Login | Register

ফতোয়া: ফেইসবুক-মোবাইল

ফতোয়া নং: ৪৬২৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ভিডিও ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ক্রয় বিক্রয়৷

প্রশ্ন
‘মোবাইল’ ফোনেরই আধুনিক সংস্করণ। কিন্তু এ আবিষ্কার শুধু কথোপকথন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং মোবাইলের সাথে আজকাল ক্যামেরা এবং ভিডিও, ইন্টারনেটসহ সবধরনের সুবিধা রয়েছে। মোবাইলের এ সুবিধাগুলো আজকাল ভাল-খারাপ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার হতে দেখা যায়। তাই
প্রশ্ন দাঁড়ায় এ সকল সুবিধাযুক্ত মোবাইল
ক্রয়-বিক্রয় জায়েয কি না?
উত্তর
এসব মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। তবে অবৈধ কোনো কাজে তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৯১, আল- বাহরুররায়েক ৮/২০২, জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৪৬, বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ
১/৩৫৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ভুল নাম্বারে ফ্লেক্সি হলে টাকা কে দিবে?

প্রশ্ন
ফ্ল্যাক্সিলোডে ভুল হলে কোনো কোনো সময় অন্যের মোবাইলে টাকা চলে যায়। এক্ষেত্রে এর ক্ষতিপূরণ কে দিবে? অনেক দোকানীকে এ টাকা জোরপূর্বক ফ্লেক্সি করতে আসা গ্রাহক থেকে আদায় করতে দেখা যায়। এটা জায়েয কি না?
উত্তর
যে নাম্বারে ফ্লেক্সি করা হবে সে নাম্বারেই টাকা জমা হবে। ভুল নাম্বারে করা হলে ভুল নাম্বারে যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টাকা উদ্ধার না করা গেলে দেখতে হবে ভুল কার থেকে হয়েছে। সাধারণত ফ্লেক্সিকারী গ্রাহকের নাম্বার ভিন্ন খাতায় প্রথমে নোট করা হয়। সেটা কখনো দোকানী নিজে লিখে কখনো গ্রাহকের হাতে লেখায়। দোকানী লিখলে গ্রাহকের জন্য ঐ লিখা মিলিয়ে নেওয়া কর্তব্য। এরপর খাতার নোটকৃত নাম্বারে ফ্লেক্সি না করে ভুলে অন্য নাম্বারে করলে এর ক্ষতি দোকানীর নিজেরই। এ বাবদ গ্রাহক থেকে কিছুই নিতে পারবে না। হাঁ, গ্রাহক যদি স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু দিতে চায় তবে তা নিতে বাধা নেই। আর খাতায় যা নোট করা হয়েছে দোকানী যদি সে নাম্বারেই ফ্লেক্সি করে থাকে তবে এ ভুলের ক্ষতিপূরণ গ্রাহককে দিতে হবে। অবশ্য দোকানী খাতায় ভুল নাম্বার নোট করেছে এ কথা প্রমাণিত হলে এ ভুলের দায়দায়িত্ব দোকানীর, গ্রাহকের নয়। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পরনারীর সাথে মোবাইলে কথা বলার সময় সালাম আদান-প্রদান৷

প্রশ্ন
মহিলাদের সাথে মোবাইলে কথা বলার সময় কি সালাম দেয়া যাবে? বা মহিলা কি সালাম দিতে পারবে? অনেক সময় দেখা যায় বড় বা সম্মানি ব্যক্তিদের কে কল করার পর তারা আগে সালাম দিয়ে দেন৷ তখন কলকারী উত্তর দিয়ে আবার সালাম দেন৷ এটা কি সঠিক?
উত্তর
গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে প্রয়োজনে পর্দায় থেকে কথা বলা জায়েয। (যদি ফেতনার আশংকা না থাকে।) তাই মোবাইলে মহিলার সাথে কথা বলতে হলেও সালাম দিয়েই কথা শুরু করবে। যে আগে কথা বলবে সে সালাম দিবে। মহিলা আগে কথা বললে সে আগে সালাম দিবে। আর পুরুষ আগে কথা বললে সে সালাম দিবে। যার নাম্বারে কল করা হচ্ছে তিনি যদি বড় ও সম্মানী ব্যক্তি হন তখন তিনি সালাম দিলে এ সালামের উত্তর দেওয়া হয় না। বরং কলকারী উল্টো তাকে সালাম দেয়। এটা ভুল নিয়ম। তাই বড় ও সম্মানী ব্যক্তি রিসিভ করে সালাম দিলে অপর প্রান্ত থেকে এর শুধু উত্তরই দিবে। পাল্টা সালাম দিবে না। -সুনানে তিরমিযী ২-৯৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের স্ক্রিনে ছবি সেভ করে রাখা৷

