Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৭০৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি মাঝে মাঝে ভুলে নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে...

প্রশ্ন

আমি মাঝে মাঝে ভুলে নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেলি। এখন পরের রাকাতে আমি কোত্থেকে পড়ব? আমার নামায কি এ কারণে নষ্ট হয়ে যাবে?

উত্তর

এক্ষেত্রে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা নাসই পড়া ভালো। আর এ কারণে আপনার নামায নষ্ট হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত ফরয নামাযে একই সূরা বারবার পড়া মাকরূহ তানযিহী। অতএব বারবার এমনটি না হওয়া উচিত।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৮২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন ইশার নামাযে প্রথম বৈঠক না...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন ইশার নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। মুসল্লিরা লোকমা দিলে তিনি দাঁড়ানো থেকে তাশাহহুদের জন্য বসে যান এবং নামায শেষে সাহু সিজদা দেন। নামায শেষে একজন মুসল্লি বললেন যে, নামায হয়নি। ইমাম সাহেব তাই পুনরায় নামায দোহরান।

আমার প্রশ্ন হল, ঐ মুসল্লি কি ঠিক বলেছিল? ইমাম সাহেবের নামায দোহরানো কি সঠিক হয়েছে? এ ভুলের ক্ষেত্রে করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

উক্ত মুসল্লির কথা ঠিক নয়। নামাযটি দোহরানোর প্রয়োজন ছিল না। কারণ প্রথম বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে নিয়ম হল, তাশাহহুদের জন্য আর ফিরে না আসা। বরং যথানিয়মে বাকি নামায আদায় করে শেষে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করা। অবশ্য নিয়ম লঙ্ঘন করে কেউ তাশাহহুদের জন্য ফিরে এলে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তার নামায নষ্ট হবে না। বরং সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে নিলেই নামায আদায় হয়ে যাবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১০১, ১০২; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৮৩-৮৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একটি বইয়ে পড়েছি, বিতরের নামাযে দুআ কুনূতের পর দরূদ...

প্রশ্ন

আমি একটি বইয়ে পড়েছি, বিতরের নামাযে দুআ কুনূতের পর দরূদ শরীফ পড়া মুস্তাহাব এবং ঐ সময়ে দরূদ শরীফ পড়লে শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হবে না। জানতে চাই, ঐ বইয়ের এ কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

বিতরের নামাযে দুআ কুনূতের পর দরূদ শরীফ পড়া ভালো। তবে এ সময়ে দরূদ পড়লে শেষ বৈঠকে দরূদ পড়া লাগবে না- এ কথা ঠিক নয়; বরং শেষ বৈঠকে দরূদ পড়া পৃথকভাবে সুন্নতে মুআক্কাদা। দুআ কুনূতের পর দরূদ শরীফ পড়া হোক বা না হোক শেষ বৈঠকে দরূদ পড়তেই হবে।

-শরহুল মুনইয়া ৪২২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৮৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কেউ যদি যিলহজ্বের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ অর্থাৎ তাশরীকের...

প্রশ্ন

কেউ যদি যিলহজ্বের ৯ তারিখ থেকে ১৩ তারিখ অর্থাৎ তাশরীকের দিনসমূহে কাযা নামায পড়ে তা ঐ পাঁচ দিনের কাযা হোক বা পূর্বের হোক তাহলে তাকে কি নামায শেষে তাকবীরে তাশরীক পড়তে হবে?

উত্তর

আইয়ামে তাশরীকের পাঁচ দিনের মধ্যে কোনো নামায কাযা হয়ে গেলে তা যদি এ পাঁচ দিনের মধ্যেই আদায় করা হয় তাহলে এ কাযা নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলতে হবে। কিন্তু পূর্বের কোনো কাযা নামায আইয়ামে তাশরীকে আদায় করলে তাকবীরে তাশরীক বলবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৫১১-৫১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একবার আমার গোসল ফরয হলে খুব তাড়াহুড়া করে গোসল করি।...

প্রশ্ন

একবার আমার গোসল ফরয হলে খুব তাড়াহুড়া করে গোসল করি। তখন নাকে পানি দিতে ভুলে যাই। এরপর যোহরের ফরয নামায আদায় করি। পরে যখন মনে পড়েছে তখন পুনরায় গোসল করে আবার নামায আদায় করি।

জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় সঠিক নিয়ম কী? এবং আমি যেভাবে করেছি তা কি যথার্থ হয়েছে?

উত্তর

এক্ষেত্রে শুধু নাকে পানি দিয়ে নিলেই গোসল সম্পন্ন হয়ে যেত। পুনরায় গোসল করার দরকার ছিল না। তবে গোসল করে পুনরায় নামায পড়ার দ্বারা তা আদায় হয়ে গেছে।

-কিতাবুল আছার, হাদীস ৫৯; কিতাবুল আছল ১/৩২; মাবসূত, সারাখসী ১/৬২; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ১/৩৩৮; ইলাউস সুনান ১/২০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আজকাল অনেকে এমনভাবে বাড়ি বানায় যে, বাড়ির নিচে নাপাকির ট্যাংকি...

প্রশ্ন

আজকাল অনেকে এমনভাবে বাড়ি বানায় যে, বাড়ির নিচে নাপাকির ট্যাংকি থাকে। আমার প্রশ্ন হল, ঐ বাড়ির প্রথম ফ্লোরে নামায পড়া জায়েয হবে কি?

