Login | Register

ফতোয়া: রোজা-ইতিকাফ

ফতোয়া নং: ৫৮৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি রোযা অবস্থায় মিসওয়াক করছিলাম। হঠাৎ দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত...

প্রশ্ন

আমি রোযা অবস্থায় মিসওয়াক করছিলাম। হঠাৎ দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়ে থুথুর সাথে পেটে চলে যায়। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গলায় যদি রক্তের স্বাদ অনুভূত হয় কিংবা রক্ত যদি থুথুর সমপরিমাণ বা বেশি হয়েথাকে তাহলে তা গিলে ফেলার দ্বারা রোযাটি ভেঙ্গে গেছে।

এক্ষেত্রে ঐ রোযা কাযা করতে হবে। আর যদি থুথুর চেয়ে রক্তের পরিমাণ কম হয় এবং গলায়স্বাদও অনুভূত না হয় তাহলে রোযাটি ভাঙ্গেনি, তা সহীহ হয়েছে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়াত হিন্দিয়া ১/২০৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি ধুমপানে অভ্যস্ত। গত রমযান মাসে রোযা রাখা অবস্থায়ও যখন...

প্রশ্ন

আমি ধুমপানে অভ্যস্ত। গত রমযান মাসে রোযা রাখা অবস্থায়ও যখন ধুমপান না করার কারণে অস্থিরতা অনুভব হয়েছে তখন একটু ধুমপান করেছি। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে ?

উত্তর

হ্যাঁ, সামান্য পরিমাণ ধুমপান করলেও রোযা ভেঙ্গে যায়। আর স্বেচ্ছায় ধুমপান করার কারণে কাযা-কাফফারা উভয়টি আদায় করা আবশ্যক হয়।

অতএব আপনি রোযা অবস্থায় যে কয়দিন ধুমপান করেছেন প্রত্যেক রোযার ভিন্ন ভিন্ন কাযা আদায় করবেন এবং সবগুলোর জন্য একটি কাফফারাও আদায় করবেন। কাফফারার পদ্ধতি জানা না থাকলে পুনরায় প্রশ্ন করে জেনে নিন।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৫০; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৮১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি এ বছর রমযানে বাস এক্সিডেন্টে পায়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলাম।...

প্রশ্ন

আমি এ বছর রমযানে বাস এক্সিডেন্টে পায়ে খুব ব্যথা পেয়েছিলাম। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোযা অবস্থায় ১০ রমযান থেকে ১৫ রমযান পর্যন্ত তিন বেলা ব্যথানাশক ইনজেকশন নিতে হয়েছে। এতে আমার ঐ দিনগুলোর রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? সেগুলো কি কাযা করতে হবে?

উত্তর

ইনজেকশন নেওয়ার কারণে রোযার ক্ষতি হয় না। তাই আপনার ঐ রোযাগুলো নষ্ট হয়নি। অতএব ওগুলোর কাযাও করতে হবে না।

উল্লেখ্য, রোযা অবস্থায় গ্লুকোজজাতীয় ইনজেকশন (যা খাদ্যের কাজ দেয়) ব্যবহার করা মাকরূহে তাহরীমী। বিশেষ প্রয়োজন, যেমন-মারাত্মক অসুস্থতা ছাড়া তা নেওয়া বৈধ নয়।

-ফাতহুল কাদীর ২/২৫৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; যাবিতাতুল মুফাততিরাত ফী মাজালিত তাদাবী ৬৯; মাজমূআতুল ফাতাওয়াশ শরইয়াহ ১/২৪৫; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/৩৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি চোখের অসুস্থতার কারণে ড্রপ ব্যবহার করে এবং ঔষধের...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি চোখের অসুস্থতার কারণে ড্রপ ব্যবহার করে এবং ঔষধের তিক্ততা গলায় অনুভব করে। প্রশ্ন হল, রোযা অবস্থায় এ ধরনের ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে কি? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

না, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করার কারণে গলায় ঔষধের তিক্ততা অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হয় না। সুতরাং রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করার সুযোগ আছে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৬৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি প্রতি বছর রমযানের শেষ দশ দিন শহরের জামে মসজিদে...

প্রশ্ন

আমি প্রতি বছর রমযানের শেষ দশ দিন শহরের জামে মসজিদে ইতিকাফ করে থাকি। সাধারণত সেখানে প্রতি সপ্তাহে ২/১টি জানাযা আসে। মসজিদের সামনে একটি ছোট্ট মাঠ আছে। সেখানেই জানাযার নামায হয়। আমি ইতিকাফ অবস্থায় ঐ জানাযার নামাযগুলোতে শরিক হতে পারব কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জানাযার উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হলেও ইতিকাফ থাকে না। তাই আপনি ইতিকাফ অবস্থায় মসজিদের বাইরের জানাযার নামাযে শরিক হতে পারবেন না। বের হলে সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৬৫; মাবসূত, সারাখসী ১/১১৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি এক রমযানে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে খুব দুর্গন্ধ...

প্রশ্ন

আমি এক রমযানে ঢাকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলাম। গাড়িতে খুব দুর্গন্ধ থাকায় অস্বস্তি বোধ করি এবং একপর্যায়ে বমির ভাব হয়। বমি না হওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা সত্ত্বেও বমি হয়ে যায়। জানতে চাই, এ কারণে আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? কাযা বা কাফফারা কোনটি ওয়াজিব হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

উল্লেখ্য, আমার বমিটা মুখ ভরে হয়েছিল। বমি হওয়ার পরও সারা দিন আমি কিছু খাইনি। একেবারে ইফতারির সময় খেয়েছি।

উত্তর

অনিচ্ছাকৃত বমি হলে রোযা ভাঙ্গে না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার ঐ রোযা নষ্ট হয়নি; বরং তা আদায় হয়ে গেছে।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ৭২০; কিতাবুল আসল ২/১৯২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে আমার ঘুম থেকে উঠতে...

প্রশ্ন

গত রমযানের ২৭ তারিখ দিবাগত রাতে আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। সেহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সেহরী খেয়ে নেই। কিন্তু পরে জানতে পারি যে, ঐ সময় সুবহে সাদিক হয়ে গিয়েছে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত অবস্থায় আমার উপর কি রোযা বা কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার ঐ রোযা সহীহ হয়নি। তাই রোযাটি কাযা করে নেওয়া জরুরি। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না। উল্লেখ্য, এ ধরনের ক্ষেত্রে রোযা সহীহ না হলেও পুরো দিন রোযা অবস্থায় থাকতে হবে।

-কিতাবুল আসল ২/১৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শুনেছি, হাদীসে আরাফার দিনে রোযা রাখার যে কথা এসেছে তা...

প্রশ্ন

শুনেছি, হাদীসে আরাফার দিনে রোযা রাখার যে কথা এসেছে তা হল যারা হজ্বে যায়নি তাদের জন্য। আর যারা হজ্বে আছেন তাদের জন্য এদিন রোযা রাখা ঠিক নয়। জানতে চাই, এ কথাটি কি সঠিক?

