Login | Register

ফতোয়া: লেন-দেন

ফতোয়া নং: ৬২৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

ক) একজন পিতার কয়েকজন সন্তান আছে। তার মধ্যে ২ জন...

প্রশ্ন

ক) একজন পিতার কয়েকজন সন্তান আছে। তার মধ্যে ২ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে। সন্তানদের মধ্যে এক ছেলে পিতার অবাধ্য ও ফাসেক প্রকৃতির। সে প্রায় সময় মদ-জুয়াতে লিপ্ত থাকে এবং টাকা-পয়সা নষ্ট করে। এক্ষেত্রে পিতা জীবদ্দশায় সমুদয় সম্পদ বণ্টন করতে চাইলে এই নাফরমান ছেলেকে নিজের সম্পদ হতে একেবারে বঞ্চিত করা যাবে কি?

এমদাদুল মুফতীন (২/৮৬৭)-এ ৯৫৩ প্রশ্নের উত্তরে আছে যে, ওয়ারিস যদি নাফরমান ও ফাসেক হয় তাহলে তাকে সম্পদ থেকে মাহরূম করা জায়েয আছে, নচেৎ জায়েয নেই। এই মাসআলা সঠিক কি না? বিস্তারিত দলিল প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কোনো সন্তান যদি মদ-জুয়া, ব্যভিচারের মতো জঘণ্য গুনাহর কাজে ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ে এবং এসবের পেছনে টাকা-পয়সা নষ্ট করে বেড়ায় এবং এ ব্যাপারে পিতামাতার আদেশ-নিষেধ না মানে; বরং তার বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে প্রবল আশঙ্কা হয় যে, তাকে অর্থকড়ি, সহায়-সম্পত্তি দিলে সে গুনাহর ভেতর আরো জড়িয়ে পড়বে এবং সম্পদ নষ্ট করে ফেলবে তাহলে এক্ষেত্রে পিতামাতা এ ছেলেকে কোনো সম্পদ না দিয়ে তার অন্যান্য সৎ-চরিত্রবান সন্তানদেরকে সকল সম্পদ জীবদ্দশায় বণ্টন করে দিতে পারবেন।

ইমদাদুল মুফতীনের উক্ত মাসআলাতে এ কথাই বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, কোনো সন্তান যদি মাতাপিতার অবাধ্য হয় তাহলে শুধু এ কারণে তাকে সম্পদ থেকে একেবারে বঞ্চিত করে দেওয়া ঠিক হবে না।

তদ্রূপ কোনো সন্তান যদি শরীয়তের আহকামের প্রতি যত্নবান না হয়, কিন্তু সাধারণত গুনাহর পিছনে ব্যাপকভাবে সম্পদ নষ্ট করে না, তাহলে এ

সন্তানকেও সম্পদ থেকে একেবারে মাহরুম করে দেওয়া যাবে না। এদেরকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত না করে তাদের ইসলাহের ফিকির করবে, তাদের হেদায়েতের জন্য দুআ করবে, আলেম-ওলামার পরিবেশে নিয়ে যাবে।-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৪/৪৬২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০; ফাতাওয়া মুহাম্মাদিয়া ২০/৪৮৯

প্রশ্ন : খ) বিনা কারণে পিতামাতা যদি নিজের সন্তানদের সম্পদ হতে বঞ্চিত করে তার জন্য গুনাহগার হবে কি না?

এক্ষেত্রে ঐ কিতাবের ৯৫৭ নং প্রশ্নের উত্তরে আছে, এক্ষেত্রে সে শক্ত গুনাহগার হবে। এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে।

من قطع ميراث وارثه قطع الله ميراثه من الجنة

যদি সন্তানের নাফরমানির কারণে তাকে বঞ্চিত করে দেয় তবে আল্লাহ তাআলা মাফ করবেন। উক্ত হাদীস এবং এই মাসআলা সঠিক কি না? বিস্তারিত হওয়ালাসহ জানতে চাই।

উত্তর : সন্তানকে যথাযথ কারণ ছাড়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে পিতামাতা শক্ত গুনাহগার হবে। আর প্রশ্নোক্ত হাদীসটি সুনানে ইবনে মাজাহয় কিতাবুল অসায়েতে আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু আল্লামা বুসিরী রাহ. উপরোক্ত হাদীসটিকে যয়ীফ বলেছেন।

অবশ্য এ অর্থেরই একটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনা মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় উল্লেখ হয়েছে। তা হল আরবী (অর্থ) যে ব্যক্তি কারো মীরাসকে নষ্ট করবে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে নির্ধারণ করেছেন, তাহলে আল্লাহ তাআলাও তাকে তার মিরাস জান্নাত থেকে মাহরূম করে দিবেন।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩১৬৮৮

প্রখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা এই হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।

-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ২৭০৩; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এক ব্যক্তি মারা গেছে। তার কেবলমাত্র আপন বোনের ছেলে ও...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মারা গেছে। তার কেবলমাত্র আপন বোনের ছেলে ও মেয়ে জীবিত আছে। এছাড়া নিকটাত্মীয় অন্য কেউ নেই। এখন তার সম্পদ কীভাবে বণ্টন করা হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতের সম্পদ থেকে মৃতের কাফন-দাফনের খরচ প্রয়োজন হলে তা দিবে এবং তার কোনো ঋণ থাকলে তাও আদায় করবে। আর সে কোনো বৈধ অসিয়ত করে থাকলে ঋণ আদায়ের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা পুরো করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সকল সম্পদ মৃতের বোনের ছেলে মেয়েদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। ছেলে দুই ভাগ আর মেয়ে এক ভাগ পাবে।

-আসসিরাজী ৬, ৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একদিন মসজিদে আমার পাশে জুতা রেখে জামাতে দাঁড়িয়েছি। এরই মধ্যে...

প্রশ্ন

একদিন মসজিদে আমার পাশে জুতা রেখে জামাতে দাঁড়িয়েছি। এরই মধ্যে দেখি যে, আমার নতুন জুতা যা প্রায় আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি তা একজন নিয়ে যাচ্ছে।

আমি এটা দেখতে পেয়ে নামাযের নিয়ত ছেড়ে দেই এবং চোর থেকে জুতা উদ্ধার করি। এরপর আবার নামাযে শরিক হই। এখন জানতে চাই জুতার জন্য নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে, নাকি আমি গুনাহগার হয়েছি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নামায ছেড়ে দিয়ে জুতা উদ্ধার করা নাজায়েয হয়নি। মূল্যবান ও প্রয়োজনীয় জিনিস হেফাজতের জন্য নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছে। একাধিক তাবেঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, নামায অবস্থায় তাদের আরোহী চলে যাচ্ছিল তখন তারা নামায ছেড়ে দিয়ে আরোহী হেফাজত করেছেন। আর কোনো কোনো ফকীহ বলেছেন, এক দিরহাম অর্থাৎ ৩.০৬১৪ গ্রাম রূপা সমপরিমাণ সম্পদ হেফাযতের জন্যও নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছে। যা বর্তমান মূল্য হিসাবে প্রায় ৩১৫ টাকা হয়।

