Login | Register

ফতোয়া: লেন-দেন

ফতোয়া নং: ৪৭৩৫
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

নারি পুরুষের নামাযে অভিন্ন মর্মে ধোকাবাজ মিথ্যাবাদী আহলে হাদীসদের মনগড়া দলিলের জবাব৷

প্রশ্ন
এক আহলে হাদীস বন্ধ আমাকে নিম্নোক্ত কথাটি লিখেন, তার সঠিক জবাব চাই৷ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “সাল্লু কামা রায়াইতুমুনি উ-সাল্লী”। অর্থঃ তোমরা ঠিক সেইভাবে নামায পড় যেইভাবে আমাকে পড়তে দেখেছো। বুখারী ও মুসলিম। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নারী ও পুরুষদেরকে আলাদা নামায শিক্ষা দেন নাই! যেই নামায তিনি আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ) কে শিক্ষা দিয়েছেন, ঠিক সেই নামায তিনি শিক্ষা দিয়েছেন আয়িশাহ (রাঃ), ফাতেমা (রাঃ) কে। নারী ও পুরুষের রুকু, সেজদা, বৈঠক করা ইত্যাদি আলাদা, এই নামে যত্তগুলো হাদীস পাওয়া যায় সবগুলো হয় জাল নয়তো জয়ীফ। আর এর বিপরীতে সহীহ হাদীসে পাওয়া যায় মহিলা সাহাবীরা পুরুষ সাহাবীদের মতোই নামায পড়তেন। ইমাম বুখারীর তারিখে সাগীর, হাদীস সহীহ। এইজন্য যারা হানাফী মাযহাব মানে, সেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর উস্তাদেরও উস্তাদ, ইমাম ইব্রাহীম নাখয়ী (রহঃ) বলেন, “নারীরা নামাযে তাই করবে যা একজন পুরুষে করে থাকে”। মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ, প্রথম খন্ড পৃষ্ঠা ৭৫, হাদীসটা সহীহ।
উত্তর
নারীরা নামাযের আদায় পদ্ধতির সব ক’টি সুরতে পুরুষের মতই নামায পড়বে, এমন একটি বিশুদ্ধ হাদীসের অস্তিত্ব কোন হাদীসের কিতাবে বিদ্যমান
নেই।
উপরোক্ত বক্তব্যে লা-মাযহাবী বন্ধুটি তিনটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছেন। যথা-
১৷
বুখারী মুসলিমে বর্ণিত হাদীস “তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখেছো, সেভাবে নামায পড়” দ্বারা পুরুষ ও নারীকে একই হুকুমে রেখে সকল আদায় পদ্ধতি এক প্রমাণের কিয়াস করেছেন।
২৷
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়শা রাঃ ও হযরত ফাতিমা রাঃ কে পুরুষদের মতই নামায শিক্ষা দিয়েছেন।
৩৷
নারী পুরুষদের নামাযের আদায় পদ্ধতির ভিন্নতা সম্পর্কিত সকল বর্ণনাই জাল নয় জঈফ।
৪৷
ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ এর বক্তব্য এনেছেন যে, নারীরা নামাযে তাই করবে, যা একজন পুরুষ করে থাকে, বক্তব্য দ্বারা পুরুষ ও নারীর নামাযের আদায় পদ্ধতি একই সাব্যস্ত করতে চেয়েছেন। উপরোক্ত তিনটি বিষয় আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করছি। তাহলে বিষয়টি পরিস্কার হবে ইনশাআল্লাহ। ১ম পয়েন্টের জবাব লা-মাযহাবী মতবাদের মূল ভিত্তিই হল, প্রতারণা ও ধোঁকা। কুরআন ও হাদীসের উপর তাদের মতবাদের ভিত্তি নয়। এর অনেক প্রমাণ আমরা আগে দিয়েছি। এবার আপনাদের চোখের সামনে আরো একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ উপস্থিত। একটি হাদীসের আংশিক উপস্থিত করে নিজের পক্ষ থেকে কিয়াসী হুকুম আরোপ করা সহীহ হাদীসের অনুসারীর কাজ নয় একথা আশা করি গণ্ড মুর্খ ব্যক্তিই বুঝবেন। আমরা প্রথমে উক্ত হাদীসটি পূর্ণ দেখে নেইঃ
‎ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﻣَﺎﻟِﻚِ ﺑْﻦِ ﺍﻟﺤُﻮَﻳْﺮِﺙِ، ﻗَﺎﻝَ : ﺃَﺗَﻴْﻨَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ
‎ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻭَﻧَﺤْﻦُ ﺷَﺒَﺒَﺔٌ ﻣُﺘَﻘَﺎﺭِﺑُﻮﻥَ، ﻓَﺄَﻗَﻤْﻨَﺎ
‎ﻋِﻨْﺪَﻩُ ﻋِﺸْﺮِﻳﻦَ ﻟَﻴْﻠَﺔً، ﻓَﻈَﻦَّ ﺃَﻧَّﺎ ﺍﺷْﺘَﻘْﻨَﺎ ﺃَﻫْﻠَﻨَﺎ، ﻭَﺳَﺄَﻟَﻨَﺎ
‎ﻋَﻤَّﻦْ ﺗَﺮَﻛْﻨَﺎ ﻓِﻲ ﺃَﻫْﻠِﻨَﺎ، ﻓَﺄَﺧْﺒَﺮْﻧَﺎﻩُ، ﻭَﻛَﺎﻥَ ﺭَﻓِﻴﻘًﺎ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ،
‎ﻓَﻘَﺎﻝَ : ‏« ﺍﺭْﺟِﻌُﻮﺍ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻴﻜُﻢ،ْ ﻓَﻌَﻠِّﻤُﻮﻫُﻢْ ﻭَﻣُﺮُﻭﻫُﻢْ،
‎ﻭَﺻَﻠُّﻮﺍ ﻛَﻤَﺎ ﺭَﺃَﻳْﺘُﻤُﻮﻧِﻲ ﺃُﺻَﻠِّﻲ، ﻭَﺇِﺫَﺍ ﺣَﻀَﺮَﺕِ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓُ،
‎ﻓَﻠْﻴُﺆَﺫِّﻥْ ﻟَﻜُﻢْ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ، ﺛُﻢَّ ﻟِﻴَﺆُﻣَّﻜُﻢْ ﺃَﻛْﺒَﺮُﻛُﻢْ »
আবূ সুলাইমান মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা কয়জন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকটে আসলাম। তখন আমরা ছিলাম প্রায় সমবয়সী যুবক। বিশ দিন তাঁর কাছে আমরা থাকলাম। তিনি বুঝতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবারের নিকট প্রত্যাবর্তন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েছি। যাদের আমরা বাড়িতে রেখে এসেছি তাদের ব্যাপারে তিনি আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলেন। আমরা তা তাঁকে জানালাম। তিনি ছিলেন কোমল হৃদয় ও দয়ার্দ্র। তাই তিনি বললেনঃ তোমরা তোমাদের পরিজনের নিকট ফিরে যাও। তাদের (কুরআন) শিক্ষা দাও, সৎ কাজের আদেশ কর এবং যে ভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ ঠিক তেমনভাবে সালাত আদায় কর। সালাতের ওয়াক্ত হলে, তোমাদের একজন আযান দেবে এবং যে তোমাদের মধ্যে বড় সে ইমামাত করবে।[বুখারী, হাদীস নং-৬০০৮, আধুনিক প্রকাশনী- ৫৫৭৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৪৭০) উক্ত হাদীসে খেয়াল করুন!

