Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৫৫৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি যোহরের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি যোহরের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে দ্বিতীয় সিজদা করতে ভুলে যায়। তৃতীয় রাকাতে রুকুর পর স্মরণ হওয়ার সাথে সাথে তা আদায় করে নেয়। এরপর যথা নিয়মে বাকি নামায শেষ করে। তবে কোনো সাহু সিজদা করেনি। আমার জানার বিষয় হল, ওই ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? হলে সেই নামাযের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সিজদা যথাসময়ে আদায় না করার কারণে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সে যেহেতু সাহু সিজদা করেনি তাই উক্ত নামাযটি পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব।

-শরহুল মুনইয়াহ ২৯৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেককে ফরয নামাযের পর মাথায় হাত রেখে يا...

প্রশ্ন

অনেককে ফরয নামাযের পর মাথায় হাত রেখে يا قوي পড়তে দেখা যায়। জানতে চাই, এ আমলের কথা নির্ভরযোগ্য কোনো কিতাবে আছে কি?

উত্তর

হাদীস, আছার ও আদইয়া-আযকারের কিতাবসমূহে আমরা প্রশ্নোক্ত আমলের কথা পাইন। এটি কোনো বুযুর্গের পরীক্ষিত আমল হয়ে যাবে। তাই একে মাসনুন মনে করা ঠিক নয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সূরা বনী ইসরাইলের ৭৯ নং আয়াতে ‘মাকামে মাহমুদ’ দ্বারা কী...

প্রশ্ন

সূরা বনী ইসরাইলের ৭৯ নং আয়াতে ‘মাকামে মাহমুদ’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? আযানের দুআয়ও শব্দটি আছে। এর দ্বারা কি জান্নাতের বিশেষ কোনো স্তর বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

‘মাকামে মাহমুদ’ দ্বারা শাফায়াতে কুবরা (বড় সুপারিশ) উদ্দেশ্য। একাধিক হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী হাশরের দিন হাশরবাসীর জন্য সর্বপ্রথম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট সুপারিশ করবেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৪৭১৮, ৭৫১০; ফাতহুল বারী ৮/২৫২, ১১/৪৩৫) সর্বপ্রথম শাফাআতের এই মর্যাদা অন্য কোনো নবী প্রাপ্ত হবেন না। আল্লাহ প্রদত্ত সুপারিশের এ অধিকারকেই আয়াত ও হাদীসে মাকামে মাহমুদ বলা হয়েছে। এর দ্বারা জান্নাতের বিশেষ কোনো স্তর বোঝানো হয়নি।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার এক বন্ধু তার কামরায় ফরয নামায পড়ছিল। আমি বাইরে...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু তার কামরায় ফরয নামায পড়ছিল। আমি বাইরে থেকে এসে দরজায় আওয়াজ করি। সে নামযারত অবস্থায় এক কাতার পরিমাণ হেঁটে এসে এক হাতে এক দফায় দরজা খুলে নিজ জায়গায় চলে গিয়ে নামায পুরো করে। একজন আলেম বলেছেন, তার নামায সহীহ হয়েছে। সত্যিই কি সহীহ হয়েছে? উল্লেখ্য, আমার ঐ বন্ধু পশ্চিম দিক থেকে সরেনি। কারণ তার রুমের দরজা পশ্চিম দিকে ছিল।

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি নামায পরিপন্থী অন্য কিছু না করে থাকলে শুধু ঐভাবে দরজা খোলা দ্বারা তার নামায নষ্ট হয়নি। কারণ সে এক হাত ব্যবহার করে এক দফায় দরজা খুলেছে। অতএব ওই আলেম সাহেবের কথা সঠিক। তবে কোনো ওজর ছাড়া নামাযে এ ধরনের সামান্য কাজেও লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৮৫, ৫৮৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৫৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৭৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি ফরয নামাযে রত বন্ধুকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ফরয নামাযে রত বন্ধুকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে সে হাতের ইশারায় অথবা মাথা নেড়ে উত্তর দিল। এ অবস্থায় তার নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

নামায অবস্থায় এক হাত অথবা মাথা দ্বারা ইশারা করে উত্তর দিলে নামায নষ্ট হয় না। তবে নামাযের হালতে এভাবে ইশারায় উত্তর দেওয়াও ঠিক নয়। কুরআন মজীদ এবং হাদীস শরীফে নামাযে খুশু-খুযুর প্রতি খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নামাযের হালতে কারো কথার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা এবং ইচ্ছাকৃত হাত বা মাথা নাড়ানো থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

কুরআন মজীদে নামাযের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখে এবং এদিক-সেদিক ভ্রুক্ষেপ না করে তাদেরকে মুমিন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

হযরত আবু যর রা. থেকে বর্ণিত হাদীস শরীফে আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযরত ব্যক্তি যতক্ষণ এদিক সেদিক ভ্রুক্ষেপ না করে ততক্ষণ আল্লাহর (বিশেষ) রহমত তার প্রতি থাকে। আর যখন সে অন্য দিকে ভ্রুক্ষেপ করে তখন আল্লাহর (বিশেষ) রহমত তার থেকে সরে যায়। (সুনানে আবু দাউদ ১/১৩১)

সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রাহ. এক ব্যক্তিকে নামাযরত অবস্থায় দাঁড়িতে হাত বুলাতে দেখে বললেন, তার অন্তরে যদি খুশু থাকত তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির থাকত। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৬, হাদীস : ৩৩০৮)

প্রকাশ থাকে যে, নামাযরত ব্যক্তির মনোযোগ নষ্ট হয় এমন কোনো কাজ করা অন্যায়। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করা এবং জবাব দিতে বাধ্য করা গুনাহর কাজ। এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

-সুনানে আবু দাউদ ১/১৩১-১৩৩; তাসফীরে ইবনে কাসীর ৪/৪৪৫; জামে তিরমিযী ১/৪৮, ৫০, ৫১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৫৩৩-৫৩৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৮-৯; নুখাবুল আফকার ৪/৪০৯-৪২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বিভিন্ন মসজিদে ফজর বা অন্য নামাযের সময় নামাযের পাঁচ/দশ মিনিট...

