Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৫২৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

উমরা পালন করার সময় তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায তওয়াফের...

প্রশ্ন

উমরা পালন করার সময় তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায তওয়াফের পর পর না পড়ে সায়ীর পর পড়লে দম ওয়াজিব হবে কি? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

তাওয়াফের দুই রাকাত ওয়াজিব নামায মাকরূহ ওয়াক্ত না হলে তাওয়াফের পর পরই পড়া সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল এমনই ছিল। বিনা ওজরে উক্ত দুই রাকাতকে বিলম্বে পড়া বা সায়ীর পর পড়া সুন্নত পরিপন্থী। তবে এ কারণে দম ওয়াজিব হবে না।

সহীহ বুখারী ১/২২০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮/১৫৮; ইলাউস সুনান ১০/৮৭, ৮৫; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী পৃ. ১৫৫; আলকুরা লিকাছিদি উম্মিল কুরা পৃ. ৩৫৫; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সাধারণত আযানের পর শুধু দুআ পড়া হয়। দরূদ পড়া হয়...

প্রশ্ন

সাধারণত আযানের পর শুধু দুআ পড়া হয়। দরূদ পড়া হয় না। তাই আমরা ঐভাবে আমল করতাম। একদিন এক আলোচনা মজলিসে আমার ভাই বলল যে, আযানের পর দরূদ পড়তে হয় এরপর দুআ। জানার বিষয় যে, কোনটি সঠিক? বরাতসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আযানের পর দুআর পূর্বে দরূদ পড়ার কথা হাদীসে আছে। সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় এসেছে, (অর্থ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আছ রা.-এর মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযানের সময় মুয়াযযিন যা বলে উত্তরে তোমরা তা বল। অতঃপর আমার উপর দরূদ পড়। যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পড়বে তার উপর আল্লাহ তাআলা ১০টি রহমত অবতীর্ণ করেন। এরপর আল্লাহর কাছে আমার জন্য ‘ওছিলা’ লাভের দুআ কর। কারণ ওছিলা হল জান্নাতের এক সুউচ্চ মর্যাদা, যা শুধু একজনই পাবে। আমি আশা করি সে ব্যক্তি আমি হব। যে ব্যক্তি আমার জন্য ওছিলা’ লাভের দুআ করবে তার জন্য আমার সুপারিশ অবধারিত হয়ে যাবে।’- সহীহ মুসলিম ১/১৬৬

সুতরাং আযানের দুআর আগে দরূদ পড়ার আমলটিই সঠিক।

সুনানে আবু দাউদ ১/৭৭; শরহুত তাহযীব ৩/১২৪; শরহুন নুকায়া ১/১৩৪; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কবলাল জুমআর চার রাকআত নামায জুমআর পরে আদায় করা যাবে...

প্রশ্ন

কবলাল জুমআর চার রাকআত নামায জুমআর পরে আদায় করা যাবে কি না? যদি আদায় করে তবে কি বলে নিয়ত করবে?

উত্তর

হ্যাঁ, জুমআর আগের চার রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে তা জুমআর পরে আদায় করা যাবে। ‘পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ছি’ এমন নিয়তই যথেষ্ট হবে।

শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৮৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার ব্যস্ততার কারণে কখনো দ্রুত নামায পড়তে গিয়ে রুকু সিজদায়...

প্রশ্ন

আমার ব্যস্ততার কারণে কখনো দ্রুত নামায পড়তে গিয়ে রুকু সিজদায় তাসবীহ তিনবার পড়া হয় না; বরং কম হয়ে যায়। এতে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি? আবার কখনো জামাতে নামায পড়তে গিয়ে ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হই। তখন দেখা যায় একবার বা দু’বার তাসবীহ পড়তেই ইমাম উঠে যান। তখন কী করণীয়?

উত্তর

রুকু সিজদায় কমপক্ষে তিনবার তাসবীহ পড়া সুন্নত। ইচ্ছাকৃত তিনবারের কম তাসবীহ পড়া সুন্নত পরিপন্থী। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সবচেয়ে নিকৃষ্ট চোর ঐ ব্যক্তি, যে নামাযে চুরি করে। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করলেন, নামাযে কীভাবে চুরি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নামাযের রুকু, সিজদা ঠিকভাবে আদায় না করা (ই হচ্ছে নামায চুরি করা) - মুসনাদে আহমদ ৩/৫৬। সুতরাং একাকী নামাযে এবং জামাতে উভয় ক্ষেত্রে অন-ত: তিনবার তাসবীহ পড়বে। তবে তিনবার পড়ার পূর্বেই যদি ইমাম উঠে যান তাহলে ইমামের অনুসরণের জন্য মুক্তাদীও উঠে যাবে। কারণ ইমামের অনুসরণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে ইমামের সাথে যতবার তাসবীহ পড়া যায় তাই যথেষ্ট। তিনবার পুরো করা লাগবে না।

মুসনাদে আহমদ ৩/৫৬; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৪ ইমামের সঙ্গে রুকুতে শরিক হওয়া : ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকার মসজিদে কয়েকদিন আগে একটি মাহফিল হয়েছিল। আসর বাদ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার মসজিদে কয়েকদিন আগে একটি মাহফিল হয়েছিল। আসর বাদ মোয়াযযিন সাহেব ঘোষণা দিলেন, আজ ইশার জামাত রাত সাড়ে আটটায় পড়া হবে। রাত আটটা বিশ মিনিটে জনৈক ওয়ায়েজ বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যমানায় ঘড়ি ছিল না। দায়েমী মুসল্লীগণ যখন হাজির হয়ে যেতেন তখন ইকামত দেওয়া হত। আজ এই মাহফিল উপলক্ষে এ সুন্নতকে যিন্দা করার জন্য আমরা এখন জামাত শুরু করে দিব। যেহেতু মসজিদ পূর্ণ হয়ে গেছে তাই ৮ টা ২০ মিনিটে ইকামত হয়ে গেল। মসজিদের দোতলা, তিন তলা তখনও খালি ছিল। জামাত ৮টা ৩০ মিনিটে হবে এ ঘোষণার কারণে যারা নির্দিষ্ট সময়ে হাজির হয়েছে তারা অনেকে জামাত পায়নি। অনেকে মাসবুক হয়েছে। এখন জানতে চাই, দশ মিনিট আগে ইকামত দেওয়ায় সুন্নতে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যিন্দা হল, নাকি ৮ টা ৩০ মিনিটে জামাত শুরু হওয়া উচিত ছিল? যদি ঘড়ির সময় অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় জামাত শুরু করা বেদআত হয়ে থাকে তাহলে প্রত্যেক মসজিদে নামাযের সময়সুচি ঝুলিয়ে রেখে ঘড়ির সময় হিসাবে জামাত শুরু করা কি উচিত হচ্ছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইশার জামাত পূর্ব ঘোষিত সময়েই শুরু করা উচিত ছিল। কেননা, একে তো পূর্ব ঘোষিত সময়ের আগে জামাত শুরু করার কারণে অনেকেই জামাতে শরিক হতে পারেনি। আর নির্ধারিত সময়ে নামায শুরুর ঘোষণা একটি ওয়াদা। আর বিনা ওযরে ওয়াদা লঙ্ঘন করা গুনাহ।