উত্তর

আরাফার দিনের রোযা সম্পর্কিত হাদীসটির তরজমা নিম্নরূপ : আবু কাতাদা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর নিকট আশা করি যে, এর বিনিময়ে তিনি ঐ দিনের পূর্বের এক বছর ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।-সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭

উপরোক্ত হাদীসটিতে আরাফার বাইরে অবস্থানকারী বা আরাফায় অবস্থানকারী কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অতএব যারা হজ্বে যাননি শুধু তাদের জন্য এ হাদীস প্রযোজ্য-এমনটি নয়। সকলের জন্যই এই হাদীসের উপর আমল করার সুযোগ রয়েছে। তবে যারা হজ্বে আছেন তাদের যেহেতু এদিন আরাফায় লম্বা সময় দুআ-মুনাজাতে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতেও হজ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ আমল আদায় করতে হয় যেগুলো বেশ কষ্টসাধ্য তাই হাজীদের জন্য বিশেষ হুকুম হল, রোযা রাখার কারণে দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তারা রোযা রাখবে না। এমন লোকদের জন্য রোযা রাখা মাকরূহ। কেননা এই দিনের রোযার চেয়ে হজ্বের আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। উম্মতকে এই মাসআলা শিক্ষা দেওয়ার জন্য স্বয়ং রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্বে আরাফার রোযা রাখেননি। খুলাফায়ে রাশেদীনসহ অনেক সাহাবী আরাফায় অবস্থানকালে রোযা রাখেননি।

অবশ্য সুস্থ, সামর্থ্যবান ব্যক্তি, যে এই দিনে রোযা রাখলেও দুর্বল হবে না এবং হজ্বের কোনো কাজে ব্যাঘাত ঘটবে না বলে আশ্বস্ত থাকে তার জন্য রোযা রাখার অনুমতি রয়েছে। কেউ কেউ তাদের জন্যও রোযা রাখাকে উত্তমও বলেছেন। সুতরাং যারা হজ্বে আছেন তাদের জন্য রোযা রাখা ঠিক নয়-এই কথাটি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রা., উসমান ইবনে আবুল আস রা., আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. এবং আতা রাহ. প্রমুখ

সাহাবা-তাবেয়ী থেকে এই দিন আরাফায় অবস্থানকালে রোযা রাখার প্রমাণ রয়েছে। এবং তাদের থেকে এটিও স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, শরীর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে এদিন রোযা রাখতে কোনো অসুবিধা নেই। নিম্নে এ সংক্রান্ত আছারগুলো পেশ করা হল।

১. কাসেম ইবনে মুহাম্মাদ রাহ. বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. (হজ্ব করতে গিয়ে) আরাফার দিনে রোযা রাখতেন।-মুয়াত্তা মালেক, পৃ. ১৪৬; আলইসতিযকার ৩/৫৩৪

২. আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর আরাফার দিনে আয়েশা রা-এর নিকট গেলেন তখন আয়েশা রা. রোযা ছিলেন। তিনি তাকে বললেন, আপনি ইফতার করুন (রোযা ভাঙুন)। আয়েশা রা. জবাবে বললেন, আমি কীভাবে ইফতার করব। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই আরাফার দিনের রোযার বিনিময়ে পূর্বের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৪৭৭০

৩. ইবনে জুরাইজ বলেন, আমি আতা রাহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি হজ্বের সময় আরাফার দিনে রোযা রাখেন? তিনি বললেন, আমি শীতকালে রোযা রাখি। গ্রীষ্মকালে এই দিন রোযা রাখি না।-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৮২২

হাফেয ইবনে আবদুল বার রাহ. বলেন, গ্রীষ্মকালে তিনি এজন্য রোযা রাখতেন না যে, এদিন যেন দুআ (ও হজ্বের অন্যান্য আমল আদায়ে) তিনি দুর্বল না হন।-আলইসতিযকার

৪. কাতাদাহ বলেন, আরাফার দিন দুআ (ও অন্যান্য আমল) আদায়ে যদি সমস্যা না হয় তবে এদিন রোযা রাখতে অসুবিধা নেই।

-প্রাগুক্ত মাবসূত সারাখসী ৩/৮১; বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৭৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের মসজিদে একটি নাবালেগ ছেলে ইতিকাফ করেছে। ঐ নাবালেগ ছেলে...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে একটি নাবালেগ ছেলে ইতিকাফ করেছে। ঐ নাবালেগ ছেলে ব্যতীত অন্য কেউ ইতিকাফ করেনি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত অবস্থায় এলাকাবাসী কি সুন্নত ইতিকাফ না করায় গুনাহগার হয়েছে? শুধু নাবালেগ ইতিকাফ করার দ্বারা কি সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে?

উত্তর

বুঝমান নাবালেগের ইতিকাফ সহীহ। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্য থেকেই ইতিকাফে বসা উচিত। কেননা রমযানের শেষ দশকের ইতিকাফ অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা গুরুত্ব সহকারে আদায় করতেন। তাই এ ব্যাপারে উদাসীনতা মোটেই ভালো নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১১; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে একবার শেষ রাতে আমার খুব বমি হয়। এজন্য...

প্রশ্ন

গত রমযানে একবার শেষ রাতে আমার খুব বমি হয়। এজন্য আমি সাহরী খেতে পারিনি। রোযা রাখারও ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু সকাল দশটার দিকে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর বেশ হালকা বোধ হতে থাকে। তখন আমি আমার বড় ভাইয়ের পরামর্শ মতো নিয়ত করে ঐ দিনের রোযা পূর্ণ করি। এতে আমার রোযা সহীহ হয়েছে কি না জানালে উপকৃত হব।&

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার উক্ত রোযা আদায় হয়ে গেছে। কেননা সাহরী খাওয়া সুন্নত, এটি রোযার অংশ নয়। সাহরী না খেলেও রোযা হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমদ ২/৩৭৭; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৯৭) আর রমযান মাসে কোনো কারণে রাতে নিয়ত করতে না পারলে এবং সুবহে সাদিকের পর থেকে রোযা ভঙ্গের কোনো কারণ পাওয়া না গেলে মধ্যাহ্নের পূর্ব (অর্থাৎ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্তের মধ্যবর্তী সময়ের আগ) পর্যন্ত নিয়ত করার সুযোগ থাকে। তবে রাতে নিয়ত করে নেওয়াই উত্তম।

-শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৪০৪; কিতাবুল আছল ২/২২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৫৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৩৫; রদ্দুল মুহতার ২/৩৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি ২৫ রমযানে দিনের বেলা ভুলক্রমে খেয়ে ফেলি। খাওয়া শেষে...

প্রশ্ন

আমি ২৫ রমযানে দিনের বেলা ভুলক্রমে খেয়ে ফেলি। খাওয়া শেষে রোযা ভেঙ্গে গেছে ধারণা করে ইচ্ছাকৃত খেয়ে নেই। প্রশ্ন হল এমতাবস্থায় আমাকে ঐ রোযার কাযা এবং কাফফারা দুটোই আদায় করতে হবে কি না? নাকি শুধু কাযা আদায় করে নিলেই চলবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

আপনাকে ঐ রোযাটির কাযা আদায় করতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

প্রকাশ থাকে যে, রোযা অবস্থায় ভুলবশত খাওয়ার পর রোযা ভেঙ্গে ফেলা ঠিক হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে কোনো আলেম থেকে মাসআলা জেনে নেওয়া আবশ্যক ছিল।

-জামেউস সগীর ১৪১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১-৪০৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৭; ফাতহুল কাদীর ২/২৯৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে...

প্রশ্ন

আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায়-

ক) যে কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত।

খ) সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

ক) বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম কুরআন মজীদের স্বতন্ত্র একটি আয়াত, যা দুই সূরার মাঝে পার্থক্য করার জন্য আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং মুসল্লিদেরকে পরিপূর্ণ খতম শোনাতে চাইলে যে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়তে হবে। অন্যথায় এ কারণে মুসল্লিদের খতম অপূর্ণ থেকে যাবে। আর ইমামের জন্য সব নামাযেই সূরা ফাতিহা এবং সকল সূরার শুরুতে অনুচ্চস্বরে বিসমিল্লাহ বলা

মুস্তাহাব।-আসসিআয়াহ ২/১৭০; ইহকামুল কানত্বরা ফী আহকামিল বাসমালাহ ১/৭১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া, লাখনভী রাহ. ১/৩১৫

খ) কুরআন মজীদ খতম করার ক্ষেত্রে সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকেও এমন কোনো আমলের প্রমাণ নেই। ফিকহবিদগণ এই আমলকে অপছন্দ করেছেন। সুতরাং তারাবীতে কুরআন খতমের সময় সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার প্রচলনটি ঠিক নয়। তাই এ থেকে বিরত থাকবে এবং অন্য সূরার ন্যায় যথানিয়মে একবারই পড়বে।-ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২৬; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫০৯; ফাতাওয়া উসমানী ১/৫১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার নানু ঢাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন। বাসাটি চার রুমবিশিষ্ট।...

