Login | Register

ফতোয়া: মৃত্যু-জানাজা

ফতোয়া নং: ৪৮৩৫
তারিখ: ১৪/৪/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

পুতুল বানিয়ে মানুষের মত জানাযা পড়ে দাফন করে কবিরাজি চিকিৎসা গ্রহন করা ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমার বোন বহুদিন যাবত একটি বড় ধরনের রুগে আক্রান্ত ৷ কোন চিকিৎসা ই কাজে আসছে না ৷ কিছু দিন আগে তাকে এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে কবিরাজ পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে বলেছে। জানার বিষয় হলো, এভাবে কবিরাজের কথা মেনে চিকিৎসা গ্রহণ করা জায়েয হবে কিনা?
উত্তর
শরীয়ত বিরোধী পদ্ধতি অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করা সম্পুর্ন নাজায়েয ৷ তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবিরাজের নির্দেশিত ঐ পদ্ধতি অনুযায়ী আমল করা কোনো ভাবেই জায়েয হবে না । কারন এতে বহু শরীয়তবিরোধী কাজ
রয়েছে। যেমন: ১৷ পুতুল বানানো, যা সম্পুর্ন নাজায়েয।
২৷ পুতুলের জানাযা পড়া। আর কোনো পুতুলের জন্য জানাযা পড়া শরয়ী হুকুমের চরম বিকৃতি, যা বিদআত হওয়ার পাশাপাশি কুফরি তুল্য গুনাহ।
এছাড়া মৃত ব্যক্তির মত করে পুতুল দাফন করা একটি গর্হিত কাজ, শরয়ী বিধানের সাথে ঠাট্টার শামিল। তাই কোনো মুমিনের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্পূর্ণ হারাম। আর এ ধরনের কবিরাজ থেকে ঝাড়-ফুঁক নেওয়া ও তদবীর গ্রহণ করাও নাজায়েয।
-সহীহ বুখারী, ১/১১২ ফাতহুল বারী ১০/২০৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; মাজমাউল আনহুর
২/৫১০৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮২১
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

দুধ সম্পর্কীয় আত্বীয়স্বজনের মিরাস ৷

প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমার বড় বোন ইন্তেকাল করেন ৷ তার কোন সন্তানাদি নাই ৷ বোন জামাইও মারা গেছে ৷
ওয়ারিশ বলতে শুধু আমরা দু’জন ভাই ও বোনের একজন দুধ মেয়ে আছে । জানার বিষয় হল, দুধ মেয়ে ওয়ারিশ হিসেবে আমার বোনের কোনো সম্পত্তি পাবে কি না?
উত্তর
ইসলামের দৃষ্টিতে দুধ সম্পর্কীয় যেসব আত্মীয়স্বজন আছে তার মীরাস তথা উত্তাধিকারি হয় না। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বোনের দুধ মেয়ে তার রেখে যাওয়া সম্পদের কোন অংশ পাবে না।
-আলবাহরুর রায়েক ৮/৪৮৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৭৯২
তারিখ: ২/১/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ব্যক্তির নামে নির্ধারিত দিনে ইসালে সাওয়াব করা ও কুরআন খতম ও দোয়া করে বিনিময় আদান প্রদান করা ৷

প্রশ্ন
আমাদের দেশে মৃত্যুবরণের পর তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, চল্লিশতম দিন এবং প্রতি বছর মৃত্যু তারিখে ঈসালে সাওয়াবের জন্য কুরআন খতম বা অন্য কোনো খতম উপলক্ষে খানার আয়োজন করা হয়। উক্ত খানা ধনীরা খেতে পারবে কিনা? মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন খতম ও দোয়া করে বিনিময় আদান প্রদান করার বিধান কি? এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
মৃত ব্যক্তির জন্য ঈসালে সাওয়াব করা শরীয়তসম্মত ও অত্যান্ত পূণ্যের কাজ। তবে আমাদের দেশে যে, নির্দিষ্ট দিন তারিখ তথা মৃত্যুর তৃতীয় দিন, সপ্তম দিন, চল্লিশতম দিন এবং প্রতি বছর মৃত্যু তারিখে যে খতম ও খানার আয়োজন করা হয়, তা সম্পূর্ণরূপে বিদ‘আত। ঈসালে সাওয়াব কোনো নির্দিষ্ট দিন তারিখে নয়, বরং সুবিধে মতো যে কোনো এক দিনে করা চাই।
ঈসালে সাওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন খতম বা অন্য কোনো খতম ও দু‘আ করিয়ে বিনিময় আদান প্রদান এবং খানা খাওয়া ও খাওয়ানো সবই নাজায়িয। তবে দুটির যে কোনো একটি করতে পারবে । হয়তো শুধু
খতম বা দু‘আ। নতুবা শুধু খানা খাওয়ানো।
আর ঈসালে সাওয়াবের খানা নফল সদকার অন্তর্ভূক্ত বিধায় ধনী-গরীব সবার জন্যই খাওয়া জায়িয আছে। তবে গরীবদেরকে খাওয়ানোতে সাওয়াব বেশি।
আল বাহরুর রায়িক ২/২৪৬, ফাতাওয়া শামী ২/২৪০, ইমদাদুল ফাতাওয়া ২/৭৭।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৭৭
তারিখ: ২৩/১২/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

