Login | Register

ফতোয়া: হজ্ব

ফতোয়া নং: ৪৮৯১
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

দাড়ি রাখা সুন্নত নাকি ওয়াজিব?

প্রশ্ন
হুজুর দাড়ি রাখা কি সুন্নত নাকি ওয়াজিব? একজন বলল গাড়ি রাখা নাকি সুন্নত ৷ এবং দাড়ি বুঝা যায় এ পরিমান রাখলেই নাকি চলবে ৷ আসলে কি তাই? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
হাদীস ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী দাড়ি রাখা ওয়াজিব। যারা সুন্নত বলে তাদের কথা সঠিক নয় ৷ কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাড়ি রাখার আদেশ করেছেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, ‘আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোঁচ কাটার ও দাড়ি লম্বা করার আদেশ করেছেন।’
ﺇﻧﻪ ﺃﻣﺮ ﺑﺈﺣﻔﺎﺀ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ ﻭﺇﻋﻔﺎﺀ ﺍﻟﻠﺤﻴﺔ -সহীহ মুসলিম ১/১২৯৷
বিভিন্ন হাদীসে আদেশের শব্দগুলোও বর্ণিত হয়েছে। যেমন- আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে
ﺧﺎﻟﻔﻮﺍ ﺍﻟﻤﺸﺮﻛﻴﻦ، ﻭﻓﺮﻭﺍ ﺍﻟﻠﺤﻰ ﻭﺍﺣﻔﻮﺍ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ
‘মুশরিকদের বিরোধিতা কর। দাড়ি বাড়াও ও মোচ কাট।’
-বুখারী ২/৮৭৫ ৷ ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে মুসলিম ১/১২৯;
ﺧﺎﻟﻔﻮﺍ ﺍﻟﻤﺸﺮﻛﻴﻦ، ﻭﺍﺣﻔﻮﺍ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ ﻭﺃﻭﻓﻮﺍ ﺍﻟﻠﺤﻰ
‘মুশরিকদের বিরোধিতা কর এবং মোচ কাট ও দাড়ি পূর্ণ কর।’
ইবনে ওমর রা.-এর সূত্রে বুখারী ২/৮৭৫, ﺍﻧﻬﻜﻮﺍ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ ﻭﺍﻋﻔﻮﺍ ﺍﻟﻠﺤﻰ মোচ উত্তমরূপে কাট এবং দাড়ি লম্বা কর। আবু হুরায়রা রা.-এর সূত্রে মুসলিম ১/১২৯,
ﺟﺰﻭﺍ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ ﻭﺍﺭﺧﻮﺍ ﺍ ﻟﻠﺤﻰ، ﺧﺎﻟﻔﻮﺍ ﺍﻟﻤﺠﻮﺱ
মোচ কাট ও দাড়ি ঝুলিয়ে দাও, অগ্নিপূজারীদের বিরোধিতা কর।’
উপরের হাদীসগুলোতে চারটি শব্দ পাওয়া গেল : ﺍﺭﺧﻮﺍ ـ ﺍﻋﻔﻮﺍ ـ ﺃﻭﻓﻮﺍ ـ ﻭﻓﺮﻭﺍ
এই সবগুলো শব্দ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লম্বা ও পূর্ণ দাড়ি রাখার
আদেশ করেছেন। সুতরাং এভাবেই দাড়ি রাখা ওয়াজিব। তবে যেহেতু হাদীস বর্ননাকারী ইবনে ওমর , আবু হুরাইরা রাঃ সহ অনেক সাহাবাগন থেকে দাড়ি এক মুষ্টি হওয়ার পর কাটা প্রামানিত আছে, তাই দাড়ি এক মুষ্টি হওয়ার পর এক মুষ্টির অতিরিক্তাংশ কাটা যাবে ৷ যেমন- বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে- ইবনে উমর (রাঃ) যখন হজ্ব অথবা উমরা করতেন, তখন তিনি দাড়ি মুঠ করে ধরে মুঠের অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলতেন।
-সহীহ বুখারী, হাদীস: ৫৮৯২; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬০
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

রাসূল সাঃ এর মে'রাজ স্বপ্নযুগে হয়েছিল নাকি স্বশরীরে জাগ্রত অবস্থায় ?

প্রশ্ন
হুজুর একটি প্রশ্ন, আমাদের নবীজি সাঃ এর মে'রাজ কি স্বশরীরে হয়েছিল নাকি স্বপ্নযুগে হয়েছিল? অনেকে বলে যে মে'রাজ স্বপ্ন এর মাধ্যমে হয়েছিল। কিন্তু আমার জানা মতে মে'রাজ হুজুর (সাঃ) এর স্বশরীরে হয়েছিল। আসলে কোনটা সঠিক? জানাবেন ৷
উত্তর
সংখ্যাগরিষ্ঠ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের মত হল, মে'রাজ নবীজি সাঃ এর জাগ্রত অবস্থায় স্বশরীরে হয়েছে। এটি ইজমায়ে উম্মত দ্বারা প্রমানিত ।
-নশরুত্তীব-৮০

আসলে রাসূল সাঃ এর ভ্রমণ দুইবার হয়েছে ৷ স্বপ্নযোগেও হয়েছে। আবার জাগ্রত অবস্থায় স্বশরীরেও
হয়েছে। প্রথমে হয়েছে স্বপ্নে। তারপর হয়েছে জাগ্রত অবস্থায় স্বশরীরে। এটাই সঠিক ৷ কারণ শুধু স্বপ্নযুগে হলে মক্কার কাফেররা আশ্চর্য হত না। কারণ স্বপ্নে মানুষ কত কিছুই দেখে ৷ এতে কেউ আশ্চর্য হয় না। সুতরাং বুঝা গেলে রাসূল সাঃ এর মে'রাজ জাগ্রত অবস্থা স্বশরীরেও হয়েছে শুধু স্বপ্নযুগে নয় ৷
-শরহুস সীরাতিন নাবাবিয়্যাহ লিইবনে হিশাম-১/২৪৪৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৪৭
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

কা'বা শরীফ, রওজা শরীফ ইত্যাদির ছবিযুক্ত জায়নামাযে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আজকাল প্রায় সব জায়নামাযেই কা‘বা শরীফ বা রওজা শরীফের ছবি আকা থাকে ৷ জানার বিষয় হলো, এসব ছবিযুক্ত জায়নামাযে নামাজ পড়া
যাবে কিনা?
উত্তর
কাবা শরীফ, রওজা শরীফ, মসজিদে নববী ইত্যাদি ইসলামের সম্মানিত স্থান এবং ইসলামের নিদর্শনাবলী ৷ আর ইসলামের নিদর্শনাবলিকে কুরআনে সম্মান করতে বলা হয়েছে ৷
আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর কেউ আল্লাহর সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে পালনকর্তার নিকট তা তার জন্যে উত্তম।
সূরা হজ্ব, আয়াত নং -৩০৷
কেউ আল্লাহর নামযুক্ত বস্তুসমুহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহভীতি প্রসূত।
সূরা হজ্ব, আয়াত নং -৩২ ৷
হে মুমিনগণ! হালাল মনে করো না আল্লাহর নিদর্শনসমূহ।
সূরা মায়িদা, আয়াত নং -২ ৷
অতএব কা'বা শরীফ, রওজা শরীফ ইত্যাদির ছবিযুক্ত জায়নামায পরিহার করা উচিত। এবং এসব জায়নামাযে নামায না পড়া উচিত ৷ কারণ অনেক সময় এসবের উপর পা রাখা হয় । ফলে এসবের অপমান করা হয় ৷
তবে এসব ছবির উপর পা না রেখে শুধু সেজদা করলে এসব জায়নামাযে নামায পড়তে কোন সমস্যা নেই ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৪৪
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

দেশের বাড়িতে দম তথা হজ্জে জরিমানার পশু জবাই করা ৷

প্রশ্ন
গত বছর আমার ফুফা হজ্জ করেন ৷ ঘটনাক্রমে একদিন আমার তিনি এমন একটি কাজ করলেন যার ফলে তাঁর উপর দম ওয়াজিব হয় ৷ কিন্তু ফুফা চাচ্ছেন যে, দমটা অর্থাৎ পশু যবাইটা সেখানে না দিয়ে দেশের বাড়িতে দিবে। তাই জানার বিষয় হল, তাঁর জন্য কি বাড়িতে এসে দম দেওয়া ঠিক হবে?
উত্তর
দম হরমের ভিতরে দেওয়া জরুরি। হরমের বাইরে দমের নিয়তে পশু যবাই করলে তা দ্বারা দম আদায় হয়
না। অতএহ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ফুফার জন্য হরমের ভিতরে দম দিতে হবে ৷ তবে কারো মাধ্যমে সেখানে দম দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও চলবে। নিজের যাওয়া জরুরি নয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৪৩
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

দেশের বাড়িতে দম তথা হজ্জে জরিমানার পশু জবাই করা ৷

প্রশ্ন
গত বছর আমার ফুফা হজ্জ করেন ৷ ঘটনাক্রমে একদিন আমার তিনি এমন একটি কাজ করলেন যার ফলে তাঁর উপর দম ওয়াজিব হয় ৷ কিন্তু ফুফা চাচ্ছেন যে, দমটা অর্থাৎ পশু যবাইটা সেখানে না দিয়ে দেশের বাড়িতে দিবে। তাই জানার বিষয় হল, তাঁর জন্য কি বাড়িতে এসে দম দেওয়া ঠিক হবে?
উত্তর
দম হরমের ভিতরে দেওয়া জরুরি। হরমের বাইরে দমের নিয়তে পশু যবাই করলে তা দ্বারা দম আদায় হয়
না। অতএহ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ফুফার জন্য হরমের ভিতরে দম দিতে হবে ৷ তবে কারো মাধ্যমে সেখানে দম দেওয়ার ব্যবস্থা করলেও চলবে। নিজের যাওয়া জরুরি নয়।
-বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৫২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৩০
তারিখ: ৪/৩/২০১৭
বিষয়: হজ্ব

নাবালেগ অবস্থায় হজ্ব করলে বালাগ হওয়ার পর পুনরায় হজ্ব করা ফরজ কি না?