প্রশ্ন
মোবাইলের স্ক্রিনে পুরুষ বা মহিলার ছবি সেভ করে রাখার হুকুম কী?
উত্তর
স্ক্রিনে ছবি সেভ করে রাখলে ছবির প্রদর্শনী হয় এবং ছবি খুলে রাখা হয়। যা রহমতের ফিরিশতার আগমন থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। এছাড়া শরীয়তে ছবির প্রকাশ ও প্রদর্শন নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, স্ক্রিনে মানুষ বা কোন প্রাণীর ছবি সেভ করে রাখা থেকে বিরত থাকা জরুরি। আর স্ক্রিনের ছবিটি যদি কোনো মহিলার হয় তবে গায়রে মাহরামদের জন্য ছবিটি দেখা এবং অন্যদের দেখানোর ভিন্ন গুনাহ হবে। এতে ছবি প্রদর্শনের গুনাহ ছাড়া পর্দা লংঘনের গুনাহ হয়। তাই এ থেকে বিরত থাকা আরো বেশী জরুরি।
-সহীহ বুখারী ২/৮৮০; আলমাদখাল ইবনুল হাজ ১/২৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৪; ফাতাওয়া
হিন্দিয়া ৫/৩৫৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াতের ব্যবহার৷

প্রশ্ন
গানের ব্যবহার যেহেতু নাজায়েয তাই অনেকেই এক্ষেত্রে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত, আযান ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকে। ধারণা করা হয় যে, এতে গুনাহ তো হবেই না, বরং আমার সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি কিছু সময় হলেও কুরআনের তিলাওয়াত শুনছে। তাই এটাকে ভাল মনে করা হয়। আযানের শব্দ বা জিকর শুনছে। এতে শ্রোতাকে সওয়াবের বিষয় শোনানো হচ্ছে। এদৃষ্টিতে একে অনেকেই ভাল বলে। জানতে চাই ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআন, জিকির, আযানের ব্যবহারের হুকুম
কী?
উত্তর
নিঃসন্দেহে প্রশ্নোক্ত উদ্দেশ্যেটি ভালো।
রিংটোন, মিউজিক বা গান না শুনিয়ে সেস্থানে কুরআনের তিলাওয়াত বা জিকর, আযান ইত্যাদি শোনানোর ব্যবস্থা করা অবশ্যই একটি প্রশংসণীয় কাজ। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এটি ভাল মনে হলেও এক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহারে একাধিক খারাপ দিক রয়েছে। যার একটিই এ থেকে বিরত থাকার জন্য যথেষ্ট। যেমন- (১) ওয়েলকাম টিউন-এর ব্যবহার হয় যার কাছে কল করা হয়েছে তার সাথে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে কি না এটি বুঝার জন্যই। কারো কাছে কল করার পর রিংটোন পেলে বুঝা যায় যে, তার মোবাইলে রিং হচ্ছে। কল করার পর বিজিটোন আসলে বুঝা যায় সে এখনও অন্যের সাথে কথা বলছে। আবার ফোন বন্ধ থাকলেও এক ধরনের টোন পাওয়া যায়। মোটকথা কাঙ্ক্ষিত ফোনটিতে সংযোগ লাগার জন্য যে সংকেত-টোন রয়েছে সেস্থানে কুরআনের তিলাওয়াত, আযান ইত্যাদি ফিট করলে এই তিলাওয়াত ও আযানও ফোনকারীকে প্রথমে ঐ টোনের কাজ দিবে। অর্থাৎ ফোনকারী বুঝবে যে, কাঙ্ক্ষিত ফোনটিতে সংযোগ পেয়েছে, রিং হচ্ছে। আচ্ছা, বলুন তো আল্লাহর মহান কালাম কি এই কাজে ব্যবহার করা উচিত? এই কাজে তিলাওয়াতের ব্যবহার কি অপাত্রে কুরআনের ব্যবহার নয়? আযান যা শরীয়তের একটি মহান নিদর্শন ও জিকর, একে এই কাজে ব্যবহার করা কি সমীচীন? (২) কাঙ্ক্ষিত নাম্বারে কল করার পর রিংটোন হিসাবে ফোনকারীর কানে কুরআনের তিলাওয়াত ভেসে আসছে, হয়ত রিসিভের অপেক্ষার সাথে সাথে তিলাওয়াতও শুনছে। কিন্তু যার নাম্বারে ফোন করা হয়েছে সে তো তিলাওয়াত শুনতে পাচ্ছে না। বিধায় সে এমন সময় রিসিভ করল যখন তিলাওয়াতের কোন শব্দের মাঝে কিংবা এমন স্থানে রিসিভ করা হল যখন থেমে গেলে আয়াতের অর্থই বদলে যায়। তদ্রূপ আযান ডাউনলোড করলে কেউ যদি ‘লা-ইলাহা’ পর্যন্ত উচ্চারিত হওয়ার পর ফোন রিসিভ করে ফেলে তাহলে অর্থ দাঁড়ায়- ‘কোন মাবুদ নেই।’ ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটে। এই সমস্যার কারণেও এস্থানে এগুলোর ব্যবহার করা যাবে না। (৩) এছাড়া বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে থেকে ফোনে কথা বলার সময় কানে তিলাওয়াতের ধ্বনি আসলেও তা মনোযোগ সহকারে শোনা হয় না। ফলে তিলাওয়াত শোনার হক আদায় হয় না। তাই ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআন- তিলাওয়াত বা আযান কিংবা যিকরের ব্যবহার করা যাবে না। এর জন্য স্বাভাবিক রিংটোনই উপযোগী। -আত-তিবয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন- নববী ৪৬, হককুত্তিলাওয়া-হুসাইনী শাইখ উসমান-৪০১, আলমগীরী ৫/৩১৫, রদ্দুল মুহতার ১/৫১৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬১৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ডাউন লোডিং ব্যবসা৷