কতিপয় যুবক সাহাবী এসেছেন। তাদের সবাই যুবক। তাদের মাঝে কোন নারী ছিল না।

বাড়িতে গিয়ে স্বীয় এলাকাবাসীকে কুরআন শিক্ষা সৎ কাজের আদেশের নির্দেশনা দিলেন। এরপর তোমরা বলে পরপর তিনটি নির্দেশনা দিলেন। যথা-

আমাকে যেভাবে দেখেছো সেভাবে তোমরা নামায পড়বে।

নামাযের সময় হলে তোমাদের মাঝে একজন ইমাম হবে।

নামাযের জন্য তোমাদের মাঝের একজন ইমাম হবে। এক নাম্বার বুঝার বিষয় হল, আমাকে যেভাবে দেখেছো সেভাবে নামায পড়, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশটি নারীদের দেনইনি। দিয়েছেন পুরুষদের। তাহলে এ হাদীসটিকে নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করা কত বড় জুলুম ও অবিচার ভাবা যায়? দ্বিতীয়ত হাদীসটির শেষ দিকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মালিক বিন হুয়াইরিস রাঃ ও অন্যান্য যুবক সাহাবীগণকে তিনটি নির্দেশ দিয়েছেন “তোমরা” ও “তোমাদের” বলে বলে। এখন আমাদের লা-মাযহাবী বন্ধুরা উক্ত তিন নির্দেশের মাঝে প্রথম নির্দেশ তথা “তোমরা আমাকে যেভাবে দেখেছো সেভাবে নামায পড়বে” উক্ত বাক্যের তোমরা দ্বারা মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন। বলছেন যে, তোমরা এর মাঝে নারী পুরুষ শামিল। সুতরাং মালিক হুয়াইরিস রাঃ এবং তার পরিবারের মহিলা সদস্যরাও যেন পুরুষদের মত একই আদায় পদ্ধতিতে নামায আদায় করে। এ হাদীসটির এ অংশটিই হল, নারী পুরুষের নামাযের আদায় পদ্ধতি এক দাবিদারদের সর্বোচ্চ দলীল। অথচ উক্ত হাদীসের অংশের কোথাও নারী পুরুষের নামাযের আদায় পদ্ধতি এক হবার কথাটি নেই। এটি তাদের
কিয়াস।
যে কিয়াস সম্পূর্ণ বাতিল ও ভ্রান্ত
কিয়াস।
আপনারা খেয়াল করুন, যদি প্রথম নির্দেশের “তোমরা” এর মাঝে নারী পুরুষ সমান হয়ে যায়, তাহলে পরের দুই নির্দেশের “তোমরা” এর মাঝেও নিশ্চয় নারী পুরুষ শামিল হবেন। এটাইতো স্বাভাবিক। কারণ হাদীসতো একই। নির্দেশতো একই সাহাবীগণকে দেয়া হচ্ছে। তো পরের দুই তোমরা শব্দসহ নির্দেশ
কি?
এক হল, তোমাদের মাঝে একজন আজান দিবে। আর দ্বিতীয় হলে তোমাদের মাঝে যে বড় সে ইমাম
হবে।
তাহলে প্রথম তোমরা এর মাঝে নারী পুরুষ সমান হবার দাবী করলে স্বাভাবিকভাবেই পরের দুই তোমরা এর মাঝে নারী পুরুষ সমান হয়ে যাবে। সেই হিসেবে লা-মাযহাবী বন্ধুদের মসজিদের মুআজ্জিন হওয়া প্রয়োজন তাদের বিবিদের। আর ইমাম সাহেব বানানো প্রয়োজন তাদের নানী বা দাদীদের। কারণ এখানের তোমরা এর মাঝেওতো নারী পুরুষ সমান হবে। বাহ! লা-মাযহাবী মতবাদ জিন্দাবাদ। এটা কোন ধরণের প্রতারণা যে, হাদীসের একাংশ পড়া হবে। আর বাকি দুই অংশকে বর্ণনা করা হবে না। এটা হাদীস নিয়ে মশকরা ও ধোঁকাবাজী ছাড়া আর কী হতে
পারে?
এখানে এসে আমাদের লা-মাযহাবী দোস্তরা বলেন যে, না, না, আজান ও ইমামতীর মাঝে নারী ও পুরুষের মাঝে পার্থক্য আছে। নারীরা আজান ও ইমামতী করবে না। কিন্তু কেন ভাই? হাদীসতো একই। কিতাবতো একই। একই হাদীস দিয়ে নামাযের আদায় পদ্ধতি পুরুষ ও নারীর এক হওয়া প্রমাণিত হলে, একই হাদীসের বাকি অংশ দিয়ে কেন আজান ও ইমামতীর ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ এক হবে না? এটা কী ধরণের প্রতারণা? সুতরাং পরিস্কার বুঝা গেল, উক্ত হাদীস দিয়ে লা-মাযহাবী বন্ধুরা নারী ও পুরুষের নামায পদ্ধতি এক বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। অথচ হাদীসের উপর তারা নিজেরাই আমল করে না। আর এখানে নারী ও পুরুষ এক হবার কোন প্রমাণের চিহ্নও নেই। পুরোটাই লা-মাযহাবী বন্ধুদের ধাপ্পাবাজী। ২য় পয়েন্টের জবাব এটি পরিস্কার মিথ্যাচার। হাদীসের জখিরার কোথাও এমন কোন মুনকার হাদীসও কেউ দেখাতে পারবে না, যাতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়শা রাঃ ও হযরত ফাতিমা রাঃ কে পুরুষদের মত নামায আদায় পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন বলে প্রমাণ আছে। এটি পরিস্কার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর মিথ্যারোপ। নাউজুবিল্লাহি মিন
জালিক।
আল্লাহ তাআলা এমন মিথ্যুকদের থেকে হিফাযত করুন। ৩য় পয়েন্টের জবাব আল্লাহ ও নবীর কথা ছাড়া কারো কথা যার কাছে দলীল নয় তিনি কুরআনের কোন আয়াত ও হাদীসের ভিত্তিতে হাদীসকে জাল জঈফের ফাতওয়া প্রদান করেছেন? এরকম শবজান্তা শমসের খেতাব তাকে কে
দিল?
