Login | Register

ফতোয়া: সফর

ফতোয়া নং: ৪৮৫২
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: সফর

ঘুরতে গেলেও কি নামায কসর পড়তে হবে?

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমাদের বাড়ি ঢাকা ৷ আমরা কয়েকজন বন্ধু কয়েকদিনের জন্য কক্সবাজার এসেছি ঘুরতে ৷ আপনার নিকট জানার বিষয় হলো, ঘুরতে আসার কারনেও কি আমাদের নামায কসর পড়তে হবে? এবং আমরা জামাতে পড়লে কি পুর্ন পড়ব নাকি কসর পড়ব? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
সফর সমপরিমান রাস্তা অতিক্রম করার নিয়তে নিজ এলাকা থেকে বের হলেই মুসাফির ৷ অতএব আপনারা ঘুরতে যাওয়ার কারণেও মুসাফির হিসেবে গন্য হবেন ৷ অতএব আপনাদের নামায কসর তথা চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামায দু রাকাত করে পড়তে হবে ৷ এবং মুসাফির ইমামের পিছরে পড়লে নামায কসর পড়বেন ৷ মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে পুর্ন পড়তে হবে৷
-ইলাউস সুনান ৭/৩১০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬১; ফাতাওয়া খানিয়া
১/১৬৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭১ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৪
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: সফর

লং ড্রাইভিংয়ে ড্রাইভারদের নামাযের বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি ঢাকা সিলেট রোডে গাড়ি চালাই । আমার বাসা ঢাকায় । প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে সিলেটে
আসা-যাওয়া করতে হয়। মাঝে মাঝে সিলেটে থাকি ৷ তবে নির্ধারিত কোন বাসা নেই ৷ হোটেলে থাকি ৷ জানার বিষয় হলো আমি সিলেটে আসা-যাওয়ার সময় ও সেখানে থাকলে নামায কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত ক্ষেত্রে সিলেটে সফরকালে পথিমধ্যে আপনি মুসাফির গণ্য হবেন। ঢাকা সীমানা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নামায কসর পড়বেন ৷ এবং সিলেটে পৌঁছে এক এলাকায় ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত না থাকলে সেখানেও মুসাফির হিসাবে নামায কসর করবেন। আর যদি ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পুর্ন নামায পড়বেন ৷
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৭২
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: সফর

মোজার উপর মাসাহ করার বিধান ৷

প্রশ্ন
মোজার উপর মাসাহ করার হুকুম কি? কি ধরনের মোজার উপর মাসাহ করা যাবে? আমাদের দেশে প্রচলিত কাপেড়র তৈরী মোজার উপর মাসেহ করা যাবে কি? অযু করে মোজাহ পরার পর কতদিন পর্যন্ত মাসাহ করা যাবে? বিস্তারিত জানাবেন!
উত্তর
মোজা যদি চামড়ার তৈরি হয় বা এমন কোন জিনিষের তৈরি হয় যা পরিধান করার পর পায়ে পানি পরলে পানি চামড়ায় পৌছে না যেমন পুলিশের বুট ইত্যাদি, অথবা মোজা এতটুকুই মোটা ও শক্ত কাপড়ের হয় যে, মোজাকে কোন কিছু দিয়ে বাঁধা ছাড়াই শুধু মোজা পা দিয়ে চার মাইলের মত হাটা যাবে, কিন্তু মোজা ছিড়বে না ৷ এসব মোজা যদি দিয়ে যদি টাখনু ঢাকা থাকে, এমকতাবস্থায় তার উপর মাসাহ করা বৈধ ৷
অতএব আমাদের দেশের প্রচলিত কাপড়ের পাতলা মোজার উপর মাসাহ করা কিছুতেই জায়েজ নয়।
পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করার পর মুকিম হলে একদিন এক রাত পর্যন্ত আর মুসাফির হলে তিনদিন তিন রাত পর্যন্ত উক্ত মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে। অতপর মোজা খুলে পুনরায় পা ধুয়ে নিতে হবে৷
দলিলঃ
আবু দাউদ হাদীস নং ১৫৭, ১৫৯; হেদায়া ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০১ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫৪
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: সফর

মহিলারা মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়া৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক মহিলার স্বামী মারা গেছে কয়েক বছর আগে। মহিলাটি এ বছর হজ্জ পালনের ইচ্ছা করেছে। অথচ তার মাহরাম বলতে এমন কেউ নেই, যে তাকে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব নিয়ে যাবেন। তবে, এ বছর তার বোন আর বোনের স্বামী এ বছর হজ্জ পালনে যাবেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, মহিলাটি তার বোন আর বোনের স্বামীর সাথে কি হজ্জ পালন করতে যেতে পারবেন?
উত্তর
মহিলারা কোনো অবস্থাতেই মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ্জে যেতে পারবেন না। আর ভগ্নিপতি মাহরাম নয়। সুতরাং বোন সঙ্গে থাকলেও ভগ্নিপতির সঙ্গে হজে যাওয়া মহিলাদের জন্য জায়েজ নয়। সুতরাং উক্ত মহিলার নিজের মাহরাম সাথে থাকতে হবে৷ নিজ মাহরাম ব্যতিত হজ্জ পালনে যেতে পারবে না।
তবে এক ব্যক্তি কয়েকজনের মাহরাম হতে পারবে৷ যেমন একজন পিতা তার কয়েকজন মেয়েকে নিয়ে হজে যেতে পারে। মেয়েদের প্রত্যেকেরই যেহেতু পিতা মাহরাম । সুতরাং তাতে অসুবিধা নেই।
হাদীস শরীফে এসেছে, ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট
যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,৷তুমিও তার সাথে হজ্বে
যাও।
সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস৷সানায়ে ২/২৯৯;৷আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭২২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: সফর

