Login | Register

ফতোয়া: মৃত্যু-জানাজা

ফতোয়া নং: ৬৮৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি...

প্রশ্ন

বাবার মৃত্যুর পর আমার মা ইদ্দত পালন করছেন না। তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে বাসার বাইরে চলে যান। তাকে বললে তিনি শোনেন না। তাই ইদ্দত পালন না করলে কী আযাব এবং জাহান্নামের ভয়াবহতা রয়েছে তা জানতে চাই। যাতে করে আমার মাকে জানালে তিনি সঠিকভাবে ইদ্দত পালন করতে পারেন।

উত্তর

স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে চার মাস দশ দিন স্ত্রীর জন্য নিজ গৃহে ইদ্দত পালন করা শরীয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিধান। কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যায়, উক্ত স্ত্রীগণ নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় রাখবে (ইদ্দত পালন করবে)। -সূরা বাকারা (২) : ২৩৪

খুসাইফ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সায়ীদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম,যে মহিলার স্বামী মারা গেছে সে (ইদ্দত অবস্থায়) কি ঘর থেকে বের হতে পারবে? তিনি বললেন,না। -মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৯১৯৮

সুতরাং বিনা ওজরে ঘর থেকে বাইরে যাওয়া জায়েয হবে না। আর শরীয়তের হুকুমের লঙ্ঘন করাই পাপ। আর পাপ বলতেই ঈমানের উন্নতির পথে বাধা এবং আখেরাত ও কবরের যিন্দেগী সুখময় হতে বাধা। মুমিনের জন্য শুধু এতটুকু কথাই কোনো ফরয-ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য যথেষ্ট।

অবশ্য জীবিকা কিংবা অন্য কোনো মানবিক প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে যাওয়ার অবকাশ আছে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পর আবার বাড়িতে ফিরে আসা জরুরি। আর দিনে কোনো বিশেষ ওজরে বের হলেও রাতে অবশ্যই নিজ গৃহেই অবস্থান করতে হবে।

-ফাতহুল কাদীর ৪/১৬৬-১৬৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে তিন কাতার করার হুকুম কী? এটা কি সুন্নত-মুস্তাহাব...

প্রশ্ন

জানাযার নামাযে তিন কাতার করার হুকুম কী? এটা কি সুন্নত-মুস্তাহাব কিছু বা এতে কি বিশেষ কোনো ফযীলত আছে?

উত্তর

হাদীস শরীফে এসেছে, মালেক ইবনে হুবায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলমান মারা যাওয়ার পর তার জানাযায় যদি তিন কাতার মুসলমান শরিক হয় তাহলে তার জন্য (জান্নাত) অবধারিত। সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদসহ বহু হাদীস গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

রেওয়াতে এটাও আছে যে, বর্ণনাকারী মালেক ইবনে হুবায়রা রা. যখন দেখতেন লোক সংখ্যা অল্প তখন তাদেরকে (উপস্থিত লোকদেরকে) তিন কাতার করে দিতেন।

ফকীহগণ এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে জানাযার নামাযে মুসল্লি সংখ্যা কম হলেও যথাসম্ভব তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে দাঁড় করানো উত্তম বলেছেন। তবে মুসল্লি সংখ্যা অধিক হলে তিনের অধিক কাতারও করা যাবে। এবং এতে সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে।

-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৫৮; জামে তিরমিযী, হাদীস ১০২৮; শরহুল মুসলিম নববী ৭/১৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬১৩; আলহাদিয়্যাতুল আলাইয়্যাহ ১২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের বাড়ির পাশে ১৯৬৮ সালে আমার দাদিকে কবর দেওয়া হয়।...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশে ১৯৬৮ সালে আমার দাদিকে কবর দেওয়া হয়। বর্তমানে যথাযথভাবে সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে না। এখন কবরটিকে ভেঙে তার উপর বসবাসের উদ্দেশ্যে কোনো ঘর নির্মাণ করা বৈধ হবে কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবরটি অনেক পুরনো হয়ে যাওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই যেহেতু প্রবল এবং প্রশ্নের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, কবরটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত তাই কবরটিকে সমান করে দিয়ে তার উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা এবং সেখানে বসবাস করা জায়েয হবে।

তবে কবরটি যদি ওয়াকফিয়া জায়গায় হত তাহলে পুরাতন হলেও তাতে অন্য কিছু করা জায়েয হত না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; খানিয়া ৩/৩১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭০-৪৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নিম্মলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন :১. মুহাম্মাদ জামিল...

প্রশ্ন

নিম্মলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন :

১. মুহাম্মাদ জামিল তার শ্যালক থেকে উপহার হিসেবে ছয়টি এয়ার টিকেট গ্রহণ বকরেছেন, যার আর্থিক মূল্য পাঁচ লক্ষ টাকা। শ্যালক যদিও মুখে উপহার কথাটি উল্লেখ করেছেন; তবে মুহাম্মাদ জামিল সাহেব গ্রহনের সময় মনে করেছিলেন এটা একটা লোন অথবা করজে হাসানা। জামিল সাহেব সেই লোনটি যেভাবেই হোক এখন পরিশোধ করতে চান। এক্ষেত্রে ইসলামের নিয়মটা কি?

২. জামিল সাহেবের স্ত্রীর রোগের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার থাকা খাওয়াসহ চিকিৎসা বাবদ আনুমানিক আট থেকে দশ লক্ষ টাকা খরচ হয়। সেই টাকাটাও জামিল সাহেবের শ্যালক দিয়ে দিয়েছেন। তবে ধারণা যে, সেটাও তিনি উপহার হিসেবে দিয়েছেন। তবে শ্যালক মুখে সেটা উল্লেখ করেননি। এখন জামিল সাহেব সেই টাকাটাও পুনরায় দিতে চান। এক্ষেত্রে ইসলামের নিয়ম কী।

৩. জামিল সাহেবের ছেলেমেয়েদের খরচ বাবদ প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা তার শ্যালক জামিল সাহেবের স্ত্রীর হাতে প্রদান করতেন। তবে শ্যালক কখনো জামিল সাহেবের হাতে সেই টাকা প্রদান করেননি এবং সেই টাকাও মনে হয় তিনি উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন। তবে প্রদানের সময় তিনি কোন কথা উল্লেখ করেননি। উল্লেখ্য যে, শ্যালক জামিল সাহেবের শশুড়ের বাড়ীকে ইন্ডাস্ট্রি করেছিল যার মালিক ছিলেন সকল ভাইবোন। মনে হয় সেই বাড়ীর ভাড়া থেকেই শ্যালক জামিল সাহেবের স্ত্রীকে ৫০০০ টাকা প্রদান করতেন। তবে শ্যালক এই বোনকে দিতেন ৫০০০ টাকা ও অন্যান্য বোনদের দিতেন ৫০০ টাকা (অন্যান্য বোনদের আর্থিক সচ্ছলতা তার চেয়ে ভাল ছিল) এখন বর্তমানে জামিল সাহেব সে টাকাটা পুনরায় ফিরিয়ে দিতে চান। এখন প্রশ্ন হল, এ টাকাটা তিনি কি তার শ্যালককে প্রদান করবেন নাকি স্ত্রীকে? এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

৪. জামিল সাহেবের ছেলের বিদেশে উচ্চতর পড়াশুনা বাবদ জামিল সাহেবের ভায়রা তার হাতে পাঁচ লক্ষ টাকার একটি চেক উপহার বাবদ প্রদান করেন। কিন্তু জামিল সাহেব টাকাটা গ্রহণের সময় বলে নেন যে, এটা লোন। এখন জামিল সাহেব সেই লোনটি পরিশোধ করতে চান। এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

৫. জামিল সাহেবের বিয়ের ধার্যকৃত মোহর ছিল ১৫,০০০০ টাকা। তিনি আনুমানিক ৬০% প্রদান করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ধার্যকৃত পুরো টাকাটা প্রদান করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী?

৬. জামিল সাহেবের বড় ভাই নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি পাঁচটি ফ্ল্যাট রেখে গেছেন। মৃত্যুর সময় তিনি স্ত্রী, সহোদর দুই ভাই ও বিমাতা এক ভাই রেখে মারা গেছেন। দুই বোন ছিল, তারা তার মৃত্যুর পূর্বে মারা গিয়েছেন। এখন তার সম্পত্তির সঠিক বণ্টন কীভাবে হবে। ইসলামের দৃষ্টিতে জানতে চাই।

উত্তর

(১, ২, ৩) প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম ঘটনায় জামিল সাহেবের শ্যালক যেহেতু উক্ত ছয়টি এয়ার টিকেট জামিল সাহেবকে সুস্পষ্টভাবে উপহার বলে প্রদান করেছেন এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান না করে গ্রহণ করে নিয়েছেন তাই এর দ্বারা ঐ এয়ার টিকেটগুলো তার ও তার পরিবারের জন্য হাদিয়া হিসাবে গণ্য হয়েছে এবং তারা এগুলোর মালিক হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে টিকেটগুলো গ্রহণের সময় জামিল সাহেবের মনে মনে ঋণ হিসাবে গ্রহণের নিয়ত থাকলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

অনুরূপ ২নং ঘটনাতে জামিল সাহেবের শ্যালক বোনের চিকিৎসা খরচ বাবদ যে টাকাটা প্রদান করেছেন প্রশ্নের ভাষ্যমতে তিনি তা সেচ্ছায় নিজ থেকেই বোনের চিকিৎসার জন্য খরচ করেছেন তাই এ টাকাও তার পক্ষ থেকে উপহার হিসাবে গণ্য হবে, ঋণ গণ্য হবে না।

আর তৃতীয় ঘটনায় জামিল সাহেবের শ্যালক যে প্রতি মাসে নিজ বোনের হাতে পাঁচ হাজার করে টাকা প্রদান করত তা যদি বাবার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি থেকে বোনের প্রাপ্য অংশের ভাড়া হয়ে থাকে তবে তো সে প্রতি মাসে বোনের পাওনা ভাড়া পরিশোধ করেছে।

কিন্তু ঐ টাকা যদি ভাড়ার অংশের না হয়ে থাকে অথবা ভাড়ার টাকার সাথে নিজ থেকে অতিরিক্ত যোগ করে দেয়া হয়ে থাকে তবে ভাড়ার অতিরিক্ত অংশটা হাদিয়া বা উপহার হিসাবে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রেও এ টাকা ফেরৎযোগ্য নয়।

সুতরাং উপরোক্ত তিন ঘটনাতেই শ্যালক থেকে প্রাপ্ত হাদিয়াকে ঋণ গণ্য করার সুযোগ নেই। অতএব তা পরিশোধ করা লাগবে না। জামিল সাহেব যদি শ্যালককে এখন নিজ থেকে কিছু দিতে চান তবে তা স্বতন্ত্র হাদিয়া হিসাবে ধর্তব্য হবে।

