Login | Register

ফতোয়া: বিবাহ-তালাক

ফতোয়া নং: ৪৮৩৭
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: বিবাহ-তালাক

দুধ সম্পর্কীয় ভাইয়ের বোনকে বিবাহ করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব একটি প্রশ্নের উত্তর জানাবেন ৷ প্রশ্নটি হলো, ছোটকালে দীর্ঘদিন আমি ছোট খালার দুধ পান করেছি। এখন এই খালার ছেলে অর্থাৎ খালাত ভাই আমার আপন ছোট বোনকে বিয়ে করতে চায়। তার জন্য কি আমার ছোট বোনকে বিয়ে করা বৈধ হবে?
উত্তর
জ্বী হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উক্ত খালাত ভাইয়ের জন্য আপনার ছোট বোনকে বিবাহ করা জায়েয। কারন আপনি তার মায়ের দুধ পান করার কারণে আপনার বোনের সাথে তার দুধ সম্পর্ক হয়নি।
-আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৩ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩৩
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: বিবাহ-তালাক

বিয়ে শাদী কি তাকদীরের ফায়সালা?

প্রশ্ন
আমি জানতে চাই, মানুষের বিয়ে শাদী কি তাকদীরী বিষয়? কার বিবাহ কখন হবে,কোথায় হবে ,কার সঙ্গে হবে, এসব কি পুর্ব থেকে আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করে রেখেছেন ? যদি নির্ধারিত হয় , তাহলে আমাদের পাত্র পাত্রী যাচাই বাছাই করতে হবে কিনা?
উত্তর
জ্বী, মানুষের বিয়ে শাদী তাকদীরী বিষয় সবকিছু আল্লাহ তায়ালা নির্ধারন করে রেখেছেন ৷ মানুষের জীবনসঙ্গী কে হবে? তা আল্লাহ তাআলা জানেন। কেননা আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ
করেছেন,
ﻭَﺧَﻠَﻘْﻨَﺎﻛُﻢْ ﺃَﺯْﻭَﺍﺟًﺎ ‏[ ٧٨ : ٨
আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছি, {সূরা নাবা-৮}
কিন্তু বান্দা যেহেতু জানে না। তাই বান্দা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবাং যাচাই বাছাই করবে ভাল পাত্র-পাত্রী দেখে বিবাহ করতে।
উল্লেখ্য যে, এগুলো তাকদীরের বিষয় ৷ এসব বিষয়ে আলোচনা ও চিন্তা ফিকির করতে রাসূল সাঃ নিষেধ করেছেন। তাই আলোচনা ও চিন্তা ফিকির থেকে বিরত থাকা উচিত ৷
-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৮৪; মেরকাত শরহে মেশকাত ১/২৫৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৯
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: বিবাহ-তালাক

