Login | Register

ফতোয়া: রোজা-ইতিকাফ

ফতোয়া নং: ৬৩০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ইতিকাফের ফযীলত সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীসটি সহীহ কি না জানিয়ে বাধিত...

প্রশ্ন

ইতিকাফের ফযীলত সম্পর্কিত নিম্নোক্ত হাদীসটি সহীহ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন। হাদীসটি হল, যে ব্যক্তি রমযানের দশদিন ইতিকাফ করল সে যেন দুই হজ্ব ও দুই উমরাহ করল। একজন আলেম বলেছেন, এই বর্ণনাটি উৎসাহ দেওয়ার জন্য কেউ হয়ত বলেছেন এটি হাদীস নয়।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনাটি ঠিক নয়। এটি একটি মুনকার বর্ণনা। এটি ইমাম তবারানী রাহ.-এর আলমুজামুল কাবীর গ্রন্থে (বর্ণনা নং ২৮৮৮) এবং ইমাম বায়হাকী রহা.-এর শুআবুল ঈমান গ্রন্থে (বর্ণনা নং ৩৯৬৬-৬৭) উলেখ আছে।

কিন্তু হাদীস বিশারদগণের নিকট বর্ণনাটি সনদের বিচারে মানোত্তীর্ণ নয়। এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনে যাযান ও আনবাসা ইবনে আবদুর রহমান নামে দু’জন ব্যক্তি রয়েছে, যাদের সম্পর্কে জরহ-তাদীল শাস্ত্রের ইমামগণের বিভিন্ন আপত্তি আছে।

আলামা মুনাবী রাহ. উক্ত হাদীস সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ফয়যুল কাদীর গ্রন্থে বলেছেন, উক্ত বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনে যাযান নামে একজন রাবী আছেন, যিনি মাতরুক (পরিত্যাজ্য)। এছাড়া এতে আনবাসা ইবনে আবদুর রহমান রয়েছে, যাকে ইমাম বুখারী রাহ. মাতরুক বলেছেন। আর ইমাম যাহাবী রাহ. তাকে জাল বর্ণনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন।

সুতরাং ইতিকাফের ফযীলত সম্পর্কিত প্রশ্নোক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এটি মানুষের মাঝে বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে রমযানের শেষ দশকের ইতিকাফ অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ সুন্নত আমল। রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা তা প্রমাণিত। এক রমযানে কোনো কারণে তিনি ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর তিনি বিশদিন ইতিকাফ করেছেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৬৮

তাই প্রশ্নোক্ত ফযীলতের বর্ণনাটি বিশুদ্ধ না হলেও ইতিকাফ যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ ইবাদত তা রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম-এর বাস্তব আমল দ্বারা সহজেই অনুমেয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি ইন্টারে পড়ি। কোনো কোনো রমযানে আমাদের পরীক্ষা হয়ে থাকে।...

প্রশ্ন

আমি ইন্টারে পড়ি। কোনো কোনো রমযানে আমাদের পরীক্ষা হয়ে থাকে। আমার অনেক বন্ধুরা রোযা রাখে না। তাদের অভিভাবকরা নাকি বলে যে, পরীক্ষার সময় রোযা না রাখলে কিছু হয় না।

আমি জানতে চাই, বন্ধুদের অভিভাবকদের ঐ কথা ঠিক কি না। পরীক্ষার সময় রোযা না রাখার সুযোগ আছে কি? দয়া করে আলকাউসারে উত্তরটি ছাপলে আমাদের সকলের উপকার হবে। আল্লাহ আপনাদের কবুল করুন।

উত্তর

অভিভাবকদের ঐ কথা ঠিক নয়। প্রাপ্তবয়ষ্ক, সুস্থ ব্যক্তির উপর রমযানের রোযা ফরয। পরীক্ষার কারণে রোযা বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পরীক্ষার অজুহাতে রোযা না রাখলে ফরয ছেড়ে দেওয়ার গুনাহ হবে। তাই রমযানে পরীক্ষা হলে পূর্বে থেকেই পরীক্ষার জন্য প্রস্ত্ততি নিবে যেন রোযা রেখে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে না হয়।

উল্লেখ্য, রমযান মাস রোযা ও ইবাদত-বন্দেগীর মাস। তাই রোযা রেখে ছাত্ররা যেন ভারি পরীক্ষার চাপে না পড়ে সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও খেয়াল রাখা দরকার।

-সূরা বাকারা : ১৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার নানা ও নানী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ইন্তিকাল করেন।...

প্রশ্ন

আমার নানা ও নানী দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ইন্তিকাল করেন। তাদের নামায ও রোযার কাফফারা বাবদ প্রায় ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা কাফফারা আসে। এখন তাদের সন্তানরা পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় যে, আমরা কাফফারা বাবদ পাঁচ লক্ষ টাকা সমমূল্যের এক খন্ড জমি মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিব। আর সেই জমিটি আমরা আবাদ করে তার ফসল মাদরাসায় জমা দিব।

এখন প্রশ্ন হল, নামায-রোযার কাফফারা হিসেবে মাদরাসার নামে জমি ওয়াকফ করার দ্বারা কাফফারা আদায় সঠিক হবে কি না এবং সেই ওয়াকফকৃত জমি ওয়াকফকারীদের নিয়ন্ত্রনে রাখা সঠিক হবে কি না? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উল্লেখ্য যে, আমার নানা-নানী তাদের কাফফারা আদায়ের জন্য অসিয়ত করে যাননি।

