Login | Register

ফতোয়া: হজ্ব

ফতোয়া নং: ৫৬৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈকা মহিলার বয়স ৫৩ বছর অতিক্রম করেছে। মাথার চুল সাদা...

প্রশ্ন

জনৈকা মহিলার বয়স ৫৩ বছর অতিক্রম করেছে। মাথার চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে তাই তিনি কালো কলপ ব্যবহার করেন। জানার বিষয় এই যে, তার জন্য কি এটা জায়েয হবে?

উত্তর

বয়সের কারণে চুল সাদা হলে কালো কলপ ব্যবহার করা জায়েয নয়। হাদীস শরীফে আছে, হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন আবু কুহাফা রা. (আবু বকর রা.-এর পিতা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তখন তার মাথার চুল ও দাঁড়ি ছিল ‘ছাগামা’ নামক উদ্ভিদের ফুলের মতো তীব্র সাদা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখে বললেন, তোমার এই চুল ও দাঁড়ির শুভ্রতা কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর। তবে তোমরা কালো কলপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাক। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৪৬৬)

অন্য হাদীসে আছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আখেরি যামানায় কিছু লোক কবুতরের বুকের মতো কালো রংয়ের কলপ ব্যবহার করবে। তারা জান্নাতের খোশবুও পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২০৯)

অতএব উক্ত মহিলার জন্য চুলে কালো কলপ ব্যবহার করা জায়েয নয়। তবে মেহেদী রং করতে পারবেন।

-শরহু মুসলিম, নববী ১৪/৮০; তাকমিলা, ফাতহুল মুলহিম ৪/১৪৯; মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/২৯৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৫৬; আলমুগনী ১/১২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তির দশ বিঘা জমি আছে। এগুলোর ফসল দ্বারা সে...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তির দশ বিঘা জমি আছে। এগুলোর ফসল দ্বারা সে তার পরিবারের খরচ চালিয়ে থাকে। অল্প কিছু জমা থাকে। কিন্তু তা খুবই অল্প। হজ্বের খরচ নেই। আর তার কাছে নগদ টাকা বা অন্য কোনো সম্পদও নেই। এখন জানতে চাই ওই জমি বিক্রি করে তার জন্য হজ্ব করা কি জরুরি?

উত্তর

হজ্বের যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচের জন্য যতটুকু জমি বিক্রি করা প্রয়োজন ঐ পরিমাণ জমি বিক্রি করার পর অবশিষ্ট জমি দ্বারা যদি তার পরিবারের খরচ ভালোভাবে চলে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তার উপর হজ্ব ফরয। আর যদি ওই পরিমাণ জমি বিক্রি করলে অবশিষ্ট জমি দ্বারা পরিবারের খরচ চালানো কষ্টকর হয় তাহলে ঐ ব্যক্তির উপর জমি বিক্রি করে হজ্ব করা ফরয নয়।

-জামে তিরমিযী ১/১০০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮২; গুনইয়াতুন নাসিক ২০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে যায়। সে তাওয়াফে যিয়ারত না করেই...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে যায়। সে তাওয়াফে যিয়ারত না করেই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে দেশে ফিরে এসেছে। এখন তার বয়স ৮০ বছরের মতো। এমতাবস্থায় তার জন্য পুনরায় মক্কা যাওয়া অনেক কঠিন ব্যাপার। সে কি এখন অন্য কাউকে পাঠিয়ে তাওয়াফটি আদায় করিয়ে নিতে পারবে? যদি তার নিজের গিয়ে আদায় করে আসা জরুরি হয় তাহলে সে কি এর জন্য নতুন ইহরাম করবে না ইহরাম ছাড়াই তাওয়াফটি আদায় করবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অন্য কারো দ্বারা তাওয়াফটি আদায় করানোর সুযোগ নেই; বরং স্বয়ং তাকে গিয়েই তাওয়াফটি আদায় করা জরুরি। আর তাওয়াফটি আদায় করবে সাধারণ পোশাকেই। এর জন্য নতুন ইহরাম করবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৭, ৫২৬; মানাসিক ১১১, ২৩৩, ৩৪৫; গুনয়াতুন নাসিক ৮৩, ১০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি এক ওয়াজে শুনেছি যে, হাদীস শরীফে আছে, আখেরী যমানায়...

প্রশ্ন

আমি এক ওয়াজে শুনেছি যে, হাদীস শরীফে আছে, আখেরী যমানায় হজ্ব হবে ভ্রমণ ও চিত্ত বিনোদনের উদ্দেশ্যে। জানার বিষয় হল, হাদীস শরীফে কি এমন কথা আছে?

উত্তর

একটি অতি দুর্বল বর্ণনায় আছে যে, মানুষের উপর এমন একটি সময় আসবে যখন উম্মতের উচ্চ বিত্তরা হজ্ব করবে (ভ্রমণ) আনন্দ উপভোগের জন্য, মধ্যবিত্তরা হজ্ব করবে ব্যবসার জন্য, শিক্ষিতরা করবে সুনাম-সুখ্যাতি অর্জনের জন্য এবং গরীবরা করবে ভিক্ষার জন্য।

-তারীখে বাগদাদ ১০/২৯৬; আলইলালুল মুতানাহিয়াহ ২/৫৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাওয়াফে যিয়ারত না করেই...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্ব করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাওয়াফে যিয়ারত না করেই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে দেশে চলে এসেছেন। এখন তার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তার কর্তব্য হল, নতুন করে কোনো ইহরাম করা ছাড়া পুনরায় মক্কা মুকাররমা গিয়ে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা। এছাড়া তার কোনো গত্যন্ত নেই। আর ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্তের পূর্বে তাওয়াফটি আদায় না করার কারণে একটি জরিমানা দম আদায় করা তার উপর ওয়াজিব।

উল্লেখ্য, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করার পূর্বে স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়া যাবে না। মিলিত হয়ে থাকলে পৃথকভাবে আরো একটি জরিমানার দম আদায় করতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/৩৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৬; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৩৭০; আলবাহরুল আমীক ৩/১৮৩৩; আলবাহরুর রায়েক ৩/২০; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৩, ৫৬০; মানাসিক পৃ. : ৩৪৫, ৩৪১; গুনয়াতুন নাসিক ২৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের জন্য মক্কা মুকাররমায় গমন করে এবং...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের জন্য মক্কা মুকাররমায় গমন করে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে হজ্বের কার্যাবলি যথাযথভাবে সম্পন্ন করে, কিন্তু হজ্বের শেষ পর্যায়ে এসে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যার কারণে আইয়্যামে নহর তথা যিলহজ্বের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করা কি জরুরি? না এর পরিবর্তে দম দিলেই যথেষ্ট হবে? আর তাওয়াফের নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করলে দম দেওয়া ওয়াজিব হবে কি?

