Login | Register

ফতোয়া: কসম-মান্নত

ফতোয়া নং: ৪৮৫৩
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

মাজারে বা পীর মুর্শীদের নামে মান্নত করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার বড় আপু কোন এক কারণে কিছুদিন আগে মান্নত করেছিল যে, তার উদ্দেশ্যে পুরন হলে মাজারে একটি ছাগল দিবে ৷ তাই জানার বিষয় হলো, তার উক্ত মান্নত পুরনের বিধান কি? জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
মাজারে কিংবা মৃত বা জীবীত পীর মুর্শীদ বা আল্লাহর ওলী কিংবা নবী রাসূল যেই হোক না কেন একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কারো নামে মান্নত করা জায়েয নেই ৷ সম্পুর্ন হারাম। এবং সুষ্পষ্ট শিরকের শামিল।
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বোনের মান্নত সহিহ হয়নি বিধায় তা পালন করতে হবে না ৷
-রদ্দুল মুহতার-২/৪৩৯ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৮
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: কসম-মান্নত

গরুর পেশাব পাক না নাপাক !

প্রশ্ন
একজন আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ মাসআলার জবাব দিতে গিয়ে বলেছেন গরুর " প্রস্রাব "পাক "এবং গরুর প্রস্রাব সহ নামাজ পড়লে নামাজ হবে। এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান কি? রেফারেন্স দিয়ে জানালে আমি এবং সবাই খুবই উপকৃত হতাম ৷ শুকরিয়া।
উত্তর
যে সকল প্রাণীর গোশত খাওয়া জায়েজ সে সকল প্রাণীর পেশাব পাক না নাপাক এ বিষয়ে হাদীসের মাঝে ভিন্নতা থাকার কারণে ইমামদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে গ্রহনযুগ্য ফতওয়া ও শক্তিশালী মত হল এসকল প্রানীর পেশাব পাক নয়, নাপাক।
এর স্বপক্ষের দলিল হল-
হযরত আবু হুরায়রা রা.থেকে বর্ণিত তিনি বলেন রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, কবরের অধিকাংশ আযাবই পেশাব এর কারণে হয়ে থাকে।
মুস্তাদরাকে হাকেম হাদীস নং ৬৫৩ ৷
হযরত আবু উমামা রা.থেকে বর্ণিত তিনি রাসূল সাঃ থেকে ইরশাদ করেছেন, “তোমরা পেশাব থেকে বেচে থাক। কেননা কবরে সর্বপ্রথম এ বিষয়ে হিসাব নেওয়া হবে।”
মাজমাউয যাওয়ায়েদ ১/২০৯ হাদীস নং ১০৩৪৷
অন্য আরেকটি বর্ননায় এসেছে হযরত আবু হুরায়রা রা. রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইরশাদ করেছেন, তোমরা পেশাব থেকে পবিত্র থাক বা বেচে থাক। কেননা কবরের অধিকাংশ আযাবই পেশাব থেকে না বাচার কারণে হবে। সহীহ ইবনে খুযায়মা ৷
এসব হাদীসে যে পেশাবের কথা বলা হয়েছে তা কোন নির্দিষ্ট প্রানীর কথা বলা হয়নি বরং ব্যাপক অর্থে এসেছে। চাই মানুষ হোক বা মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণী হোক , গোশত খাওয়া বৈধ এমন প্রাণীর পেশাব হোক বা গোশত খাওয়া বৈধ নয় এমন প্রাণীর পেশাব হোক সবই এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভোভূক্ত।
হযরত ইবনে উমর রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাঃ জাল্লালা প্রাণীর গোশত ও দুধ খেতে নিষেধ করেছেন।
তিরমীযী হাদীস নং ১৮২৪
জাল্লালা হলো, যে সকল প্রাণী নাপাকী, বিষ্ঠা ইত্যাদি খায়। সুতরাং এ হাদীসটি গোশত খাওয়া বৈধ এমন প্রাণীর বর্জ্য নাপাক হওয়া প্রমাণিত হয়। কেননা শরীয়াত জাল্লালা প্রাণীর গোশত ও দুধ খেতে নিষেধ করেছে। আর জাল্লালা হলো যে সকল উট বকরী ও অন্যান্য প্রাণী যারা বিষ্ঠা খায়।
যেহেতু উট, বকরী বিষ্ঠা খেলে তাদের দুধ ও ঘাম দুর্গন্ধ হয়ে যায়। যদি এ সকল বর্জ্য ও বিষ্ঠা পাক হয় তাহলে এ সকল প্রাণীর গোশত ও দুধ খেতে নিষেধ করা হবে
কেন? অতএব বুঝা গেল এ সকল প্রাণীর বর্জ্য নাপাক। এবং গোশত খাওয়া বৈধ এমন প্রানীর পেশাবও নাপাক, গরুর পেশাবও নাপাক ।
ইলাউস সুনান ১/৪১২-৪১৭৷ আদদুররুল মুখতার ১/ ২৯৬ ৷
এছাড়া যুক্তিও গরুর পেশাব নাপাক হওয়ার দাবী রাখে।
কারন মানুষের গোশত পাক। কিন্তু মানুষের রক্ত নাপাক, এজন্যই মানুষের পেশাবও নাপাক। ঠিক তেমনি গরুর গোস্ত সর্বসম্মতিক্রমে পাক ৷ কিন্তু তার রক্ত নাপাক৷ সুতরাং তার পেশাবও নাপাক হবে। কারণ তার রক্ত নাপাক। যেমনভাবে মানুষের রক্ত নাপাক তাই তার পেশাবও নাপাক।
আপনি তথাকথিত আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ সাহেবের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, তিনি বলেন গরুর পেশাব পাক ৷ আপনি তাকে আদবের সাথে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, গরুর পেশাব পাক এ মর্মে তিনি কোনধরনের কিয়াসের আশ্রয় ছাড়া কোন সহীহ হাদীস দেখাতে পারবেন কি? তিনি তো শরীয়তে কিয়াস মানতে চান না বরং কিয়াস নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ ও উপহাস করেন।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৭৯
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলে সেই বউ তিন তালাক" বললে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমার একটি মেয়ের সাথে অনেকদিন যাবত সম্পর্ক ছিল৷ মেয়েটি আমাকে কথা দিয়েছিল সে আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না ৷ আমিও বলেছিলাম আমি তাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না ৷ এক পর্যায়ে একথাও বলে ফেলি, আমি যদি তোমাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করি সে তিন তালাক ৷ এর ছ'মাস পর মেয়েটির বিয়ে হয়ে যায় অন্য জায়গায় ৷ তার পরিবার তাকে অন্য জায়গায় জোর করে বিয়ে দেয়৷ এখন আমার জানার বিষয় হলো আমি যে বলেছি তাকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করলে সে তিন তালাক, এখন কি আমি অন্য কাউকে বিয়ে করলে তিন তালাক হয়ে যাবে? এখন আমার করনীয় কি? জানালে খুব উপকৃত হবো ৷
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনি অন্য মেয়েকে বিয়ে করার পর তিন তালাকের সম্বন্ধ করার কারনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করলেই স্ত্রী তিন তালাক হয়ে যাবে।
তা থেকে বাঁচার একটি পদ্ধতি রয়েছে , তা হলো আপনাকে কিছু না বলে তৃতীয় কোন ব্যক্তি পছন্দমত পাত্রীর কাছে গিয়ে দু'জন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম শাক্ষীর সামনে বলবে যে, “আমি এত টাকা মোহরের বিনিময়ে অমুক ব্যক্তির সাথে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম”। তখন মেয়ে উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবে। অতপর বিয়ে সম্পাদনকারী তৃতীয় ব্যক্তি আপনার কাছে এসে বলবে যে, আমি তোমার বিবাহ ওমুক মেয়ের সাথে এত টাকা মোহরের বিনিময়ে দিয়েছি। সুতরাং তুমি কিছু মোহর প্রদান কর। তখন আপনি কোন কথা বলে কিছু মোহর প্রদান করবেন। যা তৃতীয় ব্যক্তিটি মেয়েকে প্রদান করবে, এতে করে বিবাহ পূর্ণ হয়ে যাবে। সেই সাথে কসমও ভঙ্গ হবে না।
রদ্দুল মুহতার ৫/ ৬৭২; মাজমাউল আনহুর ২/৫৯; ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৪১৯; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-১৯/১৯৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৭৬
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

