Login | Register

ফতোয়া: কুরআন

ফতোয়া নং: ৪৮৫৮
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: কুরআন

কাউকে কষ্ট দেবার পর ক্ষমা চাইলে, সে ক্ষমা না করলে করণীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি একজনকে খুব কষ্ট দিয়েছি ৷ এখন আমি খুব অনুতপ্ত ৷ তার নিকট বহুবার ক্ষমা চেয়েছি ৷ কিন্তু ক্ষমা চাইতে গেলে সে বলে আমি তোমাকে ক্ষমা করতে পারবো না ৷ সে নাকি আমাকে কোনদিন ক্ষমা করবে না ৷ এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি? কি করলে আমি ক্ষমা পেতে পারি? জানিয়ে উপকৃত করবেন ৷
উত্তর
কষ্টদাতা বা অপরাধীর দায়িত্ব হলো, ক্ষমা চাওয়া। যার নিকট অপরাধ করা হয়েছে বা যাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। এবং তওবা করা। এর দ্বারাই ইনশাআল্লাহ তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় ।
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার দায়িত্ব যাকে কষ্ট দিয়েছেন তার নিকট ক্ষমা চাওয়া ৷ এবং আল্লাহ তায়ালার নিকট ক্ষমা চাওয়া ও তৌবা করা ৷ এবং সর্বদা উক্ত ব্যক্তিকে খুশি করতে চেষ্টা করা। তারপরও যদি সে ক্ষমা না করে, তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ তায়ালা আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। কারণ আপনার
সাধ্যে যা ছিল তা আপনি করেছেন। সাধ্যের বাইরে কিছু করার জন্য শরীয়ত ব্যক্তিকে বাধ্য করে না।
কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেছেন, যে গোনাহ করে কিংবা নিজের অনিষ্ট করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল, করুণাময় পায়।
-সূরা নিসা-১১০ ৷
অন্যত্রে বলেন, আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না ৷
-সূরা বাকারা-২৮৬ ৷
হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঈদ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসল সাঃ ইরশাদ করেছেন, গুনাহ থেকে তওবাকারী সেই ব্যক্তির মত যার কোন গোনাহ
নেই।
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৪২৫০ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৮৫৪
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: কুরআন

আসহাবে কাহাফের সঙ্গী কুকুরটি কি জান্নাতে যাবে?

প্রশ্ন
হুজুর আমাদের এলাকায় এক বক্তা ওয়াজে আসহাবে কাহাফের’ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বললেন 'আসহাবে কাহাফের’ সঙ্গী কুকুরটি নাকি জান্নাতে যাবে। এই কথা কতটুকু সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
উক্ত বিষয়টি কুরআন বা কোনো সহীহ হাদীসে উল্লেখ নেই। কোনো সাহাবী থেকেও নির্ভরযুগ্য সনদে তা পাওয়া যায় না।
তবে তাফসীরে মাযহারী ও রূহুল মাআনী সহ ইত্যাদি তাফসীর-গ্রন্থে প্রখ্যাত তাবেয়ী খালেদ ইবনে মা’দান রাহ. এর উদ্ধৃতিতে আসহাবে কাহাফের সঙ্গী কুকুরটির জান্নাতে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।কিন্তু এর কোনো সনদ বা সূত্র পাওয়া যায় না।
প্রকাশ থাকে যে, এ বিষয়টি যেহেতু কোনো আকীদা বা আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় তাই এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা পর্যালোচনায় সময় নষ্ট না করা উচিত ৷
তাফসীরে মাযহারী ৬/২১; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৮/২২৮; তাফসীরে আবুস সাউদ ৪/১৭৮; হায়াতুল হাইওয়ান ২/২৬২ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২৪
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: কুরআন

পিড়িয়ড চলাকালে গিলাফ বা কাপড় দিয়ে কুরআন শরীফ স্পর্শ করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার একটি প্রশ্ন, আমার ভাবি জানতে চেয়েছেন, পিড়িয়ডের নাপাক অবস্থায় গিলাফ বা অন্য কাপড় দিয়ে কুরআন মজীদ স্পর্শ করা যাবে কি না?
উত্তর
জ্বী হ্যাঁ, পিড়িয়ড বা নাপাক অবস্থায় কুরআন মজীদ ধরার প্রয়োজন হলে গিলাফ বা অন্য কোনো পবিত্র কাপড় দিয়ে ধরা যাবে। তবে পরিহিত কাপড়ের আঁচল বা কোনো অংশ দ্বারা স্পর্শ করা যাবে না ।
-রদ্দুল মুহতার ১/২৯৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৬৮
তারিখ: ১৭/১২/২০১৬
বিষয়: কুরআন

