Login | Register

ফতোয়া: রোজা-ইতিকাফ

ফতোয়া নং: ৪৯৪৭
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শাওয়াল মাসের ছয় রোযার ফযীলত, হুকুম ও রাখার পদ্ধতি ৷

প্রশ্ন
হযরত শাওয়াল মাসের রোযা সম্পর্কে জানতে চাই৷ এ রোযা রাখার হুকুম কি? এ রোযার ফযীলত সম্পর্কে যে শোনা যায়, সারা বছর রোযা রাখা সাওয়াব পাওয়া যাবে , তা কতটুকু সহিহ? ছয়টি রোযা কি ধারাবাহিক রাখতে হবে নাকি এক দুদিন পর পরও রাখা যাবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা নফল ৷ রোযাগুলো এক সাথেও রাখা যায়, ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখা যায় ৷ মাসের শুরুতে, মাঝে, ও শেষে যে কোনো সময় রাখা যায়৷
এ ছয়টি রোযা রাখলে সারা বছর নফল রোযা রাখার সাওয়াব আল্লাহ তায়ালা বান্দার আমল নামায় লিখে দেন ৷ কেননা হাদীস শরীফে এসেছে, আবু আয়্যুব আনসারী রাঃ থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা রাখল, অতপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখল সে যেন সারা বৎসর রোযা রাখল ৷
-সহীহ মুসলিম শরীফ, হাদীস নং: ১১৬৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৯৩৮
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় ফরজ গোসলে গড়গড়া ও নাকের নরম জায়গায় পানি পৌছানো ৷

প্রশ্ন
বরাবর মাননীয় মুফতী মেরাজ তাহসীন সাহেব!
আমি একজন মসজিদের ইমাম৷ গতকাল আমার গোসল ফরজ হওয়ার পর সেহরীর আগে গোসল করতে পারিনি৷ আযানের পর যখন গোসলে যাই রোযা থাকার কারণে নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌছাইনি ৷ এবং গড়গড়াও করি নি ৷ আর এভাবে গোসল করে ই নামায পড়াই ৷ জানার বিষয় হল, আমার গোসল কি হয়েছে? গোসল পরবর্তি নামাযগুলোর কি হুকুম? স্বাবিস্তারে জানতে চাই৷
উত্তর
রোযা অবস্থায় ফরজ গোসল করার সময় গড়গড়া ও নাকে নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌছালে যেহেতু রোযা ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা রয়েছে ৷ তাই এমতাবস্থায় গড়গড়া ও নাকের নরম জায়গায় পানি না পৌছানোই শরীয়তের বিধান ৷ অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি ফরজ গোসলে গড়গড়া ও নাকের নরম জায়গায় পানি না পৌছানোর কারণেও আপনার গোসল হয়ে গেছে ৷ সুতরাং পরবর্তি সকল নামাযও সহিহ হয়েছে ৷
বিঃদ্রঃ কারো সুবহে সাদিকের পুর্বে গোসল ফরজ হলে সুবহে সাদিকের পুর্বেই গোসল করে নেয়া উচিত ৷ এমতাবস্থায় গড়গড়া ও নাকের নরম জায়গায় পানি পৌছিয়ে গোসল করতে হবে ৷ কারণ তখন রোযা ভেঙ্গে যাওয়া আশংকা নেই ৷
-মারাকিল ফালাহ, পৃ: ৩৯; ফাতাওয়ায়ে রহীমীয়া, ৫/১৯৮; মাসায়েলে রোযা, পৃ:১৬১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩৭
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ইতেকাফকারী ইস্তেঞ্জার জরুরতে বাসা-বাড়িতে যাওয়া৷

প্রশ্ন
আমাদের মহল্লার মসজিদে এক চাচা ইতিকাফে বসেছে। কিন্তু মসজিদের কোনো ইস্তেঞ্জাখানা না থাকায় বাসায় এসে জরুরত সারতে হয়৷ বাসা থেকে ইস্তেঞ্জা সেরে মসজিদে এসে অযু করে৷ জানতে চাই, এভাবে তার ইতিকাফ কি আদায় হবে কিনা?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের মহল্লার মসজিদে ইতেকাফ কারীর ঐ ইতিকাফ সহীহ হবে। কেননা ইস্তেঞ্জার জরুরুতে মসজিদের বাইরে যাওয়া জায়েয।
আর মসজিদের ইস্তেঞ্জাখানা না থাকলে বাসা-বাড়িতে গিয়ে ইস্তেঞ্জা করা জায়েয।
-সহীহ বুখারী ১/২৭২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১২৷
উত্তর প্রদানে মুফতীঃ মেরাজ তারসীৱ মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩৬
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

বিশে রমযান ইফতারীর পর মসজিদে প্রবেশ করলে ইতিকাফের হুকুম ৷

প্রশ্ন
হুজুর! আমার বাবা এ রমযানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ করার নিয়ত করেছেন৷ আজ বিশে বরমযানেই নাকি মসজিদে চলে যেতে হয় ৷ কিন্তু আজ বাড়িতে একটি ইফতার অনুষ্ঠান থাকায় ইফতারীর পর মসজিদে গেছেন ৷ জানার বিষয় হল, আমার বাবার ইতেকাফ হবে কি না?
উত্তর
আরবীতে দিন শুরু হয় সুর্যাস্তের সময় থেকে ৷ আর রমযানের ২১ তারীখ থেকে ঈদের চাঁদ উঠা পর্যন্ত মসজিদে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুযাক্কাদায়ে কেফায়া ৷ উক্ত সময়ের এক মিনিট কম হলে সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইতেকাফ আদায় হবে না ৷ অতএব রমযানের শেষ দশকের ইতেকাফ আদায় করার জন্য বিশে রমযান সার্যাস্তের আগেই মসজিদে পৌছতে হবে ৷ সুর্যাস্তের এক মিনিট পরে পৌছলেও সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইতেকাফ আদায় হবে না ৷ সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবা ইফতীরর পর মসজিদে পৌছার কারণে তার সুন্নতে মুয়াক্কাদা ইতেকাফ হবে না ৷ নফল হয়ে যাবে ৷
সহীহ বোখারী, হাদীস: ২০২০; ফতওয়ায়ে শামী, ৩/৪৪৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩৪
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

টাকার বিনিময়ে এতেকাফে বসানোর বিধান ৷

প্রশ্ন
আমাদের মহল্লার মসজিদে ইতেকাফের জন্য কোনো লোক পাওয়া যাচ্ছে না। মহল্লাবসী মিলে একজনকে টাকার বিনিময়ে এতেকাফে বসানোর ইচ্ছা করেছেন৷ প্রশ্ন হচ্ছে, এভাবে টাকা দিয়ে ইতেকাফে বসানোর দ্বারা ইতেকাফের দায়িত্ব আদায় হবে কি না?
উত্তর
বিনিময় নিয়ে ইতেকাফ করা বা করানো সম্পুর্ন নাজায়েয। কারন ইতেকাফ একটি ইবাদত। আর ইবাদতের বিনিময় দেওয়া নেওয়া উভয়টি নাজায়েয। ঐ লোকের ইতেকাফের দ্বারা সুন্নতে মুয়াক্কাদা এর দায়িত্ব আদায় হবে না। মহল্লাবাসী গুনাহগার হবে ৷
-জামে তিরমিযী ১/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১১৪; খানিয়া ২/৩২৫৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯৩৩
তারিখ: ২৭/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

