Login | Register

ফতোয়া: লেন-দেন

ফতোয়া নং: ৭২৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের গ্রামে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর দেওয়া হয়েছে। এবং...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর দেওয়া হয়েছে। এবং কবর দেওয়া বাবদ মৃতের অভিভাবকেরা আল্লাহর ওয়াস্তে মসজিদে ২০০/৩০০/৫০০ টাকা করে দান করেছেন। এখন মসজিদ সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কিন্তু মৃতের অভিভাবকেরা কবরের উপর মসজিদ করতে বাধা দিচ্ছে। এখন মুফতী সাহেবের নিকট প্রশ্ন হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো।

উত্তর

মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর দেওয়া ঠিক হয়নি। মসজিদের জায়গার মালিক মসজিদ নিজে। এর ব্যবহারের অধিকার শুধুমাত্র মসজিদেরই। এখন যদি মসজিদ সম্প্রসারণ করতে গিয়ে কবর দেয়া জায়গার প্রয়োজন হয় তাহলে কবরের স্থান সমান করে তার উপর মসজিদ নির্মাণ করা যাবে। এতে কারো বাধা দেয়া জায়েয হবে না। সেক্ষেত্রে কোনো ওয়ারিশ যদি তাদের কবরকে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নিতে চায় তবে তা পারবে। আর মৃত লোকদের অভিভাবকগণ যদি প্রশ্নোক্ত টাকা কবরের জায়গার বিনিময় হিসেবে দিয়ে থাকে তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সে টাকা তাদেরকে ফেরত দিয়ে দিবে। আর যদি অনুদান হিসেবে দিয়ে থাকে তবে তা ফেরত নেওয়া তাদের জন্য বৈধ হবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৫০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ৪/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

কেউ মারা গেলে মাদরাসা থেকে ছাত্রদের এনে কুরআন খতম করিয়ে...

প্রশ্ন

কেউ মারা গেলে মাদরাসা থেকে ছাত্রদের এনে কুরআন খতম করিয়ে টাকা দেওয়া হয়। এটি কি জায়েয?

উত্তর

ঈসালে সওয়ারেব উদ্দেশ্যে কুরআন খতম করিয়ে বিনিময় দেয়া নেয়া নাজায়েয। হাদীস শরীফে এসেছে, আব্দুর রহমান বিন শিবল রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে,

اقْرَءُوا الْقُرْآنَ، وَلَا تَغْلُوا فِيهِ، وَلَا تَجْفُوا عَنْهُ، وَلَا تَأْكُلُوا بِهِ، وَلَا تَسْتَكْثِرُوا بِهِ.

তোমরা কুরআন পড়। তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না। এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। এবং কুরাআনের বিনিময়ে কিছু ভক্ষণ করো না। এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি করো না।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৫৫২৯

আরেক বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

اقْرَءُوا الْقُرْآنَ،وَاسْأَلُوا اللهَ بِهِ؛فَإِنَّ مِنْ بَعْدِكُمْ قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ يَسْأَلُونَ النَّاسَ بِهِ.

‘তোমরা কুরআন পড়ো এবং বিনিময় আল্লাহ তাআলার কাছে চাও। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে চাবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৯৯১৭

অন্য আরেক বর্ণনায় এসেছে তাবেয়ী যাযান রাহ. বলেন,

مَنْ قَرَأَ الْقُرْآنَ يَأْكُلُ بِهِ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَوَجْهُهُ عَظْمٌ لَيْسَ عَلَيْهِ لَحْمٌ.

যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে মানুষ থেকে এর বিনিময় গ্রহণ করে সে যখন হাশরের মাঠে উঠবে তখন তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। শুধু হাড্ডি থাকবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৭৮২৪

তাই ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে বিনিময় দিয়ে কুরআন খতম করালে বিনিময় দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ের গুনাহ হবে। এবং এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির কোনো সওয়াব হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪১; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

অতীতে আমি অন্যের গাছের ডাব, পুকুরের মাছ ইত্যাদি চুরি করে...

প্রশ্ন

অতীতে আমি অন্যের গাছের ডাব, পুকুরের মাছ ইত্যাদি চুরি করে খেয়েছি। আল্লাহর মেহেরবানীতে আমার ভেতর দ্বীনী বুঝ এসেছে। তাই জানতে চাচ্ছি, আমি চুরির এই গুনাহ থেকে কীভাবে পরিত্রাণ পেতে পারি এবং ঐ পাওনাগুলোর ব্যাপারে কী করতে পারি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার কর্তব্য হল, ঐ সকল ফলমূল ও মাছ ইত্যাদির আনুমানিক ন্যায্য মূল্য সেগুলোর মালিককে পৌঁছে দেওয়া। মালিক জীবিত না থাকলে তার ওয়ারিশদেরকে দিতে হবে। আর যদি মালিক বা তার ওয়ারিশ জানা না থাকে তাহলে ঐ টাকা মালিকের পক্ষ থেকে ফকীর-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে ।

আর সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৩৫৯৪; শরহুল মাজাল্লাহ ১/২৬৪; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৮৩, ৬/১৮৩; আলইখতিয়ার ২/৫৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার মা আমার ভাইয়ের জন্য এক লক্ষ টাকা এক মহিলার...

প্রশ্ন

আমার মা আমার ভাইয়ের জন্য এক লক্ষ টাকা এক মহিলার কাছে রেখেছেন। যখন রাখেন তখন আমাকে সাক্ষী করেছিলেন। মা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। যার কাছে রেখেছিলেন সে মহিলা ঐ টাকা কাকে দিবে। এ টাকা আমার ভাইয়েরই প্রাপ্য? নাকি এটা মীরাস হিসেবে গণ্য হবে এবং সকল ওয়ারিস তাদের হিস্যা অনুযায়ী পাবে?

এখানে উল্লেখ্য যে, আমার ভাই এই টাকার ব্যাপারে কিছুই জানত না।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার মা এই টাকা যেহেতু সরাসরি আপনার ভাইকে দেননি তাই এ টাকাআপনার ভাই একা পাবে না। এ টাকা মীরাস হিসেবে গণ্য হবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ৩/৩৪৪; আলইখতিয়ার ২/৫৩৪; রদ্দুল মুহতার ৫/৫৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম। ঢাকার একটি মাকতাবা থেকে আমি ফোনে ফাতহুল...

প্রশ্ন

আমার বাড়ি চট্টগ্রাম। ঢাকার একটি মাকতাবা থেকে আমি ফোনে ফাতহুল বারী কিতাবটি ক্রয় করেছিলাম। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে তারা কিতাবটি আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়। পরিবহণ খরচ আমি বহন করেছি। কিতাবটি দেখার পর তার ছাপা ও আনুষঙ্গিক আরো কিছু জিনিস আমার পছন্দ হয়নি। তাই আমি তা ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছি। কিন্তু তারা তাতে রাজি হচ্ছে না। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে কিতাবটি ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার আমার আছে কি? আর ফিরিয়ে দিলে তার ফিরতি পরিবহণ খরচ কি আমাকেই বহন করতে হবে?

উত্তর

আপনি যেহেতু কিতাবটি না দেখেই ক্রয় করেছেন তাই দেখার পর চাইলে তা ফিরিয়ে দেওয়ার অধিকার আপনার রয়েছে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

من اشْترى شَيْئا وَلم يره فَهُوَ بِالْخِيَارِ إِذا رَآهُ .