হাদীসের ইলম সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তি ছাড়া এমন কথা কেউ বলতে পারে না যে, নারী পুরুষের নামাযের আদায় পদ্ধতি সম্পর্কিত কোন হাদীস বিশুদ্ধ হিসেবে বর্ণিত হয়নি। বরং হাদীসের ইলম সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিই এমন মুর্খতাসূলভ কথা বলতে পারে। আমরা সামনে কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদীস ও আসারে সাহাবা উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ। ৪র্থ পয়েন্টের জবাব আল্লাহকে ভয় করুন। ইন্নালিল্লাহ। এমন জঘন্য মিথ্যা কেবল লা- মাযহাবী নামক প্রতারক ভাইরাই বলতে পারেন। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলিঃ কোন লা-মাযহাবী মুসন্নাফ ইবনে আবী শাইবা থেকে ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ এর উপরোক্ত উক্তি তথা “নারীরা নামাযে তাই করবে যা একজন পুরুষে করে থাকে” দেখাতে পারবে না। প্রশ্নকারীকে অনুরোধ করবোঃ আপনি উক্ত লা-মাযহাবী বন্ধুটিকে বলুনঃ মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবার প্রথম খন্ডের ৭৫ পৃষ্ঠার উক্ত হাদীসটি দেখাতে। ওরা উল্টে লটকে যেতে রাজি হবে, বিষ খেতে রাজি হবে কিন্তু উক্ত কিতাব নিয়ে আপনার সামনে এসে উক্ত হাদীস দেখাতে পারবে না। কারণ শুধু প্রথম খন্ডে কেন? পুরো মুসান্নাফের কোথাও উক্ত হাদীসের কোন অস্তিত্বই নেই। লা-মাযহাবী গায়র মুকাল্লিদ মতবাদ যে ধোঁকা ও প্রতারণা ও জালিয়াতির মতবাদ তা তাদের উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা আরো সাফ ও পরিস্কার হয়ে গেল। হাদীসের কিতাবের নাম, খন্ড ও পৃষ্ঠা নাম্বার লিখে এমন মিথ্যা? ইন্নালিল্লাহ। এসব লোকদের কি কবরের ভয় নেই। নামায কি জন্য পড়ে? টাকা পয়সা কামানোর জন্য না আখেরাতের জন্য? যদি আখেরাতের জন্য পড়ে থাকে, তাহলে সেই নামাযের আদায় পদ্ধতি প্রমাণের জন্য হাদীসের নামে মিথ্যাচার
কেন?
এমন মিথ্যা কথা ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ এর নামে, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা কিতাবের উদ্ধৃত করা হল। যে কথার অস্তিত্ব নেই, তা প্রমাণের জঘন্য চেষ্টা করা হল, অথচ ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ থেকে যে বিশুদ্ধ বর্ণনা মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে আছে তা আমাদের লা-মাযহাবী বন্ধুদের আড়াল রয়ে গেল কেন? দেখুন ইবরাহীম নাখয়ী রহঃ থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা গ্রন্থে কী এসেছে?
‎2795- ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺍﻷَﺣْﻮَﺹِِ ، ﻋَﻦْ ﻣُﻐِﻴﺮَﺓَ ، ﻋَﻦْ
‎ﺇﺑْﺮَﺍﻫِﻴﻢَ ، ﻗَﺎﻝَ : ﺇﺫَﺍ ﺳَﺠَﺪَﺕِ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓُ ﻓَﻠْﺘَﻀُﻢَّ ﻓَﺨِﺬَﻳْﻬَﺎ ،
‎ﻭَﻟْﺘَﻀَﻊْ ﺑَﻄْﻨَﻬَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻤَﺎ . ‏( ﻣﺼﻨﻒ ﺍﺑﻦ ﺍﺑﻰ ﺷﻴﺒﺔ، ﻛﺘﺎﺏ
‎ﺍﻟﺼﻼﺓ، ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﻛَﻴْﻒَ ﺗَﺠْﻠِﺲُ ﻓِﻲ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ، ﺭﻗﻢ
‎ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ 2795- ) হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. বলেন- মহিলা যখন সেজদা করবে তখন যেন সে উভয় উরু মিলিয়ে রাখে এবং পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১/৩০২, হাদিস নং-২৭৯৫) ‎5071 – ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺯﺍﻕ ﻋﻦ ﻣﻌﻤﺮ ﻭﺍﻟﺜﻮﺭﻱ ﻋﻦ ﻣﻨﺼﻮﺭ
‎ﻋﻦ ﺇﺑﺮﺍﻫﻴﻢ ﻗﺎﻝ ﻛﺎﻧﺖ ﺗﺆﻣﺮ ﺍﻟﻤﺮﺃﺓ ﺃﻥ ﺗﻀﻊ ﺫﺭﺍﻋﻬﺎ
‎ﻭﺑﻄﻨﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﻓﺨﺬﻳﻬﺎ ﺇﺫﺍ ﺳﺠﺪﺕ ﻭﻻ ﺗﺘﺠﺎﻓﻰ ﻛﻤﺎ ‎ﻳﺘﺠﺎﻓﻰ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻟﻜﻲ ﻻ ﺗﺮﻓﻊ ﻋﺠﻴﺰﺗﻬﺎ হযরত ইবরাহীম নাখয়ী রহ. আরো বলেন-“মহিলাদের আদেশ করা হত তারা যেন সেজদা অবস্থায় হাত ও পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে। পুরুষের মত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ফাঁকা না রাখে। যাতে কোমড় উঁচু হয়ে না থাকে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক-৩/১৩৭, হাদিস নং-৫০৭১) কিতাবে যে হাদীস আছে, সেটিকে এড়িয়ে যাওয়া, আর যা নেই, তা উক্ত কিতাবের নামে, বড় ইমামের নামে চালিয়ে দেয়া অন্তত সহীহ হাদীস অনুসারীর কাজ নয়, তা বুঝতে আশা করি আল্লামা হতে হবে না। নারী ও পুরুষের নামাযের আদায় পদ্ধতির মাঝে কিছুটা পার্থক্য আছে। এ মর্মে আমার আগের একটি পোস্টে বিস্তারিত শেয়ার করা হয়েছে৷ দেখে নিন৷
ফতোয়া নং: ৪৬৬১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