প্রশ্ন

বিভিন্ন মসজিদে ফজর বা অন্য নামাযের সময় নামাযের পাঁচ/দশ মিনিট আগে মসজিদের মাইক থেকে নামাযের আর মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি আছে বা এ জাতীয় অন্য কিছু বলে মুসল্লীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জামাতের কথা আবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

আমাদের এলাকায় এ নিয়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। মুফতী সাহেবের সমীপে আমার প্রশ্ন হল, এটা কী শরীয়তসম্মত?জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

নামাযের জামাতের প্রতি মুসল্লীদেরকে আহবানের জন্য শরীয়ত আযানের বিধান দিয়েছে। সুতরাং অবগতি এবং প্রস্ত্ততির জন্য আযানকেই যথেষ্ট মনে করা উচিত। তাই আযানের পর নামাযের জন্য নিয়মিত মাইকে ডাকাডাকি করা বা ঘোষণা দেওয়া সমীচীন নয়। এ থেকে বিরত থাকা উচিত। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে আযানের পর পুনরায় ঘোষণার প্রয়োজন দেখা দিলে তা জায়েয আছে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই এ ধরনের ডাকাডাকিকে নিয়মে পরিণত করা যাবে না। এতে আযানের মাহাত্ম ও গুরুত্ব কমে যাবে এবং নিজ থেকে শরীয়তে নুতন নিয়ম সংযোজন করা হবে, যা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত।

-জামে তিরমিযী ১/২৮; আলমাবসূত সারাখসী ১/১৩১; ফাতহুল কাদীর ১/২১৪; আযযখীরাহ ২/৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬০-২৬১; কিফায়াতুল মুফতী ৩/৫৪; ইমদাদুল মুফতীন ২৬৯; ইমদাদুল আহকাম ১/৪৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি এক হেফযখানার খেদমতে আছি। আমাদের মাদরাসাটি মসজিদের একেবারে নিকটে...

প্রশ্ন

আমি এক হেফযখানার খেদমতে আছি। আমাদের মাদরাসাটি মসজিদের একেবারে নিকটে অবস্থিত। আজান হলে স্পষ্ট শোনা যায়। জানার বিষয় হল, সবক চলাকালে যখন মসজিদে আযান হয় তখন ছাত্রদের তেলাওয়াত বন্ধ করে আযানের জওয়াব দেওয়া জরুরি কি না।

উত্তর

সাধারণ অবস্থায় তেলাওয়াতের সময় আযান শুনলে, তেলাওয়াত মওকুফ করে আযানের জওয়াব দেওয়াই উত্তম। কিন্তু যারা কুরআন মজীদ শেখা বা শেখানোয় ব্যস্ত থাকে তারা তাদের পড়াশেনা অব্যাহত রাখতে পারে। এ অবস্থায় তাদের আযানের জওয়াব না দেওয়ারও অবকাশ রয়েছে। সকল ছাত্রের পড়া বন্ধ করে আযানের জওয়াব দেওয়ানোর প্রয়োজন নেই।

-আসসিআয়াহ ২/৫১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত পড়ার আগে হাত তুলে আবার হাত...

প্রশ্ন

বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত পড়ার আগে হাত তুলে আবার হাত বাঁধতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, বাঁধা থেকে হাত উঠাব, না হাত ছেড়ে দিয়ে পুনরায় হাত বাঁধার জন্য হাত উঠাব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দুআ কুনূতের তাকবীরের জন্য হাত উঠানোর সময় হাত ছেড়ে দিয়ে তারপর উঠানোর কোনো নিয়ম আছে বলে আমাদের জানা নেই। তাই সরাসরি হাত উঠাবে, হাত ছাড়বে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কিছুদিন আমি ফজর নামাযের কেরাত পড়ার সময় ভুলেان الله يحب...

প্রশ্ন

কিছুদিন আমি ফজর নামাযের কেরাত পড়ার সময় ভুলে

ان الله يحب المحسنين

এর স্থলে

ان الله لا يحب المسلمين

পড়েছি। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি? না হয়ে থাকলে এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। উক্ত নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৭৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা ঘরে একা একা নামায পড়ার সময় ইকামত বলবে কি...

প্রশ্ন

মহিলারা ঘরে একা একা নামায পড়ার সময় ইকামত বলবে কি না?

উত্তর

মহিলাদের জন্য আযান-ইকামতের বিধান নেই। তাদের আযান-ইকামত দেওয়া মাকরূহ। তারা আযান-ইকামত ছাড়া নামায আদায় করবে।

সুনানে বায়হাকী ১/৪০৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮; ফাতহুল কাদীর ১/২১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩; ফাতাওয়া শামী ১/৩৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সূরা ফালাক এবং সূরা নাস নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট জানতে চাই।...

প্রশ্ন

সূরা ফালাক এবং সূরা নাস নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট জানতে চাই। আর এর উপকারিতাও জানতে চাই। শুনেছি, এই সূরার আমল করলে যাদুটোনা বা অন্যের অনিষ্ট থেকে হেফাযতে থাকা যায়।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত সূরা দুটি নাযিল হওয়ার প্রেক্ষাপট বা শানে নুযূল হল, হুদাইবিয়ার ঘটনার পর লাবীদ ইবনে আসাম এবং তার কন্যারা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যাদু করেছিল। ফলে তিনি কিছুটা কষ্ট অনুভব করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফেরেশতাদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা যাদুকরের নাম এবং কোথায়, কিভাবে যাদু করা হয়েছে এ সম্পর্কে জানিয়ে দিয়েছেন। চিরুনী ও চুলের সাহায্যে যাদু করা হয়, যা যারওয়ান কূপের তলদেশে একটি পাথরের নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। এই অসুস্থতার সময় প্রশ্নোক্ত সূরাদ্বয় নাযিল হয়েছে। সূরা দুটি নাযিল হওয়ার পর ফেরেশতাদের বিবরণ অনুযায়ী ওই কূপ থেকে তা তুলে আনা হয়। অতপর ওই সূরা দুটি পড়ে গিরা খুললে তৎক্ষণাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্থ হয়ে উঠেন।

এই সূরা দুটি পড়লে অনিষ্ট ও যাদু থেকে হেফাযতে থাকা যায়। হাদীস শরীফৈ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর তা পড়ার গুরুত্ব এসেছে। এক বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা সূরা ইখলাস ও এই দুই সূরা পড়বে সে সকল বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।

জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৯০৩; সুনানে আবু দাউদ,হাদীস : ১৫২৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৯২৬৬; সুনানে নাসাঈ ২/১৫৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৯১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জানাযার নামায পড়িয়ে বিনিময় নেওয়া কি জায়েয?

প্রশ্ন

জানাযার নামায পড়িয়ে বিনিময় নেওয়া কি জায়েয?

উত্তর

জানাযার নামাযের ইমামতি করে বিনিময় নেওয়া জায়েয নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪;আলইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার ২/৬২; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যোহরের নামায কোনো কারণবশত একাকী আদায় করছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে ভুলবশত...

প্রশ্ন

যোহরের নামায কোনো কারণবশত একাকী আদায় করছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা মিলাইনি। তাই তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা পড়ে নিয়েছি। যেহেতু আমি দ্বিতীয় রাকাতের ক্ষতি তৃতীয় রাকাতে পূরণ করে নিয়েছি তাই সিজদায়ে সাহু করিনি। কাজটি কি সঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতে সূরা না পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। তৃতীয় রাকাতে সূরা পড়ার দ্বারা ঐ ক্ষতি পূর্ণ হয়নি। ক্ষতিপূরণের জন্য সাহু সিজদা জরুরি ছিল। যেহেতু আপনি সাহু সিজদা করেননি তাই ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।

মারাকিল ফালাহ ১৩৫; শরহুল মুনইয়াহ ২৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার জায়নামাযের উপরের অংশে এক কোণে বাচ্চার পেশাব লেগে প্রায়...

