Login | Register

ফতোয়া: বিবিধ

ফতোয়া নং: ৫২১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

কাফেরদের সন্তান যদি নাবালেগ অবস্থায় মারা যায় তাহলে তারা জান্নাতে...

প্রশ্ন

কাফেরদের সন্তান যদি নাবালেগ অবস্থায় মারা যায় তাহলে তারা জান্নাতে যাবে না জাহান্নামে? এ বিষয়ে আমাদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে। দয়া করে বরাতসহ জানাবেন।

উত্তর

কাফের-মুশরিকদের নাবালেগ সন্তান মারা গেলে তাদরে সাথে কি আচরণ করা হবে-এ বিষয়ে উলামায়ে কেরামের বিভিন্ন মত রয়েছে। জান্নাতে যাবে-এ মতটি অধিক শক্তিশালী। তবে এর সঠিক ফয়সালা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা জানার উপর শরীয়তের কোনো আমল নির্ভরশীল। তদ্রূপ এটা এমন কোনো আকীদাগত বিষয় নয়, যা জানা জরুরি; বরং এ জাতীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়। এটা অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়ার অন-র্ভুক্ত।

উমদাতুল কারী ৮/২১২-২১৩, তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৫/৫০২; লামিউদ দারারী ২/১৩৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৯২; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

কালিমা তাইয়্যিবার সঙ্গে দরূদ পড়া যাবে কি? এ বিষয়ে দুই...

প্রশ্ন

কালিমা তাইয়্যিবার সঙ্গে দরূদ পড়া যাবে কি? এ বিষয়ে দুই ধরনের বক্তব্যই শুনতে পাওয়া যায়।

উত্তর

দরূদ শরীফ কালিমা তাইয়্যিবার অংশ নয়। কালিমা তাইয়্যিবা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উচ্চারণ করলে দরূদ পড়তে হয় এই নিয়ম হিসাবে কালিমা তাইয়্যিবার পর দরূদ শরীফ পড়া যাবে। তবে কিছুটা বিরতি দিয়ে পড়বে। যেন দরূদ শরীফ কালিমার অংশ বলে মনে না হয়।

ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

কোনো ব্যক্তি যদি ফরয গোসলে নাকের ভিতর পানি প্রবেশ না...

প্রশ্ন

কোনো ব্যক্তি যদি ফরয গোসলে নাকের ভিতর পানি প্রবেশ না করিয়ে শুধু আঙ্গুল ভিজিয়ে নাকের ভিতরটা তিনবার মুছে নেয় তাহলে তার গোসল হবে কি এবং নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করানো ও তা পরিষ্কার করার পদ্ধতি কী?

উত্তর

ফরয গোসলে নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো জরুরি। শুধু ভেজা আঙ্গুল দ্বারা নাকের ভিতর মুছে নেওয়া যথেষ্ট নয়। এর দ্বারা নাকে পানি পৌঁছানোর ফরয আদায় হবে না।

নাকের ভিতর পানি পৌঁছানোর উত্তম তরীকা হল, ডান হাতে পানি নিয়ে তা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নাকের নরম স্থান পর্যন্ত টেনে নেওয়া। হাত দিয়েও পানি ভেতরে দেওয়া যেতে পারে। অতঃপর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা নাকের ভিতরটা পরিষ্কার করে নেওয়া। যেন কোনো অংশ শুকনা না থেকে যায়। এভাবে তিনবার পানি প্রবেশ করানো।

সুনানে আবু দাউদ ১/১৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/১০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

আমাদের এলাকায় ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র মিষ্টি আলু অথবা পিয়াজের বিনিময়ে বিক্রি...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র মিষ্টি আলু অথবা পিয়াজের বিনিময়ে বিক্রি হয়। অর্থাৎ এক পাল্লায় ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র রাখা হয় অপর পাল্লায় মিষ্টি আলু অথবা পিয়াজ রেখে পাল্লার দণ্ডি সমান করা হয়। এভাবে মিষ্টি আলু অথবা পিয়াজের বিনিময়ে ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র বিক্রি করা কতটুকু শরীয়তসম্মত?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে ভাঙ্গাচোরার পরিবর্তে আলু বা পিয়াজের লেনদেন বৈধ

হেদায়া ৩/২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

আমাদের এলাকায়া ব্যভিচারের মাধ্যমে এক সন-ান জন্ম লাভ করে। পরবর্তী...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায়া ব্যভিচারের মাধ্যমে এক সন-ান জন্ম লাভ করে। পরবর্তী ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর সে উত্তরাধিকার সূত্রে মালের দাবি করলে মৃতের মূল ওয়ারিছগণ তাকে অংশ দিতে অস্বীকার করে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আসলে কি সে ওই ব্যক্তির পরিত্যাক্ত সম্পদ থেকে কিছু পাবে না? যদি না পায় তাহলে কেন? বিস-ারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

অবৈধ সন-ান ব্যভিচারীর পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে কোনো অংশ পাবে না। কেননা শরীয়ত এক্ষেত্রে বংশ সূত্রের স্বীকৃতি দেয় না। আর বংশ সূত্র ছাড়া মিরাসের অধিকারী হয় না। হাদীস শরীফে এসেছে, ‘অবৈধ সন-ান ব্যভিচারী ব্যক্তি থেকে মিরাস পাবে না এবং ওই ব্যক্তিও ঐ সন-ানের মিরাস পাবে না।’

- জামে তিরমিযী ২/৩৩; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা ১৬/৩২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫২; মাবসূত সারাখসী ২৯/১৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৩৬৪; তাকমিলা আলবাহরুর রায়েক ৮/৫০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলার হুকুম কী? এবং...

প্রশ্ন

হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলার হুকুম কী? এবং তা কি উচ্চস্বরে বলবে না নিম্নস্বরে?

উত্তর

হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য উচ্চ স্বরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় তখন সে যেন আলহামদুলিল্লাহ বলে। এবং তার সাথী যেন উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে। যখন তার সাথী ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে তখন হাঁচিদাতা যেন উত্তরে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ বলে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬২২৪ অন্য হাদীসে এসেছে, ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাছির তার এক উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন, হাঁচিদাতার জন্য উচিত হল উচ্চস্বরে আলহামদুলিল্লাহ বলা, যাতে করে আশপাশের লোকেরা তা শুনতে পায়। আর ঐ ব্যক্তির আলহামদুলিল্লাহ বলার পর শ্রোতাদের জন্য জরুরি হল ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১৯৬৮০; কিতাবুল আযকার পৃ. ৪৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/২৪৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৮৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

...।

প্রশ্ন

...।

উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর সরাসরি কিংবা ফোনে জেনে নিন।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

হুজুর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাছ নাকি যে...

প্রশ্ন

হুজুর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাছ নাকি যে কারো সাথে ব্যবহার করা যাবে? বিস্তারিত প্রমাণাদিসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

বাংলা ভাষায় জনাব, মহাশয় যেমনভাবে সম্মানসূচক শব্দ অনুরূপভাবে হুজুর শব্দটিও ফার্সী, উর্দু ও বাংলাভাষায় একটি সম্মানসূচক শব্দ। যা সাধারণত আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তিন ভাষার অভিধান গ্রন্থগুলো দেখলেই এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন ফার্সী অভিধান গিয়াসুল লুগাতে (পৃ. ১৭৪) দেখুন : ‘‘হুজুর শব্দটির অর্থ হল, উপস্থিত হওয়া। তবে পরিভাষায় এটি বুযুর্গ ব্যক্তিদের সম্মানসূচক সম্বোধনের জন্য ব্যবহার করা হয়।’’ একই কথা উর্দু অভিধান ফীরুযুল লুগাত (পৃ. ৫৭১) এবং বাংলা অভিধান বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (পৃ. ১২১২) ও সংসদ বাংলা অভিধান (পৃ. ৭২৩) এ উল্লেখ করা হয়েছে।

উপরোল্লেখিত অভিধানগুলোর আলোকে একথাই স্পষ্ট হয় যে, হুজুর শব্দটি ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় নিছক একটি সম্মানসূচক শব্দ। আর এ অর্থেই এই তিন ভাষার অনেক মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যও এটি ব্যবহার করে থাকে। শরয়ী পরিভাষা হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয় না।

শব্দটি যেহেতু ব্যাপক তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা ব্যবহার করা হলে সাধারণত অধিক সম্মান বোঝানোর জন্য এর সাথে আকরাম শব্দ যোগ করে হুজুরে আকরাম বলা হয়।

মোটকথা, হুজুর শব্দটি সম্মানসূচক বটে তবে এটি এমন কোনো শব্দ নয়, যা শুধু রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য ব্যবহৃত হয়। বরং তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দ।

-গিয়াসুল লুগাত ১৭৪; ফীরুযুল লুগাত ৫৭১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৩/৩৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

বর্তমান বিশ্বে বিড়িসিগারেটের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম...

