Login | Register

ফতোয়া: ঈদ

ফতোয়া নং: ৪৫৫০
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ঈদ

ঈদের নামাযের প্রথম তিন তাকবীর ছুটে গেলে বা রাকাত ছুটে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় এবং ঠিক সময়েই নামায শুরু করা হয়। যার কারণে অনেক মুসল্লি মাসবুক হয়। তাই আমি ঈদের নামাযের মাসবুক সম্পর্কে কিছু মাসআলা জানতে চাই।
ক)
ইমাম সাহেবকে প্রথম রাকাতে কিরাত অবস্থায় পাওয়া গেলে তখন কী
করবে?
খ)
আর এক রাকাত ছুটে গেলে তা পরবর্তীতে কোন নিয়মে আদায় করবে?
গ)
ইমাম সাহেবকে তাশাহহুদে পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ঈদের নামায পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে কি? হলে এক্ষেত্রে সালামের পর দু রাকাত কীভাবে আদায় করবে?
উত্তর
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে। আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৪৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ঈদ

ঈদ উপলক্ষে একে অপরকে "ঈদ মোবারাক" বলা৷

প্রশ্ন
আজকাল ঈদ আসলে ছোট বড় ছেলে মেয়ে সবার মুখে একই শব্দ ঈদ মোবারাক৷ জানার বিষয় হলো, ঈদ উপলক্ষে যে একে
অপরকে ঈদ মোবারক বলে, তা কতটুকু শরীয়তসম্মত?
উত্তর
ঈদের দিন আনন্দ প্রকাশ করা, দান সদকা করা ও মোবারাকবাদ জানানো মুস্তাহাব।
তবে মোবারাকবাদ জানানোরজন্য শব্দ নির্ধারন করা, একই শব্দসর্বদা ব্যাবহার করা, বা "ঈদ মোবারাক" শব্দটি দিয়েই মোবারাকবাদ জানাতে হবে
এমন মনে করা ঠিক নয়। মাকরুহ হবে, কেউ বিদাআত বলেছেন।
মোবারাকবাদের স্বপক্ষে হুলিয়াতুল আউলিয়ায় সহিহ সনদে অনেক আসারে সাহাবা উল্যেখ আছে।
‎ﺗﻘﺒﻞ ﺍﻟﻠﻪﻣﻨﺎﻭﻣﻨﻜﻢ، ﻋﻴﺪﻛﻢ ﻣﺒﺎﺭﻙ, عيد سعيد এ জাতিয় শব্দ দিয়ে মোবারাকবাদ জানানো জায়েয৷
ফতওয়ায়ে শামী ১/৭৭৭, ফতওয়ায়ে রহিমিয়া ১/২৮১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756573393
ফতোয়া নং: ৪৫৪৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ঈদ

ঈদের নামাযের পর প্রচলিত মুসাফাহা মুআনাকা৷

প্রশ্ন
ঈদের নামায পর দেখা যায় লোকজন একে অপরের সাথে মুসাফাহা, মুয়ানাকা ( কোলাকুলি) করে৷ অথচ একে অপরের সাথে আগেই দেখা সাক্ষাৎ হয়ে গেছে৷ জানার বিষয় হলো, প্রচলিত মুসাফাহা, মুয়ানাকা করা বৈধ কিনা?
উত্তর
একে অপরের সাথে মুসাফাহা, মুআনাকা করা শরীয়তসম্মত৷ এবং সুন্নতও বটে। তবে সবসময় নয়, বরং বিশেষ পদ্ধতি ও বিশেষ অবস্থায়। তা হলো কারো সাথে প্রথম সাক্ষাৎ ও কাউকে বিদায়ের সময়।
তাই প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ঈদের নামাযের পর যে মুসাফাহা, মুআনাকা করা হয়, তা শরিয়ত সম্মত নয়। ইহা মাকরুহ ও বিদাআত। তবে কারো সাথে ঈদের নামাযের পর প্রথম সাক্ষাৎ হলে মুসাফাহা মুআনাকা করা জায়েয। কিন্তু বিদাআতের সাথে সাদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় না করা উচিত।
ফতওয়ায়ে শামী ৫/৩৩৬; ইমদাদুল ফতোয়া ১/৭০৮; আহসানুল ফতোয়া ২/৩৫৪৷
উত্তপ প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫৪৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ঈদ