এছাড়া নামাযে দাঁড়ানোর আগেই জুতা/মালপত্র হেফাযতে রাখা উচিত; যেন নামায অবস্থায় এ কারণে মনোযোগ নষ্ট না হয়।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/২৬১; শরহুল মুনইয়া ৩৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে পাঁচশ টাকা দেওয়ার জন্য আমি তার বাড়িতে যাই। কিন্তু লোকটি তার আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় তা আর দেওয়া হয়নি। ঐ টাকা এখনো আমার কাছে আছে। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি এ টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করতে পারব? নাকি অন্য ফকীরকে দিয়ে দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঐ পাঁচশ টাকার মালিক আপনিই। শুধু নিয়তের কারণে তা দান করে দেওয়া জরুরি হয়ে যায়নি। তাই ঐ টাকা নিজ প্রয়োজনেও খরচ করতে পারবেন। আবার ইচ্ছা করলে দানও করতে পারবেন।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/২১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪০৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৪/৫০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার এক বন্ধুকে আমি আমার মোটর সাইকেল ব্যবহারের জন্য দেই।...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধুকে আমি আমার মোটর সাইকেল ব্যবহারের জন্য দেই। সে এক দোকানের সামনে নিয়ে রাখে। সেখান থেকে গাড়িটি চুরি হয়ে যায়। আমার দাবির কারণে বন্ধু আমাকে এর আর্থিক জরিমানা প্রদান করে। এখন আমার জানার বিষয় হল, সে যে জরিমানা আমাকে দিয়েছে তা কি আমার জন্য বৈধ হবে। অনুগ্রহ করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের কথায় মনে হচ্ছে মোটর সাইকেলটি ঐ বন্ধুর অবহেলার কারণেই চুরি হয়েছে। যদি এমনটিই হয়ে থাকে তবে তার থেকে জরিমানা আদায় করা আপনার জন্য জায়েয হয়েছে। আর যদি এটি হেফাযতের ক্ষেত্রে তার কোনো ত্রুটি না থাকে; বরং সে তা যথাযথ হেফাযত করা সত্ত্বেও চুরি হয়ে যায় তাহলে এক্ষেত্রে তার থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা জায়েয হয়নি। অবশ্য এক্ষেত্রেও আপনার বন্ধু যদি নিজ থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিছু দেয় তবে তা গ্রহণ করা আপনার জন্য জায়েয।

-শরহুল মাজাল্লাহ ৩/২২৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার চাচা একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। একজন আলেম তাকে বলেছেন,...

প্রশ্ন

আমার চাচা একজন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। একজন আলেম তাকে বলেছেন, তিনি যে বিষয়ের ক্লাস নিয়ে থাকেন ঐ বিষয়ে ঐ ছাত্রদের প্রাইভেট পড়ানো জায়েয নেই।

এতে ঘুষের আশঙ্কা রয়েছে।

আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি সঠিক বলেছেন? যদি তিনি ইনসাফ করতে পারেন তবুও কি হারাম হবে?

উত্তর

আপনার চাচা যদি ক্লাসে যেভাবে পড়ানোর কথা সেভাবেই হক আদায় করে পড়িয়ে থাকেন, আর এরপরও ছাত্রের দুর্বলতার কারণে কিংবা সাবজেক্ট কঠিন হওয়ার কারণে বাস্তবেই প্রাইভেট পড়ানোর প্রয়োজন থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তিনি নিজের ছাত্রদেরকেও প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। তবে প্রাইভেট পড়ার কারণে ঐ ছাত্রকে ক্লাসে বা পরীক্ষায় অতিরিক্ত কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া যাবে না। বরং পরীক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য ছাত্রদের মতোই আচরণ করতে হবে।

কিন্তু তিনি যদি ক্লাসেই যথাযথভাবে না পড়ানোর কারণে ছাত্রদের প্রাইভেট পড়ার প্রয়োজন হয় কিংবা প্রাইভেট পড়লে ক্লাসে বা পরীক্ষায় অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যায়, নাম্বার বেশি দেওয়া হয় বা প্রশ্নের পড়া আগেই দাগিয়ে দেওয়া হয় ইত্যাদি তবে প্রাইভেট পড়ানো জায়েয হবে না। এক্ষেত্রে প্রাইভেট পড়িয়ে টাকা নেওয়া ঘুষ হবে। তাই নিজের স্কুলের ছাত্রদেরকে প্রাইভেট না পড়ানোই অধিক নিরাপদ। বিশেষত যে ছাত্রদের ক্লাস তিনি নিজেই নিয়ে থাকেন তাদেরকে প্রাইভেট না পড়ানোই ভালো। পড়াতে চাইলে উপরোক্ত শর্তের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। আর সরকারীভাবে প্রাইভেট পড়ানো যদি নিষেধ থাকে তবে পড়ানো যাবে না।

-হাশিয়াতুত তহতাবীল আলাদ্দুর ৩/১৭৭; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ, কুয়েত ২২/২২০; আহকামুল মালিল হারাম ৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

গত বছর আমাদের কাফেলার এক ব্যক্তি ভুলে উমরার সায়ী না...

প্রশ্ন

গত বছর আমাদের কাফেলার এক ব্যক্তি ভুলে উমরার সায়ী না করে মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। স্মরণ হওয়ামাত্রই হেরেমে গিয়ে সায়ী করে নেয়। জানতে চাই, তার এই উমরা কি সহীহ হয়েছে? আর যদি না হয় তাহলে তার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটি যেহেতু পরবর্তীতে সায়ী আদায় করে নিয়েছে তাই তার উমরাহ সহীহ হয়ে গেছে। তবে সায়ীর পূর্বে মাথা মুন্ডানোর কারণে তার উপর একটি জরিমানা দম ওয়াজিব হয়েছে। এই জরিমানা দম হেরেমের এলাকাতেই আদায় করতে হবে।

-গুনইয়াতুন নাসিক ১৩২, ২৬২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৫৮; মানাসিক মোল্লা আলী কারী ১৭৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪২৯; কিতাবুল আছল ২/৪৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

কয়েকজন ছাত্রের অভিভাবক প্রায়ই আমার কাছে টাকা আমানত রাখে। তাদের...

প্রশ্ন

কয়েকজন ছাত্রের অভিভাবক প্রায়ই আমার কাছে টাকা আমানত রাখে। তাদের টাকা অন্য টাকার সাথে মিলে যায়। তাই আমি তাদের থেকে এভাবে রাখার অনুমতি নিয়ে নিই। কয়েকদিন আগে আমার কিছু টাকাসহ তাদের আমানতের টাকাগুলো তালাবদ্ধ আলমারি থেকে হারিয়ে যায়। আমানত হেফাযতে আমি কোনো ত্রুটি করিনি। এখন টাকাগুলো ফেরত দেওয়া কি আমার জন্য জরুরি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যদি সকল মালিকের অনুমতিক্রমেই আমানতের টাকাগুলো একত্রে যথাযথভাবে হেফাযত করে থাকেন, আর সতর্কতার সাথে রাখা সত্ত্বেও তা হারিয়ে যায় তাহালে ঐ টাকাগুলোর জরিমানা আদায় করতে হবে না।

-মাজাল্লা ১৫১; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৭৬; মাজমাউল আনহুর ৩/৪৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার খালা একজন এতীম দরিদ্র মেয়েকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন...