(৪) জামিল সাহেবের ভায়রা পাঁচ লক্ষ টাকার চেকটি তাকে উপহার বলে দিলেও জামিল সাহেব যেহেতু তা উপহার হিসাবে গ্রহণ করেননি; বরং তিনি তা সুস্পষ্ট লোন বলে গ্রহণ করেছেন, তাই ঐ টাকা উপহার হিসাবে গণ্য হবে না। বরং ঐ পাঁচ লক্ষ টাকা তার উপর লোন হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছে। সুতরাং এ টাকা তার ভায়রাকে পরিশোধ করে দিতে হবে।

(৫) প্রশ্নের ভাষ্যমতে জামিল সাহেব যেহেতু মোহরানার প্রায় ৬০% স্ত্রীকে আদায় করে দিয়েছেন তাই বাকি অংশ হিসাব করে পরিশোধ করে দিলে তিনি মোহরানার দায় থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। বকেয়া অংশ থেকে অতিরিক্ত পরিশোধ করা জরুরি নয়। তবে তিনি যাদি স্ত্রীকে ধার্যকৃত মোহরানা থেকে অতিরিক্ত দিতে চান তাহলে সে এখতিয়ার তার রয়েছে।

(৬) প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির উপর কোন ঋণ থাকলে তার রেখে যাওয়া সমুদয় সম্পত্তি থেকে তা পরিশোধ করতে হবে। অতপর তার যদি কোনো বৈধ অসিয়ত থাকে তবে অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ দ্বারা তা আদায় করতে হবে। এরপর বাকি সম্পত্তি তার মৃত্যুর সময় জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নোক্ত শতকরা হারে বণ্টিত হবে।

মৃতের স্ত্রী পাবে .................. ২৫%

সহোদর ভাই প্রত্যেকে........... ৩৭.৫ করে দুজনে মোট পাবে ............. ৭৫%

আর সহোদর ভাই বিদ্যমান থাকার কারণে বিমাতা ভাই কোন অংশ পাবে না।

উল্লেখ্য যে, মৃতের রেখে যাওয়া পাঁচটি ফ্ল্যাটের বর্তমান মূল্য হিসাব করে উপরোক্ত ওয়ারিশ অর্থাৎ মৃতের স্ত্রী ও দুই সহোদর ভাইয়ের মাঝে তাদের উল্লেখিত প্রাপ্য অনুযায়ী ভাগ হবে।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাসসাস ৪/২০; আলমাবসূত সারাখসী ১০/১৪৬; শরহুল মাজাল্লা ১/৩৯; রদ্দুল মুহতার ৫/৬৮৮, ৭৭৪; এলাউস সুনান ১৬/৭০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার এক মেয়ে আমাদের কথার অবাধ্য হয়ে একটি ছেলেকে বিয়ে...

প্রশ্ন

আমার এক মেয়ে আমাদের কথার অবাধ্য হয়ে একটি ছেলেকে বিয়ে করে তার সাথে চলে গেছে। বর্তমানে আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। আমার প্রশ্ন হলÑ

ক) পিতামাতার এ ধরনের অবাধ্য সন্তান পিতামাতার সম্পত্তি থেকে মিরাস পাবে কি না?

খ) পিতামাতার জন্য তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা বৈধ হবে কি না?

উত্তর

কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিকে মিরাস বলে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি তার জীবিত ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন হবে। এটি শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত বিধান। মৃত্যুর সাথে সাথে উক্ত সম্পত্তিতে জীবিত সকল ওয়ারিশের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। জীবদ্দশায় সে কোনো ওয়ারিশের উপর অসন্তুষ্ট থাকলে বা তাকে সম্পত্তি না দেওয়ার কথা বলে গেলেও এ কারণে কোনো ওয়ারিশ মিরাস থেকে বঞ্চিত হয় না। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতামাতা জীবদ্দশায় ঐ সন্তানের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে মিরাস থেকে বঞ্চিত ঘোষণা করলেও সে মিরাস থেকে বঞ্চিত হবে না এবং অন্যান্য ওয়ারিশদের জন্য তাকে বঞ্চিত করাও জায়েয হবে না।

Ñরদ্দুল মুহতার ৭/৫০৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৭১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৪০০; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৭১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

শহরের অনেক মসজিদেই জানাযার নামায আদায় করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে...

প্রশ্ন

শহরের অনেক মসজিদেই জানাযার নামায আদায় করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে সাধারণত মসজিদের বাইরে সামনের দিকে লাশ রাখার জন্য কিছু খালি জায়গা রাখা হয়। আর ইমাম সাহেব মুসল্লিদের নিয়ে মসজিদের ভেতরই নামাযে জানাযা আদায় করেন।

আমার জানার বিষয় হল, মসজিদে জানাযার নামায পড়ার হুকুম কী? লাশ মসজিদের ভেতরে রাখা বা বাইরে রাখার কারণে কি হুকুমের মাঝে কোনো পার্থক্য হবে?

উত্তর

লাশ মসজিদের ভেতরে রাখা হোক বা বাইরে রাখা হোক বিনা ওজরে মসজিদে জানাযার নামায পড়া মাকরূহ। নবী কারীম সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,যে ব্যক্তি মসজিদের ভেতর জানাযার নামায আদায় করবে তার কোনো সওয়াব হবে না। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৮৪

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় আছে, উক্ত হাদীস বর্ণনা করার পর হযরত সালেহ রাহ. বলেন, জানাযার মাঠে জায়গা না হলে সাহাবীরা ফিরে যেতেন। নামাযে শরিক হতেন না। Ñমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১২০৯৭

উল্লে­খ্য, মসজিদে নববী সংলগ্ন একটি খালি জায়গা ছিল যেখানে জানাযার নামায আদায় করা হত। দেখুন : আলমাওয়াহিবুল­দুন্নিয়্যা ৩/৩৯৬; ওফাউল ওফা ২/৫৩৪

অবশ্য অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদেও দুজন সাহাবীর জানাযার নামায আদায় করেছেন। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৭৩

এই দুই ধরনের হাদীসের মাঝে ফকীহগণ এভাবে সমন্বয় করেছেন যে, স্বাভাবিক অবস্থায় জানাযার নামায মসজিদের বাইরেই আদায় করবে। আর কোনো ওজর থাকলে যেমন বৃষ্টি হলে অথবা বাইরে পড়ার মতো ব্যবস্থা না থাকলে মসজিদের ভেতরও আদায় করা যাবে।

প্রকাশ থাকে যে, বর্তমানে শহরগুলোতে মসজিদের বাইরে জায়গা না থাকার কারণে মসজিদে জানাযার নামায আদায় করা হয়। তাই তা দোষণীয় হবে না।

Ñযাদুল মাআদ ১/৫০১; ইলাউস সুনান ৮/২৭৭; রদ্দুল মুহতার ২/২২৬, ২/২২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮০; ফাতাওয়াল ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৫৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; কিতাবুত তাজনীস ২/২১৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৬; আননাহরুল ফায়েক ১/৩৯৫; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৪৯৪ ফাতহুল কাদীর ২/৯০-৯২; উমদাতুল কারী ৮/২০-২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো বড়...

প্রশ্ন

আমাদের সমাজে একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় যে, কোনো বড় ব্যক্তি মারা গেলে তার গায়েবানা জানাযা পড়া হয়ে থাকে। আমাদের এলাকার কয়েকজন আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা এ পদ্ধতিকে সঠিক বলেন। তারা বলেন যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাবাশার বাদশাহ নাজাশীর গায়েবানা জানাযা পড়েছিলেন।

এখন জানার বিষয় হল, গায়েবানা জানাযা নামায বৈধ কি না? আর নাজাশীর ঘটনা দ্বারা গায়েবানা জানাযা প্রমাণিত হয় কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

জানাযা নামায আদায়ের জন্য মৃতের লাশ সামনে উপস্থিত থাকা জরুরি। অনুপস্থিত লাশের গায়েবানা জানাযা নামায সহীহ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তাঁর অসংখ্য সাহাবী মদীনার বাইরে শহীদ হয়েছিলেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম থেকে তাদের গায়েবানা জানাযা পড়ার প্রমান নেই। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের জানাযার ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি ঘোষণাও দিয়েছিলেন যে, তোমাদের যে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তোমরা আমাকে জানাবে। কারণ আমার জানাযা নামায তার জন্য রহমত।-সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০৮৩

আর শুধু নাজাশীর জানাযা পড়াটা ব্যাপকভাবে গায়েবানা জানাযা জায়েয হওয়াকে প্রমাণ করে না। এছাড়া মুসনাদে আহমদ ও সহীহ ইবনে হিব্বানে নাজাশীর জানাযা সম্পর্কিত একটি হাদীস দ্বারা বোঝা যায় যে, নাজাশীর লাশ কুদরতিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনেই উপস্থিত ছিল।

ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের ভাই নাজাশী ইন্তেকাল করেছে। সুতরাং তোমরা তার জানাযা আদায় করো। ইমরান রা. বলেন, অতপর রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন। আর আমরা তাঁর পেছনে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালাম। অতপর তিনি তার জানাযা পড়ালেন। আমাদের মনে হচ্ছিল যে, নাজাশীর লাশ তাঁর সামনেই রাখা ছিল। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২০০০৫;সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩০৯৮

এছাড়া অনেক মুহাদ্দিসগণ নাজাশীর জানাযা সংক্রান্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, এ ঘটনাটি বিশেষ এক প্রয়োজনের কারণে সংঘটিত হয়েছিল। তা হল, নাজাশীর মৃত্যু হয়েছিল এমন এক ভূখণ্ডে যেখানে তার জানা পড়ার মতো কোনো (মুসলিম) ব্যক্তি ছিল না। তাই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণ নিয়মের বাইরে তার জানাযা পড়িয়েছেন।

আল্লামা যায়লায়ী রাহ., আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ, আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম ও আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ. এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। (দেখুন : নাসবুর রায়া ২/২৮৩; যাদুল মাআদ ১/৫০২; ফয়যুল বারী ২/৪৭০

উলামায়ে কেরাম এ ঘটনার আরো অন্যান্য ব্যাখ্যাও প্রদান করেছেন।

যা হোক, এটা ছিল নববী জীবনের স্বাভাবিক রীতি বহির্ভূত মাত্র একটি ঘটনা। এর উপর ভিত্তি করে ব্যাপকভাবে প্রচলিত গায়েবানা জানাযাকে বৈধ বলার সুযোগ নেই। কেননা অনুসৃত সুন্নাহর সাথে এটির কোনো মিল নেই।

এছাড়া যে লাশের কোথাও জানাযার ব্যবস্থা আছে এবং তার জানাযা হয়েছে বা হচ্ছে তার গায়েবানা জানাযা পড়ার একটি ঘটনাও হাদীসের কিতাবে পাওয়া যায় না। তাই এটি অবশ্যই পরিত্যাজ্য।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৪০৯০; ফাতহুল কাদীর ২/৮০, ৮১; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৮; মাজমাউল আনহুর ১/২৭২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; রদ্দুল মুহতার ২/২০৯; ইলাউস সুনান ৮/২৮৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭০৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার নানার দুই ছেলে। বড় ছেলে সরকারি চাকরি করে। ছোট...