উত্তর

যেহেতু নাপাকির রং, গন্ধ ইত্যাদি কোনো আলামতই এক্ষেত্রে প্রকাশ হয় না তাই তার উপর নামায পড়া জায়েয।

-শরহুল মুনইয়াহ ২০২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক ব্যক্তি আসরের নামায ওয়াক্তের ভেতর পড়তে পারেনি। মাগরিবের সময়...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি আসরের নামায ওয়াক্তের ভেতর পড়তে পারেনি। মাগরিবের সময় এক মসজিদে জামাতের সাথে মাগরিবের নামায পড়ে নেয়। তখন তার আসরের নামাযের কথা স্মরণ ছিল। কিন্তু যেহেতু মাগরিবের জামাত দাঁড়িয়ে যায় তাই আসরের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও সে মাগরিবের জামাতে শরিক হয়ে যায়। আর অতীতেরও তার কোনো নামায কাযা নেই। এখন ঐ ব্যক্তির কী করণীয়? সে কি এখন আসরের কাযা আদায় করে নিবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আসরের কাযা নামাযের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তির মাগরিবের জামাতে শরিক হওয়া এবং তা পড়া সহীহ হয়নি। তাই এখন তার করণীয় হল, আসরের কাযা নামাযটি পড়ে উক্ত মাগরিবের নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া। কেননা যার পেছনের কোনো নামায কাযা নেই তার যদি কোনো ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে যায় তবে তার জন্য পরবর্তী ওয়াক্তের নামায পড়ার আগে ঐ কাযা নামায আদায় করা জরুরি। কাযা আদায় করতে গিয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলেও তাকে আগে কাযাই আদায় করতে হবে। কিন্তু সময় স্বল্পতার দরুণ কাযা আদায় করতে গিয়ে যদি পরবর্তী ওয়াক্তের ফরয ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন ওয়াক্তের নামায আগে পড়ে নিতে হবে।

হাদীস শরীফে আছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَذَكَرَهَا مَعَ الْإِمَامِ فَلْيُصَلِّهِ مَعَهُ ثُمَّ لِيُصَلِّ الَّتِي نَسِيَ ثُمَّ لِيُصَلِّ الْأُخْرَى بَعْدَ ذَلِكَ.

যে ব্যক্তি কোনো ওয়াক্তের নামায (ওয়াক্তের ভেতর) পড়তে ভুলে গেছে অতপর ইমামের পেছনে (পরবর্তী ওয়াক্তের) নামায পড়ার সময় তার ঐ নামাযের কথা স্মরণ হয় সে যেন ইমামের সাথে নামাযটি পড়ে নেয়। এরপর যে নামাযটি পড়তে ভুলে গিয়েছিল তা আদায় করে। অতপর ইমামের সাথে যে নামাযটি পড়েছে তা আবার পড়ে নেয়। -শরহু মাআনিল আসার, তহাবী, হাদীস ২৬৮৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ২২৫৪

এ হাদীসটি বর্ণনা করার পর ইমাম তহাবী রাহ. বলেন, ইমামের সাথে যে নামাযটি পড়েছে তা আমাদের নিকট নফল হিসেবে গণ্য হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭-৩৫০; আল বাহরুর রায়েক ২/৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার জামায় একদিন কিছু রক্ত লাগে। তখন জামাটি আমি পানি...

প্রশ্ন

আমার জামায় একদিন কিছু রক্ত লাগে। তখন জামাটি আমি পানি দিয়ে কয়েকবার ভালোভাবে ধুয়েছি। কিন্তু রক্তের লাল দাগ জামা থেকে পুরোপুরি দূর করতে পারিনি। আর তখন আমার সাথে অন্য কোনো জামা না থাকায় ঐ জামা পরেই আমি কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি। এখন প্রশ্ন হল, আমি ঐ জামা নিয়ে যে কয়েক ওয়াক্ত নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে না তা আবার পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু রক্ত লাগার পর কাপড়টি ভালোভাবে ধুয়ে নিয়েছেন এবং রক্ত দূর হয়ে গেছে। তাই এরপর রক্তের দাগ থেকে গেলেও সমস্যা নেই। তা পাক হয়ে গেছে। এ জামা পরে যে নামাযগুলো পড়েছেন তাও আদায় হয়েছে। পুনরায় আদায় করা লাগবে না।

-আলআওসাত, ইবনুল মুনযির ২/২৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪২; আল বাহরুর রায়েক ১/২৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর...

প্রশ্ন

আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহীহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

উত্তর

ভিড়ের ওজরে অন্যকে দিয়ে রমী করানো (কংকর মারানো) বৈধ নয়। এর দ্বারা তাদের এই ওয়াজিব আদায় হবে না। দিনের বেলায় ভিড় থাকলেও রাতে তেমন ভিড় থাকে না। রাতে মহিলা ও দুর্বলদের জন্য রমীর উপযুক্ত সময়। অন্যকে দিয়ে রমী করানো কেবল তখনই জায়েয যখন হাজ্বী অসুস্থতার কারণে জামরাতে পৌঁছতে এবং রমী করতে সক্ষম না হন। যে অসুখে তার জন্য বসে নামায পড়া বৈধ এমন অবস্থায় অন্যকে দিয়ে রমী করাতে পারবেন, অন্যথায় নয়। আর ভিড়ের ওজরে মহিলাদের জন্য উকূফে মুযদালিফা না করে আরাফা থেকে সরাসরি মিনায় চলে যাওয়ার অনুমতি আছে। এতে তাদের উপর দম ওয়াজিব হবে না। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশী হাজ্বীদের মিনার তাঁবুগুলো যেহেতু মূলত মুযদালিফার সীমানাতেই পড়ে তাই আরাফা থেকে সরাসরি মিনার ঐ তাঁবুতে চলে গেলেও সকলের উকূফে মুযদালিফা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু সক্ষমদের জন্য উত্তম হবে মসজিদে মাশআরে হারামের নিকটে খোলা আকাশের নিচে উকূফ করা।

-যুবদাতুল মানাসিক ১৮৪; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে লম্বা কেরাত পড়ার সময় শুরুতে বড় এক আয়াত পরিমাণ...