প্রশ্ন

আমার খালা একজন এতীম দরিদ্র মেয়েকে নিজের কাছে রেখে লালনপালন করছেন এবং তিনিই তার সব ব্যয়ভার বহন করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। মেয়েটির বয়স এখন ১৫ বছর। মেয়েটির জন্য অনেকেই খালার কাছে টাকা দিয়েছে। সব জমে প্রায় ২০-২৫ হাজার টাকা হয়ে গেছে। টাকাগুলো এখন খালার কাছেই আছে। এই মুহূর্তে তাকে টাকাগুলো দিলে সে আজেবাজে খরচ করতে পারে। তাই খালা টাকাগুলো আরো কয়েক বছর পর তার হাতে দিতে চান, যেন সে তা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে। এ ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটির জন্য দেওয়া টাকাগুলো আপনার খালার কাছে আমানত। দাতারা এটাকাগুলো মেয়েটির হাতে না দিয়ে আপনার খালার হাতে এজন্যই দিয়েছে যেন উপযুক্ত সময়ে মেয়েটির তা কাজে আসে। তাই আপনার খালার জন্য উচিত হবে ঐ টাকাগুলো এখনই তার হাতে না দিয়ে উপযুক্ত সময়ে তাঁকে দিয়ে দেওয়া। যেন সে যথাসময়ে টাকাগুলো কাজে লাগাতে পারে।

-সুরা নিসা : ৬; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৬৩; আহকামুল কুরআন, থানভী ২/১১৬; আহকামুল কুরআন, কুরতুবী ৫/২৬; রূহুল মাআনী ৪/২০৬; তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৬৮২ ���

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এক ব্যক্তি তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য আমাকে বারবার অনুরোধ...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়ানোর জন্য আমাকে বারবার অনুরোধ করেছে। সে বলছে, এ বাবদ আমাকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দিবে। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে, তিনি সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার। এই চাকুরিই তার আয়ের একমাত্র উৎস। এছাড়া তার অন্য কোনো হালাল উপার্জন নেই। আমি তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়ালে সে তার ঐ আয় থেকেই বেতন দিবে। এখন আমি জেনেশুনে তার ঐ আয় থেকে বেতন নিতে পারব কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি ঐ ব্যক্তির অন্য কোনো হালাল উপার্জন না থাকে তবে তার ছেলেকে পড়ানোর বিনিময়েও তার থেকে বেতন গ্রহণ করা জায়েয হবে না। কেননা ছাত্র পড়ানোর পেশা যদিও বৈধ কিন্তু এক্ষেত্রে বেতন যে টাকা থেকে দেওয়া হচ্ছে তা হারাম হওয়ার বিষয়টি আপনার জানা আছে। সুতরাং জেনেশুনে হারাম অর্থ থেকে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ হবে না।

-আলআশবাহ ওয়ান নাযাইর ৩/২৩৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৯৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০০; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৬০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪২; ইতরুল হিদায়া ৬৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

কিছু দিন আগে আমার একটি ছেলে হয়েছে। ছেলের বড় মামা...

প্রশ্ন

কিছু দিন আগে আমার একটি ছেলে হয়েছে। ছেলের বড় মামা দেখতে আসেন। যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ভাগিনার জন্য তো কিছুই নিয়ে আসিনি। এই ২,০০০/- টাকা তাকে দিলাম। আপনার পছন্দমত তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিবেন। এখন এ টাকা আমাদের সাংসারিক কাজে খরচ করতে পারব কি না?

উত্তর

না, ঐ টাকা সংসারের কাজে খরচ করা যাবে না। কেননা সে টাকা ঐ সন্তানেরই। তার প্রয়োজনেই তা খরচ করতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৬৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৪/৪৪০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি একটি জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার। মসজিদের যাবতীয় ফান্ডের টাকা আমার...

প্রশ্ন

আমি একটি জামে মসজিদের ক্যাশিয়ার। মসজিদের যাবতীয় ফান্ডের টাকা আমার দায়িত্বেই থাকে। সম্প্রতি মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মসজিদটি ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করবে। সে লক্ষ্যে মসজিদের একটি নির্মাণ ফান্ড করা হয়েছে এবং ইসলামী ব্যাংকে একটি একাউণ্ট খুলে সেখানেই উক্ত ফান্ডের টাকাগুলো রাখা হয়েছে। এখন জানার বিষয় হল, ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মুনাফার টাকা মসজিদ নির্মাণ কাজে ব্যয় করা শরীয়তসম্মত হবে কি না? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

ইসলামী ব্যাংকগুলোর অনেক বিনিয়োগ পদ্ধতি এবং সেগুলোর প্রয়োগ এখনো পরিপূর্ণ শরীয়ত সম্মত হয় না, তাই তাদের থেকে প্রাপ্ত মুনাফা মসজিদে ব্যয় করা ঠিক হবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। তাকে দেখার জন্য অনেকেই আসে...

প্রশ্ন

আমার একটি পুত্র সন্তান হয়েছে। তাকে দেখার জন্য অনেকেই আসে এবং অনেকেই তাকে টাকা-পয়সা হাদিয়া দিয়ে থাকে। মুফতী সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হল, আমি কি ঐ টাকা আমার পুত্রের জন্য খরচ করতে পারব? বিস্তারিত দলিলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

যে সন্তানকে ঐ টাকা দেওয়া হয়েছে তার প্রয়োজনে খরচ করতে পারবেন। কিন্তু তাকে দেওয়া টাকা সংসারের অন্য কারো জন্য খরচ করা যাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৩৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬১২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৪১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

কিছুদিন আগে আমার এক পরিচিত লোক নিজের ব্যবহারের জন্য দশ...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক পরিচিত লোক নিজের ব্যবহারের জন্য দশ গজ কাপড় ক্রয় করে। হঠাৎ তার টাকার প্রয়োজন হওয়ায় সে আমাকে বলে, আমি কাপড়গুলো গজপ্রতি একশ টাকা করে ক্রয় করেছি। এখন এই মূল্যেই তা বিক্রি করে দিব। তুমি তা কিনে নাও। তখন আমি তার থেকে কাপড়গুলো ঐ মূল্যে কিনে নিই। কয়েকদিন পর দেখা গেল, বাজারে ঐ কাপড় বিক্রি হচ্ছে পঞ্চাশ টাকা গজে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বলল, আমি পঞ্চাশ টাকা করেই ক্রয় করেছি। এখন প্রশ্ন হল, সে মিথ্যা বলে আমার থেকে যে পাঁচশত টাকা বেশি নিয়েছে আমি তা উসূল করতে পারব কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ সঠিক হলে আপনি বিক্রেতা থেকে ঐ পাঁচশ টাকা ফেরত নিতে পারবেন। সে যেহেতু ঐ টাকা মিথ্যা কথা বলে নিয়েছে তাই তার জন্য তা হালাল নয়।

-আলবাহরুর রায়েক ৬/১১০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৩৭; রদ্দুল মুহতার ৫/১৩৭; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি আকীকার জন্য এক লোক থেকে ৪৮,০০০/- টাকায় বাকিতে একটি...

প্রশ্ন

আমি আকীকার জন্য এক লোক থেকে ৪৮,০০০/- টাকায় বাকিতে একটি গরু ক্রয় করেছি। গরুটি জবাই করার কিছু দিন পর মূল্য পরিশোধ করার সময় বিক্রেতাকে বললাম, আপনার গরু ক্রয় করে আমার লস হয়েছে। এর কয়েক দিন পর গরুর বাজার খুব সস্তা ছিল। এমন গরু ২৫,০০০/- থেকে ৩০,০০০/- টাকা দিয়েই কেনা যেত। অতপর তিনি সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গরুর পূর্ব নির্ধারিত মূল্য থেকে এক হাজার টাকা কম রাখেন। এ ছাড় গ্রহণ করা আমার জন্য বৈধ হবে কি? আমি কি তা নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারব, না সদকা করে দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মূল্য আদায়ের সময় বিক্রেতা যেহেতু স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এক হাজার টাকা ছেড়ে দিয়েছে তাই তা গ্রহণ করা আপনার জন্য জায়েয। আর এই টাকা নিজ কাজেও খরচ করতে পারবেন; সদকা করা জরুরি নয়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৯/৫১৯; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৫৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৪৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার নিকট একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফকৃত জায়গা আছে। এবং সেই...