প্রশ্ন
মোবাইলে রিংটোন, মিউজিক, গান, ভিডিও-ছবি ইত্যাদি ডাউন লোড করার প্রবণতা বেড়েছে। এজন্য অনেক সার্ভিসিং সেন্টারে পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকে। জানতে চাই ডাউন লোড করে বিনিময় নেওয়া এবং এ ব্যবসা করা জায়েয কি না?
উত্তর
মিউজিক সংবলিত গান, প্রচলিত অশ্লীল ছবির ভিডিও ফিল্ম, অবৈধ চিত্র ইত্যাদির ডাউনলোড ব্যবসা নাজায়েয। কারণ এতে নিজের তো গুনাহ হয়ই, উপরন্তু অন্যের নিকট গুনাহের উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তাই এ ধরনের ডাউনলোড থেকে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে না। হাঁ, কোনো বৈধ চিত্র, মিউজিক ছাড়া রিংটোন, বাদ্যহীন গজল ইত্যাদি ডাউনলোড করা জায়েয এবং এ থেকে অর্জিত টাকাও হালাল। -সহীহ বুখারী ১/২৯৮, জামে তিরমিযী
১/২৪১৷ আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫, আল-বাহরুররায়েক ৮/১৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬১০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

চোরাই সেট ক্রয়-বিক্রয়৷

প্রশ্ন
মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে মোবাইল চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে। অনেকের মোবাইল হারিয়েও যায়। প্রশ্ন হল, এ ধরনের সেট ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম কী?
উত্তর
ছিনতাইকৃত বা চোরাই সেট জেনে শুনে ক্রয় করা জায়েয নেই। কেউ ক্রয় করলেও এ সেট ক্রেতার জন্য ব্যবহার করা বৈধ হবে না। বরং মালিক জানা থাকলে মূল মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে ক্রেতাবিক্রেতা থেকে মূল্য ফেরত নিতে পারবে। মালিকের সন্ধান পাওয়া না গেলে যার থেকে কিনেছে তাকে দিয়ে মূল্য ফেরত নিতে পারবে। আর কারো কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া সেট হস্তগত হলে কী করতে হবে তা তো সবারই জানা আছে। এর ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
-আল-মুহীতুল বুরহানী ৭/৫৯, বাদায়েউস সানায়ে
৬/৪৫, খানিয়া ৩/৪১৮, ফাতহুল কাদীর
৫/১৬৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬০৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মসজিদে মোবাইলের ব্যবহার৷