হালাল ও হারাম মিশ্রিত সম্পদে উত্তরাধিকার হবার বিধান৷

প্রশ্ন
পিতার উপার্জনে যদি হালাল হারাম মিশ্রিত থাকে তাহলে কি ঐ সম্পদ উত্তরাধিকার হওয়া কি বৈধ হবে?
উত্তর
যতটুকু সম্পদ হারাম তা ব্যতিত হালাল মালের উত্তারিধকার সন্তানগণ হবে। যে পরিমাণ টাকা হারাম তা মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে, সক্ষম না হলে দান করে দিতে হবে৷ ‎ﻭﻓﻰ ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ ﺝ : 2 ﺹ : 292 ‏( ﻃﺒﻊ ﺳﻌﻴﺪ ‏) ﺍﻥ
‎ﺍﻟﻤﺮﺍﺩ ﻟﻴﺲ ﻫﻮ ﻧﻔﺲ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﺍﻡ ﻷﻧﻪ ﻣﻠﻜﻪ ﺑﺎﻟﺨﻠﻂ
‎ﻭﺍﻧﻤﺎ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﺍﻟﺘﺼﺮﻑ ﻓﻴﻪ ﻗﺒﻞ ﺍﺩﺍﺀ ﺑﺪﻟﻪ ..… ﻧﻌﻢ ﻻ
‎ﻳﺒﺎﺡ ﺍﻻﻧﺘﻔﺎﻉ ﺑﻪ ﻗﺒﻞ ﺃﺩﺍﺀ ﺍﻟﺒﺪﻝ ﻓﻰ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﻣﻦ
‎ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ، ﻭﻛﺬﺍ ﻓﻰ ﺍﻟﻄﺤﻄﺎﻭﻯ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺪﺭ ‎ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ - 4/192 . ‎ﻭﻓﻰ ﺍﻟﻬﻨﺪﻳﺔ - ﺝ 349/ ‏( ﻃﺒﻊ ﻣﻜﺘﺒﺔ ﺭﺷﻴﺪﻳﺔ ‏)
‎ﻭﺍﻟﺴﺒﻴﻞ ﻓﻰ ﺍﻟﻤﻌﺎﺻﻰ ﺭﺩﻫﺎ ﻭﺫﻟﻚ ﻫﻬﻨﺎ ﺑﺮﺩ ﺍﻟﻤﺄﺧﻮﺫ
‎ﺍﻥ ﺗﻤﻜﻦ ﻣﻦ ﺭﺩﻩ ﺑﺎﻥ ﻋﺮﻑ ﺻﺎﺣﺒﻪ .… ﺍﻟﺦ . ﻭﻓﻰ ﺭﺩ
‎ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ - 5/99 ‏( ﻃﺒﻊ ﺳﻌﻴﺪ ‏) ﻭﺍﻟﺤﺎﺻﻞ ﺃﻧﻪ ﺍﻥ ﻋﻠﻢ
‎ﺃﺭﺑﺎﺏ ﺍﻷﻣﻮﺍﻝ ﻭﺟﺐ ﺭﺩﻩ ﻋﻠﻴﻬﻢ ﻭﺍﻻ ﻓﺎﻥ ﻋﻠﻢ ﻋﻴﻦ
‎ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻻ ﻳﺤﻞ ﻟﻪ ﻭﻳﺘﺼﺪﻕ ﺑﻪ ﺑﻨﻴﺔ ﺻﺎﺣﺒﻪ … ﻭﺑﻌﺪ
‎ﺍﺳﻄﺮ …… ﻭﻣﻔﺎﺩﻩ ﺍﻟﺤﺮﻣﺔ ﻭﺍﻥ ﻟﻢ ﻳﻌﻠﻢ ﺃﺭﺑﺎﺑﻪ
‎ﻭﻳﻨﺒﻐﻰ ﺗﻘﻴﻴﺪﻩ ﺑﻤﺎ ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻋﻴﻦ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻟﻴﻮﺍﻓﻖ ﻣﺎ
‎ﻧﻘﻠﻨﺎﻩ ﺍﺫ ﻟﻮ ﺍﺧﺘﻠﻂ ﺑﺤﻴﺚ ﻻ ﻳﺘﻤﻴﺰ ﻟﻤﻠﻜﻪ ﻣﻠﻜﺎ ﺧﺒﻴﺜﺎ
‎ﻟﻜﻦ ﻻ ﻳﺤﻞ ﻟﻪ ﺍﻟﺘﺼﺮﻑ ﻓﻴﻪ ﻣﺎ ﻟﻢ ﻳﺆﺩ ﺑﺪﻟﻪ ﺍﻟﺦ ‎ﻭﻓﻰ ﺍﻟﺪﺭ ﺍﻟﻤﺨﺘﺎﺭ- 6/182 ‏( ﺳﻌﻴﺪ ‏) ﻭﻳﺠﺐ ﺭﺩ ﻋﻴﻦ
‎ﺍﻟﻤﻐﺼﻮﺏ ﻓﻰ ﻣﻜﺎﻥ ﻏﺼﺒﻪ ﻭﻳﺒﺮﺃ ﺑﺮﺩﻫﺎ ﻭﻟﻮ ﺑﻐﻴﺮ
‎ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻤﺎﻟﻚ ..… ﺃﻭ ﻳﺠﺐ ﺭﺩ ﻣﺜﻠﻪ ﺍﻥ ﻫﻠﻚ ﻭﻫﻮ ﻣﺜﻠﻰ ،
‎ﻭﻓﻰ ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ - 6/385 - ﻭﻳﺮﺩﻭﻧﻬﺎ ﻋﻠﻰ ﺃﺭﺑﺎﺑﻬﺎ ﺍﻥ
‎ﻋﺮﻓﻮﻫﻢ ﻭﺍﻻ ﺗﺼﺪﻗﻮﺍ ﺑﻬﺎ ﻻﻥ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻜﺴﺐ ﺍﻟﺨﺒﻴﺚ
‎ﺍﻟﺘﺼﺪﻕ ﺍﺫﺍ ﺗﻌﺬﺭ ﺍﻟﺮﺩ ﻋﻠﻰ ﺻﺎﺣﺒﻪ ، উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