প্রশ্ন

আমার নিকট একটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফকৃত জায়গা আছে। এবং সেই স্থানে কিছু ফলদার গাছ আছে। জায়গা দানকারীর সেই ফলদার গাছের ফল খাওয়া জায়েয আছে কি না?

উত্তর

মাদরাসার জন্য ওয়াকফকৃত জায়গার গাছের মালিক মাদরাসা। ঐ গাছের ফলও মাদরাসার। ওয়াকফকারী বা অন্য কারো জন্য বিনা মূল্যে তা নেওয়া জায়েয হবে না। নিতে চাইলে ন্যায্য মূল্যে কিনে নিতে হবে এবং বিক্রিলব্ধ টাকা মাদরাসার ফান্ডে জমা করতে হবে। যা মাদরাসার প্রয়োজনে ব্যয় করা হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৬৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি এসে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে।...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি এসে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করে। বিনিময় হিসাবে টাকার পাশাপাশি অনেকেই মহিলাদের ছেঁড়া ও জটপাকানো চুলও নেয়। যেগুলো মহিলারা মাথা আঁচড়ানোর পর চিরুনীর সাথে উঠে আসে। জানতে চাই, কিছু নিয়ে বিনিময় হিসাবে মহিলাদের মাথার চুল দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

না, নারী-পুরুষের চুল বিনিময় হিসাবে দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয। কেননা মানুষের চুল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ

বিনিময়যোগ্য নয়। তার বেচাকেনা নাজায়েয।

-আলজামিউস সগীর ৩২৮; রদ্দুল মুহতার ৫/৫৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/৮১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি একজন চাকুরিজীবী। দীর্ঘদিন আমি ঘুষের লেনদেন করেছি। বলা যায়,...

প্রশ্ন

আমি একজন চাকুরিজীবী। দীর্ঘদিন আমি ঘুষের লেনদেন করেছি। বলা যায়, আমার সমুদয় সম্পদের এক তৃতীয়াংশই এ জাতীয় অর্থে গড়া। এখন আমার বিগত জীবনের অসৎ উপার্জন থেকে তওবা করতে চাই। এ অবস্থায় করণীয় কী? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সম্পদের যে পরিমাণ অংশ অবৈধ বলে প্রবল ধারণা হয় ততটুকু অংশ তার প্রকৃত মালিকদের পক্ষ হতে গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে। আর বিগত দিনের অবৈধ উপার্জনের জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

উল্লেখ্য, যাদের থেকে উৎকোচ নেওয়া হয়েছে তাদেরকে বা ওয়ারিশ কাউকে যদি পাওয়া যায় তবে তাদের টাকা সদকা না করে মালিককে দিয়ে দিতে হবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ ৬/৪১; আলবাহরুর রায়েক ৬/২৬১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১১/৮০; রদ্দুল মুহতার ৪/২৮৩; আলমওসূআ ৩৪/২৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একটি ওয়াকফিয়া বড় কবরস্থান আছে। তাতে অনেক ফলের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি ওয়াকফিয়া বড় কবরস্থান আছে। তাতে অনেক ফলের গাছ আছে। ফল বিক্রি করে অনেক টাকা আয় হয়। কবরস্থানের জন্য ব্যাংকে একটা একাউন্ট খোলা হয়েছে। যাতে ঐ টাকা প্রতি বছর জমা রাখা হয়। এভাবে অনেক টাকা জমা হয়েছে। উক্ত কবরস্থানের জন্য বর্তমানে এই টাকার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই টাকাগুলো এলাকার মসজিদের প্রয়োজনে ব্যয় করা যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কবরস্থানের ঐ টাকাগুলো মসজিদে ব্যয় করা যাবে না। বরং তা কবরস্থানের কাজেই ব্যয় করতে হবে। আর জমানো টাকা ভবিষ্যতেও এ কবরস্থানের জরুরত না হলে নিকটবর্তী কোনো কবরস্থানের প্রয়োজনে তা ব্যয় করা যাবে।

-আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৫১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২/৫৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার ফুফাত ভাইয়ের একটি লাইব্রেরি আছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের বইপত্র...

প্রশ্ন

আমার ফুফাত ভাইয়ের একটি লাইব্রেরি আছে। তাতে বিভিন্ন ধরনের বইপত্র ও লেখাপড়ার সামগ্রী বিক্রি করা হয়। ফুফাত ভাই প্রয়োজনে কোথাও গেলে আমাকে দোকানে রেখে যান। এবং কোনটা কত বিক্রি করব তা বলে যান। আমিও তার বলা দামেই বিক্রি করি। কিন্তু আমি ইচ্ছা করলে ক্রেতার সাথে দরদাম করে কিছু পণ্য আর একটু বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারি।

এখন আমি যদি তার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি করে অতিরিক্ত টাকা নিজে রেখে দেই তাহলে এটা কি নাজায়েয হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ফুফাত ভাই যে দামে বিক্রি করতে বলবে সে দামে বিক্রি করাই আপনার কর্তব্য। তথাপি কখনো কোনো পণ্য যদি বেশি মূল্যে বিক্রি করেন তবে পুরো টাকাই তাকে দিয়ে দিতে হবে। অতিরিক্ত মূল্য নিজের জন্য রেখে দেওয়া জায়েয হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৫৭৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১২/৩৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মসজিদের চতুর্দিকের বেড়াগুলো ছিল টিনের। এবার মসজিদ কমিটি সাইডে...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের চতুর্দিকের বেড়াগুলো ছিল টিনের। এবার মসজিদ কমিটি সাইডে ওয়াল করার উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে মুসল্লিদের কাছ থেকে নগদ টাকা, ইট, সিমেন্ট ইত্যাদি উঠানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে মোটামুটি ক্যাশ জমা হয়েছে। কিছুদিন পর মসজিদের কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। কয়েক মাস থেকে মসজিদের জেনারেল ফান্ডে কোনো টাকা নেই। তাই ইমাম-মুয়াযযিনের কয়েক মাসের বেতন বাকি হয়ে গেছে। জানতে চাই, মসজিদ নির্মাণের জন্য উঠানো টাকা থেকে কি ইমাম-মুয়াযযিনের বেতন দেওয়া যাবে?

উত্তর

মসজিদের নির্মাণ কাজের কথা বলে উঠানো টাকা নির্মাণ কাজেই ব্যয় করতে হবে। ঐ টাকা দ্বারা ইমাম-মুয়াযযিনের বেতন দেওয়া জায়েয হবে না।

উল্লেখ্য, ইমাম-মুয়াযযিনের বেতন পরিশোধ করার জন্য মুসল্লিদেরকে সাধারণ ফান্ডে দান করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যেন এ খাত থেকে বেতন-ভাতা দেওয়া যায়।

-ইলামুস সাজিদ ৪০১; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৩৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৯৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

রাশেদ ৫০০/- টাকার বিনিময়ে একটি ঘড়ি কিনেছে। কিন্তু বাসায় এসে...