প্রশ্ন

নামাযে লম্বা কেরাত পড়ার সময় শুরুতে বড় এক আয়াত পরিমাণ বা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ পড়ার পর যদি পরবর্তী অংশে এমন কেনো ভুল পড়ে, যার কারণে অর্থ একেবারে পাল্টে যায় তাহলে নামায ভঙ্গ হবে কি না? আমার এ প্রশ্নটি হওয়ার কারণ হল, সে তো নামায হয়ে যায় এ পরিমাণ পড়ে ফেলেছে। আরেকটা জানার বিষয়, এক্ষেত্রে নফল ও ফরযের মধ্যে পার্থক্য আছে কি না?

উত্তর

নামাযে যতটুকু কেরাত পড়া হবে এর কোনো অংশে নামায ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ভুল হলে নামায ভেঙ্গে যাবে। চাই ঐ ভুল নামায হয়ে যায় এ পরিমাণ কেরাত পড়ার ভেতরে হোক বা পরে হোক। নামায হয়ে যায় এ পরিমাণ পড়ার পর ভুল হলে নামায ভাঙ্গে না- এ ধারণা ঠিক নয়; বরং যে ভুলের কারণে অর্থে চরমভাবে বিকৃতি ঘটে যেমন, কুফরী অর্থ হয়ে যায় বা কুরআনের একেবারে উল্টো অর্থ হয় সেক্ষেত্রে যে অংশেই ভুল হোক নামায ভেঙ্গে যাবে। আর ভুলের ক্ষেত্রে ফরয ও নফল নামাযের হুকুম একই। নামায ভেঙ্গে যাওয়ার মতো ভুল হলে ফরয নফল সব নামাযই নষ্ট হয়ে যাবে।

-শরহুল মুনইয়াহ ৪৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার...

প্রশ্ন

নামাযে ইমাম সাহেব যদি ভুল করেন তাহলে আমরা আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন আমরা যথারীতি আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দিই। নামায শেষে একজন আলেম বললেন, হাদীস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। ঐ আলেমের কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, ঐ আলেম ঠিক বলেছেন। ইমামের কোনো ভুল হলে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়া সুন্নত। কেননা একাধিক হাদীসে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা উল্লেখ হয়েছে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من رابه شيء في صلاته، فليسبح.

নামাযে কোনো সমস্যা দেখা দিলে যেন সুবহানাল্লাহ বলে। -সহীহ বুখারী ১/১৬৫

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযে) দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। তখন সাহাবায়ে কেরাম সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দিয়েছেন। -সুনানে নাসায়ী, হাদীস ১১৭৮

সুতরাং কোনো ভুলের ব্যাপারে ইমামকে সতর্ক করতে চাইলে আল্লাহু আকবার না বলে সুবহানাল্লাহ বলা উচিত।

-শরহু মাআনিল আছার ১/২৯৪; নুখাবুল আফকার ৪/৩৬৯; আলমাবসূত ১/২০০; আল মুহীতুল বুরহানী ২/২১৩; শরহুল মুনইয়া ৪৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে...

প্রশ্ন

আমার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে দেখি নামাযের ইকামত হচ্ছে বা জামাত শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জামাতের কতটুকু অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আমি সুন্নত পড়ব? দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নাকি ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ফজরের সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

لا تدعوا ركعتي الفجر، وإن طردتكم الخيل.

তোমরা ফজরের সুন্নত ছেড়ে দিও না। যদিও সৈন্যবাহিনী তোমাদেরকে তাড়া দেয়। -মুসনাদে আহমদ,হাদীস ৯২৫৩

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও আবু দারদা রা.-এর মতো বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকে বর্ণিত আছে যে, তারা ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে নিতেন। যেমন আবু দারদা রা. ফজরের সময় মসজিদে প্রবেশ করে লোকজনকে ফজরের জামাতে কাতারবদ্ধ পেলে মসজিদের এক কোণে (ফজরের) সুন্নত পড়তেন। অতপর মানুষের সাথে জামাতে শরিক হতেন। -শরহু মাআনিল আছার, তহাবী ১/২৫৬

সুতরাং ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে যদি জামাতের সাথে দ্বিতীয় রাকাতও পাওয়া যায় তাহলে সুন্নত পড়ে নিবে। আর দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সুন্নত পড়বে না; বরং জামাতে শরিক হয়ে যাবে এবং সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নিবে।

প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো ফকীহ সুন্নত পড়ার পর ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নত পড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ফকীহর মত তা-ই, যা উপরে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জামাত শুরু হওয়ার পর মসজিদে সুন্নত পড়ার কিছু শর্ত রয়েছে। যথা-

ক. কাতারের সাথে মিলিত হয়ে পড়া যাবে না। মসজিদের বারান্দায় বা কাতার থেকে দূরে মসজিদের এক কোণে বা কোনো খুঁটির আড়ালে সুন্নত পড়বে।

খ. জামাত থেকে পিছনে পৃথক হয়ে সুন্নত পড়ার মতো জায়গা না থাকলে সুন্নত পড়া যাবে না। এক্ষেত্রে জামাতে শরিক হয়ে যাবে।

-আলজামিউস সগীর ৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; মাবসূত, সারাখসী ১/১৬৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একদিন নামাযের পর মসজিদে বসা ছিলাম। এ অবস্থায় এক...

প্রশ্ন

আমি একদিন নামাযের পর মসজিদে বসা ছিলাম। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি এসে আমার পেছনে নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। আমি তার সামনে থেকে উঠে চলে আসি। তখন এক মুসল্লি আমাকে বললেন, আপনি নামাযির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে গুনাহ করেছেন। কেননা মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। অথচ আমি জানতাম, মুসল্লির সামনে বসে থাকলে কোনো এক দিকে সরে যেতে অসুবিধা নেই। দয়া করে সঠিক মাসআলাটি জানাবেন।

উত্তর

নামাযির সামনে দিয়ে অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। কিন্তু সামনে অবস্থানকারীর জন্য পাশে সরে যাওয়া বা সেখান থেকে চলে আসা নিষিদ্ধ নয়। তাই আপনার জন্য সামনে থেকে সরে আসা নাজায়েয হয়নি। ঐ মুসল্লির কথা ঠিক নয়। হাদীস শরীফে অতিক্রম করা বড় গুনাহ বলা হয়েছে।

সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে শুয়ে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায আদায় করতেন। তখন হযরত আয়েশা রা. তাঁর সামনে থেকে এক পাশে উঠে চলে যেতেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫১২

তবে মসজিদে মুসল্লির সামনে উপবিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ জরুরত ছাড়া চলে না আসাই বাঞ্ছনীয়। বিশেষত লোকটি সরে গেলে নামাযির সামনে দিয়ে অন্যদের যাতায়াতের আশঙ্কা থাকলে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উত্তম হবে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৫১১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫১২; ইমদাদুল আহকাম ১/৮০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন ফজরের আযানের সময় الصلاة خير من النوم ভুলক্রমে বাদ...

