Login | Register

ফতোয়া: কসম-মান্নত

ফতোয়া নং: ৭৩১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি দাড়ি রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে গিয়ে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি দাড়ি রাখার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে গিয়ে এভাবে বলে, আমি যদি আর দাড়ি কাটি তাহলে আমি মুসলমান না। পরে সে দাড়ি কেটেছে। এখন তার বিধান কী? তার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কী হবে? কেউ কেউ বলেন, তার এ কথা কোনো হলফই হয়নি। কারণ দাড়ি যে একেবারে কাটা যায় না এমন তো নয়। এক মুষ্ঠির বেশি হলে তো কাটা যায়। উল্লেখ্য, তার উদ্দেশ্য ছিল দাড়ি যত বড়ই হোক মোটেই কাটবে না। এক মুষ্ঠির বেশি হলে কাটা যায়- এটা তার জানা ছিল না।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অঙ্গীকার ভঙ্গ করার দ্বারা ঐ ব্যক্তির ঈমান নষ্ট হয়নি এবং বিবাহও ভাঙ্গেনি। তবে এ কথা বলার দ্বারা দাড়ি না কাটার হলফ হয়েছে। অতএব হলফ ভাঙ্গার কারণে তার উপর কসমের কাফ্ফারা আদায় করা ওয়াজিব। যারা বলেছে, এক মুষ্ঠির বেশি হলে দাড়ি কাটা যায় বিধায় হলফ হবে না তাদের কথা ঠিক নয়। কেননা বৈধ কাজ না করার উপরও হলফ হয়।

আর কোনো অঙ্গীকারের ক্ষেত্রেও ‘আমি মুসলমান নই’ এমন কথা বলা মারাত্মক অন্যায় ও গুনাহ। অতএব ঐ কথা বলার কারণে তাকে তাওবা করতে হবে।

-বাদায়েউস সনায়ে ৩/১৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৩, ৭১৭; এলাউস সুনান ১১/৩৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

চাচার কাছে শুনেছি দাদীর অনেক জায়গা-জমি ছিল। চাচার বর্ণনা অনুযায়ী...

প্রশ্ন

চাচার কাছে শুনেছি দাদীর অনেক জায়গা-জমি ছিল। চাচার বর্ণনা অনুযায়ী বুঝলাম, দাদীর এ পরিমাণ প্রয়োজনাতিরিক্ত জমি ছিল যার একাংশও বিক্রি করে তিনি হজ্ব করতে পারতেন। কিন্তু সকল সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তিনি হজ্ব করেননি। চাচাকে এ ব্যাপারে বুঝালে তিনি দাদীর পক্ষ থেকে হজ্ব করতে রাজি হলেন। পরে চাচা বললেন, আম্মা আমাকে তো এ ব্যাপারে কিছু বলে যায়নি। এখন কীভাবে কী করি। আর সামনে আমার ব্যস্ততা বাড়তে পারে তখন অন্য কাউকে দিয়ে মায়ের পক্ষ থেকে হজ্ব করালে হবে কি না? এ দুটি প্রশ্নের উত্তর আমার জানা ছিল না। তাই হুযুরের কাছে এর উত্তর জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার দাদীর উপর হজ্ব ফরয ছিল। তাই তিনি যদিও অসিয়্যত করে যাননি, কিন্তু ওয়ারিশদের উচিত হবে তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করানো। বদলী হজ্ব ওয়ারিশকেই করতে হবে এমন কোনো বিধান নেই। তাই আপনার চাচা যদি নিজে দাদীর পক্ষ থেকে হজ্ব করেন, কিংবা অন্য কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব করান, উভয় অবস্থায় তা আপনার দাদীর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে এবং এর দ্বারা আপনার দাদী উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এক লোক এসে বলল, আমার বোন হজ্বের মান্নত করেছিল। কিন্তু হজ্ব করার আগে সে মারা গেছে। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তার উপর কোনো ঋণ থাকলে তা তুমি আদায় করতে না? লোকটি বলল, হাঁ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাজেই আল্লাহর হক আদায় করে দাও। কেননা তা আদায়ের বেশি উপযোগী। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৬৯৯)

-বাদায়েউস সনায়ে ২/৪৬৯; ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৮; মানাসিক, মুল্লা আলী আলকারী পৃ.৪৩৬; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক লোক মান্নত করলো, আল্লাহ যদি এই অসুস্থ গরুটি ভাল...

প্রশ্ন

এক লোক মান্নত করলো, আল্লাহ যদি এই অসুস্থ গরুটি ভাল করে দেন তাহলে তা সদকা করে দিবো। এখন গরুটি সুস্থ। এখন এই গরুটি সদকা করতে হবে নাকি বিক্রি করে একাধিক মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে দান করা যাবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সরাসরি গরুটিই সদকা করে দেওয়া উত্তম। তবে সেটি বিক্রি করেও এর মূল্য গরীব মিসকীনকে সদকা করতে পারবে। আবার বিভিন্ন গোরাবা ফাণ্ডেও দিতে পারবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৭, ২৯২; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪০; ইমদাদুল আহকাম ৩/৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

গত বছর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি রমযানের শেষ দশকে...

প্রশ্ন

গত বছর একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমি রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফের মানত করি। কিন্তু অসুস্থতার দরুণ গতবার তা করতে পারিনি। এবার রমযানে আমি ইতিকাফ করেছি। এর দ্বারা কি আমার সেই মানত পুরা হয়েছে? নাকি সেই ইতিকাফ ভিন্ন করে কাযা করতে হবে?

উত্তর

পরবর্তী রমযানে ইতিকাফ করার দ্বারা আপনার উক্ত মানত পুরো হয়নি। কারণ নির্দিষ্ট রমযানে যেহেতু আপনি ইতিকাফ করতে পারেননি তাই তা কাযা হয়ে গেছে। আর কাযা ইতিকাফ রমযানের বাইরে পৃথক রোযা রেখে আদায় করতে হয়।

অতএব আপনাকে ঐ মানত পুরো করার জন্য রমযান ছাড়া অন্য মাসে রোযা রেখে আদায় করতে হবে।

-মাবসূত, সারাখসী ৩/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮৩; আদ্দুরুল মুখতার ২/৪৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

ক. কসমের কাফফারার রোযা কি লাগাতার ধারাবাহিকভাবে রাখতে হয়, নাকি...

প্রশ্ন

ক. কসমের কাফফারার রোযা কি লাগাতার ধারাবাহিকভাবে রাখতে হয়, নাকি মাঝে বিরতি দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায়।

খ) একাধিক কসমের জন্য কি একাধিক কাফফারাই লাগবে, নাকি একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

ক) কসমের কাফফারা দরিদ্রদের খাবার বা কাপড় প্রদানের মাধ্যমে আদায় করার সামর্থ্য নাথাকলে তিনটি রোযা ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে। কোনো কারণে ধারাবাহিকতা ছুটে গেলে তাকাফফারার রোযা হিসেবে আদায় হবে না। সেক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে তিনটি রোযা পূর্ণ করতেহবে।

খ) প্রতিটি কসমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা আদায় করতে হবে। একাধিক কসমের জন্য একটিকাফফারা যথেষ্ট নয়। -ফাতহুল কাদীর ৪/৩৬৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৪৩২; ফাতাওয়াহিন্দিয়া ২/৬৮; আলইখতিয়ার ৩/৩৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৪; বেহেশতী জেওর ৩/৫৩;ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৫৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার ছোট ছেলে যখন গর্ভে তখন আমি মানত করেছিলাম, যদি...

