Login | Register

ফতোয়া: রোজা-ইতিকাফ

ফতোয়া নং: ৪৯০৬
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীহ নামায বিশ রাকাতের কম পড়লে তারাবীর সুন্নত আদায় হবে কি?

প্রশ্ন
হুজুর আমরা ব্যবসায়িক মানুষ ৷ রমজানে ব্যবসায়ের বেচাকেনা একটু বেশি হয় ৷ তাই যদি তারাবীর নামায আট রাকাত বা দশ রাতাত পড়ি তাহলে কি তারাবীর নামায আদায় হবে?
উত্তর
তারাবীর নামায বিশ রাকাত পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা ৷ এর চেয়ে কম পড়লে তারাবীর সুন্নত আদায় হবে না ৷ নফল হয়ে যাবে ৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিস সুরতে আপনারা তারাবীর নামায আট/দশ রাকাত তারাবীহ এর নিয়তে পড়লে তা তারাবীহ হিসেবে গন্য হবে না ৷ নফল হয়ে যাবে ৷
-ফতওয়ায়ে শামী,২/৪৯৫; আল মুহীতুল বুরহানী ২/২৪৯; তাতারখানিয়া ১/৬৫৪; আল বাহরুর রায়েক ২/৬৬ ; ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১১/৩৩৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৯০৫
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীর নামাযে দ্রুতগতিতে কুরআন তিলাওয়াত করা ৷

প্রশ্ন
হযরত! বর্তমানে যে তারাবীহ নামাযে দ্রুতগতিতে তিলাওয়াত করা হয়, তা কতটুকু শরীয়তসম্মত? এতে কি তারাবীহ নামায আদায় হবে? অনেক সময় হাফেয সাহেবের পড়া-ই বুঝা যায় না ৷ এতে কি খতম আদায় হবে?
উত্তর
কুরআনের শব্দ স্পষ্ট করে অন্যান্য নামাযের চেয়ে দ্রুতগতিতে তারাবীর নামাযে কোরআন তেলাওয়াত করতে কোন সমস্যা নেই ৷ কিন্তু তিলাওয়াত এত বেশি দ্রুত হওয়া যে কোরআনের শব্দই স্পষ্ট হয় না, তাহলে বৈধ হবে না। খতমও আদায় হবে না ৷ অবশ্য ফরজ ক্বিরাত পরিমান তিলাওয়া বুঝা গেলে নামায হয়ে যাবে ৷
-রদ্দুল মুহতার: ১/৫৪১; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১১৭ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৪
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

কোনো কারণে পিছন থেকে হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত শুনতে না পেলে খতম আদায় হবে কি না?

প্রশ্ন
খতমে তারাবীহ চলাকালীন তন্দ্রার কারণে বা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সাউন্ডবক্স বন্ধ হয়ে গেলে
কেউ যদি হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত বা তিলাওয়াতের কোনো অংশ শুনতে না পায় তাহলে কি তার খতম আদায় হবে? সে কি পরিপূর্ণ খতমের সাওয়াব পাবে?
উত্তর
জ্বী, হ্যাঁ, কোনো কারণে মুক্তাদি হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত শুনতে না পেলেও খতম আদায় হয়ে যাবে ৷ এবং খতমের পরিপুর্ন সাওয়াব পেয়ে যাবে। তবে এর জন্য শর্ত হল, রাকাত পেতে হবে এবং তিলাওয়াতের পুর্ন সময় নামাযে শরীক থাকতে হবে ৷
-আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ৩/৬৮; নিজামুল ফাতাওয়া: ৫/৯৪৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৩
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

মহিলাদের জন্য জামাতের সহিত তারাবীহ পড়ার বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর গত বছর আমার মহল্লায় সকল মহিলাদের নিয়ে জামাতে তারাবীহ পড়েছিলাম ৷ এ বছর আমার অন্য মসজিদে তারাবীহ ঠিক হয়েছে ৷ তাই এ বছর মহিলারা আমাকে বলছে আমি যেন একজন হাফেয ঠিক করে দেই ৷ তারা যেন এবছরও জামাতে তারাবীহ পড়তে পারে ৷ জানার বিষয় হল, মহিলাদের জমাতে তারাবীহ পড়তে কোন সমস্যা আছে কি না?
উত্তর
মহিলাদের জন্য তারাবীহ সহ সকল নামাজ নিজ ঘরে একাকি পড়াই মুস্তাহাব । এবং এতেই পুরুষের মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত নামায আদায় করার মত সাওয়াব পাবে ৷ কেননা এমন কোন হাদীস নেই যেখানে রাসূলুল্লাহ সাঃ মহিলাদেরকে জমাতে নামায আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন বা তাগিদ করেছেন ৷ বরং আরো অনুৎসাহিত করেছেন ৷ তাই রাসূল (সা.)-এর পরবর্তিকালে তার সাহাবিগণ যেমন হজরত ওমর ও হজরত আয়েশা (রা.) ফেতনার আশংকায় মহিলাদের মসজিদে যেতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করতেন। যার অনুসরণে দেড় হাজার বছর পর্যন্ত কোনো আলেম মহিলাদেরকে মসজিদে এসে নামাজ পড়ার জন্য উৎসাহিত করেননি এবং এর জন্য কোনো ব্যবস্থাও করেননি।
-সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৭০৯০৷
অতএব মহিলারা নিজ ঘরে একাকি নামায পড়বে এটা ই শরিয়তের বিধান ৷ এবং এর বিপরীত করা জায়েয নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে বলবেন যে, মহিলাদের জন্য জামাতে নামায পড়ার চেয়ে নিজ ঘরে একাকী নামায পড়ার সাওয়াব বেশি ৷ তাই আপনারা ঘরে একাকি নামায পড়বেন ৷ অবশ্য কেউ যদি জামাতে নামায পড়ে ফেলে তাহলে তার নামায আদায় হয়ে যাবে৷
-আল বাহরুর রায়েক: ১/৬২৭, রদ্দুল মুহতার:
২/৪৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০২
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ক্বেরাত স্মরণ করার জন্য তারাবীর নামাযের সিজদায় গিয়ে তিলাওয়াত করা ৷

