Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৪৯৪৩
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

শবে কদরের আমল কি? বিশেষ পদ্ধতির কোনো আমল আছে কি?

প্রশ্ন
শবে কদর উপলক্ষে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে কিনা? মকসুদুল মুমিনীন সহ অনেক বই পুস্তিকায় বিভিন্ন নিয়মের কথা লেখা আছে। বিশেষ বিশেষ সূরা দিয়ে নামায পড়া বা নির্ধারিত রাকাত নামায বিশেষ সূরা দ্বারা আদায় করা ইত্যাদি। আসলে কি হাদীস শরীফে এ রাতে বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায আছে? থাকলে তা জানতে চাই। এবং রাতের আমল কি? জানতে চাই৷
উত্তর
বিভিন্ন বই-পুস্তকে শবে কদরের নামাযের যে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানূন লেখা আছে অর্থাৎ এত রাকাত পড়তে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সূরা পড়তে হবে, এতবার পড়তে হবে, এগুলো ঠিক নয়। হাদীস শরীফে এ ধরনের কোনো নিয়ম নেই, এগুলো মানুষের মনগড়া বানোয়াট পন্থা। আর কোনো বই-পুস্তিকায় কোনো কিছু লিখিত থাকলেই তা বিশ্বাস করা উচিত নয়। বিজ্ঞ আলিমদের নিকট থেকে জেনে আমল করা উচিত।
এ রাতের আমল হল, বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামায নয়। সব সময় যেভাবে নামায পড়া হয় সেভাবেই পড়বে অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় নামায আদায় করবে এবং যে সূরা দিয়ে ইচ্ছা হয় পড়বে। তেমনি কুরআন তেলাওয়াত, যিকির- আযকার, দুআ-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমল যে পরিমাণ সম্ভব হয় আদায় করবে। এসব আমলেরও বিশেষ কোনো পন্থা নেই। তবে নফল নামায দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা উচিত, যা কোনো কোনো হাদীস দ্বারা প্রমানিত।
-মারাকিল ফালাহ পৃ. ২১৯; ইকতিযাউস সিরাতিল মুস্তাকীম ২/৬৩১ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৪০
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

সালাতুত তসবীহ নামাযের প্রমান, ফযিলত, ও পড়ার নিয়ম ৷

প্রশ্ন
হুজুর! রমযান আসলে দেখা যায় অনেকেই সালাতুত তসবীব নামায পড়ে ৷ আসলে এ নামাযে কথা হাদীসে আছে কি না? থাকলে তার হুকুম কি? এনামাযের ফযিলত কি? এবং পড়া সঠিক নিয়ম কি? যদি বিস্তারিত বলতেন!
উত্তর
সালাতুত তসবীহ নামায হল নফল ৷ পারলে দৈনিক একবার নয়ত প্রতি জুমায় একবার, নয়ত প্রতি মাসে একবার, নয়ত জীবনে একবার পড়া উচিত ৷ উক্ত নামায সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমানিত ৷ কারণ হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্নিত ৷ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাঃ বলেছেন, হে আব্বাস! হে চাচা! আমি কি আপনাকে দেব না? আপনাকে দান করব না? আপনার কাছে আসব না? আমি কি আপনার নিকট দশটি ভাল গুন বর্ননা করব না? যা করলে আল্লাহ আপনার আগে পিছনে, নতুন পুরাতন, ইচ্ছায় অনিচ্ছায়, ছোট বড়, প্রকাশ্যে গোপনে কৃত সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন? আর সে দশটি ভাল গুন হল, আপনি চার রাকাত নামায পড়বেন ৷ প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহা ও অন্য সূরা পড়বেন৷ প্রথম রাকাতে যখন কেরাত শেষ করবেন তখন দাড়ানো অবস্থায় ১৫ বার পড়বেন,
سبحان الله والحمد لله و لا اله الا الله و الله اكبر
( উচ্চারন: সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার)
এর পর রুকুতে যাবেন এবং রুকু অবস্থায় ১০ বার পড়বেন৷ এরপর রুকু হতে দাড়াবেন ৷ দাঁড়িয়ে ১০ বার পড়বেন। এরপর সিজদায় যাবেন ৷( প্রথম) সিজদায় ১০ বার পড়বেন । এরপর সিজদা হতে উঠে ( বসা অবস্থায়) ১০ বার পড়বেন। এরপর আবার সিজদায় যাবেন ৷ ( দ্বিতীয় ) সিজদায় ১০ বার পড়বেন । (দ্বিতীয় ) সিজদা হতে উঠে বসা অবস্থায় ১০ বার পড়বেন। এহল, এক রাকাতে ৭৫ বার। এভাবে আপনি চার রাকাতেই পড়বেন ৷ যদি আপনি প্রতিদিন পারেন তাহলে করুন,না হয় প্রতি জুময়ায় একবার,নতুবা প্রতিমাসে একবার, আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে জীবনে একবার ৷
-আবু দাউদ শরীফ, হাদীস: ১২৯৭; ইবনে মাজাহ,হাদীস: ১৩৮৭; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস: ১২১৬৷
সালাতুত তসবীহ এর হাদীসে বর্নিত উক্ত নিয়মটি ই সর্বোত্তম ৷ সুতরাং এ নিয়মেই পড়া উচিত ৷ অবশ্য কেরাতের পুর্বে ১৫ বার তাসবীহ পড়ার নিয়মে পড়লেও নামায আদায় হয়ে যাবে ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯১৮
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

আসর নামাযে উচ্চস্বরে কেরাত পড়া ও সিজদায়ে তিলাওয়াতের পর সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলা ৷

প্রশ্ন
হযরত একটু যদি জানাতেন.....
উত্তর
১ নং প্রশ্নঃ
ইমাম সাহেব যদি অাসরের নামাজে সূরা ফাতিহা জেহের শুরু করেন এবং দু তিন অায়াত পড়ে ফেলেন অতপর মুক্তাদি লোকমা দিলে সিররি শুরু করেন তাহলে হুকুম কি?
যদি সাজদায়ে সাহু করেন তাহলে কি হুকুম? ২ নং প্রশ্নঃ
তারাবির নামাজে সিজদায়ে তেলায়াতের পর যদি সূরা ফাতিহা পড়ে তাহলে হুকুম কি?
অার শুরু করার পর মাঝখানে মনে অাসলে হুকুম কি?
যদি দ্রুত জানাতেন খুব ভালো হত!!
( এ বিষয়ে অামাদের মসজিদে তুমুল বিতর্ক চলছে )
১নং উত্তরঃ
প্রশ্নে বর্নিত সূরতে ইমাম সাহেব আসরের নামাযে সূরা ফাতেহার দু আয়াত পড়েছেন নাকি তিন আয়াত পড়েছেন তা নিশ্চিত করুন ৷ যদি তিন আয়াত বা তার চেয়ে বেশি উচ্চস্বরে পড়ে থাকেন তাহলে সাহু সেজদা আবশ্যক হয়েছে ৷ যদি সাহু সেজদা দিয়ে থাকেন তাহলে নামায হয়েছে নতুবা নামায হয়নি, উক্ত নামায পুনরায় পড়তে হবে ৷ আর যদি তিন আয়াতের চেয়ে কম পড়ে থাকেন তাহলে সাহু সেজদা আবশ্যক হয় নি ৷ সাহু সেজদা ব্যতিত-ই নামায হয়ে যাবে৷
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫১; ইলাউস সুনান ৭/১৯১; রদ্দুল মুহতার ২/৮২ ৷
২নং উত্তরঃ
সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা বা ছোট তিন আয়াত পরিমান মিলানোর পর ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। তবে সূরা মিলানোর আগেই পর পর দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু সুরা মিলানোর পর সূরা ফাতেহা পড়েছে তাই সাহু সেজদা আবশ্যক হয়নি ৷ যখনি স্বরন হবে তখনি নিজ কেরাত থেকে পড়া শুরু করবে ৷
-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯১; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০১
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে মহিলাদের জন্য কান ঢেকে রাখা আবশ্যক কি না?

প্রশ্ন
হুজুর এখন প্রচন্ড গরমে নামাযের সময় হিজাব পড়তে অনেক কষ্ট হয় ৷ কানগুলো ঢাকা থাকার দরুন আরো বেশি কষ্ট লাগে ৷ তাই জানতে চাই নামাযে মহিলাদের জন্য কান খোলা রাখলে কোন সমস্যা হবে কি না?
উত্তর
নামাযে মহিলাদের কান সতরের অন্তর্ভুক্ত, অতএব মহিলাদের জন্য নামাযে কান ঢেকে রাখা আবশ্যক। তাই নামাযের মধ্যে কোনো কানের চার ভাগের একভাগ তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যাবে। একটু কষ্টের কারণে একটি আবশ্যকীয় বিধান লঙ্গন করা যাবে না ৷
-শরহুল মুনইয়াহ ২১৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৪;ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৮৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০০
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে তাশাহহুদের কিছু অংশ ছুটে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
বরাবর, মুফতী মেরাজ তাহসীন সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন হল, আজ আমার মাগরীবের নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ার সময় ভুলে "আসসালামু আলাইকা" ছুটে যায়। এজন্য আমি সাহু সিজদা করেছি। জানার বিষয় হল, ঐ অংশটুকু ছুটে যাওয়ার কারণে আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব ছিল কি না? আমার নামায হয়েছে কি না?
উত্তর
তাশাহহুদের সামান্য অংশ ছুটে গেলেও সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ অংশটুকু ছুটে যাওয়ার কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। তাই আপনি সাহু সিজদা দিয়ে ঠিকই করেছেন। এবং আপনার নামায সহিহ হয়েছে ৷
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭; আদ্দুররুল
মুখতার ১/৪৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯৯ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৮৯৮
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

বিতর নামায ছুটে গেলে কাযা পড়তে হবে কি?