ঈদের খুতবায় তাকবীর৷

প্রশ্ন
ঈদের প্রথম খুতবার শুরুতে লাগাতার ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাতবার এবং খুতবার শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার হুকুম কী? হাদীস-আসারে এর কোনো প্রমাণ আছে কি? আর এক্ষেত্রে শুধু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার বলবে, না পূর্ণ তকবীরে তাশরীকই পড়বে? দলিল- প্রমাণসহ বিস্তারিত জানতে চাই৷
উত্তর
ঈদের প্রথম খুতবা শুরু করার আগে শুরুতে আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার এভাবে লাগাতার নয় বার তাকবীর বলা এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরু করার আগে সাতবার তাকবীর বলা মুস্তাহাব। উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রাহ. ও ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া রাহ. থেকে এটি বর্ণিত আছে। আলআওসাত ৪/৩২৮; কিতাবুল উম ১/২৭৩,
দ্বিতীয় খুতবার শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার কথা
হাদীস- আসারে পাওয়া যায়নি। এলাউস সুনান ৮/১৬১ -আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২৭৭; মাজমূ ৫/২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫০; এলাউস সুনান ৮/১৬১৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৩২৪৫
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ঈদ

ঈদের নামাযে ছানা কখন পড়বে? চার তাকবীরের পরে নাকি প্রথম...

প্রশ্ন
ঈদের নামাযে ছানা কখন পড়বে? চার তাকবীরের পরে নাকি প্রথম তাকবীরের পরে? জনৈক আলেম বলেছেন, অতিরিক্ত তাকবীরের পরে পড়বে। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাই।
উত্তর
বিশুদ্ধ মতানুযায়ী ঈদের নামাযেও তাকবীরে তাহরীমার পরে অতিরিক্ত তাকবীরের আগেই ছানা পাঠ করবে। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৮০; তাহতাবী আলামারাকী পৃ. ২৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৭২
ফতোয়া নং: ৩০৪৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ঈদ

মাঝেমধ্যে কোনো কোনো মুসল্লিকে নামায শেষে পাশের জনের সাথে মুসাফাহা...

প্রশ্ন
মাঝেমধ্যে কোনো কোনো মুসল্লিকে নামায শেষে পাশের জনের সাথে মুসাফাহা করতে দেখা যায়। আবার অনেককে দেখা যায়, ঈদের নামাযের পর মুসাফাহা-মুআনাকা করেন। শুনেছি, এগুলো নাকি বিদআত। এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
মুসাফাহা-মুআনাকা সাক্ষাতের সময়ের একটি সুন্নত। এটি নামাযের পর করণীয় কোনো আমল নয়। নামাযের পর পরস্পরে মুসাফাহা-মুআনাকা করা সাহাবা- তাবেয়ীন ও সালাফে সালেহীন থেকে প্রমাণিত নেই। সুতরাং কেউ যদি নামাযের পর মুসাফাহা- মুআনাকাকে এ সময়ের করণীয় আমল কিংবা সুন্নত মনে করে পালন করে তবে তা বিদআত হবে। অবশ্য কেউ যদি নামাযের পর কোনো ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের কারণে পাশের ব্যক্তির সাথে মুসাফাহা করে তবে তা সঠিক হবে এবং সুন্নত হিসেবেই ধর্তব্য হবে। এক্ষেত্রে এটা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত
হবে না।
-রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮১; আসসিআয়াহ ২/২৬৪,
২৬৫
ফতোয়া নং: ৩০১৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ঈদ

ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে...

