Login | Register

ফতোয়া: মৃত্যু-জানাজা

ফতোয়া নং: ৬১৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) ফজরের নামাযে আওসাতে মুফাসসাল পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে...

প্রশ্ন

ক) ফজরের নামাযে আওসাতে মুফাসসাল পড়লে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি? আর এই তিলাওয়াত নিয়ে যদি কোনো ব্যক্তি সমালোচনা করে যে, নামায হবে না তাহলে সে শরীয়তের দৃষ্টিতে গুনাহগার হবে কি না?

খ) শরীয়তের মধ্যে কবর দেখভাল করার সঠিক পদ্ধতি কী? দলিল-প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ক) ফজর নামাযে সাধারণ অবস্থায় তিওয়ালে মুফাসসালের সূরাগুলো থেকে তিলাওয়াত করা সুন্নত। অবশ্য তিওয়ালে মুফাসসালের সূরা সমপরিমাণ অন্য জায়গা থেকে পড়লেও সুন্নত আদায় হয়ে যাবে। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় ফজর নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকেই তিলাওয়াত করতেন। আবার মুফাসসালাতের বাইরে থেকেও এ ধরনের লম্বা কিরাত পড়তেন। এ মর্মে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

সিমাক ইবনে হারব বলেন, আমি জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, ... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাযে সূরা কাফ এবং এ ধরনের অন্য সূরাও পাঠ করতেন।-সহীহ মুসলিম ১/১৮৭

সহীহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আবু বারযা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর নামাযে ষাট থেকে একশত আয়াত পরিমাণ তিলাওয়াত করতেন।-সহীহ মুসলিম ১/১৮৭

তাই কোনো ওজর না থাকলে ফজর নামাযে অধিকাংশ সময় তিওয়ালে মুফাসসাল থেকেই পড়া উচিত।

আর ওজর অবস্থায় কিংবা কখনো কখনো ফজর নামাযেও ছোট সূরা পড়া যাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর নামাযে কিসারে মুফাসসাল থেকে সূরা যিলযাল তিলাওয়াত করেছেন বলে প্রমাণিত আছে।-সুনানে আবু দাউদ ১/১২৩

অনুরূপ বাকি চার ওয়াক্তের কিরাতেও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কখনো মুফাসসালাতের বাইরে থেকেও তিলাওয়াত করেছেন এমন বর্ণনা বিভিন্ন হাদীসে এসেছে।&

তাই কোনো ইমাম কখনো যদি মুফাসসালাতের বাইরে থেকে তিলাওয়াত করেন তাহলে এ নিয়ে আপত্তি করা ঠিক নয়। আর এ কারণে নামায হবে না এমন কথা তো সম্পূর্ণ ভুল।

বিশেষত যেখানে মুসল্লীদের অধিকাংশ শ্রেণী এমন হয়, যাদের জন্য দীর্ঘ কিরাতে নামায পড়া কষ্টসাধ্য, যেমন অধিকাংশ মুসল্লী ফ্যাক্টরির শ্রমিক বা বয়োবৃদ্ধ সেক্ষেত্রে ইমামের জন্য তাদের অবস্থার প্রতি লক্ষ্য রেখে কেরাত পড়া উচিত। (ইলাউস সুনান ৪/২৪)

তবে এ ধরনের মুসল্লীদেরকেও সুন্নতের গুরুত্ব ও ফযীলত বলে কিরাতের ন্যূনতম পরিমাণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা উচিত।

উত্তর : খ) কবর ও কবরস্থান রক্ষণাবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে জীবিতদের উপর গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্তব্য রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল, কবর ও কবরস্থানকে সর্বপ্রকার শিরক-বিদআত ও শরীয়তবিরোধী কর্মকান্ড থেকে মুক্ত রাখা।

কবরকে সিজদা না করা, চুম্বন না করা, তাজীম-সম্মানার্থে মাথা না ঝুকানো, কবরওয়ালার কাছে কিছু না চাওয়া। কেননা কবরের সাথে এসব আচরণ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং এগুলোর কোনো কোনোটি শিরক।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, (অর্থ) আল্লাহ তাআলা ইহুদ-নাসারাকে ধ্বংস করুন! তারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৫৩০

অপর বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাআলা ঐ সকল লোকের প্রতি অভিসম্পাত করুন, যারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়ে নিয়েছে।-সুনানে নাসায়ী ১/২২৩

তদ্রূপ কবরকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার উরস-উৎসব না করা, আলোকসজ্জা, মোমবাতি-আগরবাতি না জ্বালানো। কেননা কবরকে কেন্দ্র করে এগুলো করাও হারাম।

কবরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনকারীদের প্রতি হাদীস শরীফে অভিসম্পাত এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনকারীদের উপর লানত করেছেন।-সুনানে নাসায়ী ১/২২৩

কবরকে পাকাপোক্ত ও চাকচিক্যময় না করা। কবরের উপর ছাদ না করা। কেননা হাদীসে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

জাবের রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরকে পাকাপোক্ত ও চুনকর্ম করতে নিষেধ করেছেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৯৭০

মোটকথা কবরকে সব ধরনের বিদআত রুসূমাত থেকে মুক্ত রাখা জীবিতদের কর্তব্য।

দ্বিতীয়ত কবরের বাহ্যিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকটি। সেক্ষেত্রে কর্তব্য হল মৃত ব্যক্তির সম্মানহানী হয় এমন কোনো আচরণ কবরের সাথে না করা। যেমন কবরের উপর চলাচল করা, বসা ইত্যাদি।

আবু মারসাদ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কবরে বসবে না এবং কবরকে সামনে রেখে নামায পড়বে না।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৯৭২

অন্য বর্ণনায় এসেছে, উমারা ইবনে হাযম রা. বলেন, একদা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কবরের উপর বসা দেখতে পেয়ে বললেন, কবর থেকে নেমে যাও। কবরস্থ ব্যক্তিকে কষ্ট দিও না।-আলমুজামুল কাবীর, তবারানী , মাজমাউয যাওয়াইদ ৩/১৯১

জামে তিরমিযীতে জাবের রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের উপর চলাচল করতে নিষেধ করেছেন।

অনুরূপ কবরে যেন গরু-ছাগল প্রবেশ না করে এবং কবর অপবিত্র না করে সেদিকেও লক্ষ্য রাখা। কবরের উপর গাছ তরু-লতা বা ঘাস ইত্যাদি থাকলে তা না কাটা। কেননা এগুলোর তাসবীহাত দ্বারা মৃতের উপকার হতে পারে। অবশ্য ঘন জঙ্গল হয়ে গেলে তা পরিষ্কার করা যাবে। অনুরূপ শুকনো ঘাস, ডালপালা থাকলে তা পরিষ্কার করা যাবে।-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৭৬

বাহ্যিক পরিচর্যার আরেকটি বিষয় হল, বৃষ্টি বা কোনো কারণে কবরের মাটি সরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী মাটি ভরাট করে দেওয়া যাবে। অনুরূপ কবরের চিহ্ন মুছে গেলে পাথরখন্ড বা কোনো কাঠ ইত্যাদি দিয়ে চিহ্নিতও করা যাবে। এরূপ চিহ্নিত করে রাখা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। দেখুন : সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩১৯৮

জীবিতদের প্রতি হাদীসের আরেকটি নির্দেশনা হল, কবর যিয়ারত করা। হাদীস শরীফে কবর যিয়ারতের প্রতি বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কবর যিয়ারত কর। কেননা তা মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩২১৬

অন্য বর্ণনায় এসেছে, তা আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩২১৬

তাই মৃত্যুর কথা স্মরণ হওয়ার দ্বারা একদিকে যেমন যিয়ারতকারীর ঈমানী ফায়েদা হয় তেমনি এতে মৃতেরও বড় উপকার হয়। কেননা মৃত ব্যক্তি যিয়ারতকারীর দুআ-ইস্তিগফার ও নেক আমলের ইসালে ছওয়াব দ্বারা উপকৃত হয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৮১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার মা ২০০৭ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর কিছু দিন...

প্রশ্ন

আমার মা ২০০৭ সালে মারা যান। তার মৃত্যুর কিছু দিন পর বাবা এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করেন। ঐ বিধবা মহিলার বর্তমানে যিনি আমার সৎ মা আগের সংসারের একটি মেয়ে আছে। আমি কি ঐ মেয়েটিকে বিয়ে করতে পারব?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মেয়েটি আপনার মাহরাম নয় তার সাথে আপনার বিবাহ জায়েয। কেননা তার পিতা-মাতাও ভিন্ন এবং তার সাথে আপনার রক্তের কোনো সম্পর্কও নেই।

-আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩১; ফাতহুল কাদীর ৩/১২০; আননাহরুল ফায়েক ২/১৮৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার এক আত্মীয় কয়েকদিন আগে মারা গেছেন। তাকে গোসল দেওয়ার...