প্রশ্ন
আমি ছোট বেলায় আমার আম্মু আব্বুর সাথে হজ্ব করেছি ৷ তখন সাবালক হয়নি। তবে এতটুকু বুঝমান ছিলাম যে, তাদের দেখাদেখি হজ্বের সকল বিধি-বিধান
পালন করতে পেরেছি । জানার বিষয় হলো, বালেগ হওয়ার পর আমাকে পুনরায় হজ্ব করতে হবে কিনা?
উত্তর
নাবালেগের উপর হজ্ব ফরয নয়। তাই নাবালেগ অবস্থায় হজ্ব করলে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি বালেগ হওয়ার পর হজ্ব করার সামর্থ্য থাকলে নিজের ফরয হজ্ব করা জরুরি হবে।
-সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ৩০৫০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮১; মানাসিক ৩৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৫২
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

কুরআনে বর্ণিত ঘটনার নাটক করা৷

প্রশ্ন
বর্তমানে এস এ টিভিতে একটি সিরিয়াল চলছে যা আমাদের প্রিয় নবী হযরত ইউসুফ (আ) এর জীবন কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত। এই সিরিয়াল দেখা বা এসব নাটক বানানো জায়েজ কিনা? জানালে কৃতার্থ হব।
উত্তর
কুরআনে বর্ণিত ‍বিভিন্ন ঘটনা যেমন- ইউসুফ-যুলাইখা, বদর যুদ্ধ, মক্কাবিজয়, ফেরাউনের পানিতে ডুবে মরা ইত্যাদি ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ৷ বিশেষ করে কুরআনে বর্ণিত ঘটনাগুলো আরোও বেশি গুরুত্ব রাখে। এসব ঘটনার নাটক করা , দেখা ,দেখানো কোনভাবেই জায়েয হবেনা। কেননা, তা কুরআন অবমাননার শামিল। যার কিছু দিক নিম্নে বর্ণনা করা হলো। যেমন-
১৷ কুরআনে কারীম যে আযমত ও সম্মানের বাহক তার দাবি তো হলো তাতে বর্ণিত সকল বিষয়বস্তুকে পূর্ণ আদব ও সম্মানের সাথে তার ভাষায় পড়া, শুনা ও শুনানো। এর ‍বিপরিতে নাটকনির্মাতাদের জন্য পবিত্র
কুরআনে বর্ণিত কোনো ঘটনাকে নাটকে রূপ দিয়ে তার
ভাবার্থ বুঝানোর চেষ্টা করা কুরআনে নিষিদ্ধ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরতকারী “ লাহউ ওয়া লাইব” এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরূপ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।
২৷ কোনো নাটকই ছবি মুক্ত হয়না। আর কোনো প্রাণীর ছবি বানানো, দেখা, দেখানো সবই হারাম। আর কুরআনের বিষয়বস্তুকে ছবির মাধ্যমে পেশ করা কুরআন অবমাননা ও বটে ।
৩৷ এসব নাটকের পূর্ণতা নারীদের ছাড়া হয়না। নারী ‍দিয়ে নাটকগুলো সাজানো হয়। আর নারীদের ছবি দেখা স্পষ্ট হারাম। বলাবাহুল্য, এমন একটি নাজায়েয বিষয়কে কুরআনের বিষয়বস্তু উপস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা নিতান্তই কুরআনের তাচ্ছিল্যের শামিল।
৪৷ যেকোনো সত্য ঘটনার নাটকই তাতে কিছু কিছু কাল্পনিক বিষয় প্রবেশ করানো ছাড়া সম্ভব হয়না সুতরাং কাল্পনিক কিছু বিষয়কে সংযোজন করে পুরো নাটকটাই কুরআনে বর্ণিত বলে প্রচারণা চালানো যার ফলে কুরআন ও কুরআন নয় এমন বিষয় এক হয়ে যায়। উপরন্তু এটি কুরাআনের অর্থগত বিকৃতিরও শামিল। তাই তা হারাম।
৫৷ কুরআনের উল্লিখিত ঘটনার অনেক ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার একাধিক অর্থ ও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। অকাট্যাভাবে এর কোনো একটি অর্থকে কুরআনের আসল অর্থ বলে মত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই। অথচ নাটকের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিতভাবে একটি ব্যাখ্যা ও অর্থকেই নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়। যার দ্বারা বুঝা যায়, এই আয়াতের একটিমাত্রই অর্থ । এটি একটি নাজায়েয হওয়ার কারণ।
অতএব, প্রশ্নোক্ত বিষয়ে নাটক করা, দেখা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই তা থেকে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য।
সূরা জাসিয়া ৩৫, সহীহ বোখারী ৫৬০৬,
ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ২/২৭০, ফতওয়া মাহমুদিয়া ২৯/৩২৬, আশরাফুল ফাতাওয়া ৩/৪৭৬৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393




ফতোয়া নং: ৪৬৭১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

রোবট তৈরী ও পুতুলের বিধান৷

প্রশ্ন
১) বর্তমানে কিছু রোবট মানুষের আকৃতিতে তৈরী করা হচ্ছে এগুলো কি মুর্তির পর্যায়ে পরে? ঘরে রাখা
যাবে?
2) শিশুদের খেলনা স্বরুপ যেসব পুতুল মানব আকৃতির বা অন্য প্রানীর আকৃতির সেগুলোর সম্পর্কে বিধান
কি?
উত্তর
রোবট মূলত একটি যন্ত্র। যদি সেটি যন্ত্রের পর্যায়ে রাখা হয়, তাহলে তা নির্মাণে কোন সমস্যা আছে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু যদি তাতে মানুষের আকৃতি দেয়া হয়, তাহলে অবশ্যই তা মূর্তির আওতাধীন হয়ে হারাম হয়ে
যাবে।
বিষয়টি আরো পরিস্কার করে বললে বলা যায়, যদি রোবটের চেহারা তথা চোখ, কান নাক ইত্যাদির মাধ্যমে মুখের অবয়ব না দেয়া হয়, শুধুই শরীর ইত্যাদির আকৃতি প্রদান করা হয়, তাহলে তা পূর্ণ মানুষের আকৃতি পাচ্ছে না। একটি হাদীসে প্রাণীর ছবির মাথা কেটে ফেললে তা বৈধতার পর্যায়ভূক্ত হয় বলে পরিস্কার এসেছে। সেই হিসেবে চেহারাহীন রোবটের বৈধতার অনুমতিই অনুমেয়
হচ্ছে।
মানব বা প্রাণী আকৃতির পুতুল ঘরে ঢুকানো আর মূর্তি প্রবেশ করানো একই বিধান। এসবই হারাম। বাচ্চাদের খেলনা স্বরূপও এসব মানব আকৃতি বা প্রাণীর পুতুল ব্যবহার বৈধ
নয়।
দলীল

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা নগরীতে প্রবেশ করলেন তখন বাইতুল্লাহর আশে পাশে তিনশ ষাটটি মূর্তি বিদ্যমান ছিল। তিনি প্রত্যেক মূর্তির দিকে হাতের লাঠি দিয়ে আঘাত করছিলেন এবং বলছিলেন:
‎ﺟﺎﺀ ﺍﻟﺤﻖ ﻭﺯﻫﻖ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ، ﺇﻥ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ ﻛﺎﻥ ﺯﻫﻮﻗﺎ، ﺟﺎﺀ
‎ﺍﻟﺤﻖ ﻭﻣﺎ ﻳﺒﺪﺉ ﺍﻟﺒﺎﻃﻞ ﻭﻣﺎ ﻳﻌﻴﺪ . সত্য এসেছে, মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল। সত্য আগমন করেছে আর মিথ্যা না পারে কোনো কিছু সূচনা করতে, না পারে পুনরাবৃত্তি করতে। (সহীহ বুখারী হা. ২৪৭৮, ৪২৮৭, ৪৭২০; সহীহ মুসলিম হা. ১৭৮১)

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.-এর বর্ণনায় এসেছে যে, লাঠির শুধু ইঙ্গিতের দ্বারাই মূর্তিগুলো ধরাশায়ী হচ্ছিল। [সীরাতে ইবনে হিশাম খ : ৭, পৃষ্ঠা : ১১৪ (আররওযুল উনুফ-এর সঙ্গে মুদ্রিত সংস্করণ) তারীখুল ইসলাম শামসুদ্দীন যাহাবী খ : ২ পৃষ্ঠা : ৩১৮ ইবনে ইসহাকের উদ্ধৃতিতে, দি লাইফ অব মোহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনুবাদে আলফ্রেড গিয়োম পৃ. ৫৫২] এই কথাটা হযরত জাবির রা-এর হাদীসেরও এসেছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা হাদীস : ৩৮০৬)

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহ্য় প্রবেশ করে ইবরাহীম আ. ও মারইয়াম রা.-এর ছবি দেখলেন। তখন তিনি বললেন, এঁরা তো (যাদের চিত্র এই লোকেরা অঙ্কন করেছে) (আল্লাহর এই বিধান) শুনেছেন যে, ফেরেশতারা সে গৃহে প্রবেশ করেন না, যাতে কোনো চিত্র থাকে। (সহীহ বুখারী হা. ৩৩৫১;সহীহ ইবনে হিববান হা. ৫৮৫৮)

হযরত আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে প্রেরণ করেছেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার, মূর্তিসমূহ ভেঙ্গে ফেলার এবং এক আল্লাহর ইবাদত করার ও তাঁর সঙ্গে অন্য কিছুকে শরীক না করার বিধান দিয়ে।’ (সহীহ মুসলিম
হা. ৮৩২)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
‎ﺇﻥ ﺍﻟﺬﻳﻦ ﻳﺼﻨﻌﻮﻥ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺼﻮﺭ ﻳﻌﺬﺑﻮﻥ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
‎ﻳﻘﺎﻝ ﻟﻬﻢ : ﺃﺣﻴﻮﺍ ﻣﺎ ﺧﻠﻔﺘﻢ . ‘যারা এই সব প্রতিকৃতি প্রস্ত্তত করে তাদেরকে কিয়ামতের দিন আযাবে নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে বলা হবে, যা তোমরা সৃষ্টি করেছিলে তাতে প্রাণ সঞ্চার কর।’ (সহীহ বুখারী হা. ৫৯৫১; সহীহ মুসলিম হা.
২১০৭)

মুসলিম ইবনে সুবাইহ্ বলেন- ‘আমি মাসরূকের সঙ্গে একটি ঘরে ছিলাম যেখানে মারইয়াম রা.-এর প্রতিকৃতি ছিল। মাসরূক জিজ্ঞাসা করলেন,এটা কি কিসরার প্রতিকৃতি? আমি বললাম, না, এটি মারইয়াম রা.-এর প্রতিকৃতি। তখন মাসরুক বললেন-
‎ﺳﻤﻌﺖ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﻳﻘﻮﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ
‎ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ : ﺃﺷﺪ ﺍﻟﻨﺎﺱ ﻋﺬﺍﺑﺎ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﺎﻣﺔ
‎ﺍﻟﻤﺼﻮﺭﻭﻥ . আমি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে (রা.) বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রতিকৃতি প্রস্ত্ততকারীরা কেয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন আযাবের মুখোমুখি হবে। সহীহ মুসলিম হা. ২১০৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