প্রশ্ন

রাশেদ ৫০০/- টাকার বিনিময়ে একটি ঘড়ি কিনেছে। কিন্তু বাসায় এসে জানতে পারল যে, বাসায় এখন ঘড়ির প্রয়োজন নেই। তাই সে ঘড়িটি ফেরত দিতে চাচ্ছে, কিন্তু সে যখন দোকানদারকে ঘড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা জানাল তখন দোকানদার বলল যে, আমাদের দোকানে বিক্রিত মাল ফেরত নেওয়া হয় না। তখন সে দোকানদারকে বলল, আপনি ৫০ টাকা কম দিন এবং ঘড়িটি রেখে দিন। দোকানদার ঘড়িটি রেখে তাকে ৪৫০/-টাকা দিয়ে দিল। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত বেচাকেনা সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ৫০/- টাকা কমে ঐ লেনদেন করা জায়েয হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে দোকানদারের জন্য উত্তম কাজ হত পুরো মূল্যই ফেরত দেওয়া। হাদীস শরীফে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অনুতপ্ত ক্রেতার সাথে ইকালা করবে অর্থাৎ পূর্বের বিক্রির সমমূল্যে পণ্য ফেরত নিবে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ মাফ করে দিবেন।

-সুনানে আবু দাউদ ২/৪৯০; আসসুনানুল কুবরা, ইমাম বায়হাকী ৬/৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এক প্রতিবেশী আমার কাছে টাকা দিয়েছিলেন একটি চার্জ লাইট কিনে...

প্রশ্ন

এক প্রতিবেশী আমার কাছে টাকা দিয়েছিলেন একটি চার্জ লাইট কিনে আনার জন্য। লাইটটি ক্রয় করে ব্যাগের মধ্যে রেখে সতর্কতার সাথে নিয়ে আসার পথে অনিচ্ছাকৃতভাবে হঠাৎ হাত থেকে ব্যাগটি পড়ে যায়। এতে লাইটটির একটি অংশ ফেটে যায়। তিনি লাইটের ফাটা দেখে বললেন, ফাটা লাইট নিব না। ভালো লাইট দিতে হবে কিংবা আমার টাকা ফেরত দিতে হবে। এখন আমার করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছাড়াই যদি লাইটটি পড়ে ফেটে গিয়ে থাকে তাহলে ঐ প্রতিবেশীকে ভালো লাইট দেওয়া কিংবা এর টাকা ফেরত দেওয়া জরুরি নয়। লাইটটি যেভাবে আছে সেভাবেই তার নেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আপনার নিকট ভিন্ন লাইট দাবি করা বা মূল টাকা ফেরত চাওয়া তার জন্য জায়েয নয়।

-হেদায়া ৩/১৮২-১৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৫৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩৮; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা : ১৪৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি কিছুদিন পূর্বে একটি দোকান থেকে ২০০/- টাকা মূল্যে একটি...

প্রশ্ন

আমি কিছুদিন পূর্বে একটি দোকান থেকে ২০০/- টাকা মূল্যে একটি দেয়াল ঘড়ি ক্রয় করি এবং তা বাসায় নিয়ে যাই। একদিন পর ঐ দোকানদার ঘড়ির মূল্য বাবদ আরো ১০০/- টাকা দাবি করল। সে আমাকে ম্যামো দেখিয়ে বলল, এটা ক্রয় করতেই ২৭০/-টাকা খরচ পড়েছে। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আরো ১০০/- টাকা দেওয়া আমার জন্য জরুরি কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি দোকানদারকে অতিরিক্ত ১০০/- টাকা দিতে বাধ্য নন। তবে বেচা-কেনার ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ ভুল বা অসাবধানতাবশত কিছু বলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে শরীয়তের শিক্ষা হল অন্য পক্ষ যেন তাকে এ বিষয়ে ছাড় দেয়। তাই বিক্রেতার কথা যদি সত্য হয় তাহলে আপনার নৈতিক দায়িত্ব হবে তাকে ন্যায্য মূল্য দিয়ে দেওয়া। যাতে সে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৩২৮২; শরহুল মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৩৫৬; হেদায়া ৩/২০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি সায়েমের কাছে কিছু টাকা-পয়সা আমানত রাখার জন্য তার বাড়িতে...

প্রশ্ন

আমি সায়েমের কাছে কিছু টাকা-পয়সা আমানত রাখার জন্য তার বাড়িতে গেলাম। গিয়ে দেখি, সে বাড়ির সামনে গাছের নিচে বসে আছে। আমি টাকার থলেটি তাকে বুঝিয়ে দিয়ে চলে আসি। কিছুক্ষণ পর সে ফোন করে বলল, আমি তো তোমার টাকার থলেটি আমার পাশের চেয়ারে রেখেছিলাম কিন্তু ভুলে সেখানেই ফেলে রেখে চলে এসেছি। পরবর্তীতে তালাশ করে তা আর পাইনি। আমি জানতে চাই, উল্লেখিত অবস্থায় এ টাকাগুলোর হুকুম কী? আমি কি তার থেকে জরিমানা নিতে পারব? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমানত গ্রহীতা অর্থাৎ সায়েমের পক্ষ থেকে যেহেতু আমানত সংরক্ষণের ব্যাপারে ত্রুটি হয়েছে তাই সে উক্ত টাকার ক্ষতিপূরণ আদায় করতে বাধ্য। অতএব আপনি চাইলে ঐ টাকাগুলো আদায় করে নিতে পারবেন।

-রদ্দুল মুহতার ৫/৬৭৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২৯৩; মাজাল্লাতলু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ৭৮২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একদিন আমাদের ক্লাসের এক সহপাঠির সঙ্গে বিজ্ঞান স্যারের পাঠদান নিয়ে...

প্রশ্ন

একদিন আমাদের ক্লাসের এক সহপাঠির সঙ্গে বিজ্ঞান স্যারের পাঠদান নিয়ে তর্ক হয়। আমি বলেছি, (একটি বিষয়ে) স্যার এমন বলেছেন। আর সে আমার বিপরীত বলছে। একপর্যায়ে সে বলল, আগামীকাল স্যারকে জিজ্ঞাসা করব। যদি আমার কথা ঠিক হয় তাহলে তুমি আমাকে ২০০/- টাকা দিবে। আর যদি তোমার কথা ঠিক হয় তাহলে আমি তোমাকে ২০০/- টাকা দিব। আমি তার কথা মেনে নিয়েছি এবং আরেক সহপাঠির নিকট দুজনই ২০০/- টাকা করে জমা দিয়েছি। পরদিন স্যারকে জিজ্ঞাসা করা হল এবং আমার কথা সঠিক হল। কথামতো টাকাটাও আমি পেয়েছি। এখন জানার বিষয় হল, আমার জন্য ঐ টাকা নেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার জন্য ঐ টাকা নেওয়া জায়েয হয়নি। ঐ টাকা মালিককে ফেরত দিতে হবে। কারণ দুজনের মধ্যে যার কথা সঠিক হবে, অন্যজন তাকে টাকা দিবে-এমন শর্ত করা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। আর শরীয়তে জুয়া হারাম। তাতে লিপ্ত হওয়া কবীরা গুনাহ। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) হে মুমিনগণ! নিঃসন্দেহে মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর এসব নিকৃষ্ট শয়তানী কর্মকান্ড। এগুলো থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা সফল হও। (সূরা মায়েদা (৫) : ৯০)

অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন-(তরজমা) তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন, উভয়টার মধ্যেই মহাপাপ রয়েছে। (সূরা বাকারা (২) : ২১৯

হাদীস শরীফে আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের জন্য মদ ও জুয়াকে হারাম করেছেন। (মুসনাদে আহমদ ২/১৬৫, হাদীস : ৬৫৪৭)

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে জুয়ার লেনদেনের গুনাহে জড়িত হওয়ার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে সংশ্লিষ্টদের তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

-সুরা বাকারা : ২১৯; সূরা মায়েদা : ৯০-৯১; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৪৭; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৭/১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৪, ৩৪৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০৩, ৫/৩৮৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি প্রায় ১৫/২০ বছর পূর্বে ঢাকার চিটাগাং রোডে মাদানী নগর...

