Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৬২৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বয়স বিশ বছর। বালেগ হওয়ার পর থেকে মাঝেমধ্যে কয়েক...

প্রশ্ন

আমার বয়স বিশ বছর। বালেগ হওয়ার পর থেকে মাঝেমধ্যে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি। অধিকাংশ সময়ই পড়া হয়নি। এজন্য আমি অনুতপ্ত। এখন আমি ছুটে যাওয়া নামাযগুলো আদায় করতে চাই। তাই জানার বিষয় হল, অনাদায়ী নামাযগুলো আমি কীভাবে আদায় করব? ফজরের সময় ফজরের কাযা, যোহরের সময় যোহরের কাযা এভাবে আদায় করব, নাকি যোহরের সময় ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, ইশার নামাযও কাযা করতে পারব? আর ঐ কাযা নামাযগুলোর নিয়ত কীভাবে করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

কাযা নামায আদায়ের জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই। নিষিদ্ধ তিন ওয়াক্ত (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়) ব্যতিত অন্য যে কোনো সময়ই যে কোনো কাযা নামায আদায় করা যায়। তাই আপনি এক নামাযের ওয়াক্তের মধ্যে অন্য যে কোনো ওয়াক্তের কাযা নামায আদায় করতে পারবেন। যেমন ফজরের ওয়াক্তে যোহরেরও কাযা আদায় করতে পারবেন।

আর কাযা নামায আদায়ের ক্ষেত্রে এভাবে নিয়ত করবেন যে, আমার জীবনের অনাদায়ী প্রথম যোহর নামায আদায় করছি। অথবা এভাবে নিয়ত করবেন যে, ছুটে যাওয়া বা অনাদায়ী সর্বশেষ যোহর নামায আদায় করছি। প্রতিবার কাযা আদায়ের সময় মনে ম নে এভাবে নিয়ত করবেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৭৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৪৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় নামাযের রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই। চেষ্টা করেও...

প্রশ্ন

অনেক সময় নামাযের রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই। চেষ্টা করেও স্মরণ করতে পারি না কত রাকাত পড়েছি। এক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তর

নামাযের রাকাত-সংখ্যা নিয়ে সংশয়ে পড়লে করণীয় হল, যে সংখ্যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হবে সেটাকে ধরে নিয়ে অবশিষ্ট রাকাত পূর্ণ করবে। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা দেওয়া লাগবে না। পক্ষান্তরে রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে যদি কোনো ধারণাই প্রবল না হয় তাহলে সম্ভাব্য সংখ্যার মাঝে কম সংখ্যাটি ধরবে। অতপর ঐ হিসাবে অবশিষ্ট নাময পূর্ণ করবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক রাকাতের শেষে বৈঠক করে তাশাহহুদ পড়বে এবং শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে।

উল্লেখ্য যে, নামাযের মধ্যে এ ধরনের সংশয় মনোযোগের অভাবে হয়ে থাকে। তাই খুশু-খুযুর সাথে নামায আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এজন্য কোনো আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গের সোহবতে যাওয়া ও তার পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

-কিতাবুল আছল ১/২২৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪২৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে আমি ইমামের সাথে শরিক হই।...

প্রশ্ন

একদিন যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে আমি ইমামের সাথে শরিক হই। এরপর আমি তাশাহহুদ পূর্ণ করার আগে ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু আমি তার সাথে না দাঁড়িয়ে তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াই। এ কারণে আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? মূলত এক্ষেত্রে নিয়ম কী? ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া না তাশাহহুদ পূর্ণ করে তারপর দাঁড়ানো? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়ানোই ঠিক হয়েছে। কারণ তাশাহহুদ পড়া ইমাম-মুক্তাদী সকলের উপরই পৃথক পৃথক ওয়াজিব। তাই মুক্তাদির তাশাহহুদ পূর্ণ করার আগে ইমাম তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেও মুক্তাদী তাশাহহুদ পূর্ণ করেই দাঁড়াবে।

-রদ্দুল মুহতার ২/১২, ৪৯৬; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়াহ

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি যোহর নামাযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি যোহর নামাযের পূর্বের চার রাকাত সুন্নতের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফের ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ’ পর্যন্ত পড়েছে। এ কারণে কি তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে বিলম্ব না করে তাশাহহুদের পরপরই দাঁড়িয়ে যাওয়া জরুরি ছিল। কিন্তু তা না করে ভুলে দরূদ শরীফের এ পরিমাণ পড়ার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে।

-আদ্দুররুল মুখতার, হা©র্শয়াতুত তহতাবী ১/২২৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪০১; শরহুল মুনইয়াহ ৩৩১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি সূরা-কিরাত, তাসবীহ-দুআ ইত্যাদি কতটুকু জোরে পড়বে?...

প্রশ্ন

একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি সূরা-কিরাত, তাসবীহ-দুআ ইত্যাদি কতটুকু জোরে পড়বে? নিজ কানে শুনতে পায়-এ পরিমাণ জোরে, নাকি শুধু ঠোঁট নাড়িয়ে হরফের মাখরাজ আদায় করে নিলেই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

নিম্নস্বরে আদায়কৃত নামাযসমূহে নামাযী সূরা-কিরাত নিজ কানে শুনতে পায়-এ পরিমাণ আওয়াজে পাঠ করা উত্তম। তবে পাশের মুসল্লি পর্যন্ত আওয়াজ না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। অবশ্য কেউ যদি ঠোঁট নাড়িয়ে একেবারে নিম্ন আওয়াজে হরফের মাখরাজ যথাযথভাবে আদায় করে পড়ে তবেও তার নামায আদায় হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আসল ১/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯৭; আততাসহীহ ওয়াত তারজীহ আলা মুখতাসারিল কুদুরী ৭৪; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। আমি...

প্রশ্ন

একদিন মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। আমি নামাযে শরিক হওয়ার আগেই তিনি রুকু থেকে উঠে সিজদায় চলে যান। আমি তখন নামাযে শরিক না হয়ে ইমাম সাহেবের দাঁড়ানোর অপেক্ষা করতে থাকি। এরপর দ্বিতীয় রাকাতে শরিক হই। জানার বিষয় হল, আমার এ কাজটা কি ঠিক হয়েছে? আর এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ইমাম নামাযের যে অবস্থায় থাকুক মুক্তাদীর জন্য তৎক্ষণাৎ নামাযে শরিক হয়ে যাওয়া সুন্নত। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে তাকিদ এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে রুকু, সিজদা কিংবা কিয়াম অবস্থায় পায় সে যেন সে অবস্থাতেই আমার সাথে শরিক হয়ে যায়।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৬১৬

তাই ইমাম সিজদায় থাকলে সিজদাতেই শরিক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে নামাযে শরিক না হয়ে পরবর্তী রাকাতের জন্য অপেক্ষা করা মাকরূহ।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৭৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৩৩; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৫০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার জামার নিচের অংশে এক শিশুর পেশাব লেগেছিল। তখন জামাটি...

