Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৫৮৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ইমাম সাহেব ওয়াক্তিয়া নামাযের জামাতে একাধিক সূরা পড়েন। যেমন-ফজরের...

প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব ওয়াক্তিয়া নামাযের জামাতে একাধিক সূরা পড়েন। যেমন-ফজরের জামাতে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা বুরুজ পড়েন অতপর সূরা ত্বরিক পড়েন। দ্বিতীয় রাকাতে প্রথম রাকাতের ন্যায় সূরা ফাতিহার পর সূরা দুহা এবং সূরা আলাম নাশরাহ পড়েন।

উল্লেখ্য যে, একাধিক সূরা পড়ার মাঝে আস্তে বিসমিল্লাহ পড়েন। আমার প্রশ্ন হল, এভাবে জামাতের নামাযে বা একাকী নামায একাধিক সূরা পড়া আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমানিত কি না বিস্তারিত জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

ফরয ও অন্যান্য নামাযের এক রাকাতে একাধিক সূরা পড়া জায়েয আছে। তবে ফরয নামাযেএকাধিক সূরা না পড়াই উত্তম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল এমনইছিল। তিনি যেসব সূরা পড়তেন হাদীসের কিতাবে তার বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। তিনি ফরয নামাযেএকেক রাকাতে অনেক বড় বড় সূরাও পড়েছেন। কিন্তু একই রাকাতে একাধিক সূরা পড়তেন না।সাহাবী-তাবেয়ীগণের আমলও এমনই ছিল। যায়েদ ইবনে খালেদ জুহানী থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, আমি এক রাকাতে দুটি সূরা মিলানো পছন্দ করি না। যদিও আমাকে অতি মূল্যবান লাল উটদেওয়া হয়।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৭২৮

উল্লেখ্য, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে সূরা তাকবীর, সূরা তূর এবংএ জাতীয় সুরা পড়তেন।

এছাড়া সূরা ইয়াসীন, সূরা মুমিনুন, সূরা রুম ও অন্যান্য সূরা ফজরের নামাযে পড়ার কথাও হাদীসশরীফে এসেছে।

-সহীহ মুসলিম ১/১৮৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/২৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৮; ফাতহুল কাদীর ১/২৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার...

প্রশ্ন

নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেই। কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদীস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ আলেম ঠিক বলেছেন। ইমামের কোনো ভুল হলে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়া সুন্নত।কেননা একাধিক হাদীসে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। রাসূলে কারীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযে কোনো সমস্যা দেখা দিলে যেন সুবহানাল্লাহবলে।-সহীহ বুখারী ১/১৬৫

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে)দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন সাহাবায়ে কেরাম সুবহানাল্লাহ বলে লোকমাদিয়েছেন।-সুনানে নাসায়ী ১/১৩২

সুতরাং কোনো ভুলের ব্যাপারে ইমামকে সতর্ক করতে চাইলে আল্লাহু আকবার না বলে সুবহানাল্লাহবলা উচিত।

-শরহু মাআনিল আছার ১/২৯৪; নুখাবুল আফকার ৪/৩৬৯; আলমাবসূত ১/২০০; মুহীতুল বুরহানী ২/২১৩; শরহুল মুনইয়া ৪৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

হাদীস শরীফে এসেছে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে জামাতে নামায...

প্রশ্ন

হাদীস শরীফে এসেছে চল্লিশ দিন তাকবীরে উলার সাথে জামাতে নামায আদায় করলে দুটি মুক্তির সনদপত্র লেখা হয়। একটি হল জাহান্নাম থেকে মুক্তি। আর একটি হল নেফাক থেকে মুক্তি।

জানার বিষয় হল, তাকবীরে উলার সময় কতটুকু, ইমামের সাথে সাথেই তাকবীরে তাহরীমা বলতে হবে নাকি প্রথম রাকাত পেলেই তাকবীরে উলা পেয়েছে বলে ধরা হবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

তাকবীরে উলা সম্পর্কিত হাদীসটি নিম্নরূপ :

من صلى أربعين يوما في جماعة يدرك التكبيرة الأولى كتب له براءتان : براءة من النار، وبراءة من النفاق

অর্থ : যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন জামাতে নামায আদায় করবে এবং সে প্রথম তাকবীরও পাবে তার জন্যদুটি মুক্তির পরওয়ানা লেখা হবে। (এক) জাহান্নাম থেকে মুক্তি। (দুই) নেফাক থেকে মুক্তি।-সুনানেতিরমিযী ১/৩৩; আততারগীব ১/২৬৩

এ হাদীস থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইমামের প্রথম তাকবীর বলার সাথে সাথে তাকবীর বলে নামায শুরুকরলে তাকবীরে উলা পাবে। সুতরাং ইমামের তাকবীরে তাহরীমার সাথেই নামাযে শরিক হওয়ারচেষ্টা করতে হবে। প্রকাশ থাকে যে, সূরা ফাতেহা শেষ হওয়ার আগে জামাতে শরিক হতে পারলেওকোনো কোনো ফকীহ তাকবীরে উলার সওয়াব হাসিল হয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৪০; রদ্দুল মুহতার ১/৫২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, ইমামকে রুকুতে পেলে রাকাত পাওয়া যায়। ইমামকে রুকু...

প্রশ্ন

আমরা জানি, ইমামকে রুকুতে পেলে রাকাত পাওয়া যায়। ইমামকে রুকু থেকে দাঁড়ানো অবস্থায় বা সিজদারত বা বসা অবস্থায় পেলে সেই রাকাত পাওয়া যায় না। এ সকল অবস্থায় রাকাত পাওয়া না গেলেও ইমামের সাথে তখনি জামাতে শরিক হতে হবে নাকি ইমামের দাঁড়ানোর অপেক্ষা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ইমামের সাথে রুকু না পেলেও ইমামকে নামাযের যে অবস্থাতেই পাওয়া যাবে অপেক্ষা না করেতখনই জামাতে শরিক হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

إذا وجدتم الإمام فقوموا أو قاعدا فاقعدوا أو راكعا فاركعوا أو ساجدا فاسجدوا.

তোমরা ইমামকে নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় পেলে দাঁড়িয়ে যাবে। বৈঠক অবস্থায় পেলে বসে পড়বে।আর রুকু অবস্থায় পেলে রুকুতে চলে যাবে। আর সিজদায় পেলে সিজদায় শরিক হয়েযাবে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৪৫৯; আলমাতালিবুল আলিয়া, হাদীস : ৪৭৯; উমদাতুল কারী ৫/১৫২; ফাতহুল বারী ২/১৪০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় আমার এমন হয় যে, ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে...

প্রশ্ন

অনেক সময় আমার এমন হয় যে, ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পরিবর্তে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলি। পরে স্মরণ হলে তাশাহহুদ পড়ি। এ অবস্থায় কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একজন বললেন, যদি ফরয বা ওয়াজিব নামায কাযা হয়ে যায়...