কেউ যদি না দেখে কোনো কিছু ক্রয় করে তাহলে দেখার পর তা (রাখা না রাখার) অধিকার তার রয়েছে। -কিতাবুল হুজ্জাহ ১/৭২৪

তাই মাকতাবা কর্তৃপক্ষের জন্য কিতাবটি ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানানোর সুযোগ নেই। তাদের দায়িত্ব হল তা ফেরত নিয়ে আপনার টাকা ফেরত দিয়ে দেওয়া। তবে কিতাবটি আনা নেওয়ার উভয় খরচই আপনাকে বহন করতে হবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২০৩৩৮-২০৩৪১; শরহু মাআনিল আসার ২/১৮৬; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৯৪, জামেউল ফুসুলাইন ১/৩৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের পাশের মসজিদে আইপিএস লাগানোর জন্য আমি আমার বিভিন্ন বন্ধুদের...

প্রশ্ন

আমাদের পাশের মসজিদে আইপিএস লাগানোর জন্য আমি আমার বিভিন্ন বন্ধুদের থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা সংগ্রহ করি। আইপিএস লাগানোর পর আমার কাছে আরো তিন হাজার টাকা রয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, ঐ তিন হাজার টাকা আমি অন্য মসজিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করতে পারব কি না?

উত্তর

আপনার বন্ধুরা যেহেতু আপনাদের মসজিদে আইপিএস কিনে দেওয়ার জন্য টাকাগুলো দিয়েছে তাই আইপিএস কেনার পর অবশিষ্ট টাকাটাও ঐ মসজিদেরই প্রাপ্য। তবে এক্ষেত্রে আপনার বন্ধুদেরকে বিষয়টি অবহিত করা দরকার। যদি তারা অবশিষ্ট টাকা ফেরত চায় অথবা অন্য কোথাও দিতে বলে তাহলে সেক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

-আলইসআফ ১৫; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

ছোট বাচ্চার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কার? বাবার যদি সামর্থ্য না থাকে...

প্রশ্ন

ছোট বাচ্চার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কার? বাবার যদি সামর্থ্য না থাকে বা যদি বাবা না থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রে বাচ্চার ভরণ-পোষণের দায়িত্ব কে বহন করবে?

উত্তর

বাবা বেঁচে থাকলে বাবার উপরই শিশুর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব। বাবা নিজের সম্পদ বা আয় থেকে সন্তানের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন।

যদি বাবার সামর্থ্য না থাকে আর মা সামর্থ্যবান হন তাহলে শিশুটির মা তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন। মায়ের সামর্থ্য না থাকলে তার দাদা এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য নিকটাত্মীয়গণ তার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবে।

বাবা উপস্থিত থাকাকালীন তার সামর্থ্য না থাকার কারণে মা বা অন্য কেউ যদি শিশুর ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে এবং পূর্ব থেকে বলে নেয় তাহলে তাদের খরচকৃত টাকা বাবার উপর ঋণ হিসেবে থাকবে। পরবর্তীতে বাবার সামর্থ্য হলে তার থেকে ঐ খরচকৃত টাকা নিতে পারবে।

আর যদি শিশুর বাবা না থাকে এবং তার মা অথবা দাদা থাকে তাহলে মা বা দাদা তার ভরণ-পোষণের স্বতন্ত্র দায়িত্বশীল। সুতরাং সাধ্যমতো তারাই শিশুর খরচ বহন করবে।

উল্লেখ্য, কোনো শিশুর যদি নিজস্ব সম্পদ থাকে তাহলে তার অভিভাবক বাবা-মা বা অন্যরা শিশুর সম্পদ থেকেই তার জন্য খরচ করতে পারবে। বিশেষত বাবা-মা যদি অসচ্ছল থাকে তাহলে শিশুর সম্পদ থেকে তার জন্য খরচ করতে কোনো অসুবিধা নেই।

-রদ্দুল মুহতার ৩/৬১৩, ৬২৪; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৪/২১৭; আলইখতিয়ার ৩/২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি একজনের কাছে একটি গরু বর্গা দিলাম এ শর্তে যে,...

প্রশ্ন

আমি একজনের কাছে একটি গরু বর্গা দিলাম এ শর্তে যে, পালার পর যে দামে বিক্রি করা হবে তা থেকে আমার মূল টাকা নিয়ে নিব। এরপর যা থাকবে তা থেকে অর্ধেক আমার আর অর্ধেক যে পালবে তার। এভাবে বর্গা দেওয়া জায়েয কি না? অনেকে বলে জায়েয আবার অনেকে বলে জায়েয নেই। যদি জায়েয না হয় তাহলে করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত গরু বর্গা পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত নয়। তাই উক্ত পন্থায় কেউ গরু বর্গা দিয়ে থাকলে তাতে যদি লাভ আসে বা বর্গা দেওয়া গরু বাচ্চা দেয় তাহলে তা মূল মালিকেরই হবে। আর যে গরু পালবে সে শুধু গরুর খরচ এবং তার পারিশ্রমিক পাবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৯৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একবার আমি বাসে বসা ছিলাম। একজন হকার কিছু কাচের শো...

প্রশ্ন

একবার আমি বাসে বসা ছিলাম। একজন হকার কিছু কাচের শো পিস নিয়ে আমাদের বাসে উঠল। সে বলছিল, প্রতি শো-পিসের দাম ২০ টাকা। যে কেউ হাতে নিয়ে দেখতে পারেন, কিনতে হবে না। যাত্রীদের অনেকে হাতে নিয়ে দেখছিল। হঠাৎ বাস জোরে ব্রেক করলে এক যাত্রীর হাত থেকে একটি শো-পিস পড়ে ভেঙ্গে যায়। এখন হকার উক্ত যাত্রীর কাছে মূল্য দাবি করে ও তার অস্বীকৃতি সত্ত্বেও তাকে মূল্য আদায় করতে বাধ্য করে। আমার জানার বিষয় হল, ভাঙ্গা শো-পিসটির মূল্য আদায় করা কি উক্ত যাত্রীর জন্য জরুরি ছিল? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ দ্বারা এ কথা সুস্পষ্ট যে, শো-পিসটি পছন্দ হয় কি না- এ জন্যই ঐ যাত্রী তা হাতে নিয়েছিল। আর ব্রেক করার কারণে তা ভেঙ্গে গেছে। এখানে বাহ্যত যাত্রীর ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় না। তাই এক্ষেত্রে জোরপূর্বক তার থেকে জরিমানা আদায় করা অন্যায় হয়েছে। অবশ্য যাত্রীর ত্রুটির কারণে যদি ভেঙ্গে থাকে তাহলে তার থেকে জরিমানা আদায় করা জায়েয।

-ফাতাওয়া খানিয়া ২/২৬৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০-১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৭৩-৫৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একটি বড় পুকুর আছে। কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর এক...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি বড় পুকুর আছে। কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর এক দু বার তাতে মাছ শিকারের জন্য নির্দিষ্ট মূল্যে টিকেট ছেড়ে থাকে। টিকেট সংগ্রহকারীগণ নির্ধারিত দিনে বড়শি দিয়ে ঐ পুকুর থেকে মাছ শিকার করেন। যে যা শিকার করতে পারে সেটা তার। জানার বিষয় হল, এই পদ্ধতিটি কি শরীয়তসম্মত?