পিতা মাতা দাড়ি কেটে ফেলার আদেশ করলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আপনাদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জানতে পারি একমুঠ এর কম দাড়ি ছাটা কবিরা গুনাহ । কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু বিষয়ের কারণে পরিবার হতে দাড়ি ছাটার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে ।দাড়ি ছাটতে না চাইলে অপদস্থ হতে হচ্ছে । সাম্প্রতিক এক আত্মীয়কে সম্ভবত দাড়ি দেখে পুলিশ হাজতে নিয়েছে। এছাড়া এলাকাতে কিছু মানুষ কে গ্রেফতার করা হচ্ছে ইত্যাদি… এতকিছু দেখে আব্বা-আম্মা দাড়ি ছাটতে বলেছেন। এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে দাড়ি না ছাটা পর্যন্ত বিবাদ বন্ধ হবে না মনে হয় । এখন কি করতে পারি ?
উত্তর
আমাদের দেখা মতে যারা দাড়ি ছেটে ফেলে তাদেরকেই পুলিশ ধরছে জামাত ও শিবির সন্দেহে। কারণ এক মুষ্টি দাড়ি সাধারণত জামাত ও শিবিরের লোকেরা রাখে না। তারা দাড়িকে ছেটে ছোট করে রাখে। তাই বাস্তবতার দৃষ্টিতেও আপনার দাড়ি ছেটে ফেলার দাবীটি অযৌক্তিক বলেই প্রতীয়মান হয়। আরেকটি বিষয় কমপক্ষে এক মুষ্টি দাড়ি রাখা এটি ইসলামের একটি প্রতীক। মুসলমানিত্বের প্রতীক। এটি রাসূল সাঃ সহ সমস্ত সাহাবী ও উম্মতে মুসলিমার আমল। এটি রাখা ওয়াজিব।
‎ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ : ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ
‎‏( ﺧﺎﻟﻔﻮﺍ ﺍﻟﻤﺸﺮﻛﻴﻦ ﻭﻓﺮﻭﺍﺍﻟﻠﺤﻰ ﻭﺃﺣﻔﻮﺍ ﺍﻟﺸﻮﺍﺭﺏ .
‎ﻭﻛﺎﻥ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﺇﺫﺍ ﺣﺞ ﺃﻭ ﺍﻋﺘﻤﺮ ﻗﺒﺾ ﻋﻠﻰ ﻟﺤﻴﺘﻪ
‎ﻓﻤﺎ ﻓﻀﻞ ﺃﺧﺬﻩ হযরত ইবনে ওমর রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-তোমরা মুশরিকদের বিরোধীতা কর। দাড়ি লম্বা কর। আর গোঁফকে খাট কর। আর ইবনে ওমর রাঃ যখন হজ্ব বা ওমরা করতেন, তখন তিনি তার দাড়িকে মুঠ করে ধরতেন, তারপর অতিরিক্ত অংশ কেটে ফেলতেন। সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৫৫৩ আর দ্বীনে শরীয়তের বিধান পালন করার ক্ষেত্রে পিতা-মাতার শরীয়ত বিরোধী কথা মানা জায়েজ নয়। হাদীসে পরিস্কার ভাষায় এসেছে-
‎ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ، ﻋَﻦِ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ” ﻟَﺎ
‎ﻃَﺎﻋَﺔَ ﻟِﺒَﺸَﺮٍ ﻓِﻲ ﻣَﻌْﺼِﻴَﺔِ ﺍﻟﻠﻪِ হযরত আলী রাঃ থেকে বর্নিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, আল্লাহর নাফরমানীর করে কোন মানুষের আনুগত্ব করা জায়েজ নয়। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১০৬৫ সুতরাং আপনার পিতা-মাতা যতই অসন্তুষ্ট হোন না কেন, এক্ষেত্রে তাদের কথা আপনার জন্য জায়েজ হবে না। দাড়ি রাখতে হবে। আপনার পিতামাতাকে বুঝানোর চেষ্টা করুন। দ্বীনের সমঝ মনে হয় খুবই কম আপনার পিতা-মাতার। তাদেরকে দ্বীনদার বানানোর জন্য চেষ্টা ফিকির করুন। বেশি বেশি করে দুআ করুন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দুনিয়া ও আখেরাতের সকল বিপদ আপদ থেকে হিফাযত করুন। আমীন। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৫০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