প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় কয়েকদিন আগে মারা গেছেন। তাকে গোসল দেওয়ার সময় হাতের নখগুলো বড় দেখে একজন তা কেটে দেয় এবং চুলও কেটে অাঁচড়ে দেয়। প্রশ্ন হল, মৃতের নখ বড় থাকলে তা কেটে দেওয়ার হুকুম কি?

উত্তর

মৃত ব্যক্তির নখ, চুল ইত্যাদি বড় থাকলেও তা কাটা যাবে না। এমনকি মৃতের শরীরে কোনো ধরনের সাজসজ্জা বা চুলে সিঁথি করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই মৃতের নখ, চুল বড় থাকলেও তা না কেটে ঐ অবস্থায়ই তাকে দাফন করে দিবে।

প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. এক মৃতের চুল আঁচড়ে দিতে দেখে বললেন, তোমরা মৃতের চুল কেন আঁচড়াচ্ছ? (কিতাবুল আছার ১/২৪২)

ইবনে সীরীন রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি মৃতের নাভীর নিচের পশম এবং নখ কাটা অপছন্দ করতেন এবং বলতেন, অসুস্থ ব্যক্তির পরিবারের কর্তব্য হল, মৃত্যুর পূর্বে অসুস্থ অবস্থায়ই তা পরিষ্কার করে ফেলা।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭/১৩৯; শরহুল মুনইয়াহ ৫৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমরা মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়ে থাকি।...

প্রশ্ন

আমরা মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়ে থাকি। কিন্তু সেদিন একজন বলল যে, মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়া বিদআত। তার একথা ঠিক কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করা উত্তম। সফওয়ান রাহ. বলেন, ‘কয়েকজন প্রবীন তাবেয়ী আমাকে বলেছেন যে, তারা সাহাবী গুযাইফ ইবনুল হারেস রা.-এর প্রচন্ড মৃত্যু যন্ত্রণার সময় তাকে দেখতে যান। তখন সাহাবী গুযাইফ রা. বললেন, তোমাদের মাঝে সূরা ইয়াসীন পড়তে পারে এমন কেউ আছে? তখন সালেহ ইবনে শুরাইহ আস সাকুনী ইয়াসীন পড়া শুরু করলেন। সফওয়ান রাহ. বলেন, প্রবীণ তাবেয়ীগণ বলতেন, মৃত্যু শয্যায় শায়িত ব্যক্তির নিকট সূরা ইয়াসীন পড়া হলে মৃত্যু যন্ত্রণা লাঘব হয়।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৬৯৬৯; আলইসাবা ৩/১৫৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় তিন তলাবিশিষ্ট একটি মসজিদ আছে। মসজিদের পশ্চিমে মসজিদের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় তিন তলাবিশিষ্ট একটি মসজিদ আছে। মসজিদের পশ্চিমে মসজিদের জায়গায় বাথরুম, প্রস্রাবখানা ও লাশ রাখার ঘর বিদ্যমান। মসজিদ কমিটি বাথরুম, প্রস্রাবখানা ও লাশ রাখার ঘরের উপরে ছাদ দিয়ে তাতে ইমাম-মুয়াযযিনের পরিবার নিয়ে থাকা, পাঠাগার ও কমিটির মিটিংয়ের জন্য রুম তৈরি করতে চাচ্ছে। এটা করা বৈধ হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ইস্তেঞ্জা খানা ও লাশ রাখার ঘরের উপর ইমাম-মুয়াযযিনের স্বপরিবারে থাকার ব্যবস্থা করা এবং মসজিদের অফিস কক্ষ ও ইসলামী বই-পুস্তকের জন্য পাঠাগার করা জায়েয হবে। তবে ঐ অংশের জন্য আলাদা সিড়ি রাখা উচিত। যাতে করে মসজিদে যাতায়াতকারীদের কোনো প্রকার সমস্যা না হয়।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২১৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) আমরা যখন মসজিদে নামায পড়ি তখন বৈদ্যুতিক বাল্ব-এর কারণে...

প্রশ্ন

ক) আমরা যখন মসজিদে নামায পড়ি তখন বৈদ্যুতিক বাল্ব-এর কারণে আমাদের নিজেদের ছায়া আমাদের সামনে পড়ে। আর তা আমরা নামাযে থেকে দেখতে পাই।

অতএব আমার প্রশ্ন হল, এই ছায়ার কারণে কি নামাযে কোনো ক্ষতি হবে?

খ) আমাদের মহল্লায় কয়েক মাস আগে এক মুরববী মারা যান। আমি তার জানাযার নামাযে শরিক হই। নামায শেষে দেখলাম যে, যিনি জানাযার নামায পড়িয়েছেন (ইমাম) তিনি সকল মুসল্লিকে ডেকে একত্র করলেন এবং সকলকে নিয়ে দরূদ শরীফ পড়ে তার পর লাশকে সামনে রেখে অল্প সময় দুআ করলেন। এরপর লাশ কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং লাশ দাফন করা হয়। দাফনের পর আরেকটি কাজ হুজুরকে করতে দেখি। তা হল, হুজুরের নির্দেশে চারজন লোক কবরের চার কোণায় দাঁড়ালেন। প্রত্যেকের হাতে ২ ইঞ্চি পরিমাণ গাছের ডাল। তার পর তারা চার কুল অর্থাৎ সূরা ইখলাছ, সূরা ফালাক, সূরা নাস ও সূরা কাফিরূন পাঠ করেন। এরপর চার জন ডালগুলো চার কোণায় গেঁথে দিলেন। তারপর সকলে কবরস্থানের বাইরে গিয়ে দুআ করে চলে গেলেন। এখন আমার প্রশ্ন হল-

ক) জানাযার পর লাশকে সামনে রেখে দুআ করা সম্পর্কে কুরআন-হাদীস কী বলে? এ সম্পর্কে জানাবেন। এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে এরূপ কোনো ঘটনা আছে কি?

খ) চার কুল পড়ে কবরের চার কোণে ডাল গেড়ে দেওয়ার হুকুম কি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা-তাবেঈন থেকে কি এরূপ করা প্রমাণিত আছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ক) না, ছায়ার কারণে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না।

খ) জানাযার পর দাফনের পূর্বে লাশের কাছে দরূদ পড়া ও দুআ করার প্রচলনটি বিদআত।

তদ্রুপ কবরের চার কোণে চার কুল পড়ে ডাল গেঁথে দেওয়ার বিষয়টিও সম্পূর্ণ মনগড়া ও বিদআত।

কোনো হাদীসে বা সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে এই দুই আমলের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই উভয় আমলই পরিহার করা জরুরি।

-মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/১৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৩; আলফাতাওয়াল বাযযাযিয়া ১/৮০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের পাশের এলাকার এক লোকের জানাযায় শরিক হই।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের পাশের এলাকার এক লোকের জানাযায় শরিক হই। দাফন শেষ হওয়ার পর দেখলাম এক লোক মৃতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আযান দিচ্ছে। তার কাছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলল, আমাদের পূর্বপুরুষ থেকেই এ আমলটি চলে আসছে। জানতে চাই, দাফনের পর মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে আযান দেওয়ার প্রচলনটি কি ইসলামী শরীয়তে বৈধ?

উত্তর

দাফনের পর কবরের পাশে আযান দেওয়া বিদআত। এক্ষেত্রে আযান দেওয়া শরীয়তের কোনো দলিল দ্বারা প্রমাণিত নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবা-তাবেয়ীনের যুগে দাফনের পর কবরে আযান দেওয়া প্রমাণিত নেই। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

-রদ্দুল মুহতার ২/২৩৫; ফাতাওয়াল কুবরা আলফিকহিয়্যাহ ২/১৭; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১০৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন হল আমার আম্মা ইন্তেকাল করেছেন। আর আমার শ্বশুর ইন্তেকাল...