প্রশ্ন

আমার জামার নিচের অংশে এক শিশুর পেশাব লেগেছিল। তখন জামাটি ধোয়া হয়নি। পরে ভেজা স্থান শুকিয়ে যায় এবং কোন জায়গায় পেশাব লেগেছিল তাও ভুলে যাই। এখন জামাটি নিয়ে নামায পড়তে চাইলে তা কীভাবে পবিত্র করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নাপাকির স্থান যেহেতু নিশ্চিতভাবে জানা নেই। তাই জামাটির নিচের অংশের যতটুকুতে পেশাব লেগেছে বলে সন্দেহ হয় পুরোটাই ধুতে হবে, যেন নাপাকির স্থান নিশ্চিতভাবে ধোয়া হয়ে যায়।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৭৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৩৬; ফাতহুল কাদীর ১/১৬৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সূরা-কেরাত শুদ্ধ নয়। মাদরাসার ছাত্র হিসেবে...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সূরা-কেরাত শুদ্ধ নয়। মাদরাসার ছাত্র হিসেবে আমি তা বুঝতে পারি। তাই এ ব্যাপারে তাকে একদিন বললে তিনি আমাকে নামায পড়াতে দেন। কিন্তু গোপনে মুসল্লিদের কাছে তার ঐ অযোগ্যতার কথা অস্বীকার করেন। আর আমি তাদেরকে অনেকবার বলা সত্ত্বেও তারা ইমাম সাহেবকেই প্রাধান্য দেয় এবং আমার কথাকে গ্রাহ্য করে না। এখন আমি ঐ ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে আমার নামায অশুদ্ধ হবে এ ভয়ে আমি মসজিদে না গিয়ে বাড়িতেই একাকী নামায পড়ি। প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় আমার বাড়িতে একাকী নামায পড়া সহীহ হচ্ছে কি? যদি না হয় তাহলে কী করণীয়? দলিল-প্রমাণ ও উপদেশসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

ইমামের তিলাওয়াত কী পরিমাণ অশুদ্ধ প্রশ্নে তা উল্লেখ করা হয়নি। সিফাত ও তাজবীদ ও মাখরাজের সামান্য ভুলের কারণে নামায নষ্ট হয় না। ভুলের কারণে কুফরী অর্থ হয়ে গেলে বা চরমভাবে অর্থের বিকৃতি ঘটলে তখনই নামায ফাসেদ হয়।

আর নিয়মিত মসজিদের জামাত ত্যাগ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

প্রশ্নোক্ত মসজিদে না পড়লে পার্শ্ববর্তী অন্য মসজিদে গিয়ে নামায পড়া উচিত। আর প্রশ্নোক্ত ইমামের পিছনে আপনার নামায পড়া-না পড়ার সিদ্ধান্ত নিজ থেকে না নিয়ে কোনো বিজ্ঞ আলেমকে ইমামের কিরাত শুনিয়ে তার থেকে পরামর্শ নেওয়া কর্তব্য।

জেনে রাখা দরকার, মসজিদের জামাত ত্যাগকারীর উপর হাদীসে কঠোর ধমকী এসেছে। তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা আদৌ ঠিক নয়।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৪৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সাহেবে তারতীব ব্যক্তি-অর্থাৎ যার যিম্মায় কোনো অনাদায়ী কাযা নামায নেই...

প্রশ্ন

সাহেবে তারতীব ব্যক্তি-অর্থাৎ যার যিম্মায় কোনো অনাদায়ী কাযা নামায নেই বা থাকলেও তা ছয় ওয়াক্তের কম আছে-তার জন্য কি এমন ব্যক্তির পিছনে ইক্তেদা করা সহীহ হবে, যার যিম্মায় অনেক কাযা নামায রয়ে গেছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

যার যিম্মায় অনেক নামায কাযা আছে সে ব্যক্তি ইমামতির যোগ্য হলে তাকেও ইমাম বানানো জায়েয আছে। আর তার পেছনে সাহেবে তারতীব ও অন্যদের নামায আদায় করাও সহীহ হবে। কিন্তু নিজের যিম্মায় অনেক নামায কাযা রেখে দিয়ে উদাসীন থাকা মুমিনের শান নয়; বরং তার কর্তব্য হল, যথাশীঘ্র সেগুলোর কাযা আদায় করে নেওয়া এবং আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার করা।

-আলবাহরুর রায়েক ১/৩৪৪, ৩৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন মিলে শবগুজারির জন্য মারকায মসজিদে গিয়েছিলাম।...

প্রশ্ন

আমরা গত বৃহস্পতিবার কয়েকজন মিলে শবগুজারির জন্য মারকায মসজিদে গিয়েছিলাম। মসজিদের ২য় তলায় বিছানাপত্র রেখে বিশ্রাম করছিলাম। এমন সময় মাগরিবের নামাযের ওয়াক্ত শুরু হয়। ২য় তলায় সাউন্ড বক্সের ব্যবস্থা ছিল। তাই নিচ তলায় জায়গা থাকা সত্ত্বেও আমরা কয়েকজন উপরেই দাঁড়িয়ে ইমামের সাথে নামায আদায় করি। প্রশ্ন হল, এভাবে নামায পড়ার কারণে আমাদের নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দ্বিতীয় তলায় যারা দাঁড়িয়েছে তাদের নামাযও আদায় হয়ে গেছে। তবে নিচ তলায় কাতার পুরা না করে দোতলায় দাঁড়ানো মাকরূহ হয়েছে।

ইমাম নিচ তলায় দাঁড়ালে সেক্ষেত্রে মুসল্লিদের কর্তব্য হল, প্রথমে নিচ তলার কাতার পূর্ণ করা। নিচ তলায় কাতার পূর্ণ হওয়ার পরই উপর তলায় কাতার করা যাবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাতার সোজা কর এবং ফাঁকা জায়গা পূর্ণ কর।

-সহীহ মুসলিম ২/২৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৮; শরহুল মুনইয়া ৫২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি যে, হানাফী মাযহাব মতে ইমামের জন্য ইমামতির নিয়ত...

