Login | Register

ফতোয়া: ফেইসবুক-মোবাইল

ফতোয়া নং: ৪৮৯৭
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন, আমাদের মোবাইলের ভেতর পুর্ন কুরআন...

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন, আমাদের মোবাইলের ভেতর পুর্ন কুরআন শরীফ লিখিত আকারে সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাখা আছে ৷ মাঝে মাঝে খুলে সহজে পড়তে পারি ৷ জানার বিষয় হলো, মোবাইলে কুরআন মাজিদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া জায়েয হবে কি না?
উত্তর
মোবাইলে বা মেমোরিতে কুরআনে কারীম রাখা এবং এখান থেকে দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এবং এই মোবাইল সাথে নিয়ে বাথরুমেও যাওয়া যাবে ৷ তবে মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন কারীমের আয়াত বা পৃষ্ঠা দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কিন্তু স্ক্রীণে যদি কোনো আয়াত দৃশ্যমান না থাকে তাহলে টয়লেটে নিয়ে যেতে কোন অসুবিধা নেই ৷
-আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬৩
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

স্ত্রীকে "তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ" বললে তালাক ৷

প্রশ্ন
জৈনক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে ঝগড়া হয় ৷ আর সেই ঝগড়ার মাঝে স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য বলে ফেলে তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ ৷ একথা বলে তালাকের কোন ইচ্ছা ছিল না ৷ শুধু ভয় দেখানোই উদ্দেশ্য ছিল ৷ এখন জানার বিষয় হলো উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? জানালে কৃতার্থ হবো ৷
উত্তর
"তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ" এটি কেনায়া শব্দ ৷ এধরনের বাক্য স্ত্রীকে সম্ভোধন করে বলার সময় তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়েন পতিত হয় ৷ আর তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না ৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে যেহেতু উক্ত ব্যক্তি এ বাক্য তালাকের উদ্দেশ্যে বলে নি ৷ শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছে ৷ তাই তালাক পতিত হয়নি ৷ এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বহাল রয়েছে ৷
-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৭৫; কাজীখান ১/৪৬৮; বায্যাযিয়া, ৪/১৯৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৫৯
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা৷

প্রশ্ন
বর্তমান প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালন করার হুকুম কি? মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিসিল, জুশনে জুলুস ইত্যাদি পালন করা কি জায়েয? আমাদের এলাকার এক ইমাম সাহেব ফাতওয়া দিয়েছন যে, কোন ব্যক্তি যদি ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে না, সে কাফের হয়ে যাবে। তার কথা কতটুকু সঠিক? কুরান হাদিসের আলোকে জবাব পাওয়ার আশা করছি।
উত্তর
এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।
হাদিস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।
রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়।
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷
এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,
১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।
২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।
৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।
তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷
ইসলামে দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷
রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী দাবীধারগন তার স্বপক্ষে নিম্নেবর্নিত আয়াত ও হাদীসকে দলিল হিসেবে উল্যেখ করে থাকে৷
১৷ সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,
اذكروا ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ
" অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর;
২৷ আল্লাহ পাক সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে এরশাদ করেন,
" ﻗﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ
অর্থাৎ(হে নবী) আপনি বলে দিন‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।
" ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ سئل ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَاﻞَ
ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ -
অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) থেকে বর্নিত, নবীজি সাঃ কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন , এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর নাজিল হয়েছে ৷
হাদিস শরীফে আরো এরশাদ
হয়েছে "
ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍَﻧَّﻪٗﻛَﺎﻥَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺫَﺍﺕَ
ﻳَﻮْﻡٍ ﻓِﻰْ ﺑَﻴْﺘِﻪٖ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗٖﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ،
ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒْﺸِﺮُﻭْﻥَ ﻭَﻳُﺤَﻤِّﺪُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺣَﻠَّﺖْﻟَﻜُﻢْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ
অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) নিজেই বর্ণনা করেন , একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবাদের নিয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের ইতিহাস আলোচনা করতেছিলেন৷ সাহাবাগন শুনে আনন্দিত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, নবীজির উপর দরুদ পাঠ করছেন৷ অতপর যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন, বললেন , তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত হালাল হয়ে গেছে ৷
এধরনের আয়াত ও হাদীস থেকে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ অথচ ইহা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা বৈকিছু নয়৷ কারন সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী থেকে নিয় প্রায় সাত শত বৎসর পর্যন্ত এসব আয়াত, হাদীস থেকে কেউ মিলাদুন্নবী বুঝেন নি৷ আজকাল তথাকথি নামধারী সুন্নিরা মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ ইহা কত বড় মুর্খতা হতে পারে আন্দাজ করুন৷
ছয়শতকের পুর্বের কোন মুফাচ্ছীর, পরে কোন হক্কানী মুফাচ্ছীর এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কিতাবে ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলেছেন, এমন প্রমান সারা জীবন চেষ্টা করলেও কোন ব্যক্তি দেখাতে পারবে না৷
এক নং আয়াতে মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ব সার্বিক নিয়ামতকে স্বরন করার কথা বলা হয়েছে৷ এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা, মিসিল করা কিভাবে প্রমান হয়!
দ্বিতীয় আয়াতে সকল মুফচ্ছীরগন ফযল ও নিয়ামতের ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন দিয়ে, কেউ কেউ নবীজির কথাও উল্যেখ করেছেন৷ নবীজি সাঃ এর আগমন এবং স্বয়ং নবীজি সাঃ উম্মতের জন্য নিয়ামত ৷ তাই তার শুকরিয়া ও তার জীবন চরিত আলোচনা করে অনুসর করা জরুরী৷ এবং তা অবশ্যই নবীজি যেভাবে বলেছেন সাহাবাগন যেভাবে করেছেন সেভাবে হতে হবে৷ মনগড়া বানানো পদ্ধতি অবলম্ভন করলে নবীজির ভালবাসা তো দূরের কথা নবীজির চরম শত্রুতে পরিনত হবে৷
প্রথম হাদীসে সোমবারে রোজা পালনের কথা উল্যেখ আছে, কারন নবীজি সাঃ সোমবারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ এতে ঈদ উজ্জাপন করার কথা কোথায় রয়েছে? বরং রোজা তো সরাসরি ঈদের বিপরিত৷ তাই দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ৷ তোমরা কেমন নবীর আশেক হলে নবীজি যেদিন রোজা রেখেছে সেদিন তোমরা ঈদ উজ্জাপন করো! যা সম্পুর্ন রোজার বিপরিত৷
দ্বিতীয় হাদীসে নবীজির জন্মের ঘটনাবলি আলেচনার কথা উল্যেখ করা হয়েছে৷ আমরা তো এ আলেচনা করা অত্যান্ত ফযিলতের বিষয় মনে করি৷ এবং আলোচনা করি৷ কিন্তু এ হীদীস থেকে তো ঈদ প্রমানিত হয় না৷ মিসিল, জোশনে জুলিস প্রমানিত হয় না৷ সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগন যেভাবে নবীজি সাঃ এর জন্ম বিত্যান্ত আলোচনা করেছেন, যেভাবে আমল করেছেন, তা করা অত্যান্ত ফযীলতপুর্ন ৷ তা বাদ দিয়ে মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা সরাসরি ইসলামে বর্ধিত করা৷ যা বিদআত, নাজায়েয ও হারাম৷
অতএব বর্তমান দেশজোরে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী যা সম্পুর্ন শরীয়ত পরিপন্থী, ইসলামে নতুন আবিস্কৃত আমল৷ যা সম্পুর্ন হারাম৷ প্রত্যেকের জন্য পরিহার করা অপরিহার্য৷
তাই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে উক্ত ইমাম সাহেবের বক্তব্য ভ্রান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদে মীলাদুন্নবীর অস্বীকারকারীদের কাফের বলা চরম ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ। এজন্য তার তাওবা করা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে কাফের বললে দুইজনের একজন কাফের হবে। হয়তো যাকে কাফের বলেছে সে প্রকৃতপক্ষ্যে কাফের হবে। নতুবা কাফের সম্বোধনকারিই কাফের হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)
আরো দলিলঃ ﻛﻤﺎ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻰ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ‏( 2/ 959 ‏)
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ
ﺭﺩ ‏) .
ﻭﻓﻰ ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏( 8/ 396 ‏)
ﻭﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻟﻐﺔ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻋﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ ﻭﺷﺮﻋﺎ
ﺇﺣﺪﺍﺙ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
ﻭﻓﻰ ﻣﺮﻋﺎﺓ ﺍﻟﻤﻔﺎﺗﻴﺢ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﺎﺓ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ : ‏( 1/ 395 ‏)
ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﻭﻫﻲ ﻟﻐﺔ : ﻣﺄﺧﻮﺫﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﻉ، ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺧﺘﺮﺍﻉ ﻋﻠﻰ
ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ، ﻭﺷﺮﻋﺎً : ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ، ﺃﻱ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻩ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻭﻻ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﺃﻱ ﻟﻴﺲ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺛﺎﺭﺓ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻻ ﻓﻌﻠﻪ ﺃﻭ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻳﻌﺘﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ . ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻌﺮﻑ ﺍﻟﺸﺬﻱ ﻟﻠﻜﺸﻤﻴﺮﻱ : ‏( 2/ 82 ‏)
ﺍﻟﻤﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﺬﻱ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﺃﺣﺪﺛﻪ ﺻﻮﻓﻲ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ
ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺇﺭﺑﻞ ﺳﻨﺔ ‏( 600 ‏) ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ
ﺍﻟﻐﺮﺍﺀ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ : ‏( ﺹ : 21 ‏)
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻔﻮﻅ : ” ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﻱ
ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﺇﺭﺑﻞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ، ﻭﻗﺪ
ﺍﺳﺘﻤﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭﺍﺑﺘﺪﻋﻮﺍ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺗﻬﻮﺍﻩ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻭﺗﻮﺣﻴﻪ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﺷﻴﺎﻃﻴﻦ
ﺍﻹﻧﺲ ﻭﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻻ ﻧﺰﺍﻉ ﻓﻲ ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ . ﻭﻓﻰ ﺷﺬﺭﺍﺕ ﺍﻟﺬﻫﺐ – ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻌﻤﺎﺩ : ‏( 5/ 138 ‏)
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻟﻪ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻹﺣﺎﻃﺔ ﻛﺎﻥ
ﻳﻌﻤﻠﻪ ﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻣﻦ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ
ﻋﺸﺮ ﻷﺟﻞ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻴﻪ ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﻴﻮﻣﻴﻦ
ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮ ﻭﺍﻟﻐﻨﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﺻﻒ
ﻭﺯﻓﻬﺎ ﺑﺠﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﻋﻨﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻤﻐﺎﻧﻲ ﻭﺍﻟﻤﻼﻫﻲ ﺣﺘﻰ
ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﻤﻴﺪﺍﻥ . ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﺪﺧﻞ ﻹﺑﻦ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﺤﺎﺝ : ‏( 2/3 ‏)
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ
ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺟﻤﻠﺔ . ﻭﻓﻰ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻷﺯﻫﺮ : ‏( 6/ 237 ‏)
ﻷﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺑﺎﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻌﻤﻠﻬﺎ ﺍﻵﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ . ﻭﻳﺮﺍﺟﻊ ﺃﻳﻀﺎ : ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻣﺤﻤﻮﺩﻳﻪ : 5/377 , ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ : 1/426 মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393


