Login | Register

ফতোয়া: সফর

ফতোয়া নং: ৭২৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার এক মাসের এক দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে। তার মা শারীরিকভাবে...

প্রশ্ন

আমার এক মাসের এক দুগ্ধপোষ্য সন্তান রয়েছে। তার মা শারীরিকভাবে দুর্বল। রোযা অবস্থায় দুধ খাওয়ালে তার রোযা রাখতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সন্তান দুধই পায় না। মাঝে দুটি রোযা রেখে পরে ভেঙ্গে ফেলেছে। ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বাচ্চাকে সাগু ও সেরেলাক খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু বাচ্চা এগুলো খেতে চায় না। এদিকে তার মা রোযাও রাখতে চায় ওদিকে সন্তানের সমস্যা হয়।

এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান জানালে আমরা কৃতজ্ঞ হবো। আর যে দুটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছে তার কাযা কাফফারা দিতে হবে কি না?

উত্তর

সন্তানের দুগ্ধদানের প্রয়োজনে তার মা রোযা ভাঙ্গতে পারবে। তবে রমযানের যে কয়টি রোযা রাখা না হয় তা পরবর্তীতে কাযা করতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

এক সফরে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আনাস ইবনে মালেক রা.-কে কিছু খেতে দিলে তিনি বললেন, আমি রোযাদার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,

اجْلِسْ أُحَدِّثْكَ عَنِ الصَّوْمِ أَوِ الصَّائِمِ، إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَضَعَ عَنِ الْمُسَافِرِ شَطْرَ الصَّلَاةِ، وَعَنِ الْمُسَافِرِ وَالْحَامِلِ وَالْمُرْضِعِ الصَّوْمَ أَوِ الصِّيَامَ.

তুমি বসো, আমি তোমাকে রোযা ও রোযাদার সম্পর্কে কিছু বলব, আল্লাহ তাআলা মুসাফিরের অর্ধেক নামায কমিয়ে দিয়েছেন এবং মুসাফির, গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনীর জন্য রোযায় ছাড় দিয়েছেন। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৯০৪৭

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,

تُفْطِرُ الْحَامِلُ وَالْمُرْضِعُ فِي رَمَضَانَ، وَتَقْضِيَانِ صِيَامًا، وَلَا تُطْعِمَانِ.

গর্ভবর্তী ও দুগ্ধদানকারিনী রমযানের রোযা ভাঙ্গতে পারবে। তবে পরে তা কাযা করে নিবে। রোযার বদলে (মিসকীনদেরকে) খাওয়াবে না। (মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, বর্ণনা ৭৫৬৪)

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০২; ফাতহুল কাদীর ২/২৭২; রদ্দুল মুহতার ২/৪২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বড় ভাইজান ভালো আলেম ও বুযুর্গ ছিলেন। সমাজে তার...

প্রশ্ন

আমার বড় ভাইজান ভালো আলেম ও বুযুর্গ ছিলেন। সমাজে তার বেশ সুনাম-সুখ্যাতি ছিল। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে তিনি বাতিলের বিরুদ্ধে সাহসী বয়ান করতেন। এভাবে তার কিছু শত্রুও গড়ে ওঠেছিল। ভাইজান সিলেট শহরেই থাকতেন। একবার তিনি সীমান্ত পার্শ্ববর্তী গোয়াইঘাটে একটি দ্বীনী প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য সফর করছিলেন। গাড়ি কোম্পানিগঞ্জ পার হয়ে সামনে এগুলে এক জনমানবহীন সড়কে পৌঁছলে একদল দুর্বৃত্ত ভাইজানের ওপর সশস্ত্র হামলা করে বসে। তারা বুলেটের আঘাতে ভাইজানের দেহ ঝাঁজরা করে দেয়। এম্বুলেন্সে করে লাশ এলাকায় আনা হলে ভাইজানকে গোসল দেওয়া হবে কি না এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক মতানৈক্য দেখা দেয়। অবশেষে ইমাম সাহেবের ফয়সালাক্রমে গোসল করিয়ে ভাইজানকে আলাদা কাফন পরানো হয়। এরপর জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু তারপরও গোসলের বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে কানাঘুষা চলতে থাকে। তাদের বক্তব্য, শহীদকে গোসল দেওয়ার কোনো বিধান নেই। তাকে তার রক্ত মাখা কাপড়ই দাফন করা নিয়ম। এখন মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে বিষয়টির প্রকৃত সমাধান জানতে চাচ্ছি। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার ভাই শহীদের অন্তর্ভুক্ত। কেননা ডাকাত ও দুর্বৃত্তদের হাতে নিহতব্যক্তি শহীদের হুকুমে। তাকে গোসল দিতে হয় না। তাই তাকে গোসল না দিয়ে পরিহিত পোশাকেদাফন করাই উচিত ছিল। ভুল হলেও যেহেতু দাফন হয়ে গেছে তাই এখন বিষয়টি নিয়ে বিতর্কেলিপ্ত হওয়া ঠিক হবে না।

عَنِ الشَّعْبِيِّ قَالَ: سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ قَتَلَهُ اللُّصُوصُ فَقَالَ: لَا يُغَسَّلُ

শাবী রাহ.-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, যে চোরদের হাতে নিহত হয়েছে। তিনিবললেন, তাকে গোসল দেওয়া হবে না।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬৬৪৮, ৯৫৯৪; কিতাবুল আছল ১/৩৩৯; আলজামিউস সগীর ১১৮-১১৯; শরহুয যিয়াদাত ১/১৮৬-১৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৪৭-২৫০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কিছুদিন আগে বিশেষ এক প্রয়োজনে আমরা কয়েকজন খুলনা থেকে ঢাকায়...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে বিশেষ এক প্রয়োজনে আমরা কয়েকজন খুলনা থেকে ঢাকায় আসি। এখানে আমার ভগ্নিপতির মাদরাসা আছে। জুমআর দিন তিনি উপস্থিত না থাকায় আমাদের সাথে আসা একজন জুমার নামায পড়িয়ে দেন। পরে আমার মনে হল, তিনি তো মুসাফির। তার নিজের উপরই যখন জুমা ওয়াজিব নয় তখন তিনি মুকীমদের ইমাম হবেন কীভাবে? তাই জানতে চাই, মুসাফিরের জন্য জুমার ইমামতি করার বিধান কী?

উত্তর

মুসাফির ব্যক্তির উপর জুমা ফরয নয়। তবে সে জুমা আদায় করলে তা জুমা হিসেবেই সহীহ হবে।তাই সফর অবস্থায় তার জুমা আদায় করাও জায়েয এবং জুমার ইমামতি করাও জায়েয। সুতরাংঐ ব্যক্তির জুমার ইমামতি করা যথাযথ হয়েছে।

-আলজামিউস সগীর ১১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৪৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকীম ইমামের পিছনে মাসবুক হয় তবে সে...

প্রশ্ন

মুসাফির ব্যক্তি যদি মুকীম ইমামের পিছনে মাসবুক হয় তবে সে দুই রাকাত পেলে কি আরো দইু রাকাত একাকী পড়বে, নাকি দইু রাকাতেই নামায শেষ করবে? আর যদি এক রাকাত পায় তাহলে কয় রাকাত পড়বে?

উত্তর

মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তেদা করলে চার রাকাত পড়া জরুরি হয়ে যায়।

তাই মুকীমইমামের পেছনে মাসবুক হলেও তাকে চার রাকাতই পড়তে হবে।

আবু মিজলায রাহ. বলেন,

قلت لابن عمر : ادركت ركعة من صلاة المقيمين وأنا مسافر؟ قال : صل بصلاتهم.

আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, মুসাফির অবস্থায় যদি আমি মুকীমের পেছনে এক রাকাত পাই তাহলে করণীয় কী?

জবাবে তিনি বললেন, মুকীমের মতো (পুরা) নামায পড়বে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩৮১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৮৭৫; কিতাবুল আছল ১/২৫৬; বাদায়েউস সনায়ে ১/২৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

একবার দীর্ঘদিন সফরে থাকার কারণে হাত পায়ের নখ কাটার সুযোগ...