প্রশ্ন

আমার ছোট ছেলে যখন গর্ভে তখন আমি মানত করেছিলাম, যদি আমার গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হয় তাহলে ওকে সিলেটের নির্দিষ্ট একটি মাদারাসায় পড়াব। পরবর্তীতে দেখা যায়, আমার ছেলে সন্তানই হয়েছে। কিন্তু ওর জন্মের ছ মাস পরেই ওর আবক্ষু সরকারি চাকরির সুবাদে যশোর বদলি হয়ে যায়। যার কারণে আমরা সপরিবারে যশোরে এসে বসবাস শুরু করি। জানতে চাচ্ছি, আমার ছেলেকে কি এখন যশোরের কোনো মাদরাসায়ও পড়াতে পারব, নাকি যে মাদরাসার নামে মানত করেছিলাম সেখানেই পড়াতে হবে? বিষয়টি নিয়ে আমরা পরিবারের সবাই ভীষণ পেরেশানিতে ভুগছি। তাছাড়া লেখাপড়ার জন্য ছেলেকে একাকী সিলেট পাঠানোও আমাদের জন্য অসম্ভবপ্রায়। তাই আমাদের এখন কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছেলেকে যশোরে বা অন্য কোথাও পড়াতে পারবেন। নির্দিষ্ট ঐমাদরাসাতে পড়ানো জরুরি নয়।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

কিছুদিন আগে আমার মা একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার মা একটি কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আমি তখন মানত করেছিলাম, মা যদি সুস্থ হন তাহলে একটি ছাগল যবাই করে গরীবদের খাওয়াব। আল্লাহর রহমতে আমার মা ঐ রোগ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

এদিকে আমার ছোট ভাইকে ছাগল কিনতে দিয়েছিলাম। সে যে ছাগল নিয়ে এসেছে তা ছোট। ৭/৮ মাস বয়স। আমাদের ইমাম সাহেব বলছেন, এই ছাগল দিয়ে মানত আদায় হবে না। হুযুরের কাছে জানতে চাই, আমাদের ইমাম সাহেবের কথা কি সঠিক? আর এই ছাগলটি আমরা কী করব?

উত্তর

আপনাদের ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। ছাগল যবাই করে গরীবদের খাওয়ানোর মানত করলে ছাগলের বয়স অন্তত এক বছর হওয়া আবশ্যক।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ৭/৮ মাসের ছাগল দ্বারা এখন আপনার মানত আদায় হবে না। তা এখন আপনি বিক্রিও করে দিতে পারবেন বা এর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর এটি দ্বারাও মানত আদায় করতে পারবেন।

-বাদায়েউস সনায়ে ৪/২৩৩; ইমদাদুল আহকাম ৩/২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার ছেলে গত মাসে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সুস্থতার কোনো...

প্রশ্ন

আমার ছেলে গত মাসে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সুস্থতার কোনো লক্ষণ না দেখে তার মা মানত করে যে, ছেলে সুস্থ হলে আগামী মাসের প্রথম বৃহস্পতি ও শুক্রবার রোযা রাখবে। পাঁচ-ছয়দিন পর আল্লাহ তাআলা ছেলেকে সুস্থ করে দেন। তার মা বৃহস্পতি ও শুক্রবারে রোযা রাখার জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে বুধবার থেকে তার মাসিক শুরু হয়ে যায়। এখন ঐ রোযা কি আদায় করা লাগবে? যদি আদায় করতে হয় তাহলে কি পবিত্র হওয়ার পর বৃহস্পতি-শুক্রবারেই রাখতে হবে নাকি যে কোনোদিন রাখলেই চলবে?

উত্তর

পবিত্র হওয়ার পর মানতের ঐ রোযা তাকে রাখতে হবে। অবশ্য পবিত্রতার পর যে কোনোদিন রোযাদুটি রাখতে পারবে। পরবর্তী বৃহস্পতি-শুক্রবার দিন রাখা আবশ্যক নয়।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১০; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার বড় মেয়ের বিবাহ নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন...

প্রশ্ন

আমার বড় মেয়ের বিবাহ নিয়ে বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন আমি মনে মনে এই সংকল্প করি, বিয়েটা সুষ্ঠুভাবে হয়ে গেলে হাজার খানেক টাকা সদকা করব। আল্লাহর রহমতে সুষ্ঠুভাবেই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করতে গেলে তিনি বললেন, আপনি যেহেতু মুখে কিছু উচ্চারণ করেননি। শুধু মনে মনে স্থির করেছেন তাই এটা মান্নত হয়নি এবং এক হাজার টাকা সদকা করা আপনার জন্য আবশ্যকও নয়। আমার জানার বিষয় হল, টাকা সদকা করা কি আসলেই আমার জন্য আবশ্যক নয়?

উত্তর

আপনি যেহেতু মনে মনে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতে সংকল্প করেছেন তাই তা পূর্ণ করাই উচিত হবে। তবে আপনি যেহেতু মুখে উচ্চারণ না করে শুধু মনে মনে নিয়ত করেছেন তাই সেটা মান্নত হয়নি। কেননা মান্নতের জন্য মুখে উচ্চারণ করা জরুরি। সুতরাং ঐ এক হাজার টাকা সদকা করা আপনার জন্য ওয়াজিব নয়। ইমাম সাহেবের ঐ কথা ঠিক আছে।

-হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৮৩; আহকামুল কুরআন, ইবনে আরাবী ১/২৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৩২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

কিছুদিন আগে আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তার আশঙ্কাজনক...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার ছেলে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। তার আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে আমি বলেছিলাম, সে সুস্থ হলে আল্লাহর রাস্তায় একটা ছাগল সদকা করব। তার সুস্থতায় বেশ বিলম্ব হচ্ছিল। আমি তার আশু সুস্থতা কামনা করে সে সুস্থ হয়ে উঠার আগেই একটি ছাগল সদকা করে দেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, সুস্থ হয়ে উঠার আগেই ছাগল সদকা করা কি সহীহ হয়েছে এবং আমার মান্নত পূর্ণ হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, আপনার ঐ ছাগল সদকা করা সহীহ হয়েছে এবং তা সাধারণ সদকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তা দ্বারা মান্নত আদায় হয়নি। কেননা আপনি যেহেতু ছেলে সুস্থ হলে ছাগল সদকা করার মান্নত করেছেন তাই ছেলে সুস্থ হওয়ার আগে ছাগল সদকা করার দ্বারা উক্ত মান্নত আদায় হবে না। অতএব সন্তান সুস্থ হওয়ার পর মান্নত পূরণের জন্য আপনাকে নতুন করে ছাগল সদকা করতে হবে। উল্লেখ্য, বিপদ-মুসিবতে আল্লাহর জন্য দান করার ক্ষেত্রে মান্নত না করে সরাসরি নগদ দান করাই উত্তম। এটিই হাদীসের শিক্ষা। হাদীসে আছে,মান্নতের দ্বারা কৃপণের মাল বের হয়।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার খালাত ভাই তিনটি বিষয়ে পৃথক পৃথক কসম করেছিল এবং...