কুরআন মাজীদ হিফয করে ভুলে যাওয়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি একজন হাফেযা ৷ কুরআন মজীদ হিফয করেছিলাম ৷ বিয়ের পর সাংসারিক জীবনের ব্যস্ততা ও বিভিন্ন ঝামেলার কারণে কুরআন মজীদের তেলাওয়াত ও চর্চা কম হওয়ায় এখন হিফয প্রায় ভুলেই গেছি । এক পারাও মনে হয় ভালোভাবে শুনাতে পারব না। কুরআন হিফয করে ভুলে গেলে হাদীস শরীফে খুব ভয়াবহ শাস্তির কথা এসেছে। তাই আমি খুব চিন্তিত। এ বিষয়ের হাদীস ব্যাখ্যাসহ আমার করনীয় কি জানতে চাই ৷
উত্তর
কুরআন মাজীদ হিফয করে ভুলে যাওয়া প্রসঙ্গে হাদীসটি হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন মজীদ পড়ল অতঃপর তা ভুলে গেল। কিয়মতের দিন সে কুষ্ঠরোগী হয়ে আল্লাহ তাআলার সামনে দন্ডায়মান হবে।
সুনানে আবু দাউদ ১/২০৭৷
কোনো কোনো ব্যাখ্যাকার উক্ত হাদীসে ‘ভুলে যাওয়া’
শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, এই শাস্তি ঐ ব্যক্তির জন্য যে কুরআন মজীদ হিফয করার পর নিজ অবহেলা ও ভুলের কারণে দেখে দেখে তেলাওয়াত করার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছে। আর কোনো কোনো
মুহাক্কিক ব্যাখ্যাকার ‘ভুলে যাওয়া’-এর ব্যাখ্যা করেছেন মুখস্ত পড়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলা। অর্থাৎ যে কুরআন মজীদ মুখস্ত করার পর আর মুখস্ত রাখতে পারল না, মুখস্ত পড়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে তার ব্যাপারে উক্ত শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
অতএব এটি খুবই দুঃখজনক বিষয় যে, আল্লাহ তাআলাযকোনো বান্দাকে তাঁর পবিত্র কালাম কুরআন মজীদ হিফয করার মতো বিরাট নেয়ামত দান করলেন আর সে তার অবহেলা ও ত্রুটির দরুণ তা ভুলে গেলে। এটি তাঁর এই মহান নেআমতের প্রতি অকৃতজ্ঞতার পরিচয়। তাই এখন তার কর্তব্য হল, প্রতিদিন কিছু সময় হলেও নিয়মিত তেলাওয়াত করে যাওয়া এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে ইস্তিগফার করা।
সুনানে আবু দাউদ ১/২০৭, ১/৬৬; মিরকাতুল মাফাতীহ ৫/৯;বাযলুল মাজহুদ ৩/৩০২, মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত ২৩/২০১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৪১
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

দুধ মাতার ননদের সঙ্গে বিবাহ৷

প্রশ্ন
আমার ভাই এক মহিলার দুধপান করেছে। ঐ ভাইয়ের বিবাহের বয়স হয়েছে। ভাইয়ের দুধ মা নিজ ননদের সাথে (অর্থাৎ ভাইয়ের দুধ সম্পর্কীয় ফুফু) ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দুধ সম্পর্কীয় ফুফুর সাথে বিবাহ সহীহ হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
দুধ মাতার ননদের সাথে ঐ ছেলের বিবাহ বৈধ নয়। কেনন ঐ ননদ ছেলেটির দুধ সম্পর্কীয় ফুফু। আর রক্তের (বংশীয়) সম্পর্কের ফুফুর সাথে যেমনিভাবে বিবাহ হারাম তদ্রূপ দুধ সম্পর্কের ফুফুর সাথেও বিবাহ হারাম। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৯৩,
৯৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬০৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

বিয়ের প্রস্তাবের পর ভিন্ন মজলিসে সম্মতি দেওয়া৷

প্রশ্ন
কিছুদিন পূর্বে আমার বন্ধু শাকেরের বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। খাবারের পর বিবাহ পড়ানো হবে। তাই উভয় পক্ষের সকলেই উপস্থিত হল। মেয়ে পক্ষের ওকিল অর্থাৎ মেয়ের বাবা কাযী সাহেবকে বিবাহ পড়ানোর সম্পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। অতপর কাযী সাহেব কনের পক্ষ থেকে বরের (শাকের) নিকট প্রস্তাব রাখলেন, কিন্তু বর শাকের মহরের পরিমাণে নারাজ হয়ে কিছু না বলে চুপ করে থাকে। এরপর আমি এবং তার পিতা তাকে দূরে নিয়ে এসে বুঝালাম। এতে সে শান্ত হয় এবং কবুল করতে সম্মতি দেয়। অতপর আমরা এসে দেখি, কাযী সাহেব চলে গেছেন। আমরা মেয়ের পিতাকে বললে তিনি বলেন, আজকে নয়, বিয়ে পরে হবে। কিন্তু বর (শাকের) ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবার সামনে বলেছে, আমি কবুল করিলাম। আমি জানতে চাই, উল্লেখিত অবস্থায় শাকেরের বিবাহ সহীহ হয়েছে কি? যদি না হয়ে থাকে তাহলে সহীহভাবে বিবাহ হওয়ার পদ্ধতি কী? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী এ বিবাহ সহীহ হয়নি। কারণ বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য প্রস্তাব এবং গ্রহণ একই মজলিসে হওয়া জরুরি। এক পক্ষের প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ সম্মতিদানের পূর্বে মজলিস ছেড়ে চলে গেলে ঐ প্রস্তাব বাতিল বলে গণ্য হয়। তাই এরপর পূর্বোক্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে কবুল বললে তা গ্রহণযোগ্য হবে
না।
এখন যদি উভয় পক্ষ বিবাহ করতে সম্মত হয় তাহলে মোহর নির্ধারণ করে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে ইজাব- কবুল করে নিতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬০৭
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