প্রশ্ন

কিছুদিন হল আমার আম্মা ইন্তেকাল করেছেন। আর আমার শ্বশুর ইন্তেকাল করেছেন বছরখানেক আগে। আমার দাদা বাবাকে পুনরায় বিবাহ করাতে চাচ্ছেন এবং আমার বিধবা শ্বাশুড়িকেই বৌ হিসেবে নির্বাচন করেছেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এই বিবাহে কোন সমস্যা আছে কি না জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ছেলের বিধবা শ্বাশুড়িকে বিবাহ করা জায়েয। উভয় পক্ষ সম্মত হলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।

-রদ্দুল মুহতার ৩/৩১; ইলাউস সুনান ১১/২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়ে টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি?

প্রশ্ন

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়ে টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি?

উত্তর

কোনো মুসলমানের মৃত্যু হলে এলাকাবাসীর কর্তব্য হল তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থা করা। এগুলো শরীয়ত কর্তৃক জীবিতদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। তাই দায়িত্ব আদায়ের সার্থে কেবলমাত্র সওয়াবের নিয়তেই তা করা উচিত। যে ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির এলাকায় গোসলদাতা ব্যতীত এ কাজের উপযুক্ত অন্য কেউ না থাকে সেক্ষেত্রে তার জন্য বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয হবে না। অবশ্য মৃতের গোসল দেওয়ার মত অন্য লোক থাকলে সেক্ষেত্রে এর বিনিময় আদান-প্রদান নাজায়েয নয়।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৯; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৩/৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈকা মহিলার জানাযায় দেখলাম, তার পিতার উপস্থিতিতে তার পুত্র জানাযার...

প্রশ্ন

জনৈকা মহিলার জানাযায় দেখলাম, তার পিতার উপস্থিতিতে তার পুত্র জানাযার ইমামতি করছেন। অথচ তার পিতাও নামায পড়ানোর যোগ্য ছিলেন। এতে আমার মনে সংশয় সৃষ্টি হয় যে, বস্ত্তত এক্ষেত্রে নামায পড়ানোর বেশি হকদার কে? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

উত্তর

মৃতের পিতা ও পুত্র উভয়ে যদি ইমামতির যোগ্য হয় এবং দুজনেই উপস্থিত থাকে তবে সেক্ষেত্রে পিতাই জানাযা পড়ানোর বেশি হকদার। অবশ্য এক্ষেত্রেও পিতা যদি মৃত ব্যক্তির পুত্রকে জানাযা পড়াতে অনুমতি দেন তাহলে তার জন্য জানাযা পড়াতে কেনো অসুবিধা নেই। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতা অনুমতি দিয়ে থাকলে পুত্রের জানাযা পড়ানো অনুত্তম হয়নি।

-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৬৩৭০; কিতাবুল আছল ১/৪২৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮০; ফাতহুল কাদীর ২/৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় কয়েকদিন আগে একজন মহিলা মারা গেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কয়েকদিন আগে একজন মহিলা মারা গেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে তার আত্মীয়স্বজনরা জানাযায় শরিক হওয়ার জন্য এসেছিলেন। মৃতের পরিবার অনেক বড়। আত্মীয়-স্বজন অনেক বেশি। আর তারা সম্পদশালীও। আগত আত্মীয়দের খানা খাওয়ানোর জন্য ঐ মহিলার স্বামী একটি গরু জবাই করে খানার ব্যবস্থা করেন। আর অনেকেই এখন এভাবে আয়োজন করে খানার ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু কেউ কেউ বলছেন, মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে ঐ দিন আগত আত্মীয়দের জন্য এভাবে খানার আয়োজন করাটা বেদআত। তাদের এ কথা কতটুকু সঠিক? কুরআন-হাদীসের আলোকে প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

জানাযা ও দাফনের উদ্দেশ্যে দূর থেকে আগত আত্মীয়স্বজনের জন্য মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে খানাপিনার ব্যবস্থা করা নাজায়েয নয়। তবে এ ব্যবস্থা গ্রহণ শুধু এ ধরনের আত্মীয়স্বজনের প্রয়োজনে মেহমানদারির উদ্দেশ্যেই হতে হবে। মৃত্যু উপলক্ষে যেয়াফতের উদ্দেশ্যে না হতে হবে। কেননা কারো মৃত্যু উপলক্ষে যেয়াফতের উদ্দেশ্যে খানাপিনার আয়োজন করা জায়েয নয়। হাদীস শরীফে এসেছে, জারীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমরা মৃতের বাড়িতে লোক সমাগম হওয়া এবং সমবেত লোকদের উদ্দেশ্যে মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে খাবার আয়োজন করাকে ‘নিয়াহা’ (জাহেলীযুগের নিষিদ্ধ শোক-বিলাপ) গণ্য করতাম।-সুনানে ইবনে মাজাহ ১/২৫২

প্রকাশ থাকে যে, দূর থেকে আগত আত্মীয়স্বজনের মেহমানদারির প্রয়োজনে খানাপিনার ব্যবস্থা করা যদিও জায়েয তথাপি এ সময় মৃতের পরিবার যেহেতু শোকাহত থাকে তাই মেহমানদারির দায়িত্ব তাদের উপর চাপানো উচিত নয়। বরং জানাযা ও দাফন শেষে দীর্ঘ সময় ঐ বাড়িতে অবস্থান না করাই বাঞ্ছনীয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে আগত আত্মীয়স্বজনদের উচিত নিজ উদ্যোগে মৃতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য সাধ্য অনুযায়ী খানাপিনার এন্তেজাম করা। যেন তারা নিজেদের খানা প্রস্ত্তত করার ঝামেলা থেকেও বাঁচতে পারে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৫৫২; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলমুগনী ইবনে কুদামা ৩/৪৯৬; ইলাউস সুনান ৮/৩৩০; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার দাদির ১০ কাঠা জমি আছে, যা তিনি তার পিতা...

প্রশ্ন

আমার দাদির ১০ কাঠা জমি আছে, যা তিনি তার পিতা থেকে পেয়েছেন। তিনি গত বছর ঐ দশ কাঠা জমি মসজিদে দেওয়ার জন্য বড় চাচাকে ওসিয়ত করেছিলেন। এর কিছুদিন পর ছোট চাচা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। দাদি এখনো জীবিত। তাই তিনি উক্ত জমিটা বিক্রি করে ছোট চাচার চিকিৎসার জন্য দিতে চাচ্ছেন। তিনি ঐ জমিটা বিক্রি করতে পারবেন কি?

উত্তর

অসিয়ত কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তাই অসিয়তকারী চাইলে জীবদ্দশায় তা প্রত্যাহার করতে পারে। সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার দাদি চাইলে ঐ জমিটি বিক্রি করে দিতে পারবেন। কেননা তার অসিয়ত এখনো কার্যকর হয়নি।

অবশ্য তার অন্য সম্পদ থাকলে মসজিদের জন্য কৃত অসিয়তটি বাতিল না করাই বাঞ্ছনীয় হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ২২/৪২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৫৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

অনেকে বলে, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর কিছু সময় ধরে মৃতের...

প্রশ্ন

অনেকে বলে, মৃত ব্যক্তিকে দাফনের পর কিছু সময় ধরে মৃতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করতে হয়। আবার কেউ কেউ বলে, একটি উট জবাই করে তার গোশত কেটেকুটে বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে কবরের পাশে ততটুকু সময় অপেক্ষা করতে হয়। সঠিক বিষয় জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের উভয় বক্তব্যই সঠিক। দাফনের পর কবরের পাশে কিছু সময় পর্যন্ত মৃতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করা মুস্তাহাব। এটি হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত।

উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাইয়্যেতকে দাফন করার পর সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। এবং তার জন্য দৃঢ়তার দুআ কর। (অর্থাৎ আল্লাহ যেন তাকে ঈমানের উপর অটল রাখেন এবং সকল প্রশ্নের উত্তর দানের তাওফীক দান করেন।) কেননা এখনই সে জিজ্ঞাসিত হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩২১৩)

আর উট জবাই করে গোশত বণ্টন করা পরিমাণ সময় অবস্থান করার কথা আমর ইবনুল আস রা. থেকে বর্ণিত আছে। সহীহ মুসলিমে এসেছে, আবদুর রহমান ইবনে শামাসাহ আলমাহরী বলেন, আমর ইবনুল আস রা. যখন মুমূর্ষু অবস্থায় তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, আমি মৃত্যুবরণ করলে কোনো বিলাপকারিনী এবং আগুন যেন আমার সঙ্গী না হয়। অতঃপর তোমরা যখন আমাকে দাফন করবে তখন কবরে পর্যাপ্ত মাটি দিবে। এরপর একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যতটুকু সময় লাগে ততটুকু সময় আমার কবরের পাশে (দুআ, তিলাওয়াত ও