প্রশ্ন

আমার নানার দুই ছেলে। বড় ছেলে সরকারি চাকরি করে। ছোট ছেলে সিংগাপুর থাকে। ছোট ছেলে সিংগাপুর যাওয়ার পর নানা বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করে। ছোট মামা বলেছিল, বিল্ডিংয়ের পুরো টাকা সে পাঠিয়ে দিবে। আর বিল্ডিংটি নেওয়া হয়েছে তার কথা অনুযায়ী। কিন্তু সিংগাপুর যাওয়ার পর কিছু টাকা পাঠিয়ে আর কোনো টাকা দেয়নি। হয়তো তার স্ত্রী কোনো বদনাম করেছে এবং নানার সাথে কথা বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি নানীর সাথেও। বর্তমানে বংশের কারো সাথে কথা বলে না। তাই নানা রাগ করে ছেলেকে বাড়িতে আসতে মানা করে দিয়েছে। মামাও তার স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে। এদিকে নানা তার সকল সম্পত্তি বড় মামার নামে লিখে দিয়েছে।

প্রশ্ন হল, তার স্ত্রীকে শ্বশুর বাড়ি রাখা কি ঠিক হয়েছে? আর নানার মৃত্যুর পর বড় মামা যদি উত্তরাধিকার হিসেবে ছোট মামাকে কিছু সম্পত্তি দিতে চায় তাহলে তা বৈধ হবে কি?

উত্তর

মা-বাবার সাথে সর্বাবস্থায় সদাচরণ করা সন্তানের কর্তব্য। কুরআন মাজীদে অনেক আয়াতে এবং অসংখ্য হাদীসে এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সূরা বনী ইসরাঈলের ২৩ ও ২৪ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, অর্থ, তোমার রব আদেশ করেছেন যে, তিনি ছাড়া আর কারো ইবাদত তোমরা করবে না এবং পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে। যদি তোমার বর্তমানে তাদের একজন বা উভয়ে বার্ধক্যে পৌঁছে যায় তবে তুমি তাদের ‘উফ’ বলবে না এবং তাদের ধমক দিবে না; বরং তাদের সঙ্গে নম্রভাবেকথা বলবে। আর করুণাভরে তাদের সামনে বিনয়ের ডানা বিছিয়ে দাও এবং বল, হে আমার রব! তাদের প্রতি দয়া করুন, যেমন তারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছেন।

আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,আমি কি তোমাদেরকে জঘন্যতম কবীরা গুনাহ কী তা বলব? এভাবে তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। তখন আমরা বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ অবশ্যই বলুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (জঘন্যতম কবীরা গুনাহ হল) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা এবং মা-বাবার অবাধ্য হওয়া। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৭৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৭

এ বিষয়ে আরো বহু আয়াত ও হাদীস রয়েছে।

এছাড়া পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের সাথে কথাবার্তা বন্ধ করে দেওয়াও কবীরা গুনাহ। এতে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার গুনাহ হবে। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বেহেশতে প্রবেশ করবে না। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৫৯৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৫৫৬

আর আত্মীয় বা কোনো মুসলমানের সাথে কথা বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো মুসলমানের জন্য অপর ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখা বৈধ নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তিনদিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন রাখবে এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৮৭৮

সুতরাং আপনার মামার কর্তব্য, তার মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা,মা-বাবার কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাদেরকে সন্তুষ্ট করা এবং তাদের দেখাশুনা ও খোঁজ-খবর নেওয়া। উল্লেখ্য, ছেলের উক্ত অপরাধের কারণে বাবার জন্যও তাকে মীরাস থেকে একেবারে বঞ্চিত করে দেওয়া এবং সব সম্পত্তি বড় ছেলের নামে লিখে দেওয়া ঠিক হয়নি। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবে নির্ধারিত মীরাস থেকে কাউকে বঞ্চিত করল আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের মীরাস থেকে বঞ্চিত করবেন। Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৪৬৮৮

তাই আপনার নানার কর্তব্য, উভয় ছেলেকেই সম্পত্তি দেওয়া। প্রয়োজনে বড় ছেলেরও এ ব্যাপারে পিতাকে সহযোগিতা করা উচিত। আবার সে নিজে থেকেও ছোট ভাইকে সম্পত্তির অংশ দিয়ে বাবাকে দায়মুক্ত করতে পারে।

Ñফাতাওয়া খানিয়া ৩/২৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার আব্বা দুই বিবাহ করেন। প্রথম পক্ষে তিন মেয়ে হওয়ার...

প্রশ্ন

আমার আব্বা দুই বিবাহ করেন। প্রথম পক্ষে তিন মেয়ে হওয়ার পর ঐ স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। পরবর্তীতে আমার আম্মাকে বিবাহ করেন। আব্বার প্রথম পক্ষের বড় মেয়ের মেয়ের মেয়ে তথা বড় মেয়ের নাতনীর সাথে আমি কিছুদিন পূর্বে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু ধর্মীয় দিক থেকে কেউ কেউ এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠালে আমি বিব্রতকর অবস্থায় পতিত হই।

অতএব মহোদয়ের কাছে আমি এ বিষয়ে মাযহাব বর্ণনাসহ ফকীহদের বিস্তারিত মতামত জানতে একান্ত আগ্রহী।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মেয়েটি আপনার মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তার সাথে আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়নি। কুরআন মাজীদের সূরা নিসার ২৩ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, তোমাদের কন্যা, তোমাদের বোন,তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগ্নিকন্যা ...।

উক্ত আয়াতে মাহরামের আলোচনায় যে ভগ্নিকন্যা এসেছে তাতে বোনের মেয়েসহ তার অধস্তন সকল কন্যা অন্তর্ভুক্ত। এতে আপন বোনের মেয়ে, বৈপিত্রেয় বোনের মেয়ে এবং বৈমাত্রেয় বোনের মেয়ে এবং এদের অধস্তন সকল কন্যার হুকুম সমান।

তাই এখন আপনাদের কর্তব্য হল, এখনি পৃথক হয়ে যাওয়া এবং নিজেদের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তিগফার করা।

উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত হুকুমটি (ভগ্নিকন্যার অধস্তনগণ মাহরাম হওয়া) সর্বসম্মত মাসআলা। এতে কোনো ইমাম বা কোনো মাযহাবের দ্বিমত নেই।

Ñআহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/১২৩; তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫; কিতাবুল আছল ৪/৩৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৩৬০; ফাতহুল কাদীর ৩/১১৭; আল মাজমু ১৭/৩১৪; ফাতহুল বারী ৯/৫৮; আলইকনা ফী মাসাইলিল ইজমা ২/৬২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার স্বামী পৈত্রিক সূত্রে টিনশেড বাড়িসহ ৪.৬৭ শতক জমির মালিক...

প্রশ্ন

আমার স্বামী পৈত্রিক সূত্রে টিনশেড বাড়িসহ ৪.৬৭ শতক জমির মালিক ছিলেন। তিনি ২০১৩ সালে ইন্তেকাল করেন। উক্ত সম্পত্তি ছাড়া তার আর কোনো সম্পত্তি ছিল না। ইন্তেকালের পূর্বে তিনি উক্ত ৪.৬৭ শতক জমি (টিনশেড বাড়িসহ) ছোট মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাকে দান করে দেন এবং দখলও বুঝিয়ে দেন। ইন্তেকালের সময় তার ওয়ারিশদের মধ্যে আমি তার স্ত্রী, ৪ কন্যা, ২ ভাই ও ৩ বোন জীবিত ছিল।

আমার বর্তমানে নিম্নোক্ত সম্পত্তি আছে-

১ বিঘা জমি, ৪.১২ শতক জমির উপর ৪ তলা ভবন ও কিছু নগদ টাকা।

আমার উক্ত সম্পত্তির মধ্যে ৪ তলা বাড়ির ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলা বড় তিন কন্যাকে দান করা হয়েছে। কেননা তারা পিতা থেকে কিছুই পায়নি। আর প্রথম তলা ভাড়া বাবদ অর্জিত অর্থের অর্ধেক আমাদের অবর্তমানে আমাদের নামে সদকা করা হবে। আর বাকি অর্ধেক অর্থ ভবনের মেরামত কাজে ব্যবহার করা হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। আমার ওয়ারিশদের মধ্যে ৪ কন্যা, ১ ভাই এবং ২ বোন আছে।

এ অবস্থায় আমার জানার বিষয় হল,

ক) আমার স্বামী ছোট মেয়েকে যে দান করেছেন এবং আমি বড় তিন মেয়েকে যে দান করেছি তা সহীহ হয়েছে কি না?

খ) এ দান পরবর্তীতেও বহাল থাকবে কি না?

গ) অন্য ওয়ারিশদের এতে আপত্তি করার সুযোগ আছে কি না?

ঘ) ৪ তলা ভবনের নিচ তলার অর্ধেক ভাড়া সদকা করার বিষয়টি সঠিক হয়েছে কি না?

যদি উক্ত বিষয়গুলো শরীয়ত মোতাবেক না হয় তাহলে আমার এবং কন্যাদের করণীয় কী হবে? অনুগ্রহপূর্বক জানিয়ে চিন্তামুক্ত করবেন।

উত্তর

ক, খ ও গ) আপনার স্বামী তার জীবদ্দশায় ছোট মেয়েকে যে সম্পদ দান করেছেন এবং আপনি পরবর্তীতে বড় তিন কন্যাকে যে তিনটি ফ্ল্যাট দান করেছেন এবং তাদেরকে উক্ত সম্পদের মালিকানাও বুঝিয়ে দিয়েছেন এর দ্বারা তারা ঐ সম্পদের মালিক হয়ে গেছে এবং এ দান পরবর্তীতেও বহাল থাকবে। পিতার জন্য সকল সম্পদ ছোট মেয়েকে দিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার জন্য বড় তিন মেয়েকে তিন ফ্ল্যাট দেওয়া আপনার জন্য ঠিক হয়েছে।-উমদাতুল কারী ১৩/১৪৯; শরহুল মাজাল্লাহ ৩/৩৫৮

উত্তর : ঘ) ৪ তলা ভবনের নিচ তলার অর্ধেক ভাড়া আপনার অবর্তমানে গরীব-মিসকীনদের মাঝে সদকা করার যে

সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক আছে এবং উদ্যোগটি প্রশংসনীয়ও বটে। তবে এটি কার্যকর করার জন্য আপনার জীবদ্দশাতে ঐ অংশ নির্ধারিত খাতে ওয়াকফ রেজিষ্ট্রি করে দিতে হবে। যেন আপনার অবর্তমানে তা কার্যকর থাকে। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় কেউ মারা গেলে মৃত্যু উপলক্ষ্যে বিবাহের ন্যায় খাবারের...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কেউ মারা গেলে মৃত্যু উপলক্ষ্যে বিবাহের ন্যায় খাবারের আয়োজন করা হয় এবং জানাযার পর এলান করা হয় যে, খাবার না খেয়ে কেউ যেন না যায়। শরীয়তের দৃষ্টিতে মৃতের বাড়িতে এমন আয়োজন করার বিধান কী? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

কেউ মারা গেলে মৃতের বাড়িতে দাওয়াতের আয়োজন করা বিদআত। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই এটিকে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ গণ্য করা হত। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমরা মৃতের দাফন কার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (আগতদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন) এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৯০৫

এ ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরাম এটিকে বিদআত বলেছেন। কেননা দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ উৎসবের সময়, কোনো বেদনার মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত তো হল মৃতের পরিবার-পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা, যেন তাদেরকে মৃতের জন্য ব্যস্ততা ও শোকাহত থাকার কারণে অনাহারে থাকতে না হয়। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

-সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬১২; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০; ইলাউস সুনান ৮/৩২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক মহিলা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। তার...

