুধু সফরের অজুহাতে তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়।

-কিতাবুল আছল ২/১৬৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার বিবাহ হয়।...

প্রশ্ন

প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার বিবাহ হয়। বিবাহের একমাস পর সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যায়। মালিহা এখন তার বাবার বাড়িতে ইদ্দত পালন করছে। ইতোমধ্যে তার বিবাহের প্রস্তাব আসা শুরু হয়েছে। মালিহার কানাডা প্রবাসী খালাতো ভাই সপনের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব এসেছে। সপন একমাস পর আবার কানাডায় চলে যাবে। তাই সে চাচ্ছে, এই মাসের মধ্যেই বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে ফেলতে। কিন্তু মালিহার ইদ্দত শেষ হতে এখনো প্রায় তিন মাস বাকি। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় সপনের জন্য কি মালিহাকে বিবাহ করা জায়েয হবে?

উত্তর

স্ত্রী অন্তসত্ত্বা না হলে স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর জন্য চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব।

ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাদেরকে বিয়ে করা ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সবই নাজায়েয। ইদ্দতের ভেতর কোনো নারী বিবাহ করলে তা সহীহ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) তোমরা (ইদ্দতের) নির্দিষ্টকাল পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ কার্য সম্পন্ন করার সংকল্পও করো না।-সূরা বাকারা : ২৩৫

অন্যত্র ইরশাদ করেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদের রেখে মৃত্যুবরণ করে তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে।-সূরা বাকারা : ২৩৪

অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সপনের জন্য মালিহাকে ইদ্দতের ভেতর বিবাহ করা জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে সুযোগ থাকলে সপন তার সফরকে বিলম্বিত করবে। অন্যথায় মালিহার ইদ্দত চার মাস দশ দিন শেষ হওয়ার পর সপন তার কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করিয়ে নিবে।

-তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪২৬, ১/৪৩০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকা শহরের সিদ্ধেশ্বরীতে। আমি যখন বিদেশ যাই তখন...

প্রশ্ন

আমার বাসা ঢাকা শহরের সিদ্ধেশ্বরীতে। আমি যখন বিদেশ যাই তখন ঢাকা এয়ারপোর্টে মুকীম হব নাকি মুসাফির? অনুরূপভাবে যখন নৌপথে কোথাও যাব তখন সদরঘাটে অথবা নৌযানের উপর (ঘাট না ছাড়া পর্যন্ত) আমি মুকীম হব নাকি মুসাফির?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঢাকা এয়ারপোর্টে এবং সদরঘাটে আপনি পুরো নামায পড়বেন।

-কিতাবুল আছল ১/২৩২; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বাড়ি থেকে খুলনা শহর ৭১ কি. মি. এবং শহরের...

প্রশ্ন

আমার বাড়ি থেকে খুলনা শহর ৭১ কি. মি. এবং শহরের ভেতর ৫ কি.মি. দূরে আমার ভাইয়ের বাসা। আমি বাড়ি থেকে খুলনা গেলে মুকীম হব নাকি মুসাফির?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে খুলনা শহরে এবং আপনার ভাইয়ের বাড়িতে আপনি মুকীম থাকবেন। কেননা আপনার বাড়ি থেকে খুলনা শহর ও ভাইয়ের বাড়ির দূরত্ব সফর পরিমাণ (অর্থাৎ ৪৮ মাইল বা প্রায় ৭৮ কি.মি.) নয়। তাই আপনার বাড়ি থেকে সেখানে গেলে আপনাকে পূর্ণ নামাযই পড়তে হবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/১২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৪২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক) কোনো ব্যক্তি শরয়ী মুসাফির হবে কোন জায়গা থেকে? নিজ...

প্রশ্ন

ক) কোনো ব্যক্তি শরয়ী মুসাফির হবে কোন জায়গা থেকে? নিজ ইউনিয়ন অথবা ওয়ার্ড থেকে বের হলে, নাকি শহর থেকে বের হলে? উদাহরণ স্বরূপ আমার বাড়ি ঢাকার জুরাইনে ৮৯ নং ওয়ার্ডে। এখানে যাবতীয় নাগরিক সুবিধা পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান। যথা-বাজার-ঘাট, চেয়ারম্যান-মেম্বার, সালিশ ও বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসনিক সকল সুবিধা ইত্যাদি। এ অবস্থায় আমি জুরাইন থেকে বের হলেই মুসাফির হব, নাকি জুরাইন থেকে আবদুল্লাহপুর (উত্তর দিকে ঢাকার শেষ প্রান্ত) পর্যন্ত প্রায় ৩০ কি.মি. পার হওয়ার পর ঢাকার বাইরে বের হলে মুসাফির হব?

খ) আমরা তাবলীগ জামাতে যাই। কাকরাইল থেকে আমাদেরকে ১টি ইউনিয়নে রোখ দেয় এবং আমরা ঐ ইউনিয়নে পৌঁছার পর স্থানীয় যিম্মাদার সাথীরা ঐ ইউনিয়নের ১৩টি মসজিদে (৩ দিন ঢ ১৩ দিন = ৩৯ দিন) ঠিক করে দেন। তখন সকল সাথী পূর্ণ ইতমিনানের সাথে ঐ মসজিদগুলোতে ৪০ দিন পূর্ণ করেন। কখনো মনে আসে না যে, আমাদেরকে কাকরাইল থেকে ডেকে নিবে এবং আমাদেরকে এমন হেদায়াত দেওয়াও হয় না যে, যে কোনো মুহূর্তে ডেকে আনা হবে। আর কখনো এমন দেখা যায়নি যে, কাকরাইল কোনো জামাতকে ফিরিয়ে এনেছে। আর যদি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা ঘটেও যায় তাহলে তা ধর্তব্য নয়। সুতরাং এ অবস্থায় কি চিল্লার জামাতে কসর পড়তে হবে নাকি পূর্ণ নামায পড়তে হবে? দয়া করে সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ক) সফরসম দূরত্বের উদ্দেশে নিজ এলাকার বসতি ত্যাগ করলে অর্থাৎ গ্রামের অধিবাসী নিজ গ্রাম ছাড়লে, শহরের অধিবাসী শহর ত্যাগ করলে এবং সিটি শহরে বসবাসকারী সিটি শহর থেকে বের হওয়ার পর থেকে মুসাফির গণ্য হবে।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি জুরাইন থেকে বের হওয়ার পর মুসাফির গণ্য হবেন না। বরং উত্তর দিক দিয়ে ঢাকা সিটির শেষ অংশ টঙ্গী ব্রিজ থেকে মুসাফির গণ্য হবেন। কেননা জুরাইন ঢাকা সিটির অংশ।

খ) মুকীম হওয়ার জন্য একটি এলাকা অর্থাৎ একটি গ্রাম বা একটি শহরে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করতে হবে। এক ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে ১৫ দিনের নিয়ত করলে মুকীম হবে না।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় চিল্লার জামাত যদি ১টি ইউনিয়নের উদ্দেশে রোখ দেওয়া হয় তাহলেও তারা সেখানে মুকীম হবে না। মুসাফিরই থাকবে। তবে কোনো বড় গ্রাম বা শহরে যদি ১৫ দিন থাকার নিয়ত করা হয় তখন মুকীম গণ্য হবে।

-কিতাবুল আসল ১/২৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৯১; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বাড়ি চট্টগ্রামে। সেটাই আমার স্থায়ী ঠিকানা। আমি এখনো তা...

