Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ২৩৪৭
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

যদি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের জামাতে তিন রাকাত ইমামের পিছনে না...

প্রশ্ন
যদি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের জামাতে তিন রাকাত ইমামের পিছনে না পায় তাহলে অনেককে দেখা যায়, সালাম ফিরানোর পর এক রাকাত পড়ে বৈঠক করে। আবার অনেকে দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করে এবং পরবর্তীতে বাকি নামায যথানিয়মে আদায় করে। এভাবে উভয় সুরতে নামায আদায়ের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া নামাযের মধ্যে প্রথম রাকাত পড়ে বৈঠক করাই সহীহ। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করার ব্যপারে একটি মত থাকলেও প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। অবশ্য এক্ষেত্রে কেউ যদি দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করে তাহলে দ্বিতীয় মত অনুসারে তার নামায আদায় হয়ে যাবে এবং সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৯০; রদ্দুল মুহতার
১/৫৯৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩২৯
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

শুনেছি, রুকু থেকে দাঁড়ানোর অবস্থায় এবং দুই সিজদার মাঝে বসা...

প্রশ্ন
শুনেছি, রুকু থেকে দাঁড়ানোর অবস্থায় এবং দুই সিজদার মাঝে বসা অবস্থায় দুআ আছে। কিন্তু কোনো বইতে এই দুআগুলো পাইনি। তাই দয়া করে দুআগুলো জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
রুকু থেকে উঠার সময় ইমাম যখন ﺳَﻤِﻊَ ‎ﺍﻟﻠﻪُ ﻟِﻤَﻦْ ﺣَﻤِﺪَﻩ বলবে তখন মুক্তাদীর
জন্য ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ বলা উত্তম। অতপর
সম্ভব হলে-
‎ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴْﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ ﻓِﻴْﻪِ দুআটিও
পড়া উত্তম। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম যখন ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻠﻪُ ﻟِﻤَﻦْ ﺣَﻤِﺪَﻩ বলবে তোমরা তখন ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ বল। অন্য এক হাদীসে আছে, রিফাআ ইবনে রাফে রা. বর্ণনা করেন যে, একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছনে নামায আদায় করছিলাম। তিনি রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে যখন ﺳَﻤِﻊَ ﺍﻟﻠﻪُ ‎ﻟِﻤَﻦْ ﺣَﻤِﺪَﻩ বললেন তখন পিছন থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠল
‎ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﺣَﻤْﺪًﺍ ﻛَﺜِﻴْﺮًﺍ ﻃَﻴِّﺒًﺎ ﻣُﺒَﺎﺭَﻛًﺎ
‎ﻓِﻴْﻪِ নামায শেষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, নামাযে ঐ বাক্য কে বলেছে? এক ব্যক্তি বলল, আমি, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি দেখতে পেলাম ত্রিশের অধিক ফেরেশতা উক্ত দুআর ছাওয়াব নিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত যে, কে আগে তার ছাওয়াব লিখবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৯৯ আর দুই সিজদার মাঝে রাবিবগ
ফিরলী এবং ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ
‎ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻲ ﻭَﺍﻫْﺪِﻧِﻲ ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲ পড়া উত্তম। সুনানে নাসায়ীতে দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে ‘রাবিবগফিরলী, রাবিবগফিরলী’ দুআটি পড়ার কথা এসেছে। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকে তা পড়তেন।- সুনানে নাসায়ী ১/২৯ আবার কখনো তিনি এ দুআটিও পড়তেন-
‎ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻭَﺍﺭْﺣَﻤْﻨِﻲ ﻭَﻋَﺎﻓِﻨِﻲ
‎ﻭَﺍﻫْﺪِﻧِﻲ ﻭَﺍﺭْﺯُﻗْﻨِﻲ -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৫০ ফযীলতপূর্ণ এ দুআগুলো ইমাম- মুকতাদী সবার জন্য নফল-ফরয সব নামাযেই পড়া উত্তম। আর নফল ও তাহাজ্জুদে উপরোক্ত দুআ ছাড়াও আরো কিছু দুআ পড়ার কথা হাদীস শরীফে এসেছে। যেমন-রুকু থেকে উঠে নিম্নোক্ত দুআগুলো পড়ার কথা হাদীসে এসেছে। সহীহ মুসলিমে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু থেকে দাঁড়িয়ে পড়তেন-
‎ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ، ﻣِﻞْﺀُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ
‎ﻭﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ، ﻭَﻣَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻬُﻤَﺎ، ﻭَﻣِﻞْﺀُ ﻣَﺎ ﺷِﺌْﺖَ
‎ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ ﺑَﻌْﺪُ অন্য বর্ণনায় এ দুআটি পড়ার কথাও
এসেছে-
‎ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻣِﻞْﺀُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ، ﻭَﻣِﻞْﺀُ
‎ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ، ﻭَﻣِﻞْﺀُ ﻣَﺎ ﺷِﺌْﺖَ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
‎ﺑَﻌْﺪُ ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﻃَﻬِّﺮْﻧِﻲ ﺑِﺎﻟﺜَّﻠْﺞِ ﻭَﺍﻟْﺒَﺮَﺩِ،
‎ﻭَﺍﻟْﻤَﺎﺀِ ﺍﻟْﺒَﺎﺭِﺩِ ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﻃَﻬِّﺮْﻧِﻲ ﻣِﻦَ
‎ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏِ ﻭَﺍﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ، ﻛَﻤَﺎ ﻳُﻨَﻘَّﻰ ﺍﻟﺜَّﻮْﺏُ
‎ﺍﻟْﺄَﺑْﻴَﺾُ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻮَﺳَﺦِ -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪৭৬ আবু সাঈদ খুদরী রা.-এর বর্ণনায় সহীহ মুসলিমে এ দুআটিও এসেছে- ‎ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﺍﻟْﺤَﻤْﺪُ ﻣِﻞْﺀُ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﻭَﺍﺕِ ‎ﻭَﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ، ﻭَﻣِﻞْﺀُ ﻣَﺎ ﺷِﺌْﺖَ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀٍ
‎ﺑَﻌْﺪُ، ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺠْﺪِ، ﺃَﺣَﻖُّ ﻣَﺎ ﻗَﺎﻝَ
‎ﺍﻟْﻌَﺒْﺪُ، ﻭَﻛُﻠُّﻨَﺎ ﻟَﻚَ ﻋَﺒْﺪٌ: ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﻟَﺎ ﻣَﺎﻧِﻊَ ﻟِﻤَﺎ
‎ﺃَﻋْﻄَﻴْﺖَ، ﻭَﻟَﺎ ﻣُﻌْﻄِﻲَ ﻟِﻤَﺎ ﻣَﻨَﻌْﺖَ، ﻭَﻟَﺎ
‎ﻳَﻨْﻔَﻊُ ﺫَﺍ ﺍﻟْﺠَﺪِّ ﻣِﻨْﻚَ ﺍﻟْﺠَﺪُّ -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪৭৭ ফকীহগণের ভাষ্যমতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সকল দীর্ঘ দীর্ঘ দুআগুলো সাধারণত তাহাজ্জুদ ও নফল নামাযে পড়তেন। তাই এ দুআগুলো বিশেষভাবে নফল নামাযে পড়া উত্তম। প্রকাশ থাকে যে, এসব দুআর জন্য ‘হিসনে হাসীন’ ইমাম জাযারী রাহ. কৃত কিতাবটি পড়া যেতে পারে। এটি দুআর একটি নির্ভরযোগ্য কিতাব।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩১৪
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে-...