প্রশ্ন

একবার দীর্ঘদিন সফরে থাকার কারণে হাত পায়ের নখ কাটার সুযোগ পাইনি। ফলে তা বেশ লম্বা হয়ে যায়। এবং সফরের দরুণ তাতে ময়লা জমে যায়। সফর শেষে এক বন্ধু আমাকে বললেন, নখের ভেতর ময়লা থাকলে অযু হয় না। তাই তোমার নামাযও হয়নি। তার কথা শুনে আমি বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।

জানার বিষয় হল, আমার বিগত দিনের নামায কি কাযা করতে হবে?

উত্তর

নখের ভেতর ময়লা জমে থাকলেও অযুর সময় সে অংশ ভিজে গেলে অযু হয়ে যায়। তাই আপনার ঐ নামাযগুলো আদায় হয়ে গেছে। তা কাযা করতে হবে না।

উল্লেখ্য, হাত পায়ের নখ সপ্তাহে একবার কাটা উত্তম। নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ، كَانَ يُقَلِّمُ أَظْفَارَهُ وَيَقُصُّ شَارِبَهُ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. প্রত্যেক জুমআর দিনে মোঁচ ও নখ কাটতেন।

-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৩/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে কয়েক...

প্রশ্ন

আমি স্বামী-সন্তানসহ প্রায় সারা জীবনই কাটিয়েছি আমেরিকায়। আল্লাহর রহমতে কয়েক বছর আগে আমার দ্বীনের বুঝ আসে। কিন্তু আমার স্বামী তা মেনে নেয় না। তাই এক পর্যায়ে আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আর আমি বাংলাদেশে চলে আসি। এখানে আমার শুধু মা ও ছোট বোনেরা থাকে। আল্লাহ আমাকে অনেক সম্পদ দান করেছেন। এখন আমি হজ্ব করতে চাই। কিন্তু আমার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই। আমি কি একাকী হজ্ব করতে পারব?

উত্তর

মহিলাদের জন্য মাহরাম ব্যতীত হজ্বের সফরে যাওয়া নিষেধ।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ، وَلاَ تُسَافِرَنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا مَحْرَمٌ، فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اكْتُتِبْتُ فِي غَزْوَةِ كَذَاوَكَذَا، وَخَرَجَتِ امْرَأَتِي حَاجَّةً، قَالَ: اذْهَبْ فَحُجَّ مَعَ امْرَأَتِكَ.

কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে এবং কোনো মহিলা যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি আর আমার স্ত্রী হজ্বের জন্য বের হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও। তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব কর। -সহীহ বুখারী,হাদীস ৩০০৬

আরেক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

لَا تَحُجَّنَّ امْرَأَةٌ إِلَّا وَمَعَهَا ذُو مُحْرِمٍ

কখনো কোনো নারী মাহরাম ছাড়া হজ্ব করবে না। -সুনানে দারা কুতনী ২/২২২

অতএব মাহরাম ছাড়া আপনার জন্য হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না। যতদিন শারীরিকভাবে নিজে হজ্ব করতে সক্ষম থাকেন ততদিন মাহরামের অপেক্ষা করবেন। অবশেষে মাহরাম না পেলে কারো দ্বারা বদলি হজ্ব করাতে হবে। আর এ ব্যাপারে পূর্ব থেকেই অসিয়ত করে রাখবেন। যেন হঠাৎ মৃত্যু হয়ে গেলে আত্মীয়-স্বজন আপনার সম্পদ দ্বারা বদলি হজ্ব করিয়ে নেয়।

উল্লেখ্য যে, বোনের ছেলে এবং আপন মামা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। আপনার এমন কোনো উপযুক্ত আত্মীয় থাকলে তাদের কাউকে সাথে নিয়ে হজ্বে যেতে পারবেন।

-ফাতহুল কাদীর ২/৩২৭, ৩/৬৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৯; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী পৃ. ৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক ব্যক্তি বিকালের দিকে সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়।...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বিকালের দিকে সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। ১৫/২০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর আসরের সময় হলে এক জায়গায় সে একাকী আসরের নামায দুই রাকাত কসর পড়ে নেয়। কিন্তু ৩০/৩২ কিলোমিটার যাওয়ার পর কোনো এক কারণে সে সফর মুলতবি করে দেয়। আর ঐ জায়গায় তার একটি কাজ আছে। সেটি সেরে বাড়ি যেতে যেতে রাত ১০/১১ টা হয়ে যেতে পারে।

এখন জানার বিষয় হল, সে তো সফর পুরো করেনি। তাই সে যে রাস্তায় আসরের নামায কসর পড়েছে তা কি আদায় হয়েছে এবং সে রাতে যে জায়গায় থেমেছে সেখানে ইশার নামায একাকী পড়লে তা কসর করবে না পুরোই পড়বে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটি সফরের উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা থেকে বের হওয়ার পর সফর মুলতবির নিয়ত করার আগ পর্যন্ত মুসাফির ছিল। তাই এ অবস্থায় তার আসরের নামায কসর পড়া ঠিকই হয়েছে। অতএব এরপর সফর মুলতবি করার কারণে ওই নামাযের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে সফরের দূরত্ব (প্রায় ৭৮ কিলোমিটার) অতিক্রম করার আগেই যেহেতু সফর মুলতবি করার নিয়ত করেছে তাই এর দ্বারাই তখন থেকে সে মুকিম হয়ে গেছে। এরপর থেকে সে ঐখানে এবং ফেরার পথেও মুকিম গণ্য হবে। সুতরাং তখন থেকে মুকীম হিসাবে পুরো নামায পড়বে। কসর করবে না।

-কিতাবুল আছল ১/২৩৫; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২৩৮; বাদায়েউস সনায়ে ১/২৮২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমরা কয়েকজন সাথী একদিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। পথে...

প্রশ্ন

আমরা কয়েকজন সাথী একদিন ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট যাচ্ছিলাম। পথে জুমার সময়ে ট্রেন না থামায় আমরা আর জুমার নামায পড়তে পারিনি। সিলেট শহরে পৌঁছে ট্রেন থেকে নেমে এক মসজিদে ঢুকে আমরা যোহরের নামায জামাতের সাথে আদায় করি। জানতে চাচ্ছি, জামাতের সাথে এভাবে যোহরের নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি পৃথকভাবে আদায় করা উচিত ছিল?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের যোহর পড়া ঠিক হয়েছে। তবে জামাতে পড়া ঠিক হয়নি। কারণ যে এলাকায় জুমা হয় সেখানে যোহরের জামাত নিষেধ। মাযুর, মুসাফির এবং অন্য যারা জুমার জামাতে শরিক হতে পারেনি তারা প্রত্যেকে আলাদাভাবে যোহরের নামায আদায় করবে; জামাত করবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক) মুকীম ও মুসাফির কাকে বলে?খ) তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা...

প্রশ্ন

ক) মুকীম ও মুসাফির কাকে বলে?

খ) তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৬০, ৪০, ৩৫, ৩০, ২৫, ২০, ১০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে?

কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু সঠিক?

এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

আর বর্তমানে মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা, পৌরসভা, শহর ও জেলার ঐ সীমানা কতটুকু, যার ভেতর থাকলে মুসাফির বা মুকীম বলে গণ্য হবে?

