Login | Register

ফতোয়া: মৃত্যু-জানাজা

ফতোয়া নং: ৫৫২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

সাবেরা খাতুন নামে একজন মহিলা নিঃসন্তান অবস্থায় ১৯৯৭ ঈ. সালে...

প্রশ্ন

সাবেরা খাতুন নামে একজন মহিলা নিঃসন্তান অবস্থায় ১৯৯৭ ঈ. সালে ইন্তেকাল করেন। তার স্বামী পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। তার মা, বাবা, দাদা, দাদী, নানা, নানী ও তাদের উর্ধ্বতন নারী-পুরুষ এবং তার চাচা, ফুফু সকলেই পূর্বে মারা গেছেন।

সাবেরা খাতুনরা দুই ভাই, দুই বোন। বোন হাজেরা খাতুন। বড় ভাই ইউনুস আলী ও ছোট ভাই দানিশ। বোন হাজেরা খাতুন ও বড় ভাই ইউনুস আলী সাবেরা খাতুনের পূর্বেই মারা গেছেন। মৃত্যুকালে হাজেরা খাতুন এক ছেলে এবং ইউনুস আলী তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। এরা সবাই বর্তমানে জীবিত রয়েছেন।

ছোট ভাই দানিশ সাবেরা খাতুনের পর মারা যান। দানিশের স্ত্রী স্বামীর পূর্বেই মারা গেছেন। দানিশ দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে যান। ছেলেমেয়ে সকলেই জীবিত রয়েছে। এখন সাবেরা খাতুনের সম্পদের বণ্টন কীভাবে হবে?

উত্তর

সাবেরা খাতুনের স্থাবর-অস্থাবর সমুদয় সম্পদ থেকে প্রয়োজন হলে তার কাফন-দাফনের খরচ দিতে হবে। এরপর মৃতের কোনো ঋণ থাকলে তা আদায় করতে হবে। অতপর শরীয়তসম্মত কোনো অসীয়ত থাকলে অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা পূরণ করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সকল সম্পদ প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মৃতের (মহিলার) ছোট ভাই দানিশ একাই পাবেন। কারণ মহিলার মৃত্যুর সময় দানিশই তার সবচেয়ে নিকটতম আত্মীয় ছিলেন। অন্য আত্মীয়স্বজন যারা জীবিত ছিলেন তারা কেউ দানিশের সমস্তরের নয়। তাই বোনের সমুদয় সম্পদ ভাই দানিশ পাবেন। আর এখন যেহেতু দানিশ বেঁচে নেই তাই তার সূত্রে এ সম্পদ তার জীবিত ওয়ারিশগণের মধ্যে বণ্টন হয়ে যাবে প্রত্যেক ছেলে (সাবেরা খাতুনের ভাতিজা) ২৮.৫৭১ করে পাবে এবং প্রত্যেক মেয়ে (সাবেরা খাতুনের ভাতিজি) ১৪.২৮৫ করে পাবে।

সূরা নিসা : ১৭৬; সুনানে আবু দাউদ ২/৪০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৪৫৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২০৭, ৩৩৭; কিতাবুল মাবসূত ২৯/১৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫০৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের এবং হযরত আনাস বিন নযর রা....

প্রশ্ন

হযরত মুসআব ইবনে উমায়ের এবং হযরত আনাস বিন নযর রা. কোন যুদ্ধে শহীদ হন তাদের শাহাদাতের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই।

উত্তর

তাঁরা দু’জনই উহুদ-যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। হযরত মুসআব রা. ইসলাম গ্রহণের আগে অত্যন্ত বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর দুনিয়ার আরাম-আয়েশ সম্পূর্ণরূপে ত্যাগ করেন। তিনিই ওই সাহাবী, যার জন্য পূর্ণ শরীর আবৃতকারী কাফনও ছিল না। পায়ের দিক ইযখির ঘাস দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল।

আনাস বিন নযর রা. বদর-যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তাই উহুদ-যুদ্ধে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধের একপর্যায়ে হযরত সাদ ইবনে মুআয রা.-এর সাথে দেখা হলে তাকে বললেন, হে সাদ! আমি উহুদের ঐ প্রান্ত থেকে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। এ যুদ্ধেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। শরীরে এত বেশি আঘাত পেয়েছিলেন যে, তার লাশ চেনা যাচ্ছিল না। তাঁর বোন আঙ্গুলের নখ বা তিলক দেখে তাঁকে সনাক্ত করেছিলেন।

-সহীহ বুখারী ২/৫৭৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে ধানক্ষেতে একটি লাশ পাওয়া যায়। লাশটি এতই নরম...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে ধানক্ষেতে একটি লাশ পাওয়া যায়। লাশটি এতই নরম ছিল যে, ডলে ডলে গোসল দিতে গেলে চামড়া খসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের ক্ষেত্রে লাশকে গোসল দেওয়া কি জরুরি? যদি জরুরি হয় তাহলে কীভাবে গোসল দিবে?

উত্তর

এ ধরনের নরম লাশকেও গোসল দেওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে শরীরের উপর শুধু পানি ঢেলে দিবে। ডলে ডলে ধোয়ার প্রয়োজন নেই।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮; মারাকিল ফালাহ ৩১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার আব্বা আমার ফুফা থেকে বিশ ডিসিম জমি ক্রয় করেছিলেন।...

প্রশ্ন

আমার আব্বা আমার ফুফা থেকে বিশ ডিসিম জমি ক্রয় করেছিলেন। তবে তা রেজিষ্ট্রি করা হয়নি। নিকটাত্মীয় ও বিশ্বস্ত মনে করে টাকা দিয়েছেন এবং এর সাক্ষীও রয়েছে অনেক। জমিটি প্রায় ১৫ বছর ধরে আব্বার দখলে আছে। কিন্তু পরে ফুফা তা বিক্রির কথা অস্বীকার করেন। আর টাকা নেয়ার কথাও অস্বীকার করেন। কিছুদিন পর তার মৃত্যু হয়। এরপর ওয়ারিশগণ কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেনি।

তার জানাযায় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলে যে, অমুক ব্যক্তির (আমার পিতা) নিকট মৃত ব্যক্তি কিছু জমি পাবে বলে আমাকে ওসিয়ত করে গেছে। সন্তানদেরকে তা নেয়ার জন্য বলে। ফলে তাদের সঙ্গে আমাদের বিবাদ সৃষ্টি হয়।

এখন আমার প্রশ্ন, শরীয়তের দৃষ্টিতে তার সঠিক সমাধান কী? দয়া করে তা অবগত করলে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

বাস্তবেই যদি আপনার আব্বা ফুফা থেকে ঐ জমিটি ক্রয় করে থাকেন এবং সমুদয় মূল্যও পরিশোধ করে থাকেন তবে ঐ জমি আপনার আব্বারই। আপনার ফুফার এবং পরবর্তীতে তার ওয়ারিশদের এই জমি নিজেদের বলে দাবি করা মারাত্মক অন্যায়। তাদের কর্তব্য হল ঐ জমি আপনার আব্বার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেওয়া।

প্রকাশ থাকে যে, সকল লেনদেন নিয়মমতো করা জরুরি। লেনদেনের ক্ষেত্রে বিশ্বস্ততা এবং আস্থা থাকলেও প্রয়োজনীয় দলীল করে নেওয়া এবং লিখিত প্রমাণাদি রাখা জরুরি। এটা শরীয়তেরও হুকুম। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এই হুকুম লঙ্ঘন করার কারণে বিবাদ হচ্ছে।

হচ্ছে।-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১৬; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ২৬৬; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৬১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আশরায়ে মুবাশশারা অর্থাৎ যে দশজন সাহাবীর ব্যাপারে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ...