প্রশ্ন
মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে- ক) যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে। খ) যে ব্যক্তি যোহরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার রুজির বরকত কমে যাবে। গ) যে ব্যক্তি আসরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার শরীরের শক্তি কমে যাবে। ঘ) যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার সন্তানাদি তার উপকারে আসবে না। ঙ) যে ব্যক্তি ইশার নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার নিদ্রার পরিতৃপ্তি নষ্ট হয়ে যাবে। (বাবুস সালাত, মেশকাত আলমাসাবীহ) এ ধরনের উদ্ধৃতিসহ বা উদ্ধৃতি ছাড়াও দেয়ালে লেখা হয়ে থাকে। জানার বিষয় হল, বাক্যগুলো হাদীস কি না? হাদীস হলে এর মান কী? হাদীস না হলে কথাগুলো অন্যকোনোভাবে প্রমাণিত কি না? বা এর অর্থ ও বিষয়বস্তু সঠিক কি না, আর তা বর্ণনাযোগ্য কী না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাগুলো হাদীস নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। মিশকাতুল মাসাবীহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হলেও বাসত্মবে তাতে এ বর্ণনাটি নেই। হাদীসের নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো গ্রন্থেও এর অসিত্মত্ব নেই। তাই
হাদীস
হিসেবে এটি বর্ণনা করা বা প্রচার করা জায়েয নয়। ভিত্তিহীন ঐ কথাগুলো হাদীস হিসেবে প্রচার করলে গুনাহ হবে। তবে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে ভয়াবহ ধমকি এসেছে। একটি হাদীসে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করাকে কুফরতুল্য গুনাহ বলা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করল সে কুফরি করল।- মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০০৭ অপর একটি হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিল তার থেকে আল্লাহতাআলার যিম্মা উঠে গেল।-সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস : ৩০১ আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস : ৪৫ সুতরাং প্রত্যেক মুসলমান নর- নারীকে যথাসময়ে নামায আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এক ওয়াক্ত নামাযও যেন ছুটে না যায় সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০৬
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে-...