উল্লেখ্য, নামাযের নির্ধারিত সময়সুচি অনুযায়ী নামায পড়া উচিত। ওয়াজ নসীহতের কারণে সময়সুচি হঠাৎ করে পরিবর্তন করা ঠিক নয়। কেননা এতে অনেক নিয়মিত মুসল্লীর জামাত ছুটে যাওয়ার বা কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম-এর যুগে ঘড়ি ছিল না এ যুক্তি দেখিয়ে তখন জামাতের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল না-এ কথা বলা ঠিক নয়। কেননা তখনও বিভিন্ন আলমত লক্ষ্য করে জামাতের সময় নির্ধারণ করা এবং সে অনুযায়ী আযান ও জামাত শুরু হওয়ার বিবরণ বহু হাদীসে রয়েছে। তাই ঘড়ির সময় অনুযায়ী নামাযের সময়সূচি নির্ধারণ করা সুন্নত পরিপন্থী বা বিদআত বলা যায় না।

ফাতহুল বারী ২/৫১; উমদাতুল কারী ৫/৬২; ফয়যুল বারী ২/১২৯; বুলুগুল আমানী ১/২৯১; মাআরিফুস সুনান ১/৭৫; আউনুল মা’বুদ ২/১৭৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৯২; ফাতাওয়া উসমানী ১/৩৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মহল্লার মসজিদটি বেশ বড়। জুমআর নামায ছাড়া অন্য কোনো...

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদটি বেশ বড়। জুমআর নামায ছাড়া অন্য কোনো ওয়াক্তে মুসল্লী দ্বারা মসজিদ পূর্ণ হয় না। বিদ্যুৎ না থাকলে তাতে গরমের কারণে নামায পড়তে কষ্ট হয়। এ অবস্থায় গরমের তীব্রতা থেকে রক্ষার জন্য ইমাম সাহেব মেহরাব না দাঁড়িয়ে এক কাতার বা দুই কাতার ছেড়ে দাঁড়াতে পারবে কি না? কেউ কেউ এটিকে মাকরূহ বলেন। সঠিক মাসআলা জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

নামাযে ইমামের জন্য মেহরাবে দাঁড়ানো নিয়ম। বিনা ওজরে মেহরাব ছেড়ে দাঁড়ানো অনুচিত। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অল্প-স্বল্প গরমের কারণে ইমামের জন্য মেহরাব ছেড়ে দাঁড়ানো ঠিক হবে না।

তবে যদি গরম এত বেশি হয় যে, মুসল্লীদের নামাযে একাগ্রতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে ইমামের জন্য মেহরাব ছেড়ে ঐ বরাবর পেছনে দাঁড়ানো জায়েয হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ইমামের ডানে-বামে কাতার সমান থাকে।

সুনানে আবু দাউদ ১/৯৯; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৬১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৬৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/৩০৭; মাকালাতে কাওছারী পৃ. ১৪৫-১৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে কোনো সুতরা না থাকে এবং এ...

প্রশ্ন

যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে কোনো সুতরা না থাকে এবং এ অবস্থায় কেউ অজ্ঞাতসারে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে তার করণীয় কী? সে কি তাকে বাঁধা দিবে, নাকি দিবে না? এক্ষেত্রে কোনটি উত্তম? আর বাঁধা দিলে কীভাবে দিবে?

উত্তর

নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে হাতের ইশারা কিংবা তাসবীহ জোরে পড়ে সতর্ক করা জায়েয আছে। তবে নামাযীর জন্য এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই শ্রেয়।

উল্লেখ্য, নামাযীর সামনে দিয়ে কারো অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে সুতরা সামনে রাখা সুন্নত।

সুনানে আবু দাউদ ১/১০১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২০১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২১৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯; মাজমাউল আনহুর ১/১৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আজ থেকে প্রায় আট-নয় বছর পূর্বে আমাদের এলাকায় একটি পাঞ্জেগানা...

প্রশ্ন

আজ থেকে প্রায় আট-নয় বছর পূর্বে আমাদের এলাকায় একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মিত হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এর জন্য কোনো স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা না হওয়ায় অস্থায়ীভাবে একটি ঘরে এক দুই মাস পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার পর একটি স্থায়ী জায়গার ব্যবস্থা হয়। জায়গাটি এক বৃদ্ধা মহিলার ছিল। তিনি এখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার ও সাবাহী (প্রভাতী) মকতব পড়ানোর জন্য স্থায়ী অনুমতি দিয়ে দেন। ফলে এলাকাবাসী এই জায়গা ও দক্ষিণ পাশ থেকে (অন্য মালিকানাধীন) আরো কিছু জায়গা নিয়ে এখানে একটি ঘর করেন এবং নির্দিষ্ট একজন হুজুরের মাধ্যমে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও সাবাহী মকতব চলতে থাকে। কিছুদিন পর বৃদ্ধার জায়গাটিকে সাবাহী মকতবের নামে ওয়াকফ করে লিখিত আকারে দলীল করে দেন।

কিন্তু বর্তমানে জনসংখ্যা ও মুসল্লী বৃদ্ধির কারণে সামাজিকভাবে এখানে একটি জামে মসজিদ করা অতি প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আশপাশে কোথাও আলাদাভাবে জামে মসজিদ করার মতো উপযোগী জায়গা না থাকায় এলাকাবাসী পাঞ্জেগানা মসজিদ-মকতবের নামে ওয়াকফকৃত উক্ত জায়গা এবং দক্ষিণ পাশে আরো এই পরিমাণ জায়গা (এটির মালিক ঐ জায়গা মসজিদের নামে ওয়াকফ করতে প্রস্তুত) সহ এখানে একটি জামে মসজিদ করতে চাচ্ছে। তারা সাবাহী মকতবের জন্য মসজিদের বারান্দাকে নির্দিষ্ট করে দিবে।