প্রশ্ন

আমার বাড়ি চট্টগ্রামে। সেটাই আমার স্থায়ী ঠিকানা। আমি এখনো তা ত্যাগ করিনি। তবে চাকরির সুবাদে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। মাঝেমধ্যে বাড়িতে যাই। সেখানে আববা-আম্মা ও ভাইবোনেরা থাকেন। কিছুদিন ধরে একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির মাধ্যমে আমাদের বাড়িটির পুননির্মাণ কাজ চলছে। এজন্য আববা-আম্মা, ভাইবোনেরা পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে আছেন। এ অবস্থায় আমি যদি কোনো কাজে স্ত্রীকে নিয়ে ৪/৫ দিনের জন্য চট্টগ্রাম যাই তাহলে আমি কি মুসাফির হব, নাকি মুকীম?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যেহেতু চট্টগ্রামের ঐ বাড়ি পরিপূর্ণভাবে ত্যাগ করে ঢাকা বা অন্য কোথাও স্থায়ীভাবে থাকার নিয়ত করেননি তাই পূর্বের মতো সেখানে আপনি মুকীম থাকবেন।

সুতরাং ঐ এলাকার অন্য কোনো ভাড়া বাসায় অবস্থান করলেও আপনি মুকীম গণ্য হবেন।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯, ১/১৪২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬, ২/১৩৮; রদ্দুল মুহতার ২/১২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে আমি গ্রামের বাড়ি থেকে ফেনী শহর পর্যন্ত আসি। তখন যোহরের সময় হলে দুই রাকাত কসর পড়ে গাড়িতে উঠি। কিছুদূর যাওয়ার পর বাড়ি থেকে একটি জরুরি ফোন আসে। ফলে সেখান থেকে বাড়ি চলে আসি। বাড়ি ফেরার পরও যোহরের সময় বাকি ছিল। এতে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয় যে, আমি সফরের উদ্দেশে বের হলেও যেহেতু সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই যোহরের সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে এসেছি তাই আমাকে পুনরায় ঐ যোহরের নামায পড়তে হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যখন যোহরের নামায আদায় করেছেন তখন যেহেতু আপনি সফর মুলতবি করেননি বরং ঐ সসয় মুসাফির অবস্থায়ই ছিলেন তাই আপনার ঐ যোহর নামায যথাযথভাবে আদায় হয়েছে। তাই পরবর্তীতে যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে সফর বাতিল করে মুকীম হয়ে গেলেও ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে না।

-রদ্দুল মুহতার ২/১২২, ১১৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালি। আমি ঢাকায় একটি মাদরাসাতে অনেক বছর...

প্রশ্ন

আমার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালি। আমি ঢাকায় একটি মাদরাসাতে অনেক বছর যাবত পড়ালেখা করছি। একবার মাদরাসার বিরতিতে বাড়ি যাই এবং পরে বিশেষ প্রয়োজনে একদিনের জন্য বাড়ি থেকে মাদরাসায় আসি। সেদিনের নামায সম্পর্কে আমার এক শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করি যে, আমি নামায কসর করব, না পূর্ণ পড়ব? তিনি বললেন, তুমি এখন মুকীম। তাই পূর্ণ নামায আদায় কর। ফলে আমি পূর্ণ নামায পড়ে নিলাম। প্রশ্ন হল, আমার জন্য মুকীমের নামায আদায় করা কি যথার্থ হয়েছে?

উত্তর

আপনার শিক্ষক ঠিকই বলেছেন। আপনি ঢাকা সিটিতে প্রবেশ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন। ঢাকা ত্যাগ করার নিয়তে সামানপত্র নিয়ে অন্যত্র চলে না যাওয়া পর্যন্ত শুধু সফরের কারণে অতনে ইকামত বাতিল হবে না। তাই অতনে ইকামত বহাল থাকা অবস্থায় সেখানে এক দু’ দিনের জন্য আসলেও আপনি মুকীম গণ্য হবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তির হজ্ব কাফেলা আছে। তিনি বলেন, মাহরাম...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তির হজ্ব কাফেলা আছে। তিনি বলেন, মাহরাম ছাড়াও মহিলাদের হজ্বে যাওয়া জায়েয আছে। তিনি নিজেও গত বছর এমন দুজন মহিলাকে হজে নিয়ে গেছেন, যাদের সাথে কোনো মাহরাম ছিল না।

তাই আমি জানতে চাই-

ক) মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্বে যাওয়া জায়েয কি না এবং মাহরাম ব্যতীত মহিলাদেরকে হজ্বের সফরে নিয়ে যাওয়াটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন হয়েছে? অর্থাৎ কী ধরনের অন্যায় হয়েছে?

উত্তর

মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্বের সফরে যাওয়া নাজায়েয। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন যে, কোনো পুরুষ বেগানা মহিলার নিকট একাকীত্বে অবস্থান করবে না এবং কোনো মহিলা মাহরাম পুরুষ ব্যতীত সফর করবে না। তখন জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো অমুক যুদ্ধে যাওয়ার জন্য নাম লিখিয়েছি অথচ আমার স্ত্রী হজ্বের সফরে বের হয়ে গেছে (এখন আমি কী করব?) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্বে যাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩০০৬)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, আবু হুবায়রা রাহ. বলেন, ‘রাই’ এলাকার অধিবাসীনি জনৈকা মহিলা ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-এর নিকট এ মর্মে পত্র প্রেরণ করলেন যে, তিনি একজন বিত্তবান নারী। তার স্বামী ও কোনো মাহরাম পুরুষ নেই এবং এ পর্যন্ত তিনি হজ্বও করেননি। (এখন তিনি স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ব্যতীত হজ্বে যেতে পারবেন কি?) প্রতি উত্তরে ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. লিখেছেন-

إن هذا من السبيل الذي قال الله وليس لك محرم فلا تحجي إلا مع بعل أو محرم

অর্থাৎ স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা হওয়া মহিলাদের হজ্বের সামর্থ্যের অন্তর্ভুক্ত, যে সামর্থ্যের কথা আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াতে বলেছেন-

ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا

(তরজমা : মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বাইতুল্লাহ শরীফ) পৌঁছার সামর্থ্য রাখে তাদের উপর আল্লাহর জন্য এ ঘরের হজ্ব করা ফরয।) আর আপনার যেহেতু কোনো মাহরাম নেই তাই আপনি স্বামী অথবা মাহরাম পুরুষ ব্যতীত হজ্ব করতে যাবেন না।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৫৪০০

সুতরাং স্বামী বা মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত মহিলা অপেক্ষা করবে। অবশেষে যদি মাহরাম পুরুষের ব্যবস্থা না হয় আর সে হজ্বে যেতে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ে তাহলে অন্য কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করাবে কিংবা বদলি হজ্বের জন্য অসিয়ত করে যাবে। এর দ্বারাই তার হজ্বের ফরয দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।

অতএব মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের হজ্বে যাওয়া জায়েয- এ সংক্রান্ত প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি ঠিক নয়। আর মাহরাম ব্যতীত মহিলাদেরকে হজ্বে নিয়ে যাওয়া সম্পূর্ণ নাজায়েয কাজ ও অন্যায় হয়েছে। তাছাড়া মাহরাম ব্যতীত মহিলাকে হজ্বে নিয়ে যেতে হলে সৌদী দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অফিসগুলোতে অন্যকে মাহরাম পরিচয় দিতে হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ধোঁকা। তাই ঐ ব্যক্তির কর্তব্য হল, এ সকল গুনাহ থেকে খাঁটি মনে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮৭, ২/২৯৯, ১/৩৮৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম। আমি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। মাঝেমধ্যে স্ত্রীকে...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম। আমি স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় থাকি। মাঝেমধ্যে স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়ার খুব প্রয়োজন দেখা দেয়। আমার ব্যস্ততার কারণে স্ত্রীর সাথে যেতে পারি না। আর মাহরাম কেউ নেই, যাকে তার সঙ্গে পাঠাতে পারি। তাই আমার স্ত্রীকে ভালো গাড়িতে মহিলার পাশে বসিয়ে দেই। এভাবে সে কয়েকবার বাড়িতে গিয়েছে। এতে তার কোনো সমস্যা হয়নি। এভাবে বাড়ি পাঠানো শরীয়তসম্মত কি?

