Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৩২৭২
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

ক) মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা কি জরুরি? না মনে...

প্রশ্ন
ক) মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা কি জরুরি? না মনে মনে করলেই হবে?
খ) সম্মিলিত মুনাজাত করার বিধান কী? গ) জায়নামাযের দুআ পড়া যাবে কি?
উত্তর
ক) কোনো কাজের ব্যাপারে অন্তরের দৃঢ় ইচ্ছাকেই নিয়ত
বলে। সুতরাং নামায-রোযা এবং অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে অন্তরের সংকল্পই নিয়ত হিসেবে যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে অন্তরের নিয়তের সাথে
সাথে মুখেও উচ্চারণ করে
বলতে নিষেধ নেই। কেউ যদি ইচ্ছার দৃঢ়তার জন্য মুখেও উচ্চারণ করে নেয় তবে তা দোষণীয়
হবে না।
-উমদাতুল কারী ১/৩৩; শরহুল মুনইয়া ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার
১/৪১৫
খ) দুআ অনেক বড় ইবাদত। হাদীস শরীফে এসেছে, দুআই ইবাদত। এই দুআ যেমন একা করা যায় তেমনি সম্মিলিতভাবেও করা যায়। সম্মিলিত দুআ সংক্রান্ত এক দুটি দলিল নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হল-
১. কুরআন মাজীদে ইরশাদ
হয়েছে, (তরজমা) তোমাদের দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে।
-সূরা ইউনুস : ৮৯
এ আয়াতে তোমাদের দুইজনের দুআ বলতে মুসা আ. ও হারূন আ.-এর দুআ বুঝানো হয়েছে। একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ী ইমামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত মুসা আ. দুআ করেছেন এবং হারূন আ. আমীন বলেছেন। একেই আল্লাহ তাআলা দুজনের দুআ বলেছেন।
-তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৬৬৫; আদ্দুররুল মানসূর ৩/৩৪১
তো এটা তাদের দুজনের সম্মিলিত দুআ ছিল, যা আল্লাহ তাআলা কবুল করেছেন এবং খোশখবরি শুনিয়েছেন যে, তোমাদের
দুজনের দুআ কবুল করা হয়েছে। ২. একটি দীর্ঘ হাদীসে
সাহাবীয়ে রাসূল হযরত হাবীব ইবনে মাসলামা আল ফিহরী রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, কিছু মানুষ যখন
কোথাও একত্র হয়ে এভাবে দুআ করে যে, একজন দুআ করে এবং অন্যরা আমীন বলে
সেক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের দুআ কবুল করেন। -মুজামে কাবীর তবারানী ৪/২৬; মুসতাদরাকে হাকেম ৩/৩৪৯
সম্মিলিত দুআ বিষয়ে আরো জানতে মাসিক আলকাউসার, শাবান-
রমযান ১৪২৯; আগস্ট ২০০৮ সংখ্যায় হযরত মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব লিখিত ‘সম্মিলিত দুআ : একটি প্রশ্নের উত্তর’’ প্রবন্ধটি পাঠ
করুন।
গ) জায়নামাযের কোনো দুআ নেই। কোনো কোনো
মহলে ইন্নি ওয়াজ্জাহতু দুআটি জায়নামাযের দুআ নামে পরিচিত। কিন্তু এটি ঠিক নয়। এটি জায়নামাযের দুআ নয়; বরং হাদীস শরীফ নামায শুরু করার পর ছানা হিসেবে এ দুআ পড়ার কথা আছে।
'-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৭১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৭৬০; রদ্দুল মুহতার
১/৪৮৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৫১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৪৮
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকার এক লোক প্রায় সময়ই আযান দেন। এভাবে ১০/১২...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক লোক প্রায় সময়ই আযান দেন। এভাবে ১০/১২ বছর যাবত আযান দিচ্ছেন। মুসল্লীরা তাঁকে মুয়াযযিনের মতো মনে করেন। তিনি আল্লাহু আকবার এর হামযাকে এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করেন এবং আকবার এর ‘বা’ কেও এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করে থাকেন। আমরা তাঁকে এ সংক্রান্ত মাসআলা শুনিয়েছি এবং অনেকবার আযান মশকও করিয়েছি। কিন্তু তিনি সহীহভাবে আযান দিতে পারেন না। জানতে চাই, এভাবে আযান দিলে কোনো সমস্যা হবে কি না। বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
আযানে আল্লাহু আকবার এর ‘হামযা’ অথবা ‘বা’ কে টেনে বা মদ করে পড়লে আযান মাকরূহ হবে। এমন অশুদ্ধ উচ্চারণকারীর আযান দেওয়া ঠিক নয়। আযানের জন্য এমন লোক নির্বাচন করতে হবে, যিনি শুদ্ধভাবে সুন্নত তরীকায় আযান দিতে পারেন। -সুনানে আবু দাউদ ১/৮৭; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১৭; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬; আসসিআয়াহ২/১৫; আদ্দুররুল মুখতার
১/৩৮৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৪১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, নামাযে আস্তের স্থানে জোরে পড়লে বা জোরের স্থানে...

প্রশ্ন
আমরা জানি, নামাযে আস্তের স্থানে জোরে পড়লে বা জোরের স্থানে আস্তে পড়লে সাহু সিজদা দিতে হয়। আমার প্রশ্ন হল, আস্তের স্থানে কতটুকু জোরে আওয়াজে পড়লে বা জোরের স্থানে কতটুকু আস্তে আওয়াজে পড়লে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়। ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী উভয়ের মাসআলাই কি এক? বিস্তারিত দলিল- প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
নামাযে শব্দ করে পড়ার অর্থ হল, অন্তত এতটুকু আওয়াজে পড়া যাতে নিজের পিছনে দাঁড়ানো কিছু লোক তা শুনতে পায়। আর নামাযে আস্তে পড়ার অর্থ হল, মাখরাজ আদায় করে জিব্বা ও ঠোঁট নেড়ে ভালোভাবে উচ্চারণ করে পড়া। সুতরাং উক্ত ব্যাখ্যার আলোকে ইমাম সাহেব যদি জাহরী (উচ্চস্বরে কেরাত বিশিষ্ট) নামাযে বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ আস্তে পড়েন তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। অনুরূপভাবে সিররী (নিম্নস্বরে কেরাত বিশিষ্ট) নামাযে বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কেরাত যদি এতটা উঁচু আওয়াজে পড়েন যে, পিছনে দাঁড়ানো লোকজনও শুনতে পায় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। উল্লেখ্য, এ হুকুম কেবল জামাতের সাথে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর একাকী নামাযী ব্যক্তি জাহরী নামাযে চাইলে আস্তেও কেরাত পড়তে পারে। তবে তার জন্য উত্তম হল জোরে পড়া। আর সিররী নামাযে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী একাকী নামায আদায়কারীর জন্যও আস্তে কেরাত পড়া ওয়াজিব। সুতরাং বড় এক আয়াত বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কেরাত জোরে পড়লে সেক্ষেত্রে তাকে সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৫; শরহুল মুনয়াহ ৪৫৫-৪৫৬; আসসিআয়াহ ২/২৬৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ
১২৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৪০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ভুলে...