প্রশ্ন
হযরত! তারাবী ও রোজা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মাসালা নাসায়েল নিয়ে পোষ্ট করলে সকলে উপকৃত হত৷
আর আমার একটি প্রশ্ন, আমি একজন হাফেয । রমজানে তারাবী পড়াই ৷ তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের কেরাত স্মরণ করার জন্য সিজদায় গিয়ে আমি অনেক সময় নিম্নস্বরে একটু কুরআন তিলাওয়াত করি । আমার জানার বিষয় হল,
এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না?
উত্তর
তাবারীহ ও রোজা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিদিন তারাবীর নামাযের পর পোষ্ট করা হবে ইনশাল্লাহ ৷ মহান পরওয়ারদিগার যেন সুস্থ ও সবল রাখেন আপনাদের নিকট সেই দোয়া প্রার্থী ৷
আপনার মসয়ালার উত্তরঃ রুকু ও সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষেধ। মুসলিম শরীফের হাদীসে এসেছে, হযরত আলী রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে রুকু বা সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন। তাই রুকু-সিজদায় ইচ্ছাকৃত কুরআন পড়লে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক ৷ আর যদি ভুলে কেউ পড়ে ফেলে এবং তা এক আয়াত বা তার বেশি হয় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩১৩; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭৯
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শবে বরাতের ফযিলত, করনীয় ও বর্জনীয়।

প্রশ্ন
হুজুর বর্তমানে শবে বরাত কে কেন্দ্র করে বহুধরনে কর্মকান্ড প্রচলিত রয়েছে ৷ যেমন নির্ধারিত পদ্ধতি আমল, আতশবাজি, হালুয়া রুটি তৈরি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি ৷ আবার কেউ শবে বরাতকে অস্বিকার করছে ৷ হাদীসে নাকি এ বিষয়ে কিছুই নেই ৷ এ বিষয়ে যদি বিস্তারিত জানাতেন উপকৃত হতাম ৷
উত্তর
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে একদল না না রকম নাজায়েজ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। অপর আরেক দল এই রাতের অস্তিত্বটাকেই অস্বীকার করেন। প্রথমে
শবে বরাত সপম্পর্কে সহিহ হাদিস উল্লেখ করছি। -হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ)থেকে বর্ণিত,রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন- আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে(শবে বরাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন।এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে মাফ করে দেন।
-সহীহ ইবনে হিব্বান ১২/৪৮১;আত-তারগীব ওয়াত- তারহীবে ২/১৩২ ৷
আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা'বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ
নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন"।
সুনানে তিরমিযি ২/১২১,১২২; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৩৮ ৷
এছাড়াও বহু হাদীস দ্বারা এরাতের ফযিলত প্রমানিত ৷ তাই এ রাতের ফযিলত ও মর্যাদা কোন ভাবেই অস্বিকার করা যাবে না ৷ তবে এরাতে নির্ধারিত পরিমান বা নির্ধারিত পন্থায় কোন আনল বর্নিত নেই ৷ এবং তাকে উপলক্ষ করে হালুয়া রুটি তৈরি করা আলোকসজ্জা করা আতশবাজি করা ইত্যাদি সম্পুর্ন নাজায়েয ও বাড়াবাড়ি ৷
সুতরাং যারা শবে বরাতকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন তারাও ভুল করছেন,আর যারা একেবারে অস্বীকার করছেন তারাও ভুল করছেন। কারন হাদিসের মধ্যে কোন বাড়াবাড়ির কথাও নেই আবার অস্তিত্বহীনতাও বুঝা যায়না।
সহিহ পন্থায় এই রাতে কিছু করনীয় ও বর্জনীয় ৷
এই রাতে করনিয়ঃ
১) এই রাতে আল্লাহর রাসুল অনেক দীর্ঘ নামাজ পড়তেন। তাই নামায পড়া ৷ তবে নির্ধারিত পরিমান বা পদ্ধতি জরুরী মনে না করে ৷
২) পরের দিন রোজা রাখতেন।দলীল-
ﻗﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ : ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﻟﻴﻠﻬﺎ ﻭﺻﻮﻣﻮﺍ
ﻧﻬﺎﺭﻫﺎ
রাসুল (সাঃ) বলেছেন -যখন অর্ধ শাবানের আসে- তোমরা সেই রাতে ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং পরের দিন রোজা রাখো। তাই পরদিন রোজা রাখা
বিঃদ্রঃ শবে বরাতের রোজা একটি ৷
৩) এই রাতে পুরুষদের জন্য কবরস্থানে যাওয়া এবং তাদের মৃত আত্মীয় স্বজনদের জন্য ইসালে সাওয়াব করা মুস্তহাব।
এই সম্পর্কে মুফতি শফি সাহেব অত্যন্ত চমৎকার অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) যেহেতু জীবনে একবার মাত্র শবে বরাতের রাত্রে কবরস্থানে গিয়েছেন,কাজেই জীবনে একবার এই রাতে কবরস্থানে গেলেই মুস্তহাব আদায় হয়ে যাবে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল কোন ভাবেই যেন বিদআতি কোন কাজ না হয়ে যায়।
৪) এই রাতে খুব দোয়া করা। কেননা আল্লাহর রাসুল বলেছেনঃ শাবানের ১৫ তারিখ রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন,- আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী,যাকে আমি ক্ষমা করবো। এমনিভাবে সকল বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
৫) এই রাতে নির্দিষ্ট কোন নামাজ নেই। যত নফল
নামাজ পড়া যায় পড়বে ৷ তবে যাদের কাজা নামাজ বাকি আছে তাদের জন্য উত্তম হবে কাজা নামাজ গুলো আদায় করে নেয়া। কারন হাশরের মাঠে নফলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেনা,ফরজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
এই রাতের বর্জনীয় আমল সমুহঃ ১) এই রাতে সম্মিলিত না হয়ে একাকী আমল করা
উত্তম।কারন সম্মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে আমলের
চাইতে ফেতনাটাই হওয়ার আশংকা বেশি। ২) আতশবাজি করা যাবেনা
৩) হালুয়া রুটি বিতরন কারা বা নিজ ঘরে তৈরি করা যাবেনা। কারন এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয়, এবং বর্তমানে এটা একটা বড় ধরনের ফেতনার আকার ধারন করেছে।
৪) আলোকসজ্জা করা যাবেনা।
৫) মাইকে কুরআন তেলাওয়াত বা হামদ নাত পরিবেশন করে অন্যের আমলে ব্যাঘাত ঘটানো যাবেনা।
৬) কবরস্থানে ভিড় করা বা মেলা বসানো যাবেনা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে এই রাতের সকল ফজিলত দান করুণ। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬৪
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

