Login | Register

ফতোয়া: ফেইসবুক-মোবাইল

ফতোয়া নং: ৭৩৩৪
তারিখ: ১৯/১১/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ধার করে আনা জিনিষ চুরী বা নষ্ট হয়ে গেলে জরিমানা দিতে হবে কিনা?

প্রশ্ন
আমার সাথীর একটি মোবাইল তার কাছে থেকে কয়েকদিনের জন্য নিয়েছিলাম। মোবাইলটি নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলাম ৷ তখন মোবাইলটি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে ছিল। ব্যাংক থেকে বের হয়ে রিকশায় উঠে দেখি, মোবাইল নেই। আমার জানার বিষয় হল, এখন মোবাইলটির ক্ষতি পূরণ দেওয়া কি আমার জন্য জরুরি?
উত্তর
ধার করা জিনিষ এক প্রকার আমানত ৷ যা নিজের সাধ্যানুযায়ী পুরিপুর্ন হেফাযতের চেষ্টা করার পরও নষ্ট হয়ে গেলে জরিমানা দিতে হয় না ৷ কিন্তু হেফাযতে কোনো ত্রুটি থাকার দরুন নষ্ট হলে জরিমানা দিতে হয় ৷ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বন্ধু যদি মোবাইলটির জরিমানা দাবি করে তাহলে জরিমানা দিতে হবে ।
কেননা, আমাদের দেশের বর্তমান
অবস্থায় ব্যাংক, রাস্তা-ঘাট ও জনসমাগমে চলাবস্থায় মোবাইল ইত্যাদি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়। সুতরাং পাঞ্জাবীর সাইড পকেট থেকে যেহেতু তা চুরি হয়েছে তাই আপনার পক্ষ থেকে এর হেফাযতের ব্যাপারে ত্রুটি হয়েছে। তাই আপনাকে এর জরিমানা দিতে হবে।
-আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৪৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৭৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৭৩২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি আমার এক বন্ধুর কাছে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল...

প্রশ্ন

আমি আমার এক বন্ধুর কাছে পাঁচ হাজার টাকায় একটি মোবাইল বিক্রি করি। নগদ পাঁচ শ’ টাকা সে আদায় করে। বাকিটা দুমাসের মধ্যে আদায় করবে বলে। ঘটনাচক্রে যেদিন মোবাইলটি বিক্রি হয় সেদিনই তার হাত থেকে পড়ে মোবাইলটির স্ক্রীন ফেটে যায়। পরদিন এসে সে বলছে, আমি এ মোবাইল নেব না। তবে স্ক্রীন ফাটার কারণে আমার পাচ শ’ টাকা আমাকে না দিলেও চলবে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি। দু’দিন পর আমি বলেছি, মোবাইল ফেরত দিতে হলে আরো পাচ শ’ টাকা দিতে হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাই, এক্ষেত্রে শরীয়ত কী বলে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু মোবাইলের বেচাকেনা সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং ক্রেতা তা হস্তগত করেছে এবং তার হাতেই মোবাইলটি ভেঙেছে তাই মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার অধিকার তার নেই। তবে আপনি সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিলে সে মোবাইলটি ফেরত দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে আপনি মোবাইল স্ক্রীনের যথাযথ মূল্য তার কাছ থেকে নিতে পারবেন।

-বাদায়েউস সনায়ে ৪/৫৪৬; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/১১৮; রদ্দুল মুহতার ৫/১২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার বন্ধুর বারো হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল তার কাছে...

প্রশ্ন

আমার বন্ধুর বারো হাজার টাকা দামের একটি মোবাইল তার কাছে থেকে কয়েকদিন ব্যবহার করার জন্য নিয়ে বাসায় যাচ্ছিলাম। মোবাইলটি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে ছিল। পকেটে কোনো চেইন ও ছিল না। বাসে খুব ভীড় ছিল। বাস থেকে নেমে দেখি, মোবাইল নেই। আমার জানার বিষয় হল, মোবাইলটির ক্ষতি পূরণ দেওয়া কি আমার জন্য জরুরি?

উত্তর

আপনার বন্ধু যদি মোবাইলটির জরিমানা দাবি করে তবে দিয়ে দেওয়াই উচিত। কেননা, আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থায় রাস্তা-ঘাটে ও জনসমাগমে চলাবস্থায় মোবাইল ইত্যাদি পাঞ্জাবীর সাইড পকেটে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়।

সুতরাং পাঞ্জাবীর পাশের পকেট থেকে যেহেতু তা চুরি হয়েছে তাই আপনার পক্ষ থেকে এর হেফাজতের ব্যাপারে কিছু ত্রুটি হয়েছে এটাই স্বাভাবিক। তাই আপনাকে এর জরিমানা দিতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৪৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি এক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে একটি এন্ড্রয়েড সেট সার্ভিসের জন্য...

প্রশ্ন

আমি এক মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে একটি এন্ড্রয়েড সেট সার্ভিসের জন্য দেই। দোকানদার নিজেই মেরামত করে। সে মোবাইলটা খুলতে গিয়ে একটি সূক্ষ্ম যন্ত্র নষ্ট করে ফেলে। যার মূল্য দেড় হাজার টাকা। আমি তার কাছে এর জরিমানা চাইলে সে বলল, আমি তো ইচ্ছা করে নষ্ট করিনি। হঠাৎ হয়ে গেছে।

আমার প্রশ্ন হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর ক্ষতিপূরণ নেওয়া আমার জন্য বৈধ হবে কি?

উত্তর

মেরামতকারীর হাতেই যেহেতু নষ্ট হয়েছে তাই আপনি তার থেকে এর ক্ষতিপূরণ নিতে পারবেন।এক্ষেত্রে মেরামতকারী ইচ্ছাকৃত নষ্ট করেছে কি না তা দেখার বিষয় নয়।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২১৪৫৮; কিতাবুল আসার ২/৬৬১; কিতাবুল আছল ৩/৫৬১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দাহ ৬১১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মাঝে মাঝে প্রস্রাবের রাস্তায় হালকা পানি দেখা যায়। এটা হয়...

প্রশ্ন

মাঝে মাঝে প্রস্রাবের রাস্তায় হালকা পানি দেখা যায়। এটা হয় হঠাৎ করে। বিশেষ করে স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলার পর মাঝেমধ্যে এমন হয়। এ কারণে গোসল করতে হবে, না অযু করলে চলবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কারণে গোসল ফরয হবে না। বরং অযু করলেই চলবে। আর তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে, ১/১৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪৩ আদ্দুররুল মুখতার ১/১৬৫, ৩১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মসজিদের ভেতর টিভি, চ্যানেলযুক্ত মোবাইল দিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখা ও...

প্রশ্ন

মসজিদের ভেতর টিভি, চ্যানেলযুক্ত মোবাইল দিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখা ও খরব শোনা কি জায়েয বা সওয়াবের কাজ? নাকি জঘণ্যতম অপরাধের কাজ? যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে অপরাধীর করণীয় কী?

খ) যদি কেউ মসজিদের ভেতরে মাল্টিমিডিয়া মোবাইলে খেলা, খবর শোনা বা দেখা জায়েয বলেন তাহলে তার এ কথা কি সঠিক?

উত্তর

মসজিদ আল্লাহ তাআলার ঘর। এটি ইবাদত-বন্দেগী, নামায, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির-আযকারের স্থান। খেলাধূলার স্থান নয়। মসজিদের আদাব ও সম্মান রক্ষা করা জরুরি। মসজিদের ভেতরে মোবাইল স্ক্রীনে ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি খেলা দেখা গুনাহর কাজ। মোবাইলের স্ক্রীনে খেলা দেখা আর টিভি স্ক্রীনে খেলা দেখার গুনাহ সমান। সর্ম্পূণ নাজায়েয। বর্তমানে টিভি ও মোবাইলে ক্রিকেট বা ফুটবল ইত্যাদি যে খেলা সম্প্রচার করা হয় এতে বহু গুনাহ ও শরীয়তবিরোধী কর্মকা- রয়েছে। মসজিদের বাইরেও কোনো মুসলমানের জন্য এগুলো দেখা বৈধ নয়। আর মসজিদে দেখা তো আরো মারাত্মক গুনাহ। আর মসজিদে টিভি দেখা কতটা জঘন্য কাজ তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রকাশ থাকে যে, মসজিদ এমন এক পবিত্রতম জায়গা, যেখানে দুনিয়াবী অনেক বৈধ কাজও নিষিদ্ধ হয়ে যায়। যেমন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রয়-বিক্রয় ইত্যাদি।

অনুরূপ মসজিদের বাইরে বৈধ দুনিয়াবী গল্প-গুজব ও আলাপচারিতা নাজায়েয নয়। কিন্তু মসজিদের ভেতরে গল্প-গুজবকারীর প্রতি কঠোর ধমকি এসেছে।

তাই যেখানে সাধারণ অবস্থার বৈধ কাজকর্মই নিষিদ্ধ সেখানে ক্রিকেট খেলা দেখা যাতে একাধিক গুনাহর কাজ রয়েছে তা কত বড় অন্যায় ও গুনাহর কাজ হবে তা সহজেই অনুমেয়। তাই কেউ মসজিদে খেলা দেখে থাকলে তার কর্তব্য হল, আল্লাহ তাআলার নিকট খাঁটি মনে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এমন অন্যায় ও গুনাহর কাজ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা।

আর কোনো ব্যক্তি যদি বাস্তবেই মোবাইল স্ক্রীনে এ ধরনের খেলা দেখাকে জায়েয বলে থাকেন তবে তার এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

এক দোকানে চোরাই মোবাইল, মেমোরি কার্ড, চার্জার ইত্যাদি স্বল্প মূল্যে...

প্রশ্ন

এক দোকানে চোরাই মোবাইল, মেমোরি কার্ড, চার্জার ইত্যাদি স্বল্প মূল্যে বিক্রি করা হয়। মানুষ জেনে-শুনেই স্বল্প মূল্যে উপরোক্ত পণ্যগুলো ক্রয়ের জন্য সেখানে যায়। আমার কিছু বন্ধুর পীড়াপীড়িতে আমিও সেখান থেকে একটি মোবাইল কিনতে চাচ্ছি। এখন প্রশ্ন হল, জেনেশুনে চোরাই মোবাইল বা অন্য কোনো পণ্য ক্রয় করা যাবে কি? দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

চোরাই মাল ক্রয়-বিক্রয় করা সম্পূর্ণ হারাম। কারণ, বিক্রেতা এ মালের মালিক নয়। অথচ ক্রয়-বিক্রয়ের প্রধান শর্ত হলো, বিক্রেতা পণ্যের/সম্পদের মালিক হওয়া। কারো কোনো জিনিস চুরি করা বা আত্মসাৎ করা মহাপাপ। এ পাপে লিপ্ত ব্যক্তির তাৎক্ষণিক ফরয হলো খাঁটি দিলে তওবা করা এবং চুরিকৃত জিনিসটি মালিককে ফেরত দেওয়া। তা না করে এটিকে বিক্রি করে দেওয়া চুরি এবং আত্মসাতের মতো অপরাধকে আরো প্রতিষ্ঠিত করার নামান্তর। যা স্বতন্ত্র কবীরা গুনাহ। আর যে ব্যক্তি জেনে-শুনে তা ক্রয় করল সেও এ কবীরা গুনাহে শরিক হলো। উপরন্তু এ ক্রয়-বিক্রয় যেহেতু ভুয়া তাই না ক্রেতা এ পণ্যের মালিক হবে না বিক্রেতা মূল্যের মালিক হবে। এদের উভয়ের উপর ফরয,পণ্য মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২২৪৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৩৭৪, ৩৪০; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/১১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে...

প্রশ্ন

মোবাইলের ভেতর কুরআন মজীদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া কি জায়েয আছে?

উত্তর

মোবাইলে বা এর মেমোরিতে কুরআন মজীদ সংরক্ষণ করা এবং এখান থেকে দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে অসুবিধা নেই।

তবে মোবাইলের স্ক্রীনে কুরআন মাজীদের আয়াত বা কোনো পৃষ্ঠা খুললে তার যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখতে হবে এবং লিখিত অংশ বিনা অযুতে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

আর মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন মাজীদের আয়াত দৃশ্যমান না থাকলে তা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে। কিন্তু স্ক্রীণে কোনো আয়াত দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া জায়েয হবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

জামালপুর শহরের কেন্দ্রে আমার একটি বেশ বড় মুদি দোকান আছে।...

