Login | Register

ফতোয়া: খাওয়া-পোশাক

ফতোয়া নং: ৪৮৮৫
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

কাপাড়ে রাস্তার কাদা লাগলে উক্ত কাপড় পরে নামায পড়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর প্রচুর বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ ৷ বের হলেই কাপড়ে কাদা লেগে যায় ৷ নামাযে গেলেও কাদা থেকে রেহায় পাওয়া মুশকিল ৷ আপনার নিকট জানার বিষয় হল, কাপড়ে রাস্তার কাদা লাগলে
কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে কি না? কাদাযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায হবে কি না? জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
যদি কাদায় নাপাকি দেখা না যায় কিংবা নাপাকির গন্ধ অথবা রং প্রকাশ না পায় তাহলে তা পাক বলে গন্য হবে ৷ এমতাবস্থায় উক্ত কাপড় পরে নামায সহিহ হবে ৷ আর যদি কাদায় নাপাকি দেখা যায় কিংবা নাপাকির গন্ধ অথবা রং প্রকাশ পায় তবে তা নাপাক ৷ তা কাপড়ে লাগলে ঐ জায়গা ধুয়ে নিতে হবে। অন্যথায় নামায হবে না ৷
-আলআশবাহ: ১/১৯৯; ফাতহুল কাদীর: ১/১৮৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া: ৪/২৩ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫৬
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা ৷

প্রশ্ন
আমি গতকাল বাথরুমে যাবার সময় মাথায় কাপড় ছিল না ৷ পরে একজন ব্যক্তি ডেকে বললেন এভাবে খালি মাথায় বাথরুমে যাওয়া ঠিক না ৷ জানার বিষয় হলো, তার কথা কি ঠিক ?
উত্তর
টয়লেটে যাবার সময় মাথায় কাপড় রাখা সুন্নত। কোননা হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন তখন মাথা ঢেকে নিতেন।
খুলাসাতুল আহকাম,হাদীস নং-৩২৩ ৷
হযরত হাবীব বিন সালেহ রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ যখন টয়লেটে প্রবেশ করতেন, তখন জুতা পরিধান করতেন, এবং মাথা ঢেকে নিতেন।
সুনানে কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৫৬।
অতএব মাথা খুলে রেখে বাথরুমে যাওয়া অনুত্তম ও সুন্নত পরিপন্থী ৷ তাই প্রশ্নে বর্নিত উক্ত ব্যক্তির কথা সঠিক ৷ খালি মাথায় বাথরুমে যাওয়া ঠিক নয় ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৪১
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

শিশুকে বোকের দুধ পান করানোর সময়সীমা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার বাচ্চার এক বছর দশ মাস হয়েছে ৷ সে এখনো বুকের দুধের উপরই নির্ভরশীল। এখনো অন্যান্য খাবারে অভ্যস্ত নয় ৷ অন্য খাবার মুখেই নিতে চায় না। প্রশ্ন হল, সর্বোচ্চ কতদিন তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে? সময়সীমা পাড় হয়ে গেলে করনীয় কি? জানিয়ে বাধিত করবেন ৷
উত্তর
শিশুকে মায়ের বুকের দুধ পান করানোর সময়সীমা হল, জন্ম থেকে চন্দ্র মাস হিসাবে দু’বছর। এরপর
শিশুকে বুকের দুধ পান করানো জায়েয নয়। তাই আপনার বাচ্চাকেও দু’ বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করানো যাবে ৷ এবং এর ভিতরে অন্যান্য খাবারে অভ্যস্ত করতে হবে ৷ যথাসাধ্য চেষ্টা করার পরও যদি দুই বছরে অন্যান্য খাবারে অভ্যস্ত না হয় ৷ তাহলে সর্বোচ্চআড়াই বছর পর্যন্ত বোকের দুধ পান করানো যাবে ৷ এরপর আর কোন ভাবেই বোকের দুধ পান করানো জায়েয হবে না ৷
-সহীহ বুখারী ২/৭৬৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২০৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২০
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

কাদিয়ানীদের পণ্য ক্রয় করা সেভেন আপ ইত্যাদি কোমল পানীয় পান করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব। আমার একটি প্রশ্ন, অনেকে বলে প্রাণ কোম্পানি কাদিয়ানীদের,তাই তাদের পণ্য খাওয়া ও ক্রয় করা যাবে না,এটা কি সঠিক? এবং আমাদের দেশে যে পেপসি, সেভেন আপ, স্পীড, টাইগার, স্প্রাইট, মজো পাওয়া যায়, তা পান করা জায়েজ আছে কিনা?
উত্তর
কাদিয়ানীরা সমস্ত মুসলমানদের ঐক্যমত্বে কাফের। তাই এসব কাফেরদের পণ্য ক্রয়ের বিধান হল,তাদের প্রোডাক্টকৃত পণ্য ছাড়া বাজারে এধরনের আর কোন পণ্য যদি না থাকে, তাহলে তাদের জায়েজ পণ্য ক্রয় করতে কোন সমস্যা নেই ৷ আর এধরনের পণ্য বাজারে থাকলে, তাদের প্রোডাক্টকৃত পণ্য ক্রয় না করা উত্তম ।
পেপসি সেভেন আপ ইত্যাদি পানীয় বস্তু যদি হারাম কোন বস্তু যেমন শুকর ইত্যাদি বস্তু দিয়ে বানানোর বিষয়ে নিশ্চিত না হওয়া যায় অথবা যদি ইত্যাদি হারাম বস্তু এমনভাবে রিফাইন করে তৈরি করা হয় যে, এসবের কোন মৌলিকত্ব বাকি থাকে না, তাহলে উক্ত বস্তু ব্যবহার করা জায়েজ আছে। আর যদি সেসব হারাম বস্তুর মৌলিকত্ব বাকি থাকে, তাহলে উক্ত হারাম বস্তু যাতে মিশ্রিত করা হবে, তা ব্যবহার, ক্রয়-বিক্রয় কিছুই জায়েজ হবে না।
উল্লেখ্য যে, আমাদের জানা মতে, এসব পানীয় বস্তুর মাঝে কোন নাপাক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না৷ বরং সোডাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করা হয়, আর যদি কোন নাপাক দ্রব্য ব্যবহার হয়েও থাকে, তাহলেও তা এমনভাবে রিফাইন হয়ে যায় যে, এসবের কোন নামগন্ধও আর বাকি থাকে না, তাই এসব পণ্য ব্যবহারে শরয়ী কোন বাঁধা নেই। তবে পরবর্তিতে হারাম বস্তু দিয়ে তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত হলে এবং তার মৌলিকত্ব বাকি থাকলে হারাম হিসেবেই গন্য হবে ৷
হিন্দিয়া ৫/৩৪৮, ৪১০; নিহায়াতুল মুহতাজ লির রামালি-৮/১২; মাজমাউল আনহুর-৪/২৫১, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-২৭/২১৮৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৭
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আরবী লেখাযুক্ত জুতা পরিধান করা ৷ 