প্রশ্ন

আশরায়ে মুবাশশারা অর্থাৎ যে দশজন সাহাবীর ব্যাপারে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তাদের নাম, পরিচয় এবং কিছু বৈশিষ্ট্য জানতে চাই।

উত্তর

দুনিয়াতেই যে দশজন সাহাবীকে জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে তাঁরা হলেন

১. হযরত আবু বকর রা.। তার আসল নাম আবদুল্লাহ বিন উসমান বিন আমর। তাঁর উপাধি আতীক, সিদ্দীক। তার মায়ের নাম উম্মুল খায়র। পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তার হাতে হযরত উসমান বিন আফফান, হযরত যুবাইর, হযরত তালহা, হযরত আবদুর রহমান বিন আউফ প্রমুখ বড় বড় সাহাবী ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের সাথী। ইসলামের প্রথম খলীফা। ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

২. উমর বিন খাত্তাব রা. বিন নুফাইল বিন আবদুল উযযা। ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীনের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম আমীরুল মুমিনীন খেতাবে ভূষিত হন। তার খেলাফতকাল ছিল দশ বছর ছয় মাস চার দিন। আল্লাহ তাআলা তার দ্বারা ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন।

৩. হযরত উসমান রা. বিন আফফান বিন আবিল আস। ইসলামের তৃতীয় খলীফা। তাঁর খেলাফতকাল এগার বছর এগার মাস কয়েক দিন।

৪. হযরত আলী রা. বিন আবু তালিব বিন আবদুল মুত্তালিব। সাত বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তবুক ছাড়া সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ইসলামের চতুর্থ খলীফা ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জামাতা।

৫. হযরত তলহা রা. বিন উবাইদুল্লাহ বিন উসমান বিন উমর। উহুদ যুদ্ধে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অত্যন্ত মজবুতভাবে অবস্তান নিয়েছিলেন। চব্বিশ স্থানে আঘাত পেয়েছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রেখেছিলেন তলহাতুল খায়র। তিনি জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।

৬. হযরত যুবাইর রা. বিন আওয়াম বিন খুয়াইলিদ। সকল যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাহে তরবারী চালিয়েছিলেন। তার আকৃতিতে ফেরেশতাগণ বদর যুদ্ধে অবতরণ করেছিলেন। তিনি জামাল যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন।

৭. হযরত আবদুর রহমান রা. বিন আউফ বিন আবদুল হারিছ। হাবশায় হিজরত করেছিলেন। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

৮. হযরত সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস রা.। তিনি সর্বপ্রথম আল্লাহর রাহে তীর নিক্ষেপ করেন। উহুদ যুদ্ধে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, তোমার উপর আমার মা, বাবা কোরবান হোক, তীর নিক্ষেপ কর। তিনি সকল যুদ্ধে শরীক হয়েছেন।

৯. হযরত সাঈদ বিন যায়েদ ইবনে উমর বিন নুফাইল। বদর যুদ্ধ ছাড়া অন্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

১০. হযরত আবু উবাইদাহ আমের বিন আবদুল্লাহ বিন জাররাহ। সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনিই উহুদ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোয়ালে বিঁধে যাওয়া লৌহবর্ম দাঁত দিয়ে বের করেছিলেন। তখন তার সামনের দুই দাঁত পড়ে গিয়েছিল।

-আলমুজতবা মিনাল মুজতবা পৃ. ৪১-৪৪; জামে তিরমিযী ২/২১৫, হাদীস : ৩৯৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নাবালেগ ছেলের জানাযার নামাযে ইমামতি করা জায়েয কি না? যদি...

প্রশ্ন

নাবালেগ ছেলের জানাযার নামাযে ইমামতি করা জায়েয কি না? যদি জায়েয না হয় আর সে ইমামতি করে ফেলে তাহলে কি নামায আবার পড়তে হবে?

উত্তর

অন্যান্য নামাযের মতো জানাযার নামাযেও নাবালেগের ইমামতি সহীহ নয়। তাই নাবালেগ জানাযার নামাযের ইমামতি করলে ঐ মাইয়্যেতের জানাযা পুনরায় আদায় করে নিতে হবে।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২/৩৯৮; তাকরীরাতে রাফেয়ী পৃ. ৭৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়া...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়া হয় এর পর জানাযা নামায আদায় করা হয। এই পদ্ধতি কি সঠিক? সঠিক সমাধান বরাতসহ জানতে চাই।

উত্তর

আপনাদের এলাকার ঐ নিয়মটি ঠিক আছে। বিশেষত যখন জানাযার নামায পড়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে হয় তখন সুন্নত পড়েই মসজিদ থেকে বের হয়ে জানাযা পড়া বাঞ্চনীয়। তবে সুন্নতের পূর্বে পড়াও জায়েয। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন জানাযার পরে সুন্নতে মুআক্কাদা পড়ে নেওয়া হয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৬/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭৮; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৫২; রদ্দুল মুহতার ২/১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ও দুররে মানসুরে একটি হাদীস পেয়েছি। তা...

প্রশ্ন

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ও দুররে মানসুরে একটি হাদীস পেয়েছি। তা হল, ‘যে ব্যক্তি ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।

উভয় কিতাবে বলা হয়েছে যে, ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমি নাসায়ী শরীফে হাদীসটি খুঁজে পাইনি। মেহেরবানী করে জানাবেন যে, হাদীসটি নাসায়ী শরীফের কোথায় আছে। আর যদি নাসায়ী শরীফে না থাকে তাহলে হাদীসের কোন কিতাবে আছে আর হাদীসটির হুকুম কী?

উত্তর

উক্ত হাদীসটি ইমাম নাসায়ী রাহ. তাঁর ‘সুনানে কুবরা’ তে ‘আমালুল ইয়াউমি ওয়াললাইল’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। হাদীস নং ৯৯২৮। আর দরসে নেযামীতে পঠিত নাসায়ী শরীফ নামে যে প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে তা সুনানে কুবরা থেকে বাছাইকৃত সংকলন। এর নাম ‘আলমুজতাবা’। এই কিতাবে ওই হাদীসটি নেই। হাদীসটির একাধিক সনদসহ তবরানী কাবীর (হাদীস : ৭৫৩২) ও তবরানী আওসাতে (হাদীস : ৮০৬৪) উল্লেখ আছে।

ইমাম মুনযিরী রাহ. হাদীসটির হুকুম সম্পর্কে বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রাহ. এবং তবারানী রাহ. একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি সনদ সহীহ। (আততারগীব ওয়াততারহীব হাদীস : ২৩৭৬)

মাজমাউয যাওয়াইদে একটি সনদকে ‘জাইয়েদ’ বলা হয়েছে। (মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২৮)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমরা একটি গ্রামে কিছু জমি ক্রয় করি। জমির মালিক জমি...

প্রশ্ন

আমরা একটি গ্রামে কিছু জমি ক্রয় করি। জমির মালিক জমি মেপে আমাদের বুঝিয়ে দেন এবং দলিলও করা হয়। আমরা সেখানে বাড়ি নির্মাণ করে পনের বছর যাবত বসবাস করছি। জমি বিক্রেতা ইন্তেকাল করেছেন। এখন প্রকাশ পেয়েছে যে, দলিলে উল্লেখিত দাগ নাম্বার অনুযায়ী আমাদের জমি অন্য স্থানে। যেখানে আমরা অবস্থান করছি সেখানে নয়। তাই বিক্রেতার উত্তরাধিকারীগণ আমাদেরকে এ জমি ছেড়ে দলিলে যে দাগ নাম্বার রয়েছে সেখথানে চলে যেতে চাপ দিচ্ছে। আমার প্রশ্ন হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে আমি কি উক্ত জমি ছাড়তে বাধ্য?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী এখন যে দাগে বাড়ি আছে এটাই যেহেতু জমির মালিক থেকে কিনেছেন এবং জমির মালিক নিজে তা বুঝিয়ে দিয়েছে এবং এর ভিত্তিতেই আপনি সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেছেন তাই সে সময় বাস্তবেই এই জমিটি যদি বিক্রেতার সম্পত্তি হয়ে থাকে তাহলে ধরে নেওয়া হবে যে, দলিলে দাগ নাম্বার ভুল হয়েছে। অতএব শরীয়তের দৃষ্টিতে আপনি উক্ত জমি ছাড়তে বাধ্য নন; বরং বিক্রেতার ওয়ারিসদের কর্তব্য হল, আপনাদের নামে ভুল সংশোধনী দলিল করে দেওয়া। অবশ্য সমঝোতার ভিত্তিতে তারা যদি এ স্থান থেকে আপনাকে স্থানান্তর করতে অনুরোধ করে তবে এ কারণে যা ক্ষতি হবে তা দেওয়া তাদের উপর জরুরি হবে।

হেদায়া ৩/২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/২২৮; ফাতহুল কাদীর ৫/৪৬৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৬২; রদ্দুল মুহতার ৪/৫৬২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. কত বছর বয়সে ইনে-কাল করেন? তাঁর...

প্রশ্ন

আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. কত বছর বয়সে ইনে-কাল করেন? তাঁর জানাযা কে পড়িয়েছেন? হযরত আয়েশা রা. হযরত ফাতেমা রা.-এর বড় না ছোট? তাদের বয়সের তফাত কত?

উত্তর

হযরত ফাতিমা রা. আম্মাজান আয়েশার চেয়ে ৫ বছরের বড় ছিলেন। আর আম্মাজান ৬৬ বছর বয়সে ৫৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর জানাযা হযরত আবু হুরাইরা রা. পড়িয়েছেন।

আলইসাবা ৪/৩৪৭-৩৪৯; উসদুল গাবা ৪/৩৭৭, ৫/৩৪১; ইস্তিয়াব ২/৭৫২, ৪/১৮৮১; আলমুজতাবা ৬৩; সীরাতে সাইয়িদা আয়েশা রা. ১৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার দাদা কিছু জায়গা কবরস্তানের জন্য ওয়াকফ করে গেছেন। তার...