উত্তর

কাফফারা বা ফিদয়া আদায়ের জন্য ফকীর-মিসকীনকে মালিক বানিয় দিতে হয়। কিন্তু যেহেতু উনারা কাফফারার জন্য অসিয়ত করে যাননি সেজন্য প্রশ্নোক্ত প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এতে ব্যয়কৃত অর্থ কাফফারা হিসেবে ধর্তব্য না হলেও মৃতদ্বয়ের জন্য সদকায়ে জারিয়া বিবেচিত হবে।

আর মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিতে চাইলে তাতে মাদরাসার পূর্ণ কর্তৃত্ব ও ভোগদখলের পূর্ণ স্বাধীনতার সাথে দিয়ে দেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য যে, ব্যয়কৃত অর্থ-সম্পদ যদি আপনার নানা-নানীর মীরাসের অংশ হয়ে থাকে তাহলে তা ব্যয় করার জন্য সকল ওয়ারিশদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি জরুরি এবং কোনো ওয়ারিশ নাবালেগ থাকলে তার অংশ থেকে কিছু নেওয়া যাবে না।

-রদ্দুল মুহতার ২/৩৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৫; কিফায়াতুল মুফতী ৬/৩৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ছেহেনে রমযান মাসে দানশীল ব্যক্তিগণ...

প্রশ্ন

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ছেহেনে রমযান মাসে দানশীল ব্যক্তিগণ রোযাদারদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ইফতারের ব্যবস্থা করে থাকেন। বিশাল-বিশাল দস্তরখান বিছানো হয়। তাতে রোযাদারদেরকে উন্মুক্ত ও ব্যাপক আমন্ত্রণ জানানো হয়। জানার বিষয় হল, যদি কেউ সেখানে সুন্নত ইতিকাফে বসেন তাহলে তার জন্য কি এসব ইফতার ছেড়ে ছেহেনের বাইরে একটু দূরে গিয়ে হোটেলে ইফতার করা জায়েয হবে?

উত্তর

ইতিকাফকারীর জন্য মসজিদের ছেহেনের ইফতারিতে অংশগ্রহণ করা জরুরি নয়। ছেহেনের খাবার থাকা সত্ত্বেও ইতিকাফকারী চাইলে বাইরে হোটেলে গিয়ে ইফতার নিয়ে আসতে পারবে। এ কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হবে না বা ত্রুটিপূর্ণও হবে না।

উল্লেখ্য, ইতিকাফকারীর জন্য খাবার এনে দেওয়ার কোনো লোক থাকলে তখন খাবারের জন্য ইতিকাফকারী নিজে মসজিদের বাইরে যেতে পারবে না।

-রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২; আলবাহরু রায়েক ২/৩০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

হস্তমৈথুনের কারণে রোযা নষ্ট হবে কি না? যদি রোযা নষ্ট...

প্রশ্ন

হস্তমৈথুনের কারণে রোযা নষ্ট হবে কি না? যদি রোযা নষ্ট হয় তাহলে রমযানে কেউ এমনটি করলে উক্ত রোযার কাযা ও কাফফারা উভয়টি দেওয়া লাগবে নাকি শুধু কাযা করে নিলেই যথেষ্ট হবে?

উত্তর

হাত বা অন্য কোনো বস্ত্তর মাধ্যমে বীর্যপাত ঘটালে রোযা ভেঙ্গে যাবে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে এর কাযা আদায় করা জরুরি হবে। তবে কাফফারা আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য, হস্তমৈথুন মারাত্মক গুনাহের কাজ। আর রোযা অবস্থায় এর ভয়াবহতা আরো বেশি। সর্বদা এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৩৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।...

প্রশ্ন

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি। কিন্তু সমস্যা হল মসজিদের কোনো ইস্তেঞ্জাখানা নেই। এ অবস্থায় বাসায় এসে জরুরত সারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। তাই বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে মসজিদে এসে অযু করি এবং এভাবে দশ দিন অতিবাহিত করি। জানতে চাই, এভাবে আমার ইতিকাফ কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়েছে। কেননা ইস্তেঞ্জার জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয। আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে এজন্য বাসা-বাড়িতে যাওয়াও জায়েয। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।

-সহীহ বুখারী ১/২৭২; সহীহ মুসলিম ১/১৪২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১১৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক মহিলা কোনো কারণবশত রমযানের একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলেছিল। এখন...

প্রশ্ন

এক মহিলা কোনো কারণবশত রমযানের একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলেছিল। এখন সে এর কাফফারা আদায় করবে। কিন্তু মহিলাদের তো মাঝে বিরতির দিন থাকে। তখন তারা রোযা রাখতে পারে না। অথচ আমরা জানি, কাফফারার রোযা বিরতি না দিয়ে লাগাতার ষাট দিন রাখা জরুরি। এখন প্রশ্ন হল, ঐ মহিলা কীভাবে কাফফারার রোযা রাখবে?

উত্তর

কাফফারার রোযা আদায়ের মাঝে যদি হায়েয (মাসিক স্রাব) এসে যায় তাহলে পবিত্র হওয়ার পর কোনো দিন বাদ না দিয়ে লাগাতার ষাটটি রোযা পূর্ণ করবে। তাই কাফফারার রোযা শুরু করার পর থেকে শেষ পর্যন্ত হায়েযের দিনগুলো ছাড়া মাঝে অন্য কোনো দিন বিরতি না দিলে তার কাফফারার রোযা আদায় হয়ে যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/১৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখার নিয়ম কী? এগুলো এক সাথে...