দুধবোনের বোনকে বিবাহ করা৷

প্রশ্ন
নাঈম আমার খালাতো ভাই। আমার আম্মু অসুস্থ থাকার কারণে ছোটকালে দীর্ঘদিন আমি এই খালার দুধ পান করেছি। এখন নাঈম আমার আপন ছোট বোনকে বিয়ে করতে চায়। তার জন্য কি আমার ছোট বোনকে বিয়ে করা বৈধ
হবে?
উত্তর
হ্যাঁ, নাঈমের জন্য আপনার ছোট বোনকে বিবাহ করা জায়েয। কেননা আপনি নাঈমের মায়ের দুধ পান করার কারণে আপনার বোনের সাথে নাঈমের দুধ সম্পর্ক
হয়নি।
-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২২৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২১৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

নওশীনের মা ও মাহরোস আহসানের মা সহোদর বোন। নওশীনের বয়স...

প্রশ্ন
নওশীনের মা ও মাহরোস আহসানের মা সহোদর বোন। নওশীনের বয়স ৬মাস
কালে তার মা অসুস্থ হওয়াতে তার খালার
(মাহরোস আহসানের মায়ের) দুধ পান করে।
আমাদের জানামতে নওশীন ও মাহরোস
আহসানের মধ্যে বিবাহ বৈধ নয়।
জানার বিষয় হল , মাহরোস আহসানের সাথে
নওশীনের ছোট বোন নোভার বিবাহ
হতে পারবে কি না? নোভা তো মাহরোস
আহসানের মার দুধ পান করেনি।
মাহরোস আহসান ও নোভার মধ্যে বিয়ে
হওয়া জায়েয ও নাজায়েয নিয়ে মত পার্থক্য
দেখা দিয়েছে বিধায় বিষয়টি বিস্তারিতভাবে
দলীলাদি দিয়ে সমাধান দেওয়ার জন্য বিনীত
অনুরোধ করছি।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নোভা যেহেতু মাহরোস আহসানের মায়ের দুধ পান করেনি তাই
তারা একে অন্যের দুধ সম্পর্কের মাহরাম নয়।
বোন দুধ পান করার কারণে নোভার সাথে দুধ
সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টি হয়নি।
সুতরাং মাহরোস আহসানের সাথে নোভার বিবাহ জায়েয হবে। বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; আল মাবসূত ইমাম সারাখসী ৫/১৩৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

এক মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে সম্পর্ক ছিল। মা জানতে...

প্রশ্ন
এক মেয়ে ও এক ছেলের মাঝে সম্পর্ক ছিল। মা জানতে পেরে
মেয়েকে বিবাহ দিয়েছে। জানার
বিষয় হল,বাবা জীবিত থাকা
সত্ত্বেও বাবার অনুমতি ছাড়া এই
বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে কি না?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটি বিবাহের সময় সাবালিকা হয়ে থাকলে তার ঐ বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। কেননা সাবালিকা মেয়ের বিবাহ বাবার অনুমতি ছাড়াও হয়ে যায়। তবে বাবার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া অন্যায় হয়েছে। আর মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্কা না হলে বাবার সম্মতি ছাড়া বিবাহ সম্পন্ন হয় না। প্রকাশ থাকে যে, বেগানা নারী- পুরুষের পরস্পর সম্পর্ক সম্পূর্ণ অবৈধ ও গুনাহ। তাদের দেখা-সাক্ষাত ইত্যাদি সবই অবৈধ। বিবাহের উদ্দেশ্যেও কারো সাথে এমন সম্পর্ক গড়া বৈধ নয়। এটা দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য ক্ষতির কারণ আরো প্রকাশ থাকে যে, সাবালিকা মেয়ের বিবাহ পিতার অনুমতি ছাড়া যদিও সহীহ হয়ে যায় তবে তা সঠিক পদ্ধতি নয়। এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হল, অভিভাবকের অনুমতিক্রমেই বিবাহ করা এবং এব্যাপারে অভিভাবকের পরামর্শকে নিজের কল্যাণ মনে করে মেনে নেওয়া। আর অভিভাবকদেরও দায়িত্ব হল, মেয়ের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া এককভাবে নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিবাহ না দিয়ে দেওয়া বরং এ ব্যাপারে মেয়ের মতামতের মূল্যায়ন
করা।
আলবাহরুর রায়েক ৩/১০৯; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৩/১৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী
৪/৫৬
ফতোয়া নং: ৩৭০৩
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: বিবাহ-তালাক