প্রশ্ন

জনৈক মহিলা সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর শিশুটির ছোট খালা তাকে লালন-পালন করেন এবং তাকে তার দুধও পান করান। কয়েক বছর পর শিশুটির খালু ইন্তেকাল করেন। বর্তমানে ছেলেটির পিতা তার দুধ মা (খালা)-কে বিবাহ করতে চাচ্ছে। উভয় পরিবারের পক্ষ থেকেও সম্মতি রয়েছে।

প্রশ্ন হল, তাদের এ বিবাহ কি শরীয়তসম্মত হবে?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে পিতার জন্য সন্তানের দুধ মাতা-খালাকে বিবাহ করা জায়েয হবে। কেননা কোনো মহিলা সন্তানের দুধ মা হলেই তার সাথে পিতার বিবাহ নাজায়েয হয়ে যায় না। তবে তাদের এ বিবাহ উক্ত মহিলার স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর হতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৩/৪০০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৪/৩৬৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৪১৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমার বড় ভাই ইন্তেকাল করেছেন। মেঝ ভাই ঢাকা...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার বড় ভাই ইন্তেকাল করেছেন। মেঝ ভাই ঢাকা থাকেন। তার দিকে লক্ষ্য করেই জানাযার সময় ঠিক করা হয়, কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে পারেননি। তার জন্য অপেক্ষা করতে চাইলে লোকজন বিরক্তিবোধ করে। তাই আমি জানাযা পড়িয়ে দিই।

মেঝ ভাইও আলেম। তার সাথে জানাযা পড়ার জন্য অনেকেই প্রথম জানাযায় শরীক হয়নি। জানাযা শেষ হওয়ার পাঁচ-সাত মিনিট পর মেঝ ভাই পৌঁছে যান। তখন যারা প্রথম জানাযায় শরীক হয়নি তারা মেঝ ভাইকে দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ানোর জন্য খুবই জোর করে। কিন্তু মেঝ ভাই তা করেননি। ফলে লোকজন তার সাথে খুবই রাগ করেন এবং এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকার মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়।

এখন জানার বিষয় হল, আমার জন্য কি মেঝ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে মৃত বড় ভাইয়ের জানাযা পড়ানো ঠিক বা জায়েয হয়েছে? আর মেঝ ভাইয়ের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অধিকার ছিল কি না? তিনিও তো বড় ভাইয়ের ওলি এবং আমার চেয়ে যোগ্যও বেশি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে আপনার মেঝ ভাই যেহেতু উপস্থিত হতে পারেনি তাই আপনার জন্য জানাযা পড়ানো ঠিক হয়েছে এবং জায়েযও হয়েছে। আর এক্ষেত্রে মেঝ ভাইয়ের দ্বিতীয়বার জানাযা না পড়াও শরীয়তসম্মত হয়েছে। কেননা মৃতের এক ভাইয়ের উপস্থিতিতে জানাযা পড়া হয়ে গেলে অন্য ভাইয়ের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অধিকার থাকে না।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/২২০, ২/২২৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬২-৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মুসলিম, যারা কালিমা পড়েছে কিন্তু পরবর্তী জীবনে ঠিকমতো ইবাদত করেনি।...

প্রশ্ন

মুসলিম, যারা কালিমা পড়েছে কিন্তু পরবর্তী জীবনে ঠিকমতো ইবাদত করেনি। যেমন কখনো কখনো নামায পড়েছে, আবার পড়েনি। তারা কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে? নাকি আযাবের পর জান্নাত লাভ করবে?

উত্তর

যেসব ঈমানদার ইসলামের বিধি-নিষেধ পুরোপুরি মেনে চলেনি এবং গুনাহ থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করেছে তাদেরকে আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহে ক্ষমাও করে দিতে পারেন অথবা তাদের কৃতকর্মের কারণে শাস্তিও দিতে পারেন। তবে গুনাহের কারণে তারা জাহান্নামে গেলেও চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না; বরং এক সময় আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঈমানের কারণে নিজ অনুগ্রহে জান্নাত দিবেন। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার সাথে শিরক করা ক্ষমা করবেন না। তবে এছাড়া অন্যান্য গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। আর যে কেউ আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করল সে মারাত্মক অপবাদ আরোপ করল।-সূরা নিসা : ৪৮

হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ বিশ্বাসের উপর মৃত্যুবরণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬

অপর হাদীসে আছে, আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতপর আল্লাহ তাআলা (ফেরেশতাদেরকে) বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম হতে বের করে আনো। তারপর তাদেরকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতপর তাদেরকে বৃষ্টির নদীতে বা হায়াতের নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে। যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না,সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের বক্র হয়ে গজায়? -সহীহ বুখারী, হাদীস ২২; উমদাতুল কারী ১/১০৪;আলফিকহুল আকবার ৫৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৪৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কাসেম, শফিক ও দীন মুহাম্মাদ। তারা তিন ভাই একসাথে নৌকা...

প্রশ্ন

কাসেম, শফিক ও দীন মুহাম্মাদ। তারা তিন ভাই একসাথে নৌকা নিয়ে মাছ ধরত। দু’ এক মাস আগে সাগরের আবহাওয়া খারাপ হলে তারা তিন ভাই নৌকা ডুবে মারা যায়। তাদের মধ্যে কাসেমের এক স্ত্রী, দুই ছেলে, শফিকের এক স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে আছে। আর দীন মুহাম্মাদ বিয়ে করেনি। তাদের মা-বাবা, এক ভাই, দুই বোন জীবিত আছে।

এখন ওয়ারিশগণ জানতে চায় যে, মৃত তিন ভাইয়ের মীরাস তাদের মধ্যে কীভাবে বণ্টন করা হবে?

উল্লেখ্য, তিন ভাইয়ের মৃত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে কার আগে কে মারা গেছে তা জানা যায়নি।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ মৃত তিন ভাইয়ের রেখে যাওয়া নিজ নিজ সম্পত্তি থেকে প্রথমে তাদের কাফন-দাফনের খরচ (প্রয়োজন হলে) সম্পন্ন করতে হবে। অতপর তাদের কোনো ঋণ থাকলে তা (নিজ নিজ সম্পত্তি থেকে) পরিশোধ করতে হবে। এরপর তাদের কারো কোনো বৈধ অসিয়ত থাকলে তা ঐ ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকে আদায় করতে হবে। অতপর প্রত্যেকের অবশিষ্ট সম্পত্তি নিজ নিজ ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নে বর্ণিত তফসীল অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে।

কাসেমের রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ওয়ারিশগণ নিম্নের নিয়মে পাবে।

বাবা : ১৬.৬৬%, মা : ১৬.৬৬%, স্ত্রী : ১২.৫% আর প্রত্যেক ছেলে ২৭.০৮৩% করে পাবে।

আর শফিকের রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ওয়ারিশগণ নিম্নের শতকরা হারে পাবে।

বাবা : ১৬.৬৬%, মা : ১৬.৬৬%, স্ত্রী : ১২.৫%, ছেলে : ৩৬.১১১% ও মেয়ে : ১৮.০৫৫%।

দীন মুহাম্মাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার ওয়ারিশগণ নিম্নোক্ত হারে পাবে-

বাবা : ৮৩.৩৩৩%, মা : ১৬.৬৬৬%।

উল্লেখ্য, মৃত তিন ভাইয়ের সম্পত্তি থেকে তাদের ভাই-বোনেরা বাবা জীবিত থাকার কারণে কোনো হিস্যা পাবে না।

আরো উল্লেখ্য যে, এভাবে একাধিক লোক একত্রে মৃত্যুবরণ করলে যদি তাদের মধ্যে কে আগে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে তা জানা না যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তারা নিকটাত্মীয় হলেও একে অন্যের থেকে কোনো মীরাস পায় না।

-সূরা নিসা (৪) : ১১; সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬৭৩২; সুনানে বায়হাকী ৬/২২২; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৮৯, ৪৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৪৪৮, ৬/৪৫০, ৬/৪৫১, ৬/৪৫৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪০৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৯৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকার কিছু লোক স্টিমারে করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল। সাগরের মাঝে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার কিছু লোক স্টিমারে করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল। সাগরের মাঝে গিয়ে তাদের একজন মৃত্যুবরণ করে। এ অবস্থায় তাদের করনীয় কী-তা তাদের জানা ছিল না। তাই তারা ঐ মৃত ব্যক্তিকে নাকি সাগরে ফেলে দেয়।

তাই এখন আমার জানার বিষয় হল, সাগরের মাঝে কেউ এভাবে মারা গেলে তার কাফন-দাফন সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

নদী ও সমুদ্রপথে কেউ মারা গেলে সেক্ষেত্রে করণীয় হল, নৌযানের অবস্থান যদি তীরের নিকটবর্তী হয় এবং তাতে অবতরণ করাও সম্ভব হয় অথবা লাশের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটার আগে আগে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা যায় তাহলে তাকে যথানিয়মে ভূমিতেই দাফন করতে হবে। আর যদি ভূমিতে অবতরণ করার আগেই লাশের মধ্যে পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা থাকে তাহলে এক্ষেত্রে নৌযানেই তার গোসল, কাফন এবং জানাযা নামায সম্পন্ন করা হবে। এরপর লাশ পানিতে ছেড়ে দিবে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে তার গায়ে কোনো ভারি বস্তু, যেমন পাথর ইত্যাদি বেঁধে দিবে যেন লাশ পানিতে ভেসে না থাকে বরং নিচে চলে যায়।

-ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৮৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমি জানি যে, শাশুড়িকে বিয়ে করা যায় না। এখানে দুটি...

প্রশ্ন

আমি জানি যে, শাশুড়িকে বিয়ে করা যায় না। এখানে দুটি বিষয় একটু পরিষ্কারভাবে জানালে আমি উপকৃত হব :

১। বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে মিলন না হলেও কি শাশুড়িকে বিয়ে করা নাজায়েয হয়ে যায় এবং তার সাথে দেখা করা জায়েয হয়ে যায়?

২। স্ত্রী মৃত্যুবরণ করার পরও কি শাশুড়ি মাহরামের অন্তর্ভুক্ত থাকে। তখনও কি তার সাথে দেখা-সাক্ষাত জায়েয?

