Login | Register

ফতোয়া: কুরবানী

ফতোয়া নং: ৪৫৬৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কান বা লেজ কাটা পশু দিয়ে কুরবানি৷

প্রশ্ন
কুরবানীর পশুর কান বা লেজ কী পরিমাণ না থাকলে বা কাটা থাকলে এর দ্বারা কুরবানী সহীহ হয় না?
উত্তর
কুরবানীর পশুর কান বা লেজ অর্ধেক বা এরচেয়ে বেশি না থাকলে এর দ্বারা কুরবানী করা সহীহ নয়। যদি অর্ধেকের চেয়ে বেশি অংশ থাকে তাহলে এর দ্বারা কুরবানী করা সহীহ
হবে।
-শরহু মাআনিল আছার ২/২৭১; কিতাবুল আসল ২/৪৯৪; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৭/৩৫৫; ইলাউস সুনান ১৭/২৪০৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫৬৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

অন্ধ বা এক চোখ নষ্ট পশু দ্বারা কোরবানি৷

প্রশ্ন
বরাবর, মাননী মুফতী সাহেব৷ আমাদের ঘরে পালিত একটি গরু আছে৷ আমরা চেয়ছিলাম এ বছর গরুটি কুরবানি দিতে৷ কিন্তু গরুটির একটি চোখ নষ্ট৷ তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাই, এই গরুটি দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হবে কিনা?
উত্তর
যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট সে পশু কুরবানী করা
জায়েয নয়। অতএব প্রশ্নে বর্নিত গরুটি দিয়ে
আপনার কুরবানি শুদ্ধ হবে না৷ -জামে তিরমিযী ১/২৭৫, কাযীখান ৩/৩৫২, আলমগীরী ২৯৭, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

ভাঙ্গা শিং বিশিষ্ট পশু দিয়ে কুরবানি৷

প্রশ্ন
আমি এ বছর কুরবানির জন্য যে গরুটি কিনেছি তার শিং বড়৷ হাট থেকে কিনে আনার সময় এক গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে একটি শিংয়ের অর্ধেক ভেঙ্গে গেছে৷ মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হলো, উক্ত গরু দিয়ে কুরবানি শুদ্ধ হবে কিনা?
উত্তর
যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে পশুর কুরবানী জায়েয নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে গেছে বা শিং একেবারে উঠেইনি সে পশু কুরবানী করা জায়েয।
অতএব প্রশ্নে বর্নিত গরু দিয়ে কুরবানি জায়েয হবে৷
জামে তিরমিযী ১/২৭৬, সুনানে আবু দাউদ ৩৮৮, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪, আলমগীরী ৫/২৯৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

শরিকে কুরবানীতে এক অংশ নিয়ে টাকা কম দেয়া ও নেয়া৷

প্রশ্ন
আমরা সহোদর তিনভাই মিলে প্রতি বছর একটি গরু কুরবানী করি। বড় ভাই এক ভাগ আর আমরা দুই ভাই তিন অংশ করে মোট ছয় ভাগ নিয়েছি। আমরা দুই ভাই সমান সমান টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ করি। কিন্তু বড়ভাই আমাদের মধ্যে তুলনামূলক অসচ্ছল হওয়ায় তিনি তার অংশের পুরো টাকা দেন না। আমরা দুই ভাই বলেছি, আপনি যা পারেন দেন, বাকিটা আমরা দুজনে দিয়ে দিব। অবশ্য গোশত সকলের অংশ হারেই বণ্টন করা হয়। টাকা কম- বেশির কারণে তাতে ব্যবধান করা হয় না; বরং ধরে নেওয়া হয় যে, আমরা ছোট দুই ভাই বড় ভাইয়ের টাকার আংশিক আদায় করে দিই। জানতে চাই, উল্লেখিত পদ্ধতিতে আমাদের কুরবানী কি সহীহ হচ্ছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের কুরবানী সহীহ হয়েছে। গরু-মহিষে শরিকে কুরবানী দেওয়ার জন্য শর্ত হল, কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম না হওয়া। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বড় ভাই যদিও তার অংশের চেয়ে কম দিচ্ছেন কিন্তু অন্য দুই ভাই তার অংশের বাকিটা দিয়ে দিবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই বড় ভাইয়ের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হয় না। -ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬৩
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানী কার উপর ওয়াজিব৷

প্রশ্ন
কুরবানী কার উপর ওয়াজিব হয়? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন প্রত্যেক
মুসলমান নর-নারী মুকীম ব্যক্তি, যে ১০ যিলহজ্ব সুবহে সাদিক থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। নেসাব হল : স্বর্ণের ক্ষেত্রে সাড়ে সাত (৭.৫) ভরি। আর রুপার ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন (৫২.৫) ভরি। আর
অন্যান্য বস্ত্তর ক্ষেত্রে সাড়ে বায়ান্ন
ভরি রুপার সমমূল্যের সম্পদ। স্বর্ণ বা রুপার
কোনো একটি যদি পৃথকভাবে নেসাব পরিমাণ না হয় তবে স্বর্ণ-রুপা উভয়টি মিলে কিংবা এর সাথে প্রয়োজন- অতিরিক্ত অন্য বস্ত্তর মূল্য মিলে সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপার সমমূল্যের হয়ে যায় সেক্ষেত্রেও কুরবানী ওয়াজিব হবে। স্বর্ণ-রুপার অলঙ্কার, নগদ অর্থ, যে জমি বাৎসরিক খোরাকীর জন্য প্রয়োজন হয় না এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত আসবাবপত্র-এ সবই কুরবানীর নেসাবের ক্ষেত্রে হিসাবযোগ্য। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৬,আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
১৭/৪০৫৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পত্বি থাকলে কুরবানি ওয়াজিব হবে কিনা?

প্রশ্ন
খালিদ বিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে, যার দ্বারা তার সংসার চলে। গত কয়েকদিন পূর্বে তার আম্মা ইন্তেকাল করেন। পিতা আগেই মারা গেছেন। মায়ের মৃত্যুর পর তার মামারা তার আম্মার পৈত্রিক সম্পত্তি (৬ শতাংশ জমি, যার প্রতি শতাংশের মূল্য প্রায় এক লক্ষ টাকা) তার ও তার তিন বোনের নামে ১.৫ শতাংশ করে সমানভাবে রেজিস্ট্রি করে দিয়েছে। এছাড়া খালিদের উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। বর্তমানে তার কাছে ত্রিশ হাজার টাকা নগদ জমা আছে৷ জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় খালিদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না?
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী খালিদ মীরাস সূত্রে ১.৫ শতাংশ জমির মালিক হয়েছে তা যেহেতু তার প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ এবং তার মূল্যও নেসাব পরিমাণের বেশি (অর্থাৎ প্রায় এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা) তাই তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯ প্রকাশ থাকে যে, মায়ের সম্পত্তি তার ছেলেমেয়ের মাঝে সমানহারে বণ্টন করা বৈধ হয়নি। কুরআন মজীদের হুকুম হল, মেয়ের তুলনায় ছেলে দ্বিগুণ মীরাসের
হকদার।
-সূরা নিসা ৪ : ১১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬১
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর গরুর বিশেষ দাত না উঠলে কুবরানী৷