উত্তর

মাহরাম ব্যতীত স্ত্রীকে এভাবে একাকী পাঠানো জায়েয নয়। কেননা এক্ষেত্রে বাহ্যত কোনো সমস্যা দেখা না হলেও মাহরাম ব্যতীত মহিলাদের এভাবে একাকী সফর করা শরীয়তে নিষদ্ধ। কারণ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে।

-সহীহ মুসলিম ১/৪৩৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্বে সফর থেকে বাসায় পৌঁছে আসরের নামায...

প্রশ্ন

আমি সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্বে সফর থেকে বাসায় পৌঁছে আসরের নামায আদায় করছিলাম। দুই রাকাত পড়ার পর মাগরিবের আযান হয়ে গেছে। অতপর বাকি নামায আদায় করেছি।

আমার ঐ নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার আসরের নামায আদায় হয়ে গেছে। তবে যথাসময়ে আদায় না করার কারণে আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। যথাসময়ে নামায আদায়ে যত্নবান হতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/১৫৪; কিতাবুল মাবসূত, সারাখসী ১/১৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার পিতামাতার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার মোহাম্মদপুর গ্রামে। আমার...

প্রশ্ন

আমার পিতামাতার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার মোহাম্মদপুর গ্রামে। আমার বিবাহ হয় রামগঞ্জ থানার হিরাপুর গ্রামে। স্বামী-সন্তানসহ আমি স্থায়ীভাবে হিরাপুরেই বসবাস করি। কখনো ঢাকায় এসে সফর শেষে আমার পৈত্রিক বাড়ি অর্থাৎ রামগঞ্জ থানাধীন মোহাম্মাদপুর গ্রামে এসে ৪-৫ দিন থেকে পরবর্তীতে স্বামীর সাথে হিরাপুর আসি। আমার জানার বিষয় হল, পৈত্রিক বাড়িতে অর্থাৎ মুহাম্মাদপুরে অবস্থানকালীন সময় আমি নামায পূর্ণ আদায় করব নাকি কসর করব?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যেহেতু স্থায়ীভাবে স্বামীর বাড়িতেই বসবাস করেন, পিত্রালয়ে বসবাস করেন না, তাই সফর থেকে এসে আপনি স্বামীর গ্রামে প্রবেশ না করে যদি সরাসরি আপনার পিত্রালয়ে যান এবং সেখানে পনের দিন অবস্থানের নিয়ত না করেন তবে আপনি মুসাফির থাকবেন এবং নামায কসর পড়বেন। কিন্তু যদি সফর থেকে এসে স্বামীর বাড়ির এলাকায় আগে প্রবেশ করেন তাহলে ঐ গ্রামে যাওয়ামাত্র মুকীম হয়ে যাবেন। সুতরাং সেখান থেকে নিজ পিত্রালয়ে গেলে মুকীমই থাকবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৮৮; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

রাশেদ কিছুদিন আগে তার নিজ বাড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে ঢাকায় তিন...

প্রশ্ন

রাশেদ কিছুদিন আগে তার নিজ বাড়ি (চট্টগ্রাম) থেকে ঢাকায় তিন দিনের সফরে আসে। সে সময় তার দ্বিতীয় দিনের আসরের নামায কাযা হয়ে যায়। এখন সে নিজ বাড়িতে এসে তা কাযা করলে চার রাকাত কাযা করবে না দুই রাকাত?

উত্তর

রাশেদ সেই দিনের আসরের নামায বাড়িতে এসে আদায় করলেও দুই রাকাতই পড়বে, চার রাকাত নয়। কারণ সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায কাযা হয়ে গেলে তা মুকীম অবস্থায় আদায় করলেও দুই রাকাতই পড়তে হয়।

-কিতাবুল আছল ১/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ২/১৩৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মুসাফির ব্যক্তি যদি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে দুই রাকাত...

প্রশ্ন

মুসাফির ব্যক্তি যদি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে দুই রাকাত কসর না পড়ে ভুলে চার রাকাত পড়ে ফেলে তাহলে তার নামায আদায় হবে কি?

উত্তর

মুসাফির ব্যক্তি কসর না করে যদি ভুলে চার রাকাতই পড়ে নেয় সেক্ষেত্রে দেখতে হবে সে দুই রাকাতের পর বৈঠক করেছে কি না, যদি করে থাকে তাহলে তার ঐ ফরয নামায আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাত ফরয এবং শেষ দুই রাকাত নফল হবে। আর ঐ ভুলের কারণে তাকে সাহু সিজদা করতে হবে। হাসান বসরী রাহ. বলেন, কোনো মুসাফির ভুলে যোহরের নামায চার রাকাত পড়ে নিলে সাহু সিজদা করবে।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৫৪১

আর দুই রাকাত শেষে যদি বৈঠক না করে তবে তার ফরয বাতিল হয়ে ঐ নামায নফল হয়ে যাবে। তাই এ অবস্থায় তাকে পুনরায় দুই রাকাত ফরয পড়ে নিতে হবে।-মারাকিল ফালাহ ২৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০ দিনের জন্য কোনো জামাত ৪৮ মাইলের...

প্রশ্ন

কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০ দিনের জন্য কোনো জামাত ৪৮ মাইলের বেশি দূরের এলাকায় গেলে তারা কি সেখানে মুসাফির গণ্য হবে না মুকীম হবে?

উত্তর

কোনো জামাত সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করে কোনো এলাকায় পৌঁছার পর যদি একটি গ্রাম বা সিটিতে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করে, তবে তারা মুকীম গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামাযই আদায় করবে।

আর যদি এক ইউনিয়নের কয়েক গ্রামে কিংবা শহর ও গ্রাম মিলে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করে তবে তারা মুসাফির গণ্য হবে। তখন মুসাফির ইমামের পিছনে অথবা একাকী নামায পড়লে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত কছর পড়বে। অবশ্য মুকীম ইমামের পিছনে জামাতে নামায আদায় করলে পুরো চার রাকাতই পড়তে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/২৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩০; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি চামড়ার মোজা পরিধান করলে মুকীম অবস্থায় পূর্ণ একদিন মাসাহ...

প্রশ্ন

আমি চামড়ার মোজা পরিধান করলে মুকীম অবস্থায় পূর্ণ একদিন মাসাহ করি। মাঝেমধ্যে অযু থাকাবস্থায় মাসহের সময়সীমা শেষ হয়ে যায়। এ অবস্থায় পবিত্রতার জন্য পুনরায় অযু করতে হবে, নাকি মোজা খুলে শুধু পা ধুয়ে নিলেই চলবে?

উত্তর

অযু থাকা অবস্থায় মোজার উপর মাসহের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে মোজা খুলে শুধু পা ধুয়ে নিলেই চলবে। নতুন করে অযু করা জরুরি নয়। তবে এ অবস্থায় নতুনভাবে অযু করে নেওয়া উত্তম।

-কিতাবুল আছার ১/৫৪; কিতাবুল আছল ১/৯২; আলমাবসূত ১/১০৩; রদ্দুল মুহতার ১/২৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এ বছর আমার আববার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তাই তিনি...

প্রশ্ন

এ বছর আমার আববার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তাই তিনি বিলম্ব না করে এ বছরই হজ্বের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু পথিমধ্যেই তিনি মারা যান। ফলে তিনি ফরয হজ্ব আদায় করে যেতে পারেননি। জানার বিষয় হল, আমার আববার যিম্মায় ঐ ফরয হজ্ব থেকে গেছে কি না? তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করানো জরুরি কি না?

উল্লেখ্য, মৃত্যুর সময় এ ব্যাপারে তিনি কোনো অসিয়ত করে যাননি।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার পিতা যেহেতু হজ্ব আদায়ে বিলম্ব করেননি; বরং হজ্ব ফরয হওয়ার পর সে বছরই হজ্বের সফরে বেরিয়ে গেছেন তাই এই পরিস্থিতিতে তার জন্য বদলি হজ্বের অসিয়ত করে যাওয়া জরুরি ছিল না। আর তিনি যেহেতু অসিয়ত করে যাননি তাই আপনাদের উপরও তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করানো জরুরি নয়। তবে আপনারা চাইলে তার পক্ষ থেকে নফল হিসেবে হজ্ব করাতে পারবেন।

-ফাতহুল কাদীর ২/৩২৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক আমাদের বাড়ি থেকে শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত...