প্রশ্ন

শাওয়াল মাসের ছয় রোযা রাখার নিয়ম কী? এগুলো এক সাথে লাগাতার ছয় দিন রাখা জরুরি, না মাঝে বিরতি দিয়ে রাখা যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

শাওয়ালের ছয় রোযা ধারাবাহিকভাবে একত্রে রাখা যায়, আবার বিরতি দিয়েও রাখা যায়। যেভাবেই রাখা হোক তা আদায় হয়ে যাবে এবং নির্ধারিত ফযীলতও লাভ হবে।

-লাতাইফুল মাআরিফ ৪৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৫; আলমাজমূ ৬/৪২৬-৪২৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬২; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৮৭; আলমুগনী ৪/৪৩৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি ধুমপানে অভ্যস্ত। গত রমযান মাসে রোযা অবস্থায়ও যখন ধুমপান...

প্রশ্ন

আমি ধুমপানে অভ্যস্ত। গত রমযান মাসে রোযা অবস্থায়ও যখন ধুমপান না করার কারণে অস্থিরতা অনুভব হয়েছে তখন একদিন সামান্য ধুমপান করেছি। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে?

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ রোযা ভেঙ্গে গেছে। কেননা সামান্য পরিমাণ ধুমপান করলেও রোযা ভেঙ্গে যায়। আর স্বেচ্ছায় ধুমপান করার কারণে আপনার উপর ঐ রোযার কাযা এবং কাফফারা উভয়টি আদায় করা ওয়াজিব হয়েছে।

(দেখুন : আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৫০; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৮১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব প্রতি বছর ইতিকাফে বসেন। এবারও তার...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব প্রতি বছর ইতিকাফে বসেন। এবারও তার ইতিকাফে বসার ইচ্ছা আছে। আমাদের মসজিদের বাইরে মুয়াযযিন সাহেবের কামরা। সে কামরায় মসজিদের মাইক আছে। আযান দিলে সেখানে গিয়ে দিতে হবে। প্রশ্ন হল, ইতিকাফ অবস্থায় মুয়াযযিন সাহেব আযান দেওয়ার জন্য তার কামরায় যেতে পারবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, আযান দেওয়ার জন্য ইতিকাফকারী মুয়াযযিনের কামরায় যাওয়া জায়েয। এ কারণে ইতিকাফ নষ্ট হবে না।

(দেখুন : আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কেউ যদি টিকা বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে এতে...

প্রশ্ন

রোযা অবস্থায় কেউ যদি টিকা বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে এতে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

টিকা বা ইঞ্জেকশন নেওয়ার কারণে রোযা ভাঙ্গে না। তবে অসুস্থতা ছাড়া গ্লুকোজ জাতীয় ইঞ্জেকশন (যা খাবারের কাজ দেয়) নেওয়া মাকরূহ তাহরীমী।

(দেখুন : আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; মাজাল্লা মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ১০, ২/৯৪)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি গত রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসে। কয়েকদিন পর...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি গত রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফে বসে। কয়েকদিন পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে ইতিকাফ ছেড়ে বাড়িতে চলে আসতে হয়েছে। যার কারণে পরবর্তী দিনগুলোতে ইতিকাফ করা সম্ভব হয়নি। জানার বিষয় হল, এখন তার কী করণীয়? ইতিকাফটি তাকে কাযা করতে হবে কি না? কাযা করতে হলে সামনের রমযানে বা অন্য কোন সময় কাযা করতে পারবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তিকে একদিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে। আর তা সামনের রমযানেও কাযা করতে পারবে। এজন্য সে কোন একদিন সূর্যাস্তের পর থেকে পরের দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে ইতিকাফ করবে। অবশ্য রমযানের বাইরে ইতিকাফটি কাযা করতে চাইলে দিনের বেলা নফল রোযাও রাখতে হবে।

(দেখুন : রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৪-৪৪৫; আহকামে ইতিকাফ ৫০)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় গোসল করতে গিয়ে আমার কানে পানি ঢুকে গেছে।...

প্রশ্ন

রোযা অবস্থায় গোসল করতে গিয়ে আমার কানে পানি ঢুকে গেছে। এতে আমার রোযার কোন সমস্যা হয়েছে কি? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

রোযা অবস্থায় কানের ভেতর পানি, তেল ইত্যাদি গেলে রোযার ক্ষতি হয় না। তাই আপনার ঐ রোযা আদায় হয়ে গেছে।

(দেখুন : আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৮-২৭৯); ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৭; যাবিতুল মুফাততিরাত, পৃ. ৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এ সময়...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি অসুস্থতার কারণে চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এ সময় ওষুধের তিক্ততা গলায় অনুভব করে। প্রশ্ন হল, রোযা অবস্থায় এ ধরনের ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে কি? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করার কারণে গলায় ওষুধের তিক্ততা অনুভূত হলেও রোযা নষ্ট হয় না। সুতরাং রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করতে কোন অসুবিধা নেই।

(দেখুন : ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

নাবালেগ ছেলে মেয়ে যদি রমযানের রোযা রেখে তা ভেঙ্গে ফেলে...

প্রশ্ন

নাবালেগ ছেলে মেয়ে যদি রমযানের রোযা রেখে তা ভেঙ্গে ফেলে তাহলে কাযা করতে হবে কি না? জানালে কৃতার্থ হব।

উত্তর

না, নাবালেগ ছেলে মেয়ের উপর যেহেতু রোযা ফরয নয় তাই তারা রমযানেও কোন রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেললে তা কাযা করতে হবে না।

-জামেউ আহকামিস সীগার ১/৫৯; হেদায়া ১/২২৩; আলইনায়াহ ২/২৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে একদিন আমি অসুস্থ ছিলাম। রোযা অবস্থায় হঠাৎ আমার...