প্রশ্ন

জামালপুর শহরের কেন্দ্রে আমার একটি বেশ বড় মুদি দোকান আছে। একদিন আমার এক বন্ধু এসে বলল যে, এখানে বিকাশ, মোবাইল রিচার্জ ও কার্ড বিক্রি করলে খুব চলবে। তার কথা আমার কাছে যৌক্তিক মনে হল এবং আমরা যৌথ কারবার করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হল, আমি আমার মুদি দোকানের একটি অংশ দিব। আর সে মূলধন বিনিয়োগ করে ব্যবসা করবে। যা লাভ হবে এর ৩০% আমি নিব আর ৭০% সে নিবে। আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি করা কি শরীয়তসম্মত হয়েছে? আশা করি উত্তর জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নে উলে­খিত চুক্তিটি শুদ্ধ হয়নি। কেননা ঐ ব্যক্তিকে ব্যবসার জন্য দোকানের এক অংশ ছেড়ে দেওয়ার দ্বারা আপনি তার ব্যবসায় অংশিদার গণ্য হবেন না। সুতরাং লভ্যাংশ থেকে আপনার পাওনা ধার্য করা বৈধ নয়। এক্ষেত্রে আপনি দোকানের ঐ অংশের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাড়া নিতে পারবেন। আর ব্যবসায় যা লাভ হবে তা পুরোটাই ঐ ব্যক্তির থাকবে।

Ñমাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়া, মাদ্দা: ১৩৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৭/৫০৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৮৪; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/২৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা...

প্রশ্ন

মোবাইলে কি কুরআন শোনা যাবে? বাংলা কুরআন ও হাদীসের বাংলা তরজমা মোবাইলে রাখা যাবে কি?

উত্তর

জ্বী, মোবাইল ফোনের স্পীকারে কুরআন তিলাওয়াত শোনা যাবে। তবে তিলাওয়াত চলাকালীন সময় পূর্ণ আদব রক্ষা করে মনোযোগের সাথে শুনতে হবে। আর কুরআন মাজীদের তরজমা ও হাদীস মোবাইল মেমোরিতে সংরক্ষণ করা জায়েয আছে। তবে এগুলো মোবাইলে দৃশ্যমান থাকা অবস্থায় সতর্ক থাকতে হবে যেন এর অসম্মান না হয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার এক বন্ধু একটি মেয়ের সাথে এভাবে বিয়ে করেছিল যে,...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু একটি মেয়ের সাথে এভাবে বিয়ে করেছিল যে, মোবাইলে ছেলে মেয়েকে বলেছিল, আমি তোমাকে এত টাকা মহর ধার্য করে বিবাহ করলাম। রাজি থাকলে বল কবুল। তখন মেয়ে ফোনেই কবুল বলেছিল। পরে ছেলেও কবুল বলেছিল। বিবাহের সময় ছেলের সাথে আরো ২ জন পুরুষ ছিল। উভয়ে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে মেয়ের কবুল শুনতে পেরেছিল। আর ছেলেরটা সরাসরিই শুনেছে। এখন জানতে ইচ্ছুক, এর দ্বারা কি ইসলামের দৃষ্টিতে ছেলেমেয়ের বিবাহ সহীহ হয়েছে? এখন তারা একত্রে ঘর-সংসার করতে চাচ্ছে। তারা চুপিসারে বিয়ে করেছে।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মোবাইল ফোনে সংঘটিত উক্ত বিবাহ সহীহ হয়নি। কেননা বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য যে স্থানে বিবাহের ইজাব-কবুল হবে সেখানে দুজন সাক্ষীর উপস্থিত থাকা এবং উপস্থিত পাত্র-পাত্রী বা তাদের প্রতিনিধি থেকে সরাসরি ইজাব-কবুল শ্রবণ করা আবশ্যক। পাত্র পাত্রী বা তাদের প্রতিনিধি দুই স্থান থেকে ফোনে লাউড স্পিকারের মাধ্যমে ইজাব-কবুল করলে এবং সাক্ষীগণ তা শ্রবণ করলে এর দ্বারা বিবাহ সংঘটিত হয় না। পাত্র-পাত্রী ভিন্ন স্থানে অবস্থান করলে তাদের মধ্যে বিবাহ কীভাবে করতে হবে সে নিয়ম নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে জেনে নেওয়া জরুরি।

জেনে রাখা দরকার যে, বিবাহ-শাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পিতা-মাতা এবং মুরব্বিজনদের পরামর্শ ও সম্মতিক্রমেই তা হওয়া বাঞ্ছনীয়। অভিভাবকদের অসম্মতিতে কিংবা তাদেরকে না জানিয়ে নিজে নিজে এ পদক্ষেপ নেওয়া কিছুতেই ঠিক নয়। হাদীস শরীফে অভিভাবকের সম্মতির প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক হাদীসে বিবাহের প্রচার করা ও তা প্রকাশ্যে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ চুপিসারে করা কিছুতেই ঠিক নয়।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৯৫১৮, ২৫৩২৬, ১৬১২৩০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১০৪৯০, ১০৪৯৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৭, ২/৪৯০; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৪৩-৩৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১-২২;

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমাদের এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটপাথে ছোটছোট দোকান বসে। ঘড়ি, লাইট,...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটপাথে ছোটছোট দোকান বসে। ঘড়ি, লাইট, মোবাইল বিভিন্ন ধরনের পুরাতন জিনিস সেখানে পাওয়া যায়। এলাকার মানুষ ঐসব দোকানকে চোরাই মার্কেট বলে। সবাই বলে, সেখানে চুরির মাল বিক্রি হয়।

আমার প্রশ্ন হল, ঐসব দোকান থেকে কোনো কিছু কেনা কি জায়েয হবে?

উত্তর

চোরাই মাল ক্রয় করা জায়েয নেই। তাই বাস্তবেই যদি সেটি চোরাই মার্কেট হয়ে থাকে তাহলে সেখান থেকে কোনো কিছু ক্রয় করা জায়েয হবে না।

-রদ্দুল মুহতার ৪/৫০৪-৫০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমাদের এলাকায় জামে মসজিদ কমিটি আমাদের গ্রামের এক বাসিন্দা থেকে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় জামে মসজিদ কমিটি আমাদের গ্রামের এক বাসিন্দা থেকে জামে মসজিদ সংলগ্ন পশ্চিম দিকের ৮ শতাংশ জমি সাব কবলা ক্রয়ের জন্য ১,৭০,০০০/- (এক লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা শতাংশ হিসেবে ২,২০,০০০/- (দুই লক্ষ বিশ হাজার) টাকা বায়না চুক্তি করে। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় যে, অদ্যাবধি তিনি মসজিদকে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিচ্ছেন না। ইতিমধ্যে আমরা মসজিদ কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গ্রামের মুরব্বিদের নিয়ে তার বাসায় গিয়ে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার অনুরোধ করি। সে সভায় তিনি আমাদেরকে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তবে শর্ত দেন যে, গ্রামে সে জমির পাশে তাদের আত্মীয়ের নিকট তাদের জমি বেদখল হয়ে আছে সেগুলো আদায় করে দেওয়ার। আমরা তাকে আমাদের সহযোগিতা করার কথা দেই। কিন্তু যে তারিখে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল সেই তারিখে তিনি উপস্থিত হননি। এরপর থেকে তার সাথে মোবাইল ফোনে কয়েকবার কথা হলেও তিনি বারবার আমাদের এড়িয়ে যান।

মসজিদটি আমাদের গ্রামের একমাত্র মসজিদ। বর্তমানে মসজিদটি দ্বিতল বিশিষ্ট ৮৯০ বর্গফুট। এত ছোট মসজিদে আমাদের সম্পূর্ণ গ্রামের প্রায় ১০০০ (এক হাজার) জন মুসল্লির জুমার নামায আদায় করতে সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।

এ অবস্থায় আমাদের মসজিদটি পুনঃনির্মাণের জন্য উক্ত ব্যক্তির বায়নাকৃত (জমিটি বর্তমানে মসজিদ কমিটির দখলে আছে) জমিতে আমরা মসজিদটি সম্প্রসারণ করতে পারি কি না? সম্প্রসারণকৃত স্থানে ওয়াক্তিয়া ও জুমার নামায আদায়ে কোনো সমস্যা হবে কি? সমাধানের জন্য আপনার সুচিন্তিত মতামত কামনা করছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির সাথে বায়না চুক্তি সম্পন্ন করার দ্বারা উক্ত জমির বিক্রি সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং জমিটি মসজিদের দখলে থাকার কারণে তাতে মসজিদের মালিকানাও প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। এখন বিক্রেতার দায়িত্ব হল,জমিটি মসজিদ বরাবর রেজিস্ট্রি করে দেওয়া। আর মসজিদ কমিটির দায়িত্ব হচ্ছে বকেয়া মূল্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করে দেওয়া। এক্ষেত্রে বিক্রেতার জন্য জমিটি রেজিস্ট্রি করে দিতে বিলম্ব করা বা অস্বীকৃতি জানানোর কোনো সুযোগ নেই। এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে অন্যের হক আটকে রাখার মতো বড় গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর জমিটির উপর যেহেতু মসজিদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে তাই রেজিস্ট্রি কাজে বিলম্ব হলেও এখন ঐ জায়গায় মসজিদ সম্প্রসারণ করা যাবে। তবে রেজিস্ট্রির সময়ই বিক্রেতার অবশিষ্ট মূল্য অবশ্যই পরিশোধ করে দিতে হবে।

-কিতাবুল হুজ্জা আলা আহলিল মাদীনা ১/৭২৮; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৬২; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৬৭, ৩৬৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৫০৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৮২; শরহুল মাজাল্লাহ, খালেদ আতাসী ২/৩৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল...

প্রশ্ন

আমার মামার মোবাইলের পার্টসের দোকান আছে। মামা চীন থেকে মাল এনে দেশে পাইকারী ব্যবসা করেন। হুযুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ঐ পার্টসের মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? এ দেশের মূল্য হিসেবে, নাকি চীনের? বিক্রয় মূল্য নাকি ক্রয়মূল্য? খুচরা মূল্য না পাইকারি মূল্য? আর যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে ব্যবসার মাল কি ব্যক্তিগত মালের সাথে যুক্ত হবে, নাকি ব্যক্তিগত সম্পদ আর ব্যবসার সম্পদের নেসাব ভিন্ন ভিন্ন?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার মামা যেদিন যাকাত আদায় করবেন সেদিন দেশের মার্কেটে পার্টসের পাইকারি মূল্য যত হবে সে হিসাবে যাকাত আদায় করবেন। এক্ষেত্রে দেশের পাইকারি বিক্রয় মূল্য ধর্তব্য হবে, ক্রয় মূল্য নয়। আর বছর পূর্ণ হলে ব্যবসার মালের সাথে ব্যক্তিগত স্বর্ণ-রূপা, টাকা-পয়সা ইত্যাদি যাকাতযোগ্য সব ধরনের সম্পদই হিসাব করতে হবে এবং যাকাতযোগ্য সকল সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবায়েদ কাসেম ইবনে সালস্নাম পৃ. ৫২১; বাদায়েউস সানায়ে ২/১১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬, ২/৩০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২২২, ২/২২৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার কাধে ঝোলানো একটি ছোট ব্যাগ থাকে। যার মাঝে সফরে...

প্রশ্ন

আমার কাধে ঝোলানো একটি ছোট ব্যাগ থাকে। যার মাঝে সফরে আমি মোবাইল, মানিব্যাগ, পাতলা একটি জায়নামায ও ছোট একটি কুরআন শরীফ বহন করি। এখন প্রশ্ন, আমি এই ব্যাগ নিয়ে পথে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারব কি না? অনেক সময় ব্যাগটি টয়লেটের বাইরে রাখা সম্ভব হয় না।

উত্তর

কুরআন মজীদ, কোনো যিকির বা হাদীস শরীফ সম্বলিত লিখা নিয়ে টয়লেট বা অপবিত্র স্থানে প্রবেশ করা নাজায়েয। অবশ্য তা যদি ব্যাগের ভেতর থাকে আর ব্যাগ বাইরে রাখা নিরাপদ না হয় সেক্ষেত্রে ঐ ব্যাগ নিয়ে ভিতরে যেতে পারবেন।

-ফাতহুল কাদীর ১/১৫০; আলবাহরুর রায়েক ১/২০২; রদ্দুল মুহতার ১/১৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি হওয়ার কারণে মোবাইল রেকর্ডার ইত্যাদির প্রচলন...

প্রশ্ন

বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতি হওয়ার কারণে মোবাইল রেকর্ডার ইত্যাদির প্রচলন বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই যে কোনো জায়গায় মোবাইল রেকর্ডার ইত্যাদি থেকে কুরআনের তিলাওয়াত শোনা যায়। জানার বিষয় হল, মোবাইল, টেপ রেকর্ডার ইত্যাদি থেকে সিজদার আয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হবে?