প্রতি শুক্রবার রোজা রাখার মান্নত করে পরবর্তিতে কোন কারনে না রাখতে পারলে করনীয় ৷

প্রশ্ন
আমি বহু দিন যাবৎ বিয়ে করার জন্য মেয়ে খুজছিলাম, কিন্তু পছন্দমত পাচ্ছিলাম না ৷ এক পর্যায়ে একটি মেয়ে কে পছন্দ হয় ৷ কিন্তু মেয়ে পক্ষ বিয়ে দিতে তেমন আগ্রহী নয় ৷ আমারো মেয়েটি কে অনেক পছন্দ হয় কিন্তু মেয়ে পক্ষের অনাগ্রহের কারনে আমার খুব কষ্ট হচ্ছিল ৷ তখন আমি এই বলে মান্নত করি যে, যদি এই মেয়েটার সঙ্গে আমার বিয়ে হয় তাহলে আমি প্রতি শুক্রবার রোযা রাখবো। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে ঐ মেয়েটির সঙ্গে বিয়ে আমার হয়ে যায়। তাই আমি প্রত্যেক শুক্রবার রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার বিভিন্ন ঝামেলা অনেক বেড়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে শুক্রবার রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। আপনার নিকট আমার জানার বিষয় হলো, রোযা না রাখতে পারলে আমার করণীয় কী? এবং ছুটে যাওয়া রোজার হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত সুরতে আপনার মান্নত সহীহ হওয়া কারণে আপনার উপর প্রতি শুক্রবার রোযা রাখা ওয়াজিব হয়ে গেছে । কোনো কারণে শুক্রবারে রোযা রাখা সম্ভব না হলে পরবর্তীতে অন্য কোনোদিন তা কাযা করে নিতে হবে। আর ছুটে যাওয়া রোজাগুলোও কাযা করতে হবে। তবে ভবিষ্যতে বার্ধক্য বা জটিল কোনো অসুস্থতার কারণে রোযা রাখা সম্ভব না হলে এবং পরবর্তীতে কাযা করার সামর্থ্যও ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে তখন প্রত্যেক রোযার জন্য একটি করে ফিদয়া দিতে হবে। ফিদয়া হলো, একজন দরিদ্রকে তৃপ্তি সহকারে দুইবেলা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া।
খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৭৪
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