প্রশ্ন

আমার জায়নামাযের উপরের অংশে এক কোণে বাচ্চার পেশাব লেগে প্রায় অর্ধ হাত ছড়িয়ে যায়। নামাযের ওয়াক্ত হলে ওই জায়নামায বিছিয়েই নামায আদায় করি। যেহেতু পেশাব এক কোণে ছিল তাই নামায পড়ার সময় শরীর ও কাপড়ের কোনো অংশ নাপাক স্থানটিতে পড়েনি। জানতে চাই, আমার নামায কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী নামাযের হালতে শরীরের কোনো অংশ যেহেতু নাপাক জায়গায় লাগেনি তাই নামায সহীহ হয়ে গেছে। অবশ্য এ ধরনের আংশিক নাপাক জায়নামাযেও নামায পড়া ঠিক নয়। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র, তিনি পবিত্রতাকে পছন্দ করেন।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৮;শরহুল মুনইয়াহ ২০০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের মধ্য আমার প্রায়ই হাই আসে। এ অবস্থায় আমার করণীয়...

প্রশ্ন

নামাযের মধ্য আমার প্রায়ই হাই আসে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী, জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাদীস শরীফে আছে, ‘হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।’ (সহীহ বুখারী ১/৬৪৬) তাই নামাযে হাই আসলে যথাসাধ্য তা দমন করার চেষ্টা করবে। একান্তই দমন করা সম্ভব না হলে হাত বাঁধা অবস্থায় হাই এলে ডান হাতের পিঠ মুখের উপর রাখবে। এছাড়া অন্য অবস্থায় বাম হাত রাখবে।

আলবাহরুর রায়েক ২/২৫;শরহুল মুনইয়া ৩৪৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষ (আমার মার ফুফা আমাদের নানা) ৮০ বছর...

প্রশ্ন

আমাদের পরিবারের পূর্বপুরুষ (আমার মার ফুফা আমাদের নানা) ৮০ বছর পূর্বে একটি মসজিদের জন্য মৌখিকভাবে জায়গা দান করেন, সে জায়গায় একটি মসজিদ স্থাপন করা হয়। মসজিদঘরের দক্ষিণ পাশে মসজিদের জায়গার একটি অংশে দাতার মেয়ে, নাতনি ও আমার দাদির কবর হয়। পরবর্তীকালে তার ওয়ারিশ যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন (আমার বাবা) তিনি মসজিদের নামে একটি দলিল করে দেন। এরপর মসজিদ বড় করার প্রয়োজন হলে কবরগুলো ঠিক রেখে দক্ষিণে একতলা বিল্ডিং করা হয় এবং পূর্বের জায়গায় একটি হিফযখানা তৈরি করা হয়। হিফযখানার একটি অংশের নিচে কবরগুলো চলে আসে। স্থানীয় আলেমরা বলেছিলেন, হেফযখানা কবরের উপর হলে কেনো অসুবিধা নেই। বর্তমানে মসজিদকমিটি সেই হিফযখানা উঠিয়ে দিয়ে সেখানে মসজিদ সম্প্রসারণ করছেন। তাদের কাছে মাসআলা হল ২৫ বছরের পুরনো কবরের উপর মসজিদ করা যাবে।

আসলে কুরআন্তহাদীসের আলাকে কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না এবং সেখানে নামায পড়া ঠিক হবে কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ এবং প্রশ্নকারীর মৌখিক বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু ওই ১৫ শতাংশ জায়গার পুরোটাই মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত এবং এতে বিদ্যমান কবরগুলো বেশ পুরনো তাই বর্তমানে ওই জায়গায় মসজিদ সমপ্রসারণ করা জায়েয হবে। এক্ষেত্রে যদি সেখানে কবরের কোনো চিহ্ন থাকে তাহলে তা সমান করে দিতে হবে। মসজিদের ভিতরে কবরের কোনো চিহ্ন রাখা যাবে না। আর কবরবাসীদের আত্মীয়-স্বজনের কর্তব্য হবে এতে বাধা না দেওয়া।

ফাতহুল কাদীর ৫/৪৩২; মাজমাউল আনহুর ২/৫৮১;আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৫, ২/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৫০; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫১-৩৫২,২/২৩৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ক) নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কোনো মেয়ের হায়েয...

প্রশ্ন

ক) নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর কোনো মেয়ের হায়েয শুরু হলে তাকে ঐ ওয়াক্তের নামায কাযা করতে হবে কি?

খ) আরেক মেয়ে ইশার শুধু ফরয ও সুন্নত নামায আদায় করেছে। আর বিতরের নামায শেষ রাতে উঠে পড়বে মনে করে ঘুমিয়ে যায়, কিন্তু ফজরের আযানে তার ঘুম ভাঙ্গে। উঠে দেখে তার হায়েয শুরু হয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হল, ঐ বিতরের নামায কাযা করতে হবে কি না?

উত্তর

ক) না, যে ওয়াক্তে মাসিক শুরু হয়েছে ঐ ওয়াক্তের কাযা করতে হবে না।

খ) হ্যাঁ, পবিত্র হওয়ার পর ঐ রাতের বিতর কাযা করে নিতে হবে।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, আছার : ১২৯০; উসূলুস সারাখসী ১/৩৩; রদ্দুল মুহতার ১/১৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

দ্বীনী আলোচনার পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং জুমার খুতবার পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়া...

প্রশ্ন

দ্বীনী আলোচনার পূর্বে বিসমিল্লাহ এবং জুমার খুতবার পূর্বে আউযুবিল্লাহ পড়া কেমন?