উত্তর

তাওয়াফে যিয়ারত হজ্বের অন্যতম ফরয। তাই যেকোনোভাবেই হোক এবং যখনই হোক তা অবশ্যই আদায় করতে হবে। এই তাওয়াফ না করলে যত দমই দেওয়া হোক হজ্ব আদায় হবে না। অধিক অসুস্থতার কারণে পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করতে না পারলে হুইল চেয়ার বা অন্য যে কোনো পদ্ধতিতে স্বয়ং ঐ ব্যক্তিকেই তাওয়াফ করতে হবে। কাউকে দিয়ে বদলী করানোরও সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য যে, ১২ তারিখ সূর্যাস্তের মধ্যে তাওয়াফে যিয়ারত সম্পন্ন করা ওয়াজিব। বিনা ওজরে বিলম্ব করলে দম ওয়াজিব হয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু অসুস্থতা ছিল তাই বিলম্বের কারণে কোনো দম বা জরিমানা দিতে হবে না।

-সহীহ বুখারী ১/২২১; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ২৩২, ৩৪৮; সহীহ মুসলিম ১/৪১৩; মুসনাদে আহমদ ৩/৩১৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/১৩২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৫, ৪৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১১-৩১৬; গুনইয়াতুন নাসিক ২৩৯, ২৭৩; মাবসূত, সারাখসী ৪/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমানায় চন্দ্র দ্বি...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি বলেছেন, নবীজীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমানায় চন্দ্র দ্বি খন্ডিত হয়েছিল এ সম্পর্কে কোনো সহীহ হাদীস নেই। তার এ কথা কি সহীহ? বরাতসহ জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার কথা কুরআন মজীদে ও সহীহ হাদীসে আছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-(তরজমা) কেয়ামত আসন্ন এবং চন্দ্র বিদীর্ণ হয়েছে। তারা যদি কোনো নিদর্শন দেখে তবে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাগত যাদু। (সূরা কমর : ১-৩) আর এ সম্পর্কে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে। আল্লামা ইবনে কাসীর রাহ. এ সম্পর্কিত হাদীসকে মুতাওয়াতির বলেছেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/২৭৬) নিম্নে কয়েকটি হাদীস উদ্ধৃত করা হল। ১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমরা মিনায় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। হঠাৎ চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হল এবং এক খন্ড পাহাড়ের পশ্চাতে চলে গেল ও এক খন্ড পাহাড়ের উপরে রইল। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সাক্ষী থেকো। (সহীহ বুখারী ১/৫৪৬; সহীহ মুসলিম ২/৩৭৩) ২. হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করেন, মক্কাবাসীরা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোনো নিদর্শন দেখতে চাইল। তখন আল্লাহ তাআলা চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করে দেখিয়ে দিলেন। তারা দেখতে পেল যে, চাঁদের দুই খন্ড হেরা পাহাড়ের দুই পার্শ্বে চলে গিয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/৫৪৫; সহীহ মুসলিম ২/৩৭৩; জামে তিরমিযী ৩২৮৫; মুসনাদে আহমদ ৩/১৬৫; দালাইলুন নুবুওয়াহ ২/২৬২-২৬৮; আলবিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/৩৫৪, ৩৬১; ফাতহুল বারী ৭/২২১; আততাহরীর ওয়াত তানবীর ২৭/১৬৩; আদ্দুররুল মানসুর ৬/১৩২-১৩৪; তাফসীরে কুরতুবী ১৭/১২৫-১২৮; তাফসীরে মাযহারী ৯/১৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমাদের হজ্ব-কাফেলার মুআল্লিম সাহেব যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখ যোহরের...

প্রশ্ন

আমাদের হজ্ব-কাফেলার মুআল্লিম সাহেব যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখ যোহরের পর বেশি ভিড় হবে বলে সকাল ৮/৯ টার সময় রমী করিয়ে আমাদের নিয়ে মক্কায় চলে যান। জানতে চাই, সকাল বেলা এভাবে রমী করার দ্বারা তা আদায় হয়েছে কি না এবং আদায় না হলে কোনো জরিমানা আসবে কি না?

উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল ও আছারে সাহাবার আলোকে অধিকাংশ ফকীহ একমত যে, ১১ ও ১২ যিলহজ্ব সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত রমীর সময় হয় না। তাই এ সময় রমী করলে ওয়াজিব আদায় হবে না। সুতরাং কেউ আগে রমী করলে তাকে আবার সূর্য ঢলার পর রমী করতে হবে। অন্যথায় জরিমানা দম দিতে হবে।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের উপর জরিমানা দম ওয়াজিব হয়েছে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১২৯৯, ১৩০০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৪৭৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৪; ফাতহুল কাদীর ২/৩৯৩, ৩৯২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮; মানাসিকে মোল্লা আলী কারী ২৩৭; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮১; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৫/৩২৮; আলমাজমু’ ৮/২১১; যখীরাহ ৩/২৭৫; আলবাহরুল আমীক ৪/১৮৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

এক ব্যক্তি ভুলবশত তাওয়াফে বিদা না করে দেশে চলে এসেছেন।...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ভুলবশত তাওয়াফে বিদা না করে দেশে চলে এসেছেন। তিনি তাওয়াফে যিয়ারতের পর কোনো নফল তাওয়াফও করেননি। এখন তার করণীয় কী জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

তার হজ্ব আদায় হয়ে গেছে। তবে তাওয়াফে বিদা না করার কারণে তার উপর একটি দম (কুরবানীযোগ্য পশু) ওয়াজিব হয়েছে, যা হারামের সিমানার ভিতর জবাই করা জরুরি। সুতরাং তিনি মক্কায় গমনকারী কোনো ব্যক্তি অথবা সেখানে অবস্থানকারী কারো মাধ্যমে হারামের সিমানার ভিতর একটি পশু জবাই করবেন।

সহীহ ইবনে খুযায়মা ৪/৩২৮; সহীহ ইবনে হিববান ৯/২১০; মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মাদ পৃষ্ঠা : ২৩৯; শরহু মুখতাছারুত তহাবী ২/৫৪৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩৪; মানাসিক পৃ. ২৫৩; সুনানে দারাকুতনী ২/২৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫৪৩; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৫/৩৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

এক ব্যক্তি হজ্বের তাওয়াফ মারওয়া থেকে শুরু করেছে শেষ করেছে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি হজ্বের তাওয়াফ মারওয়া থেকে শুরু করেছে শেষ করেছে সাফাতে। তার করণীয় কী? পরে পৃথকভাবে একটি চক্কর করে নিলে কি চলবে?

উত্তর

হ্যাঁ, আরেকটি চক্কর করে নিলেই চলবে। আর এক্ষেত্রে কোনো জরিমানা আসবে না। কিন্তু যদি আরেকটি চক্কর করা না হয় তাহলে জরিমানা হিসেবে দম ওয়াজিব হবে।

গুনইয়াতুন নাসিক ১৩১-১৩২;মানাসিক, ১৭৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

বদলী হজ্বকারীর জন্য কি ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি? অনেকে বলেন,...

প্রশ্ন

বদলী হজ্বকারীর জন্য কি ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি? অনেকে বলেন, ইফরাদ করা জরুরি। প্রেরক তামাত্তু বা কিরান হজ্বের অনুমতি দিলেও আদায় হবে না। ইফরাদ হজ্বই করতে হবে। মুআল্লিমুল হুজ্জাজ কিতাবেও এমনই বলা হয়েছে। আবার কোনো কোনো আলেমকে জায়েয বলতে শোনা যায়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু সমাধান বরাতসহ জানতে চাই।