লাশ দাফনের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করলে মৃত ব্যক্তি সাহস পায় ও প্রশ্নোত্তর সহজ হয় ৷

প্রশ্ন
লোক মুখে বলতে শুনা যায়, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দুআ করলে মৃত ব্যক্তি নিজে সাহস পান এবং ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হয়। তা কি ঠিক?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত কথাগুলোর প্রায় কাছাকাছি বক্তব্য নির্ভরযোগ্য হাদীসে পাওয়া যায়। এক বর্ণনায় এসেছে, দাফন শেষে মৃত ব্যক্তির কবরের পাশে কিছু সময় অবস্থান করলে তার একাকিত্বভাব দূর হয়।
আবদুর রহমান ইবনে শুমাছা আলমহরী রাহ. বলেন, আমর ইবনে আস রা. যখন মুমূর্ষ অবস্থায় ছিলেন তখন তার কাছে আমরা উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাদের বললেন, তোমরা যখন আমাকে দাফন করবে আমাকে কবরে রেখে আমার উপর পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি দিবে। এরপর একটি উট জবাই করে তার গোশত বণ্টন করতে যে পরিমাণ সময় লাগে ততটুকু সময় আমার কবরের পাশে অবস্থান করবে। যেন এর দ্বারা আমার একাকিত্বতার ভীতি দূর হয়ে যায় এবং আমি আমার রবের প্রেরিত দূতকে বুঝে-শুনে জবাব দিতে পারি।
সহীহ মুসলিম ১/৭৬, হাদীস : ১২১৷
অন্য হাদীসে এসেছে, মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর সেখানে তার মাগফিরাত ও দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে সেজন্য দুআ করা হায়৷
উসমান ইবনে আফফান রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো মাইয়্যেতকে দাফন করার পর সেখানে অবস্থান করতেন এবং বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং দুআ কর। যেন আল্লাহ তাআলা তাকে দৃঢ়তার সাথে ফেরেশতাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার তাওফীক দান করেন। কেননা সে এখনই জিজ্ঞাসিত হবে।
সুনানে আবু দাউদ ২/৪৫৯, হাদীস : ৩২১৩ বিস্তারিত দেখুনঃ ইলাউস সুনান ৮/৩৪২৷

ফতোয়া নং: ৪৭২৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নারি ও পুরুষের লাশে সুগন্ধি ব্যবহার করা৷

প্রশ্ন
মানুষ মৃত্যুর পর লাশে সুগন্ধি লাগানো হয়।
এখন জানার বিষয় হল, লাগানো শরীয়ের দৃষ্টিতে কেমন? এবং মহিলাদের লাশেও কি
সুগন্ধি লাগানো যাবে?
উত্তর
লাশে সুগন্ধি লাগানো মুস্তাহাব৷ মহিলাদের লাশেও সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব।
-মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৪১৬; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ৫৭৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৩
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭২০
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে তিন কাতার করা৷