প্রশ্ন
মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে- ক) যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে। খ) যে ব্যক্তি যোহরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার রুজির বরকত কমে যাবে। গ) যে ব্যক্তি আসরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার শরীরের শক্তি কমে যাবে। ঘ) যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার সন্তানাদি তার উপকারে আসবে না। ঙ) যে ব্যক্তি ইশার নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার নিদ্রার পরিতৃপ্তি নষ্ট হয়ে যাবে। (বাবুস সালাত, মেশকাত আলমাসাবীহ) এ ধরনের উদ্ধৃতিসহ বা উদ্ধৃতি ছাড়াও দেয়ালে লেখা হয়ে থাকে। জানার বিষয় হল, বাক্যগুলো হাদীস কি না? হাদীস হলে এর মান কী? হাদীস না হলে কথাগুলো অন্যকোনোভাবে প্রমাণিত কি না? বা এর অর্থ ও বিষয়বস্তু সঠিক কি না, আর তা বর্ণনাযোগ্য কী না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাগুলো হাদীস নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। মিশকাতুল মাসাবীহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হলেও বাসত্মবে তাতে এ বর্ণনাটি নেই। হাদীসের নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো গ্রন্থেও এর অসিত্মত্ব নেই। তাই
হাদীস
হিসেবে এটি বর্ণনা করা বা প্রচার করা জায়েয নয়। ভিত্তিহীন ঐ কথাগুলো হাদীস হিসেবে প্রচার করলে গুনাহ হবে। তবে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে ভয়াবহ ধমকি এসেছে। একটি হাদীসে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করাকে কুফরতুল্য গুনাহ বলা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করল সে কুফরি করল।- মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০০৭ অপর একটি হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিল তার থেকে আল্লাহতাআলার যিম্মা উঠে গেল।-সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস : ৩০১ আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস : ৪৫ সুতরাং প্রত্যেক মুসলমান নর- নারীকে যথাসময়ে নামায আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এক ওয়াক্ত নামাযও যেন ছুটে না যায় সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০৩
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলোর কাযা হওয়া নামায পরবর্তীতে আদায় করলে অথবা...

প্রশ্ন
তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলোর কাযা হওয়া নামায পরবর্তীতে আদায় করলে অথবা অন্য কোনো দিনের কাযা নামায তাকবীরে তাশরীকের দিনগুলাতে আদায় করলে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে কি?
উত্তর
তাকবীরে তাশরীক নির্ধারিত সময়ের আমল। তাই তাশরীকের দিনগুলোর কাযা নামায এই সময়ের পরে আদায় করলে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে না। তবে এ সময়ের ছুটে যাওয়া নামায যদি এ দিনগুলোতেই কাযা করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে। আর অন্য কোনো দিনের কাযা নামায তাশরীকের দিনগুলোতে আদায় করলে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে না। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০২
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় এমন হয় যে, মসজিদে গিয়ে দেখি যোহরের নামাযের...