প্রশ্ন

আমার খালাত ভাই তিনটি বিষয়ে পৃথক পৃথক কসম করেছিল এবং সে প্রত্যেকটি বিষয়েই কসম ভঙ্গ করেছে। এখন হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ঐ তিনটি কসম ভঙ্গের জন্য কি একটি কাফফারা যথেষ্ট হবে, নাকি প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রত্যেক কসম ভঙ্গের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাফফারা আদায় করা জরুরি। কেননা প্রত্যেক কসম ভঙ্গের জন্য পৃথক কাফফারা ওয়াজিব। সবগুলোর জন্য একটি কাফফারা যথেষ্ট নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার খালাত ভাইকে তিনটি কসম ভঙ্গের জন্য তিনটি কাফফারা আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ২/২৯৭; মাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯১; আদ্দুররুল মুহীত ৩/৭১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

কিছুদিন আগে আমার ছোট ছেলে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার ছোট ছেলে একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। তখন আমি মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ তাআলা যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি আমাদের ছাগলটি প্রতিবেশী আবদুল ওয়াহাবকে দিব। আলহামদু লিল্লাহ, আমার ছেলে এখন সুস্থ হয়েছে। এদিকে আমার অন্য এক প্রতিবেশী শফিকও অত্যন্ত গরিব। সে বিপদে পড়ে আমার নিকট কিছু টাকা চাচ্ছে। হুযুরের নিকট জানতে চাই-

ক) আমি কি আমার মান্নত আবদুল ওয়াহাবকে না দিয়ে শফিককে দিতে পারব?

খ) ঐ ছাগলটি দেওয়াই কি জরুরি? ছাগলের পরিবর্তে টাকা দিলে কি মান্নত আদায় হবে?

উত্তর

ক) সুনির্দিষ্টভাবে কোনো গরিবকে দেওয়ার মান্নত করলেও তাকে দেওয়া জরুরি হয়ে যায় না। বরং অন্য গরিবকেও দেওয়া যায়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছাগলটি আবদুল ওয়াহাবকে না দিয়ে শফিককেও দিতে পারবেন। -আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪০

উত্তর : খ) আপনি যেহেতু ছাগল দেওয়ার মান্নত করেছেন তাই বিশেষ কোনো ওজর না হলে ছাগলটিই দান করবেন। তবে ছাগলের ন্যায্যমূল্য মান্নত হিসেবে দিলেও মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৭; ফাতহুল কাদীর ২/১৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৫-২৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার এক সহপাঠী কিছুদিন আগে একটি বিষয়ে কসম করে পরে...

প্রশ্ন

আমার এক সহপাঠী কিছুদিন আগে একটি বিষয়ে কসম করে পরে তা ভঙ্গ করেছে। কিন্তু বর্তমানে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়ে কসমের কাফ্ফারা আদায় করার মত সামর্থ্য তার নেই। এখন কি সে রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা দিতে পারবে নাকি টাকা হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে?

উত্তর

আপনার ঐ সহপাঠী বর্তমানে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়ে কাফ্ফারা আদায়ের সামর্থ্য না রাখলে সে রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায় করতে পারবে। কেননা যখন কাফ্ফারা আদায় করছে তখন অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায়ের সামর্থ্য না থাকলেই রোযার মাধ্যমে কাফ্ফারা আদায় করা জায়েয। কাফ্ফারা আদায়ের জন্য টাকা হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা জরুরি নয়। তবে রোযা রেখে কাফ্ফারা আদায় করা অবস্থায় সামর্থ্যবান হয়ে গেলে রোযার কাফ্ফারা যথেষ্ট হবে না। সেক্ষেত্রে টাকা দিয়ে বা খানা খাইয়েই নতুন করে কাফ্ফারা আদায় করা জরুরি হবে।

Ñফাতহুল কাদীর ৪/৩৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২৭; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলি, আমি ... একাজটা অবশ্যই...

প্রশ্ন

আমি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলি, আমি ... একাজটা অবশ্যই করবো। কিন্তু পরে আমি আর ঐ কাজটা করতে পারিনি। এখন জানার বিষয় হলো, আমার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছিল? এখন আমার করণীয় কি?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত কথার কারণে আপনার কসম সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে ঐ কাজটি না করার কারণে আপনার কসমটি ভঙ্গ হয়েছে। এখন আপনার কর্তব্য হলো, কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা আদায় করা। কসমের কাফ্ফারা হলো, দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুইবেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া। অথবা দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে এক জোড়া করে পোশাক দেওয়া। তবে কেউ যদি এর কোনেটির সামর্থ্য না রাখে তাহলে সে লাগাতার তিনটি রোযা রাখবে। Ñসুরা মায়েদা : ৮৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬;ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ২/৫৩, ২/৬১; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬

প্রকাশ থাকে যে, আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত কোনো কিছুর কসম করা নিষেধ। তাই কেউ কসম করতে চাইলে আল্লাহর নামেই কসম করা আবশ্যক।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী তালাশ করছিলাম। কিন্তু কোথাও মনমত চাকুরী...

প্রশ্ন

আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী তালাশ করছিলাম। কিন্তু কোথাও মনমত চাকুরী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একবার একটা ভাল চাকুরির ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হই। কিন্তু চাকুরী হবে কি না তা নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম। তখন আমি এই বলে মান্নত করি যে, যদি আমার এই চাকুরিটা হয়ে যায় তাহলে আমি প্রতি জুমার দিন রোযা রাখবো। ঘটনাক্রমে আমার ঐ চাকুরিটা হয়ে যায়। তাই আমি প্রত্যেক জুমার দিন রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার সাংসারিক ঝামেলা অনেক বেড়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে জুমআর দিনে রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হলো, রোযা না রাখতে পারলে আমার করণীয় কী? যে দিনগুরোর রোযা ছুটেছে সেগুলোর জন্য কী করতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত মান্নতের কারণে আপনার উপর প্রতি জুমাবার রোযা রাখা ওয়াজিব। কোনো কারণে জুমাবারে রোযা রাখা সম্ভব না হলে পরবর্তীতে অন্য কোনোদিন তা কাযা করে নিতে হবে। আর বিগত যে কয়দিনের রোযা ছুটেছে সেগুলোও কাযা করতে হবে। অবশ্য ভবিষ্যতে বার্ধক্য বা জটিল কোনো অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা সম্ভব না হলে এবং পরবর্তীতে কাযা করার সামর্থ্যও ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তখন প্রত্যেক রোযার জন্য একটি করে ফিদয়া দিতে হবে। ফিদয়া হলো, একজন দরিদ্রকে তৃপ্তি সহকারে দুইবেলা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার চাচাত ভাই নাবালেগ বয়সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল।...

প্রশ্ন

আমার চাচাত ভাই নাবালেগ বয়সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল। আবার নাবালেগ অবস্থায়ই টেলিভিশন দেখে ফেলে। এখন তার উপর কসমের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনার চাচাত ভাই যেহেতু নাবালেগ অবস্থায় কসম করেছে তাই তার উপর ঐ কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নাবালেগদের জন্যও নিজেদের অঙ্গিকার পুরা করা কাম্য। বিশেষ কসম করুক বা না করুক গুনাহের কাজ থেকে তো বেঁচে থাকা এমনিতেই জরুরী।

Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৪০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার বড় ভাই কিছুদিন আগে একটি সমস্যায় পড়ে মান্নত করেছিলেন,...