বিয়ের আগে প্রেম করা ৷

প্রশ্ন
কিছু মনে করবেন না! ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্য ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা যাবে কি না?
অর্থাৎ প্রেম ভালবাসা। উত্তর দিবেন..প্লিজ...
উত্তর
বিয়ের পূর্বে প্রেম- ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলা ইসলামি-শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয় এজন্য যে, ইসলামের বিধি- বিধান অনুযায়ী কোন পরনারী কোন পরপুরুষের সান্নিধ্যে আসতে পারেনা। দেখা-সাক্ষাৎ বা ফোন, নেট ইত্যাদির মাধ্যমে প্রেমালাপ করা যায়না। ইসলামি- শরিয়তের দৃষ্টিতে এগুলো একপ্রকার যিনা বা ব্যভিচার। এমনকি মনে মনে কল্পনা করে তৃপ্তি অনূভব করার দ্বারাও অন্তরের যিনা হয়। যা হারাম এবং কবিরা গুনাহ।
সহীহ মুসলিম ২/৩৩৬৷
মূলতঃ ছেলে এবং মেয়ে দু’জনের মধ্যে ইসলামিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলার একটাই পদ্ধতি-বিয়ে। সুতরাং শরীয়তের বাঁধা না থাকলে এবং বিয়ের জন্য উপযুক্ত মনে হলে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দিবে। প্রস্তাব গৃহীত হলে বিয়ের মাধ্যমে স্বামী- স্ত্রীর সম্পর্ক গড়ে তুলবে প্রস্তাব গৃহীত না হলে ভুলে যাবে। ভুলে না যাওয়ার মানে হচ্ছে, শয়তানের পক্ষ থেকে বিপথগামী হওয়ার জন্য
ইবন আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী (সাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কোন পুরুষ যেন অপর কোন মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে, কোন স্ত্রীলোক যেন কোন মাহরাম সঙ্গী ব্যতীত সফর না করে। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূল (সাঃ)! অমুক অমুক যুদ্ধের জন্য আমার নাম তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। কিন্তু আমার
স্ত্রী হজ্জে যাবে। তখন রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তবে যাও নিজ স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর’।
সহীহ বুখারি;হাদিস নং- 2798
অপর হাদিসে বলা হয়েছে, ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “যখনই কোন পুরুষ পর নারীর সাথে নির্জনে দেখা করে তখনই শয়তান সেখানে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়
সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-২১৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৫৮৬৷
প্রয়োজনে
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১৬
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: সফর

তাবলীগের চিল্লায় মুকিম নাকি মুসাফির?

প্রশ্ন
আমার বাড়ি কুমিল্লা, আমি আল্লাহর রাস্তায় এক সালের জন্য বের হয়েছি, প্রতি চিল্লার পর কাকরাইলে আসি, সেখান থেকে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয়, যা আমার বাড়ি থেকে ৪৮ মাইলের দূর৷ কোথাও গিয়ে পনের দিন থাকা হয় না, এমতাবস্তায় আমরা মুকিম নাকি মুসাফির? নামায কসর পড়বো নাকি ফোল পড়বো? দয়া করে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব৷
উত্তর
কোন এক গ্রামে বা কোন এক সিটিতে লাগাতার পনের দিন থাকার নিয়ত না করলে মুসাফিরই থাকবে। তাই একাকী নামায পড়লে বা নিজেরা নামায পড়লে কসর তথা চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযগুলো দু রাকাত করে আদায় করতে হবে। কিন্তু মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে পুরা নামাযই পড়তে হবে।
উল্লেখ্য যে, যদি এক সিটি বা এক গ্রামেরই একাধিক মসজিদে বা এক মসজিদেই পনের দিন থাকার নিয়ত করেন, তাহলে মুকীম হয়ে যাবেন৷ তখন নামায পূর্ণই পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।
ফতওয়াযে কাজীখান ফিল হিন্দিয়া ১/১৬৪; আদ দুররুল মুখতার ২/৫৯৯,৬০৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৬৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

মেয়েদের জন্য মেডিকেল কলেজে পড়া সম্পর্কিত একটি বিষয়৷

প্রশ্ন
আমি একজন ৫ম বর্ষ মেডিকেল ছাত্রী। আমাদের একাডেমিক কোর্স ৬ বছর। তাবলীগের মেহনতের সাথে জড়ার পর আমি পূর্ণ শরয়ী পর্দা শুরু করি আল্লাহর ইচ্ছায়। এবং মাহরামের গুরুত্ব বুঝতে পারি। যেহেতু

আমাকে পড়াশোনার খাতিরে হাত মোজা খুলতে হতো এবং পুরুষ রোগী ধরতে হতো।

মাহরাম ছাড়া হোষ্টেলে থাকতে
হতো।

ক্লাস করতে বাসে করে ৩০ মিনিটের রাস্তা পাস করে কলেজ গেইট যেতে
হতো।

ভাইভা বোর্ড টিচাররা আমি যে প্রকৃত পরীক্ষার্থী এটা বুঝতে নেকাব খুলতে চাপ দিতো, মাঝে মাঝে ফেইলও করাতো। সেহেতু আমি গোনাহের ভয়ে পড়া বাদ দিয়ে চলে আসি। আমার হাজবেন্টও চায় না আমি পড়ি। কিন্তু আমার শ্বশুর শ্বাশুরী খুব চান আমি পড়াটা শেষ করি। ফেমিলি থেকে খুবমুখে আমি দেওবন্দের ওয়েব সাইটে প্রশ্ন করি। আর মুফতী মানসূরুল হক দা.বা. এর কাছে আমার স্বামী পরামর্শ চান। উনি বলেন, পড়া জায়েজ নেই। কিন্তু দেওবন্দ মাদরাসা থেকে পড়া শেষ করতে পারবো এ মর্মে এ্যানসার আসে। আমাদের স্থানীয় উলামাও বলেন পড়া শেষ করতে যা শুনে আমার পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ীর পরিবার পক্ষ থেকে খুব চাপ আমার উপর। কিন্তু আমার একটুও ইচ্ছে করে না। এখন যেসব শ্রদ্ধেয় উলামাগণ পড়তে বলেছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে, বর্তমান জমানায় দ্বীনদার মহিলাদের খুব দরকার। যেহেতু আমি পড়েই ফেলেছি, তাই আমার পড়া কমপ্লিট করাটাই উম্মতের খিদমাত হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে হাত মোজা খুলতে সমস্যা নেই। এখন আমি কি করতে পারি শরীয়া
মতে?
আমার অনেক ফ্রেন্ড এরও একই জিজ্ঞাসা। উল্লেখ্য যে, আমার বাসা ঢাকায় আর কলেজ নোয়াখালী। মাহরাম গিয়ে আমার সাথে থাকবে এর কোন সুযোগ নেই।
উত্তর
বোন! আপনার পূর্ণ বিবরণ পড়ে আমাদের চোখের কোণের বেদনাশ্রু জমাট বেঁধেছে। হায়! একটি মুসলিম প্রধান দেশে একজন মুসলিম নারী তার ধর্ম পালন করতে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়। এর চেয়ে বড় আফসোস ও হতাশার আর কী হতে পারে? আমরা সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন রাখবোঃ নারীদের জন্য পৃথক মেডিকেল কলেজ এবং পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে পড়াশোনা করার পরিবেশ কায়েম করার জন্য। শুরুতে কয়েকটি মৌলিক কথা বলিঃ

পর্দা রক্ষা করা ফরজ। [সূরা নূর-৩০-৩১]

মাহরাম ছাড়া সফরের দূরত্বে ভ্রমণ করা বৈধ নয়। [সহীহ মুসলিম, হাদীস
নং-৪২৩]

