Login | Register

ফতোয়া: আজান-নামাজ

ফতোয়া নং: ৪৮০৩
তারিখ: ১৪/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

ওযরের কারনে শুধু নাকের উপর সেজদা করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আমি কিছুদিন আগে মটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে কপালে খুব আঘাত পেয়েছি, কপালের উপর সিজদা করতে পারি না। তাই নাকের উপর সিজদা করি ৷ জানতে চাই, ঐ আমি কি নাকের উপর সিজদা করার কারণে আমার নামায হবে কি না?
উত্তর
সিজদায় কপাল এবং নাক রাখা জরুরি। কোন কারণে সিজদায় কপাল জমিনে রাখা সম্ভব না হলে শুধু নাক দ্বারা সিজদা করা জায়েয। অতএব আপনি যেহেতু সেজদায় কপাল রাখতে সক্ষম নয় তাই আপনার জন্য শুধু নাকের উপর সিজদা করা জায়েয হবে এবং নাকের উপর সেজদা করলে নামায সহীহ হবে ।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩৫; আলমাবসূত সারাখসী ১/২১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮০০
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

অশুদ্ধ তিলাওয়াতকারীর পিছনে নামাযের ইক্তিদা করা৷ 

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদের আগের ইমাম সাহেব চলে যাওয়ার পর এমন একজন ইমাম আনছে যার কুরআন
তেলয়াত খুব অশুদ্ধ ৷ তাই জানতে চাই, এই ইমামের পিছনে নামায হবে কি? যদি না হয় তাহলে আমি কি জামাত বাদ দিয়ে একা বাড়িতে নামায পড়ব ? আমাদের বাড়ির পাশে কোন মসজিদ নাই ৷ অনেক দূরে আছে ৷
উত্তর
কুরআনে কারীম শুদ্ধ করে পড়তে পারে এমন ব্যক্তি অশুদ্ধ তিলাওয়াত কারী ইমামের পিছনে নামায পড়লে তার নামায হয় না। অতএব যদি আপনাদের মসজিদের ইমামের তিলাওয়াত অশুদ্ধ ও আপনার তিলাওয়াত শুদ্ধ হয় তাহলে উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়লে আপনার নামায হবে না ৷ নামায আবার দোহরিয়ে পড়তে হবে।
উল্লেখ্য যে, আপনাদের উচিত উক্ত ইমামকে পরিবর্তন করে শুদ্ধ তিলাওয়াতকারী কোন ইমামকে রাখা, অথবা উক্ত ইমামকে তিলাওয়াত শুদ্ধ করে আসার তাগিদ দেয়া। যদি তা সম্ভব না হয়, আপনি আশপাশের অন্য কোন মসজিদে জামাতে নামায আদায় করবেন ৷ তাও সম্ভব না হলে জামাতের সওয়াব পেতে উক্ত ইমামের ইক্তিদা করার পর, আবার নামাযটি দোহরিয়ে নিবেন।
-আল হিদায়া-১/১৩০; বাদায়েউস সানায়ে-১/৩৫২;
আলবাহরুর রায়েক-১/৬৩০-৬৩১ ফাতাওয়া শামী- ২/৩২৪ ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৪৩-১৪৪ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৯৫
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

শরীয়তে উমরী কাযা আদায় করার বিধান ৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় কিছু লোক বলে উমরি কাযা বলতে কিছু নেই৷ এগুলো ভিত্তিহীন ৷ তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা অতীত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। অতীতের নামাযের গুনাহও মাফ করে দেন৷ উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ বেশি বেশি করে পড়া উচিত। কারণ সহীহ হাদীসে আছে, ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূরণ করা হবে।- আবু দাউদ’৷
মুফতী সাহেবের নিকট এ বিষয়ে শরীয়তের সুস্পষ্ট বিধান জানতে চাই।
উত্তর
ইসলামে ঈমানের পরই নামাযের স্থান এবং তা ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ ও নিদর্শন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা ফরয। কখনো কোনো ওয়াক্তের ফরয নামায ছুটে গেলে কিংবা দীর্ঘকাল অবহেলাবশত নামায না পড়লে পরবর্তীতে এর কাযা আদায় করতে হবে। এ বিষয়টি সহীহ হাদীস,
আছার ও ইজমায় দ্বারা প্রমাণিত। হাদীস শরীফে এসেছে-
ﻣﻦ ﻧﺴﻲ ﺻﻼﺓ ﺃﻭ ﻧﺎﻡ ﻋﻨﻬﺎ ﻓﻜﻔﺎﺭﺗﻬﺎ ﺃﻥ ﻳﺼﻠﻴﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺫﻛﺮﻫﺎ
যে ব্যক্তি নামাযের কথা ভুলে যায় কিংবা নামায না পড়ে ঘুমিয়ে থাকে তার কাফফারা হল, যখন নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করা।
সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৭৬
উক্ত হাদীসে ﻧﺴﻲ শব্দটি লক্ষ্যণীয়। আরবী ভাষায় এটি যেমনিভাবে ‘ভুলে যাওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয় তদ্রূপ কোনো কাজ অবহেলা করে ছেড়ে দেওয়ার অর্থেও
ব্যবহৃত হয়।
অতএব কাযা আদায়ের বিধানটি শুধু ঘুম ও বিস্মৃতি এই দুই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ করা যাবে না। বরং অবহেলাবশত ছেড়ে দিলেও কাযা জরুরি।
অন্য হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি নামায রেখে ঘুমিয়ে গেছে বা নামায থেকে গাফেল রয়েছে তার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর কাফফারা হল যখন তার নামাযের কথা স্মরণ হবে তখন তা আদায় করে নেওয়া।
সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬১৪
অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন তোমাদের কেউ নামাযের সময় ঘুমিয়ে থাকে বা নামায থেকে গাফেল থাকে তাহলে যখন তার বোধোদয় হবে তখন সে যেন তা আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
করেছেন, আমাকে স্মরণ হলে নামায আদায় কর। সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৬৮৪, ৩১৬৷
এসব হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কোনো নামায সময়মতো আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা
অপরিহার্য। নামাযটি ভুলক্রমে কাযা হোক, নিদ্রার কারণে হোক অথবা গাফলতি বা অবহেলার কারণে হোক- সর্বাবস্থায় কাযা আদায় করতে হবে।
এ বিষয়ে ইজমায়ে উম্মত একটি গুরুত্বপুর্ন দলিল। চার মাযহাবে চার ইমামসহ প্রায় সকল মুজতাহিদ এ বিষয়ে একমত যে, ফরয নামায নির্ধারিত সময়ে আদায় করতে না পারলে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে। ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া কিংবা ওজরবশত ছেড়ে দেওয়া উভয় ক্ষেত্রের একই বিধান।
-আল ইসতিযকার ১/৩০২
কুয়েতের ইসলামী বিষয় ও ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ইফতা বোর্ডের সম্মিলিত ফাতাওয়াও এটিই।
মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া আশশারইয়্যাহ ১/২০৪
সুতরাং উমরী কাযা ভিত্তিহীন, কাযা আদায় না করে শুধু তাওবাই যথেষ্ট এসব কথা মোটেও সহীহ নয়, সম্পুর্ন ভিত্তিহীন মনগড়া । একথাও সহীহ নয় যে, উমরী কাযায় সময় ব্যয় না করে নফল ও তাহাজ্জুদ আদায় করা উচিত। বরং নফল নামাযের চেয়ে উমরী কাযা পড়া উত্তম ৷
তাদের স্বপক্ষে যে দলীল পেশ করা হয়েছে তাও ঠিক নয়। কারণ সুনানে আবু দাউদের হাদীসটির মূল হল-
ﺇﻥ ﺃﻭﻝ ﻣﺎ ﻳﺤﺎﺳﺐ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﺑﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ ﻣﻦ ﺃﻋﻤﺎﻟﻬﻢ
ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻗﺎﻝ ﻳﻘﻮﻝ ﺭﺑﻨﺎ ﻋﺰ ﻭﺟﻞ ﻟﻤﻼﺋﻜﺘﻪ ﻭﻫﻮ ﺃﻋﻠﻢ ﺍﻧﻈﺮﻭﻫﺎ
ﻓﻲ ﺻﻼﺓ ﻋﺒﺪﻱ ﺃﺗﻤﻬﺎ ﺃﻡ ﻧﻘﺼﻬﺎ؟ ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻧﺖ ﺗﺎﻣﺔ ﻛﺘﺒﺖ ﻟﻪ
ﺗﺎﻣﺔ ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻧﺘﻘﺺ ﻣﻨﻬﺎ ﺷﻴﺌﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﻈﺮﻭﺍ ﻫﻞ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻣﻦ
ﺗﻄﻮﻉ؟ ﻓﺈﻥ ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺗﻄﻮﻉ ﻗﺎﻝ ﺃﺗﻤﻮﺍ ﻟﻌﺒﺪﻱ ﻓﺮﻳﻀﺔ ﻣﻦ
ﺗﻄﻮﻋﻪ
কেয়ামতের দিন মানুষের সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামায। আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, তোমরা আমার বান্দার ফরয নাময দেখো। সে পূর্ণরূপে তা আদায় করেছে, নাকি তা আদায়ে কোনো ত্রুটি করেছে? যদি পূর্ণরূপে আদায় করে থাকে তবে তার জন্য পূর্ণ নামাযের ছওয়াব লেখা হবে। আর আদায়ে কোনো ত্রুটি করে থাকলে আল্লাহ
তাআলা ফেরেশতাদেরকে বলবেন, দেখ, আমার বান্দার নফল নামায আছে কি না? যদি থাকে তবে এর দ্বারা তার ফরয নামায আদায়ে যে ত্রুটি হয়েছে তা পূর্ণ
করে দাও। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৮৬৪ ৷
উক্ত হাদীসে ‘কারো ফরয নামায কম পড়ে গেলে নফল দ্বারা তা পূর্ণ করা হবে’- যেমনটি প্রশ্নে উল্লেখ হয়েছে-এ কথা নেই; রবং এতে রয়েছে, আদায়কৃত নামাযে ত্রুটির বিষয়।
ফয়যুল কাদীর ৩/৮৭ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৪
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অজ্ঞাতসারে অতিক্রম করা ও এক্ষেত্রে নামাযীর করনীয় ৷

প্রশ্ন
গতকাল আমি অজ্ঞাতসারে এক নামাযী ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে ফেলি ৷ নামাযী ব্যক্তিও কোন শব্দ করে নি ৷ শুনেছিলাম নামাযের সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করলে জোরে তাসবীহ পড়ে বা হাত দিয়ে ইশারা করে যেন নামাযী সতর্ক করে ৷ তাই জানার বিষয় হলো, যদি নামাযী ব্যক্তির সামনে কোনো সুতরা না থাকে এবং এ অবস্থায় কেউ অজ্ঞাতসারে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করে তাহলে গুনাহ হবে কিনা? নামাযী ব্যক্তির এক্ষেত্রে করণীয় কী? সে কি তাকে বাঁধা দিবে, নাকি দিবে না? জানিয়ে উপকৃত করবেন ৷
উত্তর
নামাযি ব্যক্তির সামনে দিয়ে জেনে বুঝে অতিক্রম করা গুনাহের কাজ ৷ অজ্ঞাতসারে অতিক্রম করে ফেললে গুনাহ হবে না ৷ তবে নামাযী ব্যক্তি তার সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে হাতের ইশারা কিংবা তাসবীহ জোরে পড়ে সতর্ক করা জায়েয আছে। কোন সাওয়াবের কাজ নয় ৷ তাই নামাযীর জন্য এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়াই উত্তম । নামাযীর সামনে দিয়ে কারো অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে সামনে সুতরা রাখবে ৷ সুতরা রাখা সুন্নত।
সুনানে আবু দাউদ ১/১০১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫০৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮; ফাতহুল কাদীর ১/৩৫৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৮৩
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