প্রশ্ন
ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ভুলে তাশাহহুদ পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?
উত্তর
না, ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ভুলে তাশাহহুদ পড়ে ফেললে এ কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। আল মুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী ২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৩২
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন আসরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব তিনটি সেজদা করে।...

প্রশ্ন
একদিন আসরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব তিনটি সেজদা করে। কিছু মুকতাদী তৃতীয় সেজদায় ইমাম সাহেবের অনুসরণ করেন। আর কিছু মুকতাদী অনুসরণ করেননি। ইমাম সাহেব নামায শেষে সেজদায়ে সাহুও করেননি। এখন তাদের নামাযের হুকুম কী?
উত্তর
ইমাম সাহেব অতিরিক্ত সেজদা করার কারণে ইমাম এবং সকল মুকতাদীর উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সেজদায়ে সাহু না করার কারণে ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। কিন্তু অনুসরণ না করলেও ইমামের ভুলের কারণে সকলের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮, ৪৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৩০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

ট্রেনে নামায আদায়ের বিধান৷

প্রশ্ন
বেশিরভাগ আন্তনগর ট্রেনে নামাযের কক্ষ আছে। তবে ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়া কঠিন হয়। কারণ ঝাঁকুনির দরুণ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় বা পড়েও যাই। আবার নামায অবস্থায় ট্রেন দিক পরিবর্তন করলে কেবলা ঠিক রাখা মুশকিল হয়। এমতাবস্থায় কিভাবে নামায আদায় করব জানা প্রয়োজন।
উত্তর
সম্ভব হলে ফরয নামায দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরয।তাই ট্রেনেও ভ্রমণকালে যথাসম্ভব' দাঁড়িয়ে নামায পড়তে চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে কিছু ধরেও দাঁড়াতে পারবে। অবশ্য যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়া সম্ভব না হয় তবে সেক্ষেত্রে বসে নামায পড়তে পারবে। আর ট্রেনেও নামায শুরু করার সময় কেবলার দিক নিশ্চিত করে সেদিকে ফিরে নামায পড়তে হবে। অতপর নামায অবস্থায় ট্রেন ঘুরে যাওয়ার কারণে কিবলার দিক পরিবর্তন হয়ে গেলে নামাযী তা বুঝামাত্র কিবলার দিকে ঘুরে যাবে। কিবলার দিক পরিবর্তন হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও নামাযে কিবলার দিকে না ঘুরলে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে। তবে শুরুতে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানোর পর নামাযের ভিতর কিবলা
পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে না পারার কারণে যদি ঐভাবেই নামায শেষ করে তার নামায আদায় হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য যে, চলন্ত ট্রেনে ঐ সময় নামাযে দাঁড়ানো উচিত যখন ট্রেনটি একদিকে চলতে থাকে তাহলে নামাযের ভিতর কিবলা পরিবর্তন করতে হবে না।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৮১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২২৭
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলার আলোচনায় বললেন, নামাযে কেরাতের তারতীব ঠিক...

প্রশ্ন
মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলার আলোচনায় বললেন, নামাযে কেরাতের তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব। আমরা জানি যে, ওয়াজিব তরক করলে সাহু সিজদা করতে হয়। এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করতে হবে কি না? যদি সাহু সিজদা করতে না হয় তাহলে নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হল কীভাবে? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
নামাযে সূরাসমূহের তারতীব ঠিক রাখা উত্তম। নামাযে সূরার তারতীব ঠিক রাখা ওয়াজিব হওয়ার কথা ঠিক নয়। হ্যাঁ, এটা ইলমে তাজবীদের মাসআলা হতে পারে। কিন্তু এটি নামাযের ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই ফরয- ওয়াজিব নামাযে ইচ্ছাকৃত সূরার তারতীব ভঙ্গ করা মাকরূহ তানযীহী। কিন্তু অনিচ্ছাকৃত হয়ে গেলে মাকরূহ হবে না। সুতরাং এর কারণে সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৫৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৯৪; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারাকী ১৯৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২২৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

কিছুদিন হল আমি নামায শুরু করেছি। আমি নামাযে এভাবে সিজদা...

প্রশ্ন
কিছুদিন হল আমি নামায শুরু করেছি। আমি নামাযে এভাবে সিজদা করি যে, বাহুর সাথে পাঁজর এবং উরুর সাথে পেট মিলিয়ে রাখি। কিন্তু একজন মাওলানা সাহেব বললেন, সিজদার মধ্যে বাহু পাঁজর থেকে এবং পেট উরু থেকে পৃথক রাখতে হবে। এখন জানতে চাই, মাওলানা সাহেবের কথা কতটুকু সঠিক?
উত্তর
মাওলানা সাহেব যথার্থই বলেছেন। পুরুষের জন্য সিজদার মধ্যে বাহুকে পাঁজর থেকে এবং পেটকে উরু থেকে পৃথক রাখা সুন্নত। হযরত মায়মুনা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সিজদা করতেন তখন তাঁর উভয় বাহুকে পৃথক রাখতেন, এমনকি যদি কোনো ছাগলছানা তাঁর বাহুর নিচ দিয়ে গমন করার ইচ্ছা করত তাও সম্ভব হত।
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস :৮৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া
১/৭৫; মাবসূত ১/২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১২৬; ফাতহুল কাদীর ২/২৬৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০৭
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন আমার ভাতিজা ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। ওর মা...