জানার বিষয় হল, বৃদ্ধা মহিলা কর্তৃক লিখিত আকারে মকতবের নামে ওয়াকফকৃত উক্ত পাঞ্জেগানা মসজিদ ও মকতবের জায়গা মসজিদের সীমানায় নিয়ে এলাকাবাসীর প্রয়োজনে

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনারা যেভাবে উক্ত পাঞ্জেগানা মসজিদ ও সাবাহী মকতবের জায়গাসহ নতুন জায়গা মিলিয়ে জামে মসজিদ বানাতে চাচ্ছেন তা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে মসজিদের বারান্দা সাবাহী মকতবের জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। তা সর্বদা সাবাহী মকতবের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং তা লিখিত আকারে রাখতে হবে। যেন পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কোনো জটিলতা না হয়। অবশ্য মকতবের সময় ছাড়া অন্য সময় বারান্দাটি মসজিদের কাজে ব্যবহার করা যাবে।

উল্লেখ্য যে, দানকারিনী মহিলা যেহেতু লিখিতভাবে ওয়াকফ করার পূর্বেই জায়গাটি মসজিদ ও মকতবের জন্য যৌথভাবে দান করেছিলেন তাই পরবর্তীতে শুধু মকতবের নামে ওয়াকফ করলেও তা মসজিদ ও মকতব উভয়ের জন্য ওয়াকফ হিসেবে বিবেচিত হবে। এতে মকতবের একক মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হবে না।

আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৭৮-৩৭৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৭; ফাতহুর কাদীর ৫/৪৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৮৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কোনো ধরনের দুআ করা জায়েয আছে...

প্রশ্ন

নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কোনো ধরনের দুআ করা জায়েয আছে কি না? এক আলেমের মুখে শুনেছি, নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় বাংলাতেও দুআ করা জায়েয আছে। তার এ কথা কতটুকু সঠিক?

উত্তর

নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কুরআন-হাদীসে বর্ণিত দুআসমূহ পড়া যাবে। তবে নফল হোক কিংবা অন্য কোনো নামাযে অনারবী ভাষায় দুআ করা নিষিদ্ধ।

সুনানে আবু দাউদ ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২১; আননাহরুল ফায়েক ১/২২৪; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর পৃ. ১/২২৯; আসসিআয়াহ ২/২৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি নামাযের জামাতে রুকুতে এমন সময় শামিল হল যে,...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি নামাযের জামাতে রুকুতে এমন সময় শামিল হল যে, একবারও পূর্ণভাবে রুকুর তাসবীহ পড়তে পারেনি। এ অবস্থায় সে রুকু ও রাকাত পেয়েছে বলে ধরা হবে কি না? নাকি একবার পূর্ণ তাসবীহ পড়ার সুযোগ পেলে রাকাত পাওয়া গণ্য করা হবে?

উত্তর

রাকাত পাওয়ার জন্য রুকু পাওয়া জরুরি। আর রুকু পাওয়ার জন্য এক মুহূর্ত হলেও ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হতে হবে। ইমামের সাথে রুকুর তাসবীহ পাওয়া জরুরি নয়। কিন্তু যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় অল্প সময়ের জন্যও না পাওয়া যায় তাহলে এ রাকাত পায়নি বলে বিবেচিত হবে।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা হাদীস : ২৫৩৭-২৫৩৭; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩০৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০; ফাতহুল কাদীর ১/৪২০; মাজমাউল আনহুর ১/২১২; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ঘরবাড়িতে মহিলারা যখন নামায পড়ে তখন সেখানে অধিকাংশ সময় মাহরাম...

প্রশ্ন

ঘরবাড়িতে মহিলারা যখন নামায পড়ে তখন সেখানে অধিকাংশ সময় মাহরাম আত্মীয় স্বজন ছাড়া অন্য কেউ থাকে না। তখনও কি তাদের উপর পুরো শরীর ঢেকে নামায পড়া জরুরি?

উত্তর

মহিলাদের চেহারা, কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ও গিরা পর্যন্ত দুই পা ব্যতীত অবশিষ্ট সম্পূর্ণ শরীর নামাযে সর্বাবস্থায় ঢেকে রাখা জরুরি। এটা নামায অবস্থার সতর। একা ঘরে নামায পড়লেও এভাবে ঢেকে নামায পড়তে হবে। আর উভয় পা খোলা রাখা জায়েয, কিন্তু তাও ঢেকে রাখা উত্তম।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৪; ইলাউস সুনান ২/১৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৬; মাজমাউল আনহুর ১/১২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি আসরের নামায পড়ছিলাম। ভুলে তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ...

প্রশ্ন

আমি আসরের নামায পড়ছিলাম। ভুলে তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ করে সূরা মিলিয়েছি এবং সাহু সিজদা করেছি এই মনে করে যে, আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। পরে জানতে পারি যে, আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। এখন আমার নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

বিনা কারণে সাহু সিজদা দেওয়াটা মাকরূহ হয়েছে। তবে নামায আদায় হয়ে গেছে। ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে না।

খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৪৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৯; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ইমাম সাহেব চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় রাকাতে ভুলে আলহামদু...

প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় রাকাতে ভুলে আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন পর্যন্ত উচ্চস্বরে পড়ে ফেলেন। এতে কি তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? কতটুকু উচ্চস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

উত্তর

চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষের দুই রাকাতে কেরাত আস্তে- পড়া ওয়াজিব। একাকি পড়া হোক কিংবা জামাতে। অতএব তাতে ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত পরিমাণ জোরে পড়লে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। প্রশ্নোক্ত নামাযে যেহেতু মাত্র ছোট একটি আয়াত উচ্চস্বরে পড়া হয়েছে তাই এক্ষেত্রে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়নি।

আলবাহরুর রায়েক ১/৩০২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭১৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৮; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের গ্রামের মসজিদের ইমাম একদিন বিতর নামাযে ভুলে দুআয়ে কুনূত...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের মসজিদের ইমাম একদিন বিতর নামাযে ভুলে দুআয়ে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে গিয়েছিলেন। মুকতাদীরা পিছন থেকে আল্লাহু আকবার বলে লুকমা দিলে তিনি রুকু থেকে ফিরে আসেন এবং দুআ কুনূত পড়েন। অতঃপর আবার রুকু করেন এবং সাহু সিজদা করে নামায শেষ করেন। প্রশ্ন হল, তার এ নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করার দ্বারা নামায সহীহ হয়ে গেছে। তবে রুকু থেকে ফিরে আসা নিয়ম পরিপন্থী হয়েছে। দুআ কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে দুআ কুনূতের জন্য রুকু ছেড়ে উঠে দাঁড়াবে না; বরং নামায শেষে সাহু সিজদা করে নিবে। আর যদি দুআ কুনূত পড়ার জন্য রুকু থেকে উঠে দাঁড়ায় তবে তা নিয়মের খেলাফ হলেও নামায হয়ে যাবে। অবশ্য এ অবস্থাতেও সাহু সিজদা দিতে হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১১; আলবাহরুর রায়েক ২/৪২; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৮২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমাম সাহেব যখন খুতবা দিতে বের হন তখন থেকেই কথা...