প্রবাসীদের ফিতরার পরিমান ও দেশে আদায়ের বিধান ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমার একটি প্রশ্ন, আমি আমেরিকা থাকি৷ আমার ফিতরার টাকা আমার বাবা দেশে আদায় করেন ৷ তাই জানার বিষয় হল, আমরা যে বিদেশে থাকি আমাদের ফিতরা কি বিদেশেই দিতে হবে? নাকি দেশেও দেয়া যাবে? যদি দেশে দেয়া যায় তাহলে বিদেশের মু্ল্য হিসেব করে দিতে হবে নাকি দেশের মু্ল্য হিসেবে দিলেই চলবে? অনুগ্রহকরে জানাবেন ৷
উত্তর
প্রবাসীদের ফিতরা নিজ দেশেও আদায় করা যাবে৷ বিদেশেই আদায় করা জরুরী নয়৷ এ ক্ষেত্রে পৌনে দুই কেজি গম বা আটা দিয়ে আদায় করা উত্তম৷ অবশ্য তার মু্ল্য দ্বারা আদায় করলেও জায়েয হবে৷ তবে এ ক্ষেত্রে সেই দেশের মু্ল্য হিসাব করে দিতে হবে যেই দেশে প্রবাসী বসবাস করেন৷ অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বাবা আপনার ফিতরা গম বা আটার মু্ল্য দ্বারা আদায় করতে চাইলে আপনি আমেরিকার যেই শহরে বসবাস করেন সেই শহরের পৌনে দুই কেজি গম বা আটার মু্ল্য অনুযায়ী আদায় করতে হবে ৷
-রদ্দুল মুহতার, ৩/৩২১; ফতওয়ায়ে রহীমীয়া ৭/১৯৫; মাসায়েলে রোযা,পৃ: ২১৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২৭
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় ডুস দিলে রোযার হুকুম ৷

প্রশ্ন
হুজুর! রোযা রেখে ডুস দেওয়া যাবে কি ? প্রচন্ড জ্বরের রোগী ৷ ডাক্তার ডুস দিতে বলেছেন ৷ ডুস দিলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? জানাবেন প্লীজ ৷
উত্তর
পায়ুপথে ডুস ব্যবহার করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে ৷ কারণ পায়ুপথে কোনো কিছু প্রবেশ করালে তা নির্দিষ্ট খালি জায়গায় প্রবেশ করে ৷
অবশ্য, অসুস্থ ব্যক্তির জন্য রোযা ভাঙ্গার অনুমতি আছে ৷ তাই প্রচন্ড জ্বর হলে ডুস ছাড়া অন্য ওষধে কাজ না হলে বা রোগীর বেশি কষ্ট হলে রোযা ভেঙ্গে ডুস ব্যবহার করতে পারবে ৷ এবং উক্ত রোযাটি রমযানের পরে কাযা করে নিতে হবে ৷
-ত্বাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ:৫৫৭; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২০৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২৫
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় তৈল, বাম, আতর, সেন্ট, স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহার করা ৷

প্রশ্ন
জনাব মুফতী সাহেব! আমার প্রশ্ন হল, রোযা রেখে মাথা ব্যথার বাম,শরীরে বা মাথায় তৈল ব্যবহার করলে কি রোযার কোনো ক্ষতি হবে? এবং রোযা রেখে আতর, সেন্ট, বডি স্প্রে, রোম স্প্রে ইত্যাদির হুকুম কি? বিস্তারিত জানালে খুশি হবো ৷
উত্তর
রোযা নষ্ট হওয়ার সম্পর্ক হল, নির্দিষ্ট রাস্তা দিয়ে গ্রহনযুগ্য খালি জায়গায় কোনো কিছু প্রবেশ করা ৷ লোমকূপ দ্বারা কোনো কিছু প্রবেশ করলেও রোযা ভঙ্গ হবে না ৷ সুতরাং রোযাবস্থায় বাম শরীরে বা মাথায় তৈল ব্যবহার করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। তেমনিভাবে আতর সেন্ট, স্প্রে ইত্যাদি সুগন্ধি ফুলের ঘ্রাণ দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না।
কেননা, এসব জিনিষ ব্যবহার করলে কোনো কিছু প্রবেশ করলেও তা লোমকূপ দ্বারা প্রবেশ করে ৷ আর লোমকূপ দ্বারা কোন জিনিস শরীরের ভিতর প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয় না।
-মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস, ৭৪৬৮ ; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া:১/২০৩ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২৪
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

সাহরী না খেয়ে রোযা রাখার হুকুম ৷

প্রশ্ন
হুজুর গতকাল সাহরীর সময় জাগ্রত হতে পারি নি ৷ যখন জাগ্রত হয়েছি তখন আযান পড়ে গেছে ৷ পরে না খেয়েই রোযার নিয়ত করেছি ৷ এবং সারাদিন না খেয়ে থেকেছি ৷ জানার বিষয় হল, আমার রোযা হয়েছে কি না?
উত্তর
রোযার জন্য সাহরী খাওয়া জরুরি নয়৷ বরং সাহরী খাওয়া হল সুন্নত। সুতরাং সাহরী না খেলেও রোয়ার নিয়ত করলে রোযা হয়ে যাবে ৷ যদিও সাহরীর সুন্নত আদায় হবে না ৷ অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার রোযা হয়ে গেছে ৷
-সহীহ বুখারী ১৯২৩; উমদাতুল কারী ১০/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৯; ফতওয়ায়ে দারুল উলুম ৬/৪৯৬; "মাসায়েলে রোযা ৫৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২৩
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় নখ চুল ও শরীরের অন্যান্য লোম পরিস্কার করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর রোযা রেখে নখ কাটা যাবে কি? এবং রোযা অবস্থায় মাথার চুল, বগলের চুল, নাভির নিচের পশম ইত্যাদি কাটলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না? জানাবেন ৷
উত্তর
নখ চুল ও শরীরে অন্যান্য অবাঞ্ছিত লোম পরিস্কার করা সুন্নত ৷ এর সাথে রোযা ভঙ্গের কোন সম্পর্ক নেই ৷ রোযা নষ্ট হওয়ার সম্পর্ক হল পানাহার ও সহবাসের সাথে। সুতরাং রোযা অবস্থায় নখ চুল ও অন্যান্য লোম পরিস্কার করতে পারবেন ৷ এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না ৷
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৪৬৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২১
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় টিকা নেওয়া ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব হুজুর! আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্বা ৷ আজ গর্ভবতী নারীদের টিকা দেওয়া হবে ৷ আমাকেও নিতে বলা হয়েছে ৷ জানতে চাই রোযা অবস্থায় টিকা নিতে পারবো কি না? টিকা নিলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?
উত্তর
রোযা রাখা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিলে যেহেতু রোযা ভাঙ্গে না। তাই টিকা নিতেও কোন সমস্যা নেই। এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। আপনি রোযা রেখে টিকা নিতে পারবেন ৷
-ইমদাদুল ফাতওয়া-২/১৪৪; ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া-১৫/১৭৩; আহসানুল ফাতওয়া-৪/৪২২; ফাতওয়া উসমানী-২/১৮১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯২০
তারিখ: ১১/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আযান শুরু হওয়ার পর পানাহার করলে রোযার হুকুম৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি পান খাই৷ সাহরীর সময়ও পান খেতে হয়৷ আমাদের এলাকায় গতকাল সাহরীর শেষ সময় ছিল ৩:৩৫ ৷ আযান হয় ৩:৪০৷ গতকাল সাহরীর সময় শেষ হওয়ার পরও আমার মুখে পান ছিল৷ আযান শুরু হওয়ার পর কুলি করে পানী পান করি৷ একজন বললেন আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত খাওয়া যায়৷ জানার বিষয় হল, তার কথা কতটুকু সঠিক? আমার রোযা হয়েছে কি না? না হলে আমার করনীয় কি?
উত্তর
সাহরী সময় সুবহে সাদেক পর্যন্ত৷ আর সুবহে সাদেকের পর কিছু খেলে রোযা ভেঙ্গে যায়৷ আর আযানের সময় সুবহে সাদেকের পর৷ প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার এলাকায় যদি ৩:৪০ মিনিটে আযান হয়ে থাকে৷ তাহলে আপনি সুবহে সাদেকের পর পানি পান করেছেন৷ আর সুবহে সাদেকের পর পানি পান করার কারণে আপনার রোযাটি ভেঙ্গে গেছে৷ উক্ত রোযাটি কাযা করতে হবে৷ তবে কাফ্ফারা দিতে হবে না ৷
সুতরাং যিনি বলেছেন আযান শেষ হওয়া পর্যন্ত সাহরী খাওয়া যায় তার কথা সম্পুর্ন ভুল ৷
-আদদুররুল মুখতার ২/৪০৬; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৪; তাহতাবী আলাল মারাকী ৫৫৬; ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১৫/১৬৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯১৬
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় সপ্নদোষ বা অশ্লীল জিনিষ দেখে বীর্যপাত হলে রোযার হুকুম ৷