রিয়াল বা বিদেশী মুদ্রা ঋন নিয়ে তার পরিবর্তে টাকা দেয়া৷

প্রশ্ন
সৌদি আরব থাকাকালীন আমি এক বাঙ্গালী থেকে এক হাজার রিয়াল কর্জ নিয়েছিলাম। এখন বাংলাদেশে আসার পর তা আদায় করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হল, রিয়ালের কোন দিনের মূল্য ধরে তা পরিশোধ করব? ঋণ গ্রহণের দিনের হিসেবে? নাকি ঋণ আদায়ের দিনের হিসাবে?
উত্তর
আপনি যেহেতু রিয়াল কর্জ নিয়েছিলেন সেহেতু নিয়ম তো হল তাকে রিয়ালই দিবেন। হ্যাঁ, সে যদি রিয়ালের পরিবর্তে টাকা নিতে সম্মত হয় তাহলে টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে। তবে যে দিন ঋণ আদায় করবেন সেই দিনের রিয়ালের বাজার দর হিসাবে আদায় করতে হবে। গ্রহণের দিনের হিসাবে নয়। -বযলুল মাজহূদ ১৫/১২; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরাহ ১/১৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৫৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

একদিন আমার বাসায় টমেটোর প্রয়োজন ছিল। বাসায় জরুরি কাজ থাকায়...

প্রশ্ন
একদিন আমার বাসায় টমেটোর প্রয়োজন ছিল। বাসায় জরুরি কাজ থাকায়
বাজারে না গিয়ে পাশের বাসা থেকে এক কেজি টমেটো ধার নেই। ঐ সময়
টমেটোর কেজি ছিল আশি টাকা। এক সপ্তাহ পরে দাম কমে পঞ্চাশ টাকায়
নেমে আসে। আমার জানার বিষয় হল, আমার জন্য কি পঞ্চাশ টাকার এক
কেজি টমেটো দিয়ে দিলেই চলবে নাকি আশি টাকা বা আশি টাকার
টমেটো ফেরত দিতে হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে ধরনের টমেটো আপনি নিয়েছিলেন ঐ ধরনের এক কেজি
টমেটো দেওয়াই কর্তব্য। আশি টাকা অথবা বর্তমানে আশি টাকার যতটুকু টমেটো
পাওয়া যায় তা দেওয়া লাগবে না। ঋণদাতা আশি টাকার টমেটো দাবি করলে তা
নাজায়েয হবে। তবে আপনি চাইলে নিজ থেকে কিছু বাড়িয়ে দিতে পারেন।
- ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬১; মাবসূত, সারাখসী ১৪/২৯; বুহুস ফী
কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/১৮৩-১৮৪
ফতোয়া নং: ৪১১৬
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে পাঁচশ
টাকা দেওয়ার জন্য আমি তার
বাড়িতে যাই। কিন্তু লোকটি তার
আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে যাওয়ায়
তা আর দেওয়া হয়নি। ঐ
টাকা এখনো আমার কাছে আছে। এখন
প্রশ্ন হল, আমি কি এ টাকা নিজ
প্রয়োজনে খরচ করতে পারব?
নাকি অন্য ফকীরকে দিয়ে দিতে হবে?
জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ঐ পাঁচশ টাকার মালিক আপনিই। শুধু নিয়তের কারণে তা দান করে দেওয়া জরুরি হয়ে যায়নি। তাই ঐ টাকা নিজ প্রয়োজনেও খরচ
করতে পারবেন। আবার ইচ্ছা করলে দানও করতে পারবেন।
-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/২১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪০৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৪/৫০৩
ফতোয়া নং: ৩৭৩১
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: লেন-দেন

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত উপলক্ষ্যে দুআ অনুষ্ঠান করার পর এর বিনিময়ে...

প্রশ্ন
মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত উপলক্ষ্যে দুআ অনুষ্ঠান করার পর এর বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা জায়েয আছে কি
না?
উত্তর
দুআ স্বতন্ত্র ইবাদত। নুমান ইবনে বশীর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই দুআই হল ইবাদত। - মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৩৫২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২৯৬৯ আর ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। সুতরাং মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করে কোনো ধরনের বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না। প্রকাশ থাকে যে, মৃতদের জন্য দুআ করা সওয়াবের কাজ। তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনিময়হীনভাবে। -ফাতহুল বারী ১১/৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮
ফতোয়া নং: ৩২৭৬
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একজন দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় একজন
দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে ঋণ নিলে তা আদায়ের সময় ঋণের পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি
আদায় করে থাকেন। জানার বিষয় হল, ঋণের চেয়ে বেশি আদায় করা জায়েয আছে কি না?
উত্তর
ঋণ বা করযে হাসানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছু বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই লোক, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।-
সহীহ বুখারী, হাদীস : ২৩৯০
তবে এটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন ঋণের চেয়ে বেশি দেওয়া-নেওয়ার কোনো শর্ত অথবা প্রচলন না থাকে। যদি এ দুটির কোনো একটি উপস্থিত থাকে তাহলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা জায়েয হবে না।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২২৬৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া
৩/২০২;
আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২
ফতোয়া নং: ৩২৬৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমি একজন ছাত্র। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের মাঝে সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের...

প্রশ্ন
আমি একজন ছাত্র। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের মাঝে সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের
আয়োজন করা হয়। এ সকল অনুষ্ঠানে যারা বিজয়ী হয় তাদেরকে পুরস্কারও দেওয়া
হয়। এজন্য বছরের শুরুতেই সকল সদস্য থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন হল, বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য সকল
সদস্য থেকে এভাবে টাকা নেওয়া কি জায়েয হবে?
উত্তর
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের থেকে টাকা নিয়ে বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া জায়েয নয়।
এটা এক প্রকারের কিমার তথা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বক্তৃতা অনুষ্ঠানের বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের থেকে চাঁদা উঠানো জায়েয হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুরস্কারের জন্য ভিন্ন ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।
তবে প্রতিযোগীদের কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে ঐ ফান্ডে অনুদান দিতে আগ্রহী হয় তবে তার থেকে নেওয়া যাবে। আর অনুষ্ঠানটি যেহেতু সকলের জন্য প্রশিক্ষণমূলক
তাই এর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অন্যান্য খরচাদি সংশিশ্লষ্ট সকলের থেকে নেওয়া জায়েয হবে। -ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/২১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০২; বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা ২/১৫৬, ২/১৫৮; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুয়াইতিয়্যাহ ১৫/৮০
ফতোয়া নং: ৩০১৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে...