প্রশ্ন

গত রমযানে একদিন আমি অসুস্থ ছিলাম। রোযা অবস্থায় হঠাৎ আমার বমি এসে যায়। তখন এক লোক বলল, আপনার রোযা ভেঙ্গে গেছে। তার কথা শুনে আমি সন্দিহান হয়ে পড়ি। আসলেই কি আমার ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে?

উত্তর

না, আপনার ঐ রোযা ভাঙ্গেনি। কেননা রোযা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোযা নষ্ট হয় না।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৪/২১৫; কিতাবুল আসল ২/১৯২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানের দশ তারিখ দুপুরে আমার ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। বাধ্য...

প্রশ্ন

গত রমযানের দশ তারিখ দুপুরে আমার ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে বিকেলে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করি। জানতে চাই, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে?

উত্তর

না, এ কারণে আপনার রোযা ভাঙ্গেনি।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; মাজাল্লা মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা : ১০, ২/৯৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৫৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযানের প্রথম কয়দিন আমার খুবই পিপাসা লাগে। তখন আমি ঘন...

প্রশ্ন

রমযানের প্রথম কয়দিন আমার খুবই পিপাসা লাগে। তখন আমি ঘন ঘন কুলি করি। ফলে কষ্ট কিছুটা কমে। আমার জন্য তা করা কি ঠিক?

উত্তর

রোযার কারণে পিপাসায় কষ্ট হলে সওয়াবও বেশি হবে। এ সময় বেশি অস্থিরতা প্রকাশ করা ঠিক নয়। তদ্রূপ রোযা অবস্থায় ঘন ঘন কুলি করা বা বারবার মুখে পানি দেওয়াও অনুচিত। অবশ্য এ কারণে গলাতে পানি না গেলে রোযা নষ্ট হবে না।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৩৮; সুনানে আবু দাউদ ৩/১৫৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৬/২৪১; সুনানে আবু দাউদ ৩/১৫২; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৯৫; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া ৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও...

প্রশ্ন

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও গ্রীষ্মে টানা দু মাস রাত ও দু মাস দিন থাকে। তাই জানার বিষয় হল, রমযানে কীভাবে রোযা রাখব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নিকটতম পার্শ্ববর্তী যেদেশে চবিবশ ঘণ্টা হিসাবে স্বাভাবিক নিয়মে দিন রাত হয় সে দেশের সময়সূচি অনুযায়ী নামায রোযা আদায় করবেন।

-রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৬; তুহফাতুল মুহতাজ ২/১৯; আলমাজমূ ৩/৪৩; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/১৯; মাজমুআতুল ফাতাওয়াশ শারঈয়াহ ১৪/১০৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক হাফেয সাহেব তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের পর তখনই...

প্রশ্ন

জনৈক হাফেয সাহেব তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের পর তখনই সিজদা আদায় করে। কিন্তু সিজদা থেকে উঠার পর ভুলে ঐ সিজদার আয়াত আবারও তিলাওয়াত করে। এখন এর জন্য কি পুনরায় সিজদা করা ওয়াজিব হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

না, এক্ষেত্রে পুনরায় সিজদায়ে তিলাওয়াত করতে হবে না। কেননা নামাযের কোন রাকাতে একটি সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা করার পর পরবর্তীতে ঐ আয়াত পুনরায় পড়লেও নতুন করে সিজদা ওয়াজিব হয় না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৩/৩৮৫; কিতাবুল আসল ১/৩১২; আলজামিউল কাবীর ১০; শরহুল মুনইয়া ৫০৩; রদ্দুল মুহতার ২/১১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি শুনেছি, রোযা অবস্থায় আগর বাতির ধোঁয়া নাকে গেলে রোযা...

প্রশ্ন

আমি শুনেছি, রোযা অবস্থায় আগর বাতির ধোঁয়া নাকে গেলে রোযা ভেঙ্গে যায়। এ কথা কি সঠিক?

উত্তর

না, ঐ কথা ঠিক নয়। রোযা অবস্থায় নাকে বা মুখে ধোঁয়া চলে গেলে রোযার কোনো ক্ষতি হয় না। তবে ইচ্ছাকৃত আগর বাতি কিংবা অন্য কিছুর ধোঁয়া কেউ নাক বা মুখ দিয়ে টেনে নিলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। অবশ্য আগর বাতি, কয়েল ইত্যাদির শুধু ঘ্রাণ নিলে কোনো অবস্থাতেই রোযা ভাঙবে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫; মারাকিল ফালাহ ৩৬১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৪৫০; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

চক্ষুপীড়ার কারণে রোযা থাকা সত্ত্বেও চোখে ঔষুধ ব্যবহার করেছি। জানার...

প্রশ্ন

চক্ষুপীড়ার কারণে রোযা থাকা সত্ত্বেও চোখে ঔষুধ ব্যবহার করেছি। জানার বিষয় হল, এতে আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে কি?

উত্তর

না। এ কারণে আপনার রোযা ভাঙ্গেনি। কারণ চোখে ঔষুধ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হয় না। এমনকি চোখে ব্যবহৃত ওষধের স্বাদ বা তিক্ততা গলায় অনুভূত হলেও রোযার ক্ষতি হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

প্রশ্ন : আমি ছোটবেলা থেকেই প্রতিবছর রমযানের সবকটি রোযা রেখে...