মাহরাম ছাড়া অনিরাপদ কোথাও নারীদের জন্য থাকা বৈধ নয়। [রদ্দুল মুহতার-২/১৫৭]

দ্বীনী শিক্ষার সাথে সাথে যে শিক্ষা মানুষের আবশ্যকীয় প্রয়োজনীয় বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত। সেসব বিষয় শিক্ষা করাও ফরজে কেফায়া তথা একদলের উপর শিক্ষা করা ফরজ। ডাক্তারী পড়াশোনা মানুষের আবশ্যকীয় প্রয়োজন পূরণের অন্তর্ভূক্ত। তাই একদল মানুষের জন্য ডাক্তারী পড়াও ফরজ। সেই হিসেবে আপনার ডাক্তারী পড়াটি একটি শরয়ী ফরীজা আদায়েরই একটি মাধ্যম। তাই এটিকে একদম হেলাফেলা করার সুযোগ নেই। আপনার সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় আমাদের পরামর্শ হল, যেহেতু আপনার একাডেমিক পড়াশোনার ৬ বছরের কোর্সের মাঝে ৫ বছর ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বাকি আছে আর মাত্র এক বছর। সেই সাথে আপনি বিবাহিত। পূর্ণ পর্দা রক্ষা করার জন্য চেষ্টা করছেন। তা’ই আপনার উচিত বাকি পড়াশোনাটাও শেষ করা। বাকি প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্বেও বাধ্য হয়ে শরীয়তের যেটুকু বিধান লঙ্ঘিত হচ্ছে ইনশাআল্লাহ তা আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিবেন। [মুস্তাফাদ- ফাতাওয়া উসমানী-১/১৬৯] বাকি সফরের দূরত্বের সফরের সময় একজন মাহরামকে সাথে রাখার চেষ্টা করুন। ঢাকায় বাসা থাকা অবস্থায় নোয়াখালী মেডিকেলে না পড়ে ঢাকায় বাকি পড়াটা শেষ করতে পারেন। কিংবা নোয়াখালীতে বাবা মায়ের সাথে বা শ্বশুর শ্বাশুরীর সাথে বাসা নিয়ে বাকি পড়াটা শেষ করতে পারেন। এক্ষেত্রে শরয়ী বিধান লঙ্ঘণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া আরো কমে
যাবে।
‎ﻗَﺎﻝَ ﻓِﻲ ﺗَﺒْﻴِﻴﻦِ ﺍﻟْﻤَﺤَﺎﺭِﻡِ : ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻓَﺮْﺽُ ﺍﻟْﻜِﻔَﺎﻳَﺔِ ﻣِﻦْ
‎ﺍﻟْﻌِﻠْﻢِ، ﻓَﻬُﻮَ ﻛُﻞُّ ﻋِﻠْﻢٍ ﻟَﺎ ﻳُﺴْﺘَﻐْﻨَﻰ ﻋَﻨْﻪُ ﻓِﻲ ﻗِﻮَﺍﻡِ ﺃُﻣُﻮﺭِ
‎ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻛَﺎﻟﻄِّﺐِّ ﻭَﺍﻟْﺤِﺴَﺎﺏِ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻣﻘﺪﻣﺔ - 1/42 )
‎ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ ﺃَﺻَﺎﺑَﺘْﻬَﺎ ﻗُﺮْﺣَﺔٌ ﻓِﻲ ﻣَﻮْﺿِﻊٍ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﻟِﻠﺮَّﺟُﻞِ ﺃَﻥْ
‎ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﺇﻟَﻴْﻬَﺎ ﻟَﻜِﻦْ ﺗُﻌْﻠِﻢُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً
‎ﺗُﺪَﺍﻭِﻳﻬَﺎ، ‏( ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﻴﺔ، ﺍﻟْﺒَﺎﺏ
‎ﺍﻟﺜَّﺎﻣِﻦ ﻓِﻴﻤَﺎ ﻳَﺤِﻞّ ﻟِﻠﺮّﺟﻞِ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮ ﺇﻟَﻴْﻪِ ﻭَﻣَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞّ
‎ﻟَﻪُ - 5/330 )
‎ﻭَﺍﻟﻄَّﺒِﻴﺐُ ﺇﻧَّﻤَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟَﻪُ ﺫَﻟِﻚَ ﺇﺫَﺍ ﻟَﻢْ ﻳُﻮﺟَﺪْ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓٌ
‎ﻃَﺒِﻴﺒَﺔٌ ﻓَﻠَﻮْ ﻭُﺟِﺪَﺕْ ﻓَﻠَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟَﻪُ ﺃَﻥْ ﻳَﻨْﻈُﺮَ ﻟِﺄَﻥَّ ﻧَﻈَﺮَ
‎ﺍﻟْﺠِﻨْﺲِ ﺇﻟَﻰ ﺍﻟْﺠِﻨْﺲِ ﺃَﺧَﻒُّ ﻭَﻳَﻨْﺒَﻐِﻲ ﻟِﻠﻄَّﺒِﻴﺐِ ﺃَﻥْ ﻳُﻌَﻠِّﻢَ
‎ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﺇﻥْ ﺃَﻣْﻜَﻦَ ‏( ﺍﻟﺒﺤﺮ ﺍﻟﺮﺍﺋﻖ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻜﺮﺍﻫﻴﺔ، ﻓﺼﻞ
‎ﻓﻰ ﺍﻟﻨﻈﺮ ﻭﺍﻟﻠﻤﺲ، ﻟَﺎ ﻳَﻨْﻈُﺮُ ﻣَﻦْ ﺍﺷْﺘَﻬَﻰ ﺇﻟَﻰ ﻭَﺟْﻬِﻬَﺎ
‎ﺇﻟَّﺎ ﺍﻟْﺤَﺎﻛِﻢَ - 8/192 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