প্রশ্ন
একদিন আমার ভাতিজা ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। ওর মা পরনের প্যান্ট দিয়েই ঐ মেঝে হালকাভাবে মুছে দেয়। আমি খেয়াল না করে ওর উপরই মোটা ও ভারী কার্পেট জাতীয় জায়নামায বিছিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে ভাইয়া বললেন, ও তো ওখানে পেশাব করেছিল, তুমি তার উপরই জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়েছ! আমি জায়নামায উল্টে দেখি, জায়নামাযের উল্টো পিঠে হালকা ভিজা ভিজা আছে। আর পেশাবের গন্ধ মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু জায়নামাযের উপর পিঠে কোনো গন্ধ নেই। প্রশ্ন হল, ঐ জায়নামাযে আমার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
মোটা জায়নামাযের এক পিঠে যদি নাপাকি লাগে আর ঐ নাপাকি বা তার প্রভাব (রং, গন্ধ) কাপড়ের অপর পিঠে না পৌঁছে তাহলে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী অপর পিঠের পবিত্রতা বহাল থাকবে। নিচের অংশের অপবিত্রতার কারণে তা নাপাক গণ্য হবে না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত জায়নামাযের উপরের অংশে যেহেতু প্রস্রাবের আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ পৌঁছেনি তাই তাতে আপনার নামায শুদ্ধ হয়েছে। তবে মোটা কাপড়ের এক পিঠের নাপাকীর প্রভাব অন্য পিঠে প্রকাশ না পেলেও যেহেতু তা কোনো কোনো ফকীহের মতে নাপাক হয়ে যায় তাই এই জায়নামায পবিত্র না করে তাতে আর নামায না পড়াই শ্রেয় হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ১/২৩৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০৬
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মসজিদে যাচ্ছিলাম। এমন সময় চড়ূই পাখির বিষ্ঠা আমার শরীরের...

প্রশ্ন
আমি মসজিদে যাচ্ছিলাম। এমন সময় চড়ূই পাখির বিষ্ঠা আমার শরীরের উপর এসে পড়ে। ফলে পাঞ্জাবি নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমি টিস্যু দিয়ে তা মুছে নামায আদায় করে নিই। জানার বিষয় হল, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?
উত্তর
চড়ূই পাখির বিষ্ঠা পাক। তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না। তাই ঐ পাঞ্জাবি নিয়ে নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১২৬১, ১২৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/১১৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২০;
ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৬; ফাতাওয়া খানিয়া
১/১০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০৫
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন যোহরের প্রথম রাকাতে ভুলে শুধু একটি সিজদা করি।...

প্রশ্ন
আমি একদিন যোহরের প্রথম রাকাতে ভুলে শুধু একটি সিজদা করি। আরেক সিজদা ভুলে ছুটে যায়। এবং নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় আমি সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। আমার এ নামায কি সহীহ হয়েছে, নাকি আবার পড়ে নিতে হবে?
উত্তর
আপনার ঐ নামায সহীহ হয়নি। তা পুনরায় আদায় করতে হবে। কারণ নামাযের উভয় সিজদাই ফরয। এর কোনো একটি ভুলে ছুটে গেলে শুধু সাহু সিজদা করা যথেষ্ট নয়। বরং এ ধরনের ক্ষেত্রে নিয়ম হল স্মরণ হওয়ার পর ছুটে যাওয়া সিজদা আদায় করবে। অতপর বাকী নামায যথানিয়মে পূর্ণ করবে এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করবে। -কিতাবুল আসল ১/২০৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২২৩, ২২৬

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০৩
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে আত্তাহিয়্যাতু না পড়ে দাঁড়িয়ে গেলে...

প্রশ্ন
দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে আত্তাহিয়্যাতু না পড়ে দাঁড়িয়ে গেলে তখন কী করণীয়? মনে পড়লে বসে পড়বে কি না? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ফরয নামাযের শেষ রাকাতে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে অতিরিক্ত রাকাতের সিজদা না করা পর্যন্ত স্মরণ হওয়ামাত্র বৈঠকে ফিরে আসবে এবং সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায সম্পন্ন করবে। কিন্তু অতিরিক্ত রাকাতের সিজদা করে ফেললে নামাযটি আর ফরয থাকবে না। তাই দুই রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে এমনটি হলে সেক্ষেত্রে নিয়ম হল, ৩য় রাকাতে বৈঠক না করে আরো এক রাকাত পড়ে নিবে। এক্ষেত্রে পুরো চার রাকাতই নফল গণ্য হবে। আর তাকে ফরয নামায পুণরায় পড়ে নিতে
হবে।
-আলবাহরুর রায়েক ২/১০২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩২২; ইলাউস সুনান ৭/১৭৪;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০২
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

ফজরের দুই রাকাত ফরযের পূর্বে সুন্নতের আগে বা পরে কাযা...

প্রশ্ন
ফজরের দুই রাকাত ফরযের পূর্বে সুন্নতের আগে বা পরে কাযা নামায পড়া যাবে কি? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
হাঁ, ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পরও ফযরের সুন্নতের আগে বা পরে উভয় সময়ই কাযা নামায আদায় করা জায়েয। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫২; শরহুল মুনইয়াহ ২৩৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৭৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২০১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

বহুতল ভবনের নিচ তলায় ইমাম মুসল্লিসহ আছেন। আর এর বরাবর...

প্রশ্ন
বহুতল ভবনের নিচ তলায় ইমাম মুসল্লিসহ আছেন। আর এর বরাবর উপর তলায়ও মুসল্লি দাঁড়ায়। কিন্তু উভয় তলার মাঝে কোনো ফুটো নেই। শুধু মাইকে আওয়াজ শোনা যায়। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে উপর তলার মুসল্লিদের নামায কি সহীহ হবে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
দোতলা থেকে ইমামের ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য ছাদে ফুটো থাকা জরুরি নয়। এক্ষেত্রে মাইকে ইমামের আওয়াজ শুনে ইমামের উঠা- বসা ও অবস্থা জানা গেলেও ইকতিদা সহীহ হয়ে যাবে। তবে নামায অবস্থায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা যান্ত্রিক ত্রæটির কারণে মাইকের আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলেও উপর তলার মুসল্লিগণ যথাযথভাবে যেন ইমামের ইকতিদা করতে পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া দরকার। এজন্য ইমাম বরাবর ছাদ কিছুটা ফাঁকা রাখা ভালো। আর তা না থাকলে মুকাব্বিরের ব্যবস্থা রাখা উচিত। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

গত রমযানে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বিতর নামাযে ভুলে দুআ...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমাদের মসজিদের ইমাম
সাহেব
বিতর নামাযে ভুলে দুআ কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যান। স্মরণ হওয়ার পর
রুকু
থেকে উঠে দুআ কুনূত পাঠ করেন। তারপর পুনরায় আবার রুকু করেন এবং পরে সাহু সিজদাও দেন। জানার বিষয় হল, আমাদের
এই
নামায সহীহ হয়েছে কি না? এক রাকাতে
দুইবার
রুকু করার কারণে কোনো সমস্যা হয়েছে
কি?
জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা দিয়ে
নামায
শেষ করার কারণে সকলের নামায সহীহ হয়ে গেছে। উলেখ্য, দুআ কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে নিয়ম হল পুনরায় কুনূতের জন্য না উঠে যথা নিয়মে নামায পড়ে যাওয়া এবং ভুলের জন্য সাহু সিজদা দেওয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে ইমাম যদি
রুকু
থেকে দুআ কুনূতের জন্য দাঁড়িয়ে যায় তবে পুনরায় রুকু করবে না; বরং দাঁড়ানো থেকে সরাসরি সিজদায় চলে
যাবে।
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই উভয় নিয়মের লঙ্ঘন
হয়েছে। এতদসত্ত্বেও ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে তা পুনরায় পড়তে হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭০; আলবাহরুর রায়েক ২/৪৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৬৮; আদ্দুররুল মুখতার
২/৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০০৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে কোনোভাবেই মাটিতে বসতে পারে...