প্রশ্ন

আমার দাদা কিছু জায়গা কবরস্তানের জন্য ওয়াকফ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর আমরা সে জায়গায় কিছু কাঠ গাছ লাগিয়েছিলাম। এখন সে গাছগুলো বিক্রি করে কবরস্তান সংরক্ষণের জন্য এর চারপাশে দেয়াল করতে চাই। এটা আমাদের জন্য বৈধ হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হ্যাঁ, গাছগুলো বিক্রি করে সে অর্থ দ্বারা ঐ কবরস্তানের চারপাশে সীমানা-প্রাচীর করা জায়েয হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪২০; আলবাহরুর রায়েক ৫/২০৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক আলেম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আ.-এর মাধ্যমে ফেরাউনকে...

প্রশ্ন

জনৈক আলেম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা হযরত মুসা আ.-এর মাধ্যমে ফেরাউনকে নিম্নোক্ত প্রস্তাবগুলো দিয়েছিলেন

ক) ঈমান গ্রহণ করলে কিয়ামত পর্যন্ত বাদশাহী দান করবেন।

খ) ঈমান গ্রহণ করলে কিয়ামত পর্যন্ত জীবন ও যৌবন দান করবেন।

গ) মৃত্যুর পর জান্নাত দান করবেন।

উল্লেখিত কথাগুলো সঠিক সূত্রে প্রমাণিত কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাদীস, তাফসীর ও তারীখের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে আমরা এই কথা খুঁজে পাইনি। তাই নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হওয়া ছাড়া, এটা বলা এবং বয়ান করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কোনো অমুসলিম মারা গেলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’...

প্রশ্ন

কোনো অমুসলিম মারা গেলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলা যাবে কি? আর প্রতিবেশী হলে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়তে হয় বিপদ-আপদ ও মসিবতের সময়। এতে মৃতের জন্য কোনো দুআ নেই। তাই অমুসলিম যদি বাহ্যত সমাজসেবী ও সৎ লোক হয় যার মৃত্যু মুসলমান আত্মীয় বা প্রতিবেশীদের জন্য বাহ্যত মুসিবতের কারণ তাহলে সেক্ষেত্রেও ঐ দুআ পড়ার অবকাশ আছে।

অবশ্য ভূপৃষ্ঠ থেকে কাফেরের সংখ্যা কমল এবং নাফরমানী হ্রাস পেল এসব বিবেচনায় ঐ দুআ না পড়ারও অবকাশ আছে। সুতরাং ঐ দুআ পড়া বা না পড়া নির্ভর করে দৃষ্টিভঙ্গি ও নিয়তের উপর। আর কোনো অমুসলিম পড়শী মারা গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিবারস্থ লোকদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার অবকাশ রয়েছে।

তাফসীরে রূহুল মাআনী ২/২৩; তাফসীরে কুরতুবী ২/১১৯ ও ১৮/৪০; আহকামুল কুরআন ৫/৪৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১৩/৫৬৫ ও ৭/৩৭৮; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৬/৪২; ইতহাফু সাদাতিল মুত্তাকীন ৬/২০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলমাবসূত সারাখসী ২/৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত্যুর মুখে পতিত বক্তিকে কিভাবে শোয়াবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

প্রশ্ন

মৃত্যুর মুখে পতিত বক্তিকে কিভাবে শোয়াবে? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

কারো মৃত্যুর আলামত দেখা গেলে যেভাবে তার জন্য সহজ হয় সেভাবেই তাকে রাখা যাবে। যদি কষ্ট না হয় তবে উত্তম হল তাকে ডান কাতে কিবলামুখী করে শোয়ানো। অথবা চিত করে শুইয়ে মাথার নিচে উঁচু কিছু দিয়ে সিনা কিবলামুখী করে দিবে। এক্ষেত্রে পা লম্বাভাবে কিবলার দিকে ছড়ানো থাকবে। তবে এ অবস্থায় তাকে নাড়া চাড়া করার কারণে রোগীর কষ্ট হওয়ার আশঙ্কা হলে আপন অবস্থায় ছেড়ে দিবে।

মুসতাদারাকে হাকেম হাদীস ১৩৪৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৯৭৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২; ফাতহুল কাদীর ২/৬৮; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৩/৩৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/১৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একবার ছুটিতে গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে এক ওয়ায়েজের...

প্রশ্ন

একবার ছুটিতে গ্রামের এক ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে এক ওয়ায়েজের মুখে শুনলাম, হাদীসে নাকি আছে, হযরত আযরাঈল আ. যখন মূসা আ.-এর রূহ কবজ করতে এসেছিলেন তখন মূসা আ. তাকে এতো জোরে থাপ্পড় মেরেছিলেন যে, তার চক্ষু বের হয়ে গিয়েছিল। জানতে চাই, এ সংক্রান্ত হাদীসটি কোন কিতাবে আছে এবং তা বিশুদ্ধ কি না?

উত্তর

জ্বী, ঘটনাটি সত্য এবং এ সংক্রান্ত হাদীসটি সহীহ। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মালাকুল মাউত (জান কবজকারী ফেরেশতা) কে মূসা আ.-এর নিকট প্রেরণ করা হল। তিনি যখন এলেন তখন মূসা আ. তাকে জোরে থাপ্পড় মারলেন। যার ফলে মালাকুল মাউতের চক্ষু বের হয়ে পড়ল। তখন তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট আরজ করলেন, আপনি আমাকে এমন বান্দার নিকট প্রেরণ করেছেন যিনি মওত চান না। আল্লাহ তাআলা তখন (নিজ কুদরতে) তার চক্ষু আপন স্থানে ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, তুমি আবার যাও এবং তাকে বল-আপনি একটি ষাড়ের পিঠে হাত রাখুন। ঐ হাতের নিচে যত পশম পড়বে আপনি চাইলে এর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে আপনার হায়াত এক বছর করে দীর্ঘায়িত হবে। মূসা আ. এ কথা শুনে বললেন, এরপর কী হবে? আল্লাহ তাআলা বললেন, মৃত্যুই আসবে। মূসা আ. বললেন, তাহলে এখনি মৃত্যু দিন।

সহীহ বুখারী হাদীস : ৩৪০৭; সহীহ মুসলিম হাদীস : ২৩৭২ উল্লেখ্য, বিখ্যাত হাদীস-বিশারদগণ বলেন, মালাকুল মাওত মূসা আ.-এর অনুমতি না নিয়েই মানুষের বেশে তাঁর ঘরে প্রবেশ করেছিলেন। তখন তিনি তাকে না চিনতে পেরে বিনা অনুমতিতে ঘরে প্রবেশ করার কারণে চপেটাঘাত করেন।-ফাতহুল বারী ৬/৫০৮; শরহে নববী ১৫/১২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৪৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একটি ইসলামী মাসিক পত্রিকায় এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ইসলামের...

প্রশ্ন

একটি ইসলামী মাসিক পত্রিকায় এক প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, ইসলামের প্রথম শহীদ হলেন হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসীর রা.। একজন আলেমকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তথ্যটি সঠিক নয়। ইসলামের প্রথম শহীদ হযরত সুমাইয়া রা.। জানতে চাই কোন তথ্যটি সঠিক?

উত্তর

ঐ আলেমের বক্তব্যই সঠিক। হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসীর রা. ইসলামের প্রথম শহীদ নন। তাঁর ইন্তেকাল/শাহাদত ৩৭ হিজরীতে। হিজরতের পূর্বে ইসলামে সর্বপ্রথম শহীদ হওয়ার মর্যাদা লাভ করেছেন তাঁর আম্মা হযরত সুমাইয়া রা.। এটি বিখ্যাত তাবেয়ী হযরত মুজাহিদ রাহ. থেকে বর্ণিত।

মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩৬৯২০; আরো দেখুন : আলইসতীআব ফী মারিফাতিল আসহাব ১/১৮৬৩, ৩/১১৩৫; উসদুল গাবা ৩/৩১২, ৫/৩১৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি কোনো মৃতের কাফন-দাফনসহ তার জানাযায়...

প্রশ্ন

হাদীস শরীফে আছে, যে ব্যক্তি কোনো মৃতের কাফন-দাফনসহ তার জানাযায় শরীক হল সে এক কীরাত ছওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি দাফন হওয়া পর্যন্ত থাকল সে দুই কীরাত ছওয়াব পাবে।

অন্য এক হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি কুকুর লালন করে তার আমলনামা থেকে দৈনিক এক কীরাত করে ছওয়াব কমতে থাকে। জানতে চাই, হাদীসে উল্লেখিত কীরাত দ্বারা কী উদ্দেশ্য? উভয় হাদীসেই কি একই অর্থ বুঝানো হয়েছে?