"রমজানের প্রথম খবর দিলে জাহান্নামের আগুন মাফ" এটি কি হাদীস?

প্রশ্ন
অনেকদিন যাবৎ ফেসবুকে একটি হাদীস খুব প্রচার করা হচ্ছে ৷ পিকচার, ভিডিও বানিয়ে ইমুতে, ইনবক্সে ওয়াট্সঅ্যাপে সেন্ড করা হচ্ছে ৷ হাদিসটি হলো, "যে ব্যক্তি রমজানের খবর ১ম কাউকে দিবে, তার জাহান্নামের আগুন মাফ হয়ে যাবে"৷ জানার বিষয় হলো, এটা কি হাদিস? হাদীস হলে তার ব্যাখ্যা কি?
উত্তর
বহু হাদীসের কিতাব তালাশ করে, অসংখ্য কিবাতের ভান্ডার মাকতাবায়ে শামেলা তালাশ করে, ইন্টার্নেটে হাদীসের বিভিন্ন ওয়েব তালাশ করেও এধরনের হাদীসের অস্তিত্ব মিলে নি ৷ তাই উক্ত কথাটি যাচাই না করে হাদীস হিসেবে প্রচার করা চরম গর্হিত ও জঘন্নতম কাজের শামিল ৷ তাই তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য ৷ কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আমি যা বলিনি সেই কথা যে আমার নামে বলবে তার আবাস্থল হবে জাহান্নাম।
সহিহ বোখারী ১/৫২ ৷
অন্য হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্নিত রাসূল সঃ বলেছেন, যা শুনে তা'ই বলতে থাকা কোন ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ৷
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৯২ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬১
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শবে মেরাজের রোজা ও রজব মাসের অন্যান্য বিশেষ আমল ৷

প্রশ্ন
শবে মেরাজে ইবাদতের বিশেষ কোন ফযীলত আছে কিনা? অনেকেই এরাতে শবে বরাতের মত বিভিন্ন আমল করে থাকে ৷ পরদিন রোজা রাখে ৷ যাকে মেরাজের রোজা বলে ৷ আসলে কি এসব জিনিষ হাদীস দ্বারা প্রমানিত ? এমাসে কোন বিশেষ আমল থাকলে জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
শবে মেরাজে ইবাদতের বিশেষ ফযীলতের ব্যাপারে কোন হাদীস বিদ্যমান নেই। তাই শবে মেরাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ আমল ইসলামী শরীয়তে নেই।
রজব মাসের বিভিন্ন তারিখে রোযা রাখা, সালাতুর রাগায়েব নামক বিশেষ প্রকৃতির নামায পড়া সংক্রান্ত সকল হাদীসই জাল ও বানোয়াট।
অতএব শবে মেরাজের নামায রোজা ইত্যাদি বিশেষ আমল বিদআত ৷ কারন রাসূল সাঃ সাহাবাগন ও তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীগন শবে মেরাজে বিশেষ কোন আমল করেন নি, তাই শবে মেরাজে বিশেষ আমল নেই। আর রাসূল সাঃ যা করেন নি, সেটাকে দ্বীন মনে করার নামই হল বিদআত। আর বিদআত পথভ্রষ্টতা। আর পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করে।
-লাতায়েফুল মাআরিফ-১৩১; আাল মাজমাউ শরহুল মুহাযযাব-৩/৫৪৯; তাখরীজে ইহইয়া ইহইয়াউ
উলূমিদ্দীন-১/২৯৬ আল লাআলিল মাসনূআ-২/৫৫-৫৯ তানযীহুশ শরীয়া-২/৮৯-৯০ ৷
তবে রজব মাস সম্পর্কিত নিম্নের হাদীসটি দুর্বল হলেও জাল তথা বানোয়াট নয়। আর ফযিলতের ক্ষেত্রে যেহেতু দুর্বল হাদীসও আমল করা যায় তাই উক্ত হাদীস অনুযায়ী আমল করা যাবে ৷ হাদিসটি হলো,
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রজব মাস আসলে পড়তেন- আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদ্বান।
-মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৪৯৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৩৪৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫৯
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