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে কোনোভাবেই মাটিতে বসতে পারে না। শুধু চেয়ার বা এ জাতীয় উঁচু স্থানে বসতে পারে। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন। জানার বিষয় হল, এমন ব্যক্তি কীভাবে নামায আদায় করবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি মাটিতে বসতে না পারলেও যেহেতু সে দাঁড়াতে সক্ষম তাই সে দাঁড়িয়েই নামায শুরু করবে। এরপর সম্ভব হলে দাঁড়ানো থেকেই রুকুতে যাবে। আর সিজদার সময় চেয়ার বা এ জাতীয় কিছুতে বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায় করবে। উল্লেখ্য যে, দাঁড়ানো থেকে রুকু করা অধিক কষ্টকর হলে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু করতে পারবে। সেক্ষেত্রে রুকুর তুলনায় সিজদায় মাথা কিছুটা বেশি ঝুঁকাতে হবে। অবশ্য বার্ধক্য বা অন্য কোনো কারণে দাঁড়ানো থেকে সোজা চেয়ারে বসা যদি অসম্ভব বা অধিক কষ্টকর হয় তাহলে তার জন্য শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামায পড়ার সুযোগ আছে।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৭; শরহুল মুনইয়াহ ২৬২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০০৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর সূরা ফাতিহার স্থানে ভুলে তাশাহহুদ পড়া শুরু করে দেয়। তাশাহহুদ পড়া শেষ হওয়ার পর তার এ ভুলের কথা স্মরণ হয়। স্মরণ হওয়া মাত্র সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করে। কিন্তু নামায শেষে সে সাহু সিজদা করেনি। এখন জানার বিষয় হল, তার এ নামায কি সহীহ হয়েছে, না তা আবার পড়তে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির
উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না করার কারণে এ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।
-ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০;
হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০০৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি এক নামাযে মাসবূক হল এবং শেষ বৈঠকে ইমামের...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি এক নামাযে মাসবূক হল এবং শেষ বৈঠকে ইমামের পিছনে ভুলবশত তাশাহহুদের অতিরিক্ত পড়ে ফেলল। উক্ত ব্যক্তির উপর নামায শেষে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে কি না?
উত্তর
মাসরূক ব্যক্তি ইমামের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের অতিরিক্ত পড়ে ফেললে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত তাশাহহুদের অতিরিক্ত না পড়াই ভালো। এক্ষেত্রে তাশাহহুদ ধীরে ধীরে পড়বে। যেন তাশাহহুদ শেষ হতে হতে সালামের সময় হয়ে যায়। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫১১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০০২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে-...

প্রশ্ন
মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে- ক) যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে। খ) যে ব্যক্তি যোহরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার
রুজির
বরকত কমে যাবে। গ) যে ব্যক্তি আসরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার শরীরের শক্তি কমে যাবে। ঘ) যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার সন্তানাদি তার উপকারে আসবে
না।
ঙ) যে ব্যক্তি ইশার নামায
পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার নিদ্রার পরিতৃপ্তি নষ্ট হয়ে
যাবে। (বাবুস সালাত, মেশকাত আলমাসাবীহ) এ ধরনের উদ্ধৃতিসহ বা উদ্ধৃতি ছাড়াও দেয়ালে লেখা হয়ে থাকে।
জানার বিষয় হল, বাক্যগুলো হাদীস কি না? হাদীস হলে এর মান কী? হাদীস না হলে কথাগুলো
অন্যকোনোভাবে
প্রমাণিত কি না? বা এর অর্থ ও বিষয়বস্তু সঠিক কি না, আর তা বর্ণনাযোগ্য কী না?
দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাগুলো হাদীস নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। মিশকাতুল মাসাবীহ
গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হলেও বাসত্মবে তাতে এ বর্ণনাটি নেই।
হাদীসের নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো গ্রন্থেও এর অসিত্মত্ব
নেই। তাই হাদীস হিসেবে এটি বর্ণনা করা বা প্রচার
করা জায়েয নয়। ভিত্তিহীন ঐ কথাগুলো হাদীস হিসেবে প্রচার করলে গুনাহ হবে।
তবে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কুরআন
মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে নামায
ত্যাগকারী সম্পর্কে ভয়াবহ ধমকি এসেছে। একটি হাদীসে ইচ্ছাকৃত
নামায ত্যাগ করাকে কুফরতুল্য গুনাহ বলা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত
নামায ত্যাগ করল সে কুফরি করল।- মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০০৭
অপর একটি হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিল তার থেকে আল্লাহতাআলার
যিম্মা উঠে গেল।-সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস : ৩০১
আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল
ইসলামে তার কোনো অংশ নেই। মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস :৪৫
সুতরাং প্রত্যেক মুসলমান নর- নারীকে যথাসময়ে নামায আদায়ের
প্রতি যত্নবান হতে হবে। এক ওয়াক্ত
নামাযও যেন ছুটে না যায় সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে৷
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৭০
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার পেছনের কিছু নামায কাযা ছিল। তা আদায় করে নিয়েছি।...