প্রশ্ন

একজন বললেন, যদি ফরয বা ওয়াজিব নামায কাযা হয়ে যায় তবে তা তওবা করলেও মাফ হবে না। আদায় করা জরুরি। কেননা যে কাজের কারণে গুনাহ লেখা হয় তা তাওবার দ্বারা মাফ হবে ঠিক কিন্তু যে কাজের জন্য আযাব লেখা হয় সেটা তওবা দ্বারা মাফ হয় না। যেমন নামায না পড়লে লেখা হয় আযাব, গুনাহ নয়। সুতরাং নামায পুনরায় পড়া ছাড়া শবে কদর পেলেও পরিত্রাণ না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। উপরোক্ত কথাগুলো কুরআন-হাদীসসম্মত কি না। সঠিক বিষয় জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ফরয বা ওয়াজিব নামায ছুটে গেলে, তা পরবর্তীতে কাযা করে নেওয়া জরুরি। শুধু তাওবা করে নেওয়া যথেষ্ট নয়। প্রশ্নের এ কথাটি সঠিক। কিন্তু প্রশ্নে এর কারণ হিসেবে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। কাযা নামায আদায় করা জরুরি এ বিষয়টি একাধিক সহীহ হাদীস এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬২; ইলাউস সুনান ৭/১৪১, ১৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের মধ্যে কি হাতঘড়ি বা দেওয়ালঘড়ি দেখা যাবে? আর ঘড়ি...

প্রশ্ন

নামাযের মধ্যে কি হাতঘড়ি বা দেওয়ালঘড়ি দেখা যাবে? আর ঘড়ি কোন হাতে পরা ভালো? আমি তো ডান হাতে পরি, অনেক মানুষ আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি বলেছি, ডান হাতে পরা সুন্নত।

উত্তর

নামাযে অনিচ্ছাকৃত ঘড়িতে দৃষ্টি পড়লে তাতে নামাযের ক্ষতি হবে না। তবে নামাযে ইচ্ছাকৃত ঘড়ি বা অন্য কিছুর দিকে তাকানো মাকরূহ। আর প্রয়োজনে ঘড়ি রাখা মুবাহ। কেউ তা হাতে রাখতে চাইলে যেকোনো হাতেই রাখতে পারে। ডান হাতে ঘড়ি পরা সুন্নত-এ ধারণা ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৪; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৪/৩৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে কীভাবে মন স্থির রাখা যায়। খুশু-খুযুর গুরুত্ব কী? খুশু-খুযুর...

প্রশ্ন

নামাযে কীভাবে মন স্থির রাখা যায়। খুশু-খুযুর গুরুত্ব কী? খুশু-খুযুর সাথে নামায পড়ার উপায় কী? বিস্তারিত জানালে খুব উপকৃত হব।

উত্তর

নামাযে খুশু-খুযু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআন-হাদীসে এ সম্পর্কে অনেক তাকীদ করা হয়েছে। খুশু-খুযুর দুটি অংশ রয়েছে : এক. নামাযে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। দুই. মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা। এ দুটি বৈশিষ্ট্যের সাথে যে নামায আদায় করা হয় তাকে খুশু-খুযুযুক্ত নামায বলে। এ দুটি বৈশিষ্ট্য কীভাবে অর্জন করা যায় সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল।

এক. বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির রাখা। যেমন হাত, পা এবং শরীরকে নামাযের বাইরের কোনো কাজে ব্যবহার না করা। অনর্থক নড়াচড়া থেকে বিরত থাকা। সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি (অঙ্গের) উপর সিজদা করে এবং নামাযে চুল বা কাপড় না গুটায়।-সুনানে আবু দাউদ ২/১৪, হাদীস : ৮৮৬

নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা. ও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন মনে হত একটি কাঠ মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয়েছে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৩২২

প্রখ্যাত তাবেয়ী আ’মাশ রাহ. থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. যখন নামাযে দাঁড়াতেন তাকে দেখে মনে হত যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৩৩০৩

তদ্রূপ এদিক সেদিক না তাকানো; নামায অবস্থায় যখন যেখানে দৃষ্টি রাখা নিয়ম সেখানে দৃষ্টি রাখাও বাহ্যিক খুশু-খুযুর অন্তর্ভুক্ত।

আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছি যে, নামাযে এদিক সেদিক তাকানোর ব্যাপারে আপনি কী বলেন? জবাবে তিনি বলেছেন, এটা হল শয়তানের ছোঁ মারা, যা দ্বারা শয়তান আল্লাহর বান্দাদেরকে নামায থেকে গাফেল ও উদাসীন করে ফেলে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৫১

বিশিষ্ট সাহাবী আবু যর রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযের সময় আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি সর্বক্ষণ (রহমতের) দৃষ্টি রাখেন যতক্ষণ নামাযী অন্য কোনো দিকে দৃষ্টি না দেয়। যখন সে অন্য দিকে চেহারা ফেরায় তখন আল্লাহ তাআলা তার থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেন।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২১৫০৮

দুই. নামাযে মনোযোগ ও একাগ্রতা রক্ষা করা।

ক) এমন মনোভাব নিয়ে নামায আদায় করা যে, এটিই তার জীবনের শেষ নামায।

বিশিষ্ট সাহাবী আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, আল্লাহর রাসূল! আমাকে সংক্ষিপ্তভাবে দ্বীনের কিছু কথা বলে দিন। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যখন নামায পড় তখন জীবনের শেষ নামায আদায়কারীর মতো নামায পড়।-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪৭১

খ) পুরো নামায এ অনুভূতি নিয়ে আদায় করা যে, আল্লাহ তাআলা আমাকে দেখছেন, আমি তার সামনে দন্ডায়মান।

প্রসিদ্ধ হাদীসে-জিবরীলে এসেছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি এমনভাবে ইবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর তুমি যদি আল্লাহকে না-ও দেখ তবে আল্লাহ তো তোমাকে অবশ্যই দেখছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮

গ) সাথে সাথে এ খেয়াল করবে যে, আমি আল্লাহ তাআলার সম্মুখে দাঁড়িয়েছি এবং তাঁর সাথে কথা বলছি। কেননা নামায হল আল্লাহ তাআলার সাথে একান্তে কথোপকথন করা।

সহীহ বুখারীতে এসেছে, সাহাবী আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন সে আল্লাহর সাথে একান্তে কথা বলে; যতক্ষণ সে তার নামাযের জায়গায় থাকে।-সহীহ বুখারী,

হাদীস : ৪১৬

উপরে বর্ণিত পন্থাগুলো অবলম্বনের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার কাছে একাগ্রতা অর্জনের জন্য নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় দুআও করতে হবে।

মনোযোগ রাখার আরেকটি সহজ পন্থা হল, নামাযের কিরাত ও আযকারের দিকে মনোযোগ রাখা। অর্থ বুঝলে অর্থের দিকেও ধ্যান রাখা। কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে অন্যদিকে খেয়াল চলে গেলে ক্ষতি নেই। তবে স্মরণ হওয়ামাত্র পুনরায় মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে। স্মরণ হওয়ার পরও অন্য কিছু খেয়াল করতে থাকা বা ইচ্ছাকৃত অন্য কিছুর খেয়াল আনা নিষিদ্ধ। তাই এ থেকে বিরত থাকতে হবে। এভাবে নামায পড়লে ইনশাআল্লাহ তা খুশু-খুযু বিশিষ্ট নামায বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য যে, সাহাবা-তাবেয়ীন ও বুযুর্গানে দ্বীনের নামাযের বিবরণ পাঠ করাও খুশু-খুযু হাসিলের ক্ষেত্রে সহায়ক। তবে তাদের যেসব ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের খুশু-খুযুর বিবরণ পাওয়া যায় সেসব ঘটনা পাঠ করে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। কারণ খুশু-খুযুর বিভিন্ন পর্যায় আছে এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখলে আল্লাহ তাআলার ফযল ও করমে ধীরে ধীরে উচ্চ পর্যায়ের খুশু-খুযুও হাসিল হতে পারে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ঐ পর্যায়ের খুশু-খুযু অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/২৫২; তাফসীরে কুরতুবী ১/২৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একটি হাদীসে দেখলাম, নামাযে এদিক সেদিক তাকানোর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু...