প্রশ্ন

ইমাম সাহেব যখন খুতবা দিতে বের হন তখন থেকেই কথা বলা ও নামায পড়া নিষেধ। কিন' বর্তমানে ইমাম অনেক আগেই আসেন এবং খুতবার আগে বয়ান হয়। এ অবস'ায় যখন বয়ান চলে তখন কি কথা বা নফল নামায নাজায়েয হবে? বিস-ারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাদীসে ইমামের বের হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হল, খুতবার জন্য আসা। এজন্য খুতবার হুকুম দ্বিতীয় আযান থেকেই শুরু হবে, এর আগে নয়। তবুও যেহেতু দ্বীনী বয়ানের মাধ্যমে শরীয়তের অনেক বিষয় জানা যায়। তাই বয়ান চলাকালীন ব্যক্তিগত আমলে ব্যস- না থেকে বয়ান শোনার প্রতি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৮২; আততা’লীকুল মুমাজ্জাদ ১/৬০৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩৭; আলকওলুর রাজেহ ১/১৪৪; মাবসূত সারাখসী ২/২৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৯৫; ইমামের বের হওয়া দ্বারা উদ্দেশ্য : হাশিয়া দুরার আলালগুরার ১/৮৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪০৮; মনোযোগের সাথে ওয়াজ শ্রবণ করা : আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৬৩; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক কিতাবে দেখতে পেলাম যে, রফে ইয়াদাইনের আমল প্রাথমিক অবস'ায়...

প্রশ্ন

এক কিতাবে দেখতে পেলাম যে, রফে ইয়াদাইনের আমল প্রাথমিক অবস'ায় জারি ছিল। পরে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানসূখ করে দিয়েছেন। অর্থাৎ রাফে ইয়াদাইন এখন মানসূখ। কিন' প্রশ্ন হল, রাফে ইয়াদাইনের হাদীস লেখার সময় ইমাম বুখারী রাহ. কি ঐ মানসূখ হাদীস জানতেন না? ইমাম শাফেয়ী রাহ. নিজ মাযহাবে এর প্রচলন করে গেছেন। তিনিও কি ঐ মানসূখের খবর জানতেন না? যদি জানতেন তবে রাফে ইয়াদাইন করার কি যুক্তি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

নামাযের তাকবীরে তাহরীমা ছাড়া বাকি কিছু তাকবীরের মধ্যে রাফে ইয়াদাইন করা না করা উভয়টিই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো রাফে ইয়াদাইন করেছেন, কখনো করেননি। সাহাবা, তাবেয়ীন ও পরবর্তীদের মধ্যে উভয় পদ্ধতিরই অনুসারী ছিলেন। এরই সুত্র ধরে শাফেয়ী, হাম্বলী মাযহাবে রাফে ইয়াদাইনের পদ্ধতি এসেছে। অপরদিকে হানাফী, মালেকী মাযহাবে রাফে ইয়াদাইন না করার মতটি গ্রহণ করা হয়েছে। স্ব স্ব স'ানে উভয় মতই শরীয়ত স্বীকৃত। কেননা দুটোরই উৎস সুন্নাহ। তবে বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদের আলোকে কোনো ফকীহ কোনো একটিকে উত্তম ও অগ্রগণ্য মনে করেন। আর অন্যটিকে মনে করেন বৈধ ও অনুত্তম। আবার অন্য ফকীহ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। বিশুদ্ধ মত হল, এর কোনোটিই মানসূখ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একটিকে মানসূখ ঘোষণা দেননি। কতক ফকীহ যারা রাফে ইয়াদাইনের আমলকে মানসূখ বলেছেন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, মুস-াহাব বা উত্তম হওয়াটা রহিত হয়েছে। মূল আমলের বৈধতা রহিত হয়নি।

বলাবাহুল্য যে, এটি হল বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে ইজতিহাদের আলোকে একদল ফকীহর মত। অন্যান্য ফকীহদের মতও এরূপ হওয়া জরুরি নয়। অন্যরা একে মানসূখ (পূর্ববর্ণিত অর্থে) মনে নাও করতে পারেন।

আর বাস-বে কোনো হাদীস মানসূখ হলে তা হাদীসের কিতাবে আনা যাবে না এ ধারণাও ঠিক নয়। অনেক হাদীসের হুকুম মানসূখ হওয়া সত্ত্বেও হাদীস সংকলকগণ নিজ নিজ সংকলনগ্রনে' তা উল্লেখ করেছেন। এতে অনেক ফায়দা রয়েছে। একটি উল্লেখযোগ্য ফায়দা হল, পূর্ববর্তীরা মানসূখ হাদীসটি উল্লেখ করার কারণেই পরবর্তীদের জন্য জানার সুযোগ হয়েছে যে, এর হুকুম মানসূখ। এ বিষয়ে বিস-ারিত জানতে চাইলে সদ্য প্রকাশিত বই ‘নবীজীর নামাযা’ ড. শায়খ মুহাম্মাদ ফায়সাল কৃত পৃ. ১৮০-১৮৮ পর্যন- পড়-ন

পড়-ন।-মাআরিফুস সুনান ২/৪৫৮; ফয়যুল বারী ২/২৫৮; নাসবুর রায়াহ ১/৩৯২; ফাতহুল মুলহিম ২/১১, ১৪; ইলাউস সুনান ৩/৮০, ৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের স'লে ভুলবশত সূরা...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের স'লে ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলে। পরে মনে হলে তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ পড়ে সাহু সিজদা ছাড়া নামায শেষ করে। তার নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

উক্ত ভুলের কারণে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। যেহেতু তা করা হয়নি তাই নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৩০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেছে। দু’ এক মসজিদে ফজরের আযান...