মে'রাজে আল্লাহ তায়ালাকে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর দর্শনলাভ৷

প্রশ্ন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মে'রাজে আল্লাহকে সরাসরি স্বচক্ষে দেখেছেন নাকি শুধু কথা শুনেছেন?
দলিল সহ জানাবেন ।
উত্তর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ মে'রাজে তাআলাকে সরাসরি স্বচক্ষে দেখেছেন কি না এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরাম থেকে দুই ধরনের মত রয়েছে। যথাঃ
১৷ সরাসরি স্বচক্ষে দেখেছেন৷
২৷ সরাসরি স্বচক্ষে দেখেন নি৷ শুধু কথা শুনেছেন৷
প্রথম মত অনুযায়ী রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে, আল্লাহকে দেখেছেন তা এমন বৈশিষ্ট্যের সাথে দেখেছেন, যেভাবে দেখাটা জীবিত অবস্থায় অন্য কোনো ব্যক্তির নসীব হয়নি, হবেও না৷ তবে রাসূলুল্লাহ সাঃ আল্লাহ কে দেখার ধরন কী ছিল, কীভাবে দেখেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা নেই। তাই কোনো একটি মতকে প্রাধান্য না দিয়ে ঐ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
-ফাতহুল বারী ৮/৪৭৪; সহীহ মুসলিম ১/৯৮-৯৯; তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৮/২০৪; ফাতহুল মুলহিম ১/৩৩৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৩১
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: কুরআন

সিজদার আয়াত মনে মনে পড়া৷

প্রশ্ন
কুরআন শরীফ পড়ার সময় যখন সিজদার
আয়াত আসে তখন মাঝে মাঝে আমি তা
মনে মনে পড়ি। আমার জানার বিষয় হল,
মনে মনে সিজদার আয়াত পড়ার দ্বারা
সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হবে
কি না?
উত্তর
আয়াতে সিজদা মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে জপলে সিজদায়ে তেলাওয়াত ওয়াজিব হয় না। তাই যে সকল ক্ষেত্রে সিজদার আয়াত মনে মনে পড়েছেন ঐ সকল ক্ষেত্রে সিজদা ওয়াজিব হয়নি। উল্লেখ্য, তেলাওয়াতের মাঝে সিজদার আয়াত আসলে তা স্বাভাবিকভাবে তিলাওয়াত না করে মনে মনে পড়ে নেওয়া ঠিক নয়। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩২; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩২২; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫০০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭২৬
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: কুরআন