প্রশ্ন

আমরা জানি যে, হানাফী মাযহাব মতে ইমামের জন্য ইমামতির নিয়ত লাগে না। ইমামতির নিয়ত না করলেও তার পেছনে নামায আদায় করা সহীহ আছে। কিন্তু সেদিন এক আলেম বললেন, হানাফী মাযহাবের মুকতাদি অন্য মাযহাবের ইমামের পিছনে ইকতিদা করলে মুক্তাদির ইকতিদা শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইমামের ইমামতিরও নিয়ত করতে হবে। তার এ কথা কি ঠিক? এক্ষেত্রে ইমামের নিয়ত কিরূপ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। অন্য মাযহাবের কোনো ব্যক্তির পিছনে ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্যও ইমামতির নিয়ত জরুরি নয়। ইমাম যদি ইমামতির নিয়ত না-ও করে তবুও সর্বাবস্থায় মুকতাদির ইকতিদা সহীহ হয়ে যাবে। তবে ইমামতির নিয়ত করে নেওয়া ভালো।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকার এক ওয়ায়েয বললেন, কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদে প্রবেশ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ওয়ায়েয বললেন, কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদে প্রবেশ করে নামাযের জন্য অপেক্ষা করা অবস্থায় এ দুআটি পড়ে তাহলে তার অপেক্ষার সময়টি নামাযের মধ্যে গণ্য হবে। দুআটি হল

أَعُوْذُ بِاللهِ الْعَظِيْمِ، وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيْمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ.

কিন্তু ইতিপূর্বে বিভিন্ন আলেমের মুখ থেকে শুনেছি যে, মসজিদে শুধু নামাযের জন্য অপেক্ষা করলেই অপেক্ষার সময়টি নামাযের মধ্যে গণ্য হয়ে যায়। সেখানে তো কোনো দুআ পড়ার কথা নেই।

বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ওয়ায়েযের কথাটি ঠিক নয়। বরং এ ব্যাপারে আপনি আলেমগণ থেকে যা শুনেছেন তাই সঠিক। অর্থাৎ মসজিদে এসে বেহুদা কথাবার্তা থেকে বিরত থেকে নামাযের জন্য অপেক্ষা করলেই নামাযের সওয়াব হতে থাকে। এর জন্য উক্ত দুআ পাঠ করার শর্ত নেই। কেননা হাদীস শরীফে কোনো প্রকার দুআ পড়ার শর্ত ছাড়াই ঐ ফযীলতের কথা এসেছে। যেমন : সাহল বিন সাদ রা. বলেন, আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি মসজিদে এসে নামাযের অপেক্ষা করবে (ঐ সময়টি) সে নামাযে আছে বলে গণ্য হবে।-সুনানে নাসায়ী, হাদীস : ৭৩৩

আর শুধু এ অপেক্ষার দ্বারাই উক্ত ফযীলত লাভ হলেও এর অর্থ এ নয় যে, ঐ সময় কোন যিকির-আযকার বা দুআ-দরূদ পড়া যাবে না; বরং চুপ-চাপ বসে না থেকে যিকির-আযকার ও তাসবীহ-তাহলীল পড়া উচিত। বিশেষত সুন্নাত আদায়ের পর হাদীস শরীফে যে সকল দুআ-দরূদ পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে তা পড়া উত্তম হবে। যেমন : একটি বর্ণনায় এসেছে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত আদায়ের পর নিম্নোক্ত দুআটি তিনবার পড়তেন। সম্ভব হলে তখন সেটি পড়বেন দুআটি এই :

اَللّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيْلَ وَمِيْكَائِيْلَ وَإِسْرَافِيْلَ وَمُحَمَّدٍ صَلّىٰ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ النَّارِ.

মুস্তাদরাক হাকেম ৬৬৬৯

প্রকাশ থাকে যে, প্রশ্নে উল্লেখিত দুআটি একটি মাসনুন দুআ, যা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশের সময় পড়তেন। আর এ দুআ পড়ার ফযীলত সম্পর্কে হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে শয়তান তার ব্যাপারে ঘোষণা দেয় যে, এ ব্যক্তি গোটা দিনের জন্য আমার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একজন মাছ বিক্রেতা। খরীদদারদের প্রয়োজনে অনেক সময় মাছ কেটে...

প্রশ্ন

আমি একজন মাছ বিক্রেতা। খরীদদারদের প্রয়োজনে অনেক সময় মাছ কেটে দিতে হয়। সতর্কতা অবলম্বন করা সত্ত্বেও কখনো কখনো মাছের রক্ত লুঙ্গিতে লেগে যায়। নামায পড়ার আগে যথাসম্ভব ধুয়ে নিই। কিন্তু মাঝে মধ্যে নামাযের পর দেখি লুঙ্গিতে রক্ত লেগে আছে। এখন কি আমাকে ঐ নামাযগুলো পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

মাছের রক্ত নাপাক নয়। তাই তা কাপড়ে লেগে থাকা অবস্থায় যে নামাযগুলো পড়েছেন সেগুলো আদায় হয়ে গেছে। তা পুনরায় পড়তে হবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৩৫; রদ্দুল মুহতার ১/৩১৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৫-১৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একবার আমি মসজিদে আসরের নামাযের জামাত না পাওয়ায় একা একা...

প্রশ্ন

একবার আমি মসজিদে আসরের নামাযের জামাত না পাওয়ায় একা একা নামায পড়ছিলাম। আমার নামায দ্বিতীয় রাকাত শেষ হয়ে তৃতীয় রাকাত চলছে। এরই মধ্যে একজন মুসল্লি আমার পেছনে ইকতেদা করেন। আমি বিষয়টি বুঝতে পেরে উঁচু আওয়াজে তাকবীর শুরু করি। আমার নামায শেষে তিনি তার বাকী নামায আদায় করে নেন। এ অবস্থায় আমার ও উক্ত মুসল্লির নামায হয়েছে কি?

আমি আরো জানতে চাই যে, একাকী নামায শুরু করার পর কারো জন্য তার পেছনে ইকতিদা করা সহীহ আছে কি এবং এর কোনো দলিল-প্রমাণ আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনাদের উভয়ের নামাযই সহীহ হয়েছে। কোনো ব্যক্তি একাকী নামায শুরু করার পর তার পিছনে ইক্তিদা করা সহীহ আছে। এটা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

আয়েশা রা. বলেন, একদা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাঁর কামরায় নামায পড়ছিলেন। তাঁর কামরার দেয়াল ছিল নিচু। ফলে সাহাবীগণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নামাযরত দেখতে পান এবং তাঁর পিছনে ইক্তিদা করে নামাযে দাঁড়িয়ে যান। সকাল বেলা বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় রাতেও রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়ালেন এবং সাহাবীগণ তাঁর ইক্তিদা করলেন।

-সহীহ বুখারী ১/১০১; ইলাউস সুনান ৪/৩৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৮১; রদ্দুল মুহতার ১/৫৫০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কেউ যদি ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে সাল্লাল্লাহু...