প্রশ্ন
আমাদের গ্রামে একজন লোক আছেন। যিনি অন্ধ ও দরিদ্র। তাকে পাঁচশ টাকা দেওয়ার জন্য আমি তার বাড়িতে যাই। কিন্তু লোকটি তার আত্মীয়র বাসায় বেড়াতে যাওয়ায় তা আর দেওয়া হয়নি। ঐ টাকা এখনো আমার কাছে আছে। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি এ টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করতে পারব? নাকি অন্য ফকীরকে দিয়ে দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
ঐ পাঁচশ টাকার মালিক আপনিই। শুধু নিয়তের কারণে তা দান করে দেওয়া জরুরি হয়ে যায়নি। তাই ঐ টাকা নিজ প্রয়োজনেও খরচ করতে পারবেন। আবার ইচ্ছা করলে দানও করতে পারবেন। -ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/২১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪০৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৪/৫০৩
ফতোয়া নং: ৩০০৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মহল্লায় শীতের মৌসুমে ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এ বছর মহল্লার...

প্রশ্ন
আমাদের মহল্লায় শীতের মৌসুমে ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এ বছর মহল্লার কিছু যুবক ছেলে টুর্নামেন্ট ছেড়েছে। মোট ২৪টি দলে ৪৮ জন খেলোয়াড় থাকবে। সবার থেকে ৫০০/- টাকা করে চাঁদা করা হয়েছে। ২০০/- টাকা খেলার খরচ বাবদ, আর বাকি টাকা দিয়ে বিজয়ী দুই দলকে পুরস্কার দেওয়া
হবে।
হুযুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে খেলাধুলা শরীয়তে বৈধ কি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সকল প্রতিযোগী থেকে চাঁদা নিয়ে তা থেকে বিজয়ী দলকে পুরস্কার দেওয়া নাজায়েয। এটি জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। তাই এভাবে টুর্ণামেন্ট আয়োজন করা বৈধ হবে না। এছাড়া ইসলামে শরীর চর্চা ও খেলাধূলার যে সীমারেখা রয়েছে তা বর্তমানের এসব টুর্ণামেন্টে ঠিক থাকে না। যেমন, টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ও দর্শকবৃন্দ নামায থেকে উদাসীন থাকে। টুর্ণামেন্টকে কেন্দ্র করে মূল্যবান সময় ও বিপুল অর্থের অপচয় হয়। এছাড়া আরো বিভিন্ন গর্হিত কাজ এতে হয়ে থাকে। তাই এ জাতীয় টুর্ণামেন্ট আয়োজন করা শরীয়তসম্মত নয়। অবশ্য খেলাধূলা ও শরীর চর্চার বৈধ সীমারেখার ভেতরে থেকে এবং উপরোক্ত ত্রুটিসমূহ থেকে বিরত থেকে শরীর চর্চার নিয়তে ব্যাডমিন্টন খেলা জায়েয। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৬৩৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৪; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম
৪/৪৩৬
ফতোয়া নং: ২৮০৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের ত্রিশজনের একটা সংগঠন আছে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যকে...

প্রশ্ন
আমাদের ত্রিশজনের একটা সংগঠন আছে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যকে মাসে একশত টাকা করে জমা করতে হয়। কেউ
লাগাতার তিন মাস টাকা আদায় না করলে তাকে বিশ টাকা
আর পাঁচ মাস আদায় না করলে পঞ্চাশ টাকা জরিমানা
দিতে হয়। আর এ টাকাগুলো সংগঠনের
প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা হয়। সংগঠনের এ
পদ্ধতি কি শরীয়তসম্মত? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
না, সংগঠনের উক্ত জরিমানা পদ্ধতি শরীয়তসম্মত
নয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা আদায় না করার কারণে
জরিমানা আরোপ করা জায়েয নেই। সুতরাং যাদের থেকে জরিমানা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে তা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে এমন নিয়ম করা যেতে পারে যে, কিস্তি আদায়ে বিলম্ব করলে বিলম্বিত সময়ের মুনাফা সে পাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ৫/৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৬৭;
রদ্দুল মুহতার ৪/৬১-৬২, ৬/৩৮৫; শরহুল মাজাল্লাহ
১/২৬৫
ফতোয়া নং: ২৫৪৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি...

প্রশ্ন
আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি এসে আমার মটর সাইকেলের সামনে পড়ে যায়। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও মটর সাইকেল থামাতে সক্ষম হইনি। ফলে মুরগিটি চাকার নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। কিছুক্ষণ পর মুরগির মালিক এসে আমার নিকট মুরগির জরিমানা তলব করে। আমি জরিমানা দিতে অস্বীকার করি। কারণ, আমার কোনো ত্রুটি ছিল না। আরো লোক জড়ো হল। তারা আমাকে জরিমানা দিতে বাধ্য করে। ফলে আমি বাধ্য হয়ে জরিমানা দেই। প্রশ্ন হল, আমার উপর কি আসলে জরিমানা ওয়াজিব হয়েছি ল? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা যদি সঠিক হয় অর্থাৎ আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক গতিতেই মটর সাইকেল চালিয়ে থাকেন আর হঠাৎ করে মুরগিটি এর নিচে পড়ে যায়। আর আপনি চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি তাহলে এক্ষেত্রে আপনার উপর ঐ মুরগির জরিমানা দেওয়া জরুরি নয়। তাই এক্ষেত্রে তাদের জন্য জরিমানা আদায় করা বৈধ হয়নি। কিন্তু আপনার অনিয়ম বা অসতর্কতার কারণে যদি মুরগিটি মারা যায় তাহলে জরিমানা আদায় করা জায়েয
হয়েছে।
-মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, খ- : ২, সংখ্যা : ৮/১৯৮-১৯৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/২৯৯
ফতোয়া নং: ২৫৪৮
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে...