কুরআন শরীফের নামে কসম খাওয়া ৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলল যে, আমি ... একাজটা অবশ্যই করবো। কিন্তু পরে সে আর ঐ কাজটা করতে পারেনি। জানার বিষয় হলো,
তার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছিল? এখন তার করণীয় কি?
উত্তর
জ্বী হাঁ, প্রশ্নে বর্নিত সূরতে জৈনক ব্যক্তির কসম সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে ঐ কাজটি না করার কারণে তার কসমটি ভঙ্গ হয়েছে। এখন তার জন্য আবশ্যক হলো, কসম ভঙ্গের কাফ্ফারা আদায় করা। কসমের কাফ্ফারা হলো, দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে দুইবেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া। অথবা দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে এক জোড়া করে পোশাক দেওয়া। আর যদি এর কোনেটির সামর্থ্য না রাখে তাহলে সে লাগাতার তিনটি রোযা রাখবে।
উল্লেখ্য যে, আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কোনো কিছুর কসম করা নিষেধ। তাই কেউ কসম করতে চাইলে আল্লাহর নামেই কসম করবে ।
সুরা মায়েদা : ৮৯; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৮৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ২/৫৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৬০৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

গরু-ছাগল সদকার মান্নত করার পর তার মূল্য পরিশোধ করা৷

প্রশ্ন
কেউ যদি এই বলে মান্নত করে যে, যদি সে সুস্থ্য হয়, তাহলে উক্ত গরু বা ছাগলটি দান করে দিবে। এখন সুস্থ্য হওয়ার পর তার বদলে যদি মূল্য দান করে, তাহলে তার মান্নত পূর্ণ হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, উক্ত ছাগলের মূল্য পরিশোধ করেলেও তার মান্নত পূর্ণ হবে। এবং ছাগলও সদকা করতে পারে। এমনি
দলিলঃ
ফতওয়ায়ে খানিয়া আলা হামেশে হিন্দিয়া ১/৬৯; তাতারখানিয়া ৫/৪১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

মাযারে যাওয়া বা মাযারে শিররি দেওয়ার মান্নত৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল। তখন সে মান্নত করল যে, যদি ছেলে পাওয়া যায় তাহলে আজমীর শরীফ যাবে ও মাযারে শিরনি দিবে। তার এই মান্নত সহীহ হয়েছে কি
না?
উত্তর
না, মান্নত হয়নি; বরং এমন নিয়ত করা গুনাহ হয়েছে। কারণ কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হলে মাযারে যাওয়ার নিয়ত করা, সেখানে শিরনি দেওয়া ইত্যাদি শিরক ও কঠোর গুনাহর কাজ। মান্নত শুধু আল্লাহ তাআলার নামেই করা যায়। কোনো মাযার বা পীরের নামে মান্নত করা শিরক। তাই কেউ এমন নিয়ত করলেও তা পালন করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরন্তু উক্ত নিয়তের কারণে তওবা- ইস্তেগফার করা জরুরি। -সহীহ বুখারী ২/৯৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪০
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

এক দরিদ্র ব্যক্তির ছেলে অসুস্থ হলে সে মান্নত করে ,...

প্রশ্ন
এক দরিদ্র ব্যক্তির ছেলে অসুস্থ হলে সে মান্নত করে , ছেলে সুস্থ হলে গরিব-
মিসকিনদেরকে খাবার খাওয়াবে। কিছুদিন
আগে তার ছেলে সুস্থ হয়েছে।
জানার বিষয় হল , তার জন্য কতজন গরিব-
মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে? আর ঐ খাবার
কি তার ছেলেকে খাওয়াতে পারবে ?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির মান্নত পূরণের জন্য অন্তত দশজন মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে। তবে ঐ দশ জনের মাঝে ছেলেকে বা পরিবারের অন্য কোনো
সদস্যকে গণ্য করা যাবে না। উল্লেখ্য , মান্নত
আদায়ের জন্য মান্নতের খাবার ভিন্নভাবে রান্না
করা জরুরী নয়। একই রান্না থেকে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা খেতে পারবে এবং দশজন মিসকিনকেও খাওয়াতে পারবে। আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৩, ৩৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪২; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক দরিদ্র মহিলা কসমের কাফফারা হিসাবে তিন দিন রোযা রাখে।...

প্রশ্ন
জনৈক দরিদ্র মহিলা কসমের কাফফারা হিসাবে তিন দিন রোযা রাখে। তৃতীয়
দিন রোযা অবস্থায় তার অপবিত্রতা শুরু
হয়। ফলে পবিত্র হওয়ার পর সে আরো
একদিন রোযা রাখে। জানতে চাই, তার
কসমের কাফফারা কি আদায় হয়েছে?
উত্তর
না, মহিলাটির কসমের কাফফারা আদায় হয়নি। কেননা রোযার মাধ্যমে কসমের কাফফারা আদায়ের জন্য তিন দিন লাগাতার রোযা রাখা শর্ত। মাঝে বিরতি হলে তা দ্বারা কাফফারার রোযা আদায় হয় না। মহিলাটি বাস্তবেই যদি দশজন মিসকীনকে দুই বেলা পেট ভরে খানা খাওয়ানোর অথবা তাদেরকে এক জোড়া করে বস্ত্র দান করার সামর্থ্য না রাখে তাহলে পুনরায় তাকে লাগাতার তিনটি রোযা রাখতে হবে। -সূরা মায়েদ : ৮৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৭/১৪; কিতাবুল আছার ২/৬০০; কিতাবুল আছল ২/২৯৫; আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৫;
আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭২৭; আলমুহীতুল বুরহানী
৬/৩৭৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪১৪২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার চাচাত ভাই নাবালেগ বয়সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল।...