প্রশ্ন

কেউ যদি ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়ে তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে কি?

উত্তর

না, শুধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। কেননা এতে তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব হয় না। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫১০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৪; মাজমাউল আনহুর ১/২২১; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৫১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যোহর অথবা জুমআর পূর্বের সুন্নত এবং ফজর নামাযের পূর্বের সুন্নত...

প্রশ্ন

যোহর অথবা জুমআর পূর্বের সুন্নত এবং ফজর নামাযের পূর্বের সুন্নত যদি কখনো ছুটে যায় তাহলে তা পরবর্তীতে আদায় করতে হবে কি? আর আদায় করলে সুন্নত হবে না নফল হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

যোহর ও জুমআর আগের সুন্নত ছুটে গেলে ফরযের পরে ওয়াক্তের মধ্যেই তা আদায় করে নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ফরযের পরের সুন্নত প্রথমে আদায় করবে এরপর পূর্বের ছুটে যাওয়া সুন্নত আদায় করবে। আর ওয়াক্তের মধ্যে আদায় করলে তা সুন্নত হিসেবেই আদায় হবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের পূর্বের চার রাকাত আদায় করতে না পারলে যোহরের পরে তা আদায় করতেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৪২৬)

আর ফজরের সুন্নত ফরযের আগে আদায় করতে না পারলে ঐদিন সূর্য উদয়ের পর থেকে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ে তা পড়ে নিবে। আর সূর্য ঢলে যাওয়ার পর তা আদায় করলে নফল হিসাবে গণ্য হবে।

-ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০২; এলাউস সুনান ৭/১৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কখনো এমন হয় যে আমি যোহরের নামাযের নিয়তে জায়নামাযে দাঁড়াই।...

প্রশ্ন

কখনো এমন হয় যে আমি যোহরের নামাযের নিয়তে জায়নামাযে দাঁড়াই। কিন্তু তাকবীরে তাহরিমার সময় মুখে চলে আসে, মাগরিব বা ইশা। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? ঐ নিয়তেই নামায শেষ করব নাকি নতুন করে আবার নিয়ত করতে হবে?

উত্তর

নিয়ত মূলত অন্তরের সংকল্পের নাম। তাই যোহরের নামাযের সময় অন্তরে যদি যোহরের কথাই থাকে কিন্তু মুখে ভুলবশত অন্য ওয়াক্তের কথা চলে আসে তাতে অসুবিধা হবে না। এক্ষেত্রে যোহর নামাযই আদায় হবে। কিন্তু যদি মুখে ভুল উচ্চারিত হয় আর অন্তরে কিছুই স্থির না থাকে বা মুখে যা উচ্চারণ করছে সংকল্পেও তা থাকে তবে মুখেরটাই ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে ওয়াক্তের ফরয আদায় হবে না। তাই তা পুনরায় আদায় করতে হবে।

-রদ্দুল মুহতার ১/৪১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার ছেলের বয়স আড়াই বছর। সারাক্ষণ কোলে কোলেই থাকতে চায়।...

প্রশ্ন

আমার ছেলের বয়স আড়াই বছর। সারাক্ষণ কোলে কোলেই থাকতে চায়। আমি নামাযে দাঁড়ালে সে কোলে ওঠার জন্য কাপড় ধরে টানাটানি করে। এতে কখনো আমার হাত কনুই পর্যন্ত এমনকি কখনো বাহুও অনাবৃত হয়ে যায়। হাতের কব্জি পর্যন্ত পুরো হাত যেহেতেু নামাযে ঢেকে রাখা জরুরি, তাই তা খুলে গেলে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো ছাড়া আমার নামাযে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হাত অনাবৃত হওয়ার সাথে সাথে তা আবার ঢেকে নিবেন। তৎক্ষণাৎ ঢেকে নিলে নামায নষ্ট হবে না। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, নামাযের মধ্যে শরীরের যেসব অঙ্গ ঢেকে রাখা জরুরি এগুলোর কোনো একটির এক চতুর্থাংশ বা তার চেয়ে বেশি খুলে গেলে এবং তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় তা খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তিন তাসবীহর চেয়ে কম সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৮; ফাতহুল কাদীর ১/২২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার দাদীর বয়স প্রায় পঁয়ষট্টি বছর। আলহামদুলিল্লাহ তিনি এখনও স্বাভাবিক...

প্রশ্ন

আমার দাদীর বয়স প্রায় পঁয়ষট্টি বছর। আলহামদুলিল্লাহ তিনি এখনও স্বাভাবিক চলাফেরা ও ইবাদত বন্দেগী করতে পারেন। গত কয়েক মাস আগে একবার খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তখন কয়েকদিন তাঁর যবান বন্ধ ছিল। মুখে কোনো শব্দ উচ্চারিত হত না। তবে হুঁশ-জ্ঞান ছিল। তাই তিনি ওই অবস্থায়ও নামায আদায় করেছেন। কিন্তু কিরাত, দুআ ইত্যাদি পড়তে পারেননি। এখন তিনি সুস্থ আছেন।

প্রশ্ন হল, তার ওই কদিনের নামায কি আদায় হয়েছে? না তাকে পুনরায় ওই নামাযগুলো পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার দাদীর অসুস্থতার দিনগুলোর নামায আদায় হয়ে গেছে। তাকে পুনরায় ওই নামাযগুলো পড়তে হবে না। কেননা কিরাত পড়া যদিও ফরয কিন্তু কেউ অসুস্থতার কারণে কিরাত পড়তে না পারলে মাযুর গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে কিরাত ছাড়াই তার নামায আদায় হয়ে যাবে। যেমনিভাবে রুকু-সিজদা করতে পারে না-এমন অসুস্থ ব্যক্তি ইশারায় নামায পড়লে তার এ নামায আদায় হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা কাযা করতে হয় না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১১৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একবার নৌকায় ভ্রমণ করছিলাম। মাঝপথে যোহরের নামাযের সময় হয়ে...