২২ ই রজবে শিরনী পাকিয়ে বাড়ি বাড়ি বন্টন করা ৷

প্রশ্ন
গতকাল অর্থাৎ রজবের ২২ তারিখে আমাদের এলাকায় অনেককেই দেখা গেছে শিরনী পাকিয়ে তা বাড়িতে বাড়িতে বন্টন করেছে । শরীয়তে তার বিধান কি ?
উত্তর
এটি সুষ্পষ্ট বিদআত ও সাহাবী বিদ্বেষী উৎসব হবার কারণে ঈমান বিধ্বংসী উৎসবও বটে । তাই তা পরিহার করা প্রতিটি মুসলমানদের জন্য আবশ্যক। কারণ প্রচলিত উক্ত প্রথাটির আবিস্কারক শিয়ারা। এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কোন কাজ নয় ৷ শিয়াদের বিশ্বাস হলো, এদিন হযরত ইমাম জাফর সাদিক জন্মগ্রহন করেছেন । সেই খুশিতে তারা এ রুসুম
পালন করে থাকে।
কিন্তু এটি সঠিক নয় ৷ কারণ এদিন জাফর সাদিক জন্ম গ্রহণ করেননি। বরং তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন ৮০ বা ৮৩ হিজরীর ৮ই রমজান মাসে । সুতরাং বাইশে রজবের সাথে জাফর সাদিক রহঃ এর জন্মগ্রহনের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ৷
আসল কথা হলো, এদিন হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ ইন্তেকাল করেছেন। তাফসীরে তাবারী,৪/২৩৯ ৷
এতে স্পষ্ট বুঝা যায়, হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর দুশমন শিয়ারা তাঁর ইন্তেকালে খুশি হয়ে এ জঘন্য উৎসব পালন করে থাকে। কিন্তু তাদের এ ঘৃণ্যতাকে ঢাকার
জন্য মিথ্যাচার করে বলে এদিন জাফর সাদিক জন্ম গ্রহণ করেছেন।
অতএব বুঝা গেল এটি মূলত মুয়াবিয়া রাঃ এর দুশমনদের উৎসব। মুসলমানদের নয়। তাই এ কর্ম থেকে সকলকে বিরত থাকা জরুরী।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৬২৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

নফল রোজা রেখে শিঙ্গা লাগানো৷

প্রশ্ন
পিঠে তীব্র ব্যথার কারণে গত মহররমের রোযা অবস্থায় আমি শিঙ্গা লাগিয়েছি। এতে আমার রোযা ভঙ্গ হয়েছে কি? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
শিঙ্গা লাগালে বা শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা ভঙ্গ হয় না। তাই আপনার রোযাও ভঙ্গ হয়নি। উল্লেখ্য, শিঙ্গা লাগানোর দ্বারা যদি এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা হয়, যার দরুণ রোযা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে তা মাকরূহ হবে। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৫৯৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

সেহরী না খেয়ে নফল রোযা রাখা৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় সেহরী না খেয়েই সকালে নফল রোযা রাখার নিয়ত করেছে। আমার প্রশ্ন হল, সেহরী না খেয়ে রোযা রাখার দ্বারা রোযাটি হয়েছে
কি?
উত্তর
রোযার জন্য সেহরী খাওয়া জরুরি নয়; বরং মুস্তাহাব। সেহরী না খেলেও রোযা হয়ে যায়। রোযার কোন ক্ষতি হয় না। -সহীহ বুখারী ১৯২৩; উমদাতুল কারী ১০/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৩৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি রোযা
ভেঙ্গে
যাবে? তেমনি অসুস্থ অবস্থায় কেউ যদি
গ্লুকোজ স্যালাইন নেয় তাহলে কি তার
রোযা সহীহ হবে?
উত্তর
স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গে না। তেমনিভাবে অসুস্থতার কারণে গ্লুকোজ স্যালাইন নিলেও
রোযার
ক্ষতি হবে না। তবে অসুস্থতা ছাড়া গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া নাজায়েয। -আলাতে জাদীদা কে শরঈ আহকাম ১৫৩৷
ফতোয়া নং: ৪১৩৮
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোযাই নষ্ট
হয়ে
যাবে। তাই রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা যাবে না। টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করতে হলে সাহরীর
সময়
শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮
ফতোয়া নং: ৪১৩৭
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এবং মুখেও...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে
এবং মুখেও তিক্ততা অনুভব হয়
তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে
যাবে?
উত্তর
না, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙ্গবে না। এমনকি এর তিক্ততা মুখে বা গলায় অনুভব হলেও রোযা ভাঙ্গবে না (মাসআলাটি সাধারণ কিয়াসের বহির্ভুত সরাসরি আসার দ্বারা প্রমাণিত)। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪
ফতোয়া নং: ৪১৩৬
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো অঙ্গ থেকে রক্ত বের হয়...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো অঙ্গ
থেকে রক্ত বের হয় কিংবা
সিরিঞ্জ দিয়ে শরীর
থেকে রক্ত বের করা হয়
তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে
যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা ভাঙ্গে না। তদ্রƒপ সিরিঞ্জ দ্বারা বের করা হলেও রোযা ভাঙ্গে না। তবে বিশেষ ওযর ছাড়া শরীর থেকে ইচ্ছাকৃত এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরূহ, যার কারণে ঐ দিন রোযা পূর্ণ করার শক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৩৮, ১৯৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০
ফতোয়া নং: ৪১৩৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির বমি হয়।...