প্রশ্ন

আমি প্রায় ১৫/২০ বছর পূর্বে ঢাকার চিটাগাং রোডে মাদানী নগর মাদরাসার কাছে তিন কাঠা জমি কিনেছিলাম। কিনার পূর্বে জমির উপর দিয়ে ওয়াপদার ৩৩,০০০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার ছিল এবং এখনও আছে। কিনার পরে আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, এই রকম উচ্চ ভোল্টের তারের নিচে বাড়ি-ঘর করা বিপদজনক এবং বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না। সর্বোচ্চ দোতলা পর্যন্ত করা যেতে পারে। এরকম চিন্তা করে আমি কিনার বেশ কয়েক বছর পরে অন্য একজনের কাছে জমি বিক্রি করি। ক্রয়-বিক্রয় উভয়টা একই দালালের মাধ্যমে করি। দালাল আমাকে বলেছিল, জমিটা কেন বিক্রি করছি তা যেন ক্রেতাকে না বলি। তাই ক্রেতা জিজ্ঞাসা করলে বলেছিলাম এমনিই বিক্রি করছি। জমি আমি ১ লক্ষ টাকায় কিনেছিলাম এবং কয়েক বছর পর বিক্রির সময় তখনকার বাজার দর হিসেবে মোট ৩ লক্ষ টাকায় বিক্রি করি। এমতাবস্থায় আমি যে আশঙ্কা ও অসুবিধার কথা চিন্তা করে জমি বিক্রি করেছি ক্রেতাও তো তা ক্রয় করে একই আশঙ্কা ও অসুবিধায় পতিত হল।

উপরোক্ত অবস্থায় আমার প্রশ্ন হল, ক্রেতা আমার কাছ থেকে জমি কেনার কারণে উপরোক্ত যে সমস্যার সম্মুখিন হয়েছে সেজন্য তাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না? যদি দিতে হয় তাহলে মোট কত টাকা দিতে হবে? এ সম্পর্কে কুরআন-হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উল্লেখ্য, পরবর্তীতে আমি দালালকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ক্রেতা জমি কেনার আগে জমির অবস্থানস্থলে গিয়ে জমি ও তার উপরের উচ্চ ভোল্টের বৈদ্যুতিক তার দেখেছে এবং তারপর কিনেছে। দালাল বলেছে, জমিটা বিক্রি করার সময় তখনকার বাজার দর হিসেবে জমির দাম ছিল কাঠা প্রতি ১ লক্ষ টাকা। এবং পার্শ্ববর্তী তার ছাড়া জমির দাম ছিল প্রতি কাঠা সোয়া লক্ষ টাকা। বর্তমানে ঐ জমির দাম প্রতি কাঠা আট লক্ষ টাকা। আর পার্শ্ববর্তী তার ছাড়া জমির দাম কাঠা প্রতি দশ লক্ষ টাকা।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ক্রেতা জমির উপর বিদ্যুতের লাইন নিজে দেখেই ক্রয় করেছে তাই আপনার ঐ বিক্রি ত্রুটিযুক্ত হয়নি। আপনাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না। অবশ্য আপনি তাকে বিষয়টি খোলাখুলি জানিয়ে দিলে ভালো হত।

-জামিউল ফুসূলাইন ১/৩৪৩; রদ্দুল মুহতার ৫/৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমরা একটি সমিতি করেছি। সকল সদস্য নির্ধারিত তারিখেই সমিতির মাসিক...

প্রশ্ন

আমরা একটি সমিতি করেছি। সকল সদস্য নির্ধারিত তারিখেই সমিতির মাসিক চাঁদা আদায় করে দেয়। এর জন্য এ নিয়ম করেছি যে, নির্ধারিত তারিখের ভেতর চাঁদা আদায় না করলে বিলম্ব মাশুল বা জরিমানা দিতে হবে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের এ পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত কি না? এ টাকা সমিতির সকল সদস্যের কল্যাণে ব্যয় করা যাবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

সমিতির মাসিক/বার্ষিক চাঁদা নির্ধারিত তারিখে আদায় না করার কারণে বিলম্ব মাশুল হিসেবে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা বৈধ নয়। সমিতির কাজে ঐ টাকা ব্যয় করা যাবে না; বরং এভাবে কারো থেকে টাকা গ্রহন করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। উল্লেখ্য, সকল সদস্য যথাসময়ে যেন সমিতির মাসিক চাঁদা আদায় করে দেয় এর জন্য এভাবে শর্ত করা যেতে পারে যে, প্রতি মাসে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা আদায় না করলে সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। (সেক্ষেত্রে ঐ সদস্যকে লাভসহ তার মূলধন ফেরত দিতে হবে।) অথবা এ নিয়ম করা যেতে পারে যে, কোনো চাঁদা বিলম্বে আদায় করলে বিলম্বকালীন সময়ের ঐ পরিমান টাকার লাভ থেকে তাকে বঞ্চিত করা হবে।

-শরহু মাআনিল আছার ২/৮২; নুখাবুল আফকার ৮/৫৭; ইলাউস সুনান ১১/৬৮৮; ফাতহুল কাদীর ৫/১১২; রদ্দুল মুহতার ৪/৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

জনৈক ব্যক্তি মীরাছ সূত্রে একটি জমির মালিক হয়েছে। জমিটির মূল্য...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মীরাছ সূত্রে একটি জমির মালিক হয়েছে। জমিটির মূল্য এক লক্ষ টাকা। ঐ জমিটি সে আবাদ করে না এবং ঐ জমি ছাড়া সদকা-ফিতর ওয়াজিব হয় পরিমাণ অন্য কোনো প্রয়োজন-অতিরিক্ত সম্পদও তার নেই। কিন্তু ঐ ব্যক্তির এক লক্ষ টাকা ঋণ আছে, যা সাংসারিক প্রয়োজনে নিয়েছে। এখন ঐ ব্যক্তির উপর সদকা-ফিতর ওয়াজিব হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির উপর সদকা-ফিতর ওয়াজিব নয়। কারণ তার কাছে এক লক্ষ টাকা মূল্যের জমি থাকলেও ঐ পরিমাণ ঋণও তার আছে। ঋণ আদায় করে দিলে তার নিকট ফিতরার নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকছে না। তাই লোকটিকে ফিতরা আদায় করতে হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার এক বন্ধু তার জন্য একটি বই সংগ্রহ করার জন্য...

প্রশ্ন

আমার এক বন্ধু তার জন্য একটি বই সংগ্রহ করার জন্য আমাকে কিছু টাকা দিয়েছে। বইটি তার জন্য ক্রয় করে আনার সময় পথিমধ্যে অন্য কোনো বন্ধু যদি তা নিতে চায় তাহলে আমি তাকে দিতে পারব কি না?

উত্তর

যে ব্যক্তি আপনাকে বইটি কেনার দায়িত্ব দিয়েছে যদি আপনি তার জন্যই বইটি কিনে থাকেন তাহলে তা তারই বই। এক্ষেত্রে তার অনুমতি ছাড়া বইটি অন্য কাউকে দেওয়া জায়েয হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১৫/৬৭-৬৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৭/২৪৩; শরহুল মাজাল্লা ৪/৪৬৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার একটি দোকান আছে। আমি বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ক্রয় করে...

প্রশ্ন

আমার একটি দোকান আছে। আমি বিভিন্ন পণ্য পাইকারি ক্রয় করে খুচরা মূল্যে বিক্রি করি। ইদানীং একটি শ্যাম্পু কোম্পানি দুই শত টাকার এক বোতল শ্যাম্পু ক্রয় করলে একটি ডোভ সাবান ফ্রি দেয়। বোতলের গায়ে একটি স্টিকারে সাবান ফ্রি লেখা থাকে। সাবানটির মূল্য ৫০/-টাকা। আমি স্টিকার উঠিয়ে শ্যাম্পুটি বিক্রি করি ২০০/-টাকায়। আর সাবানটি বিক্রি করি ৫০/-টাকায়। আমার জন্য উক্ত কাজটি বৈধ হচ্ছে কি না?