প্রশ্ন
হুজুর আমরা জানি দৈনিক পাচ ওয়াক্ত নামায আমাদের উপর ফরজ ৷ কখনো কোন ওয়াক্তের নামায ছুটে গেলে তা কাযা আদায় করতে হয় ৷ এবং কাযা আদায়ের সময় শুধু ফরজটি আদায় করতে হয় ৷ আমার জানার বিষয় হল, বিতরের নামাযও কি কাযা করা লাগবে?
উত্তর
জ্বী, হ্যাঁ, বিতর নামাযেরও কাযা পড়তে হবে। কারণ বিতর নামায ওয়াজিব। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, নবীজী সাঃ বলেন, যে ব্যক্তি বিতরের নামাযের কথা ভুলে যায় বা বিতর না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে সে যেন স্মরণ হওয়ামাত্রই বা ঘুম থেকে উঠামাত্রই বিতর পড়ে নেয়।
অতএব কখনো বিতর ছুটে গেলে তারও কাযা পড়তে হবে ৷
-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস: ১৪২৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৮৯
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ট্রেনে নামায আদায়ের বিধান ৷

প্রশ্ন
অনেক ট্রেনে নামাযের কক্ষ থাকে । আবার অনেকগুলোতে থাকে না ৷ অনেক সময় ভিরের কারণে নামাযের কক্ষে পৌছাও সম্ভব হয় না ৷ ফলে সীটে নামায পড়তে হয় ৷ কিন্তু ট্রেন চলা অবস্থায় দাঁড়িয়ে নামায পড়া কঠিন হয়। কারণ ঝাঁকুনির দরুণ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় । নামায অবস্থায় ট্রেনে কেবলা ঠিক রাখাও মুশকিল হয়। এমতাবস্থায় কিভাবে নামায আদায় করব?
উত্তর
ট্রেনেও ফরয নামায দাঁড়িয়ে আদায় করা ফরয। তাই যথাসম্ভব দাঁড়িয়ে নামায পড়তে চেষ্টা করবে৷ প্রয়োজনে কিছু ধরেও দাঁড়াতে পারবে। তথাপিও যদি দাঁড়িয়ে নামায পড়া সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে বসে নামায পড়তে পারবে। তবে ট্রেনেও নামায শুরু করার সময় কেবলার দিক ঠিক করে সেদিকে ফিরে নামায পড়তে হবে। এবং পরে নামায অবস্থায় ট্রেন ঘুরে যাওয়ার কারণে কিবলা পরিবর্তন হয়ে গেলে নামাযীও কিবলার দিকে ঘুরে যাবে। যদি কিবলা পরিবর্তন হওয়ার পর নামাযী কিবলার দিকে না ঘুরে তাহলে তার ঐ নামায পুনরায় পড়তে হবে। কিন্তু শুরুতে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ানোর পর নামাযের ভিতর কিবলা পরিবর্তনের বিষয়টি যদি জানতে না পারে ৷ এবং ঐভাবেই নামায শেষ করে তাহলে তার নামায আদায় হয়ে যাবে।
-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৮৬
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সুতরা কেমন হতে হবে? রুমাল বা জায়নামাযকে সুতরা হিসেবে ব্যবহার করা ৷

প্রশ্ন
শ্রদ্ধেয় মুফতী সাহেব! আমি জানতে চাই, নামাযী ব্যক্তির সামনে যে, সুতরা ব্যবহার করা হয় তা কতটুকু লম্বা ও কতটুকু মোটা হতে হয়? কিছু মানুষকে দেখা যায়, তারা হাতে থাকা জায়নামায বা রুমালকে সুতরা হিসেবে ব্যবহার করে মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে যান ৷ এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
রাসূল সাঃ বলেছেন যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে হাওদার পিছনের লাঠির সমান কিছু থাকে, তাহলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে কোন সমস্যা নেই ৷
-সহিহ মুসলিম, হাদীস নং ১১৩৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৬৮৫; তিরমিযি হাদীস নং: ৩৩৫ ৷
উক্ত হাদীসের আলোকে ফুকাহাগন বলেন সুতরা হতে হবে অন্তত এক হাত লম্বা ও এক আঙ্গুল পরিমান মোটা ৷ সুতরাং সুতরা যদি এক হাত লম্বা ও এক আঙ্গুল পরিমান মোটা হয়, তাহলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করতে পারবে ৷ তখন অতিক্রম কারীর কোনো গুনাহ হবে না ৷ অতএব হাতের রুমাল বা জায়নামায সুতরা হিসেবে গন্য হবে না ৷ এবং এ ধরনের সুতরার মাধ্যমে সুতরা আদায় হবে না। এমতাবস্থায় অতিক্রম কারী গুনাহগার হবে ৷
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭০
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

মশার রক্ত মিশ্রিত কাপড় পরে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
ইদানিং মশা খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় মশা মারার পর কাপড়ে মশার রক্ত লেগে যায়। রক্ত ধৌত না করে বা কাপড় না পাল্টিয়েই প্রায় সময় নামায পড়ি ৷ জানার বিষয় হলো, আমার ঐসব নামায হয়েছে কিনা? মশার রক্ত নাপাক কিনা?
উত্তর
মশার রক্ত নাপাক নয়। তাই ঐ কাপড় পরে নামায পড়ার কারণে আপনার ঐসব নামায সহিহ হয়েছে । তবে এক্ষেত্রে কাপড় পরিবর্তন করে নেওয়া বা ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম ।
-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২০৩১; বাদায়েউস সানায়ে ১/১৯৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪৩২ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬৫
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

জোহর ও জুমার নামাযের পুর্বের চার রাকাত সুন্নত নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ পড়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি প্রায় সময় জোহরের চার রকাত সুন্নত পড়তে গিয়ে অনেক সময় প্রথম বৈঠকে দরুদ শরীফ পড়ে ফেলি ৷ তাই জানার বিষয় হলো, জোহর নামাযের ফরজের পুর্বে যে চার রাকাত সুন্নত আছে উক্ত সুন্নত নামাযে কি দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দরূদ শরীফ পড়ে ফেললে নামাযে কোন সমস্যা হবে কি না ?
উত্তর
জোরহ ও জুমার ফরজের আগের চার রাকাত সুন্নতে মুআক্কাদা নামাযের দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকের সময় আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর দরূদ শরীফ পড়া যাবে না ৷ বরং ফরজ নামাযের মত শুধু আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দাড়িয়ে সানা না পড়ে প্রথম দুই রাকাতের মত বাকি দুই রাকাত সূরা ক্বেরাত সহ আদায় করবে ৷
যদি দরুদ শরীফ পড়ে ফেলে তাহলে ফরজ নামাযের মত শেষে সেজাদায়ে সাহু দিতে হবে ৷ অন্যথায় নামায হবে না ৷
-রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৬; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১১৩ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬২
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

চার রাকাত বিশিষ্ট নফল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ পড়া ৷

প্রশ্ন
এশার নামাযের ফরজের পুর্বে যে চার রাকাত সুন্নত আছে উক্ত সুন্নত নামাযে কি দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু পড়ে দরূদ শরীফ পড়তে হবে ? জানালে ভাল হতো।
উত্তর
এশার ফরজের আগের চার রাকাত সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদাসহ সকল চার রাকাত বিশিষ্ট সুন্নাতে গায়রে মুআক্কাদা ও নফল নামাযের দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকের সময় আত্তাহিয়্যাতু পড়ার পর দরূদ শরীফ ও দুআয়ে মাসূরাও পড়বে, তারপর তৃতীয় রাকাতের জন্য দাড়িয়ে সানা, আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ পড়ে প্রথম দুই রাকাতের মত শেষ দুই রাকাত পড়বে। কিন্তু যদি মাঝখানের বৈঠকে আত্তাহিয়্যাতুর পর কিছুই না পড়ে ৷ এবং দাড়িয়ে জোহরের ফরজের মত চার নামায শেষ করে তাহলেও নামায সহিহ হয়ে যাবে ৷ তবে অনুত্তম হবে ৷
-রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৬; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১১৩ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫৫
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে করনীয় ৷

প্রশ্ন
ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে কখনো সূরা নাস পড়ে
ফেললে দ্বিতীয় রাকাতে আমার করণীয় কী?
উত্তর
প্রথম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে দ্বিতীয় রাকাতেও সূরা নাস পাঠ করবে । তবে ইচ্ছাকৃত ফরযের উভয় রাকাতে একই সূরা পাঠ করা অনুত্তম। অবশ্য এ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় না।
-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৪০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫০
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে ভুলে তাশাহহুদের স্থলে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেললে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি আজ মাগরীবের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের জায়গায় ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়ে
ফেলি। পরে মনে হলে তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ পড়ে নামায শেষ করে। সাহু সেজদা দেয়নি ৷ জানতে চাই, আমার নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি পুনরায় পড়তে
হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে তাশাহহুদের স্থলে সূরা ফাতেহা পড়ার কারণে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। যেহেতু আপনি সাহু সেজদা দেননি, তাই নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।
-ফাতহুল কাদীর ১/৩০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; আলবাহরুর রায়েক: ১/২৯৬; শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৯৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৮৪০
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নাবালেগ ছেলের আযান, ইকামতের বিধান ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমাদের মসজিদে মাদরাসার ছাত্ররা সবসময় আযান দেয় ৷ ১৩ বছরের একটি ছেলে আছে ৷ সেও প্রায় সময় আযান দেয় ৷ কয়েকজন লোক বলল, সে বালেগ হয় নি বিধায় তার আযান নাকি হবে না ৷ সে আযান দিলে পুনরায় আযান দিতে হবে ৷ তাই আপনার নিকট এ বিষয়ে সঠিক সমাধান চাই ৷
উত্তর
আযান ইকামত সহিহ হওয়ার জন্য আযানদাতার বালেগ হওয়া শর্ত নয় ৷ সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ১৩ বছরের ছেলেটি বুঝমান হলে বিশেষ করে পাক-নাপাক সম্বন্ধে জ্ঞান রাখলে আযান, ইকামত সহিহ হবে ৷ উক্ত আযান পুনরায় দিতে হবে না ৷
উল্লেখ্য যে, নাবালেগের আযান সহিহ হলেও বালেগ পুরুষ দ্বারা আযান , ইকামত দেয়া উত্তম ৷
-ফতাওয়ায়ে শামী ২/৬০; তাতারখানিয়া ১/৫২০;
হিন্দিয়া ১/৩৪; ফতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৯/১৫৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২৬
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

চড়ূই পাখির বিষ্ঠা পাক না নাপাক?