প্রশ্ন

ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে গেছে। দু’ এক মসজিদে ফজরের আযান হয়েছে এবং ১০-১৫ মিনিট এ আযান বিভিন্ন মসজিদে চলছে। এ অবস'ায় নামাযের প্রস'তি নিব এবং জরুরত সারব না আযানের জবাব দিব? উল্লেখ্য, আযানের জবাব দিয়ে এসব করতে গেলে জামাত না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

উত্তর

আযানের জবাব দেওয়া মুস-াহাব। যে কোনো মসজিদের আযানের জবাব দিলেই মুস-াহাব আদায় হয়ে যায়। তবে একই জায়গায় একাধিক মসজিদের আযান শুনা গেলে, প্রথম আযানের উত্তর দিবেন। পরবর্তী আযানগুলোর উত্তর দেওয়া লাগবে না। এমনকি সেটা নিজ মহল্লার মসজিদের আযান হলেও তার উত্তর দেওয়া লাগবে না। আর যদি সব কটি আযান এক সঙ্গে শুরু হয় তাহলে নিজ মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিবেন। ইসি-ঞ্জার প্রয়োজন হলে আযানের জবাবের অপেক্ষা না করেও প্রয়োজন পুরা করতে পারবেন। আযানের জবাবের জন্য ইসি-ঞ্জায় যেতে বিলম্ব করার দরকার নেই।

নেই।-ফাতহুল কাদীর ১/২৫৩; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৯;আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯৬; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি একাকী নামায পড়ার নিয়তে নামায শুরু করার পর...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি একাকী নামায পড়ার নিয়তে নামায শুরু করার পর এক ব্যক্তি এসে তার পিছনে ইকতিদা করে ও তার সাথে নামায শেষ করে। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তি ইমামতির নিয়ত না করলে মুকতাদির নামায সহীহ হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, ইমামতির নিয়ত না করলেও ঐ মুকতাদীর নামায সহীহ হয়েছে। কারণ ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য ইমামতির নিয়ত জরুরি নয়।

নয়।-শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১২১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার আম্মার দাঁড়িয়ে নামায পড়ার শক্তি নেই। তবে বসে নামায...

প্রশ্ন

আমার আম্মার দাঁড়িয়ে নামায পড়ার শক্তি নেই। তবে বসে নামায আদায় করতে পারেন। তাঁর জন্য বসে ফরয নামায আদায় করা সহীহ হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, দাঁড়িয়ে আদায় করা সম্ভব না হলে ফরয নামাযও বসে আদায় করা জায়েয।

জায়েয।-সহীহ বুখারী ১/১৫০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/১১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার দাদী খুবই অসুস'। বসেও নামায পড়তে পারেন না। এখন...

প্রশ্ন

আমার দাদী খুবই অসুস'। বসেও নামায পড়তে পারেন না। এখন তিনি কীভাবে নামায পড়বেন শায়িত অবস'ায় কি নামায পড়া যায়, পড়া গেলে এর নিয়ম কী? সবিস-রে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস'ায় আপনার দাদী শুয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে আদায় করবেন। তবে রুকুর তুলনায় সিজদার জন্য মাথা বেশি ঝুঁকাতে হবে। শায়িত অবস'ায় নামায পড়ার কয়েকটি পদ্ধতি রয়েছে।

১. পা পশ্চিম দিকে, মাথা পূর্ব দিক দিয়ে চিত হয়ে শয়ন করবে। সম্ভব হলে পিঠ ও মাথার নিচে বালিশ ইত্যাদি কিছু দিয়ে উঁচু করে নিবে যেন সিনা ও চেহারা কিবলামুখী হয়ে থাকে। পা পশ্চিম দিকে বিছিয়েও দিতে পারে তবে সম্ভব হলে হাঁটু ভাজ করে রাখবে। শায়িত অবস'ায় নামায আদায়ের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতিই অগ্রগণ্য।

২. মাথা উত্তর দিকে এবং পা দক্ষিণ দিকে রেখে শুবে। এভাবে ডান কাতে শুয়ে সিনা ও চেহারা কিবলার দিক করে রাখবে।

৩. মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা উত্তর দিকে করে শুবে। এভাবে বাম কাত হয়ে শুয়ে চেহারা ও সিনা কিবলার দিকে রাখবে।

উল্লেখ্য, এ সকল পদ্ধতির কোনোটি সম্ভব না হলে যেভাবে শোয়া সম্ভব সেভাবে শুয়ে মাথা নেড়ে রুকু-সিজদা করবে। এসকল ক্ষেত্রে সিজদার জন্য রুকুর চেয়ে মাথা কিছুটা বেশি ঝুকাবে। মাথা নাড়ার ক্ষমতা থাকা পর্যন- নামায আদায় করতে হবে।

হবে।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৪৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; হিদায়া ১/১৬১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৩; মাবসূত সারাখসী ১/২১৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০১; হাশিয়াতু তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি দীর্ঘ দশ/বার দিন অসুস' ছিলাম। মাথা দ্বারা ইশারা করেও...

প্রশ্ন

আমি দীর্ঘ দশ/বার দিন অসুস' ছিলাম। মাথা দ্বারা ইশারা করেও নামায আদায় করতে সক্ষম ছিলাম না। কিন' আমার হুঁশ বাকি ছিল। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত দিনগুলোতে ছুটে যাওয়া নামাযের কাযা করতে হবে কি না? উল্লেখ্য, হিদায়া গ্রনে'র প্রথম খণ্ডের ১৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, এ অবস'ায় ছুটে যাওয়া নামায কাযা করতে হবে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কাযা জরুরি নয়। তবে কাযা করে নেওয়া ভালো। হেদায়া গ্রনে'র ঐ উক্তিটি গ্রহণযোগ্য মত নয়। কেননা, ফাতাওয়ার প্রসিদ্ধ কিতাবাদির পাশাপাশি স্বয়ং হিদায়ার লেখকও তার কিতাব ‘আততাজনীস ওয়াল মাযীদ’-এ কাযা জরুরি না হওয়ার ফতোয়া প্রদান করেছেন। নিম্নে এ সংক্রান- হাওয়ালাসমূহ পেশ করা হল।

আলমু’জামুল আওসাত তবরানী ৫/১১; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০১; ইলাউস সুনান ৭/২০০; হাশিয়াতু তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৫; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৬৫; রদ্দুল মুহতার ২/৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন আমাদের মসজিদে একাকী নামায পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ পর এক...