প্রশ্ন
মসজিদের ভিতরে থেকে মোবাইলে কথাবার্তা বলা যাবে কি না? কী ধরনের কথাবার্তা বলা যাবে?
উত্তর
মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এখানে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি করে বৈধ কথাবার্তাও নাজায়েয। অবশ্য ইবাদতের উদ্দেশ্যে এসে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি না হয় এভাবে বৈধ কথাবার্তা বলার অবকাশ আছে। তবে মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলাই উচিত। আর মসজিদে প্রবেশের আগেই রিংটোন বন্ধ করে দেয়াই আদব। বিশেষ করে কেউ ইবাদতে মগ্ন থাকলে বা জামাতের সময় হলে এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরী। - আলমুহাল্লা-৩/১৬০, শরহুল মুনইয়াহ ৬১০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২১,ফাতহুল বারী ১/৬৫৩, এলামুস সাজিদ ৩২৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬০২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের রিংটোন হিসাবে ‘সালাম’-এর ব্যবহার৷

প্রশ্ন
অনেকে সালাম ডাউনলোড করে তা রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করে এটি জায়েয কিনা?
উত্তর
হাঁ, এ ক্ষেত্রে সালামের ব্যবহার জায়েয। কারণ, শরীয়তে সালাম এর ব্যবহার দু’ভাবে এসেছে। একটি হল অভিবাদন হিসাবে সালামের ব্যবহার। দ্বিতীয়টি হল অনুমতি প্রার্থনামূলক সালাম। অর্থাৎ কারো ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার জন্য সালাম দেওয়া। মোবাইলের রিংটোন হিসেবে সালামের ব্যবহার এ প্রকারের সাথে মিল রয়েছে। তাই রিংটোনের জন্য সালামের ব্যবহার নাজায়েয নয়। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৫৩২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