প্রশ্ন
আমি রাস্তা দিয়ে হাটার সময় চড়ূই পাখির বিষ্ঠা আমার শরীরের উপর এসে পড়ে। ফলে পাঞ্জাবি নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমি টিস্যু দিয়ে তা মুছে নামায আদায় করে নিই। তাই জানার বিষয় হল, চড়ূই পাখির বিষ্ঠা পাক নাকি নাপাক? এবং আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?
উত্তর
চড়ূই পাখির বিষ্ঠা পাক। তাই তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয় না। অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার উক্ত পাঞ্জাবি নিয়ে নামায আদায় করা
সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়তে হবে না ৷ ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৬৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২৫
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

দাড়িয়ে নামায পড়া কষ্টকর হলে নামাযের ভিতরে বসে যাওয়া ৷

প্রশ্ন
আমার দাদা বার্ধক্যের দরুন শরীর দুর্বল হয়ে গেছে । সবসময় দাড়িয়ে নামায পড়তে পারে না ৷ কখনো বসে কখনো দাড়িয়ে নামায আদায় করে ৷ মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে নামায শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর দুর্বলতা বোধ করায় অর্ধেক নামায বসে আদায় করে। জানার বিষয় হলো, এভাবে নামায পড়লে আমার দাদার নামায আদায় হয় কি না?
উত্তর
দাঁড়িয়ে নামায পড়া অধিক কষ্টকর হলে বসে নামায পড়া জায়েয। এবং নামাযের মাঝে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে গেলেও অবশিষ্ট নামায বসে আদায় করা জায়েয। অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার দাদা দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকি নামায বসে পড়ার কারণে
নামাযের কোনো ক্ষতি হয়নি। নামায সহীহ হয় যাবে ৷
-সহীহ বুখারী ১/১৫০; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬; মাবসূত, সারাখসী ১/২১৮৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৬
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সুরা ফাতেহার পর তিন তসবীহ পরিমান চুপ থাকা৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব, আমি জোহরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর চুপ থেকে ভাবতে লাগলাম যে, কোন সূরা পড়ব। ভাবতে গিয়ে প্রায় তিন তাসবীহ পরিমাণ
সময়ের বেশি সময় কেটে গেল। জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? সাহু সিজদা না দিলে নামায হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সূরতে যেহেতু আপনি সুরা ফাতেহার পর তিন তাসবীহ পরিমাণ চুপ থেকেছেন, তাই আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। অতএব যদি আপনি সাহু সিজদা না দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার উক্ত নামায হয়নি ৷ তাই পুনরায় পড়তে হবে।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৩ খুলাসাতুল ফাতাওয়া
১/১৭৩; আলমগীরী ১/১৩১৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৫
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

এক-ই নামাযে একাধিক ওয়াজিব ছুটলে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি গতকাল বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলে বৈঠক করিনি। আবার তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনূতও পড়তে ভুলে যায় এবং শেষে সাহু সিজদা করেছি ৷ জানার বিষয় হলো, আমার বিতর নামায সহীহ হয়েছে কি না? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার বিতর নামায সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়তে হবে না। কারণ ভুলে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও সবগুলোর জন্য একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট হয় । এক নামাযে একাধিক সাহু সিজদা দেওয়ার বিধান নেই।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০;আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১২
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরজ নামাযের একই রাকাতে একাধিক সূরা পড়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি গতকাল ফজর নামাযে এক রাকাতে সূরা হুমাযাহ ও সূরা ফীল পড়েছি এবং মাঝে বিসমিল্লাহও পড়েছি। জানার বিষয় হলো, এভাবে ফরজ নামাযের একই রাকাতে একাধিক সূরা পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি না? এবং আমার নামায হয়েছে কি না?
উত্তর
ফরজ নামাযের একই রাকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক সূরা পড়া অনুত্তম ৷ তবে এভাবে একই রাকাতে পর পর দুই বা ততোধিক সূরা পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হয় না ৷ অতএব আপনার নামায হয়ে গেছে ৷
-রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬ ; আননাহরুল ফায়েক ১/২৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১১
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

খুতবা ছাড়া জুমার নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আজ আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব জুমার নামাযের সময় খুতবার বই খুজে কোথাও না পেয়ে খুতবা পড়া ছাড়াই জুমার নামায পড়িয়েছেন। তাই জানার বিষয় হলো,আমাদের আজকের জুমার নামায আদায় হয়েছে কি না ? না হইলে করনীয় কি?
উত্তর
খুতবা জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত। তাই খুতবা ছাড়া জুমার নামায আদায় হয় না। অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনাদের জুমার নামায আদায় হয়নি। তাই আপনাদের করনীয় হলো, উক্ত দিনের যোহরের নামায কাযা করে নিতে হবে।
- ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৯ মাজমাউল আনহুর ১/২৫৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৮০৯
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অস্থায়ী বাসস্থানে পনের দিনের কম থাকার নিয়তে আসলে, নামায পুর্ন পড়বে নাকি কসর পড়বে?

প্রশ্ন
আমার বাড়ি ব্রাক্ষণবাড়িয়া। আব্বা আম্মা সহ সকলেই সেখানে থাকে। আমি ঢাকায় আবাসিক থেকে মাদরাসায় পড়ি। যেহেতু ঢাকায় পনেরো দিনের বেশি থাকা হয় তাই ‘ওয়াতনে ইকামত’ হিসাবে পূর্ণ নামায পড়ি। কিছু দিন আগে বাড়ি যাওয়া হয় । বাড়ি থেকে আম্মাকে ঢাকায় এক হাসপাতালে নিয়ে যাই ৷ হাসপাতল থেকে পুনরায় বাড়ি ফিরে যাই৷ মাদরাসায় যাওয়া হয় নি৷ জানার বিষয় হল, বাড়িতে যাওয়ার
কারণে ঢাকার ওয়াতনে ইকামত বাতিল হয়ে যায় কি না? আর এমতাবস্থায় পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসা হলে নামায কসর করব নাকি পুরো পড়বো?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত ক্ষেত্রে আপনি বাড়িতে যাওয়ার কারণে ঢাকার ‘ওয়াতনে ইকামত’ বাতিল হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা পরিপূর্ণ ত্যাগ করার নিয়তে বেডিংপত্র নিয়ে যাওয়া না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াতনে ইকামত হিসেবে বহাল থাকবে। আর ঢাকা যেহেতু ওয়াতনে ইকামত হিসাবে বহাল থাকছে তাই এখানে পনেরো দিনের কম থাকার উদ্দেশ্যে আসা হলেও পুরো নামায পড়তে হবে। কসর করা যাবে না। অতএব আপনি কয়েকদিনের জন্য হাসপাতাসে আসার কারনে পুর্ন নামায পড়বেন ৷
-বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৩৬; মাজমাউল আনহুর ১/২৪৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০৭
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ওয়াক্ত আসার পুর্বের আযান দিয়ে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
আমি একদিন মাগরীবের নামাযের সময় হয়েছে ভেবে আযান দিয়ে দেই। তখন বুঝতে পারি নি। আযানের পর বুঝতে পারলাম যে, ওয়াক্তের আগে আযান হয়েছে৷ কিন্তু দ্বিতীয়বার আর আযান দেয়া হয়নি ৷ এরপর আমরা মাগরীবের ওয়াক্তের মধ্যে ঐ আযান দ্বারা নামায আদায় করি। আমাদের নামায সহীহ হয়েছে কি না?
উত্তর
ওয়াক্তের পূর্বে আযান দিলে আযান সহীহ হয় না। অতএব প্রশ্নের বর্নিত সুরতে আপনার আযান হয়নি। মাগরীবের ওয়াক্ত হওয়ার পর আবার আযান দেওয়া
উচিত ছিল। আযান না দেওয়ার কারণে মাকরূহ হয়েছে। তবে ওয়াক্ত আসার পর আযান ছাড়া নামায পড়লে নামায আদায় হয়ে যায়৷ অতএব আপনাদের ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে।
- মাবসূত সারাখসী ১/১৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৮১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৮৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০৩
তারিখ: ১৪/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ওযরের কারনে শুধু নাকের উপর সেজদা করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আমি কিছুদিন আগে মটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে কপালে খুব আঘাত পেয়েছি, কপালের উপর সিজদা করতে পারি না। তাই নাকের উপর সিজদা করি ৷ জানতে চাই, ঐ আমি কি নাকের উপর সিজদা করার কারণে আমার নামায হবে কি না?
উত্তর
সিজদায় কপাল এবং নাক রাখা জরুরি। কোন কারণে সিজদায় কপাল জমিনে রাখা সম্ভব না হলে শুধু নাক দ্বারা সিজদা করা জায়েয। অতএব আপনি যেহেতু সেজদায় কপাল রাখতে সক্ষম নয় তাই আপনার জন্য শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয হবে এবং নাকের উপর সেজদা করলে নামায সহীহ হবে ।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩৫; আলমাবসূত সারাখসী ১/২১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০০
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অশুদ্ধ তিলাওয়াতকারীর পিছনে নামাযের ইক্তিদা করা৷ 