প্রশ্ন
সৌদি আরব থেকে আমার এক বন্ধু আমার জন্য এক জোড়া জুতা পাঠিয়েছে ৷ জুতায় আরবীতে নাম লিখা ছিলো। যেমন আমাদের দেশে জুতায় ‘বাটা এপেক্স ইত্যাদি নাম লিখা থাকে। জানার বিষয় হলো, এসব জুতা কি পরিধান করার বিধান কি?
উত্তর
জুতায় কুরআনের আয়াত বা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর নাম লেখা থাকলে এসব জুতা পরিধান করা জায়েজ হবে না। সম্পুর্ন হারাম হবে ৷ এবং যারা জুতায় এসব লিখা লিখবে তারা ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্ন অপরাধী ৷ তাদের বিরোদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া উচিত ৷ তবে জুতায় আরবীতে লেখা থাকলেই সেটি কুরআনের আয়াত বা হাদীস, কিংবা আল্লাহ বা রাসূল সাঃ এর নাম হয়ে যায় না। কারন আরবী একটি ভাষা। আমাদের দেশে যেমন বিভিন্ন জিনিষপত্রে কোম্পানীর নাম লেখা থাকে, তেমনি যেসব দেশের ভাষা আরবী তারা আরবীতেই নিজ কোম্পানীর নাম লিখে থাকে। তাই কুরআনের আয়াত বা হাদীস, কিংবা আল্লাহ ও রাসূল সাঃ এর নাম সম্বলিত জুতা না হলে তা পরিধান করতে কোন সমস্যা নেই।
তাহতাবী আলাল মারাকী পৃঃ ১১৮; ফাতাওয়াযে হিন্দিয়া ৫/৩২২ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১০
তারিখ: ২১/১/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

মেশিনে উৎপাদিত ডিম ও মুরগী খাওয়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর বর্তমানে এমন বহুত দেখা যায় যে, মুরগ ছাড়া-ই মুরগী থেকে মেশিনের মাধ্যমে ডিম উৎপাদন করা হয় । আবার মুরগী ছাড়াও মেশিনের মাধ্যমে মুরগী উৎপাদন করা হয় । তাই জানার বিষয় হল, মেশিনে উৎপাদিত ডিম ও মুরগী খাওয়া শরীয়তে জায়েয কি না?
উত্তর
শরীয়তের মূলনীতি হলো প্রত্যেক বস্তুর আসল হলো মুবাহ বা হালাল হওয়া ৷ তাই যতক্ষন পর্যন্ত এসব ডিম ও মুরগী উৎপাদনে হারাম হওয়ার কোন কারণ পাওয়া না যায় ততক্ষণ পর্যন্ত এসব ডিম ও মুরগী খাওয়া হালাল হবে ৷ অদ্য পর্যন্ত এসব ডিম ও মরগী উৎপাদনে হারাম হওয়ার কোন কারন পাওয়া যায় নি ৷ তাই এসব ডিম ও মুরগী খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই।
ফতওয়ায়ে শামী ১/২২১ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৮০২
তারিখ: ১৪/১/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

বই খাতা কলম ইত্যাদি হাত থেকে পড়ে গেলে উঠিয়ে চুমু খাওয়া ও মুরুব্বিদের গায়ে পা লাগলে চুমু খাওয়া ৷ 

প্রশ্ন
খাতা কলম বই, ইসলামিক বই ইত্যাদি হাত থেকে পড়ে গেলে আমরা তা উঠিয়ে চুমু খাই। এটা কতটুকু শরীয়তসম্মত? কোন মানুষের গায়ে পা লাগলেও আমরা চুমু খাই। এটা জায়েয কি না?
উত্তর
কুরআন মাজীদ ও ইসলামী বই-পুস্তক হাত থেকে পড়ে গেলে তা উঠিয়ে মুখের কাছে এনে চুমু খাওয়া জায়েজ আছে৷ কিন্তু ঝুঁকে চুমু খাওয়া জায়েজ নয় । কেননা এতে সেজদার অবস্থা চলে আসে। আর
সেজদা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে করা জায়েজ নয়।
মুরব্বীদের গায়ে পা লাগলে চুমু খাওয়া মূলত সম্মান দেখানোর জন্য হয় । এটা করাতেও কোন সমস্যা নাই। তবে এক্ষেত্রেও ঝুঁকে চুমু খাওয়া হারাম।
উল্লেখ্য যে, চুমু খাওয়ার বিষয়টিকে জরুরী মনে করা বা শরয়ী বিধান মনে করা বিদআত। এমনিতে করতে কোন সমস্যা নেই ৷
রাদ্দুল মুহতার-৫/২৪৬, তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-২৫৯, ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-৭/১৪৭৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৯৭
তারিখ: ৮/১/২০১৭
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