প্রশ্ন
আমার চাচাত ভাই নাবালেগ বয়সে টেলিভিশন না দেখার কসম করেছিল।
আবার নাবালেগ অবস্থায়ই টেলিভিশন দেখে ফেলে। এখন তার উপর কসমের
কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আপনার চাচাত ভাই যেহেতু নাবালেগ অবস্থায় কসম করেছে তাই তার উপর ঐ কসম
ভঙ্গের কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নাবালেগদের জন্যও নিজেদের
অঙ্গিকার পুরা করা কাম্য। বিশেষ কসম করুক বা না করুক গুনাহের কাজ থেকে তো
বেঁচে থাকা এমনিতেই জরুরী।
মুসনাদে আহমদ, হাদীস ৯৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৪০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৫১
ফতোয়া নং: ৪১৪১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী তালাশ করছিলাম। কিন্তু কোথাও মনমত চাকুরী...

প্রশ্ন
আমি দীর্ঘদিন যাবৎ চাকুরী তালাশ করছিলাম। কিন্তু কোথাও মনমত চাকুরী
খুঁজে পাচ্ছিলাম না। একবার একটা ভাল চাকুরির ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হই।
কিন্তু চাকুরী হবে কি না তা নিয়ে অনেকটা অনিশ্চয়তায় ভুগছিলাম। তখন
আমি এই বলে মান্নত করি যে, যদি আমার এই চাকুরিটা হয়ে যায় তাহলে আমি
প্রতি জুমার দিন রোযা রাখবো। ঘটনাক্রমে আমার ঐ চাকুরিটা হয়ে যায়।
তাই আমি প্রত্যেক জুমার দিন রোযা রেখে যাচ্ছি। কিন্তু বর্তমানে আমার
সাংসারিক ঝামেলা অনেক বেড়ে গেছে। তাই মাঝেমধ্যে জুমআর দিনে
রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয়
হলো, রোযা না রাখতে পারলে আমার করণীয় কী? যে দিনগুরোর রোযা
ছুটেছে সেগুলোর জন্য কী করতে হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত মান্নতের কারণে আপনার উপর প্রতি জুমাবার রোযা রাখা ওয়াজিব।
কোনো কারণে জুমাবারে রোযা রাখা সম্ভব না হলে পরবর্তীতে অন্য কোনোদিন
তা কাযা করে নিতে হবে। আর বিগত যে কয়দিনের রোযা ছুটেছে সেগুলোও কাযা
করতে হবে। অবশ্য ভবিষ্যতে বার্ধক্য বা জটিল কোনো অসুস্থতার কারণে রোযা
রাখা সম্ভব না হলে এবং পরবর্তীতে কাযা করার সামর্থ্যও ফিরে পাওয়ার
সম্ভাবনা না থাকলে তখন প্রত্যেক রোযার জন্য একটি করে ফিদয়া দিতে হবে।
ফিদয়া হলো, একজন দরিদ্রকে তৃপ্তি সহকারে দুইবেলা খাওয়ানো বা এর মূল্য
দিয়ে দেওয়া।
আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৯; আদ্দুররুল
মুখতার ৩/৭৩৫
ফতোয়া নং: ৪১৪০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলি, আমি ... একাজটা অবশ্যই...

প্রশ্ন
আমি একবার কুরআনের কসম খেয়ে বলি, আমি ... একাজটা অবশ্যই করবো।
কিন্তু পরে আমি আর ঐ কাজটা করতে পারিনি। এখন জানার বিষয় হলো,
আমার ঐ কথার কারণে কি কসম হয়েছিল? এখন আমার করণীয় কি?
উত্তর
হাঁ, প্রশ্নোক্ত কথার কারণে আপনার কসম সংঘটিত হয়েছে। পরবর্তীতে ঐ কাজটি
না করার কারণে আপনার কসমটি ভঙ্গ হয়েছে। এখন আপনার কর্তব্য হলো, কসম
ভঙ্গের কাফ্ফারা আদায় করা। কসমের কাফ্ফারা হলো, দশজন দরিদ্র ব্যক্তিকে
দুইবেলা তৃপ্তি সহকারে খানা খাওয়ানো বা এর মূল্য দিয়ে দেওয়া। অথবা দশজন
দরিদ্র ব্যক্তিকে এক জোড়া করে পোশাক দেওয়া। তবে কেউ যদি এর কোনেটির
সামর্থ্য না রাখে তাহলে সে লাগাতার তিনটি রোযা রাখবে।
সুরা মায়েদা :
৮৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৫৬;ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ২/৫৩, ২/৬১; আলবাহরুর রায়েক
৪/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭২৬
প্রকাশ থাকে যে, আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত কোনো কিছুর কসম করা নিষেধ।
তাই কেউ কসম করতে চাইলে আল্লাহর নামেই কসম করা আবশ্যক।
ফতোয়া নং: ৪১৩৪
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার...