প্রশ্ন
কুরবানীর গরু কিনতে গেলে দেখা যায়, লোকেরা গরুর দাঁত দেখে। যদি বিশেষ দুটি দাঁত উঠে তাহলে পছন্দ হলে কেনে, অন্যথায় ঐ গরু কেনে না। তারা মনে করে, বিশেষ দুই দাঁত না উঠলে সেই গরু দিয়ে কুরবানী করা যায় না। এখন আমার জানার বিষয় হল, গরু কুরবানীর উপযুক্ত হওয়ার জন্য দুটি দাঁত উঠা কি জরুরি? আর যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায়, কোনো একটি গরুর দুই বছর হয়েছে, কিন্তু এখনও বিশেষ দুটি দাঁত উঠেনি তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করলে সহীহ হবে কি না?
উত্তর
গরু কুরবানীর উপযুক্ত হওয়ার জন্য দুই বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি। বিশেষ দাঁত উঠা জরুরি নয়। তবে যেহেতু বিশেষ দুটি দাঁত দুই বছর বয়স পূর্ণ হলেই উঠে থাকে তাই সাধারণত দুই দাঁত উঠাকে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আলামত মনে করা হয়। এ কারণেই মানুষ কুরবানীর পশু কিনতে গেলে তা পরীক্ষা করে। এতে আপত্তির কিছু নেই। তবে যদি কোনো গরুর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, দুই বছর পূর্ণ হলেও এখনও বিশেষ দুটি দাঁত উঠেনি তাহলে সেই গরু দ্বারা কুরবানী সহীহ হবে। -সহীহ মুসলিম ২/১৫৫; বাযলুল মাজহূদ ১৩/১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৬১১-১৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৬০
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর জন্য ক্রয়কৃত পশুর বাচ্চা হলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আমি কুরবানীর ঈদের তিন মাস আগে কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি গাভী ক্রয় করেছি। কুরবানীর আগে সেই গাভীটির একটি বাচ্চা হয়েছে। জানার বিষয় হল, এ বাচ্চাটির ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম
কী?
উত্তর
উক্ত বাচ্চাটি সদকা করে দিতে হবে। অবশ্য জবাই না করে জীবিত সদকা করে দেওয়া উত্তম। আর যদি জবাই করে দেয় তবে তার গোশত সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব হবে। -আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩২২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে পরবর্তিতে শরীক করা৷

প্রশ্ন
প্রতি বছর আমরা নির্দিষ্ট পাঁচ শরিক মিলে কুরবানী করি। এ বছরও কুরবানীর এক সপ্তাহ আগে ৫জন মিলে একটি গরু ক্রয় করি। কুরবানীর আগের দিন আমাদের এক প্রতিবেশী তাতে শরিক হতে চাইলে আমরা তাকে শরিক করে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে শরিক করার কারণে আমাদের কুরবানী আদায়ে কোনো ত্রুটি হয়েছে কি না? জানালে উপকৃত হব। উল্লেখ্য, কুরবানী দাতা প্রত্যেক শরিকই সচ্ছল এবং নেসাব পরিমাণ মালের মালিক।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সকলের কুরবানী সহীহ হয়েছে। তবে পাঁচ জনে মিলে কুরবানী দেওয়ার নিয়তে পশু ক্রয়ের পর নতুন করে শরিক নেওয়া অনুত্তম হয়েছে। এক্ষেত্রে ঐ শরিক থেকে প্রাপ্য টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম। অবশ্য সদকা না করলেও কোনো সমস্যা নেই। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৭; মাবসূত, সারাখসী ১২/১৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর পশুতে আকীকা৷

প্রশ্ন
আমি এ বছর একা একটি গরু কিনে আমার এক নাম আমার স্ত্রীর এক নাম ও এক ছেলের এক নাম কুরবানীর জন্য দিয়ে, এক ছেলের আকীকার দুই নাম দিতে চাই৷ জানার বিষয় হলো, কুরবানীর পশু অংশ দিয়ে আকীকা করা যাবে কিনা? এবং তার গোস্তের বিধান কি?
উত্তর
কুরবানীর গরু, মহিষ ও উটের অংশ দিয়ে আকীকা করা যাবে৷ এতে কুরবানী ও আকীকা দুটোই সহীহ হবে। এবং কুরবানী ও আকীকার গোস্তের একই বিধান৷ -তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/১৬৬, রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

ছয়জন মিলে মৃত বাবার পক্ষ থেকে এক ভাগ দিয়ে কুরবানী৷

প্রশ্ন
প্রতি বছর আমরা ছয় ভাই একটি গরু কুরবানী করি। একটি গরুতে যেহেতু সাতজন শরিক হতে পারে তাই এবার আমরা পশুর ৭ম ভাগটি ইছালে ছওয়াবের উদ্দেশে মৃত পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী দিতে চাচ্ছি। এভাবে মৃত পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে কি এবং ঐ অংশের গোশত কি আমরা খেতে পারব?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ৬ জন মিলে ৭ম অংশ পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তা সহীহ হবে এবং আপনারা ঐ অংশের গোশত খেতে পারবেন। তবে এটি উত্তম পদ্ধতি নয়। এক্ষেত্রে উত্তম হল, সবাই মিলে এক অংশের টাকা এক ভাইকে মালিক বানিয়ে দিবে। আর ঐ ভাই পিতার পক্ষ থেকে কুরবানী করবে। এতে কাজটি নিয়মসম্মত হবে এবং সকলে সওয়াবও পেয়ে যাবে। আর এ অবস্থায়ও মৃত পিতার পক্ষ থেকে দেওয়া অংশের গোশত কুরবানীদাতার হবে। সে তা নিজেও খেতে পারবে, সদকাও করবে পারবে এবং অন্য শরিককে হাদিয়াও দিতে পারবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ১৮৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৭৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তারসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্বেও ক্রয় না করা বা পশু ক্রয় করে 12 যিলহজ্বের ভিতরে জবাই না করলে৷

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি কুরবানীর পশু ক্রয়ের পর ১২ যিলহজ্বের মধ্যে তা কুরবানী করতে পারেনি। এখন তার কী করণীয়? আর কেউ যদি পশু ক্রয়ই না করে এবং কুরবানীর সময় শেষ হয়ে যায় তখন তার কী করণীয়?
উত্তর
কুরবানীর পশু ক্রয়ের পর ১২ যিলহজ্বের মধ্যে কুরবানী করতে না পারলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে। আর কোনো
ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও
যদি সে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে এবং কুরবানীও না করে থাকে তাহলে এভাবে কুরবানীর সময় শেষ হয়ে গেলে তার উপর কুরবানীর যোগ্য একটি ছাগলের মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব। আর উভয় ব্যক্তি যথাসময়ে কুরবানী না করার কারণে তাওবা- ইস্তিগফার করবে।
-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪২৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১; তুহফাতুল ফুকাহা ৩/৮৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫৫৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