উত্তর

মোবাইল, রেকর্ডার, সিডি ইত্যাদি থেকে সিজদার আয়াত শুনলে সিজদা ওয়াজিব হবে না। কেননা তিলাওয়াতের সিজদা ওয়াজিব হওয়ার জন্য বুঝমান, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে সরাসরি সিজদার আয়াত শ্রবণ করা শর্ত। তবে রেকর্ড থেকে সিজদার আয়াত শুনলেও সিজদা করে নেওয়া উত্তম।

-শরহুল মুনইয়াহ ৫০০; আলবাহরুর রায়েক ২/১২০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৮৪; রদ্দুল মুহতার ২/১০৮; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/৪৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল...

প্রশ্ন

অনেক মানুষকে দেখি, নামাযের মধ্যে কল আসলে পকেট থেকে মোবাইল বের করে আগে দেখে নেয় কার কল আসল তারপর মোবাইল বন্ধ করে। এটা কি ঠিক? এটা কি আমলে কাছীর বলে গণ্য হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

মোবাইল ফোন দেখে দেখে এক হাত দ্বারা বন্ধ করলে নামায নষ্ট হবে না। কেননা এটা আমলে কাছীরের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে কার কল আসল এটা ইচ্ছাকৃত দেখার কারণে নামায মাকরূহ হবে। কেননা নামায অবস্থায় কোনো লেখা দেখা এবং বোঝার চেষ্টা করা মাকরূহ। তাই এ থেকে বিরত থাকা জরুরি। কল আসামাত্রই মোবাইলটি এক হাত দিয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিবে। বন্ধ করার জন্য বাটন দেখার প্রয়োজন হলে দেখতে পারবে।

প্রকাশ থাকে যে, মোবাইল ব্যবহারকারীদের কর্তব্য হল, মসজিদে প্রবেশের পূর্বেই অথবা অন্ততপক্ষে নামাযে দাঁড়ানোর পূর্বে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেওয়া। কেননা নামাযের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠলে অন্য নামাযীদেরও ব্যাঘাত ঘটে। তাই যথাসময়ে ফোন বন্ধ করার প্রতি যত্নবান হতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫৯; শরহুল মুনইয়াহ, পৃষ্ঠা : ৪৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৩৪, ৬২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ক) আমাদের এলাকায় ধানের উপর টাকা লাগানোর প্রচলন রয়েছে। তা...

প্রশ্ন

ক) আমাদের এলাকায় ধানের উপর টাকা লাগানোর প্রচলন রয়েছে। তা এভাবে যে, জমির মালিক বৈশাখ মাস আসার আগেই প্রতি হাজারে তিন মণ ধান দেবেন বলে টাকা নেন। অতপর নির্ধারিত সময়ে ধান দিয়ে দেন। এখন আমার প্রশ্ন হল, ধানের উপর এভাবে টাকা লাগানো জায়েয কি না? এ সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

খ) অনেকসময় জামাতে নামাযের মধ্যে মোবাইল বেজে উঠে। যা নামাযে ব্যাঘাত ঘটায়। এখন আমার প্রশ্ন হল, নামাযের মধ্যেই হাত দ্বারা মোবাইল বন্ধ করা যায় কি না? বন্ধ করলে কি আমালে কালীল বা কাছীর হয়ে যাবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ক) হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে ধানের আগাম খরিদ জায়েয। তবে এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত শর্তাবলির প্রতি লক্ষ রেখে লেনদেন করতে হবে :

১. ধান প্রদানের সময় ও স্থান নির্ধারণ করতে হবে।

২. ধানের প্রকার ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করতে হবে।

৩. কোন বিশেষ ক্ষেতের ধান দেওয়ার শর্ত করা যাবে না।

৪. ধানের মূল্য পুরোটা অগ্রিম আদায় করে দিতে হবে।

৫. মেয়াদান্তে ক্রেতাকে ধানই গ্রহণ করতে হবে।

বিক্রেতা যদি ধান দিতে না পারে তবে ক্রেতা কেবল তার আদায়কৃত টাকাই গ্রহণ করতে পারবে। কম-বেশি করা যাবে না।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ২২৪০; ফাতহুল কাদীর ৬/২১-২৩০; রদ্দুল মুহতার ৫/২১৪, ২১৮; শরহুল মাজাল্লাহ ২/৩৯২

উত্তর : খ) নামায অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে আপন অবস্থায় থেকেই এক হাত দ্বারা তা বন্ধ করে দিবে। এক্ষেত্রে দুই হাত ব্যবহার করা যাবে না। কেননা একসঙ্গে দুই হাত ব্যবহার করলে নামায ভেঙ্গে যাবে।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ১৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

(১) বর্তমানে আমরা বিভিন্ন বাদ্য সম্বলিত ইসলামী সংগীত শুনতে পাই।...

প্রশ্ন

(১) বর্তমানে আমরা বিভিন্ন বাদ্য সম্বলিত ইসলামী সংগীত শুনতে পাই। যথা

طلع البدر علينا

সংগীতটি বিভিন্ন ভাষায় বিভিন্ন ধরনের পাওয়া যায়। জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এগুলো শুনার হুকুম কী? এগুলো কি হারাম বাদ্যের অন্তর্ভূক্ত?

(২) আজকাল মোবাইলে বিভিন্ন ধরনের রিংটোন থাকে। তন্মধ্যে কিছুতো হয় সম্পূর্ণ গান-বাদ্য সম্বলিত। আবার কিছু আছে যাতে গান নেই তবে গানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ, আর কিছু আছে সাধারণ রিংটোন যাতে গানও নেই গানের সাদৃশ্যতাও নেই। আমি কোনটি ব্যবহার করতে পারি।

এখন জানার বিষয় হল : উপরোল্লিখিত রিংটোনের মধ্যে কোনটি জায়েয আর কোনটি নাজায়েয-হারাম?

উত্তর

(১) হামদ, নাতও বাদ্যসহ শোনা যাবে না। বাদ্য তো এমনিতেই নাজায়েয আর হামদ নাতের সাথে এটা যুক্ত করা বেয়াদবিও বটে।

(২) একেবারে সাধারণ রিংটোন যাতে কোনো প্রকারের বাদ্য নেই সেটিই ব্যবহার করবে। বাদ্যসহ রিংটোনের ব্যবহার শরীয়তসম্মত নয়।-সহীহ মুসলিম ২/২০২; মুসতারাকে হাকেম : ৬৯০৮; ইসলাম আওর মূসিকী, মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার মোবাইল মেমোরিতে পুরো কুরআন মজীদ ডাউনলোড করা আছে। আমি...

প্রশ্ন

আমার মোবাইল মেমোরিতে পুরো কুরআন মজীদ ডাউনলোড করা আছে। আমি বিভিন্ন সময় তা বের করে তিলাওয়াত শুনি। এই মোবাইল নিয়ে টয়লেটে যাওয়া যাবে কি?

উত্তর

কুরআন মজীদের আয়াত বা আল্লাহ তাআলার নাম দৃশ্যমান থাকলে তা নিয়ে টয়লেটে যাওয়া নিষিদ্ধ। তাই কুরআনের আয়াত বা কোনো যিকির মোবাইলের স্ক্রীনে দৃশ্যমান অবস্থায় থাকলে তা নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। অবশ্য যদি স্ক্রীনে না থাকে বরং শুধু মেমোরি কার্ডে বা মোবাইল মেমোরিতে থাকে তবে ঐ মোবাইল নিয়ে কেউ টয়লেটে গেলে অসুবিধা হবে না।

-শরহুল মুনইয়াহ ৬০; ফাতহুল কাদীর ১/১৫০; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি ফোনের ব্যবসা করি। আমার এখানে অনেক ছাত্র কাস্টমার আছে।...

প্রশ্ন

আমি ফোনের ব্যবসা করি। আমার এখানে অনেক ছাত্র কাস্টমার আছে। অধিকাংশ ছাত্রের বাড়িতেই যোগাযোগের জন্য আমার মোবাইল নাম্বারটি দেওয়া আছে। বাড়ি থেকে যোগাযোগের জন্য এ নাম্বারেই ফোন করে থাকে। আবার মাস শেষে যখন টাকা পাঠানোর প্রয়োজন হয় তখন তারা এ নাম্বারে রিচার্জ করে টাকা পাঠিয়ে দেয়। এভাবে আমার এই মোবাইল নাম্বারে অনেকেই টাকা পাঠায়। সেই রিচার্জের টাকা থেকে কিছু কেটে রাখি। এখন উক্ত টাকা থেকে কিছু টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে কি না? শরয়ী দলিল-প্রমাণের আলোকে সঠিক সমাধান দানে হুজুরের মর্জি কামনা করছি।

উত্তর

ইলেক্ট্রনিক রিচার্জের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণ করা ঠিক নয়। কেননা এভাবে টাকা প্রেরণ করা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নয়। এছাড়া এটি রিচার্জের উদ্দেশ্যেরও পরিপন্থী। তাই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণের প্রয়োজন হলে রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক তথা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অথবা সমাজে স্বীকৃত অন্য যেসব আইনসম্মত পন্থা রয়েছে তার মাধ্যমে পাঠাবে। অতএব প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা প্রেরণ করা ঠিক নয়। তবে যদি কেউ এভাবে কারো কাছে টাকা পাঠায় তাহলে সেক্ষেত্রে যার মোবাইলে পাঠাবে তার জন্য প্রাপকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ফী হিসেবে অল্প কিছু টাকা কেটে রাখা জায়েয হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৭/৩০০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৮০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৫২১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৬৬; আলমাদখালুল ফিকহিল আম ১/১০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমাদের বাড়ির পাশের একটি মেয়েকে সৌদী অবস্থানরত একজন বাংলাদেশী ছেলের...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশের একটি মেয়েকে সৌদী অবস্থানরত একজন বাংলাদেশী ছেলের সাথে মোবাইলে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিয়ের সময় উভয় প্রান্তে লাউড স্পিকারে অনেক লোক বিয়ের সাক্ষী ছিল। বর্তমানে তাদের একটি

সন্তানও হয়েছে। জানার বিষয় হল, মোবাইলে তাদের এ বিয়ে কি সহীহ হয়েছে? আর না হলে বর্তমান সন্তানের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য একই মজলিসে সাক্ষীদের সম্মুখে উভয় পক্ষ কিংবা তাদের প্রতিনিধিদেরউপস্থিতিতে ইজাব-কবুল হওয়া জরুরি। আর মোবাইল বা ফোনে বিবাহে এ শর্ত পাওয়া যায় না।তাই প্রশ্নোক্ত বিবাহ সহীহ হয়নি। এভাবে প্রবাসে অবস্থানরত ব্যক্তি বিবাহ করতে চাইলে তারপদ্ধতি হল, ছেলে এ দেশে তার পক্ষে বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য একজন উকিল তথা প্রতিনিধিনিযুক্ত করবে। ঐ উকিল বিবাহের মজলিসে উপস্থিত হয়ে সাক্ষীদের সম্মুখে প্রবাসীর পক্ষ থেকেইজাব বা কবুলের মাধ্যমে বিবাহকার্য সম্পন্ন করবে।

যেহেতু প্রশ্নোক্ত দম্পতির বিবাহ সহীহ হয়নি তাই এখন তাদের করণীয় হল, অনতিবিলম্বে নতুনকরে মোহর ধার্য করে সাক্ষীদের সম্মুখে বিবাহ পড়িয়ে নেওয়া। আর বিগত জীবনের জন্য অন্তরেরঅন্তস্থল থেকে তওবা-ইস্তিগফার করা।

প্রকাশ থাকে যে, তাদের ঐ সন্তানটি বৈধ এবং সে পিতামাতার মিরাসেরও হকদার হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯৪, ১/৩৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬ q

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

এক লোক আমার নিকট একটি মোবাইল বিক্রি করতে চাচ্ছে। কিন্তু...

প্রশ্ন

এক লোক আমার নিকট একটি মোবাইল বিক্রি করতে চাচ্ছে। কিন্তু আমি জানি, এটা সে চুরি করে এনেছে। তা জানা সত্ত্বেও আমার জন্য ঐ মোবাইল ক্রয় করা বৈধ হবে কি?

উত্তর

বিক্রেতা মোবাইলটি চুরি করে এনেছে একথা জানা থাকলে আপনার জন্য তা ক্রয় করা জায়েয হবে না। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জেনেশুনে চুরিকৃত বস্ত্ত ক্রয় করল সে চুরির অপরাধে শরিক হয়ে গেল। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৩৩৭)

বিখ্যাত তাবেয়ী ইবনে সিরীন রাহ. আবীদা আসসালমানী রাহ.কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি কি চুরিকৃত বস্ত্ত ক্রয় করতে পারব, অথচ আমি জানি এটা চুরিকৃত বস্ত্ত? তিনি বললেন, না, তুমি তা ক্রয় করতে পার না। (প্রাগুক্ত)

-শরহুল মাজাল্লাহ ১/২৬২; ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৯/৩২১; ইতরে হেদায়া ৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

এক লোক একটি হাঙ্গেরি মোবাইল সেট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এক মোবাইল...