প্রশ্ন

একদিন ফজরের আযানের সময় الصلاة خير من النوم ভুলক্রমে বাদ দিয়ে الله أكبر দুইবার বলে ফেলি। এরপর সাথে সাথে ছুটে যাওয়া বাক্যের কথা মনে পড়লে তা বলি এবং পুনরায় সেখান থেকে পরের বাক্যগুলো বলে আযান শেষ করি। প্রশ্ন হল, ঐ আযান কি সহীহ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ছুটে যাওয়া বাক্যসহ বাকি বাক্যগুলো যেহেতু বলেছেন তাই আপনার উক্ত আযান সহীহ হয়েছে। আযান দেওয়ার সময় আযানের কোনো বাক্য ছুটে গেলে করণীয় হল, মনে পড়ার সাথে সাথে ছুটে যাওয়া বাক্যটি বলা এবং এরপর পরবর্তী বাক্যগুলো যথানিয়মে বলে আযান সম্পন্ন করা।

-কিতাবুল আছল ১/১১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মাসবুক ব্যক্তি, যার এক রাকাত নামায ছুটে গিয়েছে সে ইমামের...

প্রশ্ন

মাসবুক ব্যক্তি, যার এক রাকাত নামায ছুটে গিয়েছে সে ইমামের প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়বে নাকি পড়বে না?

উত্তর

হাঁ, যে মাসবুকের এক রাকাত ছুটে গেছে তার জন্যও ইমামের অনুসরণে প্রথম বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতু পড়া ওয়াজিব। প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল যে,যার নামাযের কিছু অংশ ছুটে গেছে অর্থাৎ মাসবুক কি ইমামের প্রত্যেক বৈঠকে তাশাহহুদ পড়বে? উত্তরে তিনি বললেন, হাঁ।

-কিতাবুল আসার ১/১৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৯২; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

লঞ্চ, ফেরী ইত্যাদিতে জুমার নামায পড়ার বিধান কী? যদি জুমার...

প্রশ্ন

লঞ্চ, ফেরী ইত্যাদিতে জুমার নামায পড়ার বিধান কী? যদি জুমার নামাযের ওয়াক্ত হয়ে যায় তাহলে সেখানে জুমার নামায পড়ে নিলে তা আদায় হবে কি? যদি না হয় তবে কোন কারণে আদায় হবে না এবং কি কি শর্ত পাওয়া গেলে আদায় হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

নৌকা, ফেরী, লঞ্চ ইত্যাদি চলমান অবস্থায় তাতে জুমা আদায় করা সহীহ নয়। কারণ জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য একটি শর্ত হল, যে জায়গায় জুমা প্রতিষ্ঠা করা হবে সেটি শহর হতে হবে অথবা এমন গ্রাম হতে হবে, যেখানে শহরের সুযোগ-সুবিধা থাকে। যেমন, নিত্যপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পাওয়া যায় এমন বাজার থাকে, রাস্তা-ঘাটের সুব্যবস্থা থাকে এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাও থাকে ইত্যাদি।

লঞ্চ, ফেরী চলমান অবস্থায় নদীতে যেহেতু এসব শর্ত বিদ্যমান নেই তাই চলন্ত অবস্থায় এগুলোতে জুমা প্রতিষ্ঠা করা জায়েয হবে না। করলে তা সহীহ হবে না।

অবশ্য জলযান যদি পাড়ের সাথে নোঙর করা থাকে তাহলে তখন তা উক্ত পাড়ের হুকুমে হবে। পাড় যদি এমন স্থানে হয় যেখানে জুমার নামায সহীহ হয় তাহলে পাড়ের সাথে নোঙর করা জলযানেও জুমা পড়া সহীহ হবে। আর যদি পাড় সংলগ্ন এলাকায় জুমার শর্ত না পাওয়া যাওয়ার কারণে সেখানে জুমা না হয় তাহলে ঐ পাড়ে বা সেখানে নোঙর করা জলযানেও জুমা সহীহ হবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

হায়েয অবস্থায় মহিলারা আযানের জবাব দিতে পারবে কি?

প্রশ্ন

হায়েয অবস্থায় মহিলারা আযানের জবাব দিতে পারবে কি?

উত্তর

মহিলাদের জন্যও আযানের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। তাই হায়েয অবস্থায়ও মহিলারা আযানের জবাব দিবে। এ অবস্থায় আযানের জবাব দিতে কোনো অসুবিধা নেই।

-ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কখনো দেখা যায়, নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের...

প্রশ্ন

কখনো দেখা যায়, নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের পূর্বেই হায়েয আরম্ভ হয়। জানতে চাই, পরবর্তীতে ঐ ওয়াক্তের নামায কি কাযা করা জরুরি?

উত্তর

নামাযের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর নামায আদায়ের পূর্বে ওয়াক্তের মধ্যেই হায়েয আরম্ভ হলে এই ওয়াক্তের নামাযও মাফ হয়ে যায়। অতএব পরবর্তীতে এই ওয়াক্তের নামায কাযা করা লাগবে না।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৭৩১৩; মাবসূত, সারাখসী ২/১৪; ফাতহুল কাদীর ১/১৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৮৩; মাজমাউল আনহুর ১/৭৯; রদ্দুল মুহতার ১/২৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

যদি কেউ এমন অবস্থায় নামাযের জামাতে শরিক হয় যখন ইমাম...