ইস্তিগফার করার জন্য) অপেক্ষা করবে। যেন তোমাদের (তিলাওয়াত ও ইস্তিগফার-এর) মাধ্যমে আমার নিঃসঙ্গতা দূর হয় এবং আমার রবের ফেরেশতাদের জবাব দিতে পারি।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১/৭৬; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৩২১৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; ফাতহুল মুলহিম ১/২৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের গ্রামে ১৫-১৬ বিঘা জমির উপর ২০০ বছরের পুরাতন একটি...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে ১৫-১৬ বিঘা জমির উপর ২০০ বছরের পুরাতন একটি ওয়াকফিয়া কবরস্থান আছে। কবরস্থানের সব স্থানেই কবর। এ যাবত গ্রামবাসী গ্রামের মাদরাসা-স্কুল মাঠে কিংবা ঈদগাহে জানাযার নামায আদায় করছে। কিছুদিন আগে কবরস্থান কর্তৃপক্ষ ঐ কবরস্থানের এক জায়গায় যেখানে ১৫-২০ বছর থেকে দাফন করা হয়নি। সেখানে জানাযার নামায আদায়ের জন্য সিমেন্ট দিয়ে পাকা মেঝে তৈরি করেছে। প্রশ্ন হল, এভাবে কবরের উপর মেঝে তৈরি করে জানাযার নামায আদায় করা জায়েয হচ্ছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবরস্থানের বাইরে ঈদগাহে কিংবা মাদরাসায় মূল মাঠে জানাযার নামায পড়ার সুব্যবস্থা থাকলে কবরস্থানের ভিতর জানাযা আদায়ের পৃথক ব্যবস্থা করা উচিত হয়নি। কেননা ওয়াকফিয়া কবরস্থান কেবলমাত্র দাফনের জন্যই নির্ধারিত। অবশ্য পুরাতন কবরকে সমান করে দিয়ে তার উপর জানাযার নামায পড়লেও তা সহীহ হয়ে যাবে। সহীহ বুখারীতে আনাস রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, মসজিদে নববী যে স্থানে নির্মিত হয়েছে সেখানে কোনো এক সময় কবর ছিল। (দেখুন : সহীহ বুখারী ১/৬১)

-আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৭৯; শরহুল মুনইয়া ৫৬১; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার মা শেষ বয়সে আমার বাসাতেই থাকতেন। আমিই তার দেখাশোনা...

প্রশ্ন

আমার মা শেষ বয়সে আমার বাসাতেই থাকতেন। আমিই তার দেখাশোনা করতাম। তিনি অনেক দিন যাবত অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর এক মাস পূর্বে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এবং নানা রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তার বিবেক ঠিকমতো কাজ করত না। অতপর মা সে রোগেই মারা যান। তখন আমিই তার সেবা-শুশ্রূষা করি। অন্যান্য ভাইয়েরা শুধু মাঝেমধ্যে আসতেন। মা এতে আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার পাঁচ ভরি স্বর্ণ আমাকে দিয়ে দেন। ভাইয়েরা বলছেন যে, আমি মাকে ফুসলিয়ে স্বর্ণ নিয়েছি। প্রশ্ন হচ্ছে, এই স্বর্ণ নেওয়া আমার জন্য জায়েয কি না? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

আপনার মায়ের অন্যান্য ওয়ারিসগণ দিতে সম্মত না হলে ঐ স্বর্ণগুলো নেওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না। কেননা মৃত্যু শয্যায় কোনো ওয়ারিসকে কোনো কিছু হেবা (দান) করলে সে হেবা গ্রহণযোগ্য হয় না। তাই ঐ স্বর্ণগুলোও ওয়ারিসদের মাঝে প্রত্যেকের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে।

-আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৬০; রদ্দুল মুহতার ৫/৬১০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর পূর্বে আমাদের গ্রামে মৃতদের দাফনের...

প্রশ্ন

আজ থেকে প্রায় ৮০ বছর পূর্বে আমাদের গ্রামে মৃতদের দাফনের জন্য ২০ শতাংশ পরিমাণ একটি জমি ওয়াকফ করে কবরস্থান বানানো হয়। এ পর্যন্ত কিছু অংশ বাদে জমিটির বাকি অংশে মৃতদের দাফন করা হয়ে গেছে। হয়তবা এ বছর খালি অংশটুকুও ভরে যাবে।তাই প্রশ্ন হচ্ছে, পুরাতন কবরগুলো খনন করে তাতে নতুন করে দাফন করা দুরস্ত হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কবরস্থ লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হলে সে স্থানে নতুন করে অন্য লাশ দাফন করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

উল্লেখ্য, পুরাতন কবরগুলোতে নতুন লাশ দাফন করার জন্য কবর খননের সময় আগের লাশের হাড় পাওয়া গেলে সেগুলো কবরের এক পাশে পৃথক করে রেখে দিবে কিংবা ভিন্ন স্থানে দাফন করে দিবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৮; ফাতহুল কাদীর ২/১০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৩১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আবদুল্লাহ আমার প্রতিবেশী। সামিয়া তার একমাত্র কন্যা। কিছুদিন আগে তার...

প্রশ্ন

আবদুল্লাহ আমার প্রতিবেশী। সামিয়া তার একমাত্র কন্যা। কিছুদিন আগে তার বিয়ে হয়েছিল পাশের থানার এক লোকের সাথে। অনুষ্ঠান শেষে কনে নিয়ে ফেরার সময় বরের মাইক্রোবাসটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। বর ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর কনে সামিয়া কুদরতিভাবে বেঁচে যায়। এই দুর্ঘটনার তিনদিন পরই উভয় পরিবার সামিয়াকে তার মৃত স্বামীর ছোটভাই সালমানের সাথে বিয়ে দিতে সম্মত হয়। এখন জানতে চাই, এমতাবস্থায় কি সামিয়ার উপর ইদ্দত পালন করা জরুরি? ইদ্দতের সময়ের ভেতরে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অনুমতি আছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় স্বামীর মৃত্যুর কারণে সামিয়ার উপর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা কালামে পাকে ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) আর তোমাদের মধ্যে যারা মারা যায় এবং স্ত্রীরদেরকে রেখে যায় এসব স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে।-সূরা বাকারা (২) : ২৩৪

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য বৈধ হবে না কারো মৃত্যুতে তিন দিনের বেশি শোক পালন করা। তবে যদি তার স্বামী মারা যায় তাহলে তার জন্য চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।-সহীহ বুখারী ১/১৭১; সহীহ মুসলিম ১/৪৮৭

অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিবাহ করল এবং তার সাথে সহবাস করার আগেই মারা গেল আর মহিলার মোহরও ধার্য করা হয়নি তাহলে মহিলা পূর্ণ মোহর পাবে এবং তার উপর ইদ্দত পালন করা আবশ্যক হবে। আর সে মীরাসও পাবে।-সুনানে আবি দাউদ, হাদীস : ২১১৪; জামে তিরমিযী ১/১৩৬

সুতরাং উক্ত মহিলার ইদ্দত চলা অবস্থায় স্বামীর ভাই অথবা অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয হবে না। যদি ইদ্দত অবস্থায় বিয়ে করে তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হবে না।

কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) আর যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইদ্দতের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ততক্ষণ পর্যন্ত বিবাহের আকদ পাকা করার ইচ্ছাও করো না।

-সূরা বাকারা (২) : ২৩৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৩/২৫১, ২/৪৫৯; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩০৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

পাঁচ বছর আগে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। তিনি ৩ ছেলে,...

প্রশ্ন

পাঁচ বছর আগে আমার পিতা ইন্তেকাল করেন। তিনি ৩ ছেলে, ৩ মেয়ে, মা, স্ত্রী ও ৫ ভাই রেখে যান। এ যাবত তার সম্পদ ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন হয়নি। এখন আমরা তা বণ্টন করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হল, তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ওয়ারিসদের মাঝে কীভাবে বণ্টন করতে হবে?

