Login | Register

ফতোয়া: রোজা-ইতিকাফ

ফতোয়া নং: ৪১২৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে এই মহল্লাবসী মিলে একজন দিনমজুরীকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতেকাফ করবে। বিনিময়ে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমান মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতেকাফে বসানোর দ্বারা ইতেকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?
উত্তর
বিনিময় নিয়ে ইতেকাফ করা বা করানো সম্পুর্ন নাজায়েয। কারন ইতেকাফ একটি
ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতেকাফের দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না।
-জামে তিরমিযী ১/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসুত, সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; খানিয়া ২/৩২৫; বাযযাযিয়া ৫/৩৭.
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১২১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে...

প্রশ্ন
এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে কি তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
ইতিকাফকারী জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে না। জানাযার জন্য বাইরে বের হলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৭৩; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী, হাদীস ৮৫৯৪; কিতাবুল আসল ২/১৮৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৪৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১২০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি...

প্রশ্ন
রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোজা রাখা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে রোজা নষ্ট হবে না। চাই রমজানের রোজা হোক বা অন্য রোজা হোক। তবে যদি হস্তমৈথনের কারণে বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই রোজা পুনরায় কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। তবে সর্বাবস্থায় এধরনে গর্হিত কাজ থেকে সকলের জন্য বিরত থাকা অপরিহার্য৷
(কিতাবুল আসল ২/২০৩) (হেদায়া ১/২১৭) (ফথুল কাদির ২/৩৩৭) (বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬)

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪১১৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।...

প্রশ্ন
আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।
কিন্তু সমস্যা হল মসজিদের
কোনো ইস্তেঞ্জাখানা নেই। এ
অবস্থায় বাসায় এসে জরুরত
সারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।
তাই বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে
মসজিদে এসে অযু
করি এবং এভাবে দশ দিন
অতিবাহিত করি। জানতে চাই,
এভাবে আমার ইতিকাফ কি আদায়
হয়েছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়েছে। কেননা ইস্তেঞ্জার
জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয। আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে এজন্য বাসা-
বাড়িতে যাওয়াও জায়েয। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।
-সহীহ বুখারী ১/২৭২; সহীহ মুসলিম ১/১৪২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭৩৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে। এখন সে বৃদ্ধ। লাগাতার দুই মাস রোযা রেখে কাফফারা
আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সে
কি টাকা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে পারবে? সে ক্ষেত্রে কি লাগাতার ৬০ দিন টাকা দিতে হবে? যদি সপ্তাহে দুজন-তিনজন করে দেয় তাহলে কী হবে?
সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির যদি পরবর্তীতেও লাগাতার দু
মাস রোযা রাখার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার আশা না থাকে তাহলে সে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে পারবে। এজন্য ৬০ জন
দরিদ্রকে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে।
অথবা ৬০জনের প্রত্যেককে দু বেলা আহারের মূল্য
দিয়ে দিবে। (বর্তমানে জনপ্রতি দু বেলা
খাবারের মূল্য হিসেবে ১০০/- টাকা করে দেওয়া
যেতে পারে।)
এক্ষেত্রে ৬০ জনের টাকা বা ৬০ জনের খাবার ৬০
জনকে যেমন দেওয়া যায় তদ্রূপ ৬০ জনেরটা একজন
দুজনকে দেওয়াও বৈধ। তবে শর্ত হল, একদিনে
একজনকে একদিনের টাকাই দেওয়া যাবে। দুই তিন
দিনের টাকা বা খাবার একসাথে দেওয়া যাবে
না। দিলেও সেটা একদিনের জন্যই বিবেচিত হবে।
আর পুরো কাফফারার টাকা একজন দুইজনকে একদিন একদিন করে দেওয়া হোক অথবা ৬০ জনকেই তা দেওয়া হোক সেটা একসাথে বা লাগাতার
হওয়া জরুরি নয়। সুতরাং সপ্তাহে দুজন তিনজন করে
দিয়ে ৬০ জন পূর্ণ করলেও তা সহীহ হবে। -কিতাবুল আছল ২/১৬০-১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬, ৪/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭৮-৪৮০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩৭১৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একজন হাফেযে কুরআন। তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের...