প্রশ্ন
রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির
বমি হয়। এর দ্বারা কি তার রোযা
ভেঙ্গে গেছে? এখন তার
কী করণীয়?
উত্তর
না, একারণে তার রোযা ভাঙ্গেনি। কেননা রোযা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (যদি তা বেশিও হয়) (যদি তা বেশিও হয়) রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য কেউ ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে তা কাযা করতে হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০; কিতাবুল আসল ২/২০২; আলমুহ
ফতোয়া নং: ৪১৩২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন...

প্রশ্ন
আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলাম এমন সময় একটি মাছি আমার
মুখের ভেতর দিয়ে পেটে চলে যায়।
আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার রোজা
ভেঙ্গে গেছে এবং আমার কি ঐ
রোজা
কাযা করতে হবে?
উত্তর
না, প্রশ্নে উল্যেখিত সুরতে আপনার রোজা ভাঙ্গেনি তাই ঐ রোজা কাযা করতে হবে না। দলিলঃ- দুররুল মুখতার ৩/৪২০; খানি ১/২০৮
ফতোয়া নং: ৪১৩১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায...

প্রশ্ন
রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে
তারাবীর নামায পড়ার জন্য মসজিদে
যেতে পারি না। প্রায় সময় ইমাম সাহেব
তারাবীর নামায কয়েক রাকাত পড়ার পর
যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায়
আমি ইশা এবং তারাবীর নামায কীভাবে
আদায় করব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথমে ইশার ফরয ও সুন্নত আদায়ের পর ইমাম সাহেবের সাথে তারাবীর নামাযে শরিক হবে। তারাবীর জামাত শেষে ইমাম সাহেবের সাথে বিতর
নামাযও
জামাতে পড়ে নিবেন। এরপর তারাবীর বাকি নামায আদায় করবেন। উল্লেখ্য যে, রমযান মাস অধিক গুরুত্বপূণৃ ও ফযীলতপূর্ণ মাস এই মাসে ইবাদতের ছাওয়াব অনেক বেশি। তাই এই মাসে নামায ও জামাতের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; শরহুল মুনইয়াহ ৪১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭
ফতোয়া নং: ৪১৩০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে একসাথে
চার রাকাত পড়ে ফেলে। দুই রাকাতের পর
তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং আরো দুই
রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়। এভাবে চার
রাকাত পড়ার দ্বারা কত রাকাত আদায়
হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বৈঠক করার কারণে চার রাকাতই তারাবীহ হিসেবে আদায় হয়েছে। তবে তারাবীহ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে একসাথে চার রাকাত পড়া ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪০
ফতোয়া নং: ৪১২৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি...

প্রশ্ন
গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি এক রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করলেন। সিজদায়ে তিলাওয়াত থেকে উঠে ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়ে আয়াতে সিজদার পর থেকে কিরাত শুরু করলেন। জানার বিষয় হল,
সূরা ফাতিহা দুইবার পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
না, উক্ত কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। কারণ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য
সূরা মিলানোর পর ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু কেউ যদি সূরা মিলানোর আগেই পর পর দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে তবে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।
-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০:
ফতোয়া নং: ৪১২৭
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও...

প্রশ্ন
আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও গ্রীষ্মে টানা দু মাস রাত ও দু মাস দিন থাকে। তাই জানার বিষয় হল, রমযানে কীভাবে রোযা রাখব?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নিকটতম পার্শ্ববর্তী যেদেশে চবিবশ ঘণ্টা হিসাবে স্বাভাবিক নিয়মে দিন রাত হয় সে দেশের সময়সূচি অনুযায়ী নামায রোযা আদায় করবেন।
-রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৬; তুহফাতুল মুহতাজ ২/১৯; আলমাজমূ ৩/৪৩; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/১৯;
মাজমুআতুল ফাতাওয়াশ শারঈয়াহ ১৪/১০৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫২
ফতোয়া নং: ৪১২৩
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় এক মসজিদে রমযানে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে এই মহল্লাবসী মিলে একজন দিনমজুরীকে ঠিক করল যে, সে মসজিদে ইতেকাফ করবে। বিনিময়ে ঐ দিনগুলোতে কাজ করলে যে পরিমান মজুরি সে পেত তাকে তা দেওয়া হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতেকাফে বসানোর দ্বারা ইতেকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?
উত্তর
বিনিময় নিয়ে ইতেকাফ করা বা করানো সম্পুর্ন নাজায়েয। কারন ইতেকাফ একটি
ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া নেওয়া নাজায়েয। ঐ লোকের ইতেকাফের দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা (কেফায়া) এর দায়িত্ব আদায় হবে না।
-জামে তিরমিযী ১/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; মাবসুত, সারাখসী ১৬/৩৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; খানিয়া ২/৩২৫; বাযযাযিয়া ৫/৩৭.
ফতোয়া নং: ৪১২১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে...

প্রশ্ন
এতেকাফকারী কি জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে? এতে কি তার এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
ইতিকাফকারী জানাযা পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে না। জানাযার জন্য বাইরে বের হলে এতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৪৭৩; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী, হাদীস ৮৫৯৪; কিতাবুল আসল ২/১৮৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৪৫
ফতোয়া নং: ৪১২০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি...