প্রশ্ন

এক লোক একটি হাঙ্গেরি মোবাইল সেট ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এক মোবাইল দোকানদারকে বলল, আমাকে একটি হাঙ্গেরি নকিয়া মোবাইল সেট দিন। দোকানদার তাকে হাঙ্গেরি নকিয়া সেটের বদলে একটি চায়না নকিয়া সেট দিল এবং তার থেকে হাঙ্গেরি নকিয়া সেটের দাম রাখল। লোকটি বাসায় গিয়ে দেখল যে, এটা হাঙ্গেরি নকিয়া সেট নয়; বরং চায়না নকিয়া সেট। এখন আমার জানার বিষয় হল, ঐ ব্যক্তি মোবাইল সেটটি ফেরত দিতে পারবে কি না। আর না পারলে অতিরিক্ত মূল্য ফেরত নিতে পারবে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু বিক্রেতা ঐ ব্যক্তিকে হাঙ্গেরি নকিয়া সেটের পরিবর্তে চায়না সেট দিয়েছে তাই তার জন্য ঐ সেটটি ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। সুতরাং ঐ ব্যক্তি সেটটি ফেরত দিতে চাইলে দোকানদার হয়ত তাকে সেটার পরিবর্তে হাঙ্গেরী সেট দিবে। কিংবা ক্রেতা যদি চায়না সেটটিই ন্যায্য মূল্যে নিজের কাছে রেখে দিতে চায় এবং বিক্রেতাও তাতে সম্মত হয় সেক্ষেত্রে বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্য ক্রেতাকে ফেরত দিয়ে দিবে।

-ফাতহুল কাদীর ৫/৫৩০; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/৫৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৩২০; শরহুল মাজাল্লা ২/২৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমি যায়েদের কাছে একটি মোবাইল বিক্রি করেছি। বিক্রির সময় তাকে...

প্রশ্ন

আমি যায়েদের কাছে একটি মোবাইল বিক্রি করেছি। বিক্রির সময় তাকে বলেছিলাম, এখন ভালোভাবে দেখে নাও। কেনার পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে ফেরত দিতে পারবে না। সব ধরনের সমস্যা থেকে আমি দায়মুক্ত। আমার কথামতো সে ভালোভাবে দেখে মোবাইলটি নিয়েছে। কিন্তু এখন কিছু সমস্যার কথা বলে তা ফেরত দিতে চায়। জানার বিষয় হল আমার জন্য কি মোবাইলটি ফেরত নেওয়া আবশ্যক?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মোবাইলটি ফেরত নেওয়া আপনার জন্য আবশ্যক নয়। কেননা আপনি মোবাইলটির যাবতীয় সমস্যা থেকে দায়মুক্ত হওয়ার শর্তে বিক্রি করেছেন। ক্রেতা যেহেতু এ শর্ত মেনে নিয়েই ক্রয় করেছে তাই এখন কোনো সমস্যার কারণে তা ফেরত নিতে বাধ্য করতে পারবে না। হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি দায়মুক্ত হওয়ার শর্তে কোনো গোলাম বিক্রি করবে সে যাবতীয় দোষ থেকে দায়মুক্ত হয়ে যাবে।’

মুয়াত্তা মুহাম্মাদ পৃ. ৩৩৭; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/১৫৬; রদ্দুল মুহতার ৫/৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/৬৯; ইতরে হিদায়া, পৃ. ১০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ক) আমরা জানি যে, ব্যভিচার প্রমাণ হওয়ার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী...

প্রশ্ন

ক) আমরা জানি যে, ব্যভিচার প্রমাণ হওয়ার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রয়োজন। কিন্তু একজন ব্যক্তি এমন দৃশ্য দেখে মোবাইলে তা ভিডিও করেছে। ফলে অপকর্মটা অনেকেই দেখতে পাচ্ছে। এমতাবস্থায় কি তাদের ব্যভিচার প্রমাণ হবে, আদালতের উপর ভিত্তি করে। তাদের উপর কি হদ কায়েম করতে পারবে?

খ) বর্তমানে কম্পিউটারে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এমন সুবিধা গ্রহণ করা যায় যে, দুজন দু প্রান্তে থেকে একে অন্যকে সুস্পষ্ট দেখতে পায়। প্রশ্ন হল, বর-কনে ও সাক্ষীগণ যদি উপস্থিত থেকে দুই প্রান্তে বিয়ে পড়ানো হয় তাহলে এ বিয়ের হুকুম কী? বিয়ে কি সম্পন্ন হবে? এখানে তো স্পষ্টভাবে সবাইকে দেখা যাচ্ছে।

উত্তর

(ক) একজন দেখে মোবাইলে ভিডিও করে নিলেও তা দ্বারা হদের শাস্তি দেওয়া যাবে না। কেননা, এ শাস্তি প্রয়োগের শর্ত পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষেত্রবিশেষে বিচারক এ ধরনের প্রমাণ দ্বারা তাযীর (লঘু শাস্তি) প্রয়োগ করতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, হদ, রজম ইত্যাদি একমাত্র ইসলামী রাষ্ট্রের আদালতই দিতে পারে।

-সূরা নিসা : ১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৪৩; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৫০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৭৩

(খ) না, এভাবে বিয়ে সহীহ হবে না। বিয়ের জন্য সাক্ষীদের সরাসরি সম্মুখে তাদেরকে শুনিয়ে ইজাব-কবুল হওয়া জরুরি। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পাত্র বা পাত্রী তার পক্ষ থেকে বিবাহ সম্পন্ন করার জন্য কাউকে প্রতিনিধি বানাবে। ঐ প্রতিনিধি অপর পক্ষকে নিয়ে দুই সাক্ষীর সামনে বিবাহ সম্পন্ন করবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৯৪, ২৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫২৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

আমার পরিচিত বিশ্বস্ত এক ব্যবসায়ীকে আমি কিছু টাকা দিয়েছি। সে...

প্রশ্ন

আমার পরিচিত বিশ্বস্ত এক ব্যবসায়ীকে আমি কিছু টাকা দিয়েছি। সে তা এক বছর ব্যবসায় খাটাবে। আমি বলেছি, ব্যবসার লভ্যাংশ থেকে আমাকে ভালো ও উন্নত (মাল্টি মিডিয়া) একটি মোবাইল সেটা দিতে হবে। আর কিছু দিতে হবে না। এভাবেই তার সাথে আমার চুক্তি হয়েছে। প্রশ্ন হল, উপরোক্ত পদ্ধতিতে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

আপনাদের এ চুক্তি শরীয়তসম্মত হয়নি। কারণ এই ধরনের কারবারে লাভ হিসাবে নির্দিষ্ট বস্তু বা নির্ধারিত অংকের টাকা নেওয়া-দেওয়ার চুক্তি করা বৈধ নয়। তাই মোবাইল দেওয়ার চুক্তি জায়েয হয়নি। এ কারণে চুক্তিটি ফাসেদ হয়ে গেছে। সহীহভাবে চুক্তি করতে চাইলে উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে। যেমন আপনার জন্য লাভের ৫০% এবং ব্যবসা পরিচালনাকারীর জন্য ৫০% অথবা কম-বেশি।

ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/২৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/১৮৮; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ৪/৩৩৩, মাদ্দাহ : ১৪১১; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৭/১৪০, ১৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আলোচনা কি দুনিয়াবী কথাবার্তার অন্তর্ভুক্ত? মসজিদে বসে...

প্রশ্ন

ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসা-বাণিজ্যের আলোচনা কি দুনিয়াবী কথাবার্তার অন্তর্ভুক্ত? মসজিদে বসে সরাসরি বা মোবাইল ফোনে ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের আলোচনা করা বৈধ হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ইবাদতের অন-র্ভুক্ত। তাই ইতিকাফকারী ছাড়াও অন্যদের জন্য এর আলোচনা মসজিদে করতে কোনো অসুবিধা নেই। তাদের এ কথা কতুটুক সঠিক? আসলে কি ইতেকাফকারী ব্যতীত অন্য কেউ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বণিজ্যের আলোচনা মসজিদে করতে পারবে?

উত্তর

মসজিদে ক্রয়-বিক্রয় করাকে সরাসরি হাদীস শরীফে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি কাউকে মসজিদে বেচাকেনা করতে দেখ তাহলে তোমরা বলবে আল্লাহ যেন তোমার ব্যবসা লাভজনক না করেন।-জামে তিরমিযী ১/১৫৮

হালাল বেচাকেনা ও ব্যবসা-বাণিজ্য অবশ্যই ছওয়াবের কাজ। তবে সব ধরনের ছওয়াবের কাজের স্থান মসজিদ নয়; বরং এই হালাল ও ছওয়াবের কাজের স্থান হল বাজার। তবে শুধু ইতিকাফকারীর জন্য পণ্য মসজিদে উপস্থিত না করার শর্তে প্রয়োজনীয় লেনদেনের আলোচনার অনুমতি রয়েছে।

জামে তিরমিযী ১/১৫৮; ইবনে মাজাহ পৃ. ৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৭; ফাতহুল কাদীর ২/৩১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে যদি নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে তা...

প্রশ্ন

নামাযে মোবাইল বেজে উঠলে যদি নিম্নোক্ত পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে তা বন্ধ করা হয় তাহলে নামাযের হুকুম কী হবে? কোন সুরতে নামায ভাঙ্গবে আর কোন সুরতে ভাঙ্গবে না। জানালে উপকৃত হব।

১. পাঞ্জাবি বা প্যান্টের পকেটে মোবাইল আছে। তা বের করা ছাড়াই পকেটের উপর থেকে চাপ দিয়ে কিংবা হাত ঢুকিয়ে সেখানেই এক হাত দ্বারা তা বন্ধ করা।

২. পাঞ্জাবি বা প্যান্টের সাইড পকেট থেকে বের করে এনে দেখে দেখে বন্ধ করা।

৩. বুক পকেট থেকে এনে দেখে বন্ধ করা।

৪. পকেট থেকে ফোল্ডিং সেট বের করে খুলে তারপর বন্ধ করা।

উত্তর

১. মোবাইলের দিকে না তাকিয়ে এক হাত দিয়ে দ্রুত বন্ধ করে দিলে নামায ফাসেদ হবে না। চাই পকেটের উপর থেকে বন্ধ করা হোক বা ভেতরে হাত দিয়ে বন্ধ করা হোক। নামায অবস্থায় মোবাইল বেজে উঠলে তা বন্ধ করার এটি উত্তম ব্যবস্থা।

২. পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করলে, এক হাত দিয়ে বন্ধ করলেও নামায ভেঙ্গে যাবে। কারণ এ অবস্থায় কোনো আগন্তুক তাকে দেখলে সে নামাযে নেই বলেই প্রবল ধারণা করবে।

৩. বুক পকেট থেকে বের করে দেখে দেখে বন্ধ করলেও নামায ভেঙ্গে যাবে।

৪. ফোল্ডিং সেটও না দেখে এক হাত দ্বারা দ্রুত বন্ধ করে দিলে নামায ভাঙ্গবে না। কিন্তু যদি দুই হাত ব্যবহার করে কিংবা দেখে দেখে বন্ধ করে তবে নামায ভেঙ্গে যাবে। তেমনিভাবে এক হাত দিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে যদি তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় ব্যয় হয়ে যায় তবুও নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৫৬৪; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৪৪৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১১, ১২; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪, ৬২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

এক ব্যক্তি বিবাহের কিছুদিন পরে বিদেশ চলে যায়। সেখান থেকে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি বিবাহের কিছুদিন পরে বিদেশ চলে যায়। সেখান থেকে স্ত্রীর জন্য দশ হাজার টাকা মূল্যের মোবাইল সেট পাঠায়। এরপর বিভিন্ন সমস্যার কারণে স্বামী স্ত্রীকে তালাক দেয়। তালাকের পর মোহর আদায়ের সময় স্বামী ঐ মোবাইলকে মোহরের অন্তর্ভুক্ত ধরে এবং বলে যে, আমি সেটা মোহর হিসেবেই দিয়েছি। কিন্তু তালাক দেওয়ার পূর্বে মোবাইল মহর হিসাবে দেওয়ার কথা জানায়নি। স্ত্রী মহর হিসাবে ধরতে সম্মত নয়। সে বলছে, মোবাইল কি মোহর হয়? জানতে চাই, উক্ত স্বামী এই মোবাইল মোহরের হিসেবের মধ্যে ধরতে পারবে কি না?