প্রশ্ন

বর্তমান বিশ্বে বিড়িসিগারেটের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। এ ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী? দ্বিতীয়ত বিড়ি-সিগারেট খাওয়া ও বিক্রির ব্যাপারে ইসলামের হুকুম কী?

উত্তর

বিড়িসিগারেট পান করা নাজায়েয। কেননা এতে নিজের শারীরিক ক্ষতি তো আছেই, পাশাপাশি অন্যেরও ক্ষতি করা হয়। মুখের দুর্গন্ধের দরুন মানুষ ও ফেরেশতাকে কষ্ট দেওয়া হয়। অপচয়ের বিষয়টিও রয়েছে। তাই তা যেমনিভাবে পান করা যাবে না। তেমনিভাবে তা বিক্রি করাও যাবে না।

-আদ্দররুল মুখতার ৬/৪৫৯; রদ্দুল মুহতার ৫/২৯৫; তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২২৭; ফাতাওয়া ফী শুরবিন দুখান

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

আমাদের দেশে অনেক সময় ফুটপাত বা নিম্ন মানের দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার...

প্রশ্ন

আমাদের দেশে অনেক সময় ফুটপাত বা নিম্ন মানের দোকানগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার মাঝে পণ্যের দরকষাকষি হয়। ক্রেতা একটি দাম বলে কিন্তু দেখা যায় যে, ক্রেতা তার কাঙ্খিত দামে পণ্যটি না পেয়ে সেখান থেকে চলে আসে। কিছু দূরে আসার পর বিক্রেতা ঐ দামেই পণ্যটি নেওয়ার জন্য ক্রেতাকে ডাকতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ফিরে না আসলে তাকে বকাবকি পর্যন্ত করে থাকে। আমার প্রশ্ন হল, এরূপ ক্ষেত্রে শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্রেতা ওই পণ্যটি ক্রয় করতে বাধ্য কি না? এবং ক্রয় না করলে সে ভৎর্সনার যোগ্য হবে কি না?

উত্তর

ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একপক্ষ পণ্যের মূল্য প্রস্তাব করার পর অপর পক্ষ তাতে সম্মত না হলে ঐ প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। তদ্রূপ একপক্ষ মূল্য প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ সম্মত হওয়ার পূর্বে দুজনের কেউ প্রস্থান করলে বা অস্বীকৃতি জানালেও ঐ প্রস্তাব বাতিল গণ্য হয়।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের উভয় দিক পাওয়া গেছে। তাই ক্রেতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়ে গেছে। ফলে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়নি। সুতরাং পরবর্তীতে বিক্রেতা ঐ মূল্যে বিক্রির জন্য রাজি হওয়াটা তার পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব বলে বিবেচিত হবে। অতএব এখন ক্রেতা ঐ মূল্যে পণ্যটি ক্রয় করতে বাধ্য নয়; বরং এক্ষেত্রে সে পূর্ণ স্বাধীন। ঐ মূল্যে সে ক্রয় করতেও পারে এবং নাও করতে পারে। ক্রয় না করলে তাকে ভৎর্সনা করা বকাবকি করা অন্যায় হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭২; হিদায়া ২/২৩; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

অযুতে হাত পায়ের আঙ্গুল খিলাল করার বিধান কী? পায়ের আঙ্গুল...

প্রশ্ন

অযুতে হাত পায়ের আঙ্গুল খিলাল করার বিধান কী? পায়ের আঙ্গুল খিলাল করার সঠিক নিয়ম জানতে চাই।

উত্তর

স্বাভাবিকভাবে আঙ্গুলের ফাঁকে পানি পৌঁছে গেলে খিলাল করা সুন্নাত। আর খিলাল ব্যতীত পানি না পৌঁছলে খিলাল করা ফরয।

পায়ের আঙ্গুল খিলাল করার নিয়ম হল, খিলালের জন্য বাম হাতের কনিষ্ঠা ব্যবহার করবে এবং ডান পায়ের কনিষ্ঠা থেকে শুরু করবে। খিলালের সময় পায়ের উপর দিক দিয়ে আঙ্গুল প্রবেশ করাবে অতঃপর আঙুলের গোড়া থেকে উপরের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।

-সুনানে আবু দাউদ ১/১৯-২০; জামে তিরমিযী ১/১৬; মুসনাদে আহমদ ২৯/৩৮৮, ২৬/৩০৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২; বাদায়েউস সানায়ে ১/১১৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৭; রদ্দুল মুহতার ১/১১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

এক ব্যক্তির ফরয গোসল শেষ হওয়ার পর মনে পড়ল যে,...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তির ফরয গোসল শেষ হওয়ার পর মনে পড়ল যে, সে নাকে পানি পৌঁছায়নি। এ অবস্থায় কি সে পুনরায় শুরু থেকে গোসল করবে না শুধু নাকে পানি দেওয়াই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শুধু নাকে পানি দেওয়াই যথেষ্ট। পুনরায় গোসল করতে হবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ১/৩৭৪; ইলাউস সুনান ১/২১৬; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

আমার অনেক সময় জামাতে এক দুই রাকাত ছুটে যায়। জানার...

প্রশ্ন

আমার অনেক সময় জামাতে এক দুই রাকাত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করার সময় শুরুতে সূরা ফাতেহা পাঠ করব নাকি সানা পড়ে তারপর সূরা ফাতিহা পড়ব?

উত্তর

ছুটে যাওয়া রাকাত আদায়ের সময় সানা দিয়ে শুরু করা উত্তম।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

কুরবানীর দিন এলাকার লোকজন নিজ নিজ পশু যবাইয়ের জন্য আমার...

প্রশ্ন

কুরবানীর দিন এলাকার লোকজন নিজ নিজ পশু যবাইয়ের জন্য আমার চাচাকে নিয়ে যায়। এখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেও লোকজন তবুও আসে। চাচা তাদের মন রক্ষার্থে গেলেও একা যবাই করতে পারেন না। তাই আমাকে সাথে নিয়ে যান। চাচা বিসমিল্লাহ বলে একটু ছুরি চালিয়ে দিলে বাকিটুকু আমি করে দিই। জানার বিষয় হল, চাচার বিসমিল্লাহ পড়াই যথেষ্ট হবে? নাকি আমাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকেও বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় যবাই সহীহ হবে না। কেননা এক্ষেত্রে আপনিও যবাইকারী। আর যবাইকারী একাধিক হলে প্রত্যেকেরই বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। অবশ্য প্রথম জবাইকারী যদি জবাই সম্পন্ন করে ফেলে, অর্থাৎ স্বাশনালী, খাদ্যনালী এবং দুই শাহরগের কোন একটি কেটে ফেলে, এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি ছুরি চালায় সেক্ষেত্রে তার জন্য বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি নয়। এক্ষেত্রে প্রথম ব্যক্তির দ্বারাই জবাই সম্পন্ন হয়ে যায়। সুতরাং পরবর্তীতে কেউ যদি ছুরি চালায় তাহলে জবাইকারীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। তাই সে বিসমিল্লাহ না বললেও কোনো ক্ষতি হবে না।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৫৭
তারিখ: ২৮/৭/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