সহজ ভাষায় মাযহাব ও তাক্বলীদ ও লা- মাযহাবিয়্যাতের পরিচয়৷

প্রশ্ন
আজকাল মাযহাব, তাকলিদ , মুকাল্লিদ গাইরে মুকাল্লিদ লা মাযহাবী আহলে হাদীস ইত্যাদি নাম খুব বেশি শুনা যায়৷ পরস্পরে অনেক বাকযুদ্ধ হয়৷ এদের আসল পরিচয় কি? জানিয়ে বাধিত করবেন৷
উত্তর
“মাযহাব” শব্দটি একটি স্বীকৃত শব্দ ছিল। ছিল
না কোন দাগ উক্ত শব্দে। কিন্তু ইদানিং উক্ত শব্দে নানাভিদ কালিমা লেপনের চেষ্টা করছে। ”মাযহাব” বিষয়ে উদ্ভট সব প্রশ্ন তোলে স্বতসিদ্ধ একটি বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এ অপচেষ্টার মূল কারণ দু’টি। যথা- অজ্ঞতা
কিংবা ফিতনা। মাযহাব বিষয়ে সমালোচনাকারীরা
হয়তো মাযহাব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণাই রাখেন না। কিংবা জেনেশুনে মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করার জন্য এ বিষয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আমাদের অনেকের কাছেই মাযহাব বিষয়টি অস্পষ্ট। আমরা সরল ব্যাখ্যায় উক্ত বিষয়টি উপস্থাপন করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। এ বিষয়ে পরিস্কার ধারণা পেতে হলে আমাদের পূর্ণ আলোচনাটি ধৈর্য সহকারে, গভীর মনযোগের সাথে অধ্যয়ন করতে হবে। ইনশআল্লাহ পূর্ণ আলোচনাটি পাঠের পর আশা করি এ বিষয়টি দীবালোকের ন্যায় পরিস্কার হয়ে
যাবে।
মাযহাব কী? মাযহাব শব্দের অর্থ হল, পথ। যার গন্তব্য হল কুরআন ও সুন্নাহ। আরেক শব্দে বললে, মাযহাব হল, মাধ্যম, যার গন্তব্যের নাম হল, কুরআন ও সুন্নাহ। আমরা সবাই কুরআন ও সুন্নাহ অনুপাতে আমল করতে চাই। অর্থাৎ কুরআনে বর্ণিত অজুর ফরজ, হাদীসে বর্ণিত অযুর সুন্নত, মুস্তাহাব, অযু ভঙ্গের কারণ, কুরআনও হাদীসে বর্ণিত নামাযের আরকান, ফারায়েজ, নামাযের মাসনূনাত, কতগুলি ওয়াজিব, নামায ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারণ কতগুলো? আমাদের দৈনন্দীন জীবনের জীবনঘনিষ্ট মাসায়েলের শরয়ী সমাধান কি? এসব বিষয় আমরা কুরআন ও হাদীসের রীতি অনুপাতে আমল করে আল্লাহকে খুশি করতে চাই। কিন্তু আমরা গায়রে মুজতাহিদ হবার কারণে, কুরআন খুলে স্পষ্ট শব্দে অজুর ফরজ দেখতে পাই না। হাদীস খুলে নাম্বারসহ গোসলের ফরজ, নামাযের বিবিধ মাসায়েল নাম্বারসহ, নির্দিষ্ট আকারে বের করতে পারি না। তখন আমরা মুজতাহিদ ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বের করা অযুর মাসায়েল, গোসলের মাসায়েল, নামাযের মাসায়েল ইত্যাদি নাম্বারসহ, আলাদা শিরোনাম দিয়ে দিয়ে তারা যা সংকলিত করেছেন, সেই পথনির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা আল্লাহর কুরআন ও তার নবীজী সাঃ এর সুন্নাহের অনুসরণ
করি।
তাহলে কী দাঁড়াল? আমরা মানছি কিন্তু কুরআন ও হাদীস। কিন্তু বুঝি না বলে যিনি বুঝেন, তার বের করা মাসায়েলের অনুসরণ করে মূলত কুরআন ও হাদীসেরই অনুসরণ করছি। এর নামই মাযহাবের অনুসরণ। মুজতাহিদ ইমামগণ কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যে মাসায়েলগুলো বের করে আলাদা শিরোনাম দিয়ে দিয়ে, নাম্বার দিয়ে দিয়ে আলাদা করে লিখে যা সংকলিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে বের করা সেসব মাসআলার সংকলনের নাম হল মাযহাব। তো মাযহাব অনুসরণ করে আমরা কুরআন ও সুন্নাহই মূলত অনুসরণ করছি। মূলত কোন উম্মতীকে নয়। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্কার হতে পারে। উদাহরণঃ সূর্য যখন ডুবে যায়। পৃথিবীজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার। তখন পৃথিবীর বুকে যে বস্তুগুলো আছে তা আমাদের চোখের পাওয়ার দূর্বল হবার কারণে দেখতে পাই না। তখন আমরা হ্যারিকেন, মোমবাতী, লাইট ইত্যাদি জ্বালিয়ে উক্ত বস্তুগুলোকে দেখি। আলোর ফোকাসে আমরা যা দেখতে পাচ্ছি, তা কিন্তু উক্ত আলোর ফোকাস সৃষ্টি করেনি। বরং আমাদের চোখের পাওয়ারের দুর্বলতার কারণে আগে থেকে থাকা যে বস্তুগুলো আমরা দেখতে পাচ্ছিলাম না, তা দেখি মাত্র। মোমবাতীর আলোর ফোকাস কোন কিছু তৈরী করে না, বরং দেখায়। তেমনি কুরআন ও হাদীসের ভিতরে যে মাসায়েলগুলো নাম্বার আকারে, নির্দিষ্ট আকারে লিপিবদ্ধ করা আছে, তা আমরা কুরআন ও হাদীস খুলে নিজেদের ইলমের দুর্বলতার কারণে দেখতে পাই না। যেমন অজুর ফরজ, গোসলের নির্দিষ্ট ফরজ, সুন্নাত, মাকরূহ ইত্যাদি আলাদা আলাদাভাবে নির্দিষ্ট আকারে আমরা দেখতে পাই না। কারণ আমাদের জ্ঞান কম। ইলম কম। অথচ এ মাসআলাগুলো কুরআন ও হাদীসের ভিতরে আছে। তখন আমরা মুজতাহিদ ইমামদের জ্ঞান, তাদের ইলমের প্রদীপের আলোয় কুরআন ও হাদীসের ভিতরের মাসআলাগুলোকে দেখি। যে মাসায়েলগুলো মুজতাহিদ ইমামগণ তাদের ইলম ও ফাক্বাহাতের ফোকাস দিয়ে কুরআন ও হাদীসের ভিতর থেকে বের করে উম্মতের জন্য উন্মোচিত করে দিয়েছেন। মূলত আমরা মানছি কুরআন ও সুন্নাহকে।
কিন্তু না বুঝার কারণে সহায়তা নিচ্ছি মুজতাহিদ
ইমামগণ থেকে। পরিস্কার বুঝা গেল, মাযহাবের ইমামগণ মাসআলা বানাননি, বরং তারা কুরআন ও হাদীসের ভিতর থেকে মাসআলা দেখিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে আরো পরিস্কার ধারণা রাখতে হলে আমাদের তিনটি পরিভাষা সম্পর্কে জানতে হবে। শব্দগুলো হলঃ
১-মুজতাহিদ। ২-মুকাল্লিদ। ৩-গায়রে মুকাল্লিদ।
মুজতাহিদ কাকে বলে? মুজতাহিদ ঐ ব্যক্তিকে বলে, যিনি কুরআন ও সুন্নাহ ঘেটে নিজে নিজে অজু গোসল,
নামায, হজ্ব ইত্যাদিসহ মানুষের জীবন ঘনিষ্ট
সকল মাসায়েল ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাহ, মুস্তাহাব, মাকরূহ, এসব ভেঙ্গে যাবার কারণ ইত্যাদি আলাদা আলাদা করে বের করে আমল করতে সক্ষম, উক্ত ব্যক্তিকে বলে মুজতাহিদ। অর্থাৎ যিনি নিজে নিজে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে জীবন ঘনিষ্ট যাবতীয় মাসায়েল বের করে আমল করতে পারেন, তাকে বলা হয় মুজতাহিদ। যেমন চার মাযহাবের ইমামগণ ছিলেন মুজতাহিদ। মুকাল্লিদ কাকে বলে? মুকাল্লিদ উক্ত ব্যক্তিকে বলে, যিনি নিজে নিজে কুরআন ও সুন্নাহ ঘেটে জীবন ঘনিষ্ট সকল মাসায়েল নির্দিষ্ট আকারে বের করতে পারে না, কিন্তু যিনি পারেন, সেই মুজতাহিদের বের করা মাসায়েল অনুপাতে আমল করে আল্লাহর বিধানের পাবন্দী করেন। উক্ত ব্যক্তিকে বলা হয় মুকাল্লিদ। যেমন আমরা সবাই হানাফী মাযহাবের মুকাল্লিদ। গায়রে মুকাল্লিদ কারা? যারা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিজ প্রাজ্ঞতায় জীবন ঘনিষ্ঠ সমস্ত মাসায়েল নির্দিষ্ট আকারে বের করতে পারেও না, আবার যারা পারেন, সেই মুজতাহিদের উদ্ভাবিত মাসায়েল অনুসরণও করেন না, বরং নিজে নিজে পন্ডিতী করেন, তাদের বলা হয়, গায়রে মুকাল্লিদ। তাদেরই আরেক নাম (কথিত) আহলে হাদীস। কয়েকটি উপমার মাধ্যমে বিষয়টি আরো পরিস্কার হবেঃ উপমা নং-১ সমুদ্রের তলদেশে হীরা মাণিক্য জহরত রয়েছে। যা সবারই প্রয়োজন। কিন্তু সবাই ডুবুরী নয়। ডুবুরী নিজ যোগ্যতায় ডুব দিয়ে সমুদ্রের তলদেশ থেকে হীরা মাণিক্য জহরত আহরণ করে তা ব্যবহার
করে।
আর যারা ডুবুরী নয়, তারা উক্ত ডুবুরীর মাধ্যমে উক্ত হীরা মাণিক্য সংগ্রহ করে ব্যবহার করে। যারা ডুব দিতে জানে না, তারা ডুবুরীর মাধ্যমে হীরা মাণিক্য জহরত পেয়ে ডুবুরীর জন্য দুআ করে। কিন্তু শুকরিয়ায় মাথা নত করে আল্লাহর দরবারে। আরেক দল ডুবুরী নয়। আবার ডুবুরীর কাছেও যায় না, বরং ডুব না জানা সত্বেও ডুব দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তেমনি কুরআন ও হাদীসের অভ্যন্তরে মাসায়েলের হীরা মাণিক্য জহরত লুকায়িত। মুজতাহিদ স্বীয় যোগ্যতা বলে সে মাসআলা বের করে আমল করে। আর মুকাল্লিদরা মুজতাহিদের আহরিত মাসায়েলের হীরা মাণিক্য দ্বারা আমল করে। মুকাল্লিদগণ মুজতাহিদের আহরিত মাসায়েল অনুপাতে আমল করে ইবাদত করে আল্লাহর। আর মাসায়েল সংগ্রাহক মুজতাহিদের জন্য দুআ করে। আর গায়রে মুকাল্লিদরা মুজতাহিদের কাছে না গিয়ে মাসায়েল বের করার যোগ্যতা না থাকা সত্বেও গবেষণার নামে দ্বীনের মাঝে ফিতনার সৃষ্টি করে। উপমা নং-২ কোন এলাকায় নতুন নির্মিত মসজিদের সকল মুসল্লির জন্যই অযু করতে পানি প্রয়োজন। কিন্তু সবার পক্ষে জমিন খনন করে পানি বের করে অযু করা সম্ভব নয়। তখন জমিন খনন করতে সক্ষম কোন দানবীর ব্যক্তি এসে তার মুজাহাদা মেহনত ও শ্রম দিয়ে জমিনের নিচ থেকে মুসল্লিদের জন্য পানির ব্যবস্থা করে কুপ ইত্যাদি খনন করে দেয়। খননকৃত কুপের পানি আল্লাহর সৃষ্টি করা। সেই পানি কেবল দানবীর ব্যক্তিটি স্বীয় মুজাহাদা দিয়ে প্রকাশ করে দিয়ে মুসল্লিদের উপর ইহসান করে থাকে। অনেক সময় পানি প্রকাশক উক্ত ব্যক্তির নামে কুপের নামকরণও হয়ে যায়। নামকরণ ব্যক্তির নামে হলেও সবাই জানেন উক্ত পানি জমিনের নিচে জমিনের সৃষ্টি লগ্ন থেকেই ছিল এবং পানির ¯্রষ্টা আল্লাহ তাআলা। দানবীর ব্যক্তি কেবল পানির প্রকাশক। তখন উক্ত মসজিদের মুসল্লিরা কূপের পানি দ্বারা অযু করে মসজিদে প্রবেশ করে ইবাদত করে আল্লাহর। কিন্তু যেহেতু দানবীর ব্যক্তিটি জমিনের নিচ থেকে পানি প্রকাশ করে দিয়ে মুসল্লিদের উপর ইহসান করেছে, তাই মুসল্লিগণ উক্ত পানি দিয়ে অযু করে দানবীর ব্যক্তির জন্য দুআ
করে।
তেমনি কুরআন সুন্নাহের গভীরে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন অযু, গোসল,
সালাত ইত্যাদিরর ফরজ, সুন্নত মুস্তাহাব ইত্যাদি
কুরআন ও হাদীসের সূচনালগ্ন থেকেই তাতে প্রবিষ্ট করিয়ে রেখেছেন। কিন্তু সবার পক্ষে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সেসব মাসায়েল নিজে নিজে বের করে আমল সম্ভব নয়। কিন্তু সবারই অযু করা প্রয়োজন। সবাই নামায পড়া প্রয়োজন। তখন মুজতাহিদ ইমামগণ তাদের মুজাহাদা মেহনত দিয়ে কুরআন ও হাদীসের ভিতর থেকে মাসায়েলগুলো বের করে, আলাদা আলাদা শিরোনাম দিয়ে দিয়ে, নির্দিষ্ট আকারে লিপিবদ্ধ করে উম্মতের জন্য প্রকাশ করে দিয়েছেন। তখন মুজতাহিদের অনুসারীরা সেসব মাসায়েল অনুপাতে দ্বীন পালন করে, আর মাসায়েল বের করে দিয়ে ইহসানকারী মুজতাহিদ ইমামদের জন্য দুআ করে। কিন্তু ইবাদত করে আল্লাহর। উপমা নং-৩ নামাযের ইমামগণ ইমাম হবার কারণে তারা সরাসরি আল্লাহর ইবাদত করে, আর মুসল্লিরা ইমামের অনুসরণে ইবাদত আল্লাহরই করে। কিন্তু বাহ্যিকভাবে অনুসরণ করে ইমামের। তেমনি মুজতাহিদগণ ইমাম হবার কারণে তারা সরাসরি কুরআন ও সুন্নাহ থেকে মাসায়েল বের করে আমল করেন, আর মুকাল্লিদগণ মুজতাহিদ ইমামদের অনুসরণে ইবাদত করে আল্লাহর। কিন্তু বাহ্যিকভাবে অনুসরণ করে মুজতাহিদ ইমামের। উপমা নং-৪ বাংলাদেশের সংবিধানের কোন আইনী জটিলতায় কোন ব্যক্তি আক্রান্ত হলে, উক্ত ব্যক্তি সংবিধান বিশেষজ্ঞ উকীলের কাছে গমণ করে। আর উক্ত উকীলের পথনির্দেশনায় মুআক্কিল ব্যক্তি বাংলাদেশের সংবিধান মান্য করে। এক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি উকীলের নির্দেশনা মানার কারণে মুআক্কিলকে সংবিধান বিরোধী আখ্যায়িত করে না। করাটা আহমকী ছাড়া আর কী’বা হতে পারে? তেমনি কুরআন ও সুন্নাহ হল আল্লাহর দেয়া
সংবিধান। যারা এ বিষয়ে প্রাজ্ঞ নয়, তারা উক্ত
বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মুজতাহিদ ইমামদের পথনির্দেশনায় আল্লাহর সংবিধান মান্য করে
থাকে।
আশা করি মাযহাবের অনুসরণের হাকীকত পরিস্কার হয়ে গেছে। মাযহাব মানা মানে কুরআন ও হাদীসের ভিন্ন কিছু মানা নয়। বরং কুরআন ও হাদীস বিশেষজ্ঞ ব্যক্তির পথনির্দেশনায় কুরআন ও হাদীস মানার নাম হল মাযহাব অনুসরণ। আর কুরআন ও হাদীস না বুঝার পরও নিজের উদ্ভট বুঝ অনুপাতে দ্বীন মানার নামই হল “লা-মাযহাব” বা গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩১
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