উত্তর

আমাদের সমাজে মোবাইল বা এ ধরনের ব্যবহারিক সামগ্রী মোহর হিসেবে দেওয়ার প্রচলন নেই। তাই এ জাতীয় দ্রব্যাদি মোহর হিসেবে দিতে চাইলে পূর্বেই স্ত্রীর সম্মতি নেওয়া জরুরি। অন্যথায় তা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু মোবাইলটি দেওয়ার সময় স্ত্রীর সাথে সেটা মোহর হিসেবে দেওয়ার কথা হয়নি তাই এখন সেটাকে মোহর হিসেবে গণ্য করার অবকাশ নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১৫০; ফাতহুল কাদীর ৩/২৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/৩২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৮৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৮৯৭
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন, আমাদের মোবাইলের ভেতর পুর্ন কুরআন...

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন, আমাদের মোবাইলের ভেতর পুর্ন কুরআন শরীফ লিখিত আকারে সফটওয়্যারের মাধ্যমে রাখা আছে ৷ মাঝে মাঝে খুলে সহজে পড়তে পারি ৷ জানার বিষয় হলো, মোবাইলে কুরআন মাজিদ রাখা বা পড়া এবং এটা সাথে নিয়ে টয়লেটে যাওয়া জায়েয হবে কি না?
উত্তর
মোবাইলে বা মেমোরিতে কুরআনে কারীম রাখা এবং এখান থেকে দেখে তিলাওয়াত করা জায়েয। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এবং এই মোবাইল সাথে নিয়ে বাথরুমেও যাওয়া যাবে ৷ তবে মোবাইল স্ক্রীণে কুরআন কারীমের আয়াত বা পৃষ্ঠা দৃশ্যমান থাকলে তা খোলা অবস্থায় টয়লেটে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কিন্তু স্ক্রীণে যদি কোনো আয়াত দৃশ্যমান না থাকে তাহলে টয়লেটে নিয়ে যেতে কোন অসুবিধা নেই ৷
-আদ্দুররুল মুখতার ১/১৭৮ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৬৩
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

স্ত্রীকে "তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ" বললে তালাক ৷

প্রশ্ন
জৈনক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে ঝগড়া হয় ৷ আর সেই ঝগড়ার মাঝে স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য বলে ফেলে তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ ৷ একথা বলে তালাকের কোন ইচ্ছা ছিল না ৷ শুধু ভয় দেখানোই উদ্দেশ্য ছিল ৷ এখন জানার বিষয় হলো উক্ত ব্যক্তির স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? জানালে কৃতার্থ হবো ৷
উত্তর
"তোমার সাথে আমার সবধরনের সম্পর্ক শেষ" এটি কেনায়া শব্দ ৷ এধরনের বাক্য স্ত্রীকে সম্ভোধন করে বলার সময় তালাকের নিয়ত থাকলে এক তালাকে বায়েন পতিত হয় ৷ আর তালাকের নিয়ত না থাকলে তালাক পতিত হয় না ৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিত সুরতে যেহেতু উক্ত ব্যক্তি এ বাক্য তালাকের উদ্দেশ্যে বলে নি ৷ শুধু ভয় দেখানোর জন্য বলেছে ৷ তাই তালাক পতিত হয়নি ৷ এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বহাল রয়েছে ৷
-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/৩৭৫; কাজীখান ১/৪৬৮; বায্যাযিয়া, ৪/১৯৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৫৯
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা৷