প্রশ্ন

আমার বড় ভাই কিছুদিন আগে একটি সমস্যায় পড়ে মান্নত করেছিলেন, যদি আল্লাহ আমার সমস্যা দূর করে দেন তাহলে আমি চিল্লায় বের হব। ভাইয়ার ঐ সমস্যাটা আল্লাহর রহমতে চলে গেছে। এখন জানতে চাচ্ছি, ভাইয়ার জন্য কি চল্লিশ দিনের চিল্লায় বের হওয়া আবশ্যক? বের না হলে কি গুনাহ হবে?

উত্তর

চিল্লায় বের হওয়ার মান্নত করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা মান্নত হয় না। অতএব আপনার ভাইয়ের জন্য চিল্লায় বের হওয়া আবশ্যক নয়। তবে সমস্যা না থাকলে এমন ইচ্ছা পূরণ করাই উচিত।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

চাকরি পাওয়ার জন্য কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি...

প্রশ্ন

চাকরি পাওয়ার জন্য কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি চাকরি পাওয়ার/ভবিষ্যতে কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বলে, আমি পঞ্চাশ হাজার অথবা এক লক্ষ টাকা মসজিদ/এতিমখানা অথবা কোনো গরীব মানুষকে দেব। তার এই কথা কি শরীয়তসম্মত হবে?

উত্তর

কোনো বৈধ বস্তু অর্জনের আশায় মান্নত করা জায়েয আছে। তাই চাকরি পাওয়ার আশায় মান্নত করা যাবে এবং চাকরি পেলে তা পূর্ণ করতে হবে।

তবে মান্নত সহীহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। সেসব শর্তের আলোকে মসজিদের জন্য মান্নত করা সহীহ নয়। তাই মসজিদের জন্য মান্নত করলে তা ওয়াজিব হয় না। তবে মান্নত না হলেও এ ধরনের ওয়াদা পূর্ণ করা উত্তম।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নতের চেয়ে নগদ দান-সদকার ফযীলত ও গুরুত্ব অনেক বেশি। সদকা দ্বারা আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হন। আর মান্নত শরীয়তসম্মত। তবে সদকার চেয়ে উত্তম নয়। হাদীসে আছে, মান্নত দ্বারা কৃপণের মাল বের হয়। অর্থাৎ মান্নত কৃপণ লোকের কাজ।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মান্নত এমন কোনো কিছুকে আদম সন্তানের নিকটবর্তী করে দিতে পারে না যা আল্লাহ তাআলা তার জন্য তাকদীরে নির্দিষ্ট করেননি। তবে মান্নত কখনো তাকদীরের সাথে মিলে যায়। এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে ঐ সম্পদ বের করে নিয়ে আসা হয় যা কৃপণ (এমনিতে) বের করতে চায় না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৪০

অতএব কাক্সিক্ষত বস্তু অর্জনের জন্য মানত করা জায়েয। তবে মানত করা ছাড়া সামর্থ্য অনুযায়ী পূর্বেই দান-খয়রাত করা অধিক উত্তম কাজ।

-সূরা হজ্ব ২৯; আলইখতিয়ার ৩/৪৪৫; আলমুগনী ১৩/৬২১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১, ৪/২২৮; মিনহাতুল খালিক ৪/২৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

একবার আমি একটি বিষয়ে আল্লাহ তাআলার নামে শপথ করে বলি...

প্রশ্ন

একবার আমি একটি বিষয়ে আল্লাহ তাআলার নামে শপথ করে বলি যে, আমি এ কাজ কখনো করব না। কিন্তু পরে আমি তা ভুলে যাই এবং কাজটি করে ফেলি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত কাজটি ভুলে করার দ্বারাও কি আমার কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে। কারণ কোনো বিষয় না করার শপথ করার পর ভুলে করার দ্বারাও কসম ভঙ্গ হয়ে যায়। তাই আপনাকে ঐ কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৪২৩; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮১; রদ্দুল মুহতার ৩/৭০৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একবার খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হলাম। তখন মানত করলাম...

প্রশ্ন

আমি একবার খুব জটিল রোগে আক্রান্ত হলাম। তখন মানত করলাম যে, আল্লাহ তাআলা যদি আমাকে সুস্থ করেন তাহলে আমি হজ্ব করব। তখন আমার আর্থিক অবস্থা এমন ছিল যে, আমার উপর হজ্ব ফরয। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি পৃথক দুটি হজ্ব করা জরুরি? নাকি শুধু ফরয হজ্ব আদায় করলেই হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ফরয হজ্ব আদায় করলেই চলবে। মানতের জন্য পৃথকভাবে আরেকটি হজ্ব আদায় করতে হবে না। অবশ্য আপনি যদি ফরয হজ্ব ছাড়াও ভিন্ন একটি মানতের হজ্ব করবেন বলে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ত করে থাকেন তবে মানতের জন্য পৃথক হজ্ব করতে হবে। এক্ষেত্রে ফরয হজ্ব দ্বারা মানতের হজ্ব আদায় হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯৩; ফাতহুল কাদীর ৩/৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক ব্যক্তি কসমের কাফফারা আদায় করবে। সে খাবারের মূল্য দিয়ে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি কসমের কাফফারা আদায় করবে। সে খাবারের মূল্য দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চায়। তার নিকটস্থ একজন গরীব ব্যক্তি আছে। তার ইচ্ছা, এই কাফফারার টাকাগুলো দশজনকে না দিয়ে শুধু ঐ গরীব ব্যক্তিকে দিয়ে দিবে। যদি এমনটি করে তবে কি তার কাফফারা আদায় হবে?

উত্তর

কসমের কাফফারার নিয়ম হল, দশজন মিসকিনের প্রত্যেককে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে দু’ বেলা খানা খাওয়ানো অথবা প্রত্যেককে এর মূল্য দেওয়া। কাফফারার পুরো টাকা একত্রে এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিলে তা আদায় হবে না; বরং পুরো টাকা একজনকে দিতে চাইলে প্রত্যেকের টাকা ভিন্নভাবে দশ দিনে দিতে হবে। একদিনেই কাফফারার পুরো টাকা একজনকে দিয়ে দিলে তা একদিনের বলে বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে বাকি নয়দিনের টাকা ভিন্নভাবে আবার আদায় করতে হবে। মোটকথা, পুরো টাকা একজনকে দিলে দশ দিনে দিতে হবে। আর দশজনকে দিলে একদিনেই দেওয়া যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/২৪৭; আলমাসূত, সারাখসী ৮/১৫৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক দরিদ্র ব্যক্তির ছেলে অসুস্থ হলে সে মান্নত করে, ছেলে...

প্রশ্ন

এক দরিদ্র ব্যক্তির ছেলে অসুস্থ হলে সে মান্নত করে, ছেলে সুস্থ হলে গরিব-মিসকিনদেরকে খাবার খাওয়াবে। কিছুদিন আগে তার ছেলে সুস্থ হয়েছে।

জানার বিষয় হল, তার জন্য কতজন গরিব-মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে? আর ঐ খাবার কি তার ছেলেকে খাওয়াতে পারবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির মান্নত পূরণের জন্য অন্তত দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে। তবে ঐ দশ জনের মাঝে ছেলেকে বা পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে গণ্য করা যাবে না। উল্লেখ্য, মান্নত আদায়ের জন্য মান্নতের খাবার ভিন্নভাবে রান্না করা জরুরী নয়। একই রান্না থেকে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা খেতে পারবে এবং দশজন মিসকিনকেও খাওয়াতে পারবে।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৩, ৩৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪২; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার...