উত্তর

মৃতের রেখে যাওয়া সমুদয় সম্পত্তি থেকে প্রথমে তার কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতেহবে। এরপর তার শরীয়তসম্মত কোনো অসিয়ত থাকলে অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকেতা আদায় করতে হবে। অতপর তার অবশিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জীবিত ওয়ারিসদের মাঝেনিম্ন বর্ণিত হারে বণ্টন করতে হবে ।

১. মা : ১৬.৬৬%, ২. স্ত্রী : ১২.৫%, ৩. প্রত্যেক ছেলে : ১৫.৭৪০%, ৪. প্রত্যেক মেয়ে :৭.৮৭০%, ৫. ভাই : কোনো অংশ পাবে না।

এক্ষেত্রে মৃতের ছেলে থাকার কারণে মৃতের ভাই মীরাস পাবে না।

-আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৮১; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৫১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার পিতা বেঁচে আছেন...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তি মারা গেছেন। তার পিতা বেঁচে আছেন এবং তার একটি ছেলেও রয়েছে। পিতা আলেম, ছেলেটিও মাদরাসায় পড়ে। তার জানাযার নামায তার পিতা পড়িয়েছেন। কিন্তু জানাযার পর কিছু লোক বলাবলি করছিল যে, ছেলের নামায পড়ানো উচিত ছিল। কারণ সে তার পিতার জানাযা পড়ানোর বেশি হকদার। এখন জানতে চাচ্ছি যে, মৃত ব্যক্তির পিতা-পুত্রের মধ্যে তার জানাযার নামায পড়ানোর অধিক হকদার কে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতা যেহেতু আলেম তাই তার ইমামতি করা নিয়মানুযায়ী হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরপিতা ও ছেলে উভয়েই জানাযা পড়ানোর যোগ্য হলে পিতাই ইমামতির অধিক হকদার। তবে পিতাযদি মাসআলা-মাসায়েল সম্পর্কে অবগত না হন আর পুত্র আলেম হয় সেক্ষেত্রে সে-ই ইমামতিরজন্য অগ্রগণ্য হবে।

-কিতাবুল আছল ১/৪২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬১; রদ্দুল মুহতার ২/২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৫৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার দাদা অসিয়ত করেছেন যে, ‘আমার মৃত্যুর পর আমার নাতি...

প্রশ্ন

আমার দাদা অসিয়ত করেছেন যে, ‘আমার মৃত্যুর পর আমার নাতি আমার জানাযা পড়াবে।’ এখন তিনি শয্যাশায়ী। মৃত্যুর পর তার এই অসিয়ত পূর্ণ করা কি জরুরি? উল্লেখ্য, তার যোগ্য ছেলে আছে।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু মৃতের যোগ্য ছেলে আছে তাই আপনার দাদার ঐ অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি নয়। বরং শরীয়ত কর্তৃক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তার ছেলেই জানাযার ইমামতির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। হ্যাঁ, ইমামতির হকদার ব্যক্তি যদি নাতিকে ইমামতির অনুমতি দেয় তবে সে তা করতে পারবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; ফাতহুল কাদীর ২/৮৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার চাচা তার একটি দোতলা বাড়ি মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে...

প্রশ্ন

আমার চাচা তার একটি দোতলা বাড়ি মাদরাসার নামে ওয়াকফ করে দিয়েছেন। ওয়াকফ দলিলে লিখেছেন, বাড়িটি ভাড়া দিয়ে যে আয় হবে তা মাদরাসার কল্যাণে ব্যয় হবে। দলিলে এ শর্ত লিখেছেন যে, যত দিন জীবিত থাকবেন ততদিন তিনি দোতলার একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করবেন।

তার মৃত্যুর পর আত্মীয়দের কেউ তা ব্যবহার করতে পারবে না। তা মাদরাসার কল্যাণে ব্যয় হবে। আমার প্রশ্ন হল, চাচা একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করবেন এ শর্তে ওয়াকফ সহীহ হয়েছে কি? ওয়াকফ হয়ে থাকলে তিনি ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে পারবেন কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার চাচার ঐ দোতলা বাড়িটি মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করা সহীহ হয়েছে। আর এক্ষেত্রে চাচার জীবদ্দশায় বাড়িটির একটি ফ্ল্যাট নিজে ব্যবহার করার শর্ত করাও জায়েয হয়েছে।

সুতরাং তিনি যতদিন জীবিত থাকবেন ততদিন দোতলার একটি ফ্ল্যাট ব্যবহার করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর ঐ ফ্ল্যাটটিও পূর্ণরূপে মাদরাসার হয়ে যাবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/৩৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২২০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৯৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৩৮৪; ইলাউস সুনান ১৩/১৩৯, ১৪৪; ফাতহুল বারী ৫/৪৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একজন ব্যক্তি এক জায়গায় শিক্ষকতা করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি বাড়ি...

প্রশ্ন

একজন ব্যক্তি এক জায়গায় শিক্ষকতা করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি বাড়ি যাওয়ার পর তার অভিভাবকগণ আত্মীয় এক মেয়ের সাথে তাকে বিয়ে পড়িয়ে দেন। বিয়ের আকদের পরই তিনি আবার চাকরিস্থলে চলে আসেন। ঐ মেয়ের সাথে তার স্বামী-স্ত্রীসূলভ কোনো আচরণ, এমনকি নির্জনবাসও হয়নি। কিন্তু চাকরিস্থলে আসার পর তার হঠাৎ ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন জানার বিষয় হল, বিয়ের পর তাদের মাঝে তো নির্জনবাসও হয়নি। তাই এখন তার স্ত্রী কি মোহর পাবে? যদি পায় তাহলে পুরোটা পাবে, না আংশিক? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির স্ত্রী পূর্ণ মোহরই পাবে। কেননা বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর কেউ মারা গেলে যদিও তা নির্জনবাসের পূর্বে হয় স্ত্রী পুরো মোহরই পায়।

-আল আওসাত ৮/৩৬৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮৪; ফাতহুল কাদীর ৩/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ৩/১৪৩; রদ্দুল মুহতার ৩/১০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৯২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

বর্তমান সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়-স্বজনদের...

প্রশ্ন

বর্তমান সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতির জন্য মাইয়েতের গোসল, কাফন-দাফন, জানাযা ইত্যাদি বিলম্ব করা হয়।

জানার বিষয় হল, মাইয়েতের নিকটাত্মীয়ের জন্য কাফন-দাফন বিলম্ব করা যেতে পারে কি না এবং এভাবে প্রচলিত নিয়মে বিলম্ব করা বৈধ হবে কি না? উত্তর প্রদান করে উপকৃত করার আবেদন রইল।

উত্তর

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের কাজ যথাসম্ভব দ্রুত সম্পাদন করা উচিত। হাদীস শরীফে এ বিষয়ে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আর মৃতের নিকটাত্মীয়, বন্ধু-বান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীদেরকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া মুস্তাহাব। যাতে তারা জানাযায় শরিক হতে পারে। তবে কোনো আত্মীয়ের উপস্থিতি বা তাদের দেখানোর জন্য মৃতের দাফনে বিলম্ব করা অনুচিত। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে প্রচলিত প্রথা-আত্মীয় স্বজন যত দূরেই থাকুক, মৃতের মুখ দেখানোর অপেক্ষায় গোসল, কাফনদাফন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিনও বিলম্ব করা হয়-যা কোনো ক্রমেই শরীয়তসম্মত নয়।

-সহীহ বুখারী ১/১৭৫; ফাতহুল বারী ৩/২১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ও দুররে মানুুসুরে একটি হাদীস পেয়েছি। তা...

প্রশ্ন

তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ও দুররে মানুুসুরে একটি হাদীস পেয়েছি। তা হল, ‘যে ব্যক্তি ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে সে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ উভয় কিতাবে বলা হয়েছে যে, ইমাম নাসায়ী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। কিন্তু আমি নাসায়ী শরীফে হাদীসটি খুঁজে পাইনি। মেহেরবানী করে জানাবেন যে, হাদীসটি নাসায়ী শরীফের কোথায় আছে। আর যদি নাসায়ী শরীফে না থাকে তাহলে হাদীসের কোন কিতাবে আছে আর হাদীসটির হুকুম কী?

উত্তর

উক্ত হাদীসটি ইমাম নাসায়ী রাহ. তাঁর ‘সুনানে কুবরা’ তে ‘আমালুল ইয়াউমি ওয়াললাইলা’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। হাদীস নং ৯৯২৮। আর দরসে নেযামীতে পঠিত নাসায়ী শরীফ নামে যে প্রসিদ্ধ কিতাব রয়েছে তা সুনানে কুবরা থেকে বাছাইকৃত সংকলন। এর নাম ‘আলমুজতাবা’। এই কিতাবে ওই হাদীসটি নেই। হাদীসটির একাধিক সনদসহ আলমুজামুল কাবীর, তবারানী (হাদীস : ৭৫৩২) ও আলমুজামুল আওসাত, তবারানী (হাদীস : ৮০৬৪) উল্লেখ আছে।

ইমাম মুনযিরী রাহ. হাদীসটির হুকুম সম্পর্কে বলেন, ‘ইমাম নাসায়ী রাহ. এবং তবারানী রাহ. একাধিক সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তন্মধ্যে একটি সনদ সহীহ। (আততারগীব ওয়াততারহীব হাদীস : ২৩৭৬)

মাজমাউয যাওয়াইদে একটি সনদকে ‘জাইয়েদ’ বলা হয়েছে। (মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১২৮)

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার পিতাকে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধু কিছু জমি হেবা (দান)...