প্রশ্ন
বর্তমান প্রচলিত মিলাদুন্নবী পালন করার হুকুম কি? মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মিসিল, জুশনে জুলুস ইত্যাদি পালন করা কি জায়েয? আমাদের এলাকার এক ইমাম সাহেব ফাতওয়া দিয়েছন যে, কোন ব্যক্তি যদি ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে না, সে কাফের হয়ে যাবে। তার কথা কতটুকু সঠিক? কুরান হাদিসের আলোকে জবাব পাওয়ার আশা করছি।
উত্তর
এ কথা সর্বজন বিদিত যে, সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ স. এর প্রতি গভীর ভালবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্মকান্ডের আলোচনার সাথে সাথে অনুসরনীয় বিষয়ে তাঁর অনুসরণ আল্লাহ তায়ালার রহমত প্রাপ্তির অন্যতম উপায় এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে তা আমাদেরকে অবশ্যই সেই পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবী করীম সাঃ তার সাহাবাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। যা বিভিন্ন হাদিস ও সীরাতের কিতাব সমূহে বর্ণিত রয়েছে।
হাদিস শাস্ত্র এমন একটি প্রমাণ সম্ভার যাতে ধর্মীয় সকল বিষয় সহ মানব জীবনের ছোট বড় সকল কাজ করার শিক্ষা রয়েছে। এমনকি পেশাব, পায়খানা করার পদ্ধতি ও দিক নির্দেশনাও রয়েছে।
রাসূল স. এর জীবন চরিত নিয়ে আলোচনা করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করার মত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদতের পদ্ধতিও হাদিস, আসার তথা সাহাবাগণের উক্তি ও কর্ম পদ্ধতি দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আর হাদিস শরিফে এর প্রমাণ এভাবে পাওয়া যায় যে, দিন তারিখ ও সময় নির্ধারণ না করে এবং আনুষ্ঠিকতার বাধ্যবাধকতা ব্যতিরেকে কখনো কখনো রাসূল স. এর জীবনী আলোচনা করা এবং সর্বদা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা। সুতরাং এ সম্পর্কে মনগড়া ভিত্তিহীন কোনো পদ্ধতি আবিস্কার করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অবশ্য বর্জনীয় বিষয়।
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷
এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,
১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।
২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।
৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।
তাই রাসূল স. এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সাওয়াব ও বরকতের কাজ হলেও শরিয়ত সম্পর্কে অজ্ঞ লোকেরা ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’ নামে ‍নির্দিষ্ট দিনে, বিশেষ পদ্ধতিতে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে, তা কোরআন-হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈনগণ থেকে প্রমাণিত না হওয়ায় তা অবশ্য পরিত্যাজ্য এবং জঘন্য বিদয়াত। কেননা, সাহাবা, তাবেঈনগণই ছিলেন প্রকৃত নবী প্রেমীক ও তাঁর আদর্শের যথাযথ অনুসারী৷
ইসলামে দুই ঈদ বহু হাদীস দ্বারা প্রমানি৷ যা সাহাবাদের যুগ থেকে পালিত হয়ে আসছে৷ এছাড়া তৃতীয় কোন ঈদ ইসলামে প্রমানিত নয়৷
রবিউল আউয়াল মাসে পালিত প্রচলিত ঈদে মীলাদুন্নবী স. ৬০৪ হিজরীতে ইরাকের মুসিল শহরের বাদশাহ আবু সাঈদ মুজাফফার উদ্দীন কুকুরী ও তার এক দরবারী আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এ দুজন মিলে আবিস্কার করে। এরা উভয়ে দ্বীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক ছিলো। পরবর্তীতে অজ্ঞ ও মূর্খ লোকদের দ্বারা আরো অনেক শরিয়ত বিরোধী কর্মকান্ড এতে অনুপ্রবেশ করে। যার সব কিছুই কোরআন- হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরিয়তের মৌলিক সকল দলীলেরই পরিপন্থী। এসকল কারণেই সব যুগের হক্কানী আলেমগণ এক বাক্যে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী, মিসিল জোশনে জুলুস ও মিলাদ মাহফিলকে নাজায়েয হারাম ও বিদআত বলেই ফত্ওয়া দিয়ে থাকেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী দাবীধারগন তার স্বপক্ষে নিম্নেবর্নিত আয়াত ও হাদীসকে দলিল হিসেবে উল্যেখ করে থাকে৷
১৷ সুরা আলে ইমরানের ১০৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন,
اذكروا ﻧﻌﻤﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻜﻢ
" অর্থাৎ তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর;
২৷ আল্লাহ পাক সুরা ইউনুসের ৫৮ নং আয়াতে এরশাদ করেন,
" ﻗﻝ ﺑﻔﻀﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺑﺮﺣﻤﺘﻪ ﻓﺒﺬﺍﻟﻚ ﻓﻠﻴﻔﺮﺣﻮﺍ ﻫﻮ ﺧﻴﺮﻣﻤﺎ ﻳﺠﻤﻌﻮﻥ
অর্থাৎ(হে নবী) আপনি বলে দিন‘এ হল তাঁরই অনুগ্রহ ও করুণায়; সুতরাং এ নিয়েই তাদের আনন্দিত হওয়া উচিত এটা তারা যা (পার্থিব সম্পদ) সঞ্চয় করছে তা হতে অধিক উত্তম।
" ﻋَﻦْ ﺍَﺑِﻰ ﻗَﺘَﺪَﺓَ ﺍﻻَﻧْﺼﺎَﺭِﻯ ﺭَﺿِﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋَﻨﻪُ ﺍَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ
ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ سئل ﻋَﻦْ ﺻَﻮْﻡِ ﻳَﻮْﻡ ﺍﻻِﺛْﻨَﻴْﻦِ ﻗَاﻞَ
ﺫَﺍﻙَ ﻳَﻮْﻡٌ ﻭُﻟِﺪْﺕُ ﻓِﻴْﻪِ ﺑُﻌِﺜْﺖُ ﺍَﻭْﺍُﻧْﺰِﻝَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻓِﻴْﻪِ -
অর্থাৎ হজরত আবু কাতাদা ( রা ) থেকে বর্নিত, নবীজি সাঃ কে সোমবারের রোজা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে তিনি বলেন , এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে , এই দিনে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এই দিনেই আমার উপর নাজিল হয়েছে ৷
হাদিস শরীফে আরো এরশাদ
হয়েছে "
ﻋَﻦْ ﺍِﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﺭَﺿِﻰَ ﺍﻟﻠﻪُ ﺗَﻌَﺎﻟٰﻰ ﻋَﻨْﻬُﻤَﺎ ﺍَﻧَّﻪٗﻛَﺎﻥَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺫَﺍﺕَ
ﻳَﻮْﻡٍ ﻓِﻰْ ﺑَﻴْﺘِﻪٖ ﻭَﻗَﺎﺋِﻊَﻭِﻻﺩَﺗٖﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻟِﻘَﻮْﻡٍ ،
ﻓَﻴَﺴْﺘَﺒْﺸِﺮُﻭْﻥَ ﻭَﻳُﺤَﻤِّﺪُﻭْﻥَ ﺍﻟﻠﻪَ ﻭَﻳُﺼَﻠُّﻮْﻥَﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﺎِﺫَﺍ ﺟَﺎﺀَﺍﻟﻨَّﺒِﻰُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ ﺣَﻠَّﺖْﻟَﻜُﻢْ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰْ
অর্থাৎ হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ( রা ) নিজেই বর্ণনা করেন , একদা তিনি উনার গৃহে সাহাবাদের নিয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের ইতিহাস আলোচনা করতেছিলেন৷ সাহাবাগন শুনে আনন্দিত হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করছেন, নবীজির উপর দরুদ পাঠ করছেন৷ অতপর যখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে উপস্থিত হলেন, বললেন , তোমাদের জন্য আমার শাফায়াত হালাল হয়ে গেছে ৷
এধরনের আয়াত ও হাদীস থেকে তারা ঈদে মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ অথচ ইহা স্পষ্ট ভ্রষ্টতা বৈকিছু নয়৷ কারন সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ী থেকে নিয় প্রায় সাত শত বৎসর পর্যন্ত এসব আয়াত, হাদীস থেকে কেউ মিলাদুন্নবী বুঝেন নি৷ আজকাল তথাকথি নামধারী সুন্নিরা মিলাদুন্নবী প্রমান করতে চায়৷ ইহা কত বড় মুর্খতা হতে পারে আন্দাজ করুন৷
ছয়শতকের পুর্বের কোন মুফাচ্ছীর, পরে কোন হক্কানী মুফাচ্ছীর এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কিতাবে ঈদে মিলাদুন্নবীর কথা বলেছেন, এমন প্রমান সারা জীবন চেষ্টা করলেও কোন ব্যক্তি দেখাতে পারবে না৷
এক নং আয়াতে মানব জাতির প্রতি আল্লাহ প্রদত্ব সার্বিক নিয়ামতকে স্বরন করার কথা বলা হয়েছে৷ এখানে ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা, মিসিল করা কিভাবে প্রমান হয়!
দ্বিতীয় আয়াতে সকল মুফচ্ছীরগন ফযল ও নিয়ামতের ব্যাখ্যা করেছেন কোরআন দিয়ে, কেউ কেউ নবীজির কথাও উল্যেখ করেছেন৷ নবীজি সাঃ এর আগমন এবং স্বয়ং নবীজি সাঃ উম্মতের জন্য নিয়ামত ৷ তাই তার শুকরিয়া ও তার জীবন চরিত আলোচনা করে অনুসর করা জরুরী৷ এবং তা অবশ্যই নবীজি যেভাবে বলেছেন সাহাবাগন যেভাবে করেছেন সেভাবে হতে হবে৷ মনগড়া বানানো পদ্ধতি অবলম্ভন করলে নবীজির ভালবাসা তো দূরের কথা নবীজির চরম শত্রুতে পরিনত হবে৷
প্রথম হাদীসে সোমবারে রোজা পালনের কথা উল্যেখ আছে, কারন নবীজি সাঃ সোমবারে জন্মগ্রহন করেছেন৷ এতে ঈদ উজ্জাপন করার কথা কোথায় রয়েছে? বরং রোজা তো সরাসরি ঈদের বিপরিত৷ তাই দুই ঈদের দিন রোজা রাখা নিষেধ৷ তোমরা কেমন নবীর আশেক হলে নবীজি যেদিন রোজা রেখেছে সেদিন তোমরা ঈদ উজ্জাপন করো! যা সম্পুর্ন রোজার বিপরিত৷
দ্বিতীয় হাদীসে নবীজির জন্মের ঘটনাবলি আলেচনার কথা উল্যেখ করা হয়েছে৷ আমরা তো এ আলেচনা করা অত্যান্ত ফযিলতের বিষয় মনে করি৷ এবং আলোচনা করি৷ কিন্তু এ হীদীস থেকে তো ঈদ প্রমানিত হয় না৷ মিসিল, জোশনে জুলিস প্রমানিত হয় না৷ সাহাবা তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীগন যেভাবে নবীজি সাঃ এর জন্ম বিত্যান্ত আলোচনা করেছেন, যেভাবে আমল করেছেন, তা করা অত্যান্ত ফযীলতপুর্ন ৷ তা বাদ দিয়ে মনগড়া পদ্ধতি অবলম্বন করা সরাসরি ইসলামে বর্ধিত করা৷ যা বিদআত, নাজায়েয ও হারাম৷
অতএব বর্তমান দেশজোরে প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী যা সম্পুর্ন শরীয়ত পরিপন্থী, ইসলামে নতুন আবিস্কৃত আমল৷ যা সম্পুর্ন হারাম৷ প্রত্যেকের জন্য পরিহার করা অপরিহার্য৷
তাই প্রচলিত ঈদে মিলাদুন্নবী সম্পর্কে উক্ত ইমাম সাহেবের বক্তব্য ভ্রান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে ঈদে মীলাদুন্নবীর অস্বীকারকারীদের কাফের বলা চরম ধৃষ্টতা ও কুরুচিপূর্ণ। এজন্য তার তাওবা করা আবশ্যক।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে কাফের বললে দুইজনের একজন কাফের হবে। হয়তো যাকে কাফের বলেছে সে প্রকৃতপক্ষ্যে কাফের হবে। নতুবা কাফের সম্বোধনকারিই কাফের হয়ে যাবে। (সহীহ মুসলিম)
আরো দলিলঃ ﻛﻤﺎ ﺃﺧﺮﺝ ﺍﻹﻣﺎﻡ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻓﻰ ﺻﺤﻴﺤﻪ : ‏( 2/ 959 ‏)
ﻋﻦ ﻋﺎﺋﺸﺔ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗﺎﻟﺖ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ‏( ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﻓﻲ ﺃﻣﺮﻧﺎ ﻫﺬﺍ ﻣﺎ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﻓﻬﻮ
ﺭﺩ ‏) .
ﻭﻓﻰ ﻋﻤﺪﺓ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﺷﺮﺡ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏( 8/ 396 ‏)
ﻭﺍﻟﺒﺪﻋﺔ ﻟﻐﺔ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻋﻤﻞ ﻋﻠﻲ ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ ﻭﺷﺮﻋﺎ
ﺇﺣﺪﺍﺙ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ .
ﻭﻓﻰ ﻣﺮﻋﺎﺓ ﺍﻟﻤﻔﺎﺗﻴﺢ ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﺎﺓ ﺍﻟﻤﺼﺎﺑﻴﺢ : ‏( 1/ 395 ‏)
ﺍﻟﺒﺪﻋﺔ، ﻭﻫﻲ ﻟﻐﺔ : ﻣﺄﺧﻮﺫﺓ ﻣﻦ ﺍﻻﺑﺘﺪﺍﻉ، ﻭﻫﻮ ﺍﻻﺧﺘﺮﺍﻉ ﻋﻠﻰ
ﻏﻴﺮ ﻣﺜﺎﻝ ﺳﺎﺑﻖ، ﻭﺷﺮﻋﺎً : ﺍﻟﻤﺤﺪﺙ ﻓﻲ ﺍﻟﺪﻳﻦ، ﺃﻱ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﻣﺮﻩ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ – ﻭﻻ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﺃﻱ ﻟﻴﺲ
ﻋﻠﻴﻪ ﺃﺛﺎﺭﺓ ﻣﻦ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻻ ﻣﻦ ﺳﻨﺔ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻻ ﻓﻌﻠﻪ ﺃﻭ
ﺃﻣﺮ ﺑﻪ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻟﻪ، ﻭﻳﻌﺘﻘﺪ ﻣﻦ ﺍﻟﺪﻳﻦ . ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻌﺮﻑ ﺍﻟﺸﺬﻱ ﻟﻠﻜﺸﻤﻴﺮﻱ : ‏( 2/ 82 ‏)
ﺍﻟﻤﻮﻟﻮﺩ ﺍﻟﺬﻱ ﺷﺎﻉ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻌﺼﺮ ﻭﺃﺣﺪﺛﻪ ﺻﻮﻓﻲ ﻓﻲ ﻋﻬﺪ
ﺳﻠﻄﺎﻥ ﺇﺭﺑﻞ ﺳﻨﺔ ‏( 600 ‏) ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻟﻪ ﺃﺻﻞ ﻣﻦ ﺍﻟﺸﺮﻳﻌﺔ
ﺍﻟﻐﺮﺍﺀ .
ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ : ‏( ﺹ : 21 ‏)
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺸﻴﺦ ﻋﻠﻲ ﻣﺤﻔﻮﻅ : ” ﻭﺃﻭﻝ ﻣﻦ ﺃﺣﺪﺙ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻮﻱ
ﺑﻤﺪﻳﻨﺔ ﺇﺭﺑﻞ ﺍﻟﻤﻠﻚ ﺍﻟﻤﻈﻔﺮ ﺃﺑﻮ ﺳﻌﻴﺪ ﻓﻲ ﺍﻟﻘﺮﻥ ﺍﻟﺴﺎﺑﻊ ، ﻭﻗﺪ
ﺍﺳﺘﻤﺮ ﺍﻟﻌﻤﻞ ﺑﺎﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺇﻟﻰ ﻳﻮﻣﻨﺎ ﻫﺬﺍ ، ﻭﺗﻮﺳﻊ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻓﻴﻬﺎ
ﻭﺍﺑﺘﺪﻋﻮﺍ ﺑﻜﻞ ﻣﺎ ﺗﻬﻮﺍﻩ ﺃﻧﻔﺴﻬﻢ ﻭﺗﻮﺣﻴﻪ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﺷﻴﺎﻃﻴﻦ
ﺍﻹﻧﺲ ﻭﺍﻟﺠﻦ ، ﻭﻻ ﻧﺰﺍﻉ ﻓﻲ ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ . ﻭﻓﻰ ﺷﺬﺭﺍﺕ ﺍﻟﺬﻫﺐ – ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻌﻤﺎﺩ : ‏( 5/ 138 ‏)
ﻭﺃﻣﺎ ﺍﺣﺘﻔﺎﻟﻪ ﺑﻤﻮﻟﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻮﺻﻒ ﻳﻘﺼﺮ ﻋﻦ ﺍﻹﺣﺎﻃﺔ ﻛﺎﻥ
ﻳﻌﻤﻠﻪ ﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻣﻦ ﻣﻦ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ ﻭﺳﻨﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ
ﻋﺸﺮ ﻷﺟﻞ ﺍﻻﺧﺘﻼﻑ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻴﻪ ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﺑﻴﻮﻣﻴﻦ
ﺃﺧﺮﺝ ﻣﻦ ﺍﻹﺑﻞ ﻭﺍﻟﺒﻘﺮ ﻭﺍﻟﻐﻨﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻛﺜﻴﺮﺍ ﻳﺰﻳﺪ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻮﺻﻒ
ﻭﺯﻓﻬﺎ ﺑﺠﻤﻴﻊ ﻣﺎ ﻋﻨﺪﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﻄﺒﻮﻝ ﻭﺍﻟﻤﻐﺎﻧﻲ ﻭﺍﻟﻤﻼﻫﻲ ﺣﺘﻰ
ﻳﺄﺗﻲ ﺑﻬﺎ ﺍﻟﻤﻴﺪﺍﻥ . ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻤﺪﺧﻞ ﻹﺑﻦ ﺃﻣﻴﺮ ﺍﻟﺤﺎﺝ : ‏( 2/3 ‏)
ﻭﻣﻦ ﺟﻤﻠﺔ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺛﻮﻩ ﻣﻦ ﺍﻟﺒﺪﻉ ﻣﻊ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩﻫﻢ ﺃﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ
ﺍﻛﺒﺮ ﺍﻟﻌﺒﺎﺩﺍﺕ ﻭﺍﻇﻬﺎﺭ ﺍﻟﺸﻌﺎﺋﺮ ﻣﺎ ﻳﻔﻌﻠﻮﻧﻪ ﻓﻰ ﺷﻬﺮ ﺭﺑﻴﻊ ﺍﻷﻭﻝ
ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻮﻟﺪ ﻭﻗﺪ ﺍﺣﺘﻮﻯ ﻋﻠﻰ ﺑﺪﻉ ﻭﻣﺤﺮﻣﺎﺕ ﺟﻤﻠﺔ . ﻭﻓﻰ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﻷﺯﻫﺮ : ‏( 6/ 237 ‏)
ﻷﻥ ﻋﻤﻞ ﺍﻟﻤﻮﺍﻟﺪ ﺑﺎﻟﺼﻔﺔ ﺍﻟﺘﻰ ﻳﻌﻤﻠﻬﺎ ﺍﻵﻥ ﻟﻢ ﻳﻔﻌﻠﻪ ﺃﺣﺪ ﻣﻦ
ﺍﻟﺴﻠﻒ ﺍﻟﺼﺎﻟﺢ ﻭﻟﻮ ﻛﺎﻥ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﻘﺮﺏ ﻟﻔﻌﻠﻮﻩ . ﻭﻳﺮﺍﺟﻊ ﺃﻳﻀﺎ : ﻓﺘﺎﻭﻯ ﻣﺤﻤﻮﺩﻳﻪ : 5/377 , ﺍﺷﺮﻑ ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ : 1/426 মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৫৬
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মুসাফাহা করে হাত বুকে লাগানো৷