প্রশ্ন

আমার নানু ঢাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় থাকেন। বাসাটি চার রুমবিশিষ্ট। তিনি যে রুমটিতে থাকেন সাধারণত সে রুমেরই এক পার্শ্বে নামায পড়েন। তবে গরমের কারণে কখনো ড্রইং রুমেও নামায আদায় করেন। তিনি আগামী রমযানে ইতিকাফ করার নিয়ত করেছেন। উক্ত দুই রুম ব্যতীত অপর আরেকটি রুমে ইতিকাফ করা তার জন্য সুবিধাজনক। যে রুমে সাধারণত নামায পড়েন না। এখন সে রুমে ইতিকাফ করা তার জন্য কি সহীহ হবে?

উত্তর

আপনার নানু বাসাটির অন্য কক্ষেও ইতিকাফ করতে পারবেন। তবে যে কক্ষে ইতিকাফ করতে চাচ্ছেন ঐ কক্ষকে আপাতত তার নামায-ঘর হিসেবে নির্দিষ্ট করে নিতে হবে এবং ইতিকাফের পূর্ণ সময় এ ঘরেই অবস্থান করতে হবে।

-মাবসূত, সারাখসী ৩/১১৯; আলবিনায়াহ ৪/৩৮৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

যায়েদ এক রমযানের ১০ টি রোযা রাখার পর শয়তানের ধোকায়...

প্রশ্ন

যায়েদ এক রমযানের ১০ টি রোযা রাখার পর শয়তানের ধোকায় সুস্থ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে তা ভেঙ্গে ফেলে। সে ঐ রোযাগুলোর কাফফারাও আদায় করেনি। কিন্তু এখন সে অনুতপ্ত এবং এ বিষয়ে শরীয়তের সমাধান জানতে আগ্রহী। ঐ ব্যক্তির উপর কি ইচ্ছাকৃত পানাহার করার কারণে কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে? যদি ওয়াজিব হয়ে থাকে তবে সে কি প্রত্যেকটি রোযার পরিবর্তে পৃথক পৃথক কাফফারা আদায় করবে, না সবগুলো রোযার পরিবর্তে একটি কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

রোযাগুলো ভেঙ্গে ফেলার কারণে তার উপর প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একটি করে কাযা আদায় করা ওয়াজিব হয়েছে। আর একই রমযানে কয়েকটি রোযার কাফফারা ওয়াজিব হওয়ায় এখন সবগুলোর জন্য একটি কাফফারা আদায় করলেই যথেষ্ট হয়ে যাবে।

হাদীস শরীফে আছে, জনৈক ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলা আহার করে ফেলার পর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে একটি গোলাম আযাদ করা বা ধারাবাহিক ষাটটি রোযা রাখা অথবা ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানোর আদেশ দিয়েছেন।

-সুনানে দারাকুতনী ২/১৯১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৩, ২১৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৬, ২৬০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৪, ২৫৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রবিউল আওয়াল, রবিউস সানী, জুমাদাল উলা, জুমাদাল উখরা, যিলকদ-এই মাসগুলোতে...

প্রশ্ন

রবিউল আওয়াল, রবিউস সানী, জুমাদাল উলা, জুমাদাল উখরা, যিলকদ-এই মাসগুলোতে বিশেষ কোনো রোযা-নামাযের কথা কুরআন-হাদীসে আছে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত মাসগুলোতে বিশেষ কোনো নামায বা রোযার কথা কুরআন-হাদীসে নেই। তবে যিলকদ মাস যেহেতু আশহুরে হুরূম তথা চার সম্মানিত মাসের অন্যতম তাই এ মাসে নফল রোযা রাখা মুস্তাহাব। কেননা আশহুরে হুরূমে নফল রোযা রাখার কথা হাদীসে রয়েছে।

একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাহাবীকে লক্ষ্য করে বলেছেন, তুমি আশহুরে হুরূমে রোযা রাখ।

-লাতাইফুল মাআরিফ পৃ. ২৮৫, ২৮৬; সুনানে আবু দাউদ হাদীস : ২৪২৫; বাযলুল মাজহূদ ১১/২৯০; আউনুল মাবুদ ৭/৫৮; নায়লুল আওতার ৪/৩১৮; ইবনে মাজাহ, হাদীস : ১৭৪১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৭৫; আলফাযাইলু ওয়াল আহকাম লিশশুহূরি ওয়াল আইয়াম, আল্লামা আবদুল করীম গুমথালভী পৃ. ২০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

মেহরাব কি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত? এক ব্যক্তি বলছেন, মেহরাব মসজিদের অংশ...

প্রশ্ন

মেহরাব কি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত? এক ব্যক্তি বলছেন, মেহরাব মসজিদের অংশ নয়। তাই এতেকাফকারী এখানে যেতে পারবে না। গেলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। সঠিক বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মেহরাব মসজিদের অন্তর্ভুক্ত। মসজিদের অংশ না হওয়ার কথা ঠিক নয়। এটা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা তা ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবে উল্লেখ হয়েছে। সুতরাং এতেকাফকারী মেহরাবেও যেতে পারবে। এ কারণে তার এতেকাফ নষ্ট হবে না।

-শরহুল মুনইয়া ৩৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৬; জামিউর রুমূয ১/১৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে মহিলারা হায়েয-নেফাস অবস্থায় পানাহার ত্যাগ করে রোযাদারের মতো...

প্রশ্ন

রমযান মাসে মহিলারা হায়েয-নেফাস অবস্থায় পানাহার ত্যাগ করে রোযাদারের মতো না খেয়ে থাকবে কি? কেউ কেউ বলেন, এভাবে রোযাদারের সাদৃশ্য অবলম্বন করলে নাকি গুনাহ হবে। এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

রমযান মাসে হায়েয-নেফাস অবস্থায় মহিলারা পানাহার থেকে বিরত থাকবে না। তবে লোকচক্ষুর আড়ালে পানাহার করবে। রোযাদারের সাদৃশ্য অবলম্বন করবে না। রোযাদারের মতো পানাহার বর্জন করাকে শরীয়তের বিধান মনে করলে গুনাহ হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২০৫; আলকিফায়া ২/২৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, রমযানের শেষ দশ দিনে এলাকাবাসী...

প্রশ্ন

কোনো কোনো এলাকায় দেখা যায়, রমযানের শেষ দশ দিনে এলাকাবাসী কেউ এতেকাফ না করলে অন্য এলাকা থেকে কোনো দরিদ্র ব্যক্তিকে খানা ও পারিশ্রমিক দিয়ে এতেকাফ করানো হয়।

প্রশ্ন হল, ক) এরূপ করলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবে কি না?

খ) ঐ ব্যক্তির জন্য এতেকাফকালীন দিনগুলোর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

ক) রমযান মাসের শেষ দশ দিন এতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়াহ। যদি কোনো মসজিদে এক জনও ইতেকাফে বসে তাহলে এলাকাবাসী সুন্নত তরকের গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। আর যদি একজনও এতেকাফ না করে তাহলে ঐ এলাকার সকলেই গুনাহগার হবে।

খ) এতেকাফ একটি ইবাদত, যা বিনিময়যোগ্য নয়। তাই এতেকাফের জন্য পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়। কাউকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এতেকাফ করালে সে এতেকাফ সহীহ হবে না। অতএব এ জাতীয় এতেকাফ দ্বারা এলাকাবাসী দায়িত্বমুক্ত হতে পারবে না।

-হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ২/৩০৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; ইলাউস সুনান ১৬/১৭২-৭৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক ব্যক্তি রোযা অবস্থায় চোখে ওষুধ লাগিয়েছে। এ কারণে তার...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি রোযা অবস্থায় চোখে ওষুধ লাগিয়েছে। এ কারণে তার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

উত্তর

না, চোখে ওষুধ দিলে রোযার ক্ষতি হয় না। এক্ষেত্রে ওষুধের স্বাদ গলায় অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জুমাদাল উলা, জুমাদাল উখরা ও যিলকদ...