প্রশ্ন

প্রশ্ন : আমি ছোটবেলা থেকেই প্রতিবছর রমযানের সবকটি রোযা রেখে আসছি। কিন্তু গতবছর বন্ধুদের তালে পড়ে দুদিন রোযা অবস্থায় খেয়ে ফেলি। এর জন্য আমি খুবই অনুতপ্ত। এখন আমাকে এ দুটির পরিবর্তে কয়টি রোযা রাখতে হবে? এবং কীভাবে রাখতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাকে দুটি রোযা কাযা করতে হবে এবং উভয়ের জন্য একটি কাফফারা আদায় করতে হবে। কাফফারার পদ্ধতি হল, রমযান ছাড়া লাগাতার পূর্ণ দু’ মাস রোযা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে চান্দ্র মাসের প্রথম তারিখ থেকে রোযা রাখলে কোনো মাস ত্রিশ দিনের কম হলেও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। আর এ দু’ মাসের মধ্যে ইচ্ছাকৃত কিংবা ওজরবশত কোনো রোযা ভেঙ্গে ফেললে কাফফারা আদায় হবে না। এক্ষেত্রে পুনরায় নতুন করে দু’ মাস রোযা রাখতে হবে। আর যদি কারো লাগাতার দু মাস রোযা রাখার শক্তি-সামর্থ্য না থাকে তাহলে ষাটজন মিসকীনকে দু’ বেলা খাওয়াবে অথবা তার মূল্য প্রদান করবে।

প্রকাশ থাকে যে, রমযানুল মুবারকে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গা অনেক বড় গুনাহ। এর জন্য আল্লাহ তাআলার দরবারে

ইস্তিগফার করা আবশ্যক।

হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ওজর ও অসুস্থতা ছাড়া ইচ্ছাকৃত রমযানের কোনো রোযা ভেঙ্গে ফেলে সে আজীবন রোযা রাখলেও তার সমতুল্য হবে না।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১০০৮১; সহীহ বুখারী ১/২৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪১৩, ৩/৪৭৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৩০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ৩৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার নিয়ম কী? এগুলো একসাথে লাগাতার ছয়...

প্রশ্ন

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার নিয়ম কী? এগুলো একসাথে লাগাতার ছয় দিনে রাখা হবে, না মাঝে বিরতি দিয়ে রাখা যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে ধারাবাহিকভাবেও রাখা যায়, আবার মাঝে বিরতি দিয়েও রাখা যায়। যেভাবেই রাখা হোক নির্ধারিত ফযীলত পাওয়া যাবে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১১৬৪; মুসনাদে আহমদ ৩৭/৯৪; লাতায়েফুল মাআরিফ ৪৮৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২১৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬২; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৮৭; আলইনসাফ ৩/৩৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ক) এ বিভাগের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, খতম তারাবীহর বিনিময়ে টাকা...

প্রশ্ন

ক) এ বিভাগের মাধ্যমে আমরা জেনেছি, খতম তারাবীহর বিনিময়ে টাকা দেয়া-নেয়া নাজায়েয। কোনো কোনো মসজিদে এশার নামায ও বিতর নামায আদায় করার শর্ত রেখে হাফেয সাহেবগণকে টাকা দেওয়া হয় এবং এ পদ্ধতিকে জায়েয মনে করা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে হাদিয়া/টাকা দেওয়া জায়েয হবে কি? আর যে সমস্ত মসজিদে সূরা তারাবীহ হয় সে সমস্ত মসজিদেও তারাবীর হাদিয়া স্বরূপ টাকা পয়সা কালেকশন করা এবং টাকা দেওয়া হলে তা কি জায়েয হবে?

খ) মসজিদে ঘড়ি থাকলে এবং সময়সূচিতে জামাতের সময় নির্ধারিত থাকলে ঐ সময় অনুযায়ী নামায না পড়িয়ে ইমাম ২/৩ মিনিট দেরিতে নামায শুরু করার অথবা ইমামের জন্য ২/৫ মিনিট অপেক্ষা করার সুযোগ কি শরীয়তে আছে? একজন ইমাম সাহেব বলেছেন, ইমামের জন্য ৩/৫ মিনিট অপেক্ষা করার নিয়ম রয়েছে। কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

ক) তারাবীহর হাফেয সাহেবদেরকে দিয়ে ইশা ও বিতর পড়িয়ে হাদিয়া দেওয়া-নেওয়া লেনদেনের একটি অপকৌশলমাত্র। একজন লোক শুধু এক ওয়াক্ত নামায পড়ালে তাকে এতগুলো টাকা বেতন দেওয়া হয় না-এ কথা সবাই বুঝে। এ ধরনের হীলা-বাহানার পথ পরিহার করাই কর্তব্য।-ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

আর আমাদের মতে সূরা তারাবীহর ইমামতির ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং এর জন্যও পৃথক কোনো হাদিয়া দেওয়া-নেওয়া যাবে না।

খ) জামাতের নির্ধারিত সময়ের রেয়ায়েত করা ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মুসল্লী সকলের দায়িত্ব। বিশেষ কোনো ওজর ছাড়া এর ব্যত্যয় ঘটানো এক ধরনের দায়িত্বে অবহেলার শামিল। তাই এ ব্যাপারে সকলের সচেতন থাকা উচিত। অবশ্য কোনো ইমাম সাহেব কখনো একটু বিলম্বে আসলে অথবা দেরিতে নামায শুরু করলে মুসল্লীগণের উচিত তা সহজে মেনে নেওয়া। এ নিয়ে ইমামের সাথে তর্কে লিপ্ত হওয়া মুসল্লীর জন্য অনাধিকার চর্চা।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার ছোট মামার ছেলে গত বছর হেফয শেষ করেছে। বর্তমানে...