উত্তর

যেকোনো ভালো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করা যায়। তবে দু’এক জায়গা এর ব্যতিক্রম। যেমন-দ্বীনী আলোচনা এবং খুতবার পূর্বে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়াটা হাদীস শরীফ এবং সাহাবা, তাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত নয়; বরং এক্ষেত্রে সুন্নত নিয়ম হল, হামদ ও সালাতের মাধ্যমে শুরু করা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম দ্বীনী আলোচনা হামদ ও সালাতের মাধ্যমে শুরু করতেন। তাই ভালো কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করতে হয় এই মূলনীতি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; বরং ওয়াজ আল্লাহর হামদ দ্বারা শুরু করা, আযান এবং নামায আল্লাহু আকবার বলে শুরু করাই নিয়ম। এক্ষেত্রেও ব্যাপক নিয়ম অনুসরণ করে আউযুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়া ঠিক হবে না। ফকীহ ইবনে নুজায়েম রাহ. আলবাহরুর রায়েক কিতাবে (২/১৪৯) ইমাম আবু ইউসুফ রাহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, খুতবার পূর্বে আস্তে করে আউযুবিল্লাহ পড়া উচিত। তবে এ বিষয়ে হাদীসের দলীল পাওয়া যায়নি। তাই এক্ষেত্রে হামদ ও সালাত দ্বারা শুরু করা উচিত।

সুনানে ইবনে মাজাহ ১/১৩৬; সহীহ ইবনে হিব্বান ১/১৭৩; মুসনাদে আহমদ ২/৩৫৯;সুনানে নাসাঈ পৃ. ৪৯৪; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৮৪৯; ইতহাফুস সাদাত ৩/৪৬৭; মুসলিম ১/২৮৩;যাদুল ১/৪৩১; দালাইলুন নবুওয়াহ ২/৫২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৪৮;আততারগীব ওয়াততারহীব ৩/২৩৩; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/১৭৮; ইলাউস সুনান ৮/৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৬; আলমুহাল্লা ৩/২৬২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ক) শীতকালে কিছু মুসল্লীকে দেখা যায়, নামাযের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায়...

প্রশ্ন

ক) শীতকালে কিছু মুসল্লীকে দেখা যায়, নামাযের মধ্যে দাঁড়ানো অবস্থায় গায়ের চাদর পড়ে গেলে এমনভাবে চাদর পরেন যে, সিনা কেবলার দিক থেকে ফিরে যায়। তাদের নামাযের হুকুম কী? কতুটুকু ফিরার কারণে নামা ভেঙ্গে যাবে? প্রমাণসহ জানতে চাই।

খ) একজন মুসল্লী দাঁড়িয়ে নামায পড়ছেন। হঠাৎ তার পায়ে একটি মশা কামড় দেয়। সহ্য করতে না পেরে তিনি দাঁড়ানো থেকে ঝুঁকে মশাটি মেরেছেন। এতে কি তার নামায ভেঙ্গে গেছে? অনুগ্রহ করে দলিলসহ সঠিক সমাধান দিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন।

উত্তর

ক) নামাযের হালতে সিনা কিবলার দিক থেকে সামান্য ফিরে গেলে নামায ফাসেদ হয় না। আর নামাযী ব্যক্তি যদি সঠিকভাবে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে তাহলে চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা যে পরিমাণ ঘুরে তা সাধারণত খুব সামান্য হয়ে থাকে। এর দ্বারা নামায ফাসেদ হবে না।

কিন্তু যদি চাদর ঠিক করতে গিয়ে সীনা কিবলা থেকে এত বেশি ঘুরে যায় যে, সীনা কিবলা থেকে ৪৫ ডিগ্রির চেয়ে বেশি উত্তর বা দক্ষিণ দিকে চলে আসে তাহলে এ অবস্থায় তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় অতিবাহিত হলে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। এর চেয়ে কম সময় হলে নামায নষ্ট হবে না।

উল্লেখ্য যে, নামায শুরু করার পূর্বেই গায়ের চাদর এমনভাবে পরে নেওয়া উচিত যেন তা নামাযের মধ্যে পড়ে না যায়।-রদ্দুল মুহতার ১/৬২৬; শরহুল মুনইয়াহ ৩৫১; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৭৭;আলফাতাওয়াল খাইরিয়্যাহ ১/১৮

খ) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ লোকাটির নামায নষ্ট হয়নি। তবে দাঁড়ানো থেকে এভাবে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়। ইচ্ছা করলে অন্যভাবেও মশাটি তাড়ানো যেত।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/১৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৫; ইলাউস সুনান ৫/১৫১-১৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর...

প্রশ্ন

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহীহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। সাথে মাহরাম পুরুষও এসে পড়েন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

উত্তর

ভিড়ের ওজরে অন্যকে দিয়ে রমী করানো (কংকর মারানো) বৈধ নয়। এর দ্বারা তাদের এই ওয়াজিব আদায় হবে না। দিনের বেলায় ভিড় থাকলেও রাতে তেমন ভিড় থাকে না। রাতে মহিলা ও দুর্বলদের জন্য রমীর উপযুক্ত সময়। প্রকাশ থাকে যে, অন্যকে দিয়ে রমী করানো কেবল তখনই জায়েয যখন হাজ্বী অসুস্থতার কারণে জামরাতে পৌঁছতে এবং রমী করতে সক্ষম না হন। যে অসুখে তার জন্য বসে নামায পড়া বৈধ এমন অবস্থায় অন্যকে দিয়ে রমী করাতে পারবেন, অন্যথায় নয়। আর ভিড়ের ওজরে মহিলাদের জন্য উকূফে মুযদালিফা না করে আরাফা থেকে সরাসরি মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি আছে। এতে তাদের উপর দম ওয়াজিব হবে না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশী হাজ্বীদের মিনার তাঁবুগুলো যেহেতু মূলত মুযদালিফার সীমানাতেই পড়ে তাই আরাফা থেকে সরাসরি মিনার ঐ তাঁবুতে চলে গেলেও সকলের উকূফে মুযদালিফা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু সক্ষমদের জন্য উত্তম হবে মসজিদে মাশআরে হারামের নিকটে খোলা আকাশের নিচে উকূফ করা।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায...

প্রশ্ন

শবে বরাত ও শবে কদর উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কি না-এ প্রশ্ন অনেকে করে থাকেন। এক ধরনের চটি বই পুস্তিকায় বিভিন্ন নিয়মের কথা লেখাও থাকে। বিশেষ বিশেষ সূরা দিয়ে নামায পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামায বিশেষ সূরা দ্বারা আদায় করা ইত্যাদি। প্রশ্ন এই যে, হাদীস শরীফে এ দুই রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কি? থাকলে তা জানতে চাই।

তদ্রূপ কেউ কেউ এ রাতগুলোতে জামাতের সঙ্গে নফল নামায পড়তে চায়। এ ব্যাপারে শরয়ী বিধান কী?

উত্তর

এ দু’রাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায নেই। সব সময় যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে সম্ভব হয় পড়বে। তদ্রূপ অন্যান্য আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই। কুরআন তেলাওয়াত, যিকির-আযকার, দুআ-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয় আদায় করবে। তবে নফল নামায দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা কোনো কোনো হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয়।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানূন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সূরা এতবার পড়তে হবে-এগুলো ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া পন্থা।

বলাবাহুল্য যে, যে কোনো বই-পুস্তিকায় কোনো কিছু লিখিত থাকলেই তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিজ্ঞ আলিমদের নিকট থেকে জেনে আমল করা উচিত।

শবে বরাত ও শবে কদরের নফল আমলসমূহ, বিশুদ্ধ মতানুসারে একাকী করণীয়। ফরয নামায তো অবশ্যই মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করতে হবে। এরপর যা কিছু নফল পড়ার তা নিজ নিজ ঘরে একাকী পড়বে। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদীস শরীফেও১ নেই আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এর রেওয়াজ ছিল না।-ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ পৃ. ২১৯

তবে কোনো আহ্বান ও ঘোষণা ছাড়া এমনিই কিছু লোক যদি মসজিদে এসে যায় তাহলে প্রত্যেকে নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকবে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির কারণ হবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, কোনো ব্যক্তি একাকী ফরয নামায আদায়কালে অন্য কেউ...