প্রশ্ন
জানাযার নামাযে তিন কাতার করা জরুরি কিনা? অনেক জায়গায় দেখা যায়, এটাকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। তাই রেফারেন্সসহ জানালে ভাল হয়। জাযাকাল্লাহ।
উত্তর
জরুরি নয়; তবে মুসতাহাব। কেননা হাদীস শরীফে
এসেছে, মালিক ইবন হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন, যে কোন মুসলমান ব্যক্তির জন্য জীবিত মুসলমানরা তিন কাতার করে তার জানাযার নামায পড়লে, আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে
দেন ।
সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৫৮ ৷
বর্ণনাকারী বলেন, এ জন্য মালিক রহ. যখন কোন ব্যক্তির জানাযায় লোক কম দেখতেন, তখন তাদের তিন কাতারে বিভক্ত করে দিতেন। ফকীহগণ এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে জানাযার নামাযে মুসল্লি সংখ্যা কম হলেও যথাসম্ভব তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে দাঁড় করানো মুসতাহাব বলেছেন। তবে মুসল্লি সংখ্যা অধিক হলে তিনের অধিক কাতারও করা যাবে। এবং এতে সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে।
শরহুল মুসলিম নববী ৭/১৭; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৮৷
প্রয়োজনে
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭১৯
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে ১/২ তাকবীর ছুটে গেলে ছানা, দরুদ, দোয়া পড়ার নিয়ম৷

প্রশ্ন
অনেক সময় জানাযার নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পরে আসার কারণে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে যায়। পরবর্তীতে ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হওয়ার পর দুআ পড়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যাই। শুরু থেকে পড়ব নাকি ইমামের অনুসরণ করব? কখনো কখনো ইমাম কোন তাকবীরে রয়েছে জানা যায় না। মেহেরবানি করে সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে উপকার করবেন।
উত্তর
জানাযা নামাযের কিছু অংশ ছুটে গেলে জামাতে অংশগ্রহণের পর ইমাম সাহেব কয় তাকবীর দিয়েছেন এবং কোন দুআ পড়ছেন তা জানা গেলে আগন্তুক ঐ সময়ের দুআই পড়বে। আর যদি তা জানা না যায় তাহলে শুরু থেকে ধারাবাহিক নিয়মে ছানা অতপর দুরূদ ও দুআ পড়বে। অবশ্য ইমামের সালামের পর জানাযা দ্রুত উঠিয়ে নিতে লাগলে খাটনী জমিনে থাকা
অবস্থায় অবশিষ্ট তাকবীরগুলো দুআ ছাড়াই আদায় করে নিবে।
-মারাকির ফালাহ পৃ. ৩২৬; শরহুল মুনইয়া পৃ. ৫৮৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৮০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/২০০৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭০৮
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কবরের উপর ঘর তৈরি করে বসবাস করা৷

প্রশ্ন
আমার প্রশ্ন হলো, অনেক দিনের পুরোনো অথবা অল্প দিনের পুরোনো কবরের উপরে বসত বাড়ি তৈরি করা কি বৈধ হবে?
উত্তর
কবরের উপর ঘর তৈরি করে বসবাস করা নাজায়েয ও নিন্দনীয় কাজ। এ কাজের দ্বারা কবরবাসীকে অপমান করা হয়। এমনকি কবরের উপর বসাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়বে না এবং কবরের উপর বসবে না। ”
মুসলিম, হা/ ২১২২
ইবনু তায়মিয়াহ (রহ.) বলেন, ফকীহগণ এ বিষয়ে একমত যে, কবরের উপর মসজিদ,বাড়ি-ঘর ইত্যাদি করা যাবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে নিষেধ করে গিয়েছেন ।
মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২২/১৯৪-৯৫
তবে একান্ত প্রয়োজন হলে, এবং জায়গাটি কবরের জন্য ওয়াক্ফকৃত না হলে, বাড়ি-ঘর বানাতে পারবে৷ এক্ষেত্রে যদি কবর অল্প-পুরোনো বা নূতন হয় তাহলে লাশ উঠিয়ে অন্যত্র কবর স্থানান্তর করতে হবে৷
পক্ষান্তরে যদি কবর অনেক পুরাতন হয় তাহলে সেখানে মাটির নিচে পুঁতে রেখে সমান করার মাধ্যমে কবর মিটিয়ে দিয়ে উপরে বাড়ি নির্মাণ করতে পারবেন।
ফাতহুল কাদীর ২/১০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৭৫৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393



ফতোয়া নং: ৪৬৫৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

তওবা করলেই কি ধর্ষণের অপরাধ মার্জিত হয়ে যায়?