ফতোয়া নং: ৪৭৫৬
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মুসাফাহা করে হাত বুকে লাগানো৷

প্রশ্ন
মুসাফা করে হাত বুকে লাগানোর হুকুম কি? এভাবে বোকে লাগানো জায়েজ নাকি নাজায়েজ?
উত্তর
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷
এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,
১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।
২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।
৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।
তেমনি মুসাফাহা করার পর এমনিতেই অভ্যাসগত ভাবে যদি হাতকে বুকের সাথে লাগায়, সওয়াবের কাজ বা সুন্নত মনে না করে, তাহলে ইহা বিদআত, হারাম বা নাজায়েজ হবে না। কিন্তু যদি সওয়াবের কাজ, বা সুন্নত মনে করে করা হয়, বা মুসাফাহা সংশ্লিষ্ট সুন্নত মনে করে করা হয়, তাহলে তা বিদআত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এবং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী।
আল্লাহ আমাদেরকে বিদআত মুক্ত থাকার তৌফীক দান করুন৷ আমীন৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫০
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মসজিদে বসে ফেইসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
মসজিদে বসে ইন্টারনেট অর্থাৎ ফেইসবুক বা অন্য কোন কাজের জন্য ইন্টার্নেট ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর
ইন্টারনেট কে যেমন ভাবে খারাপ কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনি ভাল কাজেও ব্যবহার করা যায়৷ আর মসজিদ ভাল কাজ করার জায়গায়, খারাপ কাজের কোন প্রকার সুযোগ নেই৷ তাই যদি মসজিদে ইন্টার্টেনের মাধ্যমে ভাল ও দ্বীনী কোন কাজ করে, তাহলে মসজিদে বসে ইন্টারনেট, ফেইসবুক ব্যবহার জায়েজ হবে। তবে খুব খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ভাবেই কোন নাজায়েজ কাজ না হয়৷ কোন নাজায়েয ছবি বা ভিডিও দৃষ্টিগোচর হয়ে না যায়। দ্বীনী কাজ ছাড়া এমনিতে মসজিদে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না।
আর ফেইসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে যেহেতু মাঝে মাঝে ছবি ও অন্যান্য বিষয়ও চলে আসে, তাই ব্যবহার না করাই উচিত।
আলবাহরুর রায়েক৫/৪১৯৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৪৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

স্ক্রিনে কুরআনে কারীমের আয়াত, যিকর, বা এগুলোর ক্যালিগ্রাফী সেভ করে রাখা৷

প্রশ্ন
মোবাইল স্ক্রিনে কুরআনের আয়াত, জিকর বা আল্লাহ তাআলার নাম সেভ করে রাখা হয়। তদ্রূপ কেউ এগুলোর ক্যালিগ্রাফি সেভ করে রাখে। এটি জায়েয কি না?
উত্তর
মোবাইল স্ক্রিনে আল্লাহ তাআলার নামের ক্যালিগ্রাফি বা লিখিত আয়াত কিংবা অন্য কোন যিকর ইত্যাদি সেভ করে রাখা ঠিক নয়। কারণ, এভাবে ক্ষেত্রবিশেষে এগুলোর সাথে বেয়াদবি হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এছাড়া মোবাইল সাধারণত সম্মানের সাথে ব্যবহার করা হয় না। বরং অধিক ব্যবহারের ফলে যত্রতত্র রাখা হয়। অনেক সময় বসার স্থানে, নিচেও থাকে, চার্জের প্রয়োজনেও নিচে রাখতে হয় ইত্যাদি। সুতরাং স্ক্রিনে দৃশ্যমান অবস্থায় রেখে এর যথাযথ আদব রক্ষা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই এ ধরনের কোন কিছু স্ক্রীন সেভারে রাখা ঠিক হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭২৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ইন্টারনেট কোম্পানীতে চাকুরী করা৷

প্রশ্ন
আমি একটি ব্রডবেন্ড ইন্টারনেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। আমার কাজ হল: প্রতি মাসের বিল গ্রাহকরা অফিসে দিয়ে যায় আমি তার হিসাব রাখি। এক্ষেত্রে এই চাকুরী করা কি জায়েজ হবে কিনা?
উত্তর
হারাম কাজ করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ইসলাম অনুমোদন করে না। যেমন:
সুদী ব্যাংক বা মাদক কোম্পানীতে চাকুরী করার অনুমোদন ইসলামে নেই।
পক্ষান্তরে যদি প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো কাজ করে যা
মূলগতভাবে হারাম নয় কিন্তু মানুষ এটাকে মন্দ বা হারাম কাজে ব্যবহার করে, এধরণের প্রতিষ্ঠানে
চাকরি করা বৈধ। সুতরাং আপনার ব্রডবেন্ড ইন্টারনেট
কোম্পানীতে চাকুরী বৈধ হবে। জদীদ ফিকহি মাসাইল 299৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ফেইসবুকে মেয়ে বন্ধু বানানো ও তাদের সাথে কথা বলার হুকুম৷