উত্তর

ক) শরীয়তে মুসাফির ঐ ব্যক্তিকে বলা হয়, যে ৪৮ মাইল তথা (প্রায় ৭৮ কিলোমিটার) বা তার বেশি দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকা ত্যাগ করে।

আর যে নিজ এলাকায় অবস্থান করছে বা ৭৮ কিলোমিটারের কম দূরত্বে সফর করেছে সে মুকীম। তেমনিভবে ৭৮ কিলোমিটার কিংবা তারচেয়ে বেশি দূরত্বে সফর করলে পথিমধ্যে মুসাফির হলেও কোনো এক গ্রাম বা এক শহরে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি সময় অবস্থানের নিয়ত করলে ঐ স্থানে সে মুকীম হবে।

খ) যে ব্যক্তি ঢাকা সিটিতে মুকীম সে কাকরাইল থেকে সফরসম দূরত্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে ঢাকা সিটির সীমানা ত্যাগ করার পর থেকে সে মুসাফির গণ্য হবে এবং পথিমধ্যে মুসাফির ইমামের পেছনে বা একাকী নামায পড়লে কসর করতে হবে। অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়তে হবে। আর মুকীমের পিছনে পড়লে পুরো চার রাকাত পড়তে হবে।

২. গন্তব্যস্থলে পৌঁছে কোনো এক গ্রাম নির্দিষ্ট না করে একাধিক গ্রামের মসজিদে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলে গন্তব্যস্থলেও সে মুসাফির গণ্য হবে। তদ্রূপ শহর ও শহরতলী মিলে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলেও মুসাফির থাকবে।

৩. একটি গ্রাম বা একটি শহরের বিভিন্ন মসজিদে এক নাগাড়ে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করলে ঐ গ্রাম বা শহরে সে মুকীম গণ্য হবে। কিন্তু এক গ্রাম বা এক শহর না হয়ে পুরো জেলা বা উপজেলায় কিংবা ভিন্ন ভিন্ন একাধিক গ্রাম বিশিষ্ট ইউনিয়নে, ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলে সে মুকীম হবে না; বরং মুসাফিরই থাকবে।

৪. এক গ্রাম বা এক শহরের বিভিন্ন মসজিদে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে ঐ গ্রাম বা শহরেও সে মুসাফির গণ্য হবে।

৫. মুকীম ব্যক্তি কাকরাইল থেকে ৭৮ কিলোমিটারের কম দূরত্বে সফরের জন্য বের হলে পথিমধ্যে এবং গন্তব্যস্থলে মুকীম গণ্য হবে।

তবে যে কাকরাইলে মুসাফির থাকবে সে কাকরাইল থেকে ৭৮ কিলোমিটারের কম দূরত্বে গেলেও মুসাফিরই থাকবে।

সফরসম দূরত্বের উদ্দেশ্যে গ্রামের বাসিন্দা নিজ গ্রামের সীমানা ত্যাগ করার পর এবং শহরের বাসিন্দা শহরের সীমানা ত্যাগ করার পর থেকে কসর শুরু করবে। আর সফর থেকে ফেরার পথে নিজ গ্রাম বা শহরের সীমানায় প্রবেশ করার পর মুকীম হয়ে যাবে।

কোনো এক মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান না করলে সর্বদা মুসাফির থাকবে- এমন ব্যক্তব্য সঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬১, ২৬৮-২৭০; কিতাবুল আছল ১/২৩১-২৩৩, ২৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩০-১৩২; রদ্দুল মুহতার ২/১২১-১২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

গত বছর হজ্বের সফরে একদিন তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত...

প্রশ্ন

গত বছর হজ্বের সফরে একদিন তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে ভুলে যাই। বাসায় আসার পর স্মরণ হলে ঐ দুই রাকাত নামায পড়ে নিই। প্রশ্ন হল, তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হওয়ায় আমার উপর কোনো দম আবশ্যক হয়েছে কি না?

উত্তর

তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। এই দুই রাকাত নামায মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে তাওয়াফের পরপরই পড়া সুন্নত। বিনা কারণে তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে দেরি করা ঠিক নয়। তবে ঐ দুই রাকাত নামায বিলম্বে পড়লেও কোনো দম ওয়াজিব হয়নি। এমনকি কেউ ঐ দু রাকাত না পড়লেও দম ওয়াজিব হবে না। তবে ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে। অতএব আপনার উপর কোনো দম ওয়াজিব নয়।

-গুনইয়াতুন নাসিক ১১৬; মানাসিক, মুল্লা আলী আলক্বারী ১৫৫; ইলাউস সুনান ১০/৮০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি গত রযমানে সফর অবস্থায় একদিন রোযা রাখি। এরপর কোনো...

প্রশ্ন

আমি গত রযমানে সফর অবস্থায় একদিন রোযা রাখি। এরপর কোনো কারণ ছাড়াই আবার তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাই, উক্ত কারণে আমাকে এই রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হবে? নাকি শুধু কাযা করলেই হয়ে যাবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ রোযার শুধু কাযা করলেই হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, সুবহে সাদিকের সময় থেকেই যে ব্যক্তি সফরে থাকে, তার জন্য রোযা না রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে রোযা শুরু করার পর শরীয়তসম্মত ওজর ব্যতীত তা ভেঙ্গে ফেলা জায়েয নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙ্গে ফেলা ঠিক হয়নি।

-কিতাবুল আছল ২/১৫৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৮৪; মাবসূত, সারাখসী ৩/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯০; ইলাউস সুনান ৯/১৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক মহিলা উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই...

প্রশ্ন

এক মহিলা উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই ঐ মহিলার মাসিক স্রাব এসে যায়। পাঁচ দিন অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখনও স্রাব বন্ধ হয়নি। এদিকে সফরের আর দুই দিন বাকি। দুই দিন পরই তার ফ্লাইট। দেশে চলে আসতে হবে। এখন সে কী করবে? এ অবস্থায়ই কি তাওয়াফ-সায়ী করে উমরা সম্পন্ন করে ফেলবে? মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহিলাটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যদি এ সময়ের ভেতরে তার মাসিক বন্ধ হয়ে যায় তাহলে পবিত্র হয়ে তাওয়াফ-সায়ী সম্পন্ন করবে। আর যদি মাসিক বন্ধ না হয় তাহলে সফরের শেষের দিকে ঐ অবস্থাতেই উমরার তাওয়াফ করে নিবে। অতপর উমরার সায়ী করবে এবং চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। আর অপবিত্রতার অবস্থায় উমরার তাওয়াফ করার কারণে তাকে একটি দম দিতে হবে। অর্থাৎ হেরেমের এলাকায় তাকে একটি ছাগল বা দুম্বা যবাই করতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৭; মানাসিক, মুল্লা আলি কারী, পৃ. ৩৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

নিজ বাসস্থান থেকে বের হয়ে কী পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করলে...

প্রশ্ন

নিজ বাসস্থান থেকে বের হয়ে কী পরিমাণ রাস্তা অতিক্রম করলে মুসাফির হয়?

উত্তর

সফরসম দূরত্ব (৭৮ কিলোমিটার বা তার বেশি) অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে নিজ এলাকা, গ্রাম বা শহর অতিক্রম করার পর থেকে সফরের বিধান আরোপিত হবে।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; ফাতহুল কাদীর ২/৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মুসাফির অবস্থায় নামায পড়ার বিধান কী? অর্থাৎ মুসাফির ফরয ও...

প্রশ্ন

মুসাফির অবস্থায় নামায পড়ার বিধান কী? অর্থাৎ মুসাফির ফরয ও সুন্নত নামায কীভাবে আদায় করবে? সফর অবস্থায় কোন কোন নামায কসর করতে হয়?

উত্তর

মুসাফিরের জন্য সফর অবস্থায় কোনো মুকীমের ইক্তিদা না করলে কসর করা অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়া জরুরি।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

فَرَضَ اللهُ الصَّلَاةَ عَلَى لِسَانِ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَضَرِ أَرْبَعًا، وَفِي السَّفَرِ رَكْعَتَيْنِ.

আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবীর যবানে নামাযকে মুকীম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত ফরয করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৮৭

আর মুকিমের পিছনে ইকতিদা করলে পূর্ণ নামাযই পড়তে হবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন,

إِذَا دَخَلَ الْمُسَافِرُ فِي صَلَاةِ الْمُقِيمِينَ صَلَّى بِصَلَاتِهِمْ.