প্রশ্ন

একটি হাদীসে দেখলাম, নামাযে এদিক সেদিক তাকানোর ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এটি হল ইখতিলাস। জানতে চাই, ইখতিলাস শব্দের অর্থ কী এবং এর দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত হাদীসটি সহীহ বুখারীতে আছে (১/১০৪, হাদীস : ৭৫১)। পূর্ণ হাদীসটি হল-

عن عائشة رضي الله تعالى عنها قالت : سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الالتفات في الصلاة، فقال هو اختلاس يختلسه الشيطان من صلاة العبد.

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাযের তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য...

প্রশ্ন

ফরয নামাযের তৃতীয় অথবা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা বা সূরার অংশ বিশেষ পড়লে সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে কি না? এ প্রশ্নের জবাব আলেমদের নিকট থেকে দুভাবে পেয়েছি। রুকুতে যেতে বিলম্ব হয়েছে বিধায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে-কেউ এমন কথা বলেন। আর কেউ বলেন, ওয়াজিব হবে না। কোনটি সঠিক? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ফরযের শেষ দুই রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলালেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার কথাটি ঠিক নয়। এবং ওয়াজিব হওয়ার পেছনে যে কারণ বলা হয়েছে তাও যথার্থ নয়। কেননা ফরয নামাযের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পরপরই রুকু না করে বিলম্ব করলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।

-ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৮; শরহুল মুনইয়া ৩৩১; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বড় ভাই একজন ভালো হাফেয। সে রীতিমতো দৈনিক সকাল-বিকাল...

প্রশ্ন

আমার বড় ভাই একজন ভালো হাফেয। সে রীতিমতো দৈনিক সকাল-বিকাল কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করে। কিন্তু সে সকালে কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের সময় কখনো কুরআন মজীদের উপর ঘুমিয়ে পড়ে। কখনো কখনো কুরআন মজীদ খোলা রেখে কথা বলতে দেখা যায়। এ কাজগুলো কেমন অপরাধ? মুফতী সাহেবের নিকট কুরআন তিলাওয়াতের এ সম্পর্কিত আদাব জানতে চাই।

উত্তর

কুরআন মজীদ আল্লাহ তাআলার কালাম। কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের বেশ কিছু আদব রয়েছে। প্রত্যেক তিলাওয়াতকারীর কর্তব্য হল সে আদবগুলো অনুসরণ করা। তন্মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদব এই-

ক) মন-মস্তিষ্ক সজাগ অবস্থায় পূর্ণ আগ্রহভরে তিলাওয়াত করা।

খ) ঘুমের চাপ থাকা অবস্থায় তিলাওয়াত না করা।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন রাতে নামায পড়তে দাঁড়ায় এবং (ঘুমের কারণে) কুরআন তার জিহবায় জড়িয়ে যায়, সে নিজেও জানে না সে কী পড়ছে, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭৮৭)

গ) কুরআন মজীদের উপর মাথা বা অন্য কোনো অঙ্গ দ্বারা ভর না দেওয়া।

ঘ) তিলাওয়াত চলাকালে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কারো সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকা।

হযরত নাফে রাহ. বলেন, হযরত ইবনে উমর রা. যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তিলাওয়াত থেকে ফারেগ হওয়া পর্যন্ত কারো সাথে কথা বলতেন না।

-সহীহ বুখারী ২/৬৪৯; আততিযকার ফী আফজালিল আযকার পৃ. ১৯১; আততিবইয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন ১১১; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৭; তাফসীরে কুরতুবী ১/২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ক) আমি শুনেছি, তিলাওয়াতের কারণে যত সিজদাই ওয়াজিব হোক চৌদ্দটি...

প্রশ্ন

ক) আমি শুনেছি, তিলাওয়াতের কারণে যত সিজদাই ওয়াজিব হোক চৌদ্দটি সিজদা করে নিলে সবগুলো সিজদা আদায় হয়ে যাবে। জানার বিষয় হল, কথাটি ঠিক কি না?

প্রশ্ন : খ) অনেক সময় দেখা যায়, নামাযে ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর আলাদা সিজদা না করে নামাযের সিজদার মাধ্যমেই তা আদায় করে নেন, কিন্তু অনেক মুকতাদি সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের বিষয়টি বুঝতে না পারার কারণে নামাযের সিজদার সাথে তিলাওয়াতের সিজদার নিয়ত করে না। জানার বিষয় হল, এভাবে মুকতাদির তিলাওয়াতের সিজদা আদায় হবে কি? তাদের জন্য কি নিয়ত করার হুকুম নেই?

উত্তর

ক) পুরো কুরআন মজীদে তিলাওয়াতে সিজদার আয়াত মোট চৌদ্দটি। সুতরাং পুরো কুরআন মজীদ খতম করার পর চৌদ্দটি সিজদা করে নিলে এক খতমের সকল সিজদা আদায় হয়ে যাবে। তবে প্রশ্নোক্ত কথা দ্বারা যদি এটা উদ্দেশ্য হয় যে, একাধিক খতম করে কিংবা সারা জীবন যত তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজিব হবে সবগুলোর জন্য চৌদ্দটি সিজদা আদায় করে নিলেই যথেষ্ট হবে-তবে এ ধারণা ঠিক নয়। বরং যতগুলো সিজদার আয়াত যতবার তিলাওয়াত করা হয়েছে সবগুলোর জন্য পৃথক পৃথক সিজদা দিতে হবে। শুধু এক বৈঠকে একটি সিজদার আয়াত একাধিকবার পড়লে সেক্ষেত্রে একটি সিজদা ওয়াজিব হবে।

প্রকাশ থাকে যে, সিজদায়ে তিলাওয়াত বিলম্ব না করে সিজদার আয়াতের পরেই আদায় করা উচিত।-শরহুল মুনইয়া ৫০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৫৮

খ) নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর যদি আরো দু আয়াতের বেশি তিলাওয়াত করার পূর্বেই নামাযের রুকু-সিজদা করা হয় তাহলে নামাযের সিজদার মাধ্যমে ইমাম-মুকতাদি সকলের তিলাওয়াতের সিজদা আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে তিলাওয়াতে সিজদার জন্য ভিন্নভাবে নিয়ত করা শর্ত নয়। এমনকি সিজদার আয়াত পড়া হয়েছে বা সিজদা ওয়াজিব হয়েছে একথা মুকতাদিগণ না বুঝলেও তাদের সিজদা আদায় হয়ে যাবে। তবে সর্বক্ষেত্রে তিলাওয়াতে সিজদার জন্য নামাযেই পৃথকভাবে সিজদা করা উত্তম।

আর যদি সিজদার আয়াতের পর দুই আয়াতের বেশি পড়া হয় তাহলে নামাযের সিজদার মাধ্যমে তিলাওয়াতের সিজদাটি আদায়ের সুযোগ থাকবে না। সেক্ষেত্রে তিলাওয়াতের জন্য নামাযেই ভিন্নভাবে সিজদা করতে হবে।-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪৭০; রদ্দুল মুহতার ২/১১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বেশিরভাগ আন্তনগর ট্রেনে বেশিরভাগ নামাযের কক্ষ আছে। তবে ট্রেন চলা...