খুতবা চলাবস্থায় কথা বলা ও কাউকে কথা বলতে নিষেধ করা ৷

প্রশ্ন
হযরত ! আজকাল জুমার দিন খুতবা চলাকালীন ব্যপক ভাবে মানুষ কথা বলতে দেখা যায়৷ এক হুজুর কে বলতে শুনেছি,খুতবা চলাকালিন কথা বলাও যাবে না৷ পাশে কাউকে কথা বলতে দেখলে নিষেধও করা যাবে না৷ একথাটি কতটুকু সঠিক? এ বিষয়ে বিস্তারিত দলিলসহ জানতে চাই৷
উত্তর
খুতবা চলাকালীন উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য চুপ থেকে মনোযোগসহ খুতবা শোনা ওয়াজিব। তখন মুসল্লিদের জন্য সব ধরনের কথা বলা নাজায়েয৷ এমনকি কাউকে কথা বলতে দেখলে তাকে মৌখিকভাবে বারণ করাও নাজায়েয। কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তুমি যদি পাশের ব্যক্তিকে বল ‘চুপ থাক’ তবে তুমি তা একটি অনর্থক কাজ করলে।
-সহীহ বুখারী, হাসীস ৯৩৪৷ তবে প্রয়োজন হলে মুখে নিষেধ না করে হাত বা
মাথা দ্বারা ইশারা- ইঙ্গিতে পাশের ব্যক্তিকে কথাবার্তা বলা বা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা যাবে। কেননা কেননা এ বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনে উমার রাঃ আবদুর রহমান ইবনে আবী লায়লা, সুফিয়ান সাওরী, আলকামা, ইবরাহীম নাখায়ী সহ একাধিক সাহাবা-তাবেয়ীর আমল ও আসার দ্বারা প্রমাণিত আছে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫২৫৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৫৪
তারিখ: ১৪/৭/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

মহিলাদের জন্য স্বর্ন-রুপার চামচ গ্লাস বাটি ইত্যাদি ব্যবহার করার হুকুম ৷

প্রশ্ন
আমরা জানি পুরুষের জন্য স্বর্ন-রুপা ব্যবহার করা হারাম ৷ কিন্তু মহিলাদের জন্য হালাল ৷ তাই মহিলাদের ব্যবহৃত আসবাব যেমন চামচ গ্রাস বাটি যদি স্বর্ন বা রুপা দিয়ে তৈরি করা হয় তাহলে কি তা ব্যবহার করা জায়েয হবে? এমনি ভাবে যদি এগুলো স্বর্ণের পানি দ্বারা প্রলেপযুক্ত হয়। যা দেখতে স্বর্ণের মতোই লাগে, কিন্তু বাস্তবে স্বর্ণ নয়। এগুলো ব্যবহারের হুকুম কী?
উত্তর
মহিলাদের জন্য স্বর্ণ-রুপার অলংকার ব্যবহার করা জায়েয হলেও স্বর্ণ-রূপার তৈরি চামচ, গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার করা পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই হারাম। অবশ্য স্বর্ণ-রুপার পানি দ্বারা প্রলেপযুক্ত আসবাবপত্র ব্যবহার করা জায়েয আছে । তবে এগুলোও ব্যবহার না করা উত্তম। কেননা এতে বিজাতিদের সাথে কিছুটা হলেও সাদৃশ্য হয়।
-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৮৩৭; ইলাউস সুনান ১৭/২৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩১৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেরগ্রানম ব্রহ্মণবাড়িয়া ৷


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৬৯
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

কালিমা তাইয়্যিবার সাথে দরুদ পাঠ করা ৷

প্রশ্ন
আমরা জানি রাসূল সাঃ এর নাম উচ্চারন করলে দরুদ পড়তে হয় ৷ কালিমা তাইয়্যিবার মধ্যেও রাসূল সাঃ এর নাম আছে ৷ তাই জানার বিষয় হলো, কালিমায়ে তাইয়্যিবার সাথে দরূদ পড়া যাবে কি না?
উত্তর
রাসূল সাঃ এর নাম উচ্চারণ করলে দরূদ পড়তে হয় এই নিয়ম হিসাবে কালিমা তাইয়্যিবার পর দরূদ শরীফ পড়া যাবে। তবে কিছুটা বিরতি দিয়ে পড়বে। যেন দরূদ শরীফ কালিমার অংশ বলে মনে না হয়। কারন দরূদ শরীফ কালিমা তাইয়্যিবার অংশ নয়। কালিমা তাইয়্যিবা হচ্ছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। এ পর্যন্ত পড়ে একটু বিরতি দিয়ে দরুদ পড়বে ৷ তবে কালিমার পর দরুদ পড়া আবশ্যক নয় ৷ আর যেহেতু দরুদ কালিমার অংশ নয় তাই অনেক আলেমগন অংশ মনে করে ফেলার আশংকায় দরুদ না পড়ার মত পোষন করেন ৷
-ফাতাওয়া উসমানী ১/৫৮ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৬৮
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

নাবালেগ অবস্থায় কাফেরদের সন্তান মারা গেলে জান্নাতী নাকি জাহান্নামী?

প্রশ্ন
এক লোকের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে কথা উঠে কাফেরদের নাবালেগ সন্তান তো কোন দোষ করেনি ৷ সে কি জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে যাবে? ইতিপুর্বেও এ বিষয়ে কয়েকজনের মাঝে তর্ক হয় ৷ আমার এ বিষয়ে জানা না থাকায় কিছু বলতে পারিনি ৷ তাই এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন ৷
উত্তর
এটি এমন কোনো বিষয় নয়, যা জানার উপর শরীয়তের কোনো আমল নির্ভরশীল। এবং আকীদাগত কোন বিষয়ও নয়, যা জানা জরুরি ৷ তাই এ জাতীয় বিষয় নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া ঠিক নয়।
কাফের-মুশরিকদের নাবালেগ সন্তান মারা গেলে তাদের সাথে কি আচরণ করা হবে এ বিষয়ে বিভিন্ন মত আছে। যেমন কেউ বলেন জান্নাতে যাবে ৷ কেউ বলে জাহান্নামে যাবে ৷ কেউ বলে আ'রাফে থাকবে ৷ কেউ বলে জান্নাতীদের সেবক-সেবিকা হবে ৷ তবে জান্নাত যাবে- এ মতটি অধিক শক্তিশালী। এর সঠিক
ফয়সালা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
-লামিউদ দারারী ২/১৩৭; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৫/৫০২; রদ্দুল মুহতার ২/১৯২; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫২ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৪২
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

ব্যভিচারের মাধ্যমে জন্ম লাভ হওয়া সন্তান ব্যভিচার কারির পরিত্যক্ত সম্পত্বির উত্তরাধিকার হবে কিনা?

প্রশ্ন
হুজুর আমার এলাকায় ব্যভিচারের মাধ্যমে এক ব্যক্তির সন্তান জন্ম লাভ হয়। কয়েক মাস পর ওই ব্যক্তি
মারা যায় ৷ অতপর উক্ত সন্তানের মা তার বাবার উত্তারাধিকারী হিসেবে সম্পত্বি দাবী করে ৷ মৃত ব্যক্তি ছেলেরা তাকে অংশ দিতে অস্বীকার করে। তাই জানার
বিষয় হল, আসলে কি সে ওই ব্যক্তির পরিত্যাক্ত সম্পদ থেকে কিছু পাবে না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
অবৈধ সন্তান ব্যভিচারীর পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে কোনো অংশ পায় না। কারন শরীয়ত এক্ষেত্রে বংশ সূত্রের স্বীকৃতি দেয় না। আর বংশ সূত্র ছাড়া উত্তারাধিকারের অধিকারী হয় না। অতএব প্রশ্নোক্ত সুরতে উক্ত অবৈধ সন্তান ব্যভিচার কারির পরিত্যক্ত সম্পত্বি থেকে কোন অংশ পাবে না ৷
-জামে তিরমিযী ২/৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৩৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫২; তাকমিলা আলবাহরুর রায়েক ৮/৫০৩৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৩৬
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