উত্তর

মাছ শিকারের প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত নয়। কেননা এতে কে কতটুকু মাছ পাবে তা সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। বরং একেবারে না পাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। যা ধোঁকা ও শরীয়ত নিষিদ্ধ ‘আলগারারে’র অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া জুয়ার সাথেও এর সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ এতে কে কী পরিমাণ মাছ ধরতে পারবে তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। কেউ হয়ত পাবেই না। অথচ টাকা দিয়েছে সবাই। এই টাকা হয়ত পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে। আবার এমনও হতে পারে যে, কেউ অনেক বেশি মাছ পেয়ে যাবে। যেহেতু এই অনিশ্চয়তা মূল লেনদেনের সাথেই জড়িত তাই তা নাজায়েয। মুসলমানদের জন্য তা পরিহার করা কর্তব্য।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫১৩; মাবসূত, সারাখসী ১২/১৯৪; আদায়েউস সানায়ে ৪/১৭; আননাহরুল ফায়েক ৩/৪১৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এক আত্মীয় মারা যাওয়ার পর তার ঘরের লোকেরা তার...

প্রশ্ন

আমাদের এক আত্মীয় মারা যাওয়ার পর তার ঘরের লোকেরা তার নখ কেটে দেয়। এভাবে তাদের জন্য মৃতব্যক্তির নখ কাটা জায়েয হয়েছে কি? এমনিভাবে মৃতব্যক্তির গোঁফ চুল ইত্যাদি কাটা জায়েয আছে কি?

উত্তর

মৃত ব্যক্তির গোঁফ, চুল, নখ ইত্যাদি কাটা জায়েয নয়। ইবনে সিরীন রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,لَا يُؤْخَذُ مِنْ شَعْرِ الْمَيِّتِ، وَلَا مِنْ أَظْفَارِهِ

মৃতব্যক্তির চুল ও নখ কাটা যাবে না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬২২৮)

তাই মৃত লোকটির নখ টাকা ঠিক হয়নি।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০২৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি দোকান থেকে এক হালি ডিম কিনে বাসায় নিয়ে আসি।...

প্রশ্ন

আমি দোকান থেকে এক হালি ডিম কিনে বাসায় নিয়ে আসি। ডিমগুলো ভাঙ্গার পর দেখা গেল, দু’টি ডিম নষ্ট, খাওয়ার উপযোগী নয়। জানার বিষয় হল, নষ্ট দু’টি ডিমের টাকা দোকানির কাছ থেকে ফেরত নেওয়া জায়েয হবে কি?

উল্লেখ্য, বাসায় আনার সাথে সাথে ডিমগুলো ভাঙ্গা হয়েছে।

উত্তর

হাঁ, নষ্ট ডিমের টাকা দোকানি থেকে ফেরত নেওয়া জায়েয হবে। কেননা এই ডিমের বিক্রিই শুদ্ধ হয়নি।

-কিতাবুল আছল ২/৫০০; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/১২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৮৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/৫৪-৫৫; রদ্দুল মুহতার ৫/২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি বিদেশে থাকা অবস্থায় খবর পেলাম, আমাদের বাড়ির পাশের জমিটি...

প্রশ্ন

আমি বিদেশে থাকা অবস্থায় খবর পেলাম, আমাদের বাড়ির পাশের জমিটি ১৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে তখন আমি আমার ছোট ভাইকে বললাম, আমাদের বাড়ির পাশের জমিটি ১৪ লক্ষ টাকায় বিক্রি হবে তুমি আমাদের দুইজনের জন্য জমিটি কিনে ফেল। আমার অংশের টাকা আমি মাস শেষে পাঠিয়ে দেব। সে এতে রাজি হয় এবং মাস শেষে আমি টাকাও পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন বাড়িতে এসে দেখি, সে পুরো জমিটা নিজের জন্য কিনেছে এবং তার নামে রেজিস্ট্রি করে ফেলেছে এবং ১৪ লক্ষ টাকা সে নিজ থেকে দিয়েছে। আমি যে টাকা পাঠিয়েছি সে তা গ্রহণ করেনি। জানার বিষয় হল, আমি কি এখন আমার অংশ দাবি করতে পারব এবং আমার ভাই কি আমাকে ঐ জমির অর্ধেক দিতে বাধ্য থাকবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু আপনি আপনার ভাইকে ঐ জমির একাংশ আপনার জন্য কেনার দায়িত্ব দিয়েছেন এবং সে এ দায়িত্ব গ্রহণও করেছে। তাই আপনার ভাইয়ের জন্য ঐ জমিটি পুরোটা নিজের নামে কেনা ও রেজিস্ট্রি করা বৈধ হয়নি। এখন তার কর্তব্য হল, ঐ জমির অর্ধেক ক্রয়মূল্যে আপনাকে দিয়ে দেওয়া।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৫৮০; শরহুল মাজাল্লা, খালিদ আতাসী ৪/৪৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয়। তাতে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয়। তাতে এখনও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। ভবিষ্যতে মাদরাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশেই একটি মসজিদ আছে। মাদরাসার জমিতে যে সকল ফলমূল হয় তা বিক্রি করে এর মূল্য মসজিদের জন্য ব্যয় করা হয়। এখন প্রশ্ন হল, মাদরাসার জমিতে উৎপাদিত ফসলাদির মূল্য মসজিদের কাজে লাগানো জায়েয কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মাদরাসার জমিতে উৎপাদিত ফসলাদি মাদরাসার সম্পদ। তা বিক্রি করে মাদরাসার কাজেই ব্যয় করতে হবে এবং মাদরাসার জন্যই তা সংরক্ষণ করতে হবে। এই টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় করা জায়েয হবে না।

Ñফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৬১; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৬০; দুরারুল হুককাম ২/৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একদিন আমার বাসায় টমেটোর প্রয়োজন ছিল। বাসায় জরুরি কাজ থাকায়...

প্রশ্ন

একদিন আমার বাসায় টমেটোর প্রয়োজন ছিল। বাসায় জরুরি কাজ থাকায় বাজারে না গিয়ে পাশের বাসা থেকে এক কেজি টমেটো ধার নেই। ঐ সময় টমেটোর কেজি ছিল আশি টাকা। এক সপ্তাহ পরে দাম কমে পঞ্চাশ টাকায় নেমে আসে। আমার জানার বিষয় হল, আমার জন্য কি পঞ্চাশ টাকার এক কেজি টমেটো দিয়ে দিলেই চলবে নাকি আশি টাকা বা আশি টাকার টমেটো ফেরত দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে ধরনের টমেটো আপনি নিয়েছিলেন ঐ ধরনের এক কেজি টমেটো দেওয়াই কর্তব্য। আশি টাকা অথবা বর্তমানে আশি টাকার যতটুকু টমেটো পাওয়া যায় তা দেওয়া লাগবে না। ঋণদাতা আশি টাকার টমেটো দাবি করলে তা নাজায়েয হবে। তবে আপনি চাইলে নিজ থেকে কিছু বাড়িয়ে দিতে পারেন।

- ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৩৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬১; মাবসূত, সারাখসী ১৪/২৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/১৮৩-১৮৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৩৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

একজন ক্রেতা পণ্য বাকিতে ক্রয় করেছে। কিন্তু ভুলবশত মেমো করা...