শরীকে কুরবানীতে এক অংশ নিয়ে এক সপ্তমাংশের কম টাকা দেওয়া ও অন্য শরীক বাকি টাকা আদায় করে দেওয়া ৷

প্রশ্ন
আমরা সহোদর তিনভাই মিলে প্রতি বছর একটি গরু কুরবানী করি। বড় ভাই এক ভাগ আর আমরা দুই ভাই তিন অংশ করে মোট ছয় ভাগ নিয়েছি।
আমরা দুই ভাই সমান সমান টাকা দিয়ে অংশগ্রহণ
করি। কিন্তু বড়ভাই আমাদের মধ্যে তুলনামূলক
অসচ্ছল হওয়ায় তিনি তার অংশের পুরো টাকা দেন না। আমরা দুই ভাই বলেছি, আপনি যা পারেন দেন, বাকিটা আমরা দুজনে দিয়ে দিব। অবশ্য গোশত সকলের অংশ হারেই বণ্টন করা হয়। টাকা কম-বেশির কারণে তাতে ব্যবধান করা হয় না; বরং ধরে নেওয়া হয় যে, আমরা ছোট দুই ভাই বড় ভাইয়ের টাকার আংশিক আদায় করে দিই। জানতে চাই, উল্লেখিত পদ্ধতিতে আমাদের কুরবানী কি সহীহ হচ্ছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের কুরবানী সহীহ হয়েছে। গরু-মহিষে শরিকে কুরবানী দেওয়ার জন্য শর্ত হল, কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম না হওয়া। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বড় ভাই যদিও তার অংশের চেয়ে কম
দিচ্ছেন কিন্তু অন্য দুই ভাই তার অংশের বাকিটা
দিয়ে দিবেন বলে উল্লেখ করেছেন। তাই বড় ভাইয়ের অংশ এক সপ্তমাংশের কম হয় না।
-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৫; আলমুহীতুল বুরহানী
৮/৪৭৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৫৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

পরিবারের সকলের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী৷

প্রশ্ন
আমাদের পরিবারে আম্মু এবং আমরা তিন ভাই আছি। পিতার মৃত্যুর পর সম্পদ বণ্টন করা হয়নি। ছোট ভাইদের লেখাপড়ার খরচসহ সংসারের সকল আয়-ব্যয় অভিন্ন। এমন অবস্থায় আমাদের সকলের পক্ষ থেকে কি একটি ছাগল কুরবানী যথেষ্ট হবে নাকি প্রত্যেকের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব?
উত্তর
একটি ছাগল দ্বারা এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে কুরবানী করা যায়। একাধিক ব্যক্তি বা পরিবারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী দিলে তা যথেষ্ট হবে না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যৌথ সম্পত্তি যদি এ পরিমাণ হয় যে, বণ্টন করলে প্রত্যেক সদস্য প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে প্রত্যেকের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। অবশ্য আপনাদের কেউ নেসাব থেকে কম সম্পদের মালিক হলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না। তদ্রূপ কেউ অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে তার উপরও কুরবানী ওয়াজিব নয়। -মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ৭৬৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৪২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৭৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর পশু নর হওয়া উত্তম নাকি মাদি হওয়া উত্তম?

প্রশ্ন
কুরবানীর পশু নর হওয়া উত্তম নাকি মাদি হওয়া উত্তম?
উত্তর
‎ﺑﺴﻢ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺮﺣﻴﻢ নর ও মাদী জানোয়ারের মাঝে যদি উভয়টির দাম একই হয়,তাহলে এক্ষেত্রে নর প্রাণীর চেয়ে মাদী জানোয়ার কুরবানী দেয়া উত্তম।
‎ﻭَﺍﻟْﺄُﻧْﺜَﻰ ﻣِﻦْ ﺍﻟْﺈِﺑِﻞِ ﻭَﺍﻟْﺒَﻘَﺮِ ﺃَﻓْﻀَﻞُ ﺣَﺎﻭِﻱٌّ . ﻭَﻓِﻲ
‎ﺍﻟْﻮَﻫْﺒَﺎﻧِﻴَّﺔِ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺄُﻧْﺜَﻰ ﺃَﻓْﻀَﻞُ ﻣِﻦْ ﺍﻟﺬَّﻛَﺮِ ﺇﺫَﺍ ﺍﺳْﺘَﻮَﻳَﺎ
‎ﻗِﻴﻤَﺔً، ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪُ ﺃَﻋْﻠَﻢُ . ‏( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ
‎ﺍﻻﺿﺤﻴﺔ - 9/467 ، ﻗﺎﺿﻲ ﺧﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ - 3/349 ، ‎ﺍﻟﻔﺘﺎﻭﻯ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﺿﺤﻴﺔ، ﺍﻟﺒﺎﺏ ‎ﺍﻟﺨﺎﻣﺲ - 5/299 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর দিন পশু জবাই করার আগ পর্যন্ত রোজা রাখা৷

প্রশ্ন
একজন মহিলাকে বলতে শুনেছি , কুরবানীর দিন পশু জবাই করার আগ পর্যন্ত রোযা রাখতে হয়। শরীয়তে এরূপ কিছু আছে কি না?
উত্তর
কুরবানী দিনের অংশ বিশেষে রোযা রাখতে হবে এ কথা ঠিক নয়। ঈদের দিনে রোযা রাখার বিধান নেই। তবে এক্ষেত্রে মাসআলা হল, কুরবানীর দিন কুরবানীর গোশত দিয়ে
খাবার শুরু করা মুস্তাহাব। তাই এর আগ পর্যন্ত
যথাসম্ভব খানাপিনা থেকে বিরত থাকা উত্তম।
হযরত বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , ঈদুল
আযহার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
কুরবানীর গোশত খাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য কিছু খেতেন না।
মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১১২৭; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩২৪; আলবাহরুর রায়েক
২/১৬৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন৷
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪৭
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর পশু ক্রয় করে জবাই করার আগেই মালিক মারা গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আমার পিতা একজন মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। তার কুরবানী করার সামার্থ্য ছিলো। গত ঈদে তিনি কুরবানীর জন্য একটি গরুও কিনেছিলেন। কিন্তু সেটি কুরবানী করার সুযোগ তার আর হয়নি। ঈদের নামায পড়ে আসার পথে সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল হয়। তার মৃত্যুতে পরিবারের সকলে শোকাহত ছিল। তাই কুরবানীর তিনদিনের ভেতর গরুটি আর কুরবানী করা হয়নি। এখন আমরা ঐ গরুটি কী করব? সেটি কি সদকা করে দিতে হবে? অথবা আগামী কুরবানীর ঈদে যবেহ করার জন্য রেখে দিতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার পিতা যেহেতু
কুরবানীর সময় (১২ যিলহজ্ব) শেষ হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করেছেন, তাই এ বছরের কুরবানী তার উপর ওয়াজিব থাকেনি। সুতরাং তার ক্রয়কৃত ঐ পশুটিরও কুরবানী করা বা সদকা করা লাগবে না। বরং এই পশু এখন তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি হিসাবে ধর্তব্য হবে। ওয়ারিশরা চাইলে সেটা বিক্রি করে দিয়ে এর মূল্য সকলের অংশ অনুযায়ী ভাগ করে নিতে পারেন। আবার
চাইলে যবেহ করে এর গোশতও বণ্টন করে নিতে পারেন আর যদি সকল ওয়ারিশ বালেগ হয় এবং তারা একমত হয় তাহলে তারা গরুটি বা এর মূল্য সদকাও করে দিতে পারবে।
-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৪; আদ দুররুল মুখতার
৬/৩১৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