স্বপ্নে আল্লাহ তায়ালাকে দেখা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার একটি প্রশ্ন জানার ছিল ৷ অনেক ওয়াজ মাহফীলে শোনা যায়, অনেক আল্লাহর ওলিরা আল্লাহকে স্বপ্নে দেখেছেন ৷ আমার জানার বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালাকে কি স্বপ্নে দেখা সম্ভব? যদি সম্ভব হয় সেটা কিভাবে এবং কি আকারে দেখান? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
বাস্তবে এ জগতে জাগ্রত অবস্থায় যদিও আল্লাহ তাআলার দর্শন সম্ভব নয়। কিন্তু স্বপ্নযুগে আল্লাহ তায়ালা কে দেখা সম্ভব ৷ আল্লাহ তায়ালা অনেক সময় অনেক ওলি, বুজুর্গদেরকে স্বপ্নে দর্শন করিয়ে দেন। তবে কীভাবে , কি আকারে দর্শন করান এটা আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন। এ বিষয়ে চিন্তা-ফিকির করা, হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে ৷ তাই আল্লাহ কে নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা থেকে বিরত থাকা উচিত ৷
-তিরমিযি শরীফ, হাদীস: ৩২৩৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস: ২২১০৯; মাজমূয়ুল ফাতাওয়া ৩/৩৯০ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮০৮
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ কি ভুল? তাতে শিরক আছে?

প্রশ্ন
হুজুর এক আহলে হাদীসের সাথে কথা বলতেছিলাম এক পর্যায়ে সে বলল আমরা যে কালিমা পড়ি " লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ" এই কালিমাটি নাকি ভুল ৷ এভাবে বললে নাকি শিরক হবে ৷ কোন হাদীসে নাকি এভাবে নেই৷ বরং ওয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ এভাবে নাকি সহীহ ৷ এ বিষয়ে আপনার নিকট সঠিক সমাধান জানতে চাই ৷
উত্তর
উম্মতের ইজমা ও হাজার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন আমলী সূত্র পরম্পরায় কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ হিসেবে স্বীকৃত বিষয়ে ভুল ধরে তাকে শিরক বলে দেয়া কত বড় দৃষ্ঠতা প্রদর্শন আন্দাজ করুন৷ নিজেদের মুর্খতা ও অজ্ঞতার কারনে “লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ” কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ এর স্বপক্ষে কোন হাদীস না পেয়ে কালিমাটিকেই অস্বিকার করে শিরক বলে দিল। ইহা উম্মতের মুসলিমাহ এর উপর অপবাদ লাগানো বৈকিছু হতে পারে না ৷
নিম্নে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ " কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ এর স্বপক্ষে সংক্ষিপ্ত আকারে কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হলোঃ
ﻋﻦ ﻳﻮﺳﻒ ﺑﻦ ﺻﻬﻴﺐ، ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ، ﻋﻦ
ﺃﺑﻴﻪ، ﻗﺎﻝ : ﺍﻧﻄﻠﻖ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ ﻭﻧﻌﻴﻢ ﺍﺑﻦ ﻋﻢ ﺃﺑﻲ ﺫﺭ، ﻭﺃﻧﺎ
ﻣﻌﻬﻢ ﻳﻄﻠﺐ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺻﻠّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺁﻟﻪ ﻭﺳﻠّﻢ
ﻭﻫﻮ ﻣﺴﺘﺘﺮ ﺑﺎﻟﺠﺒﻞ، ﻓﻘﺎﻝ ﻟﻪ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ : ﻳﺎ ﻣﺤﻤﺪ،
ﺃﺗﻴﻨﺎﻙ ﻟﻨﺴﻤﻊ ﻣﺎ ﺗﻘﻮﻝ، ﻗﺎﻝ : ﺃﻗﻮﻝ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠَّﻪ
ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠَّﻪ، ﻓﺂﻣﻦ ﺑﻪ ﺃﺑﻮ ﺫﺭ ﻭﺻﺎﺣﺒﻪ .
বুরাইদা (রা.) বলেন, আবুজর ও নুআইম তারা দুজন রাসূল (সা.)-এর খুঁজে বের হন। আমি তাঁদের সাথে ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন এক পাহাড়ের আড়ালে ছিলেন। তখন আবুজর তাঁকে বলেন, হে মুহাম্মদ আপনি কি বলেন আমরা শুনতে এসেছি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি বলি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
আল ইসাবা ইবনে হাজর ৬/৩৬৫, হাদীস নং
৮৮০৯৷
এই হাদীসের সনদ সহীহ, এবং সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য।
ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ
ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺩَﺧَﻠْﺖُ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔَ ﻓَﺮَﺃﻳْﺖُ ﻓِﻲ ﻋﺎﺭِﺿَﺘِﻲ ﺍﻟﺠَﻨَّﺔِ
ﻣَﻜْﺘُﻮﺑﺎً ﺛﻼﺛﺔ ﺃﺳﻄﺮ ﺑﺎﻟﺬﻫﺐ : ﺍﻟﺴﻄﺮ ﺍﻷﻭﻝ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇِﻟَّﺎ
ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤَّﺪٌ ﺭَﺳﻮُﻝُ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺍﻟﺴَّﻄﺮُ ﺍﻟﺜَّﺎﻧِﻲ ﻣﺎ ﻗﺪﻣﻨﺎ
ﻭَﺟَﺪْﻧﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺃﻛَﻠْﻨﺎ ﺭَﺑِﺤْﻨﺎ ﻭَﻣَﺎ ﺧَﻠَّﻔْﻨﺎ ﺧَﺴِﺮْﻧﺎ ﻭﺍﻟﺴَّﻄْﺮُ
ﺍﻟﺜَّﺎﻟِﺚُ ﺃُﻣَّﺔٌ ﻣُﺬْﻧِﺒَﺔٌ ﻭَﺭَﺏٌّ ﻏَﻔُﻮﺭٌ
“হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মেরাজকালে আমি বেহেশতে প্রবেশের সময় এর দু’পাশে দেখি তিনটি লাইনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা :
প্রথম লাইন. লা ইলাহা ইল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।
দ্বিতীয় লাইন. আমরা যে ভালো কর্ম পেশ করেছি, তা পেয়েছি। যা খেয়েছি তা থেকে উপকৃত হয়েছি। যা ছেড়ে এসেছি, তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
তৃতীয় লাইন, উম্মত হলো গোনাহগার, আর রব হলো ক্ষমাশীল।
জামেউস সগীর সুয়ূতী ১/৮৭১ হাদীস নং ৪১৮৬, ইমাম সুয়ূতী রঃ হাদীসটি সহীহ বলেছেন ৷
ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻛَﺎﻧَﺖْ ﺭَﺍﻳَﺔُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ
ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺳَﻮْﺩَﺍﺀَ ﻭَﻟِﻮَﺍﺅُﻩُ ﺃَﺑْﻴَﺾُ، ﻣَﻜْﺘُﻮﺏٌ
ﻋَﻠَﻴْﻪِ : ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ »
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ঝান্ডাটি ছিল কালো এবং পতাকাটি ছিল সাদা রঙের। এই পতাকায় লেখা ছিল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
আল মু’জামুল আওসাত তাবরানী ১/১২৫ হাদীস নং ২২১৷
এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সবাই নির্ভরযোগ্য।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত দীর্ঘ এক হাদীসে রাসূল (সা.) তখনকার কাফের ও সত্যিকারের মুসলমানদের অবস্থার বিবরণ দিতে গিয়ে নিম্নে বর্ণিত আয়াতের আলোকে বলেন-
ﺇِﺫْ ﺟَﻌَﻞَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻛَﻔَﺮُﻭﺍ ﻓِﻲ ﻗُﻠُﻮﺑِﻬِﻢُ ﺍﻟْﺤَﻤِﻴَّﺔَ ﺣَﻤِﻴَّﺔَ
ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﻓَﺄَﻧْﺰَﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺳَﻜِﻴﻨَﺘَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻭَﻋَﻠَﻰ
ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻭَﺃَﻟْﺰَﻣَﻬُﻢْ ﻛَﻠِﻤَﺔَ ﺍﻟﺘَّﻘْﻮَﻯ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﺃَﺣَﻖَّ ﺑِﻬَﺎ
ﻭَﺃَﻫْﻠَﻬَﺎ ﻭﻫﻰ ﻻ ﺍﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﺤﻤﺪ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ”
কাফেররা মুসলমানদের সাথে সেই অজ্ঞ যুগের বাড়াবাড়িতে লিপ্ত ছিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা মুসলমানদের একত্মবাদের ফলে রাসূল (সা.) ও মুমিনদের ওপর স্বীয় প্রশান্তি অবতরণ করেন। আর তাদের জন্য তাকওয়ার কালিমা আবশ্যক করে দেন। যার সত্যিকার ধারক তারাই৷ এই তাকওয়ার কালিমাটি হলো “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।
বায়হাকী পৃ. ১৩১ কিতাবুল আসমা ওয়াসসিফাত৷
এই হাদীসের সব বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, হাদীসটি সহীহ৷
তাছাড়া উম্মতের ইজমা ও নিরবচ্ছিন্ন আমলী সূত্র পরম্পরায়ও তা কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ হিসেবে স্বীকৃত ৷
এর পরও যারা এই কালিমাটি হাদীসে নেই বলে ৷ উক্ত কালিমায় শিরকের গন্ধ পায় ৷ বুঝতে হবে তারা নিজেরা ই শিরকে ডুবন্ত ৷ তারা উম্মতে মুহাম্মদীর দুশমন ৷ ইসলামের শত্রু ৷ ইসলামকে ধ্বংশকারী ৷ এ যুগ সেরা ফেতনাবাজ ৷
আল্লাহ সকলকে সহীহ বুঝে আমল করে উভয় জগতে ধন্য হওয়ার তৌফীক দান করুন ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮০৫
তারিখ: ১৪/১/২০১৭
বিষয়: বিবিধ