প্রশ্ন

রবিউল আউয়াল, রবিউস সানী, জুমাদাল উলা, জুমাদাল উখরা ও যিলকদ এ মাসগুলোতে বিশেষ কোনো রোযা-নামাযের কথা কুরআন-হাদীসে আছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত মাসগুলোতে বিশেষ কোনো নামায বা রোযার কথা কুরআন-হাদীসে নেই। তবে যিলকদ মাস যেহেতু আশহুরে হরম তথা চারটি সম্মানিত মাসের একটি তাই এ মাসে নফল রোযা রাখা মুস্তাহাব। কেননা, আশহূরে হুরুমে নফল রোযা রাখার কথা হাদীসে রয়েছে। একটি দীর্ঘ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে লক্ষ্য করে বলেন, (হাতের আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে) তুমি হরম মাসে ৩দিন রোযা রাখবে। এরপর তিন দিন রোযা রাখবে না। এরপর আবার তিন দিন রোযা রাখবে। এরপর তিন দিন রাখবে না। (এভাবে শেষ পর্যন্ত) (সূনানে আবু দাউদ ১/৩৩০)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি প্রতি রমযানেই রোযাগুলো নিয়মিত রাখি। কিন্তু অধিকাংশ রোযাতেই মুখে...

প্রশ্ন

আমি প্রতি রমযানেই রোযাগুলো নিয়মিত রাখি। কিন্তু অধিকাংশ রোযাতেই মুখে রোযার নিয়ত উচ্চারণ করি না; বরং রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরীর জন্য উঠে সেহরী খেয়ে নেই এবং অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী ঠিক মতো করতে থাকি। এমন করার দ্বারা আমারা রোযাগুলো সহীহ হয়েছে কি না? নাকি আবার কাযা করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার রোযা রাখার উদ্দেশ্যে ঘুম থেকে ওঠা ও সেহরী খাওয়াটাই রোযার নিয়তের শামিল। নিয়ত মনের ইচ্ছার নাম, এক্ষেত্রে মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়। তাই আপনার রোযাগুলো সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৪৫২; আলজাওহারুতুন নাইয়্যিরাহ ১/১৭৬; রদ্দুল মুহতার ৩/৩৩৯, ৩৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় ছিলাম। হাই তোলার সময় একটি মশা গলায় চলে...

প্রশ্ন

রোযা অবস্থায় ছিলাম। হাই তোলার সময় একটি মশা গলায় চলে গেছে। এতে কি আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে?

উত্তর

না। এতে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. এক লোকের কণ্ঠনালিতে মাছি ঢুকে গেলে তাকে বললেন, এতে তোমার রোযা ভঙ্গ হয়নি।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৩৪৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

কিছুদিন হল আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। সে বাবার বাড়িতে...

প্রশ্ন

কিছুদিন হল আমার বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। সে বাবার বাড়িতে ছিল এবং শাওয়ালের নফল রোযা রাখছিল। ইত্যবসরে তার শ্বশুর-শাশুড়ি সকাল বেলা তাকে দেখতে এল। আপ্যায়নের সময় তারা বলল, বউকে তাদের সাথে খেতে হবে নতুবা তারা মনে কষ্ট পাবে। তাদের পীড়াপীড়িতে আমার বোন রোযা ভেঙ্গে তাদের সাথে দস্তরখানে শরীক হয়েছে। জানার বিষয় হল, শ্বশুর-শাশুড়ির মন রক্ষার্থে রোযা ভাঙ্গা কি তার ঠিক হয়েছে? তাকে কি এ রোযা কাযা করতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রোযা ভঙ্গ করা অন্যায় হয়নি। মেহমানের মন রক্ষার্থে নফল রোযা ভাঙ্গার অনুমতি আছে। অবশ্য তাকে এ রোযা কাযা করতে হবে।

আবু জুহাইফা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান রা. ও আবুদ দারদা রা.-এর মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করেছিলেন। একদিন সালমান রা. আবুদ দারদা রা.-এর সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন। আবুদ দারদা রা. সালমান রা.-এর জন্য খাবার প্রস্ত্তত করলেন। সালমান রা. তাকেও খাবারে শামিল হতে বললেন। উত্তরে তিনি বললেন, আমি রোযা রেখেছি। এ কথা শুনে সালমান রা. বললেন, আপনি না খেলে আমি খাব না। তখন আবুদ দারদা রা. (রোযা ভেঙ্গে) তার সাথে খাবার খেয়েছেন।

সহীহ বুখারী ১/২৬৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৮০, ২৮১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

একজন ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভুলবশত পানি পান করেছিল। এরপর রোযা...

প্রশ্ন

একজন ব্যক্তি রোযা অবস্থায় ভুলবশত পানি পান করেছিল। এরপর রোযা ভেঙ্গে গেছে মনে করে পানাহার করেছে। জানার বিষয় হল, এখন তাকে কী করতে হবে?

উত্তর

রোযা রেখে ভুলবশত (অর্থাৎ রোযার কথা স্মরণ না থাকায়) পানাহার করলে রোযা ভঙ্গ হয় না। হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ভুলে আহার করল বা পান করল সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে। কারণ আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। (সহীহ মুসলিম ১/৩৬৪)

এক্ষেত্রে নিয়ম হল, রোযার কথা স্মরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানাহার বন্ধ করবে এবং সারাদিন আর কিছু খাবে না। কিন্তু প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সে যেহেতু ভুলবশত পানি পান করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করেছে তাই তার রোযা ভেঙ্গে গেছে। অতএব তাকে ঐ রোযাটি কাযা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে সে গুনাহ করেছে। এজন্য তাকে ইস্তিগফার করতে হবে।

ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫৩; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪০১, ৪০২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলামারাকী ৩৬৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযানে দিনের বেলা কারো যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে কি রোযা...

প্রশ্ন

রমযানে দিনের বেলা কারো যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?

উত্তর

না। স্বপ্নদোষের কারণে রোযা ভাঙ্গে না। হাদীসে আছে, আবু সাঈদ খুদরী রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তিনটি বস্ত্ত রোযা ভঙ্গের কারণ নয়, বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ।

সুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/২৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক মুয়াযযিন সাহেব ঘড়ি দেখে সূর্য ডোবার সময় হয়েছে মনে...

প্রশ্ন

জনৈক মুয়াযযিন সাহেব ঘড়ি দেখে সূর্য ডোবার সময় হয়েছে মনে করে মাগরিবের আযান দিয়েছেন। তার আযান শুনে মহল্লার অনেক লোক ইফতার করে ফেলেছেন। পরে মহল্লার অন্যান্য মসজিদের আযান, রেডিওর আযান ও রোযার চিরস্থায়ী ক্যালেন্ডারের মাধ্যমে দেখা গেল যে, বাস্তবে তারা সূর্য ডোবার আগেই ইফতার করেছিলেন। জানতে চাই, যারা ইফতার করে ফেলেছেন তাদের রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে কাযা করলেই যথেষ্ট হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী যারা সূর্যাস্তের আগেই ইফতার করেছেন তাদের রোযা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা রোযাটি কাযা করবেন, কাফফারা দেওয়া লাগবে না। হাদীস শরীফে আছে, হযরত আসমা রা. বলেন, ‘রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যমানায় এক মেঘলা দিনে আমরা সূর্য ডুবে গেছে নিশ্চিত জেনে ইফতার করলাম। পরক্ষণেই মেঘ সরে গিয়ে সূর্য প্রকাশিত হল।’ হাদীসের রাবী হিশামকে জিজ্ঞাসা করা হল, তাদেরকে কি রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল? তিনি বললেন, অবশ্যই রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

হযরত বিশর ইবনে কায়েস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রমযানে বিকেল বেলা উমর রা.-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। উমর রা. সূর্য ডুবে গেছে মনে করে নিজেও পানি পান করলেন এবং আমাকেও পান করালেন। পরক্ষণেই সূর্য দেখা গেল। উমর রা. বললেন, ‘সমস্যা নেই। এর পরিবর্তে একটি রোযা কাযা করাই যথেষ্ট হবে।’-সুনানে কুবরা ৪/৫৬৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৮

হযরত ইবনে জুরাইজ রা. বলেন, আমি আতা রাহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম, রমযানের এক মেঘাচ্ছন্ন দিনে সময় হয়েছে মনে করে ইফতার করেছি। এরপর সূর্য দেখা গেল। এখন আমি কি শুধু ঐ দিনের রোযার কাযা করব, না আমাকে কাফফারাও আদায় করতে হবে? আতা রাহ. বললেন, হ্যাঁ, (শুধু কাযা করবে)। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৪৭)

বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৩৬; হাশিয়াতুত তহতাবী আলামারাকী ৩৬৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করছিলেন। মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাঠে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করছিলেন। মসজিদের পার্শ্ববর্তী মাঠে জানাযার নামায হচ্ছিল। তিনি তাতে শরিক হয়েছেন এবং নামায শেষ হওয়ামাত্রই মসজিদে ফিরে এসেছেন। একথা জানতে পেরে মসজিদের ইমাম সাহেব বলেছেন, তার ইতিকাফ ভেঙ্গে গেছে। ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক?