প্রশ্ন
অনুগ্রহপূর্বক নিচের মাসআলাটি জানাবেন। ফেইসবুকে বেগানা মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করা জায়েজ আছে? যদি কেউ দ্বীনী দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ফেইসবুকে মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে তাহলে সেটা কেমন হবে?
উত্তর
ফ্রেন্ডশীপ মানে বন্ধুত্ব। যা একে
অপরের প্রতি মোহাব্বত ও ভালবাসার নিদর্শন।
কিন্তু ফেইসবুকের যে ফ্রেন্ডশীপ হয়ে থাকে, এর সাথে সত্যিকার বন্ধুত্বের মূলত কোন সম্পর্ক নেই। এটি কেবলি একটি বাহ্যিক বন্ধুত্ব। তবে অনেক সময় তা সত্যিকার বন্ধুত্বেও রূপ নেয়। আমাদের ফেইসবুককে দেখতে হবে অফলাইনের জীবনের অবস্থা অনুপাতে। যেমন অফলাইনে বেগানা নারীদের সাথে অহেতুক কথা বলা, তাদের সাথে দেখা করা, তাদের ছবি দেখা হারাম। তেমনি অনলাইনের বিধানও তা’ই হবে। যেমন অফলাইনে বেগানা নারীদের সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলা জায়েজ, দ্বীনী দাওয়াত দেয়া জায়েজ, কিন্তু আকৃষ্ট হবার আশংকা থাকলে কথা বলা বৈধ নয়। তেমনি অনলাইনেও বেগানা নারীদের দ্বীনী দাওয়াত দেয়া, ও প্রয়োজনীয় কথা বলা জায়েজ আছে। কিন্তু ছবি দেখা অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, আকৃষ্ট হবার শংকা থাকলে বন্ধুত্ব করা ও চ্যাটিং করা কোনটিই বৈধ হবে না।
‎ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٍ
‎ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ
অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩} হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।
‎ﻓَﺎﻟْﻌَﻴْﻨَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮُ، ﻭَﺍﻟْﺄُﺫُﻧَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﻤَﺎﻉُ،
‎ﻭَﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥُ ﺯِﻧَﺎﻩُ ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ، ﻭَﺍﻟْﻴَﺪُﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺒَﻄْﺶُ، ﻭَﺍﻟﺮِّﺟْﻞُ
‎ﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺨُﻄَﺎ، ﻭَﺍﻟْﻘَﻠْﺐُ ﻳَﻬْﻮَﻯ ﻭَﻳَﺘَﻤَﻨَّﻰ، ﻭَﻳُﺼَﺪِّﻕُ ﺫَﻟِﻚَ
‎ﺍﻟْﻔَﺮْﺝُ ﻭَﻳُﻜَﺬِّﺑُﻪُ রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল (হারাম) দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, (গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক) কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, (গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক) কথোপকথন। হাতের জিনা হল, (গায়রে মাহরামকে) ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, (খারাপ উদ্দেশ্যে) চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় (যদি জিনা করে) এবং মিথ্যা পরিণত করে (যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৫৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রীণে থাকার কুরআন স্পর্শ ও এ্যাপস নিয়ে টয়লেটে গমণের বিধান!

প্রশ্ন
১-প্রশ্নঃ মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর স্ক্রিনে কোরআন দেখে পড়ার ফজিলত, কাগজের কোরআন দেখে পড়ার ফজিলতের সমান হবে কি?
২-প্রশ্নঃ মোবাইলে কোরাআন করিম স্পর্শ করার হুকুম কি? এবং কোরআন সফটওয়ার ইন্সটলকৃত মোবাইল নিয়ে টয়লেটে ঢুকা যাবে কি?
উত্তর
কুরআন যেহেতু গায়রে মাখলুক। তাই আমাদের সামনে পরিদৃষ্ট কুরআন হল মূল কুরআনের প্রতিচ্ছবি মাত্র। এ প্রতিচ্ছবি যেখানেই পরিদৃষ্ট হোক না, তা দেখে পড়া মানে কুরআন দেখে পড়ার হুকুমে হবে। চাই কুরআনের লিখিত রূপটি পাথরে খোদাই করা
থাকুক, বা মোবাইল কম্পিউটারের স্ক্রীনে থাকুক, বা কোন কাগজ বা পাতায় লিখিত আকারে থাকুক। সব
কিছুর বিধানই এক। অর্থাৎ দেখে পড়লে কুরআন দেখে
পড়ার সওয়াব হবে। এসব নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা যাবে না। তবে মোবাইলে থাকা কুরআন এ্যাপস যদি
বন্ধ করা থাকে, তথা মোবাইল স্ক্রীনে পরিদৃষ্ট না থাকে, তাহলে উক্ত মোবাইল নিয়ে টয়লেটে প্রবেশে কোন সমস্যা নেই।
অনেক আলেমগন স্পর্শ করাকেও নাজায়েয বলেন, তাদের কথার ভিত্তি হলো স্ক্রীনে কোন আবরন নেই বিধায় সরাসরি আয়াতে স্পর্শ হয় যা নাজায়েয৷
তবে এ ক্ষেত্রে তাত্বিক কথা বলো মোবাইল স্ক্রীনে আবরন আছে৷ তাছাড়া অধিকাংশ মোবাইলে গ্লাস পেপারও থাকে যা স্পষ্ট আবরন৷ তাই স্ক্রীনে থাকা কুরআন শরীফ অযু ছাড়া স্পর্শ করা বৈধ৷ তবে অযু সহ স্পর্শ করাই উত্তম৷
‎ﻭﻗﺎﻝ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳـﻼﻡ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻤﺪﺓ
‎‏( ﺹ 384 ‏) : “ ﺍﻟﻮﺟﻪ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤـﻔﻮﻅ ﻫﻮ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﻛﻤﺎ
‎ﺃﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﻫﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ
‎ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﺑﻌﻴﻨﻪ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﺤﻞ ﻭﺭﻗﺎً ﺃﻭ ﺃﺩﻳﻤﺎً ﺃﻭ
‎ﺣﺠﺮﺍً ﺃﻭ ﻟﺤﺎﻓﺎً، ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻣِﻦْ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺃﻥ ﻻ ﻳﻤﺴﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻤﻄﻬﺮﻭﻥ ﻭﺟﺐ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ
‎ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﻛﺬﻟﻚ؛ ﻷﻥ ﺣﺮﻣﺘﻪ ﻛﺤﺮﻣﺘﻪ،
‎ﺃﻭ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﺳﻢ ﺟﻨﺲ ﻳﻌﻢ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
‎ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺴـﻤﺎﺀ ﺃﻭ ﺍﻷﺭﺽ، ﻭﻗﺪ ﺃﻭﺣـــﻰ ﺇﻟﻰ
‎ﺫﻟﻚ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : }ﺭَﺳُﻮﻝٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺘْﻠُﻮ ﺻُﺤُﻔﺎً
‎ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓً { ‏[ﺍﻟﺒﻴﻨﺔ 2: ‏] ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : } ﻓِﻲ ﺻُﺤُﻒٍ
‎ﻣُﻜَﺮَّﻣَﺔٍ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋَﺔٍ ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓٍ { ‏[ ﻋﺒﺲ 14-13: ‏] . ﻓﻮﺻﻔﻬﺎ
‎ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻄﻬﺮﺓ ﻓﻼ ﻳﺼﻠﺢ ﻟﻠﻤﺤﺪﺙ ﻣﺴﻬﺎ
আমাদের কাছে যে কুরআন রয়েছে এটি সেই কুরআনই যা লৌহে মাহফুজে রয়েছে। যেমন কুরআন তাই, যা কুরআনের মাঝে রয়েছে, চাই তার স্থান পাতা হোক, বা চামড়া হোক, বা পাথর হোক বা মোড়ক হোক।
সুতরাং আসমানে অবস্থিত লিখিত কিতাবের হুকুম যেহেতু তা পবিত্র ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না, জমিনে
থাকা কুরআনের ক্ষেত্রে একই বিধানকে আবশ্যক করে। কেননা এ কুরআনের সম্মান সে কুরআনের মতই। অথবা আয়াতে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইসমে জিনস। যা কুরআনকে বুঝাচ্ছে, চাই তা আসমানে থাকুক বা জমিনে থাকুক।
শরহুল উমদাহ-৩৮৪
যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।
সূরা ওয়াকিয়া-৭৯৷
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেনঃ রাসূল সাঃ আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”।
মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৬৮০, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৩০, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৬৫৷
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।
মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৫১২
আল্লামা হাফেজ নূরুদ্দীন বিন আবু বকর হায়সামী বলেনঃ ইমাম তাবারানী কাবীর ও সাগীর উভয় গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন। আর এর সকল বর্ণনাকারী সিক্বা তথা
গ্রহণযোগ্য।
ইমাম নববী রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ বক্তব্যটি হযরত আলী রাঃ এবং সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ দের। এ মতের উল্টো কোন মত সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত নয়।
শরহুল মুহাজ্জাব-২/৮০
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ নিষেধ বক্তব্যটির পক্ষে মত দিয়েছেন হযরত সালমান ফারসী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এবং অন্যান্যরা। কোন সাহাবী থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণিত নেই।
মাজমূউল ফাতাওয়া-২১/২৬৬
হযরত ওমর রাঃ যখন কাফের থাকা অবস্থায় বোনকে কুরআন দেখাতে বলেছিলেন, তখন তার বোন বলেছিলেন যে, তুমি নাপাক! আর এ গ্রন্থ পবিত্র ছাড়া কেউ ধরতে পারে না।
মুসনাদুল বাজ্জার-১/৪০১, মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/৬৬৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পীর ধরা, মুরীদ হওয়া! 