প্রশ্ন

আমি একদিন আমাদের মসজিদে একাকী নামায পড়ছিলাম। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি আমার পার্শ্বে বসে উচ্চ স্বরে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত শুরু করে এবং একপর্যায়ে সে আয়াতে সিজদা তিলাওয়াত করে যা আমি নামাযরত অবস'ায় শুনতে পাই। কিন' আমি সিজদা না করে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত আয়াতে সিজদা শ্রবণ করার কারণে আমার উপর কি সিজদা ওয়াজিব হয়েছে? ওয়াজিব হলে কখন আদায় করব। নামাযের মধ্যে আদায় করা কি কর্তব্য ছিল?

উত্তর

আপনি নামাযের মধ্যে ঐ সিজদা না করে ঠিকই করেছেন। নামাযরত অবস'ায় অন্য ব্যক্তি থেকে আয়াতে সিজদা শুনলেও সিজদা ওয়াজিব হয়। তবে তা আদায় করতে হয় নামাযের পর। নামাযের মধ্যে আদায় করা যায় না। কেউ আদায় করলেও তা আদায় হবে না। সিজদাটি পরবর্তীতে আদায় করে নিতে হবে।

তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২০৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৫০০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৫; হাশিয়া তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সময় আছে মনে করে তাহাজ্জুদের নিয়তে দুই...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি তাহাজ্জুদের সময় আছে মনে করে তাহাজ্জুদের নিয়তে দুই রাকাত নামায শুরু করে। নামায শেষে সময় দেখলে বুঝতে পারে যে, তার নামায শুরু করার আগেই তাহাজ্জুদের সময় শেষ হয়ে গেছে। তার এই দুই রাকাত নামায তাহাজ্জুদ হবে, নাকি ফযরের সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে? ফযরের সুন্নত কি নতুন করে পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস'ায় ঐ দুই রাকাত নামায ফযরের সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে। নতুন করে সুন্নত পড়তে হবে না।

আলবাহরুর রায়েক ১/২৭৮; আসসিয়াআহ ২/১০২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৭; হাশিয়া তহতাবী আলাদ্দুর ১/১৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল, মসজিদে বসে ইজতিমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল, মসজিদে বসে ইজতিমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম আছে কি না। তিনি বললেন, আছে। কিন্তু তার কথায় কিছুটা জটিলতা অনুভব হল। আমার জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদে বসে সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

একাকী যিকির করা বা কয়েকজন একত্রিত হয়ে উঁচু আওয়াজে যিকির করা উভয়টিই শরীয়তে অনুমোদিত। তা মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও।

হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার প্রতি বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে থাকি। সে যদি একাকী আমার যিকির করে তাহলে আমি গোপনে তাকে স্মরণ করি। সে কোনো মজলিসে আমার যিকির করলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৪০৫

ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন, জামাতে যিকির করলে আওয়াজ তো হবেই।-আলহাবী লিলফাতাওয়া ২/১২৯

তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কয়েকটি শর্ত পূরণ করা অত্যাবশ্যক। যথা :

১. লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত হওয়া।

২. কোনো ব্যক্তির নামাযে বা অন্য কোনো ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটানো।

৩. কোনো ব্যক্তির বিশ্রামে সমস্যা না হওয়া।

৪. আওয়াজ স্বাভাবিক হওয়া, চিৎকার করে বা অতিরিক্ত উঁচু আওয়াজে না হওয়া এবং মাইক ব্যবহার না করা।

৫. সাধারণভাবে এবং সহীহ-শুদ্ধ করে যিকির করা। যিকিরের শব্দ উচ্চারণে লাহনে জলী থেকে বেঁচে থাকা। যদি উল্লেখিত শর্তাবলি পাওয়া যায় তবে ইজতিমায়ী যিকির করতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তসমূহ বা তা থেকে কোনো একটি শর্ত না পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কাজটি শরীয়তসম্মত হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমানে অনেক যিকিরের মজলিসে উল্লেখিত শর্তগুলোর অনেক কিছুই লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়, যা সংশোধনযোগ্য।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬৬০; সিবাহাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, আবদুল হাই লাখনৌভী পৃ. ৩৮; নতীজাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, (আলহাবী লিল ফাতাওয়া ২/১২৮) ইমাম সুয়ূতী; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে...

প্রশ্ন

আমার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে দেখি নামাযের ইকামত হচ্ছে বা জামাত শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জামাতের কতটুকু অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আমি সুন্নত পড়ব? দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নাকি ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ফজরের সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের সুন্নত ছেড়ে দিও না। যদিও সৈন্যবাহিনী তোমাদেরকে তাড়া দেয়।-মুসনাদে আহমদ ২/৪০৫

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আববাস ও আবু দারদা রা.-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে নিতেন। যেমন আবু দারদা রা. ফজরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে লোকজনকে ফজরের জামাতে কাতারবদ্ধ পেলে মসজিদের এক কোণে (ফজরের) সুন্নত পড়তেন। অতপর মানুষের সাথে জামাতে শরিক হতেন।-শরহু মাআনিল আছার, তহাবী ১/২৫৬

সুতরাং ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে যদি জামাতের সাথে দ্বিতীয় রাকাতও পাওয়া যায় তাহলে সুন্নত পড়ে নিবে। আর দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সুন্নত পড়বে না; বরং জামাতে শরিক হয়ে যাবে এবং সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নিবে।

প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো ফকীহ সুন্নত পড়ার পর ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নত পড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ফকীহর মত তা-ই, যা উপরে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামাত শুরু হওয়ার পর মসজিদে সুন্নত পড়ার কিছু শর্ত রয়েছে। যথা-

ক. কাতারের সাথে মিলিত হয়ে পড়া যাবে না। মসজিদের বারান্দায় বা কাতার থেকে দূরে মসজিদের এক কোণে বা কোনো পিলারের আড়ালে সুন্নত পড়বে।

খ. জামাত থেকে পিছনে পৃথক হয়ে সুন্নত পড়ার মতো জায়গা না থাকলে সুন্নত পড়া যাবে না। এক্ষেত্রে জামাতে শরিক হয়ে যাবে।

-আলজামিউস সগীর ৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; মাবসূত, সারাখসী ১/১৬৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নফল নামায বসে পড়ার হুকুম কি?

প্রশ্ন

নফল নামায বসে পড়ার হুকুম কি?

উত্তর

নফল নামায কোনো ওজর ছাড়াও বসে পড়া জায়েয। তবে বসে পড়লে দাঁড়িয়ে পড়ার তুলনায় অর্ধেক সওয়াব হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বসে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এতে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার তুলনায় অর্ধেক সওয়াব হবে।

-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ৬৮৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২২১; ফাতহুল কাদীর ১/৪০০; আলবাহরুর রায়েক ২/৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি প্রায় দুই সপ্তাহ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। জ্বরের তীব্রতায়...