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদের আগের ইমাম সাহেব চলে যাওয়ার পর এমন একজন ইমাম আনছে যার কুরআন
তেলয়াত খুব অশুদ্ধ ৷ তাই জানতে চাই, এই ইমামের পিছনে নামায হবে কি? যদি না হয় তাহলে আমি কি জামাত বাদ দিয়ে একা বাড়িতে নামায পড়ব ? আমাদের বাড়ির পাশে কোন মসজিদ নাই ৷ অনেক দূরে আছে ৷
উত্তর
কুরআনে কারীম শুদ্ধ করে পড়তে পারে এমন ব্যক্তি অশুদ্ধ তিলাওয়াত কারী ইমামের পিছনে নামায পড়লে তার নামায হয় না। অতএব যদি আপনাদের মসজিদের ইমামের তিলাওয়াত অশুদ্ধ ও আপনার তিলাওয়াত শুদ্ধ হয় তাহলে উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়লে আপনার নামায হবে না ৷ নামায আবার দোহরিয়ে পড়তে হবে।
উল্লেখ্য যে, আপনাদের উচিত উক্ত ইমামকে পরিবর্তন করে শুদ্ধ তিলাওয়াতকারী কোন ইমামকে রাখা, অথবা উক্ত ইমামকে তিলাওয়াত শুদ্ধ করে আসার তাগিদ দেয়া। যদি তা সম্ভব না হয়, আপনি আশপাশের অন্য কোন মসজিদে জামাতে নামায আদায় করবেন ৷ তাও সম্ভব না হলে জামাতের সওয়াব পেতে উক্ত ইমামের ইক্তিদা করার পর, আবার নামাযটি দোহরিয়ে নিবেন।
-আল হিদায়া-১/১৩০; বাদায়েউস সানায়ে-১/৩৫২;
আলবাহরুর রায়েক-১/৬৩০-৬৩১ ফাতাওয়া শামী- ২/৩২৪ ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৪৩-১৪৪ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৯৫
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

শরীয়তে উমরী কাযা আদায় করার বিধান ৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় কিছু লোক বলে উমরি কাযা বলতে কিছু নেই৷ এগুলো ভিত্তিহীন ৷ তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা অতীত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। অতীতের নামাযের গুনাহও মাফ করে দেন৷ উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ বেশি বেশি করে পড়া উচিত। কারণ সহীহ হাদীসে আছে, ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূরণ করা হবে।- আবু দাউদ’৷
মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান জানতে চাই।
উত্তর
ইসলামে ঈমানের পরই নামাযের স্থান এবং তা ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও নিদর্শন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরয। কখনো কোনো ওয়াক্তের ফরয নামায ছুটে গেলে কিংবা দীর্ঘকাল অবহেলাবশত নামায না পড়লে পরবর্তীতে এর কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়টি সহীহ হাদীস,
আছার ও ইজমায় দ্বারা প্রমাণিত। হাদীস শরীফে এসেছে-
ﻣﻦ ﻧﺴﻲ ﺻﻼﺓ ﺃﻭ ﻧﺎﻡ ﻋﻨﻬﺎ ﻓﻜﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﺃﻥ ﻳﺼﻠﻴﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺫﻛﺮﻫﺎ
যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে তার কাফফারা হল, যখন নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা।
সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৭৬
উক্ত হাদীসে ﻧﺴﻲ শব্দটি লক্ষ্যণীয়। আরবী ভাষায় এটি যেমনিভাবে ‘ভুলে যাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় তদ্রূপ কোনো কাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়ার অর্থেও
ব্যবহৃত হয়।
অতএব কাযা আদায়ের বিধানটি শুধু ঘুম ও বিস্মৃতি এই দুই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। বরং অবহেলাবশত ছেড়ে দিলেও কাযা জরুরি।
অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি নামায রেখে ঘুমিয়ে গেছে বা নামায থেকে গাফেল রয়েছে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর কাফফারা হল যখন তার নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করে নেওয়া।
সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬১৪
অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে বা নামায থেকে গাফেল থাকে তাহলে যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
করেছেন, আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬৮৪, ৩১৬৷
এসব হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নামায সময়মতো আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা
অপরিহার্য। নামাযটি ভুলক্রমে কাযা হোক, নিদ্রার কারণে হোক অথবা গাফলতি বা অবহেলার কারণে হোক- সর্বাবস্থায় কাযা আদায় করতে হবে।
এ বিষয়ে ইজমায়ে উম্মত একটি গুরুত্বপুর্ন দলিল। চার মাযহাবে চার ইমামসহ প্রায় সকল মুজতাহিদ এ বিষয়ে একমত যে, ফরয নামায নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে না পারলে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া কিংবা ওজরবশত ছেড়ে দেওয়া উভয় ক্ষেত্রের একই বিধান।
-আল ইসতিযকার ১/৩০২
কুয়েতের ইসলামী বিষয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইফতা বোর্ডের সম্মিলিত ফাতাওয়াও এটিই।
মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া আশশারইয়্যাহ ১/২০৪
সুতরাং উমরী কাযা ভিত্তিহীন, কাযা আদায় না করে শুধু তাওবাই যথেষ্ট এসব কথা মোটেও সহীহ নয়, সম্পুর্ন ভিত্তিহীন মনগড়া । একথাও সহীহ নয় যে, উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। বরং নফল নামাযের চেয়ে উমরী কাযা পড়া উত্তম ৷
তাদের স্বপক্ষে যে দলীল পেশ করা হয়েছে তাও ঠিক নয়। কারণ সুনানে আবু দাউদের হাদীসটির মূল হল-
ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﻣﺎ ﻳﺤﺎﺳﺐ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻣﻦ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﻢ
ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻗﺎﻝ ﻳﻘﻮﻝ ﺭﺑﻨﺎ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻤﻼﺋﻜﺘﻪ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻠﻢ ﺍﻧﻈﺮﻭﻫﺎ
ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﻋﺒﺪﻱ ﺃﺗﻤﻬﺎ ﺃﻡ ﻧﻘﺼﻬﺎ؟ ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻧﺖ ﺗﺎﻣﺔ ﻛﺘﺒﺖ ﻟﻪ
ﺗﺎﻣﺔ ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻧﺘﻘﺺ ﻣﻨﻬﺎ ﺷﻴﺌﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﻈﺮﻭﺍ ﻫﻞ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻣﻦ
ﺗﻄﻮﻉ؟ ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺗﻄﻮﻉ ﻗﺎﻝ ﺃﺗﻤﻮﺍ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻓﺮﻳﻀﺔ ﻣﻦ
ﺗﻄﻮﻋﻪ
কেয়ামতের দিন মানুষের সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামায। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা আমার বান্দার ফরয নাময দেখো। সে পূর্ণরূপে তা আদায় করেছে, নাকি তা আদায়ে কোনো ত্রুটি করেছে? যদি পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে তবে তার জন্য পূর্ণ নামাযের ছওয়াব লেখা হবে। আর আদায়ে কোনো ত্রুটি করে থাকলে আল্লাহ
তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ, আমার বান্দার নফল নামায আছে কি না? যদি থাকে তবে এর দ্বারা তার ফরয নামায আদায়ে যে ত্রুটি হয়েছে তা পূর্ণ
করে দাও। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৬৪ ৷
উক্ত হাদীসে ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে’- যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ হয়েছে-এ কথা নেই; রবং এতে রয়েছে, আদায়কৃত নামাযে ত্রুটির বিষয়।
ফয়যুল কাদীর ৩/৮৭ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৪
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অজ্ঞাতসারে অতিক্রম করা ও এক্ষেত্রে নামাযীর করনীয় ৷

প্রশ্ন
গতকাল আমি অজ্ঞাতসারে এক নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে ফেলি ৷ নামাযী ব্যক্তিও কোন শব্দ করে নি ৷ শুনেছিলাম নামাযের সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে জোরে তাসবীহ পড়ে বা হাত দিয়ে ইশারা করে যেন নামাযী সতর্ক করে ৷ তাই জানার বিষয় হলো, যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে কোনো সুতরা না থাকে এবং এ অবস্থায় কেউ অজ্ঞাতসারে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে গুনাহ হবে কিনা? নামাযী ব্যক্তির এক্ষেত্রে করণীয় কী? সে কি তাকে বাঁধা দিবে, নাকি দিবে না? জানিয়ে উপকৃত করবেন ৷
উত্তর
নামাযি ব্যক্তির সামনে দিয়ে জেনে বুঝে অতিক্রম করা গুনাহের কাজ ৷ অজ্ঞাতসারে অতিক্রম করে ফেললে গুনাহ হবে না ৷ তবে নামাযী ব্যক্তি তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে হাতের ইশারা কিংবা তাসবীহ জোরে পড়ে সতর্ক করা জায়েয আছে। কোন সাওয়াবের কাজ নয় ৷ তাই নামাযীর জন্য এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই উত্তম । নামাযীর সামনে দিয়ে কারো অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে সামনে সুতরা রাখবে ৷ সুতরা রাখা সুন্নত।
সুনানে আবু দাউদ ১/১০১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮; ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৮৩
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