প্রশ্ন
যে লোক ধর্ষণ করেছে, সে লোক তওবা করলে তাকে যদি আল্লাহ্ ক্ষমা করে দেন, তাহলে, ধর্ষিতা কি তার উপর নির্যাতনের কোন বিচার পাবে না আখেরাতে? আমি এই সম্পর্কে চাই ? হুজুর, একজন মুসলমান হিসাবে আপনার কাছে আমার দাবি এই যে, দয়া করে আমার প্রশ্নের উত্তর গুলো দিবেন !
উত্তর
কাউকে ধর্ষণ করলে সেখানে দুইটি অপরাধ সংঘটিত হয়। একটি আল্লাহর হক। আরেকটি হল বান্দার হক। আল্লাহর হক হল জিনা করা নিষিদ্ধ। আর ধর্ষণ করার দ্বারা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এ নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে। তাই এতে লোকটি কবীরা গোনাহ করেছে। আর কবীরা গোনাহ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে কায়মানো বাক্যে সহীহ পদ্ধতিতে তওবা করার দ্বারা ক্ষমা হয়ে যায়। আরেকটি হল বান্দার হক। তথা এক্ষেত্রে ধর্ষণকারী ব্যক্তি মহিলার উপর জুলুম করেছে। যদি দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় উক্ত মহিলার কাছ থেকে ক্ষমা না চেয়ে নেয়, তাহলে জুলুমের শাস্তি আখেরাতে পাবে।
‎ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ ﺍﻟﺴُّﻮﺀَ ﺑِﺠَﻬَﺎﻟَﺔٍ ﺛُﻢَّ
‎ﻳَﺘُﻮﺑُﻮﻥَ ﻣِﻦْ ﻗَﺮِﻳﺐٍ ﻓَﺄُﻭﻟَٰﺌِﻚَ ﻳَﺘُﻮﺏُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْۗ ﻭَﻛَﺎﻥَ
‎ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠِﻴﻤًﺎ ﺣَﻜِﻴﻤًﺎ ‏[ ٤ : ١٧ ‏] ﻭَﻟَﻴْﺴَﺖِ ﺍﻟﺘَّﻮْﺑَﺔُ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻌْﻤَﻠُﻮﻥَ
‎ﺍﻟﺴَّﻴِّﺌَﺎﺕِ ﺣَﺘَّﻰٰ ﺇِﺫَﺍ ﺣَﻀَﺮَ ﺃَﺣَﺪَﻫُﻢُ ﺍﻟْﻤَﻮْﺕُ ﻗَﺎﻝَ ﺇِﻧِّﻲ ﺗُﺒْﺖُ
‎ﺍﻟْﺂﻥَ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﻤُﻮﺗُﻮﻥَ ﻭَﻫُﻢْ ﻛُﻔَّﺎﺭٌۚ ﺃُﻭﻟَٰﺌِﻚَ ﺃَﻋْﺘَﺪْﻧَﺎ ﻟَﻬُﻢْ
‎ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﺃَﻟِﻴﻤًﺎ ‏[ ٤ : ١٨ অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন,যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে,অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী,রহস্যবিদ। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে,এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়,তখন বলতে থাকেঃ আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। {সূরা নিসা-১৭-১৮}
‎ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ
‎ﻭ ﺳﻠﻢ ﻻ ﻳﻠﺞ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺭﺟﻞ ﺑﻜﻲ ﻣﻦ ﺧﺸﻴﺔ ﺍﻟﻠﻪ ﺣﺘﻰ
‎ﻳﻌﻮﺩ ﺍﻟﻠﺒﻦ ﻓﻲ ﺍﻟﻀﺮﻉ ﻭﻻ ﻳﺠﺘﻤﻊ ﻏﺒﺎﺭ ﻓﻲ ﺳﺒﻴﻞ ﺍﻟﻠﻪ
‎ﻭﺩﺧﺎﻥ ﺟﻨﻬﻢ হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসূল সা. ইরশাদ করেছেন-“যে ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে সে ব্যক্তিকে (জাহান্নামের) অগ্নি স্পর্শ করা সম্ভব নয় যদিও দোহনকৃত দুধ উলানে ফিরানো সম্ভব হয়। আর জাহান্নামের ধোঁয়া এবং আল্লাহর পথে (চলার কারণে) উড়ন্ত ধুলি কখনো একসাথে হতে পারেনা। নাসায়ী শরীফ, হাদিস নং-৩১০৮, সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং-১৬৩৩, ২৩১১, সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৪২৭৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪৩
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