পুরুষ ও মহিলাদের নামাযে পার্থক্য৷

প্রশ্ন
কিছুদিন যাবৎ একটি মহল থেকে শুনা যাচ্ছে যে, পুরুষ মহিলার নামাযে কোন পার্থক্য নেই৷ কুরআন হাদীসে নাকি কোন পার্থক্যের কথা নেই৷ এতে জনসাধারন মারাত্বক বিভ্রান্তিতে পড়েছে৷ বিশেষ করে ইন্টার্নেটে একশ্রেনীর লোকেরা সরলমনা ইসলামপ্রীয় মেয়েদের কে বিভ্রান্ত করছে৷ তারা জর্জরিত হচ্ছে বহু সমস্যায়৷ মুফতী সাহেবের নিকট আকুল আবেদন এ বিষয়ে হাদীস মুতাবিক সঠিক সমাধান দিয়ে মুসলিম বোনদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করুন৷
উত্তর
আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের উদ্দেশ্যে৷ বিশেষ হেকমতের কারনেই মানুষকে পুরুষ ও মহিলা দুটি শ্রেনীভুক্ত করেছেন৷ মানুষ হিসেবে দুশ্রেনীর মাঝে ব্যবধান না থাকলেও বিশেষ কিছু দিক বিবেচনায় অনেক পার্থক্য রয়েছে৷ পার্থক্যের দিকটি বাহ্যিক জীবনে যেমন গুরত্ব দেয়া হয়েছে৷ ইবাদতের ক্ষেত্রেও পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে৷ যেমন-
১৷ মহিলা পুরুষ উভয়ের উপর হজ্ব ফরজ৷ কিন্তু মহিলা যদি সফরের দুরত্ব থেকে আসে তাহলে পথ খরচ ছাড়াও হজ্বের সফরে তার সাথে মাহরাম পুরুষ থাকা শর্ত৷ (দলিল বুখারী হাঃ ১০৮৬; মুসলিম হাঃ ১৩৩৮)
২৷ ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মাথা ঢাকা নিষেধ৷ অথচ মহিলাদের জন্য মাথা ঢাকা ফরজ৷ ( আবু দাউদ হাঃ ১৮৩৩; বায়হাকী ৯১২৮)
৩৷ পুরুষ উচু আওয়াজে তালবিয়া পড়বে, অথচ মহিলারা নিম্ন আওয়াজে পাঠ করা জরুরী ( দারাকুতনী হাঃ ২৮৪১)
৪৷ মহিলাদের রমল নিষেধ৷ পুরুষ রমল করবে৷ ( দারাকুতনী ২৭৪০)
৫) হালাল হওয়ার সময় পুরুষ মাথা মুন্ডাবে ৷ মহিলাদের মাথা মুন্ডানো হারাম ৷ ( দারাকুতনী ২৬৪০)
৬৷ পুরষের সতর নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত৷ মহিলাদের মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুর্ন শরীর৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩)
৭৷ আযান ইকামত পুরুষের জন্য মহিলাদের জন্য নয়৷ ( বায়হাকী হাঃ ১৯৫৯,১৯৬৩)
৮৷ ইমাম খতিব হওয়া পুরুষের কাজ মহিলাদের নয়৷ (বুখারী হাঃ ৪৪২৫, মুসতাদরাকে হাকেম,হাঃ ৭৯৫২)
৯৷ জুমার নামায পুরুষের জন্য ফরজ, মহিলাদের নয়৷ ( বায়হাকী ১৯৬০)
এছাড়াও বহু বিষয়ে পুরুষ মহিলার মাঝে পার্থক্য রয়েছে৷
উপরোক্ত মাসালাগুলোতে লক্ষনীয় বিষয় হলো, অনেক কাজ ফরজ হওয়া সত্বেও মহিলাদের পর্দার বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের জন্য সতন্ত্র হুকুম দেয়া হয়েছে৷
ঠিক তেমনি নামাযের মধ্যেও পুরুষ মহিলার বহু পার্থক্য রয়েছে৷ নিম্নে তা সংক্ষেপে হাদীস সহ উল্যেখ করা হলো৷
১৷ তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষ কান পর্যন্ত হাত উঠাবে ৷ মহিলারা বুক পর্যন্ত৷ ( জুযয়ে রফয়ে ইদাইন পৃ ১৪, মুজামুল কাবীর হাঃ ২৪৯০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা হাঃ ২৪৮৬, ২৪৮৭)
২৷ তাকবীরে তাহরীমার সময় পুরুষ চাদর থাকলে ভিতর থেকে হাত বের করবে মহিলারা ওড়নার ভিতর থেকে হাত বের করবে না৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩, ইবনে হিব্বান হাল ৫৫৯৮, ৫৫৯৯,
৩৷ হাত উঠানোর সময় পুরুষ হাত বুকে মিলাবে না৷ মহিলারা বুকের সাতে মিলিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রজ্জাক ৫০৮০, ইবনে আবি শাইবা ২৪৮৯)
৪৷ পুরুষ হাতের আঙ্গুল সর্বাবস্থায় সাভাবিক রাখবে, মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
৫৷ পুরুষ হাত নাভির নিচে বাধবে, মহিলাগন বুকের উপর বাধবে, কারন বুকে হাত বাধলে সতরের জন্য অধিক উপযুক্ত৷ ( তিরমিযি হাঃ ১১৭৩)
৬৷ পুরুষ ডান হাতের বৃদ্ধা ও কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা বাম হাতকে শক্ত করে ধরবে৷ মহিলারা আলত ভাবে রাখবে৷ ( বুখারী হাঃ ৭৪১, ৪১৮)
৭৷ দাড়ানোর সময় মহিলারা দু পা মিলিয়ে রাখবে৷ পুরুষ দুপায়ে মাধ্যখানে ফাকা রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
৮৷ মহিলারা সবসময় ক্বেরাত আস্তে পড়বে৷ ( বুখারী হাঃ ৬৮৪,১২০১, ১২০৪)
৯৷ রকুতে পুরুষের মাথা, কোমর, পিঠ সমান থাকবে৷ মহিলারা পুরোপুরি ঝুকবে না, হাত হাটু পর্যন্ত পৌছে পরিমান ঝুকবে৷ কারন এভাবে অধিক পর্দা হয়৷
১০৷ মহিলারা রুকুতে উভয় পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখবে, পুরুষ ফাকা করে রাখবে৷
১১৷ মহিলারা বাহুদ্বয় পাজরের সাথে মিলিয়ে রাখবে ৷ পুরুষ মিলাবে না৷
( ইবনে আবি শাইবা হাঃ ২৭৯৪)
১২৷ রুকুতে পুরুষ উভয় হাতে হাটু শক্ত করে ধরবে মহিলারা সাভাবিক রাখবে৷ ( বুখারী হাঃ ৫৬৭৩, ৬৪৬৩)
১৩৷ রুকুতে মহিলারা হাতের আঙ্গুল মিলিয়ে রাখবে৷ পুরুষ ছড়িয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৪)
১৪৷ সিজদায় পুরুষ উভয় হাত কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত জমিন থেকে উপরে রাখবে, মহিলারা জমিনে বিছিয়ে রাখবে৷ (বায়হাকি হাঃ৩২৮৫,৩২৮৬)
১৫৷ সেজদায় পুরুষ পেট উরু থেকে পৃথক রাখবে৷ মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক হাঃ ৫০৮৬, ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৬)
১৬৷ সেজদায় পুরুষ বাহু পাজর থেকে পৃথক রাখবে, মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ ( ইবনে আবি শাইবা হাঃ২৭৯৭)
১৭৷ সেজদায় পুরুষ পায়ের পাতা খাড়া রাখবে৷ মহিলারা ডান দিক দিয়ে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে৷ ( মুসান্নাফে আব্দুর রজ্জাক হাঃ ৫০৮২)
১৮৷ বসার ক্ষেত্রে পুরুষ বাম পায়ের উপর বসবে, মহিলারা নিতম্বের উপর বসবে৷ ( বায়হাকি ৩২৮৩, ইবনে আবি শাইবা ২৭৯৯)
১৯৷ পুরুষ বাম পা বিছিয়ে রাখবে, মহিলারা উভয় পা ডান দিকে বের করে মাটিতে বিছিয়ে রাখবে৷ ( ইলাউস সুনান ৩/২৭)
২০৷ পুরুষ উভয় উরু স্বাভাবিক রেখে বাম পায়ের পাতার উপর বসবে, মহিলারা উভয় পায়ের উরু মিলিয়ে রাখবে৷ (বায়হাকি হাঃ ৩২৮৩)
২১৷ পুরুষ বাম পায়ের পাতা বিছিয়ে ডান পা খাড়া রাখবে৷ মহিলারা ডান পায়ের গোছা বাম বায়ের গোছার উপর রাখবে৷ (বায়হাকী হাঃ ৩২৮৩)
২২৷ পুরুষ বসাবস্থায় হাতের আঙ্গুল স্বাভাবিক রাখবে৷ মহিলারা মিলিয়ে রাখবে৷ (যখীরা ২/১৯৩)
২৩৷ নামাযে পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা ফরজ৷ আর মহিলাদের জন্য চেহারা হাত কব্জি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ব্যতিত সম্পুর্ন শরীর ঢেকে রাখা ফরজ৷ (তিরমিযি হাঃ ১১৭২)
উল্লিখিত বর্ননা থেকে হাদীসের আলোকেই স্পষ্টভাবে প্রমানিত যে, পুরুষ ও মহিলার নামায এক রকম নয়৷ বরং বহু পার্থক্য রয়েছে৷
যারা বলে পার্থ্য নেই৷ তাদের হাদীসের নুন্যতম জ্ঞান রাখে না৷ গ্রহনযুগ্য কোন দলিল প্রমানের উপর ভিত্তি না করেই এসব অবান্তর কথা বলে মুসলমানদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে৷
আল্লাহ তায়ালা এসব ফেতনাবাজদের ফেতনা থেকে সকলকে, বিশেষ করে মা বোনদের কে রক্ষা করুন৷ সহীহ বুঝে আমল করে উভয় জগতে ধন্য হওয়া তৌফীক দান করুন৷ আমীন৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: সফর