গান বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র৷

প্রশ্ন
ইসলামে গান বাজনা কি বৈধ? অনেকে বলে এগুলো নাকি বৈধ ৷ তাই মুফতী সাহেবের নিকট আকুল আবেদন, কুরআন হাদীসের
দলিল সহ সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন৷
উত্তর
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦْ
‎ﻳَﺸْﺘَﺮِﻱ ﻟَﻬْﻮَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦْ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ-
‘মানুষের মাঝে কেউ কেউ এমন আছে, যে আল্লাহর রাস্তা (ইসলাম) হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা খরিদ করে’ (লুক্বমান ৬) । ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) আল্লাহর কসম করে বলেছেন, উক্ত আয়াতে ‘অসার কথা’ বলতে গানকে বুঝানো হয়েছে। আবূ আমির ও আবূ মালিক আল- আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ﻟَﻴَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦْ
‎ﺃُﻣَّﺘِﻰ ﺃَﻗْﻮَﺍﻡٌ ﻳَﺴْﺘَﺤِﻠُّﻮﻥَ ﺍﻟْﺤِﺮَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺮِﻳﺮَ ﻭَﺍﻟْﺨَﻤْﺮَ ﻭَﺍﻟْﻤَﻌَﺎﺯِﻑَ
‘অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন অনেক গোষ্ঠী হবে, যারা স্বাধীন মানুষের কেনা-বেচা, রেশম ব্যবহার, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল গণ্য
করবে’।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
(ছাঃ) বলেছেন, ﻟَﻴَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻓِﻲْ ﻫﺬِﻩِ ﺍﻷُﻣَّﺔِ ﺧَﺴْﻒٌ
‎ﻭَﻗَﺬْﻑٌ ﻭَﻣَﺴْﺦٌ ﻭَﺫﻟِﻚَ ﺇِﺫَﺍ ﺷَﺮِﺑُﻮﺍ ﺍﻟﺨُﻤُﻮﺭَ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ
‎ﺍﻟْﻘَﻴْﻨَﺎﺕِ ﻭَﺿَﺮَﺑُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻤَﻌَﺎﺯِﻑِ- ‘অবশ্যই এই উম্মতের
মধ্যে ভূমিধ্বস, আসমান থেকে নিক্ষিপ্ত গযব ও দৈহিক রূপান্তরের শাস্তির প্রাদুর্ভাব দেখা দিবে। এসব তখনই ঘটবে যখন তারা মদ্যপান শুরু করবে, গায়িকা রাখবে ও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে’৷ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঢোল-তবলা বাজাতে নিষেধ করেছেন এবং বাঁশিকে দুষ্ট লোক ও বোকার কণ্ঠস্বর নামে আখ্যায়িত করেছেন৷ পূর্বসূরি আলেমগণ যেমন ইমাম আহমাদ (রহঃ) প্রমুখ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, অসার ক্রীড়া-কৌতুক, গান- বাজনা এবং তাতে ব্যবহৃত যন্ত্রাদি হারাম। যেমন সারেঙ্গী, তানপুরা, রাবাব, মন্দিরা, বাঁশি, ফ্লুট বাঁশি, তবলা ইত্যাদি। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রসমূহ নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিষেধ বাণীর আওতায় পড়ে। যেমন- বেহালা, একতারা, দোতারা, হার্প, পিয়ানো, গিটার, ম্যান্ডেলিন ইত্যাদি। এই যন্ত্রগুলি বরং হাদীছে নিষিদ্ধ তৎকালীন অনেক যন্ত্র থেকে অনেক বেশী মোহ ও তন্ময়তা সৃষ্টি করে। এমনকি বাদ্যযন্ত্রের নেশা মদের নেশা থেকেও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। আর যদি বাদ্যযন্ত্রের সাথে গান ও সুর সংযোজিত হয় তাহলে পাপের পরিধি বেড়ে যাবে, হারামও কঠিন হবে। সেই সাথে গানের কথাগুলি যদি প্রেম-ভালবাসা, রূপচর্চা, যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ইত্যাদি বিষয়ে হয় তাহলে তো মুছীবতের কোন শেষ
নেই।
এ কারণেই আলেমগণ বলেছেন, গান ব্যভিচারের বার্তাবাহক এবং অন্তরে কপটতা সৃষ্টিকারী। মোটকথা, বর্তমান কালে গানের কথা, সুর ও বাদ্য এক বিরাট ফিৎনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিউজিকের এই সর্বগ্রাসী থাবা এখন শুধু গানেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ঘড়ি, ঘণ্টা, ভেঁপু, শিশুখেলনা, কম্পিউটার ও টেলিফোন ও মোবাইলের মাঝেও বিস্তৃত হয়েছে। মনের দৃঢ় সংকল্প না থাকলে এসব থেকে বাঁচা বড়ই দুষ্কর। গান-বাজনার সঙ্গে পরিচিত নয় এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। গানের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। কিন্তু কম্বলের লোম বাছা যেমন কষ্টকর তেমনি অসংখ্য হারাম গানের মধ্য হতে দু’একটি হালাল গান বের করাও কষ্টকর। গান দ্বারা যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসা করা হয়, জিহাদের প্রতি অনুপ্রাণিত করা হয়, ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়, চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা হয়, পাপ- পংকিলতা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে বাদ্যযন্ত্রবিহীন এ জাতীয় গান বৈধ হবে। উল্লিখিত ও অনুরূপ বিষয় ছাড়া গান হারাম - অনুবাদক। -তাফসীরে ইবনু কাছীর ৬/৩৩৩ পৃঃ, বুখারী; মিশকাত হাঃ ৫৩৪৩। তিরমিযী হাঃ ২১৮৫; সিলসিলা ছহীহাহ হাঃ ২২০৩, বায়হাক্বী, মিশকাত হাঃ ৪৫০৩; ছহীহুল জামে‘ হাঃ ১৭৪৭-৪৮, তিরমিযী হাঃ ১০০৫; ছহীহুল জামে‘ হাঃ ৫১৯৪। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৫২৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইল বা এ জাতিয় বস্তু স্ত্রীকে মোহর হিসেবে দেয়া৷