চেয়ারে বসে নামায আদায় সংক্রান্ত আহকাম৷

প্রশ্ন
ইদানিং শহরের মসজিদ গুলোতে চেয়ারে নামায আদায়কারী মুসল্লীর সংখ্যা বেড়ে গেছে বরং যতবেশি অভিজাত এলাকা ততো বেশি চেয়ার দেখা যায়৷ সুতরাং আমার জানার বিষয় হলো চেয়ারে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে শরয়ী বিধান কি? প্রমান সহ বিস্তারিত জানতে চাই৷
উত্তর
( ক) কিয়াম রুকু ও সিজদা করতে সক্ষম এমন ব্যক্তির জন্য নিচে বসে বা চেয়ারে বসে নামায আদায় করা বৈধ নয়৷ করলে নামায হবে না৷ কারন নামাযে দাড়ানো, রুকু করা, সিজদা করা ফরজ৷ আর ফরজ ছেড়ে দিলে নামায হয় না৷
এমনি ভাবে যে ব্যক্তি কিছু সময় কিয়াম করতে পারে কিন্তু সে তা করে নি অথবা কোন কিছু সাথে টেক লাগিয়ে কিয়াম করতে পারে তা সত্বেও সে বসে নামায আদায় করে তাহলে তাক নামায হবে না৷ তদ্রুপ সাধারন কষ্টের কারনে কিয়াম ছাড়া যাবে না৷ ছাড়লে নামায হবে না৷
(খ) যে ব্যক্তি সিজদা করতে সক্ষম নয় তবে কিয়াম ও রুকু করতে পারে, সে কিয়াম ও রুকু করার পর জমিনে বসে ইশারার মাধ্যমে সিজদা আদায় করবে৷ যদি পরবর্তি রাকাত গুলোতে দাড়াতে সক্ষম হয় তাহলে প্রথম রাকাতের ন্যায় আদায় করবে৷ নতুবা পরবর্তি রাকাত বসে পড়বে৷ যদি প্রথম থেকেই চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু সিজদা করে নেয় তাও বৈধ হবে৷ তবে তা অনুত্তম৷ আর যদি এমন ব্যক্তি শুরু থেকেই জমিনে বসে অথবা চেয়ারে বসে নামায আদায় করে তাহলে তা বৈধ হবে৷ তবে চেয়ারে না বসে নিচে বসে পড়াই উত্তম পদ্ধতি৷ আর নামাযের মত গুরুত্বপুর্ন ইবাদতটি উত্তম পদ্ধতিতেই আদায় করা উচিত৷
(গ) সে ব্যক্তি সিজদা করতে সক্ষম কিন্তু কিয়াম করতে অক্ষম৷, সে যদি চেয়ারে বসে ইশারায় সিজদা করে তাহলে তার নামায হবে না৷ তাকে নিচে বসে পুরোপুরি সিজদা দিয়েই নামায আদায় করতে হবে৷
( ঘ) বসে নামায আদায় করার সময় যে যেভাবে বসলে নামাযী ব্যক্তির সুবিধা হবে সেভাবেই বসবে৷ তাশাহুদ অবস্থার মত বসা আবশ্যক নয়৷
(ঙ) বসে ইশারা করার মাধ্যমে সিজদা করে নামায পড়ার ক্ষেত্রে অন্য কোন জিনিষের উপর সিজদা করার প্রয়েজন নেই, ইশারার মাধ্যমে সিজদা করাই যথেষ্ট ৷ তবে কেউ অন্য কোন বস্তুর উপর সিজদা করলে নামায হয়ে যাবে৷ এমনিভাবে চেয়ারে নামায পড়ার ক্ষেত্রে এমনটি বৈধ৷ তবে এটা জরুরী মনে করা যাবে না, এবং এটা আসল সেজদার অন্তর্ভোক্ত হবে না৷ বরং আসল সেজদা ইশারার দ্বারা আদায় হয়ে যায়৷ হ্যাঁ যদি ঐ বস্তু বসার স্থান হতে এক বিঘত থেকে কম উচু হয় তাহলে বাস্তব সেজদা হিসেবে গন্য হবে৷ অন্যথায় বাস্তব সেজদা হিসেবে গন্য হবে না৷
(চ) চেয়ারে বসে নামায আদায় কারীর পেছনে রুকু সেজদা কারী ব্যক্তির নামায সহীহ হবে না৷
(ছ) বসে বা চেয়ারে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষ রাখা উচিত:
(1) রুকু সিজদা উভয় অবস্থায় হাতদ্বয় উরুর উপর থাকবে৷
(2) বসে ইশারার দ্বারা রুকু সিজদা আদায় করার সময় নিতম্বকে জমিন থেকে পৃথক করতে হবে না৷ বরং সিজদার ইশারার চেয়ে রুকুর ইশারার সময় মাথাকে একটু কম ঝুকাবে৷
দলিলঃ
সুরা বাকারা আঃ ২৩৮, সুরা হজ্ব আঃ ৭৭, বুখারী হাঃ ১১১৭,১১১৮, ১১১৯, তিরমিযি হাঃ ৩৬৯, ফতোয়াযে শামি ২/,১৩২, ৫৬৬, ৫৬৭, ৫৬৮, ৫৬৯, তুহফাতুল আহওয়াযি ২/৩০৬, ইলাউস সুনাম ৭/২০৭,২০৩,, নাহরুল ফায়েক ১/৩৩৭, তাতারখানিয়া ২/৬৬৭, তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৮৯৷
বর্তমানে চেয়ারে বসে নামায পড়া প্রচলন নিম্ন বর্নিত কারনে নিন্দনিয়:
১৷ অক্ষম ব্যক্তির জমিনে বসে নামায আদায় করা উত্তম বরং এটাই সুন্নত৷ এটাই সাহাবী তাবেয়ীর আমল৷
২৷ যে ব্যক্তি দাড়িয়ে রুকু সেজদা করে নামায আদায় করতে সক্ষম তার জন্য চেয়ারে বসে ফরজ ওয়াজিব নামায পড়া জায়েয নেই৷ নামায হবে৷
৩৷ চেয়ারের কারনে কাতার সোজা করতে সমস্যা হয়৷
৪৷ মসজিদে চেয়ারের আধিক্যতা গির্জা ও ইহুদিদের ইবাদতখানার সাদৃশ্য হয়ে যায়৷ কারন তারা চেয়ারে বসে ইবাদত করে৷
৫৷ নামায বিনয় নম্রতা প্রকাশক ইবাদত, সুতরাং চেয়ারে বসে পড়ার তুলনায় মাটিতে বসে পড়া বেশি নম্রতা প্রকাশ হয়৷
৬৷ নামাযের পর লোকেরা চেয়ারে বসে দুনিয়াবি কথা বার্তা বলতে থাকে৷ যা মসজিদের আদব পরিপন্থী৷
৭৷ চেয়ারে বসে নামায পড়লে অন্তরে অহমিকা ভাব আসার প্রবল সম্ভাবনা থাকে৷
উপর উল্লেখিত বিষয় সমূহের কারনে যতদূর সম্ভব নামাযে চেয়ার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক৷ চেয়ারে ব্যবহারের উপযুক্ত শুধু ঐ ব্যক্তিই হতে পারে যে জমিনের উপর বসে নামায বসে নামায আদায় করতে পারে না৷
( বিস্তারিত ফতওয়াযে দারুল উলুম) উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪৭
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

আমরা তো জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়।...

প্রশ্ন
আমরা তো জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়। প্রশ্ন হল , লুঙ্গির
ক্ষেত্রেও কি একই হুকুম ? না এক্ষেত্রে
মাসআলা ভিন্ন ?
উত্তর
ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য শরীরের কোন অঙ্গের আকৃতিতে সেলাই করা পোশাক পরা নাজায়েয। যেমন, পাঞ্জাবী, পায়জামা, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি। আর লুঙ্গি যেহেতু পায়জামার মত কোনো অঙ্গের আকৃতিতে বানানো নয় তাই সেলাইযুক্ত লুঙ্গি পরা নাজায়েয নয়। তবে খোলা চাদর পরলে যাদের সতরের অঙ্গগুলো বা তার অংশবিশেষ খুলে যাওয়ার
আশংকা না থাকে তাদের জন্য সেলাইযুক্ত লুঙ্গি
না পরাই উচিত। কেননা ইহরামের কাপড়
একেবারে সেলাইমুক্ত হওয়া উত্তম। তাই সম্ভব
হলে ইহরাম অবস্থায় সেলাইবিহীন চাদরই পরবে। কিন্তু সেলাইবিহীন চাদর পরলে কারো যদি সতর খুলে যাওয়ার আশংকা থাকে তবে তার জন্য সেলাই করা লুঙ্গি ব্যবহার করা অনুত্তম হবে না।
মানাসিক, পৃ. ৯৮, ১২০; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৮/৭৫;
আহকামে হজ্ব, মুফতী মুহাম্মাদ শফী পৃ.৩৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তারসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪৫
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

মহিলাদের জন্য কি ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা , পা-মোজা পরা জায়েয...

প্রশ্ন
মহিলাদের জন্য কি ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা ,
পা-মোজা পরা জায়েয আছে? দলীল-
প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব। সহীহ
বুখারীতে নাকি আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের
হাতমোজা পরতে নিষেধ করেছেন ?
উত্তর
মহিলাদের জন্য ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা, পা- মোজা পরা জায়েয। হাদীস শরীফে আছে, সালেম রাহ. বলেন , আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পা-মোজা কেটে দিতেন। কিন্তু
সফিয়া বিনতে আবু উবাইদা রা. তাঁর কাছে আয়েশা
রা.-এর এ হাদীস যখন বর্ণনা করলেন যে ,
‘ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম
মহিলাদের পা-মোজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন ’ এরপর থেকে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পা-মোজা আর কেটে দিতেন না। সুনানে আবু দাউদ , হাদীস
১৮৩১
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন , মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় হাত-মোজা ও পা-
মোজা পরিধান করতে পারবে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা , হাদীস ১৪৪ সাআদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে
বর্ণিত, তিনি ইহরাম অবস্থায় তার কন্যাদেরকে হাত-
মোজা পরার নির্দেশ দিতেন। কিতাবুল উম
২/২২৩
কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ , হাসান বসরী , হাকাম ও হাম্মাদ রাহ. প্রমুখ তাবেয়ীগণ থেকেও ইহরাম
অবস্থায় মহিলাদের হাতমোজা পরা জায়েয হওয়ার
কথা বর্ণিত আছে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৫৯৬৭, ১৪৪৪১ আর প্রশ্নে সহীহ বুখারীর উদ্ধৃতিতে যে হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে তা মূলত মাওক‚ফ হাদীস। অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর
উক্তি। (আস সুনানুল কুবরা , বাইহাকী ৪/৪৭ ; ফাতহুল
বারী ৪/৬৪) আর উপরে আমরা দেখেছি , একাধিক সাহাবী ও তাবেয়ীর মত এক্ষেত্রে এটিই যে , মহিলাগণ ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরবে। ইমাম আবু হানীফা ও ইমাম শাফেয়ী রাহ.-সহ অনেক ফকীহের মতে এ অভিমতটিই অধিক শক্তিশালী। কিতাবুল উম ২/২২৩; আলমাবসূত সারাখসী ৪/৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৪৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

আমরা হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি , ইহরাম করার আগে দুই...

প্রশ্ন
আমরা হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি , ইহরাম
করার আগে দুই রাকাত নফল নামায পড়া সুন্নাত।
কিন্তু কিছুদিন আগে এক ভাই থেকে শুনলাম ,
ইহরামের আগে কোনো নামায নেই। বরং
তা বিদআত। কথাটি শোনার পর বিভ্রান্তিতে
পড়ে যাই। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী ?
দলীল প্রমাণসহ জানতে চাই।
উত্তর
একাধিক হাদীসে নামাযের পর ইহরাম করার কথা এসেছে। অতএব ফরয নামায আদায় করলে
এরপর ইহরাম করবে নতুবা ইহরামের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে এরপর ইহরাম করবে। এটিই সুন্নত। সহীহ বুখারীতে আছে , উমর রা. বলেন , আকীক নামক স্থানে
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে
বলতে শুনেছি , আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে আগমনকারী (অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম) এসেছিলেন। তিনি আমাকে বললেন , এই বরকতময় স্থানে নামায পড়ুন এবং বলুন , আমি হজ্বের সাথে উমরার ইহরাম করলাম। সহীহ বুখারী , হাদীস ১৫৩৪৷
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের
হজ্বের বিবরণ সম্বলিত হাদীসগুলোতেও
আছে ,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যুলহুলাইফাতে দুই রাকাত নামায পড়ার পর ইহরাম
করেছিলেন। দেখুন সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৮৪ ; জামে তিরমিযী , হাদীস ৮১৯৷ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে এক বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে , তিনি
বলেন , রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যুলহুলাইফার মসজিদে দুই রাকাত নামায পড়ার পর ঐ
মজলিসেই হজ্বের ইহরাম করেছিলেন। সুনানে আবু দাউদ , হাদীস ১৭৭০ ; মুসতাদরাকে হাকেম , হাদীস ১৬৯৯৷ প্রকাশ থাকে যে , এই মাসআলায় চার মাযহাবের সিদ্ধান্ত এক ও অভিন্ন। ইমাম নববী রাহ. “ আল
মাজমূ শরহুল মুহাযযাব ” লিখেছেন, ইহরাম করার
সময় দুই রাকাত নামায পড়া উত্তম। এ ব্যাপারে সবার
ঐকমত্য রয়েছে। আলমাজমূ ৭/২৩২৷
সুতরাং ইহরামের পূর্বের নামাযকে বিদআত বলা
সম্পূর্ণ ভুল ও মনগড়া কথা। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৩
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

আমি ছোট বেলায় আমার আব্বার সঙ্গে হজ্ব করেছি। এখন আমি...