বীর্য পাক না নাপাক৷

প্রশ্ন
আমরা জানি পুরুষ বা মহিলার উত্তেজনার সহিত যে গাড় তরল পদার্থ বের হয়, তাকে বীর্য বলে ৷ বীর্য বের হলেই গোসল ফরজ হয় ৷ উক্ত বীর্য দিয়েই সকল মানুষ সৃষ্টি করা হয়েছে ৷ যে বীর্য বের হলেই গোসল ফরজ হয় তা নাপাক তা-ই জানি ৷ কিন্তু কিছু লোক বলে বীর্য নাকি পাক ৷ আমার প্রশ্ন হচ্ছে বীর্য পাক না নাপাক ? কুরআন হাদীসের আলোকে সঠিক বিধান জানাবেন৷
উত্তর
সাধারন জ্ঞানেও স্বীক়তি দেয় যে, বীর্য নাপাক। যে বীর্য বের হলেই গোসল পর্যন্ত ফরজ হয়ে যায় তা পাক হবার প্রশ্নই উঠে না। এ জন্যই বীর্য শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে খুটিয়ে তুলে ফেলা ও ভিজা হলে কাপড়টি ধৌত করার কথা বহু হাদীসে এসেছে। যেমন-
আমার বিন মাইমুন রহঃ সুলাইমান বিন ইয়াসার রাঃ কে বীর্য লাগা কাপড়ের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উত্তরে বলেন, হযরত আয়শা রাঃ বলেছেন, “আমি রাসূল সাঃ এর কাপড় থেকে তা ধুয়ে ফেলতাম তারপর তিনি নামাযের জন্য বের হতেন এমতাবস্থায় যে,কাপড়ে পানির ছাপ লেগে থাকতো।
সহীহ বুখারী, হাদীস নং-২৩১, ২২৯
ইমাম বুখারি রঃ উক্ত হাদীসকে বীর্য নাপাক হওয়ার অনুচ্ছেদে এনে তাঁর মত বীর্য নাপাক হওয়া-ই প্রমান করেছেন ৷ ইমাম বুখারীর বিরোধীতা করে বীর্যকে কিছু লোক দলীল ছাড়াই পাক বলে থাকে ৷
রাসূল সাঃ এটা সিক্ত থাকলে ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় কাপড়ে লাগলে তা ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর শুকিয়ে গেলে খুটিয়ে তুলে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ পাক হলে ধৌত করার নির্দেশনা দিলেন কেন? আর নবীজী সাঃ এর কাপড়ে যে বীর্য লেগে শুকিয়ে গিয়েছিল, তা তিনি খুটিয়ে তুলে ফেলাটাই প্রমাণ করে তা নাপাক ৷ পাক থাকলে খুটে ফেলে দেয়ার দরকার কি? যেমন কাপড়ে যদি আটা লেগে শুকিয়ে যায়, তাহলে তা খুটিয়ে ফেলে দিলে তা একেবারেই উঠে যায়, এমনি বীর্যও শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে তা তুলে ফেললে তার কোন কিছু আর বাকি থাকত না, তাই নবীজী সাঃ খুটিয়ে তুলে ফেলার পর তা না ধুয়েই নামায পড়েছেন। বীর্য পাক এজন্য নয়।
এছাড়া অন্যান্য হাদীসে এসেছে-
আম্মার বিন ইয়াসার রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- নিশ্চয় ৫টি কারণে কাপড় ধৌত করতে হয়, যথাঃ পায়খানা, প্রশ্রাব,
বমি, রক্ত, বীর্য। সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৪৫৮৷
হযরত ওমর বিন খাত্তাব রাঃ বলেন- বীর্য সিক্ত থাকলে তা ধুয়ে ফেল, আর শুকিয়ে গেলে তা খুটিয়ে তুলে ফেল।
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-৯৩৩
সুতরাং বুঝা গেল যে, বীর্য নাপাক। তা শুকিয়ে শক্ত হয়ে গেলে খুটিয়ে তুলে ফেললে আর কোন চিহ্ন বাকি না থাকলে পাক হয়ে যাবে । আর সিক্ত হলে ধৌত করতে হবে ৷ কাপড়ে বীর্য লেগে থাকলে কাপড় ধৌত করতে হবে ৷ উক্ত কাপড়সহ নামায পড়লে নামায সহিহ হবে না।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৬৪
তারিখ: ১২/১২/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

দুধের শিশুর বমির হুকুম৷

প্রশ্ন
দুধের বাচ্চা অনেক সময় দুধ খাওয়ানোর পর কোলে নিলে বমি করে দেয়৷ কখনো মায়ের বুকের দুধ পান করা অবস্থায় মায়ের কোলে বমি করে দেয়। আর বমির পরিমাণ কখনো বেশি হয় আবার কখনো কম। জানার বিষয় হচ্ছে এই যে, এই কাপড়ের বিধান কী? এই কাপড় পরে নামাজ পড়া যাবে কি?
উত্তর
দুধের শিশুর বমির হুকুম বড়দের বমির মতোই। মুখ ভর্তি বমি হলে তা নাপাক। আর মুখ ভর্তি না হলে নাপাক নয়। এমনকি দুধ পান করার পর পর বমি করলেও উপরোক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে। অতএব প্রশ্নোক্ত সুরতে বাচ্চা মুখ ভরে বমি করলে কাপড় নাপাক হয়ে যাবে ৷ এবং উক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়লে নামায হবে না৷ কাপড় পাল্টিয়ে নামায পড়তে হবে৷ বমির পরিমান সামান্য হলে সমস্যা নেই৷
তবে খাবার গিলে ফেলার আগেই মুখ থেকে বের করে দিলে এর কারণে কাপড় বা শরীর নাপাক হবে না।
-ফাতহুল কাদীর ১/১৭৯; হাশিয়াতু তহতাবী আলালমারাকী পৃষ্ঠা ৪৯৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৫৭
তারিখ: ৬/১২/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

সন্তান জন্মের পর করণীয়৷

প্রশ্ন
সন্তান জন্মের পর পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে তার জন্য কি কি করণীয়?
উত্তর
সন্তান জন্মের পর করণীয়
১৷ সন্তান জন্মের পর পিতা-মাতার উপর কর্তব্য হল, তাকে প্রথমেই ভাল করে গোসল দিবে। প্রথমে লবন পানি দিয়ে তারপর খালেস পানি দিয়ে, তাহলে
ফোড়া, গোটা ইত্যাদি অনেক রোগ থেকে শিশু মুক্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ। শরীরে বেশি ময়লা থাকলে কয়েকদিন পর্যন্ত লবন পানি দিয়ে গোসল করাবে, ময়লা বেশি না হলে শুধু খালেস পানি দিয়ে গোসল করাবে।
২৷ ভেজা কাপড় দিয়ে শিশুর নাক, কান, গলা, মাথা ভালভাবে পরিস্কার করবে। অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুর বহু রোগ জন্ম নেয় বলে বিশেষজ্ঞরা বলেন।
৩৷ সম্ভব হলে শিশুকে প্রথম দুধ পান করানোর আগে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির কাছে নিয়ে সামান্য খেজুর চিবিয়ে
শিশুর মুখে দিবে। এটাকেই তাহনীক বলে। এটা করা মুস্তাহাব।
৪৷ জন্ম নেবার পর শিশুর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত দিবে মৃদু আওয়াজে।
৫৷ শিশু জন্ম নেবার সাত দিনের মাথায় মাথার চুল ফেলে চুল পরিমাপ করে সে ওজন পরিমাণ স্বর্ণ বা রোপা বা তার মূল্য দান করা মুস্তাহাব।
৬৷ সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিন ছেলে হলে দু’টি বকরী বা গরু-মহিষের ৭ ভাগের দুই ভাগ, আর মেয়ে হলে একটি বকরী বা গরু-মহীষের ৭ ভাগের একভাগ আক্বিকা হিসেবে জবাই করা এ মুস্তাহাব। আক্বিকার পশুর হাড্ডি ভাঙ্গবে না। আত্বীয় স্বজনকে খাওয়াবে গোস্ত, এবং গরীব দুঃখীদের খাওয়াবে। নিজেরাও খাবে। সেদিন ই ছেলেটির সুন্দর নাম রাখা মুস্তাহাব । ৭দিনের মাথায় আক্বিকা দিতে না পারলে ১৪দিনের মাথায়, না হলে ২১ দিনের মাথায় আক্বিকা দিবে। অথবা বালেগ হওয়ার আগে যেকোন সময় জন্মের সাত দিন হিসেব করে সাত দিনের মাথায় আক্বিকা দেয়া উত্তম। জরুরী নয়।
বাচ্চার ক্ষতি হওয়ার আশংকা থাকলে তাকে গোসল দেয়া আবশ্যক নয়। তবে যৌক্তিক কোন কারণ না থাকলে ময়লাসহ রাখা উচিত নয়। কারণ ময়লা ও নাপাক ব্যক্তির কাছে ফেরেস্তা আসে না।
হযরত হুসাইন রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন যে, যার সন্তান হয়, সে যেন তার ডান কানে আজান এবং বাম কানে ইকামত দেয়।
মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৬৭৮০, মুসান্নাফে
আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-৭৯৮৫৷
হযরত আবু মুসা আশআরী রাঃ থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে আমি তাকে রাসূল সাঃ এর
কাছে নিয়ে এলাম, তখন রাসূল সাঃ তার নাম রাখেন ইবরাহীম এবং তাকে তাহনীক করান খেজুর দিয়ে।
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৫৭৩৯, সুনানুল বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৮৮৷
হযরত সামুরা বিন জুনদুব রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন- প্রত্যেক বালকের পক্ষ থেকে আক্বিকা হল বন্ধক স্বরূপ, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে জবাই করবে, এবং তার মাথা মুন্ডাবে, এবং তার নাম রাখবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৪০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৯০৪৭৷
উম্মে কুরযিল কা’বিয়্যাহ রাঃ বলেন- আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি যে, ছেলের জন্য দু’টি একইমানের বকরী ও মেয়ের পক্ষ থেকে একটি বকরী আক্বিকা দিবে।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২৮৩৬, সুনানে তিরমিযী,
হাদীস নং-১৫১৩৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৪৭
তারিখ: ৩/১২/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