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি বিবাহের কিছুদিন পরে বিদেশ চলে যায়। সেখান থেকে স্ত্রীর জন্য দশ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট পাঠায়। এরপর বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়। তালাকের পর মোহর আদায়ের সময় স্বামী ঐ মোবাইলকে মোহরের অন্তর্ভুক্ত ধরে এবং বলে যে, আমি সেটা মোহর হিসেবেই দিয়েছি। কিন্তু তালাক দেওয়ার পূর্বে মোবাইল মহর হিসাবে দেওয়ার কথা জানায়নি। স্ত্রী মহর হিসাবে ধরতে সম্মত নয়। সে বলছে, মোবাইল কি মোহর হয়? জানতে চাই, উক্ত স্বামী এই মোবাইল মোহরের হিসেবের মধ্যে ধরতে পারবে কি না?
উত্তর
আমাদের সমাজে মোবাইল বা এ ধরনের ব্যবহারিক সামগ্রী মোহর হিসেবে দেওয়ার প্রচলন নেই। তাই এ জাতীয় দ্রব্যাদি মোহর হিসেবে দিতে চাইলে পূর্বেই স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া জরুরি। অন্যথায় তা উপহার হিসেবে দেওয়া
হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। সুতরাং প্রশ্নের
বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু মোবাইলটি দেওয়ার সময় স্ত্রীর সাথে সেটা মোহর হিসেবে দেওয়ার কথা হয়নি তাই এখন সেটাকে মোহর হিসেবে গণ্য করার অবকাশ নেই। -আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৫০; ফাতহুল কাদীর ৩/২৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৩২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৮৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৪১৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল...

প্রশ্ন
অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল বের
করে আগে দেখে নেয় কার কল আসল
তারপর মোবাইল বন্ধ করে। এটা কি
ঠিক? এটা কি আমলে কাছীর বলে গণ্য
হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
মোবাইল ফোন দেখে দেখে এক হাত দ্বারা বন্ধ করলে নামায নষ্ট হবে না। কেননা এটা আমলে কাছীরের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কারো কল আসলে এটা ইচ্ছাকৃত দেখার কারণে নামায মাকরূহ হবে। কেননা নামায অবস্থায় কোনো লেখা দেখা এবং বোঝার চেষ্টা করা মাকরূহ। তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কল আসামাত্রই মোবাইলটি এক হাত দিয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিবে। বন্ধ করার জন্য বাটন দেখার প্রয়োজন হলে দেখতে পারবে। প্রকাশ থাকে যে, মোবাইল ব্যবহারকারীদের কর্তব্য হল, মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই অথবা অন্ততপক্ষে নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া। কেননা নামাযের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে অন্য নামাযীদেরও ব্যাঘাত ঘটে। তাই যথাসময়ে ফোন বন্ধ করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯; শরহুল মুনইয়াহ, পৃষ্ঠা : ৪৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪, ৬২৪ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১৫২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

বর্তমানে আমরা যে মোবাইল মনি অর্ডার, বিকাশের মাধ্যমে কোথাও টাকা...

প্রশ্ন
বর্তমানে আমরা যে মোবাইল মনি অর্ডার, বিকাশের মাধ্যমে কোথাও টাকা পাঠালে শতকরা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কেটে রাখে, এমনি মোবাইলে রিচার্জের সময় 1/2 টাকা কেটে রাখে ৷ জানার বিষয় হলো, উক্ত মুয়ামালা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কিনা??? দলিল সহ উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন৷
উত্তর
হ্যাঁ, মোবাইল, মনি অর্ডার, বিকাশ ও রিচার্জের সময় সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত যে টাকা উক্ত কাজ আন্জামদাতাগন কেটে রাখে তা উজরতে মিসিলের বেশি না হলে গ্রহন করা বৈধ ৷ তবে উজরতে মিসিলের বেশি গ্রহন করা যাবে না৷
দলিলঃ
বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়াতিন মুয়াসারা 1/200 (দারুল কলম)৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১৩৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার...

প্রশ্ন
রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার আয়াত শোনলে সিজদা আদায় করতে হবে
কি?
উত্তর
রেডিও টেলিভিশনে তিলাওয়াত কারীর সরাসরি সম্প্রচারকৃত সিজদার আয়াত শুনলে
সিজদা করতে হবে। তবে রেকর্ড করা সিজদার আয়াত রেডিও
টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে শুনলে সিজদা আদায় করতে হবে না, তবে সতর্কতা মুলক সিজদা দিয়ে দেয়া ভালো।
দলিলঃ-
তাতারখানিয়া ২/৪৬২, মুহিত ২/৩৬২, বাহার ২/২১১,
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৩০
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে...

