Login | Register

ফতোয়া: ঈদ

ফতোয়া নং: ২৮৬৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ঈদ

ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে...

প্রশ্ন
ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে তাকবীর পড়েন। তখন মুসল্লিগণও ইমামের সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, ঈদের খুতবার সময় মুসল্লিগণের উচ্চস্বরে বা আস্তে তাকবীর বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে
কেমন?
উত্তর
ঈদের খুতবা চলাবস্থায় মুসল্লিদের জন্য
সম্পূর্ণ চুপ থেকে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব।
এ সময় কোনো ধরনের কথাবার্তা বলা অথবা তাকবীর বা অন্য কোনো তাসবীহ পাঠ করা জায়েয নেই। ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করেছি, আরাফা বা ঈদুল ফিতরের দিন ইমাম যখন খুতবা দিবে এবং মুক্তাদিগণ ইমামের কথা বুঝতে পারে তখন মুক্তাদিগণ কি আল্লাহর যিকির করতে পারবে? তিনি বলেছেন, না। কোনো ঈদের (খুতবার) সময় কথা বলবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক
৩/২৮২
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি স্থানে (অর্থাৎ খুতবায়) চুপ থাকা ওয়াজিব : জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও ইসতিসকার (খুতবার)
সময়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/২৮৩; কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/ ৬১৯
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ২৩২৭
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: ঈদ

বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময়...

প্রশ্ন
বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময় মুসল্লিরা বসে বসে গল্প করে। আবার অনেককে দেখা যায়, যখন ইমাম সাহেব খুতবায়
ﺇﻥ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻳَﺎ
ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠِّﻤُﻮﺍ
ﺗَﺴْﻠِﻴﻤًﺎ আয়াতটি পড়েন তখন তারা উচ্চস্বরে দরূদ পাঠ করে। আর আমাদের মসজিদে ছোটকাল থেকেই লক্ষ্য করছি যে, ঈদের নামাযের খুতবায় ইমাম সাহেব যখন তাকবীরে তাশরীক বলেন তখন সকল মুসলিস্ন একসঙ্গে উচ্চস্বরে ইমাম সাহেবের সাথে সাথে তাকবীর বলতে থাকেন। তাই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে শরীয়তের বিধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবীহ-তাহলীল পড়াও নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু যার রা. বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় সূরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামায শেষ হওয়ার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বার বার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই রা. বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উবাই রা.-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে খুযাইমা ২/৮৭৪, হাদীস :
১৮০৭
হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী রাহ. বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামায পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৩-
১০৪
হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫১ এ সকল হাদীস ও আসারের আলোকে ফকীহগণ খুতবা অবস্থায় মুকতাদীর জন্য কোনো কথা বলা এবং কোনো তাসবীহ পড়াকে নিষিদ্ধ বলেছেন। তাই খুতবা চলাকালে মুকতাদীর জন্য দরূদ শরীফ বা তাকবীরে তাশরীক বলা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। -তাফসীরে তবারী ৬/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২১৭৩০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৬০
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.13 render + 0.00 s transfer.