উত্তর

প্রেরক অনুমতি দিলে বদলীকারী তামাত্তু ও কিরান হজ্বও করতে পারবেন। অনুমতি থাকলেও ইফরাদ করা জরুরি, তামাত্তু বা কিরান জায়েয নয়-এই কথা ঠিক নয়। মুআল্লিমুল হুজ্জাজ, ফাতাওয়া খলীলিয়্যাহসহ কিছু কিতাবে সর্বাবস্থায় ইফরাদ জরুরি বলা হলেও উপমহাদেশের অনেক মুফতী প্রেরকের অনুমতিসাপেক্ষে তামাত্তু ও কিরান করাকে জায়েয বলে ফাতওয়া দিয়েছেন। যেমন, মুফতী কেফায়াতুল্লাহ দেহলভী রাহ., মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ. এবং মুফতী যফর আহমদ উছমানী রাহ., মুফতী রশীদ আহমদ লুধিয়ানভী রাহ. প্রমুখ। আর জায়েয হওয়ার পক্ষে হানাফী ফকীহদের থেকেও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত রয়েছে। যেমন,ফাতাওয়া খানিয়া, আল্লামা সিন্ধির লুবাব, আল্লামা সাঈদ আবদুল গণী রাহ.-এর ইরশাদুস সারী এবং আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী ফাতাওয়া শামীতে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, অনুমতি থাকলে বদলীকারী কিরান, তামাত্তু যেকোনোটি করতে পারেন। ইফরাদ হজ্ব করা জরুরি নয়। এছাড়া কিরান জায়েয হওয়ার কথা মাবসূতে সারাখসী ও হেদায়াতেও আছে।

লুবাবুল মানাসিক ৪৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৭; মাবসূত সারাখসী ৪/১৫৫-১৫৬; হেদায়া ১/২৯৮; রদ্দুল মুহতার ২/৬১১; ইমদাদুল আহকাম ২/১৮৩; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৫২৩; কেফায়াতুল মুফতী ৪/৪৫; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৫০৮-৫১৬; ফাতাওয়া উছমানী ২/২২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি হজ্বে যাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ইতিপূর্বে নিজের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি হজ্বে যাচ্ছেন। তাঁর স্ত্রী ইতিপূর্বে নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন। এখন আমি কি আমার পিতার বদলী হজ্ব ঐ মহিলাকে দিয়ে করাত পরব? কোনো মহিলা কি পুরুষের বদলী হজ্ব করতে পারে?

উত্তর

হ্যাঁ, মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকলে মহিলাকে দিয়েও বদলী হজ্ব করানো যায়। এতে বদলী হজ্ব আদায় হয়ে যাবে।

সহীহ বুখারী ১/২০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

ক) এক ব্যক্তি এক গরীব লোককে হজ্বের জন্য তিন লাখ...

প্রশ্ন

ক) এক ব্যক্তি এক গরীব লোককে হজ্বের জন্য তিন লাখ টাকা দিয়ে বলেছে, এটা তোমাকে দিলাম। বদলী হজ্ব নয়। লোকটি হঠাৎ হজ্বের ব্যবস্থা হওয়ায় ভীষণ খুশি হল। কিন্তু তাকে এক মুআল্লিম বলল, তোমার এ হজ্ব দ্বারা ফরয হজ্ব আদায় হবে না। তাই সামর্থ্যবান হলে তখন তোমাকে নিজের টাকা দিয়ে আবার হজ্ব করতে হবে। একথা কি সঠিক?

খ) আমাদের অফিস থেকে এ বছর দু’জনকে হজ্বে পাঠানো হচ্ছে। তারা প্রতিবছর পাঠায়। এটা কর্মচারীদের জন্য একটা সুযোগ। জানতে চাই, কোনো কর্মচারী যদি একেবারে গরীব হয়, যার উপর হজ্ব ফরয হয়নি সে এভাবে হজ্ব করলে তা কি ফরয হজ্ব হবে? তেমনিভাবে যাদের টাকা আছে তারা নিজ খরচে না গিয়ে এভাবে গেলে ফরয হজ্ব আদায় হবে কি?

উত্তর

ঐ মুআল্লিমের কথা ঠিক নয়। প্রশ্নোক্ত উভয় ক্ষেত্রেই তাদের ফরয হজ্ব আদায় হবে। ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য নিজের পূর্ব মালিকানাধীন টাকা খরচ করা কিংবা পূর্ব থেকে স্বচ্ছল থাকা শর্ত নয়; কোনো গরীব ব্যক্তির উপর পূর্ব থেকে হজ্ব ফরয না থাকলেও কারো অনুদানের অর্থ দিয়ে হজ্ব করলেও ফরয হজ্ব আদায় হবে। এরূপ ব্যক্তি যখন হজ্বের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে তখন তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪৩৭; ফাতওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তি প্রথম হজ্ব-ফ্লাইটে করে হজ্বে যান। তিনি একজনের বদলী...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি প্রথম হজ্ব-ফ্লাইটে করে হজ্বে যান। তিনি একজনের বদলী হজ্বে গেছেন। তিনি মক্কায় গিয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন যে, বদলীকারী প্রেরকের অনুমতিক্রমে তামাত্তু হজ্বও করতে পারে। এখন তিনি উমরা করে হালাল হয়ে যেতে চান। হাদীসে নাকি এমন এজাযত আছে। জানতে চাই, তার জন্য কি এমনটি করা বৈধ হবে?

উত্তর

প্রেরণকারীর অনুমতি সাপেক্ষে বদলীকারীর জন্য তামাত্তু হজ্ব করা জায়েয হলেও প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য তামাত্তু করার সুযোগ নেই। কারণ তিনি হজ্বের ইহরাম করে মক্কায় পৌঁছে গেছেন। আর হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্ব না করে হালাল হওয়ার সুযোগ নেই। শুধু বদলীকারীর জন্য নয়; নিজের হজ্বে গেলেও একই হুকুম।

বিদায় হজ্বে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে উমরা করে হজ্বের ইহরাম ত্যাগ করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা শুধু ঐ বছরের জন্য ছিল। ঐ হুকুম পরবর্তীতে প্রযোজ্য হবে না। হাদীস শরীফে তা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এই সুযোগ কি এবছরের জন্য, না পরেও থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা তোমাদের জন্য বিশেষ হুকুম।

সুনানে আবু দাউদ ১/২৫২; সুনানে ইবনে মাজাহ ২১৪; সুনানে নাসাঈ ২/১৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৫/২৫৩; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ১৯৭; ইলাউস সুনান ১০/২৬৬-২৭০; যুবদাহ ৩৪১; রদ্দুল মুহতার ২/৫০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

সূরা হজ্বের ১৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, (তরজমা) ‘এই দুই...

প্রশ্ন

সূরা হজ্বের ১৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে, (তরজমা) ‘এই দুই বাদী-বিবাদী তাদের রবের ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে।’ এই আয়াতে দুই দল বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়েছে? তাদের নাম ও প্রেক্ষাপট সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করার অনুরোধ রইল।

উত্তর

এই আয়াতটি ওই দুই পক্ষ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, যারা বদর যুদ্ধে রণক্ষেত্রে মুখোমুখি হয়েছিল। মুসলমানদের পক্ষ থেকে হযরত আলী রা., হামযা রা. ও ওবায়দা রা.। আর কাফেরদের পক্ষ থেকে ওতবা ইবনে রবীয়া, তার পুত্র ওলিদ ও তার ভাই শায়বা। কাফের পক্ষের তিনজনই রণক্ষেত্রে মারা গিয়েছিল। আর মুসলমানদের মধ্যে হযরত আলী রা. ও হযরত হামযাহ রা. অক্ষত অবস্থায় ফিরে এসেছিলেন। আর হযরত ওবায়দা রা. গুরুতর আহত অবস্থায় রণক্ষেত্র থেকে ফিরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে শাহাদত বরণ করেন।

-সহীহ বুখারী ২/৫৬৫; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৩৪০; মাআরিফুল কুরআন ৬/২৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

এক ব্যক্তি দু’বছর পূর্বে তার এক আত্মীয়ের বদলী হজ্ব করেছে।...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি দু’বছর পূর্বে তার এক আত্মীয়ের বদলী হজ্ব করেছে। তখন তার উপর হজ্ব ফরয ছিল না। এখন তার কাছে হজ্ব করার মতো টাকা-পয়সা আছে। হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। জানার বিষয় এই যে, এখন কি তাকে হজ্ব করতে হবে, না পূর্বে যে বদলী হজ্ব করেছিল তাই তার জন্য যথেষ্ট হবে?