প্রশ্ন

বেশিরভাগ আন্তনগর ট্রেনে বেশিরভাগ নামাযের কক্ষ আছে। তবে ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়া কঠিন হয়। কারণ ঝাঁকুনির দরুণ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় বা পড়েও যাই। আবার নামায অবস্থায় ট্রেন দিক পরিবর্তন করলে কেবলা ঠিক রাখা মুশকিল হয়। এমতাবস্থায় কিভাবে নামায আদায় করব জানা প্রয়োজন।

উত্তর

সম্ভব হলে ফরয নামায দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরয। তাই ট্রেনেও ভ্রমণকালে যথাসম্ভব দাঁড়িয়ে নামায পড়তে চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে কিছু ধরেও দাঁড়াতে পারবে। অবশ্য যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়া সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে বসে নামায পড়তে পারবে।

আর ট্রেনেও নামায শুরু করার সময় কেবলার দিক নিশ্চিত করে সেদিকে ফিরে নামায পড়তে হবে। অতপর নামায অবস্থায় ট্রেন ঘুরে যাওয়ার কারণে কিবলার দিক পরিবর্তন হয়ে গেলে নামাযী তা বুঝামাত্র কিবলার দিকে ঘুরে যাবে। কিবলার দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও নামাযে কিবলার দিকে না ঘুরলে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে। তবে শুরুতে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানোর পর নামাযের ভিতর কিবলা পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে না পারার কারণে যদি ঐভাবেই নামায শেষ করে তার নামায আদায় হয়ে যাবে।

উল্লেখ্য যে, চলন্ত ট্রেনে ঐ সময় নামাযে দাঁড়ানো উচিত যখন ট্রেনটি একদিকে চলতে থাকে তাহলে নামাযের ভিতর কিবলা পরিবর্তন করতে হবে না।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৮১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৬ বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯১; রদ্দুল মুহতার ২/১০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কিছুদিন হল আমি নামায শুরু করেছি। আমি নামাযে এভাবে সিজদা...

প্রশ্ন

কিছুদিন হল আমি নামায শুরু করেছি। আমি নামাযে এভাবে সিজদা করি যে, বাহুর সাথে পাঁজর এবং উরুর সাথে পেট মিলিয়ে রাখি। কিন্তু একজন মাওলানা সাহেব বললেন, সিজদার মধ্যে বাহু পাঁজর থেকে এবং পেট উরু থেকে পৃথক রাখতে হবে। এখন জানতে চাই, মাওলানা সাহেবের কথা কতটুকু সঠিক?

উত্তর

মাওলানা সাহেব যথার্থই বলেছেন। পুরুষের জন্য সিজদার মধ্যে বাহুকে পাঁজর থেকে এবং পেটকে উরু থেকে পৃথক রাখা সুন্নত। হযরত

মায়মুনা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর উভয় বাহুকে পৃথক রাখতেন, এমনকি যদি কোনো ছাগলছানা তাঁর বাহুর নিচ দিয়ে গমন করার ইচ্ছা করত তাও সম্ভব হত।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭৫; মাবসূত ১/২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৬; ফাতহুল কাদীর ২/২৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি এক রাকাতে ভুলে তিনটি সিজদা করে এবং সাহু...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি এক রাকাতে ভুলে তিনটি সিজদা করে এবং সাহু সিজদা না করেই নামায শেষ করে। এমতাবস্থায় তার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সিজদা করার কারণে ঐ ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সাহু সিজদা না করার কারণে তাকে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৩১৯, হাদীস : ৩৫২৪; কিতাবুল আছল ১/২৪২; মাবসূত, সারাখসী ১/২২৮-২২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩০৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার এক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়েছে এবং আমি একামত ছাড়াই...

প্রশ্ন

আমার এক ওয়াক্ত নামায কাযা হয়েছে এবং আমি একামত ছাড়াই কাযা করি। কিন্তু একজন আলেমের কাছে শুনলাম, কাযা নামাযের জন্যও ইকামত দিতে হবে। উক্ত আলেমের কথা কি ঠিক? তাহলে কি আমাকে পুনরায় কাযা আদায় করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

কাযা নামাযের জন্যও আযান ও ইকামত দেওয়া সুন্নত। তবে আযান ইকামত না দেওয়ার কারণে বিগত দিনের কাযা নামায পুনরায় পড়তে হবে না।

উল্লেখ্য একাকী কাযা আদায় করলে নিম্নস্বরে আযান ও ইকামত দিবে। এমনিভাবে যদি কোনো মসজিদে কাযা নামায আদায় করা হয় তাহলে জামাতে পড়লেও উঁচু আওয়াজে আযান ইকামত দেওয়া যাবে না; বরং শুধু জামাতের লোকজন শুনতে পায় এবং অন্যদের বিঘ্ন না ঘটে এতটুকু উঁচু শব্দ করতে পারবে।

-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ৯৯৭; সুনানে নাসায়ী ১/৭৬-৭৭; কিতাবুল আছল ১/১৩৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি নামাযে সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাত এরপর হাটু রাখি।...

প্রশ্ন

আমি নামাযে সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাত এরপর হাটু রাখি। এরপর ইমাম সাহেবের কাছে শুনেছি যে, সিজদায় প্রথমে হাটু এরপর হাত রাখতে হবে। এখন জানতে চাচ্ছি, এর মধ্যে কোন মতটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইমাম সাহেবের কথাই সঠিক। সিজদায় যাওয়ার সময় নিয়ম হল, জমিনে প্রথমে হাটু রাখা এরপর হাত রাখা। হাদীস শরীফে আছে, হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিজদায় যাওয়ার সময় হাতের পূর্বে হাটু রাখতে এবং সিজদা থেকে উঠার সময় হাটুর পূর্বে হাত জমিন থেকে উঠাতে দেখেছি। (সুনানে আবু দাউদ ১/১২২)

অবশ্য বৃদ্ধ বা মাজুর যাদের এভাবে সিজদা করতে কষ্ট হয় তারা চাইলে জমিনে আগে হাত রাখতে পারবেন।

-জামে তিরমিযী ১/৩৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৭১৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৯১; শরহুল মুনইয়া ৩২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার নামাযে মেহরাবের কাছে দাঁড়ান আর...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার নামাযে মেহরাবের কাছে দাঁড়ান আর ওয়াক্তিয়া নামাযগুলোতে মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ান। এখন আমার জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেব ওয়াক্তিয়া নামাযে মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ানো জায়েয কি না। আর জায়েয হলেও তা অনুত্তম হবে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবে দাঁড়ানো সুন্নত। বিনা ওজরে মেহরাব বরাবর পিছনে কাতারের ঠিক মাঝখানে দাড়ালে অনুত্তম হবে।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২১১; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ ৩০/৩৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মহল্লার মসজিদটি ছোট। জুমআর দিন মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয়...