প্রশ্ন
কয়েক দিন যাবৎ ফেইসবুকে একটা কথা বার বার সমালোচনা হয়৷ সেটা হলো, পীর ধরা নিয়ে৷ আর আহলে হাদিস নামধারিরা বলে ইসলামে পীরের বিধান বলতে কিছু নাই।যদি কুরাআন হাদিসে না থাকে তাহলে আমরা পীর ধরবো কেনো? কুরাআন হাদিস এর আলোকে আমাকে ব্যাখ্যা করে দিন৷
উত্তর
কুরআন ও হাদীস থাকতে পীরের কাছে যাবো কেন?
এ প্রশ্নটি যারা করেন, তারা পীরের অর্থই জানেন না। দ্বিতীয় চরম মুর্খ হবার কারণে উপরোক্ত কথাটি সমাজে প্রচার করে থাকেন। আসলে পীর মানে হল মুরুব্বী। বয়স্ক। মানে যিনি অভিজ্ঞ। অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহকে পাওয়া যাবে? কিভাবে আমল করলে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে? কিভাবে চললে দ্বীনের উপর আমল সহজ হবে? শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দ হওয়া যাবে? ইত্যাদি বিষয়ে যিনি অভিজ্ঞ? আর সেই অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট যিনি তার উস্তাদ তথা শায়েখ থেকে পেয়েছেন তিনিই হলেন পীর বা শিক্ষক।
এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, কুরআন ও হাদীস থাকতে তা শিখার জন্য উস্তাদের কাছে যেতে হবে কেন? মাদরাসায় ভর্তি হবে কেন? আমরা উক্ত ব্যক্তিকে কি বলবো? বলবো, বেটা! কুরআন ও হাদীসে কি আছে, তার সঠিক জ্ঞান লাভ করার জন্য এ বিষয় যিনি ভাল করে জেনেছেন, তার কাছে যেতে হয়। তার কাছে থেকে শিক্ষা নিতে হয়। তারপর উক্ত উস্তাদ যদি আমাকে সার্টিফিকেট দেয় যে, আমি তা শিখতে পেরেছি। তখন সেখান থেকে মুজাহাদা মেহনত করে পড়াশোনা করে, পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বের হবার পর আমারও আবার কুরআন ও হাদীস পড়ানোর যোগ্য বলে কাজ করার অধিকার হয়। একই অবস্থা পীর মুরিদীর। একজন পীর তিনি শিক্ষক। তিনি আল্লাহকে পাওয়ার পথ সম্পর্কে সমধিক অবগত। তিনি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ। শরীয়ত কিভাবে তবিয়তে পরিণত করতে হয়, এ বিষয়ে একজন হন অভিজ্ঞ। তাই আল্লাহভোলা মানুষগুলো তার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে যায়। যেন সে কুরআন ও হাদীস বুঝার জন্য মাদরাসায় ভর্তি হয়। উস্তাদের কাছে গমণ করে। তারপর পীর সাহেব তার মুরীদকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। যেন উস্তাদ তার ছাত্রকে কুরআন ও হাদীস বুঝার প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
আরো সহজ ভাষায় বললে- মাদরাসা হল, কুরআন ও হাদীস বুঝার একটি থিউরীক্যাল মাধ্যম। আর পীর সাহেবের খানকাহ হল কুরআন ও হাদীসের উপর আমল শিখার প্র্যাক্টিক্যাল মাধ্যম। মাদরাসায় যিনি শিক্ষা প্রদান করেন, তার নাম হল টিচার, মুআল্লিম, শিক্ষক উস্তাদ। তেমনি কুরআন ও হাদীসের উপর আমল প্রশিক্ষণ দাতার নাম হল পীর, মুর্শীদ। মাদরাসার শিক্ষার্থীর নাম হল, ছাত্র। তালেবুল ইলম। ষ্টুডেন্ট। আর পীর সাহেবের খানকার শিক্ষার্থীর নাম হল মুরীদ।
পীর মুরীদের আসল হাকীকত যদি কোন ব্যক্তি জানে, তাহলে কোন ব্যক্তি “কুরআন ও হাদীস থাকতে পীর ধরবো কেন?” এমন মুর্খতাসূলভ প্রশ্ন৷করতেই পারে না। কারণ এটি পুরোটাই আহমকী প্রশ্ন। যেমন “কুরআন ও হাদীস থাকতে, তা শিখার জন্য উস্তাদের কাছে যাবো কেন?” প্রশ্নটি একটি আহমকী ও বোকামীসূলভ প্রশ্ন। তবে এক্ষেত্র্রে জেনে রাখা উচিত যে, যেমন দ্বীন শিখা আবশ্যক। তেমনি দ্বীনের উপর সহীহ পদ্ধতিতে৷আমল করাও আবশ্যক। এখন কোন ব্যক্তি যদি উস্তাদের কাছে না গিয়ে, মাদরাসায় ভর্তি না হয়ে দ্বীন শিখে ফেলতে পারে, তাহলে তার যেমন মাদরসায় ভর্তি হবার, উস্তাদের কাছে যাবার দরকার৷নেই। কারণ তার মূল উদ্দেশ্য হাসিল৷হয়ে গেছে ৷ তেমনি কোন ব্যক্তি যদি পীর তথা মুর্শীদের কাছে না গিয়েই সে তার আত্মশুদ্ধি করে ফেলতে পারে, তাহলে তার জন্য কোন পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার যে প্রয়োজনীয়তা যে উদ্দেশ্যে ছিল তা তার অর্জিত হয়ে গেছে।
তবে কারো যদি নিজে নিজে কুরআন ও সুন্নাহ অনুপাতে স্বীয় আত্মশুদ্ধি হয়ে যায়, তাহলে কোন পীর বা শিক্ষকের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। যদি না হয়, তাহলে পীর বা শিক্ষকের কাছে গিয়ে স্বীয় নফসের শুদ্ধায়ন করা আবশ্যক।
বাকি উস্তাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেমন আমরা দেখি উক্ত বিষয়ে শিক্ষক নিজে প্রাজ্ঞ কি না? তেমনি দ্বীনী শরীয়ত অনুসরণে মনকে আত্মাশুদ্ধি করতে গিয়ে অবশ্যই ভাল করে যাচাই করতে পীর সাহেব নিজের আত্ম শুদ্ধ করেছেন কিনা? এর সহজ পথ হল, পীর সাহেব কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ কিনা? তিনি সুন্নাতের পাবন্দ কি না? তার চেহারা, তার আখলাক, তার পরিবার, তার আমল, তার জীবনের বাঁকে বাঁকে সুন্নাতের অনুসরণ আছে কি না? তিনি দুনিয়াবিমুখ কিনা? তাকে কোন আল্লাহ ওয়ালা উস্তাদ বা পীর পীর মুরিদী তথা শিক্ষকতা করার অনুমোদন প্রদান করেছেন কি না? পর্দাসহ যাবতীয় শরীয়তের মাসায়েলের কঠোর পাবন্দ কি না? ইত্যাদি সমস্ত বিষয় দেখতে হবে। যদি কোন একটি বিষয়েও তাকে গাফেল দেখা যায়, তাহলে এমন পীর বা শিক্ষকের কাছে শিখতে যাওয়া, নিজের ঈমান আমলকে ধ্বংস করার শামিল হবে। তাই দেখে শুনে, যাচাই করে পীরের কাছে যাওয়া উচিত।
দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, রাজারবাগী, সুরেশ্বরী, ফরীদপুরী, এনায়েতপুরী, চন্দ্রপুরী, কামাল্লার ভন্ড পীর, মাইজভান্ডারী, কেল্লাবাবা, খাজাবাবা, রেজভী, এসব ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের কাছে গেলে আখেরাত ধ্বংস হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
তাই পীর ধরার ক্ষেত্রে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। স্থানীয় হক্কানী কওমী মাদরাসা পড়ুয়া বড় কোন আলেমের পরামর্শে পীর ধরতে যান। নিজে নিজে পন্ডিতী করে ভন্ড পীরের খপ্পরে পরে নিজের দ্বীন ঈমান ধ্বংস করবেন না।
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬২৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ভিডিও ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল ক্রয় বিক্রয়৷

প্রশ্ন
‘মোবাইল’ ফোনেরই আধুনিক সংস্করণ। কিন্তু এ আবিষ্কার শুধু কথোপকথন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখেনি বরং মোবাইলের সাথে আজকাল ক্যামেরা এবং ভিডিও, ইন্টারনেটসহ সবধরনের সুবিধা রয়েছে। মোবাইলের এ সুবিধাগুলো আজকাল ভাল-খারাপ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার হতে দেখা যায়। তাই
প্রশ্ন দাঁড়ায় এ সকল সুবিধাযুক্ত মোবাইল
ক্রয়-বিক্রয় জায়েয কি না?
উত্তর
এসব মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। তবে অবৈধ কোনো কাজে তা ব্যবহার করা জায়েয নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৯১, আল- বাহরুররায়েক ৮/২০২, জাওয়াহিরুল ফিকহ ২/৪৪৬, বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ
১/৩৫৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ভুল নাম্বারে ফ্লেক্সি হলে টাকা কে দিবে?