উত্তর

জানাযায় অংশগ্রহণ সম্পর্কিত হাদীসে কীরাত দ্বারা কি উদ্দেশ্য তা মুসলিম শরীফের হাদীসেই উল্লেখ আছে।

এক হাদীসে আছে-‘কীরাত দু’টি বড় পাহাড় সমতুল্য।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘কীরাত হল উহুদ পাহাড় সমান।’-সহীহ মুসলিম ১/৩০৭

আর কুকুর লালনের ক্ষেত্রে এক কীরাত ছওয়াব কমে যায় এখানে কীরাত দ্বারা উদ্দেশ্য আমলের এক অংশ। ইমাম নববী রাহ. বলেন, এখানে কীরাত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ যা আল্লাহ তাআলা জানেন। উদ্দেশ্য আমলের একটি অংশ।

শরহে মুসলিম নববী ১০/২৩৯; উমদাতুল কারী ৫/১৫৮; মাজমাউ বিহারিল আনওয়ার ৪/২৫৫; ইকমালুল মুলিম ৫/২৪৬ #

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার বাবা মারা গেছেন। আমরা ৫ বোন। আমাদের জন্য কি...

প্রশ্ন

আমার বাবা মারা গেছেন। আমরা ৫ বোন। আমাদের জন্য কি শোক পালন করা আবশ্যক? যদি শোক পালন করা আবশ্যক হয় তাহলে কীভাবে ও কতদিন আমরা শোক পালন করব?

উত্তর

পিতার মৃত্যুতে আপনাদের শোক পালন করা আবশ্যক নয়। তবে তিন দিন পর্যন্ত শোক পালন করার অনুমতি আছে এবং এ শোকে সাজ-সজ্জা ত্যাগ করারও অবকাশ আছে।

মুসনাদে আহমদ ৬/২৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৪০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৭২; ফাতহুল কাদীর ৪/১৬০; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের মসজিদের খতীব সাহেবের একটি বক্তব্য আমাদের মাঝে সংশয় সৃষ্টি...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের খতীব সাহেবের একটি বক্তব্য আমাদের মাঝে সংশয় সৃষ্টি করেছে। তা হল, আমি নিজ কানে শুনলাম, জুমআর নামাযের আগে ইমাম সাহেব বয়ানে বললেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মারা যাননি। তিনি এখনও জীবিত আছেন এবং দুনিয়াতে এখনও কাজ করেন। ইমাম সাহেব দলীল হিসাবে বললেন, পাকিস-ানে এক ঈমানদার লোকের সামনে এক লোক হযরত ওমর রা.কে গালমন্দ করল। তখন ঐ লোকটি মনে মনে কষ্ট পেলেন। কিন' কোনো কিছু বলার সাহস পেলেন না। রাতে যখন ঘুমিয়ে পড়লেন তখন হযরত রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট এসে বললেন যে, তুমি মন খারাপ করে আছ কেন? ঐ লোকটি বলল, আমার সামনে হযরত ওমর রা.কে গালমন্দ করেছে এজন্য আমার মন খারাপ। তখন রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ওঠ, যাও। ঐ লোকটিকে হত্যা করে এসো। তখন ঐ লোকটি তার গলা কেটে আসল। কান্নার আওয়াজ শুনে লোকটির ঘুম ভেঙ্গে গেল তারপর লোকটি দেখতে পেল সত্যি সত্যি লোকটির গলা কাটা হয়েছে। এই ঘটনা দলীল হিসাবে আমাদের সামনে পেশ করলেন। জানতে চাই, রাসূল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি সত্যিই এখনো জীবিত আছেন এবং এখনো দুনিয়াতে কাজ করছেন? কুরআন-হাদীসের আলোকে বিস-ারিত দলীলপ্রমাণসহ জানাবেন।

উত্তর

১১ হিজরী রবিউল আওয়াল মাসে নবী করীম সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত হয়েছে এবং মদীনা মুনাওয়ারায় মসজিদে নববীর পাশে রওজা মুবারকে শায়িত আছেন। এটি দিবালোকের ন্যায় বাস-ব এবং অসংখ্য মানুষের বর্ণনা ও বিভিন্ন শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত। কারো পক্ষেই তা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

তবে আম্বিয়ায়ে কেরামের একটি বৈশিষ্ট্য হল, তাঁদের মৃত্যুর পর আল্লাহ তাআলা তাঁদের শরীর মুবারক সম্পূর্ণ পূর্বের অবস'ায় হেফাযত করেন এবং শরীরের সাথে রূহের সম্পর্ক সৃষ্টি করেন। ফলে কবরের মধ্যে তাঁরা এক প্রকার জীবন লাভ করেন, যা শহীদদের জীবন থেকেও অধিক শক্তিশালী। কিন' এটা সম্পূর্ণ পার্থিব জীবনের মতো নয় এবং এর দ্বারা দুনিয়াবী কোনো কাজ-কর্মের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক সৃষ্টি হয় না। প্রশ্নে জনৈক ব্যক্তির উদ্ধৃতিতে যা বলা হয়েছে যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যু হয়নি তিনি এখনো জীবিত আছেন এবং দুনিয়াবী কাজ করেন। এটা সম্পূর্ণ বাস-ববিরোধী এবং শরীয়ত পরিপন'ী কথা। বেদআতীরা এ জাতীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে হাজারো শিরকের পথ উন্মুক্ত করে থাকে। এ ধরনের কথা বলা অথবা বিশ্বাস রাখা কবীরা গুনাহ। যার দ্বারা তাওহীদের আকীদা ক্ষতিগ্রস- হয়। তাই উক্ত ব্যক্তির এ থেকে তওবা করা জরুরি।

জরুরি।-নবী করীম সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাত সংক্রান- দলীলসমূহ : সূরা যুমার : ৩০; তাফসীরে কুরতুবী ১৫/২৫৪; সহীহ বুখারী ২/৬৩৯; নবী করীম সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হায়াত সংক্রান- দলীলসমূহ : শিফাউস সাকাম ফী যিয়ারাতি খায়রিল আনাম পৃ. ১৯১; ফয়যুল বারী ২/৬৪; ফাতহুল মুলহিম ১/৩২৯; মিরকাতুল মাফাতীহ ২/২২৩ মৃত্যুবরণকারী দুনিয়াবী কাজ করতে পারে না-এ আকীদা সংক্রান- দলীলসমূহ : আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; মাজমূআ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ১/১৭৮ ও ১১/৪৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৪০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

সাধারণত পুরুষদের লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়। এখন জানার বিষয় হল,...

প্রশ্ন

সাধারণত পুরুষদের লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়। এখন জানার বিষয় হল, মহিলাদের লাশেও কি সুগন্ধি লাগানো যাবে?

উত্তর

হ্যাঁ, মহিলাদের লাশেও সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪১৬; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫৭৯; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৬৭; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কামাল সাহেব তিন পুত্র রেখে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তার...

প্রশ্ন

কামাল সাহেব তিন পুত্র রেখে ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় তার মালিকানায় শুধুমাত্র ১টি সাবানের ফ্যাক্টরি ছিল। তার তিন ছেলে দীর্ঘ দিন যাবৎ ফ্যাক্টরির যা আয় হত তা সমানভাগে বন্টন করে নিত। বর্তমানে এক ছেলে পারিবারিক কলহে লিপ্ত হয়ে ফ্যাক্টরিটি বন্টন করতে চাচ্ছে। কিন্তু যদি তা বন্টন করা হয় তাহলে তা থেকে কোনো আয়ের সম্ভাবনা নেই। তাই অন্য ভাইরা বন্টনে সম্মত নয়। এ অবস্থায় এক ভাইয়ের দাবি অনুযায়ী ফ্যাক্টরিটি বন্টন করা জরুরি কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু কারখানাটি উৎপাদন উপযোগী রেখে বন্টন করা সম্ভব নয় তাই এ পরিস্থিতিতে সকল মালিকের সম্মতি ছাড়া তা বন্টন করা যাবে না। শুধু একজনের দাবি মেনে তা বন্টন করা জরুরি নয়। কেউ অংশিদার না থাকতে চাইলে কারখানার ন্যায্য মূল্য হিসাব করে অন্য অংশিদারগণ তাকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিবে। কিংবা শরীকদের সম্মতিতে অন্য কারো কাছে তার শেয়ার বিক্রিও করে দিতে পারে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৪৬৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/১৪৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/২৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫১০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একজন কবিরাজ চিকিৎসার জন্য তিনটি পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা...

প্রশ্ন

একজন কবিরাজ চিকিৎসার জন্য তিনটি পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে বলেছে। এভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা কি জায়েয?