দুধ মেয়ের মীরাস৷

প্রশ্ন
জনৈকা মহিলা ইন্তেকালের সময় ওয়ারিশ বলতে শুধু দু’জন ভাই ও একজন দুধ মেয়ে রেখে যান। আমাদের জানার বিষয় হল, দুধ মেয়ে ওয়ারিশ হিসেবে ঐ মহিলার কোনো সম্পত্তি পাবে কি না? কেউ বলছে পাবে আবার কেউ বলছে পাবে না। এ ব্যাপারে সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি।
উত্তর
দুধ সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজন মীরাস পায় না।
তাই দুধ মেয়ে উক্ত মৃতের রেখে যাওয়া সম্পদের কোনো হিস্যা পাবে না। -আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/২৮৩; আলবাহরুর
রায়েক ৮/৪৮৮; হাশিয়াতুত্তাহতাবী আলাদ্দুর
৪/৩৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৬২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী: জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষনবাড়িয়া৷
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নবীজী সাঃ এর পিতা মাতা কি জাহান্নামী নাকি জান্নাতি?

প্রশ্ন
জনাব,
আমি জানতে চায় যে রাসূল এর পিতা-মাতা কি কালেমা পড়েছেন / রাসূল এর প্রতি ঈমান এনেছেন নাকি ? দলিল সহকারে জানালে খুব খুশি হবো………………
উত্তর
এ বিষয়টি জেনে আপনি কী করবেন? এটা জানা কি আপনার জন্য খুবই জরুরী? এ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা অহেতুক কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। সবচে’ উত্তম হল এ বিষয় চুপ থাকা। আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন তাদের হালাত কি? এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকাই সবচে’ নিরাপদ পদ্ধতি। বিজ্ঞ উলামাগণ এ ব্যাপারে তাই চুপ রয়েছেন। আর চুপ থাকাকেই নিরাপদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি এ ব্যাপারে কথা বলাকে নাজায়েজও বলেছেন
অনেকে।
রাদ্দুল মুহতার-২/১৮৫, কাফেরকে বিবাহ করার অধ্যায়, ফাতাওয়া রহিমীয়া-৩/৫২, আপকি মাসায়েল আওর উনকা হল-১/৭২ তারপরও যেহেতু কিছু ভাই এ বিষয়ে বারবার বক্তব্য দিচ্ছেন। এটিকে মূল বানিয়ে মানুষের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আসছেন। তাই বাধ্য হয়ে আমরাও দু’কলম লিখতে বাধ্য হলাম। বাকি আল্লাহ তাআলার কাছে অযথা কথন ও লিখনের গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বিস্তারিত- রদ্দুল মুহতার-৩/১৮৫, ৪/২৩১, হাওয়ী লিলফাতওয়া-২/২০২} আসলে এ বিষয়ে ৫টি মত রয়েছে।
যথা-
১–
জাহান্নামী। যেহেতু তারা ঈমান আনতে পারেননি। [আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব কথা বলা থেকে হিফাযত করুন!]
২ –
তারা মাজুর। তাই তাদের উপর জাহান্নামের শাস্তি আসবে না।
‎ﻣَّﻦِ ﺍﻫْﺘَﺪَﻯٰ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻬْﺘَﺪِﻱ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻪِۖ ﻭَﻣَﻦ ﺿَﻞَّ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻀِﻞُّ
‎ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎۚ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺭُ ﻭَﺍﺯِﺭَﺓٌ ﻭِﺯْﺭَ ﺃُﺧْﺮَﻯٰۗ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻌَﺬِّﺑِﻴﻦَ
‎ﺣَﺘَّﻰٰ ﻧَﺒْﻌَﺚَ ﺭَﺳُﻮﻟًﺎ ‏[ ١٧ : ١٥ ] যে কেউ সৎপথে চলে,তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়,তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। [সূরা ইসরা-১৫] যেহেতু ঈসা আঃ এর পর রাসূল সাঃ এর আগমনের পূর্ব মুহুর্তে কোন নবী ছিলেন না। তাই এ সময়ে যারা ইন্তেকাল করেছেন তারা জাহান্নামী হবেন না।
৩-
কিয়ামতের ময়দানে তাদের পরীক্ষা করা হবে। সঠিক জবাব দিতে পারলে জান্নাতী হবেন। আর সঠিক জবাব দিতে না পারলে জাহান্নামী হবেন।
৪-
রাসূল সাঃ নবুওয়ত পাবার পর তাদের উভয়কে আবার জিন্দা করা হয়। তখন তারা উভয়ে ঈমান আনয়ন করেন। তারপর আবার ইন্তেকাল
করেন।
৫-
ইমাম রাজী রহঃ বলেন, রাসূল সাঃ এর পিতা মাতা মূলত মিল্লাতে ইবরাহীমীর উপর ইন্তেকাল করেছেন। তারা মুর্তিপূজা করেছেন মর্মে কোন প্রমাণ নেই। তাই তারা জান্নাতী হবেন। তাদের নামও প্রমাণ করে তারা মুশরিক ছিলেন না। যারা জাহান্নামী হবার দাবি করেন। তাদের দলীল হল মুসলিম, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের হাদীস। যাতে নবীজী সাঃ এর পিতামাতার জন্য নবীজী সাঃ এর দুআ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং রাসূল সাঃ এক সাহাবীর পিতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন যে, আমারও তোমার পিতা জাহান্নামী। এ হাদীসের জবাব হল, এটি রাসূল সাঃ বলেছেন তার পিতামাতার আসল হালাত সম্পর্কে তখন তিনি জানতেন না, তাই বলেছেন। আসলে তারা জান্নাতী। {রদ্দুল মুহতার, মুরতাদ অধ্যায়-৪/২৩১] আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ এ বিষয়ে আলাদা ৪টি পুস্তিকা লিখেছেন। ৯টি প্রবন্ধ লিখেছেন। যাতে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, রাসূল সাঃ এর পিতা মাতা জান্নাতী। জাহান্নামী নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব অপ্রয়োজনীয় ও নাজুক বিষয়ে অহেতুক আলোচনা থেকে মুক্ত থেকে তার বন্দেগী করার তৌফিক দান করুন। আমীন। এ বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন- ‎1 ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﺍﻟﻤﻨﺔ ﻓﻲ ﺃﻥ ﺃﺑﻮﻱ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﺠﻨﺔ
‎2 ﻭﻣﺴﺎﻟﻚ ﺍﻟﺤﻨﻔﺎ ﻓﻲ ﻭﺍﻟﺪﻱ ﺍﻟﻤﺼﻄﻔﻰ ‎3 ﻭﺍﻟﺪﺭﺝ ﺍﻟﻤﻨﻴﻔﺔ ﻓﻲ ﺍﻵﺑﺎﺀ ﺍﻟﺸﺮﻳﻔﺔ ‎4 ﻭﺍﻟﻤﻘﺎﻡ ﺍﻟﺴﻨﺪﺳﻴﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺴﺒﺔ ﺍﻟﻤﺼﻄﻔﻮﻳﺔ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৩৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