প্রশ্ন
মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কি জায়েয আছে?
উত্তর
মোবাইলে বা এর মেমোরিতে কুরআন মজীদ সংরক্ষণ করা এবং এখান থেকে
দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে অসুবিধা নেই।
তবে মোবাইলের স্ক্রীনে কুরআন মাজীদের আয়াত বা কোনো পৃষ্ঠা খুললে তার যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখতে হবে এবং লিখিত অংশ বিনা অযুতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে
হবে।
আর মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন মাজীদের আয়াত দৃশ্যমান না থাকলে তা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে। কিন্তু স্ক্রীণে কোনো আয়াত দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না৷ -আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩২৬১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা...

প্রশ্ন
মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা তরজমা মোবাইলে রাখা যাবে কি?
উত্তর
জ্বী, মোবাইল ফোনের স্পীকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনা যাবে। তবে তিলাওয়াত চলাকালীন সময় পূর্ণ আদব রক্ষা করে মনোযোগের সাথে শুনতে হবে। আর কুরআন মাজীদের তরজমা ও হাদীস মোবাইল মেমোরিতে সংরক্ষণ করা জায়েয আছে। তবে এগুলো মোবাইলে দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় সতর্ক থাকতে হবে যেন এর অসম্মান না হয়।
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার...

প্রশ্ন
রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার আয়াত শোনলে সিজদা আদায় করতে হবে
কি?
উত্তর
রেডিও টেলিভিশনে তিলাওয়াত কারীর সরাসরি সম্প্রচারকৃত সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করতে হবে। তবে রেকর্ড করা সিজদার আয়াত রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে শুনলে সিজদা আদায় করতে হবে না, তবে সতর্কতা মুলক সিজদা দিয়ে দেয়া ভালো।
দলিলঃ-
তাতারখানিয়া ২/৪৬২, মুহিত ২/৩৬২, বাহার ২/২১১,
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৬২
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল...

প্রশ্ন
আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল এনে দেশে পাইকারী ব্যবসা করেন। হুযুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ঐ পার্টসের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? এ দেশের মূল্য হিসেবে, নাকি চীনের? বিক্রয় মূল্য নাকি ক্রয়মূল্য? খুচরা মূল্য না পাইকারি মূল্য? আর যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যবসার মাল কি ব্যক্তিগত মালের সাথে যুক্ত হবে, নাকি ব্যক্তিগত সম্পদ আর ব্যবসার সম্পদের নেসাব ভিন্ন ভিন্ন?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার মামা যেদিন যাকাত আদায় করবেন সেদিন দেশের মার্কেটে পার্টসের পাইকারি মূল্য যত হবে সে হিসাবে যাকাত আদায় করবেন। এক্ষেত্রে দেশের পাইকারি বিক্রয় মূল্য ধর্তব্য হবে, ক্রয় মূল্য নয়। আর বছর পূর্ণ হলে ব্যবসার মালের সাথে ব্যক্তিগত স্বর্ণ-রূপা, টাকা- পয়সা ইত্যাদি যাকাতযোগ্য সব ধরনের সম্পদই হিসাব করতে হবে এবং যাকাতযোগ্য সকল সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে। -কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবায়েদ কাসেম ইবনে সালস্নাম পৃ. ৫২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬, ২/৩০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২২২, ২/২২৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৬৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮২৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ফেইসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে অনেকে সংক্ষেপে এভাবে সালাম দেয় "সালাম"...