পড়ার অনুপযোগি পুরাতন কুরআন শরীফের হুকুম৷

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে অনেক পুরাতন কুরআন শরীফ জমে আছে ৷ এগুলো কেউ পড়ে না, এখন পড়ার উপযুক্তও না৷ এসব কুরআন শরীফ কি করবো? এভাবে জমতে জমতে আরো বাড়ছেই৷ রাখাও কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে৷ কেউ বলে এগুলোকে পুড়িয়ে দিতে আবার কেউ বলে নদীতে ফেলে দিতে৷ আপনার নিকট এ বিষয়ে সঠিক সমাধান চাই৷
উত্তর
পুরাতন কুরআন শরীফ যদি পড়ার অনুপযোগি হয়ে যায়, তাহলে সেগুলোকে কোন পবিত্র কাপড় দিয়ে ঢেকে এমন স্থানে দাফন করে দিবে, যেখানে স্বাধারনত মানুষের পা পড়ে না। এটাই সঠিক পদ্ধতি।
কুরআন শরীফ পুড়াবে না। কারন এর দ্বারা কুরআনকে অসম্মান করা হয়। কুরআন শরীফের অসম্মান হয় এমন কোন কাজ করা জায়েজ নেই
ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩২৩; ফতওয়ায়ে শামী ৫/২৭১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭২৮
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

পুরুষের জন্য স্বর্ণ বা রুপার আংটি ব্যবহার৷

প্রশ্ন
পুরুষদের আংটি পরিধানের ব্যাপারে আমাদের শরিয়ত কি বলে? আংটি স্বর্ণ বা রুপার পরিমান কি হলে পরিধান করা যাবে ?
উত্তর
তাকদীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনা বিশেষ উদ্দেশ্যে আংটি ব্যবহার যেমন–শনির দশা, রাহুর গ্রাস ও কালের দৃষ্টি থেকে রক্ষা; ফাড়া কাটানো, দূর্ভাগ্য দূর করা, সৌভাগ্য আনয়ন করা; এসব উদ্দেশ্যে আংটি ব্যবহার করা৷হারাম ও শিরিক।
এছাড়া পুরুষের জন্য দুই শর্তে আংটির ব্যবহার করা জায়েয।
১৷
রৌপ্যের আংটি ব্যবহার করবে।
২৷
পাঁচ মাশা (৪.৮৬ গ্রাম) থেকে কম হতে হবে।
আহসানুল ফাতওয়া খণ্ড : ৮, পৃ. ৬৯-৭০/রদ্দে মুখতার, খণ্ড : ৫, পৃ. ২২৯৷
আর যেসব ধাতু কাফিরদের সঙ্গে কিংবা তাদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ যেমন শিশা, পিতল, কাঁসা ও লোহার আংটি ব্যবহার করা মুসলমানদের জন্য মাকরূহ।
ইসলাম বনাম বিজাতির অনুকরণ, হাকিমুল উম্মত ক্বারী তৈয়্যব সাহেব (রহ.) পৃ.৷১৭১-১৭)।
তবে অসুস্থতার কারণে বিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে অন্য ধাতুর আংটি ব্যবহার করা যাবে। আমাদের প্রিয় নবী(সা.) রাষ্ট্রীয় দাপ্তরিক কাজে সীলমোহর হিসেবে রুপার আংটি ব্যবহার করতেন।
স্বর্ণের আংটি বা সোনার অন্য যে কোন অলংকার ব্যবহার পুরুষের জন্য একেবারে হারাম। আবু মুসা আশ‘আরী (রা.) রাসূলুল্লাহ্ (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন,
‎ﺃُﺣِﻞَّ ﺍﻟﺬَّﻫَﺐُ ﻭَﺍﻟْﺤَﺮِﻳﺮُ ﻟِﺈِﻧَﺎﺙِ ﺃُﻣَّﺘِﻲ، ﻭَﺣُﺮِّﻡَ
‎ﻋَﻠَﻰ ﺫُﻛُﻮﺭِﻫَﺎ
“আল্লাহ তা‘আলা আমার উম্মতের নারীদের জন্য রেশম ও স্বর্ণ হালাল করেছেন এবং পুরুষদেরজন্য হারাম করেছেন।”
সুনান নাসাঈ হাদীস নং-৫২৬৫৷
ফতোয়া নং: ৪৭২৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