প্রশ্ন
আমার পেছনের কিছু নামায কাযা ছিল। তা আদায় করে নিয়েছি। বর্তমানে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে নামায কাযা করি না। কোনো কারণবশত অনিচ্ছাকৃত কখনো কোনো ওয়াক্ত কাযা হয়ে গেলে পরবর্তী ওয়াক্তেই তা আদায় করে নেই। একদিন সকালে সময়মতো ঘুম থেকে উঠতে না পারায় ফজরের নামায পড়তে পারিনি। যোহরের নামাযের সময় হলে মসজিদে যাই। মসজিদে পৌঁছে দেখি, যোহরের জামাতের কয়েক রাকাত হয়ে গেছে। তখন ফজরের কাযা নামাযের কথা স্মরণ হয়। এখন প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় আমার কী করণীয়। এক্ষেত্রে যদি আগে ফজরের নামায পড়ি তাহলে যোহরের জামাত শেষ হয়ে যাবে। তাই আগে ফজরের কাযা পড়ব, নাকি তখন যোহরের জামাতে শরিক হয়ে যাব? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
আপনার যেহেতু পেছনের নামায কাযা নেই তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ফজর পড়ার কারণে যদি যোহরের জামাত নাও পান তবুও আপনাকে আগে ফজরের কাযা নামায আদায় করতে হবে। এরপর যোহরের জামাত পেলে জামাতে শরিক হবেন। যদি জামাত না পান তাহলে যোহরের নামায একাকী পড়ে নিবেন। -মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ২/৫-৭; কিতাবুল আসল ১/৩০৪; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১২২

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি উচ্চস্বরে নামাযের নিয়ত করার...

প্রশ্ন
আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি উচ্চস্বরে নামাযের নিয়ত করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
নিয়ত হল মনে কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করা। হযরত উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ... (সহীহ বুখারী, হাদীস ১) সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রাহ. বলেন, হাদীসে নিয়ত দ্বারা উদ্দেশ্য হল,কোনো কাজের ব্যাপারে মনের দৃঢ় ইচ্ছা। (উমদাতুল কারী ১/২৩) তাই নামাযের নিয়তও মনে মনে করাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে কেউ যদি অন্তরের নিয়তের পাশাপাশি নিয়তের বিষয়টি মুখেও উচ্চারণ করতে চায় তবে তারও অবকাশ আছে। কেননা শরীয়তের কোনো দলিল দ্বারা এটি নিষিদ্ধ নয়। তাই কেউ করলে তা নাজায়েয বা বেদআত হবে
না।
-আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫; শরহুল মুনইয়াহ ২৫৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১২০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭৭-৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের বৈঠকে দু’ হাত কীভাবে রাখব? বসা অবস্থায় হাত হাঁটু...

প্রশ্ন
নামাযের বৈঠকে দু’ হাত কীভাবে রাখব? বসা অবস্থায় হাত হাঁটু স্পর্শ করবে নাকি করবে না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
নামাযের বৈঠকে দুই হাত দুই উরুর উপর কীভাবে রাখবে এ ব্যাপারে একাধিক হাদীস রয়েছে। যেমন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদের জন্য বসতেন তখন ডান হাত ডান উরুর উপর এবং বাম হাত বাম উরুর উপর রাখতেন।... -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৮০
(১১৬)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে আরেক
বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাশাহহুদের জন্য বসতেন তখন বাম হাত বাম হাঁটুর উপর এবং ডান হাত ডান হাঁটুর উপর রাখতেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৮০ (১১৫) উভয় হাদীসের উপর যেন আমল হয়ে যায় এজন্য উপরোক্ত হাদীসের আলোকে ফিকহবিদগণ বলেছেন যে, উভয় হাত এমনভাবে উরুর উপর রাখবে যেন হাতের আঙ্গুলগুলো হাঁটুর নিকটবর্তী থাকে। -ইলাউস সুনান ৩/১০৯; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ১/২৭১; আসসিআয়াহ ২/২১৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩২৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৮১; শরহুল মুনইয়াহ
৩২৮

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪৭
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

জুমার দ্বিতীয় আযানের জওয়াব দেওয়া ও দুআ পড়ার ব্যাপারে শরীয়তের...

প্রশ্ন
জুমার দ্বিতীয় আযানের জওয়াব দেওয়া ও দুআ পড়ার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর
নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী জুমার দ্বিতীয় আযানের জবাব মৌখিকভাবে দেওয়া জায়েয। আবু উমামা ইবনে সাহল ইবনে হুনাইফ রাহ. বলেন, আমি মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রা.- কে মিম্বরের উপর বসা অবস্থায় দেখেছি, মুয়াযযিন যখন আযানে আল্লাহু আকবার বললেন তখন তিনিও আল্লাহু আকবার বলেছেন ...। এরপর আযান শেষ হলে তিনি বললেন, হে লোক সকল! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই মজলিসে অর্থাৎ যখন মুয়াযযিন আযান দেন- এমনটিই বলতে শুনেছি, যেমনটি আপনারা আমাকে বলতে শুনলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৯১৪ অন্য বর্ণনায় সাইদ ইবনুল মুসায়্যিব রাহ. বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে নামায পড়া যাবে না আর ইমাম খুতবা শুরু করলে কথা বলা যাবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৩৪২ আর খুতবার সময় যেহেতু চুপ থাকা ও মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা ওয়াজিব তাই আযানের পরপরই ইমাম খুতবা শুরু করে দিলে আযানের দুআ পড়া যাবে না। কিন্তু যদি ইমাম খুতবার জন্য দাঁড়াতে বিলম্ব করেন তবে এ সময় আযানের দুআও পড়া যাবে। -ফাতহুল বারী ২/৪৬০; ইলাউস সুনান ২/৮০; আসসিআয়াহ ২/৫৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮২; আততাজরীদ ২/৪৭৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২০০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪৬
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে কোনোভাবেই মাটিতে বসতে পারে...

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে কোনোভাবেই মাটিতে বসতে পারে না। শুধু চেয়ার বা এ জাতীয় উঁচু স্থানে বসতে পারে। তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন। জানার বিষয় হল, এমন ব্যক্তি কীভাবে নামায আদায় করবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি মাটিতে বসতে না পারলেও যেহেতু সে দাঁড়াতে সক্ষম তাই সে দাঁড়িয়েই নামায শুরু করবে। এরপর সম্ভব হলে দাঁড়ানো থেকেই রুকুতে যাবে। আর সিজদার সময় চেয়ার বা এ জাতীয় কিছুতে বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায় করবে। উল্লেখ্য যে, দাঁড়ানো থেকে রুকু করা অধিক কষ্টকর হলে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে
রুকু করতে পারবে। সেক্ষেত্রে রুকুর তুলনায়
সিজদায় মাথা কিছুটা বেশি ঝুঁকাতে হবে। অবশ্য বার্ধক্য বা অন্য কোনো কারণে দাঁড়ানো থেকে সোজা চেয়ারে বসা যদি অসম্ভব বা অধিক কষ্টকর হয় তাহলে তার জন্য শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামায পড়ার সুযোগ আছে। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৭; শরহুল মুনইয়াহ ২৬২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৪৫
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন কোনো এক মসজিদে জুমার নামায পড়ছিলাম। ইমাম সাহেব যখন...