প্রশ্ন

একজন ক্রেতা পণ্য বাকিতে ক্রয় করেছে। কিন্তু ভুলবশত মেমো করা হয়নি। লম্বা সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে টাকার পরিমাণ ভুলে গেছে। এ অবস্থায় করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে আলোচনা করে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সমঝোতামূলক একটি মূল্য নির্ধারণ করে নিবে। অতপর তা পরিশোধ করে দিবে আর তা যেহেতু বাস্তবমূল্য থেকে কম বা বেশি হতে পারে তাই একে অপরকে দায়ী করে রাখবে না; বরং মাফ করে দিবে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত উপলক্ষ্যে দুআ অনুষ্ঠান করার পর এর বিনিময়ে...

প্রশ্ন

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত উপলক্ষ্যে দুআ অনুষ্ঠান করার পর এর বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা জায়েয আছে কি না?

উত্তর

দুআ স্বতন্ত্র ইবাদত। নুমান ইবনে বশীর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয়ই দুআই হল ইবাদত। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৮৩৫২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস ২৯৬৯

আর ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। সুতরাং মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ করে কোনো ধরনের বিনিময় গ্রহণ করা যাবে না।

প্রকাশ থাকে যে, মৃতদের জন্য দুআ করা সওয়াবের কাজ। তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনিময়হীনভাবে।

-ফাতহুল বারী ১১/৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে এভাবে টাকা জমা করে যে,...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে এভাবে টাকা জমা করে যে, ১৮ জন যুবক প্রতিদিন ১০ টাকা করে জমা করে। যার ফলে প্রতিদিন ১৮০ টাকা জমা হয়। এভাবে ১০ দিন অতিবাহিত হলে মোট ১৮০০ টাকা জমা হয়। অতপর ১০ম দিনে সকলের নাম পৃথক পৃথক কাগজে লিখে একটি বাক্সের ভিতর ফেলা হয়। সেখান থেকে কোনো একজন একটি কাগজ উত্তোলন করে। সে কাগজে যার নাম উঠে সে এই ১৮০০ টাকা পায়। এভাবে ১০ দিন অন্তর অন্তর মোট ১৮টি খেলা হয়। যার ফলে সকলেই ১৮০০ টাকা করে পায়। যে ব্যক্তি একবার ১৮০০ টাকা পাবে সে আর কোনো খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু অবশ্যই অবশ্যই তাকে শেষ খেলার পূর্ব পর্যন্ত ১০ টাকা করে প্রতিদিনই জমা করতে হবে।

জানার বিষয় হচ্ছে, তাদের এ খেলা জায়েয হবে কি? যদি জায়েয না হয় তবে জায়েয পদ্ধতি কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী নিজেদের টাকা এভাবে একত্র করে তা উক্ত পদ্ধতিতে একেক জনের জন্য নেওয়া জায়েয। কেননা এক্ষেত্রে সকলের সম্মতিতে একজনকে ঋণ দেয়া হচ্ছে এবং এতে বেশি প্রদানেরও শর্ত নেই। এছাড়া এতে অবৈধতার অন্য কোনো কারণও নেই। তাই প্রশ্নোক্ত লেনদেন জায়েয।

-ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩২৫; আলমাবসূত, সারাখসী ১৫/৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

জনৈক মুরব্বির তিনটি সন্তান। তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তার...

প্রশ্ন

জনৈক মুরব্বির তিনটি সন্তান। তিনি খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সমস্ত সম্পদ নিজ সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছেন। পরবর্তীতে তার সন্তানরা আর তাকে দেখাশুনা করছে না এবং তার খরচাদিও দেয় না। জানতে চাই, তিনি কি তার প্রয়োজনীয় খরচাদি সন্তানদের সম্পদ থেকে নিয়ে নিতে পারবেন? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

পিতা-মাতা যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন এবং সন্তানরা সামর্থ্যবান হয় তাহলে পিতা-মাতার প্রয়োজনীয় খরচাদি দেওয়া সন্তানের উপর আবশ্যক। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও সন্তানদের জন্য কর্তব্য হল, পিতার প্রয়োজনীয় খরচ দেওয়া। তারা যদি এ খরচ না দেয় তবে পিতা নিত্য প্রয়োজনীয় খরচাদি তাদের সম্পদ থেকে নিতে পারবেন। অবশ্য প্রয়োজন অতিরিক্ত খরচ, বিলাসিতা ও দান-সদকার জন্য এভাবে টাকা নিতে পারবেন না।

হাদীস শরীফে এসেছে, এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বলল, আমার পিতা আমার সম্পদ নিয়ে নিতে চান। রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি এবং তোমার সম্পদ তো তোমার পিতার জন্য। তোমাদের সর্বোত্তম আহার হল নিজেদের উপার্জন থেকে। আর সন্তানদের সম্পদ তোমাদের উপার্জনের অংশ। তোমরা তা স্বাচ্ছন্দে আহার কর। Ñমুসনাদে আহমদ, হাদীস ৬৬৭৮

উল্লেখ্য যে, পিতামাতার সাথে সদাচরণ করা এবং তাদেরকে কোনো প্রকার কষ্ট না দেওয়ার প্রতি কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফে জোর তাগিদ করা হয়েছে। আর তাদের দেখাশোনা করা, ভরণ-পোষণ দেওয়া সদাচরণেরই অন্তর্ভুক্ত। পিতামাতা যখন বৃদ্ধ বয়সে উপণীত হন তখন তাদের খেদমত করা, তাদের দেখাশোনা করা তো একান্ত অপরিহার্য। বিশেষত এ বয়সে তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা অত্যন্ত ঘৃণিত ও চরম অন্যায়। কুরআন মাজীদে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তোমরা তাঁর ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। যদি তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তবে তুমি তাদের উফ বলবে না এবং তাদের ধমক দিবে না। বরং তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। আর করুণাভরে তাদের সামনে বিনয়ের ডানা ঝুঁকিয়ে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন। যেমন তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন। Ñসূরা বানী ইসরাইল (১৭) : ২৩-২৪

মাতাপিতার সাথে সদাচরণ করা জান্নাত লাভের উপায় বলা হয়েছে। তাদের খেদমত করে যে ব্যক্তি জান্নাত লাভ করতে পারে না তার জন্য বদ দুআ করা হয়েছে। আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। তার নাক ধুলোয় ধূসরিত হোক। জিজ্ঞাসা করা হল, কোন সে ব্যক্তি? হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন, ঐ ব্যক্তি যে বৃদ্ধ বয়সে তার পিতামাতা একজনকে বা উভয়কে পেল, তারপরও জান্নাত লাভ করতে পারল না। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৫১

অন্য হাদীসে এসেছে, পিতার সন্তুষ্টির মাঝে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আর পিতার অসন্তুষ্টির মাঝে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।

Ñজামে তিরমিযী, হাদীস ১৮৯৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৩৩৯; বাযলুল মাজহূদ ১৫/২১০; মাবসূত, সারাখসী ৫/২২২; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৬২২; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/১৯৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

দুই বছর আগে এক ব্যক্তিকে আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ...

প্রশ্ন

দুই বছর আগে এক ব্যক্তিকে আমি পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলাম। এর মধ্যে সে ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। বাকি টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। পূর্বে তার কাছে বাকি টাকা পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাই আমি তাকে বাকি টাকা মনে মনে মাফ করে দিয়েছিলাম। তাকে কোনো কিছু বলিনি। এখন তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা আছে।

প্রশ্ন হল, আমি যেহেতু তাকে মনে মনে মাফ করে দিয়েছি এখন আমার জন্য তার থেকে বাকি টাকা চাওয়া এবং নেওয়া জায়েয হবে কি?