প্রশ্ন

আমার ছোট মামার ছেলে গত বছর হেফয শেষ করেছে। বর্তমানে তার বয়স এগার বছর। গত রমযানে সে গ্রামের মসজিদে তারাবীহ পড়িয়েছে। সে বাড়িতে আসলে তাকে কেউ কেউ ওয়াক্তিয়া নামাযেও ইমামতি করতে বলে। কিন্তু আমি বাধা দেই। তাকে ইমাম বানানো যাবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

নাবালেগের ইমামতি সহীহ নয়। তারাবীহ এবং ওয়াক্তিয়া কোনো নামাযেই নাবালেগকে ইমাম বানানো যাবে না। হযরত আতা রাহ. এবং ওমর ইবনে আবদুল আযীয রাহ. থেকে বর্ণিত আছে যে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে ইমামতি করবে না। ফরয নামাযেও নয় এবং অন্য নামাযেও নয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৫২৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৫৯; হেদায়া ১/১২৪; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৭; আততাজরীদ ২/৮৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি রমযানুল মুবারকের শেষ দশকে মহল্লার মসজিদে ইতিকাফে বসেছে।...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানুল মুবারকের শেষ দশকে মহল্লার মসজিদে ইতিকাফে বসেছে। তার খাবার দাবারের ব্যবস্থা তার নিজ ঘর থেকেই হয়। এছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। আর মসজিদে তার খাবার এনে দেওয়ার মতোও কেউ নেই। এমতাবস্থায় সে কি সাহরী ও ইফতার দু’ বেলা খাবার তার ঘরে গিয়ে খেয়ে আসতে পারবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু ইতিকাফকারী লোকটির জন্য খাবার পৌঁছে দেওয়ার মতো কেউ নেই তাই সে খাবার আনার জন্য ঘরে যেতে পারবে। কিন্তু ঘরে বসে খাবার খাবে না; বরং সঙ্গে করে নিয়ে এসে মসজিদে বসে খাবে। আর খাবারের জন্য ঘরে গিয়ে বিলম্ব করতে পারবে না; বরং খানা নিয়ে তৎক্ষণাত ফিরে আসবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী ৩৮৪; ইমদাদুল আহকাম ২/১৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি রোযা অবস্থায় অযু করে কিংবা কুলি করে যখন মুখের...

প্রশ্ন

আমি রোযা অবস্থায় অযু করে কিংবা কুলি করে যখন মুখের পানি ফেলে দিই তখন কয়েকবার থুথু ফেলি। যেন মুখের পানি পুরোপুরি বের হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও আমার মনে হয় মুখে পানি রয়ে গেছে। তখন আবারও কয়েকবার থুথু ফেলি। কখনো আবার তা করি না।

প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? কুলি করার পর কতবার থুথু ফেলতে হবে?

উত্তর

রোযা অবস্থায় কুলি করার পর মুখের পানি ফেলে দেওয়াই যথেষ্ট। থুথু ফেলতে হবে না। কুলির পানি ফেলে দেওয়ার পর মুখে যে ভেজা ভাব থাকে এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; মারাকিল ফালাহ ৩৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক মহিলা অন্তঃসত্তা হওয়ার কারণে রোযা রাখতে কষ্ট হয় এবং...

প্রশ্ন

জনৈক মহিলা অন্তঃসত্তা হওয়ার কারণে রোযা রাখতে কষ্ট হয় এবং ভীষণ দুর্বল হয়ে পড়ে। তার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে কি?

উত্তর

রোযা রাখার কারণে যদি মহিলাটি স্বাস্থ্যহানীর আশঙ্কা হয় তাহলে তার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে। তবে পরবর্তীতে এ রোযাগুলোর কাযা করে নিতে হবে। কাফফারা দেওয়া লাগবে না।

-সূরা বাকারা : ১৮৪; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৯০৪৭; কিতাবুল আছল ২/২৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৫০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৪১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার পিতা অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে...

প্রশ্ন

আমার পিতা অসুস্থতা ও বার্ধক্যের কারণে দীর্ঘ সময় নামাযে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। তাই রমযানে ইশা ও তারাবীহ আদায় করার সময় মাঝেমধ্যে দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে নামায পড়েছেন। এতে কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

উত্তর

আপনার পিতার ঐ নামাযগুলো সহীহ হয়েছে। অসুস্থতা বা বার্ধক্যের কারণে স্বাভাবিকভাবে নামাযে দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর হলে দেয়ালে হেলান দিয়ে কিংবা লাঠি বা অন্য কিছুর উপর ভর করে দাঁড়ানো জায়েয আছে।

উম্মে কায়েস বিনতে মিহসান রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শেষ বয়সে যখন তাঁর শরীর মুবারক ভারী হয়ে যায় তখন তিনি নামাযের স্থানে একটি লাঠি রাখতেন যার উপর ভর দিয়ে তিনি নামায আদায় করতেন।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৯৪৫

বিশিষ্ট তাবেঈ ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, কোন ব্যক্তির জন্য দেয়ালে হেলান দিয়ে নামায পড়া মাকরূহ; তবে ওজর হলে পারবে।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/২৭৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৪২৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫১৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি...