প্রশ্ন
একদিন কোনো এক মসজিদে জুমার নামায পড়ছিলাম। ইমাম সাহেব যখন খুতবা পড়ছিলেন তখন এক লোক পেছনের কাতার থেকে মানুষদেরকে ডিঙিয়ে সামনের দিকে আসতে থাকে। ইমাম সাহেব তা দেখে খুতবা পড়া বন্ধ করে তাকে সামনের দিকে আসতে বারণ করেন এবং যেখানে আছে সেখানেই থেমে যেতে
বলেন।
আমি জানি, খুতবার মাঝে কোনো কথা বলা নিষেধ। তাই আমার প্রশ্ন হল, ইমাম সাহেবের উক্ত কাজটি ঠিক হয়েছে কি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে খতীব সাহেবের জন্য ঐ ব্যক্তিকে নিষেধ করা অন্যায় হয়নি; বরং তা শরীয়তসম্মতই হয়েছে। কেননা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবীগণ থেকে খুতবা প্রদানকালে প্রয়োজনে সৎ কাজের আদেশমূলক কোনো কথা বলা বা অন্যায় কাজ দেখলে খুতবার মাঝেই নিষেধ করা প্রমাণিত আছে।
অবশ্য খতীব ছাড়া কোনো মুসল্লির জন্য খুতবা
অবস্থায় এ ধরনের কথা বলাও নিষেধ। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১১১১; নাইলুল আওতার ৩/২৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৪৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৯৫; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৫৬৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৪৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৭৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮২১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের এলাকায় মশা খুব বেশি। ঘুম থেকে উঠে অনেক সময়...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় মশা খুব বেশি। ঘুম থেকে উঠে অনেক সময় গেঞ্জিতে মশার রক্ত দেখা যায়। এমন হলে আমি সাধারণত গেঞ্জি পরিবর্তন করে নামায পড়তে যাই। কয়েকদিন আগেও মশার রক্তের কারণে
গেঞ্জি পরিবর্তন করার সময় এক সাথী আমাকে
বলল যে, মশার রক্ত নাকি নাপাক নয়। তার এ কথা কি সঠিক?
উত্তর
হাঁ, আপনার সাথী ঠিকই বলেছে। মশার রক্ত নাপাক নয়। তাই ঐ কাপড় পরে নামায পড়া যাবে। হাসান বসরী, আতা, আবু জাফর, উরওয়া প্রমুখ তাবেয়ীগণ থেকে বর্ণিত আছে যে, কাপড়ে মাছি- মশার রক্ত লাগলে কোনো সমস্যা হবে না। তবে এক্ষেত্রে গেঞ্জি পরিবর্তন করে নেওয়া বা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া যে ভালো তা তো স্পষ্ট।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২০৩১, ২০৩২, ২০৩৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৩২; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮১৯
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম। ভুলে দ্বিতীয়...

প্রশ্ন
আমি একদিন যোহরের আগের চার রাকাত
সুন্নত পড়ছিলাম। ভুলে দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে
ফেলি। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? আমাকে কি বাকি দু’রাকাত কাযা করতে হবে?
উত্তর
ভুলে সালাম ফিরিয়ে দিলে নামায ভঙ্গ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায পরিপন্থী কোনো কাজ না করে থাকলে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাত পড়ে সাহু সিজদা
করত চার রাকাত পূর্ণ করে নিতে পারতেন। কিন্তু আপনি যেহেতু তা পূর্ণ করেননি তাই যে দু’রাকাত পড়া হয়েছে তা আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বাকি দুই রাকাত কাযা
পড়তে হবে না। অবশ্য যোহরের পূর্বে চার
রাকাত সুন্নত যেহেতু আদায় হয়নি তাই জামাতের আগে সময় থাকলে তা পড়ে নিতে
হবে। আর জামাতের আগে সময় না থাকলে জামাত শেষে দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর পূর্বের চার রাকাত পড়ে নিবে।
-কিতাবুল আছল ১/১৩৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৭-৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩২, ২/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯০; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮১৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি জানি যে, হানাফী মাযহাবে ফজরের নামায ফর্সা হওয়ার পর...

প্রশ্ন
আমি জানি যে, হানাফী মাযহাবে ফজরের নামায ফর্সা হওয়ার পর আদায় করা উত্তম। তাই আমাদের মসজিদেও দেরি করে ফজরের নামায শুরু হয়ে থাকে। কখনও কখনও সালাম ফেরানোর পর দেখি, সূর্য উদয়ের সময় একেবারেই নিকটবর্তী।
এত বিলম্ব করে পড়া কি ঠিক? কতটুকু আগে জামাত শুরু করা উচিত। এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা
প্রদান করলে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
সুবহে সাদিকের পর যখন অন্ধকার দূর হয়ে চারদিক ফর্সা হয় তখন ফজরের জামাত আদায় করা উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের নামায ফর্সা করে আদায় কর। কেননা তা অধিক সওয়াবের কাজ। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫৪
সুতরাং ফজরের জামাত ফর্সা হওয়ার পরই শুরু করা উত্তম। তবে এতটা বিলম্বে শুরু করবে না যে
জামাত শেষ করতেই সূর্যোদয় নিকটবর্তী হয়ে
যায়। বরং এমন সময় শুরু করবে যেন কোনো
কারণবশত যদি নামায নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সুন্নত-কেরাতসহ আবার স্বাভাবিকভাবে নামায
আদায় করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ সূর্যোদয়ের
অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট আগে জামাত শুরু করা উচিত। এর বেশি বিলম্ব করা ঠিক নয়।
-কিতাবুল আছল ১/১২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮; ফাতহুল কাদীর ১/১৯৯; শরহুল মুনইয়াহ
২৩২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮১৭
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি একাকী যোহর নামায পড়ছিল। দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর সূরা ফাতিহার
স্থানে ভুলে তাশাহহুদ পড়া শুরু করে দেয়। তাশাহহুদ পড়া শেষ হওয়ার পর তার এ ভুলের
কথা স্মরণ হয়। স্মরণ হওয়া মাত্র সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করে। কিন্তু নামায শেষে সে সাহু সিজদা করেনি। এখন জানার বিষয় হল, তার এ নামায কি সহীহ হয়েছে,
না তা আবার পড়তে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা না
করার কারণে এ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে। -ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮১৪
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

রমযানে বিতরের জামাতে কেউ মাসবুক হলে কী করণীয়? বিস্তারিত জানালে...