প্রশ্ন
আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার
রোযা এক নাগাড়ে দু মাস রাখতে হয়।
মাঝখানে ছুটে গেলে তা আদায় হয় না।
এখন জানার বিষয় হল, দু’মাস রোযা রাখার
সময় মাঝখানে ঈদ বা আইয়ামে তাশরীক তথা
রোযার জন্য নিষিদ্ধ দিন যদি চলে আসে
এবং নিষেধ থাকার পরও রোযা রাখা হয় তাহলে কাফফারা আদায় হবে কি? এতে মাঝখানে
বিরতি হয় না। কারণ আমরা আরেকটা মাসআলা জানি যে, কেউ যদি নিষিদ্ধ দিনে রোযার মান্নত
করে তাহলে নিষেধাজ্ঞার পরও কেউ যদি
রোযা রাখে তাহলে মান্নত পুরো হয়ে
যায়। যদিও তাতে গুনাহ হয়। সে হিসেবে
কাফফারাও আদায় হয়ে যাবে কি না?
সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
কাফফারার রোযা এমন সময় শুরু করতে হবে যেন তার মধ্যে শাওয়ালের ১ তারিখ অথবা যিলহজ্বের ১০ থেকে ১৩ তারিখ-এ দিনগুলো না আসে। কাফফারা আদায়ের দু’মাসের ভেতর উক্ত নিষিদ্ধ দিন পড়লে সে দিনগুলোতে রোযা রাখলেও কাফফারা আদায় হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুনরায় নতুন করে লাগাতার দু মাস রোযা রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, নিষিদ্ধ দিনসমূহে রোযা
রাখার মান্নত সংক্রান্ত মাসআলার সাথে কাফফারার
রোযার কোনো মিল নেই। উভয়ের মধ্যে মৌলিকভাবে পার্থক্য রয়েছে।
এজন্য দুটোর হুকুমও ভিন্ন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস :
১১৫১৯;
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৭৪; আলবাহরুর
রায়েক
৪/১০৫, ২৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৪, ৩/৪৭৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২১৫
ফতোয়া নং: ৩৭৩৪
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

এক ব্যক্তি কসমের কাফফারা আদায় করবে। সে খাবারের মূল্য দিয়ে...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি কসমের কাফফারা আদায় করবে। সে
খাবারের মূল্য দিয়ে কাফফারা আদায় করতে চায়। তার নিকটস্থ একজন গরীব ব্যক্তি আছে। তার ইচ্ছা, এই
কাফফারার টাকাগুলো দশজনকে না দিয়ে শুধু ঐ গরীব
ব্যক্তিকে দিয়ে দিবে। যদি এমনটি করে তবে কি তার
কাফফারা আদায় হবে?
উত্তর
কসমের কাফফারার নিয়ম হল, দশজন মিসকিনের
প্রত্যেককে পূর্ণ তৃপ্তি সহকারে দু’ বেলা খানা খাওয়ানো
অথবা প্রত্যেককে এর মূল্য দেওয়া। কাফফারার পুরো টাকা
একত্রে এক ব্যক্তিকে দিয়ে দিলে তা আদায় হবে না; বরং
পুরো টাকা একজনকে দিতে চাইলে প্রত্যেকের টাকা
ভিন্নভাবে দশ দিনে দিতে হবে। একদিনেই কাফফারার
পুরো টাকা একজনকে দিয়ে দিলে তা একদিনের বলে
বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে বাকি নয়দিনের টাকা ভিন্নভাবে
আবার আদায় করতে হবে। মোটকথা, পুরো টাকা একজনকে দিলে দশ দিনে দিতে হবে। আর দশজনকে দিলে একদিনেই দেওয়া যাবে।
-কিতাবুল আছল ২/২৪৭; আলমাসূত, সারাখসী ৮/১৫৪; রদ্দুল
মুহতার ৩/৭২৫
ফতোয়া নং: ৩৭০২
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার বড় ভাই কিছুদিন আগে একটি সমস্যায় পড়ে মান্নত করেছিলেন,...

প্রশ্ন
আমার বড় ভাই কিছুদিন আগে একটি সমস্যায় পড়ে মান্নত করেছিলেন, যদি
আল্লাহ আমার সমস্যা দূর করে দেন তাহলে আমি চিল্লায় বের হব। ভাইয়ার ঐ
সমস্যাটা আল্লাহর রহমতে চলে গেছে। এখন জানতে চাচ্ছি, ভাইয়ার জন্য কি
চল্লিশ দিনের চিল্লায় বের হওয়া আবশ্যক? বের না হলে কি গুনাহ হবে?
উত্তর
চিল্লায় বের হওয়ার মান্নত করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তা মান্নত হয় না। অতএব
আপনার ভাইয়ের জন্য চিল্লায় বের হওয়া আবশ্যক নয়। তবে সমস্যা না থাকলে এমন
ইচ্ছা পূরণ করাই উচিত।
-বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৮; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৫
ফতোয়া নং: ৩৭০১
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: কসম-মান্নত

চাকরি পাওয়ার জন্য কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি...