প্রশ্ন
আমি ছোট বেলায় আমার আব্বার সঙ্গে হজ্ব করেছি। এখন আমি
বড় হয়েছি এবং আমার কাছে
হজ্বে যাওয়ার মতো সম্পদ
আছে। প্রশ্ন হল, আমার
ছোটবেলার ঐ হজ্বটিই কি ফরয
হজ্ব হিসেবে আদায় হয়ে
গেছে, নাকি আবার হজ্ব করতে
হবে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
আপনার ছোটবেলার হজ্বটি নফল হিসেবে আদায় হয়েছে। তাই আপনাকে ফরয হজ্ব আদায় করতে হবে। ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বালক হজ্ব করবে অতপর প্রাপ্তবয়স্ক হবে তাকে আরেকটি হজ্ব করতে হবে ।
তবারানী, হাদীস ৭২৫২; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৪৭৩ (হাদীস ৫২৫৪, বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৩; আলবাহরুল আমীক ১/৩৬২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২৫
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

গত বছর আমি ইহরাম অবস্থায় ভুলে আমার মোচ কেটে ফেলি।...

প্রশ্ন
গত বছর আমি ইহরাম অবস্থায় ভুলে আমার মোচ কেটে ফেলি। জানতে চাই,
এ কারণে আমার উপর কি কোনো সদকা
বা দম ওয়াজিব হয়েছিল? আর তা দেশে
এসে আদায় করলে চলবে নাকি হেরেমে
আদায় করা জরুরি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উপর এক সদকাতুল ফিতর সমপরিমাণ নির্ধারিত খাদ্য বা তার মূল্য আদায় করা ওয়াজিব হয়েছে। আর তা দেশে আদায় করলেও চলবে। হেরেমের এলাকায় আদায় করা জরুরি নয়। তবে হেরেমে আদায় করা
উত্তম।
-গুনইয়াতুন নাসিক ২৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪২৯; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৬; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৩৯৫; কিতাবুল আছল
২/৪৩২৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২৪
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। দু বছর আগে আমাদের এলাকার...

প্রশ্ন
আমি এক মসজিদে ইমামতি করি। দু বছর আগে আমাদের এলাকার এক ধনাঢ্য
ব্যক্তি মারা যায়। তার উপর হজ্ব ফরয
ছিল। কিন্তু সে হজ্ব করেনি। তাই
ওয়ারিসরা আমাকে তার বদলি হজ্ব
করার জন্য অনুরোধ করছে। আর আমার
উপর হজ্ব ফরয না হওয়ার কারণে আমি
হজ্ব করিনি। এখন জানার বিষয় হল,
আমি ঐ ব্যক্তির বদলি হজ্ব করতে পারব
কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
বদলি হজ্বের জন্য এমন ব্যক্তিকে প্রেরণ করা উত্তম যিনি নিজের ফরয হজ্ব আদায় করেছেন এবং হজ্বের আহকামও ভালোভাবে জানেন। আর যে ব্যক্তি হজ্বে যায়নি এবং তার উপর হজ্ব ফরযও নয় তাকে বদলি হজ্বের জন্য পাঠানো মাকরূহ তানযিহি তথা অনুত্তম। তবে এমন ব্যক্তিকে দিয়ে বদলি হজ্ব করালেও হজ্ব আদায় হয়ে যাবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৮/১৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৫৭; ফাতহুল কাদীর ৩/৭২; রদ্দুল মুহতার ২/৬০৩; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৫২; গুনইয়াতুন নাসিক ৩৩৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪২১
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

হজ্বের মধ্যে কোনো ত্রুটির কারণে দম ওয়াজিব হলে তা কি...

প্রশ্ন
হজ্বের মধ্যে কোনো ত্রুটির কারণে দম ওয়াজিব হলে তা কি হেরেমের
ভিতরেই জবাই করতে হবে? নাকি দেশে
ফিরে জবাই করলেও চলবে? দয়া করে
জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
হজ্বের সকল প্রকার দম হেরেমের ভিতরেই জবাই করা জরুরি। হেরেমের বাইরে দমের নিয়তে জবাই করলে তা আদায় হবে না। তাই দম আদায় না করে দেশে এসে গেলে কারো মাধ্যমে দমের পশু হেরেমের মধ্যেই জবাই করাতে হবে। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪৩৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪; ফাতহুল কাদীর ২/৪৫২; রদ্দুল মুহতার ২/৫৫৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪০২
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

বৃদ্ধ বা যুবকদের জন্য চুল দাড়িতে কালো বা অন্য রঙের খেযাব ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
বৃদ্ধ লোকদের জন্য কালো খেযাব বা অন্য রঙের খেযাব ব্যবহারের হুকুম কী ? দলিলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব। এছাড়া যুবকদের অসুস্থতা বা কোনো কারণে চুল সাদা হয়ে গেলে তারা কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারবে কি ?
উত্তর
বার্ধক্যের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে তাতে কালো খেযাব ব্যবহার করা নাজায়েয। একাধিক হাদীসে এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ার
এসেছে। হাদীস শরীফে এসেছে, মক্কা বিজয়ের দিন
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর পিতা আবু কুহাফা রা.-এর চুল এবং দাড়ি পাকা দেখে বললেন , এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর। তবে কালো থেকে বিরত থাক। সহীহ মুসলিম , হাদীস : ৫৪৬৬ অবশ্য কোনো যুবকের অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যদি চুল-দাড়ি পাকার বয়সের আগেই সাদা হয়ে যায় তবে সে কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারবে। আহমাদ আলী সাহারানপুরী বলেন , হাদীসে কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর মূল কারণ অন্যদের সামনে বয়স গোপন করা এবং অন্যকে ধোঁকা দেওয়া। হাশিয়া সহীহ বুখারী ১/৫৩০
যুবকের ক্ষেত্রে ধোঁকার এই দিকটি অনুপস্থিত।
তাই কোনো কোনো ফকীহ যুবকদের জন্য কালো
খেযাব জায়েয হওয়ার মত দিয়েছেন। (ফায়যুল
কাদীর ১/৩৩৬ ; ইমদাদুল আহকাম ৩/৩৭৬) তাবেয়ী ইবনে শিহাব যুহরী রাহ. বলেন , আমাদের চেহারা যখন সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেযাব ব্যবহার করতাম। আর যখন আমাদের চেহারা
মলিন হয়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হয়ে গেল তখন
আমরা কালো খেযাব ছেড়ে দিয়েছি। ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭ অবশ্য হাদীসে যেহেতু কালো খেযাবকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তাই যুবকদের জন্যও একেবারে কালো খেযাব ব্যবহার না করে লাল কালো মিশ্রিত খেযাব ব্যবহার করাই
উচিত হবে। তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/১৫৪ ; ফায়যুল
কাদীর ১/৩৩৬ আর বার্ধক্যের কারণে চুল পেকে গেলে কালো খেযাব ছাড়া অন্য খেযাব ব্যবহার করা
মুস্তাহাব। যেমন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু কুহাফা রা.কে কালো খেযাব ছাড়া অন্য খেযাব ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্য এক হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন , আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হলুদ রং ব্যবহার করতে
দেখেছি তাই আমিও হলুদ রং ব্যবহার করতে পছন্দ করি।
-সহীহ বুখারী, হাদীস, ১৬৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২১৫-২২০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/১৬৬-১৭০৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৩৭০৫
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: হজ্ব

আমি ছোট বেলায় আমার আব্বার সঙ্গে হজ্ব করেছি। এখন আমি...

প্রশ্ন
আমি ছোট বেলায় আমার আব্বার সঙ্গে হজ্ব করেছি। এখন আমি বড় হয়েছি এবং আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো সম্পদ আছে। প্রশ্ন হল, আমার ছোটবেলার ঐ হজ্বটিই কি ফরয হজ্ব হিসেবে আদায় হয়ে গেছে, নাকি আবার হজ্ব করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
আপনার ছোটবেলার হজ্বটি নফল হিসেবে আদায় হয়েছে। তাই আপনাকে ফরয হজ্ব আদায় করতে
হবে।
ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে বালক হজ্ব করবে অতপর প্রাপ্তবয়স্ক হবে তাকে আরেকটি হজ্ব করতে হবে । -আলমুজামুল আওসাত, তবারানী, হাদীস ৭২৫২; মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/৪৭৩ (হাদীস ৫২৫৪); মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৫১০৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৩; আলবাহরুল আমীক ১/৩৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭
ফতোয়া নং: ৩২৭০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

ক) আমার হজ্ব করার সামর্থ্য নেই, কিন্তু ওমরাহ করার সামর্থ্য...

প্রশ্ন
ক) আমার হজ্ব করার সামর্থ্য নেই, কিন্তু ওমরাহ করার সামর্থ্য আছে। এখন আমার জন্য কি ওমরাহ করা আবশ্যক?
খ) হজ্বের মতো ওমরার জন্য কি নির্দিষ্ট সময় আছে?
গ) শুনেছি, কাবা শরীফ দেখলে নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়- এ কথা কি ঠিক? তাহলে আমি ওমরাহ করলে কি আমার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যাবে?
উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে শরঈ সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
ওমরারর সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার ওমরাহ করা সুন্নতে মুআক্কাদাহ। অতএব এ অবস্থায় আপনার জন্য ওমরাহ করা সুন্নত। আর ওমরার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। শুধু যিলহজ্ব মাসের ৯-১৩ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন ওমরাহ করা মাকরূহ। এছাড়া বছরের যে
কোনো সময় ওমরাহ করা জায়েয আছে। আর রমযান মাসে ওমরাহ করা সবচেয়ে উত্তম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযানে একটি ওমরাহ করা আমার সাথে একটি হজ্ব করার সমতুল্য। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৮৬৩
আর কাবা শরীফ দেখলেই হজ্ব ফরয হয়ে যায়- এ ধারণা ঠিক নয়। হজ্ব ফরয হওয়ার সাথে কাবা শরীফ দেখা-না দেখার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং হজ্ব ফরয হওয়ার জন্য শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশিহজ্বের মৌসুমে হজ্বে আসা-
যাওয়ার খরচসহ তার অনুপস্থিতির দিনগুলোতে পরিবারের চলার মতো স্বাভাবিক খরচের ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাছাড়া বাইরে থেকে ওমরার ভিসায় গিয়ে হজ্ব করা নিষেধ। তাই ওমরাহ করতে গিয়ে হজ্ব পর্যন্ত থেকে যাওয়ারও
সুযোগ নেই। -গুনইয়াতুন নাসিক ২২, ১৯৬; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী ৪৬৩; আততাজরীদ ৪/১৬৮৮
ফতোয়া নং: ৩২৬৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা গত বছর হজ্বে নিয়েছিলেন। যাওয়ার সময়...