প্রশ্ন
অনেক সময় এমন হয় যে, মসজিদে গিয়ে দেখি যোহরের নামাযের জামাতের সময় হয়ে গেছে বা জামাত দাঁড়িয়ে গেছে। এমতাবস্থায় যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়া হয় না। জানার বিষয় হল, পরবর্তীতে কি ঐ সুন্নত পড়ে নেওয়া যাবে? পড়া গেলে যোহরের পরের দুই রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব নাকি পরে?
উত্তর
জ্বী। যোহরের পূর্বের সুন্নত ছুটে গেলে তা ফরয-পরবর্তী দুই রাকাতের পর আদায় করে নিবে। হাদীস শরীফে এসেছে, আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যোহরের পূর্বের চার রাকাত (কখনো) ছুটে গেলে তিনি তা যোহরের (ফরয) পরবর্তী দুই রাকাতের পর আদায় করতেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১১৫৮; জামে তিরমিযী, হাদীস : ৪২৬; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯; মাআরিফুস সুনান ৪/১০৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০১
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর সূরা ফাতিহার স্থানে ভুলে তাশাহহুদ পড়া শুরু করে দেয়। তাশাহহুদ পড়া শেষ হওয়ার পর তার এ ভুলের কথা স্মরণ হয়। স্মরণ হওয়া মাত্র সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করে। কিন্তু নামায শেষে সে সাহু সিজদা করেনি। এখন জানার বিষয় হল, তার এ নামায কি সহীহ হয়েছে, না তা আবার পড়তে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না করার কারণে এ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে। -ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৭১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেককে দেখা যায়, তারা নামাযে ইমামের আগে আগে রুকুতে বা...

প্রশ্ন
অনেককে দেখা যায়, তারা নামাযে ইমামের আগে আগে রুকুতে বা সিজদায় চলে যায়। আবার বসা থেকে উঠার সময়ও ইমামের আগে আগেই দাঁড়িয়ে যায়। আমার প্রশ্ন হল, এরকম করাটা কি ঠিক আছে? এতে কি নামাযের কোনো অসুবিধা হবে?
উত্তর
নামাযের প্রত্যেক রুকনেই মুকতাদির জন্য ইমামের অনুসরণ করা ওয়াজিব। ইমামের আগে মুকতাদির রুকু বা সিজদায় চলে যাওয়া কিংবা ইমামের আগেই মুকতাদির
দাঁড়িয়ে যাওয়া মাকরূহ তাহরীমী। নবী কারীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম নির্ধারণ করা হয়েছে তার অনুসরণ করার জন্য। সুতরাং ইমাম যখন রুকু করবে তখন তোমরা রুকু করবে, যখন ইমাম রুকু থেকে মাথা উঠাবে তখন তোমরাও মাথা উঠাবে।- সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪১২
সহীহ বুখারীতে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের মাঝে যে ইমামের আগে মাথা উঠিয়ে ফেলে সি কি ভয় করে না যে, আল্লাহ তার মাথাকে গাধার মতো অথবা তার আকৃতিকে গাধার আকৃতি বানিয়ে দিবেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৭০
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি নামাযের ভিতর মহিলাদের মাথা ঢেকে রাখা ফরয। কোনো...

প্রশ্ন
আমরা জানি নামাযের ভিতর মহিলাদের মাথা ঢেকে রাখা ফরয। কোনো মহিলা যদি এতটা পাতলা উড়না পরে নামায পড়ে যে, উড়না পরার পরও মাথার চুল স্পষ্ট দেখা যায় তাহলে কি তার নামায হবে?
উত্তর
নামাযের ভিতর মহিলাদের মাথা ও চুল ঢেকে রাখা ফরয। তাই উড়না এমন মোটা হতে হবে যা মাথায় দিলে চুল দেখা যায় না। উড়না যদি এত পাতলা হয়, যা পরার পরও চুল স্পষ্ট দেখা যায় তাহলে তা মাথায় দিয়ে নামায সহীহ হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৫১৪-৫১৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৫২-২৫৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৬৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় নামাযের রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই। চেষ্টা করেও...