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদটি ছোট। জুমআর দিন মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয় না। আর মসজিদের উত্তর পাশে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত একটি পুকুর আছে। এখন কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঐ পুকুর ভরাট করে মসজিদ ঐ দিকে সম্প্রসারিত করে তিন তলা বিশিষ্ট করে নির্মাণ করবে। তবে সম্প্রসারিত অংশে নিচ তলার কিছু জায়গায় ইমাম সাহেবের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার বানাবে। আর উপর তলাগুলোর শতভাগই নামাযের জন্য নির্ধারিত থাকবে। জানার বিষয় হল, মসজিদের বর্ণিত অংশে ইমাম সাহেবের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার বানানো বৈধ হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যে অংশে পুকুর রয়েছে সেটা সেহেতু এখনো মসজিদ হিসেবে ব্যবহার হয়নি; বরং নতুনভাবে তাতে মসজিদ সম্প্রসারিত হচ্ছে তাই এ অংশের নিচ তলায় ইমাম সাহেবের জন্য ফ্যামিলি কোয়ার্টার বানানো জায়েয হবে।

-রদ্দুল মুহতার ৪/৩৫৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; আলইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ ৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, নামাযে মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ কোনোটিই সতরের...

প্রশ্ন

আমরা জানি, নামাযে মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ কোনোটিই সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়। এজন্য অনেক সময় হাত অনাবৃত রেখেও নামায পড়তাম। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে আমাদের গ্রামের এক মহিলা বলল যে, হাতের পিঠ নাকি সতর। তার কথা কি ঠিক? এব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী মহিলাদের হাতের তালু ও পিঠ নামাযে ঢেকে রাখা জরুরি নয়। বরং খোলা রাখার অবকাশ আছে। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মহিলার কথাটি সঠিক নয়।

-আসসিআয়াহ ২/৭২; শরহুল মুনইয়া ২১১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯-২৭০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৩১; মিনহাতুল খালেক ১/২৬৯-২৭০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৫-৪০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কোনো মাসবুক যদি ইমাম সাহেবকে রুকুতে পায় অতপর মাসবুক ইমামের...

প্রশ্ন

কোনো মাসবুক যদি ইমাম সাহেবকে রুকুতে পায় অতপর মাসবুক ইমামের সাথে মাত্র একবার রুকুর তাসবীহ পড়তে পেরেছে, দ্বিতীয় তাসবীহ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেছেন তাহলে মাসবুকের নামাযের হুকুম কি?

উত্তর

ইমামকে স্বল্প সময়ের জন্য রুকুতে পেলেই রাকাত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হয়। ইমামের সাথে রুকুর তাসবীহ পড়া জরুরি নয়; তবে এক্ষেত্রে ইমামকে রুকু অবস্থায় পাওয়ার পর ইমাম উঠে গেলেও সে একবার তাসবীহ পড়ে উঠবে। কেননা রুকুতে এক তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব করা ওয়াজিব। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি ঐ রাকাত পেয়েছে এবং তার নামায সহীহভাবেই আদায় হয়েছে।

হযরত ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়ে ইমাম (রুকু থেকে) মাথা উঠানোর পূর্বে রুকুতে শামিল হল সে (ঐ) রাকাত পেয়ে গেল।

-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ২/৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৭৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৪৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকায় একটি প্রচলন আছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি প্রচলন আছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হয়। অনেকে এর পিছনে এই যুক্তি পেশ করে যে, আযান শুনলে শয়তান পলায়ন করে তাই মুনকার-নাকিরের প্রশ্নের সময় শয়তান যাতে মৃত ব্যক্তিকে কুমন্ত্রণা না দিতে পারে সেজন্য আযান দিয়ে শয়তানকে বিতাড়িত করা হয়। জানার বিষয় হল, এই প্রচলনটি কি শরীয়তসম্মত? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দাফনের পর কবরে আযান দেওয়ার প্রচলনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীন কারো থেকেই এ ধরনের আমল বা বক্তব্য প্রমাণিত নয়। সুতরাং এ কাজটি কু-রসম ও বিদআত। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এই দ্বীনের মাঝে কোনো নতুন বিষয় আবিষ্কার করবে, যা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত নয়- তা প্রত্যাখ্যাত। (সহীহ বুখারী ১/৩৭১)

উল্লেখ্য যে, কোনো আমলের জন্য মনগড়া যুক্তি পেশ করা তা বৈধ হওয়া প্রমাণ করে না; বরং কোনো আমল প্রমাণের জন্য শরীয়তের যথাযথ দলীল-প্রমাণ থাকা জরুরি।

-সহীহ বুখারী ১/৩৭১; রদ্দুল মুহতার ১/৩৮৫, ২/২৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় নামায পড়ার সময় সেজদায় মাথা থেকে টুপি পড়ে...

প্রশ্ন

অনেক সময় নামায পড়ার সময় সেজদায় মাথা থেকে টুপি পড়ে যায়। যার কারণে নিজের কাছে খুবই অস্বস্তি বোধ হয়। এর থেকে বাঁচার জন্য সেজদা থেকে উঠার সময় যদি টুপি তুলে মাথায় দেই তাহলে এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?

উত্তর

নামায অবস্থায় মাথা থেকে পড়ে যাওয়া টুপি সেজদা থেকে উঠা কিংবা বসা অবস্থায় এক হাত দিয়ে মাথায় তুলে নিলে নামাযের কোনো ক্ষতি হয় না; বরং এমনটি করাই উত্তম। কিন্তু এক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। কেননা এতে নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তাই আপনি যদি এক হাত দিয়ে মাথায় টুপি তুলে দেন তবে আপনার নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না।

-সহীহ বুখারী ১/১৫৭; শরহুল মুনইয়া ৪৪২-৪৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৮৫৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সওমএকটি বইয়ে পড়েছি, বালেগ হওয়ার কোনো আলামত প্রকাশ না পেলেও...

প্রশ্ন

সওম

একটি বইয়ে পড়েছি, বালেগ হওয়ার কোনো আলামত প্রকাশ না পেলেও ছেলে-মেয়েদের বয়স ১৫ বছর হলে তাদের উপর নামায-রোযা ফরয হয়ে যায়। এ কথাটি কি সঠিক?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার বাহ্যিক নিদর্শন প্রকাশ না পেলেও চন্দ্রবর্ষ হিসেবে ছেলে বা মেয়ের বয়স ১৫ বছর পূর্ণ হলেই শরীয়তের দৃষ্টিতে সে বালেগ। সুতরাং তখন থেকেই তার জন্য নামায-রোযাসহ শরীয়তের অন্যান্য বিধিবিধান আরোপিত হবে।

-সহীহ বুখারী হাদীস : ২৬৬৪, ৪০৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৫৩; আললুবাব ফী শরহিল কিতাব ২/১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আযানের মতো ইকামতেরও কি জবাব দিতে হয়? এ বিষয়ে কোনো...

প্রশ্ন

আযানের মতো ইকামতেরও কি জবাব দিতে হয়? এ বিষয়ে কোনো হাদীস আছে কি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হ্যাঁ, ইকামতেরও মৌখিক জবাব দেওয়া সুন্নত। সাহাবী আবু উমামা রা. বলেন, বিলাল রা. ইকামত শুরু করলেন। যখন তিনি ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ উচ্চারণ করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন-‘আকামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা।’ আর বাকি শব্দগুলোতে আযানের মতোই বললেন।

সুনানে আবু দাউদ ১/৭৮; বযলুল মাজহূদ ৪/৯৩; ইলাউস সুনান ২/১২৭; রদ্দুল মুহতার ১/৪০০; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ২/৮৭; শরহুল মুহাযযাব ৩/১৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা আলেমদের নিকট শুনেছি যে, মাগরিবের নামাযে কিসারে মুফাসসাল থেকে...