প্রশ্ন

রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

অনুরূপভাবে মাগরিবের পরের দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের সময় আওয়াবিনের দুই রাকাত নিয়ত করলে উভয় নামাযের সওয়াব হবে কি? দলিলসহ জানতে চাই।

উত্তর

রযমানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে নিয়ত করলে শুধু রমযানের কাযা রোযা আদায় হবে। শাওয়ালের ছয় রোযা আদায় হবে না। এবং ছয় রোযার সওয়াবও পাওয়া যাবে না। শাওয়ালের ছয় রোযা রাখতে হলে পৃথকভাবে শুধু এর নিয়তে রোযা রাখতে হবে।

আর মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নতের সাথে আওয়াবিনের নিয়ত করলে সুন্নতের পাশাপাশি আওয়াবিনেরও সওয়াব পাওয়ার কথা কোনো কোনো আলেম বলেছেন। তবে এমন না করে পৃথকভাবে পড়ে নেওয়াই ভালো।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৪০, ২/১৩; ফাতহুল কাদীর ২/২৪৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯২৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব প্রতি বছর ইতিকাফে বসেন। এবারও তার...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব প্রতি বছর ইতিকাফে বসেন। এবারও তার ইতিকাফে বসার ইচ্ছা আছে। আমাদের মসজিদের বাইরে মুয়াযযিন সাহেবের কামরা। সে কামরায় মসজিদের মাইক আছে। আযান দিলে সেখানে গিয়ে দিতে হবে। প্রশ্ন হল, ইতিকাফ অবস্থায় মুয়াযযিন সাহেব আযান দেওয়ার জন্য তার কামরায় যেতে পারবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, আযান দেওয়ার জন্য মুয়াযযিনের কামরায় যাওয়া জায়েয। এ কারণে ইতিকাফ নষ্ট হবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৮০; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কাউকে যদি টীকা বা ইঞ্জকশন দেওয়া হয় তাহলে...

প্রশ্ন

রোযা অবস্থায় কাউকে যদি টীকা বা ইঞ্জকশন দেওয়া হয় তাহলে এতে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

টিকা বা ইঞ্জেকশন-এর কারণে রোযা ভাঙ্গে না। তবে একান্ত ওজর ছাড়া গ্লুকোজ জাতীয় ইঞ্জেকশন (যা খাবারের কাজ দেয়) নেওয়া মাকরূহ তাহরিমি।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছিল। তিন দিন পর...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি রমযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করেছিল। তিন দিন পর তিনি অযু ইস্তেঞ্জার প্রয়োজন ছাড়া শুধু সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হন এবং মসজিদের অযুখানায় গোসল করেন। জানার বিষয় হল, ইতিকাফ অবস্থায় সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয আছে কি না? বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হবে কি না?

উত্তর

রমযান মাসের শেষ দশকের ইতিকাফ অবস্থায় সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয নয়। বের হলে ইতিকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ব্যক্তি সাধারণ গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার সুন্নত ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। যেদিন গোসলের জন্য বের হয়েছে ঐ দিনের ইতিকাফ কাযা করে নেওয়া জরুরি। আর এই ইতিকাফটি নফল ইতিকাফ হিসাবে গন্য হবে।

-মারাকিল ফালাহ ৩৮৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২২৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা...

প্রশ্ন

আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আমার প্রচুর পরিমাণে বমি হয়। তারপর একজন (মাওলানা) সাহেবকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মুখ ভরে বমি হওয়ার কারণে আপনার রোযা ভেঙ্গে গেছে। মাওলানা সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঐ কথা ঠিক নয়। অনিচ্ছাকৃত মুখভরে বমি হলেও রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে কাযা করতে হয় না। আর ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়।

-মুসনাদে আহমদ ২/৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩৭৩; কিতাবুল আছল ২/৩১০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪১; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময়...

প্রশ্ন

আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে থাকি। খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কারণে আমার রোযা সহীহ হবে কি না? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে, তা সহীহ হয়নি। তাই আপনাকে রোযাটির কাযা আদায় করে নিতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য যে, রমযানের কোন রোযা নষ্ট হয়ে গেলেও নিয়ম হল, ঐ দিন ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের ন্যায় কাটাবে। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি এখনো রাত্র বাকি আছে ভেবে সাহরী খেতে থাকে, অতপর স্পষ্ট হয় যে, তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, সে যেন তার রোযাটিকে পূর্ণ করে (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯-১৫০, হাদীস : ৯১৩২) এবং হযরত সায়ীদ ইবনে যুবাইর রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার পর খানা খেয়ে ফেলে তখন সে যেন ঐ দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং অন্য একদিন একটি রোযা কাযা করে নেয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৪; সুনানে বায়হাকী ৪/২১৬; কিতাবুল আসল ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯০৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি...

প্রশ্ন

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি পেটে চলে যায়। প্রশ্ন হল, এতে আমার রোযার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? এবং কাযা বা কাফফারা কি আদায় করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পানি পেটে চলে যাওয়ায় ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে। তাই আপনাকে ঐ রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার...

প্রশ্ন

আমি একজন শ্বাসকষ্টের রোগী। শীত-গ্রীষ্ম সারা বছর আমাকে ইনহেলার ব্যবহার করতে হয়। রাতে এবং দিনে মোট চার বার ইনহেলার নিতে হয়। তাই জানতে চাই, ইনহেলার নেওয়ার দ্বারা রোযার কোনো ক্ষতি হয় কি না? যদি রোযা ভেঙ্গে যায় তাহলে আমার কী করণীয়? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। তাই সাহরীর শেষ সময় এবং ইফতারের প্রথম সময় ইনহেলার ব্যবহার করলে যদি তেমন অসুবিধা না হয় তবে রোযা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কিন্তু অসুস্থতা বেশি হওয়ার কারণে যদি দিনেও ব্যবহার করা জরুরি হয় তাহলে তখন ব্যবহার করতে পারবে। সেক্ষেত্রে করণীয় হল :

১. উক্ত ওজরে দিনের বেলা ইনহেলার করলেও অন্যান্য পানাহার থেকে বিরত থাকবে।

২. পরবর্তীতে রোগ ভালো হলে এর কাযা করে নিবে।

৩. আর ওজর যদি আজীবন থাকে তাহলে ফিদয়া আদায় করবে।

-সূরা বাকারা (২) : ১৮৪; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লা মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা : ১০, ২/৩১-৬৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি লোকমুখে শুনেছি যে, রোযা অবস্থায় যদি শরীর থেকে রক্ত...