নবীজী সাঃ এর পিতা মাতা কি জাহান্নামী নাকি জান্নাতি?

প্রশ্ন
জনাব,
আমি জানতে চায় যে রাসূল এর পিতা-মাতা কি কালেমা পড়েছেন / রাসূল এর প্রতি ঈমান এনেছেন নাকি ? দলিল সহকারে জানালে খুব খুশি হবো………………
উত্তর
এ বিষয়টি জেনে আপনি কী করবেন? এটা জানা কি আপনার জন্য খুবই জরুরী? এ বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা অহেতুক কাজ ছাড়া আর কিছু নয়। সবচে’ উত্তম হল এ বিষয় চুপ থাকা। আল্লাহ তাআলাই ভাল জানেন তাদের হালাত কি? এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকাই সবচে’ নিরাপদ পদ্ধতি। বিজ্ঞ উলামাগণ এ ব্যাপারে তাই চুপ রয়েছেন। আর চুপ থাকাকেই নিরাপদ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমনকি এ ব্যাপারে কথা বলাকে নাজায়েজও বলেছেন
অনেকে।
রাদ্দুল মুহতার-২/১৮৫, কাফেরকে বিবাহ করার অধ্যায়, ফাতাওয়া রহিমীয়া-৩/৫২, আপকি মাসায়েল আওর উনকা হল-১/৭২ তারপরও যেহেতু কিছু ভাই এ বিষয়ে বারবার বক্তব্য দিচ্ছেন। এটিকে মূল বানিয়ে মানুষের সামনে এ বিষয়টি নিয়ে আসছেন। তাই বাধ্য হয়ে আমরাও দু’কলম লিখতে বাধ্য হলাম। বাকি আল্লাহ তাআলার কাছে অযথা কথন ও লিখনের গোনাহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। বিস্তারিত- রদ্দুল মুহতার-৩/১৮৫, ৪/২৩১, হাওয়ী লিলফাতওয়া-২/২০২} আসলে এ বিষয়ে ৫টি মত রয়েছে।
যথা-
১–
জাহান্নামী। যেহেতু তারা ঈমান আনতে পারেননি। [আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব কথা বলা থেকে হিফাযত করুন!]
২ –
তারা মাজুর। তাই তাদের উপর জাহান্নামের শাস্তি আসবে না।
‎ﻣَّﻦِ ﺍﻫْﺘَﺪَﻯٰ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻬْﺘَﺪِﻱ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻪِۖ ﻭَﻣَﻦ ﺿَﻞَّ ﻓَﺈِﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻀِﻞُّ
‎ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎۚ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺰِﺭُ ﻭَﺍﺯِﺭَﺓٌ ﻭِﺯْﺭَ ﺃُﺧْﺮَﻯٰۗ ﻭَﻣَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻣُﻌَﺬِّﺑِﻴﻦَ
‎ﺣَﺘَّﻰٰ ﻧَﺒْﻌَﺚَ ﺭَﺳُﻮﻟًﺎ ‏[ ١٧ : ١٥ ] যে কেউ সৎপথে চলে,তারা নিজের মঙ্গলের জন্যেই সৎ পথে চলে। আর যে পথভ্রষ্ট হয়,তারা নিজের অমঙ্গলের জন্যেই পথ ভ্রষ্ট হয়। কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না। কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না। [সূরা ইসরা-১৫] যেহেতু ঈসা আঃ এর পর রাসূল সাঃ এর আগমনের পূর্ব মুহুর্তে কোন নবী ছিলেন না। তাই এ সময়ে যারা ইন্তেকাল করেছেন তারা জাহান্নামী হবেন না।
৩-
কিয়ামতের ময়দানে তাদের পরীক্ষা করা হবে। সঠিক জবাব দিতে পারলে জান্নাতী হবেন। আর সঠিক জবাব দিতে না পারলে জাহান্নামী হবেন।
৪-
রাসূল সাঃ নবুওয়ত পাবার পর তাদের উভয়কে আবার জিন্দা করা হয়। তখন তারা উভয়ে ঈমান আনয়ন করেন। তারপর আবার ইন্তেকাল
করেন।
৫-
ইমাম রাজী রহঃ বলেন, রাসূল সাঃ এর পিতা মাতা মূলত মিল্লাতে ইবরাহীমীর উপর ইন্তেকাল করেছেন। তারা মুর্তিপূজা করেছেন মর্মে কোন প্রমাণ নেই। তাই তারা জান্নাতী হবেন। তাদের নামও প্রমাণ করে তারা মুশরিক ছিলেন না। যারা জাহান্নামী হবার দাবি করেন। তাদের দলীল হল মুসলিম, আবু দাউদ ও মুসনাদে আহমাদের হাদীস। যাতে নবীজী সাঃ এর পিতামাতার জন্য নবীজী সাঃ এর দুআ করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং রাসূল সাঃ এক সাহাবীর পিতা সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেছেন যে, আমারও তোমার পিতা জাহান্নামী। এ হাদীসের জবাব হল, এটি রাসূল সাঃ বলেছেন তার পিতামাতার আসল হালাত সম্পর্কে তখন তিনি জানতেন না, তাই বলেছেন। আসলে তারা জান্নাতী। {রদ্দুল মুহতার, মুরতাদ অধ্যায়-৪/২৩১] আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী রহঃ এ বিষয়ে আলাদা ৪টি পুস্তিকা লিখেছেন। ৯টি প্রবন্ধ লিখেছেন। যাতে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, রাসূল সাঃ এর পিতা মাতা জান্নাতী। জাহান্নামী নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের এসব অপ্রয়োজনীয় ও নাজুক বিষয়ে অহেতুক আলোচনা থেকে মুক্ত থেকে তার বন্দেগী করার তৌফিক দান করুন। আমীন। এ বিষয়ে আরো জানতে পড়ুন- ‎1 ﺍﻟﺘﻌﻈﻴﻢ ﻭﺍﻟﻤﻨﺔ ﻓﻲ ﺃﻥ ﺃﺑﻮﻱ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ
‎ﺍﻟﺠﻨﺔ
‎2 ﻭﻣﺴﺎﻟﻚ ﺍﻟﺤﻨﻔﺎ ﻓﻲ ﻭﺍﻟﺪﻱ ﺍﻟﻤﺼﻄﻔﻰ ‎3 ﻭﺍﻟﺪﺭﺝ ﺍﻟﻤﻨﻴﻔﺔ ﻓﻲ ﺍﻵﺑﺎﺀ ﺍﻟﺸﺮﻳﻔﺔ ‎4 ﻭﺍﻟﻤﻘﺎﻡ ﺍﻟﺴﻨﺪﺳﻴﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻨﺴﺒﺔ ﺍﻟﻤﺼﻄﻔﻮﻳﺔ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১৮
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