প্রশ্ন
আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে অনেক আম হয়। মসজিদের কিছু মুসলিস্ন মাঝেমধ্যেই আম পেড়ে নিয়ে যায়। প্রশ্ন হল, এই গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নেওয়া কি বৈধ?
উত্তর
মসজিদের গাছের ফলমূল মসজিদেরই
সম্পদ।
বিনামূল্যে তা পেড়ে নেওয়া কারো জন্য বৈধ নয়। কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হল, গাছের ফলগুলো বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করা এবং মসজিদের প্রয়োজনে তা ব্যয় করা। তাই মুসলিস্নদের কেউ নিতে চাইলে ন্যায্য মূল্য দিয়ে নিতে পারবে। বিগত দিনে যারা বিনামূল্যে আম নিয়েছে তাদের কর্তব্য হল এর ন্যায্য মূল্য মসজিদের ফান্ডে আদায় করে দেওয়া। -কিতাবুল ইসআফ ২২; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৪৩২
ফতোয়া নং: ২৫৪৩
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়।...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়। কেউ কেউ দোকানের শোকেস থেকে ইস্ত্রিকৃত জামা নিজ হাতে বের করে নিয়ে আসে। দোকানদার খেয়াল করে না, কে সে কার জামা নিচ্ছে। কেউ চাইলে অন্যের জামা নিয়ে নিতে পারবে। এই রমযানের পরে আমার দুই সেট জামা সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি সেট একদমই নতুন ছিল। দুই সপ্তাহ পর পুরাতন সেটটা পাওয়া গেছে। কিন্তু নতুন সেটটি আর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি দোকানদার থেকে এর জরিমানা নিতে পারব?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দোকানদার থেকে হারানো জামার জরিমানা নেওয়া জায়েয। কেননা তার অবহেলার কারণেই তা হারিয়েছে। যে কাউকে দোকানের ভিতর ঢুকে জামা বের করতে দেওয়াটাই এক প্রকার অসতর্কতা। আর অসতর্কতাবশত দোকানদার থেকে কিছু হারিয়ে গেলে তার জরিমানা নেওয়া বৈধ। -মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া ১১৪, মাদ্দাহ : ৬১১; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/৭২০;
ফতোয়া নং: ২৫৩২
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমার ছোট ছেলের কিছু টাকা আমার নিকট আছে। যা একটি...

প্রশ্ন
আমার ছোট ছেলের কিছু টাকা আমার নিকট আছে। যা একটি একাউন্টে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তার বয়স ৪। এ মুহূর্তে তার টাকার কোনো জরুরত নেই। কেননা তার সব খরচ আমাদের উপর। এক্ষেত্রে আমার জিজ্ঞাসা হল, আমি তার টাকা ঋণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারব কি?
উত্তর
নাবালেগ সন্তানের টাকা পিতার জন্য ঋণ হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ। তাই আপনি ঐ ছেলের টাকা ঋণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। -ফয়যুল কাদীর ৩/৫০; ফাতহুল কাদীর ৬/৪০৫; জামিউ আহকামিস সীগার ১/২৭৮; আলবিনায়াহ ১১/২৭৭
ফতোয়া নং: ২৫২০
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

এখন ঢাকা শহরে নতুন গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এর...

প্রশ্ন
এখন ঢাকা শহরে নতুন গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। আমার একটি নতুন বাড়িতেও বহুদিন ধরে সংযোগ পাচ্ছি না। এ অবস্থায় আমি কি কিছু টাকা- পয়সা দিয়ে সংযোগ নিতে পারব? এভাবে সংযোগ নিলে তা ব্যবহার করা কি জায়েয হবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ছাড়া গ্যাস সংযোগ নেওয়া জায়েয হবে না। কেননা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া গ্যাস ব্যবহার করা চুরির শামিল। তাছাড়া এতে ঘুষ, মিথ্যা, ধোঁকা ইত্যাদির গুনাহ তো আছেই। তাই অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
ফতোয়া নং: ২৫১৯
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়।...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়। কেউ কেউ দোকানের শোকেস থেকে ইস্ত্রিকৃত জামা নিজ হাতে বের করে নিয়ে আসে। দোকানদার খেয়াল করে না, কে সে কার জামা নিচ্ছে। কেউ চাইলে অন্যের জামা নিয়ে নিতে পারবে। এই রমযানের পরে আমার দুই সেট জামা সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি সেট একদমই নতুন ছিল। দুই সপ্তাহ পর পুরাতন সেটটা পাওয়া গেছে। কিন্তু নতুন সেটটি আর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি দোকানদার থেকে এর জরিমানা নিতে পারব?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দোকানদার থেকে হারানো জামার জরিমানা নেওয়া জ ায়েয। কেননা তার অবহেলার কারণেই তা হারিয়েছে। যে কাউকে দোকানের ভিতর ঢুকে জামা বের করতে দেওয়াটাই এক প্রকার অসতর্কতা। আর অসতর্কতাবশত দোকানদার থেকে কিছু হারিয়ে গেলে তার জরিমানা নেওয়া বৈধ। -মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া ১১৪, মাদ্দাহ : ৬১১; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/৭২০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/২৮২, ২৮৩; আদ্দররুল মুখতার ৬/৬৬, ৬৭
ফতোয়া নং: ২৫১৫
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি...

প্রশ্ন
আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি এসে আমার মটর সাইকেলের সামনে পড়ে যায়। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও মটর সাইকেল থামাতে সক্ষম হইনি। ফলে মুরগিটি চাকার নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। কিছুক্ষণ পর মুরগির মালিক এসে আমার নিকট মুরগির জরিমানা তলব করে। আমি জরিমানা দিতে অস্বীকার করি। কারণ, আমার কোনো ত্রুটি ছিল না। আরো লোক জড়ো হল। তারা আমাকে জরিমানা দিতে বাধ্য করে। ফলে আমি বাধ্য হয়ে জরিমানা দেই। প্রশ্ন হল, আমার উপর কি আসলে জরিমানা ওয়াজিব হয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা যদি সঠিক হয় অর্থাৎ আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক গতিতেই মটর সাইকেল চালিয়ে থাকেন আর হঠাৎ করে মুরগিটি এর নিচে পড়ে যায়। আর আপনি চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি তাহলে এক্ষেত্রে আপনার উপর ঐ মুরগির জরিমানা দেওয়া জরুরি নয়। তাই এক্ষেত্রে তাদের জন্য জরিমানা আদায় করা বৈধ হয়নি। কিন্তু আপনার অনিয়ম বা অসতর্কতার কারণে যদি মুরগিটি মারা যায় তাহলে জরিমানা আদায় করা জায়েয হয়েছে। -মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, খ- : ২, সংখ্যা : ৮/১৯৮-১৯৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/২৯৯
ফতোয়া নং: ২৫১৪
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে...