প্রশ্ন

আমি প্রায় দুই সপ্তাহ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। জ্বরের তীব্রতায় কয়েক ওয়াক্ত নামায বসে আদায় করেছি। মাঝে একদিন শরীর হালকা লাগছিল তাই দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ক্লান্তি ও চোখে অন্ধকার বোধ করায় অর্ধেক নামায বসে আদায় করি। এভাবে আমার নামায আদায় হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকি নামায বসে পড়ার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেননা দাঁড়িয়ে নামায পড়া অধিক কষ্টকর হলে বসে নামায পড়া জায়েয। এমনকি নামাযের মাঝে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে গেলেও অবশিষ্ট নামায বসে আদায় করা জায়েয।

-সহীহ বুখারী ১/১৫০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬; মাবসূত, সারাখসী ১/২১৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যোহর ও আসরের নামায কাযা হয়েছে। মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার...

প্রশ্ন

যোহর ও আসরের নামায কাযা হয়েছে। মাগরিবের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ২/৩ মিনিট বাকি আছে। এক্ষেত্রে কোন ওয়াক্তের নামায আগে আদায় করবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি মাগরিব শেষ হতে মাত্র দুই তিন মিনিটই বাকি থাকে তাহলে মাগরিবের ফরয নামাযটি আগে আদায় করে নিবে। যেন মাগরিবের নামাযও কাযা না হয়ে যায়। এরপর যোহর ও আসরের কাযা নামাযগুলো পড়বে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৮২; শরহুল মুনয়াহ ৫৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে আমাদের অফিসেই জামাতের সাথে নামায আদায় করতে...

প্রশ্ন

মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে আমাদের অফিসেই জামাতের সাথে নামায আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আযান না দিয়ে অফিসে জামাতের সাথে নামায আদায় করা সহীহ হবে কি?

উত্তর

বাসা বা অফিসে জামাতের জন্য মহল্লার মসজিদের আযানই যথেষ্ট। তাই অফিসে আযান না দিয়েও জামাতে নামায পড়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রেও আযান দেওয়া মুস্তাহাব।

উল্লেখ্য, ছাতার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ বৃষ্টির কারণে মসজিদের জামাত ত্যাগ করা উচিত নয়। কেবল প্রবল বর্ষণের ক্ষেত্রেই মসজিদের জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৩৫৯; মাবসূত, সারাখসী ১/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক লোক আছে, যারা নামায পড়ে, নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি...

প্রশ্ন

অনেক লোক আছে, যারা নামায পড়ে, নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করে এবং তাওহীদে বিশ্বাসী, তথাপি তারা মনে করে, বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট দূর করা ও কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে পীর-বুযুর্গদের অনেক ক্ষমতা আছে। তাই তারা সরাসরি মৃত ও জীবিত পীরের নিকট প্রার্থনা করে, সাহায্য চায় এবং তাদের কাছে মুক্তি চায়। অথচ আমরা জানি, এ ধরনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কল্যাণ-অকল্যাণ, ভালো-মন্দ, উপকার-অপকার, দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীন। তিনি ব্যতীত অন্য কারো এ ধরনের কোনো ক্ষমতা নেই। এর উপর ঈমান ও বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। তাই বিপদ-আপদ বা দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া বা কল্যাণ-অকল্যাণে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে মুমিনের কর্তব্য হল, একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীনের শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া। এগুলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে চাওয়া শিরক। কোনো পীর-বুযুর্গের নিকট বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের জন্য এ মর্মে প্রার্থনা করা যে, আপনি আমাকে অমুক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন বা অমুক বিষয়ে সাহায্য করেন-এটা সম্পূর্ণ শিরকি ও কুফরী কাজ।

উপায়-উপকরণের উর্ধ্বের কোনো বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক ফিল ইসতিআনা, যা اياك نستعين এর অঙ্গীকার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন।

তবে যদি জীবিত কোনো হক্কানী পীর-বুযুর্গ বা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নিকট এ মর্মে দুআ চাওয়া হয় যে, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করেন যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে বিপদ-আপদ থেকে উদ্ধার করে দেন এবং এক্ষেত্রে দুআপ্রার্থীর এ বিশ্বাস থাকে যে, তিনি আল্লাহর মাহবুব ও নৈকট্যভাজন বান্দা হিসেবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করবেন। তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এটি হাদীস ও সাহাবীগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।-ফাতাওয়া উলামাইল বালাদিল হারাম ৬০-৬২

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক, আমি তোমাদের দুআ কবুল করব।-সূরা মুমিন : ৬০

অন্যত্র ইরশাদ করেছেন, বলে দাও, আমি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের কোনো ক্ষতি করার এখতিয়ার রাখি না এবং কোনো উপকার করারও না।-সূরা জিন : ২১

অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ যদি তোমাকে কোনো কষ্ট দেন তবে এমন কেউ নেই তিনি ছাড়া, যে তা দূর করবে আর তিনি যদি তোমার কোনো মঙ্গলের ইচ্ছা করেন তবে এমন কেউ নেই, যে তার অনুগ্রহ রদ করবে। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। তিনি অতিক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।-সূরা ইউনুস : ১০৭

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সম্বোধন করে বলেছেন, হে বৎস! তুমি যদি ( কোনো কিছু) চাও তবে আল্লাহর নিকট চাও। আর যদি সাহায্য প্রার্থনা কর তবে আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা কর। জেনে রেখো, যদি সকল মানুষ সংঘবদ্ধভাবে তোমার উপকার করতে চায় তবে তারা ততটুকু উপকারই করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা তোমার ক্ষতি সাধন করতে চায় তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে যতটুকু আল্লাহ নির্ধারণ করে রেখেছেন।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৬৬৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৬/১২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ৩৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি মাগরিবের ফরযের মধ্যে এক রাকাতে সূরা কুরাইশ ও...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মাগরিবের ফরযের মধ্যে এক রাকাতে সূরা কুরাইশ ও সূরা মাউন পড়েছে এবং মাঝে বিসমিল্লাহও পড়েছে। এভাবে এক রাকাতে একাধিক সূরা পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি না?

উত্তর

একই রাকাতে পর পর দুই বা ততোধিক সূরা পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটা না করাই ভালো।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; আননাহরুল ফায়েক ১/২৩৭; তাতারখানিয়া ১/৪৫২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাছ ও দ্বিতীয়...