প্রশ্ন

আমার পিতাকে তার এক ঘনিষ্ট বন্ধু কিছু জমি হেবা (দান) করেছিল। রেজিস্ট্রিও সম্পন্ন হয়েছে এবং জমির দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন পর ঐ লোক (হেবাকারী) মারা যাওয়ার পর তার ওয়ারিসরা ঐ জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছে। জানতে চাই, তাদের এ দাবি শরীয়তসম্মত কি না? আমাদের জন্য কি তা ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু জমিটির হেবা সম্পন্ন হয়েছে এবং দাতা জমিটি আপনার পিতাকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সুতরাং দাতার ওয়ারিসদের জন্য এখন তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করা বৈধ নয় এবং তাদের দাবি অনুযায়ী তা ফিরিয়ে দেওয়া আপনাদের উপর জরুরি নয়। কেননা, যেসব ক্ষেত্রে হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর তা ফিরিয়ে নেওযা যায় না। তন্মধ্যে একটি হল, হেবা সম্পন্ন হওয়ার পর হেবাকারী বা হেবাগ্রহীতার ইন্তেকাল হওয়া।

খলিফাতুল মুসলিমীন উমর রা. বলেন, মাহরাম আত্মীয় ছাড়া অন্য কাউকে হেবা করলে সে হেবা ফিরিয়ে নেওয়া যায় যদি হেবার বিনিময় গ্রহণ না করে থাকে কিংবা দু’জনের কারো ইন্তেকাল না হয়ে থাকে।

-শরহু মাআনিল আছার ২/২২৩; ইলাউস সুনান ১৬/১২২; রদ্দুল মুহতার ৫/৭০১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার পিতা তার এক দরিদ্র বন্ধুর জন্য কিছু সম্পদের অসিয়ত...

প্রশ্ন

আমার পিতা তার এক দরিদ্র বন্ধুর জন্য কিছু সম্পদের অসিয়ত করেছিলেন। ঘটনাক্রমে ঐ বন্ধু পিতার পূর্বেই মারা যান। কিছুদিন পর পিতাও মারা যান। এখন ঐ বন্ধুর ওয়ারিসগণ অসিয়তের সম্পত্তি দাবি করছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের দাবি কি সহীহ ?

উত্তর

অসিয়ত কার্যকর হওয়ার জন্য অসিয়তকারীর ইন্তেকালের সময় যার জন্য অসিয়ত করা হয়েছে সে জীবিত থাকা শর্ত। যদি অসিয়তকারীর আগে তার ইন্তেকাল হয়ে যায় তাহলে কৃত অসিয়ত বাতিল হয়ে যায়।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার পিতার (অসিয়তকারীর) পূর্বেই যেহেতু ঐ বন্ধু (যার জন্য অসিয়ত করা হয়েছিল)

ইন্তেকাল করেছে তাই অসিয়তটি বাতিল হয়ে গেছে। সুতরাং তার ওয়ারিসদের জন্য অসিয়তের সম্পত্তি দাবি করা বৈধ নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৫; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৫৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর চার কোণে চার জন খেজুর...

প্রশ্ন

মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর চার কোণে চার জন খেজুর গাছের ডাল বা অন্য গাছের ডাল গেড়ে দেওয়া শরীয়তসম্মত কি না?

উত্তর

কবরে খেজুর গাছের ডাল পুঁতে দেওয়া রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল দ্বারা প্রমাণিত। বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি কবরে আযাব হচ্ছে জানতে পেরে একটি খেজুর গাছের ডালকে দুই টুকরা করে কবর দুটিতে গেড়ে দেন। (সহীহ বুখারী ১/১৮২)

অন্য বর্ণনায় আছে, সাহাবী বুরাইদা আসলামী রা. মৃত্যুর পূর্বে অসিয়ত করে যান, যেন তার কবরে খেজুর গাছের দুটি ডাল গেড়ে দেওয়া হয়। (সহীহ বুখারী ১/১৮১)

এসব বর্ণনা দ্বারা কবরে খেজুর বা অন্য কোনো গাছের ডাল গেড়ে দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তাই কেউ চাইলে মৃত ব্যক্তিকে মাটি দেওয়ার পর কবরের উপর এক দুটি ডাল গেড়ে দিতে পারে। কিন্তু কবরের চার কোণায় ডাল দেওয়া আবার চারজন ব্যক্তি দ্বারা একাজ করানো দলীলবিহীন অতিরঞ্জিত কাজ। সুতরাং এ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রকাশ থাকে যে, হাদীস ও আছারে কবরে যা কিছু করার কথা বলা হয়েছে তাই করা যাবে। নিজ থেকে এর অতিরঞ্জণ কোনো কিছু করাই বিদআতের শামিল।

-সহীহ বুখারী ১/১৮১; ইলাউস সুনান ৮/৩৪৪; তুহফাতুল মুহতাজ ৪/১৯০; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; উমদাতুল কারী ৩/১২১; হাশিয়াতুস সারী ১/৩১১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; রদ্দুল মুহতার ২/২৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার চাচা ঢাকায় চাকরি করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল...

প্রশ্ন

আমার চাচা ঢাকায় চাকরি করতেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। ফলে সেখানে একবার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নামাযে চাচার ছেলেরা উপস্থিত ছিল। গ্রামের বাড়িতে লাশ আনার পর তার অন্যান্য আত্মীয়রা দ্বিতীয়বার জানাযার নামায আদায় করে। জানার বিষয় হল, তাদের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা আদায় করা জায়েয হয়েছে কি?

উত্তর

যে কোনো মাইয়েতের জন্য একবার জানাযা পড়াই শরীয়তের হুকুম। একাধিকবার জানাযা আদায় করা শরীয়তসম্মত নয়। অবশ্য কখনো যদি মৃতের অভিভাবকদের অনুপস্থিতিতে তাদের অনুমতি ছাড়া জানাযা হয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অনুমতি আছে।

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও প্রথম জামাতে যেহেতু মৃতের ছেলেরা শরিক ছিল তাই আত্মীয়দের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযার নামায পড়া ঠিক হয়নি। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের বক্তব্য ও আমল দ্বারা বিষয়টি প্রমানিত। নাফে রা. থেকে বর্ণিত, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যদি জানাযার নামায হয়ে যাওয়ার পর উপস্থিত হতেন তাহলে (মৃতের জন্য) দুআ করেই চলে আসতেন। দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তেন না। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৫১৯)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, প্রসিদ্ধ তাবেয়ী ইবরাহীম রাহ. বলেন, এক মৃত ব্যক্তির দুবার জানাযা পড়া যায় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/৪২০)

অপর বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. যদি কখনো জানাযার নামায না পেতেন তাহলে মৃতের জন্য কেবল ইস্তিগফার করতেন। (প্রাগুক্ত)

সুতরাং যে কোনো মাইয়্যেতের জানাযা কেবল একবারই পড়া যাবে। আর যারা জানাযা পায়নি তারা সাহাবায়ে কেরামের নিয়ম অনুযায়ী মৃতের জন্য দুআ ও ইস্তিগফার করবে। এটিই শরীয়তের শিক্ষা।

-ইলাউস সুনান ৮/২৮৮; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/২১৮; আযযখীরা ২/৪৭২; কিতাবুল উম্ম ১/৩১৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/২২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় কবরে লাশ রেখে প্রায় ২ হাত উঁচুতে বাঁশ...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কবরে লাশ রেখে প্রায় ২ হাত উঁচুতে বাঁশ দেওয়া হয়। লোকদের ধারণা, সওয়াল-জওয়াবের জন্য মুর্দাকে যখন বসানো হবে তখন বসতে গিয়ে যেন মাথা বাঁশে না লাগে। ভালোভাবে যেন বসতে পারে। আর গভীরতার ক্ষেত্রে কেউ বেশি গভীর করে কেউ কম। তাই জানতে চাই, ক) কবরের গভীরতার পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত? খ) মুর্দা বসতে পারে এ পরিমাণ কবরে ফাঁকা রাখা ঠিক কি না?