প্রশ্ন

আমি একবার নৌকায় ভ্রমণ করছিলাম। মাঝপথে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঢেউয়ের কারণে নৌকাটি অস্বাভাবিক নড়াচড়া করছিল। ফলে দাঁড়িয়ে নামায পড়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই আমি বসে রুকু-সিজদাসহ নামায আদায় করেছি। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত নামায যথানিয়মেই আদায় হয়েছে। কেননা ওযরের কারণে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করতে না পারলে বসে আদায় করা জায়েয আছে।

-আলমুজামুল কাবীর, তবারানী; মাজমাউয যাওয়াইদ ২/৩৭১; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার খালা ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। এখন তার জ্ঞান-বোধ কিছুটা কমে...

প্রশ্ন

আমার খালা ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন। এখন তার জ্ঞান-বোধ কিছুটা কমে গেছে। তিনি প্রায়ই নামাযে উল্টা পাল্টা করে ফেলেন। তবে নামাযের সময় কেউ তার পাশে থেকে পড়ার ও করার কাজগুলো স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি ঠিকমতো নামায পড়তে পারেন।

প্রশ্ন হল, নামাযের বাইরে থেকে কেউ বলে বলে নামায পড়ালে খালার নামায সহীহ হবে কি?

উত্তর

আপনার খালা যেহেতু নিজে নিজে নামায পড়লে ঠিকমতো পড়তে পারেন না, তাই এ অবস্থায় তার পাশে থেকে নামাযের রুকু, সিজদা ও কিরাত ইত্যাদির কথা বলে বলে নামায পড়ালে তার নামায সহীহ হয়ে যাবে। অবশ্য নামাযের সময় এ রকম বলে দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে তিনি যেভাবেই পড়বেন আদায় হয়ে যাবে। জাহম রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুবাইর ইবনুল আওয়াম রা.-এর নামাযের সময় তার পিছনে এক লোক বসত। সে তার নামাযের আমলগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিত।

রুকাইন রাহ. বলেন, আমি একবার আসমা রা.-এর নিকট গেলাম। তখন তিনি ছিলেন অতিশয় বৃদ্ধা। তিনি নামায পড়ছিলেন আর একজন মহিলা তাকে বলছিল, রুকু করুন, সিজদা করুন।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/১৯৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মাগরিব নামাযের প্রতম রাকাতে সূরা হুমাযাহ ও দ্বিতীয় রাকাতে...

প্রশ্ন

আমি মাগরিব নামাযের প্রতম রাকাতে সূরা হুমাযাহ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা তাকাসুর পড়ি। পরে মনে পড়ে, আমার প্রথম রাকাতে সূরা তাকাসুর পড়া উচিত ছিল। ফলে সাহু সিজদা করে নেই। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ভুলের কারণে সাহু সিজদা করার প্রয়োজন ছিল না। কেননা নামাযের মধ্যে সূরা আগে-পরে হয়ে গেলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।

অবশ্য ইচ্ছাকৃত সূরার তারতীব উল্টো করে পড়া অনুচিত। যা হোক, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা করা ঠিক না হলেও আপনার ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; আততাজনীস ১/৪৬৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে পবিত্র হওয়ার পর তাদেরকে...

প্রশ্ন

মহিলারা হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে পবিত্র হওয়ার পর তাদেরকে সিজদা দিতে হবে কি?

উত্তর

হায়েয অবস্থায় সিজদার আয়াত শুনলে সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই পবিত্র হওয়ার পর তা আদায় করতে হবে না।

বিশিষ্ট তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ঋতুমতী মহিলা সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করবে না। সে তো সিজদার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথা ফরয নামাযই আদায় করছে না।

অনুরূপ বক্তব্য সাঈদ ইবনে জুবাইর রাহ., আতা রাহ. ও হাসান বসরী রাহ. থেকেও বর্ণিত আছে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৪০৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬৫; রায়েক ২/১১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একজন মেয়েলোকের বিগত মাসে ৮ দিন করে হায়েয হয়েছিল। এ...

প্রশ্ন

একজন মেয়েলোকের বিগত মাসে ৮ দিন করে হায়েয হয়েছিল। এ মাসে তার চার দিন হওয়ার পর দুই দিন হয়নি। এরপর আবার হয়েছে। জানার বিষয় হল, ৫ম ও ৬ষ্ঠ দিন তার কী করণীয় ছিল? সে কি অপেক্ষা করবে, নাকি গোসল করে নামায পড়া শুরু করবে?

উত্তর

উক্ত ক্ষেত্রে স্রাব বন্ধ হওয়ার পর গোসল করে ওয়াক্তের নামায পড়ে নিবে। কারণ স্বাভাবিক অভ্যাসের দিনগুলোর মধ্যেও কখনো স্রাব বন্ধ হয়ে গেলে ওয়াক্তের মধ্যে গোসল করে নামায পড়ে নেওয়াই কর্তব্য। কেননা এ পরিস্থিতিতে পরবর্তীতে আর রক্ত না এসে পূর্ণভাবে পবিত্র হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে তার জন্য ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করা জরুরি। অবশ্য সে যেহেতু সপ্তম দিনে আবার রক্ত দেখেছে তাই মাঝের বিরতির দুই দিন হায়েয হিসাবেই গণ্য হবে। সুতরাং মহিলাটি যদি ঐ দুই দিন নামায না পড়ে থাকে তবে যেহেতু তা মূলত হায়েযের দিন ছিল এ কারণে তা কাযাও করতে হবে না।

-ফাতহুল কাদীর ১/১৫১; আলমুহীতুল বুরহানী ১/৪০৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৫৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২০৩; রদ্দুল মুহতার ১/২৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বয়স তেইশ বছর। আমি নিয়মিত নামায পড়ি। কিন্তু মাঝে...