উত্তর

কবিরাজের নির্দেশিত ঐ চিকিৎসা পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ শরীয়তপরিপন্থী। সুতরাং তার কথা অনুযায়ী আমল করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এতে একাধিক শরীয়তবিরোধী কাজ রয়েছে। যথা-

১. পুতুল বানানো, যা নাজায়েয। হাদীসে এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা প্রতিকৃতি তৈরি করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৫০

২. পুতুলের জানাযা পড়া। জানাযা শরীয়তের একটি নির্ধারিত ইবাদত, যা মৃতের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কোনো পুতুলের জন্য জানাযা পড়া শরয়ী হুকুমের চরম বিকৃতি, যা বিদআত হওয়ার পাশাপাশি কুফরি তুল্য গুনাহ।

৩. চিত্র, মূর্তি, ভাস্কর্য সামনে রেখে পূজা-অর্চনা করা মুশরিক-পৌত্তলিক সম্প্রদায়ের কাজ। পুতুল সামনে রেখে জানাযা পড়ার দৃশ্যটি সেসব শিরকী কাজের সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এভাবেই মূর্তিপূজার দ্বার উন্মোচন হয়।

৪. এছাড়া মৃত ব্যক্তির মতো করে পুতুল দাফন করা একটি গর্হিত কাজ, শরয়ী বিধানের সাথে ঠাট্টার শামিল। তাই কোনো ঈমানদারের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্পূর্ণ হারাম। আর এ ধরনের কবিরাজ থেকে ঝাড়-ফুঁক নেওয়া ও তদবীর গ্রহণ করাও নাজায়েয।

-সহীহ বুখারী, ১/১১২, হাদীস : ৪৩৪; আলইলাম, ইবনে হাজার হায়তামী ২/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; ফাতহুল বারী ১০/২০৬; মাজমাউল আনহুর ২/৫১০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার স্বামী মৃত্যুশয্যায় শায়িত। আমি সবসময় তার খেদমতে নিয়োজিত। এখন...

প্রশ্ন

আমার স্বামী মৃত্যুশয্যায় শায়িত। আমি সবসময় তার খেদমতে নিয়োজিত। এখন আমার একান্ত ইচ্ছা, তার ইন্তিকালের পর তাকে নিজ হাতে গোসল দিব। আমি জানতে চাই, আমার জন্য এটা জায়েয হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, আপনার মৃত স্বামীকে আপনি গোসল দিতে পারবেন। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু বকর রা.-এর ইন্তিকালের পর তার স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস রা. তাকে গোসল দিয়েছিলেন।

(মুআত্তা মালিক, পৃ: ১৭৯); সুনানে আবু দাউদ ৪/৩০, হাদীস : ৩১৩৩; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২০৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩৩; আলমাবসূত সারাখসী ২/৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈকা মহিলা ইন্তেকালের সময় ওয়ারিশ বলতে শুধু দু’জন ভাই ও...

প্রশ্ন

জনৈকা মহিলা ইন্তেকালের সময় ওয়ারিশ বলতে শুধু দু’জন ভাই ও একজন দুধ মেয়ে রেখে যান। আমাদের জানার বিষয় হল, দুধ মেয়ে ওয়ারিশ হিসেবে ঐ মহিলার কোনো সম্পত্তি পাবে কি না? কেউ বলছে পাবে আবার কেউ বলছে পাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।

উত্তর

দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজন মীরাস পায় না। তাই দুধ মেয়ে উক্ত মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদের কোনো হিস্যা পাবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৮৮; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/৩৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি বজ্রপাতে মারা গেছে। যেহেতু এ ধরনের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি বজ্রপাতে মারা গেছে। যেহেতু এ ধরনের লাশ চুরি হয়ে যায়। তাই ওয়ারিশগণ স্থানীয় আলেমের পরামর্শে তার কবরের উপর চওড়া কাঠের তক্তা বিছিয়ে দিয়ে তার উপর মাটি দিয়েছে। জানতে চাই, আমাদের এ কাজ কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশের হেফাযতের উদ্দেশ্যে কবরের উপর কাঠের তক্তা ব্যবহার করা ঠিক হয়েছে। উল্লেখ্য, প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ অবস্থায় কবরে কাঠ ব্যবহার করা ঠিক নয়।

-মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা ৬/৩৫১-৩৫২ হাদীস নং ১১৮৯২, ১১৮৮৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; মাজমাউল আনহুর ১/২৭৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় মৃতের রূহের মাগফিরাত কামনার উদ্দেশ্যে তিন, সাত, একুশ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃতের রূহের মাগফিরাত কামনার উদ্দেশ্যে তিন, সাত, একুশ ও চল্লিশ ইত্যাদি তারিখে কুরআন খতম, মিলাদ ও দুআর অনুষ্ঠান করা হয় এবং জাঁক-জমকের সাথে খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে বোঝা যায় না যে, রূহের মাগফিরাত না, বিবাহর অনুষ্ঠান। এ ধরনের অনুষ্ঠানে আত্মীয় স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, গ্রামবাসী ও এলাকার বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিবর্গ, যেমন চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতবর, পার্টির নেতাসহ সবাইকে দাওয়াত করা হয়। এমনকি অনুষ্ঠানের দিন-ক্ষণ পর্যন্ত দৈনিক পত্রিকায় ঘোষণা করা হয়। যা আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় তামদারী, মজলিস, বেপার, ফয়তা, মিদুনী ইত্যাদি নামে অভিহিত করা হয়। যে এলাকাতে যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, উদ্দেশ্যে অভিন্ন।

একশ্রেণীর আলেম এ ধরনের অনুষ্ঠান যথারীতি করে যাচ্ছেন। আরেক শ্রেণীর আলেম এ ব্যাপারে নিশ্চুপ। ভালো মন্দ কিছুই বলেন না। আরেক শ্রেণীর আলেম এই অনুষ্ঠানগুলোকে বিদআত ও নাজায়েয বলে থাকেন। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। কোনটা সহীহ আর কোনটা ভুল তা পার্থক্য করতে পারছে না। এখন প্রশ্ন এই যে, এই পদ্ধতি শরীয়তসম্মত কি না। সহীহ পদ্ধতি কোনটা তা জানালে আমরা বিভ্রান্তির বেড়াজাল হতে বের হয়ে সেভাবে আমল করার জন্য সচেষ্ট থাকব।

উত্তর

মৃত ব্যক্তির মাগফিরাতের জন্য দুআ করা এবং বিভিন্ন নফল ইবাদত যেমন-দান-সদকা, তাসবীহ-তাহলীল, তেলাওয়াত ইত্যাদি করে তার সওয়াব মৃতকে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল, যা হাদীস শরীফের বহু দলীল দ্বারা প্রমাণিত। তবে এটি একটি ব্যক্তিগত আমল। কোনো দিন-তারিখ ও আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই যখন ইচ্ছা তখনই এ আমল করা যায়।

কিন্তু বর্তমানে এই সহজ আমলটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দান করে অনেক ক্ষেত্রেই তাকে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহের কাজে রূপান্তর করা হয়ে থাকে। যেমন-

১. তিন দিনা, সাত দিনা,একইশা, চল্লিশা এ সকল নামে এ অনুষ্ঠান যথাক্রমে মৃত্যুর ৩য়, ৭ম, ২১ শ ও ৪০ তম তারিখে করাকে জরুরি মনে করা হয় বা কমপক্ষে এরূপ ধারণা রাখা হয় যে, এ তারিখগুলোর বিশেষত্ব রয়েছে। অথচ শরয়ী দলীল-প্রমাণ ছাড়া বিশেষ দিন-তারিখ নির্ধারণ করে নেওয়া বিদআত ও নাজায়েয।

২. ঈসালে সাওয়াবের প্রচলিত পন্থায় আরেকটি বড় আপত্তিকর দিক হল এতে যিয়াফত তথা আড়ম্বরপূর্ণ দাওয়াত অনুষ্ঠানকেই ঈসালে সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। অথচ শরীয়র্তে যিয়াফতের আয়োজনের কথা তো আছে আনন্দের মুহূতে, মুসিবতের মুহূর্তে নয়। হাদীস শরীফে এসেছে-হযরত জারীর ইবনে আবদুল্লাহ আলবাজালী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (তরজমা) ‘আমরা (সাহাবাগণ) দাফনের পর মৃতকে কেন্দ্র করে সমবেত হওয়া ও খাবারের আয়োজন করাকে ‘নিয়াহা’ বলে গণ্য করতাম।’ (মুসনাদে আহমদ ২/২০৪; ইবনে মাজাহ ১৬১২)

কোনো দিন-তারিখ নির্ধারিত না করে গরীব-মিসকীনদেরকে খানা খাওয়ানোটাও ঈসালে সাওয়াবের একটি বৈধ পন্থা। কিন্তু এমন যিয়াফতের আয়োজন করা যাতে অনেক ক্ষেত্রে সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এটি আদৌ ঈসালে সাওয়াবের গ্রহণযোগ্য পন্থা নয়।