উত্তর

হ্যাঁ, ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। ইতিকাফরত অবস্থায় জানাযার নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার সুন্নত ইতিকাফ ভেঙ্গে গেছে। হযরত হিশাম ইবনে ওরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, ইতিকাফকারী কোনো দাওয়াতে যাবে না, অসুস্থ কাউকে দেখতে যাবে না, কারো জানাযায় শরিক হবে না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৪/৩৫৭-৩৫৮)

সুতরাং এ ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে রোযাসহ একদিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, যদি কোনো ব্যক্তি প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে (যেমন অযু-ইস্তিঞ্জা) বা জুমআর নামায আদায়ের উদ্দশ্যে মসজিদ থেকে বের হয়ে পথিমধ্যে জানাযায় শরিক হয় এবং নামায শেষে সেখানে বিলম্ব না করে মসজিদে ফিরে আসে তাহলে তার ইতিকাফ ভাঙ্গবে না।

বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮৩, ২৮৪; মাবসূত, সারাখসী ৩/১১৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২১; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৪; ২৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা অবস্থায় ভাইকে রক্ত দিয়েছে। এতে...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা অবস্থায় ভাইকে রক্ত দিয়েছে। এতে কি তার রোযা ভেঙ্গে গেছে বা কোনো ক্ষতি হয়েছে?

উত্তর

রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে রোযা নষ্ট হয় না। কারণ শরীর থেকে রক্ত বের হওয়া রোযা ভঙ্গের কারণ নয়। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোযা অবস্থায় শিঙ্গা লাগিয়েছেন। সুতরাং রোযা অবস্থায় প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া যাবে। তবে রক্ত দেওয়ার কারণে কারো যদি এত দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয় যে, সে রোযা পূর্ণ করতে পারবে না। তাহলে তার জন্য রক্ত দেওয়া মাকরূহ হবে। তাই এ ধরনের ব্যক্তি অতীব প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলা রক্ত দিবে না।

-সহীহ বুখারী ১/২৬০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি ইমামের সাথে তারাবী আদায় করার পর ইস্তেঞ্জার...

প্রশ্ন

গত রমযানে আমি ইমামের সাথে তারাবী আদায় করার পর ইস্তেঞ্জার জরুরতে বাইরে যাই। এসে ইমামকে বিতরের শেষ রাকাতে পাই। জানার বিষয় হল, আমি ইমামের সাথে শেষ রাকাতে একবার কুনুত পড়েছি, আমার নামাযের শেষে কি আবার কুনূত পড়ব?

উত্তর

না, নামাযের শেষে আর দুআ কুনূত পড়তে হবে না। কেননা, আপনি ইমামের সাথে কুনূতসহ এক রাকাত আদায় করেছেন। এখন আগের ছুটে যাওয়া দুই রাকাত স্বাভাবিক নিয়মে পড়ে নিতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১১৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ক) আশুরার রোযার তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাই।খ) আশুরার দিনের ফযীলত...

প্রশ্ন

ক) আশুরার রোযার তাৎপর্য সম্পর্কে জানতে চাই।

খ) আশুরার দিনের ফযীলত কী এবং এই দিনে রোযা রাখলে কী সওয়াব?

গ) শুনেছি, এই দিনে বহু ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। যেমন ইউনুস আ. মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ইউসুফ আ. জেল থেকে মুক্ত হয়েছেন। মুসা আ. দলবলে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছেন আর ফেরআউন তার দলসহ ডুবে মরেছে। এ ঘটনাগুলি কি ঠিক?

উত্তর

ক) আশুরার তাৎপর্য সম্পর্কে একটি হাদীস উল্লেখ করছি।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরত করার পর দেখলেন, ইহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে রোযার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তারা বলেছিল, এটি মহিমান্বিত একটি দিন। এই দিনে মুসা আ. ও তার কওম নিস্তার পান। আর ফেরআউন ও তার দল ডুবে মারা যায়। সেই থেকে মুসা আ. শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে রোযা রাখতেন। সে হিসেবে আমরাও রোযা রাখি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুসা আ.-এর ব্যাপারে তোমাদের চেয়ে আমরা অধিক হকদার। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও রোযা রাখলেন এবং অন্যদেরকে রোযা রাখার নির্দেশ করলেন।’

- (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৯০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ২৬৪৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১২৫

খ) আশুরার দিনটি মহিমান্বিত। হাদীস শরীফে এসেছে-এই দিনে আল্লাহ তাআলা একটি জাতির তাওবা কবুল করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অন্যদের তাওবা কবুল করবেন। (জামে তিরমিযী ১/১৫৭)

আর এই দিনে রোযা রাখলে পেছনের এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায়। (সহীহ মুসলিম ১/৩৬৭; জামে তিরমিযী ১/১৫৮)

গ) এই দিনে মুসা আ. তার কওমসহ ফেরআউনের হাত থেকে রক্ষা পান এবং ফেরআউন তার দলবলসহ সমুদ্রে ডুবে মারা যায়-একথা সত্য। এ উত্তরের ‘ক’ অংশে সহীহ বুখারীর যে বর্ণনাটি উল্লেখ করা হয়েছে তাতে একথা স্পষ্ট উল্লেখ আছে। কিন্তু প্রশ্নের অন্যান্য ঘটনা লোকমুখে প্রসিদ্ধ থাকলেও এ সম্পর্কে কোনো বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। প্রখ্যাত হাদীস বিশারদগণ বলেন, এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। দেখুন : আলআছারুল মারফূআ পৃষ্ঠা : ৯৪-১০০; মা সাবাতা বিসসুন্নাহ ফী আইয়ামিস সানাহ, পৃষ্ঠা : ২৫৩-২৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে রমযানের একটি রোযা রাখতে পারেনি। রমযানের...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে রমযানের একটি রোযা রাখতে পারেনি। রমযানের পর ঐ রোযাটি কাযা করার জন্য সাহরী খেয়ে রোযার নিয়ত করে। কিন্তু বেলা ১২টার দিকে কোনো শরয়ী কারণ ছাড়াই রোযাটি ভেঙ্গে ফেলে। জানার বিষয় হল, উক্ত ব্যক্তিকে কি কাফফারা আদায় করতে হবে, না শুধু কাযা করলেই চলবে। কাযা করতে হলে কয়টি রোযা কাযা করতে হবে?

উত্তর

রোযাটি ভেঙ্গে ফেলার দ্বারা তার উপর কোনো কিছু ওয়াজিব হয়নি। কাফফারাও ওয়াজিব হয়নি। তবে বিনা ওজরে কোনো ইবাদত নষ্ট করা ঠিক নয়। এখন রমযানের ঐ কাযা রোযাটি রাখলেই চলবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৮; মুলতাকাল আবহুর ১/৩৫৪; আননাহরুল ফায়েক ২/২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৫;আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ক) রমযান মাসে দেখা যায় অনেকে কিয়ামুল লায়ল (তাহাজ্জুদ) নামায...

প্রশ্ন

ক) রমযান মাসে দেখা যায় অনেকে কিয়ামুল লায়ল (তাহাজ্জুদ) নামায জামাতের সাথে আদায় করেন। এমনকি মসজিদে হারামেও এই নামায জামাতের সাথে আদায় করা হয়। এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান কী?