প্রশ্ন

আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার রোযা এক নাগাড়ে দু মাস রাখতে হয়। মাঝখানে ছুটে গেলে তা আদায় হয় না। এখন জানার বিষয় হল, দু’মাস রোযা রাখার সময় মাঝখানে ঈদ বা আইয়ামে তাশরীক তথা রোযার জন্য নিষিদ্ধ দিন যদি চলে আসে এবং নিষেধ থাকার পরও রোযা রাখা হয় তাহলে কাফফারা আদায় হবে কি? এতে মাঝখানে বিরতি হয় না। কারণ আমরা আরেকটা মাসআলা জানি যে, কেউ যদি নিষিদ্ধ দিনে রোযার মান্নত করে তাহলে নিষেধাজ্ঞার পরও কেউ যদি রোযা রাখে তাহলে মান্নত পুরো হয়ে যায়। যদিও তাতে গুনাহ হয়। সে হিসেবে কাফফারাও আদায় হয়ে যাবে কি না? সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

কাফফারার রোযা এমন সময় শুরু করতে হবে যেন তার মধ্যে শাওয়ালের ১ তারিখ অথবা যিলহজ্বের ১০ থেকে ১৩ তারিখ-এ দিনগুলো না আসে। কাফফারা আদায়ের দু’মাসের ভেতর উক্ত নিষিদ্ধ দিন পড়লে সে দিনগুলোতে রোযা রাখলেও কাফফারা আদায় হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুনরায় নতুন করে লাগাতার দু মাস রোযা রাখতে হবে।

উল্লেখ্য যে, নিষিদ্ধ দিনসমূহে রোযা রাখার মান্নত সংক্রান্ত মাসআলার সাথে কাফফারার রোযার কোনো মিল নেই। উভয়ের মধ্যে মৌলিকভাবে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য দুটোর হুকুমও ভিন্ন।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১১৫১৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৪/১০৫, ২৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৪, ৩/৪৭৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমাদের এলাকায় একটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তা হল,...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তা হল, আমরা এতদিন জেনে এসেছি যে, ইস্তেঞ্জার সময় টুপি, রুমাল বা গামছা ইত্যাদি দ্বারা মাথা ঢেকে নেওয়া মুস্তাহাব। খালি মাথায় ইস্তেঞ্জায় যাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু আমাদের এলাকার এক আহলে হাদীস ভাই বললেন, খালি মাথায় পেশাব-পায়খানা করতে কোনো অসুবিধা নেই। এ সময় মাথা ঢেকে রাখতে হবে- এমন কথা ঠিক নয়। এ ধরনের কথা হাদীস-আসারে প্রমাণিত নয়।

আমি এ ব্যাপারে সঠিক নির্দেশনা জানতে চাই।

উত্তর

ওই ব্যক্তির কথা ঠিক নয়; বরং ইস্তেঞ্জার সময় মাথায় কোনো কাপড় রাখা উত্তম। একেবারে খালি মাথায় ইস্তেঞ্জায় যাওয়া ঠিক নয়। ইস্তেঞ্জার সময় কাপড় ইত্যাদি দ্বারা মাথা আবৃত করে রাখার কথা সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে প্রমাণিত।

যেমন : উরওয়া রাহ.তাঁর পিতা বিখ্যাত সাহাবী যুবায়ের রা. থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার আবু বকর সিদ্দীক রা. লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে গিয়ে বলেন, হে মুসলমান লোকসকল! তোমরা আল্লাহ তাআলার সাথে লজ্জা বজায় রাখ। ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই আমি যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের জন্য লোকালয় থেকে দূরে যাই তখন আমি আমার রবের থেকে লজ্জাবনত হয়ে মাথা ঢেকে নিই। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১১৩৩

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবার অন্য এক বর্ণনায় ইবনে তাউস রাহ. বলেন, আমি যখন ইস্তেঞ্জাখানায় প্রবেশ করতাম আমার পিতা আমাকে মাথা ঢেকে নিতে আদেশ করতেন। -হাদীস : ১১৪১

এছাড়াও সাহাবায়ে কেরাম যে স্বাভাবিকভাবেই ইস্তেঞ্জার সময় কাপড় দ্বারা মাথা আবৃত করে রাখতেন তা সহীহ বুখারীতে ইহুদী আবু রাফের হত্যা সম্পর্কিত বর্ণনা থেকেও বুঝা যায়। তা হল, সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আতীক রা. বলেন, আমি (তাকে হত্যার জন্য) দুর্গের অভ্যন্তরে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছিলাম। ঠিক সে মুহূর্তে দূর্গের কিছু লোক তাদের একটি গাধার খোঁজে লণ্ঠন নিয়ে দুর্গের বাইরে বের হল। তিনি বলেন, তখন আমার আশঙ্কা হল যে, তারা আমাকে চিনে ফেলবে। তাই আমি আমার মাথা ঢেকে নিলাম। যেন মনে হয় আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারছি। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪০৪০

সুতরাং ইস্তেঞ্জার সময় মাথা আবৃত করে নেয়ার ব্যাপারে আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর নিজ আমল, বিখ্যাত তাবেয়ী তাউস রাহ. কর্তৃক নিজ ছেলেকে আদেশ প্রদান এবং সহীহ বুখারীর বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে আতীক রা.-এর বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, ইস্তেঞ্জার সময় কাপড় ইত্যাদি দ্বারা মাথা আবৃত রাখা উত্তম কাজ। ফিকহবিদগণ এ সকল বর্ণনার ভিত্তিতেই ইস্তেঞ্জার সময় মাথা আবৃত রাখাকে ইস্তেঞ্জার আদব ও মুস্তাহাব গণ্য করেছেন এবং মাথা অনাবৃত রাখাকে অনুত্তম বলেছেন। তাই হাদীস ও আসারে এ বিষয়ে প্রমাণ নেই প্রশ্নের এ বক্তব্য সহীহ নয়। না জেনে এমন বলাটা অন্যায় হয়েছে।

-আস সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ১/৯৬; মুগনীল মুহতাজ ১/৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একবার মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাকে পুত্রসন্তান দান করেন...

প্রশ্ন

আমি একবার মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাকে পুত্রসন্তান দান করেন তাহলে দুটি গরু দিয়ে তার আকীকা করব। আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান দিয়েছেন। পরে আমি জানতে পেরেছি যে, ছেলেসন্তানের আকীকার জন্য দুটি ছাগলই যথেষ্ট। তাই জানার বিষয় হল, আমার জন্য দুটি গরু দিয়ে আকীকা করা কি জরুরি? নাকি দুটি ছাগল দিলেই মান্নত আদায় হয়ে যাবে?

উত্তর

আকীকা করার মান্নত করলে তা মান্নত হয় না। তাই গরু দ্বারা আকীকা করা অপরিহার্য হয়ে যায়নি। বরং ছাগল, দুম্বা ইত্যাদি পশু দ্বারাও আকীকা করা যাবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৫; ইমদাদুল আহকাম ৪/২০৬-৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমাদের দেশের সাধারণ লোকজন এভাবে কসম করে থাকে, আমি আল্লাহর...