প্রশ্ন

সীতাকুন্ড ইকোপার্ক আমাদের বাড়ি থেকে শত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। গত রমযানে আমরা দুই বন্ধু সেখানে ঘুরতে গেলাম। দুপুরের দিকে কষ্ট হচ্ছিল বলে আমি রোযা ভেঙ্গে ফেলি। কিন্তু আমার বন্ধু ভাঙ্গেনি। তার মত ছিল আনন্দ ভ্রমণের সামান্য কষ্টের অজুহাতে রোযার মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল নষ্ট করা কিছুতেই সঙ্গত হবে না। জানার বিষয় হল, আমার বন্ধুর মত ঠিক কি না? ঠিক হলে আমার উপর কাফফারা আসবে কি না?

উত্তর

রমযানে রোযা রাখা অবস্থায় দিনের বেলা সফরে বের হলে সাধারণ কষ্টের কারণে রোযা ভাঙ্গাজায়েয নয়। তবে এক্ষেত্রে কেউ রোযা ভেঙ্গে ফেললে এর কারণে তাকে কাযা আদায় করতে হবে।কাফফারা আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, সফর অবস্থায় রোযার বিধান সম্পর্কে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। এক্ষেত্রে মাসআলাহল, সফরে থাকা অবস্থায় দিনের শুরু থেকে রোযা না রাখার সুযোগ আছে। কিন্তু সফর অবস্থায়রোযা শুরু করে দিলে অথবা রোযা রেখে দিনের বেলায় সফরে বের হলে কঠিন ওজর ছাড়া রোযাভাঙ্গার অনুমতি নেই।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২৭০, হাদীস : ৭৭৬৬; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৬৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের ফ্যাক্টরির ভেতরই কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা আছে। মুরগীর জন্য মহাক্ষতিকর...

প্রশ্ন

আমাদের ফ্যাক্টরির ভেতরই কর্মচারীদের থাকার ব্যবস্থা আছে। মুরগীর জন্য মহাক্ষতিকর ভাইরাসজনিত সমস্যার কারণে কর্মচারীদের বাইরে যাওয়া নিষেধ থাকে। ফলে সকলেই পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফ্যাক্টরির ওয়াক্তিয়া নামায ঘরেই আদায় করে থাকে। একই সমস্যার কারণে তাদেরকে জুমআর জন্যও বাইরের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এখন তাদের জন্য ফ্যাক্টরির ওয়াক্তিয়া নামায ঘরে জুমআ পড়া জায়েয হবে কি না? না কি যোহর পড়তে হবে। নামায ঘরটি ওয়াকফিয়া মসজিদ নয়। অনেকের ধারণা, জুমআ আদায়ের জন্য জামে মসজিদে যেতে হবে। শুধু মসজিদ হলেও চলবে না। এটা ঠিক কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কারণে কর্মচারী ও ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে অবস্থানকারী অন্যান্য মুসল্লিদের জন্য উক্ত নামায ঘরে জুমআ আদায় করা সহীহ হবে। জুমআর জন্য ওয়াকফিয়া মসজিদ হওয়া শর্ত নয়। তদ্রূপ জামে মসজিদ হওয়াও শর্ত নয়। তবে নিয়ম হল, যে কোনো ফরয নামাযই ওয়াকফকৃত শরয়ী মসজিদে জামাতের সাথে আদায় করা। তদ্রূপ জুমআর ক্ষেত্রেও সাধারণ নিয়ম হল, ছোট ছোট জামাত না করে একত্রে এলাকার বড় কোনো জামে মসজিদে আদায় করা।

উল্লেখ্য, ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে জুমআ পড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও জুমআ না পড়ে যোহর পড়া জায়েয হবে না। কারণ যে জায়গার জন্য জুমআর বিধান প্রযোজ্য সেখানে মুকীমদের জন্য জুমআ পড়া ফরয। বিনা ওযরে জুমআ না পড়ে যোহর পড়া বৈধ নয়।

-সহীহ বুখারী ১/৪৭; ফাতহুল বারী ১/৫৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫১; রদ্দুল মুহতার ২/১৫২; মিনহাতুল খালিক ২/১৫১; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ঈদ ও বিভিন্ন ছুটির দিনগুলোতে দেখা যায়, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী...

প্রশ্ন

ঈদ ও বিভিন্ন ছুটির দিনগুলোতে দেখা যায়, এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ট্রেনের আগাম টিকেট ক্রয় করে তা ক্রয়মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করে। আবার কখনো এমন হয় যে, কোনো যাত্রী ট্রেনের আগাম টিকেট ক্রয়ের পর সফরের সিদ্ধান্ত বাদ দেওয়ার কারণে তা অন্যত্র বিক্রি করতে বাধ্য হন। এখন আমার জানার বিষয় হল, এই উভয় ক্ষেত্রে টিকেট অন্যত্র বিক্রি করা যাবে কি না? আর বিক্রি করা গেলে ক্রয়মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করতে পারবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোল্লিখিত উভয় ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে টিকেট বিক্রি করা যাবে না। অবশ্য প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যে বা তার চেয়ে কমে বিক্রি করা যাবে। আর অন্যের কাছে বেশি মূল্যে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে টিকেট ক্রয় করা এবং এ ধরনের কারবারকে পেশা বানানো জায়েয নয়।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১৪৯৭৩; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১৩/৬৯৩, হাদীস : ২৩৭৬০; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একটি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ব্যবসায়িক কাজে আমাকে প্রায় রমযানেই...

প্রশ্ন

আমি একটি কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর। ব্যবসায়িক কাজে আমাকে প্রায় রমযানেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফর করতে হয়। সফর অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক হলেও সফর তো সফরই। তদুপরি ক্ষুধা-তৃষ্ণাসহ শারীরিক দুর্বলতা জনিত কারণে সফর আরো কষ্টকর হয়ে উঠে। এ রমযানেও সফর করতে হয়েছে। প্রশ্ন হল, দিনের শুরুতে যেহেতু আমি মুকীম, তাই আমি রোযা রাখি। এখন সফরে বের হওয়ার পর সফরের ওজরে আমি রোযা ভাঙ্গতে পারব কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মুকীম অবস্থায় রোযা শুরু করার পর সফরে বের হয়ে সাধারণ কষ্টের কারণে রোয ভাঙ্গা জায়েয নয়। তবে কখনো রোযা রাখা যদি অস্বাভাবিক কষ্টকর হয়ে যায় এবং পানাহার না করলে অসুস্থ হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে তখন রোযা ভাঙ্গা জায়েয। এ হুকুমটি সকল রোযাদারের জন্যই প্রযোজ্য। বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত হাসান বসরী রাহ. বলেন, যখন রমযান মাসে কোনো ব্যক্তি রোযা রাখে, অতপর সফরের ইচ্ছায় বাহির হয় তবে সে যেন ওই দিন রোযা না ভাঙ্গে। অবশ্য তার যদি অধিক পিপাসিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা হয় তাহলে রোযা ভাঙ্গবে এবং পরবর্তীতে এর কাযা করে নিবে।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/২৭০, হাদীস : ৭৭৬৬; উমদাতুল কারী ১১/৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

একজন ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হয়নি। কিন্তু তিনি যদি হাদিয়ার...

প্রশ্ন

একজন ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হয়নি। কিন্তু তিনি যদি হাদিয়ার টাকা দিয়ে হজ্ব করেন তাহলে তার ফরয হজ্ব আদায় হবে কি? পরবর্তীতে তিনি বদলি হজ্ব করতে পারবেন কি না? একই সময়ে অর্থাৎ একই সফরে ফরয হজ্ব এবং বদলি হজ্ব করা যায় কি না? আবার একই সফরে নফল হজ্ব ও বদলি হজ্ব করা যায় কি না?