প্রশ্ন

যদি কেউ এমন অবস্থায় নামাযের জামাতে শরিক হয় যখন ইমাম সাহেব কেরাত পড়ছেন অথবা রুকুতে চলে গেছেন, তখন সে কি সানা পড়বে নাকি ছেড়ে দিবে?

উত্তর

ইমাম সাহেব শব্দ করে কেরাত পড়ার সময় কেউ নামাযে শরিক হলে কিংবা রুকু অবস্থায় শরিক হলে সে সানা পড়বে না। আর আস্তে কেরাত পড়া অবস্থায় নামাযে শরিক হলে সানা পড়তে পারবে।

Ñআত তাজনীস ২/৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমাম সাহেবকে দেখি, ফরয নামাযের পর নিজ জায়গা থেকে একটু...

প্রশ্ন

ইমাম সাহেবকে দেখি, ফরয নামাযের পর নিজ জায়গা থেকে একটু সরে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আমার জানার বিষয় হল, ফরয নামাযের পর নিজ জায়গা থেকে সরে অন্যত্র সুন্নত পড়ার হুকুম কী? এই হুকুম কি শুধু ইমাম সাহেবের জন্য প্রযোজ্য, নাকি মুসল্লিগণও অন্যত্র সুন্নত পড়বে?

উত্তর

যোহর, মাগরিব ও ইশার নামাযের পর ইমাম যদি মসজিদের ভেতরই সুন্নত বা নফল পড়তে চান, তাহলে ফরয নামাযের জায়গা থেকে ডানে বা বামে সরে সুন্নত পড়া উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত আছে, ইমাম যে স্থানে ফরয পড়েছে সেখানেই তার জন্য (সুন্নত-নফল) নামায পড়াকে তিনি অপছন্দ করতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৬০৭৮

আর আশপাশে জায়গা থাকলে মুসল্লিদের জন্যও সামান্য আগ-পিছ করে দাঁড়ানো উত্তম। তবে ফরযের জায়গায় দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়লেও কোনো গুনাহ হবে না।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৬০৬৬-৬০৬৮; কিতাবুল আসল ১/১৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২২৬; আততাজনীস ২/৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে শরিক হই। শরিক হয়ে তাশাহহুদ...

প্রশ্ন

আমি যোহরের নামাযে প্রথম বৈঠকে শরিক হই। শরিক হয়ে তাশাহহুদ পড়া শুরু করি। তখনই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এখন জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তাশাহহুদ পূর্ণ করেই দাঁড়ানো উচিত। কেননা ইমামের পেছনে প্রথম বা দ্বিতীয় বৈঠকে শরিক হলে তাশাহহুদ পড়ে নেওয়াই নিয়ম। তাই ইমাম দাঁড়িয়ে গেলেও মুক্তাদি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াবে।

Ñরদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬; এমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩৩৯; এমদাদুল আহকাম ১/৫৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জনৈক ব্যক্তি জামাতের সাথে নামায আদায় করছিল। দাঁড়ানো অবস্থায় তার...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি জামাতের সাথে নামায আদায় করছিল। দাঁড়ানো অবস্থায় তার ঘুম এসে যায়। এদিকে ইমাম সাহেব রুকু শেষ করে সিজদায় চলে গিয়েছিল। তখন সে জেগে উঠে এবং নিজে নিজে রুকু করে ইমামের সাথে সিজদায় শরিক হয়। জানার বিষয় হল, তার এ নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

হাঁ, ঐ ব্যক্তির নামায সহীহ হয়েছে। ইমামের সাথে নামায শুরু করার পর ঘুম বা অন্য কোনো ওযরে মাঝখানে কোনো রোকন ছুটে গেলে তা নিজে নিজে আদায় করে ইমামের সাথে শরিক হতে হয়। এটিই নিয়ম। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির একাকী রুকু করে ইমামের সাথে শরিক হওয়া নিয়মসম্মতই হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, নামাযের মধ্যে অবহেলা বা অলসতা খুবই অপছন্দনীয় বিষয়। নামায আদায় করতে হয় অত্যন্ত খুশুখুযু ও মনোযোগের সঙ্গে। আর নামাযে ঘুমিয়ে পড়া উদাসীনতার লক্ষণ। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

Ñকিতাবুল হুজ্জাহ ১/১৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৪-৫৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার এক আত্মীয় এক সপ্তাহ যাবৎ অসুস্থ ছিল। একেবারে মুমূর্ষু...

প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় এক সপ্তাহ যাবৎ অসুস্থ ছিল। একেবারে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। কোনো ক্রমেই নামায পড়া সম্ভব ছিল না। এমনকি মাথার ইশারায়ও নামায পড়া সম্ভব ছিল না। তাই নামায পড়তে পারেনি। তবে পুরো সময় হুঁশ-জ্ঞান ছিল। আমার প্রশ্ন হল, অসুস্থ ব্যক্তির যদি হুঁশ-জ্ঞান বাকি থাকে কিন্তু মাথার ইশারায়ও নামায পড়তে না পারে তাহলে তার নামাযের হুকুম কী? আমার ঐ আত্মীয়কে বিগত দিনগুলোর নামায কাযা করতে হবে কি না?

উত্তর

অসুস্থতার কারণে রুকু-সিজদার জন্য মাথা দ্বারা ইশারা করে নামায পড়ার ক্ষমতাও যদি না থাকে এবং এ অবস্থায় একদিন একরাতের চেয়ে বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে এ সময়ে ছুটে যাওয়া নামাযগুলোর কাযা করতে হবে না। অবশ্য যদি একদিন এক রাত বা এর আগেই মাথা দ্বারা ইশারা করে নামায পড়ার মতো শক্তি ফিরে পায় তাহলে উক্ত সময়ে ছুটে যাওয়া নামাযসমূহ কাযা করে নিতে হবে।

Ñআদ্দুররুল মুখতার ২/৯৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; মারাকিল ফালাহ ২৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমার অনেক নামায কাযা আছে। আমি যদি রাতের বেলা প্রতিদিন...