প্রচলিত মিলাদ কিয়ামের শরয়ী বিধান৷

প্রশ্ন
মিলাদ কিয়াম করা জায়েজ আছে কি না।জায়েয হলে দলিল কি? না থাকলে দলীল কি?
উত্তর
আখেরি নবী ও শ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালবাসা ও গভীর মহব্বত রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ন অংশ এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে উক্ত ইবাদত অবশ্যই সে পদ্ধতিতে করতে হবে, যে
পদ্ধতি স্বয়ং নবীজী সা., সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর সাহাবায়ে কেরাম রা. তাবেঈনদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাবেঈনগণ পরবর্তীদের শিখিয়ে গেছেন। মনগড়া বা ভিত্তিহীন কোনো তরীকায় করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে না। এ জন্যই রাসূল সা. এর জীবনাদর্শ আহকামে দীন ও শরীয়ী বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।
সুতরাং রাসূল সা.-এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা
সওয়াব ও বরকতের বিষয় এবং মহান দীনী কাজ হলেও দেশের শরীয়তের নিয়ম-নীতি সম্পর্কে কোনো কোনো শ্রেণীর লোকেরা ‘মীলাদ শরিফ’ নামে সম্মিলিত সুরে গদভাধা কিছু পাঠের অনুষ্ঠান এবং কিয়ামের যে রীতি চালু করেছে, তার কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদীসে, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের সোনালী যুগে পাওয়া যায় না। অথচ সর্বস্বীকৃত সত্য হলো, তারাই ছিলেন প্রকৃত নবীপ্রেমী খাঁটি আশেকে রাসূল এবং নবীজী সা. এর আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসারি ও বাস্তব নমুনা।
প্রচলিত এই মিলাদ ও কিয়ামের উদ্ভব ঘটে ৬০৪
হিজরি সনে। ইরাকের মাসূল শহরের বাদশা আবু সাঈদ মুজাফ্ফর কাকরী এবং তার দরবারি আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এদু’জন মিলে এর প্রচলন ঘটায়। এরা উভয়ে দীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক প্রকৃতির লোক ছিল। পরবর্তীতে অজ্ঞতা,
মূর্খতা ও জাহালতের অন্ধকারে নিমজ্জিত শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে আরো অনেক কুসংস্কার, শরীয়ত
বিরোধী বিশ্বাস ও কার্যাবলী এতে সংযোজিত হতে থাকে। যার সবকিছুই কুরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরীয়তের মূল প্রমাণ পরিপন্থী। তা ছাড়া মিলাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সা.কে হাজির-নাজির মনে করে কিয়াম করা তো রীতিমতো শিরক। হাজির- নাজির মনে না করলেও শরীয়তে এর ভিত্তি নেই। এ সকল কারণে প্রচলিত মিলাদ, কিয়াম না জায়েজ ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরাম একবাক্যে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। আর ইয়া নাবী সালাম আলাইকা বলে দরূদ শরীফ রাসূলে পাক সা. কে হাজির- নাজির মানে করে পাঠ করলে তো শিরক হবে।
আনাস(রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,সাহাবাদের(রাঃ) নিকট রাসূল(সাঃ) অপেক্ষা প্রিয় কেউ ছিল না। তদুপরি হৃদয়ে এত মহব্বত পোষণ করা সত্বেও যখন তাঁরা প্রিয় রাসূল(সাঃ) কে দেখতেন তখন সাহাবায়ে কেরাম(রাঃ) দন্ডায়মান হতেন না। কেননা, তাঁরা একথা ভালভাবেই জানতেন যে, রাসূল(সাঃ) কে দেখে আমরা ‘দন্ডায়মান’ হই এটি তিনি পছন্দ করতেন না৷
তিরমিযী শরীফ ২/১০০ : মিশকাত শরীফ ২/৪০৩ : মুসনাদে আহমদ ৩/১৫১
আবু উমামা(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলাল্লাহ(সাঃ)লাঠিতে ভর করে ঘর থেকে বাইরে তাশরীফ নিয়ে আসেন, আমরা উপস্থিত সকলে তাঁর সম্মানে দন্ডায়মান হই। তখন তিনি এরশাদ করেন, তোমরা আজমী(অনারব) লোকদের ন্যায় কখনো দাঁড়াবে না। আজমীগণ এমনি দাঁড়িয়ে এসে অন্যকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকে।
মিশকাত শরীফ :
৮৮,৮৯,৯০
মু’আবিয়া(রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ(সাঃ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এতে আনন্দ বোধ করে যে, লোকজন তার সম্মানে মূর্তির ন্যয় দাঁড়িয়ে থাকুক, তার জন্য উচিৎ যে, সে জাহান্নামে তার বাসস্থান নির্দিষ্ট করেলনেয়।
(আবু দাউদ, তিরমিযী)
বিশ্ববরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ কোরআন ও হাদিসের অন্যতগ গবেষক সৌদি আরবের ‘গবেষনা- ইফতা-দাওয়াত ও ইরশাদ বিভাগ’ এর প্রধান শায়খ আবদুল আজীজ বিন আবদুল্লাহ বিন বায তাঁর গ্রন্থে লেখেন, আমার জেনে খুবই দুঃখ হয় যে এরুপ বিদ’আতী(মিলাদ) অনুষ্ঠান এমন সব মুসলিম দ্বারা সংঘঠিত হচ্ছে যারা তাদের রাসূল(সাঃ) এর মহব্বতের ব্যাপারে খুবই দৃঢ়তা রাখেন। মিলাদের প্রবক্তাকে বলছি যদি আপনি সুন্নি হন ও মুহাম্মাদ(সাঃ) এর অনুসারী হওয়ার দাবি রাখেন তাহলে বলুন তিনি নিজে বা তাঁর কোন সাহাবী(রাঃ) বা তাঁদের সঠিক অনুসারী কোন তাবেঈ কি এ কাজটি করেছেন, না এটা ইয়াহুদি ও খৃষ্টান বা তাদের মত অন্যান্য আল্লাহর শত্রুদের অন্ধ অনুকরণ ? এ ধরণের মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) এর প্রতি ভালবাসা প্রতিফলিত হয় না। যা করলে তাঁর ভালবাসা প্রতিফলিত হয় তা হল তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা, যা কিছু তিনি বলেছেন তা বিশ্বাস করা এবং যা কিছু তিনি নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা। আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন কেবল
সেভাবেই তাঁর উপাসনা করা। আরো দেখুন,ফাতাওয়া শামী ১/৫২৪,এমদাদুল
ফাতাওয়া ৬/৩২৭ আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৪৭,আল জুন্নাহ লিআহলিস সুন্নাহ, ১৭৮,দপ্তরে আউয়াল,
মাকতুবাত, ২৭৩,ফাতাওয়ায়ে আযীযী১৯৯,আশ শারআতুল ইলাহিয়্যা, ১৭৭; মাদখান ২/১০৷
যোগাযোগ
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: কুরআন