আমি কি আমার পিতার আপন মামাতো বোনকে বিবাহ করতে পারব?...

প্রশ্ন
আমি কি আমার পিতার আপন মামাতো বোনকে বিবাহ করতে পারব? সে বয়সে আমার ছোট। মাসআলাটি জানালে আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ
থাকব।
উত্তর
হাঁ, পিতার মামাতো বোনকে বিবাহ করা জায়েয। কেননা পিতার মামাতো বোন মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নয়। -সূরা নিসা (৪) : ২৪; তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫; বাদায়েউস সানায়ে
২/৫৩১
ফতোয়া নং: ৩২৬০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: বিবাহ-তালাক

গত এক মাস আগে আমার এক আত্মীয়ের বিবাহ হয়। তারা...

প্রশ্ন
গত এক মাস আগে আমার এক আত্মীয়ের বিবাহ হয়। তারা ওলিমার আয়োজন করে এক কমিউনিটি সেন্টারে। তার বিবাহের দাওয়াত পেয়ে আমি ও আমার এক চাচাতো ভাই তাতে অংশগ্রহণ করি। যাওয়ার পর দেখি যে, সেখানে গান-বাজনাসহ আরো বিভিন্ন ধরনের গুনাহের কাজ চলছে। তখন আমরা দুজন সেন্টারের এক কোণায় বসে থাকি। পরে খানা খেয়ে ফিরে আসি। এখন জানার বিষয় হল, শরীয়তে ওলিমার দাওয়াত কবুল করার হুকুম কী? উল্লেখিত পরিস্থিতিতে দাওয়াত কবুল করা সম্পর্কে শরীয়ত কী
বলে?
উত্তর
সাধারণ অবস্থায় ওলিমার দাওয়াত গ্রহণ করা সুন্নত। হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ নিজের ভাইকে দাওয়াত দিলে সে যেন তা কবুল করে। ওলিমার দাওয়াত হোক বা অন্য কোনো দাওয়াত। -সহীহ মুসলিম,হাদীস ১৪২৯ তবে আজকাল অধিকাংশ বিয়ের অনুষ্ঠানগুলোতে গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা ও বেপর্দা ব্যাপক। তাই এ ধরনের দাওয়াতে অংশগ্রহণ না করাই কর্তব্য। তবে দাওয়াতকারী যদি এমন নিকটাত্মীয় হয় যে, তার দাওয়াতে অংশগ্রহণ না করলে সে অধিক মনক্ষুণœ হবে বা আত্মীয়তা সম্পর্ক নষ্ট হবে সেক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীর জন্য যদি গুনাহের কাজ থেকে প্রতিবাদ করা সম্ভব হয় তাহলে প্রতিবাদের উদ্দেশ্যে তাতে অংশগ্রহণ করা যাবে। কিন্তু প্রতিবাদ করা সম্ভব না হলে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। এক্ষেত্রে নিজ থেকে আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করবে। -হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৮/৪৪৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৪৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া
৫/৩৪৩
ফতোয়া নং: ৩২১০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: বিবাহ-তালাক

আমার খালাতো বোনের সাথে আমার বিয়ের কথাবার্তা বিগত এক বছর...