মুসলমানের জন্য টাই পরিধান করা ৷

প্রশ্ন
মুসলিমদের জন্য টাই পরিধান করা
জায়েজ আছে কিনা?
উত্তর
টাইর সূচনা শূলের প্রতীক হিসাবে হয়েছে কিনা, এ নিয়ে পক্ষ- বিপক্ষের বক্তব্য ও তাহকিক-গবেষণা এতটাই দুবোধ্য ও প্রান্তিকতাপুষ্ট যে, একে যেমনিভাবে নিশ্চিতভাবে শূলের প্রতীক বলা মুশকিল,অনুরূপভাবে ‘শূলের প্রতীক নয়’ এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
তবে অকাট্য তথ্যপ্রমাণপুষ্ট না হলেও এটি শূলের প্রতীক হিসাবে এতটাই জনশ্রুতি আছে যে,তা সত্য হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। যদি সত্য হয় তাহলে বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুকরণ শরীয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত
ঘৃণিত। হাদীস শরীফে এসেছে-‘যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে সামঞ্জস্য রাখে সে তাদের দলভুক্ত।
সুনানে আবু দাউদ ২/৫৫৯
কিন্তু যেহেতু বিষয়টি অকাট্য তথ্যপ্রমাণপুষ্ট নয় ; উপরন্তু বিধর্মীদের সাদৃশ্যতা গ্রহনের ইচ্ছা ব্যতিরেকেই এর ব্যাপক প্রচলন হয়ে পড়েছে তাই মুফতীগণ বলেন, এটা পরা একেবারে হারাম তো বলা যাবেনা তবে সন্দেহযুক্ত বিধায় মাকরূহ হবে। তাই এর ব্যবহার এড়িয়ে চলা কর্তব্য।
ফাতাওয়া মাহমুদিয়া১২/৪০৮
হযরত নু'মান ইবনে বাশীর (রা) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন: হালাল বা বৈধ সুস্পষ্ট এবং হারাম বা অবৈধও স্পষ্ঠ আর এ দু’এর মধ্যবর্তী বিষয়গুলো হলো সন্দেহজনক। আর বেশীরভাগ লোকই সেগুলো সম্পর্কে সঠিক পরিচয় জানে না। অতএব যে ব্যক্তি ঐ সন্দেহজনক জিনিসিগুলোকে পরিহার করলো সে তার দ্বীন ও মান-সম্মানকে পবিত্র রাখলো। আর যে ব্যক্তি সন্দেহজনক জিনিসে জড়িয়ে পড়লো সে হারামের মধ্যে পড়ে গেল। (বুখারী,মুসলিম)
প্রয়োজনে
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭২১
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

হাফ-হাতা শার্ট অথবা গেঞ্জী পরে নামায আদায় করা৷

প্রশ্ন
হাফ- হাতা শার্ট অথবা গেঞ্জী পরে কি জামাতে অথবা একাকী নামায আদায় করা যায়? আমার এক বড় ভাই বললেন, হাফ-হাতা শার্ট অথবা গেঞ্জী পরে না-কি জামাতে নামায আদায় করা মাকরুহ। দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
বিধর্মীদের ধর্মীয় নিদর্শন নয় এমন শালীন পোশাক যা পরিধান করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে এবং উপযোগী হিসেবে মনে করে এমন পোশাক পরিধান করে নামায পড়া উচিত। যে পোশাক পরিধান করে মানসম্মত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে মানুষ অপছন্দ করে এমন পোশাক পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহে
তানজিহী।
এ মূলনীতির আলোকে ফকিহগণ বলেন, যেহেতু বুজুর্গানেদ্বীনের মজলিস বা অন্য সম্মানিত
মজলিসে হাফ-হাতা শার্ট বা গেঞ্জী পরিধান করে যাওয়াকে অপছন্দ করা হয়, তাই এরকম কাপড় পরিধান করে একাকী কিংবা জামাতে নামায পড়া খেলাফে সুন্নত তথা মাকরূহে তানজিহী হবে। অন্য কোন কাপড় না থাকলে মাকরূহ হবে না।
ফাতাওয়া উসমানী ১/৪২৩, কিফায়াতুলমুফতী ৩/৪২৮, ইমদাদুলআহকাম ১/৫৬১,৫৬৩ খুলাসাতুলফাতাওয়া ১/৫৮৷
প্রয়োজনে
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

টুপি ছাড়া নামাজ পড়া৷

প্রশ্ন
টুপি পরা সুন্নত। কিন্তু না পরে নামাজ পড়লে কি কোন গুনাহ হবে বা নামাজের কোনো ক্ষতি হবে? দয়া করে উত্তর দিবেন।
উত্তর
আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘তোমরা নামাজের সময় তোমাদের সর্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করো’। সূরা আরাফ : ৩১
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, নামাজ আদায় করার
ক্ষেত্রে পোশাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথা ঢেকে নামাজ আদায় করতেন, আমাদেরও তাই করা উচিত। সাহাবায়েকেরামও তাবিঈগণও এ বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেন। যেমন-
হাসান ইবনে আলী রা. সম্পর্কে এসেছে, তিনি নামাজের সময় র্বোৎকৃষ্ট পোশাক পরতেন। একদিন কেউ তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সুন্দর এবং তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। তাই আমি আমার প্রভুর জন্য সুন্দর পোশাক পরি।
রুহুল মাআনি ৪/৩৪৯৷
হাসান বসরি রহ. বলেন, তাঁরা সাহাবায়ে কেরাম গরমের কারণে পাগড়ি বা টুপির ওপর সিজদা করতেন।
বোখারি ১/৮৬ যুহাইর (রহ.) বলেন, আমি প্রখ্যাত তাবেয়ি আবু
ইসহাক সাবিয়ীকে দেখেছি, তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়েছেন। তিনি মাটি থেকে টুপি উঠিয়ে মাথায় পরেছেন।
তাবাকাতে ইবনে সাদ ৬/৩১৪৷
তাই নামাজে টুপি পরা সুন্নত এবং অবহেলা করে টুপি না পরে নামাজ পড়া মাকরুহ, যদিও নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
ফাতাওয়া কাজিখান : ১/১৩৫৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬৭৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

ব্যাঙ, গুইসাপ, কুঁচে বা কাঁকড়া ইত্যাদি খাওয়া বা বিক্রি করার হুকুম৷

প্রশ্ন
ব্যাঙ, গুইসাপ, কুঁচে বা কাঁকড়া ইত্যাদি খাওয়া বা বিক্রি করা আমাদের হানাফী মাযহাব অনুযায়ী জায়েজ আছে কি?
উত্তর
এসব প্রাণী হানাফী মাযহাব অনুযায়ী খাওয়া ও বিক্রি করা জায়েজ নয়। যদি উল্লেখিত প্রাণীসমূহ কোন প্রয়োজনে যেমন ঔষধ হিসেবে বাহ্যিক ব্যবহারে উপকারী সাব্যস্ত হয় কিংবা গুইসাপের চামড়া কোন কাজে লাগে, তাহলে এ জীবিত প্রাণীগুলোর ক্রয়-বিক্রয় ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ আছে। ফাতাওয়া শামী-৬/৩০৮, ১/১৩৫, আলবাহরুর রায়েক-৬/৮০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৭০
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