প্রশ্ন
ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে তাকবীর পড়েন। তখন মুসল্লিগণও ইমামের সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, ঈদের খুতবার সময় মুসল্লিগণের উচ্চস্বরে বা আস্তে তাকবীর বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে
কেমন?
উত্তর
ঈদের খুতবা চলাবস্থায় মুসল্লিদের জন্য
সম্পূর্ণ চুপ থেকে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব।
এ সময় কোনো ধরনের কথাবার্তা বলা অথবা তাকবীর বা অন্য কোনো তাসবীহ পাঠ করা জায়েয নেই। ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করেছি, আরাফা বা ঈদুল ফিতরের দিন ইমাম যখন খুতবা দিবে এবং মুক্তাদিগণ ইমামের কথা বুঝতে পারে তখন মুক্তাদিগণ কি আল্লাহর যিকির করতে পারবে? তিনি বলেছেন, না। কোনো ঈদের (খুতবার) সময় কথা বলবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক
৩/২৮২
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি স্থানে (অর্থাৎ খুতবায়) চুপ থাকা ওয়াজিব : জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও ইসতিসকার (খুতবার)
সময়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/২৮৩; কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/ ৬১৯
ফতোয়া নং: ৩০১২
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ঈদ

আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়...

প্রশ্ন
আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় এবং ঠিক সময়েই নামায শুরু করা হয়। যার কারণে অনেক মুসল্লি মাসবুক হয়। তাই আমি ঈদের নামাযের মাসবুক সম্পর্কে কিছু মাসআলা জানতে চাই। ক) ইমাম সাহেবকে প্রথম রাকাতে কিরাত অবস্থায় পাওয়া গেলে তখন কী করবে? খ) আর এক রাকাত ছুটে গেলে তা পরবর্তীতে কোন নিয়মে আদায় করবে? গ) ইমাম সাহেবকে তাশাহহুদে পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ঈদের নামায পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে কি? হলে এক্ষেত্রে সালামের পর দু রাকাত কীভাবে আদায় করবে?
উত্তর
ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে। আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে।
- মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা 5863; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯;
আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬;
ফতোয়া নং: ৩০১১
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ঈদ

ঈদের প্রথম খুতবার শুরুতে লাগাতার ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুতবার...

প্রশ্ন
ঈদের প্রথম খুতবার শুরুতে লাগাতার ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরুতে সাতবার এবং খুতবার শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার হুকুম কী? হাদীস-আসারে এর কোনো প্রমাণ আছে কি? আর এক্ষেত্রে শুধু আল্লাহু
আকবার, আল্লাহু আকবার বলবে, না পূর্ণ তকবীরে তাশরীকই পড়বে? দলিল- প্রমাণসহ বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর
ঈদের প্রথম খুতবা শুরু করার আগে শুরুতে
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার এভাবে লাগাতার নয় বার তাকবীর বলা এবং দ্বিতীয় খুতবার শুরু করার আগে সাতবার
তাকবীর বলা মুস্তাহাব। উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উতবাহ রাহ. ও ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া রাহ. থেকে এটি বর্ণিত আছে। (আলআওসাত
৪/৩২৮; কিতাবুল উম ১/২৭৩) দ্বিতীয় খুতবার শেষে ১৪ বার তাকবীর বলার কথা হাদীস- আসারে পাওয়া যায়নি।
(এলাউস সুনান ৮/১৬১) -আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/২৭৭;
মাজমূ ৫/২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫০; এলাউস সুনান ৮/১৬১
ফতোয়া নং: ২৮৬৮
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ঈদ

ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে...

প্রশ্ন
ইমাম সাহেব ঈদের নামাযের পর খুতবা দেওয়ার সময় মাঝে মাঝে তাকবীর পড়েন। তখন মুসল্লিগণও ইমামের সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে থাকে। এখন প্রশ্ন হল, ঈদের খুতবার সময় মুসল্লিগণের উচ্চস্বরে বা আস্তে তাকবীর বলা শরীয়তের দৃষ্টিতে
কেমন?
উত্তর
ঈদের খুতবা চলাবস্থায় মুসল্লিদের জন্য
সম্পূর্ণ চুপ থেকে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব।
এ সময় কোনো ধরনের কথাবার্তা বলা অথবা তাকবীর বা অন্য কোনো তাসবীহ পাঠ করা জায়েয নেই। ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করেছি, আরাফা বা ঈদুল ফিতরের দিন ইমাম যখন খুতবা দিবে এবং মুক্তাদিগণ ইমামের কথা বুঝতে পারে তখন মুক্তাদিগণ কি আল্লাহর যিকির করতে পারবে? তিনি বলেছেন, না। কোনো ঈদের (খুতবার) সময় কথা বলবে না। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক
৩/২৮২
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি স্থানে (অর্থাৎ খুতবায়) চুপ থাকা ওয়াজিব : জুমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও ইসতিসকার (খুতবার)
সময়।
-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/২৮৩; কিতাবুল আছল ১/৩১৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৫৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/ ৬১৯
ফতোয়া নং: ২৩২৭
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: ঈদ

বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময়...

প্রশ্ন
বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায়, ইমাম সাহেব জুমার খুতবা দেওয়ার সময় মুসল্লিরা বসে বসে গল্প করে। আবার অনেককে দেখা যায়, যখন ইমাম সাহেব খুতবায়
ﺇﻥ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﻣَﻠَﺎﺋِﻜَﺘَﻪُ ﻳُﺼَﻠُّﻮﻥَ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﻳَﺎ
ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁَﻣَﻨُﻮﺍ ﺻَﻠُّﻮﺍ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠِّﻤُﻮﺍ
ﺗَﺴْﻠِﻴﻤًﺎ আয়াতটি পড়েন তখন তারা উচ্চস্বরে দরূদ পাঠ করে। আর আমাদের মসজিদে ছোটকাল থেকেই লক্ষ্য করছি যে, ঈদের নামাযের খুতবায় ইমাম সাহেব যখন তাকবীরে তাশরীক বলেন তখন সকল মুসলিস্ন একসঙ্গে উচ্চস্বরে ইমাম সাহেবের সাথে সাথে তাকবীর বলতে থাকেন। তাই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে শরীয়তের বিধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
জুমা ও ঈদের খুতবা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করা ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন সময়ে কোনো ধরনের কথা বলা, কাজ করা নিষিদ্ধ। এমনকি তাসবীহ-তাহলীল পড়াও নিষিদ্ধ। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু যার রা. বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় সূরা বারাআত পাঠ করলেন। তখন আমি উবাই ইবনে কাআব (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, এ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে? আমার প্রশ্ন শুনে তিনি চেহারা মলিন করলেন এবং চুপ থাকলেন। এভাবে পরপর তিনবার প্রশ্ন করার পরও তিনি আমাকে কোনো উত্তর দিলেন না। জুমার নামায শেষ হওয়ার পর আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনাকে বার বার প্রশ্ন করার পরও কোনো উত্তর দিলেন না কেন? তখন উবাই রা. বললেন, (খুতবা চলাকালে প্রশ্ন করার কারণে) আপনি জুমার কোনো সওয়াব পাননি। আপনার অনর্থক কথা বলা হয়েছে। তখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উবাই রা.-এর এ কথা জানালাম। জবাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উবাই ঠিকই বলেছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ ইবনে খুযাইমা ২/৮৭৪, হাদীস :
১৮০৭
হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যিব ও যুহরী রাহ. বলেন, ইমাম খুতবার জন্য বের হলে কোনো নামায পড়া যাবে না। আর খুতবা শুরু করলে কোনো কথা বলা যাবে না।- মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৪/১০৩-
১০৪
হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তুমি যদি ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় পাশের ব্যক্তিকে কথা বলতে নিষেধ কর তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫১ এ সকল হাদীস ও আসারের আলোকে ফকীহগণ খুতবা অবস্থায় মুকতাদীর জন্য কোনো কথা বলা এবং কোনো তাসবীহ পড়াকে নিষিদ্ধ বলেছেন। তাই খুতবা চলাকালে মুকতাদীর জন্য দরূদ শরীফ বা তাকবীরে তাশরীক বলা থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। -তাফসীরে তবারী ৬/১৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২১৭৩০; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৬০

Execution time: 0.02 render + 0.00 s transfer.