উত্তর

শুধু মনে মনে ঋণ মাফ করে দিলে তা মাফ হয়ে যায় না; বরং ঋণগ্রহিতাকে মাফের কথা জানালে এবং সে গ্রহণ করলে তখন মাফ হবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণগ্রহিতা থেকে বাকি টাকা চাওয়া এবং নেওয়া জায়েয হবে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৮৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৮২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি এক বন্ধু থেকে পনের দিনের জন্য একটি বই নিজে...

প্রশ্ন

আমি এক বন্ধু থেকে পনের দিনের জন্য একটি বই নিজে পড়ার জন্য নিয়েছিলাম। বইটি আমার জন্য খুবই দরকারি ছিল। ঐ বই আমি এক সপ্তাহের মধ্যে পড়ে শেষ করে ফেলি। আমার অপর এক বন্ধু ঐ বইটি আমার কাছে পড়ার জন্য চায়। এখনো যেহেতু তা ফেরত দিতে সপ্তাহ বাকি আছে তাই আমি তাকে ৪/৫ দিনের জন্য পড়তে দেই। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার রুমে আগুন লেগে বইটি পুড়ে যায়।

প্রশ্ন হল, এখন আমাকে কি ঐ বইয়ের জরিমানা দিতে হবে?

উত্তর

হ্যাঁ, আপনাকে ঐ বইয়ের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কেননা আপনার বন্ধুর স্পষ্ট অনুমতি ছাড়া অন্যকে পড়তে দেওয়া ঠিক হয়নি। এটি আমানতপরিপন্থী হয়েছে। আর এরপর যেহেতু তা নষ্ট হয়েছে তাই আপনাকে এর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯০; শরহুল মাজাল্লা ৩/৩২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি একজন ছাত্র। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের মাঝে সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের...

প্রশ্ন

আমি একজন ছাত্র। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের মাঝে সাপ্তাহিক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সকল অনুষ্ঠানে যারা বিজয়ী হয় তাদেরকে পুরস্কারও দেওয়া হয়। এজন্য বছরের শুরুতেই সকল সদস্য থেকে চাঁদা নেওয়া হয়।

আমার প্রশ্ন হল, বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য সকল সদস্য থেকে এভাবে টাকা নেওয়া কি জায়েয হবে?

উত্তর

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের থেকে টাকা নিয়ে বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়া জায়েয নয়। এটা এক প্রকারের কিমার তথা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বক্তৃতা অনুষ্ঠানের বিজয়ীদেরকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের থেকে চাঁদা উঠানো জায়েয হবে না; বরং এক্ষেত্রে পুরস্কারের জন্য ভিন্ন ফান্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে প্রতিযোগীদের কেউ যদি স্বেচ্ছায় স্বতঃস্ফ‚র্তভাবে ঐ ফান্ডে অনুদান দিতে আগ্রহী হয় তবে তার থেকে নেওয়া যাবে। আর অনুষ্ঠানটি যেহেতু সকলের জন্য প্রশিক্ষণমূলক তাই এর ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অন্যান্য খরচাদি সংশিশ্লষ্ট সকলের থেকে নেওয়া জায়েয হবে।

-ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/২১৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০২; বুহুছ ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআছিরা ২/১৫৬, ২/১৫৮; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আলকুয়াইতিয়্যাহ ১৫/৮০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

২০০৬ সালে আমি দেশের বাইরে কর্মরত ছিলাম। বাবা ফোনে জানালেন,...

প্রশ্ন

২০০৬ সালে আমি দেশের বাইরে কর্মরত ছিলাম। বাবা ফোনে জানালেন, টঙ্গীতে ৬ কাঠার ভালো একটি জমি বিক্রি হবে তুই রাখবি নাকি? আমি লাগাতার তিন মাস টাকা পাঠালাম জমিটা আমার নামে কেনার জন্য। বাবা আমাকে জানালেন, তোর জন্য ঐ জমিটা কিনেছি।

গত বছর ২০১৩ সালে আমি দেশে এসে যখন বাবার কাছে ঐ জমির দলিলপত্র চাই তখন বাবা বলেন, ঐ জমি তো আমার নামে দলিল করে নিয়েছি। তো সেটা আমারই থাক। তোকে তোর টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছি- এই বলে আমি তখন যত টাকা দিয়েছিলাম বাবা ততটাকা আমাকে ফিরিয়ে দিতে চাইলেন। অথচ ঐ জমির দাম এই সাত বছরে তিন গুণের মতো বেড়েছে।

এখন আমার প্রশ্ন হল, উক্ত জমি বাবা নিজের নামে দলিল করে নেওয়ার কারণে সেটা কি বাবার হয়ে যাবে? যদি তাই হয় তাহলে আমি এখন ৭ বছর পূর্বে জমির যে মূল্য ছিল সেটাই পাব, নাকি জমির বর্তমান মূল্য? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ জমির প্রকৃত মালিক আপনিই। আপনার বাবা আপনার পক্ষ থেকে ক্রয়ের প্রতিনিধিমাত্র। তাই জমিটি তার নামে দলিল করা অন্যায় হয়েছে। নিজের নামে দলিল করলেও তিনি এ জমির মালিক নন। সুতরাং এখন আপনার বাবার কর্তব্য হল, নিজ খরচে ঐ জমি আপনার নামে দলিল করে দেওয়া।

অবশ্য আপনি চাইলে ঐ জমি আপনার বাবার নিকট বিক্রিও করে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে জমির বর্তমান মূল্য দাবি করাও আপনার জন্য জায়েয। কিন্তু জোরপূর্বক জমির ক্রয়মূল্য ফিরিয়ে দেওয়া তার জন্য জায়েয হবে না।

-মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়াহ, মাদ্দাহ : ১৪৮৫; শরহুল মাজাল্লাহ ৪/৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৫১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মহল্লায় শীতের মৌসুমে ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এ বছর মহল্লার...

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লায় শীতের মৌসুমে ব্যাডমিন্টন খেলা হয়। এ বছর মহল্লার কিছু যুবক ছেলে টুর্নামেন্ট ছেড়েছে। মোট ২৪টি দলে ৪৮ জন খেলোয়াড় থাকবে। সবার থেকে ৫০০/- টাকা করে চাঁদা করা হয়েছে। ২০০/- টাকা খেলার খরচ বাবদ, আর বাকি টাকা দিয়ে বিজয়ী দুই দলকে পুরস্কার দেওয়া হবে।

হুযুরের কাছে জানতে চাই, এভাবে খেলাধুলা শরীয়তে বৈধ কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সকল প্রতিযোগী থেকে চাঁদা নিয়ে তা থেকে বিজয়ী দলকে পুরস্কার দেওয়া নাজায়েয। এটি জুয়ার অন্তর্ভুক্ত। তাই এভাবে টুর্ণামেন্ট আয়োজন করা বৈধ হবে না। এছাড়া ইসলামে শরীর চর্চা ও খেলাধূলার যে সীমারেখা রয়েছে তা বর্তমানের এসব টুর্ণামেন্টে ঠিক থাকে না। যেমন, টুর্ণামেন্টে অংশগ্রহণকারী দল ও দর্শকবৃন্দ নামায থেকে উদাসীন থাকে। টুর্ণামেন্টকে কেন্দ্র করে মূল্যবান সময় ও বিপুল অর্থের অপচয় হয়। এছাড়া আরো বিভিন্ন গর্হিত কাজ এতে হয়ে থাকে। তাই এ জাতীয় টুর্ণামেন্ট আয়োজন করা শরীয়তসম্মত নয়। অবশ্য খেলাধূলা ও শরীর চর্চার বৈধ সীমারেখার ভেতরে থেকে এবং উপরোক্ত ত্রুটিসমূহ থেকে বিরত থেকে শরীর চর্চার নিয়তে ব্যাডমিন্টন খেলা জায়েয।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৬৩৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৪; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৪/৪৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

সুদের টাকা দিয়ে মাদরাসা বা মসজিদের টয়লেট নির্মাণ বা পুননির্মাণ...