বিদয়াতী ইমামের পিছনে নামায পড়ার বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব বিদায়াতী৷ যিনি নবীজিকে হাজির নাজির আলিমু গায়েব ইত্যাদি আকিদা পোষন কারী ৷ উক্ত ইমামের পিছনে নামায পড়ার হুকুম কি? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
বিদয়াতী দুই প্রকার। যথা:
২৷ এমন বিদয়তী যার আক্বিদা বিশ্বাস কুফর পর্যন্ত পৌঁছায়। যেমন-নবীজী সাঃ কে হাজির নাজির বিশ্বাস করা, আলিমুল গায়েব বিশ্বাস করা, ভাল-মন্দ ফায়সালা করার মালিক বিশ্বাস করা।
এমন বিদয়াতির পিছনে নামায পড়া জায়েজ নয়। ইক্তিদা করলেও নামায হবেনা। উক্ত নামায পুনরায় পড়া জরুরী ৷
২৷ এমন বেদয়াতি যার কাজকর্ম কবিরাহ গোনাহ পর্যন্ত
পৌঁছায়। যেমন এক মুষ্টির আগে দাড়ি কাটা, উরস করা, প্রচলিত মিলাদ কিয়াম করা, বেপর্দায় মেয়েদের পড়ানো, কবরে আজান দেয়া ইত্যাদি। তাহলে উক্ত ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা মাকরুহে তাহরিমী। পড়লে নামায হবে। কিন্তু নামায মাকরুহে তাহরিমী হবে। নামাযটি পুর্ন সহীহরুপে আদায়ার্থে পুনরায় পড়ে নেয়া চায়৷ এধরনের ব্যক্তির পিছনে নামায না পড়াই উত্তম হবে।
অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনাদের ইমামের পিছনে নামায সহিহ হবে না ৷ উক্ত ইমামকে তৌবা করে সঠিক পথে ফিরে না আসলে পরিবর্তন করা জরুরী ৷
-বাদায়েউস সানায়ে’-১/৩৮৭;ফাতওয়ায়ে শামী-২/২৯৯; ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-১/৮৪; আল বাহরুর রায়েক-১/৬১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৮২
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সেজদা অবস্থায় বাংলাতে দোয়া করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর একটি হাদীস পড়েছিলাম সিজদা অবস্থায় দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা অতি দ্রুত কবুল করেন৷ আমার জানার বিষয় হলো, সকল নামাযের সেজদায় কি দোয়া করা যাবে? এক আলেমের মুখে শুনেছি, নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় বাংলাতেও দোয়া করা জায়েয আছে। তার এ কথা কতটুকু সঠিক?
উত্তর
ফরজ নামাযে সিজদায় দোয়া না করা উত্তম ৷ নফল নামাযে সিজদা অবস্থায় কুরআন-হাদীসে বর্ণিত
দোয়াসমূহ পড়া যাবে। তবে নফল হোক কিংবা অন্য কোনো নামাযে অনারবী ভাষায় দুআ করা নিষিদ্ধ।
সুনানে আবু দাউদ ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২১; হাশিয়া তাহতাবী আলাদ্দুর পৃ. ১/২২৯; মাহমুদিয়া ১২/৮৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৭৩
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা নিজ ঘরে একা নামায পড়াকালীন সতর ঢাকার বিধান ৷

প্রশ্ন
মহিলারা নিজ ঘরে একা নামায পড়লে যেখানে কোন পুরুষ প্রবেশের সম্ভাবনা নেই, মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুর্ন শরীর ঢেকে নামায পড়তে হবে? নাকি কিছু অঙ্গ খোলা রাখা যাবে ?
উত্তর
মহিলারা তাদের চেহারা, দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ও দুই পা গিরা পর্যন্ত ব্যতীত বাকি সম্পূর্ণ শরীর নামাযের পুর্ন সময় ঢেকে রাখা জরুরি। এটা তাদের নামাযের সতর ৷ তাই যদিও একা এমন ঘরে নামায পড়ে যেখানে কোন পুরুষ প্রবেশের সম্ভাবনা নেই তবু উক্ত সতর ফরজ ৷ উভয় পা খোলা রাখা জায়েয হলেও তা ঢেকে রাখাই উত্তম।
ইলাউস সুনান ২/১৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৬; মাজমাউল আনহুর ১/১২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৬৫
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আযানের সময় বাথরুমের জরুরত হলে করনীয়৷

প্রশ্ন
অনেক সময় এমন হয় যে আযান শুরু হয়েছে ঠিক ঐ সময় বাথরুমের জরুরত হয়৷ এবং পর পর সব মসজিদেই আযান শুরু হতে থাকে৷ এ অবস্থায় নামাযের প্রস্তুতি নিব এবং জরুরত সারব নাকি আযানের জবাব দিব ? সব মসজিদের আযানের জবাব দিয়ে এসব করতে গেলে জামাত না পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
উত্তর
আযানের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। যে কোনো মসজিদের আযানের জবাব দিলেই মুস্তাহাব আদায় হয়ে যায়। প্রত্যেক মসজিদের আযানের জবাব দিতে হবে না৷ তবে একই জায়গায় একাধিক মসজিদের আযান শুনা গেলে, প্রথম আযানের উত্তর দিবেন। পরবর্তী আযানগুলোর উত্তর দেওয়া লাগবে না। এমনকি সেটা নিজ মহল্লার মসজিদের আযান হলেও তার উত্তর দেওয়া লাগবে না। আর যদি সব কটি আযান এক সঙ্গে শুরু হয় তাহলে নিজ মহল্লার মসজিদের আযানের উত্তর দিবেন। ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন হলে আযানের জবাবের অপেক্ষা না করেও প্রয়োজন পুরা করতে পারবেন। আযানের জবাবের জন্য ইস্তিঞ্জায় যেতে বিলম্ব করার দরকার নেই।
- আদ্দুররুল মুখতার ১/৩৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৫৩; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৯; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৬০
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে তাশাহুদের পরিবর্তে সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলা৷

প্রশ্ন
হুজুর, আমি গতকাল যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের জায়গায় ভুলবশত সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি৷ পরে স্বরন হওয়ার পর পুনরায় তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ পড়ে সাহু সিজদা ছাড়া নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, আমার নামায কি আদায় হয়েছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। যেহেতু তা করেন নি তাই নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি।
শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/২৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৩০৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫৫
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমামতির নিয়ত ব্যতিত মুক্তাদির নামাযের হুকুম৷

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি একাকী জোহরের ফরজ নামায পড়া শুরু করল, আরেক ব্যক্তি এসে তার পিছনে ইকতিদা করে তার সাথে নামায শেষ করে। প্রশ্ন হল, ঐ ব্যক্তি ইমামতির নিয়ত না করলে মুকতাদির নামায সহীহ হবে কি?
উত্তর
জ্বী, ইমামতির নিয়ত না করলেও মুক্তাদি ইমামের এক্তেদার নিয়ত করলেই মুকতাদীর নামায সহীহ হয়৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিত উক্ত মুক্তাকির নামায সহীহ হয়েছে৷ কারণ ইকতিদা সহীহ হওয়ার জন্য ইমামতির নিয়ত জরুরি নয়।
-শরহুল মুনইয়া পৃ. ২৫১; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১২১; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪২৪৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৩৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদে ইজতেমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করা৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তিকে প্রশ্ন করা হল, মসজিদে বসে ইজতিমায়ীভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম আছে কি না। তিনি বললেন, আছে। কিন্তু তার কথায় কিছুটা জটিলতা অনুভব হল। আমার জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদে বসে সম্মিলিতভাবে উচ্চস্বরে যিকির করার নিয়ম কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
একাকী যিকির করা বা কয়েকজন একত্রিত হয়ে উঁচু আওয়াজে যিকির করা উভয়টিই শরীয়তে অনুমোদিত। তা মসজিদে হোক বা অন্য কোথাও। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার প্রতি বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সাথে থাকি। সে যদি একাকী আমার যিকির করে তাহলে আমি গোপনে তাকে স্মরণ করি। সে কোনো মজলিসে আমার যিকির করলে আমি তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে তার আলোচনা করি। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৪০৫৷ ইমাম সুয়ূতী রাহ. বলেন, জামাতে যিকির করলে আওয়াজ তো হবেই।-আলহাবী লিলফাতাওয়া ২/১২৯৷ তবে এক্ষেত্রে বিশেষভাবে কয়েকটি শর্ত পূরণ করা অত্যাবশ্যক। যথা : ১. লোক দেখানোর উদ্দেশ্য থেকে মুক্ত
হওয়া।
২. কোনো ব্যক্তির নামাযে বা অন্য কোনো ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটানো। ৩. কোনো ব্যক্তির বিশ্রামে সমস্যা না
হওয়া।
৪. আওয়াজ স্বাভাবিক হওয়া, চিৎকার করে বা অতিরিক্ত উঁচু আওয়াজে না হওয়া এবং মাইক ব্যবহার না করা। ৫. সাধারণভাবে এবং সহীহ-শুদ্ধ করে যিকির করা। যিকিরের শব্দ উচ্চারণে লাহনে জলী থেকে বেঁচে থাকা। যদি উল্লেখিত শর্তাবলি পাওয়া যায় তবে ইজতিমায়ী যিকির করতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি কোনো ক্ষেত্রে উল্লেখিত শর্তসমূহ বা তা থেকে কোনো একটি শর্ত না পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কাজটি শরীয়তসম্মত হবে না। উল্লেখ্য, বর্তমানে অনেক যিকিরের মজলিসে উল্লেখিত শর্তগুলোর অনেক কিছুই লঙ্ঘিত হতে দেখা যায়, যা সংশোধনযোগ্য। -রদ্দুল মুহতার ১/৬৬০; সিবাহাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, আবদুল হাই লাখনৌভী পৃ. ৩৮; নতীজাতুল ফিকরি ফিলজাহরি বিযযিকর, (আলহাবী লিল ফাতাওয়া ২/১২৮) ইমাম সুয়ূতী; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/১৫১৷
ফতোয়া নং: ৪৭১৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আজানের আগে আস্সালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়ারাসূল্লাহ বলা৷

প্রশ্ন
আজানের আগে দরূদ যেমন আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ বা গজল ইত্যাদি বলা জায়েজ আছে কি?
উত্তর
আযানের অংশ মনে করে আযানের আগে দরূদ পড়া বা অন্য কোন জিকির করা বিদআত। যদিও দরূদ ও জিকির মৌলিকভাবে সওয়াব ও প্রশংসনীয় কাজ৷ আক্বিদা ঠিক রেখে এমনিতে কখনো কখনো করলে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু একে অভ্যাসে পরিণত করা বৈধ নয়। কারণ আযানের আগে দরূদ পড়া বা জিকির আজকার করা বা কোন ঘোষণা দেয়ার প্রমাণ সম্বলিত কোন হাদিস বা সাহাবায়ে কিরাম এবং সালাফে সালেহীন এর কোন আমল প্রমাণিত নয়। তাই একে অভ্যাসে পরিণত করে করাটা সুষ্পষ্ট বিদআত হবে৷ সুতরাং তা পরিত্যাজ্য। মানুষকে সজাগ সচেতন করার ইচ্ছে হলে আজানই যথেষ্ট। কারণ আযানই হল ই’লান বা ঘোষণা যে, নামাযের সময় হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে নতুন করে কিছু বাড়ানোরতো কোন দরকার নেই।
সহীহ বুখারি হাদীস নং ২৫৫০; আল ফাতওয়াল কুবরা আল ফিক্বহিয়্যাহ-১/১৩১; ফাতওয়ায়ে উসমানী-১/১১১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭০৩
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ফরয নামাজের প্রথম দুই রাকাতে একই সূরা পড়া৷