উত্তর

তাকে এখন নিজের ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে। অন্যের বদলী হজ্ব করার দ্বারা নিজের ফরয হজ্ব আদায় হয় না।

সহীহ বুখারী ১/২০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; মাবসূত সারাখসী ৪/১৪৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৭৩; হেদায়া ২/২৯৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৫; ফাতহুল কাদীর ৩/৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে যখন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে তখন সে গোটা...

প্রশ্ন

শুনেছি, কিয়ামতের পূর্বে যখন দাজ্জালের আবির্ভাব হবে তখন সে গোটা পৃথিবী চষে বেড়াবে। শুধু মক্কা-মদীনায় যেতে পারবে না। এ সম্পর্কিত কোনো হাদীস থাকলে তা সবিস্তারে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি সঠিক। দাজ্জাল মক্কা মুকাররমা এবং মদীনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করতে পারবে না। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসে তা বিদ্যমান রয়েছে।

হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, এমন কোনো ভূখণ্ড নেই, যা দাজ্জালের পদভারে মথিত হবে না। তবে মক্কা ও মদীনায় সে প্রবেশ করতে পারবে না। সে কোনো দিক দিয়ে মদীনায় যাওয়ার সুযোগ পাবে না। যেদিকেই যাবে সেদিকেই ফেরেশতাগণকে সারিবদ্ধভাবে মদীনার হেফাযতে প্রহরারত থাকবেন। এরপর মদীনা তার অধিবাসীসহ তিনবার প্রকম্বিত হবে। যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা মদীনা থেকে সকল কাফের এবং মুনাফিককে বের করে দিবেন। (সহীহ বুখারী ১/২৫৩)

আরো দেখুন : সহীহ বুখারী, হাদীস ৭১২৪; ফাযাইলুল মদীনা ১/২৫৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৯৪২; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৬৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনাব ইসহাক সাহেব এ বছর পবিত্র হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কা...

প্রশ্ন

জনাব ইসহাক সাহেব এ বছর পবিত্র হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কা মুকাররমায় গমন করেন। তিনি আল্লাহর মেহেরবানিতে হজ্বের সকল কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেন। কিন্তু সর্বশেষ তওয়াফে যিয়ারতের পূর্বে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার দরুণ নির্দিষ্ট সময়ে তার পক্ষে তাওয়াফ করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে তিনি সৌদিতে এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কয়েক দিন পর তার দেশে ফিরতি ফ্লাইট। কিন্তু তিনি এখনও পূর্ণ সুস্থ হননি। তাকে তাওয়াফে যিয়ারত করতে হবে কি? তাওয়াফ না করে দম দেওয়া কি যথেষ্ট? বিলম্বের কারণে তার উপর দম ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর

তাওয়াফে যিয়ারত ফরয। তাই যেভাবেই হোক বিলম্বে হলেও তা আদায় করতে হবে। অসুস্থ অবস্থায় পায়ে হেঁটে না পারলে হুইল চেয়ারে বা যেভাবে সম্ভব আদায় করা যাবে। অন্যথায় সুস্থ হওয়ার পর আদায় করবে। আর তাওয়াফে যিয়ারতের শেষ সময় হল ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত। অসুস্থতার কারণে এ সময়ের ভিতর তাওয়াফ সম্পন্ন করা কোনোভাবে সম্ভব না হলে পরে যখন সম্ভব হয় আদায় করবে। এক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে কোনো দম বা কিছুই দিতে হবে না। কিন্তু যদি কোনোভাবে নির্ধারিত সময়ের ভেতর আদায় করা সম্ভব হয় তাহলে সেক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে দম দিতে হয়।

সহীহ বুখারী ১/২২১; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮/১৩২, হাদীস ১৩৩০৩; মাবসূত সারাখসী ৪/৪৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৪৯; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী পৃ. ৩৪৮; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ২৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৪৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫১৮, ৫১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

লটারির মাধ্যমে পাওয়া টাকা দ্বারা হজ্ব করা জায়েয আছে কি...

প্রশ্ন

লটারির মাধ্যমে পাওয়া টাকা দ্বারা হজ্ব করা জায়েয আছে কি না?

উত্তর

কোন ধরনের লটারির মাধ্যমে টাকা পেয়েছেন তা স্পষ্ট করে লিখুন। লটারির অবস্থাভেদে হুকুমের ভিন্নতা রয়েছে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমরা শোনেছি যে, মিনায় অবস্থিত মসজিদে খাইফে সত্তরজন নবী নামায...

প্রশ্ন

আমরা শোনেছি যে, মিনায় অবস্থিত মসজিদে খাইফে সত্তরজন নবী নামায আদায় করেছেন। একথা কি সঠিক? প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হ্যাঁ, একথা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে মারফূ হাদীসে এসেছে যে, মসজিদে খাইফে সত্তরজন নবী নামায আদায় করেছেন।

তাবারানী আওসাত ৬/১৯৩ হাদীস : ৫৪০৩; আখবারে মক্কা ২/১৭৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৬৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তি হজ্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ বছর হজ্ব এজেন্সীর কাছে...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্বে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এ বছর হজ্ব এজেন্সীর কাছে টাকা জমা করেছিলেন। গত সপ্তাহে হঠাৎ তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন জানতে চাই, তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্বের জন্য প্রেরণ করা জরুরি কি না? ওয়ারিসগণ কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব না করিয়ে এ টাকা নিজেরা নিতে পারবে কি না? প্রকাশ থাকে যে, মৃত ব্যক্তি হজ্ব করার ব্যাপারে কোনো ওসিয়ত করে যাননি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওয়ারিসদের উপর মৃতের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করানো জরুরি নয়। ওয়ারিসগণ মৃতের সকল পরিত্যক্ত সম্পদের এমনকি হজ্ব এজেন্সির নিকট জমা দেওয়া ঐ টাকারও মালিক হয়ে গেছে। অবশ্য সকল ওয়ারিশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে চাইলে মৃতের পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করাতে পারে। তবে ওয়ারিশদের মধ্যে নাবালেগ থাকলে এক্ষেত্রে তার সম্পদ নেওয়া যাবে না।

রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৯; ফাতহুল কাদীর ৩/৭৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি ইহরাম অবস্থায় একদিন পায়ের গোছা খুব চুলকিয়েছিলাম। এতে আমার...

প্রশ্ন

আমি ইহরাম অবস্থায় একদিন পায়ের গোছা খুব চুলকিয়েছিলাম। এতে আমার পায়ের ৬-৭টা পশম পড়ে যায়। এতে কি কোনো কাফফারা দিতে হবে?

উত্তর

ঐ কারণে আপনার উপর একটি ফেতরা পরিমাণ খাদ্য-শস্য বা তার মূল্য সদকা করা ওয়াজিব এবং তা হেরেম এলাকার গরীবদেরকে দেওয়া উত্তম।

বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২২; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৩২৭; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ২৬৩, ২৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি নফল হজ্ব আদায়ের ইচ্ছা করলে আমার বৃদ্ধ পিতা বললেন,...