উত্তর

জী, শুধু বিবাহের দ্বারাই শাশুড়ি (স্ত্রীর আপন মা) সম্পূর্ণরূপে হারাম হয়ে যায়। স্ত্রীর সাথে মিলন হোক বা না হোক এবং স্ত্রী জীবিত থাকুক বা না থাকুক সর্বাবস্থায় শাশুড়ি মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তাকে বিবাহ করা হারাম এবং তার সাথে দেখা দেওয়া জায়েয। এমনকি স্ত্রীর মৃত্যুর পরও তার সাথে দেখা দেওয়া জায়েয।

কুরআন মাজীদে সূরা নিসার ৩২ নং আয়াতে শাশুড়ির সাথে বিবাহ হারাম হওয়ার কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ রূহুল মাআনীতে আল্লামা আলূসী রাহ. বলেন, কুরআন মাজীদে وأمهات نسائكم (স্ত্রীর মাতাগণ) এই আয়াতে স্ত্রীর সাথে মিলন হোক বা না হোক সব ধরনের স্ত্রীর মা উদ্দেশ্য। -তাফসীরে রূহুল মাআনী ৪/২৫৭

একটি হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে বিবাহ করবে তার সাথে মিলন হোক বা না হোক (সর্বাবস্থায়) তার মায়ের সাথে বিবাহ নাজায়েয।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, ৬/২৭৩; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৯৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬০৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার এক স্ত্রী, কয়েকজন ছেলেমেয়ে আছে। আমার কিছু স্থাবর সম্পত্তি,...

প্রশ্ন

আমার এক স্ত্রী, কয়েকজন ছেলেমেয়ে আছে। আমার কিছু স্থাবর সম্পত্তি, জমা-জমি ও বাড়িঘর আছে। দেনাকর্জও আছে। এ অবস্থায় আমার উক্ত ওয়ারিশদের মধ্যে সহায় সম্পত্তি ইত্যাদি বণ্টন করে যেতে চাই। সামান্য নিজের নামে রাখতে ইচ্ছুক। এ অবস্থায় আমাকে শরয়ী আইন মোতাবেক কী করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বক্তব্য অনুসারে আপনার উপর যেহেতু মানুষের দেনা-পাওনা আছে তাই প্রথমে তা পরিশোধ করে দিতে হবে। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি থেকে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে তথা সম্ভাব্য ওয়ারিশদেরকে দান করতে চাইলে সেক্ষেত্রে এটি যেহেতু আপনার উদ্দেশ্যের বিবেচনায় মৃত্যুপরবর্তী মীরাছেরই পূর্ববণ্টন তাই এক্ষেত্রে মীরাছের নীতিমালা অনুসারে প্রত্যেককে তার অংশ লিখে দখল বুঝিয়ে দিবেন। আর আপনি নিজের নামেও কিছু সম্পত্তি রাখতে চাইলে রাখতে পারবেন।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে ছাড়া আপনার আর কোনো ওয়ারিশ (এক্ষেত্রে পিতামাতা) না থাকলে এদের মাঝে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পদ বণ্টন করবেন। স্ত্রীকে শতকরা ১২.৫ অংশ। অতপর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলেমেয়েদের মাঝে ‘ছেলে, মেয়ের দ্বিগুণ পাবে’- এই মূলনীতির ভিত্তিতে বণ্টন করবেন।

আর যতটুকু সম্পত্তি নিজের নামে রাখবেন, আপনার মৃত্যুর পর কেবল ঐ অংশের মধ্যে মীরাছের বিধান প্রযোজ্য হবে।

-তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৭৫; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৮/২৫৯-২৬০; আলমাদখালুল ফিকহিল আম ২/৯৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৪০, ২৯/১৪৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬০৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জায়েদ ইন্তেকালের সময় মা, বাবা, দুই ছেলে, এক মেয়ে, একজন...

প্রশ্ন

জায়েদ ইন্তেকালের সময় মা, বাবা, দুই ছেলে, এক মেয়ে, একজন বাপ-শরিক ভাই, একজন মা-শরিক ভাই ও স্ত্রী রেখে যায়। মাননীয় মুফতী সাহেবের খেদমতে অধমের জানার বিষয় হল, জায়েদের রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে কে কতটুকু পাবে?

উত্তর

মৃত জায়েদের স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদ থেকে প্রথমে তার কাফন-দাফনের খরচ (প্রয়োজন হলে) সম্পন্ন করবে। অতপর তার কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এরপর তার কোনো বৈধ অসিয়ত থাকলে তা অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে পূর্ণ করতে হবে।

এরপর অবশিষ্ট সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। এক্ষেত্রে জায়েদের বাবা ও মা প্রত্যেকে সমুদয় সম্পদের এক ষষ্ঠাংশ করে পাবে এবং স্ত্রী পাবে এক অষ্টমাংশ। তাদের অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ তার ছেলেমেয়েগণ ‘‘এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান’’ হিসেবে লাভ করবে।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ

(তরজমা) আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। ... তার (মৃতের) সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পদের এক ষষ্ঠাংশ; ... আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক অষ্টমাংশ।-সূরা নিসা ৪ : ১১-১২

সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী জায়েদের সমুদয় সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নবর্ণিত শতকরা হারে বণ্টিত হবে-

১। জায়েদের বাবা : শতকরা ১৬.৬৬৬ ভাগ ২। জায়েদের মা : শতকরা ১৬.৬৬৬ ভাগ ৩। জায়েদের স্ত্রী : শতকরা ১২.৫০ ভাগ ৪। জায়েদের প্রত্যেক ছেলে : শতকরা ২১.৬৬৬ ভাগ ৫। জায়েদের মেয়ে : শতকরা ১০.৮৩ ভাগ।

উল্লেখ্য যে, জায়েদের বাবা ও ছেলে জীবিত থাকার কারণে প্রশ্নোক্ত অবস্থায় তার বাপ-শরিক ভাই ও মা-শরিক ভাই কোনো অংশ পাবে না। -সূরা নিসা ৪ : ১১-১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কোনো বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পদ্ধতি কী হতে পারে? যখন তাকে...

প্রশ্ন

কোনো বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পদ্ধতি কী হতে পারে? যখন তাকে চেনার কোনো উপায় থাকে না যে সে মুসলমান, নাকি ভিন্ন ধর্মের?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মুসলিম হওযার বাহ্যিক কোনো নিদর্শন পাওয়া গেলে যেমন নাম পোশাক ইত্যাদি কিংবা শারীরিক নিদর্শন যেমন খতনা ইত্যাদি থাকলে মুসলমানের লাশের মত আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ মুসলমানের লাশের মতই গোসল দিবে এরপর কাফন-জানাযা শেষে মুসলমানদের কবরস্থানেই দাফন করবে। আর যদি মুসলিম হওয়ার বাহ্যিক বা শারীরিক কোনো নিদর্শনই পাওয়া না যায় তাহলে মুসলমানদের এলাকায় এ ধরনের লাশ পাওয়া গেলে তাকেও মুসলমান গণ্য করা হবে এবং মুসলমানের লাশের মতই গোসল-জানাযা ও দাফন করবে। আর যদি এ ধরনের নিদর্শনহীন লাশ অমুসলিমদের এলাকায় পাওয়া যায় তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে গোসল দিয়ে কোনোরকম কাফন পরাবে। তবে তার জানাযা পড়বে না। অতপর অমুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০১; শরহুল মুনইয়া ৬০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আশা করি ভালো আছেন। আমি ‘তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন’ বইয়ে মুহাম্মাদ...

প্রশ্ন

আশা করি ভালো আছেন। আমি ‘তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন’ বইয়ে মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ.-এর জীবনানোলচনায় দেখতে পেলাম যে তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর তত্ত্বাবধানে তার দাসী সাফিয়্যাহকে বিবাহ করেছিলেন। কিন্তু তার জন্মালোচনায় বলা হয়েছে যে, তিনি হযরত উসমান রা.-এর খেলাফতের দুই বছর অবশিষ্ট থাকাকালে জন্মগ্রহণ করেন। আবার আলোচনার শেষদিকে বলা হয়েছে তিনি আনাস বিন মালিক রা.-এর অসিয়ত মুতাবিক তার জানাযার নামাযের ইমামতি করেছেন। একটু পরে বলা হয়েছে তিনি সাতাত্তর বছর বেঁচে ছিলেন। জানার বিষয় হল যিনি আবু বকর রা.-এর তত্ত্বাবধানে বিবাহ করেছেন তার জন্ম কীভাবে উসমান রা.-এর খেলাফতকালে হয়। আবার যদি সঠিক মেনে নেয়া হয় যে, তিনি আবু বকর রা.-এর তত্ত্বাবধানে বিবাহ করেছেন তাহলে আনাস বিন মালিক রা.-এর মৃত্যুকালে তার বয়স ৭৭ থেকে অনেক বেশি হয়। আর যদি তিনি ৭৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেছেন সঠিক হয় তাহলে উসমান রা.-এর খেলাফতকালে তার জন্ম মেনে নিতে হয়। এটি মেনে নিলে আবু বকর রা.-এর তত্ত্বাবধানে বিবাহ হওয়া অসম্ভব। এসব তথ্য নিয়ে আমি বিভ্রান্তিতে আছি।

উত্তর

আমাদের কাছে রাহনুমা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘তাবেঈদের ঈমানদীপ্ত জীবন’-এর যে কপিটি রয়েছে তার ১২৭ পৃষ্ঠায় মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন শীর্ষক আলোচনা এসেছে। সেখানে মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন সম্পর্কে আলোচনার পূর্বে প্রথমে তাঁর পিতা সিরীন ও মাতা সাফিয়্যার পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বিবাহ আবু বকর সিদ্দীক রা.-এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়।

বিবাহের প্রায় দীর্ঘ বিশ বছর পর উসমান রা.-এর খেলাফতের শেষ দিকে সিরীন ও সাফিয়্যাহর ঔরসে মুহাম্মাদ জন্মগ্রহণ করেন। ইনিই সেই বিখ্যাত তাবেঈ মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন। যিনি শুধু ইবনে সিরীন নামেও পরিচিত।।

আমরা মূল কিতাব ছুয়ারুম মিন হায়াতিত তাবিয়ীন-এর সাথে অনূদিত কিতাবের ঐ অংশটি মিলিয়ে দেখেছি। মূল কিতাবের বক্তব্যের সাথে অনূদিত অংশের কোনো অমিল পাইনি।

সম্ভবত আপনার কপিটিতে সিরীনের সাথে সাফিয়্যাহর বিবাহের আলোচনার অংশে ছাপার ভুলের কারণে সিরীনের স্থলে ইবনে সিরীন বা মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন উল্লেখ হয়ে থাকতে পারে। এমনটি হয়ে থাকলে ঐ অংশটি ঠিক করে নিলেই আর কোনো অসামঞ্জস্যতা থাকবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার বোনের শাশুড়ি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে আমার...

প্রশ্ন

আমার বোনের শাশুড়ি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে আমার বোনকে বলেছিলেন, বৌ, আমার গলার হারটা তুমি নাও। আমার বোন তখন নেয়নি। বলেছিল, আম্মা, এখন রাখেন। পরে নিব। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি ইন্তেকাল করেন। এখন তার মেয়েরা বলছে যে, আম্মা ভাবিকে কখনো এমন কথা বলেনি। সুতরাং ভাবি এটা নিতে পারবে না। আমার প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় ঐ হারটি কি আমার বোন পাবে?