প্রশ্ন
হুজুর আজ সেহরীর পরে ঘুমানোর পর স্বপ্নদোষ হয় ৷ এতে বীর্যপাত হয় ৷ জানতে চাই আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? আরেকটি প্রশ্ন, কিছু মনে করবেন না ৷ রোজা রাখা অবস্থায় পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা কি নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তর
রোযা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে রোযা ভাঙ্গে না ৷ অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার রোযা ভাঙ্গেনি ৷ আর রোযা অবস্থায় শুধু পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে বীর্যপাত হলে রোজা নষ্ট হয় না। তবে এসব অশ্লীল জিনিষ দেখে দেখে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এবং উক্ত রোযাটি কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না।
বলা বাহুল্য যে, এসব অশ্লীল জিনিষ দেখা জঘন্নতম গুনাহের কাজ ৷ তাই সর্বাবস্থায় এধরনের জঘন্ন কাজ থেকে সকলের জন্য বিরত থাকা অপরিহার্য৷
-কিতাবুল আসল ২/২০৩; হেদায়া ১/২১৭; ফতহুল কাদির ২/৩৩৭; বাহরুর রায়েক ২/৪৭৬৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯১৫
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় হস্তমৈথুন করলে রোযার হুকুম ৷

প্রশ্ন
হুজুর রোযা রেখে হস্তমৈথুন করলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? যদি ভেঙ্গে যায় তাহলে কি তার কাযা ও কাফ্ফারা উভয়টি আবশ্যক হবে নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে? জানাবেন প্লীজ ৷
উত্তর
রোযা রেখে হস্তমৈথুন করে বীর্যপাত করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। তবে এক্ষেত্রে শুধু কাযা আবশ্যক হবে। কাফফারা দিতে হবে না। আর যদি বীর্যপাত না হয় তাহলে রোযা ভাঙ্গবে না ৷
বলা বাহুল্য যে, হস্তমৈথুন করা ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি নাজায়েয ও অত্যান্ত গর্হিত কাজ ৷ তাই এ বদ অভ্যাস থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য ৷
-আল বাহরুর রায়েক, ১/২৪৭৫; ফতওয়ায়ে শামী, ১/১৪২; ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২০৫; ফতওয়ায়ে দারুল উলুম, ৬/৪১৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯১২
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত দেয়া ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! রোযা অবস্থায় কি শরীর থেকে রক্ত দেয়া যাবে? যদি কেউ রোযা অবস্থায় রক্ত দেয় তাহলে তার রোযা ভেঙ্গে যাবে? অনুগ্রহপুর্ব জানাবেন ৷
উত্তর
হ্যাঁ, রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত দেয়া যাবে ৷ রক্ত দেয়ার কারণে রোযা ভাঙ্গবে না ৷ তবে বিশেষ জরুরত ছাড়া শরীর থেকে এ পরিমাণ রক্ত দেয়া মাকরূহ, যার কারণে ঐ দিন রোযা পূর্ণ করার শক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়।
-সহীহ বুখারী, হাদীস: ১৯৩৮,আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; আল ইসলাম ওয়াত্তীব্বুল হাদীস পৃ: ৩২৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯১০
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় ইনসুলিন, স্যালাইন, গ্লুকোজ স্যালাইন, ইঞ্জেকশন নেয়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি ডায়াবেটিস রোগী ৷ দৈনিক কয়েকবার ইনসুলিন নিতে হয় ৷ তাই আপনার নিকট আমার জানার বিষয় হল, রোযা অবস্থায় কি ইনসুলিন বা অন্য ইঞ্জেকশন নেয়া যাবে? আর যদি কেউ স্যালাইন বা
ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? অথবা অসুস্থ অবস্থায় কেউ যদি গ্লুকোজ স্যালাইন নেয় তাহলে কি তার রোযা সহীহ হবে? বিস্তারিত জানালে খুশি হব ৷
উত্তর
রোজা অবস্থায় ইনসুলিন, স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গে না। তেমনিভাবে অসুস্থতার কারণে গ্লুকোজ স্যালাইন নিলেও রোযার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে অসুস্থতা ছাড়া গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া জায়েয নেয় ৷
-আ'লাতে জাদীদা কি শরঈ আহকাম, পৃ: ১৫৩ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


{\rtf1\ansi\ansicpg1252\cocoartf1504\cocoasubrtf830 {\fonttbl\f0\fnil\fcharset0 .SFNSText;} {\colortbl;\red255\green255\blue255;\red22\green25\blue31;\red255\green255\blue255;} {\*\expandedcolortbl;;\cssrgb\c11373\c12941\c16078;\cssrgb\c100000\c100000\c100000;}
\deftab720
\pard\pardeftab720\partightenfactor0