প্রশ্ন
অনেক সময় নামাযের রাকাত নিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই। চেষ্টা করেও স্মরণ করতে পারি না কত রাকাত পড়েছি। এক্ষেত্রে করণীয় কী?
উত্তর
নামাযের রাকাত- সংখ্যা নিয়ে সংশয়ে পড়লে করণীয় হল, যে সংখ্যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হবে সেটাকে ধরে নিয়ে অবশিষ্ট রাকাত পূর্ণ করবে। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা দেওয়া লাগবে না। পক্ষান্তরে রাকাত সংখ্যার ব্যাপারে যদি কোনো ধারণাই প্রবল না হয় তাহলে সম্ভাব্য সংখ্যার মাঝে কম সংখ্যাটি ধরবে। অতপর ঐ হিসাবে অবশিষ্ট নাময পূর্ণ করবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক রাকাতের শেষে বৈঠক করে তাশাহহুদ
পড়বে এবং শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা দিয়ে নামায
শেষ করবে। উল্লেখ্য যে, নামাযের মধ্যে এ ধরনের সংশয় মনোযোগের অভাবে হয়ে থাকে। তাই খুশু-খুযুর
সাথে নামায আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে।
এজন্য কোনো আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গের সোহবতে যাওয়া ও তার পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। -কিতাবুল আছল ১/২২৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪২৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৩



প্রশ্নঃ- ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজের শরঈ বিধান কি? ¤ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে বিনিময় নেওয়া কি জায়েয আছে? উত্তরঃ- ঝাড়ফুক তাবিজ কবজ চার শর্তে জায়েয আছে; (১) কুফুরী কালাম না হওয়া। (২) লেখাগুলো অস্পষ্ট না হওয়া। (৩) কোন নাজায়েয কাজের জন্য না হওয়া। (৪) এমন আক্বীদা না থাকা যে, তাবিজের মধ্যে ই ভালো করার ক্ষমতা রয়েছে। কারন ভালো করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। ¤উল্যেখিত শর্ত অনুযায়ী ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে বিনিময় নেওয়া জায়েয আছে। দলিলঃ- মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৫৬৭, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা- হাদিস নং ২৪০১৩, ফতোয়ায়ে শামী - ৬/৩৬৩. (সাইদ)

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৫২
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি মসজিদে ২ কাতার ফাকা রেখে ইমামের ইক্তেদা করেছে...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি মসজিদে ২ কাতার ফাকা রেখে ইমামের ইক্তেদা করেছে তার নামাজ হয়েছে কি?
উত্তর
হ্যাঁ। তার নামাজ হয়ে গেছে। তবে মাকরুহ হয়েছে। উল্লেখ্য এক্ষেত্রে মাঝে কোন মহিলা থাকলে নামাজ হবেনা।
সুত্রঃ বাদায়ে-১/৩৬২, শামি-২/৩৩১-৩২, আলমগিরি-১/৮৭, বাহর-১/৬৩৫, রহিমিয়া-৪/২০৫।

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৪৫
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মাগরিবের নামাজ জামাতের সহিত এক রাকাত পেয়েছি আর দুই...

প্রশ্ন
আমি মাগরিবের নামাজ জামাতের সহিত এক রাকাত পেয়েছি আর দুই রাকাতের মাসবুক হয়েছি। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর বাকি দুই রাকাতের মাঝে না বসে নামাজ শেষ করে ফেলেছি, সাহু সাজদাও দেয় নাই। মুফতি সাহেবের নিকট জানতে চাই, আমার নামাজ কি হয়েছে? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে ??
উত্তর
হ্যা, আপনার নামাজ হয়ে গেছে। তবে উচিত ছিল দুই রাকাতের মাঝে বসে তাশাহুদ পড়ে নেয়া। এই ভুলে কারনে সাহু সাজদা আবশ্যক হয় না।
দলিলঃ-
ফতোয়ায়ে শামী ২/২০৩. বাহরুর রায়েক ১/২১৭ ফতহুল কাদির ১/৪০১.

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৪৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

মাসবুক ব্যাক্তি ইমামের সাথে যদি শুধু ডান দিকে ভুলে সালাম...

প্রশ্ন
মাসবুক ব্যাক্তি ইমামের সাথে যদি শুধু ডান দিকে ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে কি সেজদায়ে সাহু দিতে হবে?
উত্তর
যদি ইমামের সালামের সাথে সাথেই বা আগে মাসবুক ব্যাক্তি ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে সাহু সাজদা দিতে হবে না। যদি পরে ফিরায় তাহলে সাহু সাজদা দিতে হবে। আর সাধারনত এমনি হয়ে থাকে।
কিন্তু যদি ইচ্চাকৃতভাবে সালাম ফিরায় তাহলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।
দলিলঃ-
ফতোয়ায়ে শামী ২/৫৪২. বাহরুর রায়েক ২/৭৬. আলমগিরী ১/৯১.