প্রশ্ন

আমি নফল হজ্ব আদায়ের ইচ্ছা করলে আমার বৃদ্ধ পিতা বললেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ হতে উমরা করি। এরপর আমি তামাত্তুর নিয়তে বাবার কথামতো প্রথমে তার পক্ষ হতে উমরা আদায় করেছি এরপর যথানিয়মে হজ্ব করেছি। জানার বিষয় হল, উক্ত পদ্ধতিতে হজ্ব আদায় করা শুদ্ধ হয়েছে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় ঐ হজ্বটি তামাত্তুই হয়েছে। ঐভাবে তামাত্তু করাটা দোষণীয় নয়।

গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ২১৪; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃৃ. ২৮৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমার হজ্ব করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু হজ্ব করার মতো টাকা...

প্রশ্ন

আমার হজ্ব করার খুব ইচ্ছা। কিন্তু হজ্ব করার মতো টাকা আমার নেই। তাই আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে টাকা করয করে হজ্ব করি। আর টাকাগুলো কয়েক বছরে আদায় করে দিয়েছি। বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো যে, আমি হজ্ব করতে পারি। প্রশ্ন হল, অসচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব ফরয হজ্ব হিসাবে আদায় হয়েছে কি না? স্বচ্ছল অবস্থায় কি পুনরায় হজ্ব করতে হবে?

উত্তর

অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি ফরয হজ্ব হিসাবেই আদায় হয়েছে। পরবর্তীতে হজ্ব করলে তা নফল হিসাবে আদায় হবে।

বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪১; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

জনৈক ব্যক্তি হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধার পর বাড়িতে থাকা অবস'ায়...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি হজ্বের জন্য ইহরাম বাঁধার পর বাড়িতে থাকা অবস'ায় একটি মুরগি যবাই করেছে। তার এক চাচা বলল, তুমি মুহরিম অবস'ায় মুরগি যবাই করার কারণে তোমার দম দেওয়া লাগবে। জানতে চাই, তার চাচার কথা কি সঠিক?

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা সঠিক নয়। মুহরিম ব্যক্তির জন্য হাঁস-মুরগি তথা গৃহপালিত পশু-পাখি যবাই করা নাজায়েয নয়। ইহরাম অবস'ায় বন্য পশু-পাখি শিকার করা নিষিদ্ধ।

-আলমাবসুত সারাখসী ৪/৯৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৯০; হাশিয়া তহতাবী আলাদ্দুর ১/৫৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

একবার আমি ও আমার এক বন্ধু হজ্ব করার জন্য রওয়ানা...

প্রশ্ন

একবার আমি ও আমার এক বন্ধু হজ্ব করার জন্য রওয়ানা হলাম এবং মক্কা শরীফে পৌঁছে হজ্বের সময় হজ্বের কাজ শুরু করলাম। ঘটনাক্রমে একদিন আমার বন্ধু এমন একটি কাজ করল যার ফলে তার উপর দম ওয়াজিব হয়, কিন' আমার বন্ধু চাচ্ছে যে, দমটা অর্থাৎ পশু যবাইটা সেখানে না দিয়ে দেশের বাড়িতে দিবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, তার জন্য কি বাড়িতে এসে দম দেওয়া ঠিক হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

দম হরমের ভিতরে দেওয়া জরুরি। হরমের বাইরে দমের নিয়তে পশু যবাই করলে তা দ্বারা দম আদায় হবে না। এখন কারো মাধ্যমে সেখানে দম দেওয়ার ব্যবস'া করলেও চলবে। নিজের যাওয়া জরুরি নয়।

নয়।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৮/৬৯১; ফাতহুল কাদীর ২/৪৫২; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭৪; হাশিয়া তহতাবী আলালমারাকী পৃ. ৪০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি গত বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করি এবং ইহরামের কাপড়ও...

প্রশ্ন

আমি গত বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করি এবং ইহরামের কাপড়ও খরিদ করি, কিন' আমার সে বছর হজ্ব করার তাওফীক হয়নি। এই বছর আমার হজ্ব করার তাওফীক হয় এবং আমি ঐ পুরাতন ইহরামের কাপড় দিয়েই হজ্ব আদায় করি। এখন আমার জানার বিষয় এই যে, পুরাতন ইহরামের কাপড় পরে হজ্ব আদায় করার কারণে আমার হজ্বের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইহরামের জন্য নতুন কাপড় জরুরি নয়। পুরাতন কাপড়ও যথেষ্ট। তাই ঐ কাপড়ে হজ্ব আদায় করা সহীহ হয়েছে। কোনো ত্রুটি হয়নি।

হয়নি।-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৪; মাবসূত সারাখসী ৪/৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৯৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৮-৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২২০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমাদের এলাকায় এক লোক হজ্ব ফরয হওয়ার পর তা আদায়ের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক লোক হজ্ব ফরয হওয়ার পর তা আদায়ের আগেই ইনে-কাল করেন। এখন তার ওয়ারিশগণ তার পক্ষ থেকে হজ্ব আদায় করতে চাচ্ছেন। জানতে চাই

ক) ঐ ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের অসিয়ত করে গেলে তার এলাকা থেকেই লোক পাঠিয়ে হজ্ব করানো জরুরি, নাকি মক্কায় অবস'ানরত কাউকে দিয়ে হজ্ব করালেও তা আদায় হয়ে যাবে?

খ) অসিয়ত না করলে ওয়ারিশগণ স্বেচ্ছায় তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে হজ্ব করাতে চাইলে হজ্ব করাতে পারবে কি না এবং এর জন্য তার এলাকা থেকে কাউকে পাঠানো জরুরি, নাকি অন্য এলাকা থেকেও কারো মাধ্যমে হজ্ব করাতে পারবে?

উত্তর

(ক) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির অনাদায়ী ঋণ থাকলে প্রথমে তার সম্পদ থেকে তা আদায় করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে বদলী হজ্বের ঐ অসিয়তটি পূর্ণ করতে হবে। এক তৃতীয়াংশ সম্পদ দ্বারা মৃতের এলাকা থেকে হজ্বের জন্য প্রেরণ করা সম্ভব হলে তার এলাকা থেকেই প্রেরণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে মক্কা কিংবা সৌদী আরবে অবস'ানরত কাউকে দিয়ে হজ্ব করালে অসিয়ত আদায় হবে না। কিন' এক তৃতীয়াংশ সম্পদ দ্বারা যদি তার এলাকা থেকে হজ্ব করানো সম্ভব না হয় তাহলে ঐ টাকা দিয়ে যেখান থেকে হজ্ব করানো যায় সেখান থেকেই করাবে। অবশ্য ওয়ারিশগণ চাইলে এক্ষেত্রে নিজ সম্পদ থেকে কিছু দিয়ে মৃতের এলাকা থেকে প্রেরণের ব্যবস'া করতে পারবে।

উত্তর : (খ) মৃত ব্যক্তি হজ্বের অসিয়ত না করে থাকলেও ওয়ারিশগণ তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্ব করাতে পারবে। এক্ষেত্রে মৃতের অবন্টিত পরিত্যক্ত সম্পদ দ্বারা বদলী হজ্ব করাতে চাইলে দু’টি শর্ত জরুরিভাবে লক্ষণীয়। ১. সকল ওয়ারিশদের স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি থাকতে হবে। ২. ওয়ারিশদের কেউ নাবালেগ থাকলে কিংবা কারো সম্মতি না থাকলে তার অংশ থেকে নেওয়া যাবে না। আর অসিয়ত না করলেও মৃতের এলাকা থেকেই বদলী হজ্ব করানো উত্তম। তবে এক্ষেত্রে অন্য কোনো দেশ থেকে যেমন সৌদি আরবের কোনো এলাকা থেকেও হজ্ব করানোর সুযোগ আছে।

আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৮০; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪৪০; মাবসূত সারাখসী ৪/১৫৪; আততাজরীদ ৪/১৬৪১; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩০৭; গুনইয়াতুন নাসিক পৃ. ৩২৯; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৫/৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমার দাদার বয়স ষাট বছর। কয়েক বছর আগে হঠাৎ তিনি...