অস্থায়ী বাড়িতে পনের দিনের কম থাকার নিয়তে গেলে কসর নামায পড়বে কিনা?

প্রশ্ন
আমার বন্ধু সাঈদ। তার বাড়ি কুমিল্লা লাকসাম। সে চট্টগ্রামে এক ঔষধ কোম্পানিতে চাকরি করে। বাড়ি থেকে ঐ কোম্পানির দূরত্ব প্রায় দুইশত কিলোমিটার। তাই ওখানে অস্থায়ীভাবে একটি বাড়ি নির্মাণ করে এবং সেখানে সাত, আট দিন থাকার নিয়তে কুমিল্লা থেকে বের হয় এবং সাত আট দিন থাকার পর পরই কুমিল্লায় ফিরে আসে। এখন জানতে চাই, ঐ বাড়িতে থাকা অবস্থায় সে কি মুকীম হবে, নাকি মুসাফির? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। উল্লেখ্য, ঐ বাড়িতে সে একাই থাকে।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার বন্ধু চট্টগ্রামের ঐ বাড়িতে এক নাগাড়ে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে। সুতরাং একবার যদি তিনি সেখানে ১৫ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করেন তাহলে পরবর্তীতে ঐ এলাকার বসবাস ত্যাগ না করা পর্যন্ত অল্প সময়ের জন্যও সেখানে গেলে মুকীম গণ্য হবেন। -বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৮, ১/১৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: সফর

আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রাম ফেনী শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা যাওয়ার
উদ্দেশে আমি গ্রামের বাড়ি থেকে
ফেনী শহর পর্যন্ত আসি। তখন যোহরের
সময় হলে দুই রাকাত কসর পড়ে গাড়িতে
উঠি। কিছুদূর যাওয়ার পর বাড়ি থেকে
একটি জরুরি ফোন আসে। ফলে সেখান
থেকে বাড়ি চলে আসি। বাড়ি ফেরার
পরও যোহরের সময় বাকি ছিল। এতে
আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয় যে, আমি
সফরের উদ্দেশে বের হলেও যেহেতু
সফরসম দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই
যোহরের সময়ের মধ্যে বাড়ি ফিরে
এসেছি তাই আমাকে পুনরায় ঐ যোহরের
নামায পড়তে হবে কি? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যখন যোহরের নামায আদায় করেছেন তখন যেহেতু আপনি সফর মুলতবি করেননি বরং ঐ সসয় মুসাফির অবস্থায়ই ছিলেন তাই আপনার ঐ যোহর নামায যথাযথভাবে আদায় হয়েছে। তাই পরবর্তীতে যোহরের ওয়াক্তের মধ্যে সফর বাতিল করে মুকীম হয়ে গেলেও ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে না। -রদ্দুল মুহতার ২/১২২, ১১৫; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১০৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার
নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে
প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে।
-শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৪
ফতোয়া নং: ৪১০২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট...

প্রশ্ন
আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট
যাওয়া-আসার সময় আমি কি মুকীম হব, নাকি মুসাফির?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিমানবন্দরের
পথে ও বিমান বন্দরে মুকীম থাকবেন তাই পুরো নামাযই পড়তে হবে। কেননা
মুসাফির হওয়ার জন্য নিজ শহরের আবাদি অতিক্রম করা শর্ত। তদ্রূপ সফর থেকে ফিরে বিমান বন্দরে অবতরণ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন। নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মদীনার ঘর-বাড়ি অতিক্রম করলে তখন নামায কসর পড়তেন এবং সফর থেকে ফেরার সময় মদীনার বসতিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত কসর পড়তেন।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩২৩, ৪৩১৯, ৪৩২১; কিতাবুল আছল ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৪, ২৭৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ৪০১

ফতোয়া নং: ৩৭৮৩
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট...

প্রশ্ন
আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়া- আসার সময় আমি কি মুকীম হব, নাকি মুসাফির?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিমানবন্দরের পথে ও বিমান বন্দরে মুকীম থাকবেন তাই পুরো নামাযই পড়তে হবে। কেননা মুসাফির হওয়ার জন্য নিজ শহরের আবাদি অতিক্রম করা শর্ত। তদ্রূপ সফর থেকে ফিরে বিমান বন্দরে অবতরণ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন। নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মদীনার ঘর-বাড়ি অতিক্রম করলে তখন নামায কসর পড়তেন এবং সফর থেকে ফেরার সময় মদীনার বসতিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত কসর পড়তেন। -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩২৩, ৪৩১৯, ৪৩২১; কিতাবুল আছল ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৪

ফতোয়া নং: ৩৭৬২
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত...