প্রশ্ন
আমি একজন হাফেযে কুরআন। তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের কেরাত স্মরণ করার জন্য সিজদায় গিয়ে কিছু কুরআন পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়?
উত্তর
রুকু-সিজদায় কুরআন পড়া নিষেধ। সহীহ মুসলিমে আছে, হযরত আলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু বা সিজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। - সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০ তাই ফকীহগণ বলেছেন, রুকু- সিজদায় ইচ্ছাকৃত কুরআন পড়লে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আর যদি ভুলে পড়া হয় এবং তা এক আয়াত বা
তার বেশি হয় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০; শরহুল মুনইয়াহ ৩৫৭, ৪৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫০; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৪, হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি পেটে চলে যায়। প্রশ্ন হল, এতে
আমার
রোযার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? এবং কাযা বা কাফফারা কি আদায় করতে
হবে?
জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পানি পেটে চলে যাওয়ায় ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে। তাই আপনাকে ঐ
রোযার
কাযা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীর নামাজের হুকুম কী? তারাবীর নামাজ কত রাকাত। কোন কোন...

প্রশ্ন
তারাবীর নামাজের হুকুম কী? তারাবীর নামাজ কত রাকাত। কোন কোন হাদিসে নাকি আট রাকাতের কথা এসেছে। সময়ের স্বল্পতা বা ব্যস্ততার কারণে কখনো আট রাকাত পড়তে কি কোন সমস্যা আছে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
বিশ রাকাত তারাবীর নামাজ সুন্নত। তারাবীর রাকাত সংখ্যা বিশ (২০) হওয়ার উপর হক্বপন্থী সকল আলেমদের ইজমা (ঐক্য) কায়েম হয়েছে। যে সব হাদিসে ৮ রাকাত নামাজের কথা এসেছে তা তারাবিহ নয় বরং নফল নামাজের ক্ষেত্রে বর্ণিত। তাই সময়ের স্বল্পতা, ব্যস্ততা বা যে কোন কারণেই হোক বিশ (২০) রাকাতের চেয়ে কম পড়লে তার দ্বারা সাধারণ নফল নামাজের সওয়াব পাওয়া গেলেও তারাবিহ আদায় হবে না। উল্লেখ্য, ফরজ নামাজ ও তারাবি ছাড়া অন্য কোন নফল নামাজ এভাবে নিয়ম করে জামাতের সহিত আদায় করা বিদআ'ত সূত্রঃ- আবু দাউদ- ১/৪৫৪, হেদায়া- ১/৭০, শরহে নুকায়াহ- ১/১৪১, মারাকিল ফালাহ- ৮১, আল-আশবাহ- ৪৭, ফতওয়ায়ে রহিমিয়্যাহ ৮/১৮৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময়...

প্রশ্ন
আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে
থাকি।
খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কারণে আমার রোযা সহীহ হবে কি না? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে, তা সহীহ হয়নি। তাই আপনাকে রোযাটির কাযা আদায় করে নিতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। উল্লেখ্য যে, রমযানের কোন রোযা নষ্ট হয়ে গেলেও নিয়ম হল, ঐ দিন ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের ন্যায় কাটাবে। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি এখনো রাত্র বাকি আছে ভেবে সাহরী খেতে থাকে, অতপর স্পষ্ট হয় যে, তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, সে যেন তার রোযাটিকে পূর্ণ করে (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯-১৫০, হাদীস : ৯১৩২) এবং হযরত সায়ীদ ইবনে যুবাইর রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার পর খানা খেয়ে ফেলে তখন সে যেন ঐ দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং অন্য একদিন একটি রোযা কাযা করে নেয়। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৪; সুনানে বায়হাকী ৪/২১৬; কিতাবুল আসল ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৫৭;

প্রসঙ্গঃ তারাবীর রাকাত সংখ্যা!
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৪২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা...

প্রশ্ন
আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আমার প্রচুর পরিমাণে বমি হয়। তারপর একজন (মাওলানা) সাহেবকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মুখ ভরে বমি হওয়ার কারণে আপনার রোযা ভেঙ্গে গেছে। মাওলানা সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
ঐ কথা ঠিক নয়। অনিচ্ছাকৃত মুখভরে বমি হলেও রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে কাযা করতে হয় না। আর ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -মুসনাদে আহমদ ২/৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩৭৩; কিতাবুল আছল ২/৩১০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪১; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক
২/২৭৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি...