সফর অবস্থায় কুরবানী৷

প্রশ্ন
জনাব, আমি কুরবানির সময় সফরে ছিলাম। সে সময় আমার নির্দেশেই বাড়িতে কুরবানি করা হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিনে আমি সফর থেকে ফিরে আসি। স্থানীয় এক আলেমের কাছে শুনলাম, সফর অবস্থায় কুরবানি ওয়াজিব নয়, কিন্তু কুরবানির সময়ের ভিতরে মুকীম হলে (আর্থিক সঙ্গতি থাকলে) কুরবানি ওয়াজিব হয়। জানতে চাই, সফরে থাকা অবস্থায় যে কুরবানী দেওয়া হয়েছে তা ধারা আমার ওয়াজিব কুরবানি আদায় হয়েছে কি
না?
উত্তর
হাঁ, সফরে থাকা অবস্থায় যে কুরবানি করা হয়েছে তা দ্বারা আপনার ওয়াজিব কুরবানি আদায় হয়ে গেছে। তাই পুনরায় কুরবানি করা জরুরি নয়। আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১২, ৩১৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৯২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

হাবীবা জান্নাত বুশরা হজ্বের সফরে আমি একটি সমস্যায় পড়ে থাকি।...

প্রশ্ন
হাবীবা জান্নাত বুশরা হজ্বের সফরে আমি একটি সমস্যায় পড়ে
থাকি। তা হল , হজ্বের সময় কখনও কখনও
ঋতুস্রাব এসে যায়। এ নিয়ে খুব পেরেশান
হয়ে যাই। মুফতী ছাহেবের নিকট আমার
জিজ্ঞাসা হল , হজ্বের সময় যদি আমার স্রাব
এসে যায় তাহলে হজ্বের আমলগুলো
আদায়ের ক্ষেত্রে আমার কী হুকুম
হবে। কোনটি স্রাব অবস্থায় আদায় করা
যাবে আর কোনটি আদায় করা যাবে না।
সুস্পষ্টভাবে জানালে আমি
পেরেশানীমুক্ত হব। আল্লাহ আপনাদের
খেদমতকে কবুল করুন।
উত্তর
স্রাব অবস্থায় কেবল বাইতুল্লাহর তাওয়াফ এবং
মসজিদে হারামে প্রবেশ করা নিষেধ।
বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্ব ও উমরার ইহরাম
করা থেকে নিয়ে হালাল হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য
সকল আমল আপনি স্রাব অবস্থায় আদায় করতে
পারবেন। যেমন, মিনায় থাকা,মুযদালিফা ও আরাফার
উকুফ, মিনার পাথর নিক্ষেপ, কুরবানী ইত্যাদি কাজ
এ সময়েও আঞ্জাম দেওয়া যাবে। এমনকি উমরার তাওয়াফের পর স্রাব আসলে এ অবস্থায় সায়ীও করতে পারবেন। আর স্রাবের দরুন তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করতে বিলম্ব হয়ে গেলেও কোনো জরিমানা দম আসবে না। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৩০৫; রদ্দুল মুহতার
২/৫১৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

একজন মহিলাকে বলতে শুনেছি , কুরবানীর দিন পশু জবাই করার...

প্রশ্ন
একজন মহিলাকে বলতে শুনেছি , কুরবানীর দিন পশু জবাই করার আগ
পর্যন্ত রোযা রাখতে হয়। শরীয়তে এরূপ
কিছু আছে কি না ?
উত্তর
কুরবানী দিনের অংশ বিশেষে রোযা রাখতে হবে এ কথা ঠিক নয়। ঈদের দিনে রোযা রাখার বিধান নেই। তবে এক্ষেত্রে মাসআলা হল , কুরবানীর দিন কুরবানীর গোশত দিয়ে খাবার শুরু করা মুস্তাহাব। তাই এর আগ পর্যন্ত যথাসম্ভব খানাপিনা থেকে বিরত থাকা উত্তম। হযরত বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , ঈদুল আযহার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর গোশত খাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য কিছু খেতেন না। সুনানে দারাকুতনী ২/৪৫; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১১২৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২২৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৫
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

গরু-ছাগলের যদি অধিকাংশ দাঁতই না থাকে , এমনকি দু-একটি ছাড়া...

প্রশ্ন
গরু-ছাগলের যদি অধিকাংশ দাঁতই না থাকে , এমনকি দু-একটি ছাড়া সবগুলো
পড়ে যায় তবে তা দ্বারা কুরবানী করা
কি সহীহ হবে ?
উত্তর
গরু-ছাগলের অধিকাংশ দাঁত না থাকলেও যে কয়টি দাঁত আছে তা দ্বারা যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে তবে সেটি দ্বারা কুরবানী সহীহ হয়ে যায়। কিন্তু দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে যদি ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারে তবে ঐ পশু কুরবানীর উপযুক্ত নয়। সুতরাং দু-একটি ছাড়া সব দাঁত পড়ে গেলে সে পশু ঘাস চিবিয়ে খেতে না পারার সম্ভাবনাই যেহেতু বেশি তাই এমন জন্তু দ্বারা কুরবানী না করাই বাঞ্ছনীয়। শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৭/৩৫৫; ফাতাওয়া কাযী খান ৯৩/৩৫৩; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের এলাকায় দেখি যে , অনেক সময় কুরবানীর পশুকে মাটিতে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় দেখি যে , অনেক সময় কুরবানীর পশুকে মাটিতে
শোয়ানোর সময় ধস্তাধস্তির
একপর্যায়ে পশুর পা ভেঙ্গে যায়।
এমতাবস্থায় কেউ বলে যে , এ পশু দ্বারা
কুরবানী করা যাবে না। কেউ বলে
যাবে। মুফতী সাহেবের নিকট সঠিক
মাসআলা জানতে চাই।
উত্তর
কুরবানীর পশু জবাইর সময় শোয়াতে গিয়ে পা ভেঙ্গে গেলে তা দ্বারা কুরবানী করা সহীহ হবে। আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৭; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩১
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কোন কোন প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় এবং ঐ প্রাণীসমূহের...