প্রশ্ন

আমি একদিন মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাছ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফীল পড়েছি। আমার নামায সহীহ হয়েছে কি? না হলে কী করতে হবে?

উত্তর

আপনার নামায সহীহ হয়েছে। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করা অনুত্তম। অবশ্য ভুলবশত হলে ক্ষতি নেই।

-শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৯৪; ফাতহুল কাদীর ১/২৯৯; আলমুগনী ২/১৬৯; ইলাউস সুনান ৪/১৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬-৫৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলবশত বৈঠক করেনি।...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলবশত বৈঠক করেনি। আবার তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনূতও পড়তে ভুলে যায় এবং শেষে সাহু সিজদা করেছে। জানতে চাই, তার বিতর নামায সহীহ হয়েছে কি না? তা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

উত্তর

ঐ বিতর নামায সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়া লাগবে না। কারণ ভুলে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও সবগুলোর জন্য একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট। এক নামাযে একাধিক সাহু সিজদা দেওয়ার বিধান নেই।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭-২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৪৭ ও ১/৭৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০ ও ২/৯২,৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৫-৬৮; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/৪৩৭; আলমাবসূত সারাখসী ১/২২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর চুপ...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর চুপ থেকে ভাবতে লাগল যে, কোন সূরা পড়বে। ভাবতে ভাবতে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় কেটে গেল। তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে তার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিন তাসবীহ পরিমাণ চুপ থাকার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৩ ও ১/৪৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন একদিন ফজরের নামাযের সময় হয়েছে ভেবে আযান...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন একদিন ফজরের নামাযের সময় হয়েছে ভেবে আযান দিয়ে দেয়। পরবর্তীতেও স্থির করা যায়নি যে, আযান সময়মতো দেওয়া হয়েছে না পরে। তবে আগে হয়েছে বলেই প্রবল ধারণা। এরপর আমরা ফজরের ওয়াক্তের মধ্যে ঐ আযান দ্বারা নামায আদায় করি। আমাদের নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

ওয়াক্তের পূর্বে আযান দিলে আযান সহীহ হয় না। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের আযান হয়নি। এক্ষেত্রে ওয়াক্ত হওয়ার পর আবার আযান দেওয়া উচিত ছিল। আযান না দেওয়ার কারণে মাকরূহ হয়েছে। অবশ্য আযান ছাড়া ফরয নামায পড়লেও যেহেতু নামায হয়ে যায় তাই আপনাদের ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫২২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; মাবসূত সারাখসী ১/১৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বাড়ি কুমিল্লা। সেখানে আববা, আম্মাসহ পরিবারের অন্যরা থাকে। আমি...

প্রশ্ন

আমার বাড়ি কুমিল্লা। সেখানে আববা, আম্মাসহ পরিবারের অন্যরা থাকে। আমি ঢাকায় মাদরাসায় পড়ি। সেখানে আমার থাকা-খাওয়ার পূর্ণ ব্যবস্থা রয়েছে। যেহেতু ঢাকায় পনেরো দিনের বেশি থাকা হয় তাই ‘ওয়াতনে ইকামত’ হিসাবে পূর্ণ নামায পড়ি। মাঝেমধ্যে কিছু দিনের জন্য কুমিল্লায় যাওয়া হয় এবং কয়েক দিন সেখানে থাকি। জানার বিষয় হল, কুমিল্লায় যাওয়ার কারণে ঢাকার ওয়াতনে ইকামত বাতিল হয়ে যায় কি না? আর পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা হলে নামায কসর করব কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কুমিল্লায় সাময়িক সময়ের জন্য যাওয়ার কারণে ঢাকার ‘ওয়াতনে ইকামত’ বাতিল হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা পরিপূর্ণ ত্যাগ করার নিয়তে মালপত্র নিয়ে যাওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াতনে ইকামত হিসেবে বহাল থাকবে।

আর ঢাকা যেহেতু ওয়াতনে ইকামত হিসাবে বহাল থাকছে তাই এখানে পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে আসা হলেও পুরো নামায পড়তে হবে। কসর করা যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি বাস থেকে পড়ে কপালে খুব আঘাত পেয়েছে, তাই...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বাস থেকে পড়ে কপালে খুব আঘাত পেয়েছে, তাই সে কপালের উপর সিজদা করতে সক্ষম নয়। সে নাকের উপর সিজদা করে। জানতে চাই, ঐ ব্যক্তির নাকের উপর সিজদা করার কারণে তার নামায হয়েছে কি না?

উত্তর

সিজদায় কপাল এবং নাক রাখা জরুরি। কোনো ওযরের কারণে সিজদায় কপাল জমিনে রাখা সম্ভব না হলে শুধু নাক দ্বারা সিজদা করা জায়েয। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি যেহেতু কপাল রাখতে সক্ষম নয় তাই তার জন্য শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয হয়েছে এবং তার নামায সহীহ হয়েছে।

-আলমাবসূত সারাখসী ১/২১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩৫; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ২৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকার খতীব খুতবা ছাড়াই জুমার নামায পড়িয়েছেন। জানতে চাই,এ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার খতীব খুতবা ছাড়াই জুমার নামায পড়িয়েছেন। জানতে চাই,এ জুমার নামায আদায় হয়েছে কি না এবং জুমার দিন খুতবা পড়ার কী হুকুম?

উত্তর

জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য খুতবা অন্যতম শর্ত। খুতবা ব্যতীত জুমার নামায আদায় হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে জুমার নামায আদায় হয়নি। সকলকে ঐ দিনের যোহরের নামায কাযা করে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৪৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮২; মাজমাউল আনহুর ১/২৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলার আলোচনায় বললেন, নামাযে কেরাতের তারতীব ঠিক...

প্রশ্ন

মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলার আলোচনায় বললেন, নামাযে কেরাতের তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব। আমরা জানি যে, ওয়াজিব তরক করলে সাহু সিজদা করতে হয়। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হবে কি না? যদি সাহু সিজদা করতে না হয় তাহলে নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হল কীভাবে? বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

নামাযে সূরাসমূহের তারতীব ঠিক রাখা উত্তম। নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হওয়ার কথা ঠিক নয়। হ্যাঁ, এটা ইলমে তাজবীদের মাসআলা হতে পারে। কিন্তু এটি নামাযের ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ফরয-ওয়াজিব নামাযে ইচ্ছাকৃত সূরার তারতীব ভঙ্গ করা মাকরূহ তানযীহী। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হয়ে গেলে মাকরূহ হবে না। সুতরাং এর কারণে সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৫৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৯৪; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.29 render + 0.02 s transfer.