প্রশ্ন
ফেইসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে অনেকে সংক্ষেপে এভাবে সালাম দেয় "সালাম" A/S, আরো ভিবিন্ন সংকেতের মাধ্যমে সালাম দেওয়া হয়। জানার বিষয় হল, এভাবে সালাম দিলে, সালাম হবে কিনা, এবং তার উত্তর দেওয়া ওয়াজীব কিনা?
উত্তর
সালাম শুধু "আস সালামু আলাইকুম" ও "সালামুন আলাইকুম" এ দু ভাবে দিলেই সালাম হয়। এবং তার উত্তর দেওয়া ওয়াজীব হয়। এছাড়া অন্য কোন ভাবে সালাম দিলে সালাম হবে না। এবং তার উত্তর দেওয়া ও জরুরী নয়। অতএব প্রশ্নে উল্লেখিত সংক্ষেপে সালাম দেওয়ার সুরতে সালাম হবে না।
দলিলঃ ফতোয়ায়ে শামী ৯/৫৯৬
‎وانه لا يجب رد سلام عليكم بجزم الميم وقال ابن عابدين انه لونون المجرد من ال كما هو تحية الملائك لاهل الجنة يجب الرد فيكون له صيغتان ...ولفظ السلام في الموضع كلها السلام عليكم اوسلام عليكم بالتنوين وبدون هذين كما يقول الجهال لايكون سلاما
আলমগীরি ৫/৩২৫; ইসালাতুল কাইরুয়ানি ১/১৬০, ফাওয়াকিহাতুদ দাওয়ানি ১/৯৮.
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫০৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে...

প্রশ্ন
আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে মেয়ের আইডি ব্যাবহার করলে মানুষ সেটা পড়ে এবং গুরুত্ব দেয়। তাই আমি ছেলে হয়ে মেয়ের নামে আইডি খুলে ব্যবহার করতে পারবো কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ইসলাম প্রচার প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে সাথে অনেক সওয়াবেরও কাজ, তবে তা শরিয়ত সম্মত পন্থায় হতে হবে। অবৈধ পন্থায় ইসলাম প্রচার করা যাবে না। আর মিথ্যা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই ইসলাম প্রচার করার ক্ষেত্রে কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। তাই অহেতুক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছেলে হয়ে মেয়ের আইডি ব্যবহার বৈধ হবে না।
‎ﻛﻤﺎ
‎ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻪ:(1 / ‎70ﺍﻟﻨﺴﺨﺔ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ) ‎ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ‎ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﻋﻠﻴﻨﺎ ‎ﺍﻟﺴﻼﺡ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻨﺎ ﻭﻣﻦ ﻏﺸﻨﺎ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻨﺎ ‎.ﻭ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﻟﻠﺴﺮﺧﺴﻲ:(/
486 , 11
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৫৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি এক প্রবাসী। আমার বিবাহ ঠিক হয়েছে, কিন্ত আমার ছুটি...

প্রশ্ন
আমি এক প্রবাসী। আমার বিবাহ ঠিক হয়েছে, কিন্ত আমার ছুটি আরো ছয় মাস পর হবে, তাই মোবাইলে বিবাহ করতে চাই। কিন্তু ব্জানার বিষয় হলো মোবাইলে বিবাহ কি বৈধ হবে?
উত্তর
না বৈধ হবে না। বিবাহের মাধ্যে যেহেতু স্বামী স্ত্রী উভয়ের ইজাব কবুল [প্রস্তাব গ্রহন ] সরাসরি শোনা শর্ত, তাই মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে না। তবে স্বামীর পক্ষ থেকে যদি এমন একজনকে ওকিল বানানো হয়, জিনি সরাসরি ইজাব বা কবুল করতে পারবেন, তাহলে বিবাহ বৈধ হবে।
দলিল;
শামী ৩/৯,হেদায়া ২/৩০৬, বাদায়ে ২/৪৮, আলমগিরী ১/২৬৮,


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৪৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পকেটে মোবাইল নিয়ে আমি ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হওয়ার কারনে স্কীনে...

প্রশ্ন
পকেটে মোবাইল নিয়ে আমি ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হওয়ার কারনে স্কীনে বীর্য লেগে যায়, অতপর আমি কাপর দিয়ে মুছে ফেলি, এবং এই অবস্থায় মোবাইল সাথে নিয়ে নামাজ পড়ি। মুফতি সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হল আমার নামাজ হয়েছে?
উত্তর
হ্যা, আপনার নামাজ হয়েছে। বীর্য যদি শুকিয়ে যায় ভিজা পবিত্র কাপর দিয়ে মুছে ফেললে স্কীন পবিত্র হয়ে যায়। আর যদি বীর্য আর্দ্র হয় শুকনা কাপর দিয়ে মুছে ফেললে পবিত্র হয়ে যায়।
দলিল;
আদ দুররুল মুখৎসর ১/৩১০, হেদায়া ১/৪২, বাহ্রুর রায়েক ১/৩৫১, আলমগিরী ১/৪১.
শেয়ার করে দিন।

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.04 render + 0.00 s transfer.