প্রশ্ন
কোন কোন প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা যায় এবং ঐ প্রাণীসমূহের বয়সসীমা সম্পর্কে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
গৃহপালিত পশু তথা উট , গরু, মহিষ, দুম্বা , ভেড়া ও ছাগল দ্বারা কুরবানী করা যায়। উটের বয়স কমপক্ষে পাঁচ বছর হতে হবে। গরু বা মহিষ কমপক্ষে দু ’ বছরের হতে হবে। আর দুম্বা , ভেড়া বা ছাগল এক বছরের হতে হবে। তবে কোনো ভেড়া যদি ছয়মাস বা তদুর্ধ্ব বয়সের হয় কিন্তু শরীরের গঠনের দিক থেকে এক বছরের ভেড়ার মত হৃষ্টপুষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটি দ্বারাও কুরবানী সহীহ হবে। বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩০
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর সময় আমাদের এলাকার অনেককেই এমন করতে দেখা যায় ,...

প্রশ্ন
কুরবানীর সময় আমাদের এলাকার অনেককেই এমন করতে দেখা যায় , ৬
শরীক মিলে একটি পশু কুরবানী করে। ঐ
পশুতে নিজেদের ৬ অংশ আর ৭ম
অংশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের জন্য রাখে। এ ৭ম
অংশের টাকা তারা সকলে মিলে
দিয়ে থাকে। আমি জানতে চাই , এমনটি
করা সহীহ কী না ?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানী করা সহীহ। কেননা এ ক্ষেত্রে কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম নয়। প্রত্যেকের অংশ পুরো হওয়ার পর সপ্তমাংশ শরীকদের নফল কুরবানী হিসাবে গণ্য হবে এবং সকলের কুরবানী সহীহ হয়ে যাবে। বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৬ ৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমরা তিন ভাই। মা জীবিত আছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর...

প্রশ্ন
আমরা তিন ভাই। মা জীবিত আছেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তার রেখে
যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন করা হয়নি। অবশ্য
বাবা খুব বেশি সম্পত্তি রেখে যাননি।
আমরা তিন ভাই চাকুরি করি।
প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু কিছু সম্পদ
আছে। কুরবানীর সময় আমরা তিনভাই
মিলে মায়ের নামে একটি ছাগল
কুরবানী করে থাকি। আমি জানতে চাই ,
এভাবে আমাদের কুরবানী করা সহীহ
হচ্ছে কি না ?
উত্তর
আপনার বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন করলে আপনারা প্রত্যেকে যে পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হবেন তার সাথে প্রত্যেকের নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পত্তি যোগ করলে যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার মূল্য সমপরিমাণ সোনা-রূপা, টাকা পয়সা বা অন্যান্য সম্পত্তি থাকবে তার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। সে হিসেবে যার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে তাকে পৃথকভাবে অন্তত: একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা অথবা বড় পশুতে এক সপ্তমাংশে শরীক হয়ে নিজের কুরবানী আদায় করতে হবে। কয়েক ভাই মিলে মায়ের নামে ছাগল কুরবানী করার দ্বারা আপনাদের ওয়াজিব কুরবানী আদায় হবে না। অবশ্য যদি আপনাদের কারো উপরোক্ত পরিমাণে সম্পদ না থাকে সেক্ষেত্রে কুরবানী ওয়াজিব হবে না। কেউ করলে তা নফল হিসাবে আদায় হবে। -ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/১৮১; এলাউস সুনান
১৭/২১০৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২২
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের পরিবারে কুরবানীর গোশত দিয়ে গরীব মহিলাদেরকে দাওয়াত খাওয়ানোর রেওয়াজ...

প্রশ্ন
আমাদের পরিবারে কুরবানীর গোশত দিয়ে গরীব মহিলাদেরকে দাওয়াত
খাওয়ানোর রেওয়াজ আছে। কিন্তু
আমি ছোট বেলা থেকে লক্ষ্য করেছি,
হিন্দু মহিলাদেরকে কুরবানীর গোশত
দেওয়া হয় না। তাদের জন্য পৃথক গোশত
আনিয়ে নেওয়া হয়। জানতে চাই,
হিন্দুদেরকে কুরবানীর গোশত দিতে
অসুবিধা আছে কি?
উত্তর
কুরবানীর গোশত হিন্দু বা অমুসলিমকেও দেওয়া জায়েয। এতে অসুবিধার কিছু
নেই।
আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; ইমদাদুল আহকাম ৪/২০৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১৭
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমার আববু কুরবানীর পশু ঈদের আগের দিন ক্রয় করেন। গত...

প্রশ্ন
আমার আববু কুরবানীর পশু ঈদের আগের দিন ক্রয় করেন। গত বছর ঈদের দুদিন
আগে আমাদের বাসায় ডাকাতি হয়।
তাই আববু গত বছর কুরবানী দিতে
পারেননি। তবে তখন আববুর হাতে নগদ
টাকা না থাকলেও বাড়িতে দেড় বিঘা
জমি আছে, যা থেকে বাৎসরিক আয়
আসে বিশ হাজার টাকা। ঐ বিশ হাজার
টাকা না হলেও আমাদের সংসার
ভালোভাবেই চলে যায়। গত বছর কি
আববুর উপর কুরবানী করা ওয়াজিব ছিল?
যদি হয়ে থাকে তাহলে এখন কী করবে?
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ দেড় বিঘা জমির আয় না হলেও যেহেতু আপনাদের সংসার চলে যায় তাই ঐ দেড় বিঘা জমি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ। এ সম্পদের কারণে আপনার পিতার উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। কিন্তু তিনি যেহেতু গত বছর কুরবানী করেননি তাই ঐ বছরের জন্য নূন্যতম এক বছর বয়সী একটি ছাগল বা তার মূল্য সদকা করে দিতে হবে। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১২; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪০৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৪১৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

একজনকে বলতে শুনেছি, ছয় মাসের ছাগল যদি এমন হৃষ্টপুষ্ট হয়...

প্রশ্ন
একজনকে বলতে শুনেছি, ছয় মাসের ছাগল যদি এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে এক
বছর বয়সী ছাগলের মতো দেখায় তাহলে
তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয। এই কথাটি কতটুকু
সঠিক? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
আপনার শোনা কথাটি ঠিক নয়। ছাগল দ্বারা কুরবানী সহীহ হওয়ার জন্য তা অন্তত এক বছর বয়সী
হওয়া জরুরি। হৃষ্টপুষ্ট হওয়ার কারণে এক বছরের
ছাগলের মতো দেখালেও ১২ মাসের কম
বয়সী ছাগল দ্বারা কুরবানী করা জায়েয হবে না।
অবশ্য ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা যদি হৃষ্টপুষ্ট
হওয়ার কারণে এক বছর বয়সীর মতো দেখায় তাহলে তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয হবে। হাদীস শরীফে জাবের রা. থেকে বর্ণিত হয়েছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উট পাঁচ বছর পূর্ণ হয়ে
ষষ্ঠ বছরে উপনীত না হলে আর গরু-মহিষ দু বছর পূর্ণ হয়ে তৃতীয় বছরে পদার্পণ না করলে আর ছাগল-ভেড়ার এক বছর পূর্ণ না হলে তোমরা তা দ্বারা কুরবানী করো না। তবে এ বিষয়টি যদি তোমাদের জন্য কঠিন হয়
তাহলে ছয়মাসের দুম্বা, ভেড়া কুরবানী করতে
পারবে।
মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৪৩৪৮; সহীহ
মুসলিম, হাদীস : ১৯৬৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
১৭/৪২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৭; আদ্দুররুল মুখতার
৬/৩২২৷
ফতোয়া নং: ৪৪১৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের এলাকায় প্রসিদ্ধ আছে যে, বাকিতে কুরবানীর পশু ক্রয় করলে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় প্রসিদ্ধ আছে যে, বাকিতে কুরবানীর পশু ক্রয় করলে কুরবানী
সহীহ হয় না। কুরবানীর পশু নগদমূল্যে ক্রয়
করতে হবে। বাকিতে ক্রয় করলেও কুরবানীর আগে তার মূল্য পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় কুরবানী সহীহ হবে না। এই কথাটি কতটুকু সঠিক? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ধারণা সম্পূর্ণ ভুল ও ভিত্তিহীন।
বাকিতে পশু ক্রয় করলেও তা দ্বারা কুরবানী জায়েয। আর বাকিতে ক্রয় করলে কুরবানীর আগেই মূল্য পরিশোধ করতে হবে এ কথাও
ঠিক নয়। নগদ বা বাকি যেভাবেই পশু ক্রয় করা
হোক তা দ্বারা কুরবানী করা সহীহ হবে। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন প্রয়োজনে: 01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১২
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমি প্রতিবছরই কুরবানী করি। গত বছর কুরবানীর জন্য আঠারো হাজার...