প্রশ্ন

সুদের টাকা দিয়ে মাদরাসা বা মসজিদের টয়লেট নির্মাণ বা পুননির্মাণ করা জায়েয হবে কি?

উত্তর

সুদের টাকা মূল মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। যদি মালিক জানা না থাকে বা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ঐ টাকা সদকা করা ওয়াজিব। সেক্ষেত্রে ঐ টাকা কোনো গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে। এ টাকা মসজিদ-মাদরাসার টয়লেটের কাজেও না লাগানো উচিত।

-শরহুল মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/১৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের ত্রিশজনের একটা সংগঠন আছে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যকে...

প্রশ্ন

আমাদের ত্রিশজনের একটা সংগঠন আছে। সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক সদস্যকে মাসে একশত টাকা করে জমা করতে হয়। কেউ লাগাতার তিন মাস টাকা আদায় না করলে তাকে বিশ টাকা আর পাঁচ মাস আদায় না করলে পঞ্চাশ টাকা জরিমানা দিতে হয়। আর এ টাকাগুলো সংগঠনের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করা হয়। সংগঠনের এ পদ্ধতি কি শরীয়তসম্মত? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

না, সংগঠনের উক্ত জরিমানা পদ্ধতি শরীয়তসম্মত নয়। নির্ধারিত সময়ে টাকা আদায় না করার কারণে জরিমানা আরোপ করা জায়েয নেই।

সুতরাং যাদের থেকে জরিমানা নেওয়া হয়েছে তাদেরকে তা ফেরত দিতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে এমন নিয়ম করা যেতে পারে যে, কিস্তি আদায়ে বিলম্ব করলে বিলম্বিত সময়ের মুনাফা সে পাবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৬৭; রদ্দুল মুহতার ৪/৬১-৬২, ৬/৩৮৫; শরহুল মাজাল্লাহ ১/২৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

ভাইবোনসহ আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচজন। সকলের সদাকাতুল ফিতর...

প্রশ্ন

ভাইবোনসহ আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা মোট পাঁচজন। সকলের সদাকাতুল ফিতর আমাদের পিতা নিজেই আদায় করে থাকেন। তিনি ফিতরার টাকাগুলো প্রত্যেক ফকীরকে ১৫/২০ টাকা হারে ভাগ করে দেন। হুজুরের নিকট আমার প্রশ্ন হল, এভাবে এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়া যাবে কি? নাকি এক সদাকাতুল ফিতরের পুরোটা এক ফকীরকে দেওয়া জরুরি?

উত্তর

একটি ফিতরা একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। তাই একেকজনকে ১৫/২০ টাকা করে দিলেও আদায় হয়ে যাবে। তবে একটি ফিতরা একজনকে দেওয়া উত্তম।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এখন ঢাকা শহরে নতুন গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এর...

প্রশ্ন

এখন ঢাকা শহরে নতুন গ্যাস সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। এর ফলে অনেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ স্থাপনের দিকে ঝুঁকছে। আমার একটি নতুন বাড়িতেও বহুদিন ধরে সংযোগ পাচ্ছি না। এ অবস্থায় আমি কি কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে সংযোগ নিতে পারব? এভাবে সংযোগ নিলে তা ব্যবহার করা কি জায়েয হবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

যথাযথ কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমোদন ছাড়া গ্যাস সংযোগ নেওয়া জায়েয হবে না। কেননা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া গ্যাস ব্যবহার করা চুরির শামিল। তাছাড়া এতে ঘুষ, মিথ্যা, ধোঁকা ইত্যাদির গুনাহ তো আছেই। তাই অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে বিরত থাকতে হবে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়।...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একটি লন্ড্রি দোকান আছে। সেখানে খুব ভিড় হয়। কেউ কেউ দোকানের শোকেস থেকে ইস্ত্রিকৃত জামা নিজ হাতে বের করে নিয়ে আসে। দোকানদার খেয়াল করে না, কে সে কার জামা নিচ্ছে। কেউ চাইলে অন্যের জামা নিয়ে নিতে পারবে। এই রমযানের পরে আমার দুই সেট জামা সেখান থেকে চুরি হয়ে যায়। এর মধ্যে একটি সেট একদমই নতুন ছিল। দুই সপ্তাহ পর পুরাতন সেটটা পাওয়া গেছে। কিন্তু নতুন সেটটি আর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হল, আমি কি দোকানদার থেকে এর জরিমানা নিতে পারব?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দোকানদার থেকে হারানো জামার জরিমানা নেওয়া জায়েয। কেননা তার অবহেলার কারণেই তা হারিয়েছে। যে কাউকে দোকানের ভিতর ঢুকে জামা বের করতে দেওয়াটাই এক প্রকার অসতর্কতা। আর অসতর্কতাবশত দোকানদার থেকে কিছু হারিয়ে গেলে তার জরিমানা নেওয়া বৈধ।

-মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া ১১৪, মাদ্দাহ : ৬১১; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/৭২০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/২৮২, ২৮৩; আদ্দররুল মুখতার ৬/৬৬, ৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে...

প্রশ্ন

আমাদের মহল্লার মসজিদের সীমানায় কিছু আম গাছ আছে। আমের মৌসুমে অনেক আম হয়। মসজিদের কিছু মুসলিস্ন মাঝেমধ্যেই আম পেড়ে নিয়ে যায়। প্রশ্ন হল, এই গাছগুলো থেকে আম পেড়ে নেওয়া কি বৈধ?

উত্তর

মসজিদের গাছের ফলমূল মসজিদেরই সম্পদ। বিনামূল্যে তা পেড়ে নেওয়া কারো জন্য বৈধ নয়। কর্তৃপক্ষের কর্তব্য হল, গাছের ফলগুলো বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা করা এবং মসজিদের প্রয়োজনে তা ব্যয় করা। তাই মুসলিস্নদের কেউ নিতে চাইলে ন্যায্য মূল্য দিয়ে নিতে পারবে। বিগত দিনে যারা বিনামূল্যে আম নিয়েছে তাদের কর্তব্য হল এর ন্যায্য মূল্য মসজিদের ফান্ডে আদায় করে দেওয়া।

-কিতাবুল ইসআফ ২২; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৪৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি...