নখ চুল পশম ইত্যাদি কেটে কোথায় ফেলবে?

প্রশ্ন
আমরা জানি নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কেটে মাটিতে দাফন করে দিতে হয়৷ কিন্তু আমরা যারা শহরের মানুষ তা কোথায় ফেলব? কারন শহরে দাফনের জায়গা পাওয়া কঠিন। কমোডে ফেলা যাবে কি না?
উত্তর
নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কেটে তা মাটির নিচে দাফন করে দেওয়াই উত্তম। তবে শহরে বা যেখানে মাটিচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই সেখানে বাসার ময়লার ঝুড়িতে ফেলা যাবে। কিন্তু তা কমোডে ফেলা উচিত নয়।
আর যেসব পশম শরীরে থাকা অবস্থায় অন্যের জন্য দেখা নাজায়েয শরীর থেকে পৃথক হওয়ার পর বা কাটার পরও তা দেখা নাজায়েয। তাই এ ধরনের পশম পরিষ্কার করে টয়লেটের ভেতর ফেলে দেওয়া যাবে। আর অন্য কোথাও ফেলতে চাইলে আলাদা কোনো কিছুতে ফেলা উচিত, যেন তা দেখা না যায়।
আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭১ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৯, ৫/৩৫৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৮৬
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

রাস্তায় পড়ে থাকা মূল্যবান বস্তু কুড়িয়ে পেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আমার একটি প্রশ্নের উত্তর দিবেন৷ রাস্তা-ঘাট বা অন্য কোথাও কোন মূল্যবান জিনিষ পড়ে থাকতে দেখা গেলে উহা কি করবো? উঠাবো নাকি যেভাবে আছে সেভাবেই রেখে দিবো? উঠালে করনীয় কি? জানাবেন প্লীজ ৷
উত্তর
পড়ে থাকা মূল্যবান বস্তু নষ্ট হয়ে যাওয়া বা কোন চোর ডাকাতের হাতে চলে যাওয়ার আশংকা হলে তা উঠাতে হবে ৷ উঠিয়ে যথা সম্ভব উক্ত বস্তুর মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর জন্য চেষ্টা করবে। নিকটস্থ কোন দোকান, বাসাবাড়ি, আশপাশে ভাল করে মালিকের খোঁজ খবর নিবে। বেশি মূল্যবান বস্তু হলে মাইকে এলান করবে বা পত্রিকায় এ্যাড দিবে। শেষ পর্যন্ত যদি মনে হয়, মালিককে কোনভাবেই পাওয়া সম্ভব নয়। তাহলে উক্ত সম্পদকে তার মালিকের নামে দান করে দিবে। যে পেয়েছে সে নিজেই গরীব হলে, নিজেও ব্যবহার করতে পারবে৷ ধনী হলে তার জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয় ।
দান বা নিজে ব্যবহার করার পর যদি কোনদিন বস্তুর
মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে মালিককে জানাতে হবে যে, আপনার উক্ত বস্তুটি আপনার সন্ধান না পেয়ে দান করে দেয়া হয়েছে, সে মেনে নিলে ফেরত দিতে হবে না ৷ না মানলে উক্ত বস্ত বা তার মূল্য মালিককে ফেরত দিতে হবে।
রদ্দুল মুহতার ৬/৪৩৭; ফতাওয়ায়ে আলমগীরী ২/২৮৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৭১
তারিখ: ১৭/১২/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

ইমামকে রুকু অবস্থায় কতটুকু পেলে রাকাত হিসেবে গন্য হবে?

প্রশ্ন
হুজুর! আমি ফজরের জামাতে রুকুতে এমন সময় শামিল হয়েছি যে, একবারও পূর্ণভাবে রুকুর তাসবীহ পড়তে পারিনি। তবে তসবীর শুরু করেছিলাম, তখনি ইমাম সাহেব দাড়িয়ে যান ৷ এ অবস্থায় আমি রুকু ও রাকাত পেয়েছি বলে ধরা হবে কি না? নাকি একবার পূর্ণ তাসবীহ পড়ার সুযোগ পেলে রাকাত পেয়েছি ধরা হবে?
উত্তর
রাকাত পাওয়ার জন্য রুকু পাওয়া জরুরি। আর রুকু পাওয়ার জন্য এক মুহূর্ত হলেও ইমামের সাথে রুকুতে শরিক হওয়া জরুরী । ইমামের সাথে রুকুর পুর্ন তাসবীহ পাওয়া জরুরি নয়। তবে যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় এক মুর্তের জন্যও না পায় তাহলে এ রাকাত পায়নি বলে ধরা হবে।
অতএব প্রশ্ন বর্নিত সুরতে যেহেতু আপনি এক মুহুর্তের জন্যও ইমামকে রুকুতে পেয়েছেন যদিও পুর্ন এক তাসবীহ পরিমান পান নি, তাই রাকায়াত পেয়েছেন বলে ধরা হবে ৷
মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ২৫৩৭-২৫৩৭;আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০; ফাতহুল কাদীর ১/৪২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৬২
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

ভাঙ্গাচোরা জিনিষপত্র আলু, পিয়াজ ইত্যাদির বিনিময়ে বিক্রি করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর! আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে, ভাঙ্গাচোরা লোহা লংকর টিন ইত্যাদি জিনিসপত্র আলু, পিয়াজের বিনিময়ে কিছু লোক বাড়ি বাড়ি হেটে হেটে বিক্রি করে। বিক্রির পদ্ধতিটি এমন যে, এক পাল্লায় ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র রাখা হয় অপর পাল্লায় আলু অথবা পিয়াজ রাখা হয়৷ এবংপাল্লার দণ্ডি সমান করা হয়। এভাবে মিষ্টি আলু অথবা পিয়াজের বিনিময়ে
ভাঙ্গাচোরা জিনিসপত্র বিক্রি করা কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর
জ্বী হ্যাঁ, প্রশ্নে বর্নিত পদ্ধতিতে ভাঙ্গাচোরা লোহা লংকর টিন ইত্যাদির পরিবর্তে আলু বা পিয়াজের লেনদেন বৈধ ও শরীয়তসম্মত৷
হেদায়া ৩/২১৷ আউনুল মা'বুদ ৭/৩৩০; ফতহুল বারি ৭/৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন৷ মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৬১
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