বিদয়াতী ইমামের পিছনে নামায পড়ার বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বিদায়াতী৷ যিনি নবীজিকে হাজির নাজির আলিমু গায়েব ইত্যাদি আকিদা পোষন কারী ৷ উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়ার হুকুম কি? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
বিদয়াতী দুই প্রকার। যথা:
২৷ এমন বিদয়তী যার আক্বিদা বিশ্বাস কুফর পর্যন্ত পৌঁছায়। যেমন-নবীজী সাঃ কে হাজির নাজির বিশ্বাস করা, আলিমুল গায়েব বিশ্বাস করা, ভাল-মন্দ ফায়সালা করার মালিক বিশ্বাস করা।
এমন বিদয়াতির পিছনে নামায পড়া জায়েজ নয়। ইক্তিদা করলেও নামায হবেনা। উক্ত নামায পুনরায় পড়া জরুরী ৷
২৷ এমন বেদয়াতি যার কাজকর্ম কবিরাহ গোনাহ পর্যন্ত
পৌঁছায়। যেমন এক মুষ্টির আগে দাড়ি কাটা, উরস করা, প্রচলিত মিলাদ কিয়াম করা, বেপর্দায় মেয়েদের পড়ানো, কবরে আজান দেয়া ইত্যাদি। তাহলে উক্ত ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা মাকরুহে তাহরিমী। পড়লে নামায হবে। কিন্তু নামায মাকরুহে তাহরিমী হবে। নামাযটি পুর্ন সহীহরুপে আদায়ার্থে পুনরায় পড়ে নেয়া চায়৷ এধরনের ব্যক্তির পিছনে নামায না পড়াই উত্তম হবে।
অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনাদের ইমামের পিছনে নামায সহিহ হবে না ৷ উক্ত ইমামকে তৌবা করে সঠিক পথে ফিরে না আসলে পরিবর্তন করা জরুরী ৷
-বাদায়েউস সানায়ে’-১/৩৮৭;ফাতওয়ায়ে শামী-২/২৯৯; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৮৪; আল বাহরুর রায়েক-১/৬১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৮২
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সেজদা অবস্থায় বাংলাতে দোয়া করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর একটি হাদীস পড়েছিলাম সিজদা অবস্থায় দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা অতি দ্রুত কবুল করেন৷ আমার জানার বিষয় হলো, সকল নামাযের সেজদায় কি দোয়া করা যাবে? এক আলেমের মুখে শুনেছি, নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় বাংলাতেও দোয়া করা জায়েয আছে। তার এ কথা কতটুকু সঠিক?
উত্তর
ফরজ নামাযে সিজদায় দোয়া না করা উত্তম ৷ নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কুরআন-হাদীসে বর্ণিত
দোয়াসমূহ পড়া যাবে। তবে নফল হোক কিংবা অন্য কোনো নামাযে অনারবী ভাষায় দুআ করা নিষিদ্ধ।
সুনানে আবু দাউদ ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২১; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর পৃ. ১/২২৯; মাহমুদিয়া ১২/৮৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৭৩
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা নিজ ঘরে একা নামায পড়াকালীন সতর ঢাকার বিধান ৷

প্রশ্ন
মহিলারা নিজ ঘরে একা নামায পড়লে যেখানে কোন পুরুষ প্রবেশের সম্ভাবনা নেই, মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুর্ন শরীর ঢেকে নামায পড়তে হবে? নাকি কিছু অঙ্গ খোলা রাখা যাবে ?
উত্তর
মহিলারা তাদের চেহারা, দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ও দুই পা গিরা পর্যন্ত ব্যতীত বাকি সম্পূর্ণ শরীর নামাযের পুর্ন সময় ঢেকে রাখা জরুরি। এটা তাদের নামাযের সতর ৷ তাই যদিও একা এমন ঘরে নামায পড়ে যেখানে কোন পুরুষ প্রবেশের সম্ভাবনা নেই তবু উক্ত সতর ফরজ ৷ উভয় পা খোলা রাখা জায়েয হলেও তা ঢেকে রাখাই উত্তম।
ইলাউস সুনান ২/১৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৬; মাজমাউল আনহুর ১/১২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৬৫
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আযানের সময় বাথরুমের জরুরত হলে করনীয়৷

প্রশ্ন
অনেক সময় এমন হয় যে আযান শুরু হয়েছে ঠিক ঐ সময় বাথরুমের জরুরত হয়৷ এবং পর পর সব মসজিদেই আযান শুরু হতে থাকে৷ এ অবস্থায় নামাযের প্রস্তুতি নিব এবং জরুরত সারব নাকি আযানের জবাব দিব ? সব মসজিদের আযানের জবাব দিয়ে এসব করতে গেলে জামাত না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উত্তর
আযানের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। যে কোনো মসজিদের আযানের জবাব দিলেই মুস্তাহাব আদায় হয়ে যায়। প্রত্যেক মসজিদের আযানের জবাব দিতে হবে না৷ তবে একই জায়গায় একাধিক মসজিদের আযান শুনা গেলে, প্রথম আযানের উত্তর দিবেন। পরবর্তী আযানগুলোর উত্তর দেওয়া লাগবে না। এমনকি সেটা নিজ মহল্লার মসজিদের আযান হলেও তার উত্তর দেওয়া লাগবে না। আর যদি সব কটি আযান এক সঙ্গে শুরু হয় তাহলে নিজ মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিবেন। ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন হলে আযানের জবাবের অপেক্ষা না করেও প্রয়োজন পুরা করতে পারবেন। আযানের জবাবের জন্য ইস্তিঞ্জায় যেতে বিলম্ব করার দরকার নেই।
- আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৫৩; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৯; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৬০
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে তাশাহুদের পরিবর্তে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলা৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমি গতকাল যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের জায়গায় ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি৷ পরে স্বরন হওয়ার পর পুনরায় তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ পড়ে সাহু সিজদা ছাড়া নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, আমার নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। যেহেতু তা করেন নি তাই নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।
শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৩০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫৫
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমামতির নিয়ত ব্যতিত মুক্তাদির নামাযের হুকুম৷

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি একাকী জোহরের ফরজ নামায পড়া শুরু করল, আরেক ব্যক্তি এসে তার পিছনে ইকতিদা করে তার সাথে নামায শেষ করে। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তি ইমামতির নিয়ত না করলে মুকতাদির নামায সহীহ হবে কি?
উত্তর
জ্বী, ইমামতির নিয়ত না করলেও মুক্তাদি ইমামের এক্তেদার নিয়ত করলেই মুকতাদীর নামায সহীহ হয়৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিত উক্ত মুক্তাকির নামায সহীহ হয়েছে৷ কারণ ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য ইমামতির নিয়ত জরুরি নয়।
-শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১২১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪২৪৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৩৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদে ইজতেমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করা৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল, মসজিদে বসে ইজতিমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম আছে কি না। তিনি বললেন, আছে। কিন্তু তার কথায় কিছুটা জটিলতা অনুভব হল। আমার জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদে বসে সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
একাকী যিকির করা বা কয়েকজন একত্রিত হয়ে উঁচু আওয়াজে যিকির করা উভয়টিই শরীয়তে অনুমোদিত। তা মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার প্রতি বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে থাকি। সে যদি একাকী আমার যিকির করে তাহলে আমি গোপনে তাকে স্মরণ করি। সে কোনো মজলিসে আমার যিকির করলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৪০৫৷ ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন, জামাতে যিকির করলে আওয়াজ তো হবেই।-আলহাবী লিলফাতাওয়া ২/১২৯৷ তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কয়েকটি শর্ত পূরণ করা অত্যাবশ্যক। যথা : ১. লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত
হওয়া।
২. কোনো ব্যক্তির নামাযে বা অন্য কোনো ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটানো। ৩. কোনো ব্যক্তির বিশ্রামে সমস্যা না
হওয়া।
৪. আওয়াজ স্বাভাবিক হওয়া, চিৎকার করে বা অতিরিক্ত উঁচু আওয়াজে না হওয়া এবং মাইক ব্যবহার না করা। ৫. সাধারণভাবে এবং সহীহ-শুদ্ধ করে যিকির করা। যিকিরের শব্দ উচ্চারণে লাহনে জলী থেকে বেঁচে থাকা। যদি উল্লেখিত শর্তাবলি পাওয়া যায় তবে ইজতিমায়ী যিকির করতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তসমূহ বা তা থেকে কোনো একটি শর্ত না পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কাজটি শরীয়তসম্মত হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমানে অনেক যিকিরের মজলিসে উল্লেখিত শর্তগুলোর অনেক কিছুই লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়, যা সংশোধনযোগ্য। -রদ্দুল মুহতার ১/৬৬০; সিবাহাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, আবদুল হাই লাখনৌভী পৃ. ৩৮; নতীজাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, (আলহাবী লিল ফাতাওয়া ২/১২৮) ইমাম সুয়ূতী; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/১৫১৷
ফতোয়া নং: ৪৭১৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আজানের আগে আস্সালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়ারাসূল্লাহ বলা৷