খ) তারাবীর নামায ২০ রাকাত, না ৮ রাকাত? সহীহ হাদীস অনুসারে কোনটা ঠিক? রমযান মাসে তারাবীর নামায পড়লে তাহাজ্জুদ নামায পড়ার দরকার আছে কী? বা তাহাজ্জুদ নামায পড়লে তারাবী পড়তে হবে কি? উল্লেখিত বিষয়ে সহীহ মাসআলা হাদীস শরীফের বাংলা তরজমাসহ জানালে খুশি হব।

উত্তর

(ক) পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায, জুমআ ও দুই ঈদের নামায জামাতে আদায় করা হল ইসলামের শিআর। এছাড়া তারাবী, রমযানের বিতর, ইস্তিসকা ও সূর্যগ্রহণের নামায জামাতে আদায় করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত ও সুন্নত। কিন্তু তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য সুন্নত ও নফল নামায শরীয়তের দৃষ্টিতে একাকী ও ঘরে আদায় করার মতো নামায। যে কারণে এগুলোতে আযান-ইকামত এবং জামাতের আয়োজনের বিধান নেই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খোলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কেরামের সাধারণ আমল এমনই ছিল। তারা তাহাজ্জুদ ও নফল ঘরে একাকী আদায় করতেন। আমাদের জানামতে হাদীস ও সীরাতের বর্ণনানুযায়ী গোটা নবী-যুগে একটি অথবা দুটি ঘটনাই এমন পাওয়া যায় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাজ্জুদের নামায শুরু করার পর, কোনো সাহাবী এসে ইক্তিদা করেছেন। এ জাতীয় এক দুটি ঘটনা ছাড়া, (জামাত যেখানে ঘটনাচক্রে হয়ে গিয়েছিল। উপরন' তা ছিল মাত্র এক দুই জনের।) তাহাজ্জুদের জামাতের অন্য কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না।

তাই ফিকহে হানাফীর ফাতাওয়া হল, তাহাজ্জুদের নামায, তা রোযার মাসে পড়া হোক কিংবা অন্য মাসে,একাকী পড়া উচিত। এতে জামাতর পাবন্দি করা ঠিক নয়। তবে কেউ যদি তাহাজ্জুদ নামাযে রত কোনো ব্যক্তির ইক্তিদা করে ফেলে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু এটাকে নিয়মে পরিণত করা খেলাফে সুন্নত।

আর হারামাইন শরীফাইনে তাহাজ্জুদের নামায জামাতে পড়া হয় হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী। কেননা, হাম্বলী মাযহাবে যেকোনো নফল নামায জামাতে পড়া যায়।

মোটকথা, এ প্রসঙ্গে হানাফী মাযহাবের ফাতাওয়া এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তরীকা এবং খোলাফায়ে রাশেদীন, সাহাবায়ে কেরাম ও খাইরুল কুরূনের সাধারণ নিয়ম থেকে সরে তাহাজ্জুদ নামাযে জামাতের প্রচলন করা, বিশেষত কোনো মসজিদে, সঠিক নয়।

নিম্নে নফল নামায জামাতবিহীন একাকী ঘরে পড়া সম্পর্কে কিছু হাদীস পেশ করা হল।

১. হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর রা. বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা ঘরে নামায আদায় কর, ঘরকে কবর বানিও না।’-সহীহ মুসলিম ১/২৬৫

২. হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘হে লোকসকল! তোমরা ঘরে নামায আদায় কর। কেননা, মানুষের সর্বোত্তম নামায হল ঘরের নামায। তবে ফরয নামায ব্যতিত।’

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে সাআদ রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘরে নামায পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমার ঘর মসজিদের কত নিকটে তারপরও আমি ঘরে নামায পড়তে ভালবাসি। তবে ফরয নামায মসজিদে পড়ি।’ (শামায়েলে তিরমিযী ২০)

খ) তারাবী বিশ রাকাত। এটাই সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। চার মাযহাবের ইমামগণ এ বিষয়ে একমত। সাহাবা-যুগ থেকে আজ পর্যন্ত হারামাইন শরীফাইনে এভাবেই তারাবী পড়া হয়েছে। বিশ রাকাতের কম কখনো পড়া হয়নি। বর্তমানে যারা তারাবীর নামায আট রাকাত বলে দাবি করে তারা কিছু ‘মুনকার’রেওয়ায়েত দ্বারা দলিল দিয়ে থাকে, কিংবা তাহাজ্জুদের হাদীসকে তারাবীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে। মারকাযুদ দাওয়াহর দারুত তাসনীফ থেকে এ বিষয়ে একটি পুসি-কা প্রকাশিত হয়েছে। যাতে বিস্তারিত দালিলিক আলোচনা রয়েছে।

তারাবীর নামাযে দীর্ঘ কিরাত পড়ার কারণে তাহাজ্জুদের সময় হয়ে গেলে ভিন্নভাবে তাহাজ্জুদ পড়ার প্রয়োজন নেই। তখন তারাবীহ এর স'লাভিষিক্ত হয়ে যাবে। এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস নিম্নে উল্লেখ করা হল।

১. হযরত নোমান ইবনে বাশীর রা. বলেন, আমরা তেইশ রোযার দিবাগত রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অর্ধ রাত পর্যন্ত নামায পড়ি। অতপর সাতাইশ রোযার দিবাগত রাতে এত দীর্ঘ নামায পড়ি যে, আমাদের সাহরী ছুটে যাওয়ার আশংকা হল।’ (কিয়ামুল লাইল, শায়খ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে নসর ১৯৬)

২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর রা. বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমরা রোযার মাসে রাতের নামায থেকে এমন সময় ফিরতাম যে, সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আশংকায় খাদেমকে দ্রুত খানা আনতে বলতাম।

৩. হযরত ওমর রা., তাঁর খেলাফত আমলে উবাই ইবনে কা’ব রা. ও তামীম দারী রা.কে রমযানের রাতের নামায পড়াতে আদেশ করলেন। কারীগণ এত লম্বা কিরাত পড়তেন যে, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার কারণে আমরা লাঠির উপর ভর করে দাঁড়াতাম। আর আমরা বাড়ি ফিরতাম সুবহে সাদিকের কিছু পূর্বে। (কিয়ামুল লাইল ২০৩)

যদি তারাবী ইশার পর প্রথম রাতে পড়া হয় তাহলে শেষ রাতে অন্যদিনের মতো তাহাজ্জুদ পড়া উচিত। তাহাজ্জুদ পুরো বছরের নামায এবং তারাবী থেকে ভিন্ন নামায।

রশীদ আহমদ গঙ্গুহী রাহ.-এ বিষয়ে স্বতন্ত্র একটি রিসালাহ লিখেছেন। বিষয়টি দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে। আগামী কোনো সংখ্যায় এ বিষয়ে বিস্তারিত লেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

একটি রেওয়ায়েতে আছে, হযরত ওমর রা.-এর যুগে একদিন মুসল্লীরা তারাবী শেষ করে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন তখন হযরত ওমর রা. বললেন, রাতের যে অংশ বাকি রয়ে গেছে তা অধিক উত্তম। অর্থাৎ শেষ রাতেও ইবাদত করা উচিত। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩১)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

হযরত ওমর রা.-এর যুগে যখন তারাবীর ছোট ছোট জামাতগুলোকে এক...

প্রশ্ন

হযরত ওমর রা.-এর যুগে যখন তারাবীর ছোট ছোট জামাতগুলোকে এক ইমামের পিছনে বড় জামাতে রূপান্তরিত করা হয় তখন তারাবী বিশ রাকাত ছিল-এটিই প্রসিদ্ধ। আমরাও এতদিন এমনটিই জানতাম। কিন্তু আমার এক বন্ধু বলল, এই বিষয়ে বিভিন্ন রকমের রেওয়ায়েত আছে। কিছু রেওয়ায়েতে তো বিশ রাকাতের কথাই আছে, যা ‘হাসান’ পর্যায়ের। কিন্তু অন্য রেওয়ায়েতে আট রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতরসহ মোট এগার রাকাতের কথা আছে। আর এই রেওয়ায়েতটি হল ‘সহীহ’ এবং তা মুয়াত্তার রেওয়ায়েত। সে আরো বলল, যেহেতু ‘সহীহ’-এর স্থান ‘হাসান’-এর উপরে তাই আট রাকাত তারাবীহ পড়াই উচিত। আমার বন্ধুর কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আপনার বন্ধুর কথা ঠিক নয়; বরং উসূলে হাদীসের আলোকে বিশ রাকাত তারাবীর রেওয়ায়েতটি ‘মুতাওয়াতির’। খিলাফতে রাশেদা থেকে আজ পর্যন্ত সকল যুগে হারামাইন শরীফাইনে অবিচ্ছিন্নভাবে এই আমল চলে আসছে। সেখানে তারাবীর নামায বিশ রাকাত পড়া হয়। তবে মসজিদে নববীতে কখনো বিশ রাকাতের বেশি পড়া হলেও কম কখনো পড়া হয়নি। তাআমুল ও তারীখের আলোকে এই রেওয়ায়েত মুতাওয়াতির হওয়া-একটি স্বীকৃত বিষয়। এই ধরনের ‘মুতাওয়াতির’কে পরিভাষায় মুতাওয়াতির বিতাওয়াতুরিত তাবাকা’ অথবা ‘মুতাওয়াতির বিতাওয়াতুরিল আমালিল মুতাওয়ারাছ’ বলা হয়। শুধু সনদের বিচারে রেওয়ায়েতটি ‘হাসান লিগায়রিহী’। তবে এমন ‘হাসান লিগায়রিহী’, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহ.-এর ‘মাজমুউল ফাতাওয়া’য় বর্ণিত উসূল মোতাবেক ‘মুতাওয়াতির।’ সে হিসেবে এই মুতাওয়াতির (মা’নাবী) কে মুতাওয়াতির বিতাওয়াতুরিল ইসনাদও বলা যায়।