৩. হাফেযদের দ্বারা পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন খতম করা হয়। অথচ এক্ষেত্রে কুরআন পড়ার বিনিময় দেওয়া-নেওয়া নাজায়েয।

৪. অনেক ক্ষেত্রেই এর ব্যয়ভার নির্বাহ করা হয় মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া এজমালী সম্পদ থেকে, ওয়ারিশদের মাঝে কোনো নাবালেগ থাকলেও তার সম্পদ বাদ দেওয়া হয় না। অথচ নাবালেগের সম্পদ তার অনুমতি নিয়েও খরচ করা নাজায়েয। এমনিভাবে বালেগ ওয়ারিশদের ক্ষেত্রেও এটা লক্ষ রাখা হয় না যে, তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি আছে কি না।

৫. এ ধরনের অনুষ্ঠান অনেক ক্ষেত্রেই লোক দেখানোর জন্য বা সামাজিক রেওয়াজে প্রভাবিত হয়ে করা হয়। এটাও নাজায়েয। শরীয়ত বিরোধী এ জাতীয় আরো কর্মকান্ড এসব অনুষ্ঠানে হয়ে থাকে। ফলে এর দ্বারা মৃত ব্যক্তির উপকার হওয়া তো দূরের কথা উল্টো ব্যবস্থাকারীগণ গুনাহগার হয়ে থাকে।

সুতরাং ঈসালে সাওয়াবের প্রশ্নোক্ত পন্থা সম্পূর্ণরূপে পরিহারযোগ্য। মৃতের মাগফিরাত কামনা ও তাকে সাওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে দান-সদকা, তেলাওয়াত, যিকির-আযকার ও নফল ইবাদতই যথেষ্ট এবং এটাই করণীয়। আর নির্দিষ্ট কোনো দিন-তারিখের অপেক্ষা না করে নিজ নিজ তাওফীক অনুযায়ী এগুলো মাঝে মধ্যেই করা দরকার। দান-সদকা করার ক্ষেত্রে গরীব দুঃখীদেরকে নগদে প্রদান করা ভালো এবং সদকায়ে জারিয়া হয় এমন খাতে ব্যয় করা উত্তম।

-মুসনাদে আহমদ ২/২০৪; ইবনে মাজাহ পৃ. ১১৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ৪/১৭০; শিফাউল আলীল ১/১৭৫; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ১/৮১; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একব্যক্তি জানাযার নামাযের জন্য অযু করে জানাযার নামায আদায় করে।...

প্রশ্ন

একব্যক্তি জানাযার নামাযের জন্য অযু করে জানাযার নামায আদায় করে। কিছুক্ষণ পর আসরের সময় হলে সে ঐ অযু দ্বারাই আসরের নামায আদায় করে। বিষয়টি একজনকে জানানো হলে সে বলল, জানাযার জন্য কৃত অযু দ্বারা অন্য নামায আদায় করা যায় না। তাই তার নামায হয়নি। আসল মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

লোকটির কথা ঠিক নয়। জানাযার উদ্দেশ্যে কৃত অযু দ্বারাও ফরয, নফল সব ধরনের নামাযই আদায় করা জায়েয। তাই ঐ অযু দ্বারা আদায়কৃত আসরের নামাযটি সহীহ হয়েছে। শরয়ী তরীকায় অযু করলে তা দ্বারা যে কোনো নামাযই আদায় করা যায় এবং ঐ সকল আমল করা যায় যার জন্য অযু জরুরি।

-ইমদাতুল ফাতাওয়া ১/৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

প্রায় এক যুগ গত হল আমি আমার এক নিকটাত্মীয়ের ব্যবসা...

প্রশ্ন

প্রায় এক যুগ গত হল আমি আমার এক নিকটাত্মীয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ( বেতনভুক্ত) করছি। আমি ব্যবসা পরিচালনার পর যে পরিমাণ মুনাফা আসে ইতিপূর্বে মালিক তার পিতা, ভাই-বোনদের নিয়ে ঐ পরিমাণ মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। তাই মালিক আমাকে খুব বিশ্বাস করে এবং অনেক দিক দিয়ে সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে।

কয়েক বছর পূর্বে আমার মালিক ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে মহা বিপদে পড়েন এবং ঐ বিপদ থেকে উদ্ধারে আমি সবচেয়ে বেশি মেহনত করে উদ্ধার করে আনি। ঐ সময় আমি আমার মালিকের সাথে তার বাসায় দেখা করতে গেলে তিনি সুস্থ, সজ্ঞান অবস্থায় আমাকে বললেন, ‘আজ থেকে তুমি আমার দোকানের ও ব্যবসার চার আনা পার্টনার।’ তোমাকে কিছু দিনের মধ্যে দলিল করে দিব। এরপর আমি এই পর্যন্ত লজ্জায় তাকে দলিল করতে বলিনি। তিনিও আমাকে দলিল করে দেননি। কিন্তু আমি চার আনা মালিক/পার্টনার হিসেবে টাকা হিসেব করে নিচ্ছি। আমার প্রশ্ন হল, ক) আমি কি তার কথার দ্বারা পার্টনার হয়ে গেছি? খ) টাকা নেওয়া কি ঠিক হচ্ছে? গ) আমার পার্টনার কত দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে? আমার মৃত্যুর পর কি পার্টনার বহাল থাকবে? ঘ) শেয়ার/পার্টনার হওয়ার জন্য কি কাগজের দলিল থাকা শর্ত? উপরোক্ত প্রশ্নগুলো বিস্তারিত জানিয়ে হারাম থেকে বেঁচে থাকার উপায় বাতলে দিবেন।

উত্তর

আপনার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য আরো কিছু তথ্য জানা প্রয়োজন। আপনি যেহেতু ঢাকাতেই আছেন তাই সরাসরি যোগাযোগ করার চেষ্টা করুন। অন্যথায় ফোনেও যোগাযোগ করতে পারেন।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫০০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

সমাজের বাস্তবতা হল মেয়েদেরকে পিতার মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হয়।...

প্রশ্ন

সমাজের বাস্তবতা হল মেয়েদেরকে পিতার মীরাছ থেকে বঞ্চিত করা হয়। যদি কেউ কখনও তার প্রাপ্য সম্পদ দাবি করে বা নিয়ে নেয় তাহলে তার জন্য ভাইদের দখলে থাকা বাপ-দাদার ভিটায় যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ভাইদের কাছে বোনদের কোনো মূল্য থাকে না। ছেলে-মেয়েরা মামার বাড়িতে গিয়ে আদর পায় না। অনেক সময় এমন কথাও শুনতে হয়, যা পাওয়ার তা তো নিয়েই গেছ। এখন আবার জ্বালাতন করতে আস কেন?

এসব ভেবে অনেক মেয়েই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার প্রাপ্য সম্পদ দাবি করে না এবং ভাইয়েরাও দেওয়ার কোনো আগ্রহ প্রকাশ করে না। আর দিলেও সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এমন করা ঠিক কি না? বাড়ির ভিটার অংশ মেয়েরা পাবে কি না?

উত্তর

পিতা-মাতার সকল সম্পদে ছেলের হিস্যা যেমন নিশ্চিত তেমনিভাবে মেয়ের হিস্যাও নিশ্চিত। পিতামাতার মৃত্যুর সাথে সাথে পরিত্যাক্ত সকল সম্পদে ছেলে-মেয়ে সবাই নিজ নিজ হিস্যা অনুযায়ী মালিক হয়ে যায়। সুতরাং বোনদের প্রত্যেকের অংশ পুরোপুরি দিয়ে দেওয়া ভাইদের উপর ফরয। বাড়ির ভিটা বসতবাড়িসহ মৃতের রেখে যাওয়া সব কিছুই মিরাছের অন্তর্ভুক্ত। যা নির্ধারিত হিস্সা অনুযায়ী বন্টনের নিয়ম অনুসারে প্রত্যেককে বুঝিয়ে দিতে হবে। তাদের অংশ দিতে যদি বিলম্ব করা হয় কিংবা কম দেওয়া হয় তবে তাদের হক নষ্ট করার গুনাহ হবে। অন্যের সম্পদ আটকে রাখাটা অনেক বড় গুনাহ, যা জাহান্নামে যাওয়ারও কারণ হতে পারে। তাই বোনদের প্রাপ্য অংশ অবিলম্বে দিয়ে দেওয়া জরুরি। আর তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দিলে তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও মারাত্মক গুনাহ। হাদীস শরীফে আছে-কিয়ামতের দিন আত্মীয়তার সম্পর্ক নিজেই সম্পর্ক ছিন্নকারীর বিরুদ্ধে আল্লাহ তাআলার দরবারে অভিযোগ করবে। তাই এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

-সূরা নিসা ৭-১৪; ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/২৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মাস্টার আবদুর রউফের তিন ছেলে। বড় দুই ছেলেকে লেখা-পড়া করিয়ে...