মুসাফির যদি মুকিমদের সাথে নামাযে শরীক হয় তবে সে তাদের মত (চার রাকাত) নামায পড়বে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৮৪৯

আর মাগরিব, বিতর ও ফজরের নামায পূর্ণই আদায় করতে হবে। এগুলোর কসর নেই। তেমনিভাবে সুন্নত নামাযেরও কসর হয় না। তাই সুন্নত পড়লে পুরোই পড়বে।

প্রকাশ থাকে যে, সফর অবস্থায় পথিমধ্যে তাড়াহুড়া ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত পড়বে না। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর সুন্নত নামায পড়াই উত্তম।

উল্লেখ্য যে, বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সফর অবস্থায় সুন্নতে মুআক্কাদা নামাযগুলো মুকীম অবস্থার ন্যায় আবশ্যক থাকে না; বরং সাধারণ সুন্নতের হুকুমে হয়ে যায়।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে।...

প্রশ্ন

এক মহিলা হজ্ব করবে। তার বড় ভাই সৌদীতে চাকরি করে। ঢাকা বিমান বন্দর পর্যন্ত তার সঙ্গে তার ছোট ভাই থাকবে। ঢাকা থেকে জেদ্দা বিমানবন্দর পর্যন্ত মামাতো বোন ও তার স্বামী সাথে থাকবে। জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে তার বড় ভাই তাকে নিয়ে যাবে এবং তার সঙ্গেই হজ্ব করবে। প্রশ্ন হল, সে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে জেদ্দা পর্যন্ত তার মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্ব করার জন্য যেতে পারবে কি?

উত্তর

মাহরাম ছাড়া নারীর জন্য হজ্বের সফরে যাওয়াও নিষেধ। মামাতো বোনের স্বামী মাহরাম নয়। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা মামাতো বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যেতে পারবে না। বরং স্বামী বা কোনো মাহরামের সাথেই যেতে হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لا تسافر المرأة إلا مع ذي محرم، ولا يدخل عليها رجل إلا ومعها محرم، فقال رجل: يا رسول الله إني أريد أن أخرج في جيش كذا وكذا، وامرأتي تريد الحج، فقال: اخرج معها.

কোনো মহিলা তার মাহরাম ব্যতিরেকে সফর করবে না এবং কোনো পুরুষ মাহরাম ছাড়া কোনো মহিলার নিকট যাবে না। অতপর এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক সৈন্যদলের সাথে জিহাদে যেতে চাই আর আমার স্ত্রী হজ্বে যেতে চায়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমিও তার সাথে হজ্বে যাও। -সহীহ বুখারী ১/১৪৭, ১/২৫০

আরেক হাদীসে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

لا تحجن امرأة إلا ومعها ذو محرم.

কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্ব করতে না যায়। (সুনানে দারাকুতনী ২/২২৩)

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৪; মুখতাসারুত তহাবী ৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; যুবদাতুল মানাসিক ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বয়স ১৮ বছর। আমি আম্মা ও বড় বোন এবার...

প্রশ্ন

আমার বয়স ১৮ বছর। আমি আম্মা ও বড় বোন এবার আমাদের বড় দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্ব আদায় করেছি। হজ্ব থেকে ফেরার পর জানতে পারলাম যে, দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্বে যাওয়া আমার জন্য বৈধ হয়নি। তাহলে কি আমার হজ্ব সহীহ হয়নি?

উত্তর

মাহরাম ব্যতীত হজ্বের সফরে যাওয়া জায়েয নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া হজ্বে না যায়। Ñসুনানে দারাকুতনী, হাদীস : ২৪৪০

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জনে অবস্থান না করে এবং কোনো মহিলা যেন মাহরাম ব্যতীত সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি আর আমার স্ত্রী হজ্বের জন্য বের হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও। তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে হজ্ব কর। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৩০০৬

সুতরাং মাহরাম ছাড়া হজ্বের সফরে যাওয়া আপনার জন্য নাজায়েয হয়েছে। এজন্য তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। তবে এভাবে যাওয়া নাজায়েয হলেও আপনার হজ্ব আদায় হয়ে গেছে।

Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৯; আললুবাব ১/১৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক. যারা তাবলীগে লম্বা সময়ের জন্য সফরসম দূরত্বে বের হয়...

প্রশ্ন

ক. যারা তাবলীগে লম্বা সময়ের জন্য সফরসম দূরত্বে বের হয় তারা মুসাফির কি না?

খ. চিল্লা চলাকালীন সময়ে কোনো কাজে কেউ যদি বাড়িতে যায় এবং বাড়িতে ১-২ দিন থাকে তাহলে ঐ ১-২ দিনের জন্য মুকীম হবে কি না?

উত্তর

ক. কেউ সফরসম দূরত্বের জন্য বের হলে নিজ এলাকা ত্যাগ করার পর থেকে পথিমধ্যে সে মুসাফির থাকবে। আর গন্তব্যে পৌঁছে কোনো এক গ্রাম নির্দিষ্ট না করে একাধিক গ্রামের মসজিদে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলে গন্তব্যস্থলেও সে মুসাফির থাকবে। তদ্রƒপ শহর ও শহরতলী মিলে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলেও সে মুসাফির থাকবে। অবশ্য যদি এক গ্রাম বা এক শহরেরই মসজিদে মিলে এক নাগাড়ে ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে তাহলে সেক্ষেত্রে ঐ গ্রাম বা শহরে সে মুকীম গণ্য হবে।

খ. চিল্লা চলাকালীন সময়ে কেউ মুসাফির থাকা অবস্থায় ১/২ দিন বা অল্প সময়ের জন্যও যদি বাড়িতে যায় তাহলে নিজ এলাকায় প্রবেশের সাথে সাথেই মুকীম হয়ে যাবে। এবং নিজ এলাকা ত্যাগ করা পর্যন্ত পূর্ণ নামায আদায় করবে। Ñআলআসল ১/২৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭০, ৭৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩২; রদ্দুল মুহতার ২/১২৪, ২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে যদি কেউ মিরপুর-২ থেকে সদরঘাট যায় তাহলে...

প্রশ্ন

বরিশাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে যদি কেউ মিরপুর-২ থেকে সদরঘাট যায় তাহলে সদরঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়ার আগে কি সে নামায কসর করতে পারবে?

উত্তর

না, সদরঘাটে লঞ্চ নোঙর করা অবস্থায় তাতে নামায কসর করা যাবে না। কেননা, লঞ্চ পাড়ে বা পাড়ের নিকটে ভিড়ানো থাকলে তা ঐ পাড়ের হুকুমে গণ্য হয়। আর সদরঘাট যেহেতু ঢাকা সিটির অন্তর্ভুক্ত তাই ঘাটে লঞ্চ ভিড়ানো থাকা অবস্থায় ঐ ব্যক্তি মুকীমই থাকবে। লঞ্চ সদরঘাট ত্যাগ করার পর থেকে কসরের হুকুম আরম্ভ হবে।

Ñশরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩, ২/৫৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; ফাতহুল কাদীর ২/৮; ইমদাদুল আহকাম ১/৭১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

ক) সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়ার হুকুম কি?খ) আমরা জানি...

প্রশ্ন

ক) সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়ার হুকুম কি?

খ) আমরা জানি যে, সফরে চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে দুই রাকাত পড়তে হয়। ফরয এবং সুন্নত উভয় নামাযের জন্যই কি এই হুকুম? জানালে পেরেশানী মুক্ত হব।

উত্তর

ক) সফর অবস্থায় সুন্নত নামায পড়া-না পড়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের রা. দুই ধরনের আমলই বর্ণিত হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত পড়ার কথা এসেছে। আবার কোনো কোনো বর্ণনায় সুন্নত না পড়ার কথাও এসেছে।

তবে ফজরের সুন্নতের ব্যাপারে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ-অসুস্থ, মুসাফির-মুকিম কোনো অবস্থাতেই তা ছাড়তেন না। Ñমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ ৩৯৫০

অতএব ফজরের সুন্নত গুরুত্বের সাথেই আদায় করবে। অন্যান্য সুন্নতের ক্ষেত্রে হুকুম হল, যাত্রাপথে তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততার সময় সুন্নত পড়বে না। আর যদি যাত্রাপথে তাড়াহুড়ো ও ব্যস্ততা না থাকে এবং সুন্নত পড়ার অবকাশ থাকে তাহলে সম্ভব হলে পড়ে নিবে। আর গন্তব্যস্থলে নিরাপদে স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে সুন্নত পড়ে নেওয়াই উত্তম। এক্ষেত্রে সুন্নত ছাড়বে না।

খ) সফর অবস্থায় চার রাকাত বিশিষ্ট নামায দুই রাকাত পড়ার বিধান কেবল ফরয নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সুন্নত নামাযের কসর নেই। তাই সফর অবস্থায় সুন্নত পড়লে পূর্ণ চার রাকতই পড়তে হবে। Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ৫৫০, ৫৫২; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৯৪৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৩-৩৮৪; ইলাউস সুনান ৭/৩২৯-৩৩২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

মাঝে মধ্যেই দেশের বাইরে আমার সফর হয়ে থাকে। আমার বাসা...