প্রশ্ন

আমি একদিন স্বাভাবিক গতিতে মটর সাইকেল চালাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি মুরগি এসে আমার মটর সাইকেলের সামনে পড়ে যায়। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করা সত্ত্বেও মটর সাইকেল থামাতে সক্ষম হইনি। ফলে মুরগিটি চাকার নিচে চাপা পড়ে মারা যায়। কিছুক্ষণ পর মুরগির মালিক এসে আমার নিকট মুরগির জরিমানা তলব করে। আমি জরিমানা দিতে অস্বীকার করি। কারণ, আমার কোনো ত্রুটি ছিল না। আরো লোক জড়ো হল। তারা আমাকে জরিমানা দিতে বাধ্য করে। ফলে আমি বাধ্য হয়ে জরিমানা দেই। প্রশ্ন হল, আমার উপর কি আসলে জরিমানা ওয়াজিব হয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা যদি সঠিক হয় অর্থাৎ আপনি যদি নিয়ম অনুযায়ী স্বাভাবিক গতিতেই মটর সাইকেল চালিয়ে থাকেন আর হঠাৎ করে মুরগিটি এর নিচে পড়ে যায়। আর আপনি চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারেননি তাহলে এক্ষেত্রে আপনার উপর ঐ মুরগির জরিমানা দেওয়া জরুরি নয়। তাই এক্ষেত্রে তাদের জন্য জরিমানা আদায় করা বৈধ হয়নি। কিন্তু আপনার অনিয়ম বা অসতর্কতার কারণে যদি মুরগিটি মারা যায় তাহলে জরিমানা আদায় করা জায়েয হয়েছে।

-মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, খ- : ২, সংখ্যা : ৮/১৯৮-১৯৯; বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যাহ মুআসিরা ১/২৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন মহর কত? আর মহরে ফাতেমী...

প্রশ্ন

বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য সর্বনিম্ন মহর কত? আর মহরে ফাতেমী কত? এক দিরহামের পরিমাণসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

বিবাহের সর্বনিম্ন মহর দশ দিরহাম। অর্থাৎ দুই তোলা সাড়ে সাত মাশা বা ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা। আর মহরে ফাতেমী হল ৫০০ দিরহাম। অর্থাৎ ১৩১.২৫ তোলা বা ১.৫৩০৯ কিলোগ্রাম রূপা। এক দিরহামের ওজন হল ৩.০৬১৮ গ্রাম। বর্তমানে প্রতি তোলা রূপার মূল্য ১২০০/- টাকা হলে ১০ দিরহামের মূল্য দাঁড়ায় ৩,১৫০/- টাকা। আর মহরে ফাতেমীর মূল্য হয় ১,৫৭,৫০০/- টাকা।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৪/৩৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার মামা এক ব্যক্তির নিকট পাঁচ হাজার টাকা আমানত রাখেন।...

প্রশ্ন

আমার মামা এক ব্যক্তির নিকট পাঁচ হাজার টাকা আমানত রাখেন। সে তা যথাযথভাবে হেফাযত করে। কিন্তু কয়েকদিন পর তা চুরি হয়ে যায়। চোর আলমারির লক ভেঙ্গে টাকাগুলো নিয়ে গেছে। এরপর লোকটি মামাকে বিষয়টি জানিয়ে বলে, যেহেতু টাকাগুলো আমার কাছ থেকে চুরি হয়েছে তাই আমি তোমাকে প্রত্যেক মাসে অল্প অল্প করে তা পরিশোধ করে দিব। এরপর লোকটি তিন মাসে ২৫০০/- টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু এখন সে আর টাকা দিচ্ছে না। প্রশ্ন হল, তার জন্য কি বাকি টাকা পরিশোধ করা জরুরি? আমানতদাতা কি তার নিকট বাকি টাকা দাবি করতে পারবে?

উত্তর

আমানতের অর্থ যথাযথ সংরক্ষণের পর তা চুরি হয়ে গেলে আমানতগ্রহীতাকে এর জরিমানা দিতে হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির জন্য আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া জরুরি ছিল না এবং আপনার মামার জন্যও চাপ প্রয়োগ করে তার থেকে ঐ টাকা নেওয়া জায়েয হবে না। আর লোকটি যে ২৫০০/- টাকা পরিশোধ করেছে। দেখতে হবে সে ঐ টাকা কী বুঝে দিয়েছে? যদি মনে করে যে, ঐ টাকা আদায় করা শরীয়তের দৃষ্টিতে তার জন্য আবশ্যকীয় ছিল তবে সেক্ষেত্রে তাকে ঐ টাকা ফেরত দিতে হবে। আর যদি সঠিক মাসআলা জানার পরও সে সতঃস্ফূর্তভাবেই টাকাগুলো দিয়ে থাকে তবে তা খরচ করা আপনার মামার জন্য জায়েয হবে। আর অবশিষ্ট টাকা সে দিতে না চাইলে তার থেকে চাওয়া বা চাপ দিয়ে নেওয়া জায়েয হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩১৪; বেনায়া ১২/৪৩৪-৫; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমাদের এলাকায় একজন দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় একজন দানশীল লোক আছেন। তিনি কখনো কারো থেকে ঋণ নিলে তা আদায়ের সময় ঋণের পরিমাণের চেয়ে একটু বেশি আদায় করে থাকেন। জানার বিষয় হল, ঋণের চেয়ে বেশি আদায় করা জায়েয আছে কি না?

উত্তর

ঋণ বা করযে হাসানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছু বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই লোক, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ২৩৯০

তবে এটি ঐ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যখন ঋণের চেয়ে বেশি দেওয়া-নেওয়ার কোনো শর্ত অথবা প্রচলন না থাকে। যদি এ দুটির কোনো একটি উপস্থিত থাকে তাহলে অতিরিক্ত গ্রহণ করা জায়েয হবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২২৬৫৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২; আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার ৩ মেয়ে ১ ছেলে। আমি ২০১২ সালের জানুয়ারি মাস...

প্রশ্ন

আমার ৩ মেয়ে ১ ছেলে। আমি ২০১২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে প্রত্যেক মেয়েকে পঞ্চাশ হাজার এবং ছেলেকে ১ লক্ষ টাকা করে দিচ্ছি। এখন জানার বিষয় হল, আমার জীবদ্দশায় এভাবে ছেলেকে মেয়েদের দ্বিগুণ টাকা দেওয়া শরীয়তসম্মত হচ্ছে কি? যদি ছেলেকে মেয়ের সমান সমান দিতে হয় সেক্ষেত্রে ছেলের বউকেও সমপরিমাণ টাকা দিতে পারব কি?

উত্তর

আপনি ছেলে মেয়েদের যে টাকা দিয়ে আসছেন তা কি তাদের প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের জন্য দিচ্ছেন নাকি উপঢৌকন ও হাদিয়াস্বরূপ দিচ্ছেন এ বিষয়টি প্রশ্নে উল্লেখ করেননি।

যদি উক্ত টাকা তাদের প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের জন্য দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের প্রয়োজন অনুপাতে কমবেশি করে প্রদান করতে কোনো অসুবিধা নেই। এ অবস্থায় তাদের প্রয়োজনই মুখ্য থাকবে। তাই এক্ষেত্রে সমতা রক্ষার প্রশ্ন আসবে না। কিন্তু যদি তাদেরকে উপহার বা হাদিয়া হিসেবে দিয়ে থাকেন তাহলে জীবদ্দশায় সন্তানদের হাদিয়া দেওয়ার নীতিমালা অনুযায়ী ছেলে-মেয়েকে সমান সমান দেওয়া উচিত। এক্ষেত্রে মীরাসের নীতি অর্থাৎ ছেলেকে মেয়ের দ্বিগুণ দেওয়ার নীতি প্রযোজ্য হবে না।

অবশ্য সন্তানদের কারো দ্বীনদারী, উন্নত আখলাক বা বাসত্মব প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ্য করে কিংবা মা-বাবার খেদমত ইত্যাদির কারণে কিছু বেশি দিতে চাইলে সেটারও সুযোগ আছে। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়া হাদিয়ার ক্ষেত্রে তারতম্য করা ঠিক নয়। কেননা হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সন্তানদেরকে হাদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন।