\f0\fs28 \cf2 \cb3 \expnd0\expndtw0\kerning0 \outl0\strokewidth0 \strokec2 \uc0\u2474 \u2509 \u2480 \u2488 \u2457 \u2509 \u2455 \u2435 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2437 \u2476 \u2488 \u2509 \u2469 \u2494 \u2479 \u2492 \u2472 \u2494 \u2453 , \u2453 \u2494 \u2472 , \u2458 \u2507 \u2454 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2494 \u2551 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2474 \u2509 \u2480 \u2486 \u2509 \u2472 \u2435 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2489 \u2479 \u2480 \u2468 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2437 \u2476 \u2488 \u2509 \u2469 \u2494 \u2479 \u2492 \u2472 \u2494 \u2453 \u2453 \u2494 \u2472 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2503 \u2480 \u2489 \u2497 \u2453 \u2497 \u2478 \u2453 \u2495 ? \u2438 \u2480 \u2453 \u2503 \u2441 \u2479 \u2470 \u2495 \u2458 \u2507 \u2454 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2494 \u2480 \u2475 \u2482 \u2503 \u2478 \u2497 \u2454 \u2503 \u2468 \u2495 \u2453 \u2509 \u2468 \u2468 \u2494 \u2437 \u2472 \u2497 \u2477 \u2476 \u2489 \u2479 \u2492 \u2468 \u2494 \u2489 \u2482 \u2503 \u2453 \u2495 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2477 \u2503 \u2457 \u2509 \u2455 \u2503 \u2479 \u2494 \u2476 \u2503 ? \u2460 \u2494 \u2472 \u2494 \u2482 \u2503 \u2441 \u2474 \u2453 \u2499 \u2468 \u2489 \u2476 \u2551 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2441 \u2468 \u2509 \u2468 \u2480 \u2435 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2437 \u2476 \u2488 \u2509 \u2469 \u2494 \u2479 \u2492 \u2458 \u2507 \u2454 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2482 \u2503 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2477 \u2494 \u2457 \u2509 \u2455 \u2476 \u2503 \u2472 \u2494 \u2404 \u2479 \u2470 \u2495 \u2451 \u2468 \u2495 \u2453 \u2509 \u2468 \u2468 \u2494 \u2478 \u2497 \u2454 \u2503 \u2476 \u2494 \u2455 \u2482 \u2494 \u2479 \u2492 \u2437 \u2472 \u2497 \u2477 \u2476 \u2489 \u2479 \u2492 \u2551 \u2438 \u2480 \u2458 \u2507 \u2454 \u2503 \u2480 \u2447 \u2476 \u2495 \u2487 \u2479 \u2492 \u2463 \u2495 \u2488 \u2494 \u2471 \u2494 \u2480 \u2467 \u2453 \u2495 \u2479 \u2492 \u2494 \u2488 \u2476 \u2489 \u2495 \u2480 \u2509 \u2477 \u2497 \u2468 \u2488 \u2480 \u2494 \u2488 \u2480 \u2495 \u2438 \u2488 \u2494 \u2480 \u2470 \u2509 \u2476 \u2494 \u2480 \u2494 \u2474 \u2509 \u2480 \u2478 \u2494 \u2467 \u2495 \u2468 \u2551 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2438 \u2471 \u2497 \u2472 \u2495 \u2453 \u2465 \u2494 \u2453 \u2509 \u2468 \u2494 \u2480 \u2470 \u2503 \u2480 \u2438 \u2471 \u2497 \u2472 \u2495 \u2453 \u2441 \u2472 \u2509 \u2472 \u2468 \u2478 \u2494 \u2472 \u2503 \u2480 \u2469 \u2495 \u2441 \u2480 \u2496 \u2437 \u2472 \u2497 \u2479 \u2494 \u2479 \u2492 \u2496 \u2453 \u2494 \u2472 \u2503 \u2480 \u2477 \u2495 \u2468 \u2480 \u2503 \u2447 \u2478 \u2472 \u2453 \u2507 \u2472 \u2507 \u2480 \u2494 \u2488 \u2509 \u2468 \u2494 \u2472 \u2503 \u2439 \u2479 \u2494 \u2470 \u2495 \u2479 \u2492 \u2503 \u2488 \u2480 \u2494 \u2488 \u2480 \u2495 \u2455 \u2482 \u2494 \u2479 \u2492 \u2453 \u2507 \u2472 \u2507 \u2453 \u2495 \u2459 \u2497 \u2474 \u2508 \u2459 \u2503 \u2551 \u2437 \u2468 \u2447 \u2476 \u2453 \u2494 \u2472 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2494 \u2480 \u2453 \u2494 \u2480 \u2467 \u2503 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2477 \u2494 \u2457 \u2509 \u2455 \u2476 \u2503 \u2472 \u2494 \u2551 \u2437 \u2476 \u2486 \u2509 \u2479 \u2453 \u2494 \u2472 \u2503 \u2480 \u2474 \u2480 \u2509 \u2470 \u2494 \u2475 \u2494 \u2463 \u2494 \u2469 \u2494 \u2453 \u2482 \u2503 \u2480 \u2507 \u2460 \u2494 \u2477 \u2503 \u2457 \u2509 \u2455 \u2503 \u2479 \u2494 \u2476 \u2503 \u2551 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2438 \u2480 \u2472 \u2494 \u2453 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2482 \u2503 \u2479 \u2503 \u2489 \u2503 \u2468 \u2497 \u2488 \u2480 \u2494 \u2488 \u2480 \u2495 \u2455 \u2482 \u2494 \u2479 \u2492 \u2474 \u2508 \u2459 \u2503 \u2468 \u2494 \u2439 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2437 \u2476 \u2488 \u2509 \u2469 \u2494 \u2479 \u2492 \u2472 \u2494 \u2453 \u2503 \u2465 \u2509 \u2480 \u2474 \u2476 \u2509 \u2479 \u2476 \u2489 \u2494 \u2480 \u2453 \u2480 \u2494 \u2479 \u2494 \u2476 \u2503 \u2472 \u2494 \u2551 \u2447 \u2468 \u2503 \u2480 \u2507 \u2479 \u2494 \u2477 \u2503 \u2457 \u2509 \u2455 \u2503 \u2479 \u2494 \u2476 \u2503 \u2551 \cb1 \
\cb3 -\uc0\u2475 \u2494 \u2468 \u2494 \u2451 \u2479 \u2492 \u2494 \u2468 \u2494 \u2468 \u2494 \u2480 \u2454 \u2494 \u2472 \u2495 \u2479 \u2492 \u2494 \u2537 /\u2537 \u2541 \u2543 ; \u2476 \u2494 \u2470 \u2494 \u2479 \u2492 \u2503 \u2441 \u2488 \u2488 \u2494 \u2472 \u2494 \u2479 \u2492 \u2503 \u2536 /\u2536 \u2538 \u2538 ; \u2438 \u2482 \u2439 \u2488 \u2482 \u2494 \u2478 \u2451 \u2479 \u2492 \u2494 \u2468 \u2509 \u2468 \u2496 \u2476 \u2509 \u2476 \u2497 \u2482 \u2489 \u2494 \u2470 \u2496 \u2488 , \u2474 \u2499 : \u2537 \u2536 \u2536 \u2551 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2441 \u2468 \u2509 \u2468 \u2480 \u2474 \u2509 \u2480 \u2470 \u2494 \u2472 \u2503 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2478 \u2497 \u2475 \u2468 \u2496 \u2478 \u2503 \u2480 \u2494 \u2460 \u2468 \u2494 \u2489 \u2488 \u2496 \u2472 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2478 \u2497 \u2475 \u2468 \u2496 \u2435 \u2460 \u2494 \u2478 \u2495 \u2479 \u2492 \u2494 \u2470 \u2494 \u2480 \u2497 \u2482 \u2441 \u2482 \u2497 \u2478 \u2470 \u2503 \u2476 \u2455 \u2509 \u2480 \u2494 \u2478 \cb1 \
\cb3 \uc0\u2476 \u2509 \u2480 \u2494 \u2489 \u2509 \u2478 \u2467 \u2476 \u2494 \u2465 \u2492 \u2495 \u2479 \u2492 \u2494 \u2551 }

ফতোয়া নং: ৪৯০৯
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর রোযা রেখে কি টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা যাবে? যদি দাঁত ব্রাশ করি তাহলে কি রোযা নষ্ট হয়ে যাবে? অনুগ্রহপুর্বক জানাবেন৷
উত্তর
রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট যদি গলার ভেতর চলে যায় তাহলে রোযাই নষ্ট হয়ে যাবে। তাই রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে ৷ এবং মিসওয়াক ব্যবহার করবে ৷ যদি টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করতে হয় তাহলে সাহরীর সময় শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে। অথবা ইফতারীর পর করবে ৷
-জাদীদ ফিকহী মাসায়েল, ১/১০২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; মাসায়েলে রোযা, পৃ: ৬৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৮
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার বা গ্যাস নেয়া৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার মা হাঁপানি রোগে আক্রান্ত ৷ খুব শ্বাস কষ্টে ভোগেন ৷ প্রায় সময় শ্বাস বন্ধ হয়ে যায় ৷ তখন ইনহেলার ব্যবহার করে গ্যাস নিতে হয় ৷ জানার বিষয় হল, রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করা যাবে কি না? একজন বললেন, ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় তাই এতে রোজা ভঙ্গ হবে না৷ এটা কি সঠিক? জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাবে ৷ কারণ শ্বাস কষ্ট দুর করার জন্য ওষুধটি যে মুখের ভেতরে স্প্রে করা হয়৷ এতে যে জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ হয় ঐ জায়গাটি প্রশস্ত হয়ে যায়৷ ফলে শ্বাস চলাচলে আর কোন কষ্ট থাকে না৷ ওষুধটি যে শিশিতে যে পরিমান থাকে ঐ শিশির মুখ একবার টিপলে শিশির আকারভেদে ঐ পরিমানের একশত কিংবা দুইশত ভাগের একভাগ বেরিয়ে আসে৷ অতি সল্প পরিমানে গ্যাসের ন্যায় বের হওয়ার কারনে কেউ ওষুধটিকে বাতাস জাতিয় মনে করতে পারে৷ কিন্তু বাস্তবে এমন নয় বরং ওষুধটি দেহবিশিষ্ট৷ কাঠ ইত্যাদি কোন বস্তুতে স্প্রে করলে দেখা যায় যে ঐ বস্তুটি ভিজে গেছে৷ তাই এতে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে৷
যারা বলেন, ইনহেলার অতি প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয় তাই এতে রোজা ভঙ্গ হবে না৷ তাদের এ কথাটি একেবারেই হাস্যকর৷ কেননা কেহ যদি ক্ষুধায় মৃত্যুমুখে পতিত হয় অতি প্রয়োজনে কিছু খেয়ে ফেলে তাহলে কি রোজা ভঙ্গ হবে না? অবশ্যই হবে৷ অতি প্রয়োজনে রোজা ভাঙ্গলে পরবর্তিতে রোজা কাযা করা ও গুনাহ না হওয়া ভিন্ন কথা, আর রোজা ভঙ্গ না হওয়া ভিন্ন কথা৷ সুতরাং তাদের কথা মোটেও সঠিক নয় ৷ বরং অতি প্রয়েজনে হলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে ৷ তবে তার উক্ত রোজা কাফ্ফারা দিতে হবে না ৷ পরে কাযা করলেই চলবে ৷
অবশ্য যদি মুখে ইনহেলার স্প্রে করার পর না গিলে থুথু দিয়ে তা বাইরে ফেলে দেয়া হয়, এবং গ্যাসটি গলদকরন না হয়ে থাকে, তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না৷
-আল ইসলাম ওয়াত্তীব্বুল হাদীস, পৃ: ২২৩-৩২৪ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৭
তারিখ: ৩/৬/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীর নামাযে এক রাকাতে তিনবার সূরা ইখলাস পড়া কি মুস্তাহাব?