প্রশ্ন

আমাদের দেশের সাধারণ লোকজন এভাবে কসম করে থাকে, আমি আল্লাহর কালাম কুরআন মাজীদের কসম করে বলছি, আমি অমুক কাজ করব না। অনেকে কুরআন শরীফ মাথায় নিয়ে বা হাতে স্পর্শ করে বলে, আমি কুরআন শরীফ মাথায় নিয়ে বা হাতে স্পর্শ করে বলছি, আমি অমুক কাজ করব না। হুযুরের কাছে জানতে চাই, কুরআন শরীফের কসম করা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন? উপরোক্ত বাক্যগুলো দ্বারা কসম করলে কি তা সংঘটিত হবে? হলে সেক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর

কুরআন শরীফের কসম করা জায়েয নয়। হযরত সাহাম ইবনে মিনজাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন শরীফের কোন একটি সূরার কসম করবে সে ঐ সূরার প্রত্যেকটি আয়াতের বদলায় একটি করে গুনাহ নিয়ে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস ১২৩৬০ অবশ্য নাজায়েয হলেও কেউ যদি বলে, আমি কুরআন শরীফের কসম করে বলছি, তাহলে এর দ্বারা কসম সংঘটিত হয়ে যাবে। এ শপথ ভঙ্গ করলে কাফফারাও ওয়াজিব হবে। আর যদি কসম শব্দ না বলে শুধু বলে যে, কুরআন শরীফ ছুঁয়ে কিংবা মাথায় নিয়ে বলছি, তবে এর দ্বারা কসম সংঘটিত হবে না।

-ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৩; ইমদাদুল আহকাম ৩/৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

বর্তমানে এক ধরণের পায়জামার প্রচলন রয়েছে যা অত্যন্ত টাইটফিট ও...

প্রশ্ন

বর্তমানে এক ধরণের পায়জামার প্রচলন রয়েছে যা অত্যন্ত টাইটফিট ও আঁটসাঁট হওয়ার কারণে শরীরের সাথে একেবারে লেগে থাকে। যা চূস পায়জামা নামে পরিচিত। পুরুষ বা মহিলার জন্য এ ধরনের পায়জামা পরা জায়েয কি না জানাবেন।

উত্তর

পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে শরীয়তের একটি মূলনীতি হল, পোশাক এমন হতে হবে যার দ্বারা সতর পূর্ণভাবে আবৃত হয়ে যায়। যা পরিধান করলে শরীরের আকার আকৃতি বাহির থেকে ফুটে উঠে না। পোশাক এমন পাতলা বা আঁটসাঁট না হতে হবে যা পরলে সতরের রঙ বা আকৃতি বাহির থেকে বুঝা যায়।

হাদীস শরীফে এ ধরনের আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধানকারীদের প্রতি কঠোর ধমকি ও অভিসম্পাত এসেছে।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : দুই শ্রেণীর জাহান্নামীকে আমি দেখিনি, (অর্থাৎ পরবর্তী যুগে এদের সন্ধান পাওয়া যাবে) এক শ্রেণী ঐ সকল মানুষ যাদের সাথে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে, যার দ্বারা তারা মানুষকে প্রহার করবে। দ্বিতীয় শ্রেণী হল ঐ সকল নারী যারা পোশাক পরিহিতা হয়েও উলঙ্গ (কেননা তারা এমন পোশাক পরবে যার দ্বারা সতর পূর্ণরূপে ঢাকা হয় না। পাতলা হওয়ার কারণে সতরের আকৃতি ফুটে উঠে।) যারা নিজে গুনাহর দিকে ধাবিত এবং অন্যকেও অশ্লীলতার প্রতি আকৃষ্ট করে। তাদের মাথা হবে লম্বা গর্দান বিশিষ্ট উটের হেলে পড়া কুঁজের ন্যায়। (অর্থাৎ তারা চুল কিংবা কৃত্রিম কোনো বস্তু মাথায় পেঁচাবে। যার ফলে তাদের মস্তক ফুলে থাকবে) এরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এমনকি জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের ঘ্রাণ অনেক অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১২৮; শরহে নববী ১৪/১১০

উসামা ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দিহয়া কালবী রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে কাপড় হাদিয়া দিয়েছেন সেগুলোর মধ্য থেকে একটি মোটা কুবতী কাপড় (যা খুব নরম হয়ে থাকে) তিনি আমাকে পরিধান করার জন্য দেন। আমি কাপড়টি আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, কী ব্যাপার, তুমি কুবতী কাপড়টি পরিধান করনি কেন? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তা আমার স্ত্রীকে পরতে দিয়েছি। তখন তিনি আমাকে বললেন, তুমি তাকে নির্দেশ দাও সে যেন এর নিচে আরেকটা কাপড় পরে নেয়। কারণ, আমার ভয় হচ্ছে যে, ঐ কাপড়টি তার হাড়ের আকৃতি বর্ণনা করবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২১৭৮৬

উল্লেখিত বর্ণনাগুলো থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, এমন পোশাক পরা যাবে না যার দ্বারা সতর যথাযথভাবে আবৃত হয় না বা যা পরার পরও সতরের আকৃতি বুঝা যায়।

অতএব প্রশ্নোক্ত পায়জামা যেহেতু আঁটসাঁট হওয়ার কারণে তা পরলে সতরের আকৃতি বাহির থেকে ফুটে উঠে। তাই এটিও হাদীসের নিষিদ্ধ পোশাকেরই অন্তর্ভুক্ত। অতএব এ ধরনের পায়জামার উপর কিছু না পরে তা পরা যাবে না।

অবশ্য কেউ যদি ঐ পায়জামার উপর এমন লম্বা জামা পরে নেয় যার দ্বারা সতরের অংশ ঢেকে থাকে এবং চলাফেরা উঠাবসার সময় সতরের অবস্থা প্রকাশ না পায় তবে তা পরতে পারবে।

উল্লেখ্য, এ ধরনের পায়জামার আরেকটি সমস্যা হল তা সাধারণত টাখনু গিরার নিচ পর্যন্ত পরা হয়। অথচ পুরুষের জন্য টাখনু গিরা আবৃত করে জামা বা পায়জামা পরা নাজায়েয। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে কঠোর ধমকি এসেছে।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, টাখনু গিরার নিচের যে অংশ ইযার (পায়জামা বা লুঙ্গি) দ্বারা আবৃত থাকবে তা জাহান্নামে যাবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৭৮৭

আবু যর গিফারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ...

১.টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পরিধানকারী

২.কারো উপর অনুগ্রহ করে খোঁটা দানকারী

৩.মিথ্যা কসম করে পণ্য বিক্রয়কারী। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৭১

সুতরাং টাখনু গিরা আবৃত করে এমন পায়জামা বা পোশাক পরিধান করা থেকেও পুরুষের জন্য বিরত থাকা জরুরি।

-তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/২০০; মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীস ৮৬১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

কয়েক সপ্তাহ আগে আমার ছোট ছেলে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হলে...

প্রশ্ন

কয়েক সপ্তাহ আগে আমার ছোট ছেলে জন্ডিস রোগে আক্রান্ত হলে আমি মান্নত করি আমার ছেলে সুস্থ হলে এক খতম কুরআন শরীফ পড়ব। হুজুরের কাছে জানতে চাই এমতাবস্থায় কি এক খতম কুরআন শরীফ পড়া আমার উপর ওয়াজিব?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছেলে সুস্থ হলে এক খতম কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করা ওয়াজিব হবে।

-রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৮; বেহেশতী যেওর ৩/২৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে...