প্রশ্ন
রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোজা রাখা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে রোজা নষ্ট হবে না। চাই রমজানের রোজা হোক বা অন্য রোজা হোক। তবে যদি হস্তমৈথনের কারণে বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই রোজা
পুনরায় কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না।
(কিতাবুল আসল ২/২০৩) (হেদায়া ১/২১৭) (ফথুল কাদির ২/৩৩৭) (বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬)
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবীর কয়েক রাকাত পায়নি। এখন সে...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবীর কয়েক রাকাত পায়নি। এখন সে কি আগে ইমামের সাথে বিতির পড়ে নিবে, এরপর তারাবীর বাকি রাকাত আদায় করবে, না সে আগে তারাবীর ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করে নিবে এবং এরপর একাকী বিতির পড়ে নিবে? এক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নিয়ম?
উত্তর
বিতিরের জামাতের আগে তারাবীর ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করা সম্ভব হলে তা আদায় করে নিবে। কিন্তু যদি তা আদায়ের সময় না থাকে এবং বিতিরের জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে আগে জামাতের সাথে বিতির পড়ে নিবে। এরপর তারাবীর অবশিষ্ট রাকাতগুলো আদায় করবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৬২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে...

প্রশ্ন
আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে তিনি
অত্যন্তদুর্বল হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার নিয়মিত
ঔষধ খেতে বলেছেন। কোনো সময় ঔষধ না খেলে অসুস্থতা অনেক বেড়ে যায়। তাই আম্মা রমযান মাসে রোযা রাখতে পারেন না। গত
রমযান মাসে কয়েকটি রোযা রাখার পর অসুস্থতা ও
দুর্বলতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাই পরে আর রোযা রাখতে পারেননি।
জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার আম্মার জন্য
রমযান মাসে রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
হাঁ, এ অবস্থায় আপনার আম্মার জন্য রমযান মাসে
রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে। তবে পরবর্তীতে কখনো রোযা রাখার মতো সুস্থতা ফিরে পেলে এ রোযাগুলোর কাযা করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পূর্বের
ফিদয়া যথেষ্ট হবে না। কারণ ফিদয়ার হুকুম ঐ ব্যক্তির
জন্য প্রযোজ্য, যে পরবর্তীতে কাযা আদায়ে সক্ষম নয়।
-রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭;
হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী
৩৭৫-৩৭৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও...

প্রশ্ন
আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও গ্রীষ্মে টানা দু
মাস রাত ও দু মাস দিন থাকে। তাই জানার বিষয় হল,
রমযানে কীভাবে রোযা রাখব?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নিকটতম পার্শ্ববর্তী যেদেশে চবিবশ ঘণ্টা হিসাবে
স্বাভাবিক নিয়মে দিন রাত হয় সে দেশের সময়সূচি
অনুযায়ী নামায রোযা আদায় করবেন।
-রদ্দুল
মুহতার ১/৩৬৬; তুহফাতুল মুহতাজ ২/১৯; আলমাজমূ
৩/৪৩; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/১৯; মাজমুআতুল
ফাতাওয়াশ শারঈয়াহ ১৪/১০৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার নানী একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তার চোখ থেকে সবসময় পানি...

প্রশ্ন
আমার নানী একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তার চোখ থেকে সবসময় পানি ঝরে। এজন্য নিয়মিত তাকে চোখের ড্রপ বা মলম ব্যবহার করতে হয়। চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে মুখে ঔষধের তিক্ততা অনুভূত হয়। তাই জানতে চাই, রোযা অবস্থায় তিনি চোখে ড্রপ বা মলম ব্যবহার করতে পারবেন কি? এর কারণে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ বা মলম ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে গলায় ঔষধের স্বাদ অনুভূত হলেও রোযা ভাঙ্গবে না -আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা : ১০, ২/৪৫৪; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৭'
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩১
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি...

প্রশ্ন
গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি এক রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করলেন। সিজদায়ে তিলাওয়াত থেকে উঠে ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়ে আয়াতে সিজদার পর থেকে কিরাত শুরু করলেন। জানার বিষয় হল, সূরা ফাতিহা দুইবার পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
না, উক্ত কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। কারণ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানোর পর ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু কেউ যদি সূরা মিলানোর আগেই পর পর দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে তবে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০:
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০৩০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে একসাথে চার রাকাত পড়ে ফেলে। দুই রাকাতের পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং আরো দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়। এভাবে চার রাকাত পড়ার দ্বারা কত রাকাত আদায়
হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বৈঠক করার কারণে চার রাকাতই তারাবীহ হিসেবে আদায় হয়েছে। তবে তারাবীহ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে একসাথে চার রাকাত পড়া ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪০

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায...