প্রশ্ন
গতকাল আমাদের মসজিদে মাইকে তারাবীর এ'লান করার সময় হুজুর বললেন, তারাবীর এক রাকাতে সূরা ইখলাস তিনবার পড়াতে। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।
উত্তর
তারাবীহ নামায পড়ার ক্ষেত্রে সূরা ইখলাস তিনবার পড়ার কোনো বিধান শরীয়তে নেই। সাহাবা-তাবেয়ীন থেকেও এমন কোনো আমলের প্রমাণ নেই। ফকীহগণ এসব আমলকে অপছন্দ করেছেন। তাই এ থেকে বিরত থাকবে এবং অন্য সূরার ন্যায় যথানিয়মে একবারই পড়বে।
-ফাতাওয়া উসমানী ১/৫১০; আহসানুল ফাতাওয়া ৩/৫০৯ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৬
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীহ নামায বিশ রাকাতের কম পড়লে তারাবীর সুন্নত আদায় হবে কি?

প্রশ্ন
হুজুর আমরা ব্যবসায়িক মানুষ ৷ রমজানে ব্যবসায়ের বেচাকেনা একটু বেশি হয় ৷ তাই যদি তারাবীর নামায আট রাকাত বা দশ রাতাত পড়ি তাহলে কি তারাবীর নামায আদায় হবে?
উত্তর
তারাবীর নামায বিশ রাকাত পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা ৷ এর চেয়ে কম পড়লে তারাবীর সুন্নত আদায় হবে না ৷ নফল হয়ে যাবে ৷ অতএব প্রশ্নে বর্নিস সুরতে আপনারা তারাবীর নামায আট/দশ রাকাত তারাবীহ এর নিয়তে পড়লে তা তারাবীহ হিসেবে গন্য হবে না ৷ নফল হয়ে যাবে ৷
-ফতওয়ায়ে শামী,২/৪৯৫; আল মুহীতুল বুরহানী ২/২৪৯; তাতারখানিয়া ১/৬৫৪; আল বাহরুর রায়েক ২/৬৬ ; ফতওয়ায়ে মাহমুদিয়া ১১/৩৩৫ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৯০৫
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

তারাবীর নামাযে দ্রুতগতিতে কুরআন তিলাওয়াত করা ৷

প্রশ্ন
হযরত! বর্তমানে যে তারাবীহ নামাযে দ্রুতগতিতে তিলাওয়াত করা হয়, তা কতটুকু শরীয়তসম্মত? এতে কি তারাবীহ নামায আদায় হবে? অনেক সময় হাফেয সাহেবের পড়া-ই বুঝা যায় না ৷ এতে কি খতম আদায় হবে?
উত্তর
কুরআনের শব্দ স্পষ্ট করে অন্যান্য নামাযের চেয়ে দ্রুতগতিতে তারাবীর নামাযে কোরআন তেলাওয়াত করতে কোন সমস্যা নেই ৷ কিন্তু তিলাওয়াত এত বেশি দ্রুত হওয়া যে কোরআনের শব্দই স্পষ্ট হয় না, তাহলে বৈধ হবে না। খতমও আদায় হবে না ৷ অবশ্য ফরজ ক্বিরাত পরিমান তিলাওয়া বুঝা গেলে নামায হয়ে যাবে ৷
-রদ্দুল মুহতার: ১/৫৪১; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/১১৭ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৪
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

কোনো কারণে পিছন থেকে হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত শুনতে না পেলে খতম আদায় হবে কি না?

প্রশ্ন
খতমে তারাবীহ চলাকালীন তন্দ্রার কারণে বা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কারণে সাউন্ডবক্স বন্ধ হয়ে গেলে
কেউ যদি হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত বা তিলাওয়াতের কোনো অংশ শুনতে না পায় তাহলে কি তার খতম আদায় হবে? সে কি পরিপূর্ণ খতমের সাওয়াব পাবে?
উত্তর
জ্বী, হ্যাঁ, কোনো কারণে মুক্তাদি হাফেয সাহেবের তিলাওয়াত শুনতে না পেলেও খতম আদায় হয়ে যাবে ৷ এবং খতমের পরিপুর্ন সাওয়াব পেয়ে যাবে। তবে এর জন্য শর্ত হল, রাকাত পেতে হবে এবং তিলাওয়াতের পুর্ন সময় নামাযে শরীক থাকতে হবে ৷
-আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ৩/৬৮; নিজামুল ফাতাওয়া: ৫/৯৪৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০৩
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

মহিলাদের জন্য জামাতের সহিত তারাবীহ পড়ার বিধান ৷

প্রশ্ন
হুজুর গত বছর আমার মহল্লায় সকল মহিলাদের নিয়ে জামাতে তারাবীহ পড়েছিলাম ৷ এ বছর আমার অন্য মসজিদে তারাবীহ ঠিক হয়েছে ৷ তাই এ বছর মহিলারা আমাকে বলছে আমি যেন একজন হাফেয ঠিক করে দেই ৷ তারা যেন এবছরও জামাতে তারাবীহ পড়তে পারে ৷ জানার বিষয় হল, মহিলাদের জমাতে তারাবীহ পড়তে কোন সমস্যা আছে কি না?
উত্তর
মহিলাদের জন্য তারাবীহ সহ সকল নামাজ নিজ ঘরে একাকি পড়াই মুস্তাহাব । এবং এতেই পুরুষের মসজিদে গিয়ে জামাতের সহিত নামায আদায় করার মত সাওয়াব পাবে ৷ কেননা এমন কোন হাদীস নেই যেখানে রাসূলুল্লাহ সাঃ মহিলাদেরকে জমাতে নামায আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন বা তাগিদ করেছেন ৷ বরং আরো অনুৎসাহিত করেছেন ৷ তাই রাসূল (সা.)-এর পরবর্তিকালে তার সাহাবিগণ যেমন হজরত ওমর ও হজরত আয়েশা (রা.) ফেতনার আশংকায় মহিলাদের মসজিদে যেতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করতেন। যার অনুসরণে দেড় হাজার বছর পর্যন্ত কোনো আলেম মহিলাদেরকে মসজিদে এসে নামাজ পড়ার জন্য উৎসাহিত করেননি এবং এর জন্য কোনো ব্যবস্থাও করেননি।
-সহিহ বোখারি, হাদিস: ৮৬৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২৭০৯০৷
অতএব মহিলারা নিজ ঘরে একাকি নামায পড়বে এটা ই শরিয়তের বিধান ৷ এবং এর বিপরীত করা জায়েয নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে বলবেন যে, মহিলাদের জন্য জামাতে নামায পড়ার চেয়ে নিজ ঘরে একাকী নামায পড়ার সাওয়াব বেশি ৷ তাই আপনারা ঘরে একাকি নামায পড়বেন ৷ অবশ্য কেউ যদি জামাতে নামায পড়ে ফেলে তাহলে তার নামায আদায় হয়ে যাবে৷
-আল বাহরুর রায়েক: ১/৬২৭, রদ্দুল মুহতার:
২/৪৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৯০২
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