প্রশ্ন
চাকরি পাওয়ার জন্য কি মান্নত করা জায়েয আছে? কেউ যদি চাকরি পাওয়ার/ভবিষ্যতে
কোনো কিছু পাওয়ার আশায় বলে, আমি পঞ্চাশ হাজার অথবা এক লক্ষ টাকা মসজিদ/এতিমখানা
অথবা কোনো গরীব মানুষকে দেব। তার এই কথা কি শরীয়তসম্মত হবে?
উত্তর
কোনো বৈধ বস্তু অর্জনের আশায় মান্নত করা জায়েয আছে। তাই চাকরি পাওয়ার আশায় মান্নত
করা যাবে এবং চাকরি পেলে তা পূর্ণ করতে হবে।
তবে মান্নত সহীহ হওয়ার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। সেসব শর্তের আলোকে
মসজিদের জন্য মান্নত করা সহীহ নয়। তাই মসজিদের জন্য মান্নত করলে তা ওয়াজিব হয় না।
তবে মান্নত না হলেও এ ধরনের ওয়াদা পূর্ণ করা উত্তম।
উল্লেখ্য যে, শরীয়তের দৃষ্টিতে মান্নতের চেয়ে নগদ দান-সদকার ফযীলত ও গুরুত্ব
অনেক বেশি। সদকা দ্বারা আল্লাহ অধিক সন্তুষ্ট হন। আর মান্নত শরীয়তসম্মত। তবে সদকার
চেয়ে উত্তম নয়। হাদীসে আছে, মান্নত দ্বারা কৃপণের মাল বের হয়। অর্থাৎ মান্নত কৃপণ
লোকের কাজ।
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ
করেছেন, মান্নত এমন কোনো কিছুকে আদম সন্তানের নিকটবর্তী করে দিতে পারে
না যা আল্লাহ তাআলা তার জন্য তাকদীরে নির্দিষ্ট করেননি। তবে মান্নত কখনো
তাকদীরের সাথে মিলে যায়। এর মাধ্যমে কৃপণের নিকট হতে ঐ সম্পদ বের করে নিয়ে
আসা হয় যা কৃপণ (এমনিতে) বের করতে চায় না। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৪০
অতএব কাক্সিক্ষত বস্তু অর্জনের জন্য মানত করা জায়েয। তবে মানত করা ছাড়া সামর্থ্য
অনুযায়ী পূর্বেই দান-খয়রাত করা অধিক উত্তম কাজ।
-সূরা হজ্ব ২৯; আলইখতিয়ার ৩/৪৪৫; আলমুগনী ১৩/৬২১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১, ৪/২২৮; মিনহাতুল খালিক ৪/২৯৬
ফতোয়া নং: ৩২৪৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল। তখন সে মান্নত...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির ছেলে হারিয়ে গিয়েছিল। তখন সে মান্নত করল যে, যদি ছেলে পাওয়া যায় তাহলে আজমীর শরীফ যাবে ও মাযারে শিরনি দিবে। তার এই মান্নত সহীহ হয়েছে কি
না?
উত্তর
না, মান্নত হয়নি; বরং এমন নিয়ত করা গুনাহ হয়েছে। কারণ কোনো উদ্দেশ্য হাসিল হলে মাযারে যাওয়ার নিয়ত করা, সেখানে শিরনি দেওয়া ইত্যাদি শিরক ও কঠোর গুনাহর কাজ। মান্নত শুধু আল্লাহ তাআলার নামেই করা যায়। কোনো মাযার বা পীরের নামে মান্নত করা শিরক। তাই কেউ এমন নিয়ত করলেও তা পালন করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। উপরন্তু উক্ত নিয়তের কারণে তওবা-ইস্তেগফার করা
জরুরি।
-সহীহ বুখারী ২/৯৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৯
ফতোয়া নং: ৩২২০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একটি বিষয়ে কসম করেছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে তা রক্ষা...

প্রশ্ন
আমি একটি বিষয়ে কসম করেছিলাম। কিন্তু কোনো কারণে তা রক্ষা করতে পারিনি। এখন কাফফারা আদায় করতে চাই। আমি জানি, কসমের কাফফারা হল ১০জন মিসকীনকে দু বেলা খানা খাওয়ানো। আমি জানতে চাই, আমার সুবিধার জন্য যদি একজন ফকীরকে ১০ দিন দু বেলা খানা খাইয়ে দেই তাহলে এতে আমার কাফফারা আদায় হবে কি না।
উত্তর
হ্যাঁ, একজন মিসকীনকে দশদিন দু বেলা তৃপ্তির সাথে খানা খাওয়ালেও আপনার কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৬৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/৪৩০
ফতোয়া নং: ৩০২৬
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার...