প্রশ্ন
আমার খালাতো বোনের সাথে আমার বিয়ের কথাবার্তা বিগত এক বছর যাবৎ চলছে। এখন আমার মা বলছেন, আমি তাকে দুধ পান করিয়েছি। এ ব্যাপারে কোনো পুরুষ সাক্ষী নেই। সুতরাং আমি জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার জন্য এই বিয়ে বৈধ হবে কি না? কুরআন- সুন্নাহর আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দুধ পান করার ব্যাপারে কোনো পুরুষ সাক্ষী না থাকলেও আপনার মা যেহেতু ঐ মেয়েকে দুধ পান করানোর কথা বলেছেন এবং এখনো মেয়েটির সাথে আপনার বিবাহ হয়নি তাই সতর্কতামূলক ঐ মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হওয়াই আপনার কর্তব্য। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৬৪৪; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ১/৩৪; মিনহাতুল খালেক আলাল বাহরির রায়েক ৩/২৩২; মাবসূত,
ফতোয়া নং: ২৮৩৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: বিবাহ-তালাক

কারীমার ৫ ছেলে। ফাতেমার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে। ফাতেমার...

প্রশ্ন
কারীমার ৫ ছেলে। ফাতেমার ২ মেয়ে ও ১ ছেলে। ফাতেমার বড় মেয়ে বুশরা
কারীমার দুধ পান করেছে। এখন জানার বিষয় হল, কারীমার বড় ছেলের সাথে বুশরার বিবাহ শুদ্ধ হবে কি না? আর ফাতেমার ছোট মেয়ে শরীফার সাথে কারীমার কোনো ছেলের বিবাহ বৈধ হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ফাতেমার পরিবারের বড়
মেয়ে বুশরা যেহেতু কারীমার দুধ পান করেছে তাই কারীমা তার দুধ মা হয়ে গেছে। তার সকল ছেলে বুশরার দুধ ভাই ও মাহরাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ
করেছেন-
‎ﺣُﺮِّﻣَﺖْ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃُﻣَّﻬَﺎﺗُﻜُﻢْ ... ﻭَﺃَﺧَﻮَﺍﺗُﻜُﻢْ ﻣِﻦَ
‎ﺍﻟﺮَّﺿَﺎﻋَﺔِ (তরজমা) তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা ... তোমাদের দুধ বোন। -সূরা নিসা ৪ : ২৩ উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, দুধ পানের দ্বারা ঐ সব সম্পর্ক হারাম হয়ে যায়,যা বংশের কারণে হারাম হয়। -সহীহ মুসলিম
১/৪৬৬
সুতরাং ফাতেমার বড় মেয়ের সাথে কারীমার কোনো ছেলের বিবাহ জায়েয হবে
না।
তবে ফাতেমার ছোট মেয়ে শরীফা যেহেতু কারীমার দুধ পান করেনি তাই কারীমার ছেলেরা তার মাহরাম নয়। তাই কারীমার যে কোনো ছেলের সাথে তার বিবাহ বৈধ। -সূরা নিসা ৪ : ২৩;তাফসীরে কুরতুবী ৫/৭৪;তাফসীরে রাযী ১০/৩০;সহীহ মুসলিম ১/৪৬৬;মুসনাদে আহমদ,হাদীস : ২৪১২;ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
৪/৩৬৫;
ফতোয়া নং: ২৫৫৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: বিবাহ-তালাক

বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন মহর কত? আর মহরে ফাতেমী...

প্রশ্ন
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন মহর কত? আর মহরে ফাতেমী কত? এক দিরহামের পরিমাণসহ জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
বিবাহের সর্বনিম্ন মহর দশ দিরহাম। অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা বা ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা। আর মহরে ফাতেমী হল ৫০০ দিরহাম। অর্থাৎ ১৩১.২৫ তোলা বা ১.৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হল ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১২০০/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ৩,১৫০/- টাকা। আর মহরে ফাতেমীর মূল্য হয় ১,৫৭,৫০০/-
টাকা।
-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৪/৩৯৮
ফতোয়া নং: ২৫৩৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: বিবাহ-তালাক

কিছুদিন পূর্বে আমার বন্ধু শাকেরের বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। খাবারের...