ক্বেরাত স্মরণ করার জন্য তারাবীর নামাযের সিজদায় গিয়ে তিলাওয়াত করা ৷

প্রশ্ন
হযরত! তারাবী ও রোজা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় মাসালা নাসায়েল নিয়ে পোষ্ট করলে সকলে উপকৃত হত৷
আর আমার একটি প্রশ্ন, আমি একজন হাফেয । রমজানে তারাবী পড়াই ৷ তারাবীর নামায পড়ানোর সময় পরের রাকাতের কেরাত স্মরণ করার জন্য সিজদায় গিয়ে আমি অনেক সময় নিম্নস্বরে একটু কুরআন তিলাওয়াত করি । আমার জানার বিষয় হল,
এতে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না?
উত্তর
তাবারীহ ও রোজা সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিদিন তারাবীর নামাযের পর পোষ্ট করা হবে ইনশাল্লাহ ৷ মহান পরওয়ারদিগার যেন সুস্থ ও সবল রাখেন আপনাদের নিকট সেই দোয়া প্রার্থী ৷
আপনার মসয়ালার উত্তরঃ রুকু ও সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষেধ। মুসলিম শরীফের হাদীসে এসেছে, হযরত আলী রা. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃ আমাকে রুকু বা সিজদায় কুরআন তিলাওয়াত করতে নিষেধ করেছেন। তাই রুকু-সিজদায় ইচ্ছাকৃত কুরআন পড়লে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। সুতরাং তা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক ৷ আর যদি ভুলে কেউ পড়ে ফেলে এবং তা এক আয়াত বা তার বেশি হয় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে।
-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৮০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩১৩; রদ্দুল মুহতার ১/৬৫৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭৯
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শবে বরাতের ফযিলত, করনীয় ও বর্জনীয়।

প্রশ্ন
হুজুর বর্তমানে শবে বরাত কে কেন্দ্র করে বহুধরনে কর্মকান্ড প্রচলিত রয়েছে ৷ যেমন নির্ধারিত পদ্ধতি আমল, আতশবাজি, হালুয়া রুটি তৈরি, আলোকসজ্জা ইত্যাদি ৷ আবার কেউ শবে বরাতকে অস্বিকার করছে ৷ হাদীসে নাকি এ বিষয়ে কিছুই নেই ৷ এ বিষয়ে যদি বিস্তারিত জানাতেন উপকৃত হতাম ৷
উত্তর
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে একদল না না রকম নাজায়েজ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। অপর আরেক দল এই রাতের অস্তিত্বটাকেই অস্বীকার করেন। প্রথমে
শবে বরাত সপম্পর্কে সহিহ হাদিস উল্লেখ করছি। -হযরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ)থেকে বর্ণিত,রাসুল (সাঃ) এরশাদ করেছেন- আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে(শবে বরাতে) সৃষ্টির দিকে (রহমতের) দৃষ্টি দেন।এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত সবাইকে মাফ করে দেন।
-সহীহ ইবনে হিব্বান ১২/৪৮১;আত-তারগীব ওয়াত- তারহীবে ২/১৩২ ৷
আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ থেকে বর্নিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক শা'বানের ১৫ তারিখ রাত্রিতে পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন অর্থাৎ রহমতে খাছ
নাযিল করেন। অতঃপর তিনি বণী কালবের মেষের গায়ে যত পশম রয়েছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক বান্দাকে ক্ষমা করে থাকেন"।
সুনানে তিরমিযি ২/১২১,১২২; মুসনাদে আহমাদ ৬/২৩৮ ৷
এছাড়াও বহু হাদীস দ্বারা এরাতের ফযিলত প্রমানিত ৷ তাই এ রাতের ফযিলত ও মর্যাদা কোন ভাবেই অস্বিকার করা যাবে না ৷ তবে এরাতে নির্ধারিত পরিমান বা নির্ধারিত পন্থায় কোন আনল বর্নিত নেই ৷ এবং তাকে উপলক্ষ করে হালুয়া রুটি তৈরি করা আলোকসজ্জা করা আতশবাজি করা ইত্যাদি সম্পুর্ন নাজায়েয ও বাড়াবাড়ি ৷
সুতরাং যারা শবে বরাতকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন তারাও ভুল করছেন,আর যারা একেবারে অস্বীকার করছেন তারাও ভুল করছেন। কারন হাদিসের মধ্যে কোন বাড়াবাড়ির কথাও নেই আবার অস্তিত্বহীনতাও বুঝা যায়না।
সহিহ পন্থায় এই রাতে কিছু করনীয় ও বর্জনীয় ৷
এই রাতে করনিয়ঃ
১) এই রাতে আল্লাহর রাসুল অনেক দীর্ঘ নামাজ পড়তেন। তাই নামায পড়া ৷ তবে নির্ধারিত পরিমান বা পদ্ধতি জরুরী মনে না করে ৷
২) পরের দিন রোজা রাখতেন।দলীল-
ﻗﻮﻟﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ : ﺍﺫﺍ ﻛﺎﻧﺖ ﻟﻴﻠﺔ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻣﻦ ﺷﻌﺒﺎﻥ ﻓﻘﻮﻣﻮﻟﻴﻠﻬﺎ ﻭﺻﻮﻣﻮﺍ
ﻧﻬﺎﺭﻫﺎ
রাসুল (সাঃ) বলেছেন -যখন অর্ধ শাবানের আসে- তোমরা সেই রাতে ইবাদত বন্দেগীতে কাটাও এবং পরের দিন রোজা রাখো। তাই পরদিন রোজা রাখা
বিঃদ্রঃ শবে বরাতের রোজা একটি ৷
৩) এই রাতে পুরুষদের জন্য কবরস্থানে যাওয়া এবং তাদের মৃত আত্মীয় স্বজনদের জন্য ইসালে সাওয়াব করা মুস্তহাব।
এই সম্পর্কে মুফতি শফি সাহেব অত্যন্ত চমৎকার অভিমত ব্যাক্ত করেছেন।তিনি বলেন রাসুল (সাঃ) যেহেতু জীবনে একবার মাত্র শবে বরাতের রাত্রে কবরস্থানে গিয়েছেন,কাজেই জীবনে একবার এই রাতে কবরস্থানে গেলেই মুস্তহাব আদায় হয়ে যাবে।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হল কোন ভাবেই যেন বিদআতি কোন কাজ না হয়ে যায়।
৪) এই রাতে খুব দোয়া করা। কেননা আল্লাহর রাসুল বলেছেনঃ শাবানের ১৫ তারিখ রাতে আল্লাহর পক্ষ হতে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করেন,- আছে কি কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী,যাকে আমি ক্ষমা করবো। এমনিভাবে সকল বিষয়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
৫) এই রাতে নির্দিষ্ট কোন নামাজ নেই। যত নফল
নামাজ পড়া যায় পড়বে ৷ তবে যাদের কাজা নামাজ বাকি আছে তাদের জন্য উত্তম হবে কাজা নামাজ গুলো আদায় করে নেয়া। কারন হাশরের মাঠে নফলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবেনা,ফরজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।
এই রাতের বর্জনীয় আমল সমুহঃ ১) এই রাতে সম্মিলিত না হয়ে একাকী আমল করা
উত্তম।কারন সম্মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রে আমলের
চাইতে ফেতনাটাই হওয়ার আশংকা বেশি। ২) আতশবাজি করা যাবেনা
৩) হালুয়া রুটি বিতরন কারা বা নিজ ঘরে তৈরি করা যাবেনা। কারন এতে অহেতুক সময় নষ্ট হয়, এবং বর্তমানে এটা একটা বড় ধরনের ফেতনার আকার ধারন করেছে।
৪) আলোকসজ্জা করা যাবেনা।
৫) মাইকে কুরআন তেলাওয়াত বা হামদ নাত পরিবেশন করে অন্যের আমলে ব্যাঘাত ঘটানো যাবেনা।
৬) কবরস্থানে ভিড় করা বা মেলা বসানো যাবেনা।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের কে এই রাতের সকল ফজিলত দান করুণ। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬৪
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

"রমজানের প্রথম খবর দিলে জাহান্নামের আগুন মাফ" এটি কি হাদীস?