প্রশ্ন
আমরা জানি, রমযানের রোযা ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ভেঙ্গে ফেললে কাফফারার রোযা এক নাগাড়ে দু মাস রাখতে হয়। মাঝখানে ছুটে গেলে তা আদায় হয় না। এখন জানার বিষয় হল, দু’মাস রোযা রাখার সময় মাঝখানে ঈদ বা আইয়ামে তাশরীক তথা রোযার জন্য নিষিদ্ধ দিন যদি চলে আসে
এবং নিষেধ থাকার পরও রোযা রাখা হয় তাহলে কাফফারা আদায় হবে কি? এতে মাঝখানে
বিরতি হয় না। কারণ আমরা আরেকটা মাসআলা জানি যে, কেউ যদি নিষিদ্ধ দিনে রোযার মান্নত
করে তাহলে নিষেধাজ্ঞার পরও কেউ যদি রোযা রাখে তাহলে মান্নত পুরো হয়ে যায়। যদিও তাতে গুনাহ হয়। সে হিসেবে কাফফারাও আদায় হয়ে যাবে কি না? সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
কাফফারার রোযা এমন সময় শুরু করতে হবে যেন তার মধ্যে শাওয়ালের ১ তারিখ অথবা যিলহজ্বের ১০ থেকে ১৩ তারিখ-এ দিনগুলো না আসে। কাফফারা আদায়ের দু’মাসের ভেতর উক্ত নিষিদ্ধ দিন পড়লে সে দিনগুলোতে রোযা রাখলেও কাফফারা আদায় হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুনরায় নতুন করে লাগাতার দু মাস রোযা রাখতে হবে। উল্লেখ্য যে, নিষিদ্ধ দিনসমূহে রোযা
রাখার মান্নত সংক্রান্ত মাসআলার সাথে কাফফারার
রোযার কোনো মিল নেই। উভয়ের মধ্যে মৌলিকভাবে পার্থক্য রয়েছে।
এজন্য দুটোর হুকুমও ভিন্ন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস :
১১৫১৯;
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৭৪; আলবাহরুর
রায়েক
৪/১০৫, ২৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৪, ৩/৪৭৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২১৫
ফতোয়া নং: ২৮২৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমি একবার মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাকে পুত্রসন্তান দান করেন...

প্রশ্ন
আমি একবার মান্নত করেছিলাম, আল্লাহ যদি আমাকে পুত্রসন্তান দান করেন তাহলে দুটি গরু দিয়ে তার আকীকা করব। আল্লাহ আমাকে পুত্রসন্তান
দিয়েছেন। পরে আমি জানতে পেরেছি যে, ছেলেসন্তানের আকীকার জন্য দুটি ছাগলই যথেষ্ট। তাই জানার বিষয় হল,
আমার জন্য দুটি গরু দিয়ে আকীকা করা কি জরুরি? নাকি দুটি ছাগল দিলেই মান্নত আদায় হয়ে যাবে?
উত্তর
আকীকা করার মান্নত করলে তা মান্নত হয় না। তাই গরু দ্বারা আকীকা করা অপরিহার্য হয়ে যায়নি। বরং ছাগল, দুম্বা ইত্যাদি পশু দ্বারাও আকীকা করা যাবে।
-আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৪; রদ্দুল মুহতার ৩/৭৩৫; ইমদাদুল আহকাম ৪/২০৬-৭
ফতোয়া নং: ২৫৫২
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে...

প্রশ্ন
আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছি যে, আমার ছেলের পরীক ্ষার ফলাফল ভালো হলে আমার এ ছাগলটি আমাদের মাদরাসার গরীব ছাত্রদের জন্য দান করব। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি উক্ত ছাগলের পরিবর্তে তার মূল্য সদকা করা জায়েয হবে? আর এ মাদরাসা ছাড়া অন্য কোনো মাদরাসায় দান করলে কি মান্নত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ছাগলের মূল্য
সদকা করলেও মান্নত আদায় হয়ে যাবে। আর তা অন্য মাদরাসাতেও দান করা যাবে। তবে যে মাদরাসায় দেওয়ার জন্য মান্নত করা হয়েছিল সেখানে দেওয়াই উত্তম হবে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৫-৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; আদ্দুররুল মুখতার
৩/৭৪১
ফতোয়া নং: ২৫৫১
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন তাহলে যতদিন বেঁচে থাকবে প্রতিদিন দুই রাকাত করে শোকরিয়ার নামায আদায় করবে। পরবর্তীতে আল্লাহর মেহেরবানিতে লোকটি আরোগ্য লাভ করে। প্রশ্ন হল, এখন কি তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত শোকরিয়ার নামায পড়তে হবে,
নাকি এর
পরিবর্তে কাফফারা দিলেই যথেষ্ট
হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত মান্নত সহীহ হয়েছে। তাই তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত করে নামায আদায় করতে হবে। নামায আদায়ের সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত তাকে নামাযই পড়তে হবে। সামর্থ্য থাকলে নামায না পড়ে এর পরিবর্তে কাফফারা দেওয়া যাবে না। প্রকাশ থাকে যে, এমন বিষয়ের মান্নত করা উচিত, যা পরবর্তীতে সহজে পূর্ণ করা যায়। পরবর্তীতে আদায় করা কষ্টকর হয়-এমন মান্নত করা উচিত নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১-২৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; হেদায়া ৪/৩৭৫
ফতোয়া নং: ২৫১৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি দুরারোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হয়ে মান্নত করল যে, যদি আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করেন তাহলে যতদিন বেঁচে থাকবে প্রতিদিন দুই রাকাত করে শোকরিয়ার নামায আদায় করবে। পরবর্তীতে আল্লাহর মেহেরবানিতে লোকটি আরোগ্য লাভ করে। প্রশ্ন হল, এখন কি তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত শোকরিয়ার নামায পড়তে হবে, নাকি এর পরিবর্তে কাফফারা দিলেই যথেষ্ট হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত মান্নত সহীহ হয়েছে। তাই তাকে প্রতিদিন দুই রাকাত করে নামায আদায় করতে হবে। নামায আদায়ের সামর্থ্য থাকা পর্যন্ত তাকে নামাযই পড়তে হবে। সামর্থ্য থাকলে নামায না পড়ে এর পরিবর্তে কাফফারা দেওয়া যাবে না। প্রকাশ থাকে যে, এমন বিষয়ের মান্নত করা উচিত, যা
পরবর্তীতে সহজে পূর্ণ করা যায়। পরবর্তীতে
আদায় করা কষ্টকর হয়-এমন মান্নত করা উচিত নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪১-২৪২; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৫; হেদায়া ৪/৩৭৫
ফতোয়া নং: ২৫১২
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে...