প্রশ্ন
ফ্ল্যাক্সিলোডে ভুল হলে কোনো কোনো সময় অন্যের মোবাইলে টাকা চলে যায়। এক্ষেত্রে এর ক্ষতিপূরণ কে দিবে? অনেক দোকানীকে এ টাকা জোরপূর্বক ফ্লেক্সি করতে আসা গ্রাহক থেকে আদায় করতে দেখা যায়। এটা জায়েয কি না?
উত্তর
যে নাম্বারে ফ্লেক্সি করা হবে সে নাম্বারেই টাকা জমা হবে। ভুল নাম্বারে করা হলে ভুল নাম্বারে যাবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে টাকা উদ্ধার না করা গেলে দেখতে হবে ভুল কার থেকে হয়েছে। সাধারণত ফ্লেক্সিকারী গ্রাহকের নাম্বার ভিন্ন খাতায় প্রথমে নোট করা হয়। সেটা কখনো দোকানী নিজে লিখে কখনো গ্রাহকের হাতে লেখায়। দোকানী লিখলে গ্রাহকের জন্য ঐ লিখা মিলিয়ে নেওয়া কর্তব্য। এরপর খাতার নোটকৃত নাম্বারে ফ্লেক্সি না করে ভুলে অন্য নাম্বারে করলে এর ক্ষতি দোকানীর নিজেরই। এ বাবদ গ্রাহক থেকে কিছুই নিতে পারবে না। হাঁ, গ্রাহক যদি স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে কিছু দিতে চায় তবে তা নিতে বাধা নেই। আর খাতায় যা নোট করা হয়েছে দোকানী যদি সে নাম্বারেই ফ্লেক্সি করে থাকে তবে এ ভুলের ক্ষতিপূরণ গ্রাহককে দিতে হবে। অবশ্য দোকানী খাতায় ভুল নাম্বার নোট করেছে এ কথা প্রমাণিত হলে এ ভুলের দায়দায়িত্ব দোকানীর, গ্রাহকের নয়। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬২৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পরনারীর সাথে মোবাইলে কথা বলার সময় সালাম আদান-প্রদান৷

প্রশ্ন
মহিলাদের সাথে মোবাইলে কথা বলার সময় কি সালাম দেয়া যাবে? বা মহিলা কি সালাম দিতে পারবে? অনেক সময় দেখা যায় বড় বা সম্মানি ব্যক্তিদের কে কল করার পর তারা আগে সালাম দিয়ে দেন৷ তখন কলকারী উত্তর দিয়ে আবার সালাম দেন৷ এটা কি সঠিক?
উত্তর
গায়রে মাহরাম মহিলার সাথে প্রয়োজনে পর্দায় থেকে কথা বলা জায়েয। (যদি ফেতনার আশংকা না থাকে।) তাই মোবাইলে মহিলার সাথে কথা বলতে হলেও সালাম দিয়েই কথা শুরু করবে। যে আগে কথা বলবে সে সালাম দিবে। মহিলা আগে কথা বললে সে আগে সালাম দিবে। আর পুরুষ আগে কথা বললে সে সালাম দিবে। যার নাম্বারে কল করা হচ্ছে তিনি যদি বড় ও সম্মানী ব্যক্তি হন তখন তিনি সালাম দিলে এ সালামের উত্তর দেওয়া হয় না। বরং কলকারী উল্টো তাকে সালাম দেয়। এটা ভুল নিয়ম। তাই বড় ও সম্মানী ব্যক্তি রিসিভ করে সালাম দিলে অপর প্রান্ত থেকে এর শুধু উত্তরই দিবে। পাল্টা সালাম দিবে না। -সুনানে তিরমিযী ২-৯৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের স্ক্রিনে ছবি সেভ করে রাখা৷

প্রশ্ন
মোবাইলের স্ক্রিনে পুরুষ বা মহিলার ছবি সেভ করে রাখার হুকুম কী?
উত্তর
স্ক্রিনে ছবি সেভ করে রাখলে ছবির প্রদর্শনী হয় এবং ছবি খুলে রাখা হয়। যা রহমতের ফিরিশতার আগমন থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। এছাড়া শরীয়তে ছবির প্রকাশ ও প্রদর্শন নিষেধ করা হয়েছে। অতএব, স্ক্রিনে মানুষ বা কোন প্রাণীর ছবি সেভ করে রাখা থেকে বিরত থাকা জরুরি। আর স্ক্রিনের ছবিটি যদি কোনো মহিলার হয় তবে গায়রে মাহরামদের জন্য ছবিটি দেখা এবং অন্যদের দেখানোর ভিন্ন গুনাহ হবে। এতে ছবি প্রদর্শনের গুনাহ ছাড়া পর্দা লংঘনের গুনাহ হয়। তাই এ থেকে বিরত থাকা আরো বেশী জরুরি।
-সহীহ বুখারী ২/৮৮০; আলমাদখাল ইবনুল হাজ ১/২৭৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩০৪; ফাতাওয়া
হিন্দিয়া ৫/৩৫৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬২০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াতের ব্যবহার৷

প্রশ্ন
গানের ব্যবহার যেহেতু নাজায়েয তাই অনেকেই এক্ষেত্রে কুরআনে কারীমের তিলাওয়াত, আযান ইত্যাদি ডাউনলোড করে থাকে। ধারণা করা হয় যে, এতে গুনাহ তো হবেই না, বরং আমার সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তি কিছু সময় হলেও কুরআনের তিলাওয়াত শুনছে। তাই এটাকে ভাল মনে করা হয়। আযানের শব্দ বা জিকর শুনছে। এতে শ্রোতাকে সওয়াবের বিষয় শোনানো হচ্ছে। এদৃষ্টিতে একে অনেকেই ভাল বলে। জানতে চাই ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআন, জিকির, আযানের ব্যবহারের হুকুম
কী?
উত্তর
নিঃসন্দেহে প্রশ্নোক্ত উদ্দেশ্যেটি ভালো।
রিংটোন, মিউজিক বা গান না শুনিয়ে সেস্থানে কুরআনের তিলাওয়াত বা জিকর, আযান ইত্যাদি শোনানোর ব্যবস্থা করা অবশ্যই একটি প্রশংসণীয় কাজ। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে এটি ভাল মনে হলেও এক্ষেত্রে এগুলোর ব্যবহারে একাধিক খারাপ দিক রয়েছে। যার একটিই এ থেকে বিরত থাকার জন্য যথেষ্ট। যেমন- (১) ওয়েলকাম টিউন-এর ব্যবহার হয় যার কাছে কল করা হয়েছে তার সাথে সংযোগ সৃষ্টি হয়েছে কি না এটি বুঝার জন্যই। কারো কাছে কল করার পর রিংটোন পেলে বুঝা যায় যে, তার মোবাইলে রিং হচ্ছে। কল করার পর বিজিটোন আসলে বুঝা যায় সে এখনও অন্যের সাথে কথা বলছে। আবার ফোন বন্ধ থাকলেও এক ধরনের টোন পাওয়া যায়। মোটকথা কাঙ্ক্ষিত ফোনটিতে সংযোগ লাগার জন্য যে সংকেত-টোন রয়েছে সেস্থানে কুরআনের তিলাওয়াত, আযান ইত্যাদি ফিট করলে এই তিলাওয়াত ও আযানও ফোনকারীকে প্রথমে ঐ টোনের কাজ দিবে। অর্থাৎ ফোনকারী বুঝবে যে, কাঙ্ক্ষিত ফোনটিতে সংযোগ পেয়েছে, রিং হচ্ছে। আচ্ছা, বলুন তো আল্লাহর মহান কালাম কি এই কাজে ব্যবহার করা উচিত? এই কাজে তিলাওয়াতের ব্যবহার কি অপাত্রে কুরআনের ব্যবহার নয়? আযান যা শরীয়তের একটি মহান নিদর্শন ও জিকর, একে এই কাজে ব্যবহার করা কি সমীচীন? (২) কাঙ্ক্ষিত নাম্বারে কল করার পর রিংটোন হিসাবে ফোনকারীর কানে কুরআনের তিলাওয়াত ভেসে আসছে, হয়ত রিসিভের অপেক্ষার সাথে সাথে তিলাওয়াতও শুনছে। কিন্তু যার নাম্বারে ফোন করা হয়েছে সে তো তিলাওয়াত শুনতে পাচ্ছে না। বিধায় সে এমন সময় রিসিভ করল যখন তিলাওয়াতের কোন শব্দের মাঝে কিংবা এমন স্থানে রিসিভ করা হল যখন থেমে গেলে আয়াতের অর্থই বদলে যায়। তদ্রূপ আযান ডাউনলোড করলে কেউ যদি ‘লা-ইলাহা’ পর্যন্ত উচ্চারিত হওয়ার পর ফোন রিসিভ করে ফেলে তাহলে অর্থ দাঁড়ায়- ‘কোন মাবুদ নেই।’ ফলে অর্থের বিকৃতি ঘটে। এই সমস্যার কারণেও এস্থানে এগুলোর ব্যবহার করা যাবে না। (৩) এছাড়া বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে থেকে ফোনে কথা বলার সময় কানে তিলাওয়াতের ধ্বনি আসলেও তা মনোযোগ সহকারে শোনা হয় না। ফলে তিলাওয়াত শোনার হক আদায় হয় না। তাই ওয়েলকাম টিউন হিসাবে কুরআন- তিলাওয়াত বা আযান কিংবা যিকরের ব্যবহার করা যাবে না। এর জন্য স্বাভাবিক রিংটোনই উপযোগী। -আত-তিবয়ান ফী আদাবি হামালাতিল কুরআন- নববী ৪৬, হককুত্তিলাওয়া-হুসাইনী শাইখ উসমান-৪০১, আলমগীরী ৫/৩১৫, রদ্দুল মুহতার ১/৫১৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ডাউন লোডিং ব্যবসা৷