প্রশ্ন
অনেকদিন যাবৎ ফেসবুকে একটি হাদীস খুব প্রচার করা হচ্ছে ৷ পিকচার, ভিডিও বানিয়ে ইমুতে, ইনবক্সে ওয়াট্সঅ্যাপে সেন্ড করা হচ্ছে ৷ হাদিসটি হলো, "যে ব্যক্তি রমজানের খবর ১ম কাউকে দিবে, তার জাহান্নামের আগুন মাফ হয়ে যাবে"৷ জানার বিষয় হলো, এটা কি হাদিস? হাদীস হলে তার ব্যাখ্যা কি?
উত্তর
বহু হাদীসের কিতাব তালাশ করে, অসংখ্য কিবাতের ভান্ডার মাকতাবায়ে শামেলা তালাশ করে, ইন্টার্নেটে হাদীসের বিভিন্ন ওয়েব তালাশ করেও এধরনের হাদীসের অস্তিত্ব মিলে নি ৷ তাই উক্ত কথাটি যাচাই না করে হাদীস হিসেবে প্রচার করা চরম গর্হিত ও জঘন্নতম কাজের শামিল ৷ তাই তা প্রচার করা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য ৷ কেননা রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “আমি যা বলিনি সেই কথা যে আমার নামে বলবে তার আবাস্থল হবে জাহান্নাম।
সহিহ বোখারী ১/৫২ ৷
অন্য হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্নিত রাসূল সঃ বলেছেন, যা শুনে তা'ই বলতে থাকা কোন ব্যক্তি মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট ৷
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৯৯২ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৬১
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

শবে মেরাজের রোজা ও রজব মাসের অন্যান্য বিশেষ আমল ৷

প্রশ্ন
শবে মেরাজে ইবাদতের বিশেষ কোন ফযীলত আছে কিনা? অনেকেই এরাতে শবে বরাতের মত বিভিন্ন আমল করে থাকে ৷ পরদিন রোজা রাখে ৷ যাকে মেরাজের রোজা বলে ৷ আসলে কি এসব জিনিষ হাদীস দ্বারা প্রমানিত ? এমাসে কোন বিশেষ আমল থাকলে জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
শবে মেরাজে ইবাদতের বিশেষ ফযীলতের ব্যাপারে কোন হাদীস বিদ্যমান নেই। তাই শবে মেরাজের কোন গুরুত্বপূর্ণ আমল ইসলামী শরীয়তে নেই।
রজব মাসের বিভিন্ন তারিখে রোযা রাখা, সালাতুর রাগায়েব নামক বিশেষ প্রকৃতির নামায পড়া সংক্রান্ত সকল হাদীসই জাল ও বানোয়াট।
অতএব শবে মেরাজের নামায রোজা ইত্যাদি বিশেষ আমল বিদআত ৷ কারন রাসূল সাঃ সাহাবাগন ও তাবেয়ী তাবে তাবেয়ীগন শবে মেরাজে বিশেষ কোন আমল করেন নি, তাই শবে মেরাজে বিশেষ আমল নেই। আর রাসূল সাঃ যা করেন নি, সেটাকে দ্বীন মনে করার নামই হল বিদআত। আর বিদআত পথভ্রষ্টতা। আর পথভ্রষ্টতা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করে।
-লাতায়েফুল মাআরিফ-১৩১; আাল মাজমাউ শরহুল মুহাযযাব-৩/৫৪৯; তাখরীজে ইহইয়া ইহইয়াউ
উলূমিদ্দীন-১/২৯৬ আল লাআলিল মাসনূআ-২/৫৫-৫৯ তানযীহুশ শরীয়া-২/৮৯-৯০ ৷
তবে রজব মাস সম্পর্কিত নিম্নের হাদীসটি দুর্বল হলেও জাল তথা বানোয়াট নয়। আর ফযিলতের ক্ষেত্রে যেহেতু দুর্বল হাদীসও আমল করা যায় তাই উক্ত হাদীস অনুযায়ী আমল করা যাবে ৷ হাদিসটি হলো,
হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রজব মাস আসলে পড়তেন- আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদ্বান।
-মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৪৯৪, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৩৪৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৫৯
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

২২ ই রজবে শিরনী পাকিয়ে বাড়ি বাড়ি বন্টন করা ৷

প্রশ্ন
গতকাল অর্থাৎ রজবের ২২ তারিখে আমাদের এলাকায় অনেককেই দেখা গেছে শিরনী পাকিয়ে তা বাড়িতে বাড়িতে বন্টন করেছে । শরীয়তে তার বিধান কি ?
উত্তর
এটি সুষ্পষ্ট বিদআত ও সাহাবী বিদ্বেষী উৎসব হবার কারণে ঈমান বিধ্বংসী উৎসবও বটে । তাই তা পরিহার করা প্রতিটি মুসলমানদের জন্য আবশ্যক। কারণ প্রচলিত উক্ত প্রথাটির আবিস্কারক শিয়ারা। এটি আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কোন কাজ নয় ৷ শিয়াদের বিশ্বাস হলো, এদিন হযরত ইমাম জাফর সাদিক জন্মগ্রহন করেছেন । সেই খুশিতে তারা এ রুসুম
পালন করে থাকে।
কিন্তু এটি সঠিক নয় ৷ কারণ এদিন জাফর সাদিক জন্ম গ্রহণ করেননি। বরং তিনি জন্ম গ্রহণ করেছেন ৮০ বা ৮৩ হিজরীর ৮ই রমজান মাসে । সুতরাং বাইশে রজবের সাথে জাফর সাদিক রহঃ এর জন্মগ্রহনের কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ৷
আসল কথা হলো, এদিন হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ ইন্তেকাল করেছেন। তাফসীরে তাবারী,৪/২৩৯ ৷
এতে স্পষ্ট বুঝা যায়, হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর দুশমন শিয়ারা তাঁর ইন্তেকালে খুশি হয়ে এ জঘন্য উৎসব পালন করে থাকে। কিন্তু তাদের এ ঘৃণ্যতাকে ঢাকার
জন্য মিথ্যাচার করে বলে এদিন জাফর সাদিক জন্ম গ্রহণ করেছেন।
অতএব বুঝা গেল এটি মূলত মুয়াবিয়া রাঃ এর দুশমনদের উৎসব। মুসলমানদের নয়। তাই এ কর্ম থেকে সকলকে বিরত থাকা জরুরী।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৬২৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

নফল রোজা রেখে শিঙ্গা লাগানো৷

প্রশ্ন
পিঠে তীব্র ব্যথার কারণে গত মহররমের রোযা অবস্থায় আমি শিঙ্গা লাগিয়েছি। এতে আমার রোযা ভঙ্গ হয়েছে কি? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
শিঙ্গা লাগালে বা শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা ভঙ্গ হয় না। তাই আপনার রোযাও ভঙ্গ হয়নি। উল্লেখ্য, শিঙ্গা লাগানোর দ্বারা যদি এত বেশি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা হয়, যার দরুণ রোযা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়, তবে সেক্ষেত্রে তা মাকরূহ হবে। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৫৯৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৯৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২২
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