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৩৭
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি গত বিশ্ব ইজতিমায় গিয়েছিলাম। নামাযের সময় মানুষ বেশি হওয়ার...

প্রশ্ন
আমি গত বিশ্ব ইজতিমায় গিয়েছিলাম। নামাযের সময় মানুষ বেশি হওয়ার কারণে পেন্ডেলে জায়গা পাইনি। তাই রাস্তায় নামায পড়ি। রাস্তা গরম হওয়ার কারণে সিজদা পাগড়ির পেঁচের উপর করেছি। আবার পাশের এক মুসল্লিকে দেখেছি যে, সে গরমের কারণে কপাল মাটিতে লাগায়নি; বরং মাথার উপরই সিজদা করেছে। এ কারণে কি নামাযের কোনো সমস্যা হয়েছে?
উত্তর
প্রচন্ড রোদের কারণে উত্তপ্ত জমিনে সিজদা করতে কষ্ট হলে পাগড়ি বা টুপির একাংশ কপালের উপর টেনে নিয়ে তার উপর সিজদা করা যাবে। এতে নামায মাকরূহ হবে না। সাহাবায়ে কেরাম থেকেও প্রচন্ড শীত বা গরমে সরাসরি মাটিতে সিজদা করতে কষ্ট হওয়ার কারণে পাগড়ির পেঁচের উপর সিজদা করা প্রমাণিত আছে। (দেখুন : সহীহ বুখারী ১/৫৬; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ১/৪০০ তবে ঐ ধরনের বিশেষ ওজর ছাড়া পাগড়ি বা টুপির কোনো অংশের উপর সিজদা করা মাকরূহ। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে পাগড়ির পেঁচের উপর সিজদা করতে দেখে তার কপালের দিকে ইশারা করে বলেন, তোমার পাগড়ি আরো উঠাও। - মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৫০০ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকেও বর্ণিত আছে যে, তিনি পাগড়ির পেঁচের উপর সিজদা করাকে অপছন্দ করতেন।- আলআওসাত ৩/৩৪৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ২/৫০০ আর কেউ যদি সিজদাতে জমিনে শুধু মাথা রাখে অর্থাৎ চুলের অংশ জমিনে রাখে কপালের কোনো অংশই জমিনে না লাগে তবে তার সিজদা আদায় হবে না। তাই তার নামাযও হবে না। কারণ সিজদার অঙ্গ কপাল, মাথা নয়। -আলবাহরুর রায়েক ১/৩১৯; ফাতহুল কাদীর ১/২৬৫-২৬৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার
১/৫০০

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৩৫
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন ফজরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয়...

প্রশ্ন
আমি একদিন ফজরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পাই। তখন আমি সুন্নত না পড়েই জামাতে শরিক হয়ে যাই। নামায শেষ হওয়ার পরও ফজরের অনেক সময় বাকি ছিল। তাই আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নতের জন্য দাঁড়িয়ে যাই। এক ব্যক্তি আমাকে বললেন, এখন সুন্নত পড়া মাকরূহ। সূর্যোদয়ের পর পড়ে নিও। জানতে চাই, ঐ ব্যক্তির কথাটি কি সঠিক?
উত্তর
হাঁ, ঐ ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮২৫ তাই ফজরের সুন্নত ছুটে গেলে সূর্যোদয়ের আগে পড়বে না; বরং সূর্যোদয়ের পর থেকে সূর্য হেলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আদায় করে নিবে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ফজরের দুই রাকাত সুন্নত (সময়মতো) পড়েনি সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে নেয়।- জামে তিরমিযী, হাদীস : ৪২৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১০৫৩ নাফে রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. (ফজরের সময়) মসজিদে প্রবেশ করে দেখেন জামাত শুরু হয়ে গেছে। তিনি ফজরের সুন্নত না পড়েই জামাতে শরিক হয়ে গেলেন। নামায শেষে তিনি মসজিদে বসে অপেক্ষা করতে থাকেন। অতপর সূর্যোদয় হয়ে গেলে তিনি দুই রাকাত সুন্নত কাযা করে নেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৪৪৩; রদ্দুল মুহতার ২/৫৭; মাআরিফুস সুনান ৪/৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৩০
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর...