প্রশ্ন
মুসাফা করে হাত বুকে লাগানোর হুকুম কি? এভাবে বোকে লাগানো জায়েজ নাকি নাজায়েজ?
উত্তর
হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,আমাদের দ্বীনের মাঝে যে ব্যক্তি নতুন বিষয় আবিস্কার করে যা তাতে নেই তাহলে তা পরিত্যাজ্য।
সহীহ বুখারী, হাদিস নং-২৫৫০, সহীহ মুসলিম-৪৫৮৯৷
এই হাদিসে কয়েকটি শর্তে বিদআত ও নব আবিস্কৃত বস্তুকে নবীজি সাঃ পরিত্যাজ্য বলেছেন। যেমন,
১৷ সম্পূর্ণ নতুন বিষয়। যার কোন প্রমাণ নবীযুগে বা সাহাবা যুগে নেই, এমন বিষয় হওয়া।
২৷ দ্বীনী বিষয় হওয়া। সুতরাং দ্বীনী বিষয় ছাড়া যত নতুন বিষয়ই আবিস্কারই হোকনা কেন তা বিদআত নয়৷ যেমন মোবাইল, প্লেইন, নতুন নতুন আসবাব ইত্যাদি। এসব বিদআত নয়। কারণ এসব দ্বীনী বিষয় নয়।
৩৷ দ্বীনের 'মাঝে' নতুন আবিস্কার হওয়া । দ্বীনের 'জন্য' হলে সমস্যা নেই। কারণ দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার মানে হল ইহা সওয়াবের কাজ, যেমন সুন্নাত, ওয়াজিব ইত্যাদী। আর দ্বীনের জন্য হলে সেটা মূলত সওয়াবের কাজ নয়, বরং সওয়াবের কাজের সহায়ক। যেমন মাদরাসা শিক্ষার একাডেমিক পদ্ধতি নববী যুগে ছিলনা। পরবর্তীতে আবিস্কার করা হয়েছে। এই একাডেমিক পদ্ধতিটি দ্বীনের মাঝে নতুন আবিস্কার নয়, বরং দ্বীনী কাজের জন্য সহায়ক হিসেবে আবিস্কার করা হয়েছে। অর্থাৎ দ্বীন শিখার সহায়ক। আর দ্বীন শিখাটা সওয়াবের কাজ। কিন্তু সিষ্টেমটা মূলত সওয়াবের কাজ নয় বরং সহায়ক। মিলাদ কিয়াম বিদআত। কারণ এটি নতুন আবিস্কৃত। নববী যুগ বা সাহাবা যুগে ছিল না। সেই সাথে এটিকে দ্বীন মনে করা হয়, সওয়াবের কাজ মনে করা হয় তাই এটি বিদআত।
তেমনি মুসাফাহা করার পর এমনিতেই অভ্যাসগত ভাবে যদি হাতকে বুকের সাথে লাগায়, সওয়াবের কাজ বা সুন্নত মনে না করে, তাহলে ইহা বিদআত, হারাম বা নাজায়েজ হবে না। কিন্তু যদি সওয়াবের কাজ, বা সুন্নত মনে করে করা হয়, বা মুসাফাহা সংশ্লিষ্ট সুন্নত মনে করে করা হয়, তাহলে তা বিদআত হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এবং প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী।
আল্লাহ আমাদেরকে বিদআত মুক্ত থাকার তৌফীক দান করুন৷ আমীন৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৫০
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মসজিদে বসে ফেইসবুক ইত্যাদি ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
মসজিদে বসে ইন্টারনেট অর্থাৎ ফেইসবুক বা অন্য কোন কাজের জন্য ইন্টার্নেট ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর
ইন্টারনেট কে যেমন ভাবে খারাপ কাজে ব্যবহার করা যায়, তেমনি ভাল কাজেও ব্যবহার করা যায়৷ আর মসজিদ ভাল কাজ করার জায়গায়, খারাপ কাজের কোন প্রকার সুযোগ নেই৷ তাই যদি মসজিদে ইন্টার্টেনের মাধ্যমে ভাল ও দ্বীনী কোন কাজ করে, তাহলে মসজিদে বসে ইন্টারনেট, ফেইসবুক ব্যবহার জায়েজ হবে। তবে খুব খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ভাবেই কোন নাজায়েজ কাজ না হয়৷ কোন নাজায়েয ছবি বা ভিডিও দৃষ্টিগোচর হয়ে না যায়। দ্বীনী কাজ ছাড়া এমনিতে মসজিদে বসে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যাবে না।
আর ফেইসবুক ব্যবহার করতে গিয়ে যেহেতু মাঝে মাঝে ছবি ও অন্যান্য বিষয়ও চলে আসে, তাই ব্যবহার না করাই উচিত।
আলবাহরুর রায়েক৫/৪১৯৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৪৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

স্ক্রিনে কুরআনে কারীমের আয়াত, যিকর, বা এগুলোর ক্যালিগ্রাফী সেভ করে রাখা৷

প্রশ্ন
মোবাইল স্ক্রিনে কুরআনের আয়াত, জিকর বা আল্লাহ তাআলার নাম সেভ করে রাখা হয়। তদ্রূপ কেউ এগুলোর ক্যালিগ্রাফি সেভ করে রাখে। এটি জায়েয কি না?
উত্তর
মোবাইল স্ক্রিনে আল্লাহ তাআলার নামের ক্যালিগ্রাফি বা লিখিত আয়াত কিংবা অন্য কোন যিকর ইত্যাদি সেভ করে রাখা ঠিক নয়। কারণ, এভাবে ক্ষেত্রবিশেষে এগুলোর সাথে বেয়াদবি হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। এছাড়া মোবাইল সাধারণত সম্মানের সাথে ব্যবহার করা হয় না। বরং অধিক ব্যবহারের ফলে যত্রতত্র রাখা হয়। অনেক সময় বসার স্থানে, নিচেও থাকে, চার্জের প্রয়োজনেও নিচে রাখতে হয় ইত্যাদি। সুতরাং স্ক্রিনে দৃশ্যমান অবস্থায় রেখে এর যথাযথ আদব রক্ষা করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই এ ধরনের কোন কিছু স্ক্রীন সেভারে রাখা ঠিক হবে না। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭২৭
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ইন্টারনেট কোম্পানীতে চাকুরী করা৷

প্রশ্ন
আমি একটি ব্রডবেন্ড ইন্টারনেট কোম্পানীতে চাকুরী করি। আমার কাজ হল: প্রতি মাসের বিল গ্রাহকরা অফিসে দিয়ে যায় আমি তার হিসাব রাখি। এক্ষেত্রে এই চাকুরী করা কি জায়েজ হবে কিনা?
উত্তর
হারাম কাজ করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা ইসলাম অনুমোদন করে না। যেমন:
সুদী ব্যাংক বা মাদক কোম্পানীতে চাকুরী করার অনুমোদন ইসলামে নেই।
পক্ষান্তরে যদি প্রতিষ্ঠানটি এমন কোনো কাজ করে যা
মূলগতভাবে হারাম নয় কিন্তু মানুষ এটাকে মন্দ বা হারাম কাজে ব্যবহার করে, এধরণের প্রতিষ্ঠানে
চাকরি করা বৈধ। সুতরাং আপনার ব্রডবেন্ড ইন্টারনেট
কোম্পানীতে চাকুরী বৈধ হবে। জদীদ ফিকহি মাসাইল 299৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৬৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

ফেইসবুকে মেয়ে বন্ধু বানানো ও তাদের সাথে কথা বলার হুকুম৷

প্রশ্ন
অনুগ্রহপূর্বক নিচের মাসআলাটি জানাবেন। ফেইসবুকে বেগানা মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করা জায়েজ আছে? যদি কেউ দ্বীনী দাওয়াতের উদ্দেশ্যে ফেইসবুকে মেয়েদের সাথে ফ্রেন্ডশীপ করে তাহলে সেটা কেমন হবে?
উত্তর
ফ্রেন্ডশীপ মানে বন্ধুত্ব। যা একে
অপরের প্রতি মোহাব্বত ও ভালবাসার নিদর্শন।
কিন্তু ফেইসবুকের যে ফ্রেন্ডশীপ হয়ে থাকে, এর সাথে সত্যিকার বন্ধুত্বের মূলত কোন সম্পর্ক নেই। এটি কেবলি একটি বাহ্যিক বন্ধুত্ব। তবে অনেক সময় তা সত্যিকার বন্ধুত্বেও রূপ নেয়। আমাদের ফেইসবুককে দেখতে হবে অফলাইনের জীবনের অবস্থা অনুপাতে। যেমন অফলাইনে বেগানা নারীদের সাথে অহেতুক কথা বলা, তাদের সাথে দেখা করা, তাদের ছবি দেখা হারাম। তেমনি অনলাইনের বিধানও তা’ই হবে। যেমন অফলাইনে বেগানা নারীদের সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলা জায়েজ, দ্বীনী দাওয়াত দেয়া জায়েজ, কিন্তু আকৃষ্ট হবার আশংকা থাকলে কথা বলা বৈধ নয়। তেমনি অনলাইনেও বেগানা নারীদের দ্বীনী দাওয়াত দেয়া, ও প্রয়োজনীয় কথা বলা জায়েজ আছে। কিন্তু ছবি দেখা অপ্রয়োজনীয় কথা বলা, আকৃষ্ট হবার শংকা থাকলে বন্ধুত্ব করা ও চ্যাটিং করা কোনটিই বৈধ হবে না।
‎ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺳَﺄَﻟْﺘُﻤُﻮﻫُﻦَّ ﻣَﺘَﺎﻋًﺎ ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﻫُﻦَّ ﻣِﻦْ ﻭَﺭَﺍﺀِ ﺣِﺠَﺎﺏٍ
‎ﺫَﻟِﻜُﻢْ ﺃَﻃْﻬَﺮُ ﻟِﻘُﻠُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻭَﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻦَّ
অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)- এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩} হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।
‎ﻓَﺎﻟْﻌَﻴْﻨَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟﻨَّﻈَﺮُ، ﻭَﺍﻟْﺄُﺫُﻧَﺎﻥِ ﺯِﻧَﺎﻫُﻤَﺎ ﺍﻟِﺎﺳْﺘِﻤَﺎﻉُ،
‎ﻭَﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥُ ﺯِﻧَﺎﻩُ ﺍﻟْﻜَﻠَﺎﻡُ، ﻭَﺍﻟْﻴَﺪُﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺒَﻄْﺶُ، ﻭَﺍﻟﺮِّﺟْﻞُ
‎ﺯِﻧَﺎﻫَﺎ ﺍﻟْﺨُﻄَﺎ، ﻭَﺍﻟْﻘَﻠْﺐُ ﻳَﻬْﻮَﻯ ﻭَﻳَﺘَﻤَﻨَّﻰ، ﻭَﻳُﺼَﺪِّﻕُ ﺫَﻟِﻚَ
‎ﺍﻟْﻔَﺮْﺝُ ﻭَﻳُﻜَﺬِّﺑُﻪُ রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল (হারাম) দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, (গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক) কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, (গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক) কথোপকথন। হাতের জিনা হল, (গায়রে মাহরামকে) ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, (খারাপ উদ্দেশ্যে) চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় (যদি জিনা করে) এবং মিথ্যা পরিণত করে (যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে)। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৫৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রীণে থাকার কুরআন স্পর্শ ও এ্যাপস নিয়ে টয়লেটে গমণের বিধান!