প্রশ্ন
জোহর বা আসরের ফরজ নামাজে যদি সূরা ফাতেহার সাথে দুই রাকাতে একই সূরা পড়া হয়,তাহলে কি সাহু সাজদা দিতে হবে? যদি সাহু সাজদা দিতে হয়
তাহলে নিয়ম কী?
উত্তর
ইচ্ছাকৃত ফরজ নামাযের উভয় রাকাতে একই সূরা পড়া অনুত্তম৷ কারন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত এমনটি করতেন না। তবে একবারের ঘটনা হাদীস শরীফে এভাবে এসেছে, মুআয ইবনু আবব্দুল্লাহ আল- জুহানী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, জুহায়না গোত্রের এক ব্যক্তি তাকে জানান যে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের নামাযের উভয় রাকাতে সূরা “ইজা যুলযিলাতিল আরধ” পড়তে শুনেছেন। তিনি আরো বলেন, আমি জানি না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভুলবশত এরূপ করেছিলেন না ইচ্ছাকৃতভাবে৷
আবুদাঊদ হা/৮১৬
যার কারণে ফকীহগণ বলেন, ইচ্ছাকৃত ফরযের উভয় রাকাতে একই সূরা পাঠ করা অনুত্তম হলেও এ ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয় না।
ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৪০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৭২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আল্লাহ তাআলাকে খোদা বলা৷

প্রশ্ন
মুফতি সাহেব
আসসালামু আলাইকুম .
আমাদের দেশে কিছু লোক বলছেন
খোদা হাফেজ ব্যবহার না করে
আল্লাহ হাফেজ বলতে হবে৷ খোদা হাফেজ
বললে নাকি না জায়েজ হবে ৷
আপনার কাছ থেকে এর স্পষ্ট সমাধান
আশা করছি৷
উত্তর
ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ৷ খোদা হাফেজ না বলে আল্লাহ হাফেজ বলাটা উত্তম। কিন্তু না জায়েজ বা বেদআত নয়। যারা খোদা বলাকে বেদআত
বা না জায়েজ বলেন, তাদের বক্তব্যটি বিশুদ্ধ নয়।
কারণ আল্লাহ তাআলাকে অন্য ভাষায় এমন শব্দে ডাকা জায়েজ, যে শব্দে আর কাউকে ডাকা হয় না। সেই সাথে এটা অন্য কোন ধর্মের ধর্মীয় কোন নাম নয়। আল ইয়াওয়াক্বীত ওয়াল জাওয়াহীর-৭৮, ফাতওয়া আলমগীরী-৬/৪৪৬৷ এ মূলনীতির আলোকে খোদা শব্দটি আল্লাহ তাআলার নাম হিসেবে বাংলা, উর্দু, হিন্দিতে অনুবাদ হিসেবে বলাতে কোন সমস্যা নেই। কারণ খোদা শব্দটি
ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য কোন ধর্মের কোন ধর্মীয়
শব্দ নয়। সেই সাথে এর দ্বারা আমরা কেবল
আল্লাহকেই বুঝে থাকি। অন্য কোন সত্বাকে বুঝি না। পক্ষান্তরে বিষ্ণু অর্থ রব, এবং ব্রাহ্মণ অর্থ সৃষ্টিকর্তা হলেও এটা ইসলামি কোন শব্দ নয়। সেই
সাথে এ শব্দ দু’টি হিন্দুদের ধর্মীয় প্রতিক। তাই
এ শব্দে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে খোদা শব্দটি। এটা নিরেট ইসলামি শব্দ। এর দ্বারা অন্য কোন ধর্মকে বুঝায় না। বুঝায় না আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্বাকেও। তাই খোদা বলে আল্লাহকে বুঝাতে কোন সমস্যা নেই। প্রথম দলিল ও তার খন্ডন যারা খোদা বলা না জায়েজ বলে থাকেন তাদের দলিল
হল-আল্লাহ আরবী শব্দ, তাই একে বাংলা উর্দুতে অনুবাদ করে খোদা বলা জায়েজ হবে না। এর জবাব হল-যদি আরবী আল্লাহ শব্দকে অনুবাদ করে খোদা বলা না জায়েজ হয়, তাহলে আরবী সালাত
শব্দকে বাংলা উর্দু-ফার্সিতে নামায বলা কিভাবে জায়েজ? আরবী সওম শব্দকে বাংলা উর্দতে
রোযা বলা জায়েজ কিভাবে? যদি এসব জায়েজ হয়, তাহলে আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা বলাও জায়েজ। দ্বিতীয় দলিল ও তার খন্ডন তাদের আরেকটি দলিল হল-আল্লাহ শব্দের কোন বহুবচন নেই। নেই আল্লাহ সত্বারও কোন বহুবচন। অথচ খোদা শব্দটির
বহুবচন হল খোদাওন্দ। তাই খোদা বলার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলাকে বহুবচন সাব্যস্ত করা
হচ্ছে, তাই আল্লাহ শব্দের অনুবাদ খোদা শব্দ
দিয়ে করা জায়েজ নয়। এ যুক্তিটিও একটি অগ্রহণীয় যুক্তি। কারণ যদি তাই হয়, তাহলে রব শব্দ
দিয়ে আল্লাহকে ডাকা জায়েজ হবে না। কারণ “রব” শব্দের বহুবচন “আরবাব” আছে।
আল্লাহ তাআলাকে রহীম শব্দেও ডাকা জায়েজ হবে না, কারণ রহীম শব্দের বহুবচন “রুহামা” আছে, তেমনি
আল্লাহ তাআলাকে ইলাহ ডাকাও জায়েজ হবে না, কারণ “ইলাহ” এর বহুবচন “আলিহাহ” আছে। এসব কথা বলা যেমন বোকামীসূলভ বক্তব্য হবে তেমনি খোদা শব্দের বহুবচন খোদাওয়ান্দ হওয়ায়, তা আল্লাহ শব্দের অনুবাদ হিসেবে হারাম হওয়ার ফাতওয়া দেয়াও বোকামী বৈ কিছু নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের সত্য সত্য
হিসেবে বুঝার, ও মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে বুঝার
তৌফিক দান করুন। আমীন। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মসজিদে দুনিয়াবী কথা বলা৷

প্রশ্ন
মসজিদে কি দুনিয়াবী কথা বলা হারাম?
উত্তর
মসজিদ হল, নামায, জিকির, তিলাওয়াত তথা ইবাদতের স্থান। দুনিয়াবী আলাপ আলোচনার স্থান নয়। তাই দুনিয়াবী কথাবার্তার জন্য মসজিদে গমণ বৈধ নয়। কিন্তু যদি মসজিদে ইবাদতের জন্য প্রবেশ করে, তারপর প্রয়োজনীয় দুনিয়াবী কথা বলে, তাহলে সেটি যদি কারো ইবাদতের বিঘ্ন না ঘটায় এবং অশ্লীল না হয়, তাহলে জায়েজ আছে।
‎ﻭَﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺡ؛ُ ﻭَﻗَﻴَّﺪَﻩُ ﻓِﻲ ﺍﻟﻈَّﻬِﻴﺮِﻳَّﺔِ ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
‎ﻟِﺄَﺟْﻠِﻪِ
‎ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ ﺍﻟﺸﺎﻣﻰ ﺭﺡ : ‏(ﻗَﻮْﻟُﻪُ ﺑِﺄَﻥْ ﻳَﺠْﻠِﺲَ
‎ﻟِﺄَﺟْﻠِﻪِ ‏) ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺣِﻴﻨَﺌِﺬٍ ﻟَﺎ ﻳُﺒَﺎﺡُ ﺑِﺎﻟِﺎﺗِّﻔَﺎﻕِ ﻟِﺄَﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺴْﺠِﺪَ ﻣَﺎ
‎ﺑُﻨِﻲَ ﻟِﺄُﻣُﻮﺭِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ . ﻭَﻓِﻲ ﺻَﻠَﺎﺓِ ﺍﻟْﺠَﻠَّﺎﺑِﻲ : ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ ﺍﻟْﻤُﺒَﺎﺡُ
‎ﻣِﻦْ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺍﻟﺪُّﻧْﻴَﺎ ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟْﺄَﻭْﻟَﻰ
‎ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﺘَﻐِﻞَ ﺑِﺬَﻛَﺮِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ، ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ
‎ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﻳﻔﺴﺪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﻣﺎ ﻳﻜﺮﻩ ﻓﻴﻬﺎ، ﻓﺮﻭﻉ
‎ﺍﻓﻀﻞ ﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ، ﻣﻄﻠﺐ : ﻓﻰ ﺍﻟﻐﺮﺱ ﻓﻰ ‎ﺍﻟﻤﺴﺠﺪ - 2/436 হযরত আনাস রা.থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
‎ﺇِﻥَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪَ ﻟَﺎ ﺗَﺼْﻠُﺢُ ﻟِﺸَﻲْﺀٍ ﻣِﻦْ ﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﺒَﻮْﻝِ، ﻭَﻟَﺎ
‎ﺍﻟْﻘَﺬَﺭِ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻫِﻲَ ﻟِﺬِﻛْﺮِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ، ﻭَﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓِ ﻭَﻗِﺮَﺍﺀَﺓِ
‎ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥِ অর্থাৎ মসজিদ প্রসাব,নাপাকী ও আবর্জনার উপযুক্ত নয়। বরং মসজিদ হল আল্লাহ তাআলার যিকির ও কুরআন তেলাওয়াতের জন্য। মুসলিম শরীফ হাদীস নং-২৮৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সূরার ধারাবাহিকতা রক্ষা না করা৷

প্রশ্ন
আমি একদিন মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাছ ও দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফীল পড়েছি। আমার নামায সহীহ হয়েছে কি? না হলে কী করতে হবে?
উত্তর
আপনার নামায সহীহ হয়েছে। তবে ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরার ধারাবাহিকতা ক্ষুণ্ণ করা অনুত্তম। অবশ্য ভুলবশত হলে ক্ষতি নেই। -শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৯৪; ফাতহুল কাদীর
১/২৯৯;ইলাউস সুনান ৪/১৪৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬-৫৪৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৪৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে রফউল ইয়াদাইন৷