উত্তর

হেবাকৃত বস্তু হস্তগত করার পূর্বে তাতে মালিকানা সাব্যস্ত হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বোনের শাশুড়ি যদি তাকে ঐ হারটি নেওয়ার কথা বলেও থাকেন তবুও সে ঐ হারটির মালিক হবে না। কেননা প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার বোন ঐ হারটি তখন গ্রহণ করেনি এবং পরবর্তীতে শাশুড়ির জীবদ্দশাতেও তা নেয়নি। তাই ঐ হারটি মরহুমার মীরাছের অন্তর্ভুক্ত হবে। সকল ওয়ারিশ তাদের অংশ অনুযায়ী এর মালিক হবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ ৩/৩৬২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৭১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে রেওয়াজ আছে যে, কোনো ব্যক্তির ইন্তেকাল হলে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে রেওয়াজ আছে যে, কোনো ব্যক্তির ইন্তেকাল হলে তার পরিবার খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীলের ব্যবস্থা করে। এবং যারা পড়ে তাদের জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আবার অনেক সময় টাকাও দেওয়া হয়।

জানার বিষয় হল, মৃতের উদ্দেশ্যে তাহলীল খতম পড়ে বা কুরআন তিলাওয়াত করে টাকা নেওয়া বা খাবার খাওয়া বৈধ হবে কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

উত্তর

ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করে কিংবা কালিমা তায়্যিবা বা কোনো যিকির করে কোনো ধরনের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি করো না।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৫৫২৯

অন্য বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পড়ো এবং বিনিময় আল্লাহ তাআলার কাছে চাও। তোমাদের

পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে বিনিময় চাইবে। -মুসনাদে আহমাদ,হাদীস : ১৯৯১৭

আরেক বর্ণনায় আছে, তাবেয়ী যাযান রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে মানুষ থেকে এর বিনিময় গ্রহণ করে সে যখন হাশরের মাঠে উঠবে তখন তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। শুধু হাড্ডি থাকবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৮২৪

উক্ত হাদীসসমূহের আলোকে ফকীহগণ বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়ে ঈসালে সওয়াবের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করলে কিংবা কোনো যিকির করলে কোনো সওয়াব হবে না। বরং বিনিময় নিয়ে পড়ার কারণে টাকাদাতা ও গ্রহীতা উভয়ে গুনাহগার হবে।

উল্লেখ্য, যদি শুধু তিলাওয়াতকারী বা তাহলীল পাঠকারীর জন্যই খাবারের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে তা বিনিময় হিসেবে গণ্য হবে এবং পাঠকারীর জন্য তা খাওয়া নাজায়েয হবে। আর যদি ব্যাপকভাবে দাওয়াতের আয়োজন করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে খতম পাঠকারীদের জন্য খাবার খাওয়াটা বিনিময় হিসেবে গণ্য হবে না।

-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৫৫২৯, ১৯৯১৭; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৮২৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/২৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক মহিলার স্বামী কুয়েতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত...

প্রশ্ন

জনৈক মহিলার স্বামী কুয়েতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। গত ২৫ রজব কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক মর্মামিত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। প্রাথমিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উদঘটিত হয় যে, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তখন উভয় দেশের দূতাবাসের আলোচনার ফলে তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়। গত ২৪ শাবান বাংলাদেশ দূতাবাস মৃত ব্যক্তির পরিবারকে খবরটি নিশ্চিত করে। জানার বিষয় হল, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী কবে থেকে ইদ্দত গণনা শুরু করবে? মৃত্যুবরণ করার সময় থেকে নাকি সংবাদ পাওয়ার পর থেকে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ মহিলা মৃত্যুর দিন থেকেই ইদ্দত গণনা করবে। কেননা স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর খবর না পেলেও স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ইদ্দত শুরু হয়ে যায়। সুতরাং উক্ত মহিলা অন্তঃসত্ত্বা না হলে স্বামীর মৃত্যুর দিন ২৫ রজব থেকে চার মাস দশদিন ইদ্দত পালন করবে। আর অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্তইদ্দত পালন করবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১৯২৪৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৫/২৪৮-২৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫২০; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার পিতার ইন্তেকালের সময় তার একজন স্ত্রী জীবিত ছিলেন। তবে...

প্রশ্ন

আমার পিতার ইন্তেকালের সময় তার একজন স্ত্রী জীবিত ছিলেন। তবে পিতার জীবদ্দশাতেই তার আরো দুইজন স্ত্রী ইন্তেকাল করেন। পিতার মৃত্যুর সময় জীবিত স্ত্রীর এক ছেলে, মৃত স্ত্রী খোদেজা খাতুনের ৫ ছেলে ও ২ মেয়ে এবং অপর মৃত স্ত্রী তমিজা খাতুনের ৩ ছেলে ও ২ মেয়ে রেখে যান। তারা সবাই আমার পিতারই ঔরসজাত। ২০০৭ সালে ওয়ারিসদের মাঝে মিরাস বণ্টন করা হয়েছে এবং মৃতের অপর দুই স্ত্রী আগেই ইন্তেকাল করার কারণে তাদেরকে কোনো অংশ দেওয়া হয়নি।

কিন্তু কিছুদিন আগে একজন বললেন, উপরোক্ত দুই স্ত্রী মৃতের আগে ইন্তেকাল করলেও তারা মৃতের ওয়ারিস হবে এবং জীবিত স্ত্রীর সাথে তারাও মিরাস পাবে। আর তাদের অংশটুকু তাদের সন্তানরা লাভ করবে।

এর ফলে আমাদের মাঝে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই এ বিষয়ে শরীয়তসম্মত সমাধান কামনা করছি।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় মৃতের বর্তমান স্ত্রী এককভাবে মৃতের সমুদয় সম্পদের এক-অষ্টমাংশ পাবে। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) তোমাদের সন্তান না থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-চতুর্থাংশ। আর তোমাদের সন্তান থাকলে তাদের (স্ত্রীদের) জন্য তোমাদের পরিত্যক্ত সম্পদের এক-অষ্টমাংশ; তোমরা যা অসিয়ত করবে তা দেওয়ার পর এবং ঋণ পরিশোধের পর।-সূরা নিসা (৪) : ১২

প্রকাশ থাকে যে, মৃতের পূর্বে কোনো ওয়ারিস মৃত্যুবরণ করলে সে মৃতের ওয়ারিস হয় না। কেননা ওয়ারিস ঐ ব্যক্তিকেই বলা হয়, যে সংশ্লিষ্ট লোকের মৃত্যুর সময় জীবিত থাকে। তাই এক্ষেত্রে মৃতের পূর্বে মৃত্যুবরণকারী দুই স্ত্রী স্বামীর সম্পদের অংশিদার হবে না। সুতরাং তাদের সন্তানদের জন্য মার অংশ দাবি করা অবৈধ হবে। প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের সমুদয় সম্পদে তার জীবিত ওয়ারিসগণ নিম্নবর্ণিত হারে হিস্যা পাবেন-

১। স্ত্রী = শতকরা ১২.৫ ভাগ।

২। প্রত্যেক ছেলে = শতকরা ৭.৯৫৪ ভাগ।

৩। প্রত্যেক মেয়ে = শতকরা ৩.৯৭৭ ভাগ।

সুতরাং এ অনুযায়ী সকলের মাঝে সম্পদ বণ্টন করা হয়ে থাকলে কারো জন্য আপত্তি করা ঠিক হবে না। আর এক্ষেত্রে পূর্বে মৃত্যুবরণকারীনী স্ত্রীদের জন্য অংশ দাবি করার শরয়ী বা আইনগত কোনো ভিত্তি নেই।

-সূরা নিসা (৪) : ১২; আহকামুল কুরআন জাসসাস ২/৮০; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৫৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ৪/৩৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত ১০ বছর পূর্বে আমার আববার ইন্তেকাল হয়েছে। তখন আমরা...

প্রশ্ন

গত ১০ বছর পূর্বে আমার আববার ইন্তেকাল হয়েছে। তখন আমরা ছোট ছিলাম। আমার বড় ভাই লেখাপড়া শেষ করেছিলেন বিধায় আমার বড় মামা তাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। ১০ বছর যাবৎ তিনি পরিবারের খরচ বহন করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি দেশে আসলে আমার আম্মা আমাদের মধ্যে জায়গা বণ্টন করে দিতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে, তাকে জমির ভাগ বেশি দিতে হবে। কেননা তিনি গত ১০ বছর যাবৎ পরিবারের খরচ বহন করেছে। তাতে আমার আম্মা সন্তুষ্ট হয়নি। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাইয়ের দাবি কি সঠিক? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কী? দয়া করে বিসত্মারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বড় ভাইয়ের জন্য অতিরিক্ত জমি দাবি করা শরীয়তসম্মত নয়। বরং এক্ষেত্রে আপনার বাবার সম্পত্তি শরীয়তের মীরাসের নিয়ম অনুযায়ী সকল ওয়ারিসের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টিত হবে। অন্যান্য ওয়ারিসদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া বড় ভাইয়ের জন্য বেশি নেওয়া জায়েয হবে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের পাশের ঘরে একজন মহিলা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের পাশের ঘরে একজন মহিলা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তার পেটে নয় মাসের সন্তান ছিল। সন্তান জীবিত আছে এ সন্দেহে ডাক্তার তার অপারেশন করেন। কিন্তু পেটের ভেতরেই সন্তানকে মৃত পাওয়া গেছে। তাই তা আর বের না করে সেলাই করে দেন। অতপর তার আত্মীয়-স্বজন তার গর্ভের ঐ সন্তানসহ তাকে কাফন-দাফন করে দেয়। জানার বিষয় হল, মহিলা গর্ভবতী অবস্থায় মারা গেলে শরীয়তের বিধান কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় কোনো মহিলা মারা গেলে দেখতে হবে সন্তান জীবিত আছে কি না? যদি জীবিত থাকে তবে দ্রম্নত অপারেশন করে তা বের করতে হবে। অতপর মৃতের গোসল ও কাফন-দাফন সম্পন্ন করতে হবে। আর গর্ভের সন্তান মৃত হলে গর্ভসহই মৃতকে দাফন করে দিতে হবে। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় গর্ভস্থ সন্তানটি মৃত হওয়ার কারণে এ অবস্থায় রেখে দাফন করাটা ঠিক হয়েছে।

-আততাজনীস ২/২৪৫-২৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৮২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকার এক লোক তার বাপ শরিক ভাই (বৈমাত্রেয় ভাই)...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার এক লোক তার বাপ শরিক ভাই (বৈমাত্রেয় ভাই) -এর মেয়ের মেয়েকে বিয়ে করেছে এবং তাদের ঘরে একটি ছেলেসন্তানও হয়েছে। তাদের এই বিয়ে নিয়ে আমাদের এলাকায় বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তাই আমার জানার বিষয় হল, তাদের এই বিয়ে কি শরীয়তসম্মত হয়েছে? যদি না হয় তবে তাদের করণীয় কী? আর তাদের ছেলেসন্তানের হুকুম কী হবে? দয়া করে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের মেয়ে মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। তার সাথে বিবাহ হারাম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, (তরজমা) তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাতিজী ও ভাগ্নী...। -সূরা নিসা (৪) : ২৩