উত্তর

কাজটি অবৈধ। কারণ কোম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য ঠিক রেখে ক্রেতার অগোচরে পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া বা অংশবিশেষ রেখে দেওয়া প্রতারণার শামিল। প্রতারণার মাধ্যমে মূল্যেও বৃদ্ধি ঘটছে। ৫০০ মি.লি. শ্যাম্পুর বোতল থেকে ১০০ মি. লি. কমিয়ে দিয়ে গায়ের মূল্যে বিক্রি করা যেমন স্পষ্ট প্রতারণা তেমনি সাবান ফ্রির স্টিকার উঠিয়ে সাবান রেখে দিয়ে শ্যাম্পুর গায়ের মূল্যে বিক্রি করাও প্রতারণা। অতএব এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-রদ্দুল মুহতার ৬/২২-২৩, ৫/১৪৫; আলগারার ওয়া আছারুহু ফিল উকূদ ৫৯; আলমুসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ৯/৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

জনৈক ব্যক্তি এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক লক্ষ টাকা মূল্যের একটি...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি এক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এক লক্ষ টাকা মূল্যের একটি জমি জামানত রেখে দুই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিল। এখন সে জমিটি বিক্রি করতে চাচ্ছে এবং তার পরিবর্তে এক লক্ষ টাকার স্বর্ণালংকার জামানত রাখতে চাচ্ছে। তার জন্য শরীয়তে এই সুযোগ আছে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, উক্ত প্রতিষ্ঠান মেনে নিলে জমির পরিবর্তে স্বর্ণালংকার জামানত রাখতে পারবে।

- হেদায়া ৪/৫৫৭; বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৫২৪; জামেউর রুমুয ২/১৯৩; মাজাল্লাহ, পৃ. ১৩৫, মাদ্দাহ : ৭১২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪৬২; মাজমাউল আনহুর ৪/২৯৪; শরহুল মাজাল্লাহ ৩/১৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় কবরস্থানের পাশে ছোট একটি কুঁড়েঘর বানিয়ে এক দরবেশ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কবরস্থানের পাশে ছোট একটি কুঁড়েঘর বানিয়ে এক দরবেশ বসবাস করেন। তিনি প্রতি দিন সেখানে বসে বসে মৃতদের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম দেন। মৃতের আত্মীয়-স্বজন তার কাছে এসে খতমের কথা বললে তার চাহিদা অনুযায়ী হাদিয়া দিতে হয়। জানতে চাই, এভাবে কুরআন খতম করে বিনিময় নেওয়া কি জায়েয?

উত্তর

মৃতের জন্য ঈসালে সওয়াব করা গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কিন্তু তা হতে হবে শরীয়তের তরীকা মোতাবেক। যেমন নিজেরা কুরআন মজীদ পড়ে মৃতের জন্য সওয়াব পৌঁছানো যায়। অন্যকে দিয়েও করানো যায়, কিন্তু এ জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা হাদিয়ার আদান্তপ্রদান বৈধ নয়।

আপনাদের কবরস্থানের দরবেশ সাহেবের ঐ কাজ সম্পূর্ণ শরীয়তবিরোধী। মৃতের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করে,দুআ-দরূদ পড়ে হাদিয়ার নামেও টাকা নেওয়া যাবে না। নিলে হারাম হবে। এতে মৃতের কোনো উপকার হয় না। কোনো সওয়াবও পৌঁছে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

রাশেদ তার বোনের কাছে ২৮০০/- টাকা পেত। কিন্তু বোন সে...

প্রশ্ন

রাশেদ তার বোনের কাছে ২৮০০/- টাকা পেত। কিন্তু বোন সে টাকা দিতে অস্বীকার করে। তাই রাশেদ তার দায়িত্বে থাকা বোনের ২৪টি শেয়ারের ৭টি বিক্রি করে ২৮০০/-টাকা উসুল করে নেয়। বাকি টাকা নিজের কাছে রেখে দেয়। বোন যখন বিষয়টি জানতে পারে তখন সে দাবি করে যে, ২৮০০/-টাকা রেখে সেই সাত শেয়ারের বর্তমান দাম অনুযায়ী সব টাকা ফেরত দিতে হবে।

উল্লেখ্য, যখন শেয়ার বিক্রি করা হয়েছে তখন প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ছিল ৪২০০/-টাকা। বর্তমানে যার মূল্য ৭৮০০/-টাকা। এখন রাশেদ কি বর্তমান মূল্য অনুযায়ী সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে নাকি তার হাতে যে অবশিষ্ট টাকা আছে তা দিয়ে দিলেই দায়মুক্ত হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যদি বাস্তবেই ঐ মহিলা তার ভাইয়ের পাওনা দিতে অস্বীকার করে থাকে তাহলে রাশেদের জন্য বোনের শেয়ার বিক্রি করে নিজের পাওনা নিয়ে নেওয়া বৈধ হয়েছে। সুতরাং বিক্রিত মূল্য থেকে নিজের পাওনা রেখে অবশিষ্ট অংশ বোনকে ফেরত দিলেই সে দায়মুক্ত হবে। এক্ষেত্রে শেয়ারের বর্তমান মূল্য দিতে বাধ্য নয়।

-আননুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ৪৫২; রদ্দুল মুহতার ৬/১৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/১৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

ক) তিওয়ালে মুফাসসাল, আওসাতে মুফাসসাল ও কিসারে মুফাসসাল দ্বারা কি...

প্রশ্ন

ক) তিওয়ালে মুফাসসাল, আওসাতে মুফাসসাল ও কিসারে মুফাসসাল দ্বারা কি কিরাতের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে নাকি পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে এই সূরাগুলি পাঠ করা সুন্নত বোঝানো হয়েছে। একজন মুফতী সাহেব বলেছেন, এই সূরাগুলি পাঠ করা সুন্নত, একথা বোঝানো হয়নি; বরং কিরাতের পরিমাণ বোঝানো হয়েছে।

খ) কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি দুই হাজার ভর্তি-ফরম বিক্রি হয়, আর প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্য হয় যে, তারা ৯০/১০০ ছাত্র ভর্তি করবেন। তাহলে দুই হাজার ফরম বিক্রি করা জায়েয হবে কি? আর প্রতিটি ফরম কি ১০০ টাকা করে বিক্রি করা জায়েয হবে ?