উত্তর

ক) কবরের গভীরতা এ পরিমাণ হওয়া উচিত যেন লাশের দুর্গন্ধ না ছড়াং এবং হিংস্র পশুর আক্রমণ থেকেও লাশ হেফাযত থাকে। তাই অন্তত কোমর পরিমাণ গভীর করা উচিত। সম্ভব হলে পূর্ণ দেহ পরিমাণ গভীর করা উত্তম। খলীফাতুল মুসলিমীন উমর রা. ইন্তেকালের আগে তাঁর কবর একজন মানুষের দেহের দৈর্ঘ্য পরিমাণ গভীর করার অসিয়ত করেছিলেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/৩২৪)

খ) কবরে শায়িত ব্যক্তিকে বসানো, সওয়াল-জওয়াব করা এসব বরযখ নামক এক অদৃশ্য জগতে হবে। কাফন-দাফনের বিধানাবলির সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই বরযখে মাইয়্যিত কিভাবে বসবে, ফেরেশতারা কোথায় থাকবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমাদের ভাবার প্রয়োজন নেই। আল্লাহর হুকুম ও কুদরতেই এসব কিছু হবে। সুতরাং কবরে বেশি ফাঁকা না রেখে বাঁশগুলো লাশের কাছাকাছি রাখা নিয়ম।

-শরহুল মুহাযযাব ৫/২৫১; আলমুগনী ৩/৪২৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯০; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩৩; ইমদাদুল আহকাম ১/৮৩৯; খায়রুল ফাতাওয়া ৩/১৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় মৃতকে কবরে চিৎ করে শোয়ানো হয় এবং শুধু...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় মৃতকে কবরে চিৎ করে শোয়ানো হয় এবং শুধু মুখ কেবলার দিকে করে দেওয়া হয়। এ পদ্ধতিটি কি ঠিক? নাকি ডান দিকে কাত করে শোয়াতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মৃতকে চিৎ করে কবরে রাখা সুন্নত নিয়ম নয়। বরং ডান কাত করে সীনা কেবলামুখী করে শোয়ানোই সুন্নত। আর এভাবে শোয়ানোর জন্য এমনভাবে কবর বানানো উচিত, যেন লাশ রাখার পর তা সহজেই কেবলার দিকে কাত হয়ে যায়।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯৩; আলইখতিয়ার ১/৩১৯; ফাতহুল কাদীর ২/৬৭; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৩; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৫; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/৪২৮; আহকামে মাইয়্যেত ২৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

সাত বছর বয়সের একটি মেয়েকে তার খালাত ভাইয়ের সাথে বিয়ে...

প্রশ্ন

সাত বছর বয়সের একটি মেয়েকে তার খালাত ভাইয়ের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে দাম্পত্যসুলভ কোনো আচরণ তাদের মাঝে হয়নি। মেয়েটির বয়স এখন আট বছর। এক সপ্তাহ পূর্বে সড়ক দুর্ঘটনায় তার স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এখন কি তাকে ইদ্দত পালন করতে হবে?

উত্তর

হ্যাঁ, তাকে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে। স্বামীর মৃত্যুতে স্ত্রীর জন্য ইদ্দত পালন করা ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেন-(তরজমা) আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রী রেখে যায় তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। (সূরা বাকারা (২) : ২৩৪)

এই হুকুম প্রাপ্তবয়স্কা ও অপ্রাপ্তবয়স্কা সব ধরনের স্ত্রীর জন্য প্রযোজ্য, তাদের মাঝে দাম্পত্যসুলভ আচরণ হোক বা না হোক। হযরত আতা রাহ. বলেন, ‘যে নারীর স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে সে চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করবে। যদিও স্বামীর সাথে তার সহবাস না হয় এবং সে দুগ্ধপোষ্য বা সদ্য দুগ্ধছাড়ানো শিশুও হয়।’

হযরত মামার বলেন, আমাকে এক লোক সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি হযরত হাসান বসরী রাহ.কেও অনুরূপ বলতে শুনেছেন।

মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১২০৪৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার এক পরিচিতজনের দাদার সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। তার পিতা...

প্রশ্ন

আমার এক পরিচিতজনের দাদার সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। তার পিতা তার দাদার আগেই মারা গেছেন। প্রশ্ন হল, চাচাদের সাথে সেও তার দাদার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ পাবে কি না? জনৈক এডভোকেট বলেছেন, অংশীদার হবে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা কী?

উত্তর

শরীয়তের স্বতঃসিদ্ধ বিধান হল, মৃত্যুর সময় কোনো ছেলে বেঁচে থাকলে নাতী-নাতনী দাদার মীরাছ পায় না। এক্ষেত্রে মৃতের অধিক নিকটবর্তী হওয়ায় পুত্র মীরাছের হকদার হয়। শরীয়তে মীরাছ বণ্টনের মৌলনীতি হল, মৃতের কাছের আত্মীয় থাকাবস্থায় দূরের আত্মীয় মীরাছ পায় না। কুরআন মজীদে আছে-পুরুষের জন্যও সেই সম্পদে অংশ রয়েছে, যা পিতামাতা ও নিকটতম আত্মীয়রা রেখে যায় আর নারীদের জন্যও সেই সম্পদে অংশ রয়েছে, যা পিতামাতা ও নিকটতম আত্মীয়রা রেখে যায়। সে (পরিত্যক্ত) সম্পদ কম হোক বা বেশি। এ অংশ (আল্লাহর তরফ থেকে) নির্ধারিত। (সূরা নিসা : ৭)

আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা.-থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মীরাছ বণ্টনের ক্ষেত্রে) তোমরা প্রথমে যাদের অংশ সুনির্ধারিত তাদের অংশ দিয়ে দাও। এরপর অবশিষ্ট সম্পদ মৃতের নিকটতর পুরুষকে দাও। (সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৭৩৫)

উপরোক্ত আয়াত ও হাদীসের স্পষ্ট নির্দেশনা হল, মীরাছ বণ্টন হবে নিকটতর আত্মীয়দের মাঝেই। নিকট আত্মীয় থাকাবস্থায় দূরের আত্মীয় মৃতের সম্পদ পাবে না। এছাড়া বিশিষ্ট সাহাবী হযরত যায়েদ ইবনে ছাবিত রা. যার সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যায়েদ হল মীরাছের বিষয়ে উম্মতের মাঝে সবচেয়ে অধিক জ্ঞানী। (মুসনাদে আহমদ ৩/১৮৪) তিনি বলেন, দাদার সন্তানরা থাকতে নাতী দাদার মীরাছ পাবে না। (সহীহ বুখারী ২/৯৯৭)

অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও নাতী দাদার মীরাছ পাবে না। (শরহু মুখতাসারিত ত হাবী ৪/৯২; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৩০৭)

প্রকাশ থাকে যে, যদি কোনো ব্যক্তির জীবদ্দশায় তার কোনো ছেলে সন্তানাদি রেখে মারা যায় এবং তারা অসচ্ছল থাকে তাহলে এক্ষেত্রে দাদার উচিত তাদের জন্য সম্পদের কিছু অংশের ওসীয়ত করে যাওয়া। অবশ্য কেউ যদি নিজ কর্তব্যে অবহেলা করে ওসীয়ত না করে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তারা সম্পদের হকদার হবে না।

-তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ৬/১৪; হামারে আয়েলী মাসাইল পৃ. ২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈকা মহিলার স্বামী সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করত। গত বছর...

প্রশ্ন

জনৈকা মহিলার স্বামী সৌদি আরবে শ্রমিকের কাজ করত। গত বছর ডিসেম্বরের ৫ তারিখে ঐ দেশে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পায়নি। তাই ইদ্দতের সময় যা কিছু করতে হয় তা না করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছে। এ বছর অর্থাৎ ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের ২০ তারিখ সে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ পেয়েছে। সে কি মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পর ইদ্দত পালন করবে? উল্লেখ্য, উক্ত মহিলা অন্তঃসত্ত্বা নয়।

উত্তর

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই স্ত্রীর ইদ্দত শুরু হয়ে যায় চাই স্ত্রী স্বামীর মৃত্যু সম্পর্কে অবগত থাকুক বা না থাকুক। তাই প্রশ্নোক্ত মহিলা স্বামীর মৃত্যুসংবাদ না পেলেও এবং ইদ্দতকালীন নিয়মকানুন পালন না করলেও মৃত্যুর পর থেকেই তার ইদ্দতের হিসাব হবে। বিখ্যাত তাবেয়ী মাসরূক রাহ. বলেছেন, ‘‘স্ত্রীর অজান্তে স্বামী মৃত্যুবরণ করলে কিংবা স্ত্রীকে তালাক দিলে মৃত্যু ও তালাকের দিন থেকে ইদ্দত গণনা শুরু হবে।’’ তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার ইদ্দত পূর্ণ হয়ে গেছে। মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর নতুন করে ইদ্দত পালন করতে হবে না।

-সূরা বাকারা : ২৩৪; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১০/১৩১; শরহু মুখতাসিরুত তাহাবী ৫/২৪৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; রদ্দুল মুহতার ৩/৫২০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩০১; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ইজতেমার ময়দানে দেখা যায়, একই সাথে একাধিক মাইয়্যেতের জানাযার নামায...