তাছাড়া সকল যুগের ফকীহ ও সব ধরনের আলেমের স্বতঃস্ফূর্ত গ্রহণের কারণে এই রেওয়ায়েতটি ‘মুতালাক্কা বিলকবূল’ও বটে।

এই তিন প্রকার রেওয়ায়েত অর্থাৎ মুতাওয়াতির বিতাওয়াতুরিত তবাকা, মুতাওয়াতির বিতাওয়াতুরিল ইসনাদ ও খাবারুল ওয়াহিদ আলমুতালাক্কা বিল কবূল হচ্ছে অকাট্যভাবে প্রমাণিত রেওয়ায়েতের অন্তর্ভুক্ত। এর তুলনায় ‘খাবারে ওয়াহিদে সহীহ’ অনেক অনেক নিচের পর্যায়ের বর্ণনা।

আপনার বন্ধু যে রেওয়ায়েতটির কথা বলেছে, তা সহীহ নয়; ‘মা’লুল’ ও ‘মুযতারিব’। কারণ এই হাদীসের মুল রাবী হল, ‘সাইব ইবনে ইয়াযিদ।’ তাঁর সূত্রে এই হাদীসের বর্ণনাকারী তিনজন : ১. হারিস ইবনে আবদুর রহমান ২. ইয়াযিদ ইবনে খুসাইফা ৩. মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ।

প্রথমোক্ত দুই শাগরিদ সাইব ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সে সময় তারাবীহ বিশ রাকাত ছিল।

তবে তৃতীয় শাগরিদ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ তাঁর উস্তাদ সাইব ইবনে ইয়াযিদ-এর সূত্রে কী বর্ণনা করেছেন তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফের শাগরিদদের কেউ এগার রাকাত, কেউ তের রাকাত আবার কেউ একুশ রাকাতের কথা বর্ণনা করেন।

আপনার বন্ধু এগার রাকাতের রেওয়ায়েতটি গ্রহণ করে তা সহীহ বানিয়ে দিয়েছেন। অথচ রেওয়ায়েতটি ‘মুযতারিব।’ কেননা, মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফের অন্যান্য শাগরিদদের রেওয়ায়েত এর বিপরীত।

অতএব মূল রাবী সাইব ইবনে ইয়াযিদ কী বলেছেন তা নির্ণয় করার জন্য মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফের এই রেওয়ায়েতের পরিবর্তে-যাতে রাকাতসংখ্যা অনির্দিষ্ট-অন্য শাগরিদদের রেওয়ায়েত গ্রহণ করতে হবে। এতে কোনো ধরনের ইখতিলাফ ও ইযতিরাব বাকি থাকে না।

পুরো আলোচনাটি ‘ফন্নী’ ভাষায় লেখা হল। কারণ প্রশ্নে আপনি ‘ফন্নী’ পরিভাষা ব্যবহার করেছেন। আপনি আলেম না হলেও আপনার বন্ধু সম্ভবত আলেম। তিনি ইনশাআল্লাহ বুঝতে পারবেন। আলকাউসারের আগামী শাবান-রমযান ১৪৩২ হি. সংখ্যায় এই উত্তরের ব্যাখ্যা সম্বলিত দীর্ঘ প্রবন্ধ লেখার ইচ্ছা রইল। আল্লাহই তাওফীকদাতা।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। ৫ যিলহজ্ব আমার...

প্রশ্ন

আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। ৫ যিলহজ্ব আমার ফ্লাইট। যেহেতু হজ্বের আগে দীর্ঘ সময় থাকতে হবে না তাই আমি হজ্বে কিরান করতে চাচ্ছি। যদি সৌদিতে খুব ঠাণ্ডা পড়ে তবে আমি কি ইহরাম অবস্থায় হাত, পা ও চেহারা চাদর দিয়ে ঢেকে ঘুমাতে পারব?

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় মাথা ও চেহারা ব্যতীত শরীরের বাকি অংশ চাদর দিয়ে ঢাকা জায়েয। আর বিনা ওজরে পূর্ণ একদিন বা এক রাত মাথা বা চেহারা ঢেকে রাখলে দম ওয়াজিব হবে। হ্যাঁ, কোনো ওজরের কারণে ঢাকার অনুমতি আছে। যেমন প্রচণ্ড শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হলে চেহারা ও মাথা ঢেকে রাখতে পারবে তবে এক্ষেত্রেও পূর্ণ এক দিন বা এক রাত চেহারা ঢেকে রাখলে দমে তাখয়ীর ওয়াজিব হবে। অর্থাৎ তিন পদ্ধতির যেকোনো একটি পদ্ধতিতে দম আদায় করা যাবে : ১. বকরি বা দুম্বা জবাই করা ২. তিন সা’ অর্থাৎ ৯.৮১৬ কেজি গম, আটা বা তার সমপরিমাণ মূল্য ছয় জন মিসকীনকে সদকা করে দেওয়া ৩. অথবা তিনটি রোযা রাখা।

উল্লেখ্য, পূর্ণ এক দিন বা পূর্ণ এক রাতের কম সময় ঢাকা থাকলে এক ফিৎরা পরিমাণ টাকা সদকা করে দিবে।

-মানাসিক, মোল্লা আলী পৃ. ৩০৮, ৩৯২; গুনইয়াতুন নাসিক, পৃ. ২৫৪; রদ্দুল মুহতার ২/৪৮৮; তাকরীরাতে রাফেয়ী ২/১৫৯; মিনহাতুল খালিক (আলবাহরুর রায়েক) ২/৩২৪; উমদাতুল ফিকহ ৫/১১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর সময় ঘোষণা করলেন যে, প্রথম...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর সময় ঘোষণা করলেন যে, প্রথম রাকাতে সিজদা আছে। কিন্তু তিনি সেজদার আয়াত পর্যন্ত পৌঁছার আগেই আয়াত ভুলে যান। যেহেতু তিনি সেজদার কথা ঘোষণা করেছেন তাই সেজদার আয়াত না পড়েও ইচ্ছা করে সেজদা করেছেন। তারপর অন্য আয়াত থেকে পড়ে নামায শেষ করেন এবং সাহু সেজদাও করেননি। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহীহ হয়েছে কি না?

উত্তর

সেজদার আয়াত পড়া ছাড়া ইচ্ছাকৃত সেজদা করা গুনাহের কাজ হয়েছে। তবে এর কারণে নামায ভঙ্গ হবে না; বরং সকলের নামায আদায় হয়ে গেছে। ইমামের উচিত তার ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা।

আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৭৫; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৯১; আলমিনহাতুল খালিক ২/৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

হাফেয সাহেবগণ রমযান মাসে তারাবীর নামাযে কুরআন খতম করার পর...