প্রশ্ন
কিছুদিন পূর্বে আমার বন্ধু শাকেরের বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। খাবারের পর বিবাহ পড়ানো হবে। তাই উভয় পক্ষের সকলেই উপস্থিত হল। মেয়ে পক্ষের ওকিল অর্থাৎ
মেয়ের
বাবা কাযী সাহেবকে বিবাহ পড়ানোর সম্পূর্ণ অধিকার দিয়েছে। অতপর কাযী সাহেব কনের পক্ষ থেকে বরের (শাকের) নিকট প্রস্তাব রাখলেন, কিন্তু বর শাকের মহরের পরিমাণে নারাজ হয়ে কিছু না বলে চুপ করে থাকে। এরপর আমি এবং তার পিতা তাকে দূরে নিয়ে এসে বুঝালাম। এতে সে শান্ত হয় এবং কবুল করতে সম্মতি দেয়। অতপর আমরা এসে দেখি, কাযী সাহেব চলে গেছেন। আমরা মেয়ের পিতাকে বললে তিনি বলেন, আজকে নয়, বিয়ে পরে হবে। কিন্তু বর (শাকের) ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবার সামনে বলেছে, আমি কবুল করিলাম। আমি জানতে চাই, উল্লেখিত অবস্থায় শাকেরের বিবাহ সহীহ হয়েছে কি? যদি না হয়ে থাকে তাহলে সহীহভাবে বিবাহ হওয়ার পদ্ধতি কী? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী এ বিবাহ সহীহ হয়নি। কারণ বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য প্রস্তাব এবং গ্রহণ একই মজলিসে হওয়া জরুরি। এক পক্ষের প্রস্তাবের পর অপর পক্ষ সম্মতিদানের পূর্বে মজলিস ছেড়ে চলে গেলে ঐ প্রস্তাব বাতিল বলে গণ্য হয়। তাই এরপর পূর্বোক্ত প্রস্তাবের ভিত্তিতে কবুল বললে তা গ্রহণযোগ্য
হবে না।
এখন যদি উভয় পক্ষ বিবাহ করতে সম্মত হয় তাহলে মোহর নির্ধারণ করে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে ইজাব- কবুল করে নিতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৯
ফতোয়া নং: ২০১৪
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: বিবাহ-তালাক

এক ছেলে এবং এক মেয়ে কাজি অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর...

প্রশ্ন
এক ছেলে এবং এক মেয়ে কাজি অফিসে গিয়ে কাবিননামায় স্বাক্ষর করে বিবাহ করে নেয়। কিন্তু তারা মৌখিক ইজাব-কবুল করেনি। এ সময় তাদের সাথে তাদের চারজন বন্ধু-বান্ধবও ছিল। তিন মাস পর পারিবারিকভাবে তাদের বিবাহের অনুষ্ঠান হয়। তাদের এক আত্মীয় বললেন, এদের বিয়ে তো সহীহ হয়নি। নতুন করে কাজি ডেকে বিয়ে পড়াতে হবে। আর এখনই বিয়ে করানো যাবে না। বরং কয়েকমাস পরস্পর পৃথক থাকবে এরপর ঐ মেয়ের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর বিবাহ হবে। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কি? আর পূর্বের বিয়ে সহীহ না হওয়ার
কারণ কী?
উত্তর
তাদের ঐ বিবাহ সহীহ হয়নি। বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য দুজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ কিংবা একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সামনে মৌখিকভাবে ইজাব-কবুল করা শর্ত। মৌখিকভাবে ইজাব-কবুল না করে শুধু লিখিতভাবে ইজাব-কবুল করলে বিবাহ সংঘটিত হয় না। তাই শুধু কাবিন নামায় স্বাক্ষরের দ্বারা তাদের ঐ বিবাহ সহীহ হয়নি। এতদিন তাদের একত্রে থাকা অবৈধ
হয়েছে।
এখন যদি তারা পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চায় তাহলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে মৌখিক ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ করতে হবে। এক্ষেত্রে তাদের মাঝে বিবাহের জন্য ইদ্দত পালন করা লাগবে না। বরং যে কোনো মুহূর্তে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। -দুরারুল হুককাম ফী শরহি গুরারিল আহকাম ১/৩২৭; আদ্দুররুল মুখতার ৩/১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭০, ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ৩/১০৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪৮৫


Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.