প্রশ্ন
যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত নির্ধারিত মুসাফিরের
সীমার অনেক উপরে। এখন প্রশ্ন হল, সে বাড়িতে যাওয়ার সময়
এবং বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তায় কছর নামায পড়বে কি? যদি কছর পড়তে হয় তাহলে সে
তার বাড়ি/চাকরিস্থলে পৌঁছার কতটুকু সীমানা পর্যন্ত পড়বে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যায়েদের চাকরিস্থল যেহেতু সফরসম দূরত্বে তাই সেখানে যাতায়াতের সময় তার বাসস্থানের এলাকা ত্যাগ করার পর পথিমধ্যে সে মুসাফির গণ্য হবে এবং নামায কছর করবে। আর চাকরিস্থলে ১৫ দিনের নিয়তে কখনো থাকা না হলে সেখানেও সে মুসাফির থাকবে। অবশ্য চাকরিস্থলে যদি কখনো ১৫ দিনের নিয়তে অবস্থান করে থাকে তবে তখন থেকে চাকরিস্থলে সে মুকীম। এক্ষেত্রে নিজ গ্রামের সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে চাকরিস্থলের এলাকায় প্রবেশের আগ পর্যন্ত সে মুসাফির গণ্য হবে। আর চাকরিস্থলে একবার মুকীম হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কখনো অল্প সময়ের জন্য গেলেও সেখানে সে মুকীম
হবে।
আর এক্ষেত্রে চাকরিস্থলে সে যেহেতু মুকীম তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে চাকরিস্থলের এলাকা অতিক্রম করার পর থেকে সে মুসাফির গণ্য হবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭;
ফতোয়া নং: ৩৭৪৪
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার
২/১২৪

ফতোয়া নং: ৩২৫১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: সফর

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা...

প্রশ্ন
আমি একজন ব্যবসায়ী।
বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াত খরচ ও সফর অবস্থায় থাকা- খাওয়ার খরচ ব্যবসার টাকা থেকেই
নিয়ে থাকি। কিছুদিন পূর্বে ব্যবসার কাজে ঢাকা
যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় আমি মারাত্মক ভাবে আহত হই। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত চিকিৎসার খরচ আমি ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারব কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কারীদের অনুমতি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁ, তারা অনুমতি দিলে নিতে পারবেন। অবশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে সফর করলে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সাধারণ খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারবেন।
-কিতাবুল আছল ৪/১৭-১৮০; আততাজরীদ
৭/৩৫১৭; মুজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী
৪/৩৫৩,
ফতোয়া নং: ৩২০৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন
কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?
উত্তর
মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে। -শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার
২/১২৪
ফতোয়া নং: ৩০৪৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: সফর

বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই...

প্রশ্ন
বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ
তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই আমি প্রায় সময়ই ফজর
ও যোহরের নামাযের পর মসজিদে কিছুক্ষণ
কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করি। অনেক সময় ঝিমুনি
এলে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ি।
জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় মসজিদে ঘুমানো কি
দোষণীয়? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
না, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি ইবাদত করতে গিয়ে
মসজিদে ঘুম এসে গেলে তা দোষণীয় হবে না। তবে এ সময়ও নফল ইতিকাফের নিয়ত করে
নেওয়া উত্তম। আর সাধারণ অবস্থায় মুসাফির ও
ইতিকাফকারী ছাড়া কিংবা দ্বীনী কাজের জরুরত ছাড়া
অন্যদের জন্য মসজিদে ঘুমানো মাকরূহ। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তোমরা মসজিদকে ঘুমানোর স্থান বানিও না। -জামে তিরমিযী ১/৪৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৬১২;
আততাজনীস ১/৩৬৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর
১/২৭৮
ফতোয়া নং: ২৮৬৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন।...

প্রশ্ন
জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে
তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন। সেখানে তিনি বিশ
দিন থাকবেন। কিন্তু দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার
পর হঠাৎ বাড়ি থেকে তার মেয়ের অসুস্থতার খবর
আসে। তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে আরো একদিন থেকে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্তনেন। পেছনের দশদিনের চার রাকাত বিশিষ্ট নামায তো তিনি
মুকীম হিসেবে আদায় করেছেন কিন্তু এখন যেহেতু
তার বিশ দিন থাকা হচ্ছে না বরং সামনের একদিনসহ মোট এগারো দিন থাকা হবে তাই এ
অবস্থায় আগামী একদিনের নামায চট্টগ্রাম শহরে
থাকা অবস্থায় কীভাবে পড়বেন? কসর, নাকি পূর্ণ
নামায পড়বেন?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহরে থাকাকালীন
আগামী একদিনের নামাযও তাকে মুকীম হিসেবেই আদায় করতে হবে। কসর করা যাবে না। কেননা
চট্টগ্রাম শহরে পনেরো দিন বা তার অধিক থাকার
নিয়তে প্রবেশ করার দ্বারা তিনি সেখানে মুকীম
হয়ে গেছেন। সফরসম দূরত্বের উদ্দেশ্যে ঐ স্থান
ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি মুকীমই থাকবেন।
শুধু নিয়ত পরিবর্তনের কারণে ইকামতের হুকুম
বাতিল হবে না। তাই রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে
যখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি শহরের সীমানা অতিক্রম করবেন তখন থেকে তিনি মুসাফির গণ্য
হবেন।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া
৫/১৭৫
ফতোয়া নং: ২৮৬১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু...

প্রশ্ন
হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু মনে হজ্ব করার খুব আগ্রহ ছিল। এরপর মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম- এর হজ্ব সফরনামা ‘‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’’ পড়ে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ফলে ২০১০ সালে আমার এক বন্ধুর সাথে হজ্বে যাই। আমার হজ্বের যাবতীয় খরচ সে বহন করেছে এ শর্তে যে, পরবর্তীতে সময়-সুযোগমতো তাকে আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে দিব। হজ্ব করে আসার পর দুই বছরের মধ্যে আমি তাকে ঐ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এখন আমার কাছে অনেক টাকা পয়সা আছে। এ বছর আমি আবার হজ্ব করতে চাচ্ছি। তাই হুযুরের নিকট জানতে চাই যে, আমার অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব কি ফরয হিসেবে আদায় হয়েছে? আর এ বছর আমি কোন হজ্বের নিয়ত করব, ফরয নাকি নফল হজ্বের? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
অস্বচ্ছল অবস্থায় কেউ ঋণ করে হজ্ব আদায় করলেও তা ফরয হিসেবেই আদায় হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ হজ্ব ফরয হিসেবেই আদায় হয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে হজ্ব করলে তা নফল গণ্য হবে। তবে ঐ হজ্বের এহরামের সময় আপনি যদি সুনির্দিষ্টভাবে নফল হজ্বের নিয়ত করে থাকেন তা নফল হিসেবেই আদায় হয়েছে। ফরয হজ্ব আদায হয়নি। সামনে তা আদায় করে নিতে হবে। -গুনইয়াতুন নাসিক ৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪১; আলবাহরুল আমীক ১/৩৮৬
ফতোয়া নং: ২৮৪১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: সফর

আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব...