প্রশ্ন

আমার বয়স তেইশ বছর। আমি নিয়মিত নামায পড়ি। কিন্তু মাঝে মাঝে নামায কাযা হয়ে গেলে তা আর পড়া হয় না। এভাবে আমার প্রায় ৫০ ওয়াক্ত কাযা নামায জমে গেছে। এখন আমি এ সকল কাযা নামায আদায় করতে চাই। জানতে চাই, এই নামাযগুলো আদায়ের ক্ষেত্রেও কি আমাকে তারতীব রক্ষা করতে হবে? কিন্তু বাস্তবতা হল, কোন ওয়াক্ত আগে কোন ওয়াক্ত পরে তা নির্ধারণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার কাযা নামাযের সংখ্যা যেহেতু ছয় ওয়াক্তের বেশি তাই সেগুলো আদায়ের ক্ষেত্রে আপনাকে প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের মাঝে তারতীব রক্ষা করতে হবে না। তাই আপনি ছুটে যাওয়া নামাযগুলো তারতীব রক্ষা করা ছাড়াই সুবিধামতো আদায় করে নিতে পারবেন। আর আপনার কাযা নামাযগুলো পড়া শেষ না হলেও চলমান ওয়াক্তিয়া নামায যথাসময়ে পড়তে থাকবেন।

উল্লেখ্য, পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামাযের পাশাপাশি বিতর নামায ছুটে থাকলে তাও কাযা করতে হবে। আর কাযা আদায়ের ক্ষেত্রে এভাবে নিয়ত করতে পারেন যে, আমার যিম্মায় থেকে যাওয়া নামাযের মধ্যে সর্বপ্রথম ফজরের ফরয নামায আদায় করছি বা সর্বপ্রথম যোহরের ফরয নামায আদায় করছি।

প্রকাশ থাকে যে, যথাসময়ে নামায আদায় না করা মারাত্মক গুনাহ। তাই কোনো অবস্থায় নামায কাযা না হয় এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কখনো কাযা হয়ে গেলে দ্রুত আদায় করে নিতে হবে। আর বিগত দিনের কাযার জন্য তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৬৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের গ্রামে একটি ওয়াকফিয়া মসজিদ আছে। মুসল্লী কম বিধায় কোনো...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে একটি ওয়াকফিয়া মসজিদ আছে। মুসল্লী কম বিধায় কোনো কোনো ওয়াক্তের আযান ও জামাত হয় না। তাই ছুটিতে আমি বাড়ি গেলে একটু দূরে অবস্থিত জুমআ মসজিদে নামায পড়ি। কিন্তু সেখানকার ইমাম সাহেব আমাকে মহল্লার মসজিদে নামায পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। এ অবস্থায় আমার জন্য কোন মসজিদে নামায পড়া অধিক উত্তম হবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

উক্ত ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অন্য মসজিদে না গিয়ে মহল্লার ঐ মসজিদেই আপনার নামায পড়া উচিত। কেননা মহল্লার মসজিদ আবাদ করা মহল্লাবাসীর দায়িত্ব। তাই আপনি নিজেও সেখানে নামায পড়বেন এবং আশপাশের লোকজনকে ঐ মসজিদে গিয়ে নামায পড়তে এবং মসজিদটি আবাদ রাখতে উদ্বুদ্ধ করবেন।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৮; শরহুল মুনইয়া ৬১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার ছেলের বয়স আড়াই বছর। সারাক্ষণ কোলে কোলেই থাকতে চায়।...

প্রশ্ন

আমার ছেলের বয়স আড়াই বছর। সারাক্ষণ কোলে কোলেই থাকতে চায়। আমি নামাযে দাঁড়ালে সে কোলে ওঠার জন্য কাপড় ধরে টানাটানি করে। এতে কখনো আমার হাত কনুই পর্যন্ত এমনকি কখনো বাহুও খুলে যায়। হাতের কব্জি পর্যন্ত পুরো হাত যেহেতেু নামাযে ঢেকে রাখা জরুরি, তাই তা খুলে গেলে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন বাচ্চাকে ঘুম পাড়ানো ছাড়া আমার নামাযে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হাত খুলে যাওয়ার সাথে সাথে তা আবার ঢেকে নিবেন। তৎক্ষণাৎ ঢেকে নিলে নামায নষ্ট হবে না। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায ছেড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, নামাযের মধ্যে শরীরের যেসব অঙ্গ ঢেকে রাখা জরুরি এগুলোর কোনো একটির এক চতুর্থাংশ বা তার চেয়ে বেশি খুলে গেলে এবং তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় তা খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তিন তাসবীহর চেয়ে কম সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৮; ফাতহুল কাদীর ১/২২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৮; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাযের আগে ও পরে যে সুন্নত আছে তা আদায়ের...

প্রশ্ন

ফরয নামাযের আগে ও পরে যে সুন্নত আছে তা আদায়ের সময় আমি যদি পেছনের কাযা নামায এবং এই ওয়াক্তের সুন্নত আদায়ের জন্য একসাথে নিয়ত করি তাহলে সুন্নত ও কাযা দুটোই আদায় হবে কি না?

উত্তর

একসাথে কাযা ও সুন্নতের নিয়তে নামায শুরু করলে শুধু কাযাই আদায় হবে। সুন্নত আদায় হবে না। তাই সুন্নতের সাথে কাযার নিয়ত করা যাবে না। সুন্নত পৃথকভাবে আদায় করতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৮১; রদ্দুল মুহতার ২/১৮; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৪৩৮; উমদাতুল ফিকহ ১/৩৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

গত ইদুল ফিতরের নামাযে আমি ইমামতি করেছিলাম। নামাযের পর অন্যজনকে...

প্রশ্ন

গত ইদুল ফিতরের নামাযে আমি ইমামতি করেছিলাম। নামাযের পর অন্যজনকে দিয়ে খুতবা পড়িয়ে নেই। যিনি আমাদের চেয়ে বয়সে ও ইলমে বড়। তিনি যখন খুতবা পাঠ করতে উঠলেন তখন অন্য একজন বাধা দিলেন এবং বললেন, এভাবে একজন নামায পড়াবে আর অন্যজন খুতবা পাঠ করবে তা জায়েয নেই।

তাই প্রশ্ন হল, এরূপ করাটা সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

যিনি নামায পড়াবেন তারই খুতবা দেওয়া উত্তম। বিনা ওজরে এর ব্যতিক্রম করা উচিত নয়। কিন্তু কেউ করলে তা নাজায়েয হবে না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিনা ওজরে তা করে থাকলে অনুত্তম হয়েছে। ইলম ও আমলে বড় ব্যক্তিকে খুতবার জন্য দিতে চাইলে প্রথম থেকেই দিবে। যেন তিনি নামাযও পড়ান এবং খুতবাও পেশ করেন।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৪৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী ২৭৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৬২; মাজমাউল আনহুর ১/২৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়ে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই...

প্রশ্ন

আমি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহুদ পড়ে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং পঞ্চম রাকাত পড়ার পর আমার স্মরণ হয়। তারপর আমি আরো এক রাকাত বাড়িয়ে ষষ্ঠ রাকাত পূর্ণ করি এবং সাহু সিজদা আদায় করি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার যোহরের নামায আদায় হয়েছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যোহর নামায আদায় হয়ে গেছে। চার রাকাতের পর তাশাহহুদ পরিমাণ বসার কারণে প্রথম চার রাকাত যোহরের ফরয হিসেবে আদায় হয়েছে। আর বাকি দুই রাকাত নফল হিসেবে আদায় হয়েছে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৭; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মসজিদে যাচ্ছিলাম। এমন সময় চড়ুই পাখির বিষ্ঠা আমার শরীরের...