প্রশ্ন
আজানের আগে দরূদ যেমন আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ বা গজল ইত্যাদি বলা জায়েজ আছে কি?
উত্তর
আযানের অংশ মনে করে আযানের আগে দরূদ পড়া বা অন্য কোন জিকির করা বিদআত। যদিও দরূদ ও জিকির মৌলিকভাবে সওয়াব ও প্রশংসনীয় কাজ৷ আক্বিদা ঠিক রেখে এমনিতে কখনো কখনো করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু একে অভ্যাসে পরিণত করা বৈধ নয়। কারণ আযানের আগে দরূদ পড়া বা জিকির আজকার করা বা কোন ঘোষণা দেয়ার প্রমাণ সম্বলিত কোন হাদিস বা সাহাবায়ে কিরাম এবং সালাফে সালেহীন এর কোন আমল প্রমাণিত নয়। তাই একে অভ্যাসে পরিণত করে করাটা সুষ্পষ্ট বিদআত হবে৷ সুতরাং তা পরিত্যাজ্য। মানুষকে সজাগ সচেতন করার ইচ্ছে হলে আজানই যথেষ্ট। কারণ আযানই হল ই’লান বা ঘোষণা যে, নামাযের সময় হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে নতুন করে কিছু বাড়ানোরতো কোন দরকার নেই।
সহীহ বুখারি হাদীস নং ২৫৫০; আল ফাতওয়াল কুবরা আল ফিক্বহিয়্যাহ-১/১৩১; ফাতওয়ায়ে উসমানী-১/১১১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭০৩
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাজের প্রথম দুই রাকাতে একই সূরা পড়া৷

প্রশ্ন
জোহর বা আসরের ফরজ নামাজে যদি সূরা ফাতেহার সাথে দুই রাকাতে একই সূরা পড়া হয়,তাহলে কি সাহু সাজদা দিতে হবে? যদি সাহু সাজদা দিতে হয়
তাহলে নিয়ম কী?
উত্তর
ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাযের উভয় রাকাতে একই সূরা পড়া অনুত্তম৷ কারন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত এমনটি করতেন না। তবে একবারের ঘটনা হাদীস শরীফে এভাবে এসেছে, মুআয ইবনু আবব্দুল্লাহ আল- জুহানী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানান যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের নামাযের উভয় রাকাতে সূরা “ইজা যুলযিলাতিল আরধ” পড়তে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলবশত এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে৷
আবুদাঊদ হা/৮১৬
যার কারণে ফকীহগণ বলেন, ইচ্ছাকৃত ফরযের উভয় রাকাতে একই সূরা পাঠ করা অনুত্তম হলেও এ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় না।
ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৪০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৭২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আল্লাহ তাআলাকে খোদা বলা৷

প্রশ্ন
মুফতি সাহেব
আসসালামু আলাইকুম .
আমাদের দেশে কিছু লোক বলছেন
খোদা হাফেজ ব্যবহার না করে
আল্লাহ হাফেজ বলতে হবে৷ খোদা হাফেজ
বললে নাকি না জায়েজ হবে ৷
আপনার কাছ থেকে এর স্পষ্ট সমাধান
আশা করছি৷
উত্তর
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ৷ খোদা হাফেজ না বলে আল্লাহ হাফেজ বলাটা উত্তম। কিন্তু না জায়েজ বা বেদআত নয়। যারা খোদা বলাকে বেদআত
বা না জায়েজ বলেন, তাদের বক্তব্যটি বিশুদ্ধ নয়।
কারণ আল্লাহ তাআলাকে অন্য ভাষায় এমন শব্দে ডাকা জায়েজ, যে শব্দে আর কাউকে ডাকা হয় না। সেই সাথে এটা অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় কোন নাম নয়। আল ইয়াওয়াক্বীত ওয়াল জাওয়াহীর-৭৮, ফাতওয়া আলমগীরী-৬/৪৪৬৷ এ মূলনীতির আলোকে খোদা শব্দটি আল্লাহ তাআলার নাম হিসেবে বাংলা, উর্দু, হিন্দিতে অনুবাদ হিসেবে বলাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ খোদা শব্দটি
ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কোন ধর্মীয়
শব্দ নয়। সেই সাথে এর দ্বারা আমরা কেবল
আল্লাহকেই বুঝে থাকি। অন্য কোন সত্বাকে বুঝি না। পক্ষান্তরে বিষ্ণু অর্থ রব, এবং ব্রাহ্মণ অর্থ সৃষ্টিকর্তা হলেও এটা ইসলামি কোন শব্দ নয়। সেই
সাথে এ শব্দ দু’টি হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিক। তাই
এ শব্দে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে খোদা শব্দটি। এটা নিরেট ইসলামি শব্দ। এর দ্বারা অন্য কোন ধর্মকে বুঝায় না। বুঝায় না আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্বাকেও। তাই খোদা বলে আল্লাহকে বুঝাতে কোন সমস্যা নেই। প্রথম দলিল ও তার খন্ডন যারা খোদা বলা না জায়েজ বলে থাকেন তাদের দলিল
হল-আল্লাহ আরবী শব্দ, তাই একে বাংলা উর্দুতে অনুবাদ করে খোদা বলা জায়েজ হবে না। এর জবাব হল-যদি আরবী আল্লাহ শব্দকে অনুবাদ করে খোদা বলা না জায়েজ হয়, তাহলে আরবী সালাত
শব্দকে বাংলা উর্দু-ফার্সিতে নামায বলা কিভাবে জায়েজ? আরবী সওম শব্দকে বাংলা উর্দতে
রোযা বলা জায়েজ কিভাবে? যদি এসব জায়েজ হয়, তাহলে আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা বলাও জায়েজ। দ্বিতীয় দলিল ও তার খন্ডন তাদের আরেকটি দলিল হল-আল্লাহ শব্দের কোন বহুবচন নেই। নেই আল্লাহ সত্বারও কোন বহুবচন। অথচ খোদা শব্দটির
বহুবচন হল খোদাওন্দ। তাই খোদা বলার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বহুবচন সাব্যস্ত করা
হচ্ছে, তাই আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা শব্দ
দিয়ে করা জায়েজ নয়। এ যুক্তিটিও একটি অগ্রহণীয় যুক্তি। কারণ যদি তাই হয়, তাহলে রব শব্দ
দিয়ে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ হবে না। কারণ “রব” শব্দের বহুবচন “আরবাব” আছে।
আল্লাহ তাআলাকে রহীম শব্দেও ডাকা জায়েজ হবে না, কারণ রহীম শব্দের বহুবচন “রুহামা” আছে, তেমনি
আল্লাহ তাআলাকে ইলাহ ডাকাও জায়েজ হবে না, কারণ “ইলাহ” এর বহুবচন “আলিহাহ” আছে। এসব কথা বলা যেমন বোকামীসূলভ বক্তব্য হবে তেমনি খোদা শব্দের বহুবচন খোদাওয়ান্দ হওয়ায়, তা আল্লাহ শব্দের অনুবাদ হিসেবে হারাম হওয়ার ফাতওয়া দেয়াও বোকামী বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য সত্য
হিসেবে বুঝার, ও মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে বুঝার
তৌফিক দান করুন। আমীন। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা৷

প্রশ্ন
মসজিদে কি দুনিয়াবী কথা বলা হারাম?
উত্তর
মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। তাই দুনিয়াবী কথাবার্তার জন্য মসজিদে গমণ বৈধ নয়। কিন্তু যদি মসজিদে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করে, তারপর প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বলে, তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়, তাহলে জায়েজ আছে।
‎ﻭَﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺡ؛ُ ﻭَﻗَﻴَّﺪَﻩُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻈَّﻬِﻴﺮِﻳَّﺔِ ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
‎ﻟِﺄَﺟْﻠِﻪِ
‎ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﺍﻟﺸﺎﻣﻰ ﺭﺡ : ‏(ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
‎ﻟِﺄَﺟْﻠِﻪِ ‏) ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺣِﻴﻨَﺌِﺬٍ ﻟَﺎ ﻳُﺒَﺎﺡُ ﺑِﺎﻟِﺎﺗِّﻔَﺎﻕِ ﻟِﺄَﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﻣَﺎ
‎ﺑُﻨِﻲَ ﻟِﺄُﻣُﻮﺭِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ . ﻭَﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﺠَﻠَّﺎﺑِﻲ : ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺡُ
‎ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﺄَﻭْﻟَﻰ
‎ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﺘَﻐِﻞَ ﺑِﺬَﻛَﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ، ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ
‎ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﻳﻔﺴﺪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﻣﺎ ﻳﻜﺮﻩ ﻓﻴﻬﺎ، ﻓﺮﻭﻉ
‎ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ، ﻣﻄﻠﺐ : ﻓﻰ ﺍﻟﻐﺮﺱ ﻓﻰ ‎ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ - 2/436 হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
‎ﺇِﻥَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪَ ﻟَﺎ ﺗَﺼْﻠُﺢُ ﻟِﺸَﻲْﺀٍ ﻣِﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻮْﻝِ، ﻭَﻟَﺎ
‎ﺍﻟْﻘَﺬَﺭِ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫِﻲَ ﻟِﺬِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﻗِﺮَﺍﺀَﺓِ
‎ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ অর্থাৎ মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য। মুসলিম শরীফ হাদীস নং-২৮৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা না করা৷

প্রশ্ন
আমি একদিন মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাছ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফীল পড়েছি। আমার নামায সহীহ হয়েছে কি? না হলে কী করতে হবে?
উত্তর
আপনার নামায সহীহ হয়েছে। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করা অনুত্তম। অবশ্য ভুলবশত হলে ক্ষতি নেই। -শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৯৪; ফাতহুল কাদীর
১/২৯৯;ইলাউস সুনান ৪/১৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬-৫৪৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৪৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে রফউল ইয়াদাইন৷