প্রশ্ন
আমি প্রতিবছরই কুরবানী করি। গত বছর কুরবানীর জন্য আঠারো হাজার টাকা দিয়ে
একটি গাভি ক্রয় করি। পরে দেখা গেল, গাভিটি
অন্তসত্ত্বা। বাচ্চা হওয়ার সময় অতি নিকটবর্তী
হয়ে গেছে। আমাদের কেউ কেউ গাভিটি
কুরবানী করতে বাধা দিল। তখন বিশ হাজার টাকা
দিয়ে আরেকটি গরু কিনে কুরবানী করি।
প্রথম ক্রয়কৃত গাভিটি কুরবানী না করে নতুন
গরু কিনে কুরবানী করাতে কোনো
সমস্যা হয়েছে কি না? জানিয়ে বাধিত
করবেন। এছাড়া ঐ গাভি ও তার বাচ্চার মালিক কি
আমি, নাকি তা সদকা করতে হবে?
উত্তর
প্রথম ক্রয়কৃত গাভিটির বাচ্চা হওয়ার সময় যেহেতু
নিকটবর্তী ছিল তাই তা কুরবানী না করে অন্য
গরু দ্বারা কুরবানী করা ঠিকই হয়েছে। কেননা
বাচ্চা হওয়ার সময় নিকটবর্তী এমন গাভি দ্বারা
কুরবানী করা মাকরূহ। তাই আপনার ঐ সিদ্ধান্ত
মাসআলা সম্মতই হয়েছে। এখন ঐ গাভি ও বাছুরের মালিক আপনি। তা সদকা করতে হবে না।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৮৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭১; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০০৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন প্রয়োজনেঃ 01756473393

প্রসঙ্গ: কোরবানির পশু বাকিতে কিনলে কোরবানি হবে কিনা?
ফতোয়া নং: ৪৪১১
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানীর পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি আমরা নিজেরা
পরিষ্কার করতে পারি না বলে সাধারণত...

প্রশ্ন
কুরবানীর পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি আমরা নিজেরা
পরিষ্কার করতে পারি না বলে সাধারণত এলাকার
কোনো মহিলাকে এ ভিত্তিতে পরিষ্কার
করতে দেই যে, পারিশ্রমিক হিসাবে তাকে
৫০ টাকা এবং নাড়ি-ভুঁড়ির এক তৃতীয়াংশ দেওয়া
হবে। জানার বিষয় হল, এ ধরনের চুক্তি করা কি
বৈধ? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
কুরবানীর পশুর কোনো অংশ বিনিময় বা
পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া জায়েয নয়। আলী
রা. বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর চামড়া ছাড়ানোর
পারিশ্রমিক হিসেবেও চামড়ার কোনো অংশ প্রদান করতে নিষেধ করেছেন।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৭১৭
অতএব প্রশ্নোক্ত চুক্তি সহীহ নয়। নাড়ি-ভুঁড়ি
পরিষ্কারের পারিশ্রমিক হিসেবে ভুড়ির অংশবিশেষও দেওয়া যাবে না। বিগত বছরগুলোতে এমন করে থাকলে যে পরিমাণ অংশ পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে তার ন্যায্যমূল্য সদকা করে দিতে হবে।
আর সামনে থেকে ভুঁড়ি পরিষ্কারের পারিশ্রমিক
হিসেবে ভুড়ির অংশবিশেষ দেওয়ার শর্ত
করবে না। বরং তার শ্রমের বিনিময়ে টাকা দিয়ে
দিবে। চুক্তির সময় গোশত বা ভুড়ি দেওয়ার
শর্ত না থাকলে ন্যায্য পারিশ্রমিক দেওয়ার পর
কুরবানীর পশুর ভুড়ি বা গোশত হাদিয়া হিসেবে
দেওয়া যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। -সহীহ মুসলিম ৩/৩৫০; সহীহ বুখারী (ফাতহুল
বারী) ৩/৬৫০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৮; ফাতাওয়া
খানিয়া ৩/৩৫৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৪; ইলাউস সুনান
১৭/২৬৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন প্রয়োজনেঃ 01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪১০
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

এক ব্যক্তির একটি গরু আছে। সে মান্নত
করেছে যে, আমি আল্লাহর...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তির একটি গরু আছে। সে মান্নত
করেছে যে, আমি আল্লাহর ওয়াস্তে এ
বছর গরুটি কুরবানী করব। লোকটি গরীব।
বর্তমানে সে চাচ্ছে উক্ত গরুর পরিবর্তে
আরেকটি গরু কিনে কুরবানী করবে। তার
জন্য কি ওই গরুটির পরিবর্তে অন্য গরু
কুরবানী করা জায়েয হবে?
উত্তর
তাকে ওই গরুটিই কুরবানী করতে হবে। এটা রেখে অন্য গরু কুরবানী করা জাযেয় হবে না। বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০২; মাজমাউল আনহুর ৪/১৭০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393