প্রশ্ন

ইজতেমার ময়দানে দেখা যায়, একই সাথে একাধিক মাইয়্যেতের জানাযার নামায পড়া হয়। এভাবে কি একাধিক ব্যক্তির জানাযা এক সাথে পড়া যায়? যদি পড়া যায় তাহলে বালেগ পুরুষ/মহিলা ও নাবালেগ ছেলে/মেয়ের জানাযা একসাথে পড়লে কোন দুআটি পড়তে হবে?

উত্তর

সম্ভব হলে প্রত্যেক মাইয়্যেতের জন্য পৃথক পৃথক জানাযা পড়া ভালো। তবে একসাথে একাধিক মাইয়্যেতের জানাযার নামায পড়াও জায়েয আছে। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী নাফে’ রাহ. বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. একসাথে নয়জনের জানাযার নামায পড়েছেন। সেদিন জামাতের ইমাম ছিলেন হযরত সাঈদ ইবনুল আস রা. এবং মুসল্লীদের মাঝে ইবনে ওমর রা. ও আবু হুরায়রা রা., আবু সাঈদ রা. ও আবু কাতাদা রা. (প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীগণ) উপস্থিত ছিলেন।

একাধিক মাইয়্যেতের জানাযা একসাথে আদায় করলে এবং বালেগ-নাবালেগ উভয় ধরনের মাইয়্যেত থাকলে বালেগের নির্দিষ্ট দুআ এবং নাবালেগের নির্দিষ্ট দুআ পড়তে হবে।

-সুনানে নাসায়ী ১/২১৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/২৯৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী ৩২৫; সুনানে বায়হাকী ৪/১৯৪; আলইসতিযকার ২/৫৬৩; ইলাউস সুনান ৮/২৮০, ৩৬৩; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫৭; মাবসূত, সারাখসী ২/৬৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার আত্মীয় বললেন,...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার আত্মীয় বললেন, মরহুমের নখগুলো বড় হয়ে গেছে। তা কেটে দিন। জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ কাজটি কি ঠিক?

উত্তর

মৃত ব্যক্তির চুল, নখ বড় থাকলেও তা কাটা মাকরূহ। এক্ষেত্রে মৃতের পরিবারবর্গের উচিত, মৃত্যুর পূর্বেই ঐসব পরিষ্কার করে দেওয়া।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/১৩৯; কিতাবুল আছার ৬৮; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৭/১৩৯; আলমুজামুল কাবীর, আওসাত ৫/৩৪৬; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৭৯; ফাতহুল কাদীর ২/৭৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬১৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে...

প্রশ্ন

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে লোকজন তাকে দেখতে দেয়নি এবং তারা বলে, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। জানতে চাই, স্ত্রীর ইন্তেকালের পর স্বামী স্ত্রীর চেহারা দেখতে পারে কি না? তেমনিভাবে স্বামীর ইন্তেকালের পর স্ত্রী তার চেহারা দেখতে পারবে কি?

উত্তর

মৃত স্ত্রীর চেহারা স্বামী দেখতে পারবে। তদ্রূপ মৃত স্বামীর চেহারাও স্ত্রী দেখতে পারবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটিকে তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখতে না দেওয়া অন্যায় হয়েছে।

-মুয়াত্তা ইমাম মালেক ৭৭; ইলাউস সুনান ৫/২২৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৩৭; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের গ্রামে কোনো মানুষ মারা গেলে পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে ঘুরে ঘুরে...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে কোনো মানুষ মারা গেলে পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে ঘুরে ঘুরে মাইকে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনানো হয়। এবং তার জানাযা নামাযে শরিক হওয়ার জন্য আহবান করা হয়। জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে এ কাজটি কি বৈধ?

উত্তর

কেউ মারা গেলে তার মৃত্যু সংবাদ প্রচার করা এবং জানাযার এলান করা জায়েয আছে। প্রয়োজনে মাইক দিয়েও প্রচার করা যাবে। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য থাকবে জানাযায় শরিক হওয়ার জন্য মানুষকে আহবান করা। তবে এতে মৃতের গুণগান প্রচার করা যাবে না। কেননা, হাদীসে মৃতের গুণগাণ ও বড়ত্ব বর্ণনা করে এলান করতে নিষেধ করা হয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/১৬৭; ফাতহুল বারী ৩/১৪০; উমদাতুল কারী ৭/২০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

এক ব্যক্তি মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। যার কারণে তিনি শুয়ে মাথার ইশারায় নামায আদায় করেন। এভাবে তিনদিন নামায আদায় করার পর বাকি দুদিন মাথার ইশারা করেও নামায পড়তে পারেননি। কারণ এ দুদিন তার অবস্থা এমন হয়েছিল যে, তিনি মাথাসহ শরীরের কোনো অঙ্গ নড়াচড়া করতে পারেননি। তবে তার হুঁশ ছিল। পঞ্চমদিন মৃত্যুবরণ করেন। প্রশ্ন হল, যে দুদিন নামায পড়তে পারেননি সে দুদিনের নামাযের ফিদয়া দিতে হবে কি না?

উত্তর

শুয়ে মাথা দ্বারা ইশারা করাও যদি সম্ভব না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে নামায আদায় করা ফরয থাকে না। তাই লোকটির ঐ দুদিনের নামায কাযা পড়তে না পারার কারণে ফিদয়া দেওয়া লাগবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২৮; বাদায়েউস সানায়ে ১/২৮৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৭২; ফাতহুল কাদীর ১/৪৫৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৭; মারাকিল ফালাহ ২৩৬; রদ্দুল মুহতার ২/৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একাধিক জানাযা একত্রিত হলে নামায পড়ার পদ্ধতি কী হবে? প্রত্যেকটির...

প্রশ্ন

একাধিক জানাযা একত্রিত হলে নামায পড়ার পদ্ধতি কী হবে? প্রত্যেকটির জন্য পৃথকভাবে নামায পড়া আবশ্যক? না একসাথে পড়ারও সুযোগ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

একাধিক জানাযা একত্র হলে প্রত্যেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন নামায পড়া উত্তম। তবে সবগুলো একত্র করে একসাথে নামায পড়ে নেওয়ারও অবকাশ আছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহুদ প্রান্তরে একত্রে দশ-দশজন শহীদের জানাযা নামায পড়িয়েছেন। হযরত ওসমান বিন আফফান রা., আবদুল্লাহ বিন ওমর রা ও হযরত আবু হুরায়রা রা. প্রমুখ বিশিষ্ট সাহাবীদের থেকেও একাধিক মাইয়্যেতের একত্রে জানাযা পড়ানো প্রমাণিত আছে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ১০৯; মারাসীলে আবু দাউদ ৪২৭-৪৩৫; শরহু মাআনিল আছার ৩২২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৪৪৮, হাদীস : ৩২৮২২; মুয়াত্তা মালেক ১/২৩০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪৬৫; সুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৪/৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর একান্তে সাক্ষাতের পূর্বেই যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে...

প্রশ্ন

বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর একান্তে সাক্ষাতের পূর্বেই যদি স্বামী মৃত্যুবরণ করে এবং মহরও নির্ধারিত থাকে তাহলে কি স্ত্রী পূর্ণ মহর পাবে, না নির্ধারিত মহরের অর্ধেক পাবে?

উত্তর

নির্জনবাসের আগেও স্বামী-স্ত্রীর কোনো একজন মৃত্যু বরণ করলে স্ত্রী নির্ধারিত মহরের পুরোটাই পাবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৮৪, ৫৮৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩০৩; রদ্দুল মুহতার ৩/১০২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.09 render + 0.01 s transfer.