প্রশ্ন
আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে অনেক আম হয়। মসজিদের কিছু মুসলিস্ন মাঝেমধ্যেই আম পেড়ে নিয়ে যায়। প্রশ্ন হল, এই গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নেওয়া কি বৈধ?
উত্তর
মসজিদের গাছের ফলমূল মসজিদেরই সম্পদ। বিনামূল্যে তা পেড়ে নেওয়া কারো জন্য বৈধ নয়। কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হল, গাছের ফলগুলো বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করা এবং মসজিদের প্রয়োজনে তা ব্যয় করা। তাই মুসলিস্নদের কেউ নিতে চাইলে ন্যায্য মূল্য দিয়ে নিতে পারবে। বিগত দিনে যারা বিনামূল্যে আম নিয়েছে তাদের কর্তব্য হল এর ন্যায্য মূল্য মসজিদের ফান্ডে আদায় করে দেওয়া। -কিতাবুল ইসআফ ২২; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৭; আদ্দুররুল

ফতোয়া নং: ২৩৩৯
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: লেন-দেন

বর্তমানে বিয়েশাদিতে আলোকসজ্জা ও গেইট করা হয়। এ সম্পর্কে কারো...

প্রশ্ন
বর্তমানে বিয়েশাদিতে আলোকসজ্জা ও গেইট করা হয়। এ সম্পর্কে কারো কারো বক্তব্য হল, আলোকসজ্জা যদি বিয়ের এলানের নিয়তে হয় আর বরপক্ষ থেকে গেইটের জন্য কোনো টাকা না নেওয়া হয় তবে তা জায়েয, অন্যথায় নাজায়েয। অতএব এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।
উত্তর
বিয়ের এলান ও প্রচারণার উদ্দেশ্যেও আলোকসজ্জা করা ও গেইট লাগানো ঠিক
নয়। এটি অপচয় ও সম্পূর্ণ রেওয়াজসর্বস্ব
কাজ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আলোকসজ্জা শুধু বিদ্যুতের অপচয়ই নয়; বরং অন্যের হক নষ্ট করারও শামিল। তাই এসব থেকে মুসলমানদের বেঁচে থাকা কর্তব্য। আর গেইটের জন্য বরপক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া আরো গর্হিত কাজ। সুতরাং এসব কুরূসুম থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
ফতোয়া নং: ২৩১৭
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: লেন-দেন

আমার মামা এক ব্যক্তির নিকট পাঁচ হাজার টাকা আমানত রাখেন।...

প্রশ্ন
আমার মামা এক ব্যক্তির নিকট পাঁচ হাজার টাকা আমানত রাখেন। সে তা যথাযথভাবে হেফাযত করে। কিন্তু কয়েকদিন পর তা চুরি হয়ে যায়। চোর আলমারির লক ভেঙ্গে টাকাগুলো নিয়ে গেছে।
এরপর
লোকটি মামাকে বিষয়টি জানিয়ে বলে, যেহেতু টাকাগুলো আমার কাছ থেকে চুরি হয়েছে তাই আমি তোমাকে প্রত্যেক মাসে অল্প অল্প করে তা পরিশোধ করে দিব। এরপর লোকটি তিন মাসে ২৫০০/- টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু এখন সে আর টাকা দিচ্ছে না। প্রশ্ন হল, তার জন্য কি বাকি টাকা পরিশোধ করা জরুরি? আমানতদাতা কি তার
নিকট
বাকি টাকা দাবি করতে পারবে?
উত্তর
আমানতের অর্থ যথাযথ সংরক্ষণের পর তা চুরি হয়ে গেলে আমানতগ্রহীতাকে এর জরিমানা দিতে হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া জরুরি ছিল না এবং আপনার মামার জন্যও চাপ প্রয়োগ করে তার থেকে ঐ টাকা নেওয়া জায়েয হবে না। আর লোকটি যে ২৫০০/- টাকা পরিশোধ করেছে। দেখতে হবে সে ঐ টাকা কী বুঝে দিয়েছে? যদি মনে করে যে, ঐ টাকা আদায় করা শরীয়তের দৃষ্টিতে তার জন্য আবশ্যকীয় ছিল তবে সেক্ষেত্রে তাকে ঐ টাকা ফেরত দিতে হবে। আর যদি সঠিক মাসআলা জানার পরও সে সতঃস্ফূর্তভাবেই টাকাগুলো দিয়ে থাকে তবে তা খরচ করা আপনার মামার জন্য জায়েয হবে। আর অবশিষ্ট টাকা সে দিতে না চাইলে তার থেকে চাওয়া বা চাপ দিয়ে নেওয়া জায়েয হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩১৪; বেনায়া ১২/৪৩৪-৫; আদ্দুররুল মুখতার
৫/৬৬৪
ফতোয়া নং: ২৩১৬
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একজন দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় একজন দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে ঋণ নিলে তা আদায়ের সময় ঋণের পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি আদায় করে থাকেন। জানার বিষয় হল, ঋণের চেয়ে বেশি আদায় করা জায়েয আছে কি না?
উত্তর
ঋণ বা করযে হাসানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছু বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই লোক, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ২৩৯০ তবে এটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন ঋণের চেয়ে বেশি দেওয়া-নেওয়ার কোনো শর্ত অথবা প্রচলন না থাকে। যদি এ দুটির কোনো একটি উপস্থিত থাকে তাহলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা জায়েয হবে না। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২২৬৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২; আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২
ফতোয়া নং: ২০১৬
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: লেন-দেন

এক ব্যক্তি মারা গেছে। তার কেবলমাত্র আপন বোনের ছেলে ও...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি মারা গেছে। তার কেবলমাত্র আপন বোনের ছেলে ও মেয়ে জীবিত আছে। এছাড়া নিকটাত্মীয় অন্য কেউ নেই। এখন তার সম্পদ কীভাবে বণ্টন
করা হবে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতের সম্পদ থেকে মৃতের কাফন-দাফনের খরচ প্রয়োজন হলে তা দিবে এবং তার কোনো ঋণ থাকলে তাও আদায় করবে। আর সে কোনো বৈধ অসিয়ত করে থাকলে ঋণ আদায়ের পর অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা পুরো করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সকল সম্পদ মৃতের বোনের ছেলে মেয়েদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। ছেলে দুই ভাগ আর মেয়ে এক ভাগ পাবে। -আসসিরাজী ৬, ৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৯৫


Execution time: 0.02 render + 0.01 s transfer.