প্রশ্ন
রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোজা রাখা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে রোজা নষ্ট হবে না। চাই রমজানের রোজা হোক বা অন্য রোজা হোক। তবে যদি হস্তমৈথনের কারণে বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই রোজা পুনরায় কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। তবে সর্বাবস্থায় এধরনে গর্হিত কাজ থেকে সকলের জন্য বিরত থাকা অপরিহার্য৷
(কিতাবুল আসল ২/২০৩) (হেদায়া ১/২১৭) (ফথুল কাদির ২/৩৩৭) (বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬)

ফতোয়া নং: ৪১১৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।...

প্রশ্ন
আমি গত রমযানে আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতিকাফ করার ইচ্ছা করি।
কিন্তু সমস্যা হল মসজিদের
কোনো ইস্তেঞ্জাখানা নেই। এ
অবস্থায় বাসায় এসে জরুরত
সারা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।
তাই বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে
মসজিদে এসে অযু
করি এবং এভাবে দশ দিন
অতিবাহিত করি। জানতে চাই,
এভাবে আমার ইতিকাফ কি আদায়
হয়েছে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ইতিকাফ সহীহ হয়েছে। কেননা ইস্তেঞ্জার
জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয। আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে এজন্য বাসা-
বাড়িতে যাওয়াও জায়েয। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
ইতিকাফরত অবস্থায় ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন ব্যতীত ঘরে প্রবেশ করতেন না।
-সহীহ বুখারী ১/২৭২; সহীহ মুসলিম ১/১৪২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২
ফতোয়া নং: ৩৭৩৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

জনৈক ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি রমযানে রোযা রাখার পর বিনা ওজরে একটি রোযা ভেঙ্গে ফেলে। এখন সে বৃদ্ধ। লাগাতার দুই মাস রোযা রেখে কাফফারা
আদায় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সে
কি টাকা দিয়ে কাফফারা আদায় করতে পারবে? সে ক্ষেত্রে কি লাগাতার ৬০ দিন টাকা দিতে হবে? যদি সপ্তাহে দুজন-তিনজন করে দেয় তাহলে কী হবে?
সম্ভাব্য দ্রুত সময়ে জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ব্যক্তির যদি পরবর্তীতেও লাগাতার দু
মাস রোযা রাখার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার আশা না থাকে তাহলে সে অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে কাফফারা আদায় করতে পারবে। এজন্য ৬০ জন
দরিদ্রকে দু বেলা তৃপ্তি সহকারে আহার করাবে।
অথবা ৬০জনের প্রত্যেককে দু বেলা আহারের মূল্য
দিয়ে দিবে। (বর্তমানে জনপ্রতি দু বেলা
খাবারের মূল্য হিসেবে ১০০/- টাকা করে দেওয়া
যেতে পারে।)
এক্ষেত্রে ৬০ জনের টাকা বা ৬০ জনের খাবার ৬০
জনকে যেমন দেওয়া যায় তদ্রূপ ৬০ জনেরটা একজন
দুজনকে দেওয়াও বৈধ। তবে শর্ত হল, একদিনে
একজনকে একদিনের টাকাই দেওয়া যাবে। দুই তিন
দিনের টাকা বা খাবার একসাথে দেওয়া যাবে
না। দিলেও সেটা একদিনের জন্যই বিবেচিত হবে।
আর পুরো কাফফারার টাকা একজন দুইজনকে একদিন একদিন করে দেওয়া হোক অথবা ৬০ জনকেই তা দেওয়া হোক সেটা একসাথে বা লাগাতার
হওয়া জরুরি নয়। সুতরাং সপ্তাহে দুজন তিনজন করে
দিয়ে ৬০ জন পূর্ণ করলেও তা সহীহ হবে। -কিতাবুল আছল ২/১৬০-১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৬, ৪/১০৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৭৮-৪৮০
ফতোয়া নং: ৩৭১৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একজন হাফেযে কুরআন। তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের...

প্রশ্ন
আমি একজন হাফেযে কুরআন। তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের কেরাত স্মরণ করার জন্য সিজদায় গিয়ে কিছু কুরআন পড়ি। আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়?
উত্তর
রুকু-সিজদায় কুরআন পড়া নিষেধ। সহীহ মুসলিমে আছে, হযরত আলী রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে রুকু বা সিজদায় কুরআন পড়তে নিষেধ করেছেন। - সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০ তাই ফকীহগণ বলেছেন, রুকু- সিজদায় ইচ্ছাকৃত কুরআন পড়লে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আর যদি ভুলে পড়া হয় এবং তা এক আয়াত বা
তার বেশি হয় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০; শরহুল মুনইয়াহ ৩৫৭, ৪৬০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ২৫০; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৪, হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৪৪
ফতোয়া নং: ৩০৪৫
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমি একদিন অযু করছিলাম। অসতর্কতাবশত সামান্য পরিমাণ পানি পেটে চলে যায়। প্রশ্ন হল, এতে
আমার
রোযার কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? এবং কাযা বা কাফফারা কি আদায় করতে
হবে?
জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী পানি পেটে চলে যাওয়ায় ঐ রোযাটি ভেঙ্গে গেছে। তাই আপনাকে ঐ
রোযার
কাযা আদায় করতে হবে। তবে কাফফারা লাগবে না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/২৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০২; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭১; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪০১
ফতোয়া নং: ৩০৪৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীর নামাজের হুকুম কী? তারাবীর নামাজ কত রাকাত। কোন কোন...