প্রশ্ন

আমার দাদার বয়স ষাট বছর। কয়েক বছর আগে হঠাৎ তিনি দূরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখনও তিনি ফরয হজ্ব আদায় করেননি। তাই তিনি হজ্ব নিয়ে খুব চিন্তিত হয়ে পড়েন। বলে উঠেন, আল্লাহ যদি আমাকে সুস্থতা দান করেন তাহলে আমি আগামী বছর হজ্ব করব। সুস্থ হয়ে পরের বছর তিনি হজ্ব করেছেন। এখন তার ফরয হজ্বটি কি আদায় হয়েছে, না তাকে আবার হজ্ব করতে হবে? বিষয়টি স্পষ্ট করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার দাদা যদি ফরয হজ্ব ব্যতীত অন্য কোনো হজ্বের নিয়ত না করে থাকেন তাহলে তা ফরয হজ্বই আদায় হয়েছে। তাকে নতুন করে ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৬৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি এবং আমার স্ত্রী উভয়ে হজ্ব করার নিয়ত করেছি। আমরা...

প্রশ্ন

আমি এবং আমার স্ত্রী উভয়ে হজ্ব করার নিয়ত করেছি। আমরা জানি যে, বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করার ক্ষেত্রে প্রথম তিন তাওয়াফে রমল করতে হয়। কিন্তু এক হাজী সাহেবকে বলতে শুনেছি, মহিলারা রমল করবে না। তাই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিতে আছি। মুফতী সাহেবের নিকট আমার বিনীত আবেদন এই যে, দয়া করে মহিলাদের রমল সম্পর্কিত হুকুম কি জানাবেন।

উত্তর

উক্ত হাজী সাহেব ঠিকই বলেছেন। তাওয়াফের মধ্যে রমল করার হুকুম শুধু পুরুষের জন্য, মহিলার জন্য নয়। মহিলারা রমল করবে না। আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করা এবং সাফা-মারওয়া সায়ী করার ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য রমল নেই।

-সুনানে দারা কুতনী ২/২৯৫; কিতাবুল আসল ২/৩৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি একজন সরকারী চাকুরিজীবী। গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। হজ্বের...

প্রশ্ন

আমি একজন সরকারী চাকুরিজীবী। গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। হজ্বের বিভিন্ন আমল করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই। এরপর ১০ই যিলহজ্ব কংকর নিক্ষেপ করতে গিয়ে প্রচন্ড ভিড় দেখে বাসায় ফিরে আসি। পরবর্তীতে অলসতা করে বাকি দিনগুলোতে আর কংকর নিক্ষেপ করতে যাইনি। এখন আমার করণীয় কী? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

যিলহজ্ব মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ নির্ধারিত সংখ্যক কংকর নিক্ষেপ করা হজ্বের অন্যতম ওয়াজিব। ভিড়ের কারণে বা অন্য কোনো ওজরে যদি কেউ দিনে নিক্ষেপ করতে না পারে তাহলে রাতে হলেও তা নিক্ষেপ করতে হবে, অন্যথায় দম ওয়াজিব হবে।

প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী আপনার কর্তব্য ছিল ভিড় কমার পর জামারাতে গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা। ইচ্ছাকৃতভাবে এ ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়াটা অন্যায় হয়েছে। এজন্য আপনাকে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে এবং হেরেমের এলাকার মধ্যে একটি দম (একটি ছাগল, দুম্বা অথবা উট বা গরুর এক সপ্তমাংশ) দিতে হবে। যদি আপনি দেশে এসে গিয়ে থাকেন তবে কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকায় দম আদায়ের ব্যবস্থা করবেন।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৩২৭; গুনইয়াতুন নাসিক ১৮২; মানাসিক ৩৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। ইহরাম অবস্থায় একদিন হোঁচট খেয়ে...

প্রশ্ন

আমি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। ইহরাম অবস্থায় একদিন হোঁচট খেয়ে পড়ে যাই। ফলে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখটির বেশিরভাগ ভেঙ্গে যায়। ওটা ঝুলে থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই কেটে ফেলে দিই। এতে কি আমার উপর কোনো দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছিল? কুরআন-হাদীসের আলোকে জানাবেন।

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় ভেঙ্গে যাওয়া নখ কেটে ফেলার অনুমতি আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ভাঙ্গা নখটি কেটে ফেলার কারণে আপনার উপর কোনো কিছু ওয়াজিব হয়নি। এক বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, ইহরাম অবস্থায় নখ ভেঙ্গে গেলে কেটে ফেলবে।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৫৩, হাদীস : ১২৯০৩; মুয়াত্তা মালেক ১৩৯; কিতাবুল আছল ২/৪৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছি। এ বছর আমি...

প্রশ্ন

আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে অনেক অর্থ-সম্পত্তির মালিক হয়েছি। এ বছর আমি ও আমার আম্মু হজ্বে যাব। আমার এক ছোট ভাই আছে। সে এখনও সাবালক হয়নি। তবে এতটুকু বুঝমান যে, আমাদের দেখাদেখি হজ্বের সকল বিধি-বিধান পালন করতে পারবে। এখন সে আমাদের সাথে হজ্ব করলে বালেগ হওয়ার পর তাকে পুনরায় হজ্ব করতে হবে কি?

উত্তর

নাবালেগের উপর হজ্ব ফরয নয়। নাবালেগ অবস্থায় হজ্ব করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। তাই নাবালেগ অবস্থায় হজ্ব করলে বালেগ হওয়ার পর হজ্ব করার সামর্থ্য থাকলে নিজের ফরয হজ্ব করা জরুরি হবে।

-মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস : ১৮১২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ৩০৫০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৩; মানাসিক ৩৭; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমার এক প্রতিবেশী বেশ অর্থ-সম্পদের মালিক। হজ্বের ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন...

প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী বেশ অর্থ-সম্পদের মালিক। হজ্বের ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তার হজ্বে যাওয়া পিছিয়ে যাচ্ছিল। গতবার ঠিক করেছিলেন হজ্বে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে বদলি হজ্বের ওসিয়ত করে যেতে পারেননি। এখন তার ছেলে পিতার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করাতে চায়। অসিয়ত ছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করা জায়েয আছে কি? এবং এর মাধ্যমে মাইয়্যেতের জিম্মায় থাকা ফরয হজ্ব আদায় হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলেও তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করা জায়েয এবং এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জিম্মায় থাকা ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাওয়ার আশাও করা যায়। তবে এক্ষেত্রে যারা উদ্যোগ গ্রহণ করবে হজ্বের ব্যয়ভার তাদের জিম্মায় থাকবে। মৃত ব্যক্তির ইজমালি সম্পদ থেকে তা নেওয়া যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা রাহ. তার পিতা বুরাইদাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে আরজ করলেন যে, আমার মা হজ্ব না করেই মৃত্যু বরণ করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করতে পারি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব কর।-জামে তিরমিযী ২/২৫৭, হাদীস : ৯২৯

প্রকাশ থাকে যে, হজ্ব ইসলামের অন্যতম ফরয বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য বিলম্ব না করে তা আদায় করে নেওয়া জরুরি। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিলম্ব করা গুনাহ।

-কিতাবুল আছল ২/৫১১; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৪; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমার হজ্ব করার খুবই শখ কিন্তু হজ্ব করার মতো টাকা...