প্রশ্ন

আমরা আলেমদের নিকট শুনেছি যে, মাগরিবের নামাযে কিসারে মুফাসসাল থেকে পড়া সুন্নত। কিন্তু আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এর বাইরে থেকে অনেক লম্বা কিরাত পড়েন। মাগরিবে এমন লম্বা কিরাত পড়া কি ঠিক?

উত্তর

ইমামের জন্য মাগরিব নামাযে ছোট কিরাত পড়া হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবু হুরাইরা রা. বলেন, ‘রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব নামাযে কিসারে

মুফাসসাল পড়তেন।’ (শরহু মাআনিল আছার ১/১৫৭; ইলাউস সুনান ৪/৩৫)

অন্য রেওয়ায়েতে হযরত উমর রা. আবু মুসা আশআরী রা.কে মাগরিবের নামাযে কিসারে মুফাসসাল থেকে পড়তে বলেছেন। (শরহু মাআনিল আসার ১/১৫৭; ইলাউস সুনান ৪/৩২)

অন্য রেওয়ায়েতে আছে, হযরত আবু আবদুল্লাহ মুনাবিহী রাহ. বলেন, আমি আবু বকর রা.-এর খেলাফতকালে একবার মদীনায় এলাম। তাঁর পিছনে মাগরিব আদায় করলাম। তিনি মাগরিবের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা ও কিসারে

মুফাসসাল থেকে একটি করে সূরা পড়লেন। (মুয়াত্তা, ইমাম মালেক পৃ. ২৭; ইলাউস সুনান ৪/৩৯)

যাহহাক ইবনে উসমান রাহ. বলেন, আমি উমর ইবনে আবদুল আযীয রাহ.কে মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল পড়তে দেখেছি। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/২৩৪)

সূরা বাইয়িনাহ থেকে নাস পর্যন্ত সূরাসমূহকে কিসারে মুফাসসাল বলে।

সুতরাং মাগরিব নামাযে কেসারে মুফাসসাল থেকে পড়া উত্তম। অবশ্য রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো মাগরিব নামাযে সূরা তুর, সূরা মুরসালাত ও এ জাতীয় বড় সূরা পড়েছেন এ কথাও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই মাঝেমধ্যে কিসারে মুফাসসালের বাইরে এবং কিসারে মুফাসসালের পরিমাণের চেয়ে বেশি পড়লে তা সুন্নতের খেলাফ হবে না। তবে ইমামের উচিত মুফাসসালাতের বাইরে পড়লে মুসল্লীদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে পড়া এবং কেরাত বেশি লম্বা না করা। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীসে আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ নামাযে ইমামতি করবে তখন সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কারণ তাদের (মুক্তাদীদের) মধ্যে দুর্বল, অসুস্থ ও বৃদ্ধ লোকও থাকে। আর যখন একাকী নামায পড়ে তখন যত ইচ্ছা দীর্ঘ করতে পারে।’ (সহীহ বুখারী ১/৯৭)

তাই সাধারণ অবস্থায় ইমামের জন্য কেরাতের মাসনূন পরিমাণের চেয়ে দীর্ঘ করা উচিত নয়।

শরহু মাআনিল আছার ১/৫৭; মুয়াত্তা ইমাম মালেক পৃ. ২৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/২৩৪; নাসবুর রায়াহ ২/৫; আসসিআয়াহ ২/২৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮১; ফাতহুল কাদীর ১/২৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

রুকু-সিজদায় তিনবারের চেয়ে কম তাসবীহ পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে...

প্রশ্ন

রুকু-সিজদায় তিনবারের চেয়ে কম তাসবীহ পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?

উত্তর

রুকু-সিজদায় কমপক্ষে তিন তিনবার তাসবীহ পড়া সুন্নত। ইচ্ছা করে তিনবারের কম পড়া অনুচিত। তবে তাতেও নামায আদায় হয়ে যাবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন রুকু করে তখন সে যেন তিনবার সুবাহানা রাবিবয়াল আযীম বলে এবং যখন সিজদা করে তখন যেন তিনবার সুবহানা রাবিবয়াল আ’লা বলে। যখন সে এভাবে চরবে তখন তার রুকু ও সিজদা পূর্ণ হ বে। আর এটি হল তাসবীহ আদায়ের সর্বম্নি পরিমাণ।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৪৫২, হাদীস : ২৫৯০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৪৪৯, হাদীস : ২৫৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৮৮; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০৩; মাবসূত, সারাখসী ১/২১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১০৭; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ৪৪; শরহুল মুনইয়াহ ২৮২, ৩১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৩৭; ফাতহুল কাদীর ১/২৫৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন এশার নামাযে সামনের কাতার পুরা না হওয়া সত্ত্বেও...

প্রশ্ন

আমি একদিন এশার নামাযে সামনের কাতার পুরা না হওয়া সত্ত্বেও পিছনের কাতারে পাখার নিচে দাঁড়াই। পরে আমার সংশয় জেগেছে, আমার নামায হয়েছে কি না। আমার নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

আপনার নামায হয়ে গেছে। তবে সামনের কাতার পুরা না করে পিছনে দাঁড়ানো মাকরূহ হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, কাতারের নিয়ম হল, আগে সামনের কাতার পূর্ণ করা। তারপর পিছনে কাতার করা। হযরত আনাস রা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা আগে সামনের কাতার পূর্ণ কর। এরপর তার সাথে মিলিত কাতার। যেন অসম্পূর্ণ কাতারটি থাকে সবার শেষে।

-সুনান আবু দাউদ ১/৯৮; বাযলুল মাজহূদ ৪/৩৫১; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৫৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫১২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১১৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৪৫; মাবসূত, সারাখসী ১/১৯২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আছরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয়...

প্রশ্ন

আছরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে ভুলে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেছেন। তৃতীয় রাকাতের কেরাত শুরু করার পূর্বে দ্বিতীয় রাকাতে না বসার কথা মনে পড়ে যায়, ফলে আবার বসে যান। দাঁড়ানো থেকে এভাবে বসে যাওয়ার কারণে নামায ফাসেদ হয়েছে কি? ফাসেদ না হলে সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। আর এক্ষেত্রে দাঁড়ানো থেকে বৈঠকে ফিরে আসার কারণে নামায ফাসেদ হয়নি। তবে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়ার পর প্রথম বৈঠকের জন্য ফিরে আসাটা ঠিক হয়নি। ইমাম সাহেব যদি সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে থাকেন তবে নামায শুদ্ধ হয়েছে। অন্যথায় ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৩-৮৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ২৫৩; মাবসূত, সারাখসী ১/২২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন জামাতের সাথে নামায আদয় করছিলাম। তাতে ইমাম সাহেব...

প্রশ্ন

আমি একদিন জামাতের সাথে নামায আদয় করছিলাম। তাতে ইমাম সাহেব কখন তাশাহহুদ শেষে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়েছেন বুঝতে পারিনি। হঠাৎ শুনলাম নামাযের বাহির থেকে এক লোক বলছে, ইমাম দাঁড়িয়ে গেছেন। তাকিয়ে দেখি, সত্যিই সামনের কাতারের মুসল্লিরা দাঁড়ানো। তখন আমিও কালবিলম্ব না করে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাকি নামায ইমামের সাথে র্পূণ করলাম। জানার বিষয় হল, নামাযের বাহিরের লোকের কথায় সচেতন হওয়ার কারণে আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

উত্তর

আপনার ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নামাযের বাইরের লোকের কথায় সচেতন হওয়ার কারণে নামাযের ক্ষতি হয়নি।

-হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৬৪; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭১, ১/৬২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ইমাম সাহেব ইশার নামাযে প্রথম রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতিহায়اهدنا...