নুমান ইবনে বাশীর রা. বলেন, আমার পিতা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাক্ষী রেখে আমাকে একটি জিনিস হাদিয়া দিবেন। তখন তিনি আমার পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, সে ছাড়া তোমার কি আর কোনো সন্তান আছে? তিনি বললেন, জ্বী, আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাদের মাঝে সমতা রক্ষা কর। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৫৯)

সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সন্তানদের হাদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা কর। (সহীহ বুখারী ১/৩৫২)

সুতরাং হাদিয়া বা উপহার দিতে চাইলে আপনার ছেলে-মেয়েদের মাঝেও সমতা রক্ষা করে দেওয়াই সমীচীন হবে। অবশ্য ছেলেকে বেশি দেওয়ার পিছনে যদি যথাযথ কারণ থাকে সেক্ষেত্রে তাকে মেয়েদের থেকে বেশি দিতে পারবেন।

আর পুত্রবধূকে দেওয়ার দ্বারা যদি ছেলেকেই বেশি দেওয়া উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তাহলে তাও যথাযথ কারণ ছাড়া করা উচিত হবে না।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪০৫৬; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৭১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৩৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

বর্তমানে বিয়েশাদিতে আলোকসজ্জা ও গেইট করা হয়। এ সম্পর্কে কারো...

প্রশ্ন

বর্তমানে বিয়েশাদিতে আলোকসজ্জা ও গেইট করা হয়। এ সম্পর্কে কারো কারো বক্তব্য হল, আলোকসজ্জা যদি বিয়ের এলানের নিয়তে হয় আর বরপক্ষ থেকে গেইটের জন্য কোনো টাকা না নেওয়া হয় তবে তা জায়েয, অন্যথায় নাজায়েয।

অতএব এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

বিয়ের এলান ও প্রচারণার উদ্দেশ্যেও আলোকসজ্জা করা ও গেইট লাগানো ঠিক নয়। এটি অপচয় ও সম্পূর্ণ রেওয়াজসর্বস্ব কাজ। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে আলোকসজ্জা শুধু বিদ্যুতের অপচয়ই নয়; বরং অন্যের হক নষ্ট করারও শামিল। তাই এসব থেকে মুসলমানদের বেঁচে থাকা কর্তব্য।

আর গেইটের জন্য বরপক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টি করে টাকা নেওয়া আরো গর্হিত কাজ। সুতরাং এসব কুরূসুম থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

ভাইবোন মিলে আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। সকলের সদকাতুল ফিতর...

প্রশ্ন

ভাইবোন মিলে আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন। সকলের সদকাতুল ফিতর আমাদের পিতা আদায় করে দেন। তিনি প্রত্যেক ফকীরকে ১৫/২০ টাকা করে দিয়ে থাকেন। হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, এভাবে আদায় করলে কি ফিতরা আদায় হবে? নাকি একজন ফকীরকে এক সদকাতুল ফিতর পুরোটা দিতে হবে?

উত্তর

একটি সদকা ফিতর একাধিক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। তাই ১৫/২০ টাকা করে ফিতরা দেওয়া সহীহ। তবে একটি ফিতরা একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়ার চেয়ে একজনকে দেওয়াই উত্তম।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমার বড় ভাই বিদেশে থাকেন। দেশে আমাদের আত্মীয়স্বজন আছে। তিনি...

প্রশ্ন

আমার বড় ভাই বিদেশে থাকেন। দেশে আমাদের আত্মীয়স্বজন আছে। তিনি চাচ্ছেন তার সদকায়ে ফিতর এ দেশে আদায় করতে। প্রশ্ন হল, এখানে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করলে কত টাকা দিতে হবে? আমাদের সদকা ফিতর আমরা যত টাকা আদায় করি ততটাকাই দিবে নাকি তিনি যে দেশে আছেন সে দেশের ফিতরা হিসাবে বাংলাদেশী যত টাকা আসে ততটাকা দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ভাইয়ের সদকায়ে ফিতর বাংলাদেশে আদায় করলেও তিনি যে দেশে থাকেন সে দেশের সদকায়ে ফিতর হিসাবেই আদায় করতে হবে। যেমন তিনি যদি সৌদি আরবে থাকেন আর সেখানকার হিসাবে ফিৎরার মূল্য হয় বিশ রিয়াল, তবে এখানে আদায় করলে বিশ রিয়াল বা তার মূল্য প্রায় চারশত টাকা আদায় করতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/২১৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; গমযু উয়ূনিল বাছাইর ২/৭৬; ইমদাদুল আহকাম ২/৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

এ. কে. ট্রাভেলস কোম্পানির বাসের টিকেট ক্রয়ের পর কোনো কারণে...

প্রশ্ন

এ. কে. ট্রাভেলস কোম্পানির বাসের টিকেট ক্রয়ের পর কোনো কারণে যাত্রার কমপক্ষে ৬ ঘণ্টা আগে টিকেট ফেরত দিলে কর্তৃপক্ষ তা ফেরত নেয়। তবে শতকরা ১০/- টাকা করে কেটে রাখে। জানতে চাই, এভাবে টাকা কেটে রাখা বৈধ কি না?

উত্তর

বাস কর্তৃপক্ষের জন্য বিক্রিত টিকেট ফেরত না নেওয়ারও অধিকার রয়েছে। তবে ফেরত নিলে টাকা কেটে রাখা যাবে না। অবশ্য টিকেট দেওয়া- নেওয়ার জন্য যা খরচ হয়েছে সার্ভিস চার্জ হিসেবে তা কেটে রাখতে পারবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৫৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: লেন-দেন

আমরা শুনেছি, কুইজ প্রতিযোগীদের থেকে টাকা নিয়ে তা দিয়ে বিজয়ীদের...

প্রশ্ন

আমরা শুনেছি, কুইজ প্রতিযোগীদের থেকে টাকা নিয়ে তা দিয়ে বিজয়ীদের পুরস্কার দেওয়া অবৈধ। তাহলে আমাদের প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার জন্য ফী গ্রহণ করা হয় আর এই ফীর একটি অংশ দ্বারা মেধাবী ছাত্রদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এটা জায়েয কি না? জায়েয হলে উভয়ের মাঝে পার্থক্য কী? দয়া করে কুরআন-হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

পরীক্ষার জন্য ফী গ্রহণ করা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার জন্য টাকা নেওয়ার হুকুম এক নয়। কেননা পরীক্ষার ফী পরীক্ষা সংক্রান্ত খরচ এবং এর ব্যবস্থাপনার জন্য কর্তৃপক্ষ নিয়ে থাকেন। এই টাকার মালিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান অন্যান্য খরচের মতো চাইলে এ টাকা দিয়ে মেধাবী ছাত্রদেরকে পুরস্কারও দিতে পারে। কিন্তু কুইজ প্রতিযোগীদের থেকে ফরমের ন্যায্য মূল্যের অতিরিক্ত নেওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত নিলে কর্তৃপক্ষ তার মালিক হবে না। সুতরাং প্রতিযোগীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে তা দ্বারা পুরস্কার দেওয়াও বৈধ হবে না। বরং তাদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে পুরস্কার দেওয়া এক ধরনের কিমার।

-বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআসিরা ২/২৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.05 render + 0.01 s transfer.