প্রশ্ন
মোবাইলে রিংটোন, মিউজিক, গান, ভিডিও-ছবি ইত্যাদি ডাউন লোড করার প্রবণতা বেড়েছে। এজন্য অনেক সার্ভিসিং সেন্টারে পৃথক ব্যবস্থাপনা থাকে। জানতে চাই ডাউন লোড করে বিনিময় নেওয়া এবং এ ব্যবসা করা জায়েয কি না?
উত্তর
মিউজিক সংবলিত গান, প্রচলিত অশ্লীল ছবির ভিডিও ফিল্ম, অবৈধ চিত্র ইত্যাদির ডাউনলোড ব্যবসা নাজায়েয। কারণ এতে নিজের তো গুনাহ হয়ই, উপরন্তু অন্যের নিকট গুনাহের উপকরণ সরবরাহ করা হয়। তাই এ ধরনের ডাউনলোড থেকে উপার্জিত অর্থ হালাল হবে না। হাঁ, কোনো বৈধ চিত্র, মিউজিক ছাড়া রিংটোন, বাদ্যহীন গজল ইত্যাদি ডাউনলোড করা জায়েয এবং এ থেকে অর্জিত টাকাও হালাল। -সহীহ বুখারী ১/২৯৮, জামে তিরমিযী
১/২৪১৷ আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৫, আল-বাহরুররায়েক ৮/১৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

চোরাই সেট ক্রয়-বিক্রয়৷

প্রশ্ন
মোবাইলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার কারণে মোবাইল চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেড়েছে। অনেকের মোবাইল হারিয়েও যায়। প্রশ্ন হল, এ ধরনের সেট ক্রয়-বিক্রয়ের হুকুম কী?
উত্তর
ছিনতাইকৃত বা চোরাই সেট জেনে শুনে ক্রয় করা জায়েয নেই। কেউ ক্রয় করলেও এ সেট ক্রেতার জন্য ব্যবহার করা বৈধ হবে না। বরং মালিক জানা থাকলে মূল মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে ক্রেতাবিক্রেতা থেকে মূল্য ফেরত নিতে পারবে। মালিকের সন্ধান পাওয়া না গেলে যার থেকে কিনেছে তাকে দিয়ে মূল্য ফেরত নিতে পারবে। আর কারো কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া সেট হস্তগত হলে কী করতে হবে তা তো সবারই জানা আছে। এর ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
-আল-মুহীতুল বুরহানী ৭/৫৯, বাদায়েউস সানায়ে
৬/৪৫, খানিয়া ৩/৪১৮, ফাতহুল কাদীর
৫/১৬৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬০৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মসজিদে মোবাইলের ব্যবহার৷

প্রশ্ন
মসজিদের ভিতরে থেকে মোবাইলে কথাবার্তা বলা যাবে কি না? কী ধরনের কথাবার্তা বলা যাবে?
উত্তর
মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এখানে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি করে বৈধ কথাবার্তাও নাজায়েয। অবশ্য ইবাদতের উদ্দেশ্যে এসে অন্য ইবাদতকারীর ক্ষতি না হয় এভাবে বৈধ কথাবার্তা বলার অবকাশ আছে। তবে মসজিদে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা না বলাই উচিত। আর মসজিদে প্রবেশের আগেই রিংটোন বন্ধ করে দেয়াই আদব। বিশেষ করে কেউ ইবাদতে মগ্ন থাকলে বা জামাতের সময় হলে এ বিষয়ে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরী। - আলমুহাল্লা-৩/১৬০, শরহুল মুনইয়াহ ৬১০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২১,ফাতহুল বারী ১/৬৫৩, এলামুস সাজিদ ৩২৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬০২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের রিংটোন হিসাবে ‘সালাম’-এর ব্যবহার৷

প্রশ্ন
অনেকে সালাম ডাউনলোড করে তা রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করে এটি জায়েয কিনা?
উত্তর
হাঁ, এ ক্ষেত্রে সালামের ব্যবহার জায়েয। কারণ, শরীয়তে সালাম এর ব্যবহার দু’ভাবে এসেছে। একটি হল অভিবাদন হিসাবে সালামের ব্যবহার। দ্বিতীয়টি হল অনুমতি প্রার্থনামূলক সালাম। অর্থাৎ কারো ঘরে প্রবেশের অনুমতি চাওয়ার জন্য সালাম দেওয়া। মোবাইলের রিংটোন হিসেবে সালামের ব্যবহার এ প্রকারের সাথে মিল রয়েছে। তাই রিংটোনের জন্য সালামের ব্যবহার নাজায়েয নয়। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