প্রসঙ্গঃ কোরবানির পশুর নাড়ি-ভুঁড়ি বিনিময়ে পরিস্কার করা৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের গ্রামে কুরবানীর গরুতে সাত
ভাগের এক ভাগ তিন/চার জন গরীব...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রামে কুরবানীর গরুতে সাত
ভাগের এক ভাগ তিন/চার জন গরীব ব্যক্তি
মিলে দিয়ে থাকে। তাদের উপর কুরবানী
ওয়াজিব নয়। শুনেছি, যাদের উপর কুরবানী
ওয়াজিব নয় তারা নাকি এভাবে কুরবানীর
পশুতে শরীক হতে পারে। সঠিক মাসআলা
জানতে চাই।
উত্তর
আপনার শোনা কথাটি ঠিক নয়। এক গরুতে সাত জনের বেশি শরীক হওয়া বৈধ নয়। সাত জনের বেশি শরীক হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। চাই অংশিদারগণ গরীব হোক বা ধনী। তাই কুরবানীর পশুতে ঐভাবে শরীক নেওয়া যাবে না। একান্ত কখনো এমন করতে চাইলে এক ভাগের সকল অংশিদারগণ একজনকে মালিক বানিয়ে দিবে। অতপর ঐ ব্যক্তি নিজের পক্ষ থেকে ঐ অংশ কুরবানী দিবে। গোশত পাওয়ার পর অংশিদারদের মধ্যে গোশত বণ্টন করে দিতে
পারবে।
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৬;
মাজমাউল আনহুর ৪/১৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০৫;
মাবসূত সারাখসী ১২/১২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৫৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

প্রসঙ্গঃ নির্দিষ্ট গরু কোরবানির মান্নত৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৮
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

মুরগী জবাই করার সময় আল্লাহু আকবার বলা
এবং উত্তর-দক্ষিণ দিকে দাঁড়ানো...

প্রশ্ন
মুরগী জবাই করার সময় আল্লাহু আকবার বলা
এবং উত্তর-দক্ষিণ দিকে দাঁড়ানো জরুরি কি
না? এই শর্ত না মানলে মুরগী খাওয়া যাবে
কি?
উত্তর
পশু-পাখি যবাইয়ের সময় যবাইকারীর জন্য আল্লাহ তাআলার নাম বলা জরুরি। হাদীস শরীফে বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলার কথা উল্লেখ আছে। যদি যবাইয়ের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহ তাআলার নাম না বলে তাহলে উক্ত পশু খাওয়া জায়েয হবে না।
-সূরা আনআম : ১২১; সহীহ বুখারী ২/৮২৭; ইলাউস সুনান ১৭/৫৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০১; ফাতাওয়া
হিন্দিয়া ৫/২৮৫; ফাতহুল কাদীর ৮/৪০৯ আর জবাইয়ের সময় পশুর মাথা কিবলামুখী
করে বাম কাতে শোয়ানো মুস্তাহাব, জরুরি নয়। অবশ্য
ডান কাতে শোয়ালেও জবাই সহীহ হয়ে যাবে। জবাইকারীর কিবলামুখী হওয়া সুন্নত। জবাই সহীহ হওয়ার জন্য এটিও শর্ত নয়। -শরহু মুসলিম,নববী ১৩/১২১; তাকমিলা ফাতহুল
মুলহিম ৩/৫৬৩; বাযলুল মাজহূদ ১৩/১৪;বাদায়েউস
সানায়ে ৪/১৮৮; মাজমাউল আনহুর ৪/১৫৯; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া ১৪৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393


প্রলঙ্গঃ কোরবানির পশুতে সাত ভাগের এক ভাগে কয়েকজন গরীব অংশিদার হওয়া৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৭
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের এলাকার সাধারণ লোকজন
মনে করে , একটা গরু বা একটা...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার সাধারণ লোকজন
মনে করে , একটা গরু বা একটা মহিষে
কুরবানী আকীকা ইত্যাদি সাত ভাগই
করা লাগে। সাত ভাগের কম হলে
কুরবানী সহীহ হয় না। তাই তারা কখনো
পশুতে শরীক কম হয়ে গেলে বাকি
অংশগুলো তাদের মৃত আত্মীয়-স্বজনের
নামে দিয়ে সাত ভাগ পূর্ণ করে থাকে।
এখন আমার জানার বিষয় হল , তাদের
উক্ত ধারণা কি সঠিক ? একটি পশুতে কি
সাত ভাগই পূর্ণ করা লাগে এবং মৃত
ব্যক্তির জন্য ইসালে সাওয়াবের
নিয়তে কুরবানী করা যাবে কি ? করা
জায়েয হলে এ ভাগের গোশত কি সদকা
করে দিতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ধারণাটি ঠিক নয়। গরু, মহিষ এ ধরনের পশু সাত ভাগে এবং তার কম যে কোনো অংশে কুরবানী বা আকীকা ইত্যাদি করা জায়েয। তবে কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম না হতে হবে। এক সপ্তমাংশের কম হলে কারো কুরবানী সহীহ হবে না। আর এ ধরনের পশুতে মৃত ব্যক্তির জন্যও ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে অংশ নেওয়া যাবে এবং এই অংশ সদকা করা জরুরি নয়। বরং এর হুকুম নিজের সাধারণ কুরবানীর মতই। তা থেকে নিজেরাও খেতে পারবে এবং সদকাও করতে পারবে। বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৭৪,৮৭৪; রদ্দুল মুহতার ৬/২৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫৩১, ৩১৬, ৩৩৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

প্রসঙ্গঃ মুরগী জবাই করার সময় বিসমিল্লাহ বলা ও উত্তর দক্ষিনে দাড়ানো৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমাদের বাড়ির পাশেই এক হিন্দুর
বাড়ি। খুব গরীব মানুষ তারা। কুরবানীর
সময়...

প্রশ্ন
আমাদের বাড়ির পাশেই এক হিন্দুর
বাড়ি। খুব গরীব মানুষ তারা। কুরবানীর
সময় যখন গরীবদেরকে গোশত বণ্টন করি
তখন সেও কখনো কখনো গোশত চায়। আর
না চাইলেও সে যেহেতু আমাদের
পাশেই থাকে আবার গরীব মানুষ তাই
না দিতেও খারাপ লাগে। তাই আমি
জানতে চাই ঐ হিন্দুকে কুরবানীর গোশত
দেওয়া যাবে কি না ?
উত্তর
কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া জায়েয আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি আপনার পড়শী হিন্দুকে কুরবানীর গোশত দিতে পারবেন। ইলাউস সুনান ১৭/২৫৮; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩০০৷

প্রসঙ্গঃ গরু বা মহিষে সাত ভাগের কম করা৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৫
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কসাই বা গোস্ত বানানে ওয়ালাকে কুরবানির গোস্ত বিনিময় দেয়া৷

প্রশ্ন
আমাদের গ্রামে অনেক বাড়িতে এরকম
প্রচলন আছে যে, কুরবানীর সময় কসাইয়ের
সাথে তারা এভাবে চুক্তি করে, এই গরুটা
বানিয়ে দিলে এত টাকা পাবা আর এত
কেজি গোশত পাবা।
প্রশ্ন হল , এভাবে টাকা ও গোশতের বিনিময়ে
চুক্তি করা কি বৈধ ? কেউ যদি এমনটি করে
তাহলে সেক্ষেত্রে তার করণীয় কী ?
উত্তর
কুরবানীর পশুর গোশত বা অন্য কোনো অংশ পারিশ্রমিক হিসাবে দেওয়া বৈধ নয়। সহীহ মুসলিমে আলী রা. থেকে বর্ণিত আছে , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করেছেন , যেন আমি তাঁর উটের দায়িত্ব গ্রহণ করি এবং তার গোশত, চামড়া ও আনুষাঙ্গিক আচ্ছাদনবস্ত্র সদকা করি এবং (তিনি আদেশ করেছেন) এসব থেকে কোনো কিছু যেন কসাইকে না দেই। তিনি বলেছেন , তাকে (কসাইকে) তো আমরা নিজেদের থেকেই পারিশ্রমিক দিব। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৩১৭ সুতরাং কেউ যদি না জেনে এভাবে গোশতের মাধ্যমে পারিশ্রমিক আদায় করে দেয় তাহলে যে পরিমাণ গোশত পারিশ্রমিক হিসাবে দিয়েছে তার মূল্য গরীবদের মাঝে সদকা করা ওয়াজিব হবে।
বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩২৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