প্রশ্ন
বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় কিছু মানুষ রুকতে যাওয়ার সময় উঠার সময় সেজদায় যাওয়ার সময় হাত উঠায়৷ একজন কে জিঙ্গেস করলে তিনি বলে সহীহ হাদিসে আছে৷ হাত না উঠালে নাকি নামায হবে না৷ জানার বিষয় হলো, তার কথা কি সঠিক? নামাযে এভাবে হাত উঠাতে হবে? না উঠালে কি নামায হবে না? স্ববিস্তারে সহীহ হাদীসের আলোকে জানাবেন৷
উত্তর
রুকু সেজদার সময় হাত উঠানোর হাদীস আছে৷ কিন্তু তা ছিল ইসলামের শুরু যুগে৷ পরবর্তিতে তা রহিত হয়ে গেছে৷ তাই তাকবীরে তাহরিমা ব্যতিত অন্যত্রে হাত উঠাতে হবে না৷ অতএব হাত না উঠালে নামায হবে না, এমন কথা বলা কিছুতেই সঠিক নয়৷ অসংখ্য সাহাবা তাবেয়ী থেকে বর্নিত আছে রাসুল সাঃ শেষ জামানায় রফয়ে ইয়াদাইন করতে না৷ সাহাবা তাবেয়ীদের আমলও এমনি ছিল৷ যেমন:
হাত না ওঠানোর রেওয়াআত সমুহের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ রেওয়াআত হচ্ছে আলকামা রহঃ এর সুত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা এর হাদিসটি। হাদিসটি নিন্মরুপঃ
‎ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ ﺃَﻻَ ﺃُﺻَﻠِّﻰ ﺑِﻜُﻢْ ﺻَﻼَﺓَ
‎ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻗَﺎﻝَ ﻓَﺼَﻠَّﻰ ﻓَﻠَﻢْ ﻳَﺮْﻓَﻊْ
‎ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻻَّ ﻣَﺮَّﺓ ً ‏( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ
‎ﻳَﺬْﻛُﺮِ ﺍﻟﺮَّﻓْﻊَ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 748- )
১। “হযরত আলকামা রহঃ বলেন, হযরত ইবনে মাসুদ রা বলেছেন আমি তোমাদেরকে রাসুল সা এর নামাজ পরে দেখাব কি? একথা বলে তিনি নামাজ পরলেন এবং তাকবিরে তাহরিমা বেতিত কোথাও রফুল ইয়াদাইন করেননি। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৪৮, সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-২৫৭, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-১৩০৪, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৬৪৫,১০২৯(ইফাবা),
সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-২৩৬৩, মুসনাদে
আহমাদ, হাদীস নং-৩৬৮১} ইমাম তিরমিযি রহঃ বলেছেন হাদিসটি হাসান। হাফিয ইবনে হাযার রহঃ একে সহিহ বলেছেন।
দারে কুতনি,ইবনে কাত্তান রহঃ হাদিস্তিকে সহিহ
বলেছেন। (দারে কুতনি) আর গায়রে মুকাল্লেদ্দের ইমাম ইবনে হাযম রহঃ এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন।(আলমুহাল্লা খণ্ড ৪ পৃষ্ঠা ৮৮)
২।
‎ﻋَﻦِ ﺍﻟْﺒَﺮَﺍﺀِ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ - ﻛَﺎﻥَ ﺇِﺫَﺍ
‎ﺍﻓْﺘَﺘَﺢَ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺭَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺇِﻟَﻰ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻣِﻦْ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ﺛُﻢَّ ﻻَ ﻳَﻌُﻮﺩُ
‎‏( ﺳﻨﻦ ﺍﺑﻰ ﺩﺍﻭﺩ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺬْﻛُﺮِ ﺍﻟﺮَّﻓْﻊَ ﻋِﻨْﺪَ
‎ﺍﻟﺮُّﻛُﻮﻉِ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 750- ) হযরত বারা ইবনে আযিব (রা) বলেন- রসুলুল্লাহ
(সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ) যখন নামাজ
আরম্ভ করতেন তখন তার হস্তদ্বয় কর্ণদ্বয় পর্যন্ত উত্তোলন করতেন । অতঃপর আর তা করতেন না । [ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭৫০, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-১৬৮৯, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫৫ ] এই হাদিসের ব্যাপারে বলা হয় যে, হাদিসটিকে দাউদ রহঃ সহিহ নয় বলেছেন।
এর জবাব হল দাউদ রহঃ এই হাদিসটিকে তিনটি সুত্রে
বর্ণনা করেছেন। প্রথম দুটি সুত্রে হাদিসটি
নির্ভর করে ইয়াযিদ ইবনে আবু যিয়াদের উপর।
আরেকটি সুত্রে এটি নির্ভরশীল আব্দুর রহমান
ইবনে আবু লায়লার উপর। ইমাম আবু দাউদ প্রথম
দুই সুত্রের হাদিস সম্বন্ধে নিরব ছিলেন শুধুমাত্র
যেটি আব্দুর রহমান ইবনে আবু লায়ালা থেকে বর্ণিত সেটিকে সহিহ নয় বলেছেন কেননা
তিনি দুর্বল।সুতরাং প্রথম দুই সুত্র অনুযায়ী হাদিসটি
সহিহ।(দরসে তিরমিযি ২/৪২)
আবার মুল পাণ্ডুলিপিতে আবু দাউদ এর এই উক্তি
নেই। শুধুমাত্র মুজতবায়ি নোসখায় এই
মন্তব্বের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে
সন্দেহ থেকেই যায় যে এটি দাউদ রহঃ এর উক্তি কিনা।(ইযাহুল মুসলিম ২/১২৪)
৩। ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﺒﺎﺱ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺗﺮﻓﻊ
‎ﺍﻻﻳﺪﻯ ﻓﻰ ﺳﺒﻌﺔ ﻣﻮﺍﻃﻦ، ﺍﻓﺘﺘﺎﺡ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻭﺍﺳﺘﻘﺒﺎﻝ ﺍﻟﺒﻴﺖ ﻭ
‎ﺍﻟﺼﻔﺎ ﻭﺍﻟﻤﺮﻭﺓ ﻭﺍﻟﻤﻮﻗﻔﻴﻦ ﻭﻋﻨﺪ ﺍﻟﺤﺠﺮ، ‏(ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ
‎ﺷﻴﺒﺔ، ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2465- )
হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ
বলেছেন-সাতটি জায়গায় হাত তুলতে হবে, ১- নামাযের শুরুতে। ২-কাবা শরীফের সামনে আসলে। ৩-সাফা পাহাড়ে উঠলে। ৪-মারওয়া
পাহাড়ে উঠলে। ৫-আরাফায়। ৬-মুযাদালিফায়। ৭-
হাজরে আসওয়াদের সামনে। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৬৫, আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং-১২০৭২,মাযমাউয জাওয়াএদ ২/১০৩,সুনানে বায়হাকী-৫/৭২-৭৩}
ইমাম তাবরানি মারফু সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা
করেছেন ইমাম নাসায়ি থেকে। ইমাম নাসায়ি থেকে প্রসিদ্ধ আছে যে, তিনি কোন অগ্রহনযোগ্য হাদিস বর্ণনা করেন না, না কোন অনিরভরযোগ্য রাবি থেকে তা বর্ণনা করেন। সুতরাং হাদিসটি গ্রহন যোগ্য।
৪। হাফিয ইবনে হাযার আস্কালানি রহঃ ‘আদ দিরায়া ফি
তাখরিযি আহাদিসিল হিদায়া’ তে হযরত আব্বাদ ইবনে
যুবায়ের রহঃ এর মারফু রেওয়াআত বর্ণনা করেন,
‘রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওআ সাল্লাম যখন
নামাজ শুরু করতেন তখন নামাজের শুরুতে
হস্তদয় উঠাতেন।অতঃপর নামাজ শেষ করা পর্যন্ত
আর হস্তদয় উত্তলন করতেন না।‘ শাহ সাহেব রহঃ বলেছেন এর সমস্ত রাবি
নির্ভরযোগ্য।কিন্তু যুবায়ের রহঃ তাবীঈ। হাদিসটি
মুরসাল। মুরসাল হাদিস আমাদের ও জুমহুরের মতে প্রমান।
৫। ﻗﺎﻝ ﺃﺧﺒﺮﻧﻲ ﺳﺎﻟﻢ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﻗﺎﻝ : ﺭﺃﻳﺖ
‎ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺇﺫﺍ ﺃﻓﺘﺘﺢ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﺭﻓﻊ
‎ﻳﺪﻳﻪ ﺣﺬﻭ ﻣﻨﻜﺒﻴﻪ ﻭﺇﺫﺍ ﺃﺭﺍﺩ ﺃﻥ ﻳﺮﻛﻊ ﻭﺑﻌﺪ ﻣﺎ ﻳﺮﻓﻊ ﺭﺃﺳﻪ ﻣﻦ
‎ﺍﻟﺮﻛﻮﻉ ﻓﻼ ﻳﺮﻓﻊ ﻭﻻ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﺠﺪﺗﻴﻦ ‏(ﻣﺴﻨﺪ ﺍﻟﺤﻤﻴﺪﻯ،
‎ﺃﺣﺎﺩﻳﺚ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﺭﻗﻢ
‎ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 614- )
অনুবাদ-হযরত সালেম বিন আব্দুল্লাহ তার পিতা
থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন-আমি রাসূল সাঃ কে দেখেখি, তিনি যখন নামায শুরু করতেন তখন কাঁধ বরাবর হাত উঠাতেন। আর যখন রুকু করতে চাইতেন এবং রুকু থেকে উঠতেন, তখন হাত উঠাতেন না। দুই সেজদার মাঝেও না। {মুসনাদুল হুমায়দী, হাদীস নং-৬১৪} ৬।আসওয়াদ রহঃ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি হযরত ওমর রাঃ-কে দেখেছি, তিনি শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, পরে করতেন না।রাবি জুবাইর ইবনে
আদি রহঃ বলেনঃ এবং আমি ইব্রাহিম রহঃ এবং শাবি রহঃ
কেও অনুরুপ করতে দেকেছি। ’ (তাহাবী: ১/১৬৪), ( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯ [ইফাবা])
তাহাবি রহঃ বলেনঃ এটা সহিহ হাদিস। যেহেতু এর
ভিত্তি হাসান ইবনে আইয়াশ রহঃ এর উপর এবং তিনি
নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য ও হুজ্জত রাবি।ইয়াহইয়া
ইবনে মইন রহঃ তাকে নিরভরযজ্ঞ বলেছেন। (তাহাবী: ১/১৬৪),( তহাবি ১/৪৩০ হাদিস নং ১২৬৯
[ইফাবা])
আল্লামা যায়লায়ী রহঃ এই হাদীসকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। আলজাওহারুন নাকী গ্রন্থে বলা হয়েছে এই হাদীসের সনদ সহীহ মুসলিমের সনদের মতো শক্তিশালী। ৭। হযরত আলী (রা) নামাযে প্রথম তাকবীরে হাত উঠাতেন এরপর আর হাত উঠাতেন না। (সুনানে
বায়হাকী : ২/৮০, তাহাবি ১/৪২৬ হাদিস নং ১২৫৯,৬০)
আল্লামা যায়লায়ী রহ. বর্ণনাটিকে সহীহ বলেছেন। সহীহ বুখারীর বিখ্যাত ভাষ্যকার আল্লামা ইবনে হাজর আসকালানী রহ. এই বর্ণনার সকল রাবীকে ছিকাহ (নির্ভরযোগ্য) বলেছেন। সহীহ বুখারীর অপর ভাষ্যকার আল্লামা আইনী রহ. বলেন, “এ সনদটি সহীহ মুসলিমের সনদের সমমানের। (নাসবুর রায়াহ : ১/৪০৬, উমদাতুল কারী :৫/২৭৪, দিরায়াহ : ১/১১৩ এছাড়াও, ইবনে ইসহাক রহঃ বলেনঃ ‘ইবনে মাসউদ রা এবং হযরত আলী রা এর শিস্যগন কেবল তাকবিরে তাহরিমা বেতিত হাত উত্তলন করতেন না’। আবি শাইবা এর সনদ সহিহ বলেছেন। (মুসান্নাফে আবি শাইবা) ৮।আসওয়াদ রহ. বলেছেন- হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শুধু প্রথম তাকবীরের সময় রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন, এরপর আর করতেন না। (জামউল মাসানীদ)
৯।ইব্রাহিম রহঃ বলেনঃ আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা
সালাতের শুরু বেতিত কোথাও হাত তুলতেন না। (তাহাবি ১/৪২৯ হাদিস নং ১২৬৮) ৯।মুজাহিদ রহ. বলেন- আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর পিছনে নামায
পড়েছি। তিনি প্রথম তাকবীর ছাড়া অন্য সময়
রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন না। (তাহাবী : ১/১৬৩, ইবনে আবী শাইবা : ২/৪১৮ হাদীছ নং ২৪৬৭ [শায়খ আওয়ামা দা.বা. তাহক্বীআল্লামা তুরকুমানী রহ. বলেছেন, এ বর্ণনার সনদ সহীহ (আল-জাওহারুন নাকী)