প্রশ্ন

আমরা জানি, কোনো ব্যক্তি একাকী ফরয নামায আদায়কালে অন্য কেউ তার ইকতিদা করতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হল, জামাত শেষ হওয়ার পর কোনো মাসবুকের পেছনে ইকতিদা করা সহীহ হবে কি না?

উত্তর

না, মাসবুকের পেছনে ইকতিদা করা জায়েয নয়। অতএব তার ইকতিদা করলে ইকতিদাকারীর নামায সহীহ হবে না।-ছদহুল হামামা ফি শুরূতিল ইমামাহ, শায়খ আবদুল গনী নাবুলুসী পৃ. ৯২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৮; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মহল্লায় একটি মকতব আছে। যেখানে সকাল বেলা কুরআন শিখানো...

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লায় একটি মকতব আছে। যেখানে সকাল বেলা কুরআন শিখানো হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হয়। মূলত জায়গাটা ওয়াকফ করা হয়েছে মকতবের জন্য। বর্তমানে মুসল্লিরা সেটাকে জুমআর মসজিদ করতে চায়। জুমআর মসজিদের কথা শুনে মসজিদের পূর্ব পশ্চিম পাশের জায়গার মালিক তাও ওয়াকফ করতে আগ্রহী হয়েছেন। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় মকতবের জায়গাসহ পুরোটার উপর কি জুমআর মসজিদ বানানো যাবে? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী ওয়াকফকারী যেহেতু জায়গাটি মকতবের জন্য ওয়াকফ করেছে তাই সেখানে মসজিদ বানানো জায়েয হবে না; বরং ওয়াকফের শর্তানুযায়ী এ স্থান মকতব ও মাদরাসার জন্য নির্ধারিত থাকবে। মসজিদ নির্মাণের প্রয়োজন হলে পৃথক জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানে তা বানানো যাবে।

পার্শ্ববর্তী জায়গার মালিক যেহেতু মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে ইচ্ছুক তাই তাদের থেকে জায়গা নিয়ে সেখানে মসজিদ বানানো যাবে।

আলআশবাহ ওয়ান নাযায়ের ২/২২৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৮/২৩৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৪৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৪৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের দেশে শীতকালে অনেকে মাথায় রুমাল পরে থাকে। সাধারণত তারা...

প্রশ্ন

আমাদের দেশে শীতকালে অনেকে মাথায় রুমাল পরে থাকে। সাধারণত তারা রুমালটিকে তিন কোণ করে এক কোণ পেছনে পিঠের উপর ফেলে রাখে। অবশিষ্ট দুই কোণ দুই কাঁধের উপর দিয়ে সামনে বুকের উপর ঝুলিয়ে দিয়ে ডানের কোণটিকে ঘুরিয়ে বাম কাঁধের উপর ফেলে রাখে। আর বামের কোণটিকে এমনিতেই ঝুলন্ত রাখে। রুকু-সিজদার সময় তা সম্মুখে ঝুলতে থাকে।

প্রশ্ন হল, এভাবে নামাযে রুমালের একটি কোণ না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত রেখে দিলে নামায কি মাকরূহ হবে?

উত্তর

না। নামায অবস্থায় প্রশ্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে রুমালের এক কোণ সম্মুখে ঝুললে এর দ্বারা নামায মাকরূহ হবে না। তবে উত্তম হল নামায অবস্থায় দুই প্রান্তকে কাঁধের সাথে পেঁচিয়ে রাখা। কেননা, তা নামাযীর সম্মুখে ঝুলতে থাকলে তার নামাযের একাগ্রতায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

হেদায়া (ফাতহুল কাদীর) ১/৩৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৯২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৪৭; আননাহরুল ফায়েক ১/২৮১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জুমার পূর্বের চার রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কি আছারে সাহাবা দ্বারা...

প্রশ্ন

জুমার পূর্বের চার রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কি আছারে সাহাবা দ্বারা প্রমাণিত?

উত্তর

হ্যাঁ, জুমার পূর্বের চার রাকাত আছার দ্বারা প্রমাণিত। নিম্নে কিছু উল্লেখ করা হল

১. আবু উবাইদ বর্ণনা করেন যে, হযরত আবদুল্লাহ জুমার পূর্বে চার রাকাত পড়তেন। (ইবনে আবী শায়বা ৫৪০২)

২. বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রাহ. বলেন, ‘তাঁরা (সাহাবায়ে কেরাম) জুমার আগে চার রাকাত সুন্নাত নামায পড়তেন।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫৪০৫)

সাহাবায়ে কেরামের এই আমল জুমার পূর্ব চার রাকাত নামায সুন্নত প্রমাণিত হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। কারণ এই আমল তারা নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পেয়েছেন। এছাড়া যোহরের পূর্বে চার রাকাত নামায পড়ার যে কারণ হাদীস শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ ‘সূর্য ঢলে যাওয়ার পরের সময়টা এমন যে, তখন আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়।’ তা জুমার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

তারাবীর দুই রাকাত নামাযের প্রথম রাকাতে যে পৃষ্ঠা থেকে পড়া...

প্রশ্ন

তারাবীর দুই রাকাত নামাযের প্রথম রাকাতে যে পৃষ্ঠা থেকে পড়া হয়েছে দ্বিতীয় রাকাতে কি তার পূর্বের পৃষ্ঠা থেকে পড়া যাবে? যেমন-কেউ প্রথম রাকাতে কোনো পারার তৃতীয় পৃষ্ঠা পড়ল। দ্বিতীয় রাকাতে চতুর্থ পৃষ্ঠা পড়ার পূর্বে প্রথম পৃষ্ঠার ছুটে যাওয়া একটি আয়াত পড়ে নিল। তারতীবের এ সামান্য ত্রুটির কারণে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

উত্তর

তারাবীর নামাযে এভাবে পেছন থেকে পড়ার অবকাশ আছে। এতে নামাযের ক্ষতি হবে না। খতম পুরা করার জন্য ছুটে যাওয়া আয়াত এভাবে পড়া যেতে পারে। তবে ছুটে যাওয়া আয়াত পড়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য পরবর্তী আয়াতগুলো পড়ে নেওয়া ভালো।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৮, ১/১১৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪৮, ২/২৫৪; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৪০৭, ৪৯৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৬০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন আসরের নামাযে ইমামতি করছিলাম। চতুর্থ রাকাতের জন্য না...