প্রশ্ন
তারাবীর নামাজের হুকুম কী? তারাবীর নামাজ কত রাকাত। কোন কোন হাদিসে নাকি আট রাকাতের কথা এসেছে। সময়ের স্বল্পতা বা ব্যস্ততার কারণে কখনো আট রাকাত পড়তে কি কোন সমস্যা আছে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
বিশ রাকাত তারাবীর নামাজ সুন্নত। তারাবীর রাকাত সংখ্যা বিশ (২০) হওয়ার উপর হক্বপন্থী সকল আলেমদের ইজমা (ঐক্য) কায়েম হয়েছে। যে সব হাদিসে ৮ রাকাত নামাজের কথা এসেছে তা তারাবিহ নয় বরং নফল নামাজের ক্ষেত্রে বর্ণিত। তাই সময়ের স্বল্পতা, ব্যস্ততা বা যে কোন কারণেই হোক বিশ (২০) রাকাতের চেয়ে কম পড়লে তার দ্বারা সাধারণ নফল নামাজের সওয়াব পাওয়া গেলেও তারাবিহ আদায় হবে না। উল্লেখ্য, ফরজ নামাজ ও তারাবি ছাড়া অন্য কোন নফল নামাজ এভাবে নিয়ম করে জামাতের সহিত আদায় করা বিদআ'ত সূত্রঃ- আবু দাউদ- ১/৪৫৪, হেদায়া- ১/৭০, শরহে নুকায়াহ- ১/১৪১, মারাকিল ফালাহ- ৮১, আল-আশবাহ- ৪৭, ফতওয়ায়ে রহিমিয়্যাহ ৮/১৮৮
ফতোয়া নং: ৩০৪৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময়...

প্রশ্ন
আমি একদিন ঘুম থেকে দেরিতে উঠি এবং তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে
থাকি।
খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত কারণে আমার রোযা সহীহ হবে কি না? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে, তা সহীহ হয়নি। তাই আপনাকে রোযাটির কাযা আদায় করে নিতে হবে। কাফফারা আদায় করতে হবে না। উল্লেখ্য যে, রমযানের কোন রোযা নষ্ট হয়ে গেলেও নিয়ম হল, ঐ দিন ইফতারের পূর্ব পর্যন্ত রোযাদারের ন্যায় কাটাবে। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী মুজাহিদ রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি এখনো রাত্র বাকি আছে ভেবে সাহরী খেতে থাকে, অতপর স্পষ্ট হয় যে, তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, সে যেন তার রোযাটিকে পূর্ণ করে (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/১৪৯-১৫০, হাদীস : ৯১৩২) এবং হযরত সায়ীদ ইবনে যুবাইর রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি কেউ সুবহে সাদিক হওয়ার পর খানা খেয়ে ফেলে তখন সে যেন ঐ দিন পানাহার থেকে বিরত থাকে এবং অন্য একদিন একটি রোযা কাযা করে নেয়। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৯১৩৪; সুনানে বায়হাকী ৪/২১৬; কিতাবুল আসল ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৫৭;

প্রসঙ্গঃ তারাবীর রাকাত সংখ্যা!
ফতোয়া নং: ৩০৪২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা...

প্রশ্ন
আমি মাইগ্রেনে আক্রান্ত। গত রমযানে একদিন হঠৎ প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হলে আমার প্রচুর পরিমাণে বমি হয়। তারপর একজন (মাওলানা) সাহেবকে মাসআলা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মুখ ভরে বমি হওয়ার কারণে আপনার রোযা ভেঙ্গে গেছে। মাওলানা সাহেবের উক্ত কথা কি ঠিক? জানিয়ে বাধিত
করবেন।
উত্তর
ঐ কথা ঠিক নয়। অনিচ্ছাকৃত মুখভরে বমি হলেও রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য ইচ্ছাকৃত মুখভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে কাযা করতে হয় না। আর ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -মুসনাদে আহমদ ২/৪৯৮; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৩৭৩; কিতাবুল আছল ২/৩১০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪১; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩২৬; আলবাহরুর রায়েক
২/২৭৪
ফতোয়া নং: ৩০৩৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি...

প্রশ্ন
রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোজা রাখা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে রোজা নষ্ট হবে না। চাই রমজানের রোজা হোক বা অন্য রোজা হোক। তবে যদি হস্তমৈথনের কারণে বীর্যপাত হয়, তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এই রোজা
পুনরায় কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না।
(কিতাবুল আসল ২/২০৩) (হেদায়া ১/২১৭) (ফথুল কাদির ২/৩৩৭) (বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬)
ফতোয়া নং: ৩০৩৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

এক ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবীর কয়েক রাকাত পায়নি। এখন সে...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি ইমামের সাথে তারাবীর কয়েক রাকাত পায়নি। এখন সে কি আগে ইমামের সাথে বিতির পড়ে নিবে, এরপর তারাবীর বাকি রাকাত আদায় করবে, না সে আগে তারাবীর ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করে নিবে এবং এরপর একাকী বিতির পড়ে নিবে? এক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নিয়ম?
উত্তর
বিতিরের জামাতের আগে তারাবীর ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো আদায় করা সম্ভব হলে তা আদায় করে নিবে। কিন্তু যদি তা আদায়ের সময় না থাকে এবং বিতিরের জামাত শুরু হয়ে যায় তাহলে আগে জামাতের সাথে বিতির পড়ে নিবে। এরপর তারাবীর অবশিষ্ট রাকাতগুলো আদায় করবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৬২
ফতোয়া নং: ৩০৩৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে...