প্রশ্ন
রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায পড়ার জন্য মসজিদে যেতে পারি না। প্রায় সময় ইমাম সাহেব তারাবীর নামায কয়েক রাকাত পড়ার পর যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি ইশা এবং তারাবীর নামায কীভাবে আদায় করব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথমে ইশার ফরয ও সুন্নত আদায়ের পর ইমাম সাহেবের সাথে তারাবীর নামাযে শরিক হবে। তারাবীর জামাত শেষে ইমাম সাহেবের সাথে বিতর
নামাযও
জামাতে পড়ে নিবেন। এরপর তারাবীর বাকি নামায আদায় করবেন। উল্লেখ্য যে, রমযান মাস অধিক গুরুত্বপূণৃ ও ফযীলতপূর্ণ মাস এই মাসে ইবাদতের ছাওয়াব অনেক বেশি। তাই এই মাসে নামায ও জামাতের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; শরহুল মুনইয়াহ ৪১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন...

প্রশ্ন
আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সময় একটি মাছি আমার মুখের ভেতর দিয়ে পেটে চলে যায়। আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার রোজা ভেঙ্গে গেছে এবং আমার কি ঐ রোজা কাযা করতে হবে?
উত্তর
না, প্রশ্নে উল্যেখিত সুরতে আপনার রোজা ভাঙ্গেনি তাই ঐ রোজা কাযা করতে হবে না। দলিলঃ- দুররুল মুখতার ৩/৪২০; খানি ১/২০৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির বমি হয়।...

প্রশ্ন
রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির বমি হয়। এর দ্বারা কি
তার
রোযা ভেঙ্গে গেছে? এখন তার কী
করণীয়?
উত্তর
না, একারণে তার রোযা ভাঙ্গেনি।
কেননা
রোযা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (যদি
তা
বেশিও হয়) রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য কেউ ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে তা কাযা করতে
হবে
না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০; কিতাবুল
আসল
২/২০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে এই মহল্লাবসী মিলে একজন দিনমজুরীকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতেকাফ করবে। বিনিময়ে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমান মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতেকাফে বসানোর দ্বারা ইতেকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?
উত্তর
বিনিময় নিয়ে ইতেকাফ করা বা করানো সম্পুর্ন নাজায়েয। কারন ইতেকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতেকাফের দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না। -জামে তিরমিযী ১/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসুত, সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; খানিয়া ২/৩২৫; বাযযাযিয়া ৫/৩৭.
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।...

প্রশ্ন
আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি। কিন্তু সমস্যা হল মসজিদের কোনো ইস্তেঞ্জাখানা নেই। এ অবস্থায় বাসায় এসে জরুরত সারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তাই বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে মসজিদে এসে অযু করি এবং এভাবে দশ দিন অতিবাহিত করি। জানতে চাই, এভাবে আমার ইতিকাফ কি আদায়
হয়েছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়েছে। কেননা ইস্তেঞ্জার জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয। আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে এজন্য বাসা- বাড়িতে যাওয়াও জায়েয। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না। -সহীহ বুখারী ১/২৭২; সহীহ মুসলিম ১/১৪২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো অঙ্গ থেকে রক্ত বের হয়...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো
অঙ্গ থেকে রক্ত বের হয় কিংবা সিরিঞ্জ দিয়ে শরীর থেকে রক্ত বের করা হয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের
হলে রোযা ভাঙ্গে না। তদ্রুপ সিরিঞ্জ দ্বারা
বের করা হলেও রোযা ভাঙ্গে না। তবে বিশেষ ওযর ছাড়া শরীর থেকে ইচ্ছাকৃত এ
পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরূহ, যার কারণে ঐ দিন রোযা পূর্ণ করার শক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৩৮, ১৯৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২১
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এবং মুখেও...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এবং মুখেও তিক্ততা অনুভব হয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
না, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙ্গবে না। এমনকি এর তিক্ততা মুখে বা গলায় অনুভব হলেও রোযা ভাঙ্গবে না (মাসআলাটি সাধারণ কিয়াসের বহির্ভুত সরাসরি আসার দ্বারা প্রমাণিত)। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; বাদায়েউস সানায়ে
২/২৪৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০২০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোযাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা যাবে না। টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করতে হলে সাহরীর সময় শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০১৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? তেমনি অসুস্থ অবস্থায় কেউ যদি গ্লুকোজ স্যালাইন নেয় তাহলে কি তার রোযা সহীহ হবে?
উত্তর
স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গে না। তেমনিভাবে অসুস্থতার কারণে গ্লুকোজ স্যালাইন নিলেও রোযার ক্ষতি হবে না। তবে অসুস্থতা ছাড়া গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া নাজায়েয। -আলাতে জাদীদা কে শরঈ আহকাম ১৫৩
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০১৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে...