প্রশ্ন
আলহামদু লিল্লাহ, আল্লাহ তাআলা গত বছর হজ্বে নিয়েছিলেন। যাওয়ার সময় বাসার পাশের মসজিদ থেকে ইহরাম বাধি। ইহরাম বেধে যখন এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা হব তখন পাশের এক আত্মীয়ের বাসার সামনে নিম গাছ থেকে মেসওয়াকের জন্য একটি ডাল ভাংতে যাই তখন কাফেলার এক সাথী বললেন, ইহরাম বাঁধার পর সব ধরনের গাছের ডাল ভাঙ্গা, প্রাণী শিকার করা নিষিদ্ধ। জানার বিষয় হল, ঐ সাথীর কথা কি ঠিক? নিজ দেশ থেকে ইহরাম বাঁধলে তখন থেকেই কি প্রাণী শিকার করা ও যে কোনো ধরনের গাছের ডাল ভাঙ্গা নিষিদ্ধ হয়ে যায়?
উত্তর
আপনার সাথীর ঐ কথা ঠিক নয়। ইহরামের কারণে হারামের সীমানার বাইরে কোনো গাছ কাটা বা ডাল ভাঙ্গা নিষিদ্ধ নয়। তবে হেরেমের এলাকার গাছ কাটা বা ডাল ভাঙ্গা ইহরাম থাক বা না থাক সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। আর একথা ঠিক যে, ইহরাম বাঁধার পর যে কোনো স্থানের প্রাণী শিকার করা নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) হে
ঈমানদারগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের প্রাণী হত্যা করো না।
-সূরা মায়েদা : ৯৫; গুনইয়াতুন নাসিক ২৮১, ৩০৪; মানাসিক,
মোল্লা আলী কারী ৩৮৪
ফতোয়া নং: ৩২৫৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা আছে। কিন্তু আমার এখন...

প্রশ্ন
আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা আছে। কিন্তু আমার এখন বিয়ে করার প্রয়োজন। এ টাকা দিয়ে হজ্ব করলে বিয়ের খরচের জন্য টাকা থাকবে না। আর বিয়ে করলে হজ্ব করা যাবে না। এখন এক্ষেত্রে আমার জন্য হজ্ব করা কি জরুরি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হজ্বের টাকা জমা দেওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার শেষ সময়ের আগেই যদি আপনি বিয়ে করে ফেলেন আর বিয়েতে ঐ টাকা খরচ হয়ে যায় তবে আপনার উপর হজ্ব
ফরয হবে না। কিন্তু হজ্বের প্রস্তুতি গ্রহণের
শেষ সময় পর্যন্ত যদি ঐ টাকা খরচ না হয় তবে ঐ টাকার কারণে আপনার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যাবে। -ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩২৩; গুনইয়াতুন নাসিক ২২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০১
ফতোয়া নং: ৩২৩৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আমরা তো জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়।...

প্রশ্ন
আমরা তো জানি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইযুক্ত কাপড় পরা জায়েয নয়। প্রশ্ন হল, লুঙ্গির ক্ষেত্রেও কি একই হুকুম? না এক্ষেত্রে মাসআলা ভিন্ন?
উত্তর
ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য শরীরের কোন অঙ্গের আকৃতিতে সেলাই করা পোশাক পরা নাজায়েয। যেমন, পাঞ্জাবী, পায়জামা, গেঞ্জি ও মোজা ইত্যাদি। আর লুঙ্গি যেহেতু পায়জামার মত কোনো অঙ্গের আকৃতিতে বানানো নয় তাই সেলাইযুক্ত লুঙ্গি পরা নাজায়েয নয়। তবে খোলা চাদর পরলে যাদের সতরের অঙ্গগুলো বা তার অংশবিশেষ খুলে যাওয়ার আশংকা না থাকে তাদের জন্য সেলাইযুক্ত লুঙ্গি না পরাই উচিত। কেননা ইহরামের কাপড় একেবারে সেলাইমুক্ত হওয়া উত্তম। তাই সম্ভব হলে ইহরাম অবস্থায় সেলাইবিহীন চাদরই পরবে। কিন্তু সেলাইবিহীন চাদর পরলে কারো যদি সতর খুলে যাওয়ার আশংকা থাকে তবে তার জন্য সেলাই করা লুঙ্গি ব্যবহার করা অনুত্তম হবে না। মানাসিক, পৃ. ৯৮, ১২০; ফাতাওয়া রহীমিয়া ৮/৭৫; আহকামে হজ্ব, মুফতী মুহাম্মাদ শফী পৃ.৩৪
ফতোয়া নং: ৩২৩৩
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

বৃদ্ধ লোকদের জন্য কালো খেযাব বা অন্য রঙের খেযাব ব্যবহারের...

প্রশ্ন
বৃদ্ধ লোকদের জন্য কালো
খেযাব বা অন্য রঙের খেযাব ব্যবহারের হুকুম কী? দলিলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত
হব। এছাড়া যুবকদের অসুস্থতা বা কোনো কারণে চুল সাদা হয়ে গেলে তারা কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারবে কি?
উত্তর
বার্ধক্যের কারণে চুল-দাড়ি পেকে গেলে তাতে কালো খেযাব ব্যবহার করা
নাজায়েয। একাধিক হাদীসে এ ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ার এসেছে। হাদীস শরীফে এসেছে, মক্কা
বিজয়ের দিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর পিতা আবু কুহাফা রা.-এর চুল এবং দাড়ি পাকা দেখে বললেন, এটাকে কোনো কিছু দ্বারা পরিবর্তন কর। তবে কালো থেকে বিরত থাক।
সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৪৬৬
অবশ্য কোনো যুবকের অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে যদি চুল-দাড়ি পাকার বয়সের আগেই সাদা হয়ে যায় তবে সে কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারবে। আহমাদ আলী সাহারানপুরী বলেন, হাদীসে কালো খেযাব ব্যবহার করতে নিষেধ করা হয়েছে। এর মূল কারণ অন্যদের সামনে বয়স গোপন করা এবং অন্যকে ধোঁকা দেওয়া।
হাশিয়া সহীহ বুখারী ১/৫৩০ যুবকের ক্ষেত্রে ধোঁকার এই দিকটি অনুপস্থিত। তাই
কোনো কোনো ফকীহ যুবকদের জন্য কালো খেযাব জায়েয হওয়ার মত দিয়েছেন। (ফায়যুল
কাদীর ১/৩৩৬; ইমদাদুল আহকাম ৩/৩৭৬)
তাবেয়ী ইবনে শিহাব যুহরী রাহ. বলেন, আমাদের চেহারা যখন সতেজ ছিল তখন আমরা কালো খেযাব ব্যবহার করতাম। আর যখন আমাদের চেহারা মলিন হয়ে গেল এবং দাঁত নড়বড়ে হয়ে গেল তখন আমরা কালো খেযাব ছেড়ে দিয়েছি।
ফাতহুল বারী ১০/৩৬৭
অবশ্য হাদীসে যেহেতু কালো খেযাবকে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে তাই যুবকদের জন্যও একেবারে কালো খেযাব ব্যবহার না করে লাল কালো মিশ্রিত খেযাব ব্যবহার করাই উচিত হবে।
:তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/১৫৪; ফায়যুল কাদীর ১/৩৩৬ আর বার্ধক্যের কারণে চুল পেকে গেলে কালো খেযাব ছাড়া অন্য খেযাব ব্যবহার করা মুস্তাহাব। যেমন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু কুহাফা রা.কে কালো খেযাব ছাড়া অন্য খেযাব ব্যবহার করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্য এক হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.
বলেন, আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামকে হলুদ রং
ব্যবহার করতে দেখেছি তাই আমিও হলুদ রং ব্যবহার করতে পছন্দ করি।
-সহীহ বুখারী, হাদীস, ১৬৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২১৫-২২০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৭/১৬৬-১৭০
ফতোয়া নং: ২৮৬০
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আগামী সপ্তাহে আমি জেদ্দায় একটি ব্যবসায়িক কনফারেন্সে যাব। আমার ইচ্ছা...

প্রশ্ন
আগামী সপ্তাহে আমি জেদ্দায় একটি ব্যবসায়িক কনফারেন্সে যাব। আমার ইচ্ছা হল, মিটিং শেষ হওয়র পর সুযোগ পেলে সেখান থেকে মক্কা শরীফ গিয়ে ওমরাহ করে আসব। ইহরাম বেঁধে কনফারেন্সে যাওয়া সম্ভব নয় তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমি ইহরাম না বেঁধে জেদ্দায় কনফারেন্সে যেতে পারব কি না? এরপর কনফারেন্স শেষে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ করলে কি আমার উপর দম ওয়াজিব হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু কনফারেন্সের উদ্দেশ্যেই জেদ্দা যাচ্ছেন তাই এ অবস্থায় আপনার জন্য ইহরাম না বেঁধে জেদ্দায় যাওয়া জায়েয হবে। কনফারেন্স শেষে জেদ্দাবাসীদের মতো আপনি সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে ওমরাহ করতে পারবেন। এ কারণে আপনার উপর কোনো জরিমানা বা দম ওয়াজিব হবে না। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৭৭; আলবাহরুর রায়েক ৩/৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪১৫; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৬৮; আলবাহরুল আমীক ২/৩১৮
ফতোয়া নং: ২৮৪০
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আমার আব্বা অনেকগুলো জমির মালিক। বেশ কিছু জমি তার এমন...

প্রশ্ন
আমার আব্বা অনেকগুলো জমির মালিক। বেশ কিছু জমি তার এমন রয়েছে, যেগুলোর ফসল ছাড়াই আমাদের খোরাকির প্রয়োজন পূর্ণ হয়ে যায়।
জমিজমা ব্যতীত আব্বার বাড়তি কোনো আয় নেই। জানতে চাই আমার আব্বার উপর কি হজ্ব ফরয?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সংসারের খরচের জন্য প্রয়োজন হয় না এমন জমিগুলো বা তার অংশবিশেষ বিক্রি করলে যদি আপনার আব্বার হজ্বের খরচ হয়ে যায় তাহলে আপনার আব্বার উপর হজ্ব করা ফরয। এক্ষেত্রে জমি বিক্রি করে হলেও তাকে হজ্বে যেতে হবে।
-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৮
ফতোয়া নং: ২৮১১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। দেশ থেকে ইহরাম বেঁধে যাইনি।...