সেহরী না খেয়ে নফল রোযা রাখা৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি ভোরে ঘুম থেকে উঠতে না পারায় সেহরী না খেয়েই সকালে নফল রোযা রাখার নিয়ত করেছে। আমার প্রশ্ন হল, সেহরী না খেয়ে রোযা রাখার দ্বারা রোযাটি হয়েছে
কি?
উত্তর
রোযার জন্য সেহরী খাওয়া জরুরি নয়; বরং মুস্তাহাব। সেহরী না খেলেও রোযা হয়ে যায়। রোযার কোন ক্ষতি হয় না। -সহীহ বুখারী ১৯২৩; উমদাতুল কারী ১০/৩০০; রদ্দুল মুহতার ২/৪১৯৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৩৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি কেউ স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নেয় তাহলে কি রোযা
ভেঙ্গে
যাবে? তেমনি অসুস্থ অবস্থায় কেউ যদি
গ্লুকোজ স্যালাইন নেয় তাহলে কি তার
রোযা সহীহ হবে?
উত্তর
স্যালাইন বা ইঞ্জেকশন নিলে রোযা ভাঙ্গে না। তেমনিভাবে অসুস্থতার কারণে গ্লুকোজ স্যালাইন নিলেও
রোযার
ক্ষতি হবে না। তবে অসুস্থতা ছাড়া গ্লুকোজ স্যালাইন নেওয়া নাজায়েয। -আলাতে জাদীদা কে শরঈ আহকাম ১৫৩৷
ফতোয়া নং: ৪১৩৮
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কি দাঁত ব্রাশ করা যাবে? এতে কি রোযা নষ্ট হয়ে যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করা মাকরূহ। আর পেস্ট বা মাজন গলার ভেতর চলে গেলে রোযাই নষ্ট
হয়ে
যাবে। তাই রোযা অবস্থায় টুথপেস্ট বা মাজন ব্যবহার করা যাবে না। টুথপেস্ট বা মাজন দিয়ে ব্রাশ করতে হলে সাহরীর
সময়
শেষ হওয়ার আগেই করে নিবে। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/১৪১; জাওয়াহিরুল ফিকহ ৩/৫১৮
ফতোয়া নং: ৪১৩৭
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে এবং মুখেও...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় কেউ যদি চোখে ড্রপ ব্যবহার করে
এবং মুখেও তিক্ততা অনুভব হয়
তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে
যাবে?
উত্তর
না, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা ভাঙ্গবে না। এমনকি এর তিক্ততা মুখে বা গলায় অনুভব হলেও রোযা ভাঙ্গবে না (মাসআলাটি সাধারণ কিয়াসের বহির্ভুত সরাসরি আসার দ্বারা প্রমাণিত)। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৩৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৪৪
ফতোয়া নং: ৪১৩৬
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো অঙ্গ থেকে রক্ত বের হয়...

প্রশ্ন
রোযা অবস্থায় যদি শরীরের কোনো অঙ্গ
থেকে রক্ত বের হয় কিংবা
সিরিঞ্জ দিয়ে শরীর
থেকে রক্ত বের করা হয়
তাহলে কি রোযা ভেঙ্গে
যাবে?
উত্তর
রোযা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোযা ভাঙ্গে না। তদ্রƒপ সিরিঞ্জ দ্বারা বের করা হলেও রোযা ভাঙ্গে না। তবে বিশেষ ওযর ছাড়া শরীর থেকে ইচ্ছাকৃত এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরূহ, যার কারণে ঐ দিন রোযা পূর্ণ করার শক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৩৮, ১৯৪০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/৩০০
ফতোয়া নং: ৪১৩৫
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির বমি হয়।...

প্রশ্ন
রমযান মাসে রোযা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে এক ব্যক্তির
বমি হয়। এর দ্বারা কি তার রোযা
ভেঙ্গে গেছে? এখন তার
কী করণীয়?
উত্তর
না, একারণে তার রোযা ভাঙ্গেনি। কেননা রোযা অবস্থায় অনিচ্ছাকৃত বমি হলে (যদি তা বেশিও হয়) (যদি তা বেশিও হয়) রোযা ভাঙ্গে না। অবশ্য কেউ ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে রোযা ভেঙ্গে যাবে। হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, রোযা অবস্থায় (অনিচ্ছাকৃত) বমি হলে তা কাযা করতে হবে না। কিন্তু ইচ্ছাকৃত বমি করলে সে যেন তা কাযা করে নেয়। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৭২০; কিতাবুল আসল ২/২০২; আলমুহ
ফতোয়া নং: ৪১৩২
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম এমন...

প্রশ্ন
আমি একদিন রোজারত অবস্থায় টাঙ্গাইলের পিঠাঘরের পাশ দিয়ে
যাচ্ছিলাম এমন সময় একটি মাছি আমার
মুখের ভেতর দিয়ে পেটে চলে যায়।
আমার জানার বিষয় হল, এতে কি আমার রোজা
ভেঙ্গে গেছে এবং আমার কি ঐ
রোজা
কাযা করতে হবে?
উত্তর
না, প্রশ্নে উল্যেখিত সুরতে আপনার রোজা ভাঙ্গেনি তাই ঐ রোজা কাযা করতে হবে না। দলিলঃ- দুররুল মুখতার ৩/৪২০; খানি ১/২০৮
ফতোয়া নং: ৪১৩১
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবীর নামায...

প্রশ্ন
রমযান মাসে দোকানে বেচা-কেনার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে
তারাবীর নামায পড়ার জন্য মসজিদে
যেতে পারি না। প্রায় সময় ইমাম সাহেব
তারাবীর নামায কয়েক রাকাত পড়ার পর
যাই। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায়
আমি ইশা এবং তারাবীর নামায কীভাবে
আদায় করব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথমে ইশার ফরয ও সুন্নত আদায়ের পর ইমাম সাহেবের সাথে তারাবীর নামাযে শরিক হবে। তারাবীর জামাত শেষে ইমাম সাহেবের সাথে বিতর
নামাযও
জামাতে পড়ে নিবেন। এরপর তারাবীর বাকি নামায আদায় করবেন। উল্লেখ্য যে, রমযান মাস অধিক গুরুত্বপূণৃ ও ফযীলতপূর্ণ মাস এই মাসে ইবাদতের ছাওয়াব অনেক বেশি। তাই এই মাসে নামায ও জামাতের প্রতি আরো বেশি যত্নবান হওয়া উচিত এবং নির্ধারিত সময়ের আগে আগে মসজিদে চলে যাওয়া উচিত। -আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; শরহুল মুনইয়াহ ৪১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১৭
ফতোয়া নং: ৪১৩০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে...

প্রশ্ন
গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে একসাথে
চার রাকাত পড়ে ফেলে। দুই রাকাতের পর
তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং আরো দুই
রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়। এভাবে চার
রাকাত পড়ার দ্বারা কত রাকাত আদায়
হয়েছে?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বৈঠক করার কারণে চার রাকাতই তারাবীহ হিসেবে আদায় হয়েছে। তবে তারাবীহ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে একসাথে চার রাকাত পড়া ঠিক নয়। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪০
ফতোয়া নং: ৪১২৯
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি...

প্রশ্ন
গত রমযানে এক হাফেয সাহেবের পিছনে তারাবীহ নামায পড়ছিলাম। তিনি এক রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করলেন। সিজদায়ে তিলাওয়াত থেকে উঠে ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়ে আয়াতে সিজদার পর থেকে কিরাত শুরু করলেন। জানার বিষয় হল,
সূরা ফাতিহা দুইবার পড়লে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
না, উক্ত কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়নি। কারণ সূরা ফাতিহার সাথে অন্য
সূরা মিলানোর পর ভুলে আবার সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু কেউ যদি সূরা মিলানোর আগেই পর পর দুবার সূরা ফাতিহা পড়ে তবে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে।
-আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩১০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৯১; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬০:
ফতোয়া নং: ৪১২৭
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: রোজা-ইতিকাফ

আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও...

প্রশ্ন
আমি নরওয়ের প্রবাসী। আমি যে অঞ্চলে থাকি সেখানের শীত ও গ্রীষ্মে টানা দু মাস রাত ও দু মাস দিন থাকে। তাই জানার বিষয় হল, রমযানে কীভাবে রোযা রাখব?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের নিকটতম পার্শ্ববর্তী যেদেশে চবিবশ ঘণ্টা হিসাবে স্বাভাবিক নিয়মে দিন রাত হয় সে দেশের সময়সূচি অনুযায়ী নামায রোযা আদায় করবেন।
-রদ্দুল মুহতার ১/৩৬৬; তুহফাতুল মুহতাজ ২/১৯; আলমাজমূ ৩/৪৩; হাশিয়াতুশ শারওয়ানী ২/১৯;
মাজমুআতুল ফাতাওয়াশ শারঈয়াহ ১৪/১০৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫২

Execution time: 0.04 render + 0.02 s transfer.