প্রশ্ন
এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে কি তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
ইতিকাফকারী জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে না। জানাযার জন্য বাইরে বের হলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৭৩; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী, হাদীস ৮৫৯৪; কিতাবুল আসল ২/১৮৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৪৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৩০১৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি কলেজে পড়ি। ছোট থেকেই নামায-রোযার প্রতি মনোযোগী ছিলাম। কিন্তু...

প্রশ্ন
আমি কলেজে পড়ি। ছোট থেকেই নামায-রোযার প্রতি মনোযোগী ছিলাম। কিন্তু
এবার
রমযানে কলেজে গিয়ে বন্ধুদের প্ররোচনায় পড়ে ৫টি রোযা ভেঙ্গে ফেলি। তারপর থেকে এ নিয়ে খুব চিন্তিত আছি। বারবার তাওবা ইস্তিগফার করেছি। এ অবস্থায় আমার জন্য আর কী করণীয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
রমযানের রোযা না রাখা বা রেখে ভেঙ্গে ফেলা মারাত্মক গুনাহ। এজন্য শুধু তওবা করা যথেষ্ট নয়; রবং এর কাযা আদায় করতে হবে এবং বিনা ওজরে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙ্গে ফেললে কাফফারাও আদায় করতে হবে। সুতরাং আপনি ঐ ৫টি রোযার জন্য ৫টি রোযা কাযা আদায় করবেন এবং ঐ সবগুলো রোযা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙ্গে ফেলার কারণে একটি কাফফারা আদায় করবেন। কাফফারা হল লাগাতার ৬০টি রোযা রাখা। লাগাতার ৬০টি রোযা রাখতে অক্ষম হলে পূর্ণ খাবার খেতে পারে এমন ৬০ জন মিসকীনকে তৃপ্তি সহকারে দু বেলা খাওয়াতে হবে। অথবা প্রত্যেককে এর মূল্য দিতে হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪১২, ৩/৪৭৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭, ৪/১০৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৮৬৬
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে...

প্রশ্ন
আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে তিনি অত্যন্তদুর্বল হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার নিয়মিত ঔষধ খেতে বলেছেন। কোনো সময় ঔষধ না খেলে অসুস্থতা অনেক বেড়ে যায়। তাই আম্মা রমযান মাসে রোযা রাখতে পারেন না। গত রমযান মাসে কয়েকটি রোযা রাখার পর অসুস্থতা ও দুর্বলতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাই পরে আর রোযা রাখতে পারেননি। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার আম্মার জন্য রমযান মাসে রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
হাঁ, এ অবস্থায় আপনার আম্মার জন্য রমযান মাসে রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে। তবে পরবর্তীতে কখনো রোযা রাখার মতো সুস্থতা ফিরে পেলে এ রোযাগুলোর কাযা করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পূর্বের ফিদয়া যথেষ্ট হবে না। কারণ ফিদয়ার হুকুম ঐ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে পরবর্তীতে কাযা আদায়ে সক্ষম নয়। -রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী
৩৭৫-৩৭৬
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৩৭
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি পেটে চলে যায়। প্রশ্ন হল, এতে আমার রোযার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? এবং কাযা বা কাফফারা কি আদায় করতে হবে? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পানি পেটে চলে যাওয়ায় ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে। তাই আপনাকে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার
২/৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৫৩৬
তারিখ: ১/১/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের এলাকায় এক রমযানে ইতিকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক রমযানে ইতিকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে মহল্লাবাসী মিলে একজন দিনমজুরকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতিকাফ করবে। বিনিময়ে তাকে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমাণ মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতিকাফে বসানোর দ্বারা ইতিকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?
উত্তর
বিনিময় নিয়ে ইতিকাফ করা বা করানো সম্পূর্ণ নাজায়েয। কারণ ইতিকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতিকাফ দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না। জামে তিরমিযী ১/৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১১৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসূত,সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩২৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৫/৩৭
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩৪৫
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের মাদরাসার পাশে অস্থায়ীভাবে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে...