প্রশ্ন
গত বছর আমি হজ্বে গিয়েছিলাম। দেশ থেকে ইহরাম বেঁধে যাইনি। ইচ্ছা ছিল মীকাত অতিক্রম করার আগে ইহরাম বেঁধে নেব। কিন্তু পরে আর মনে ছিল
না। ইহরাম না বেঁধে মীকাত অতিক্রম
করেছি। জেদ্দা বিমান বন্দরে নামার পর আমার এক আত্মীয় জানতে পারলে
বলেন, আগে মদীনায় আমার বাসায় চলে আসুন। পরে হজ্বের আগে মদীনা থেকে
ইহরাম বেঁধে হজ্ব করতে পারবেন। তার পরামর্শ অনুযায়ী আমি প্রথমে হারামে প্রবেশ না করে অন্য পথে সরাসরি
মদীনায় গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্ব করেছি। দেশে আসার পর এক ব্যক্তি বললেন, ইহরাম না বেঁধে মীকাত অতিক্রম করার কারণে নাকি আমার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে।
তাই জানার বিষয় হল, ইহরাম না বেঁধে মীকাত অতিক্রম করার কারণে কি আমার উপর দম ওয়াজিব হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইহরাম না বেঁধে জেদ্দায় চলে এলেও পরবর্তীতে সেখান
থেকে যেহেতু আপনি সরাসরি মক্কা মুকাররমায় যাননি; বরং মদীনায় গিয়ে সেখান থেকে ইহরাম বেঁধে হেরেমে
গিয়েছেন তাই আপনার উপর দম ওয়াজিব
হয়নি। উল্লেখ্য যে, উমরাহ বা হজ্বের উদ্দেশ্যে
রওয়ানা হওয়ার সময় নিজ এলাকা থেকেই ইহরাম বেঁধে নেওয়া উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম সিরিয়া, বসরা, বায়তুল
মাকদিস, কাদেসিয়ার মতো দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে ইহরাম বেঁধে হজ্ব করতে
আসতেন। এই মাসআলার উপর আমল করলে উক্ত জটিলতায় পড়তে হত না।
-সুনানে আবু দাউদ ২/৪১৩; মুসনাদে আহমাদ ৪৪/১৮১; আততামহীদ ১৫/১৪৫;
ফতোয়া নং: ২৫৫৬
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

গত বছর হজ্ব আদায়ের সময় আরাফার ময়দানে পাথরের সাথে হোঁচট...

প্রশ্ন
গত বছর হজ্ব আদায়ের সময় আরাফার ময়দানে পাথরের সাথে হোঁচট খেয়ে আমার বাম পায়ের একটি নখ ভেঙ্গে যায় এবং তা কোনো রকম চামড়ার সাথে লেগে থাকে। এই অবস্থায় আমার হাঁটতে প্রচ- কষ্ট হয়। তাই ভাঙ্গা নখটি কেটে ফেলি। এর ফলে কি আমার উপর কোনো দম বা সদকা ওয়াজিব হয়েছে?
উত্তর
না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ নখ কেটে ফেলার কারণে কোনো কিছু ওয়াজিব হয়নি। কেননা ইহরাম অবস্থায় হাত বা পায়ের কোনো নখ ভেঙ্গে গেলে তা কেটে ফেলা জায়েয। এ ধরনের নখ কেটে ফেললে দম বা সদকা কিছুই ওয়াজিব হয় না। -কিতাবুল আছল ২/৪৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪২৫; মানাসিক ৩৩১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫৮৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪৪
ফতোয়া নং: ২৫৩৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

আমার এক প্রতিবেশী বেশ অর্থ- সম্পদের মালিক। হজ্বের ইচ্ছা থাকলেও...

প্রশ্ন
আমার এক প্রতিবেশী বেশ অর্থ- সম্পদের মালিক। হজ্বের ইচ্ছা থাকলেও বিভিন্ন কারণে তার হজ্বে যাওয়া পিছিয়ে যাচ্ছিল। গতবার ঠিক করেছিলেন হজ্বে যাবেন। কিন্তু হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে বদলি হজ্বের ওসিয়ত করে যেতে পারেননি। এখন তার ছেলে পিতার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করাতে চায়। অসিয়ত ছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করা জায়েয আছে কি? এবং এর মাধ্যমে মাইয়্যেতের জিম্মায় থাকা ফরয হজ্ব আদায় হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলেও তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্ব করা জায়েয এবং এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির জিম্মায় থাকা ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাওয়ার আশাও করা যায়। তবে এক্ষেত্রে যারা উদ্যোগ গ্রহণ করবে হজ্বের ব্যয়ভার তাদের জিম্মায় থাকবে। মৃত ব্যক্তির ইজমালি সম্পদ থেকে তা নেওয়া যাবে না। আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা রাহ. তার পিতা বুরাইদাহ রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, জনৈকা মহিলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এসে আরজ করলেন যে, আমার মা হজ্ব না করেই মৃত্যু বরণ করেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ্ব করতে পারি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, হ্যাঁ, তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্ব কর।- জামে তিরমিযী ২/২৫৭, হাদীস : ৯২৯ প্রকাশ থাকে যে, হজ্ব ইসলামের অন্যতম ফরয বিধান। সামর্থ্যবানদের জন্য বিলম্ব না করে তা আদায় করে নেওয়া জরুরি। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিলম্ব করা গুনাহ। -কিতাবুল আছল ২/৫১১; রদ্দুল মুহতার ২/৫৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৫৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৬০৪; মানাসিক মোল্লা আলী কারী পৃ. ৪৩৪
ফতোয়া নং: ২৫২৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: হজ্ব

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন তাই...

প্রশ্ন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন তাই আমরাও দাঁড়িয়ে পান করি। এক আলেম হজ্ব করে যমযমের পানি নিয়ে এলে আমর া তা দাঁড়িয়ে পান করলাম। তখন তিনি ধমক দিয়ে বসিয়ে দেন এবং বলেন, আল্লাহর রাসূল
ভীড় থাকার কারণে যমযমের পানি দাঁড়িয়ে পান
করেছেন। তাই ভীড় থাকলে যমযমের
পানি দাঁড়িয়ে পান করা জায়েয অন্যথায় জায়েয
নেই।
জানার বিষয় হল, যমযমের পানি পান করার সুন্নত তরীকা কী? দয়া করে জানালে উপকৃত
হব।
উত্তর
যমযম পানি সাধারণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে- বসে দুভাবেই পান করা জায়েয। ভীড় না থাকলে দাঁড়িয়ে পান করা জায়েয নেই- প্রশ্নের এ কথা ঠিক নয়। ভীড় ছাড়াও যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান করা যে জায়েয আছে এ সম্পর্কে ফিকহ-ফাতাওয়ার অনেক
কিতাবে এবং হাদীসের শরাহগ্রন্থসমূহে উল্লেখ
আছে। যেমন আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৭৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫; শরহুল মুনইয়াহ ৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৪; উমদাতুল কারী ৯/২৭৮; মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/১৬৫-১৬৬ উপরন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান
করেছেন-এ হাদীসের ভিত্তিতে বহু ফকীহ ও মুহাদ্দিস যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম ও আদব বলেছেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন শামসুল আইম্মা হালওয়ানী রাহ., শাইখুল ইসলাম খাহারযাদা রাহ. (আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৭৯), ইবরাহীম হালাবী রাহ. (শরহুল মুনইয়াহ ৩৬), মোল্লা আলী কারী রাহ. (শরহুশ শামায়েল ১/২৫০), সহ প্রমুখ ফকীহ ও হাদীসবিশারদ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূলত ভীড়ের কারণেই যমযম দাঁড়িয়ে পান করেছেন এটি কোনো সুনিশ্চিত ও চূড়ান্ত কথা নয় এবং তা হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণিতও নয়; বরং ফিকহ ও হাদীসবিশারদগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাঁড়িয়ে যমযম পান করার সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে একটি ভীড়ের কারণকেও উল্লেখ করেছেন। তারা আরো যে সমস্ত কারণকে উল্লেখ করে থাকেন তা হল, ১. যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান করাও যে জায়েয তা বুঝানোর জন্য। ২. বসার যথাযথ ব্যবস্থা না থাকা অর্থাৎ
পান করার স্থানটি ভেজা বা স্যঁতস্যঁতে হওয়ার
কারণে তিনি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। সুতরাং এ সব কারণের মধ্যে শুধু একটিকে গ্রহণ
করে বাকিগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া আদৌ ঠিক নয়।
ফতোয়া নং: ২৩৪০
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: হজ্ব

আমি ৫৬ বছর বয়সের একজন বিধবা নারী। এ পৃথিবীতে আমার...

প্রশ্ন
আমি ৫৬ বছর বয়সের একজন বিধবা নারী। এ পৃথিবীতে আমার মাহরাম বলতে এক বয়োবৃদ্ধ ভাই ছাড়া কেউ নেই। আমার হজ্বে যাওয়ার আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। শুনেছি মহিলাদের মাহরাম ছাড়া হজ্বে যাওয়ার অনুমতি নেই। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আর্থিক সামর্থ্য থাকার কারণে আপনার উপর হজ্ব ফরয। তবে মাহরামের ব্যবস্থা না হলে নিজে হজ্বে যাবেন না। এক্ষেত্রে অন্যকে দিয়ে বদলী হজ্বের ব্যবস্থা করবেন। অথবা বদলী হজ্বের ওসিয়ত করে যাবেন। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৮৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১৫-৩১৬; মানাসিক ৬৪
ফতোয়া নং: ২৩২৩
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: হজ্ব

আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা আছে। কিন্তু আমার এখন...

প্রশ্ন
আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা আছে। কিন্তু আমার এখন বিয়ে করার প্রয়োজন। এ টাকা দিয়ে হজ্ব করলে বিয়ের খরচের জন্য টাকা থাকবে না। আর বিয়ে করলে হজ্ব করা যাবে না। এখন এক্ষেত্রে আমার জন্য হজ্ব করা কি জরুরি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হজ্বের টাকা জমা দেওয়া ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার শেষ সময়ের আগেই যদি আপনি বিয়ে করে ফেলেন আর বিয়েতে ঐ টাকা খরচ হয়ে যায় তবে আপনার উপর হজ্ব
ফরয হবে না। কিন্তু হজ্বের প্রস্তুতি গ্রহণের
শেষ সময় পর্যন্ত যদি ঐ টাকা খরচ না হয় তবে ঐ টাকার কারণে আপনার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যাবে। -ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/২৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৭৩; ফাতহুল কাদীর ২/৩২৩; গুনইয়াতুন নাসিক ২২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩০১
ফতোয়া নং: ২০৪১
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: হজ্ব

আমি নাবালেগ অবস্থায় আমার মা-বাবার সাথে হজ করেছিলাম। এখন আমি...

প্রশ্ন
আমি নাবালেগ অবস্থায় আমার মা-বাবার সাথে হজ করেছিলাম। এখন আমি বালেগ এবং আমার হজ করার সামথ আছে। আমার কি আবার হজ করতে হবে?
উত্তর
হ্যাঁ, আপনাকে এখন আবার হজ করতে হবে।কারন নাবালেগ অবস্থায় যে হজ আপনি আদায় করেছেন তা নফল হিসেবে আদায় হয়েছে। এখন আপনাকে ফরজ হজ আদায় করতে হবে।
সুত্রঃ
এ’লায়ুসসুনান ১০/৪৬৮, বাদায়ে’ ২/২৯৩, কাজীখান ১/৬৮১, হেদায়া ১/২৪৩,


Execution time: 0.05 render + 0.02 s transfer.