প্রশ্ন

মাঝে মধ্যেই দেশের বাইরে আমার সফর হয়ে থাকে। আমার বাসা ঝিগাতলা। আমি যখন ঝিগাতলা থেকে এয়ারপোর্ট যাব তখন এয়ারপোর্টে থাকাবস্থায় নামায কি কসর পড়ব না পূর্ণ পড়ব।

উত্তর

এয়ারপোর্টে আপনাকে পূর্ণ নামায অর্থাৎ চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার রাকাতই পড়তে হবে। বিমান এয়ারপোর্ট ত্যাগ করার পর থেকে কসরের হুকুম হবে।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৮২৫৩; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪৩২৩; কিতাবুল আছল ১/২৩২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

১. কসর সালাতের দূরত্ব ও সময়সীমা অর্থাৎ কী পরিমাণ দূরত্বের...

প্রশ্ন

১. কসর সালাতের দূরত্ব ও সময়সীমা অর্থাৎ কী পরিমাণ দূরত্বের সফর করলে কছর পড়তে হয় এবং কত দিন পর্যন্ত সফরের হুকুম বলবৎ থাকবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

২. কছর নামায সম্পর্কে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

১ ও ২ : ৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার বা এর বেশি সফর করার নিয়তে কেউ যদি নিজ গ্রাম বা শহরের সীমানা অতিক্রম করে তবে সে তখন থেকে মুসাফির গণ্য হবে এবং নামায কসর করবে। অর্থাৎ যোহর, আসর ও ইশার ফরয নামায দুই রাকাত করে আদায় করবে।

আর সফর অবস্থায় কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত না করা পর্যন্ত মুসাফির থাকবে।

আর কোনো স্থানে একসাথে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম গণ্য হবে এবং পূর্ণ নামায পড়তে হবে।

Ñশরহুল মুনয়াহ ৫৩৫, ৫৩৬, ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ২/৩৮৮-৩৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮, ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১, ২/১২৪-১২৫; জাওয়াহিরুল ফিক্হ ৩/৪২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

সফর থেকে বাড়িতে আসি। যোহরের সময় তখনও আধা ঘণ্টার মতো...

প্রশ্ন

সফর থেকে বাড়িতে আসি। যোহরের সময় তখনও আধা ঘণ্টার মতো বাকি ছিল। ক্লান্তির দরুণ নামাযের কথা ভুলে যাই। হঠাৎ আসরের আযান শুনি। প্রশ্ন হল, উক্ত যোহরের কাযা কি আমাকে চার রাকাত পড়তে হবে, নাকি দুই রাকাত? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত যোহর নামাযের কাযা চার রাকাতই আদায় করতে হবে। কেননা ওয়াক্তের শেষে আপনি মুকীম ছিলেন। তখন পুরো চার রাকাতই পড়া জরুরি ছিল। তাই আদায় করতে হবে পুরো চার রাকাতই।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৭; অদদুররুল মুখতার ২/১৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত...

প্রশ্ন

যায়েদ যে স্থানে চাকরি করে সেখান থেকে তার বাড়ি শরীয়ত নির্ধারিত মুসাফিরের সীমার অনেক উপরে। এখন প্রশ্ন হল, সে বাড়িতে যাওয়ার সময় এবং বাড়ি থেকে আসার সময় রাস্তায় কছর নামায পড়বে কি? যদি কছর পড়তে হয় তাহলে সে তার বাড়ি/চাকরিস্থলে পৌঁছার কতটুকু সীমানা পর্যন্ত পড়বে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যায়েদের চাকরিস্থল যেহেতু সফরসম দূরত্বে তাই সেখানে যাতায়াতের সময় তার বাসস্থানের এলাকা ত্যাগ করার পর পথিমধ্যে সে মুসাফির গণ্য হবে এবং নামায কছর করবে। আর চাকরিস্থলে ১৫ দিনের নিয়তে কখনো থাকা না হলে সেখানেও সে মুসাফির থাকবে।

অবশ্য চাকরিস্থলে যদি কখনো ১৫ দিনের নিয়তে অবস্থান করে থাকে তবে তখন থেকে চাকরিস্থলে সে মুকীম। এক্ষেত্রে নিজ গ্রামের সীমানা অতিক্রম করার পর থেকে চাকরিস্থলের এলাকায় প্রবেশের আগ পর্যন্ত সে মুসাফির গণ্য হবে। আর চাকরিস্থলে একবার মুকীম হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তীতে কখনো অল্প সময়ের জন্য গেলেও সেখানে সে মুকীম হবে।

আর এক্ষেত্রে চাকরিস্থলে সে যেহেতু মুকীম তাই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে চাকরিস্থলের এলাকা অতিক্রম করার পর থেকে সে মুসাফির গণ্য হবে।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; ফাতহুল কাদীর ২/৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮, ২/১৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ৩/৩৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট...

প্রশ্ন

আমার বাসা ঢাকার মূল শহরে। বিদেশ সফরকালিন বাসা থেকে এয়ারপোর্ট যাওয়া-আসার সময় আমি কি মুকীম হব, নাকি মুসাফির?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বিমানবন্দরের পথে ও বিমান বন্দরে মুকীম থাকবেন তাই পুরো নামাযই পড়তে হবে। কেননা মুসাফির হওয়ার জন্য নিজ শহরের আবাদি অতিক্রম করা শর্ত। তদ্রূপ সফর থেকে ফিরে বিমান বন্দরে অবতরণ করলেই মুকীম হয়ে যাবেন।

নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. মদীনার ঘর-বাড়ি অতিক্রম করলে তখন নামায কসর পড়তেন এবং সফর থেকে ফেরার সময় মদীনার বসতিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত কসর পড়তেন।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস ৪৩২৩, ৪৩১৯, ৪৩২১; কিতাবুল আছল ১/২৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৬৪, ২৭৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭, ৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

এক ছেলে রমযানের ২০ তারিখ বালেগ হয়। প্রায়ই এমন হত...

প্রশ্ন

এক ছেলে রমযানের ২০ তারিখ বালেগ হয়। প্রায়ই এমন হত যে, তার রোযা রাখার ইচ্ছা থাকা সত্তে¡ও মায়ের পীড়াপীড়িতে রোযা রাখত না। তদুপরি কাযা-কাফফারার মাসআলার ব্যাপারে সে ছিল উদাসীন। কয়েকদিন সে মায়ের কারণে আর কিছুদিন নিজেই রোযা রাখেনি। আর কিছুদিন সে রোযা রেখেছে। এ দশদিনের মধ্যে কতদিন সে রোযা রেখেছে আর কতদিন রাখেনি তার পুরো স্মরণ নেই এখন সে কী করবে?