প্রশ্ন
আমার ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। আমি আল্লাহর কাছে মান্নত করেছি যে, আমার ছেলের পরীক্ষার ফলাফল ভালো হলে আমার এ
ছাগলটি আমাদের মাদরাসার গরীব ছাত্রদের জন্য
দান করব। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি উক্ত
ছাগলের পরিবর্তে তার মূল্য সদকা করা জায়েয
হবে? আর এ মাদরাসা ছাড়া অন্য কোনো মাদরাসায় দান করলে কি মান্নত আদায় হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ছাগলের মূল্য
সদকা করলেও মান্নত আদায় হয়ে যাবে। আর তা অন্য মাদরাসাতেও দান করা যাবে। তবে যে
মাদরাসায় দেওয়ার জন্য মান্নত করা হয়েছিল
সেখানে দেওয়াই উত্তম হবে।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৫-৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া
২/১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৫;
আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; আদ্দুররুল মুখতার
৩/৭৪১
ফতোয়া নং: ২৩১৯
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: কসম-মান্নত

জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছিল, তার অসুস্থ মা সুস্থ হলে দশজন...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি মান্নত করেছিল, তার অসুস্থ মা সুস্থ হলে দশজন ফকিরকে দাওয়াত করে খাওয়াবে। আল্লাহ তার মাকে সুস্থ করে দিয়েছেন। এখন প্রশ্ন হল, তাকে কি দশজন ফকিরকেই খাওয়াতে হবে, নাকি খুব ভাল করে চার-পাঁচজনকে এক বেলা খাওয়ালেই চলবে?
উত্তর
ঐ ব্যক্তি যেহেতু দশজন ফকিরকে খাওয়ানোর মান্নত করেছে, তাই দশজন ফকিরকে এক বেলা খাওয়াতে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচজনকে এক বেলা ভালভাবে খাওয়ালে মান্নত আদায় হবে না। তবে হ্যাঁ, পাঁচজনকে দুই বেলা খাওয়ালে মান্নত আদায় হয়ে যাবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/২৮৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৩৫

ফতোয়া নং: ২৩১৮
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: কসম-মান্নত

আমার উপর তিনটি কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। এখন আমাকে কি...

প্রশ্ন
আমার উপর তিনটি কসমের কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে। এখন আমাকে কি প্রত্যেক কসমের জন্য ভিন্ন ভিন্ন করে কাফফারা আদায় করতে হবে? নাকি সবগুলোর জন্য একটি কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে? আর এক কাফফারার
জন্য দশ
মিসকিনকে না খাইয়ে যদি এক মিসকিনকে দশদিন খাওয়ানো হয় তাহলে কি কাফফারা আদায় হবে?
উত্তর
যতবার কসম ভঙ্গ হয়েছে প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন করে কাফফারা দিতে হবে। একাধিক কসম ভঙ্গের জন্য একটি কাফফারা যথেষ্ট নয়। আর একবার কসম ভঙ্গের জন্য এক মিসকিনকে দশদিন দুবেলা খাওয়ালেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। আলমাবসূত, সারাখসী ৮/১৫৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৬/৩০৩; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭১৪ - তাকরীরাতে রাফেয়ী ৩/১৩;
ফতোয়া নং: ২০৩১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: কসম-মান্নত

মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য কি রোযা রাখা শর্ত? শর্ত হলে...

প্রশ্ন
মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য কি রোযা রাখা শর্ত? শর্ত হলে আমি দুদিন ইতিকাফ করার মানত করেছিলাম অন্যদিকে আমার উপর গত রমযানের দুটি কাযা রোযাও রয়েছে। এ অবস্থায় আমি কি ঐ কাযা রোযা দুটি আদায়ের সাথে আমার মানতের ইতিকাফ আদায় করতে পারব?
উত্তর
ইতিকাফের মানত করলে রোযাসহ ইতিকাফ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তাই মানতের ইতিকাফ আদায়ের জন্য স্বতন্ত্র্য রোযা রাখা আবশ্যক। এক্ষেত্রে পূর্বের কাযা রোযার নিয়ত করা সহীহ নয়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে ঐ দুই দিনের ইতিকাফ স্বতন্ত্র্য রোযাসহ আদায় করতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯৭১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪২-৪৪৩; কিতাবুল আছল ২/১৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪


Execution time: 0.04 render + 0.01 s transfer.