উত্তর

ক) ফজর ও যোহর নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত), আছর ও ইশাতে আওসাতে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা বুরুজ থেকে সূরা লাম ইয়াকুন পর্যন্ত), আর মাগরিবে কিসারে মুফাসসাল (অর্থাৎ সূরা লাম ইয়াকুন থেকে সূরা নাস পর্যন্ত) অংশ থেকে পড়া সুন্নত। মাসনুন কেরাত বলতে মুফাসসালাতের নির্ধারিত এই সূরাসমূহ এবং এর পরিমাণ দুটোই উদ্দেশ্য। তাই মাসনুন কেরাত অনুসরণ করতে হলে অধিকাংশ সময় মুফাসসালাতের সূরাগুলো থেকে পূর্ণ সূরা পড়া উচিত। তবে কখনো ঐ পরিমাণকে ঠিক রেখে কুরআন মজীদের অন্য স্থান থেকে কিরাত পড়লেও তা অনুত্তম বা সুন্নত পরিপন্থী বলা যাবে না। কারণ রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকেও মাঝে মধ্যে মুফাসসালাতের বাইরে থেকে পড়া প্রমাণিত আছে। তবে অধিকাংশ সময় মুফাসসালাত থেকেই পড়া সুন্নত। সুতরাং মুফাসসালাত বলতে শুধু পরিমাণ বোঝানা হয়েছে, নির্দিষ্ট সূরা থেকে পড়া বোঝানো হয়নি-প্রশ্নের এ কথা ঠিক নয়। এছাড়া মুফাসসালাতের সূরা ও পরিমাণ কোনোটি ঠিক না রেখে কিরাত পড়লে সে নামাযও আদায় হয়ে যাবে।

-জামে তিরমিযী ১/৪১; ইলাউস সুনান ৪/৩২; আসসিআয়া ২/১৮৬; রদ্দুল মুহতার ১/৫৪০-৪১

খ) যদি ভর্তির আবেদরকারী বেশি হয় এবং তাদের সকলকে ভর্তি ফরম দেওয়ার উদ্দেশ্য এই হয়ে থাকে যে, তাদের থেকে যাচাই করে নির্দিষ্ট সংখ্যক ছাত্র ভর্তি করা হবে তবে যতজন ছাত্র ভর্তি করা হবে এর চেয়ে বেশি ফরম বিতরণ ও বিক্রি জায়েয। কারণ এক্ষেত্রে ফরম দেওয়ার অর্থ হয় ফরম-গ্রহিতাকে ভর্তির জন্য যাচাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া। কিন্তু উপরোক্ত উদ্দেশ্য ছাড়া নিছক অর্থ লাভের জন্য ফরম বিক্রি করা জায়েয হবে না। আর ফরমের মূল্য হতে হবে এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক খরচাদির সাথে সামঞ্জস্য রেখে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

অনেক কোম্পানি এমন আছে, যারা তাদের পণ্যের সাথে রুমাল, কলম...

প্রশ্ন

অনেক কোম্পানি এমন আছে, যারা তাদের পণ্যের সাথে রুমাল, কলম ইত্যাদি ফ্রি দিয়ে থাকে। আমি এমন একটি কোম্পানির একটি লুঙ্গি কিনেছিলাম, যারা লুঙ্গির সাথে রুমাল ফ্রি দিয়ে থাকে। কিন' আমি যখন খরিদ করি তখন লুঙ্গির সঙ্গে রুমাল ছিল না। তাই রুমালের মূল্য বাবদ কিছু টাকা কম দিয়ে লুঙ্গিটি কিনে আনি। জানার বিষয় এই যে, বিক্রেতাকে রুমালের টাকা না দেওয়া ঠিক হয়েছে কি না। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, রুমাল বাবদ কিছু টাকা কম দেওয়া বৈধ হয়েছে। কারণ প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মূলত লুঙ্গি এবং রুমাল উভয়টিই আপনার ক্রয়কৃত পণ্য। তাই রুমাল না পাওয়ার কারণে সে বাবদ মূল্য কম দেওয়া জায়েয।

আলবাহরুর রায়েক ৬/১২০; হেদায়া ৩/৭৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৮৪; মাজমাউল আনহুর ৩/১১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একবার বাসে বসা ছিলাম। একজন হকার কিছু কাচের শো-পিস নিয়ে...

প্রশ্ন

একবার বাসে বসা ছিলাম। একজন হকার কিছু কাচের শো-পিস নিয়ে আমাদের বাসে উঠল। সে বলছিল, প্রত্যেকটির দাম দশ টাকা। যে কেউ হাতে নিয়ে দেখতে পারেন, কিনতে হবে না। যাত্রীদের অনেকেই হাতে নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ বাস জোরে ব্রেক করলে এক যাত্রীর হাত থেকে একটি শো-পিস পড়ে ভেঙ্গে যায়। তখন হকার উক্ত যাত্রীর কাছে মূল্য দাবি করে এবং উক্ত যাত্রীর অস্বীকৃতি সত্ত্বেও তাকে মূল্য দিতে বাধ্য করে। আমার জানার বিষয় হল, ভাঙ্গা শো-পিসটির মূল্য দেওয়া উক্ত যাত্রীর জন্য জরুরি ছিল কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ভেঙ্গে যাওয়া ঐ শো-পিসটির জরিমানা দেওয়া জরুরি ছিল না। কারণ প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী সেটি ভেঙ্গে যাওয়ার পিছনে তার ত্রুটি ছিল না।

ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৬৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৭৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি কম্পিউটারের কিছু প্রোগ্রাম শেখার জন্য এক সেন্টারে ৩ মাসের...

প্রশ্ন

আমি কম্পিউটারের কিছু প্রোগ্রাম শেখার জন্য এক সেন্টারে ৩ মাসের জন্য ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভর্তি হয়েছিলাম। আমি প্রোগ্রামগুলো শেখা শুরু করি। কিন্তু দশ দিন যাওয়ার পর আমার কাছে আর তা ভালো লাগেনি। তাই সেখানকার প্রধানকে বলেছি যে, আমি শুধু দশ দিনের প্রোগ্রাম ফি দিব। সে এতে রাজি হয়েছে। জানালে কৃতজ্ঞ থাকব যে, শরীয়তের বিধান অনুযায়ী আমার প্রস্তাব কি ঠিক হয়েছে? নাকি পুরা ৩ মাসের ফি দিতে হবে?

উত্তর

সেন্টার-প্রধান যেহেতু দশ দিনের ফি নিতে রাজি হয়েছেন তাই আপনি ঐ দিনগুলোর ফি দিলে দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবেন।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪১৩; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ২/৫৮৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১০৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এক প্রতিবেশী আমার কাছ থেকে এক কেজি পোলাওয়ের চাল ধার...

প্রশ্ন

এক প্রতিবেশী আমার কাছ থেকে এক কেজি পোলাওয়ের চাল ধার নিয়েছে, যা নব্বই টাকায় কেনা হয়েছিল। কয়েকদিন পর ঐ প্রতিবেশী আমাকে বললেন, আমাদের তো বাজার থেকে চাল আনার লোক নেই। আপনারাই তা নিয়ে আসুন। আমি টাকা দিয়ে দিব। বর্তমানে ঐ চালের মূল্য একশ টাকা। প্রশ্ন হল, আমার পাওনা চালের পরিবর্তে টাকা নিতে পারব কি না এবং ক্রয়মূল্য থেকে অতিরিক্ত নেওয়া যাবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নো্ক্ত ক্ষেত্রে চাল নিলে এক কেজিই নিতে হবে। বেশি নিতে পারবেন না। আর মূল্য নিলে ১ কেজির বর্তমান মূল্য হিসাবে নিতে পারবেন। বর্তমান মূল্য পূর্বের মূল্য থেকে বেশি হলেও বর্তমান মূল্য নিতে পারবেন। তবে বর্তমান বাজার মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয হবে না।

ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৫৪; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৭-৫১৮; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরাহ ১/১৭৪-১৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় বাজার আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় বাজার আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বাজারে আসে। অনেকেই সাইকেলে করে বাজারে আসেন এবং এক ব্যক্তির দোকানে হেফাযতের জন্য রাখেন। দোকানের মালিক এর জন্য সময় অনুপাতে নির্ধারিত ফি নিয়ে থাকে। যেমন ঘন্টা প্রতি ১/২ টাকা। জানতে চাই, সাইকেল জমা রেখে এভাবে ফি গ্রহণ করা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, সাইকেল হেফাযতের জন্য ঘন্টা হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ মাদ্দা : ৭৭৭; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ৩/২৪২; শরহুল মাজাল্লাহ, সীলম বায ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.