প্রশ্ন
আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব ফরয। আমার স্বামীর দ্বীনের বুঝ নেই। তার উপর হজ্ব ফরয হওয়া সত্তে¡ও তিনি হজ্ব করছেন না। আমি অনুমতি চাচ্ছি আমাকেও অনুমতি দিচ্ছেন না। আমার জানার বিষয় হল, আগামী বছর আমার ভাই হজ্বে যাবেন। স্বামীর অনুমতি ছাড়াই আমি ভাইয়ের সাথে হজ্বে যেতে পারব কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
হজ্ব আল্লাহ তাআলার মহান হুকুম। শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ ফরয। হজ্ব ফরয হলে বিলম্ব করা গুনাহ। তাই আপনাদের উভয়েরই অনতিবিলম্বে হজ্বে যাওয়া আবশ্যক। কোনো কারণে স্বামীর যেতে যদি বিলম্ব হয় আর আপনার মাহরামের ব্যবস্থাও হয়ে যায় তবে স্বামীর জন্য আপনাকে বাধা দেওয়া ঠিক হবে না। তাই স্বামীকে এ বিষয়
বোঝাতে চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে তাকে রাজি করে তার সাথেই হজ্বে যান। যদি তিনি না যান তবে আপনি ভাইয়ের সঙ্গে ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য যেতে পারবেন। কেননা ফরয হজ্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল হজ্ব কিংবা ওমরা আদায়ের জন্য সফর করতে চাইলে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। তার অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৫; গুনইয়াতুন নাসিক ২৮
ফতোয়া নং: ২৫৬১
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

আমি ঢাকার উত্তরায় থাকি। বাড়ি উত্তরবঙ্গের নাটোরে। গ্রামের বাড়ি যেতে...

প্রশ্ন
আমি ঢাকার উত্তরায় থাকি। বাড়ি উত্তরবঙ্গের নাটোরে। গ্রামের বাড়ি যেতে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসে বাসে উঠি। উত্তরা থেকে গাবতলী বেশ লম্বা পথ। মাঝপথে অনেক সময় নামায পড়তে হয়। বিপাকে পড়ে যাই নামায কীভাবে পড়ব। তাই জানার
বিষয় হল,
উত্তরা থেকে গাবতলী আসার পথে যেসব নামায পড়ব তা কি কসর পড়ব? সঠিক উত্তরটি জানালে কৃতজ্ঞ
থাকব।
উত্তর
সফরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেও ঢাকা সিটির ভিতরে আপনাকে পূর্ণ নামায আদায় করতে হবে। গাবতলীর দিকে আমিনবাজার ব্রীজ বর্তমান ঢাকা সিটির শেষ সীমানা। তাই আমিনবাজার ব্রীজ অতিক্রম করার পর থেকে কসর শুরু করবেন। -কিতাবুল আছল ১/২৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮
ফতোয়া নং: ২৫৫৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি।...

প্রশ্ন
আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। প্রতি এক মাস পর পর গ্রামের বাড়িতে যাই। জানার বিষয় হল, আসা-যাওয়ার পথে মুসাফির হিসেবে নামায পড়ব, নাকি মুকীম হিসেবে? দলিল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার গ্রাম থেকে ঢাকা শহর যেহেতু সফরসম দূরত্বে অবস্থিত তাই যাওয়ার সময় ঢাকা সিটি থেকে বের হওয়ার পর থেকে আপনার গ্রামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত এবং ফেরার সময় আপনার গ্রাম থেকে বের হওয়ার পর হতে ঢাকা সিটিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত পুরো সময় মুসাফির থাকবেন। তাই এ সময় আপনি মুসাফির হিসেবে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়বেন। তবে মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায পুরোই পড়তে হবে। -মুসনাদে আবু ইয়ালা ৫/৩৩০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৫৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১০৭
ফতোয়া নং: ২৫৩০
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: সফর

জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি...

প্রশ্ন
জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি আমি কি তাহলে নানা বাড়ীতে গেলে মুকীম থাকব? প্রকাশ থাকে যে, আমি আমার পিতা-মাতার সাথে তাদের বাড়িতেই থাকি। নানা বাড়িতে থাকি না।
উত্তর
কোথাও জন্মগ্রহণের দ্বারাই ঐ স্থান ওয়াতনে আসলী হয়ে যায় না। বরং স্থায়ীভাবে বসবাস করলে তা ওয়াতনে আসলী হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু নানা বাড়ী বসবাস করেন না বরং পিত্রালয়ই হচ্ছে আপনার স্থায়ী আবাসস্থল তাই পিত্রালয়ই আপনার ওয়াতনে আসলী গণ্য হবে এবং সেখানে আপনি মুকীম হবেন। -আলমাবসূত ১/২৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬
ফতোয়া নং: ২৩৪২
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি? (খ) এক মহিলার...

প্রশ্ন
(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি? (খ) এক মহিলার স্বামী ও সন্তান নেই। তার বয়স ৬৮ বছর। চলাফেরা করতে পারেন। তিনি কি তার হজ্ব কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন?
উত্তর
(ক) স্বামী বা যথাযথ অভিভাবকের অনুমতি থাকলে এবং মাহরাম পুরুষ সাথে থাকলে মহিলারাও বদলী হজ্বে যেতে পারবে।-গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩৭; মানাসিক মোল্লা আলী কারী, ৩৩৭; আল মাসালিক ফিল মানাসিক ২/৮৯৩; আলবাহরুল আমীক
৪/২২৬৮
(খ) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা বয়স্কা হলেও যেহেতু তিনি চলাফেরা করতে পারেন সুতরাং তার সাথে হজ্ব করার মত কোনো মাহরাম পুরুষ থাকলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো জায়েয হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহরামের ব্যবস্থা না হলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো বা বদলী হজ্বের ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরি হবে। আর হজ্বের সফরে স্বামী বা পুত্র থাকা জরুরি নয়। বরং অন্য যে কোনো মাহরাম সঙ্গী (যেমন : ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি) পাওয়া গেলেও বদলী করানো যাবে না, নিজেই যাওয়া ফরয হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতহুল কাদীর ৩/৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪
ফতোয়া নং: ২৩৪১
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার...