প্রশ্ন
১-প্রশ্নঃ মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার এর স্ক্রিনে কোরআন দেখে পড়ার ফজিলত, কাগজের কোরআন দেখে পড়ার ফজিলতের সমান হবে কি?
২-প্রশ্নঃ মোবাইলে কোরাআন করিম স্পর্শ করার হুকুম কি? এবং কোরআন সফটওয়ার ইন্সটলকৃত মোবাইল নিয়ে টয়লেটে ঢুকা যাবে কি?
উত্তর
কুরআন যেহেতু গায়রে মাখলুক। তাই আমাদের সামনে পরিদৃষ্ট কুরআন হল মূল কুরআনের প্রতিচ্ছবি মাত্র। এ প্রতিচ্ছবি যেখানেই পরিদৃষ্ট হোক না, তা দেখে পড়া মানে কুরআন দেখে পড়ার হুকুমে হবে। চাই কুরআনের লিখিত রূপটি পাথরে খোদাই করা
থাকুক, বা মোবাইল কম্পিউটারের স্ক্রীনে থাকুক, বা কোন কাগজ বা পাতায় লিখিত আকারে থাকুক। সব
কিছুর বিধানই এক। অর্থাৎ দেখে পড়লে কুরআন দেখে
পড়ার সওয়াব হবে। এসব নিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা যাবে না। তবে মোবাইলে থাকা কুরআন এ্যাপস যদি
বন্ধ করা থাকে, তথা মোবাইল স্ক্রীনে পরিদৃষ্ট না থাকে, তাহলে উক্ত মোবাইল নিয়ে টয়লেটে প্রবেশে কোন সমস্যা নেই।
অনেক আলেমগন স্পর্শ করাকেও নাজায়েয বলেন, তাদের কথার ভিত্তি হলো স্ক্রীনে কোন আবরন নেই বিধায় সরাসরি আয়াতে স্পর্শ হয় যা নাজায়েয৷
তবে এ ক্ষেত্রে তাত্বিক কথা বলো মোবাইল স্ক্রীনে আবরন আছে৷ তাছাড়া অধিকাংশ মোবাইলে গ্লাস পেপারও থাকে যা স্পষ্ট আবরন৷ তাই স্ক্রীনে থাকা কুরআন শরীফ অযু ছাড়া স্পর্শ করা বৈধ৷ তবে অযু সহ স্পর্শ করাই উত্তম৷
‎ﻭﻗﺎﻝ ﺷﻴﺦ ﺍﻹﺳـﻼﻡ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﻴﺔ ﻓﻲ ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻌﻤﺪﺓ
‎‏( ﺹ 384 ‏) : “ ﺍﻟﻮﺟﻪ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ ﺃﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﻠﻮﺡ ﺍﻟﻤﺤـﻔﻮﻅ ﻫﻮ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﻛﻤﺎ
‎ﺃﻥ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﻫﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ
‎ﺍﻟﻤﺼﺤﻒ ﺑﻌﻴﻨﻪ ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﺤﻞ ﻭﺭﻗﺎً ﺃﻭ ﺃﺩﻳﻤﺎً ﺃﻭ
‎ﺣﺠﺮﺍً ﺃﻭ ﻟﺤﺎﻓﺎً، ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻣِﻦْ ﺣﻜﻢ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﺴﻤﺎﺀ ﺃﻥ ﻻ ﻳﻤﺴﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻤﻄﻬﺮﻭﻥ ﻭﺟﺐ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ
‎ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﻟﺬﻱ ﻓﻲ ﺍﻷﺭﺽ ﻛﺬﻟﻚ؛ ﻷﻥ ﺣﺮﻣﺘﻪ ﻛﺤﺮﻣﺘﻪ،
‎ﺃﻭ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ ﺍﺳﻢ ﺟﻨﺲ ﻳﻌﻢ ﻛﻞ ﻣﺎ ﻓﻴﻪ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
‎ﺳﻮﺍﺀ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﺍﻟﺴـﻤﺎﺀ ﺃﻭ ﺍﻷﺭﺽ، ﻭﻗﺪ ﺃﻭﺣـــﻰ ﺇﻟﻰ
‎ﺫﻟﻚ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : }ﺭَﺳُﻮﻝٌ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺘْﻠُﻮ ﺻُﺤُﻔﺎً
‎ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓً { ‏[ﺍﻟﺒﻴﻨﺔ 2: ‏] ، ﻭﻛﺬﻟﻚ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ : } ﻓِﻲ ﺻُﺤُﻒٍ
‎ﻣُﻜَﺮَّﻣَﺔٍ ﻣَﺮْﻓُﻮﻋَﺔٍ ﻣُﻄَﻬَّﺮَﺓٍ { ‏[ ﻋﺒﺲ 14-13: ‏] . ﻓﻮﺻﻔﻬﺎ
‎ﺃﻧﻬﺎ ﻣﻄﻬﺮﺓ ﻓﻼ ﻳﺼﻠﺢ ﻟﻠﻤﺤﺪﺙ ﻣﺴﻬﺎ
আমাদের কাছে যে কুরআন রয়েছে এটি সেই কুরআনই যা লৌহে মাহফুজে রয়েছে। যেমন কুরআন তাই, যা কুরআনের মাঝে রয়েছে, চাই তার স্থান পাতা হোক, বা চামড়া হোক, বা পাথর হোক বা মোড়ক হোক।
সুতরাং আসমানে অবস্থিত লিখিত কিতাবের হুকুম যেহেতু তা পবিত্র ছাড়া কেউ স্পর্শ করে না, জমিনে
থাকা কুরআনের ক্ষেত্রে একই বিধানকে আবশ্যক করে। কেননা এ কুরআনের সম্মান সে কুরআনের মতই। অথবা আয়াতে কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইসমে জিনস। যা কুরআনকে বুঝাচ্ছে, চাই তা আসমানে থাকুক বা জমিনে থাকুক।
শরহুল উমদাহ-৩৮৪
যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।
সূরা ওয়াকিয়া-৭৯৷
হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেনঃ রাসূল সাঃ আমর বিন হাযম এর কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”।
মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৬৮০, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-২৮৩০, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং-৪৬৫৷
হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেনঃ পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।
মাযমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৫১২
আল্লামা হাফেজ নূরুদ্দীন বিন আবু বকর হায়সামী বলেনঃ ইমাম তাবারানী কাবীর ও সাগীর উভয় গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন। আর এর সকল বর্ণনাকারী সিক্বা তথা
গ্রহণযোগ্য।
ইমাম নববী রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষেধ বক্তব্যটি হযরত আলী রাঃ এবং সাদ বিন আবী ওয়াক্কাস রাঃ এবং হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ দের। এ মতের উল্টো কোন মত সাহাবাগণ থেকে বর্ণিত নয়।
শরহুল মুহাজ্জাব-২/৮০
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহঃ বলেনঃ পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ নিষেধ বক্তব্যটির পক্ষে মত দিয়েছেন হযরত সালমান ফারসী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ এবং অন্যান্যরা। কোন সাহাবী থেকে এর বিপরীত বক্তব্য বর্ণিত নেই।
মাজমূউল ফাতাওয়া-২১/২৬৬
হযরত ওমর রাঃ যখন কাফের থাকা অবস্থায় বোনকে কুরআন দেখাতে বলেছিলেন, তখন তার বোন বলেছিলেন যে, তুমি নাপাক! আর এ গ্রন্থ পবিত্র ছাড়া কেউ ধরতে পারে না।
মুসনাদুল বাজ্জার-১/৪০১, মুস্তাদরাকে হাকেম-৪/৬৬৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৩৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ফেইসবুক-মোবাইল

পীর ধরা, মুরীদ হওয়া! 

প্রশ্ন
কয়েক দিন যাবৎ ফেইসবুকে একটা কথা বার বার সমালোচনা হয়৷ সেটা হলো, পীর ধরা নিয়ে৷ আর আহলে হাদিস নামধারিরা বলে ইসলামে পীরের বিধান বলতে কিছু নাই।যদি কুরাআন হাদিসে না থাকে তাহলে আমরা পীর ধরবো কেনো? কুরাআন হাদিস এর আলোকে আমাকে ব্যাখ্যা করে দিন৷
উত্তর
কুরআন ও হাদীস থাকতে পীরের কাছে যাবো কেন?
এ প্রশ্নটি যারা করেন, তারা পীরের অর্থই জানেন না। দ্বিতীয় চরম মুর্খ হবার কারণে উপরোক্ত কথাটি সমাজে প্রচার করে থাকেন। আসলে পীর মানে হল মুরুব্বী। বয়স্ক। মানে যিনি অভিজ্ঞ। অর্থাৎ কিভাবে আল্লাহকে পাওয়া যাবে? কিভাবে আমল করলে গোনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে? কিভাবে চললে দ্বীনের উপর আমল সহজ হবে? শরীয়তের পূর্ণ পাবন্দ হওয়া যাবে? ইত্যাদি বিষয়ে যিনি অভিজ্ঞ? আর সেই অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট যিনি তার উস্তাদ তথা শায়েখ থেকে পেয়েছেন তিনিই হলেন পীর বা শিক্ষক।
এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, কুরআন ও হাদীস থাকতে তা শিখার জন্য উস্তাদের কাছে যেতে হবে কেন? মাদরাসায় ভর্তি হবে কেন? আমরা উক্ত ব্যক্তিকে কি বলবো? বলবো, বেটা! কুরআন ও হাদীসে কি আছে, তার সঠিক জ্ঞান লাভ করার জন্য এ বিষয় যিনি ভাল করে জেনেছেন, তার কাছে যেতে হয়। তার কাছে থেকে শিক্ষা নিতে হয়। তারপর উক্ত উস্তাদ যদি আমাকে সার্টিফিকেট দেয় যে, আমি তা শিখতে পেরেছি। তখন সেখান থেকে মুজাহাদা মেহনত করে পড়াশোনা করে, পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে বের হবার পর আমারও আবার কুরআন ও হাদীস পড়ানোর যোগ্য বলে কাজ করার অধিকার হয়। একই অবস্থা পীর মুরিদীর। একজন পীর তিনি শিক্ষক। তিনি আল্লাহকে পাওয়ার পথ সম্পর্কে সমধিক অবগত। তিনি এ বিষয়ে অভিজ্ঞ। শরীয়ত কিভাবে তবিয়তে পরিণত করতে হয়, এ বিষয়ে একজন হন অভিজ্ঞ। তাই আল্লাহভোলা মানুষগুলো তার কাছে প্রশিক্ষণ নিতে যায়। যেন সে কুরআন ও হাদীস বুঝার জন্য মাদরাসায় ভর্তি হয়। উস্তাদের কাছে গমণ করে। তারপর পীর সাহেব তার মুরীদকে প্রশিক্ষণ প্রদান করে। যেন উস্তাদ তার ছাত্রকে কুরআন ও হাদীস বুঝার প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
আরো সহজ ভাষায় বললে- মাদরাসা হল, কুরআন ও হাদীস বুঝার একটি থিউরীক্যাল মাধ্যম। আর পীর সাহেবের খানকাহ হল কুরআন ও হাদীসের উপর আমল শিখার প্র্যাক্টিক্যাল মাধ্যম। মাদরাসায় যিনি শিক্ষা প্রদান করেন, তার নাম হল টিচার, মুআল্লিম, শিক্ষক উস্তাদ। তেমনি কুরআন ও হাদীসের উপর আমল প্রশিক্ষণ দাতার নাম হল পীর, মুর্শীদ। মাদরাসার শিক্ষার্থীর নাম হল, ছাত্র। তালেবুল ইলম। ষ্টুডেন্ট। আর পীর সাহেবের খানকার শিক্ষার্থীর নাম হল মুরীদ।
পীর মুরীদের আসল হাকীকত যদি কোন ব্যক্তি জানে, তাহলে কোন ব্যক্তি “কুরআন ও হাদীস থাকতে পীর ধরবো কেন?” এমন মুর্খতাসূলভ প্রশ্ন৷করতেই পারে না। কারণ এটি পুরোটাই আহমকী প্রশ্ন। যেমন “কুরআন ও হাদীস থাকতে, তা শিখার জন্য উস্তাদের কাছে যাবো কেন?” প্রশ্নটি একটি আহমকী ও বোকামীসূলভ প্রশ্ন। তবে এক্ষেত্র্রে জেনে রাখা উচিত যে, যেমন দ্বীন শিখা আবশ্যক। তেমনি দ্বীনের উপর সহীহ পদ্ধতিতে৷আমল করাও আবশ্যক। এখন কোন ব্যক্তি যদি উস্তাদের কাছে না গিয়ে, মাদরাসায় ভর্তি না হয়ে দ্বীন শিখে ফেলতে পারে, তাহলে তার যেমন মাদরসায় ভর্তি হবার, উস্তাদের কাছে যাবার দরকার৷নেই। কারণ তার মূল উদ্দেশ্য হাসিল৷হয়ে গেছে ৷ তেমনি কোন ব্যক্তি যদি পীর তথা মুর্শীদের কাছে না গিয়েই সে তার আত্মশুদ্ধি করে ফেলতে পারে, তাহলে তার জন্য কোন পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। কারণ পীর বা মুর্শীদের কাছে যাবার যে প্রয়োজনীয়তা যে উদ্দেশ্যে ছিল তা তার অর্জিত হয়ে গেছে।
তবে কারো যদি নিজে নিজে কুরআন ও সুন্নাহ অনুপাতে স্বীয় আত্মশুদ্ধি হয়ে যায়, তাহলে কোন পীর বা শিক্ষকের কাছে যাবার কোন প্রয়োজন নেই। যদি না হয়, তাহলে পীর বা শিক্ষকের কাছে গিয়ে স্বীয় নফসের শুদ্ধায়ন করা আবশ্যক।
বাকি উস্তাদের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেমন আমরা দেখি উক্ত বিষয়ে শিক্ষক নিজে প্রাজ্ঞ কি না? তেমনি দ্বীনী শরীয়ত অনুসরণে মনকে আত্মাশুদ্ধি করতে গিয়ে অবশ্যই ভাল করে যাচাই করতে পীর সাহেব নিজের আত্ম শুদ্ধ করেছেন কিনা? এর সহজ পথ হল, পীর সাহেব কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অভিজ্ঞ কিনা? তিনি সুন্নাতের পাবন্দ কি না? তার চেহারা, তার আখলাক, তার পরিবার, তার আমল, তার জীবনের বাঁকে বাঁকে সুন্নাতের অনুসরণ আছে কি না? তিনি দুনিয়াবিমুখ কিনা? তাকে কোন আল্লাহ ওয়ালা উস্তাদ বা পীর পীর মুরিদী তথা শিক্ষকতা করার অনুমোদন প্রদান করেছেন কি না? পর্দাসহ যাবতীয় শরীয়তের মাসায়েলের কঠোর পাবন্দ কি না? ইত্যাদি সমস্ত বিষয় দেখতে হবে। যদি কোন একটি বিষয়েও তাকে গাফেল দেখা যায়, তাহলে এমন পীর বা শিক্ষকের কাছে শিখতে যাওয়া, নিজের ঈমান আমলকে ধ্বংস করার শামিল হবে। তাই দেখে শুনে, যাচাই করে পীরের কাছে যাওয়া উচিত।
দেওয়ানবাগী, কুতুববাগী, রাজারবাগী, সুরেশ্বরী, ফরীদপুরী, এনায়েতপুরী, চন্দ্রপুরী, কামাল্লার ভন্ড পীর, মাইজভান্ডারী, কেল্লাবাবা, খাজাবাবা, রেজভী, এসব ভন্ড ও ঈমানবিধ্বংসী পীরের কাছে গেলে আখেরাত ধ্বংস হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
তাই পীর ধরার ক্ষেত্রে খুবই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। স্থানীয় হক্কানী কওমী মাদরাসা পড়ুয়া বড় কোন আলেমের পরামর্শে পীর ধরতে যান। নিজে নিজে পন্ডিতী করে ভন্ড পীরের খপ্পরে পরে নিজের দ্বীন ঈমান ধ্বংস করবেন না।
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.05 render + 0.02 s transfer.