ভিডিও গেম খেলার হুকুম৷

প্রশ্ন
আজকাল শহরাঞ্চলে খেলাধুলার মাঠের অভাবের কারনে অনেকে কম্পিউটার গেমসকে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন ।এ সকল গেমসে থাকে মারামারি,বন্দুক গুলাগুলি ইত্যাদি। বিনোদনের জন্য এ সকল গেমস জায়েজ কি?
উত্তর
ইসলামে দু’ ধরণের খেলাধুলাকে বৈধ রেখেছে৷ ১-শারিরীক উপকার নিহিত।যেমন দৌড়, রেকেট, ফুটবল ও ক্রিকেট ও হতে পারে। ২-দ্বীনের শত্রুর বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণমূলক খেলা। যেমন তীরন্দাজী, ঘোড় দৌড় ইত্যাদি। এসব খেলা জায়েজ থাকার জন্য শর্ত দু’টি। যথা- ১- ফরজ ও ওয়াজিব কোন ইবাদতে বিঘ্ন না হতে হবে। ২-এর সাথে আর কোন গোনাহের বিষয় মিলিত না হতে হবে। যেমন জুয়া, বেপর্দা ইত্যাদি। এছাড়া বাকি সব খেলাই অহেতুক হওয়ায় মাকরূহ বা নাজায়েজ। ভিডিও গেম এ অনর্থক খেলার মাঝে শামিল। যেহেতু এর দ্বারা শারিরিক কোন উপকার নেই। অহেতুক সময় নষ্ট করা, তাই এটি অপছন্দনীয়। কিন্তু বর্তমানের ভিডিও গেমগুলোতে নানা ধরণের হারাম মিউজিক থাকে।যা সম্পূর্ণই নাজায়েজ। আর এসব মারামারি দৃশ্যগুলো বাচ্চাদের মন মগজে খুবই খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে থাকে। বাচ্চাদের প্রতিহিংসা পরায়ন, প্রতিশোধী মনোভাবাপন্ন বানিয়ে দেয়। আমাদের ধারণা এসব ভিডিও গেম এবং সিনেমাগুলোর এ্যাকশন দৃশ্যগুলোর কুপ্রভাবে কম বয়সী বাচ্চাদের দ্বারাও বড় বড় অপরাধমূলক কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এসব অহেতুক ভিডিও গেম থেকে বিরত রাখাই জরুরী। বাচ্চাদের ইসলামী সংগীত শুনাতে পারেন। কুরআন তিলাওয়াত শুনাতে পারেন। বাচ্চাদের আপনি যে পরিবেশে বড় করবেন, সে সেই পরিবেশেই নিজেকে মানিয়ে নিবে। গেমস টিভিতে অভ্যস্ত করলে সে তাতেই অভ্যস্ত হবে, কুরআন তিলাওয়াত গজলে অভ্যস্ত করলে ইনশাআল্লাহ তাতেই অভ্যস্ত হবে। আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিন, সন্তানকে কোন পরিবেশে দেখতে
চান?
‎ﻭﻛﺮﻩ ﻛﻞ ﻟﻬﻮ ﻟﻘﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻛﻞ ﻟﻬﻮ
‎ﺍﻟﻤﺴﻠﻢ ﺣﺮﺍﻡ ﺇﻻ ﺛﻼﺛﺔ : ﻣﻼﺑﻌﺔ ﺍﻫﻠﻪ، ﻭﺗﺄﺩﻳﺒﻪ ﻟﻔﺮﺳﻪ،
‎ﻣﻨﺎﺿﻠﺘﻪ ﺑﻘﻮﺳﻪ … ﺃﻟﺦ
‎ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻋﺎﺑﺪﻳﻦ - ﻛﺮﻩ ﻛﻞ ﻟﻬﻮ ﺃﻯ ﻛﻞ ﻟﻌﺐ ﻭﻋﺒﺚ
‎‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻹﺑﺎﺣﺔ - 6/395 ، ‎ﻭﺃﻣﺎ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﺮﺩ ﻓﻴﻪ ‏( ﺍﻯ ﻓﻰ ﺍﻟﻠﻬﻮ ‏) ﺍﻟﻨﺺ ﻋﻦ
‎ﺍﻟﺸﺎﺭﻉ، ﻭﻓﻴﻪ ﻓﺎﺋﺪﺓ ﻭﺻﻠﺤﺔ ﻟﻠﻨﺎﺱ، ﻓﻬﻮ ﺑﺎﻟﻨﻈﺮ
‎ﺍﻟﻔﻘﻬﻰ ﻋﻠﻰ ﻧﻮﻋﻴﻦ : ﺍﻷﻭﻝ ﻣﺎ ﺷﻬﺪﺕ ﺍﻟﺘﺠﺮﺑﺔ ﺑﺄﻥ
‎ﺿﺮﻭﺭﺓ ﺃﻋﻈﻢ ﻣﻦ ﻧﻔﻌﻪ، ﻭﻣﻔﺎﺳﺪﻩ ﺃﻏﻠﺐ ﻋﻠﻰ
‎ﻣﻨﺎﻓﻌﻪ، ﻭﺃﻧﻪ ﻣﻦ ﺍﺷﺘﻐﻞ ﺑﻬﺎ ﺃﻟﻬﺎﻩ ﻋﻦ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ
‎ﻭﺣﺪﻩ، ﻭﻋﻦ ﺍﻟﺼﻠﻮﺍﺕ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﻤﺴﺎﺟﺪ، ﺇﻟﺘﺤﻖ ﺑﺬﺍﻟﻚ
‎ﺑﺎﻟﻤﻨﻬﻰ ﻋﻨﻪ ﻹﺷﺮﺍﻙ ﺍﻟﻌﻠﺔ، ﻓﻜﺎﻥ ﺣﺮﺍﻣﺎ ﺃﻭ ﻣﻜﺮﻭﻫﺎ،
‎‏( ﺗﻜﻤﻠﺔ ﻓﺘﺢ ﺍﻟﻤﻠﻬﻢ- 4/434 435- ) উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরআন

নাবালেগ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চার কন্ঠে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করা৷

প্রশ্ন
আমি একজন শিক্ষক। হিফয বিভাগে পড়াই। অনেক সময় নাবালেগ-অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চার কণ্ঠে সিজদার আয়াত শুনি। প্রশ্ন হল, বুঝমান অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাচ্চার কণ্ঠে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করতে হবে কি?
উত্তর
হ্যাঁ, বুঝমান নাবালেগ বাচ্চার কণ্ঠে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব
হবে।
-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪০; আলবাহরুর রায়েক ২/১১৯; ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৮; শরহুল মুনিয়্যা পৃ. ৫০০; তাবয়ীনুল হাকায়েক
১/২০৬৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১১১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কুরআন

শুনেছি, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের কাছে দাঁড়িয়ে...

প্রশ্ন
শুনেছি, কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের কাছে দাঁড়িয়ে দুআ করলে মৃত ব্যক্তি
নিজে সাহস পান এবং ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়। কুরআন-হাদীসের
আলোকে জানতে চাই, উক্ত কথাগুলো সঠিক কি না?
উত্তর
প্রশ্নোল্লিখিত কথা দুটির প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় পাওয়া যায়। এক বর্ণনায় আছে, দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে কিছু সময় অবস্থান করলে তার নিঃসঙ্গতাভাব দূর হয়।
অপর একটি বর্ণনায় মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর সেখানে তার মাগফিরাতের জন্য এবং সে যেন দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সেজন্য দুআ করার কথা বর্ণিত হয়েছে।
বর্ণনা দুটি নিম্নে পেশ করা হল-
এক. আবদুর রহমান ইবনে শুমাছা আলমহরী রাহ. বলেন, আমর ইবনে আস রা. যখন মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন তখন তার কাছে আমরা উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা যখন আমাকে দাফন করবে (প্রথমে আমাকে কবরে রেখে) আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি দিবে। এরপর একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যে পরিমাণ সময় লাগে ততটুকু সময় আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন এর দ্বারা আমার নিঃসঙ্গতার ভীতি দূর হয়ে যায় এবং আমি আমার রবের প্রেরিত দূতকে বুঝে-শুনে জবাব দিতে পারি।
(সহীহ মুসলিম ১/৭৬, হাদীস : ১২১; মুসনাদে আহমদ ৪/১৯৯)
সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাকার উববী রাহ. বলেন, উক্ত হাদীসে মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর তার কবরের পাশে অবস্থান করার কথা এজন্য বলা হয়েছে যেন এ সুবাদে সে কবরের সওয়াল-জওয়াবে দৃঢ় থাকতে পারে।
-শরহুল উববী ১/৩৮৬
অপর বর্ণনাটি হল, উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো
মাইয়্যেতকে দাফন করার পর সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের
জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং দুআ কর। যেন আল্লাহ তাআলা তাকে দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের
উত্তর দেওয়ার তাওফীক দান করেন। কেননা সে এখনই জিজ্ঞাসিত হবে।
(সুনানে আবু দাউদ ২/৪৫৯, হাদীস : ৩২১৩
আরো দেখুন : আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪/৫৬; ইলাউস সুনান ৮/৩৪২
ফতোয়া নং: ৪১০৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কুরআন

কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করা অবস্থায় কেউ সালাম দিলে তিলাওয়াতকারীর করণীয়...

প্রশ্ন
কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করা অবস্থায় কেউ সালাম দিলে তিলাওয়াতকারীর করণীয় কী?
উত্তর
কুরআন মজীদ তিলাওয়াতে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। সালাম দিলে তার
বিঘ্ন হবে এই আশঙ্কা থাকলে সালাম দেওয়া গুনাহ। তথাপি কেউ যদি তিলাওয়াতরত
ব্যক্তিকে সালাম দেয় তাহলে তিলাওয়াত বন্ধ করে তার উত্তর দেওয়া আবশ্যক নয়। তবে
উত্তর দিতে চাইলে ওয়াফকের জায়গা পর্যন্ত পড়ে সালামের উত্তর দিবে।
-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬১৭-৬১৮, ৬/৪১৫
ফতোয়া নং: ৩২০৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: কুরআন

আমার বাচ্চার বয়স ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একজন আলেমকে...

প্রশ্ন
আমার বাচ্চার বয়স ২ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একজন আলেমকে দুধ পান করানোর সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আড়াই বছর পর্যন্ত পান করানো যাবে। তারপর হারাম হবে। এখন জানতে পারলাম, ২ বছরের পর দুধ পান করানো যাবে
না।
আমার জানার বিষয় হল, দুই বছরের পর দুধ পান করানোর কোনো সুযোগ আছে কি না? এবং ঐ আলেমের কথা সঠিক কি না? দয়া করে দলিলসহকারে জানালে কৃতজ্ঞ
হব।
উত্তর
বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী সন্তানকে দুধ পান করানোর মেয়াদ চান্দ্র বছর হিসেবে দুই বছর। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) আর মায়েরা তাদের সন্তানদের পূর্ণ দুই বছর দুধ পান করাবে। (এ বিধান) তার জন্য যে দুধ পানের (মেয়াদ) পূর্ণ করতে চায়। -সূরা বাকারা : ২৩৩ আরেক আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, আর তার (সন্তান) দুধ ছাড়ানো হয় দু বছরে। -সূরা লুকমান : ১৪ সুতরাং দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর সন্তানকে আর দুধ পান করানো যাবে না। তাই আড়াই বছর পর্যন্ত পান করানো যাবে- এ কথা ঠিক নয়। -সূরা বাকারা : ২৩৩; তাফসীরে তবারী ৪৯৬২; মুখতাসারুত তহাবী ২২০; ফাতহুল কাদীর ৩/৩০৯; গুনইয়াতু যাবীল আহকাম
ফতোয়া নং: ৩০৫২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: কুরআন

আমাদের মকতবে কিছু পুরাতন ছেঁড়া-ফাটা কুরআন শরীফ ও কায়েদা-আমপারা আছে।...

প্রশ্ন
আমাদের মকতবে কিছু পুরাতন ছেঁড়া-ফাটা কুরআন
শরীফ ও কায়েদা-আমপারা আছে। কিছু কুরআন শরীফের বিভিন্ন জায়াগা পোকা খেয়ে ফেলেছে। যার ফলে এগুলো আর পড়ার
উপযুক্ত থাকেনি। হুযুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এসব
কুরআন শরীফ ও কায়েদা-আমপারা কী করব? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?
উত্তর
কুরআন শরীফ বা কায়েদা-আমপারা যদি ছিঁড়ে- ফেটে যায় কিংবা অন্য কোনো কারণে পড়ার উপযুক্ত না থাকে তাহলে একটি পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে ঘরবাড়িতে আলমারি বা এমন কিছুতে হেফাযতে রেখে দিবে। আর বাসাবাড়িতে
নিরাপদে যত্নসহকারে রাখা সম্ভব না হলে পবিত্র
কাপড় পেঁচিয়ে চলাচলমুক্ত কোনো পবিত্র স্থানে দাফন করে দিবে। অথবা ভারি কোনো
বস্তুর সাথে বেঁধে প্রবহমান নদী বা জলাশয়ে
কিংবা পুকুরে ডুবিয়ে দিবে।
-ফাযাইলুল কুরআন, আবু উবায়দ পৃ. ২৪৩; আদ্দুররুল
মুখতার ৬/৪২২; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৮০; উমদাতুল
কারী ২০/১৯; আলফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়াহ ১/৭৬
ফতোয়া নং: ২৫০৬
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: কুরআন

আমাদের দেশে প্রচলিত দুটি বিষয় সম্পর্কে হুযুরের কাছে জানতে চাই-...