শয়তানের পরিচয় ও জিনদের বিয়ে সাদী৷

প্রশ্ন
শয়তান কোন জাতির? সে কি জিন নাকি আলাদা অন্য কোন জাতির? সকল মানুষকে কি সে একাই
ধোঁকা দেয় নাকি তার সাঙ্গ পাঙ্গ আছে? তারা কিসের তৈরি? তাদের কি মানুষের মত বিয়ে সাদী হয়? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন৷
উত্তর
শয়তানের পরিচয় হলো, সে জিন জাতির অন্তর্ভূক্ত, ভিন্ন কোন জাতি নয়৷ আর জিন জাতি আগুনের সৃষ্টি। মানুষ সৃষ্টির অনেক আগে তাদেরকে সৃষ্টি করা হয়৷ তাদের মানুষের মত নাক কান চোখ মন শরীর ইত্যাদি আছে৷ তারা পানাহারও করে৷ তাদের মাঝে বিয়ে সাদী হয়৷ সন্তানাদি হয় ৷ শয়তান একাই ধোঁকা দেয় না, তার অসংখ্য সঙ্গপাঙ্গ আছে৷ তবে ইবলিস হলো জিন জাতির পিতা৷
সূরা হিজর: ২৬- ২৭; সূরা আরাফ ১৭৯; সূরা কাহাফ ৫০; সূরা রহমান ৫৬; সহীহ মুসলিম হাদীসঃ ২০২০; ফতওয়ায়ে ইবনে তাইমিয়া ৪/২৩৫,৩৪৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৩৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

হুজুর শব্দের ব্যবহার৷

প্রশ্ন
হুজুর শব্দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে খাছ নাকি যে কারো সাথে ব্যবহার করা যাবে? বিস্তারিত প্রমাণাদিসহ জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
বাংলা ভাষায় জনাব, মহাশয় যেমনভাবে সম্মানসূচক শব্দ অনুরূপভাবে হুজুর শব্দটিও ফার্সী, উর্দু ও বাংলাভাষায় একটি সম্মানসূচক শব্দ। যা সাধারণত আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তিন ভাষার অভিধান গ্রন্থগুলো দেখলেই এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায়। যেমন ফার্সী অভিধান গিয়াসুল লুগাতে (পৃ. ১৭৪) দেখুন : ‘‘হুজুর শব্দটির অর্থ হল, উপস্থিত হওয়া। তবে পরিভাষায় এটি বুযুর্গ ব্যক্তিদের সম্মানসূচক সম্বোধনের জন্য ব্যবহার করা হয়।’’ একই কথা উর্দু অভিধান ফীরুযুল লুগাত (পৃ. ৫৭১) এবং বাংলা অভিধান বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান (পৃ. ১২১২) ও সংসদ বাংলা অভিধান (পৃ. ৭২৩) এ উল্লেখ করা হয়েছে। উপরোল্লেখিত অভিধানগুলোর আলোকে একথাই স্পষ্ট হয় যে, হুজুর শব্দটি ফার্সী, উর্দু ও বাংলা ভাষায় নিছক একটি সম্মানসূচক শব্দ। আর এ অর্থেই এই তিন ভাষার অনেক মানুষ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্যও এটি ব্যবহার করে থাকে। শরয়ী পরিভাষা হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয় না। শব্দটি যেহেতু ব্যাপক তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য তা ব্যবহার করা হলে সাধারণত অধিক সম্মান বোঝানোর জন্য এর সাথে আকরাম শব্দ যোগ করে হুজুরে আকরাম বলা হয়। মোটকথা, হুজুর শব্দটি সম্মানসূচক বটে তবে এটি এমন কোনো শব্দ নয়, যা শুধু রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্য ব্যবহৃত হয়। বরং তা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত একটি শব্দ। -গিয়াসুল লুগাত ১৭৪; ফীরুযুল লুগাত ৫৭১; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ৩/৩৪২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৩৮
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

হাচি দেওয়ার পর আলহামদুলিল্লাহ বলার হুকুম৷

প্রশ্ন
হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য আলহামদুলিল্লাহ বলার হুকুম কী? এবং তা কি উচ্চস্বরে বলবে না নিম্নস্বরে?
উত্তর
হাঁচি দেওয়ার পর হাঁচিদাতার জন্য উচ্চ স্বরে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় তখন সে যেন আলহামদুলিল্লাহ বলে। এবং তার সাথী যেন উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে। যখন তার সাথী ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলবে তখন হাঁচিদাতা যেন উত্তরে ‘ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম’ বলে।-সহীহ বুখারী, হাদীস :
৬২২৪৷
অন্য হাদীসে এসেছে, ইয়াহইয়া ইবনে আবী কাছির তার এক উস্তাদ থেকে বর্ণনা করেন, হাঁচিদাতার জন্য উচিত হল উচ্চস্বরে আলহামদুলিল্লাহ বলা, যাতে করে আশপাশের লোকেরা তা শুনতে পায়। আর ঐ ব্যক্তির আলহামদুলিল্লাহ বলার পর শ্রোতাদের জন্য জরুরি হল ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। -মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১৯৬৮০; কিতাবুল আযকার পৃ. ৪৪১; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৪/২৪৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৮৭৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭০৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা ৷

প্রশ্ন
পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা কি জায়েজ? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
কিবলার দিকে পা দিয়ে বসা বেআদবী। এবং মাকরুহে তাহরিমী। তাই কিবলা তথা আমাদের জন্য পশ্চিম দিকে পা দিয়ে বসা থেকে বিরত থাকতে হবে৷
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন-তোমরা কিবলামুখী মুখ করে পায়খানা প্রস্রাব করো না, বরং উত্তর-দক্ষিণ
হয়ে বস।
তাহাবী শরীফ, হাদীস নং-৬০৯১, সহীহ বুখারী, হাদীস
নং-৩৮৬; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩১৯;আল মুহিতুল বুরহানী-৮/১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারিল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৬৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

জমজমের পানি ছাড়া অন্য পানি দাঁড়িয় পান করা৷

প্রশ্ন
এক মাত্র জম জম কূপের পানি ছাড়া অন্য কোন পানি কেন দাড়িয়ে পান করা যায় না ?
উত্তর
জমজমের পানি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পান করেছেন। তা’ই আমরাও জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম মনে করি।বাকি এভাবে জমজমের পানি পান করা জরুরী নয়।
আর স্বাভাবিক অবস্থায় অন্যান্য পানি দাঁড়িয়ে
পান করাকে মাকরূহে তানজিহী মনে করি।
কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দাঁড়িয়ে পানি পান করাতে নিষেধ করেছেন।
বাকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে
এবং তার কতিপয় সাহাবী কর্তৃক দাঁড়িয়ে পানি করা সম্পর্কিত হাদীস পাওয়া যায়। যা প্রমাণ করে দাঁড়িয়ে পানি পান করা হারাম বা মাকরূহে তাহরীমি নয়। বরং সর্বোচ্চ তানজিহী তথা অনুত্তম বলা যায়। বিস্তারিত দেখুন-রদ্দুল মুহতার-১/২৫৪-২৫৬
‎ﻋَﻦِ ﺍﺑْﻦِ ﻋَﺒَّﺎﺱٍ، ‏« ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
‎ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺷَﺮِﺏَ ﻣِﻦْ ﺯَﻣْﺰَﻡَ ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﺋِﻢٌ হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২০২৬
‎ﺃَﺑَﺎ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ
‎ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻟَﺎ ﻳَﺸْﺮَﺑَﻦَّ ﺃَﺣَﺪٌ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻗَﺎﺋِﻤًﺎ، ﻓَﻤَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ
‎ﻓَﻠْﻴَﺴْﺘَﻘِﺊْ » হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ যেন দাড়িয়ে পান না করে, তবে যদি ভুলে যায়, তাহলে পান করতে পারে। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২০২৬
‎ﻋَﻦْ ﻋَﻤْﺮِﻭ ﺑْﻦِ ﺷُﻌَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺟَﺪِّﻩِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺭَﺃَﻳْﺖُ
‎ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﺸْﺮَﺏُ ﻗَﺎﺋِﻤًﺎ ﻭَﻗَﺎﻋِﺪًﺍ
আমর বিন শুয়াইব তিনি তার পিতা, তিনি তার দাদা
থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দাড়িয়ে ও বসে পান করতে দেখেছি। সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১৮৮৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬৫৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