প্রশ্ন

আমার অনেক নামায কাযা আছে। আমি যদি রাতের বেলা প্রতিদিন বিগত একদিনের নামায আদায় করতে চাই সেটা ঠিক হবে কি? আর কাযা নামায আদায়ের নিয়ম কী হবে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাঁ, রাতে পুরো দিনের কাযা নামাযও আদায় করা যাবে। কেননা কাযা নামায আদায়ের কোনো সময় নির্দিষ্ট নেই। দিনের কাযা নামায রাতেও পড়া যায়। আর কাযা নামায বেশি হলে এভাবে নিয়ত করতে পারেন যে, আমি সর্বপ্রথম অনাদায়ী ফজরের কাযা আদায় করছি অথবা সর্বশেষ অনাদায়ী ফজরের কাযা আদায় করছি। প্রতিদিনই এভাবে নিয়ত করবেন। অনুরূপভাবে যোহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও বিতরের ক্ষেত্রে নিয়ত করবেন।

Ñফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১, ১২৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮২; রদ্দুল মুহতার ২/৬৬, ৭৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমামের পিছনে নামায পড়া অবস্থায় প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর...

প্রশ্ন

ইমামের পিছনে নামায পড়া অবস্থায় প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার পর মুক্তাদি যদি ভুলে দরূদ শরীফ পড়ে ফেলে তাহলে তার করণীয় কী? তার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

উত্তর

না, সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। কেননা মুক্তাদির ভুলের কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না।

উল্লেখ্য, খুশুখুযু ও একাগ্রতার সাথে নামায আদায়ের ব্যাপারে যতœবান হতে হবে।

Ñমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৪৫৬০; কিতাবুল আসল ১/১৯৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে أعوذ بالله من...

প্রশ্ন

নামাযের প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে أعوذ بالله من الشيطان الرجيم ও بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ উভয়টা পড়বে, নাকি শুধু بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ পড়বে? আর সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা পড়ার আগে কিبِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ পড়বে?

উত্তর

ইমাম বা একাকী নামায আদায়কারী নামাযের শুধু প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে أعوذ بالله من الشيطان الرجيم পড়বে। অন্য কোনো রাকাতে পড়বে না। আর প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার আগে بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ পড়া এবং সূরা ফাতিহার পর অন্য কোনো সূরার শুরু থেকে পড়লেও بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ পড়া মুস্তাহাব। তবে সূরার মাঝ থেকে পড়লেبِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ না পড়লেও চলবে।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫২; ফাতহুল কাদীর ১/২৫৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/১২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩১২; রদ্দুল মুহতার ১/৪৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি একবার একাকি যোহরের নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে ভুলে সূরা...

প্রশ্ন

আমি একবার একাকি যোহরের নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। এরপর আত্তাহিয়্যাতুর কথা স্মরণ হলে আত্তাহিয়্যাতু পড়ি এবং নামায শেষে সাহু সিজদা করি। এখন প্রশ্ন হল, আমার ঐ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

উত্তর

হাঁ, ঐ ভুলের কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। তাই সাহু সিজদা দিয়ে ঠিকই করেছেন।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের নিয়তের বিধান কী? ইমামের পিছনে নামায পড়ার সময় কীভাবে...

প্রশ্ন

নামাযের নিয়তের বিধান কী? ইমামের পিছনে নামায পড়ার সময় কীভাবে নিয়ত করব আর একাকী নামায পড়ার সময় কীভাবে নিয়ত করব? অনেক সময় এমন হয় যে, পূর্ণ নামায শেষ করি বটে, কিন্তু অন্তরে কোনো কিছুই থাকে না। অর্থাৎ কোন নামায পড়ছি বা ইমামের পিছনে পড়ছি এগুলো কিছুই অন্তরে আসে না। তবে নিজেকে এই বলে প্রবোধ দেই যে, আমি তো নামাযের জন্যই মসজিদে এসেছি। সুতরাং নির্দিষ্টভাবে নিয়তের দরকার কী? আমার এই ধারণা কি সঠিক?

উত্তর

কোন ওয়াক্তের নামায আদায় করা হচ্ছে এই নিয়ত অন্তরে থাকা ফরয। এছাড়া জামাতের নামাযে ইমামের পিছনে নামায পড়ছি এই নিয়তও জরুরি। তবে এই কথাগুলো মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। অন্তরে থাকাই যথেষ্ট। কিন্তু কোন ওয়াক্তের নামায পড়া হচ্ছে তা যদি অন্তরেও না থাকে তাহলে ঐ নামায হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, নামাযের শুরুতে নিয়ত থাকার পর পরবর্তীতে খেয়াল ছুটে গেলেও নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না।

Ñমাবসূত, সারাখসী ১/১০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮০-৮৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমাদের গ্রামের মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয় না।...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের জায়গা সংকুলান হয় না। ফলে মসজিদের পূর্ব দিকের খোলা জায়গায় অনেক মুসল্লিকে নামায পড়তে হয়। এদিকে আমাদের মসজিদে নামাযের জন্য এখনও মাইকের ব্যবস্থা করা হয়নি। যার ফলে ঐ খোলা জায়গার পেছন দিকে বসলে জুমার খুতবা শোনা যায় না। আমার জানার বিষয় হল, খুতবা যেহেতু শোনা যাচ্ছে না, তাহলে কি আমি ঐ সময় কোনো যিকর বা তাসবীহ আদায় করতে পারব?