উত্তর

সুনির্দিষ্টভাবে নিজের নফল হজ্ব বা অন্য কারো বদলি হজ্বের নিয়ত না করলে হাদিয়ার টাকা দিয়ে হজ্ব করলেও তা দ্বারা নিজের ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি পরবর্তীতে হজ্ব আদায়ে সামর্থবান হলেও তার উপর দ্বিতীয়বার হজ্ব করা ফরয হবে না। আর এই ব্যক্তি পরবর্তীতে বদলি হজ্বও করতে পারবে।-মানাসিক ৬২; গুনইয়াতুন নাসিক ৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৭৫

এক বছরে এক ব্যক্তি কেবল একটি হজ্ব আদায় করতে পারে। তাই কেউ যদি নিজের ফরয বা নফল হজ্ব আদায়ের নিয়ত করে তাহলে ঐ বছর সে অন্য কারো পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করতে পারবে না। এমনিভাবে কারো পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব আদায় করলে তা বদলিই হবে। হজ্বকারী সওয়াবের ভাগী হবে বটে, কিন্তু ঐ হজ্ব দ্বারা নিজের ফরয বা নফল হজ্ব আদায় হবে না।

-মানাসিক ৪৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০২; রদ্দুল মুহতার ২/৬০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মোজার উপর মাসাহ করার সময়সীমা মুকীমের জন্য একদিন একরাত আর...

প্রশ্ন

মোজার উপর মাসাহ করার সময়সীমা মুকীমের জন্য একদিন একরাত আর মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত। এখন জানার বিষয় হল, পবিত্র অবস্থায় মোজা পরার পর মুকীমের জন্য মাসাহর সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা নাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা পর্যন্ত। জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মোজার উপর মাসেহর সময়সীমা মুকীমের জন্য ২৪ ঘণ্টা ও মুসাফিরের জন্য ৭২ ঘণ্টা। এটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ওয়াক্তের সাথে সম্পৃক্ত নয়। আর মাসেহর সময়সীমা শুরু হবে পবিত্রতা হাসিল করে মোজা পরিধান করার পর উক্ত পবিত্রতা ভঙ্গ হওয়ার সময় থেকে। এ প্রসঙ্গে আলী রা. হতে বর্ণিত হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মোজার উপর মাসেহর সময়সীমা) মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত আর মুকীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করেছেন।

-সহীহ মুসলিম ১/১৩৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১১২৬; শরহুল মুনইয়া ১০৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৭১; আসসিআয়াহ ১/৫৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের বাড়ি থেকে বি বাড়িয়া শহর দুই কিলোমিটার দূরে এবংবি.বাড়িয়া...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ি থেকে বি বাড়িয়া শহর দুই কিলোমিটার দূরে এবং

বি.বাড়িয়া রেলস্টেশন আমাদের বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরে বি বাড়িয়া শহরে অবস্থিত। আমাদের বাড়ি থেকে বি বাড়িয়া শহর পর্যন্ত রাস্তার দু পার্শ্বে বাড়িঘর আছে। এখন আমার জানার বিষয় হল :

ক) আমি যদি চট্টগ্রামে যাই তাহলে যাওয়া এবং আসার সময় বি বাড়িয়া রেলস্টেশনে নামায কসর পড়ব কি না?

খ) সফরের উদ্দেশে বের হলে বলা হয়, এলাকার বাইরে থেকে কসর শুরু হয়। এক্ষেত্রে এলাকা বলতে কী বুঝায়?

উল্লেখ্য, বি বাড়িয়া শহর আমাদের ইউনিয়নের বাইরে।

উত্তর

বি.বাড়িয়া রেলস্টেশন যেহেতু আপনার গ্রামের বাইরে অবস্থিত তাই চট্টগ্রামে যাওয়া এবং চট্টগ্রাম থেকে আসার পথে বি বাড়িয়া রেলস্টেশনে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। সুতরাং উক্ত রেলস্টেশনে আপনি নামায কসর পড়বেন।

খ) এলাকা দ্বারা উদ্দেশ্য হল, বসবাসের আবাদি অঞ্চল। অর্থাৎ গ্রামে বসবাসকারীর জন্য তার নিজের গ্রাম আর শহরে বসবাসকারীর জন্য শহরের নির্ধারিত সীমানা তার এলাকা হিসেবে গণ্য হবে।

-শরহুল মুনইয়া ৫৩৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; মাজমাউল আনহুর ১/২৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার চাচা এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৮ লক্ষ টাকায় একটি...

প্রশ্ন

আমার চাচা এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৮ লক্ষ টাকায় একটি প্রাইভেট কার ক্রয় করেছে। নগদ ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে। আর বাকি ৪ লক্ষ টাকা এক বছর পর পরিশোধ করবেন বলে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু চার মাস পর ঐ ব্যক্তির টাকার প্রয়োজন হওয়ায় চাচাকে অবশিষ্ট ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে বলেন। তখন চাচা বলেছেন, যদি ৫০ হাজার টাকা কম নেওয়া হয় তাহলে তিনি বাকি মূল্য পরিশোধ করবেন। অন্যথায় এক বছর পরই টাকা নিতে হবে। ঐ ব্যক্তি চাচার কথায় ৫০ হাজার টাকা কম নিতে রাজি হয়েছে এবং চাচা তাকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন।

জানার বিষয় হল, চাচার জন্য ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

বাকি বা কিস্তিতে বেচা-কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মেয়াদের আগে মূল্য পরিশোধ করলে নির্ধারিত মূল্য থেকে কম নিবে-এমন শর্ত করা হারাম। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার জন্য নির্ধারিত মেয়াদের আগে পরিশোধের শর্তে ৫০ হাজার টাকা কম দেওয়া হারাম হয়েছে। ঐ টাকা বিক্রেতাকে ফেরত দেওয়া জরুরি।

হযরত আবু সালেহ রাহ. বলেন, আমি বাজারের লোকদের কাছে বাকিতে কিছু কাপড় বিক্রি করেছি। (চুক্তি হয়েছে) একটি নির্দিষ্ট সময় তারা মূল্য পরিশোধ করবে। অতপর আমি (যখন) কূফা সফরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন (নির্ধারিত মেয়াদের আগে) তারা আমার কাছে এসে বলল, যদি তাদের থেকে মূল্যের কিছু অংশ কমিয়ে দেই তবে তারা এখনই পরিশোধ করে দিবে। (আবু সালেহ বলেন) আমি এ বিষয়টি যায়েদ ইবনে ছাবিত রা.কে জানালাম। তিনি বললেন, আমি তোমাকে এটি গ্রহণ করা কিংবা অন্যকে দেওয়ার অনুমতি দিতে পারি না। (সুনানে বায়হাকী, হাদীস : ১১৩৮)

আরেকটি বর্ণনায় এসেছে-হযরত মায়সারা রাহ. বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.কে জিজ্ঞাসা করলাম, এক ব্যক্তির নিকট আমার কিছু মেয়াদি ঋণ ছিল। (মেয়াদের আগেই) তাকে বললাম, আমার পাওনা দিয়ে দাও, কিছু কমিয়ে দিব। (এটা বৈধ কি না?) তিনি বললেন, এমনটি করা সুদ। (আহকামুল কুরআন জাসসাস ১/৪৬৭)

প্রকাশ থাকে যে, মেয়াদের আগে মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে যদি কম নেওয়ার বা দেওয়ার শর্ত না করা হয় এবং এমন কোনো প্রচলিত রীতিও না থাকে; বরং পাওনাদার নিজ থেকেই কিছু মূল্য কমিয়ে নেয় তবে তা সুদ বা নাজায়েয হবে না। এক্ষেত্রে বিক্রেতা স্বেচ্ছায় কিছু টাকা কম নিলে ক্রেতার জন্য ঐ পরিমাণ টাকা রেখে দেওয়া বৈধ হবে।

-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ২৭৮-২৭৯; সুনানে বায়হাকী, হাদীস : ১১৩৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮/৭১; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৭; হেদায়া ৩/২৫১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৫৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৬/১০৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরা ১/২৫-২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির যদি রমযানের রোযা রেখে দিনের বেলা ইচ্ছাকৃত তা...