হাত-পা ও বুক ইত্যাদি অঙ্গের পশম কাটা৷

প্রশ্ন
হাত-পা ও বুকের পশম কাটার হুকুম কি? এসব কাটা কি জায়েজ?
উত্তর
হাত-পা,বুক,পেট-পিঠ ইত্যাদি অঙ্গের পশম কাটা হারাম নয়, তবে উত্তমও নয়। তাই না কাটাই শ্রেয়৷
‎ﻭﻓﻲ ﺣﻠﻖ ﺷﻌﺮ ﺍﻟﺼﺪﺭ ﻭﺍﻟﻈﻬﺮ ﺗﺮﻙ ﺍﻷﺩﺏ ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ،
‎ﻛﺘﺎﺏ
‎ﺍﻟﺤﻈﺮ ﻭﺍﻻﺑﺎﺣﺔ، ﻓﺼﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﺒﻴﻊ - 9/583 ، ﻃﺤﻄﺎﻭﻯ
‎ﻋﻠﻰ
‎ﺍﻟﻤﺮﺍﻗﻰ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺠﻤﻌﺔ -431 ‏) উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬২৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

তাবীজ কবজ ঝাড়ফুক ইত্যাদির ব্যবহার৷

প্রশ্ন
ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজের শরঈ বিধান কি? ¤ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে বিনিময় নেওয়া কি জায়েয আছে?
উত্তর
ঝাড়ফুক তাবিজ কবজ চার শর্তে জায়েয আছে; (১) কুফুরী কালাম না হওয়া। (২) লেখাগুলো অস্পষ্ট না হওয়া। (৩) কোন নাজায়েয কাজের জন্য না হওয়া। (৪) এমন আক্বীদা না থাকা যে, তাবিজের মধ্যে ই ভালো করার ক্ষমতা রয়েছে। কারন ভালো করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। ¤উল্যেখিত শর্ত অনুযায়ী রুগ মসিবতে ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ গ্রহন করাও বৈধ৷ তাবীজ কহজ দিয়ে বিনিময় নেওয়া জায়েয আছে। মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৫৬৭, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা- হাদিস নং ২৪০১৩, ফতোয়ায়ে শামী - ৬/৩৬৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসিন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৬১৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

নিজ নামে রেজিস্ট্রেশ করে সিম হস্তান্তর৷

প্রশ্ন
সিম ক্রয়ের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন করা জরুরি।
এখন কোনো ব্যক্তি নিজ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে
সিম ক্রয় করে কোম্পানীর অনুমোদন এবং
পুনঃ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্য ব্যক্তির কাছে
সিম বিক্রি করা বৈধ কি না?
উত্তর
জ্বী,সিম নিজ নামে রেজিস্টেশন করে পুনঃ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অন্য ব্যক্তির নিকট বিক্রি করা বা দিয়ে দেওয়া বৈধ। তবে কিন্তু বর্তমানে এ বিষয়টি যুকিপুর্ন হওয়ায় পুনঃ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া না বিক্রি না করা উচিত৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৫০৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

কন্যা সন্তান লালপালনের ফযীলত৷

প্রশ্ন
কন্যা সন্তান লালন পালনে নাকি ইসলামে অনকে ফযীলত রয়েছ ।
এছাড়া যার প্রথম সন্তান কন্যা হবে, তার জন্য
নাকী বিশেষ ফযীলত আছ? এ সম্পর্কে বিস্তারতি জানতে চাই।
উত্তর
হ্যাঁ, কন্য সন্তান লালন পালনে অনেক ফযীলত রয়েছে। এ ছাড়া কারো প্রথম সন্তান কন্যা হলে তার জন্য হাদীস শরীফে বিশেষ ফযীলতের কথা রয়েছে। মেয়ে সন্তানের ফযীলত বিষয়ে নিম্নে কয়কেটি হাদীস পেশ করা হল। (১) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলনে,
রাসূল (সা.) ইরশাদ করনে, যার গৃহে কন্যা সন্তান
জন্মগ্রহন করল,অতঃপর সে ঐ কন্যাকে কষ্টও দেয়নি,তার উপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার উপর প্রধান্য দেয়নি,তাহলে ঐ
কন্যার কারনে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে
প্রবশে করাবেন।(মুসনাদে আহমদ ১;২২৩) (২) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,যে ব্যাক্তি দ"টি
মেয়েকে বয়ঃপ্রাপ্ত হ্ওয়া পর্যন্ত লালন পালন
করল সে কিয়ামতের দিন এরূপ অবস্থায় উঠবে যে আমি আর সে এরকম মিলিত অবস্থায় থাকব,এই বলে তিনি স্বীয় আঙ্গুলসমূহ মিলিয়ে দেখালেন।(মুসলিম শরীফ) (৩) রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন,"কন্যা সন্তান হল
উত্তম সন্তান। কেননা,তারা হচ্চে অধিক গুনের
অধিকারিনী বিনম্র ও মিস্ঠভাষী । এছাড়া তারা পিতা-
মাতার সেবা -শুশ্রষার জন্য সদাসর্বদা প্রস্তুত
থাকে এবং তারা মায়া মমতাকারীনী,স্নেহময়ী,বিনয়ী ও বরকতময়ী।"(ফিরদাউস ৪;২৫৫) আর প্রথম সন্তান মেয়ে হ্ওয়ার ফযীলত সম্পর্কে হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল,
হযরত আব্দুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন,রাসুল
(সা.) ইরশাদ করেন,ঐ মহিলা বরকতময়ী ও সৌবাগ্যশালী,যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, সন্তানদানের নিয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন,তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যা
সন্তান দান করেন আর যাকে ইচ্ছা পুত্র সন্তান
দান করেন।"কানযুল উম্মাহ ১৬:৬১১৷

উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৪৫৫
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

আমাদের কলেজে মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি। এমনকি পরীক্ষার সময় মেয়েদের...

প্রশ্ন
আমাদের কলেজে মেয়েদের সংখ্যা অনেক বেশি। এমনকি পরীক্ষার সময় মেয়েদের সাথে বসতে হয়। কারণ
আমাদের রোল অনুযায়ী সিট প্ল্যান
করা হয়। এ অবস্থায় আমি কীভাবে
আমার মহামূল্যবান ঈমান ঠিক রাখতে
পারি?
উত্তর
আমাদের দেশে সরকারী/বেসরকারী বিভিন্ন মানের একাধিক বয়েজ কলেজ
আছে। আপনার কর্তব্য ছিল প্রথম থেকেই বয়েজ কলেজে এডমিশন নেয়া। সেক্ষেত্রে আর এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হত না। এখন যদি আপনার জন্য বয়েজ কলেজে ট্রান্সফার হওয়া সম্ভব হয় তাহলে তাই সমীচীন হবে। যতদিন তা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি যথাসম্ভব দৃষ্টিকে সংযত রাখবেন। মেয়েদের সাথে উঠাবসা ও অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকবেন। আর কখনো ভুল হয়ে গেলে তৎক্ষণাৎ আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করবেন। দৃষ্টি ও মন হেফাযত রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করবেন। সময় পেলে হক্কানী আলেম ও আল্লাহ ওয়ালাদের
সাথে উঠাবসা করবেন এবং তাদের ওয়ায- নসীহত শুনবেন৷
প্রকাশ থাকে যে, সহশিক্ষার প্রচলিত পদ্ধতি সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী। এতে
পর্দার হুকুম লঙ্ঘনের গুনাহ ছাড়াও আরো অনেক গুনাহর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ
ধরনের পরিবেশ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা মুসলমানের কর্তব্য।
-সূরা নূর : ৩০; তাফসীরে কুরতুবী ১২/১৪৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৩৭৩; ফাতহুল বারী ২/৩৯২; আলমাবসূত, সারাখসী ১০/১৫২
১৬/৪০; আলমাজমু ৪/৩৫০ আদিল্লাতুল হিজাব ৪৫৬-৪৭৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৪৫৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর আমরা শহরের মানুষ...