যারা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা এর হাদিস দ্বারা দলিল
পেশ করেন,তাদের সেই হাদিস এর পরিপন্থী আমল তিনি নিজেই করেছেন, এটা শুধু তখনই
সম্ভব যখন তার কাছে রফুল ইয়াদাইন রহিত প্রমানিত
হয়।
ইবনে উমার রা থেকে রফুল ইয়াদাইন বিষয়ে যেসব হাদিস আছে তা অস্পষ্ট।কেননা তার থেকে বিভিন্ন রেওয়ায়াত পাওয়া যায়।
বায়হাকি রহঃ খিলাফিয়াতে মালিক রহঃ এর সুত্রে বর্ণনা
করেন,ইবনে উমার রা বলেন, রাসুল সা প্রথম
তাকবির বেতিত রফুল ইয়াদাইন করতেন না।(নসবুর
রায়াহ ১/২১০)
এছাড়া ইমাম মালিক রহঃ আলমুদানাওয়াতুল কুবরা
গ্রন্থে ইবনে উমার রা থেকে মারফু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে রফুল ইয়াদাইনের কথা নেই।
এছারা সহিহ বুখারি ১/১০২ এ চার স্থানে ইবনে উমার
রা থেকে ,উভয় সিজদার মাঝখানেও(আবু দাউদ
১/১০৮ সুনানে নাসায়ি ১/১৭২০, সিজদায় যাওয়ার সময়,
( নাসায়ি ১/১৬৫),প্রতিবার উচু নিচু হয়ার ক্ষেত্রে
(ইবনে মাজাহ) রফুল ইয়াদাইন এর বিবরন পাওয়া যায়।
ইমামগন জথা শাফি রহঃ তিন স্থানে গ্রহন করেছেন, অর্থাৎ তিনি রহিতের দিকেই গেছেন, কেননা সিজদা সিজদায় যাওয়ার সময়, ও
সিজদা থেকে ওঠার সময় রফুল ইয়াদাইন তিনি রহিত
মনে করেন। গভির ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় আস্তে আস্তে নামাজ প্রশান্তির ও স্থিরতার দিকেই গেছে। প্রথমে নামজে কথা বলা জায়েজ ছিল পরবর্তীতে রহিত,এদিক অদিক তাকান জায়েজ ছিল তাও রহিত হয়ে যায়, এভাবে প্রথম দিকে
প্রচুর পরিমান রফুল ইয়াদাইন জায়েজ ছিল তারপর তা
হ্রাস করা হয় এবং পাচ স্থানে তা বিধিবদ্ধ হয়ে যায়,
তারপর চার, তারপর শুধু তাকবিরের সময় তা অবশিষ্ট
থেকে যায়। এর উদ্দেশ্য নামাযে স্থিরতা ও ধিরতা আনয়ন। কেননা কুরআন বলছেঃ ‘আল্লাহর ওয়াস্তে ধিরস্থিরভাবে নামাযে দাড়াও’ ১০।ইবরাহীম নাখায়ী রহঃ বলেন-
নামাযের শুরু রাফয়ে ইয়াদাইন করার পর অন্য
কোথায় রাফয়ে ইয়াদাইন করো না (জামিউস মাসানীদ : ১/৩৫৩)
১১।মুগিরা রহঃ বলেনঃআমি একবার ইব্রাহিম রহঃ কে
অয়ায়িল রা এর হাদিস সম্পর্কে বললাম তিনি নবি করিম
সা কে দেখেছেন তিনি সালাতের শুরুতে এবং
রুকুর সময় এবং রুকু থেকে মাথা উথাবার সময় হাত
তুলতেন। ইব্রাহিম রহঃ বল্লেন,অয়ায়িল রা তাকে
একবার এরূপ করতে দেখে থাকেন তাহলে
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ রা তাকে পঞ্চাশ বার এরূপ
না করতে দেখেছেন।(তাহাবি ১/৪২৫ ইফাবা) এখানে অয়ায়িল ইবনে হুযর রা এর হাদিসের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আরেকটি ব্যাপারে অনেকে বলেন,তাহলে
বুখারি রহঃ কি ভুল বলল। তিনি তো রফুল ইয়াদাইন
নিয়ে একটি বইই লিখল।
এর উত্তরে বলা হবে,তিনি মুহাদ্দিস ছিলেন,মুফতি
বা ফকিহ নন।ইমাম আবু হাফস কাবির রহঃ তাকে ইজতিহাদ করতে নিষেধ করেছিলেন,কিন্তু তিনি ফতোয়া দিলেন, যে শিশুর দুধপান কালিন সময়ে সে যদি কোন বকরির দুধ পান করে তাহলে দুধ সম্পর্ক স্থাপন হয়ে যাবে। এতে করে বুখারার আলেমরা তার উপর অসন্তুষ্ট হন।এ ব্যাপারে
দেখুন ফাতহুল কাদিরঃ ৩/৩২০ –কিতাবুর রিযা তারিখুল
খামিস ২/৩৮২ আল্লামা ইবনে হাযার মক্কি শাফী রহ আল
খাইরাতুন হিসানে ৭০ পৃষ্ঠায় লিখেনঃ ইমাম বুখারি রহ
আমিরুল মুমিনিন ফিল হাদিস ছিলেন , কিন্তু ফিকহের
ব্যাপারে তিনি অবশ্যই দুর্বল ছিলেন। বস্তুত
প্রতিটি শাস্ত্রের জন্যই আলাদা আলাদা মনিষী
ছিলেন।
তাই তিনি ফিকহের ক্ষেত্রে অনুসরনযোগ্য
নন।
এছারাও তিনি শাফি মাজহাবের ছিলেন।[দ্রষ্টব্য-
তাবাক্বাতে শাফেয়ীয়্যাহ-৩/২, আল হিত্তাহ-১২১,আল ইনসাফ=৬৭,,আবজাদুল উলুম—
৮১০ }
শাফি মাঝহাবে যেহেতু রফুল ইয়াদাইন রয়েছে সেহেতু তিনি এর পক্ষে বাহাস করতেই
পারেন।
রফউল ইয়াদাইন নিয়ে সাহাবিদের যুগ থেকেই
মতপার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু এই ইখতিলাফ ছিল
ইখতিলাফে মুবাহ। অর্থাৎ রফউল ইয়াদাইন নিয়ে
ইখতিলাফ জায়েজ নাজায়েজ নিয়ে নয় বরং উত্তম অনুত্তম নিয়ে। ইবনুল কাইয়্যিম রাহ. জোরে আমিন বলার প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা ইখতিলাফে মুবাহর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে কোনো পক্ষেরই
নিন্দা করা যায় না। যে কাজটি করছে তারও না, যে
করছে না তারও না। এটা নামাযে রাফয়ে ইয়াদাইন
করা ও না-করার মতোই বিষয়।’
‎ﻭﻫﺬﺍ ﻣﻦ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﻤﺒﺎﺡ ﺍﻟﺬﻱ ﻻ ﻳﻌﻨﻒ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﻓﻌﻠﻪ ﻭﻻ
‎ﻣﻦ ﺗﺮﻛﻪ ﻭﻫﺬﺍ ﻛﺮﻓﻊ ﺍﻟﻴﺪﻳﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺗﺮﻛﻪ
(যাদুল মাআদ ১/৭০, মিসর ১৩৬৯ হি., কুনূত প্রসঙ্গ)
বক্তব্বের শেষে তিনি বললেন যে, রফউল ইয়াদাইন যেমন ইখতিলাফে মুবাহ তেমনি আমিন জোরে বা আস্তে বলার বেপারটিও ইখতিলাফে মুবাহ। এ নিয়ে কোন পক্ষেরই নিন্দা করা যায় না।
ইমাম হুমাম রহঃ বলেনঃ তুমুল তর্ক বাহাসের পর
প্রমান সিদ্ধ কথা এই যে উভয় রেওয়াআতি রাসুল সা থেকে প্রমানিত।সুতরাং বইপরিত্তের ক্ষেত্রে, প্রাধান্য দেওয়ার প্রয়োজন পরবে।(ফাতহুল কাদির ১/২৭০) আনোয়ার কাস্মিরি শাহ বলেনঃ উভয়ক্ষেত্রেই নিরবিছিন্ন ভাবে আমল হয়ে আসছে সাহাবি, তাবীঈ ও তাবে তাবীঈ দের যুগ থেকেই তবে মতপারথক্ক হল কোনটি উত্তম(নাইলুল ফাকাদাইন) সাঈদ ইবনে জুবাইর রা রফে ইয়াদাইনের রহস্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ রফে ইয়াদাইনের
উদ্দেশ্য নিছক মানুশের নামাজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি
করা।(নাইলুল ফারকাদাইন) সাহাবি রা এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে বিরত
ছিলেন।
আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহ. রাফয়ে ইয়াদাইন
সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের অবস্থান বর্ণনা
করেছেন-
হযরত হাসান রা. সাহাবায়ে কেরামের কর্মনীতি
সম্পর্কে বলেছেন, ‘তাদের মধ্যে যারা
রাফয়ে ইয়াদাইন করতেন তারা রাফয়ে ইয়াদাইন
পরিত্যাগকারীদের উপর আপত্তি করতেন না।
এ থেকে বোঝা যায়, রাফয়ে ইয়াদাইন জরুরি কিছু
নয়।
(আত-তামহীদ : ৯/২২৬)
স্বয়ং রাসুল সা এর প্রিয় নাতি হাসান রা এর উক্তি
থেকেই বঝা যায় রফউল ইয়াদাইন করা বা না করা নিয়ে আপত্তি করার কিছু নেই। কেননা সাহাবি
রাদিয়াল্লাহু আনহুম এ ব্যাপারে ইখতিলাফে জড়াননি।
কিন্তু বর্তমানে আহলে হাদিস ভাইরা ছাড়াও অনেকে এরকম রএছেন তারা এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেন, এটা সাহাবীদের আমলের পরিপন্থী। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৪৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি বিতর নামাযে দ্বিতীয় রাকাতের পরে ভুলবশত বৈঠক করেনি। আবার তৃতীয় রাকাতে দোয়ায়ে কুনূতও পড়তে ভুলে যায় এবং শেষে সাহু সিজদা করেছে। জানতে চাই, তার বিতর নামায সহীহ হয়েছে কি না? তা কি পুনরায় আদায় করতে হবে?
উত্তর
ঐ বিতর নামায সহীহ হয়েছে। পুনরায় পড়া লাগবে না। কারণ ভুলে একাধিক ওয়াজিব ছুটে গেলেও সবগুলোর জন্য একটি সাহু সিজদাই যথেষ্ট। এক নামাযে একাধিক সাহু সিজদা দেওয়ার বিধান নেই। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২৭-২৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৪৭ ও ১/৭৪১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০ ও ২/৯২,৯৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৫-৬৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযে সুরা ফাতেহার পর তিন তসবীহ পরিমান চুপ থাকলে করনীয়৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহার পর চুপ থেকে ভাবতে লাগল যে, কোন সূরা পড়বে। ভাবতে ভাবতে তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় কেটে গেল। তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে কি? সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে তার করণীয় কী?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তিন তাসবীহ পরিমাণ চুপ থাকার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সাহু সিজদা না দিয়ে থাকলে ঐ নামায পুনরায় পড়তে
হবে।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০২; শরহুল
মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৫; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ইমাম সাহু সেজদার জন্য সালাম ফিরানোর সময় মাসবুক দাড়িয়ে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আমি একবার জামাতে নামায আদায় করতে গিয়ে মাসবুক হলাম। ইমাম সাহেব নামায শেষে এক দিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা দিলেন। কিন্তু তিনি যে সাহু সিজদা দিবেন এটা বুঝতে না পারার কারণে তার সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই আমি দাঁড়িয়ে গেলাম এবং বাকি নামায আদায় করতে লাগলাম। পরে তার সিজদা দেওয়া দেখেও আমি আর সিজদা দেইনি। তবে নামায শেষে সাহু সিজদা দিয়েছি। আমার নামায হয়েছে কি? এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায শেষে সাহু সিজদা করার কারণে আপনার নামায আদায় হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে (অর্থাৎ ছুটে যাওয়া নামায আদায়ের জন্য দাড়ানোর পর যখন ইমামকে সাহু সিজদা করতে দেখলেন তখন) আপনার উচিত ছিল ফিরে এসে ইমামের সাথে সিজদা করা এবং ইমামের সালামের পর অবশিষ্ট নামায যথানিয়মে আদায় করা। উল্লেখ্য, ইমামের উভয় দিকে সালাম ফিরানো শেষ হওয়ার পর মাসবুক ছুটে যাওয়া রাকাতের জন্য দাঁড়াবে। এটাই উত্তম নিয়ম। -কিতাবুল আসল ১/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/৬৩; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১০০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