কুকুর বা শেয়ালের কামড়ে আহত মুরগী খাওয়া৷

প্রশ্ন
যদি কোন মুরগি শেয়ালে ধরে এবং এই মুরগিটি যদি শেয়ালের মুখ থেকে ছুটে আসে তখন মুরগি টা জবেহ না করলে মুরগিটা মরা যাবে। এমতবস্তায় মুরগিটা কী খাওয়া জাযেজ হবে?
উত্তর
হ্যাঁ, যদি মুরগিটা মারা যাবার আগেই সেটিকে বিসমিল্লাহ বলে জবাই করা হয়, তাহলে খাওয়া যাবে। যদি জবাই করার পূর্বেই মারা যায়, তাহলে খাওয়া যাবে না।
‎ﺍﻥ ﺳﺒﻌﺎ ﻟﻮ ﺍﺧﺬ ﻗﻄﻌﻪ ﻣﻦ ﻟﺤﻢ ﺍﻟﺒﻬﻴﻤﺔ ﻓﺎﻛﻠﻬﺎ ﻓﺬﻛﺎﻫﺎ
‎ﺻﺎﺣﺒﻬﺎ ﺍﻥ ﺫﺍﻟﻚ ﺟﺎﺋﺰ ﻣﺒﺎﺡ ﺍﻻﻛﻞ ﺍﻟﺦ ‏(ﺍﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ
‎ﻟﻠﺠﺼﺎﺹ - 2/305 ﺳﻮﺭﺓ ﻣﺎﺋﺪﺓ ﺗﺤﺖ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ‎ﺣﺮﻣﺖ ﻋﻠﻴﻜﻢ ﺍﻟﻤﻴﺘﺔ ﺍﻟﺪﻡ ﺍﻵﻳﺔ 3-، ﺗﻔﺴﻴﺮ ‎ﻣﻈﻬﺮﻯ - 3/21، ﺭﻭﺡ ﺍﻟﺒﻴﺎﻥ - 2/341 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১৬
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

ড্রেসিং করা মুরগীর গোস্ত খাওয়া৷

প্রশ্ন
ড্রেসিং করা মুরগীর গোশত খাওয়া কী হালাল কিনা ? । কারণ সেই মুরগী গরম পানিতে দেওয়া হয় ।
উত্তর
মুরগীর পেটে থেকে নাড়িভুরি বের করার পর যদি ড্রেসিং করা হয়৷ তাহলে উক্ত মুরগীর গোস্ত কোন সমস্যা নেই। কিন্তু নাড়িভুরি বের না করে যদি গরম পানিতে চুবানো হয়, আর তাতে নাড়িভুরির ময়লা গোস্তের সাথে মিলে যায়, তাহলে উক্ত মুরগী নাপাক হয়ে যাবে৷ এবং তার গোস্ত খাওয়া জায়েজ হবে না।
আর আমাদের দেশে সাধারণত ড্রেসিংকৃত মুরগীর নাড়িভুরি বের না করে গরম পানিতে রাখার কারনে মুরগীর গোস্তের সাথে নাড়িভুরির নাপাক মিশে মুরগী নাপাক হয়ে যায়৷ তাই তা খাওয়া বৈধ নয়৷
‎وإن كانت مما يطبخ كاللحم والحنطة فإن أصابتها نجاسة وطبخت بها فلا تطهر . بعد الغليان أبدا على المفتى به لأن أجزاءها تكون قد تشربت النجاسة حينئذ ومن ذلك الدجاجة إذا غليت قبل شق بطنها فإنها لا تطهر أبدا لتشرب أجزائها النجاسة فيجب شق بطنها وإخراج ما فيها وتطهيرها بالغسل قبل غلبها (الفقه على المذاهب الأربعة – الجزيري- كتاب الطهارات، مبحث فيما تزال به النجاسة وكيفية إزالتها-1/25)
‎وايضا فى رد المحتار-1/544 وفى الفتاوى التاتارخانية-1/185 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১০
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

ব্যাঙের প্রস্রাব পাক না নাপাক?

প্রশ্ন
আমাদের ঘরে ব্যাঙের উপদ্রব একটু বেশি। একদিন মেঝেতে পড়ে থাকা আমার গেঞ্জির মধ্যে একটি ব্যাঙ প্রস্রাব করে
দেয় এবং প্রায় পাঁচ আঙ্গুল পরিমাণ ছড়িয়ে
পড়ে। অতঃপর আমি তা না ধুয়ে পরিধান করে
আসরের নামায আদায় করি। আমার নামায কি আদায়
হয়েছে?
উত্তর
স্থলে বসবাসকারী ব্যাঙের প্রস্রাব ‘নাজাসাতে
গলীজা’। তাই প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী গেঞ্জিটি নাপাক হয়ে গেছে। অতএব ঐ গেঞ্জি পরিধান করে যে নামায পড়া হয়েছে
তা সহীহ হয়নি। ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া
জরুরি।
-আননাহরুল ফায়েক ১/১৪৮; শরহুল মুনয়া পৃ. ১৪৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৭৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫০২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

প্রানীর ছবিযুক্ত কাপড় পরে নামায পড়া৷

প্রশ্ন
কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত গেঞ্জি গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি নামায হবে?
উত্তর
জামা কাপড়ে প্রাণীর ছবি দৃশ্যমান থাকলে তা পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে নামায মাকরূহ হলেও তা আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়তে হবে না। আর ছবিযুক্ত জামা-গেঞ্জি পরে মসজিদে আসা আরো মারাত্মক অন্যায়। এতে মসজিদের পবিত্রতা ও আদব নষ্ট হয় এবং এ কারণে অন্য মুসল্লিদের নামাযও মাকরূহ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
-কিতাবুল আছল ১/১৮৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৩৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১১৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৩২২২
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

শ্রদ্ধাভাজন মুফতী সাহেবের নিকট বিনীত আরজ এই যে, নিম্নোল্লেখিত মাসআলার...

প্রশ্ন
শ্রদ্ধাভাজন মুফতী সাহেবের নিকট বিনীত আরজ এই যে, নিম্নোল্লেখিত মাসআলার সঠিক সমাধান জানিয়ে আমাকে বাধিত করবেন। ফিদয়া আদায় করার ক্ষেত্রে মিসকীনকে খানা না খাইয়ে এর মূল্য সদকা করে দিতে চাইলে কাউকে মালিক বনানো কি জরুরি? কোনো কারণবশত খানা খাওয়াতে না পারলে এর মূল্য অন্যান্য নফল সদকার মতো মসজিদে দেওয়া, মাদরাসার বিল্ডিং নির্মাণ বা জনকল্যাণমূলক অন্য কোনো কাজে ব্যয় করা যাবে কিনা?
উত্তর
না খাইয়ে অর্থ দিয়ে ফিদয়া দিতে চাইলে দু বেলা খাবারের ন্যায্য মূল্য কোনো মিসকীনকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ খানা খাওয়ানোর পরিবর্তে এর মূল্য দিতে চাইলে উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া আবশ্যক। আর যেহেতু ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দেওয়া আবশ্যক, তাই ফিদয়ার মূল্য মসজিদে দেওয়া, মাদরাসার বিল্ডিং মেরামত করা বা অন্য কোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যাবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৬০-২৬১;
ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া
১/১৮৮'
ফতোয়া নং: ৩২১১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

কাপড়ে রাস্তার কাদা লাগলে কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন
কাপড়ে রাস্তার কাদা লাগলে কাপড় কি নাপাক হয়ে যাবে?
উত্তর
সাধারণ অবস্থায় রাস্তার কাদা পাক। তা কাপড়ে লাগলে কাপড় নাপাক হবে না। তবে যদি কাদায় নাপাকি দেখা যায় কিংবা নাপাকির গন্ধ অথবা রং প্রকাশ পায় তবে তা নাপাক। এটি কাপড়ে লাগলে ঐ জায়গা ধুয়ে নিতে
হবে।
-আলআশবাহ ওয়ান নাযাইর ১/১৯৯; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/২৩; ফাতহুল কাদীর ১/১৮৬; আততাজনীস ১/২৫৯
ফতোয়া নং: ২৮৫১
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমি একটি বায়িং হাউজে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার পদে কর্মরত। বিভিন্ন গার্মেন্টস...