প্রশ্ন
আমাদের মাদরাসার পাশে অস্থায়ীভাবে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। বর্তমানে এতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া হয়। জানার বিষয় হল, এই মসজিদে ইতিকাফ করা সহীহ হবে কি? আর ইতিকাফের কারণে কি মসজিদটি ওয়াকফিয়া বা স্থায়ী মসজিদ হয়ে যাবে? দয়া করে বিস্তারিত দলিল- প্রমাণের আলোকে জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অস্থায়ী নামাযের ঘরটি যেহেতু ‘শরঈ মসজিদ’ নয় তাই তাতে ইতিকাফ সহীহ হবে না। ইতিকাফ সহীহ হওয়ার জন্য ‘শরঈ মসজিদ’ হওয়া জরুরি। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সাথে মিলিত হয়ো না। -সূরা বাকারা (২) : ১৮৭ ইমাম কুরতুবী রাহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, উক্ত আয়াতের আলোকে সকল ইমাম এ বিষয়ে একমত যে, মসজিদ ছাড়া অন্যস্থানে ইতিকাফ সহীহ
হবে না।
-সূরা বাকারা (২) : ১৮৭; তাফসীরে কুরতুবী ২/২২২; কিতাবুল ইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ ৭২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০;

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০৮
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা...

প্রশ্ন
আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আমার প্রচুর পরিমাণে বমি হয়। তারপর একজন (মাওলানা) সাহেবকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মুখ ভরে বমি হওয়ার কারণে আপনার রোযা ভেঙ্গে গেছে। মাওলানা সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
ঐ কথা ঠিক নয়। অনিচ্ছাকৃত মুখভরে বমি হলেও রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে কাযা করতে হয় না। আর ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -মুসনাদে আহমদ ২/৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩৭৩; কিতাবুল আছল ২/৩১০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪১; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক
২/২৭৪
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০৫
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময়...

প্রশ্ন
আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে
থাকি।
খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কারণে আমার রোযা সহীহ হবে কি না? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে, তা সহীহ হয়নি। তাই আপনাকে রোযাটির কাযা আদায় করে নিতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। উল্লেখ্য যে, রমযানের কোন রোযা নষ্ট হয়ে গেলেও নিয়ম হল, ঐ দিন ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের ন্যায় কাটাবে। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি এখনো রাত্র বাকি আছে ভেবে সাহরী খেতে থাকে, অতপর স্পষ্ট হয় যে, তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, সে যেন তার রোযাটিকে পূর্ণ করে (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯-১৫০, হাদীস : ৯১৩২) এবং হযরত সায়ীদ ইবনে যুবাইর রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার পর খানা খেয়ে ফেলে তখন সে যেন ঐ দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং অন্য একদিন একটি রোযা কাযা করে নেয়। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৪; সুনানে বায়হাকী ৪/২১৬; কিতাবুল আসল ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩০৪
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি পেটে চলে যায়। প্রশ্ন হল, এতে আমার রোযার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? এবং কাযা বা কাফফারা কি আদায় করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পানি পেটে চলে যাওয়ায় ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে। তাই আপনাকে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৬৯
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রোযার মাসে আমি কয়েকদিন অসুস্থ ছিলাম। একদিন দিনের বেলায়...

প্রশ্ন
গত রোযার মাসে আমি কয়েকদিন অসুস্থ ছিলাম। একদিন দিনের বেলায় প্রচুর বমি হয়েছিল। তবুও আমি রোযা ভাঙতে চাইনি, কিন্তু আমার এক আত্মীয় আমাকে বললেন, তোমার রোযা তো ভেঙ্গে গেছে। অতএব তুমি উপোস না থেকে কিছু খেয়ে নাও। আমি তার কথামতো তখন খাবার খেয়ে নেই। পরে জানতে পারি, অনিচ্ছাকৃত বমির কারণে রোযা ভাঙ্গে না। হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, এ কথা কি ঠিক? ঠিক হলে এ অবস্থায় আমার জন্য করণীয় কী? আমাকে কি এর কারণে কাফফারা আদায় করতে হবে?
উত্তর
অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোযা ভাঙ্গে না-এ কথা ঠিক। তাই বমি হওয়ার পর আপনার জন্য ঐদিন পানাহার করা বৈধ হয়নি। অবশ্য ঐ রোযার জন্য আপনাকে শুধু একটি রোযা কাযা করতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭২০; আলমাবসূত, সারাখসী ৩/৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪; কিতাবুল আছল ২/২০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪০১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৬৭
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযান মাসে একদিন তারাবীর পর আমার খুব বমি হয়।...