পীর-বুযুর্গের নিকট বিপদ-আপদ দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পার্থনা করা৷

প্রশ্ন
অনেক লোক আছে, যারা নামায পড়ে, নিজেদেরকে মুসলমান বলে দাবি করে এবং তাওহীদে বিশ্বাসী, তথাপি তারা মনে করে, বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট দূর করা ও কল্যাণ সাধনের ক্ষেত্রে পীর-বুযুর্গদের অনেক ক্ষমতা আছে। তাই তারা সরাসরি মৃত ও জীবিত পীরের নিকট প্রার্থনা করে, সাহায্য চায় এবং তাদের কাছে মুক্তি চায়। অথচ আমরা জানি, এ ধরনের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
কল্যাণ-অকল্যাণ, ভালো-মন্দ, উপকার-অপকার,
দুঃখ-কষ্ট ইত্যাদির সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী
একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীন। তিনি ব্যতীত
অন্য কারো এ ধরনের কোনো ক্ষমতা নেই। এর উপর ঈমান ও বিশ্বাস রাখা প্রত্যেক
মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। তাই বিপদ-আপদ বা
দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া বা কল্যাণ-
অকল্যাণে সাহায্য চাওয়ার ক্ষেত্রে মুমিনের
কর্তব্য হল, একমাত্র আল্লাহ রাববুল আলামীনের শরণাপন্ন হওয়া এবং তাঁর কাছেই
সাহায্য চাওয়া। এগুলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য
কারো কাছে চাওয়া শিরক। কোনো পীর- বুযুর্গের নিকট বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি লাভের জন্য এ মর্মে প্রার্থনা করা যে, আপনি আমাকে অমুক বিপদ থেকে উদ্ধার করেন বা
অমুক বিষয়ে সাহায্য করেন-এটা সম্পূর্ণ শিরকি ও
কুফরী কাজ। উপায়-উপকরণের উর্ধ্বের কোনো বিষয়ে
আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য চাওয়া
শিরক ফিল ইসতিআনা, যা ﺍﻳﺎﻙ ﻧﺴﺘﻌﻴﻦ এর অঙ্গীকার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাযত করুন। তবে যদি জীবিত কোনো হক্কানী পীর-
বুযুর্গ বা আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের নিকট এ মর্মে
দুআ চাওয়া হয় যে, আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করেন যেন আল্লাহ তাআলা আমাকে বিপদ- আপদ থেকে উদ্ধার করে দেন এবং এক্ষেত্রে দুআপ্রার্থীর এ বিশ্বাস থাকে
যে, তিনি আল্লাহর মাহবুব ও নৈকট্যভাজন বান্দা
হিসেবে আশা করা যায় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করবেন। তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই। বরং এটি হাদীস ও
সাহাবীগণের আমল দ্বারা প্রমাণিত।-ফাতাওয়া
উলামাইল বালাদিল হারাম ৬০-৬২ -জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৫১৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৬৬৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৬/১২৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ৩৭৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

বাসা বা অফিসে জামাতে নামায পড়লে আযান দেওয়া৷

প্রশ্ন
মাঝেমধ্যে বৃষ্টির কারণে আমাদের অফিসেই জামাতের সাথে নামায আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আযান না দিয়ে অফিসে জামাতের সাথে নামায আদায় করা সহীহ হবে
কি?
উত্তর
বাসা বা অফিসে জামাতের জন্য মহল্লার মসজিদের আযানই যথেষ্ট। তাই অফিসে আযান না দিয়েও জামাতে নামায পড়া যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রেও আযান দেওয়া মুস্তাহাব। উল্লেখ্য, ছাতার ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ বৃষ্টির কারণে মসজিদের জামাত ত্যাগ করা উচিত নয়। কেবল প্রবল বর্ষণের ক্ষেত্রেই মসজিদের জামাতে উপস্থিত না হওয়ার অনুমতি রয়েছে। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ২/৩৫৯; মাবসূত, সারাখসী ১/১৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৭৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকি নামায বসে পড়া৷

প্রশ্ন
আমি প্রায় দুই সপ্তাহ ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত ছিলাম। জ্বরের তীব্রতায় কয়েক ওয়াক্ত নামায বসে আদায় করেছি। মাঝে একদিন শরীর হালকা লাগছিল তাই দাঁড়িয়ে নামায শুরু করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ক্লান্তি ও চোখে অন্ধকার বোধ করায় অর্ধেক নামায বসে আদায় করি। এভাবে আমার নামায আদায় হয়েছে কি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায শুরু
করার পর বাকি নামায বসে পড়ার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হয়নি। কেননা দাঁড়িয়ে নামায পড়া অধিক কষ্টকর হলে বসে নামায পড়া জায়েয। এমনকি নামাযের মাঝে দাঁড়ানো কষ্টকর হয়ে গেলেও অবশিষ্ট নামায বসে আদায় করা জায়েয। -সহীহ বুখারী ১/১৫০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৬; মাবসূত, সারাখসী ১/২১৮; বাদায়েউস সানায়ে
১/২৮৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম, আখাউড়া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের ফযীলত সংক্রান্ত ভিত্তিহীন কিছু বিষয়৷

প্রশ্ন
মসজিদের দেয়ালে অনেক সময় নিচের বাক্যগুলো হাদীস হিসেবে লেখা থাকে-
ক) যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যাবে।
খ) যে ব্যক্তি যোহরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার রুজির বরকত কমে যাবে।
গ) যে ব্যক্তি আসরের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার শরীরের শক্তি কমে যাবে।
ঘ) যে ব্যক্তি মাগরিবের নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার সন্তানাদি তার উপকারে আসবে না।
ঙ) যে ব্যক্তি ইশার নামায পড়বে না বা ছেড়ে দিবে তার নিদ্রার পরিতৃপ্তি নষ্ট হয়ে যাবে। (বাবুস সালাত, মেশকাত আলমাসাবীহ) এ ধরনের উদ্ধৃতিসহ বা উদ্ধৃতি ছাড়াও দেয়ালে লেখা হয়ে থাকে।
জানার বিষয় হল, বাক্যগুলো হাদীস কি না? হাদীস হলে এর মান কী? হাদীস না হলে কথাগুলো অন্যকোনোভাবে প্রমাণিত কি না? বা এর অর্থ বিষয়বস্তু সঠিক কি না, আর তা বর্ণনাযোগ্য কী না? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত কথাগুলো হাদীস নয়, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। মিশকাতুল মাসাবীহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তাতে এ বর্ণনাটি নেই। হাদীসের নির্ভরযোগ্য অন্য কোনো গ্রন্থেও এর অস্তিত্ব নেই। তাই হাদীস হিসেবে এটি বর্ণনা করা বা প্রচার করা জায়েয নয়৷ ভিত্তিহীন ঐ কথাগুলো হাদীস হিসেবে প্রচার করলে গুনাহ হবে।
তবে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করা কবীরা গুনাহ। কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত ও অসংখ্য হাদীসে নামায ত্যাগকারী সম্পর্কে ভয়াবহ ধমকি এসেছে। একটি হাদীসে ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করাকে কুফরতুল্য গুনাহ বলা হয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করল সে কুফরি করল।
মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৩০০৭৷
অপর একটি হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ছেড়ে দিল তার থেকে আল্লাহতাআলার যিম্মা উঠে গেল।
-সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস : ৩০১
আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামায ছেড়ে দিল ইসলামে তার কোনো অংশ নেই।
মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস : ৪৫
সুতরাং প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীকে যথাসময়ে নামায আদায়ের প্রতি যত্নবান হতে হবে। এক ওয়াক্ত নামাযও যেন ছুটে না যায় সে ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬০৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ফজরের জামাত শুরু হওয়ার পর সুন্নত৷

প্রশ্ন
আমার মাঝে মাঝে এমন হয় যে, ফজরের সময় মসজিদে গিয়ে দেখি নামাযের ইকামত হচ্ছে বা জামাত শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় জামাতের কতটুকু অংশ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে আমি সুন্নত পড়ব? দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে নাকি ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ফজরের সুন্নত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদীস
শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের সুন্নত ছেড়ে দিও না। যদিও সৈন্যবাহিনী তোমাদেরকে তাড়া দেয়।-মুসনাদে আহমদ ২/৪০৫ সুতরাং ফজরের জামাত শুরু হয়ে গেলেও সুন্নত পড়ে যদি জামাতের সাথে দ্বিতীয় রাকাতও পাওয়া যায় তাহলে সুন্নত পড়ে নিবে। আর দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সুন্নত পড়বে না; বরং জামাতে শরিক হয়ে যাবে এবং সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নিবে। প্রকাশ থাকে যে, কোনো কোনো ফকীহ সুন্নত পড়ার পর ইমামকে তাশাহহুদে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সুন্নত পড়ার কথা বলেছেন। কিন্তু অধিকাংশ ফকীহর মত তা-ই, যা উপরে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, জামাত শুরু হওয়ার পর মসজিদে সুন্নত পড়ার কিছু শর্ত রয়েছে। যথা- ক. কাতারের সাথে মিলিত হয়ে পড়া যাবে না। মসজিদের বারান্দায় বা কাতার থেকে দূরে মসজিদের এক কোণে বা কোনো পিলারের আড়ালে সুন্নত
পড়বে।
খ. জামাত থেকে পিছনে পৃথক হয়ে সুন্নত পড়ার মতো জায়গা না থাকলে সুন্নত পড়া যাবে না। এক্ষেত্রে জামাতে শরিক হয়ে
যাবে।
-আলজামিউস সগীর ৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫১
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

তাকবীরে তাশরীক৷

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব মাসআলা বলেছেন যে, তাকবীরে তাশরীক একবার বলা ওয়াজিব, তিনবার বলা মুস্তাহাব। কিন্তু অন্য এক আলিমকে বলতে শুনেছি, তিনবার বলা সুন্নত পরিপন্থী, বিদআত। জানার বিষয় হল, মূলত তাকবীরে তাশরীক তিনবার বলা সুন্নত, না মুস্তাহাব? সাহাবায়ে কেরাম কতবার তাকবীর বলতেন? তাদের থেকে তিন তাকবীর বলা প্রমাণিত আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
৯ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১৩ যিলহজ্ব আসরসহ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর একবার তাকীবরে তাশরীক তথা-
‎ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ، ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﺃﻛﺒﺮ
‎ﻭﻟﻠﻪ ﺍﻟﺤﻤﺪ . বলা ওয়াজিব। এই তাকবীর তিনবার বলা
সুন্নত বা মুস্তাহাব নয়। সাহাবায়ে কেরাম
রা. কীভাবে তাশরীকের দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন তা হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে একাধিকবার তাকবীরের কথা উল্লেখ নেই।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৮, ৫৬৯৯, তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, সাহাবায়ে কেরাম আরাফার দিন নামাযের পর উক্ত তাকবীর বলতেন।- মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস :
৫৬৯৬
অবশ্য কোনো কোনো সাহাবী থেকে তাকবীরে তাশরীকের সাথে অন্য কিছু মিলিয়ে পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেমন হযরত ইবনে উমর রা. তাকবীরে তাশরীকের আগে তিনবার আল্লাহু আকবার বলতেন।-আলআওসাত, হাদীস :
২২০১
আর পূর্ণ তাকবীরে তাশরীক তিনবার পড়ার বর্ণনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফিকহবিদগণও তিনবার বলার প্রতি গুরুত্ব দেন না। অবশ্য কেউ যদি সুন্নত মনে না করে এমনিতেই তিনবার বলে তবে সেটাকে বিদআত বলাও উচিত নয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৫৬৯৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা নামাযের সময় চুল খোঁপা করে রাখা৷

প্রশ্ন
মহিলারা নামায আদায়ের সময় চুল খোঁপা করে রাখলে নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি? যদি সমস্যা হয় তাহলে চুল কিভাবে রাখতে হবে?
উত্তর
মহিলাদের জন্য নামাযের সময় চুল খোঁপা করে রাখতে কোনো বাধা নেই। কেননা মহিলাদের জন্য শরীয়তের বিধান হল, তারা নামায আদায়ের সময় পরিপূর্ণভাবে চুল ঢেকে রাখবে। নামায অবস্থায় তারা চুল ছেড়ে বা বেঁধে-যেকোনোভাবে রাখতে পারেন। তবে চুল ছাড়া থাকলে অসতর্কতাবশত কখনো তা খুলে যেতে পারে। তাই নামাযে চুল খোঁপা করে রাখাই ভালো।
-শরহুল মুনইয়া ২১২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৫;
আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫; আলবাহরুর রায়েক ১/২৭০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪১
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মাইকে আযান দেয়ার সময় হাইয়াআলাস সালাহ ও হাইয়াআলাল ফালাহ বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ফিরানো৷