প্রশ্ন
বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় কিছু মানুষ রুকতে যাওয়ার সময় উঠার সময় সেজদায় যাওয়ার সময় হাত উঠায়৷ একজন কে জিঙ্গেস করলে তিনি বলে সহীহ হাদিসে আছে৷ হাত না উঠালে নাকি নামায হবে না৷ জানার বিষয় হলো, তার কথা কি সঠিক? নামাযে এভাবে হাত উঠাতে হবে? না উঠালে কি নামায হবে না? স্ববিস্তারে সহীহ হাদীসের আলোকে জানাবেন৷
উত্তর
রুকু সেজদার সময় হাত উঠানোর হাদীস আছে৷ কিন্তু তা ছিল ইসলামের শুরু যুগে৷ পরবর্তিতে তা রহিত হয়ে গেছে৷ তাই তাকবীরে তাহরিমা ব্যতিত অন্যত্রে হাত উঠাতে হবে না৷ অতএব হাত না উঠালে নামায হবে না, এমন কথা বলা কিছুতেই সঠিক নয়৷ অসংখ্য সাহাবা তাবেয়ী থেকে বর্নিত আছে রাসুল সাঃ শেষ জামানায় রফয়ে ইয়াদাইন করতে না৷ সাহাবা তাবেয়ীদের আমলও এমনি ছিল৷ যেমন:
হাত না ওঠানোর রেওয়াআত সমুহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ রেওয়াআত হচ্ছে আলকামা রহঃ এর সুত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা এর হাদিসটি। হাদিসটি নিন্মরুপঃ
‎ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ﺃَﻻَ ﺃُﺻَﻠِّﻰ ﺑِﻜُﻢْ ﺻَﻼَﺓَ
‎ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺮْﻓَﻊْ
‎ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻻَّ ﻣَﺮَّﺓ ً ‏( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ
‎ﻳَﺬْﻛُﺮِ ﺍﻟﺮَّﻓْﻊَ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 748- )
১। “হযরত আলকামা রহঃ বলেন, হযরত ইবনে মাসুদ রা বলেছেন আমি তোমাদেরকে রাসুল সা এর নামাজ পরে দেখাব কি? একথা বলে তিনি নামাজ পরলেন এবং তাকবিরে তাহরিমা বেতিত কোথাও রফুল ইয়াদাইন করেননি। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৪৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৫৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৩০৪, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৬৪৫,১০২৯(ইফাবা),
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৩৬৩, মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস নং-৩৬৮১} ইমাম তিরমিযি রহঃ বলেছেন হাদিসটি হাসান। হাফিয ইবনে হাযার রহঃ একে সহিহ বলেছেন।
দারে কুতনি,ইবনে কাত্তান রহঃ হাদিস্তিকে সহিহ
বলেছেন। (দারে কুতনি) আর গায়রে মুকাল্লেদ্দের ইমাম ইবনে হাযম রহঃ এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন।(আলমুহাল্লা খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৮৮)
২।
‎ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺒَﺮَﺍﺀِ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ
‎ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺭَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻣِﻦْ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻻَ ﻳَﻌُﻮﺩُ
‎‏( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮِ ﺍﻟﺮَّﻓْﻊَ ﻋِﻨْﺪَ
‎ﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 750- ) হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) বলেন- রসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) যখন নামাজ
আরম্ভ করতেন তখন তার হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয় পর্যন্ত উত্তোলন করতেন । অতঃপর আর তা করতেন না । [ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৫০, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-১৬৮৯, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫৫ ] এই হাদিসের ব্যাপারে বলা হয় যে, হাদিসটিকে দাউদ রহঃ সহিহ নয় বলেছেন।
এর জবাব হল দাউদ রহঃ এই হাদিসটিকে তিনটি সুত্রে
বর্ণনা করেছেন। প্রথম দুটি সুত্রে হাদিসটি
নির্ভর করে ইয়াযিদ ইবনে আবু যিয়াদের উপর।
আরেকটি সুত্রে এটি নির্ভরশীল আব্দুর রহমান
ইবনে আবু লায়লার উপর। ইমাম আবু দাউদ প্রথম
দুই সুত্রের হাদিস সম্বন্ধে নিরব ছিলেন শুধুমাত্র
যেটি আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়ালা থেকে বর্ণিত সেটিকে সহিহ নয় বলেছেন কেননা
তিনি দুর্বল।সুতরাং প্রথম দুই সুত্র অনুযায়ী হাদিসটি
সহিহ।(দরসে তিরমিযি ২/৪২)
আবার মুল পাণ্ডুলিপিতে আবু দাউদ এর এই উক্তি
নেই। শুধুমাত্র মুজতবায়ি নোসখায় এই
মন্তব্বের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে
সন্দেহ থেকেই যায় যে এটি দাউদ রহঃ এর উক্তি কিনা।(ইযাহুল মুসলিম ২/১২৪)
৩। ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗﺮﻓﻊ
‎ﺍﻻﻳﺪﻯ ﻓﻰ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﻃﻦ، ﺍﻓﺘﺘﺎﺡ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻭﺍﺳﺘﻘﺒﺎﻝ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻭ
‎ﺍﻟﺼﻔﺎ ﻭﺍﻟﻤﺮﻭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻮﻗﻔﻴﻦ ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﺤﺠﺮ، ‏(ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ
‎ﺷﻴﺒﺔ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2465- )
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ
বলেছেন-সাতটি জায়গায় হাত তুলতে হবে, ১- নামাযের শুরুতে। ২-কাবা শরীফের সামনে আসলে। ৩-সাফা পাহাড়ে উঠলে। ৪-মারওয়া
পাহাড়ে উঠলে। ৫-আরাফায়। ৬-মুযাদালিফায়। ৭-
হাজরে আসওয়াদের সামনে। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৬৫, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-১২০৭২,মাযমাউয জাওয়াএদ ২/১০৩,সুনানে বায়হাকী-৫/৭২-৭৩}
ইমাম তাবরানি মারফু সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা
করেছেন ইমাম নাসায়ি থেকে। ইমাম নাসায়ি থেকে প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি কোন অগ্রহনযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেন না, না কোন অনিরভরযোগ্য রাবি থেকে তা বর্ণনা করেন। সুতরাং হাদিসটি গ্রহন যোগ্য।
৪। হাফিয ইবনে হাযার আস্কালানি রহঃ ‘আদ দিরায়া ফি
তাখরিযি আহাদিসিল হিদায়া’ তে হযরত আব্বাদ ইবনে
যুবায়ের রহঃ এর মারফু রেওয়াআত বর্ণনা করেন,
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওআ সাল্লাম যখন
নামাজ শুরু করতেন তখন নামাজের শুরুতে
হস্তদয় উঠাতেন।অতঃপর নামাজ শেষ করা পর্যন্ত
আর হস্তদয় উত্তলন করতেন না।‘ শাহ সাহেব রহঃ বলেছেন এর সমস্ত রাবি
নির্ভরযোগ্য।কিন্তু যুবায়ের রহঃ তাবীঈ। হাদিসটি
মুরসাল। মুরসাল হাদিস আমাদের ও জুমহুরের মতে প্রমান।
৫। ﻗﺎﻝ ﺃﺧﺒﺮﻧﻲ ﺳﺎﻟﻢ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ : ﺭﺃﻳﺖ
‎ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺃﻓﺘﺘﺢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺭﻓﻊ
‎ﻳﺪﻳﻪ ﺣﺬﻭ ﻣﻨﻜﺒﻴﻪ ﻭﺇﺫﺍ ﺃﺭﺍﺩ ﺃﻥ ﻳﺮﻛﻊ ﻭﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﻳﺮﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ
‎ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻓﻼ ﻳﺮﻓﻊ ﻭﻻ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﺠﺪﺗﻴﻦ ‏(ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪﻯ،
‎ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﺭﻗﻢ
‎ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 614- )
অনুবাদ-হযরত সালেম বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা
থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে দেখেখি, তিনি যখন নামায শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতে চাইতেন এবং রুকু থেকে উঠতেন, তখন হাত উঠাতেন না। দুই সেজদার মাঝেও না। {মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৬১৪} ৬।আসওয়াদ রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি হযরত ওমর রাঃ-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।রাবি জুবাইর ইবনে
আদি রহঃ বলেনঃ এবং আমি ইব্রাহিম রহঃ এবং শাবি রহঃ
কেও অনুরুপ করতে দেকেছি। ’ (তাহাবী: ১/১৬৪), ( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯ [ইফাবা])
তাহাবি রহঃ বলেনঃ এটা সহিহ হাদিস। যেহেতু এর
ভিত্তি হাসান ইবনে আইয়াশ রহঃ এর উপর এবং তিনি
নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য ও হুজ্জত রাবি।ইয়াহইয়া
ইবনে মইন রহঃ তাকে নিরভরযজ্ঞ বলেছেন। (তাহাবী: ১/১৬৪),( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯
[ইফাবা])
আল্লামা যায়লায়ী রহঃ এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী। ৭। হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না। (সুনানে
বায়হাকী : ২/৮০, তাহাবি ১/৪২৬ হাদিস নং ১২৫৯,৬০)
আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের। (নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩ এছাড়াও, ইবনে ইসহাক রহঃ বলেনঃ ‘ইবনে মাসউদ রা এবং হযরত আলী রা এর শিস্যগন কেবল তাকবিরে তাহরিমা বেতিত হাত উত্তলন করতেন না’। আবি শাইবা এর সনদ সহিহ বলেছেন। (মুসান্নাফে আবি শাইবা) ৮।আসওয়াদ রহ. বলেছেন- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না। (জামউল মাসানীদ)
৯।ইব্রাহিম রহঃ বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা
সালাতের শুরু বেতিত কোথাও হাত তুলতেন না। (তাহাবি ১/৪২৯ হাদিস নং ১২৬৮) ৯।মুজাহিদ রহ. বলেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায
পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময়
রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। (তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা. তাহক্বীআল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, এ বর্ণনার সনদ সহীহ (আল-জাওহারুন নাকী)
যারা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা এর হাদিস দ্বারা দলিল
পেশ করেন,তাদের সেই হাদিস এর পরিপন্থী আমল তিনি নিজেই করেছেন, এটা শুধু তখনই
সম্ভব যখন তার কাছে রফুল ইয়াদাইন রহিত প্রমানিত
হয়।
ইবনে উমার রা থেকে রফুল ইয়াদাইন বিষয়ে যেসব হাদিস আছে তা অস্পষ্ট।কেননা তার থেকে বিভিন্ন রেওয়ায়াত পাওয়া যায়।
বায়হাকি রহঃ খিলাফিয়াতে মালিক রহঃ এর সুত্রে বর্ণনা
করেন,ইবনে উমার রা বলেন, রাসুল সা প্রথম
তাকবির বেতিত রফুল ইয়াদাইন করতেন না।(নসবুর
রায়াহ ১/২১০)
এছাড়া ইমাম মালিক রহঃ আলমুদানাওয়াতুল কুবরা
গ্রন্থে ইবনে উমার রা থেকে মারফু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে রফুল ইয়াদাইনের কথা নেই।
এছারা সহিহ বুখারি ১/১০২ এ চার স্থানে ইবনে উমার
রা থেকে ,উভয় সিজদার মাঝখানেও(আবু দাউদ
১/১০৮ সুনানে নাসায়ি ১/১৭২০, সিজদায় যাওয়ার সময়,
( নাসায়ি ১/১৬৫),প্রতিবার উচু নিচু হয়ার ক্ষেত্রে
(ইবনে মাজাহ) রফুল ইয়াদাইন এর বিবরন পাওয়া যায়।
ইমামগন জথা শাফি রহঃ তিন স্থানে গ্রহন করেছেন, অর্থাৎ তিনি রহিতের দিকেই গেছেন, কেননা সিজদা সিজদায় যাওয়ার সময়, ও
সিজদা থেকে ওঠার সময় রফুল ইয়াদাইন তিনি রহিত
মনে করেন। গভির ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় আস্তে আস্তে নামাজ প্রশান্তির ও স্থিরতার দিকেই গেছে। প্রথমে নামজে কথা বলা জায়েজ ছিল পরবর্তীতে রহিত,এদিক অদিক তাকান জায়েজ ছিল তাও রহিত হয়ে যায়, এভাবে প্রথম দিকে
প্রচুর পরিমান রফুল ইয়াদাইন জায়েজ ছিল তারপর তা
হ্রাস করা হয় এবং পাচ স্থানে তা বিধিবদ্ধ হয়ে যায়,
তারপর চার, তারপর শুধু তাকবিরের সময় তা অবশিষ্ট
থেকে যায়। এর উদ্দেশ্য নামাযে স্থিরতা ও ধিরতা আনয়ন। কেননা কুরআন বলছেঃ ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ধিরস্থিরভাবে নামাযে দাড়াও’ ১০।ইবরাহীম নাখায়ী রহঃ বলেন-
নামাযের শুরু রাফয়ে ইয়াদাইন করার পর অন্য
কোথায় রাফয়ে ইয়াদাইন করো না (জামিউস মাসানীদ : ১/৩৫৩)
১১।মুগিরা রহঃ বলেনঃআমি একবার ইব্রাহিম রহঃ কে
অয়ায়িল রা এর হাদিস সম্পর্কে বললাম তিনি নবি করিম
সা কে দেখেছেন তিনি সালাতের শুরুতে এবং
রুকুর সময় এবং রুকু থেকে মাথা উথাবার সময় হাত
তুলতেন। ইব্রাহিম রহঃ বল্লেন,অয়ায়িল রা তাকে
একবার এরূপ করতে দেখে থাকেন তাহলে
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা তাকে পঞ্চাশ বার এরূপ
না করতে দেখেছেন।(তাহাবি ১/৪২৫ ইফাবা) এখানে অয়ায়িল ইবনে হুযর রা এর হাদিসের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ব্যাপারে অনেকে বলেন,তাহলে
বুখারি রহঃ কি ভুল বলল। তিনি তো রফুল ইয়াদাইন
নিয়ে একটি বইই লিখল।
এর উত্তরে বলা হবে,তিনি মুহাদ্দিস ছিলেন,মুফতি
বা ফকিহ নন।ইমাম আবু হাফস কাবির রহঃ তাকে ইজতিহাদ করতে নিষেধ করেছিলেন,কিন্তু তিনি ফতোয়া দিলেন, যে শিশুর দুধপান কালিন সময়ে সে যদি কোন বকরির দুধ পান করে তাহলে দুধ সম্পর্ক স্থাপন হয়ে যাবে। এতে করে বুখারার আলেমরা তার উপর অসন্তুষ্ট হন।এ ব্যাপারে
দেখুন ফাতহুল কাদিরঃ ৩/৩২০ –কিতাবুর রিযা তারিখুল
খামিস ২/৩৮২ আল্লামা ইবনে হাযার মক্কি শাফী রহ আল
খাইরাতুন হিসানে ৭০ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ ইমাম বুখারি রহ
আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস ছিলেন , কিন্তু ফিকহের
ব্যাপারে তিনি অবশ্যই দুর্বল ছিলেন। বস্তুত
প্রতিটি শাস্ত্রের জন্যই আলাদা আলাদা মনিষী
ছিলেন।
তাই তিনি ফিকহের ক্ষেত্রে অনুসরনযোগ্য
নন।
এছারাও তিনি শাফি মাজহাবের ছিলেন।[দ্রষ্টব্য-
তাবাক্বাতে শাফেয়ীয়্যাহ-৩/২, আল হিত্তাহ-১২১,আল ইনসাফ=৬৭,,আবজাদুল উলুম—
৮১০ }
শাফি মাঝহাবে যেহেতু রফুল ইয়াদাইন রয়েছে সেহেতু তিনি এর পক্ষে বাহাস করতেই
পারেন।
রফউল ইয়াদাইন নিয়ে সাহাবিদের যুগ থেকেই
মতপার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু এই ইখতিলাফ ছিল
ইখতিলাফে মুবাহ। অর্থাৎ রফউল ইয়াদাইন নিয়ে
ইখতিলাফ জায়েজ নাজায়েজ নিয়ে নয় বরং উত্তম অনুত্তম নিয়ে। ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. জোরে আমিন বলার প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ইখতিলাফে মুবাহর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কোনো পক্ষেরই
নিন্দা করা যায় না। যে কাজটি করছে তারও না, যে
করছে না তারও না। এটা নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন
করা ও না-করার মতোই বিষয়।’
‎ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻦ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﺍﻟﺬﻱ ﻻ ﻳﻌﻨﻒ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﻓﻌﻠﻪ ﻭﻻ
‎ﻣﻦ ﺗﺮﻛﻪ ﻭﻫﺬﺍ ﻛﺮﻓﻊ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺗﺮﻛﻪ
(যাদুল মাআদ ১/৭০, মিসর ১৩৬৯ হি., কুনূত প্রসঙ্গ)
বক্তব্বের শেষে তিনি বললেন যে, রফউল ইয়াদাইন যেমন ইখতিলাফে মুবাহ তেমনি আমিন জোরে বা আস্তে বলার বেপারটিও ইখতিলাফে মুবাহ। এ নিয়ে কোন পক্ষেরই নিন্দা করা যায় না।
ইমাম হুমাম রহঃ বলেনঃ তুমুল তর্ক বাহাসের পর
প্রমান সিদ্ধ কথা এই যে উভয় রেওয়াআতি রাসুল সা থেকে প্রমানিত।সুতরাং বইপরিত্তের ক্ষেত্রে, প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন পরবে।(ফাতহুল কাদির ১/২৭০) আনোয়ার কাস্মিরি শাহ বলেনঃ উভয়ক্ষেত্রেই নিরবিছিন্ন ভাবে আমল হয়ে আসছে সাহাবি, তাবীঈ ও তাবে তাবীঈ দের যুগ থেকেই তবে মতপারথক্ক হল কোনটি উত্তম(নাইলুল ফাকাদাইন) সাঈদ ইবনে জুবাইর রা রফে ইয়াদাইনের রহস্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ রফে ইয়াদাইনের
উদ্দেশ্য নিছক মানুশের নামাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি
করা।(নাইলুল ফারকাদাইন) সাহাবি রা এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত
ছিলেন।
আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন
সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান বর্ণনা
করেছেন-
হযরত হাসান রা. সাহাবায়ে কেরামের কর্মনীতি
সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে যারা
রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা রাফয়ে ইয়াদাইন
পরিত্যাগকারীদের উপর আপত্তি করতেন না।
এ থেকে বোঝা যায়, রাফয়ে ইয়াদাইন জরুরি কিছু
নয়।
(আত-তামহীদ : ৯/২২৬)
স্বয়ং রাসুল সা এর প্রিয় নাতি হাসান রা এর উক্তি
থেকেই বঝা যায় রফউল ইয়াদাইন করা বা না করা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই। কেননা সাহাবি
রাদিয়াল্লাহু আনহুম এ ব্যাপারে ইখতিলাফে জড়াননি।
কিন্তু বর্তমানে আহলে হাদিস ভাইরা ছাড়াও অনেকে এরকম রএছেন তারা এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেন, এটা সাহাবীদের আমলের পরিপন্থী। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৪৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলবশত বৈঠক করেনি। আবার তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনূতও পড়তে ভুলে যায় এবং শেষে সাহু সিজদা করেছে। জানতে চাই, তার বিতর নামায সহীহ হয়েছে কি না? তা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?
উত্তর
ঐ বিতর নামায সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়া লাগবে না। কারণ ভুলে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও সবগুলোর জন্য একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট। এক নামাযে একাধিক সাহু সিজদা দেওয়ার বিধান নেই। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭-২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৪৭ ও ১/৭৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০ ও ২/৯২,৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৫-৬৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

Execution time: 0.06 render + 0.02 s transfer.