প্রশ্ন
আমি একটি বায়িং হাউজে কোয়ালিটি কন্ট্রোলার
পদে কর্মরত। বিভিন্ন গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে
তৈরি পোশাক ইনস্পেকশনের কাজে যেতে হয়।
মাঝেমধ্যেই গার্মেন্টেস মালিকগণ উপহার বা গিফট
হিসেবে আমাকে বিভিন্ন খাম দেয়। তাতে ভালো অংকের টাকা থাকে। এক্ষেত্রে তাদের গোপন
উদ্দেশ্য হল, আমি যেন খুব যাচাই বাছাই না করেই
ইনস্পেকশন রিপোর্ট ওকে করে দিই। প্রশ্ন হল,
শরীয়তের দৃষ্টিতে আমার জন্য এ উপহার নেওয়া
কি বৈধ? যদি বৈধ না হয় তাহলে আমার করণীয়
কী?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত টাকা উপহার বলে দেওয়া হলেও তা মূলত ঘুষ। এ টাকা গ্রহণ করা
সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ তাআলা অন্যায়ভাবে একে
অপরের সম্পদ ভোগ করো না। -সূরা বাকারা ১৮৮
হাদীস শরীফে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও গ্রহিতা উভয়ের প্রতি
অভিসম্পাৎ করেছেন। -জামে তিরমিযী, হাদীস :
১৩৩৭
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যাদের থেকে ঘুষ
নেওয়া হয়েছে তাদেরকে ঐ টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে।
আর যাদের সন্ধান পাওয়া যাবে না তাদের টাকা সদকা করে দিতে হবে। আর নিজের উপর অর্পিত
দায়িত্ব সর্বদা যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং
বিগত দিনের জন্য ইসিত্মগফার করতে হবে। -সূরা বাকারা ১৮৮; তাফসীরে কুরতুবী ২/২২৭; শরহুল মাজাল্লাহ ৬/১৪; মাআরিফুল কুরআন, মুফতী শফী রাহ. ৫/৩৯৭; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েত ২২/২২২
ফতোয়া নং: ২৮১৬
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

অনেককে দেখা যায়,তারা প্যান্টের সাথে গেঞ্জি কিংবা শর্ট শার্ট পরে...

প্রশ্ন
অনেককে দেখা যায়,তারা প্যান্টের সাথে গেঞ্জি কিংবা শর্ট শার্ট পরে এবং ঐ পোশাকে নামায আদায় করে।আর ঐ পোশাকে নামায পড়লে রুকু-সিজদার সময় সাধারণত কোমরের নিচের অংশ থেকে কাপড়
সরে যায়।আমার প্রশ্ন হল,ঐভাবে নামায পড়লে কি তা সহীহ হবে?জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
পুরুষের নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশটুকু সতরের অন্তর্ভুক্ত। যা ঢেকে রাখা ফরয।নামায অবস্থায়
সতরের কোনো অঙ্গের এক চতুর্থাংশ তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যায়।তাই নাভি বরাবর পেছন দিক থেকে নিতম্ব পর্যন্ত জায়গার এক
চতুর্থাংশ এ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে।
আর এমন পোশাকে নামায পড়লে পেছনের মুসল্লিদের খুশু-খুযুও নষ্ট হয়।এছাড়া প্রশ্নোক্ত পোশাক মুসলিম উম্মাহর নিজস্ব পোশাক নয়।তাই এ
ধরনের পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকাই উচিত।প্রকাশ থাকে যে,সকল মুসলমানের জন্য শরীয়তসম্মত পোশাক পরিধান করা আবশ্যক এবং এ ব্যাপারে শরীয়তের
যে নীতিমালা আছে তা মেনে চলা জরুরি।পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও বিজাতীয় অনুকরণ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে হাদীস শরীফে তাকিদ এসেছে।
-সুনানে আবু দাউদ হাদীস :৪০২৭ মিরকাত৮/২২২
ফতোয়া নং: ২৫৪০
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমি এক মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক। এ বিভাগের প্রায় সব...

প্রশ্ন
আমি এক মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক। এ বিভাগের প্রায় সব ছাত্রই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তারা নিজেদের জন্য বাসা থেকে বিভিন্ন খাবার ও টাকা-পয়সা নিয়ে আসে। তারা সেই খাবার আমাকে দিতে চায় এবং তাদের টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিস কিনে এনে আমাকে দেয়। জানার বিষয় হল, আমার জন্য তাদের দেওয়া খাবার ও অন্যান্য জিনিস গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?
উত্তর
অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয নেই। তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। অবশ্য নাবালেগের অভিভাবকগণ যদি আপনার জন্য নির্দিষ্ট করে কোনো কিছু পাঠায় তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয। -বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/১১০; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৮৭; জামিউ আহকামিস সিগার
১/২১১
ফতোয়া নং: ২৫২৫
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমি এক মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক। এ বিভাগের প্রায় সব...

প্রশ্ন
আমি এক মাদরাসার নূরানী বিভাগের শিক্ষক। এ বিভাগের প্রায় সব ছাত্রই অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তারা নিজেদের জন্য বাসা থেকে বিভিন্ন খাবার ও টাকা-পয়সা নিয়ে আসে। তারা সেই খাবার আমাকে দিতে চায় এবং তাদের টাকা দিয়ে মাঝে মাঝে বিভিন্ন জিনিস কিনে এনে আমাকে দেয়। জানার বিষয় হল, আমার জন্য তাদের দেওয়া খাবার ও অন্যান্য জিনিস গ্রহণ করা জায়েয হবে কি?
উত্তর
অপ্রাপ্ত বয়স্কদের দেওয়া হাদিয়া গ্রহণ করা জায়েয নেই। তাদের হাদিয়া গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। অবশ্য নাবালেগের অভিভাবকগণ যদি আপনার জন্য নির্দিষ্ট করে কোনো কিছু পাঠায় তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয। -বাদায়েউস সানায়ে ৫/১৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/১১০; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৮৭; জামিউ আহকামিস সিগার
১/২১১
ফতোয়া নং: ২৩২৮
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

অনেককে দেখা যায়, তারা প্যান্টের সাথে গেঞ্জি কিংবা শর্ট শার্ট...