প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব ইশার নামাযে প্রথম রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতিহায়

اهدنا الصراط المستقيم

পর্যন্ত আস্তে পড়েন। স্মরণ হওয়ার পর পুনরায় সূরা ফাতিহা শুরু থেকে জোরে পড়েন এবং শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর সাহু সিজদা করেন। জানার বিষয় হল, উক্ত অবস্থায় নামাযের কি হুকুম?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সাহু সিজদা দেওয়ার কারণে ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে। তবে যেখানে স্মরণ হয়েছে সেখান থেকে স্বশব্দে পড়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়া অনুত্তম হয়েছে।

-রদ্দুল মুহতার ১/৫৩২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৬৭; হেদায়া ১/১৫৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২২২; আততাজরীদ ২/৭০৭; শরহুল মুনইয়া ৪৫৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি ফজর নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতিহার এক...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ফজর নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলবশত সূরা ফাতিহার এক আয়াত পড়েনি এবং সাহু সিজদাও করেনি। জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তির নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

নামাযে পূর্ণ সূরা ফাতিহা পড়া ওয়াজিব। সূরা ফাতিহার এক আয়াতও ভুলে ছুটে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সাহু সিজদা না দেওয়ার কারণে নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া আবশ্যক।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৮; আসসিআয়াহ ২/১২৬; আননাহরুল ফায়েক ১/৩২৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৩৫; মিনহাতুল খালেক আলা হামিশিল বাহর ২/৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমাম সাহেবকে সিজদার...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ইমাম সাহেবকে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনেছে। এ কারণে পথচারীর উপর সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? ঐ ব্যক্তি যদি নামাযে শরিক হতে চায় তখনই বা তার কী করণীয়?

উত্তর

ঐ ব্যক্তির উপর তিলাওয়াতে সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সে সিজদার আয়াত শোনার পর যদি জামাতে শরিক না হয় তাহলে তাকে সিজদাটি একাকী আদায় করে নিতে হবে। আর যদি জামাতে শরিক হয় এবং ইমামের সাথে তিলাওয়াতে সিজদাটি পেয়ে যায় তবে তো আদায় হয়ে গেল। যদি তিলাওয়াতের সিজদাটি না পায়, কিন্তু ঐ রাকাতের রুকু ইমামের সাথে পেয়ে যায় তাহলে তাকে তিলাওয়াতের সিজদাটি আর আদায় করতে হবে না। রাকাত পাওয়ার কারণে সিজদাও আদায় হয়ে গেছে বলে ধর্তব্য হবে। অবশ্য যদি ইমামের সাথে ঐ রাকাতের রুকু না পায় তাহলে নামাযের পর পৃথকভাবে সিজদাটি আদায় করে নিতে হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩; মাবসূত, সারাখসী ২/১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৭৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৫; শরহুল মুনইয়া ৫০০; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মাগরিবের নামায আদায়কালে মোসাম্মত আয়েশা বেগমের কাছে তার ছেলে চাবি...

প্রশ্ন

মাগরিবের নামায আদায়কালে মোসাম্মত আয়েশা বেগমের কাছে তার ছেলে চাবি চাইলে নামাযের হালতে কিবলামুখী হয়েই মাথা নেড়ে ইশারা করে চাবির স্থান দেখিয়ে দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এতে কি তার নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মাথা নেড়ে ইশারা করার দ্বারা তার নামায ফাসেদ হয়নি। তবে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া নামাযে ইশারা করা অনুচিত। আর বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া নামাযীকে কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করাটা অন্যায়।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৯; শরহুল মুনইয়া ৪৪৫; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ১৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের জানামতে কেউ যদি বিগত জীবনে দীর্ঘকাল বেনামাযী থাকার পর...

প্রশ্ন

আমাদের জানামতে কেউ যদি বিগত জীবনে দীর্ঘকাল বেনামাযী থাকার পর আল্লাহর ইচ্ছায় সুমতি হয়ে নামায শুরু করে তবে নিয়মিত নামাযের পাশাপাশি জীবনের উমরী কাযা আদায় করতে হবে। কিন্তু আলিফ পাবলিকেশন্স (২/৩ প্যারিদাস রোড, বাংলাবাজার) থেকে প্রকাশিত ‘সালাতে রাসূল’ শীর্ষক গ্রন্থে এ প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে-‘কাযায়ে উমরী ভিত্তিহীন। তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা বিগত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ বেশি বেশি করে পড়া উচিত। কারণ সহীহ হাদীসে আছে, ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূরণ করা হবে।-আবু দাউদ’

সুতরাং মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান জানতে চাই।

উত্তর

শরীয়তে ঈমানের পরই নামাযের স্থান এবং তা ইসলামের স্তম্ভ ও বড় নিদর্শনের একটি। পাঁচ ওয়াক্ত নামায নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরয। কখনো কোনো ওয়াক্তের ফরয নামায ছুটে গেলে কিংবা দীর্ঘকাল অবহেলাবশত নামায না পড়লে পরবর্তীতে এর কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়টি সহীহ হাদীস, আছারে সাহাবা ও ইজমায়ে উম্মত দ্বারা প্রমাণিত।

হাদীস শরীফে এসেছে-

من نسي صلاة أو نام عنها فكفارتها أن يصليها إذا ذكرها

যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে তার কাফফারা হল, যখন নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৭৬)

উক্ত হাদীসে نسي শব্দটি লক্ষ্যণীয়। আরবী ভাষায় এটি যেমনিভাবে ‘ভুলে যাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় তদ্রূপ কোনো কাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়ার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। ( দেখুন : আলইসিতিযকার ১/৩০০)

অতএব কাযা আদায়ের বিধানটি শুধু ঘুম ও বিস্মৃতি এই দুই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। বরং অবহেলাবশত ছেড়ে দিলেও কাযা জরুরি।

অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে বা নামায থেকে গাফেল থাকে তাহলে যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬৮৪, ৩১৬)

অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি নামায রেখে ঘুমিয়ে গেছে বা নামায থেকে গাফেল রয়েছে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর কাফফারা হল যখন তার নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করে নেওয়া। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬১৪)

উপরোক্ত হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নামায সময়মতো আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা অপরিহার্য। নামাযটি ভুলক্রমে কাযা হোক, নিদ্রার কারণে হোক অথবা গাফলতি বা অবহেলার কারণে হোক- সর্বাবস্থায় কাযা আদায় করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দলীল হল, ইজমায়ে উম্মত। চার মাযহাবে চার ইমামসহ প্রায় সকল মুজতাহিদ এ বিষয়ে একমত যে, ফরয নামায নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে না পারলে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া কিংবা ওজরবশত ছেড়ে দেওয়া উভয় ক্ষেত্রের একই বিধান।-আলইসতিযকার ১/৩০২

কুয়েতের ইসলামী বিষয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইফতা বোর্ডের সম্মিলিত ফাতাওয়াও এটিই।

(দেখুন : মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া আশশারইয়্যাহ ১/২০৪)