প্রশ্ন
গত রমযান মাসে একদিন তারাবীর পর আমার খুব বমি হয়। ফলে শরীর প্রচন্ড দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে পরের দিন রোযা রাখার নিয়ত করিনি। এমনকি সাহরীও খাইনি। কিন্তু সকাল ৮ টার দিকে ঘুম থেকে উঠে শরীর খুব হালকা বোধ হয়। তাই তখন রোযার নিয়ত করে ফেলি। প্রশ্ন হল, বিলম্বে নিয়ত করায় আমার উক্ত রোযা কি সহীহ হয়েছে? উল্লেখ্য, সুবহে সাদিক থেকে রোযার নিয়ত করা পর্যন্ত রোযা ভঙ্গের কোনো কাজ করা হয়নি।
উত্তর
রমযানের রোযার নিয়ত সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের পূর্বে করলেও রোযা সহীহ হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি এ সময়ের ভেতরেই রোযার নিয়ত করেছেন এবং এর মধ্যে রোযা ভঙ্গের কোনো কাজও করেননি তাই আপনার ঐ রোযা সহীহ হয়েছে। অবশ্য রাতেই রোযার নিয়ত করে নেওয়া উত্তম। প্রকাশ থাকে যে, সাহরী খাওয়া সুন্নত। সাহরী না খেয়ে শুধু নিয়ত করে নিলেও রোযা সহীহ হয়ে যায়। -শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪০১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯, ২৬৬; ফাতহুল কাদীর ২/২৩৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৯

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৩৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা রেখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি...

প্রশ্ন
রোজা রেখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোজা রাখা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে রোজা নষ্ট হবে না। চাই রমজানের রোজা হোক বা অন্য রোজা হোক। তবে যদি হস্তমৈথনের কারণে বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই রোজা পুনরায় কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। (কিতাবুল আসল ২/২০৩) (হেদায়া ১/২১৭) (ফথুল কাদির ২/৩৩৭) (বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬)

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২০৩৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি কলেজে পড়ি। ছোট থেকেই নামায-রোযার প্রতি মনোযোগী ছিলাম। কিন্তু...

প্রশ্ন
আমি কলেজে পড়ি। ছোট থেকেই নামায-রোযার প্রতি মনোযোগী ছিলাম। কিন্তু
এবার
রমযানে কলেজে গিয়ে বন্ধুদের প্ররোচনায় পড়ে ৫টি রোযা ভেঙ্গে ফেলি। তারপর থেকে এ নিয়ে খুব চিন্তিত আছি। বারবার তাওবা ইস্তিগফার করেছি। এ অবস্থায় আমার জন্য আর কী করণীয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
রমযানের রোযা না রাখা বা রেখে ভেঙ্গে ফেলা মারাত্মক গুনাহ। এজন্য শুধু তওবা করা যথেষ্ট নয়; রবং এর কাযা আদায় করতে হবে এবং বিনা ওজরে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙ্গে ফেললে কাফফারাও আদায় করতে হবে। সুতরাং আপনি ঐ ৫টি রোযার জন্য ৫টি রোযা কাযা আদায় করবেন এবং ঐ সবগুলো রোযা ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙ্গে ফেলার কারণে একটি কাফফারা আদায় করবেন। কাফফারা হল লাগাতার ৬০টি রোযা রাখা। লাগাতার ৬০টি রোযা রাখতে অক্ষম হলে পূর্ণ খাবার খেতে পারে এমন ৬০ জন মিসকীনকে তৃপ্তি সহকারে দু বেলা খাওয়াতে হবে। অথবা প্রত্যেককে এর মূল্য দিতে হবে। -সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৩; রদ্দুল মুহতার ২/৪১২, ৩/৪৭৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭, ৪/১০৯

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.