উত্তর

খুতবা অবস্থায় সকল মুসল্লির কর্তব্য হল, মনোযোগ সহকারে শোনা এবং চুপ থাকা। খুতবা শোনা না গেলেও চুপ থাকা জরুরি। খুতবা শোনা না গেলেও এ অবস্থায় দুআ-দরূদ পড়া বা যিকর করা যাবে না।

হযরত উসমান রা. বলেন, যে খুতবা শুনতে পাচ্ছে না, কিন্তু চুপ করে আছে সে চুপ করে খুতবা শ্রবণকারীর মতোই সওয়াব পাবে। Ñমুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৫৩৭২

আবদুল্লাহ ইবনে মুসলিম ইবনে ইয়াসার রাহ. তার পিতার ব্যাপারে বলেন, খুতবা চলাকালীন তিনি তাসবীহ পাঠ করতেন না এবং দুআও করতেন না।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫৩২০; মাবসূত, সারাখসী ২/২৮; ফাতহুল কাদীর ২/৩৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৩৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

কিছুদিন আগে আমাদের মহল্লায় একটি নতুন মসজিদ হয়েছে। সভাপতি সাহেবের...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের মহল্লায় একটি নতুন মসজিদ হয়েছে। সভাপতি সাহেবের আদেশে আমাদের ইমাম সাহেব নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখেন। কিন্তু কিছু কিছু মুসল্লির দাবি হল, মসজিদ বন্ধ রাখা যাবে না। সব সময় মসজিদ খোলা রাখতে হবে। কারণ মসজিদ বন্ধ রাখার অর্থ হল, মানুষকে ইবাদত থেকে বাধা দেওয়া। জানার বিষয় হল, নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখা কি জায়েয?

উত্তর

মসজিদের মালামাল ও আসবাবপত্র হেফাযতের উদ্দেশ্যে নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময় মসজিদ বন্ধ রাখা জায়েয। এবং তা ইবাদতে বাধা দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। অবশ্য নামাযের আগে পরে যতক্ষণ মুসল্লিগণ ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে এমন একটা লম্বা সময় পর্যন্ত মসজিদ খোলা রাখার ব্যবস্থা করা উচিত। এজন্য বিশ্বস্ত খাদেম নিয়োগের মাধ্যমে মসজিদের মালামাল হেফাযতের ব্যবস্থা নিতে হবে। আর মসজিদের সাথে জায়গা থাকলে সেখানে বারান্দা বানানো যেতে পারে। যেন মসজিদ বন্ধ থাকলেও বারান্দা খোলা থাকে। এতে মসজিদের মালামালের হেফাযতও হবে আবার মুসল্লীগণ যে কোনো সময় ইবাদত-বন্দেগীও করতে পারবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১৯; শরহুল মুনইয়াহ ৬১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৩; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর বলার আগে...

প্রশ্ন

ঈদের নামাযে ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর বলার আগে কিরাত পড়ে ফেললে বা রুকুও করে ফেললে এক্ষেত্রে করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরা মিলানোর আগে স্মরণ হলে সাথে সাথে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে এবং পুনরায় সূরা ফাতিহা পড়বে।

আর যদি অন্য সূরা মিলানোর পর স্মরণ হয় তাহলে কিরাত শেষ করে রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। এরপর রুকু করবে এবং উভয় অবস্থায়ই নির্ধারিত সময় তাকবীর আদায় না করার কারণে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করবে।

আর যদি রুকুতে চলে যাওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হয় তাহলে তখন আর তাকবীর বলবে না; বরং নামায শেষে সাহু সিজদা করবে।

-হালবাতুল মুজাল্লী শরহু মুনইয়াতুল মুসল্লী ২/৫৫০; শরহুল মুনইয়াহ ৫৭২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে মহিলাদের জন্য কান ঢেকে রাখতে হবে কি না?

প্রশ্ন

নামাযে মহিলাদের জন্য কান ঢেকে রাখতে হবে কি না?

উত্তর

হাঁ, মহিলাদের জন্য নামাযে কান ঢেকে রাখা আবশ্যক। কেননা, নামাযে মহিলাদের কান সতরের অন্তর্ভুক্ত। তাই নামাযের মধ্যে কোনো কানের চার ভাগের একভাগ তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৯; শরহুল মুনইয়াহ ২১৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭১; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৮, ৪০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফজরের নামাযের সময় আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। ইমাম...

প্রশ্ন

ফজরের নামাযের সময় আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহার পর সূরা আলিফ-লাম-মীম সাজদা পড়েন। সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা আদায় করেন। আমি ইমাম সাহেবের সঙ্গে সিজদার আয়াতে শরিক হতে পারিনি। তবে ঐ রাকাতেই রুকুর আগে শরিক হয়েছি। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তীতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

উত্তর

না, পরবর্তীতে আপনাকে ঐ সিজদা আদায় করতে হবে না। কারণ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি ইমামের সাথে ঐ রাকাতেই শরিক হওয়ার কারণে কিরাত ও তিলাওয়াতে সিজদা সবই পেয়েছেন বলে ধর্তব্য হবে।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫০১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/১১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমরা জানি, মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামায যদি কেউ একা...

প্রশ্ন

আমরা জানি, মাগরিব, ইশা ও ফজরের নামায যদি কেউ একা একা পড়ে তাহলে তার উচ্চস্বরে কেরাত পড়ারও অবকাশ আছে। আস্তে আস্তে পড়ারও অবকাশ আছে। তো জোরে কিরাত পড়ার সময় তাকবীর এবং তাসমীও (سمع الله لمن حمده) কি জোরে বলবে?

উত্তর

মাগরিব, ইশা ও ফজরে একাকী নামায আদায়কারী উচ্চস্বরে কিরাত পড়লেও তাকবীর ও তাসমী আস্তেই পড়বে। জোরে পড়বে না। কারণ একাকী নামায আদায়কারীর জন্য উচ্চস্বরে তাকবীর বলার কোনো প্রয়োজন নেই।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৪; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৩৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩২৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

গত সপ্তাহে আমরা পাঁচজন জুমার নামাযের জন্য বের হতে বিলম্ব...