গান বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র৷

প্রশ্ন
ইসলামে গান বাজনা কি বৈধ? অনেকে বলে এগুলো নাকি বৈধ ৷ তাই মুফতী সাহেবের নিকট আকুল আবেদন, কুরআন হাদীসের
দলিল সহ সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন৷
উত্তর
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦْ
‎ﻳَﺸْﺘَﺮِﻱ ﻟَﻬْﻮَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦْ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ-
‘মানুষের মাঝে কেউ কেউ এমন আছে, যে আল্লাহর রাস্তা (ইসলাম) হতে বিচ্যুত করার জন্য অসার কথা খরিদ করে’ (লুক্বমান ৬) । ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) আল্লাহর কসম করে বলেছেন, উক্ত আয়াতে ‘অসার কথা’ বলতে গানকে বুঝানো হয়েছে। আবূ আমির ও আবূ মালিক আল- আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ﻟَﻴَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻣِﻦْ
‎ﺃُﻣَّﺘِﻰ ﺃَﻗْﻮَﺍﻡٌ ﻳَﺴْﺘَﺤِﻠُّﻮﻥَ ﺍﻟْﺤِﺮَ ﻭَﺍﻟْﺤَﺮِﻳﺮَ ﻭَﺍﻟْﺨَﻤْﺮَ ﻭَﺍﻟْﻤَﻌَﺎﺯِﻑَ
‘অবশ্যই আমার উম্মতের মধ্যে এমন অনেক গোষ্ঠী হবে, যারা স্বাধীন মানুষের কেনা-বেচা, রেশম ব্যবহার, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল গণ্য
করবে’।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ
(ছাঃ) বলেছেন, ﻟَﻴَﻜُﻮﻧَﻦَّ ﻓِﻲْ ﻫﺬِﻩِ ﺍﻷُﻣَّﺔِ ﺧَﺴْﻒٌ
‎ﻭَﻗَﺬْﻑٌ ﻭَﻣَﺴْﺦٌ ﻭَﺫﻟِﻚَ ﺇِﺫَﺍ ﺷَﺮِﺑُﻮﺍ ﺍﻟﺨُﻤُﻮﺭَ ﻭَﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﺍ
‎ﺍﻟْﻘَﻴْﻨَﺎﺕِ ﻭَﺿَﺮَﺑُﻮﺍ ﺑِﺎﻟﻤَﻌَﺎﺯِﻑِ- ‘অবশ্যই এই উম্মতের
মধ্যে ভূমিধ্বস, আসমান থেকে নিক্ষিপ্ত গযব ও দৈহিক রূপান্তরের শাস্তির প্রাদুর্ভাব দেখা দিবে। এসব তখনই ঘটবে যখন তারা মদ্যপান শুরু করবে, গায়িকা রাখবে ও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে’৷ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঢোল-তবলা বাজাতে নিষেধ করেছেন এবং বাঁশিকে দুষ্ট লোক ও বোকার কণ্ঠস্বর নামে আখ্যায়িত করেছেন৷ পূর্বসূরি আলেমগণ যেমন ইমাম আহমাদ (রহঃ) প্রমুখ পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, অসার ক্রীড়া-কৌতুক, গান- বাজনা এবং তাতে ব্যবহৃত যন্ত্রাদি হারাম। যেমন সারেঙ্গী, তানপুরা, রাবাব, মন্দিরা, বাঁশি, ফ্লুট বাঁশি, তবলা ইত্যাদি। আধুনিক বাদ্যযন্ত্রসমূহ নিঃসন্দেহে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিষেধ বাণীর আওতায় পড়ে। যেমন- বেহালা, একতারা, দোতারা, হার্প, পিয়ানো, গিটার, ম্যান্ডেলিন ইত্যাদি। এই যন্ত্রগুলি বরং হাদীছে নিষিদ্ধ তৎকালীন অনেক যন্ত্র থেকে অনেক বেশী মোহ ও তন্ময়তা সৃষ্টি করে। এমনকি বাদ্যযন্ত্রের নেশা মদের নেশা থেকেও অনেক বড় হয়ে দাঁড়ায়। আর যদি বাদ্যযন্ত্রের সাথে গান ও সুর সংযোজিত হয় তাহলে পাপের পরিধি বেড়ে যাবে, হারামও কঠিন হবে। সেই সাথে গানের কথাগুলি যদি প্রেম-ভালবাসা, রূপচর্চা, যৌন উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী ইত্যাদি বিষয়ে হয় তাহলে তো মুছীবতের কোন শেষ
নেই।
এ কারণেই আলেমগণ বলেছেন, গান ব্যভিচারের বার্তাবাহক এবং অন্তরে কপটতা সৃষ্টিকারী। মোটকথা, বর্তমান কালে গানের কথা, সুর ও বাদ্য এক বিরাট ফিৎনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিউজিকের এই সর্বগ্রাসী থাবা এখন শুধু গানেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা ঘড়ি, ঘণ্টা, ভেঁপু, শিশুখেলনা, কম্পিউটার ও টেলিফোন ও মোবাইলের মাঝেও বিস্তৃত হয়েছে। মনের দৃঢ় সংকল্প না থাকলে এসব থেকে বাঁচা বড়ই দুষ্কর। গান-বাজনার সঙ্গে পরিচিত নয় এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। গানের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। কিন্তু কম্বলের লোম বাছা যেমন কষ্টকর তেমনি অসংখ্য হারাম গানের মধ্য হতে দু’একটি হালাল গান বের করাও কষ্টকর। গান দ্বারা যদি আল্লাহ ও রাসূলের প্রশংসা করা হয়, জিহাদের প্রতি অনুপ্রাণিত করা হয়, ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা হয়, চরিত্র গঠনের চেষ্টা করা হয়, পাপ- পংকিলতা থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়, তাহলে বাদ্যযন্ত্রবিহীন এ জাতীয় গান বৈধ হবে। উল্লিখিত ও অনুরূপ বিষয় ছাড়া গান হারাম - অনুবাদক। -তাফসীরে ইবনু কাছীর ৬/৩৩৩ পৃঃ, বুখারী; মিশকাত হাঃ ৫৩৪৩। তিরমিযী হাঃ ২১৮৫; সিলসিলা ছহীহাহ হাঃ ২২০৩, বায়হাক্বী, মিশকাত হাঃ ৪৫০৩; ছহীহুল জামে‘ হাঃ ১৭৪৭-৪৮, তিরমিযী হাঃ ১০০৫; ছহীহুল জামে‘ হাঃ ৫১৯৪। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইল বা এ জাতিয় বস্তু স্ত্রীকে মোহর হিসেবে দেয়া৷

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি বিবাহের কিছুদিন পরে বিদেশ চলে যায়। সেখান থেকে স্ত্রীর জন্য দশ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট পাঠায়। এরপর বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়। তালাকের পর মোহর আদায়ের সময় স্বামী ঐ মোবাইলকে মোহরের অন্তর্ভুক্ত ধরে এবং বলে যে, আমি সেটা মোহর হিসেবেই দিয়েছি। কিন্তু তালাক দেওয়ার পূর্বে মোবাইল মহর হিসাবে দেওয়ার কথা জানায়নি। স্ত্রী মহর হিসাবে ধরতে সম্মত নয়। সে বলছে, মোবাইল কি মোহর হয়? জানতে চাই, উক্ত স্বামী এই মোবাইল মোহরের হিসেবের মধ্যে ধরতে পারবে কি না?
উত্তর
আমাদের সমাজে মোবাইল বা এ ধরনের ব্যবহারিক সামগ্রী মোহর হিসেবে দেওয়ার প্রচলন নেই। তাই এ জাতীয় দ্রব্যাদি মোহর হিসেবে দিতে চাইলে পূর্বেই স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া জরুরি। অন্যথায় তা উপহার হিসেবে দেওয়া
হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। সুতরাং প্রশ্নের
বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু মোবাইলটি দেওয়ার সময় স্ত্রীর সাথে সেটা মোহর হিসেবে দেওয়ার কথা হয়নি তাই এখন সেটাকে মোহর হিসেবে গণ্য করার অবকাশ নেই। -আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৫০; ফাতহুল কাদীর ৩/২৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৩২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৮৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল...

প্রশ্ন
অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল বের
করে আগে দেখে নেয় কার কল আসল
তারপর মোবাইল বন্ধ করে। এটা কি
ঠিক? এটা কি আমলে কাছীর বলে গণ্য
হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
মোবাইল ফোন দেখে দেখে এক হাত দ্বারা বন্ধ করলে নামায নষ্ট হবে না। কেননা এটা আমলে কাছীরের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কারো কল আসলে এটা ইচ্ছাকৃত দেখার কারণে নামায মাকরূহ হবে। কেননা নামায অবস্থায় কোনো লেখা দেখা এবং বোঝার চেষ্টা করা মাকরূহ। তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কল আসামাত্রই মোবাইলটি এক হাত দিয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিবে। বন্ধ করার জন্য বাটন দেখার প্রয়োজন হলে দেখতে পারবে। প্রকাশ থাকে যে, মোবাইল ব্যবহারকারীদের কর্তব্য হল, মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই অথবা অন্ততপক্ষে নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া। কেননা নামাযের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে অন্য নামাযীদেরও ব্যাঘাত ঘটে। তাই যথাসময়ে ফোন বন্ধ করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯; শরহুল মুনইয়াহ, পৃষ্ঠা : ৪৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪, ৬২৪ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৫২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

বর্তমানে আমরা যে মোবাইল মনি অর্ডার, বিকাশের মাধ্যমে কোথাও টাকা...

প্রশ্ন
বর্তমানে আমরা যে মোবাইল মনি অর্ডার, বিকাশের মাধ্যমে কোথাও টাকা পাঠালে শতকরা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা কেটে রাখে, এমনি মোবাইলে রিচার্জের সময় 1/2 টাকা কেটে রাখে ৷ জানার বিষয় হলো, উক্ত মুয়ামালা শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কিনা??? দলিল সহ উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন৷
উত্তর
হ্যাঁ, মোবাইল, মনি অর্ডার, বিকাশ ও রিচার্জের সময় সার্ভিস চার্জ হিসেবে অতিরিক্ত যে টাকা উক্ত কাজ আন্জামদাতাগন কেটে রাখে তা উজরতে মিসিলের বেশি না হলে গ্রহন করা বৈধ ৷ তবে উজরতে মিসিলের বেশি গ্রহন করা যাবে না৷
দলিলঃ
বুহুস ফি কাযায়া ফিকহিয়াতিন মুয়াসারা 1/200 (দারুল কলম)৷

ফতোয়া নং: ৪১৩৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার...

প্রশ্ন
রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার আয়াত শোনলে সিজদা আদায় করতে হবে
কি?
উত্তর
রেডিও টেলিভিশনে তিলাওয়াত কারীর সরাসরি সম্প্রচারকৃত সিজদার আয়াত শুনলে
সিজদা করতে হবে। তবে রেকর্ড করা সিজদার আয়াত রেডিও
টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে শুনলে সিজদা আদায় করতে হবে না, তবে সতর্কতা মুলক সিজদা দিয়ে দেয়া ভালো।
দলিলঃ-
তাতারখানিয়া ২/৪৬২, মুহিত ২/৩৬২, বাহার ২/২১১,
ফতোয়া নং: ৩৭৩০
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে...