প্রশ্ন

আমি একদিন আসরের নামাযে ইমামতি করছিলাম। চতুর্থ রাকাতের জন্য না দাঁড়িয়ে ভুলে বসে পড়ি। কিন' তখনি পিছন থেকে লোকমা শুনে উঠে পড়ি। বসা অবস্থায় কিছু পড়ার সুযোগ হয়নি। এরপর সাহু সিজদা ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল?

উত্তর

হ্যাঁ, নামাযটি সহীহভাবেই আদায় হয়েছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। কেননা, প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ঐ বৈঠকে অধিক সময় তথা এক রুকন পরিমাণ বিলম্ব হয়নি। আর এক্ষেত্রে এক রুকন পরিমাণ বিলম্ব না হলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।

আলমুদাওয়ানাহ ১/৭৪; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/২১২; শরহুল মুহাযযাব ৩/৪১৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২২৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৯; মুগনিল মুহতাজ ১/২৩৮; আলালমারাকী পৃ. ২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ক) ফরয নামাযের পর মোনাজাতের আগে বা মোনাজাত ব্যতীত আয়াতুল...

প্রশ্ন

ক) ফরয নামাযের পর মোনাজাতের আগে বা মোনাজাত ব্যতীত আয়াতুল কুরসী, তাসবীহ ইত্যাদি পড়া যাবে?

খ) ফরয নামাযের পর সাধারণত উচ্চ স্বরে মোনাজাত করা হয়। তখন পিছনে মাসবুক ব্যক্তিরা ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করে। এই সময় কি উচ্চস্বরে মোনাজাত করা জায়েয আছে? আর উচ্চ স্বরে মোনাজাত করার হুকুম কী?

উত্তর

(ক) যে সমস্ত নামাযের পর সুন্নত নেই যেমন ফজর ও আসর-এদুই নামাযের পর তাসবীহ, আয়াতুল কুরসী বা অন্যান্য দুআ মোনাজাতের আগে বা পরে যে কোনো সময় পড়া যাবে।

আর যে সব নামাযের পর সুন্নত আছে অর্থাৎ যোহর, মাগরিব ও ইশা এসব ওয়াক্তে আয়াতুল কুরসী ও তাসবীহ সুন্নতের পর পড়া উচিত। এসব ওয়াক্তে ফরয আদায়ের পর বেশি অপেক্ষা না করে সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া উত্তম।

সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ৬৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩২; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৪১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৫৬; ইলাউস সুনান ৩/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৫০

খ) মোনাজাত উচ্চ আওয়াজে বা নিম্ন আওয়াজে উভয় পদ্ধতিতেই করা জায়েয। তবে উচ্চ আওয়াজের কারণে কোনো নামাযীর নামাযে বিঘ্ন ঘটার আশংকা হলে তখন উচ্চ আওয়াজে মুনাজাত করা জায়েয নয়। সুতরাং পিছনে মাসবুক বা অন্য নামাযী থাকলে উচু আওয়াজে মুনাজাত করবে না।

সহীহ বুখারী ১/১১৬; ফাতহুল বারী ২/৩৭৯; ফায়যুল বারী ২/৩১৫; শরহুল আশবাহ হামাবী ৪/৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বগুড়া সদর উপজেলার অন্তর্গত গোকুল মধ্যপাড়া গ্রামে ১৯৮৪ সালে জনৈক...

প্রশ্ন

বগুড়া সদর উপজেলার অন্তর্গত গোকুল মধ্যপাড়া গ্রামে ১৯৮৪ সালে জনৈক ব্যক্তি একটি টেক্সটাইল মিল স্থাপন করেন। মিলের শ্রমিকদের নামাযের জন্য তিনি মিল সংলগ্ন একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। এলাকার মুসল্লিরাও সেখানে নামায আদায় করেন। মসজিদের খেদমতের দায়িত্ব মিল মালিক কর্তৃপক্ষ বহন করতেন।

পরবর্তীতে মিলে মন্দা দেখা দিলে মিল মালিক জনগণের উপর দায়িত্ব প্রদান করেন। সেই থেকে অদ্যাবধি অত্র এলাকার জনগণ মাসিক চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে মসজিদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করছেন।

বর্তমানে মসজিদটির সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন। এখানে উল্লেখ্য যে, মিল ও মসজিদ নির্মাণের পূর্বে মালিক সমুদয় সম্পত্তি সোনালী ব্যাংকের নিকট মর্গেজ রাখেন। যা বর্তমানে অনাদায়ী হিসাবে আদালতে ডিক্রি জারি মোকাদ্দমা চলছে। মসজিদ সংস্কারের জন্য ইতিপূর্বে মালিকের সাথে আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে ওয়াকফ করে দেওয়ার ব্যাপারে। তিনি জানালেন, যেহেতু সমস্ত সম্পত্তি ব্যাংকের নিকট মর্গেজ আছে সেহেতু তিনি মৌখিকভাবে ওয়াকফ করে দিলেন মর্মে এলাকার মুসল্লিদের সামনে স্বীকার করেন। তিনি আরও জানালেন যে, পরবর্তীতে আমি বা আমার কোনো ওয়ারিশ এই মসজিদের দাবি করতে পারব না। মসজিদটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করতে এলাকার জনগণের সাহায্য ও সহযোগিতার প্রয়োজন। কিন্তু লিখিতভাবে ওয়াকফ না থাকায় সবার মনে যেসব বিষয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে তা হল :

১. অত্র মসজিদের মুসল্লীদের নামায জায়েয হয়েছে কি না?

২. লিখিতভাবে ওয়াফকফের প্রয়োজন আছে কি না?

৩. মর্গেজকৃত জমিতে মসজিদটির পুননির্মাণ কাজ করা জায়েয হবে কি না?

৪. মসজিদের নাম পূর্বে গোকুল টেক্সটাইল মিল জামে মসজিদ ছিল। এখন তা পরিবর্তন করে ‘গোকুল মধ্যপাড়া জামে মসজিদ’ রাখা যাবে কি না?

৫. যদি কোনো আইনী জটিলতার কারণে মসজিদ পুনর্নির্মাণ বা সংস্কার সম্ভব না্ হয় তাহলে ঐ মসজিদের জায়গার পরিবর্তে আশেপাশেই অন্য কোথাও নতুনভাবে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি না।

কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক উত্তর দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন করছি।

উত্তর

মর্গেজকৃত জমির ওয়াফক কার্যকর হয় না; বরং ঝুলন্ত থাকে। তাই প্রশ্নোল্লিখিত মসজিদটি এখনো শরয়ী মসজিদ হিসাবে পরিগণিত হয়নি। তবে মর্গেজ ছুটে গেলে দাতার কথা মতো তা ওয়াকফিয়া সম্পত্তি হয়ে যাবে। বর্তমানে যেহেতু এটি বন্ধকি সম্পত্তি এবং প্রশ্নকারীর বক্তব্য অনুযায়ী মসজিদের জন্য ব্যাংক থেকে ক্রয়ের চেষ্টা করার পরও তা সম্ভব হয়নি তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ঐ জায়গায় মসজিদের পুনর্নির্মাণ জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে এলাকাবাসীর কর্তব্য হল, ঐ জায়গার আশেপাশে মসজিদের জন্য জমি ক্রয় করে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করা। আর এই নতুন মসজিদের নাম গোকুল মধ্যপাড়া জামে মসজিদ রাখা যাবে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত মর্গেজের জায়গায় আদায়কৃত সকল নামায সহীহ হয়েছে।

আরো উল্লেখ্য যে, জমির মালিকের জন্য নৈতিক দায়িত্ব হল উক্ত জায়গা ব্যাংক থেকে অবমুক্ত করে ওয়াকফ কার্যকর করা।

জামে তিরমিযী ২/১১৭; তুহফাতুল আহওয়াযী ৮/১০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৫৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪১২; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫০৬; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৯৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযীর সামনে সুতরা স্থাপন না করলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া...