কাযী ছানাউল্লাহ পানিপথী রাহ. তাফসীরে মাযহারীতে বলেন, উক্ত আয়াতে ‘ভাতিজী’ দ্বারা সহোদর, বৈমাত্রেয় ও বৈপিত্রেয় ভাইয়ের সন্তানাদি ও তাদের অধঃস্তন সকলেই উদ্দেশ্য। (তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত লোকটির জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মেয়ের মেয়েকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম হয়েছে। তাই এখনই তাদের পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি। আর বিগত দিনগুলো একত্রে বসবাসের জন্য আল্লাহ তাআলার নিকট খাঁটিমনে তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে।

উভয়ে পৃথক হয়ে যাওয়ার পর থেকে মহিলাটির জন্য ইদ্দত পালন করা জরুরি। ইদ্দতকালীন সময়ে তার ভরণপোষণ ঐ ব্যক্তিকে বহন করতে হবে। ইদ্দতের পর মহিলাটি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। আর বিবাহ অবৈধ হলেও তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া ছেলেটির বংশপরিচয় তার পিতা থেকেই সাব্যস্ত হবে এবং পিতার মৃত্যুর পর ঐ সন্তান তার ওয়ারিস গণ্য হবে।

-রদ্দুল মুহতার ৪/২৪, ৩/৫১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩, ১/৫২৬, ১/৫৩৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৬, ৫/২৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা...

প্রশ্ন

জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা কি নির্ধারণ করা আবশ্যক। মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা কেউ যদি তা না-ই জানে তবে তার জানাযা কি সহীহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

জানাযা আদায়ের জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানা জরুরি নয়। কারো যদি তা জানা না থাকে; বরং শুধু সামনে রাখা মৃত ব্যক্তির জানাযার নিয়ত করে তাহলেও জানাযার নামায সহীহ হয়ে যাবে। অবশ্য জানাযার প্রসিদ্ধ দুআ ছাড়াও কিছু দুআ এমন আছে, যেগুলোর জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানার প্রয়োজন হয়। তাই জানাযার আগে এ বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; শরহুল মুনইয়াহ ২৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৭, ১৬৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে...

প্রশ্ন

প্রায় ২৫ বছর আগে জনৈক ব্যক্তি এক ছেলে, দুই মেয়ে ও এক স্ত্রী রেখে ইন্তেকাল করেন। এত বছর পর্যন্ত তাদের স্থাবর সম্পত্তি (জমিজমা) ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করা হয়নি। এখন সে সম্পত্তি শরীয়ত মোতাবেক বণ্টন করা হবে।

অতীতে মরহুমের ছেলে ঐ স্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কিছু টাকা খরচ করেছে (কারণ কিছু জমি নিয়ে মামলা মুকাদ্দমা সংক্রান্ত ঝামেলা ছিল, যা নিষ্পত্তি করতে অনেক টাকা খরচ হয়েছে ইত্যাদি) তবে মেয়েরাও মাঝেমধ্যে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে খরচে শরিক হয়েছিল। এখন সম্পত্তি বণ্টনে ছেলে দাবি করছে যে, যত টাকা সে অতীতে খরচ করেছে তার সমান ভাগ মেয়েদেরকে নিতে হবে এবং ঐ টাকার যে অংশ তাদের ভাগে পড়বে তারা এর দ্বিগুণ পরিশোধ করতে হবে। সে এর কারণ দেখাচ্ছে যে, অতীতের চেয়ে বর্তমানে টাকার মূল্য কমে গেছে।

তাই জানতে চাচ্ছি যে, ছেলের দাবি মোতাবেক মেয়েদেরকে তাদের অংশের চেয়ে বেশি আদায় করতে হবে কি? শরীয়ত মোতাবেক তারা এখন কত টাকা পরিশোধ করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে যত টাকা খরচ হয়েছে অর্থাৎ ছেলে যা খরচ করেছে এবং মেয়েরা মাঝেমধ্যে যা দিয়েছে সবগুলো হিসাব করে প্রত্যেক ওয়ারিসের উপর তাদের হিস্যা অনুপাতে বর্তাবে। প্রশ্নোক্ত ওয়ারিসদের হিস্যা হল : স্ত্রী : ১২.৫%, ছেলে : ৪৩.৭৫% এবং প্রত্যেক মেয়ে : ২১.৮৭৫% করে।

অতএব মরহুমের স্ত্রী তার হিস্যা অনুসারে উক্ত খরচের এক অষ্টমাংশ বহন করবে। অতপর অবশিষ্ট খরচের দুই চতুর্থাংশ ছেলে, একভাগ প্রথম মেয়ে এবং অপর ভাগ দ্বিতীয় মেয়ে বহন করবে। মেয়েরা পূর্বে যা খরচ করেছে তা বাদ দিয়ে তাদের অংশের বাকি টাকা তাদের ভাইকে পরিশোধ করবে।

এজমালি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করতে ছেলে অন্যদের পক্ষ থেকে যা খরচ করেছে তা ঋণ হিসেবে ধর্তব্য হবে। তাই প্রত্যেক ওয়ারিসের হিস্যা অনুপাতে যত টাকা আসে তত টাকাই তার প্রাপ্য। এক্ষেত্রে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার অজুহাতে মেয়েদের থেকে তাদের হিস্যার অতিরিক্ত দাবি করা জায়েয হবে না। অবশ্য ছেলে সকলের পক্ষ থেকে নিজ টাকা দ্বারা কাজটি সমাধা করার জন্য সওয়াবের অধিকারী হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১৪/৩০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬২; রাসাইলে ইবনে আবেদীন ২/৬২; মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৩০৮; আলমাবসূত, সারাখসী ২৯/১৪৮; আসসিরাজী ফিলমিরাছ ১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমার এক আত্মীয় মারা যায়। ইন্তেকালের একমাস আগ...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক আত্মীয় মারা যায়। ইন্তেকালের একমাস আগ থেকে তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। তিনি জীবদ্দশায় তার ছেলেদের উপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। মারা যাওয়ার সপ্তাহখানেক আগে তার শহরের জমিটি জনৈক ব্যক্তির নিকট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেন। এজন্য তিনি বায়না দেন এবং আংশিক মূল্যও গ্রহণ করেন। তবে এখনো সাব কবলা রেজিস্ট্রি হয়নি। ওয়ারিশগণ তার ইন্তেকালের পর বিষয়টি জানতে পেরে মনক্ষুণ্ণ হয় এবং তারা এ বিক্রয় কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছে না। প্রশ্ন হল, এখন তারা ঐ বিক্রয় বাতিল করতে পারবে কি না? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত জমি বিক্রির লোকসান যদি ঐ ব্যক্তির সকল সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ বা এর চেয়ে কম হয় তাহলে উক্ত বিক্রি কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ওয়ারিসগণের আপত্তি করার কোনো অধিকার থাকবে না। কেননা মূমুর্ষ অবস্থায়ও এক তৃতীয়াংশ সম্পদে এ ধরনের হস্তক্ষেপ করার অধিকার তার আছে। আর যদি মৃতের এক তৃতীয়াংশ সম্পদের চেয়ে বেশি লোকসানের সাথে বিক্রি করা হয় তাহলে ওয়ারিসগণের অনুমতি বিহীন এ বিক্রি কার্যকর হবে না। তারা যদি অনুমতি না দেয় তাহলে ক্রেতা এক তৃতীয়াংশের চেয়ে অধিক লোকসানের অংশ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। অন্যথায় ওয়ারিসগণ ঐ বিক্রয়চুক্তি বাতিল করে দিতে পারবে।

-শরহুল মাজাল্লাহ ২/৪১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/১০৯; রদ্দুল মুহতার ৬/৬৭৯-৬৮০; আলবাহরুর রায়েক ৮/৪২৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ৪/৩২৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে এই অসিয়ত করেছিল যে, তার জানাযা...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে এই অসিয়ত করেছিল যে, তার জানাযা নামায তার নাতী পড়াবে। কিন্তু নাতীর পৌঁছতে দেরি করায় মৃত ব্যক্তির ছেলে জানাযা পড়ায়। প্রশ্ন হল, অসিয়ত ভঙ্গ করে ছেলের নামায পড়ানো কি ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, মৃত ব্যক্তির ছেলেও নামায পড়ানোর যোগ্যতা রাখেন।&

উত্তর

কারো ব্যাপারে জানাযার ইমামতির অসিয়ত করলে সে অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি নয়; বরং মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ানোর ব্যাপারে শরীয়ত যাদেরকে প্রাধান্য দিয়েছে তারাই এর বেশি হকদার। অবশ্য হকদার ব্যক্তি যদি মৃতের অসিয়তকৃত ব্যক্তি বা অন্য কাউকে ইমামতির অনুমতি দেয় তবে সেটারও সুযোগ আছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতের অভিভাবক হিসেবে ছেলের জানাযা পড়ানো নিয়মসম্মতই হয়েছে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/২২১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা...

প্রশ্ন

জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা কি নির্ধারণ করা আবশ্যক। মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা কেউ যদি তা না-ই জানে তবে তার জানাযা কি সহীহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

জানাযা আদায়ের জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানা জরুরি নয়। কারো যদি তা জানা না থাকে; বরং শুধু সামনে রাখা মৃত ব্যক্তির জানাযার নিয়ত করে তাহলেও জানাযা নামায সহীহ হয়ে যাবে। অবশ্য জানাযার প্রসিদ্ধ দুআ ছাড়াও কিছু দুআ এমন আছে, যেগুলোর জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানার প্রয়োজন হয়। তাই জানাযার আগে এ বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; শরহুল মুনইয়াহ ২৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৭, ১৬৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৭৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কোনো কবর পুরাতন হয়ে গেলে তাতে কি নতুন করে আবার...