প্রশ্ন

মাস্টার আবদুর রউফের তিন ছেলে। বড় দুই ছেলেকে লেখা-পড়া করিয়ে ও বিদেশ পাঠিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু ছোট ছেলের জন্য তেমন কিছু করতে পারেননি। এজন্য মৃত্যুর সময় স্ত্রীকে ডেকে বিশ্বরোড সংলগ্ন পাঁচ গন্ডা জমি ছোট ছেলের জন্য অসিয়ত করে গেছেন। বড় ছেলেরা বিদেশ থাকায় তাদেরকে বলে যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তারা শুনে বলল, আমাদের ছোট ভাই হিসেবে আমরা তার সার্বিকভাবে সহযোগিতা করব। তবে বাপ-দাদার মিরাসী সম্পত্তি তাকে এককভাবে দিতে পারব না। এখন প্রশ্ন হল, এ অসিয়ত পূর্ণ করতে হবে কি না? এ অসিয়ত অমান্য করতে কোনো সমস্যা হবে কি না?

উত্তর

ওয়ারিসের জন্য সম্পদের অসিয়ত শরীয়তসম্মত নয়। কেউ করলেও তা কার্যকর হয় না। তাই ঐ ব্যক্তির অসিয়তটি সহীহ হয়নি। তা আমলযোগ্য নয়। হ্যাঁ, সকল ওয়ারিস স্বতস্ফূর্তভাবে নিজেদের অংশ থেকে মৃতের ছোট ছেলেকে অতিরিক্ত কিছু দিতে চায় তবে। এর অবকাশ আছে।

-সহীহ বুখারী ১/৩৮৩; সুনানে নাসাঈ ২/১১৩; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪২৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/১৮২; তাকমিলা ফাতহুল কাদীর ৯/৩৪৬; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৪৯৫৫
তারিখ: ২৮/৭/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আত্মহত্যা কারীর শাস্তি কি? তারা কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী?

প্রশ্ন
মুফতী সাহেবের নিকট আমার প্রশ্ন হল, যদি কোনো ব্যক্তি আত্মহত্যা করে সে কি চিরস্থায়ী জাহান্নামি হবে?একজনকে বলতে শুনেছি, যে যে পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবে জাহান্নামে সে চিরকাল সে পদ্ধতিতেই শাস্তি পেতে থাকবে৷ অর্থাৎ কেউ ফাসী লেগে আত্মহত্যা করলে জাহান্নামে সে চিরকাল ফাসীর মাধ্যমে শাস্তি পাবে৷ বিষ পান করে আত্মহত্যা করলে জাহান্নামে সে চিরকাল বিষ পান করবে ৷ এসব কথা কতটুকু সঠিক? জানালে উপকৃত হবো৷
উত্তর
মানুষের জীবন তার নিকট আল্লাহপ্রদত্ত আমানত৷ তা বিনষ্ট করার অধিকার মানুষের নেই৷ তাই আত্মহত্যা করা হারাম ও কবিরা গুনাহ। কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।
-সূরা নিসা, আয়াত নং-২৯
প্রশ্নে উল্লেখিত বক্তব্যটি হাদীস শরীফে এভাবে বর্নিত হয়েছে যে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে চিরদিন সেভাবেই লাফিয়ে পড়তে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে তার বিষ তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে সেখানে তা পান করতে থাকবে, যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করবে, জাহান্নামে লোহা তার হাতে থাকবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে।
-সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫৪৪২৷
উক্ত হাদীস দ্বারা প্রমানিত হয় যে, আত্মহত্যাকারী যে
পদ্ধতিতে আত্মহত্যা করবে, সেভাবে জাহান্নামে চিরকাল শাস্তি পেতে থাকবে।
অবশ্য এ হাদীস দ্বারা বাহ্যিকভাবে এটাও বুঝা যায় যে,আত্মহত্যাকারী চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে। কিন্তু মুলত বিষয়টি এমন নয়। কারণ আত্মহত্যা করা কবিরাহ গুনাহ যা তৌবা করলে মাফ হয়ে যায় ৷ কিন্তু আত্মহত্যা কারীর যেহেতু সেই সুযোগ নাই তাই তাকে জাহান্নামের শাস্তি পাবে ৷ আর তৌবা না করলেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছে করলে উক্ত ব্যক্তিকে মাফ করে দিতে পারেন৷ কেননা আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন।
-সূরা নিসা-১১৬৷
হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”বলবে আর তার অন্তরে একটি যব পরিমাণও নেকী থাকবে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে এবং যে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”বলবে আর তার অন্তরে একটি অণু পরিমাণও নেকী থাকবে তাকে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে।
-সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৪৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১২৫৷
সুতরাং আত্মহত্যা কারীর মৃত্যুর সময় যদি ইমান বহাল থেকে থাকে, তাহলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হতে পারে না। কেননা চিরস্থায় জাহান্নামী কেবল কাফের-মুশরিকরা হবে। এ হাদীস দ্বারা উদ্দেশ্যও এটাই। এবং আরবদের পরিভাষায়ও “চিরকাল” এর দ্বারা কখনো কখনো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থাকে বুঝিয়ে থাকেন। উক্ত হাদীসেও দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উদ্দেশ্য ৷ চিরস্থায়ী হওয়া নয়।
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৮৮
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

পুরাতন কবরের উপর বসবাসের ঘর নির্মান করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমাদের বাড়ির পাশে ত্রিশ/ চল্লিশ বছর আগের দুটি কবর আছে ৷ বাড়ি ভরাট ও বৃদ্ধি করায় কবর দুটি বাড়ির ভিতরে পড়ে গেছে ৷ জানার বিষয় হল, সেখানে বসবাসের উদ্দেশ্যে কোনো ঘর নির্মাণ করা বৈধ হবে কি না? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবরটি অনেক পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই যেহেতু প্রবল, তাই কবরের জায়গাটি ওয়াকফকৃত না হলে কবরটিকে সমান করে দিয়ে তার উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা এবং সেখানে বসবাস করা জায়েয হবে।
আর কবরের জায়গাটি যদি ওয়াকফকৃত হয়, তাহলে পুরাতন হলেও তাতে অন্য কিছু করা জায়েয হবে না।
-খানিয়া ৩/৩১৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৮০
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আত্বীয়-স্বজনের উপস্থিতি বা দেখানোর জন্য মৃতের গোসল, কাফন, জানাযা, দাফন বিলম্ব করা ৷

প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় এক লোক মারা গেল ৷ তার ছেলেরা বিদেশে থেকে একদিন পর আসে ৷ ছেলেদের কে লাশ দেখানোর জন্য লাশটি ফ্রীজে রাখা হয় ৷ ফলে মাইয়েতের গোসল, কাফন-দাফন, জানাযা ইত্যাদি বিলম্ব করা হয়। জানার বিষয় হল, মাইয়েতের নিকটাত্মীয়ের জন্য কাফন- দাফন জানাযা বিলম্ব করা বৈধ কি না?
উত্তর
মানুষের মৃত্যুর পর তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের কাজ যথাসম্ভব দ্রুত করা উচিত। হাদীসে এ বিষয়ে গুরুত্বারুপ করা হয়েছে। আর মৃতের নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীদেরকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া মুস্তাহাব। যেন তারা জানাযায় শরিক হতে পারে। কিন্তু কোনো আত্মীয়ের হোক ছেলে মেয়ের উপস্থিতি বা তাদের দেখানোর জন্য মৃতের দাফনে বিলম্ব করা উচিত নয় । আত্মীয় স্বজন যত দূরেই থাকুক, মাইয়েতকে দেখানোর জন্য গোসল কাফন জানাযা দাফন বিলম্ব করা কোনো ভাবেই শরীয়তসম্মত নয়।
-সহীহ বুখারী ১/১৭৫; বাদায়েউস সানায়ে
২/২৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮৩৫
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