উত্তর

রমযানের রোযা রাখার পর বিনা ওযরে তা ভেঙ্গে ফেললে কাযা কাফফারা উভয়টিই আদায় করা জরুরি। আর যদি রমযানের কোনো রোযা একেবারে নাই রাখে তাহলে তাকে শুধু ঐ রোযার কাযা করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, শরয়ী কোনো ওযর ছাড়া রমযানের রোযা না রাখা অনেক বড় কবীরা গুনাহ।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি অসুস্থতা বা সফর ছাড়া ইচ্ছাকৃত রমযানের একটি রোযা ছেড়ে দিল সে আজীবন রোযা রাখলেও এ রোযার হক আদায় হবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৯৮৯৩, ১২৭১১

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এ ছেলে বালেগ হওয়ার পর তার প্রবল ধারণা অনুযায়ী যে কয়টা রোযা রাখেনি বা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছে উপরোক্ত নিয়মে সে ঐ রোযাগুলোর কাযা ও কাফফারা আদায় করবে এবং এজন্য সে আল্লাহ তাআলার নিকট কায়োমনোবাক্যে তওবা ও ইস্তেগফার করবে।

আর একাধিক রোযা রেখে তা ভেঙ্গে ফেললে সেক্ষেত্রে কাফফারার নিয়ম জানতে হলে পরবর্তীতে আবার বিস্তারিত প্রশ্ন করে জেনে নিবেন।

-রদ্দুল মুহতার ২/৩৮০; হাশিয়াতুশ শিলবী ১/৪৬৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত...

প্রশ্ন

কোনো মুসাফির সফর থেকে নিজ ঘরের দিকে ফিরে আসার নিয়ত করার পর পথিমধ্যে কোথাও দু’ এক দিনের নিয়তে অবস্থান করলে সেখানে কি সে কসর করবে, নাকি পুরা চার রাকাত পড়বে?

উত্তর

মুসাফির নিজ বাড়িতে ফিরে আসার নিয়ত করলেই মুকীম হয়ে যায় না; বরং নিজ এলাকার সীমানায় প্রবেশ করার পর থেকে মুকীম গণ্য হয়।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নিজ গ্রামে প্রবেশের আগে পথিমধ্যে দু’এক দিনের জন্য কোথাও অবস্থান করলে মুসাফিরই থাকবে এবং নামায কসর করবে।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কাকরাইল থেকে একটি তিন চিল্লার জামাতকে দিনাজপুরের এক ইউনিয়নে ৪০...

প্রশ্ন

কাকরাইল থেকে একটি তিন চিল্লার জামাতকে দিনাজপুরের এক ইউনিয়নে ৪০ দিনের জন্য রোখ দিয়েছে। সে ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মসজিদে তিন দিন করে থাকা হবে। এভাবে ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর জামাতটি আবার কাকরাইলে ফিরে আসবে। আমরা জানি, ১৫ দিনের নিয়তে কোথাও অবস্থান করলে মুকীম গণ্য হয়। তাহলে সেই ইউনিয়নে ৪০ দিন অবস্থানের নিয়ত করলে জামাতের সকলেই কি মুকীম গণ্য হবে?

উল্লে­খ্য, কাকরাইল থেকে চিল্লার রোখ দেওয়া হলে সাধারণত চিল্লা পূর্ণ করেই ফিরে আসা হয়।

উত্তর

মুকীম হওয়ার জন্য এক গ্রামে বা এক শহরে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করা জরুরি। একাধিক গ্রাম মিলে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করলে মুকীম হয় না। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চিল্লার জামাতটির যেহেতু একই গ্রামে ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি থাকা হচ্ছে না; বরং এক ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে থাকা হচ্ছে, তাই এক্ষেত্রে তারা মুকীম হবে না;বরং মুসাফিরই থাকবে। তবে কোনো জামাত যদি এক গ্রামের এক বা একাধিক মসজিদে ১৫ দিন অবস্থানের নিয়ত করে থাকে তবে তারা মুকীম গণ্য হবে।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/২৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৯১-৩৯২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২৫-১২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমাদের দেশে কারো কারো থেকে শুনা যায় কাবা শরীফ দেখামাত্রই...

প্রশ্ন

আমাদের দেশে কারো কারো থেকে শুনা যায় কাবা শরীফ দেখামাত্রই নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। এটা সঠিক কি না? আমি উত্তরটা জানার জন্য আপনাদের নিকট খুবই আগ্রহী। আর উমরাতে যারা যান তাদের জন্য কি হজ্ব করা ফরয? যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে তার কী করণীয়?

উত্তর

‘কাবা শরীফ দেখলে কিংবা উমরা করতে গেলে হজ্ব ফরয হয়ে যায়’ এ ধারণা ঠিক নয়। কাবা শরীফ দেখা না দেখার সাথে হজ্ব ফরয হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। হজ্ব ফরয হওয়ার জন্য সামর্থ্য থাকা শর্ত। আল্লাাহ তাআলা বলেছেন, (তরজমা) যাদের নিকট এই ঘর (কাবা শরীফ) পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ্য আছে তাদের উপর এই ঘরের হজ্ব করা ফরয। -সূরা আলে ইমরান : ৯৭

তাই হজ্ব ফরয হওয়ার জন্য হজ্বের মৌসুমে হজ্বে যাওয়া-আসার খরচসহ সফরে থাকাকালীন দিনগুলোতে পরিবারের লোকদের স্বাভাবিক খরচের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। এছাড়া বর্তমানে হজ্বের জন্য সৌদি সরকার কর্তৃক অনুমতি থাকা এবং বৈধ ভিসাও প্রয়োজন। উমরা ভিসায় গিয়ে হজ্ব করার অনুমতি থাকে না। তাই উমরা করতে গিয়ে হজ্বের জন্য থেকে যাওয়া আইনত নিষেধ। সুতরাং উমরা করতে যাওয়ার কারণে হজ্ব ফরয হবে না।

-লুবাবুন নাসিক ৪২-৪৩; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮, ২২; মাসালিক ১/২৬২; মানাসিক ৪২-৪৩, ৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

একজন নিঃসন্তান বিধবা নারীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তার আপন...

প্রশ্ন

একজন নিঃসন্তান বিধবা নারীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তার আপন ভাই আছে, কিন্তু তাদের উপর হজ্ব ফরয নয়। তবে বিধবার ছোট বোন ও তার স্বামী হজ্বের সফরে যাচ্ছে। উক্ত বিধবা তাদের সাথে হজ্বের জন্য নিয়ত করেছে।

এখন প্রশ্ন হল, ছোট বোন ও তার স্বামীর সাথে বিধবার হজ্বের জন্য যাওয়ার বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

হজ্বের সফরেও মহিলাদের জন্য মাহরাম থাকা আবশ্যক। সহীহ মুসলিমে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার পিতা, ছেলে, স্বামী বা ভাই অথবা অন্য কোনো মাহরাম ছাড়া তিনদিন (৪৮ মাইল বা ৭৮ কিলোমিটার) বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বের কোথাও সফর করা বৈধ নয়।-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪০

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবায় বলতে শুনেছি, .. কোনো মহিলা যেন মাহরাম ছাড়া কোথাও সফর না করে। তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার স্ত্রী তো (মাহরাম ছাড়াই) হজ্বের উদ্দেশ্যে রওনা করেছে। আর আমি তো অমুক যুদ্ধে যাব বলে নাম লিখিয়েছি। আল্লাহর রাসূল বললেন, যাও, তুমিও তোমার স্ত্রীর সাথে গিয়ে হজ্ব কর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩৪১

সুতরাং প্রশ্নোক্ত মহিলার জন্য তার বোন ও তার স্বামীর সাথে হজ্বে যাওয়া জায়েয হবে না। মাহরামের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। আর শারীরিক সক্ষমতা থাকা পর্যন্ত যদি মাহরামের ব্যবস্থা না হয় তাহলে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে গেলে কাউকে দিয়ে বদলি হজ্ব করাতে হবে বা বদলি হজ্বের অসিয়ত করে যেতে হবে।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী যেমন মহিলাদের জন্য হজ্বের সফরে স্বামী বা মাহরাম থাকা জরুরি তেমনি বাস্তবতার আলোকেও হজ্বের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে আঞ্জাম দেওয়ার জন্য পুরো সফরে মহিলার জন্য মাহরামের প্রয়োজন। তাছাড়া সৌদি সরকারের আইন অনুযায়ী মহিলার সাথে মাহরাম থাকা বাধ্যতামূলক। মাহরাম সাথে না থাকলে হজ্ব এজেন্সিগুলো ভুয়া মাহরাম বানিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। হজ্বের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় করতে গিয়ে এমন গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

-রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৮; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

কিছুদিন আগে এক দাওয়াতি সফরে রাঙামাটি গিয়েছিলাম। সেখানে কাদিয়ানীদের দাওয়াতে...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে এক দাওয়াতি সফরে রাঙামাটি গিয়েছিলাম। সেখানে কাদিয়ানীদের দাওয়াতে এক গ্রামের ৯-১০টি পরিবার একসাথে একই সময়ে কাদিয়ানী হয়ে যায়। আমরা খবর পেয়ে সেখানে যাই এবং তাদেরকে দীর্ঘদিন বোঝানোর পর তারা আবার ফিরে আসে।

এখন প্রশ্ন হল, তাদের পূর্বের বৈবাহিক সম্পর্কের কী হবে? প্রথমে ইসলাম ধর্ম থেকে সপরিবারে কাদিয়ানী হয়ে যাওয়া পরে আবার ইসলাম ধর্মে ফিরে আসায় কি তাদের পূর্বের বিবাহ সম্পর্ক বহাল থাকবে? যদি না থাকে তাহলে তাদের ব্যাপারে এখন করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী তারা যেহেতু সপরিবারে একসঙ্গে একই সময় কাদিয়ানী হয়ে গেছে এবং পরে আবার তওবা করে একসঙ্গে সপরিবারে ইসলাম ধর্মে ফিরে এসেছে তাই তাদের পূর্বের বিবাহ বহাল আছে। এখন তারা পূর্বের ন্যায় দাম্পত্য জীবন চালিয়ে যেতে পারবে। নতুন করে বিবাহ করতে হবে না।

-মুখতাসারুত তহাবী ২৫/-২৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৯৫; আলমাবসূত, সারাখসী ৫/৪৯; আততাজরীদ ৯/৪৫৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৫৬; রদ্দুল মুহতার ৩/১৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,যে মহিলা আল্লাহর উপর এবং...

প্রশ্ন

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,যে মহিলা আল্লাহর উপর এবং পরকালের উপর ঈমান রাখে তার জন্য মাহরাম সাথে না থাকা অবস্থায় একদিন একরাতের পথ সফর করা হালাল নয়। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হল,মহিলাদের বংশীয় মাহরাম কতজন এবং তাদের নামের একটি তালিকা জানতে চাই।

উত্তর

‘মাহরাম’ দ্বারা উদ্দেশ্য হল,মহিলার ঐ সকল আত্মীয়,যাদের সাথে সবসময়ের জন্য বিবাহ হারাম। এদের মধ্যে বংশীয় মাহরাম হলেন-

১) পিতা,দাদা,নানা,প্রমুখ ঊর্ধ্বতন পুরুষগণ।

২) ছেলে,নাতি (ছেলের ঘরের নাতি এবং মেয়ের ঘরের নাতি,এভাবে নিচের দিকের পুরুষগণ)

৩) আপন ভাই, (বৈপিত্রেয় ভাই এবং বৈমাত্রেয় ভাইও এর অন্তর্ভুক্ত)

৪) মামা, (মায়ের আপন, বৈমাত্রেয় এবং বৈপিত্রেয় ভাই)

৫) চাচা, (পিতার আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাই)

৬) ভাতিজা (আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের ছেলে) ও তধস্তন ছেলে সন্তানাদি।

৭) ভাগিনা (আপন, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় বোনের ছেলে) ও তধস্তন ছেলে সন্তানাদি।

-শরহু মুসলিম, নববী ৯/১০৫; উমদাতুল কারী ৭/১২৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৪৩; তাফসীরে রুহুল মাআনী ৪/২৫২; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজন ট্রাক চালক। ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর...

প্রশ্ন

আমি একজন ট্রাক চালক। ট্রাক নিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করতে হয়। অনেক সময় জুমার দিন সফরে বের হতে হয়। এ অবস্থায় আমার জন্য কি জুমার দিন ১০/১২ টার সময় সফরে বের হওয়া জায়েয হবে?

উল্লেখ্য যে, পথে জুমার নামায আদায় করা সম্ভব হয় না।

উত্তর

জুমার দিন সফরে বের হয়ে পথিমধ্যে জুমা আদায় করা সম্ভব হলে জুমার দিন যে কোনো সময় সফরে বের হওয়া জায়েয আছে। আর সূর্য ঢলার পূর্বে সর্বাবস্থায় সফরে বের হওয়া জায়েয আছে। কিন্তু সফরে বের হলে পথিমধ্যে জুমা পড়া সম্ভব না হওয়ার আশঙ্কা হলে সূর্য ঢলার পর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সফরে বের হওয়া মাকরূহ। তবে বিশেষ কোনো ওজরের ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়ে পড়লে বের হতে পারবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫১৫০; শরহুস সিয়ারিল কাবীর ১/৪৯; শরহুল মুনইয়া ৫৬৫; ইলাউস সুনান ৮/৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/১৬২; আলমাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ, কুয়েত ২৫/৩৯; আলমাজমূ ৪/৩৬৫;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই...

প্রশ্ন

বাড়ির কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করতে পারি না। তাই আমি প্রায় সময়ই ফজর ও যোহরের নামাযের পর মসজিদে কিছুক্ষণ কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করি। অনেক সময় ঝিমুনি এলে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ি।

জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় মসজিদে ঘুমানো কি দোষণীয়? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

না, তিলাওয়াত, যিকির ইত্যাদি ইবাদত করতে গিয়ে মসজিদে ঘুম এসে গেলে তা দোষণীয় হবে না। তবে এ সময়ও নফল ইতিকাফের নিয়ত করে নেওয়া উত্তম। আর সাধারণ অবস্থায় মুসাফির ও ইতিকাফকারী ছাড়া কিংবা দ্বীনী কাজের জরুরত ছাড়া অন্যদের জন্য মসজিদে ঘুমানো মাকরূহ। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তোমরা মসজিদকে ঘুমানোর স্থান বানিও না।

-জামে তিরমিযী ১/৪৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৬১২; আততাজনীস ১/৩৬৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/২৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব...

প্রশ্ন

আমার নিকট এ পরিমাণ টাকা আছে যে, আমার উপর হজ্ব ফরয। আমার স্বামীর দ্বীনের বুঝ নেই। তার উপর হজ্ব ফরয হওয়া সত্তে¡ও তিনি হজ্ব করছেন না। আমি অনুমতি চাচ্ছি আমাকেও অনুমতি দিচ্ছেন না। আমার জানার বিষয় হল, আগামী বছর আমার ভাই হজ্বে যাবেন। স্বামীর অনুমতি ছাড়াই আমি ভাইয়ের সাথে হজ্বে যেতে পারব কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হজ্ব আল্লাহ তাআলার মহান হুকুম। শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ ফরয। হজ্ব ফরয হলে বিলম্ব করা গুনাহ। তাই আপনাদের উভয়েরই অনতিবিলম্বে হজ্বে যাওয়া আবশ্যক। কোনো কারণে স্বামীর যেতে যদি বিলম্ব হয় আর আপনার মাহরামের ব্যবস্থাও হয়ে যায় তবে স্বামীর জন্য আপনাকে বাধা দেওয়া ঠিক হবে না। তাই স্বামীকে এ বিষয় বোঝাতে চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে তাকে রাজি করে তার সাথেই হজ্বে যান। যদি তিনি না যান তবে আপনি ভাইয়ের সঙ্গে ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য যেতে পারবেন। কেননা ফরয হজ্ব আদায়ের ক্ষেত্রে স্বামীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। তবে নফল হজ্ব কিংবা ওমরা আদায়ের জন্য সফর করতে চাইলে অবশ্যই স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। তার অনুমতি ছাড়া যাওয়া যাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৬৫; গুনইয়াতুন নাসিক ২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু...