প্রশ্ন
রমযানে বিতরের জামাতে কেউ মাসবুক হলে কী করণীয়? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
কোনো ব্যক্তি যদি বিতর নামাযের দ্বিতীয় বা তৃতীয় রাকাতে শরিক হয় তাহলে ইমামের সাথেই দুআ কুনূত পড়ে নিবে। এরপর ছুটে যাওয়া নামায স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করবে। অর্থাৎ অন্য নামাযে মাসবুক হলে
যেভাবে আদায় করতে হয় সেভাবেই আদায়
করবে। আর যদি তৃতীয় রাকাতের রুকুতে শরিক হয় তাহলে ঐ রাকাতের দুআ কুনূত পেয়েছে বলে
ধর্তব্য হবে। তাই এক্ষেত্রেও পরবর্তীতে আর দুআ কুনূত পড়বে না। আর যদি শেষ রাকাতের রুকু না পায় তাহলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে সাধারণ
নিয়মে তিন রাকাত পড়বে এবং তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়বে।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৪১; শরহুল মুনইয়া ৪২১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৫৮
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

বেশ কিছুদিন আগে একদিন আসরের নামাযে আমি ও আমার আববু...

প্রশ্ন
বেশ কিছুদিন আগে একদিন আসরের নামাযে আমি ও আমার আববু একসাথে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর বাকি নামায পড়তে যখন দাঁড়ালাম তখন নামায কত রাকাত পেয়েছি, কত রাকাত পড়তে হবে তা আমি ভুলে যাই। আববু আর আমি যেহেতু একই সাথে মাসবুক হয়েছি তাই তখন আববুকে দেখে দেখে বাকি নামায পূর্ণ করলাম। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?
উত্তর
জী, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার নামায শুদ্ধ হয়েছে। কেননা ছুটে যাওয়া রাকাত সংখ্যা মনে না থাকলে পাশেরজনের প্রতি লক্ষ্য করে নিজের নামায স্মরণ করা এবং সে অনুযায়ী নামায পূর্ণ করা জায়েয আছে। এভাবে নামায পড়লে তা আদায় হয়ে যায়। তাই আপনার নামাযও আদায় হয়ে গেছে। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫২৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব যোহরের নামাযের ১ম রাকাতে উচ্চস্বরে...

প্রশ্ন
একদিন আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব যোহরের নামাযের ১ম রাকাতে উচ্চস্বরে সূরা ফাতেহার ১ম আয়াত তেলাওয়াত করেন। তারপর নিম্নস্বরেই অবশিষ্ট কেরাত পাঠ করেন। সর্বশেষে তিনি সাহু সিজদা না দিয়েই নামায শেষ করেন। এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এমনকি তারা পরস্পরে ঝগড়া বিবাদেও লিপ্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে আমরা অনেক বেশি চিন্তিত। মেহেরবানী করে সমাধান জানিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত নামায সহীহভাবেই আদায় হয়েছে। ইমাম সাহু সিজদা না করে ঠিকই করেছেন। কেননা নিম্নস্বরে কেরাত বিশিষ্ট নামাযে সূরা ফাতিহার এক-দুই আয়াত উচ্চস্বরে পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। প্রকাশ থাকে যে, দ্বীনী বিষয়ে সংশয় বা মতানৈক্য দেখা দিলে বিজ্ঞ আলেম বা মুফতীর শরণাপন্ন হওয়া আবশ্যক। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫১; রদ্দুল মুহতার ২/৮২; ইলাউস সুনান ৭/১৯১;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫২৮
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

হুজুরের কাছে একটি মাসআলা জানতে চাই, অনেক সময় আমি নামাযে...

প্রশ্ন
হুজুরের কাছে একটি মাসআলা জানতে চাই, অনেক সময় আমি নামাযে মাসবুক হই, ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর আগমুহূর্তে গিয়ে জামাতে শরীক হই তখন আমি তাশাহহুদ শেষ না করে উঠে যাই। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমার জন্য কী করা উচিত? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াবো নাকি তাশাহহুদ শেষ না করে ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যাবো?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে দিলেও আপনি তাশাহহুদ শেষ করেই দাঁড়াবেন। অবশ্য তাশাহহুদ শেষ না করে দাঁড়ালেও নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়। -রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬; তাতারখানিয়া ২/১৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

প্রশ্ন : আমি প্রতিদিন বাদ আসর কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করি।...

প্রশ্ন
প্রশ্ন : আমি প্রতিদিন বাদ আসর কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করি। জানার বিষয় হল, এ সময়ে সিজদার কোনো আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে কি? শুনেছি, আসরের পর কোনো নফল নামায পড়া নিষেধ তাহলে সিজদা করাও কি নিষিদ্ধ হবে? দয়া করে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
হাঁ, আসরের পর সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে এবং সূর্য হলুদ বর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিলাওয়াতে সিজদাও আদায় করা যাবে। কিন্তু সূর্য হলুদ হয়ে গেলে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত সিজদা তিলাওয়াত আদায় করা যাবে না। -শরহুল মুনয়া পৃ. ২৩৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৭৩-৩৭৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০৮
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার বোন একদিন চাশতের নামায পড়ছিল। আমি তা খেয়াল না...

প্রশ্ন
আমার বোন একদিন চাশতের নামায পড়ছিল। আমি
তা খেয়াল না করেই ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমার
জামাটা কোথায়? পরে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি, সে
নামায পড়ছে। কিন্তু নামাযের ভিতরেই সে হাতের
ইশারায় আমাকে বুঝাল, জামা ওয়্যারড্রবে আছে।
তাই জানার বিষয় হল, এ কারণে কি তার নামায ভেঙ্গে গিয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হাত দ্বারা ইশারা করার
কারণে আপনার বোনের নামায ভাঙ্গেনি। তবে
কাজটি মাকরূহ হয়েছে। নামাযের মধ্যে হাত দ্বারা
ইশারা করা মাকরূহ। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া
এমনটি করবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৮৫৮৮;
খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১২৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক
১/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৮-৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০৭
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি এশার দুরাকাত সুন্নতের পর সাধারণত দু’চার রাকাত নফল পড়ে...

প্রশ্ন
আমি এশার দুরাকাত সুন্নতের পর সাধারণত দু’চার রাকাত নফল পড়ে তারপর বিতর পড়ি। মাঝে মাঝে আবার সুন্নতের পরই বিতর পড়ে ফেলি। তো কখনো এমন হয় যে, সুন্নত পড়ে আবার নামাযে দাঁড়িয়েছি কিন্তু নফল পড়ব না বিতর পড়ব কোনোটাই মনে স্থির করিনি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি কি নফল বা বিতর যে কোনো একটি স্থির করে সে অনুযায়ী নামায পূর্ণ করতে পারব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমার আগে যেহেতু সুনির্দিষ্টভাবে বিতরের নিয়ত করা হয়নি তাই তা নফল হিসেবে ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমার পর বিতরের নিয়ত করলেও তা ধর্তব্য হবে না। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮২; রদ্দুল মুহতার ১/৪১৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি উচ্চস্বরে নামাযের নিয়ত করার...