পুতুল বানিয়ে মানুষের মত জানাযা পড়ে দাফন করে কবিরাজি চিকিৎসা গ্রহন করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার বোন বহুদিন যাবত একটি বড় ধরনের রুগে আক্রান্ত ৷ কোন চিকিৎসা ই কাজে আসছে না ৷ কিছু দিন আগে তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে কবিরাজ পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে বলেছে। জানার বিষয় হলো, এভাবে কবিরাজের কথা মেনে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয হবে কিনা?
উত্তর
শরীয়ত বিরোধী পদ্ধতি অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করা সম্পুর্ন নাজায়েয ৷ তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবিরাজের নির্দেশিত ঐ পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করা কোনো ভাবেই জায়েয হবে না । কারন এতে বহু শরীয়তবিরোধী কাজ
রয়েছে। যেমন: ১৷ পুতুল বানানো, যা সম্পুর্ন নাজায়েয।
২৷ পুতুলের জানাযা পড়া। আর কোনো পুতুলের জন্য জানাযা পড়া শরয়ী হুকুমের চরম বিকৃতি, যা বিদআত হওয়ার পাশাপাশি কুফরি তুল্য গুনাহ।
এছাড়া মৃত ব্যক্তির মত করে পুতুল দাফন করা একটি গর্হিত কাজ, শরয়ী বিধানের সাথে ঠাট্টার শামিল। তাই কোনো মুমিনের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্পূর্ণ হারাম। আর এ ধরনের কবিরাজ থেকে ঝাড়-ফুঁক নেওয়া ও তদবীর গ্রহণ করাও নাজায়েয।
-সহীহ বুখারী, ১/১১২ ফাতহুল বারী ১০/২০৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; মাজমাউল আনহুর
২/৫১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৮২১
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

দুধ সম্পর্কীয় আত্বীয়স্বজনের মিরাস ৷

প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমার বড় বোন ইন্তেকাল করেন ৷ তার কোন সন্তানাদি নাই ৷ বোন জামাইও মারা গেছে ৷
ওয়ারিশ বলতে শুধু আমরা দু’জন ভাই ও বোনের একজন দুধ মেয়ে আছে । জানার বিষয় হল, দুধ মেয়ে ওয়ারিশ হিসেবে আমার বোনের কোনো সম্পত্তি পাবে কি না?
উত্তর
ইসলামের দৃষ্টিতে দুধ সম্পর্কীয় যেসব আত্মীয়স্বজন আছে তার মীরাস তথা উত্তাধিকারি হয় না। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বোনের দুধ মেয়ে তার রেখে যাওয়া সম্পদের কোন অংশ পাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৯২
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ব্যক্তির নামে নির্ধারিত দিনে ইসালে সাওয়াব করা ও কুরআন খতম ও দোয়া করে বিনিময় আদান প্রদান করা ৷

প্রশ্ন
আমাদের দেশে মৃত্যুবরণের পর তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, চল্লিশতম দিন এবং প্রতি বছর মৃত্যু তারিখে ঈসালে সাওয়াবের জন্য কুরআন খতম বা অন্য কোনো খতম উপলক্ষে খানার আয়োজন করা হয়। উক্ত খানা ধনীরা খেতে পারবে কিনা? মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম ও দোয়া করে বিনিময় আদান প্রদান করার বিধান কি? এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সাওয়াব করা শরীয়তসম্মত ও অত্যান্ত পূণ্যের কাজ। তবে আমাদের দেশে যে, নির্দিষ্ট দিন তারিখ তথা মৃত্যুর তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, চল্লিশতম দিন এবং প্রতি বছর মৃত্যু তারিখে যে খতম ও খানার আয়োজন করা হয়, তা সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আত। ঈসালে সাওয়াব কোনো নির্দিষ্ট দিন তারিখে নয়, বরং সুবিধে মতো যে কোনো এক দিনে করা চাই।
ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম বা অন্য কোনো খতম ও দু‘আ করিয়ে বিনিময় আদান প্রদান এবং খানা খাওয়া ও খাওয়ানো সবই নাজায়িয। তবে দুটির যে কোনো একটি করতে পারবে । হয়তো শুধু
খতম বা দু‘আ। নতুবা শুধু খানা খাওয়ানো।
আর ঈসালে সাওয়াবের খানা নফল সদকার অন্তর্ভূক্ত বিধায় ধনী-গরীব সবার জন্যই খাওয়া জায়িয আছে। তবে গরীবদেরকে খাওয়ানোতে সাওয়াব বেশি।
আল বাহরুর রায়িক ২/২৪৬, ফাতাওয়া শামী ২/২৪০, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৭৭।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭৭৭
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

লাশ দাফনের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করলে মৃত ব্যক্তি সাহস পায় ও প্রশ্নোত্তর সহজ হয় ৷

প্রশ্ন
লোক মুখে বলতে শুনা যায়, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুআ করলে মৃত ব্যক্তি নিজে সাহস পান এবং ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়। তা কি ঠিক?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত কথাগুলোর প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য নির্ভরযোগ্য হাদীসে পাওয়া যায়। এক বর্ণনায় এসেছে, দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে কিছু সময় অবস্থান করলে তার একাকিত্বভাব দূর হয়।
আবদুর রহমান ইবনে শুমাছা আলমহরী রাহ. বলেন, আমর ইবনে আস রা. যখন মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন তখন তার কাছে আমরা উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা যখন আমাকে দাফন করবে আমাকে কবরে রেখে আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি দিবে। এরপর একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যে পরিমাণ সময় লাগে ততটুকু সময় আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন এর দ্বারা আমার একাকিত্বতার ভীতি দূর হয়ে যায় এবং আমি আমার রবের প্রেরিত দূতকে বুঝে-শুনে জবাব দিতে পারি।
সহীহ মুসলিম ১/৭৬, হাদীস : ১২১৷
অন্য হাদীসে এসেছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর সেখানে তার মাগফিরাত ও দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সেজন্য দুআ করা হায়৷
উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মাইয়্যেতকে দাফন করার পর সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং দুআ কর। যেন আল্লাহ তাআলা তাকে দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার তাওফীক দান করেন। কেননা সে এখনই জিজ্ঞাসিত হবে।
সুনানে আবু দাউদ ২/৪৫৯, হাদীস : ৩২১৩ বিস্তারিত দেখুনঃ ইলাউস সুনান ৮/৩৪২৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭২৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নারি ও পুরুষের লাশে সুগন্ধি ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
মানুষ মৃত্যুর পর লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়।
এখন জানার বিষয় হল, লাগানো শরীয়ের দৃষ্টিতে কেমন? এবং মহিলাদের লাশেও কি
সুগন্ধি লাগানো যাবে?
উত্তর
লাশে সুগন্ধি লাগানো মুস্তাহাব৷ মহিলাদের লাশেও সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪১৬; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭২০
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে তিন কাতার করা৷

প্রশ্ন
জানাযার নামাযে তিন কাতার করা জরুরি কিনা? অনেক জায়গায় দেখা যায়, এটাকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। তাই রেফারেন্সসহ জানালে ভাল হয়। জাযাকাল্লাহ।
উত্তর
জরুরি নয়; তবে মুসতাহাব। কেননা হাদীস শরীফে
এসেছে, মালিক ইবন হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, যে কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য জীবিত মুসলমানরা তিন কাতার করে তার জানাযার নামায পড়লে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে
দেন ।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৫৮ ৷
বর্ণনাকারী বলেন, এ জন্য মালিক রহ. যখন কোন ব্যক্তির জানাযায় লোক কম দেখতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিভক্ত করে দিতেন। ফকীহগণ এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে জানাযার নামাযে মুসল্লি সংখ্যা কম হলেও যথাসম্ভব তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে দাঁড় করানো মুসতাহাব বলেছেন। তবে মুসল্লি সংখ্যা অধিক হলে তিনের অধিক কাতারও করা যাবে। এবং এতে সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে।
শরহুল মুসলিম নববী ৭/১৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৮৷
প্রয়োজনে
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৪৭১৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে ১/২ তাকবীর ছুটে গেলে ছানা, দরুদ, দোয়া পড়ার নিয়ম৷

প্রশ্ন
অনেক সময় জানাযার নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পরে আসার কারণে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে যায়। পরবর্তীতে ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হওয়ার পর দুআ পড়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যাই। শুরু থেকে পড়ব নাকি ইমামের অনুসরণ করব? কখনো কখনো ইমাম কোন তাকবীরে রয়েছে জানা যায় না। মেহেরবানি করে সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে উপকার করবেন।
উত্তর
জানাযা নামাযের কিছু অংশ ছুটে গেলে জামাতে অংশগ্রহণের পর ইমাম সাহেব কয় তাকবীর দিয়েছেন এবং কোন দুআ পড়ছেন তা জানা গেলে আগন্তুক ঐ সময়ের দুআই পড়বে। আর যদি তা জানা না যায় তাহলে শুরু থেকে ধারাবাহিক নিয়মে ছানা অতপর দুরূদ ও দুআ পড়বে। অবশ্য ইমামের সালামের পর জানাযা দ্রুত উঠিয়ে নিতে লাগলে খাটনী জমিনে থাকা
অবস্থায় অবশিষ্ট তাকবীরগুলো দুআ ছাড়াই আদায় করে নিবে।
-মারাকির ফালাহ পৃ. ৩২৬; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৫৮৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০০৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন

Execution time: 0.08 render + 0.01 s transfer.