প্রশ্ন

আমি লোকমুখে শুনেছি যে, রোযা অবস্থায় যদি শরীর থেকে রক্ত বের হয় তাহলে রোযা হালকা হয়ে যায়। এ কথা কি সঠিক? আর সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করলে রোযা ভেঙ্গে যায় কি না?

উত্তর

শরীর থেকে রক্ত বের হলে কিংবা সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করলে রোযা ভাঙ্গে না। তবে ইচ্ছা করে এ পরিমাণ রক্ত বের করা ঠিক নয়, যার কারণে রোযা রাখার শক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। বা রোযা রাখা বেশি কষ্টকর হয়ে পড়ে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ১৯৩৮, ১৯৪০; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩৬৪; বযলুল মাজহূদ ১১/১৭৭; ফতহুল বারী ৪/২০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয় কি...

প্রশ্ন

খতম তারাবীর ইমামতি করে বিনিময় বা হাদিয়া নেওয়া জায়েয় কি না? এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন দিলে জায়েয হবে কি না? কেউ কেউ বলেন, ফরয নামাযের ইমামতির বিনিময় গ্রহণ যখন জায়েয তাই খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণও জায়েয হবে। এছাড়া হাফেয সাহেবকে যদি দু’ এক ওয়াক্ত ফরয নামাযের দায়িত্ব দেওয়া হয় তবে তো নাজায়েয হওয়ার প্রশ্নই থাকে না। তাদের একথা ঠিক কি না? ইমামতির হীলা হোক বা অন্য কোনো উপায়ে তারাবীর বিনিময় বৈধ হবে কি না? দলিল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

খতম তারাবীর বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েয। হাদিয়ার নামে দিলেও তা জায়েয হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসেবে দিলেও জায়েয নয়। কারণ এক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন তারাবীহ এবং খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা, খতম তারাবীর বিনিময় গ্রহণের জন্য কোনো হীলা অবলম্বন করলেও তা জায়েয হবে না। কারণ খতম তারাবী খালেস একটি ইবাদত, যা নামায-রোযার মতো ইবাদতে মাকসূদার অন্তর্ভুক্ত। আর এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় বা বেতন দেওয়া-নেওয়া উম্মতে মুসলিমার ঐক্যমতের ভিত্তিতে নাজায়েয। এতে না কোনো মাযহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকীহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে।

ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েয। কিন্তু খতম তারাবীর বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না। বরং তা মূলত কুরআন খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তেলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকীহের নিকট হারাম। অধিকন্তু পরবর্তী ফকীহগণ যে ইমামতির বেতন জায়েয বলেছেন সেটা হল ফরয নামাযের ইমামতি। সুন্নত নামাযের ইমামতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

আর হাফেযদের দেওয়া বিনিময়কে জায়েয করার জন্য এই হীলা অবলম্বন করা যে, শুধু রমযান মাসের জন্য তার উপর দু এক ওয়াক্ত নামাযের ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হবে-এটা একটা বাহানামাত্র। যা পরিহার করা জরুরি। কারণ এই হীলার অর্থ হল যে, এ বিনিময়টা তাকে ফরয নামাযের ইমামতির জন্য দেওয়া হচ্ছে। আর খতম তারাবী সে বিনিময়হীনভাবেই করে দিচ্ছে। কিন্তু নিজের মনকে একটু প্রশ্ন করে দেখুন, যদি ওই হাফেয সাহেব তার দায়িত্বে অর্পিত ফরয নামাযের ইমামতি যথাযথ গুরুত্বের সাথেই আদায় করেন, কিন্তু খতম তারাবীর ইমামতি না করেন তবে কি তাকে ওই বিনিময় দেওয়া হত? এ কথা সুস্পষ্ট যে, কখনো তা দেওয়া হত না। বোঝা গেল, বিনিময়টা মূলত খতম তারাবীর, ফরযের ইমামতির নয়।

এজন্যই আকাবিরদের অনেকে এই হীলা প্রত্যাখ্যান করেছেন। আর দলিলের ভিত্তিতেও তাঁদের ফতওয়াই সহীহ। দেখুন : ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩২২; ইমদাদুল আহকাম ১/৬৬৪

এ বিষয়ে কিছু হাদীস আছারের অনুবাদ ও ফিকহের কিতাবের উদ্ধৃতি পেশ করা হল।

১. আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পড়। তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না। এর প্রতি বিরূপ হয়ো না। কুরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ কামনা করো না।-মুসনাদে আহমদ ৩/৪২৮, হাদীস : ১৫৫২৯; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৫/২৪০

২. ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কুরআন পড় এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা কর। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।-মুসনাদে আহমদ ৪/৪৩৭, হাদীস : ১৯৯১৭

৩. আবদুল্লাহ ইবনে মা’কিল রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমযানে লোকদের নিয়ে তারাবীহ পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ রাহ. তার কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচশ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া এবং দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৫/২৩৭, হাদীস : ৭৮২১ আরো দেখুন : ফাতাওয়া শামী ৬/৫৭; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামীদিয়া ২/১৩৭-১৩৮; আলইখতিয়ার লিতালীল মুখতার ২/৬২; শিফাউল আলীল ওয়া বাল্লুল গালীল (মাজমুআ রাসায়েল ইবনে আবেদীন) ১/১৫৪-১৫৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৩১৫-৩১৯; রাফেউল ইশকালাত আনহুমাতিল ইস্তিজার আলাত্তাআত, মুফতীয়ে আযম হযরত মাওলানা মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.