প্রসঙ্গঃ অমুসলিমকে কুরবানির গোস্ত দেয়া৷
ফতোয়া নং: ৪৪০৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানির গোস্ত দিয়ে অলিমা বা বিবাহ অনুষ্ঠানের দাওয়াত খাওয়ানো৷

প্রশ্ন
কোনো কোনো গ্রামে দেখা যায় , ঈদুল আযহার দ্বিতীয় দিন অথবা তৃতীয় দিন বিবাহ বা ওলিমা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং কুরবানীর গোশত দিয়েই এসব অনুষ্ঠানের দাওয়াত খাওয়ানো হয়। আমার প্রশ্ন হল , কুরবানীর গোশত দিয়ে বিবাহ বা ওলিমা অনুষ্ঠানের দাওয়াত খাওয়ানো কি জায়েয হবে এবং এ উদ্দেশ্যে কুরবানি করা কি বৈধ হবে ?
উত্তর
কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তা কেবল
আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যেই
হতে হবে। বিবাহ বা ওলিমার গোশত লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা সহীহ নয়। অবশ্য
আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরবানী
করে সেই গোশত নিজে খেতে পারবে। অন্যকেও খাওয়াতে পারবে। তদ্রুপ সেই গোশত দিয়ে বিবাহ বা ওলিমা অনুষ্ঠানে দাওয়াতও খাওয়াতে পারবে। এতে কোনো বাধা নেই।
আলবাহরুর রায়েক ৩/৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪০৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

কুরবানির গোস্ত তিন ভাগ করা৷

প্রশ্ন
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ মনে করে, কুরবানীর গোশত তিনভাগে বণ্টন করা জরুরি এবং এতে সামান্য ত্র æ টি করলেও কুরবানী হবে না। অথচ অনেক সময় এমন হয় , বিশেষ করে পরিবারের লোকজন বেশি হলে এবং অভাবী হলে নিজের অংশ থেকে এক ভাগ রেখে দুই ভাগ দিয়ে দিলে সে তার পরিবার-পরিজন নিয়ে তৃপ্তির সাথে খেতেই পারে না। আবার
দূরের আত্মীয়-স্বজন , বন্ধু-বান্ধবকে দাওয়াত
করে খাওয়াতে বা তাদের জন্য কিছু গোশত পাঠাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই প্রশ্ন হল , এভাবে প্রথমেই গোশত মেপে মেপে তিনভাগ করে এক ভাগ রেখে বাকি দুই ভাগ বিলিয়ে দেওয়া কতটুকু জরুরি ? এতে কমবেশি করার
হুকুম কী ? বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানতে চাই।
উত্তর
কুরবানী করা এবং কুরবানীর গোশত দান করা
ভিন্ন ভিন্ন দুটি আমল। আল্লাহর সন্তুষ্টির
উদ্দেশ্যে ইখলাসের সাথে পশু জবাই করার
দ্বারাই কুরবানীর ওয়াজিব আদায় হয়ে যায়।
আর কুরবানীকারীর জন্য তার কুরবানীর
গোশতের ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হল, সে
নিজ পরিবার-পরিজনকে নিয়ে খাবে এবং পাড়া-প্রতিবেশী , আত্মীয়-স্বজন , যারা কুরবানীর সামর্থ্য রাখে না তাদেরও দান
করবে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন , ... ( কুরবানীর গোশত) তোমরা খাও , জমা করে রাখো এবং (গরীব-অসহায়দেরও) দান করো। হাদীস : ১৯৭১ অন্য বর্ণনায় আছে, তোমরা খাবে এবং অন্যদেরও খাওয়াবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস :
১৯৭৩
তবে দানের ব্যাপারে কুরবানীকারীর উপর শরীয়ত কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করেনি ; বরং প্রত্যেককে তার অবস্থা অনুপাতে
দান করতে বলা হয়েছে। অবশ্য সামর্থ্যবানদের
জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় উত্তম হল , মোটামুটি
তিন ভাগ করে এক অংশ গরিব-মিসকিন ও অসহায়দেরকে দান করা , এক অংশ গরীব
আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া।
আর এক অংশ নিজের জন্য রাখা।
উল্লেখ্য, এ বণ্টন উত্তম জরুরি বা আবশ্যক নয়।
তেমনি একেবারে ওজন করে তিন ভাগ করাও আবশ্যক নয়। বরং কুরবানীকারীর জন্য এতে তারতম্য করার অবকাশ আছে।
আরো উল্লেখ্য যে, এটি যেহেতু একটি মুস্তাহাব
আমল তাই সামর্থ্যবানদের এর উপর আমল করা উচিত। আর কারো পরিবারের সদস্য বেশি হলে কিংবা নিজেদের প্রয়োজন বেশি থাকলে সেক্ষেত্রে তারা নিজেদের প্রয়োজন পরিমাণ গোশত রাখতে পারবে , এটা তাদের জন্য অনুত্তম
হবে না।
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৩৭; বযলুল মাজহূদ ১৩/৪৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৮৬; ইলাউস সুনান ১৭/২৬২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৪৪
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: কুরবানী

আমার এক ভাই সৌদী আরব থাকে। গত কুরবানীর সময় সে...

প্রশ্ন
আমার এক ভাই সৌদী আরব থাকে। গত কুরবানীর সময় সে তার পক্ষ থেকে কুরবানী
করার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাঠায়। আমরা আমাদের কুরবানী প্রথম দিনেই করে ফেলি।
কিন্তু তার কুরবানীটা করেছি তৃতীয় দিনে। প্রশ্ন হল, আমাদের তৃতীয় দিনে তো
সৌদী আরবে কুরবানীর সময় ছিল না। এ অবস্থায় আমার ভাইয়ের কুরবানী আদায়
হয়েছে কি?
উত্তর
যেখানে কুরবানী দেওয়া হয় মূলত ঐ স্থানের সময়ই ধর্তব্য হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে
বাংলাদেশে যেহেতু কুরবানীর সময়েই হয়েছে তাই ঐ কুরবানী সহীহ হয়েছে। অবশ্য
যার পক্ষ থেকে কুরবানী করা হচ্ছে তার ওখানেও কুরবানীর সময় থাকে- এটা লক্ষ রেখে
কুরবানী করা ভালো।
ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬; ফাতাওয়া শরইয়্যাহ ১১/১৫৯

Execution time: 0.06 render + 0.02 s transfer.