প্রশ্ন
নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর আমরা শহরের মানুষ তা কোথায় ফেলব?
কেননা শহরে দাফনের জায়গা পাওয়া
কঠিন। কমোডে ফেলা যাবে কি না?
দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর তা মাটিচাপা দেওয়াই উত্তম। তবে শহরে বা যেখানে মাটিচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই সেখানে বাসার ময়লার ঝুড়িতে ফেলা যাবে। কিন্তু তা কমোডে না ফেলাই
উচিত।
আর যেসব পশম শরীরে থাকা অবস্থায় অন্যের জন্য দেখা নাজায়েয শরীর থেকে পৃথক হওয়ার পর বা কাটার পরও তা দেখা নাজায়েয। তাই এ ধরনের পশম পরিষ্কার করে টয়লেটের ভেতর ফেলে দেওয়া যাবে। আর অন্য কোথাও ফেলতে চাইলে আলাদা কোনো কিছুতে ফেলা উচিত, যেন তা দেখা না যায়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৬১৭১, ২৬১৭৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৯, ৫/৩৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৭১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৪৩২
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজের শরঈ বিধান কি? ¤ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে...

প্রশ্ন
ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজের শরঈ বিধান কি?
¤ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে বিনিময় 
নেওয়া কি জায়েয আছে?
উত্তর
ঝাড়ফুক তাবিজ কবজ চার শর্তে জায়েয আছে; (১) কুফুরী কালাম না হওয়া। (২) লেখাগুলো অস্পষ্ট না হওয়া। (৩) কোন নাজায়েয কাজের জন্য না হওয়া। (৪) এমন আক্বীদা না থাকা যে, তাবিজের মধ্যে ই ভালো করার ক্ষমতা রয়েছে। কারন ভালো করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। ¤উল্যেখিত শর্ত অনুযায়ী ঝাড়ফুক, তাবিজ, কবজ দিয়ে বিনিময় নেওয়া জায়েয আছে। মুসলিম শরিফ, হাদিস নং ৫৬৭, মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা- হাদিস নং ২৪০১৩, ফতোয়ায়ে শামী - ৬/৩৬৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসিন
01756473393

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৭৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর আমরা শহরের মানুষ...

প্রশ্ন
নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর আমরা শহরের মানুষ তা কোথায় ফেলব? কেননা শহরে দাফনের জায়গা পাওয়া কঠিন। কমোডে ফেলা যাবে কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
নখ, চুল বা পশম ইত্যাদি কাটার পর তা মাটিচাপা দেওয়াই উত্তম। তবে শহরে বা যেখানে মাটিচাপা দেওয়ার সুযোগ নেই সেখানে বাসার ময়লার ঝুড়িতে ফেলা যাবে। কিন্তু তা কমোডে না ফেলাই
উচিত।
আর যেসব পশম শরীরে থাকা অবস্থায় অন্যের জন্য দেখা নাজায়েয শরীর থেকে পৃথক হওয়ার পর বা কাটার পরও তা দেখা নাজায়েয। তাই এ ধরনের পশম পরিষ্কার করে টয়লেটের ভেতর ফেলে দেওয়া যাবে। আর অন্য কোথাও ফেলতে চাইলে আলাদা
কোনো কিছুতে ফেলা উচিত, যেন তা দেখা না যায়।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৬১৭১, ২৬১৭৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৯, ৫/৩৫৮; আলবাহরুর রায়েক
৮/২০৪;
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৬৯
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

খুতবা চলাবস্থায় খুতবা প্রদানকারী এবং শ্রোতাদের জন্য আমর বিল মারূফ...

প্রশ্ন
খুতবা চলাবস্থায় খুতবা প্রদানকারী এবং শ্রোতাদের জন্য আমর বিল মারূফ এবং নাহী আনিল মুনকারের হুকুম কী? এ সময় কি তাদের উপর এ হুকুম প্রযোজ্য নয়?
উত্তর
খুতবা চলা অবস্থায় উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য চুপ থেকে মনোযোগসহ খুতবা শোনা ওয়াজিব। এ সময় শ্রোতাদের জন্য দ্বীনী-দুনিয়াবী কোনো ধরনের কথা বলা নাজায়েয এবং কাউকে কথাবার্তা বলতে দেখলে তাকে মৌখিকভাবে বারণ করাও নিষেধ। মুসল্লিদের জন্য এ সময়ে শরীয়তের হুকুম হল, চুপ থাকা এবং মনোযোগসহ খুতবা
শোনা।
হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইমাম খুতবা দেওয়ার সময় তুমি যদি পাশের ব্যক্তিকে বল ‘চুপ থাক’ তবে তুমি তা একটি অনর্থক কাজ করলে।-সহীহ বুখারী, হাসীস
৯৩৪
সুতরাং খুতবা চলা অবস্থায় শ্রোতাদের জন্য মৌখিকভাবে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার কোনো সুযোগ
নেই।
অবশ্য ফিকহবিদগণ বলেন, প্রয়োজন হলে মুখে নিষেধ না করে হাত বা মাথার ইশারা- ইঙ্গিতে পাশের ব্যক্তিকে কথাবার্তা বলা বা অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা যাবে। দেখুন : হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫৯ কেননা ইশারা-ইঙ্গিতে নিষেধ করার বিষয়টি একাধিক সাহাবা-তাবেয়ীর আমল ও আসার দ্বারা প্রমাণিত আছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উমার রা., আবদুর রহমান ইবনে আবী লায়লা, যায়েদ বিন সূহান, সুফিয়ান সাওরী, আলকামা, ইবরাহীম নাখায়ী প্রমুখ। - মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫২৫৯-৫২৬৩ আর খুতবা প্রদানকারী খুতবার মাঝে প্রয়োজনে লোকদেরকে কোনো দরকারি কথা বা আদেশ-নিষেধ করতে পারবেন। এটি হাদীস-আসার দ্বারা প্রমাণিত আছে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৫২৫৫, ৫২৫৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৩৫
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: বিবিধ

যদি কোনো ব্যক্তি ফরয গোসলে নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ না...

প্রশ্ন
যদি কোনো ব্যক্তি ফরয গোসলে নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ না করিয়ে শুধু আঙ্গুল ভিজিয়ে নাকের ভিতরটা তিনবার ভিজিয়ে নেয় তাহলে তার গোসল হবে কি না? এবং নাকের ভিতরে পানি প্রবেশ করানো ও তা পরিষ্কার করার পদ্ধতি কি?
উত্তর
ফরয গোসলে নাকের নরম স্থান পর্যন্ত পানি পৌঁছানো ফরয। শুধু আঙ্গুল দ্বারা নাকের ভিতরটা ভিজিয়ে নেয়া যথেষ্ট নয়। এর দ্বারা নাকে পানি পৌঁছানোর ফরয আদায় হবে না। আর নাকে প্রথমে পানি পৌঁছাবে। এরপর বাম হাতের কনিষ্ঠা আঙ্গুল দ্বারা নাকের ভিতরটা পরিষ্কার করে নিবে যেন কোনো অংশ শুকনা না থেকে যায়। এভাবে তিনবার নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি প্রবেশ করাবে। -সুনানে আবু দাউদ ১/১৯; সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৩; আলবাহরুর রায়েক ১/২১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২২২, ২৭৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫১, ১১৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.