প্রশ্ন

আমার হজ্ব করার খুবই শখ কিন্তু হজ্ব করার মতো টাকা নেই। তাই আমার এক বন্ধুর কাছ থেকে টাকা করয করে হজ্ব আদায় করি। টাকাগুলো কয়েক বছরে আদায় করে ফেলি। বর্তমানে আমার আর্থিক অবস্থা খুব ভালো যে, আমি হজ্ব করতে পারি।

মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই যে, আমার অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্ব ফরয হজ্ব হিসাবে আদায় হয়েছে কি? স্বচ্ছল অবস্থায় কি পুনরায় হজ্ব করতে হবে?

উত্তর

অস্বচ্ছল অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি ফরয হজ্ব হিসাবেই আদায় হয়েছে। এখন হজ্ব করলে তা নফল হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৪; মানাসিকে মোল্লা আলী পৃ. ৪২; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি হজ্বের এহরাম অবস্থায় একদিন পায়ের গোছা খুব চুলকাই। এতে...

প্রশ্ন

আমি হজ্বের এহরাম অবস্থায় একদিন পায়ের গোছা খুব চুলকাই। এতে আমার ৬/৭টি পশম পড়ে যায়। জানতে চাই যে, এতে কি আমার কোনো কাফফারা দিতে হবে? দিতে হলে তা কি দেশে দেওয়া যাবে?

উত্তর

উক্ত কারণে আপনার উপর একটি ফেতরা পরিমাণ খাদ্যশস্য বা তার মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। এই সদকা আপনি এখানেও আদায় করতে পারেন। তবে ‘হরম’ এলাকায় দেওয়া উত্তম।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২২; মানাসিকে মুল্লা আলী পৃ. ৩২৭; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ২৬৩,২৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আমি আমার বাবা-মার সাথে হজ্ব করেছি। তখন আমি নাবালেগ ছিলাম,...

প্রশ্ন

আমি আমার বাবা-মার সাথে হজ্ব করেছি। তখন আমি নাবালেগ ছিলাম, আমার বয়স নয় বছর ছিল। বর্তমানে বড় হয়েছি এবং হজ্ব করার মতো আর্থিক সঙ্গতিও আছে। জানিয়ে বাধিত করবেন যে, নাবালেগ অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি ফরয হিসাবে গণ্য হয়েছে কি?

উত্তর

নাবালেগ অবস্থায় আদায়কৃত হজ্বটি নফল হয়েছে। তা দ্বারা আপনার ফরয হজ্ব আদায় হয়নি। তাই আপনাকে এখন ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে।

-মানাসিকে মুল্লা আলী পৃ. ৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৫; গুনয়াতুন নাসিক পৃ. ১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

আসসালামু আলাইকুম। মেহেরবানী করে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর কুরআন-হাদীস অনুযায়ী যথার্থ উত্তর...

প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম। মেহেরবানী করে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর কুরআন-হাদীস অনুযায়ী যথার্থ উত্তর প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

ক : বদলি হজ্ব করার জন্য যার পক্ষ থেকে হজ্ব করা হবে ইহরাম বাধার সময় তার পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে। কিন্তু মক্কা শরীফে পৌঁছার পর কা’বা ঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাঈ করা, মিনায় জামারাসমূহে কংকর নিক্ষেপ করার সময় প্রতিটি কাজেই যার পক্ষ থেকে হজ্ব করা হচ্ছে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে কি না? আর যদি ঐসব প্রতিটি কাজে তার পক্ষ থেকে নিয়ত করা দরকার না হয় অথচ কেউ বদলী হজ্ব করার সময় প্রতিটি কাজেই তার পক্ষ থেকে নিয়ত করে আদায় করে তবে হজ্বের কোনো ক্ষতি হবে কি না?

খ) পিতা-মাতা, স্ত্রী-সন্তান, ভাই-বোন বা অন্য কারো পক্ষ থেকে বাইতুল্লাহ শরীফ (কা’বা ঘর) নফল তওয়াফ এবং নফল উমরা হজ্ব আদায় করলে যার পক্ষ থেকে আদায় করা হবে তার পক্ষ থেকেই নিয়ত করা কর্তব্য বা উচিত কি না। আর যদি এরূপ সঠিক না হয় তবে সঠিক নিয়ম বা পদ্ধতি কী? তাদের পক্ষ থেকে নিয়ত করে আদায় করলে কি ভুল হবে বা আদায় হবে না?

গ) ইহরামের কাপড় এবং ইহরাম অবস্থায় ব্যবহৃত অন্যান্য কাপড় যেমন গলায় রাখার ব্যাগ, বেল্ট, টাকা রাখার ব্যাগ ইত্যাদি জেট পাউডার, হুইল পাউডার বা এ জাতীয় কোনো সাবান বা পাউডার দ্বারা ধুয়ে হজ্বে ব্যবহার করা যাবে কি না?

ঘ) ঢাকা শহরের সাপ্লাই করা পানির স্বাদ ও রং মোটামুটি ঠিক বা কোনো কোনো সময় সামান্য ঘোলাটেও হয় এবং সামান্য দুর্গন্ধ লাগে। সেই পানি দ্বারা অযু করা, কাপড় ধোয়া ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যববহার করা কেমন? আর শহরে বসবাস করে ঐ পানি ব্যবহার করা ব্যতীত বিকল্প কোনো উপায়ও নেই। এ ব্যাপারে বিস্তারিতভাবে জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।

ঙ) বর্তমানে ঢাকা শহরে বা সব জায়গাতেই গোসল খানা ও পায়খানা একই কক্ষে বা রুমে থাকে। পায়খানা বা লেট্রিনের কাজের জন্য একটি পানির ট্যাপ এবং গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য আলাদা পানির ট্যাপ থাকে। আর সেই জায়গাগুলো সাধারণত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। তবে কদাচিত লেট্রিনের গ্যাসের সামান্য দুর্গন্ধ দেখা দেয়। এ অবস্থায় এরূপ গোসলখানায় অযু-গোসলের দুআ উচ্চারণ করে পড়া কেমন?

চ) অনেক মসজিদে মূল মসজিদের বাইরে বড় বারান্দা বা চত্বর থাকে। কোনো কোনো মসজিদ দোতলা বা তিন তলায়। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদে ঢোকার দুআ কোনখানে পড়তে হবে?

ছ) গরু-ছাগল লালন-পালনের জন্য ভাগে দেওয়া কেমন? এ ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশ কী?

জ) কোনো অসুস্থ লোকের যে কোনো কারণে গোসল ফরয হলে এবং গোসল করা সম্ভব না হলে প্রতি ওয়াক্ত নামায আদায়ের জন্য ফরয গোসল ও অযুর জন্য আলাদাভাবে তায়াম্মুম করতে হবে কি না?

ঝ) মুখের থুথু বা সর্দি হাতে বা কাপড়ে লাগলে শরীয়তের বিধান কী? আঙ্গুলের মাথায় মুখের থুথু লাগিয়ে কুরআন শরীফের পাতা উল্টানো কেমন?