সুতরাং উমরী কাযা ভিত্তিহীন, কাযা আদায় না করে শুধু তাওবাই যথেষ্ট-প্রশ্নের এসব কথা সহীহ নয়। তদ্রূপ একথাও সহীহ নয় যে, উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। এর স্বপক্ষে যে দলীল পেশ করা হয়েছে তাও ঠিক নয়। কারণ সুনানে আবু দাউদে প্রশ্নোক্ত হাদীসটির মূল পাঠ হল-

إن أول ما يحاسب الناس به يوم القيامة من أعمالهم الصلاة، قال يقول ربنا عز وجل لملائكته وهو أعلم انظروها في صلاة عبدي أتمها أم نقصها؟ فإن كانت تامة كتبت له تامة وإن كان انتقص منها شيئا قال انظروا هل لعبدي من تطوع؟ فإن كان له تطوع قال أتموا لعبدي فريضة من تطوعه

কেয়ামতের দিন মানুষের সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামায। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা আমার বান্দার ফরয নাময দেখো। সে পূর্ণরূপে তা আদায় করেছে, নাকি তা আদায়ে কোনো ত্রুটি করেছে? যদি পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে তবে তার জন্য পূর্ণ নামাযের ছওয়াব লেখা হবে। আর আদায়ে কোনো ত্রুটি করে থাকলে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ, আমার বান্দার নফল নামায আছে কি না? যদি থাকে তবে এর দ্বারা তার ফরয নামায আদায়ে যে ত্রুটি হয়েছে তা পূর্ণ করে দাও। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৬৪)

উক্ত হাদীসে ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে’-যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ হয়েছে-এ কথা নেই; রবং এতে রয়েছে, আদায়কৃত নামাযে ত্রুটির বিষয়। (ফয়যুল কাদীর ৩/৮৭; ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ৩/১১; আলফাতহুর রববানী ১/১৮২; বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন : মাসিক আলকাউসারের উদ্বোধনী সংখ্যা (ফেব্রুয়ারি ২০০৫, পৃষ্ঠা : ১৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ইমাম সাহেব ফজরের নামাযে সূরা কিয়ামারولو القى معاذيرةএর স্থলেولو...

প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব ফজরের নামাযে সূরা কিয়ামার

ولو القى معاذيرة

এর স্থলে

ولو القى مأذيرة

পড়েছেন। অর্থাৎ আইনের স্থলে হামযা পড়েছে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, তার নামায কী হয়েছে?

উত্তর

উক্ত ভুলের কারণে অর্থের এমন বিকৃতি ঘটেনি, যার দ্বারা নামায নষ্ট হয়ে যায়। তাই তার নামায আদায় হয়ে গেছে।

-শরুহুল মুনইয়া ৪৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮০; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের বাড়িতে ছোট একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। তাতে আমরা জুমার...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়িতে ছোট একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ আছে। তাতে আমরা জুমার নামায ছাড়া পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করতাম। জুমার নামায পাশের বড় মসজিদে গিয়ে আদায় করতাম। কিছু দিন পর কয়েকজন মুসল্লী এখানে জুমার নামাযও পড়া শুরু করে। অথচ এখানে মুসল্লি খুব কম। কারণ ওয়াক্তিয়া নামাযেই এই মসজিদের মুসল্লী কম হয়। আবার জুমআর দিন অনেক মুসল্লী বড় মসজিদে চলে যায়। তাই আমরা সকলে সমবেত হয়ে ছোট মসজিদে জুমআ বন্ধ করে আগের মতো বড় মসজিদে গিয়ে জুমআর নামায আদায় করতে চাই।

আমরা কি তা করতে পারি? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

এলাকার ছোট ছোট মসজিদগুলোতে জুমআ না পড়ে সকল লোক বড় মসজিদে একত্র হয়ে জুমআ আদায় করা উত্তম। এলাকার ছোট বড় সব মসজিদে জুমআ পড়তে হবে-এটা জরুরি নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ছোট মসজিদে জুমআর জামাত বন্ধ করে পার্শ্ববর্তী বড় জামে মসজিদে গিয়ে জুমআ আদায় করাই বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে বড় জামাতে পড়ার কারণে বেশি ছওয়াব হবে। অবশ্য সেখানে না গিয়ে এ ছোট মসজিদে জুমআ পড়ে নিলেও জুমআ আদায় হয়ে যাবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/১২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৮৬; আলইখতিয়ার ১/৮৯; শরহুল মুনইয়া ৫৫১; রদ্দুল মুহতার ২/১৪৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৪৩৯; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৬/১০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের দুআ মাছুরা আরবীতে না পড়ে বাংলায় এর অর্থটা পড়া...

প্রশ্ন

নামাযের দুআ মাছুরা আরবীতে না পড়ে বাংলায় এর অর্থটা পড়া যাবে কি এবং এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি?

উত্তর

নামাযের সকল দুআ ও যিকির আরবীতে পড়া জরুরি। অন্য ভাষায় পড়া মাকরূহ তাহরিমী। তাই নামাযে দুআ মাছুরার বাংলা অর্থ পড়া যাবে না; আরবী দুআই পড়তে হবে। বড় দুআ পড়তে না পারলে ছোট কোনো দুআ পড়বে। আর সম্ভব হলে নির্ধারিত দুআ মাছুরাটি মুখস্থ করে নিবে।

-কিতাবুল আসল ১/১৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫২১, ১/৪৮৩; আহকামুন নাফাইস ফী আদাইল আযকার বিলিসানিল ফারিস (মাজমুআতু রাসায়িলিল লাখনভী ৪/৩৩৬) পৃ. ৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি ফরয নামাযে তিন আয়াত শুদ্ধ করে পড়ার পর...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি ফরয নামাযে তিন আয়াত শুদ্ধ করে পড়ার পর এমন ভুল কিরাত পড়েছে, যা নামায নষ্ট করে দেয়। অতপর পরক্ষণে সে উক্ত ভুল কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে নিয়েছে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তির নামায শুদ্ধ হয়েছে নাকি হয়নি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যদি ঐ রাকাতে রুকুর পূর্বে ভুল পঠিত কিরাত শুদ্ধ করে পড়ে থাকে, তাহলে তার নামায আদায় হয়ে গেছে। উল্লেখ্য যে, তিন আয়াত পরিমাণ পড়ার আগে বা পরে ভুল হওয়ার হুকুম একই। অর্থ বিকৃত হয়ে যায় এমন ভুল নামাযের যে পর্যায়েই হোক নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮২; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/২০৬; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/১৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যোহরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব ভুলবশত তিনটি সিজদা করেন।...

প্রশ্ন

যোহরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব ভুলবশত তিনটি সিজদা করেন। তৃতীয় সিজদার সময় কিছু মুক্তাদী ইমামের অনুসরণ করেছে। আর কিছু অনুসরণ করেনি। অতপর ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করা ব্যতীত নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, উক্ত নামাযের হুকুম কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে ইমাম ও সকল মুসল্লির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না করার কারণে সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়া ওয়াজিব ছিল।&

উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে সকল মুকতাদি অতিরিক্ত সিজদায় ইমামের অনুসরণ করেনি তারা ঠিকই করেছেন। এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। তবে তারা ভুল না করলেও ইমামের ভুলের কারণে তাদের উপরও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। অতএব এখন তাদেরকেও ঐ নামায কাযা করে নিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৯২; রদ্দুল মুহতার ২/৮২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.