প্রশ্ন
অনেককে দেখা যায়, তারা প্যান্টের সাথে গেঞ্জি কিংবা শর্ট শার্ট পরে এবং ঐ পোশাকে নামায আদায় করে। আর ঐ পোশাকে নামায পড়লে রুকু-সিজদার সময় সাধারণত কোমরের নিচের অংশ থেকে কাপড় সরে যায়। আমার প্রশ্ন হল, ঐভাবে নামায পড়লে কি তা সহীহ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
পুরুষের নাভির নিচ থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশটুকু সতরের অন্তর্ভুক্ত। যা ঢেকে রাখা ফরয। নামায অবস্থায় সতরের কোনো অঙ্গের এক চতুর্থাংশ তিন তাসবীহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। তাই নাভি বরাবর পেছন দিক থেকে নিতম্ব পর্যন্ত জায়গার এক চতুর্থাংশ এ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। আর এমন পোশাকে নামায পড়লে পেছনের মুসল্লিদের খুশু-খুযুও নষ্ট হয়। এছাড়া প্রশ্নোক্ত পোশাক মুসলিম উম্মাহর নিজস্ব পোশাক নয়। তাই এ ধরনের পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকাই উচিত। প্রকাশ থাকে যে, সকল মুসলমানের জন্য শরীয়তসম্মত পোশাক পরিধান করা আবশ্যক এবং এ ব্যাপারে শরীয়তের যে নীতিমালা আছে তা মেনে চলা জরুরি। পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও বিজাতীয় অনুকরণ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে হাদীস শরীফে তাকিদ এসেছে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪০২৭; মিরকাত ৮/২২২; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪০৪, ৪০৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৯
ফতোয়া নং: ২০৪৭
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

শার্ট প্যান্ট পরিধান করা কি হারাম? শার্ট প্যান্ট পড়ে নামাজ...

প্রশ্ন
শার্ট প্যান্ট পরিধান করা কি হারাম? শার্ট প্যান্ট পড়ে নামাজ পড়া কি সহিহ হবে?
জূব্বা সেলোয়ার লুঙ্গি এগুলো কি সুন্নতি পোষাক?
উত্তর
শার্ট প্যান্ট পরিধানের প্রথা আজ সারা বিশ্বে এতটা ব্যাপক হয়ে গেছে যে, এখন আর বিজাতীয়দের সাথে সাদৃশ্য হওয়ার বিষয়টি দুর্বল হয়ে গেছে, যে কারনে বর্তমানে শ্রট প্যান্ট পড়া হারাম নয়। তবে অপছন্দনীয় অবশ্যয়।
উল্যেখ যে, কেউ যদি সাদৃশ্যের নিয়তে পরিধান করে অথবা প্যান্ট টাখনুর নিছে পৌছে যায়, তাহলে অবৈধ হবে। ন্ম
শার্ট যদি ফোল হাতা হয় এবং প্যান্ট টাখনুর উপরে থাকে ও ঢিলেঢালা হয় তাহলে নামাজ সহিহ হবে। অন্যথায় মাকরুহ হবে। তবে সুন্নতি পোষাক পরিধান করে নামাজ পড়া উত্তম।
দলিল;
ওমদাতুল কারি ৭/৪৫১, বাহরুর রায়েক ২/১৮, ফথুল মুলহিম৪/৮৭.
@জুব্বা স্লোয়ার লুংী এগুলো সুন্নতি পোষাক। রাসূল সা; এধরনের পোষাক পরিধান করেছেন অথবা পছন্দ করেছেন।
দলিল; আবু দাউদ হাদিস নং ৪০৯০, দারুল মা,আদ ১/১৩২, ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া ২৭/৪০৩

ফতোয়া নং: ২০৩৯
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমাদের দেশে মুরগী ড্রেসিং করার সময় ভুড়ি বের না করে...

প্রশ্ন
আমাদের দেশে মুরগী ড্রেসিং করার সময় ভুড়ি বের না করে ই কেউ গরম পানিতে রেখে তারপর ড্রেসিং করে আর কেউ পানিতে রাখে না তবে উপর দিয়ে ছিটিয়ে দেয়। শরিয়তে এই মুরগীর হুকুম কি?
উত্তর
মুরগির ভুড়ি বের না করে ফুটন্ত গরম পানিতে যদি এই পরিমান সময় রাখা হয় যে পানি ভিতরে প্রবেশ করে, তাহর মুরগীর গোস্ত নাপাক হয়ে যাবে। তাই এই গোস্ত খাওয়া হারাম হবে। তবে যদি পানি ফুটন্ত গরম না হয়, বরং হালকা গরম হয়, বা পানিতে না রেখে শুধু উপর দিয়ে ছিটিয়ে দেওয়া হয়, বা পানিতে রেখে সাথে সাথে উঠিয়ে ফেলে, তাহলে গোস্ত নাপাক হবে না। এই গোস্ত খাওয়া হালাল হবে।
দলিলঃ-
ফতোয়ায়ে শামী ১/৩২৪ ফথুল কাদির ১/২১১ বাহরুর রায়েক ১/৪১৫

ফতোয়া নং: ২০৩৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমাদের এক প্রতিবেশী একটি হাতি পালে। গরমের সময় হাতি তার...

প্রশ্ন
আমাদের এক প্রতিবেশী একটি হাতি পালে। গরমের সময় হাতি তার অভ্যাস অনুযায়ী শুঁড় দিয়ে পেট থেকে পানি বের করে তার শরীরের উপর ছুঁড়ে মারে। ফলে অনেক সময় সে পানি কাপড়েও পড়ে। জানার বিষয় হল, ঐ পানি কি পাক, না নাপাক? ঐ পানি কাপড়ে লাগলে তা কি নাপাক হয়ে যাবে?
উত্তর
হাতির পেট থেকে নির্গত ঐ পানি নাপাক। তা কাপড়ে লাগলে নাপাক হয়ে যাবে। -ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫৬

ফতোয়া নং: ২০১৯
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: খাওয়া-পোশাক

আমাদের স্কুলের এক স্যারকে বলতে শুনলাম যে, প্লেটের মাঝখান থেকে...

প্রশ্ন
আমাদের স্কুলের এক স্যারকে বলতে শুনলাম যে, প্লেটের মাঝখান থেকে খাবার খাবে না। খেলে খাবারের বরকত থকে না। তার এ কথাটি কতটুকু সঠিক? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
আপনাদের স্যারের কথাটি সঠিক। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বরকত খাবারের মাঝখানে অবতীর্ণ হয়। অতএব তোমরা খাবারের এক পাশ থেকে খাওয়া শুরু করবে। মাঝখান থেকে খাওয়া শুরু করবে না। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৮০৫)


Execution time: 0.07 render + 0.04 s transfer.