উত্তর

ক) শুধু ইহরামের সময় উক্ত নিয়ত করা যথেষ্ট। প্রতিটি কাজের জন্য ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রেরণকারীর পক্ষ থেকে নিয়ত করতে হবে না। তবে এভাবে নিয়ত করলেও হজ্বের কোনো ক্ষতি হবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৯৮

খ) যে কোনো নফল আমলের সওয়াব অন্যকে দিতে চাইলে আমল করার সময়ও তাকে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে করা যেতে পারে। আবার আমল সম্পন্ন করার পরও উক্ত আমলের সওয়াব তাকে পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। সুতরাং নফল তাওয়াফ বা উমরার সওয়াবও কাউকে দিতে চাইলে তা আদায় করার সময় যেমন ঐ ব্যক্তির পক্ষ থেকে আদায়ের নিয়ত করা যাবে তেমনি আদায়ের পরও তাকে সওয়াব পৌঁছে দেওয়ার নিয়ত করা যাবে। উভয় অবস্থায়ই সে উক্ত আমলের সওয়াব পেয়ে যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ৩/৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৫

গ) ইহরাম অবস্থায় মুহরিমের জন্য জেড পাউডার, হুইল পাউডার বা এ জাতীয় যে কোনো সুগন্ধিযুক্ত পাউডার কিংবা সুগন্ধিযুক্ত সাবান কোনো কাজে ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে ইহরামের পূর্বে এ ধরনের পাউডার বা সাবান দ্বারা ধোয়া কাপড় বা অন্যান্য আসবাবপত্র হজ্বে তথা ইহরাম অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ৩/২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১৫; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৮৭

ঘ) ওয়াসার সাপ্লাই করা পানি তখনই নাপাক বলে গণ্য হবে যখন তার দুর্গন্ধ বা রং ইত্যাদি থেকে নাপাকি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত বলে মনে হবে। অন্যথায় শুধু সামান্য দুর্গন্ধ বা সামান্য ঘোলাটে হলেই সন্দেহের ভিত্তিতে তা নাপাক বলা যাবে না। কারণ এখানে নাপাকির মিশ্রণ ছাড়াও দুর্গন্ধ বা ঘোলাটে হওয়ার ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। সুতরাং যতক্ষণ তা নিশ্চিত নাপাকি বলে মনে না হবে ততক্ষণ তা অযু-গোসল বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা যাবে।-আলবাহরুর রায়েক ১/৮৬; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৮৬

ঙ) গোসলখানা যদি বড় হয় এবং টয়লেটের প্যান বা কমোড অযুর বেসিন বা ট্যাপ থেকে কিছুটা দূরত্বে থাকে তাহলে সেখানে অযু-গোসলের সময় দুআ পড়া যাবে। আর যদি একই জায়গায় হয় তবে মুখে উচ্চারণ না করে মনে মনে দুআ পড়ার অবকাশ রয়েছে।-মাআরিফুস সুনান ১/৭৭; রদ্দুল মুহতার ১/৩৪৪

চ) মসজিদে প্রবেশের দুআ যেখান থেকে মসজিদের অংশ শুরু সেখানে প্রবেশের সময়ই পড়বে। চাই তা বারান্দা বা দোতলা-তিন তলা যাই হোক না কেন। অবশ্য আমাদের দেশে বারান্দাগুলো সাধারণত মসজিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে চত্বর মসজিদের অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই এর ব্যতিক্রম হলে মসজিদ কর্তৃপক্ষের উচিত হবে তারা যেন মসজিদ শুরুর সীমানা এমনভাবে চিহ্নিত করে রাখেন, যাতে সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।-আলবাহরুর রায়েক ২/৩৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৫৭

ছ) গরু-ছাগল ভাগে দেওয়ার প্রচলিত অনেক পন্থাই নাজায়েয। আপনি সুনির্ধারিত কোনো পন্থার কথা উল্লেখ করেননি। তবে কারো নিকট গরু-ছাগল পালতে দিয়ে তাকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক প্রদান করলে সে কারবার জায়েয।

জ) গোসলের জন্য তায়াম্মুম করার পর নতুন করে আবার গোসল ফরয না হলে যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত ওযর বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঐ তায়াম্মুমই যথেষ্ট। তবে উক্ত তায়াম্মুমের পর অযু ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া গেলে শুধু অযু করে নিতে হবে। আর যদি অযু করতেও সক্ষম না হয় তাহলে অযুর পরিবর্তে তায়াম্মুম করে নিবে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৩২

ঝ) মানুষের থুথু ও সর্দি নাপাক নয়। অতএব তা শরীর বা কাপড়ে লেগে গেলে নাপাক হবে না। আর আঙ্গুলের মাথায় থুথু লাগিয়ে কুরআন শরীফের পৃষ্ঠা উল্টানো যদিও নাজায়েয নয় তবে এমনটি করা অনুচিত।-সহীহ বুখারী ১/৩৮; ফাতহুল বারী ১/৪২০; উমদাতুল কারী ৩/১৭৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৭৪
তারিখ: ৯/৯/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

অযু ছাড়া ওমরা বা নফল তাওয়াফ করলে করনীয় ৷

প্রশ্ন
হুজুর! আমি গতকাল একটি ওমরা করেছি৷ আমার জানা ছিল না যে, ওমরার তাওয়াফের জন্য অযু জরুরি। তাই আমি অযু ছাড়াই উমরার তাওয়াফ করেছি এবং মাঝে আরো কিছু নফল তাওয়াফও করেছি। এর মধ্যে কিছু অযু ছাড়াও করেছি। এখন আমার করনীয়? আমাকে কি এজন্য কোনো জরিমানা দিতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অযু ছাড়া উমরার তাওয়াফ করার কারণে আপনার উপর একটি দম ওয়াজিব হয়েছে। এজন্য হেরেমের সীমানায় আপনাকে একটি ছাগল বা দুম্বা জবাই করতে হবে। আর যে কয়টি নফল তাওয়াফ অযু
ছাড়া করেছেন এগুলোর প্রত্যেক চক্করের জন্য একটি করে সদকাতুল ফিতর সমপরিমাণ নির্দিষ্ট খাদ্যদ্রব্য বা এর মূল্য সদকা করতে হবে। সুতরাং আপনি যদি একটি নফল তাওয়াফ অযু ছাড়া করে থাকেন তাহলে সাত চক্করের জন্য সাতটি সদকাতুল ফিতর সমপরিমাণ নির্দিষ্ট খাদ্য বা এর মূল্য সদকা করতে হবে। এ সদকা হেরেমের এলাকায় করা উত্তম। হেরেমের বাইরে করলেও আদায় হয়ে যাবে।
-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৫৩; মানাসিক, লি মোল্লা আলী কারী ৩৫২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া৷


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৯৫৩
তারিখ: ১৪/৭/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

হজ্ব করেনি এমন ব্যক্তি দ্বারা বদলী হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন
আমি এক মসজিদের ইমাম ৷আমার মহল্লার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিসরা আমাকে তার বদলি হজ্ব করার জন্য বলছে। কিন্তু আমার উপর হজ্ব
ফরয না হওয়ার কারণে আমি নিজেই এখনো হজ্ব করিনি। জানার বিষয় হল, আমি ঐ ব্যক্তির বদলি হজ্ব
করতে পারব কি না?
উত্তর
বদলি হজ্বের জন্য উত্তম হল, এমন ব্যক্তিকে পাঠানো যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন এবং হজ্বের আহকাম ভালোভাবে জানেন। আর যে ব্যক্তি হজ্বে যায়নি এবং তার উপর হজ্ব ফরযও নয় তাকে বদলি হজ্বের জন্য পাঠানো মাকরূহ তানযিহি। তবে এমন ব্যক্তিকে দ্বারা বদলি হজ্ব করালেও হজ্ব আদায় হয়ে যাবে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৮/১৮৯; ফাতহুল কাদীর ৩/৭২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.10 render + 0.01 s transfer.