প্রশ্ন
আমাদের দেশে প্রচলিত দুটি বিষয় সম্পর্কে হুযুরের কাছে জানতে চাই-
১. মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষের কয়েকটি আয়াত পড়া কি সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত?
২. দাফনের পর বা কবর যিয়ারতের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা এবং দুআর সময় হাত তোলাও কি সহীহ? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর
(১) : হাঁ, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার মাথার নিকট সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষের কয়েকটি আয়াত পড়া সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আলা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমাকে আমার আববা বলেছেন, বৎস! আমি যখন ইন্তিকাল করব আমার জন্য একটি লাহাদ কবর খনন করবে এরপর যখন আমাকে কবরে রাখবে তখন এই দুআ পড়বে بسم الله و على ملة رسول الله (অর্থ) ‘আল্লাহর নামে এবং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বীনের উপর আপনাকে দাফন করছি।’ তারপর আমার কবরে মাটি দিয়ে দিবে এবং আমার শিয়রে সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষের কয়েকটি আয়াত পড়বে। কেননা আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উক্ত আয়াতগুলো পড়তে শুনেছি। -তাবারানী কাবীর ১৯ : ২২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ ৩/১৬২; আসারুস সুনান, হাদীস ১১০৮
(২) : আর দাফন করার পর বা কবর যিয়ারতের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করা এবং দুআ করার সময় হাত তোলাও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত ওসমান রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তিকে কবর দিতেন তখন তার কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করতেন এবং বলতেন তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাতের দুআ কর এবং সওয়াল-জওয়াবের সময় অবিচল থাকার দুআ কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২১৩
অন্য হাদীসে এসছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন আমি আল্লাহর শপথ করে বলছি আমি যেন আজও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি তাবুক যুদ্ধের সময় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ যুলবিযাদাইন রা.-এর কবরে নেমেছেন, সাথে আবু বকর ও ওমর রা.-ও আছেন। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দাফন করার পর কেবলামুখী হয়ে দুহাত তুলে বলছেন- হে আল্লাহ আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট আপনিও তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান...। -হিলয়াতুল আউলিয়া ১: ১২২; ফাতহুল বারী ১১/১৪৯
আরেক হাদীসে এসেছে, হযরত আয়শা রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে আমার বাড়িতে ছিলেন। গভীর রাতে তিনি যখন বুঝলেন আমি ঘুমিয়ে পড়েছি তখন আস্তে আস্তে দরজা খুলে বাহিরে বের হলেন। আমি তখনও ঘুমাইনি তাই আমি তাঁর পেছনে পেছনে বের হলাম এবং দেখলাম তিনি বাকীতে গিয়ে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং (দুআর জন্য) তিনবার হাত তুললেন...। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৪
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আবু বকর রা. বলেন, হযরত আনাস রা. যখন কোনো মৃত ব্যক্তিকে কবর দিতেন তখন কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন, হে আল্লাহ! আপনার বান্দাকে আপনার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুতরাং আপনি তাকে দয়া করেন এবং রহম করেন। হে আল্লাহ! তার কবরকে তার জন্য প্রশস্ত করে দিন এবং তাকে উত্তম রূপে কবুল করে নিন। হে আল্লাহ! সে যদি আপনার নেক বান্দা হয়ে থাকে তাহলে তার ছাওয়াব আরো বাড়িয়ে দিন আর যদি সে গুনাহগার হয়ে থাকে তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৩৩৪; সুনানে বায়হাকী ৩/১৬২; মাজমাউয যওয়ায়েদ ৩/১৬২; ইলাউস সুনান ৮/৩৪২
ফতোয়া নং: ২০৬১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: কুরআন

আমি একটি হেফযখানার শিক্ষক। আমাদের হেফযখানার অধিকাংশ ছাত্রই নাবালেগ। ছাত্রদের...