প্রশ্ন

আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছি যে, আমার ছেলের পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলে আমার এ ছাগলটি আমাদের মাদরাসার গরীব ছাত্রদের জন্য দান করব। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি উক্ত ছাগলের পরিবর্তে তার মূল্য সদকা করা জায়েয হবে? আর এ মাদরাসা ছাড়া অন্য কোনো মাদরাসায় দান করলে কি মান্নত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ছাগলের মূল্য সদকা করলেও মান্নত আদায় হয়ে যাবে। আর তা অন্য মাদরাসাতেও দান করা যাবে। তবে যে মাদরাসায় দেওয়ার জন্য মান্নত করা হয়েছিল সেখানে দেওয়াই উত্তম হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৫-৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন তাহলে যতদিন বেঁচে থাকবে প্রতিদিন দুই রাকাত করে শোকরিয়ার নামায আদায় করবে। পরবর্তীতে আল্লাহর মেহেরবানিতে লোকটি আরোগ্য লাভ করে। প্রশ্ন হল, এখন কি তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত শোকরিয়ার নামায পড়তে হবে, নাকি এর পরিবর্তে কাফফারা দিলেই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত মান্নত সহীহ হয়েছে। তাই তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত করে নামায আদায় করতে হবে। নামায আদায়ের সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত তাকে নামাযই পড়তে হবে। সামর্থ্য থাকলে নামায না পড়ে এর পরিবর্তে কাফফারা দেওয়া যাবে না। প্রকাশ থাকে যে, এমন বিষয়ের মান্নত করা উচিত, যা পরবর্তীতে সহজে পূর্ণ করা যায়। পরবর্তীতে আদায় করা কষ্টকর হয়-এমন মান্নত করা উচিত নয়।

-আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১-২৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; হেদায়া ৪/৩৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছিল, তার অসুস্থ মা সুস্থ হলে দশজন...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছিল, তার অসুস্থ মা সুস্থ হলে দশজন ফকিরকে দাওয়াত করে খাওয়াবে। আল্লাহ তার মাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল, তাকে কি দশজন ফকিরকেই খাওয়াতে হবে, নাকি খুব ভাল করে চার-পাঁচজনকে এক বেলা খাওয়ালেই চলবে?

উত্তর

ঐ ব্যক্তি যেহেতু দশজন ফকিরকে খাওয়ানোর মান্নত করেছে, তাই দশজন ফকিরকে এক বেলা খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচজনকে এক বেলা ভালভাবে খাওয়ালে মান্নত আদায় হবে না। তবে হ্যাঁ, পাঁচজনকে দুই বেলা খাওয়ালে মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার উপর তিনটি কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। এখন আমাকে কি...

প্রশ্ন

আমার উপর তিনটি কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। এখন আমাকে কি প্রত্যেক কসমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন করে কাফফারা আদায় করতে হবে? নাকি সবগুলোর জন্য একটি কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে? আর এক কাফফারার জন্য দশ মিসকিনকে না খাইয়ে যদি এক মিসকিনকে দশদিন খাওয়ানো হয় তাহলে কি কাফফারা আদায় হবে?

উত্তর

যতবার কসম ভঙ্গ হয়েছে প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন করে কাফফারা দিতে হবে। একাধিক কসম ভঙ্গের জন্য একটি কাফফারা যথেষ্ট নয়। আর একবার কসম ভঙ্গের জন্য এক মিসকিনকে দশদিন দুবেলা খাওয়ালেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে।

আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/৩০৩; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৪ -তাকরীরাতে রাফেয়ী ৩/১৩;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

একবার একটি কাজ পূর্ণ হওয়ার জন্য আমি এই বলে মান্নত...

প্রশ্ন

একবার একটি কাজ পূর্ণ হওয়ার জন্য আমি এই বলে মান্নত করলাম। যদি আমি এই কাজে সফল হই তাহলে শাহজালাল রাহ.-এর দরগাহ মসজিদে ২০ রাকাত নামায পড়ব। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমার সেই কাজ পূর্ণ হয়েছে। বর্তমানে আমি ঢাকায় থাকি। মান্নত পূর্ণ করার জন্য কি আমাকে সিলেট দরগাহ মসজিদেই যেতে হবে? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী?

উত্তর

কোনো নির্দিষ্ট স্থানে নামায আদায়ের মানত করলে সেই স্থানে নামায পড়া জরুরি হয়ে যায় না। বরং অন্য যে কোনো স্থানে নামায পড়ে নিলেও মান্নত আদায় হয়ে যায়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মান্নত আদায়ের জন্য সিলেট দরগাহ মসজিদে না গিয়ে অন্য কোনো মসজিদে মান্নত আদায়ের নিয়তে ২০ রাকাত নামায পড়ে নিলেই মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

উলেস্নখ্য, মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং মসজিতে আকসা- এ তিন মসজিদ ছাড়া সকল মসজিদ সমান মর্যাদাসম্পন্ন। কোনো মসজিদের কাছে কোনো বুযুর্গের কবর থাকার কারণে তার ফযীলত কোনোভাবেই বৃদ্ধি পায় না। তাই এ ধারণা নিয়ে কোনো মসজিদে নামায পড়ার মান্নত করা বা ঐ মসজিদের জন্য কোনো মান্নত করা বিদআতের শামীল। আর কোনো মাযারের জন্য মান্নত করা তো সম্পূর্ণ হারাম।

- রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪১; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য কি রোযা রাখা শর্ত? শর্ত হলে...

প্রশ্ন

মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য কি রোযা রাখা শর্ত? শর্ত হলে আমি দুদিন ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম অন্যদিকে আমার উপর গত রমযানের দুটি কাযা রোযাও রয়েছে। এ অবস্থায় আমি কি ঐ কাযা রোযা দুটি আদায়ের সাথে আমার মানতের ইতিকাফ আদায় করতে পারব?

উত্তর

ইতিকাফের মানত করলে রোযাসহ ইতিকাফ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য স্বতন্ত্র্য রোযা রাখা আবশ্যক। এক্ষেত্রে পূর্বের কাযা রোযার নিয়ত করা সহীহ নয়।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে ঐ দুই দিনের ইতিকাফ স্বতন্ত্র্য রোযাসহ আদায় করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৭১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪২-৪৪৩; কিতাবুল আছল ২/১৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

আমাদের বাড়ির পাশে একটি ছোট হেফযখানা আছে। ছাত্র সংখ্যা প্রায়...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি ছোট হেফযখানা আছে। ছাত্র সংখ্যা প্রায় ৬০ জনের কাছাকাছি। কিছুদিন আগে আমি এক বিষয়ে ঐ মাদরাসার সকল ছাত্রকে একবেলা খাওয়ানোর মানত করেছিলাম। পরবর্তীতে আমার উদ্দেশ্য হাসিল হলে আমি মুহতামিম সাহেবের সাথে আলোচনা করলাম। তিনি বললেন, এখানে একজন অসহায় ছাত্র আছে। সকলকে এক বেলা খাওয়ানোর পরিবর্তে আপনি তার এক মাসের খানার খরচ দিয়ে দিন। এটা বেশি ভালো হবে। জানতে চাই, এক্ষেত্রে একজনের জন্য এক মাসের খানার ব্যবস্থা করলে আমার মানত আদায় হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ষাটজনকে খাওয়াতে যে পরিমাণ টাকা লাগবে তা একজনকে দিয়ে দিলেও আপনার মানত আদায় হয়ে যাবে।

-রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/২৭১; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

কিছুদিন আগে আমার পিতা মাদরাসায় একটি গরু দেওয়ার মানত করেন।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার পিতা মাদরাসায় একটি গরু দেওয়ার মানত করেন। বর্তমানে আমাদের একটি গরু আছে, যার বয়স দুই বছর থেকে সামান্য কম। এ গরু দান করলে আমার পিতার মানত আদায় হবে কি?