প্রশ্ন
হুযুর গত তিন বছর আগে আমার দাদা মৃত্যুবরণ করেন। দাদার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে দাদি হজ্ব করতে পারবেন এ পরিমাণ সম্পদ মিরাস হিসেবে পেয়েছেন। গত বছর দাদি তাঁর প্রতিবেশী এক লোকের সাথে হজ্ব করতে যান। জানার বিষয় হলো, বৃদ্ধা মহিলার জন্য কি পর- পুরুষের সাথে হজ্ব করতে যাওয়া বৈধ হবে? যদি বৈধ না হয় তাহলে তার হজ্ব কি আদায় হয়ে যাবে?
উত্তর
বৃদ্ধা মহিলার জন্যও মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার অনুমতি নেই। হাদীস শরীফে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া সফর না করে এবং মাহরাম না থাকা অবস্থায় কোনো পুরুষ যেন তার কাছে গমন না করে। তখন এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক সেনাদলের সাথে জিহাদে যেতে চাচ্ছি। কিন্তু আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চাচ্ছে। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি তার (স্ত্রীর) সাথেই হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৬২; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৩৮ আরেক হাদীসে এসেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্ব করতে না যায়। সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩ তারপরও কোনো মহিলা যদি মাহরাম ছাড়া হজ্ব আদায় করে তাহলে তার হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাহরাম ছাড়া যাওয়ার কারণে গুনাহগার হবে। উল্লেখ্য যে, মাহরাম ছাড়া হজ্বে গেলে অনেক জায়গায় মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। সৌদী দূতাবাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় অন্যকে মাহরাম দেখাতে হয়। এজেন্সিওয়ালারা পরপুরুষকে মাহরাম হিসেবে দেখিয়ে তার ভিসার ব্যবস্থা করে থাকে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করতে গিয়ে এভাবে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া খুবই ঘৃণিত কাজ এবং অন্যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদদুর ১/৪৮৪; গুনয়াতুন নাসিক পৃ ২৯
ফতোয়া নং: ২৩৩৬
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: সফর

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা...

প্রশ্ন
আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াত খরচ ও সফর অবস্থায় থাকা-খাওয়ার খরচ ব্যবসার টাকা থেকেই নিয়ে থাকি। কিছুদিন পূর্বে ব্যবসার কাজে ঢাকা যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত চিকিৎসার খরচ আমি ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারব কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনুমতি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁ, তারা অনুমতি দিলে নিতে পারবেন। অবশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে সফর করলে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সাধারণ খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারবেন। -কিতাবুল আছল ৪/১৭-১৮০; আততাজরীদ ৭/৩৫১৭; মুজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/৩৫৩, ৩৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৪৯
ফতোয়া নং: ২০৬৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি।...

প্রশ্ন
গত রমযানে একদিন আমি রোযা রাখার পর ঢাকায় সফর করি। যাওয়ার পথে পিপাসা লাগায় সফরে আছি বলে পানি পান করি এবং অল্প নাস্তাও করি। পরে মনে পড়ে, আমি তো মুকীম অবস্থায় রোযা রেখেছি। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই, ঐ রোযা ভাঙ্গার কারণে কি আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় রোযা রাখার পর
সফরের
অজুহাতে রোযা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয হয়নি। রোযা ভাঙ্গার কারণে গুনাহ হয়েছে। ঐ রোযাটি কাযা করে নিতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কাফফারা ওয়াজিব
হবে না।
উল্লেখ্য, সফর অবস্থায় রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু মুকীম বা মুসাফির অবস্থায় রোযা রাখলে শুধু সফরের অজুহাতে তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়। -কিতাবুল আছল ২/১৬৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪০৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৭

ফতোয়া নং: ২০৬৫
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার বিবাহ হয়।...

প্রশ্ন
প্রায় দুই মাস আগে একটা ছেলের সাথে মালিহার
বিবাহ হয়। বিবাহের একমাস পর সড়ক
দুর্ঘটনায় তার স্বামী মারা যায়। মালিহা এখন
তার বাবার বাড়িতে ইদ্দত পালন করছে। ইতোমধ্যে তার বিবাহের প্রস্তাব আসা শুরু
হয়েছে। মালিহার কানাডা প্রবাসী খালাতো ভাই
সপনের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব এসেছে। সপন একমাস পর আবার কানাডায় চলে যাবে। তাই সে চাচ্ছে, এই মাসের মধ্যেই বিবাহের কার্য সম্পন্ন করে ফেলতে। কিন্তু মালিহার ইদ্দত শেষ হতে এখনো প্রায় তিন মাস বাকি। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় সপনের জন্য কি মালিহাকে বিবাহ করা জায়েয হবে?
উত্তর
স্ত্রী অন্তসত্ত্বা না হলে স্বামীর
মৃত্যুতে স্ত্রীর জন্য চার মাস দশ দিন ইদ্দত
পালন করা ওয়াজিব। ইদ্দতকাল পূর্ণ হওয়ার আগে তাদেরকে বিয়ে করা ও বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া সবই নাজায়েয। ইদ্দতের ভেতর কোনো নারী বিবাহ করলে তা সহীহ হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) তোমরা (ইদ্দতের) নির্দিষ্টকাল পূর্ণ
না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ কার্য সম্পন্ন করার
সংকল্পও করো না।-সূরা বাকারা : ২৩৫ অন্যত্র ইরশাদ করেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদের রেখে মৃত্যুবরণ করে তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে।-সূরা বাকারা : ২৩৪ অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সপনের জন্য মালিহাকে ইদ্দতের ভেতর বিবাহ করা জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে সুযোগ থাকলে সপন তার সফরকে বিলম্বিত করবে। অন্যথায় মালিহার ইদ্দত চার মাস দশ দিন শেষ হওয়ার পর সপন তার কোনো প্রতিনিধির মাধ্যমে বিবাহ সম্পন্ন করিয়ে নিবে। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৪২৬, ১/৪৩০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৪


ফতোয়া নং: ২০২৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: সফর

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে।...

প্রশ্ন
এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে। ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সঙ্গে তার ছোট ভাই থাকবে। ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মামাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাইতাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?
উত্তর
মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজ্বের সফরে যাওয়াও নিষেধ। মামাতো বোনের স্বামী মাহরাম নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে না। বরং স্বামী বা কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুলস্নাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪; মুখতাসারুত তহাবী ৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; যুবদাতুল মানাসিক ৩২


Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.