প্রশ্ন
আমি একটি হেফযখানার শিক্ষক। আমাদের হেফযখানার অধিকাংশ ছাত্রই নাবালেগ। ছাত্রদের থেকে সবক শোনার সময় প্রায়ই সিজদার আয়াত শুনতে হয়। জানতে চাই, এ সকল নাবালেগ ছাত্রদের থেকে সিজদার আয়াত শোনার কারণে আমার উপর কি সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব
হবে?
উত্তর
বুঝমান নাবালেগ শিশু থেকে সিজদার আয়াত শুনলে শ্রোতার উপর সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হয়। হেফযখানার ছাত্ররা সাধারণত বুঝমানই হয়ে থাকে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হেফযের ছাত্র নাবালেগ হলেও তাদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব
হবে।
-কিতাবুল আছল ১/৩১১; মাবসূত, সারাখসী ২/৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/১০৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫০০; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬৫; আলবাহরুর রায়েক
২/১১৯

ফতোয়া নং: ২০৫১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: কুরআন

সিজদার আয়াতের অর্থ পড়লে কি সিজদা দেওয়া ওয়াজিব?

প্রশ্ন
সিজদার আয়াতের অর্থ পড়লে কি সিজদা দেওয়া ওয়াজিব?
উত্তর
হ্যা, সিজদার আয়াতের অর্থ পড়লে ও সিজদা দেওয়া ওয়াজিব। কারন কুরআন শব্দ ও অর্থ উভয়টির নাম।
দলিল; বাদায়ে ১/৪৩০[দারুল ইহয়াউত তুরাব], খুলাসা ১/১৮৪[হক্কানিয়া], আলমগিরী ১/১৩১, তাতার খানিয়া ১/৫৫৯,

ফতোয়া নং: ২০১৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: কুরআন

স্কুলের ধর্ম বইয়ে কুরআন শরীফের সূরা, দুআ-দরূদ ইত্যাদি লেখা থাকে।...

প্রশ্ন
স্কুলের ধর্ম বইয়ে কুরআন শরীফের সূরা, দুআ-দরূদ ইত্যাদি লেখা থাকে। আমাদের বাসার পাশে ভাঙ্গারি দোকানগুলোতে অনেকে পুরাতন বই বিক্রির সময় ধর্ম বইগুলোও কেজি হিসেবে বিক্রি করে।
যা দ্বারা তারা প্যাকেট বানিয়ে বিক্রি করে।
জানতে চাই, আল্লাহ তাআলার নাম বা কোনো আয়াত কিংবা দুআ লেখা কাগজ
দিয়ে প্যাকেট বানানো ও সেগুলো পণ্য দেওয়ার
কাজে ব্যবহার করার হুকুম কী?
উত্তর
কুরআনে কারীমের আয়াত, হাদীস শরীফ অথবা আল্লাহ তাআলার নাম কিংবা কোনো যিকির লেখা কাগজ অধিক সম্মানের যোগ্য। তা সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি। এসব কাগজ দিয়ে প্যাকেট বানানো ও তা গ্রাহককে পণ্য দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা নাজায়েয। তাই এ ধরনের বই ও কাগজ ভাঙ্গারীর কাছে বিক্রি করাও জায়েয হবে না। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২২

ফতোয়া নং: ২০০৫
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: কুরআন

স্কুলের ধর্ম বইয়ে কুরআন শরীফের সূরা, দুআ-দরূদ ইত্যাদি লেখা থাকে।...

প্রশ্ন
স্কুলের ধর্ম বইয়ে কুরআন শরীফের সূরা, দুআ-দরূদ ইত্যাদি লেখা থাকে। আমাদের বাসার পাশে ভাঙ্গারি দোকানগুলোতে অনেকে পুরাতন বই বিক্রির সময় ধর্ম বইগুলোও কেজি হিসেবে বিক্রি করে।
যা দ্বারা তারা প্যাকেট বানিয়ে বিক্রি করে।
জানতে চাই, আল্লাহ তাআলার নাম বা কোনো আয়াত কিংবা দুআ লেখা কাগজ
দিয়ে প্যাকেট বানানো ও সেগুলো পণ্য দেওয়ার
কাজে ব্যবহার করার হুকুম কী?
উত্তর
কুরআনে কারীমের আয়াত, হাদীস শরীফ অথবা আল্লাহ তাআলার নাম কিংবা কোনো যিকির লেখা কাগজ অধিক সম্মানের যোগ্য। তা সংরক্ষণ করে রাখা জরুরি। এসব কাগজ দিয়ে প্যাকেট বানানো ও তা গ্রাহককে পণ্য দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা নাজায়েয। তাই এ ধরনের বই ও কাগজ ভাঙ্গারীর কাছে বিক্রি করাও জায়েয হবে না। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২২


Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.