প্রশ্ন

হজ্ব করার মতো কোনো আর্থিক সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু মনে হজ্ব করার খুব আগ্রহ ছিল। এরপর মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর হজ্ব সফরনামা ‘‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’’ পড়ে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়। ফলে ২০১০ সালে আমার এক বন্ধুর সাথে হজ্বে যাই। আমার হজ্বের যাবতীয় খরচ সে বহন করেছে এ শর্তে যে, পরবর্তীতে সময়-সুযোগমতো তাকে আমি ঐ টাকা পরিশোধ করে দিব। হজ্ব করে আসার পর দুই বছরের মধ্যে আমি তাকে ঐ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এখন আমার কাছে অনেক টাকা পয়সা আছে। এ বছর আমি আবার হজ্ব করতে চাচ্ছি। তাই হুযুরের নিকট জানতে চাই যে, আমার অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব কি ফরয হিসেবে আদায় হয়েছে? আর এ বছর আমি কোন হজ্বের নিয়ত করব, ফরয নাকি নফল হজ্বের? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

অস্বচ্ছল অবস্থায় কেউ ঋণ করে হজ্ব আদায় করলেও তা ফরয হিসেবেই আদায় হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ হজ্ব ফরয হিসেবেই আদায় হয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে হজ্ব করলে তা নফল গণ্য হবে। তবে ঐ হজ্বের এহরামের সময় আপনি যদি সুনির্দিষ্টভাবে নফল হজ্বের নিয়ত করে থাকেন তা নফল হিসেবেই আদায় হয়েছে। ফরয হজ্ব আদায হয়নি। সামনে তা আদায় করে নিতে হবে।

-গুনইয়াতুন নাসিক ৩২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪১; আলবাহরুল আমীক ১/৩৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন।...

প্রশ্ন

জামান সাহেবের বাড়ি রংপুর। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম শহরে গেছেন। সেখানে তিনি বিশ দিন থাকবেন। কিন্তু দশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর হঠাৎ বাড়ি থেকে তার মেয়ের অসুস্থতার খবর আসে। তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে আরো একদিন থেকে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্তনেন। পেছনের দশদিনের চার রাকাত বিশিষ্ট নামায তো তিনি মুকীম হিসেবে আদায় করেছেন কিন্তু এখন যেহেতু তার বিশ দিন থাকা হচ্ছে না বরং সামনের একদিনসহ মোট এগারো দিন থাকা হবে তাই এ অবস্থায় আগামী একদিনের নামায চট্টগ্রাম শহরে থাকা অবস্থায় কীভাবে পড়বেন? কসর, নাকি পূর্ণ নামায পড়বেন?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহরে থাকাকালীন আগামী একদিনের নামাযও তাকে মুকীম হিসেবেই আদায় করতে হবে। কসর করা যাবে না। কেননা চট্টগ্রাম শহরে পনেরো দিন বা তার অধিক থাকার নিয়তে প্রবেশ করার দ্বারা তিনি সেখানে মুকীম হয়ে গেছেন। সফরসম দূরত্বের উদ্দেশ্যে ঐ স্থান ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি মুকীমই থাকবেন। শুধু নিয়ত পরিবর্তনের কারণে ইকামতের হুকুম বাতিল হবে না। তাই রংপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যখন তিনি চট্টগ্রাম সিটি শহরের সীমানা অতিক্রম করবেন তখন থেকে তিনি মুসাফির গণ্য হবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৯৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৫/১৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি...

প্রশ্ন

জন্মস্থান কি ওয়াতনে আসলী? আমি আমার নানা বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেছি আমি কি তাহলে নানা বাড়ীতে গেলে মুকীম থাকব? প্রকাশ থাকে যে, আমি আমার পিতা-মাতার সাথে তাদের বাড়িতেই থাকি। নানা বাড়িতে থাকি না।

উত্তর

কোথাও জন্মগ্রহণের দ্বারাই ঐ স্থান ওয়াতনে আসলী হয়ে যায় না। বরং স্থায়ীভাবে বসবাস করলে তা ওয়াতনে আসলী হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু নানা বাড়ী বসবাস করেন না বরং পিত্রালয়ই হচ্ছে আপনার স্থায়ী আবাসস্থল তাই পিত্রালয়ই আপনার ওয়াতনে আসলী গণ্য হবে এবং সেখানে আপনি মুকীম হবেন।

-আলমাবসূত ১/২৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি।...

প্রশ্ন

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া থানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। প্রতি এক মাস পর পর গ্রামের বাড়িতে যাই। জানার বিষয় হল, আসা-যাওয়ার পথে মুসাফির হিসেবে নামায পড়ব, নাকি মুকীম হিসেবে? দলিল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার গ্রাম থেকে ঢাকা শহর যেহেতু সফরসম দূরত্বে অবস্থিত তাই যাওয়ার সময় ঢাকা সিটি থেকে বের হওয়ার পর থেকে আপনার গ্রামে প্রবেশের আগ পর্যন্ত এবং ফেরার সময় আপনার গ্রাম থেকে বের হওয়ার পর হতে ঢাকা সিটিতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত পুরো সময় মুসাফির থাকবেন। তাই এ সময় আপনি মুসাফির হিসেবে চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়বেন। তবে মুকীম ইমামের পিছনে পড়লে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায পুরোই পড়তে হবে।

-মুসনাদে আবু ইয়ালা ৫/৩৩০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৫৩১; শরহুল মুনইয়াহ ৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১২৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৮৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১০৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা...

প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী। বিনিয়োগকারীদের টাকা দিয়ে মুদারাবার ভিত্তিতে আমি ব্যবসা করি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে প্রায়ই আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াত খরচ ও সফর অবস্থায় থাকা-খাওয়ার খরচ ব্যবসার টাকা থেকেই নিয়ে থাকি। কিছুদিন পূর্বে ব্যবসার কাজে ঢাকা যাওয়ার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় আমি মারাত্মকভাবে আহত হই। চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, উক্ত চিকিৎসার খরচ আমি ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারব কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের অনুমতি ব্যতীত আপনার চিকিৎসা খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নেওয়া জায়েয হবে না। হ্যাঁ, তারা অনুমতি দিলে নিতে পারবেন।

অবশ্য ব্যবসার প্রয়োজনে সফর করলে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার সাধারণ খরচ ব্যবসার টাকা থেকে নিতে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ৪/১৭-১৮০; আততাজরীদ ৭/৩৫১৭; মুজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪১৯; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৪/৩৫৩, ৩৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১৮/১৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: সফর

(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি?(খ) এক মহিলার স্বামী...

প্রশ্ন

(ক) মহিলারা বদলী হজ্ব করতে পারবে কি?

(খ) এক মহিলার স্বামী ও সন্তান নেই। তার বয়স ৬৮ বছর। চলাফেরা করতে পারেন। তিনি কি তার হজ্ব কাউকে দিয়ে করাতে পারবেন?

উত্তর

(ক) স্বামী বা যথাযথ অভিভাবকের অনুমতি থাকলে এবং মাহরাম পুরুষ সাথে থাকলে মহিলারাও বদলী হজ্বে যেতে পারবে।-গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩৭; মানাসিক মোল্লা আলী কারী, ৩৩৭; আল মাসালিক ফিল মানাসিক ২/৮৯৩; আলবাহরুল আমীক ৪/২২৬৮

(খ) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলা বয়স্কা হলেও যেহেতু তিনি চলাফেরা করতে পারেন সুতরাং তার সাথে হজ্ব করার মত কোনো মাহরাম পুরুষ থাকলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো জায়েয হবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহরামের ব্যবস্থা না হলে তার জন্য বদলী হজ্ব করানো বা বদলী হজ্বের ওসিয়ত করে যাওয়া জরুরি হবে।

আর হজ্বের সফরে স্বামী বা পুত্র থাকা জরুরি নয়। বরং অন্য যে কোনো মাহরাম সঙ্গী (যেমন : ভাই, চাচা, মামা ইত্যাদি) পাওয়া গেলেও বদলী করানো যাবে না, নিজেই যাওয়া ফরয হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৫; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতহুল কাদীর ৩/৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.