প্রশ্ন

গত সপ্তাহে আমরা পাঁচজন জুমার নামাযের জন্য বের হতে বিলম্ব হয়ে যায়। গেটে এসে দেখি, গেট বন্ধ। ঐ সময়ে বের হওয়ার মতো আমাদের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই আমরা ছাত্রাবাসের ভিতরেই খুতবা পড়ে জুমা আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমাদের জুমা আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? জুমা আদায়ের জন্য মসজিদ হওয়া কি শর্ত?

উত্তর

হাঁ, আপনাদের জুআ আদায় করা সহীহ হয়েছে। মসজিদ ছাড়াও জুমা পড়া সহীহ। অবশ্য বিনা ওজরে মসজিদের জুমা ত্যাগ করা গুনাহ। প্রকাশ থাকে যে, জুমার প্রথম আযানের পর পরই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জরুরি। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে (জুমার) নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও। -সূরা জুম‘আ (৬২) ৯

আযানের পর অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া জায়েয নয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের বিলম্ব করা ঠিক হয়নি।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫৫১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

গতকাল আসরের নামাযে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার সময় ভুলে আশহাদু...

প্রশ্ন

গতকাল আসরের নামাযে প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার সময় ভুলে আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ছুটে যায়। এজন্য আমি সাহু সিজদা করেছি। জানার বিষয় হল, ঐ অংশটুকু ছুটে যাওয়ার কারণে আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল? যদি ওয়াজিব না হয় তাহলে আমি সাহু সিজদা করার কারণে আমার নামায হয়েছে কি না?

উত্তর

হাঁ, ঐ অংশ ছুটে যাওয়ার কারণে আপনার জিম্মায় সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। তাশাহহুদের সামান্য অংশ ছুটে গেলেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি সাহু সিজদা দিয়ে ঠিকই করেছেন।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ১৩৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

একদিন আমি আযান দেওয়ার সময় أشهد أن لا إله إلا...

প্রশ্ন

একদিন আমি আযান দেওয়ার সময় أشهد أن لا إله إلا الله বলার আগে أشهد أن محمدا رسول الله বলে ফেলি। কিন্তু ভুল বুঝতে পেরে তা ঠিক করে পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে দোহরানোর কারণে আযান শুদ্ধ হয়েছে কি?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে أشهد أن لا إله إلا الله থেকে আবার দোহরিয়ে বলা নিয়মসম্মতই হয়েছে। এর দ্বারা ঐ আযান শুদ্ধ হয়ে গেছে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৬৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬; শরহুল মুনইয়াহ ৩৭৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অনেক সময় এমন হয় যে, ইমাম সাহেব তাশাহহুদ শেষ করে...

প্রশ্ন

অনেক সময় এমন হয় যে, ইমাম সাহেব তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়িয়ে গেছেন। কিন্তু আমার এখনো শেষ হয়নি। এখন আমার করণীয় কী? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াব, নাকি তাশাহহুদ অপূর্ণ রেখেই ইমাম সাহেবের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

উত্তর

তাশাহহুদ পড়া ইমাম-মুকতাদি সকলের উপর ওয়াজিব। তাই মুকতাদীর তাশাহহুদ শেষ না হলে তার কর্তব্য হল, তাশাহহুদ পূর্ণ করা। এক্ষেত্রে ইমাম দাঁড়িয়ে গেলেও মুকতাদি দাঁড়াবে না; বরং তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৯৬; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৭; রদ্দুল মুহতার ১/৪৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আমি ইমাম সাহেবের পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। ইমাম সাহেব রুকুতে...

প্রশ্ন

আমি ইমাম সাহেবের পিছনে ফজরের নামায পড়ছিলাম। ইমাম সাহেব রুকুতে গেলে আমিও তার সাথে রুকুতে যাই। কিন্তু ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে পড়েছেন মনে করে দাঁড়িয়ে যাই। উঠে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতেই আছেন। তখন আমি আবার রুকু করে ইমামের সাথে শরিক হই। নামাযের পর এক ভাই বললেন, আপনার কর্তব্য ছিল ইমাম

সাহেব রুকু থেকে উঠা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকা। দ্বিতীয়বার শরিক হওয়ার কারণে আপনার রুকু দুটি হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক?

উত্তর

না, ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার জন্য পুনরায় রুকুতে যাওয়া ঠিকই হয়েছে। কারণ ইমাম রুকু বা সিজদা থেকে উঠে পড়েছে মনে করে মুক্তাদী উঠে পড়লে তখন মুক্তাদীর জন্য ইমামের অনুসরণে পুনরায় রুকু বা সিজদায় ইমামের সাথে শরিক হওয়াই নিয়ম। এক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে বা বসে অপেক্ষা করতে হবে- এ কথা ঠিক নয়। আর এ পরিস্থিতিতে পুণরায় শরিক হওয়ার দ্বারা দুই রুকু হয়ে যায়- এ কথাও ঠিক নয়।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৫৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫২৭; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৫৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০; রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অসুস্থ অবস্থায় আমি একদিন মাগরিবের পর ঘুমিয়ে পড়ি। এতে আমার...

প্রশ্ন

অসুস্থ অবস্থায় আমি একদিন মাগরিবের পর ঘুমিয়ে পড়ি। এতে আমার ইশার নামায কাযা হয়ে যায়। এখন ঐ দিনের ইশা কাযা করার সময় বিতরের নামাযও কি কাযা করা লাগবে?

উত্তর

হাঁ, বিতর নামাযেরও কাযা পড়তে হবে। কেননা বিতর নামায ওয়াজিব। আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বিতরের নামাযের কথা ভুলে যায় বা বিতর পড়া ব্যতীত ঘুমিয়ে পড়ে সে যেন স্মরণ হওয়ামাত্রই বা ঘুম থেকে উঠামাত্রই বিতর পড়ে নেয়।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১১২৬৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ৪৬৫; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৪২৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬০৮; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ১/৩৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৮; আততাজনীস ২/৯৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ২/৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.