প্রশ্ন
মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কি জায়েয আছে?
উত্তর
মোবাইলে বা এর মেমোরিতে কুরআন মজীদ সংরক্ষণ করা এবং এখান থেকে
দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে অসুবিধা নেই।
তবে মোবাইলের স্ক্রীনে কুরআন মাজীদের আয়াত বা কোনো পৃষ্ঠা খুললে তার যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখতে হবে এবং লিখিত অংশ বিনা অযুতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে
হবে।
আর মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন মাজীদের আয়াত দৃশ্যমান না থাকলে তা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে। কিন্তু স্ক্রীণে কোনো আয়াত দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না৷ -আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮
ফতোয়া নং: ৩২৬১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা...

প্রশ্ন
মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা তরজমা মোবাইলে রাখা যাবে কি?
উত্তর
জ্বী, মোবাইল ফোনের স্পীকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনা যাবে। তবে তিলাওয়াত চলাকালীন সময় পূর্ণ আদব রক্ষা করে মনোযোগের সাথে শুনতে হবে। আর কুরআন মাজীদের তরজমা ও হাদীস মোবাইল মেমোরিতে সংরক্ষণ করা জায়েয আছে। তবে এগুলো মোবাইলে দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় সতর্ক থাকতে হবে যেন এর অসম্মান না হয়।
ফতোয়া নং: ৩০২৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার...

প্রশ্ন
রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে কোরান তিলাওয়াত শোনার সময় সিজদার আয়াত শোনলে সিজদা আদায় করতে হবে
কি?
উত্তর
রেডিও টেলিভিশনে তিলাওয়াত কারীর সরাসরি সম্প্রচারকৃত সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা করতে হবে। তবে রেকর্ড করা সিজদার আয়াত রেডিও টেলিভিশন ও মোবাইল থেকে শুনলে সিজদা আদায় করতে হবে না, তবে সতর্কতা মুলক সিজদা দিয়ে দেয়া ভালো।
দলিলঃ-
তাতারখানিয়া ২/৪৬২, মুহিত ২/৩৬২, বাহার ২/২১১,
ফতোয়া নং: ২৮৬২
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল...

প্রশ্ন
আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল এনে দেশে পাইকারী ব্যবসা করেন। হুযুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ঐ পার্টসের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? এ দেশের মূল্য হিসেবে, নাকি চীনের? বিক্রয় মূল্য নাকি ক্রয়মূল্য? খুচরা মূল্য না পাইকারি মূল্য? আর যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যবসার মাল কি ব্যক্তিগত মালের সাথে যুক্ত হবে, নাকি ব্যক্তিগত সম্পদ আর ব্যবসার সম্পদের নেসাব ভিন্ন ভিন্ন?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার মামা যেদিন যাকাত আদায় করবেন সেদিন দেশের মার্কেটে পার্টসের পাইকারি মূল্য যত হবে সে হিসাবে যাকাত আদায় করবেন। এক্ষেত্রে দেশের পাইকারি বিক্রয় মূল্য ধর্তব্য হবে, ক্রয় মূল্য নয়। আর বছর পূর্ণ হলে ব্যবসার মালের সাথে ব্যক্তিগত স্বর্ণ-রূপা, টাকা- পয়সা ইত্যাদি যাকাতযোগ্য সব ধরনের সম্পদই হিসাব করতে হবে এবং যাকাতযোগ্য সকল সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে। -কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবায়েদ কাসেম ইবনে সালস্নাম পৃ. ৫২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬, ২/৩০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২২২, ২/২২৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৬৫
ফতোয়া নং: ২৮২৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ফেইসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে অনেকে সংক্ষেপে এভাবে সালাম দেয় "সালাম"...

প্রশ্ন
ফেইসবুক টুইটার হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে অনেকে সংক্ষেপে এভাবে সালাম দেয় "সালাম" A/S, আরো ভিবিন্ন সংকেতের মাধ্যমে সালাম দেওয়া হয়। জানার বিষয় হল, এভাবে সালাম দিলে, সালাম হবে কিনা, এবং তার উত্তর দেওয়া ওয়াজীব কিনা?
উত্তর
সালাম শুধু "আস সালামু আলাইকুম" ও "সালামুন আলাইকুম" এ দু ভাবে দিলেই সালাম হয়। এবং তার উত্তর দেওয়া ওয়াজীব হয়। এছাড়া অন্য কোন ভাবে সালাম দিলে সালাম হবে না। এবং তার উত্তর দেওয়া ও জরুরী নয়। অতএব প্রশ্নে উল্লেখিত সংক্ষেপে সালাম দেওয়ার সুরতে সালাম হবে না।
দলিলঃ ফতোয়ায়ে শামী ৯/৫৯৬
‎وانه لا يجب رد سلام عليكم بجزم الميم وقال ابن عابدين انه لونون المجرد من ال كما هو تحية الملائك لاهل الجنة يجب الرد فيكون له صيغتان ...ولفظ السلام في الموضع كلها السلام عليكم اوسلام عليكم بالتنوين وبدون هذين كما يقول الجهال لايكون سلاما
আলমগীরি ৫/৩২৫; ইসালাতুল কাইরুয়ানি ১/১৬০, ফাওয়াকিহাতুদ দাওয়ানি ১/৯৮.
ফতোয়া নং: ২৫০৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে...

প্রশ্ন
আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে মেয়ের আইডি ব্যাবহার করলে মানুষ সেটা পড়ে এবং গুরুত্ব দেয়। তাই আমি ছেলে হয়ে মেয়ের নামে আইডি খুলে ব্যবহার করতে পারবো কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ইসলাম প্রচার প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে সাথে অনেক সওয়াবেরও কাজ, তবে তা শরিয়ত সম্মত পন্থায় হতে হবে। অবৈধ পন্থায় ইসলাম প্রচার করা যাবে না। আর মিথ্যা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই ইসলাম প্রচার করার ক্ষেত্রে কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। তাই অহেতুক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছেলে হয়ে মেয়ের আইডি ব্যবহার বৈধ হবে না।
‎ﻛﻤﺎ
‎ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻻﻣﺎﻡ ﻣﺴﻠﻢ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺤﻪ:(1 / ‎70ﺍﻟﻨﺴﺨﺔ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﻪ) ‎ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺃﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ‎ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺣﻤﻞ ﻋﻠﻴﻨﺎ ‎ﺍﻟﺴﻼﺡ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻨﺎ ﻭﻣﻦ ﻏﺸﻨﺎ ﻓﻠﻴﺲ ﻣﻨﺎ ‎.ﻭ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺒﺴﻮﻁ ﻟﻠﺴﺮﺧﺴﻲ:(/
486 , 11
ফতোয়া নং: ২০৫৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি এক প্রবাসী। আমার বিবাহ ঠিক হয়েছে, কিন্ত আমার ছুটি...

প্রশ্ন
আমি এক প্রবাসী। আমার বিবাহ ঠিক হয়েছে, কিন্ত আমার ছুটি আরো ছয় মাস পর হবে, তাই মোবাইলে বিবাহ করতে চাই। কিন্তু ব্জানার বিষয় হলো মোবাইলে বিবাহ কি বৈধ হবে?
উত্তর
না বৈধ হবে না। বিবাহের মাধ্যে যেহেতু স্বামী স্ত্রী উভয়ের ইজাব কবুল [প্রস্তাব গ্রহন ] সরাসরি শোনা শর্ত, তাই মোবাইলে বিবাহ বৈধ হবে না। তবে স্বামীর পক্ষ থেকে যদি এমন একজনকে ওকিল বানানো হয়, জিনি সরাসরি ইজাব বা কবুল করতে পারবেন, তাহলে বিবাহ বৈধ হবে।
দলিল;
শামী ৩/৯,হেদায়া ২/৩০৬, বাদায়ে ২/৪৮, আলমগিরী ১/২৬৮,


ফতোয়া নং: ২০৪৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পকেটে মোবাইল নিয়ে আমি ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হওয়ার কারনে স্কীনে...

প্রশ্ন
পকেটে মোবাইল নিয়ে আমি ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হওয়ার কারনে স্কীনে বীর্য লেগে যায়, অতপর আমি কাপর দিয়ে মুছে ফেলি, এবং এই অবস্থায় মোবাইল সাথে নিয়ে নামাজ পড়ি। মুফতি সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হল আমার নামাজ হয়েছে?
উত্তর
হ্যা, আপনার নামাজ হয়েছে। বীর্য যদি শুকিয়ে যায় ভিজা পবিত্র কাপর দিয়ে মুছে ফেললে স্কীন পবিত্র হয়ে যায়। আর যদি বীর্য আর্দ্র হয় শুকনা কাপর দিয়ে মুছে ফেললে পবিত্র হয়ে যায়।
দলিল;
আদ দুররুল মুখৎসর ১/৩১০, হেদায়া ১/৪২, বাহ্রুর রায়েক ১/৩৫১, আলমগিরী ১/৪১.
শেয়ার করে দিন।


Execution time: 0.04 render + 0.02 s transfer.