প্রশ্ন
আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহীহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। সাথে মাহরাম পুরুষও এসে পড়েন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব
হবে?
উত্তর
ভিড়ের
ওজরে অন্যকে দিয়ে রমী করানো (কংকর মারানো) বৈধ নয়। এর দ্বারা তাদের এই ওয়াজিব আদায় হবে না। দিনের বেলায় ভিড় থাকলেও রাতে তেমন ভিড় থাকে না। রাতে মহিলা ও দুর্বলদের জন্য রমীর উপযুক্ত সময়। প্রকাশ
থাকে যে,
অন্যকে দিয়ে রমী করানো কেবল তখনই জায়েয যখন হাজ্বী অসুস্থতার কারণে জামরাতে পৌঁছতে এবং রমী করতে সক্ষম না হন। যে অসুখে তার জন্য বসে নামায পড়া বৈধ এমন অবস্থায় অন্যকে দিয়ে রমী করাতে পারবেন, অন্যথায় নয়। আর ভিড়ের ওজরে মহিলাদের জন্য উকূফে মুযদালিফা না করে আরাফা থেকে সরাসরি মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি আছে। এতে তাদের উপর দম ওয়াজিব হবে না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশী হাজ্বীদের মিনার তাঁবুগুলো যেহেতু মূলত মুযদালিফার সীমানাতেই পড়ে তাই আরাফা থেকে সরাসরি মিনার ঐ তাঁবুতে চলে গেলেও সকলের উকূফে মুযদালিফা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু সক্ষমদের জন্য উত্তম হবে মসজিদে মাশআরে হারামের নিকটে খোলা আকাশের নিচে উকূফ করা। -যুবদাতুল মানাসিক ১৮৪; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০২৭
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে আমি ইমামের সাথে শরিক হই।...

প্রশ্ন
একদিন যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে আমি ইমামের সাথে শরিক হই। এরপর আমি তাশাহহুদ পূর্ণ করার আগে ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু আমি তার সাথে না দাঁড়িয়ে তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াই। এ কারণে আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? মূলত এক্ষেত্রে নিয়ম কী? ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাওয়া না তাশাহহুদ পূর্ণ করে তারপর দাঁড়ানো? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়ানোই ঠিক হয়েছে। কারণ তাশাহহুদ পড়া ইমাম-মুক্তাদী সকলের উপরই পৃথক পৃথক ওয়াজিব। তাই মুক্তাদির তাশাহহুদ পূর্ণ করার আগে ইমাম তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেও মুক্তাদী তাশাহহুদ পূর্ণ করেই দাঁড়াবে। -রদ্দুল মুহতার ২/১২, ৪৯৬; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৯৬;

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০২১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বয়স বিশ বছর। বালেগ হওয়ার পর থেকে মাঝেমধ্যে কয়েক...

প্রশ্ন
আমার বয়স বিশ বছর। বালেগ হওয়ার পর থেকে মাঝেমধ্যে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি। অধিকাংশ সময়ই পড়া হয়নি। এজন্য আমি অনুতপ্ত। এখন আমি ছুটে যাওয়া নামাযগুলো আদায় করতে চাই। তাই জানার বিষয় হল, অনাদায়ী নামাযগুলো আমি কীভাবে আদায় করব? ফজরের সময় ফজরের কাযা, যোহরের সময় যোহরের কাযা এভাবে আদায় করব, নাকি যোহরের সময় ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, ইশার নামাযও কাযা করতে পারব? আর ঐ কাযা নামাযগুলোর নিয়ত কীভাবে করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
কাযা নামায আদায়ের জন্য কোনো সময় নির্ধারিত নেই। নিষিদ্ধ তিন ওয়াক্ত (সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়) ব্যতিত অন্য যে কোনো সময়ই যে কোনো কাযা নামায আদায় করা যায়।
তাই আপনি এক নামাযের ওয়াক্তের মধ্যে অন্য যে কোনো ওয়াক্তের
কাযা নামায আদায় করতে পারবেন। যেমন ফজরের ওয়াক্তে যোহরেরও
কাযা আদায় করতে পারবেন। আর কাযা নামায আদায়ের ক্ষেত্রে এভাবে নিয়ত করবেন যে,আমার জীবনের অনাদায়ী প্রথম যোহর নামায আদায় করছি।অথবা এভাবে নিয়ত করবেন যে, ছুটে যাওয়া বা অনাদায়ী সর্বশেষ যোহর নামায আদায় করছি। -আলবাহরুর রায়েক ২/৮০;

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.06 render + 0.00 s transfer.