প্রশ্ন
আমার আম্মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত। এ কারণে তিনি
অত্যন্তদুর্বল হয়ে পড়েছেন। ডাক্তার নিয়মিত
ঔষধ খেতে বলেছেন। কোনো সময় ঔষধ না খেলে অসুস্থতা অনেক বেড়ে যায়। তাই আম্মা রমযান মাসে রোযা রাখতে পারেন না। গত
রমযান মাসে কয়েকটি রোযা রাখার পর অসুস্থতা ও
দুর্বলতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাই পরে আর রোযা রাখতে পারেননি।
জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার আম্মার জন্য
রমযান মাসে রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে কি? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
হাঁ, এ অবস্থায় আপনার আম্মার জন্য রমযান মাসে
রোযা না রেখে ফিদয়া দেওয়া জায়েয হবে। তবে পরবর্তীতে কখনো রোযা রাখার মতো সুস্থতা ফিরে পেলে এ রোযাগুলোর কাযা করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে পূর্বের
ফিদয়া যথেষ্ট হবে না। কারণ ফিদয়ার হুকুম ঐ ব্যক্তির
জন্য প্রযোজ্য, যে পরবর্তীতে কাযা আদায়ে সক্ষম নয়।
-রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭;
হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী
৩৭৫-৩৭৬
ফতোয়া নং: ৩০৩৩
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও...

প্রশ্ন
আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও গ্রীষ্মে টানা দু
মাস রাত ও দু মাস দিন থাকে। তাই জানার বিষয় হল,
রমযানে কীভাবে রোযা রাখব?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নিকটতম পার্শ্ববর্তী যেদেশে চবিবশ ঘণ্টা হিসাবে
স্বাভাবিক নিয়মে দিন রাত হয় সে দেশের সময়সূচি
অনুযায়ী নামায রোযা আদায় করবেন।
-রদ্দুল
মুহতার ১/৩৬৬; তুহফাতুল মুহতাজ ২/১৯; আলমাজমূ
৩/৪৩; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/১৯; মাজমুআতুল
ফাতাওয়াশ শারঈয়াহ ১৪/১০৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫২
ফতোয়া নং: ৩০৩২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমার নানী একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তার চোখ থেকে সবসময় পানি...

প্রশ্ন
আমার নানী একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ। তার চোখ থেকে সবসময় পানি ঝরে। এজন্য নিয়মিত তাকে চোখের ড্রপ বা মলম ব্যবহার করতে হয়। চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে মুখে ঔষধের তিক্ততা অনুভূত হয়। তাই জানতে চাই, রোযা অবস্থায় তিনি চোখে ড্রপ বা মলম ব্যবহার করতে পারবেন কি? এর কারণে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ বা মলম ব্যবহার করা যাবে। এক্ষেত্রে গলায় ঔষধের স্বাদ অনুভূত হলেও রোযা ভাঙ্গবে না -আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৩; রদ্দুল মুহতার ২/৩৯৫; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা : ১০, ২/৪৫৪; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/২৯৭'
ফতোয়া নং: ৩০৩১
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি...

প্রশ্ন
গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি এক রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করলেন। সিজদায়ে তিলাওয়াত থেকে উঠে ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়ে আয়াতে সিজদার পর থেকে কিরাত শুরু করলেন। জানার বিষয় হল, সূরা ফাতিহা দুইবার পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
না, উক্ত কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। কারণ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মিলানোর পর ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু কেউ যদি সূরা মিলানোর আগেই পর পর দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে তবে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০:
ফতোয়া নং: ৩০৩০
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে একসাথে চার রাকাত পড়ে ফেলে। দুই রাকাতের পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং আরো দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়। এভাবে চার রাকাত পড়ার দ্বারা কত রাকাত আদায়
হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বৈঠক করার কারণে চার রাকাতই তারাবীহ হিসেবে আদায় হয়েছে। তবে তারাবীহ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে একসাথে চার রাকাত পড়া ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪০

ফতোয়া নং: ৩০২৯
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায...

প্রশ্ন
রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায পড়ার জন্য মসজিদে যেতে পারি না। প্রায় সময় ইমাম সাহেব তারাবীর নামায কয়েক রাকাত পড়ার পর যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমি ইশা এবং তারাবীর নামায কীভাবে আদায় করব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথমে ইশার ফরয ও সুন্নত আদায়ের পর ইমাম সাহেবের সাথে তারাবীর নামাযে শরিক হবে। তারাবীর জামাত শেষে ইমাম সাহেবের সাথে বিতর
নামাযও
জামাতে পড়ে নিবেন। এরপর তারাবীর বাকি নামায আদায় করবেন। উল্লেখ্য যে, রমযান মাস অধিক গুরুত্বপূণৃ ও ফযীলতপূর্ণ মাস এই মাসে ইবাদতের ছাওয়াব অনেক বেশি। তাই এই মাসে নামায ও জামাতের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; শরহুল মুনইয়াহ ৪১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭
ফতোয়া নং: ৩০২৮
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন...

প্রশ্ন
আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন সময় একটি মাছি আমার মুখের ভেতর দিয়ে পেটে চলে যায়। আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার রোজা ভেঙ্গে গেছে এবং আমার কি ঐ রোজা কাযা করতে হবে?
উত্তর
না, প্রশ্নে উল্যেখিত সুরতে আপনার রোজা ভাঙ্গেনি তাই ঐ রোজা কাযা করতে হবে না। দলিলঃ- দুররুল মুখতার ৩/৪২০; খানি ১/২০৮

Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.