প্রশ্ন

কোনো মুসাফির যদি রমযানের রোযা রেখে দিনের বেলা ইচ্ছাকৃত তা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে তার উপর কাযা ও কাফফারা উভয়টি ওয়াজিব হবে, নাকি কাযা করলেই যথেষ্ট?

উত্তর

মুসাফিরকে ঐ রোযার কাযা করতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। তবে বিনা ওজরে এভাবে রোযা ভেঙ্গে ফেলা অন্যায়। কেননা মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় দিনের শুরু থেকেই রোযা না রাখার অনুমতি আছে। সুতরাং কোনো মুসাফির রোযা না রাখার ইচ্ছা করলে রোযা না রাখা অবস্থায় দিন শুরু করবে। কিন্তু যদি এই ছাড়ের উপর আমল না করে রোযা শুরু করে দেয় তবে বিনা ওজরে তার জন্য তা ভঙ্গ করা জায়েয নয়; বরং ঐ রোযা পুরো করা তার উপর জরুরি হয়ে যায়। এতদসত্ত্বেও কেউ যদি এ রোযা ভেঙ্গে ফেলে তবে এর কারণে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব হবে না। পরবর্তীতে শুধু কাযা করে নিলেই চলবে।

-মুসনাদে আবু হানীফা ১০৯-১১০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৪৩২; কিতাবুল আছল ২/২০৬; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; সহীহ বুখারী ১/২৬১; সহীহ মুসলিম ১/৩৫৫-৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৫০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বন্ধু আমাকে মুদারাবা চুক্তিতে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছে। আমাদের...

প্রশ্ন

আমার বন্ধু আমাকে মুদারাবা চুক্তিতে ৩ লক্ষ টাকা দিয়েছে। আমাদের উভয়ের বাড়ি চট্টগ্রামে। ব্যবসার প্রয়োজনে আমাকে কখনো কখনো ঢাকা যেতে হয়। চুক্তিপত্রে শর্ত করা হয়েছে যে, প্রয়োজনে কখনো ঢাকা গেলে পানাহার খরচ নিজেকে বহন করতে হবে। তবে যাতায়াত খরচ ব্যবসার মূলধন থেকে নিতে পারবে। এই শর্ত কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিতে সফরে খাবার খরচ ব্যবসায়ীকে দিতে হবে-এ শর্ত করা সহীহ হয়নি। কারণ মুদারাবা কারবারে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী দূরে কোথাও গেলে তার যাতায়াত ও থাকা-খাওয়া সংক্রান্ত খরচ ব্যবসার খরচ হিসেবে ধর্তব্য হবে। এ খরচগুলো ব্যবসায়ীর উপর চাপানো জায়েয নয়। তবে এ কারণে চুক্তি বাতিল হবে না; শুধু শর্তটা বাতিল গণ্য হবে। বিশিষ্ট তাবেয়ী খালিদ ইবনে আবু ইমরান রাহ. বলেন, ‘আমি কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ ও সালেম ইবনে আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, মুদারিব (ব্যবসার মাল থেকে) ন্যায়সঙ্গতভাবে পানাহার, পরিধেয় বস্ত্র ও যাতায়াত খরচ নিতে পারবে কি না? উত্তরে তারা উভয়ে বলেছেন, হ্যাঁ, ব্যবসা সংক্রান্ত খরচ নিতে কোনো অসুবিধা নেই।’

মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/১৪২; মাবসূত, সারাখসী ২২/৬২; আলইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার ৩/২৪; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ৩৩০; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৩৫৩, মাদ্দাহ : ১৪১৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি ঢাকায় চাকরি করি। আমার বাড়ি সিলেট। এক মাস পর...

প্রশ্ন

আমি ঢাকায় চাকরি করি। আমার বাড়ি সিলেট। এক মাস পর পর ৪/৫ দিনের ছুটিতে বাড়ি যাই। ছুটির মধ্যে কখনো ১/২ দিনের জন্য জরুরি কাজে চাকুরিস্থলে আসতে হয়। জানার বিষয় হল, দু’ একদিনের জন্য চাকরিস্থলে এলে আমি মুকিমের নামায পড়ব না মুসাফিরের?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চাকরিস্থল ঢাকায় দু’ একদিনের জন্য এলেও আপনি মুকিম গণ্য হবেন। তাই কসর নয়, পুরা নামাযই পড়তে হবে।

শরহুল মুনইয়া ৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৭২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজনের কাছ থেকে এভাবে চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা নিয়েছি...

প্রশ্ন

আমি একজনের কাছ থেকে এভাবে চুক্তিতে ১০ হাজার টাকা নিয়েছি যে, আমি কাপড়ের ব্যবসা করব। এতে যা লাভ হবে এর দুই তৃতীয়াংশ আমার আর এক তৃতীয়াংশ তার। সাথে সাথে পুঁজিদাতা এই শর্তও দিয়েছেন যে, কাপড় আনার জন্য যখন ঢাকায় যাবে তখন আসা বা যাওয়ার একটি ভাড়া তোমার পকেট থেকে দিবে। আরেকটির ভাড়া ব্যবসা থেকে যাবে। জানতে চাই, ভাড়ার ব্যাপারে উক্ত শর্তারোপ সঠিক হয়েছে কি না।

উত্তর

উত্তর : প্রশ্নোক্ত কারবারে ব্যবসার কাজে যাতায়াতের ভাড়ার বিষয়ে ঐ শর্ত করা ঠিক হয়নি। কারণ একজনের পুঁজি ও অন্যের শ্রম কারবারে একমাত্র ব্যবসার উদ্দেশ্যে কোথাও সফর হলে সফরের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার বাস্তব খরচ ব্যবসা (মুদারাবা ফান্ড) থেকেই যাবে। এ খরচ ব্যবসায়ীর উপর আরোপ করা অন্যায়। বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, মুদারিব (ব্যবসায়ী) ন্যায্যভাবে খরচ করবে। এরপর ব্যবসায় লাভ হলে ঐ খরচ লভ্যাংশ থেকে বাদ যাবে নতুবা মূল পুঁজি থেকে বাদ যাবে। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২১৭০৭)

তাবেয়ী সালেম ও কাসেম রাহ. বলেন, ব্যবসার উদ্দেশ্যে সফর হলে ব্যবসায়ী ন্যায্যভাবে খানাপিনা ও বাহনের খরচ (ব্যবসা থেকে) নিতে অসুবিধা নেই।

-প্রাগুক্ত ২১৭১০; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৩৫৩, মাদ্দা : ১৪১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কিছু দিন আগে এক দেশে আইন করা হয় যে, মহিলারা...