প্রশ্ন

হাফেয সাহেবগণ রমযান মাসে তারাবীর নামাযে কুরআন খতম করার পর সূর বাকারার কিছু অংশ পড়ে থাকেন। এ ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

হাদীস শরীফে কুরআন মজীদ একবার খতম হলে পুনরায় তা শুরু করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং এ নিয়মটি নামাযের বাইরের তেলাওয়াতে যেমন মুস্তাহাব তেমনিভাবে নামাযের খতমেও অনুসরণীয়। অবশ্য ১৯ তম রাকাতে খতম করে ২০ তম রাকাতে শুরু থেকে পড়ার চেয়ে উত্তম হল, ১৮ তম রাকাতে খতম করে শেষ দুই রাকাতে শুরু থেকে কিছু অংশ তিলাওয়াত করা। যেন প্রথম ও দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের ধারাবাহিকতা বহাল থাকে।

-জামে তিরমিযী ২/১৪৩; আলইতকান ১/৩০০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৫০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে তারাবীর নামায নাবালেগ হাফেযের পিছনে পড়া জায়েয আছে...

প্রশ্ন

রমযান মাসে তারাবীর নামায নাবালেগ হাফেযের পিছনে পড়া জায়েয আছে কি? যদি না থাকে তাহলে যে নামাযগুলো নাবালেগ হাফেযের পিছনে পড়া হয়েছে তা কি কাযা করতে হবে কি? গত রমযানে আমাদের দুই হাফেযের একজন নাবালেগ ছিল।

উত্তর

তারাবীর নামাযেও নাবালেগের পিছনে বালেগের ইকতিদা সহীহ নয়। অবশ্য তারাবীর যেহেতু কাযা নেই তাই বিগত দিনের তারাবী কাযা করতে হবে না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/২০৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৯৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৬; হাশিয়া তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ২৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/১৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার...

প্রশ্ন

আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। রাতে এবং দিনে মোট চারবার ইনহেলার নিতে হয়। তাই জানতে চাই, ইনহেলার ব্যবহারের দ্বারা রোযার কোনো ক্ষতি হয় কি না? যদি রোযা ভেঙ্গে যায় তাহলে আমি কি রোযা রাখতে পারব না? আমি কি দিনের বেলা খানাপিনা করতে পারব? এ বিষয়ে আমি খুবই চিন্তিত। একেকজন একেক ধরনের মত দিয়ে থাকে।

উত্তর

রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই সাহরীর শেষ সময় এবং ইফতারের প্রথম সময় ইনহেলার ব্যবহার করলে যদি চলে তবে রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। তবে অসুস্থতা বেশি হওয়ার কারণে দিনেও ব্যবহার করা জরুরি হলে তখন ব্যবহার করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় হল :

১. আপনি রমযানের রোযা রাখবেন।

২. উক্ত উযরে ইনহেলার ব্যবহার করলেও অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকবেন।

৩. পরবর্তীতে রোগ ভালো হলে এর কাযা করে নিবেন।

৪. ওজর যদি সারা বছর থাকে তাহলে ফিদয়া আদায় করবেন।

সূরা বাকারা : ১৮৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৮২; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬১;রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লাতুল মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ১০, ভলিয়ম ২, পৃষ্ঠা ৩১-৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪২৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

সামনে রমযান মাস। এ মাসের পরিপূর্ণ বরকত, রহমত ও ফযীলত...

প্রশ্ন

সামনে রমযান মাস। এ মাসের পরিপূর্ণ বরকত, রহমত ও ফযীলত কীভাবে হাসিল করা যাবে সে ব্যাপারে জানতে চাই।

উত্তর

মাহে রমযান বছরের বাকি এগারো মাস অপেক্ষা অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে ইরশাদ করেন, (তরজমা) রমযান মাসই হল সে মাস যাতে নাযিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।-সূরা বাকারা : ১৮৫

হাদীস শরীফে এসেছে, যখন রমযানের আগমন হয় তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানদেরকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। -সহীহ বুখারী হাদীস : ১৮৯৯

অন্য হাদীসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যহ ইফতারের সময় অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন।- মুসনাদে আহমদ হাদীস ২১৬৯৮

তাই এ মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের মাস এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত হাসিলের মাস। সুতরাং বেশি বেশি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা এবং তাওবা-ইস্তেগফারের মাধ্যমে মুক্তির সনদ লাভে সচেষ্ট হওয়া কর্তব্য।

এ মাসের রোযাকে আল্লাহ তাআলা ফরয করেছেন। তাই প্রত্যেক সুস্থ ও বালিগ মুসলিম নর-নারীর জন্য রোযা রাখা অপরিহার্য। বলাবাহুল্য যে, ফরয ইবাদতের মাধ্যমেই বান্দা আল্লাহ তাআলার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জন করে।

রমযানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হচ্ছে তারাবী। রমযানের বরকতময় রজনীতে বিশ রাকাত তারাবীর নামায আদায়ে যত্নবান হওয়া উচিত। রমযান মাস হচ্ছে কুরআন নাযিলের মাস। তাই কুরআন মজীদ শ্রবণের জন্য এবং এই পুণ্যময় রজনীতে আল্লাহর সান্নিধ্যে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য তারাবী নামাযের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া কর্তব্য। অন্য সময়ও ব্যক্তিগতভাবে অধিক পরিমাণে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত করা উচিত।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামায। এ মাসে যেহেতু সাহরী খাওয়ার সুবাদে সুবহে সাদিকের পূর্বেই সবাইকে উঠতে হয় তাই এ সুযোগে তাহাজ্জুদের ইহতিমাম করা সহজ। হাদীস শরীফে তাহাজ্জুদের অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। তদ্রূপ সাধ্যমতো দান-সদকা করা উচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ মাসে অনেক বেশি দান-সদকা করতেন।

এসব নেক আমলের পাশাপাশি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাও অপরিহার্য। রমযান মাস হচ্ছে তাকওয়া ও পরহেযগারী অর্জনের মাস। আল্লাহ তাআলা রোযাকে ফরয করেছেন তাকওয়া অর্জনের জন্য। হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, গুনাহ থেকে সর্বোতভাবে বেঁচে থাকা ছাড়া রোযা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই রোযাকে নিখুঁতভাবে আদায়ের উদ্দেশ্যে মুমিন যখন গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে তখন আল্লাহ তাআলা নিজ অনুগ্রহে তাকে তাকওয়া ও পরহেযগারীর শক্তি দান করেন। এজন্য সকল গুনাহ থেকে, বিশেষ করে গীবত, শেকায়েত, কুদৃষ্টি, কুচিন্তা, হারাম পানাহার ইত্যাদি থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের একান্ত কর্তব্য।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি...

প্রশ্ন

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় যখন জায়েয তখন খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেজ সাহেবকে যদি দু’এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ কি না?

উত্তর

খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য হিলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতমে তারাবীহ খালেস একটি ইবাদত, যা নামায ও রোযার মতো ইবাদতে মাকসূদা’-এর অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐকমত্যের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।

ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয, কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলত খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহ্‌র নিকট হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহ্‌গণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরযের ইমামতি। সুন্নাত জামাতের ইমামতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর হাফেযদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হিলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু-এক ওয়াক্ত নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানামাত্র; যা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই হিলার যে বিমিনয়টা তাকে ফরযের ইমাতির জন্য দেওয়া হচ্ছে আর তারাবীর খতম সে বিনিময়হীনভাবেই করে দিচ্ছে। কিন' আপনার মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেও আদায় করেন আর খতম তারাবীতে অংশগ্রহণ না করেন তবে কি তাঁকে ওই বিনিময় দেওয়া হবে, যা খতম তারাবী পড়ালে দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হবে না। বোঝা গেল, বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর, ফরযের ইমামতির নয়।

এ জন্যই আকাবিরের অনেকে এই হিলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলীলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতওয়াই সহীহ।

দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

নিচে এ বিষয়ে কিছু হাদীস, আছারের অনুবাদ ও ফিকহের উদ্ধৃতি পেশ করা হল।

১. হযরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।’-মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৪০; কিতাবুত তারাবীহ

২. ইমরান ইবনে হোসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।’-মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭; জামে তিরমিযী ২/১১৯

৩. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রাহ. তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৫/২৩৭

আরো দেখুন : ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়া হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আলইখতিয়ার লিতা’লীলিল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়াবাল্লুল গালীল (রাসায়েলে ইবনে ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯ ও ৩২২; রাফেউল ইশকালাত আনহুরমাতিল ইস্তিজার আলাত্তাআত, মুফতিয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.