প্রশ্ন

নামাযীর সামনে সুতরা স্থাপন না করলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। এখন কেউ যদি একজন নামাযী ব্যক্তির সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করার পর তা টান দিয়ে অন্য নামাযী ব্যক্তির সামনে দেয় তবে বিধান কী?

উত্তর

বিশেষ প্রয়োজনে ঐভাবে অতিক্রম করা জায়েয হবে। তবে এতে নামাযীর মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই বিনা প্রয়োজনে এমন করবে না।

উল্লেখ্য, নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অন্যান্য মুসল্লি বা সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্ভাবনা থাকলে নামায শুরুর আগে সুতরা সামনে রেখে নামাযে দাঁড়ানো সুন্নত।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬৩১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির দাড়ি নাড়ানো অভ্যাস। প্রায় সময় সে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির দাড়ি নাড়ানো অভ্যাস। প্রায় সময় সে দাড়ি নাড়াচাড়া করে। নামাযের মধ্যেও মাঝে মধ্যে অভ্যাসগত কারণে দাড়িতে চলে যায়। অবশ্য তিনি এ জন্য এক হাতই ব্যবহার করে থাকেন। জানতে চাই, এ কারণে তার নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? আর তার জন্য কী করণীয়?

উত্তর

নামাযে খুশ-খুযু তথা নামাযের প্রতি পূর্ণ নিবিষ্টচিত্ত থাকা জরুরি। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) মুমিনগণ সফলকাম, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়-নম্র।’ (সূরা মুমিনুন : ১-২)

হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামায অবস্থায় দাড়ি নিয়ে খেলা করতে দেখে ইরশাদ করেন-যদি তার অন-র নিবিষ্ট থাকত তবে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোও নিবিষ্ট হত। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৩)

সুতরাং নামায অবস্থায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া হাত, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। নামায অবস্থায় অযথা দাড়িতে হাত দেওয়া মাকরূহ। তাই এ অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

সূরা মুমিনুন : ১-২; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৬৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৪৫ ও ৪৪১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯ ও ২/১১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সূরা জুমআর ৯ নং আয়াতে জুমার আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ...

প্রশ্ন

সূরা জুমআর ৯ নং আয়াতে জুমার আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে। এখানে কোন আযান উদ্দেশ্যে প্রথম আযান নাকি দ্বিতীয় আযান? যদি প্রথম আযান উদ্দেশ্য হয় তাহলে প্রশ্ন হল, অনেক এলাকায় প্রথম আযান হয় সোয়া বারোটায় আর খুতবার আযান হয় একটায় বা সোয়া একটায়। তাহলে কি এ সময়ের ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই গোনাহগার হবে?

উত্তর

জুমআর আযানের পর ক্রয়-বিক্রয় নাজায়েয। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) ‘হে মুমিনগণ, জুমআর দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। (সূরা জুমআ : ৯)

উক্ত আয়াতে আহ্বান বলতে মৌলিকভাবে দ্বিতীয় আযান (খুতবার আযান) উদ্দেশ্য হলেও। শব্দের ব্যাপকতার মাঝে জুমআর প্রথম আযানও অন্তর্ভুক্ত। তাই তাফসীরবিদ ও ফিকহবিদগণের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী প্রথম আযানের পরও জুমআর প্রস্তুতিমূলক কাজ ব্যতীত অন্য কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া উক্ত আয়াতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। অতএব তা নাজায়েয ও গুনাহের কাজ।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৪/১২০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২০৫; আদ্দুররুল মানছুর ২/২১৯; বয়ানুল কুরআন ৩/৫৪৭; তাফসীরে মাযহারী ১০/২৮১; তাফসীরে শায়খুল হিন্দ পৃ. ৭১৮; আহকামুল কুরআন, ইমাম ইসমাঈল ইবনে ইসহাক ২৮৬; রদ্দুল মুহতার ২/১৬১; আততাসহীহ ওয়াত তারজীহ ১৮৫; ইলাউস সুনান ৮/৮৬; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩২৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

প্রত্যেক ফরয নামাযের পর মাথায় হাত দিয়ে যে দুআ পড়া...

প্রশ্ন

প্রত্যেক ফরয নামাযের পর মাথায় হাত দিয়ে যে দুআ পড়া হয় সেটি কোন দুআ? তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত কি না জানতে চাই।

উত্তর

একটি দুর্বল বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষে তাঁর ডান হাত মাথায় বুলাতেন এবং নিম্নোক্ত দুআটি পড়তেন

بسم الله الذي لا إله الا هو الرحمن، اللهم اذهب عني الهم والحزن

বর্ণনাটির সনদ যেহেতু অনেক বেশি দুর্বল নয় আর বিষয়টিও নামাযের পর যিকির ও দুআর, যা মৌলিকভাবে অনেক দলীল দ্বারা প্রমাণিত তাই এর উপর আমল করার অবকাশ রয়েছে।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীসে নামাযের পর দুআটি পড়ার কথা এসেছে। শুধু ফরয নামাযের পর পড়ার কথা আসেনি। অতএব ফরয, নফল সব নামাযের পরই তা পড়া যাবে।

তবারানী, আওসাত ৪/১২৬, হাদীস ৩২০২; মাজমাউয যাওয়াইদ, হায়ছামী ১০/১৪৪; তারীখে বাগদাদ ১২/৪৮০; নাতাইজুল আফকার ২/২০৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকার এক লোক বলে, বিতর নামাযে আমরা যে দুআয়ে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক বলে, বিতর নামাযে আমরা যে দুআয়ে কুনূত পড়ে থাকি (আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা) তা নাকি ভিত্তিহীন, হাদীস ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত নয়। হাদীসের দুআ হল, আল্লাহুম্মাহদিনা ফীমান হাদাইতা ...। এ বিষয়ের হাদীস ও সুন্নাহর আলোকে সঠিক সমাধান জানতে চাই।