প্রশ্ন

কিছু দিন আগে এক দেশে আইন করা হয় যে, মহিলারা বোরকা পরতে পারবে, তবে চেহারা ঢাকতে পারবে না। তাদেরকে মুখমন্ডল খোলা রাখতে হবে। এ বিষয়ে একজন বললেন, এতে শরীয়ত-বিরোধী কিছু নেই। কারণ মহিলাদের চেহারা ঢাকতে হবে এমন কথা কুরআন-হাদীসে নেই। তাই চেহারার পর্দা জরুরি নয়। তার এ কথা কতটুকু সত্য? দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। পরপুরুষের সামনে নারীকে তার চেহারা ঢেকে রাখতে হবে। এটি কুরআন-সুন্নাহর বিধান। উম্মাহাতুল মুমিনীন ও অন্যান্য সাহাবিয়ার আমল দ্বারাও তা প্রমাণিত। নিম্নে কয়েকটি দলীল উল্লেখ করা হল।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে নবী! আপনি বলুন, নিজের স্ত্রী-কন্যা ও মুমিনদের স্ত্রীগণকে, তারা যেন টেনে নেয় নিজেদের উপর তাদের চাদরের কিছু অংশ। (সূরা আহযাব : ৫৯)

এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, আল্লাহ তাআলা মুমিনদের স্ত্রীগণকে আদেশ করেছেন, তারা যখন কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে চাদর টেনে নিজেদের চেহারা ঢেকে নেয়। এবং শুধু এক চোখ খোলা রাখে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮২৪)

ইমাম জাসসাস রাহ. বলেন, এই আয়াতে যুবতী নারীদেরকে পরপুরুষের সামনে চেহারা ঢেকে রাখার আদেশ করা হয়েছে। (আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৭২)

আরো দেখুন : তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৫৬; জামেউল বয়ান, তবারী ১০/৩৩১; তাফসীরে রূহুল মাআনী ২২/৮৮

আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. হজ্বের সফরের বিবরণ দিয়ে বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। আমাদের পাশ দিয়ে অনেক কাফেলা অতিক্রম করত। তারা আমাদের সামনে এলে নিজেদের চেহারার উপর ওড়না ঝুলিয়ে দিতাম। তারা অতিক্রম করে চলে যাওয়ার পর ওড়না সরিয়ে ফেলতাম। (সুনানে আবু দাউদ ২/৪৫৭)

আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. অন্য এক সফরের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, অতপর সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল আসসুলামী সকালে আমার অবস্থানস্থলে পৌঁছল। সে একজন ঘুমন্ত মানুষের আকৃতি দেখে আমার নিকট এল এবং আমাকে চিনে ফেলল। কেননা, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগে সে আমাকে দেখেছিল। তখন সে জোরে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করল, যার শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সাথে সাথে আমি ওড়না দ্বারা মুখমন্ডল আবৃত করে ফেলি। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৮৫০)

হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন, আমরা পর পুরুষের সামনে আমাদের চেহারা ঢেকে রাখতাম। (মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪)

আরো দেখুন : তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৬৯; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮; ফাতহুল বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭; উমদাতুল কারী ৪/৩০৫; মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/২৬৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া, ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪

মোটকথা, কুরআন-হাদীসের ভাষ্য এটাই যে, মহিলারা পরপুরুষের সামনে নিজেদের মুখমন্ডল আবৃত রাখবে। এটা পর্দারই অংশ।

প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো দেশে নারীর মুখমন্ডল খোলা রাখার যে আইন করা হয়েছে তা এ কারণে করা হয়নি যে, ইসলামের দৃষ্টিতে চেহারার পর্দা নেই। বরং এ আইনের পিছনে ইসলামের প্রতি তাদের অব্যাহত বিদ্বেষ এবং মুসলমানদের কোনঠাসা করার প্রবণতাও কার্যকর। এ আইন তাদেরই কথিত মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সম্পূর্ণ বিরোধী। তাই এই আইন আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও ধিকৃত হয়েছে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

হাবীব রাজশাহী তার গ্রামের বাড়িতেই থাকে। গত কয়েক দিন আগে...

প্রশ্ন

হাবীব রাজশাহী তার গ্রামের বাড়িতেই থাকে। গত কয়েক দিন আগে সে কোনো কাজে ঢাকা যায় এবং ঐ দিনই ফিরে আসে। কিন্তু সফর অবস্থায় যে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায দুই রাকাত পড়তে হয় তা সে ভুলে যায়, তাই সে ঐ দিনের যোহর, আসর ও ইশা অন্য সময়ের মতো চার রাকাতই আদায় করে। পরে তার স্মরণ হলে জানতে চায়, তার ঐ নামাযগুলো কি হয়েছিল? না কাযা করতে হবে?

উত্তর

তার ঐ নামাযগুলো আদায় হয়ে গেছে। সেগুলোর কাযা করতে হবে না। কেননা সফর অবস্থায় কেউ যদি চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায চার রাকাতই পড়ে এবং যথারীতি প্রথম বৈঠক করে থাকে তাহলে ফরয আদায় হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রথম দুই রাকাত ফরয এবং দ্বিতীয় দুই রাকাত নফল হবে। উল্লেখ্য, সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয দুই রাকাত পড়াই বিধান। তাই ইচ্ছাকৃত পূর্ণ নামায পড়া যাবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩; শরহুল মুনইয়া ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বোনের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে ১২০ কি.মি. দূরে। বিয়ের...

প্রশ্ন

আমার বোনের বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে ১২০ কি.মি. দূরে। বিয়ের পর থেকে সে নিয়মিত তার স্বামীর বাড়িতে থাকে। মাঝে মাঝে ১০-১২ দিনের জন্য আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। জানার বিষয় হল, আমাদের বাড়িতে আসলে নামায কসর পড়বে? না পুরো নামায আদায় করবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার বোন পিতার বাড়িতে মুসাফির হবে। সুতরাং সেখানে পনের দিনের কম সময় অবস্থানের নিয়ত করলে নামায কসর করবে। আর পনের দিন কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম হবে এবং পূর্ণ নামায পড়বে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কোনো ব্যক্তির ৪৮ মাইল ব্যবধানে দুটি বাড়ি আছে। সে দুই...

প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তির ৪৮ মাইল ব্যবধানে দুটি বাড়ি আছে। সে দুই বাড়িতেই বসবাস করে। তবে প্রথম বাড়ির তুলনায় দ্বিতীয় বাড়িতে বেশি দিন অবস্থান করে। আমি জানতে চাই, সে তার কোনো বাড়িতে মুসাফির হবে কি না?

উল্লেখ্য, আমি জানি যে, ওয়াতনে আসলী দ্বারা ওয়াতনে আসলী বাতিল হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ হুকুম প্রযোজ্য হবে কি?

উত্তর

উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যেহেতু ওই ব্যক্তি দুই বাড়িতেই বসবাস করে থাকে, কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি তাই লোকটি উভয় বাড়িতেই মুকিম থাকবে। এক্ষেত্রে উভয় বাড়িই তার জন্য ওয়াতনে আসলী বলে গণ্য হবে। কেননা, এক ব্যক্তির একাধিক ওয়াতনে আসলী হতে পারে। আর ওয়াতনে আসলী তখনই বাতিল হয় যখন সেটাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করার নিয়ত করা হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে কোনোটিকে পরিত্যাগ করেনি।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক) আমার স্বামী ২০০৭ সালে হজ্বে গিয়েছিলেন। তখন আমার নেসাব...

প্রশ্ন

ক) আমার স্বামী ২০০৭ সালে হজ্বে গিয়েছিলেন। তখন আমার নেসাব পরিমাণ সম্পদ ছিল। আমার স্বামী একজন মুফতী সাহেবের কাছে শুনে এসে বলেছেন যে, মহিলাদের মাহরামকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার মতো টাকা না থাকলে হজ্ব ফরয হয় না। কিন্তু মাহরাম এমনিতেই পেয়ে গেলে যে হজ্ব ফরয হবে সেটা তিনি বলেননি। এজন্য ২০০৭ সালে তিনি হজ্বে যাওয়ার সময় আমি বুঝিনি যে, আমার উপর হজ্ব ফরয এবং আমার স্বামীও তা খেয়াল করেননি। আমি হজ্ব ফরয না জেনেই তার সাথে হজ্বে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাচ্চা ছোট বলে আমাকে হজ্বে নিতে রাজি হননি। আমার বাচ্চার বয়স তখন ২ বছর পুরা হয়নি। তবে বুকের দুধ স্বামী হজ্বে যাওয়ার ১ মাস আগেই ছাড়িয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার বাচ্চা আমাদের দুজন ছাড়া আর কারো কাছে থাকত না। আমি ওকে রেখে হজ্বে যাওয়ার কথা চিন্তাও করতে পারিনি। তাই আমি ওকে নিয়েই হজ্বে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মুরববীরা এবং আমার স্বামী কেউ বাচ্চা নিয়ে যেতে রাজি হননি। আর বাচ্চা রেখে যাওয়ার কোনো উপায়ও ছিল না। কারণ শুধু ওর আববু হজ্বে যাওয়ার কারণেই ওর অবস্থা এমন হয়েছিল যে, আমি হাম্মামে (বাথরুমে) গেলেও সে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিত। এখন এই (দুগ্ধপোষ্য) শিশু কি আমি হজ্বে না যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ওজর হিসেবে গণ্য হবে?