উত্তর

নির্দিষ্ট গরু সদকা করার মানত না করলে সেক্ষেত্রে মানত আদায়ের জন্য গরুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। দুই বছরের কম বয়সী গরু সদকা করলে তা দ্বারা মানত আদায় হবে না। তাই আপনাদের ঐ গরু দ্বারা দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মানত আদায় করা যাবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৩৩; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৪০; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক ব্যক্তি দুপুরে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে এসে দেখে যে, দুপুরের...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি দুপুরে কর্মস্থল থেকে বাড়িতে এসে দেখে যে, দুপুরের খাবার রান্না হয়নি। এতে সে স্ত্রীকে রাগ করে বলে যে, ‘তোমার রান্না আর খামু না। যদি তোমার হাতের খানা খাই তাহলে হারাম খাই।’

পরবর্তীতে স্বামী তার ঐ কথার জন্য অনুতপ্ত হয়েছে এবং স্ত্রীর হাতের রান্নাই খাচ্ছে। এটা জানতে পেরে এক ব্যক্তি স্বামীকে বলল, তোমার উক্ত কথার দ্বারা কসম হয়েছিল? জানতে চাই, কসম হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী?

উত্তর

যদি তোমার হাতের খানা খাই তাহলে হারাম খাই-এ কথার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়েছে। এরপর স্বামী স্ত্রীর হাতের রান্না খাওয়ার দ্বারা তার কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে। এ কারণে তার উপর কসম ভঙ্গের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে।

তাই কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দু বেলা তৃপ্তিসহকারে খানা খাওয়াতে হবে। অথবা প্রত্যেককে এক জোড়া করে বস্ত্র দিতে হবে। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) সুতরাং কসমের (ভঙ্গের) কাফফারা হল দশজন মিসকীনকে মধ্যম ধরনের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা তোমাদের পরিবারবর্গকে খাইয়ে থাক, অথবা দশজন মিসকীনকে বস্ত্র প্রদান করা, অথবা গোলাম আযাদ করা।-সূরা মায়েদা : ৮৯

তবে কারো পক্ষে এ তিন পদ্ধতির কোনোটি দ্বারা কাফফারা আদায় করা সম্ভব না হলে তার কর্তব্য হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে তিন দিন রোযা রাখা। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) তবে যে (উপরোল্লেখিত তিনটির কোনোটিরই) সমার্থ্য না রাখে তার করণীয় হচ্ছে তিনদিন (ধারাবাহিক) রোযা রাখা। এটা তোমাদের কসম ভঙ্গের কাফফারা, যখন তোমরা কসম করবে (এবং পরে তা ভেঙ্গে ফেলবে)।

-সূরা মায়িদা : ৮৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭২; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৯; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৪৬১; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩৯৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৪৩০-৪৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক লোকের দুটি ছেলে আছে। দুজনেরই ভিন্ন ভিন্ন সংসার। বাবা-মাও...

প্রশ্ন

এক লোকের দুটি ছেলে আছে। দুজনেরই ভিন্ন ভিন্ন সংসার। বাবা-মাও ছেলেদের থেকে আলাদা থাকেন। দু ছেলের উপার্জন থেকে বাবামাকে কিছু কিছু দেওয়া হয়। এতে তাদের সংসার চলে।

একদিন বাবা বড় ছেলের সাথে ঝগড়া লেগে প্রচন্ড রাগের মাথায় বলে ফেলে, আমি আর তোর কামাই খাব না। তোর কামাই আমার জন্য হারাম।

কয়েকদিন পর প্রতিবেশী লোকজন বাবা-ছেলের মাঝে মিল-মীমাংসা করে দেয়। এখন বাবা ঐ ছেলের উপার্জনও গ্রহণ করে। প্রশ্ন হল, বাবার ঐ কথা বলার কারণে কি কসম হয়ে গেছে? আর এখন তার উপার্জন গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা হবে কি?

উত্তর

‘তোর কামাই আমার জন্য হারাম’-এ কথার দ্বারা কসম সংঘটিত হয়েছে। সুতরাং এরপর বাবা ঐ ছেলের উপার্জন গ্রহণ করার দ্বারা কসম ভঙ্গ হয়ে গেছে। অতএব তাকে এর কাফফারা দিতে হবে। কাফফারা হল, দশজন মিসকীনকে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে খাবার খাওয়ানো বা প্রত্যেককে এক জোড়া করে বস্ত্র দেওয়া। আর তাতে সক্ষম না হলে লাগাতার তিনটি রোযা রাখা।

-সূরা মায়েদা : ৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২৫, ৭২৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

এক মহিলা কোনো কারণে মান্নত করেছিল যে, আগামী সপ্তাহে রোযা...

প্রশ্ন

এক মহিলা কোনো কারণে মান্নত করেছিল যে, আগামী সপ্তাহে রোযা রাখবে। কিন্তু ঘটনাক্রমে ঐ সপ্তাহের শেষ দিকে তার মাসিক এসে যায়। যার কারণে শেষের দুই দিন সে রোযা রাখতে পারেনি। এখন তার করণীয় কী? সে ঐ মান্নত কীভাবে পূর্ণ করবে?

উত্তর

উক্ত মহিলা পবিত্র হওয়ার পর ঐ রোযাটি রেখে নিবে। এতে তার মান্নত পুরা হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৬৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি তার ছেলে সন্তান হলে একটি গরু আকীকা করার...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তার ছেলে সন্তান হলে একটি গরু আকীকা করার মানত করেছে। এখন তার ছেলেসন্তান হয়েছে। তার জন্য উক্ত মানত পূর্ণ করা কি জরুরি? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তার জন্য গরু দ্বারা আকীকা করা জরুরি নয়। কেননা আকীকার মানত করলে তা মানত হয় না এবং তা পূরণ করা ওয়াজিব হয় না। আকীকা করা মুস্তাহাব। ছেলেসন্তানের জন্য দুটি ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকীকা করা উত্তম। অবশ্য কেউ যদি ছেলের জন্য একটি ছাগলও জবাই করে তবুও আকীকা আদায় হয়ে যাবে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. ছেলেসন্তানের জন্য একটি ছাগল দ্বারা আকীকা করেছেন। (মুয়াত্তা, ইমাম মালেক, পৃষ্ঠা : ৪০৯)

আর যদি কেউ ছাগল ছাড়া অন্য কোনো পশু দ্বারা আকীকা করতে চায় তাও জায়েয আছে। হাসান রাহ. থেকে বর্ণিত আনাস রা. সন্তানের আকীকা উট দ্বারা করেছেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৪৭৫৫; ইলাউস সুনান ১৭/১০৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৯৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮১; ইমদাদুল আহকাম ৪/২০৭; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৬৯৬; উমদাতুল কারী ২৩/২০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.