প্রশ্ন

আমি মসজিদে যাচ্ছিলাম। এমন সময় চড়ুই পাখির বিষ্ঠা আমার শরীরের উপর এসে পড়ে। ফলে পাঞ্জাবি নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমি টিস্যু দিয়ে তা মুছে নামায আদায় করে নেই। আমার জানার বিষয় হল, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

আপনার নামায আদায় হয়ে গেছে। পুনরায় পড়তে হবে না। কেননা চড়ুই পাখির বিষ্ঠা অপবিত্র নয়। তবে পরিচ্ছন্নতার জন্য তা ধুয়ে নামায পড়া ভালো।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১২৬১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২০; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মাগরিব নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ভুলক্রমে সূরা...

প্রশ্ন

আমি মাগরিব নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ভুলক্রমে সূরা নাস পড়ে ফেলি। পরে দ্বিতীয় রাকাতেও সে সূরাই পাঠ করি। কিন্তু সাহু সিজদা আদায় করিনি।

প্রশ্ন হল, আমার উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি? ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে কখনো সূরা নাস পড়ে ফেললে দ্বিতীয় রাকাতে আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত নামায যথানিয়মেই আদায় হয়েছে। কেননা প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা নাস পাঠ করা উচিত। তবে ইচ্ছাকৃত ফরযের উভয় রাকাতে একই সূরা পাঠ করা অনুত্তম। অবশ্য এ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় না।

-আততাজনীস ১/৪৬৭; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৪০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, দুজন মিলে জামাতে নামায পড়লে মুকতাদি ইমামের ডান...

প্রশ্ন

আমরা জানি, দুজন মিলে জামাতে নামায পড়লে মুকতাদি ইমামের ডান পাশে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় তৃতীয় ব্যক্তি আসলে তার কী করণীয়? সে ইমামের বাম পাশে দাঁড়াবে নাকি পিছনের কাতারে দাঁড়াবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দুজন মিলে জামাতে নামায পড়া অবস্থায় তৃতীয় কেউ আসলে তার জন্য উত্তম হল, পিছনের কাতারে দাঁড়ানো। আর ইমামের ডান পাশের মুসল্লির উচিত নামায অবস্থায় কিবলামুখী থেকেই পেছনের কাতারে চলে আসা। কিন্তু ডান পাশের মুসল্লি যদি পেছনের কাতারে না আসে এবং এমন মনে হয় যে সে এ অবস্থার কারণীয় সম্পর্কে জানে না তাহলে এক্ষেত্রে ডান পাশের মুসল্লিকে পেছনে আসতে বাধ্য করবে না। কেননা এতে তার নামায নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বরং সেক্ষেত্রে নিজেই ইমামের বাম পাশে দাঁড়িয়ে যাবে। আর এ অবস্থায় সামনে জায়গা থাকলে ইমামের জন্য সামনে এগিয়ে যাওয়া ভালো।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৩০১০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৬৮; ফাতহুল কাদীর ১/৩০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় যোহরের নামাযের আগে সময় না থাকায় সুন্নত পড়তে...

প্রশ্ন

অনেক সময় যোহরের নামাযের আগে সময় না থাকায় সুন্নত পড়তে পারি না এবং সুন্নত পড়া ছাড়াই জামাতে শরিক হই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় ঐ ছুটে যাওয়া সুন্নত কোন সময় আদায় করব? পরবর্তী দু রাকাতের আগে না পরে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে যোহরের পরে দু’ রাকাত সুন্নত আদায়ের পর তা পড়বে। হাদীস শরীফে এসেছে, আয়েশা সিদ্দীকা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যোহরের পূর্বের চার রাকাত কখনো ছুটে গেলে তিনি তা যোহরের পরে দু’ রাকাত সুন্নতের পর আদায় করতেন।

-সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৪৩৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫; আলবহারুর রায়েক ২/৭৫; রদ্দুল মুহতার ২/৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় আমরা আমাদের আশেপাশের একাধিক মসজিদের আযান শুনে থাকি।...

প্রশ্ন

অনেক সময় আমরা আমাদের আশেপাশের একাধিক মসজিদের আযান শুনে থাকি। এক্ষেত্রে কি আমাদের সবগুলো আযানের উত্তর দিতে হবে? না শুধু আমাদের মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিলেই চলবে? বিষয়টির সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

পর্যায়ক্রমে একাধিক আযান শুরু হলে প্রথমটির উত্তর দিবে। অবশ্য কেউ চাইলে প্রত্যেকটির উত্তরও দিতে পারে। আর যদি সবগুলো আযান প্রায় একই সাথে শুরু হয় তাহলে নিজ মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিবে।

-শরহুল মুনইয়া ৩৭৯; ফাতহুল কাদীর ১/২১৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১১০; আসসিআয়াহ ২/৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায ঘরে পড়া সুন্নত, না মসজিদে...

প্রশ্ন

ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামায ঘরে পড়া সুন্নত, না মসজিদে পড়া সুন্নত? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কী করতেন? মসজিদে পড়ার কোনো প্রমাণ আছে কি? অনুগ্রহপূর্বক উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ফজরের সুন্নতসহ সকল সুন্নত ও নফল নামায ঘরে আদায় করা উত্তম। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ... তোমরা ঘরে নামায আদায় কর। কেননা ফরয নামায ছাড়া অন্যান্য নামায ঘরে আদায় করাই উত্তম।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭৮১

আর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত সাধারণত ঘরেই আদায় করতেন।

আম্মাজান আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত আদায় করে প্রয়োজন হলে আমার সাথে কথা বলতেন। অন্যথায় ফরয আদায় করার জন্য মসজিদে চলে যেতেন।-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৪১৮

অবশ্য সাহাবা ও তাবেঈন থেকে ফজরের সুন্নত মসজিদে আদায় করাও প্রমাণিত আছে। তাই মসজিদেও সুন্নত আদায় করা যাবে।

এক বর্ণনায় আছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. এমন সময় মসজিদে প্রবেশ করলেন যখন ইমাম নামায পড়াচ্ছিলেন। তিনি (প্রথমে) ফজরের দু’ রাকাত

সুন্নত আদায় করলেন।-শরহু মাআনিল আছার ১/২৫৫

আবু উসমান আনসারী রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. মসজিদে এমন সময় এলেন যখন ইমাম ফজরের নামায পড়াচ্ছেন। আর তিনি তখনো ফজরের সুন্নত পড়েননি। তিনি প্রথমে পেছনে ফজরের সুন্নত আদায় করলেন। অতপর জামাতে শরিক হলেন।-শরহু মাআনিল আছার ১/২৫৬

অন্য বর্ণনায় আছে, বিশিষ্ট তাবেয়ী সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহ. মসজিদে এমন সময় এলেন যখন ইমাম ফজর নামায পড়াচ্ছেন। তিনি মসজিদের দরজার সামনে সুন্নত পড়লেন অতপর জামাতে শরিক হলেন।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৬৪৭৪; বাযলুল মাজহূদ ৬/৩৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা নামায আদায়ের সময় চুল খোঁপা করে রাখলে নামাযের কোনো...