উল্লেখ্য, আমি আমার উপর হজ্ব ফরয সেটা না জানার কারণে গত এক বছর আগে উমরা করে এসেছি। এই জন্য আমার কাছে এখন হজ্বে যাওয়ার মতো নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। এখন আমি হজ্ব না করার কারণে কি আমার গুনাহ হচ্ছে? হয়ে থাকলে আমার কী করণীয়?

খ) আমার শ্বশুর প্রতি বছর হজ্বে যান। আমার যদি একা হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা হয় তাহলে আমার উপর হজ্ব ফরয হবে কি? হজ্বের মতো কঠিন সফরে শ্বশুরের সাথে যাওয়া কি ঠিক হবে?

গ) কোনো মহিলা যদি বাচ্চা রেখে যাওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ না পায় আর তাকে হজ্বে নেওয়ার মতো সামর্থ্যও না থাকে তাহলে সে কী করবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার উপর ২০০৭ সালেই হজ্ব ফরয হয়েছে। তবে শিশু বাচ্চার জন্য হজ্ব বিলম্ব করার দ্বারা গুনাহ হয়নি। বর্তমানে বিলম্ব না করে যত দ্রুত সম্ভব আপনার হজ্ব করে নেওয়া আবশ্যক। শ্বশুর যদি পুরা দ্বীনদার হন তবে তার সাথেও হজ্বে যাওয়ার সুযোগ আছে। আর যদি কোনোভাবেই হজ্বের ব্যবস্থা না হয় বা উপযুক্ত মাহরাম না পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে বদলী হজ্বের অসীয়ত করে যেতে হবে।

-মানাসিক পৃষ্ঠা : ৩৭, ৬০; গুনইয়াতুন নাসিক পৃষ্ঠা : ১২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কোনো ব্যক্তি রমযানের দিনে সফর করার ইচ্ছা করেছে। রোযা রাখা...

প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তি রমযানের দিনে সফর করার ইচ্ছা করেছে। রোযা রাখা কষ্টকর হবে ভেবে এবং সফরকালে রোযা না রাখার সুযোগ আছে বলে সে ঐ দিনের রোযার নিয়ত না করে সকাল বেলা পানাহার করে সফরে বের হয়। এভাবে সফর শুরুর পূর্ব থেকে রোযা না রাখা বৈধ হয়েছে কি না? আর এ অবস্থায় তার নাকি শুধু কাযা করা ওয়াজিব হবে?

উত্তর

এভাবে সফর শুরুর আগে থেকেই রোযা না রাখাটা বৈধ হয়নি। এজন্য তাকে ইস্তিগফার করতে হবে। কেননা সফরের কারণে রোযা না রাখার সুযোগ তখন প্রযোজ্য হবে যখন দিনের শুরু অর্থাৎ সুবহে সাদিকের সময়ই মুসাফির থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে তার উপর কাফফারা আসবে না। ঐ দিনের জন্য শুধু একটি রোযা কাযা করতে হবে।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১; আননাহরুল ফায়েক ২/২৭; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

একবার মুসাফির অবস্থায় আমি আসরের নামায আদায় করছিলাম। নামাযের দ্বিতীয়...

প্রশ্ন

একবার মুসাফির অবস্থায় আমি আসরের নামায আদায় করছিলাম। নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদের পর ভুলবশত দাঁড়িয়ে যাই। তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় ভুল বুঝতে পেরেও নামায চার রাকাতই পূর্ণ করি। প্রশ্ন হল, আমার নামায কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠক করেছেন তাই নামাযটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। প্রথম দু’রাকাত ফরয আর শেষ দু’রাকাত নফল হয়েছে। তবে তৃতীয় রাকাতে ভুল বোঝার পরও না বসে চার রাকাত পূর্ণ করা মাকরূহ হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, মুসাফিরের জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দু’রাকাত পড়া জরুরি। দু’রাকাত না পড়ে ইচ্ছাকৃত চার রাকাত পূর্ণ করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হয়। তাই মুসাফির দু’রাকাত পর ভুলে দাড়িয়ে গেলে স্মরণ হওয়ামাত্র বসে যাবে এবং সাহু সিজদা করে যথানিয়মে নামায শেষ করবে।

আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০; ফাতহুল কাদীর ২/৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কাকরাইল থেকে ১৫ জনের একটি জামাত এক চিল্লার জন্য তাবলীগে...

প্রশ্ন

কাকরাইল থেকে ১৫ জনের একটি জামাত এক চিল্লার জন্য তাবলীগে বের হয়। মারকায থেকে তাদের প্রথম রোখ হয় চট্টগ্রাম শহরে। সেখানে ২০ দিন অবস্থানের পর তাদের দ্বিতীয় রোখ হয় শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি গ্রামে। গ্রামটিতে তারা ১০ দিন অবস্থান করবেন। সেখান থেকে অন্য এলাকায় যাবেন। চট্টগ্রাম শহরে আর ফিরে আসবেন না। জানার বিষয় হল, দ্বিতীয় স্থান তথা গ্রামটিতে তারা মুকীম থাকবেন, না মুসাফির?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি তারা পূর্ব থেকে একনাগাড়ে ২০ দিন (অথবা ন্যূনতম ১৫ দিন) অবস্থানের নিয়তে চট্টগ্রাম শহরে অবস্থান করে থাকেন তবে তারা শহরটিতে মুকীম ছিলেন। পরে সেখান থেকে তারা যেহেতু সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করেননি তাই দ্বিতীয় গ্রামটিতেও তারা মুকীম থাকবেন এবং পূর্ণ নামায আদায় করবেন। কিন্তু যদি একনাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত ছাড়া কিছু দিন কিছু দিন করে চট্টগ্রাম শহরে তাদের ২০ দিন থাকা হয় তবে তারা সেখানে মুসাফির ছিলেন। তাই পরবর্তী গ্রামেও তারা মুসাফির থাকবেন এবং নামায কসর করবেন।

ফাতহুল কাদীর ২/১৬; আলইনায়াহ ২/১৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮১; রদ্দুল মুহতার ২/৩২১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ২৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০২;ফাতাওয়া দারুল উলূম ৪/৪৮২; মাজমূআতুল ফাতাওয়া ১/৩১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমরা জানি, সফরে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমের...

প্রশ্ন

আমরা জানি, সফরে ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রমের নিয়তে নিজ আবাদী ত্যাগ করার পর থেকে সফরের আহকাম শুরু হয়। প্রশ্ন হল, নিজ গ্রাম বা শহরের বাড়ি-ঘর যদি অনেক দূর পর্যন্ত লাগালাগি থাকে তাহলে সফরের আহকাম প্রযোজ্য হওয়ার জন্য কতটুকু দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে? আবাদী অতিক্রম করার অর্থ কী?

উত্তর

আবাদী অতিক্রমের অর্থ হল, নিজ গ্রাম বা শহর সম্পূর্ণরূপে অতিক্রম করা। নিজ গ্রাম বা শহরের ঘর-বাড়ি অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হলে সেগুলোও অতিক্রম করতে হবে। এর আগে সফরের হুকুম কার্যকর হবে না।

মাজমাউয যাওয়াইদ ১/২০৪; ইলাউস সুনান ৭/৩১০; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনা ১/১২১;আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.