প্রশ্ন

কোনো কবর পুরাতন হয়ে গেলে তাতে কি নতুন করে আবার কোনো লাশ দাফন করা যায়? আমাদের একটি পারিবারিক কবরস্থান আছে। যা প্রায় ৬০ বছর পুরোনো। এখন সেটির প্রায় সব জায়গাই কবর দ্বারা ভরে গেছে। নতুন কোনো লাশ দাফন করার মতো অন্য কোনো জায়গাও নেই। এ অবস্থায় আমরা কি কবরস্থানটির পুরাতন কবরগুলোতে নতুন করে আবার কবর দিতে পারব? যদি অনুমতি থাকে তাহলে কখনো কোনো কবরে হাড্ডি পেলে সেগুলো কী করব? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে পুরাতন কবরের লাশ মাটির সাথে মিশে যাওয়ার ব্যাপারে প্রবল ধারণা হয় তা খনন করে সেখানে নতুল লাশ দাফন করা যাবে। কবর খনন করতে গিয়ে হাড় পাওয়া গেলে তা পৃথকভাবে দাফন করে দিবে। কিংবা খননকৃত কবরের একপাশে রেখে দিবে।

-ফাতহুল কাদীর ২/১০২; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩-২৩৪; রমযুল হাকায়েক ১/৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৭২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমার স্বামী মারা যান। তার ইন্তেকালের মাসখানেক পর...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার স্বামী মারা যান। তার ইন্তেকালের মাসখানেক পর আমার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আমি ডিএনসি করাই। গর্ভটি ছিল খুব অল্প দিনের। এখনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হয়নি। কেবলমাত্র জমাট রক্ত হয়েছে। জানতে চাই, এক্ষেত্রে ডিএনসি করার দ্বারা আমার ইদ্দত পূর্ণ হয়েছে কি? যদি না হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু গর্ভটির কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হয়নি তাই এ গর্ভ নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং ডিএনসি করার দ্বারা আপনার ইদ্দত পূর্ণ হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনাকে স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে পুরো চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/৪০০; রদ্দুল মুহতার ৩/৫১১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩১১; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৮২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/২২৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৪৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামায পড়ার সময় কিছু মানুষকে দেখা যায়, জুতার উপর...

প্রশ্ন

জানাযার নামায পড়ার সময় কিছু মানুষকে দেখা যায়, জুতার উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়ে। আবার কিছু লোক জুতা খুলে জমিনের উপর দাঁড়ায়।

জানার বিষয় হল, জুতার উপর দাঁড়িয়ে জানাযার নামায পড়লে সহীহ হবে কি? কেননা জুতার নিচে তো নাপাকি লেগে থাকার সম্ভাবনা থাকে।

উত্তর

উভয় পদ্ধতিই সহীহ। জুতা থেকে পা বের করে জুতার উপর দাঁড়ালে সেক্ষেত্রে জুতার নিচে নাপাকি থাকলেও নামায সহীহ হয়ে যাবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩১৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৩; শরহুল মুনইয়াহ ২০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় আমার এক মামা নিহত হন। আমরা তাঁর...

প্রশ্ন

চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় আমার এক মামা নিহত হন। আমরা তাঁর শুধু কোমর থেকে উপরের অংশটা পেয়েছি। তখন আমরা ঐ অর্ধেক অংশের কাফন-দাফন ও জানাযার ব্যবস্থা করি। ঐ অর্ধেক অংশের উপর আমাদের নামায পড়া কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ অর্ধেক অংশের জানাযার নামায পড়া ঠিক হয়েছে। কারণ কোনো লাশের মাথাসহ অর্ধেক অংশ পাওয়া গেলে তার জানাযা পড়া জরুরি।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; ফাতহুল কাদীর ২/৭৬; শরহুল মুনইয়াহ ৫৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

পিতা তার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করার ক্ষেত্রে ছেলে ও...

প্রশ্ন

পিতা তার ছেলেমেয়েদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করার ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েকে সমান সমান দিতে হবে কি না?

এ অবস্থায় এমদাদুল মুফতীনের ৯৫৮ নং প্রশ্নের উত্তরে ৮৭০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে, ছেলে ও মেয়েকে সমান সমান দিতে হবে। মিরাসের নিয়মে মেয়েকে অর্ধেক দিবে না বা দেওয়া উচিত নয়। এ মাসআলা কি সঠিক? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

পিতামাতা জীবদ্দশায় সন্তানদিগকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেওয়ার বিষয়টি দুভাবে হতে পারে।

এক. সন্তানদিগকে সম্পত্তির অংশবিশেষ প্রদান করা।

দুই. জীবদ্দশায় সকল সম্পত্তি সম্ভাব্য ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া।

প্রথম ক্ষেত্রে অর্থাৎ পিতামাতা যদি সন্তানদেরকে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি থেকে কোনো কিছু প্রদান করতে চান তাহলে সেক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে সকলকে সমানভাবে দেওয়া কর্তব্য। শরীয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া তাদের মাঝে উলেখযোগ্য কমবেশি করা ঠিক নয়।

তদ্রূপ মীরাসের নীতি অনুযায়ী ছেলেকে মেয়ের দ্বিগুণ দেওয়া যাবে না। কেননা হাদীস শরীফে সন্তানদিগকে কোনো কিছু হেবা করার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

যেমন, নুমান ইবনে বাশীর রা. বলেন, আমার পিতা আমাকে রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন। উদ্দেশ্য ছিল, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালামকে সাক্ষী রেখে আমাকে একটি জিনিস হাদিয়া দিবেন। তখন তিনি আমার পিতাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, সে ছাড়া তোমার আর কোনো সন্তান আছে? তিনি বললেন, জ্বী, আছে।

রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম বললেন, তাদের মাঝে সমতা রক্ষা কর।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৫৯

সহীহ বুখারীর একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম ইরশাদ করেছেন, সন্তানদেরকে হাদিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা কর।-সহীহ বুখারী ১/৩৫২

অবশ্য সন্তানদের মধ্যে কেউ যদি পিতামাতার অধিক অনুগত হয় এবং তাদের খেদমত ও দেখাশোনার প্রতি অধিক যত্নবান হয় অথবা ইলম-আমল, তাকওয়া ও পরহেযগারিতে কোনো সন্তান অধিক অগ্রগণ্য হয় সেক্ষেত্রে পিতামাতা খুশি হয়ে তাকে কিছু বেশি দিতে চাইলে তা জায়েয।

এভাবে দেওয়া সাহাবা থেকে প্রমাণিত আছে। যেমন, আবু বকর রা. আয়েশা রা.-কে, উমর রা. আসেম রাহ.-কে এবং আবদুর রহমান ইবনে আউফ রা. তাঁর কোনো কোনো সন্তানকে অধিক দিয়েছেন। (মুআত্তা, ইমাম মালেক পৃষ্ঠা : ৬৪৩; শরহু মাআনিল আছার ২/২২৫; ফাতহুল বারী ৫/২৫৪)

আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অর্থাৎ পিতামাতা যদি মৃত্যুর পূর্বে সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিসদের মাঝে বণ্টন করে দিতে চায় তাহলে এক্ষেত্রেও যেহেতু তা মূলত হেবা বা দানেরই অন্তর্ভুক্ত তাই ফকীহগণের অনেকের মতে এ অবস্থায়ও ছেলেমেয়ে সকলকে সমহারে দিতে হবে। মীরাসের নীতি অনুযায়ী ছেলেকে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ করে দেওয়া যাবে না। ইমদাদুল মুফতীনে এ মতকে গ্রহণ করা হয়েছে। এ মত অনুযায়ী কেউ সন্তানদের মাঝে সমুদয় সম্পত্তি সমহারে বণ্টন করে দিলেও তা অন্যায় হবে না।

তবে এক্ষেত্রে আরেকটি মত হল, জীবদ্দশায় সকল সম্পত্তি বণ্টন বাহ্যিকভাবে হেবা বা দান হলেও উদ্দেশ্যের দিক থেকে যেহেতু তা মৃত্যু পরবর্তী মীরাসের পূর্ববণ্টন তাই উদ্দেশ্যের বিবেচনায় মীরাসের নীতি অনুযায়ীই বণ্টন করা উচিত এবং ছেলেকে মেয়ের চেয়ে দ্বিগুণ দেওয়া উচিত। এটি ইমাম মুহাম্মাদ রাহ.-

এর মত।

আর কিফায়াতুল মুফতী ও ফাতাওয়া রহীমিয়াতে একটি প্রশ্নের উত্তরে এ মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। আর সহীহ মুসলিমের ভাষ্যগ্রন্থ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমেও এ মতকে গ্রহণ করা হয়েছে।

তাই উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে এ মত অনুযায়ী ছেলেকে মেয়ের চাইতে দ্বিগুণ দেওয়া উত্তম হবে। এছাড়া বর্তমানে যেভাবে নিজের সমুদয় সম্পদ পূর্বেই বণ্টন করে দেওয়ার প্রবণতা হয়েছে তাতে এই দ্বিতীয় মত অনুযায়ী বণ্টন করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ বর্তমানে অনেকেই নিজের জীবদ্দশাতেই সমুদয় সম্পদ ছেলেমেয়েদের নামে লিখে দিয়ে থাকে। এখন যদি প্রথমোক্ত বক্তব্যের উপর আমল করে সমান সমান দেওয়া হয় তাহলে পিতামাতার সম্পদে ছেলেমেয়েদেরকে শরীয়ত যেভাবে অংশ দিতে চেয়েছে তার উপর আর আমলের সুযোগই থাকে না। কারণ এক্ষেত্রে তার কোনো সম্পদই তো অবশিষ্ট থাকবে না।

-সহীহ বুখারী ১/৩৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৪০৫৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৮৩৫৯; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ২/৭১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২৩৭; আমুগনী, ইবনে কুদামা ১৩/৩৬৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমি একদা আমার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে আমাকে জানাযা...

প্রশ্ন

আমি একদা আমার বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে সেখানে আমাকে জানাযা পড়াতে হয়। জানাযা শেষে মৃত ব্যক্তির ছেলে আমাকে কিছু টাকা দিয়ে বলে, হুজুর! এ টাকা আপনাকে হাদিয়া। আমি উক্ত টাকা গ্রহণ করিনি। জানাযা পড়ানোর পরে হাদিয়া বলে এভাবে টাকা দিলে সে টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি?

উত্তর

ঐ টাকা না নিয়ে আপনি ঠিকই করেছেন। কেননা জানাযা পড়িয়ে বিনিময় নেওয়া জায়েয নয়। হাদিয়া বলে দিলেও নেওয়া যাবে না। তা মূলত জানাযা পড়ানোরই বিনিময়।

-রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়া ২/১৩৭; ইলাউস সুনান ১৬/১৭১; ইমদাদুল আহকাম ৩/৫২৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৫৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় তিন তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ আছে। মসজিদের পশ্চিমে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় তিন তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ আছে। মসজিদের পশ্চিমে মসজিদের জায়গায় বাথরুম, প্রস্রাবখানা ও লাশ রাখার ঘর বিদ্যমান। মসজিদ কমিটি বাথরুম, প্রস্রাবখানা ও লাশ রাখার ঘরের উপরে ছাদ দিয়ে তাতে ইমাম-মুয়াযযিনের পরিবার নিয়ে থাকা, পাঠাগার ও কমিটির মিটিংয়ের জন্য রুম তৈরি করতে চাচ্ছে। এটা করা বৈধ হবে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ঐ ইস্তেঞ্জা খানা ও লাশ রাখার ঘরের উপর ইমাম-মুয়াযযিনের স্বপরিবারে থাকার ব্যবস্থা করা এবং মসজিদের অফিস কক্ষ ও ইসলামী বই-পুস্তকের জন্য পাঠাগার করা জায়েয হবে। তবে ঐ অংশের জন্য আলাদা সিঁড়ি রাখা উচিত। যাতে করে মসজিদে যাতায়াতকারীদের কোনো প্রকার সমস্যা না হয়।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২১৫; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.06 render + 0.01 s transfer.