উত্তর

ঐ লোকের কথা ঠিক নয়। আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ...’ এ দুআটি সহীহ হাদীস এবং সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের আমল দ্বারা প্রমাণিত।

এক হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিবরীলে আমীন এসে কুনূত হিসাবে উক্ত দুআটি শিখিয়েছেন।-সুনানে কুবরা ২/২১০; মারাসীলে আবু দাউদ পৃ. ৮; ইলাউস সুনান ৬/১০৭

হযরত উমর রা. বিতরের কুনূতে রুকুর পূর্বে উক্ত দুআটি পড়তেন।-কিয়ামুল লায়ল পৃ. ৩০০

হযরত আবু আবদুর রহমান বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে কুনূতের দুআয় আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ... দুআটি পড়ার তালীম দিয়েছেন। মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা (নতুন সংস্করণ) ৪/৫১৮

হযরত সুফিয়ান রাহ. বলেন, পূর্বসূরীগণ কুনূতের দুআয় আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাঈনুকা ...’ দুআটি পড়তেন।-আদ্দুররুল মানছুর ৬/৪২২

হযরত যুবায়ের ইবনে আদী রাহ. বলেন, হযরত ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বিতরের কুনূতে উক্ত দুআটি পড়তে পছন্দ করতেন।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/১২১

অতএব দুআটি সুপ্রমাণিত। এ বিষয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি করা অন্যায়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনশ্রুতি আছে যে, হযরত বেলাল রা. আযানে ‘আশহাদু’-এর শীনকে ছীন-এর...

প্রশ্ন

জনশ্রুতি আছে যে, হযরত বেলাল রা. আযানে ‘আশহাদু’-এর শীনকে ছীন-এর মতো উচ্চারণ করতেন। তাই তাকে একবার আযান দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়। তিনি ফজরের আযান না দেওয়ার কারণে নাকি সেদিন সূর্য উদিত হয়নি। একথা কি ঠিক? একাধিক বক্তাকে এমন বলতে শুনেছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ঘটনা সত্য নয়। আল্লামা ইবনে কাসীর, মোল্লা আলী কারী, হাফেয সাখাভী প্রমুখ মনীষীগণ একে সম্পূর্ণভিত্তিহীন বলেছেন।

আলমাওযূআতুল কুবরা পৃ. ৪১, ৭৫; আলমাসনূ ১১৩; আলমাকাসিদুল হাসানা ৩৯৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি চাকুরিজীবী। অনেক সময় কাজের ঝামেলা থাকে। তখন আমার উচ্চপদস্থ...

প্রশ্ন

আমি চাকুরিজীবী। অনেক সময় কাজের ঝামেলা থাকে। তখন আমার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মসজিদে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার কারণে অফিস কক্ষে একাকী নামায আদায় করি।

জানিয়ে বাধিত করবেন যে, এক্ষেত্রে আমি কি আযান-ইকামত দিয়ে নামায পড়তে পারব? না আযান-ইকামত ছাড়া পড়ব? শরয়ী সমাধান কী?

উত্তর

মসজিদের বাইরে একাকী নামায পড়ার সময় নিচু শব্দে আযান ও ইকামত দিয়ে নামায পড়া মুস্তাহাব। আর আযান-ইকামত না দিলেও নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ এলাকার মসজিদের আযান-ইকামত এলাকাবাসীর নামাযের জন্য যথেষ্ট।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ১/৫১০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; আলমাবসূত সারাখসী ১/১৩৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০১; ফাতহুল কাদীর ১/২২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৫২৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার গলায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। নামাযে কিরাত পড়ার...

প্রশ্ন

আমার গলায় বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। নামাযে কিরাত পড়ার সময় কয়েক শব্দ পর পর কেশে গলা পরিষ্কার করে নিতে হয়। আমার জানার বিষয় হল, এত বেশি কাশার কারণে নামায নষ্ট হয় কি না? আর নামায নষ্ট না হলে আমি ইমামতি করলে কোনো সমস্যা আছে কি? দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

কেরাত সঠিকভাবে উচ্চারণ করার জন্য ইচ্ছা করে কাশলেও নামায নষ্ট হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অধিক কাশার কারণে নামায নষ্ট হবে না। তবে যে ব্যক্তির নিয়মিত এমন সমস্যা হয় তার জন্য ইমামতি করা উচিত নয়। কেননা এতে মুসল্লীদের নামাযে একাগ্রতা নষ্ট হতে পারে।

সুনানে নাসায়ী ৩/১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে ফাতেহা না পড়ে ভুলে সূরার...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে ফাতেহা না পড়ে ভুলে সূরার ৩-৪ আয়াত পড়ে ফেলেছে। এ সময় তার স্মরণ হয়েছে যে, ফাতেহা পড়া হয়নি। এখন তার কী করণীয়? এ ভুলের জন্য কি সিজদায়ে সাহু দিতে হবে?

উত্তর

এক্ষেত্রে স্মরণ হওয়ামাত্র সে সূরা ফাতেহা পড়বে। তারপর সূরা মিলাবে এবং এ ভুলের জন্য সিজদায়ে সাহু করবে।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩০৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; আসসিআয়াহ ২/১৩০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৭১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযীর সামনে সুতরা স্থাপন না করলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া...

প্রশ্ন

নামাযীর সামনে সুতরা স্থাপন না করলে তার সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। এখন কেউ যদি একজন নামাযী ব্যক্তির সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করার পর তা টান দিয়ে অন্য নামাযী ব্যক্তির সামনে দেয় তবে বিধান কী?

উত্তর

বিশেষ প্রয়োজনে ঐভাবে অতিক্রম করা জায়েয হবে। তবে এতে নামাযীর মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। তাই বিনা প্রয়োজনে এমন করবে না।

উল্লেখ্য, নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অন্যান্য মুসল্লি বা সাধারণ মানুষের চলাচলের সম্ভাবনা থাকলে নামায শুরুর আগে সুতরা সামনে রেখে নামাযে দাঁড়ানো সুন্নত।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬৩১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বর্তমানে রেডিও টেলিভিশনে যে আযান শোনা যায় তার জওয়াব দিতে...

প্রশ্ন

বর্তমানে রেডিও টেলিভিশনে যে আযান শোনা যায় তার জওয়াব দিতে হবে কি না?

উত্তর

হাদীস শরীফে আযানের উত্তর দেওয়ার যে নির্দেশ এসেছে তা সরাসরি মুআযযিন থেকে শোনা আযানের ব্যাপারে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন তোমরা মুআযযিনকে বলতে শুনবে তখন তোমরাও তার অনুরূপ বল। তাই রেকর্ডকৃত আযান প্রচারিত হলে তার জবাব দেওয়া মাসনূন বলে বিবেচিত হবে না।

সহীহ মুসলিম ১/১৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৭৩; ফাতহুল কাদীর ১/২১৬, ২১৭; আলফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ পৃ. ১৮২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.