প্রশ্ন
আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র। আমি উচ্চস্বরে নামাযের নিয়ত করার বিধান সম্পর্কে জানতে চাই। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
নিয়ত হল মনে কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করা। হযরত উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ... (সহীহ বুখারী, হাদীস ১) সহীহ বুখারীর ভাষ্যকার আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রাহ. বলেন, হাদীসে নিয়ত দ্বারা উদ্দেশ্য হল,কোনো কাজের ব্যাপারে মনের দৃঢ় ইচ্ছা। (উমদাতুল কারী ১/২৩) তাই নামাযের নিয়তও মনে মনে করাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করে বলা জরুরি নয়। তবে কেউ যদি অন্তরের নিয়তের পাশাপাশি নিয়তের বিষয়টি মুখেও উচ্চারণ করতে চায় তবে তারও অবকাশ আছে। কেননা শরীয়তের কোনো দলিল দ্বারা এটি নিষিদ্ধ নয়। তাই কেউ করলে তা নাজায়েয বা বেদআত হবে
না।
-আদ্দুররুল মুখতার ১/৪১৫; শরহুল মুনইয়াহ ২৫৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১২০; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭৭-৮

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০১
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার ছোট ভাই মাদরাসায় পড়ে। একদিন ও একাকী বাসায় মাগরিবের...

প্রশ্ন
আমার ছোট ভাই মাদরাসায় পড়ে। একদিন ও একাকী বাসায় মাগরিবের নামায পড়ছিল। তাকে দেখে আমিও তার সাথে নামাযে শরিক হই। কিন্তু আমি নামাযে দাঁড়ানোর পরও সে আগের মতোই আস্তে আস্তে সূরা কিরাত পাঠ করে নামায শেষ করে। সালাম ফেরানোর পর তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আমি তো তোমার ইমামতির নিয়ত করিনি। হুযুরের কাছে জানতে চাই, সে যেহেতু ইমামতির নিয়ত করেনি তাই ঐ দিনের মাগরিবের নামায কি আদায় হয়েছে?
উত্তর
মুক্তাদির নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইমামের
ইমামতির নিয়ত করা আবশ্যক নয়। তাই সে ইমামতির নিয়ত না করলেও আপনার নামায
সহীহ হয়েছে। আর প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার
ছোট ভাই যেহেতু ইমামতির নিয়ত করেনি তাই তার উপর মাগরিবের নামাযে কেরাত
জোরে পড়া ওয়াজিব হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে
আপনার ছোট ভাইয়ের নিম্নস্বরে কেরাত পড়াটা ভুল হয়নি এবং এ কারণে ইমাম মুক্তাদী কারো নামাযে ত্রম্নটিও হয়নি। অবশ্য সে যদি আপনার ইক্তিদাকে লক্ষ্য করে ইমামতির নিয়ত করত তবে তখন জোরে কিরাত পড়া আবশ্যক হত। -শরহুল মুনইয়া ২৫১, ৬১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩২; ইমদাদুল ফাতাওয়া
১/১৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৫১
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত প্রথম সিজদা করার পর...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত প্রথম সিজদা করার পর মাত্র ছয় ইঞ্চি উপরে মাথা তুলে দ্বিতীয় সিজদা করত। এখন সে বৃদ্ধ। জানতে চাই, তার এত বছরের আদায়কৃত নামাযের হুকুম কী? আর এখন তার করণীয় কী?
উত্তর
দুই সিজদার মাঝে সোজা স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে যথেষ্ট তাকীদ এসেছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করার পর এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামায পড়ল। অতপর এসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, ফিরে যাও। আবার নামায পড়। কেননা তুমি তো নামায পড়নি। সে পুনরায় নামায পড়ার পর এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। তিনি বললেন, ফিরে যাও, আবার নামায পড়। কেননা তুমি তো নামায পড়নি। (তিনবার এরূপ হল)। সে বলল, যে সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন তার শপথ, আমি এর চেয়ে উত্তম তরীকায় নামায পড়তে জানি না। তাই আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়াবে তখন তাকবীর বলবে, অতপর কুরআনের যতটুকু তিলাওয়াত করা তোমার জন্য সম্ভব ততটুকু তিলাওয়াত কর। তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকু কর। অতপর সোজা স্থির হয়ে দাঁড়াও। অতপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা কর, এরপর ধীরস্থির হয়ে বস, তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা কর, তোমার পুরো নামায এভাবেই আদায় কর।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৯৩ উক্ত হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম দুই সিজদার মাঝে স্থির হয়ে বসাকে ওয়াজিব বলেছেন। এ ওয়াজিব তরক করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি দ্বিতীয় সিজদার জন্য ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠার দ্বারা তার দ্বিতীয় সিজদার ফরয আদায় হয়ে গেছে। কিন্তু সোজা হয়ে ধীরস্থিরভাবে বসার ওয়াজিব তরক করার কারণে নামায মাকরূহ তাহরীমী হয়েছে। এখন তার কর্তব্য হচ্ছে, বিগত সময়ের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার করা এবং এখন থেকে পরিপূর্ণ তরীকা মতো নামায আদায় করা। -আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৮৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৩; আলইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার ১/১৭৯; শরহুল মুনইয়াহ ৩২২-৩২৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৪৯
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি যখন নামাযে মাসবুক হই তখন ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম...

প্রশ্ন
আমি যখন নামাযে মাসবুক হই তখন ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম শুরু করলেই বাকি নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাই। আর অনেককে দেখি, ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম শেষ করলে তারপর দাঁড়ায়। প্রশ্ন হল, ইমাম সাহেব প্রথম সালাম ফেরানোর পর দ্বিতীয় সালাম শুরু করার আগে যদি দাঁড়িয়ে যাই তাহলে আমার নামায হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, এক্ষেত্রেও আপনার নামায হয়ে যাবে। তবে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পরই দাঁড়ানো উত্তম। কেননা ইমাম সাহু সিজদা দিবেন না-এ কথা নিশ্চিত হওয়ার পর মাসবুকের জন্য দাঁড়ানো ভালো। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/২২৫-২২৬; মারাকিল ফালাহ ২৫২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.28 render + 0.01 s transfer.