প্রশ্ন
আমরা জানি যে, আযানের মধ্যে ‘ হাইয়াআলাস সালাহ ’ এবং ‘ হাইয়াআলাল ফালাহ ’ বলার সময় ডানে- বামে চেহারা ফিরাতে হয়। আর তা এজন্য যে, যাতে সবাই আওয়াজ শুনতে পায়। বর্তমান সময়ে সাধারণত সকল মসজিদেই মাইক ব্যবহার করা হয়। আমি জানতে চাই যে, মাইকে আযান দেওয়ার সময়ও কি ডানে বামে চেহারা ফিরাতে হবে?
উত্তর
হ্যাঁ, মাইকে আযান দিলেও ‘ হাইয়াআলাস সালাহ ’ এবং ‘ হাইয়াআলাল ফালাহ’ বলার সময় ডানে-বায়ে চেহারা ফিরানো উত্তম। কেননা, চেহারা ফিরানোর মধ্যে অন্যদের আওয়াজ শোনা বা না শোনার বিষয়টি ছাড়াও অন্য কোনো হেকমতও থাকতে পারে। তাই মাইকে আযান দিলেও এই সুন্নত আদায়ের লক্ষ্যে ডানে বামে চেহারা ফিরানো উচিত। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২১৭২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৭০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৪৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪০
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের তাকবীরে "আল্লাহ" এর প্রথম আলিফ লম্বা করে পড়া৷

প্রশ্ন
আজ এক মসজিদে আছরের নামায পড়তে গিয়েছিলাম৷ ইমাম সাহেব তাকবীরে তাহরিমার সময় "আল্লাহ" এর প্রথম আলিফ লম্বা করে পড়ল৷ অতপর নামায হয়েছে কিনা এ নিয়ে কিছু লোকের মাঝে মতানক্য
সৃষ্টি হয়ে গেছে৷ মুফতি সাহেবের নিকট জানতে
চাই, নামাযের তাকবীরে "আল্লাহ" এর প্রথম আলিফ লম্বা করে পড়লে নামায হবে কিনা?
উত্তর
নামাযের তাকবীরে "আল্লাহ" এর প্রথম আলিফ
লম্বা করে পড়লে নামায হয় না৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনাদের আছরের নামায কারো হয়নি৷ পুনরায় পড়া জরুরী৷
দলিলঃ
গুনিয়াতুল মুস্তামলি পৃঃ ২২৭, ( নুমানিয়া)
‎لو ادخل المد في الف لفظة الله كما يدخل في قوله تعالي الله اذن لكم وشبهها تفسد صلاته ان حصل في اثنائها عند اكثر المشائخ ولا يصير شارعا به في ابتدائها ويكفر لو تعمده لانه استفهام ومقتضاة الشك في كبريائه تعالي
হাশিয়াতুত তাহত্বাবী আলাল মারাকী পৃঃ ২৭৯ ( রশিদিয়া); আদ দুররুল মুখতার ১/৪৮০ (সাঈদ); নাহরুল ফায়েক ১/২১২ (রশিদিয়া)৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩০
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

চেয়ারে বসে নামায সংক্রান্ত আরো কিছু বিধিবিধান৷

প্রশ্ন
(ক) যে ব্যক্তি জমিনে বসতে অক্ষম কিন্তু কিয়াম করতে পারে তার জন্য দাড়িয়ে ইশারা করে নামায পড়া উত্তম? নাকি চেয়ারে বসে ইশারা করে নামায আদায় করা উত্তম?
(খ)চেয়ারে বসা দাড়ানোর হুকুমে নাকি বসার হুকুমে?
(গ) চেয়ার কোথায় রাখা হবে?
উত্তর
(ক) দাড়িয়ে কেরাত পড়ে রুকুর পর নিচে বসতে না পারলে দাড়িয়ে ইশারায় সিজদা করার তুলনায় চেয়ারে বসে ইশারা করে সিজদা আদায় করা উত্তম৷ কেননা চেয়ারে বসা জমিনে বসার নিকটবর্তী৷
(খ) চেয়ারে বসা বসার হুকুমের অন্তর্ভোক্ত৷
(গ) হাদীসে কাতার সোজা করার অনেক গুরুত্ব এসেছে৷ তাই তা পালন করা জরুরী৷ এতএব চেয়ার এভাবে রাখবে যেন মা'যুর ব্যক্তির দেহ অন্যান্য সুস্থ মুছল্লীদের দেহের সাথে বরাবর থাকে৷ সুতরাং মা'যুর ব্যক্তি যদি নামাযে দাড়ানোর সময় দাড়িয়ে নামায দাড়িয়ে পড়তে পারে, শুধু সিজদার সময় চেয়ারে বসে, তাহলে কাতার সোজা করার জন্য চেয়ারের সামনের পায়া কাতারের দাগের পিছনের কিনারায় রেখে বসা উচিত, যেন কিয়াম করার সময় মা'যুর ব্যক্তির কাধ অন্যান্যদের কধের বরাবর হয়৷ কিন্তু এতে পিছনের কাতার সোজা করতে সমস্যা হলে চেয়ারের পিছনের পায়া কাতারের দাগ বরাবর রেখে বসা উত্তম৷
প্রথম পদ্ধতির উপর আমল করার সহজ পদ্ধতি হলে, সকল মা'যুর ব্যক্তি এক পাশে নামায আদায় করবে৷ ফলে কাতার সোজা না হওয়ার সমস্যা দূর হয়ে যাবে৷
আর যদি মা'যুর ব্যক্তি শুরু থেকেই চেয়ারে বসে নামায আদায় করে, সে ক্ষেত্রে চেয়ারের পিছনের পায়া কাতারের দাগের উপর রাখবে৷ যেন তার কাধ অন্যান্য মুছল্লীদের কাঁদের বরাবর হয়৷
দলিলঃ
সহীহ বুখারী হাঃ ৭২৩, আবু দাউদ হাঃ ৬৬৪, তিরমিযি হাঃ ২২৭, আদ দুররুল মুখতার ১/৫৬৭, ২/৫৪৭, রদ্দুল মুহতার ২/১৩২, ৫৬৭, বাদায়েয়ুস সানায়ে ১/ ৪১৩,৪১৪,মওসুয়াতুল ফিকহিয়া ৩৪/১০৭, ইলাউস সুনান ৭/২০১, মাবসুত ২/১২৫৷
বিঃদ্রঃ পুর্বের পোষ্টটি না পড়ে থাকলে আগে সেটা পড়ে নিন৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৩
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

আযানে আল্লাহু আকবার এর "হামযা" অথবা বা কে লম্বা করে পড়া৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার এক লোক প্রায় সময়ই আযান দেন। এভাবে ১০/১২ বছর যাবত আযান দিচ্ছেন। মুসল্লীরা তাঁকে মুয়াযযিনের মতো মনে করেন। তিনি আল্লাহু আকবার এর হামযাকে এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করেন এবং আকবার এর ‘বা’ কেও এক আলিফ পরিমাণ লম্বা করে থাকেন। আমরা তাঁকে এ সংক্রান্ত মাসআলা শুনিয়েছি এবং অনেকবার আযান মশকও
করিয়েছি। কিন্তু তিনি সহীহভাবে আযান দিতে
পারেন না। জানতে চাই, এভাবে আযান দিলে কোনো সমস্যা হবে কি না। বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
আযানে আল্লাহু আকবার এর ‘হামযা’ অথবা ‘বা’ কে
টেনে বা মদ করে পড়লে আযান মাকরূহ
হবে। এমন অশুদ্ধ উচ্চারণকারীর আযান দেওয়া
ঠিক নয়। আযানের জন্য এমন লোক নির্বাচন করতে হবে, যিনি শুদ্ধভাবে সুন্নত তরীকায় আযান দিতে পারেন।
-সুনানে আবু দাউদ ১/৮৭; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৩৭৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫১৭; আলমুগনী ইবনে কুদামা ২/৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

এক রাকাতে তিন সেজদা করলে করনীয়৷

প্রশ্ন
একদিন আসরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব তিনটি সেজদা করে। কিছু মুকতাদী তৃতীয় সেজদায় ইমাম সাহেবের অনুসরণ করেন। আর কিছু মুকতাদী অনুসরণ করেননি। ইমাম সাহেব নামায শেষে সেজদায়ে সাহুও করেননি। এখন তাদের নামাযের হুকুম
কী?
উত্তর
ইমাম সাহেব অতিরিক্ত সেজদা করার কারণে ইমাম এবং সকল মুকতাদীর উপর সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছে। কিন্তু সেজদায়ে সাহু না করার কারণে ইমাম মুক্তাদী সকলের জন্য নামাযটি পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি। উল্লেখ্য এ ধরনের ভুলের ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ না করাই নিয়ম। কিন্তু অনুসরণ না করলেও ইমামের ভুলের কারণে সকলের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬১; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫২৮, ৪৫৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৫৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫১৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

ছেলে মেয়ে বালেগ হবার বয়সসীমা৷ 

প্রশ্ন
উমরী কাযা নির্ধারনে বালেগ বৎসর ধার্য করা জরুরী। ইসলামী শরীয়া হিসাব অনুযায়ী একজন পুরুষকে কত বৎসর বয়সে বালেগ ধরা হবে? আমি বিভিন্ন কিতাবে বিভিন্ন বয়স পেয়েছি। কেউ উল্লেখ করেছেন ১০ বৎসর, কেউ ১২ আবার কেউ বলেছেন সর্বপ্রথম বীর্যস্খলন থেকে তার নামায ফরজ হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন হিসাবটা সঠিক? জানালে উপকৃত হব । জাযাকাল্লাহু
খইরান ।
উত্তর
ছেলে বা মেয়ের বালেগ তথা প্রাপ্ত বয়স্ক হবার মূল নিদর্শন বীর্যস্খলন হওয়া। এটির প্রকাশক অনেক কিছুই হতে পারে। যেমন ১) ছেলে মেয়েদের সেটি স্বপ্নদোষের মাধ্যমে প্রকাশিত হতে পারে। ২ ) ছেলেদের দাড়ি গোফ উঠা আর মেয়েদের স্তন বড় হওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে। ৩ ) মেয়েদের হায়েজ আসা, গর্ভধারণ করা ইত্যাদির মাধ্যমেও বালেগ হওয়া সাব্যস্ত হয়।
‎ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺑَﻠَﻎَ ﺍﻟْﺄَﻃْﻔَﺎﻝُ ﻣِﻨﻜُﻢُ ﺍﻟْﺤُﻠُﻢَ ‏[ ٢٤ : ٥٩ ]
তোমাদের সন্তান-সন্ততিরা যখন বায়োঃপ্রাপ্ত হয়, [সূরা আননূর-৫৯] এইতো গেল নিদর্শন হিসেবে বালেগ হওয়া নির্ধারণ করা। যা নির্ধারণ করা খুবই সহজ। কিন্তু কথা হল, যদি নিদর্শন বুঝা না যায়,তাহলে বয়স হিসেবে কিভাবে বালেগ হওয়া নির্ধারণ করবে? বয়সের ভিত্তিতে বালেগ ও নাবালেগ নির্ধারণে ফুক্বাহায়ে কেরামের মাঝে বিস্তর মতভেদ হয়ে গেছে। আসলে এটি নির্ণয় করা একটু দূঃরহ ব্যাপারও। কারণ সমাজ, পরিবেশ এবং রাষ্ট্রের আবহওয়ার ভিন্নতার কারণে মানুষের শারীরিক গঠনে, আচরণে ভিন্নতা দেখা দেয়। সেই হিসেবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া না হওয়ার বিষয়টিও যেহেতু শরীরের সাথে অনেকটা সম্পর্কিত, তাই এটির বয়সসীমা নির্ধারণও বেশ দুঃসাধ্য
বিষয়।
এ কারণেই ফুক্বাহায়ে কেরামের মাঝে বালেগ হবার বয়স নির্ধারণে মতভেদ হয়ে গেছে। যেমন- ক) সতের বছর। খ) পনের বছর। ইত্যাদি। তবে প্রাধান্য পাওয়া বক্তব্য হল, বালেগ হবার উপরোক্ত আলামতগুলো যদি কোন ছেলে বা মেয়ের মাঝে প্রকাশিত না হয়, তাহলে সন্তানের বয়স পনের বছর হলেই উক্ত ছেলে মেয়ে বালেগ হয়েছে বলে ধর্তব্য
হবে।
‎ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﺃﻧﻪ ﻋُﺮِﺽ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻲ
‎ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻳﻮﻡ ﺃُﺣﺪٍ ﻭﻟﻪ ﺃﺭﺑﻊ ﻋﺸﺮﺓ ﺳﻨﺔ
‎ﻓﻠﻢ ﻳُﺠِﺰْﻩ، ﻭﻋُﺮِﺽ ﻋﻠﻴﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﺨﻨﺪﻕ ﻭﻟﻪ ﺧﻤﺲ ﻋﺸﺮﺓ
‎ﺳﻨﺔ ﻓﺄﺟﺎﺯﻩ . ইবনে উমর রাঃ উহুদের জিহাদে অংশ নেবার অনুমতি চাইলেন, তখন তার বয়স ছিল চৌদ্দ বছর। রাসূল সাঃ তাকে অনুমতি প্রদান করেননি। কিন্তু খন্দকের জিহাদের অংশ নিতে অনুমতি চাইলে অনুমতি দেয়া হয়, তখন তার বয়স ছিল পনের বছর। [আলআহাদ ওয়ালমাছানী, হাদীস নং-৭৪৬] বুঝা গেল, শরীয়তের মুকাল্লাফ হতে হলে আর কোন আলামত না থাকলে বয়স হিসেবে কমপক্ষে পনের বছর হতে
হয়।
আল ইনায়া শারহুল হেদায়া ৮/২০১;আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৫৩;তাফসীরে কুরতুবী ১২/১৫১, - সহীহ বুখারী হাদীস : ২৬৬৪, ৪০৯৭; আললুবাব ফী শরহিল কিতাব ২/১৬। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার করার হুকুম৷