প্রশ্ন

মহিলারা নামায আদায়ের সময় চুল খোঁপা করে রাখলে নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি? যদি সমস্যা হয় তাহলে চুল কিভাবে রাখতে হবে?

উত্তর

মহিলাদের জন্য নামাযের সময় চুল খোঁপা করে রাখতে কোনো বাধা নেই। কেননা মহিলাদের জন্য শরীয়তের বিধান হল, তারা নামায আদায়ের সময় পরিপূর্ণভাবে চুল ঢেকে রাখবে। নামায অবস্থায় তারা চুল ছেড়ে বা বেঁধে-যেকোনোভাবে রাখতে পারেন। তবে চুল ছাড়া থাকলে অসতর্কতাবশত কখনো তা খুলে যেতে পারে। তাই নামাযে চুল খোঁপা করে রাখাই ভালো।

-শরহুল মুনইয়া ২১২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি যে, আযানের মধ্যে ‘হাইয়াআলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়াআলাল ফালাহ’...

প্রশ্ন

আমরা জানি যে, আযানের মধ্যে ‘হাইয়াআলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়াআলাল ফালাহ’ বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ফিরাতে হয়। আর তা এজন্য যে, যাতে সবাই আওয়াজ শুনতে পায়। বর্তমান সময়ে সাধারণত সকল মসজিদেই মাইক ব্যবহার করা হয়। আমি জানতে চাই যে, মাইকে আযান দেওয়ার সময়ও কি ডানে বামে চেহারা ফিরাতে হবে?

উত্তর

হ্যাঁ, মাইকে আযান দিলেও ‘হাইয়াআলাস সালাহ’ এবং ‘হাইয়াআলাল ফালাহ’ বলার সময় ডানে-বায়ে চেহারা ফিরানো উত্তম। কেননা, চেহারা ফিরানোর মধ্যে অন্যদের আওয়াজ শোনা বা না শোনার বিষয়টি ছাড়াও অন্য কোনো হেকমতও থাকতে পারে। তাই মাইকে আযান দিলেও এই সুন্নত আদায়ের লক্ষ্যে ডানে বামে চেহারা ফিরানো উচিত।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২১৭২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন রমযান মাসে বিতির নামাযে ভুলে দুআয়ে কুনূত না...

প্রশ্ন

আমি একদিন রমযান মাসে বিতির নামাযে ভুলে দুআয়ে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পরে পিছন থেকে মুক্তাদিরা লোকমা দিলে রুকু থেকে উঠে দুআয়ে কুনূত পড়ি এবং আবার রুকু করি। পরবর্তীতে সিজদা সাহু না দিয়েই নামায সমাপ্ত করি। এই অবস্থায় নামায সহীহ হয়েছে কি?

উল্লেখ্য, ভুলে রুকুতে যাওয়ার পর এক তাসবীহ পরিমাণ সময়ও বিলম্ব হয়নি; বরং রুকুতে যাওয়ার সাথে সাথেই আবার ফিরে আসি এজন্য সাহু সিজদা দেইনি। আর আমার যতটুকু মনে হয়েছিল আমার পিছনের মুক্তাদিগণও কেউ রুকুতে যায়নি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় দুআ কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাওয়ার দ্বারাই সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার জন্য রুকুতে তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব হওয়া শর্ত নয়। কিন্তু যেহেতু সাহু সিজদা করা হয়নি তাই সকলকেই ঐদিনের বিতর নামায কাযা করে নিতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, দুআ কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাওয়ার পর স্মরণ হলে দুআ কুনূতের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে নিয়ম হল দুআয়ে কুনূতের জন্য ফিরে না এসে যথানিয়মে ঐ রাকাত পূর্ণ করে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করা।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৩৪; রদ্দুল মুহতার ২/৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৫৬; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলা বলেছেন যে, তাকবীরে তাশরীক একবার...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলা বলেছেন যে, তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব, তিনবার বলা মুস্তাহাব। কিন্তু অন্য এক আলিমকে বলতে শুনেছি, তিনবার বলা সুন্নত পরিপন্থী, বিদআত। জানার বিষয় হল, মূলত তাকবীরে তাশরীক তিনবার বলা সুন্নত, না মুস্তাহাব? সাহাবায়ে কেরাম কতবার তাকবীর বলতেন? তাদের থেকে তিন তাকবীর বলা প্রমাণিত আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

৯ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্ব আসরসহ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকীবরে তাশরীক তথা-

الله أكبر الله أكبر، لا إله إلا الله والله أكبر الله أكبر ولله الحمد.

বলা ওয়াজিব। এই তাকবীর তিনবার বলা সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবায়ে কেরাম রা. কীভাবে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন তা হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে একাধিকবার তাকবীরের কথা উল্লেখ নেই।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৮, ৫৬৯৯; আলআওসাত, হাদীস : ২১৯৮, ২২০০

তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিন নামাযের পর উক্ত তাকবীর বলতেন।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৬

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে তাকবীরে তাশরীকের সাথে অন্য কিছু মিলিয়ে পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন হযরত ইবনে উমর রা. তাকবীরে তাশরীকের আগে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন।-আলআওসাত, হাদীস : ২২০১

আর পূর্ণ তাকবীরে তাশরীক তিনবার পড়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিকহবিদগণও তিনবার বলার প্রতি গুরুত্ব দেন না। অবশ্য কেউ যদি সুন্নত মনে না করে এমনিতেই তিনবার বলে তবে সেটাকে বিদআত বলাও উচিত নয়।

-আলআওসাত, হাদীস : ২১৯৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.