প্রশ্ন
আমি যতটুকু জানি যে, অ্যালকোহল যুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার নাজায়েজ, এটা নাকি নাপাক। কিন্তু আমি একজনের নিকট শুনেছি যে, আল্লামা তাকি উসমানী সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন যে
অ্যালকোহল যুক্ত সুগন্ধি পাক। এটা ব্যবহার
জায়েজ। সুতরাং আমার প্রশ্ন হল যে অ্যালকোহল যুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার কি জায়েজ ? আর তা শরীরে ব্যবহার করা অবস্থায় নামাজ আদায় করা যাবে কি?
উত্তর
অ্যালকোহেলযুক্ত যে সকল সুগন্ধি বা
পারফিউম পাওয়া যায় তা ব্যবাহার না করাই উত্তম
ও শ্রেয়। অ্যালকোহেলযুক্ত সুগন্ধি ব্যাবহার করা জায়েজ আছে কিনা তা জানার জন্য আগে মদ বা অ্যালকোহেলের বিধান জানা জরুরী। সংক্ষেপে তা পেশ
করা হল-
ইমাম আবু হানীফা রহ. এর মতে, মদ বা এ্যালকোহেল হল, যা আঙ্গুরের কাচা রস থেকে তৈরী হয়। এটি যখন ভালভাবে জ্বাল দেওয়া হয় তখন তা মদ হয়। মোটকথা যে মদ বা অ্যালকোহোলের উপাদান আঙ্গুর সেটাই কেবল মদ। এটি নাপাক। এটি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবহার অল্প বা বেশি নেশা হোক বা না হোক সবই হারাম। এ ব্যাপারে সবাই একমত। আরেক হল, এমন মদ যার উপাদান- খেজুর বা কিসমিস। এটিও হারাম, নাপাক। অল্প হোক বেশি হোক পান হারাম। তবে এর নিষিদ্ধতা প্রথমটার মত মযবুত নয়। তাই এ ধরনের মদ্যপায়ীর উপর ইসলামী হদ (শাস্তি) কার্যকর হয় না। এই কারণে তা বৈধ উদ্দেশ্যে বিক্রয় জায়েয। যেমন মেডিসিনের ব্যবহারের জন্য উক্ত প্রকার এ্যালকোহেল ক্রয়-বিক্রয় করা। তবে ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর মতে এটিও বিক্রি জায়েয নয়। হারাম। তৃতীয় প্রকার অ্যালকোহেল হল-যার উপাদান উপরোক্ত বস্তু ছাড়া অন্য কিছু। যেমন গম, যব বা অন্য কোন শষ্য, মধু ইত্যাদি। এসব অ্যালকোহেলের বিধান হল, নেশা উদ্রেক করে না -এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ। নেশা উদ্রেক করে এ পরিমাণ ব্যবহার করা বৈধ না। এটি ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম আবু ইউসুফ রহ. উভয়ের মত। বর্তমান সময়ে বিশ্বের অন্যতম ইসলামিক স্কলার শাইখুল ইসলাম মুফতী ত্বাকী দা.বা. এ বিষয়ে যা লিখেছেন তার সার সংক্ষেপ হল- “বর্তমান বিশ্বে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে অ্যালকোহেল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন ঔষধ তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাসায়নিক বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বহু শিল্প কারখানা এ্যালকোহেলের ব্যবহার করা ছাড়া চলা সম্ভব নয়।এক কথায় বর্তমান সময়ে বহু মানুষ এর সাথে জড়িত। এবং এর প্রচন্ড প্রয়োজনয়ীতা রয়েছে। এখন আমাদের দেখার বিষয়, যদি এসব অ্যালকোহেল আঙ্গুরের কাচা রস থেকে তৈরী না হয় তবে তা বৈধ কাজে ব্যবহার করা ইমাম আবু হানীফা রহ.এর মতে
বৈধ।
‘ইনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা ’(খ.১,পৃ.৫৪৪,প্রকাশকাল ১৯৫০খৃ.)-এ- বর্তমান বিশ্বে অ্যালকোহেল কীসের থেকে তৈরী হয় এর একটি তালিকা দেয়া হয়েছে, সে তালিকায় আছে, মধু, শষ্য, যব, আনারসের রস, গন্ধক ও সালফেট অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। তবে তাতে কোথাও আঙ্গুর বা খেজুরের কথা নেই। সার কথা, ইমাম আবু হানিফা রহ. এর মতানুযায়ী বাজারে প্রচলিত অ্যালকোহেল যদি খেজুর ও আঙ্গুর থেকে প্রস্তুত না হয় তবে তা বৈধ কাজের উদ্দেশ্যে ব্যবহার বৈধ হবে। নেশার উদ্রেক হয় না এ পরিমাণ ব্যবহার করা যাবে। আর এটিই স্বাভাবিক সত্য যে, বর্তমানে অধিকাংশ অ্যালকোহেল আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরী হয়না। সুতরাং এসব বৈধ উদ্দেশ্যে ক্রয়- বিক্রয় করা যাবে। তদ্রুপ
ঔষধ তৈরিতে বা চিকিৎসায়ও ব্যবহার করা যাবে।
অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করা যাবে।” (দেখুন তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮) উল্লেখ্য যে, যদি কোন অ্যালকোহেলের ব্যাপারে প্রমাণিত হয় যে, তা আঙ্গুর ও খেজুর থেকে তৈরী তাহলে তা ব্যাবহার করা যাবে না। তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৩৪৮,৩/৩৩৭; ফিকহুল বুয়ূ ১/২৯৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মাসবুক ব্যক্তির ছুটে যাওয়া রাকাত সানা দিয়ে শুরু করা৷

প্রশ্ন
আমার অনেক সময় জামাতে এক দুই রাকাত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করার সময় শুরুতে সূরা ফাতেহা পাঠ করব নাকি সানা পড়ে তারপর সূরা ফাতিহা পড়ব?
উত্তর
ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময় সানা দিয়ে শুরু করা উত্তম। তাই সানা দিয়ে শুরু করা চাই৷ তবে সানা না পড়লেও নামায হয়ে যাবে৷
-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

বাচ্চা পেম্পারস পরিহিত অবস্থা নামাযীর কোলে পেশাব করলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আমি যোহরের নামাযের শেষ বৈঠকে ছিলাম। এ সময় আমার দুই বছরের ছোট ছেলেটি কোলে এসে বসে পড়ে এবং এ অবস্থায় পেশাব করে দেয়। কিন্তু তার পরনে যেহেতু পেম্পারস ছিল তাই পেশাব পেম্পারসের ভিতরই থেকে যায়। তাই আমার গায়ে মোটেও পেশাব লাগেনি। এ অবস্থায় আমার নামাযটি কি সহীহ হয়েছে?
উত্তর
হ্যাঁ, সহীহ হয়েছে। ঐ শিশুর অপবিত্রতার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়নি। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

জায়নামাযে দাড়িয়ে ইন্নি ওয়াজ্জাহতু পড়া৷

প্রশ্ন
আমি একটি বইয়ে পড়েছি যে, তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে জায়নামাযে দাড়িয়ে ‘ইন্নি ওয়াজ্জাহতু ...’ দুআটি পড়তে হয়। একে জায়নামাযের দুআ বলে। এ সম্পর্কে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এই দুআটি পড়া ঠিক নয়। জানার বিষয় হল, বইয়ের কথা ঠিক নাকি ইমাম সাহেবের কথা ঠিক? সঠিক সমাধান দিয়ে সঠিক আমলের সুযোগ দিবেন।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত দুআটি জায়নামাযে দাড়িয়ে তাকবীরে তাহরীমার পূর্বে পড়াটা প্রমাণিত নয়। হাঁ, হাদীস শরীফে নফল নামাযে তাকবীরে তাহরীমার পর পড়ার কথা রয়েছে। এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে ফিকাহবিদগণ নফল নামাযে তাকবীরে তাহরীমার পর সানার পূর্বে এ দুআ পড়াকে উত্তম বলেছেন। -সুনানে নাসাঈ ১/১০৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৭১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলাদের মিসওয়াক করার বিধান৷

প্রশ্ন
পুরুষের মতো কি মহিলাদের জন্যও মিসওয়াক করা সুন্নত? হাদীসে মহিলাদের মিসওয়াক করা সম্পর্কে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় কি?
উত্তর
মহিলাদের জন্যও মিসওয়াক করা সুন্নত। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-আমার উম্মতের উপর কষ্টের আশঙ্কা না হলে তাদের উপর প্রত্যেক নামাযে মিসওয়াক করা জরুরি করে দিতাম। (সহীহ বুখারী ১/১২২) উক্ত হাদীসে উম্মত শব্দ এসেছে যা পুরুষ মহিলা সবাইকে শামিল করে৷ সুনানে আবু দাউদের ১/৮ এক বর্ণনায় আম্মাজান হযরত আয়েশা রা.-এর মিসওয়াক করার কথা উল্লেখ আছে। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০৩
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

মহিলারা হায়েয অবস্থায় আযানের উত্তর দেওয়া৷

প্রশ্ন
হায়েয অবস্থায় মহিলারা আযানের জবাব দিতে পারবে কি?
উত্তর
মহিলাদের জন্যও আযানের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। তাই হায়েয অবস্থায়ও মহিলারা আযানের জবাব দিবে। এ অবস্থায় আযানের জবাব দিতে কোনো অসুবিধা নেই।
-ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৫৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: আজান-নামাজ

নামাযের মধ্যে যদি আগের সূরা পরে এবং পরের সূরা আগে...

প্রশ্ন
নামাযের মধ্যে যদি আগের সূরা পরে এবং পরের সূরা আগে পড়ি অর্থাৎ সূরা
কাফিরূন আগে এবং সূরা কুরাইশ পরে
পড়ি তাহলে নামায হবে কি?
উত্তর
নামাযের মধ্যে সূরার তারতীব রক্ষা করে পড়া মুস্তাহাব। ফরয নামাযে ইচ্ছাকৃত সূরার তারতীব ভঙ্গ করা অনুত্তম। তবে কেউ করলে নামায হয়ে যাবে। আর ভুলবশত হলে নামায মাকরূহ হবে না। সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৭; ফাতহুল কাদীর ১/২৯৯; শরহুল মুনইয়া ৪৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

Execution time: 0.04 render + 0.02 s transfer.