হারাম জিনিষ দ্বারা কবিরাজী চিকিৎসা৷

প্রশ্ন
একজন কবিরাজ চিকিৎসার জন্য তিনটি পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে বলেছে। এভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা কি জায়েয?
উত্তর
কবিরাজের নির্দেশিত ঐ চিকিৎসা পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ শরীয়তপরিপন্থী। সুতরাং তার কথা অনুযায়ী আমল করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এতে একাধিক শরীয়তবিরোধী কাজ রয়েছে। যথা- ১. পুতুল বানানো, যা নাজায়েয। হাদীসে এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা প্রতিকৃতি তৈরি করে।- সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৯৫০ ২. পুতুলের জানাযা পড়া। জানাযা শরীয়তের একটি নির্ধারিত ইবাদত, যা মৃতের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কোনো পুতুলের জন্য জানাযা পড়া শরয়ী হুকুমের চরম বিকৃতি, যা বিদআত হওয়ার পাশাপাশি কুফরি তুল্য গুনাহ। ৩. চিত্র, মূর্তি, ভাস্কর্য সামনে রেখে পূজা-অর্চনা করা মুশরিক-পৌত্তলিক সম্প্রদায়ের কাজ। পুতুল সামনে রেখে জানাযা পড়ার দৃশ্যটি সেসব শিরকী কাজের সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এভাবেই মূর্তিপূজার দ্বার উন্মোচন হয়। ৪. এছাড়া মৃত ব্যক্তির মতো করে পুতুল দাফন করা একটি গর্হিত কাজ, শরয়ী বিধানের সাথে ঠাট্টার শামিল। তাই কোনো ঈমানদারের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্পূর্ণ হারাম। আর এ ধরনের কবিরাজ থেকে ঝাড়-ফুঁক নেওয়া ও তদবীর গ্রহণ করাও নাজায়েয। -সহীহ বুখারী, ১/১১২, আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; ফাতহুল বারী ১০/২০৬; মাজমাউল আনহুর ২/৫১০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে গেলে করনীয়৷

প্রশ্ন
অনেক সময় জানাযায় নামাযে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার কারণে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে যায়। এ অবস্থায় ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হওয়ার পর দুআ পড়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যাই। শুরু থেকে পড়ব নাকি ইমামের অনুসরণ করব? কখনো কখনো ইমাম কোন তাকবীরে রয়েছে জানা যায় না। মেহেরবানি করে সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
জানাযার নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পর কেউ জামাতে শরিক হলে নিয়ম হল, ইমাম সাহেব সর্বশেষ যে তাকবীর বলেছেন নবাগত ব্যক্তি ঐ সময়ের দুআই পড়বে। আর ইমাম কোন তাকবীর বলেছেন তা জানা না গেলে সানা থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে দুআগুলো পড়বে। অতপর ইমাম সালাম ফিরিয়ে ফেললে চার তাকবীরের যে কয়টি সে ইমামের সাথে পায়নি সেই কয় তাকবীরগুলো খাটিয়া জমিন থেকে উঠানোর আগে আগে একাকি পড়ে সালাম ফিরাবে। -মারাকিল ফালাহ ৩২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৮০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫৩৪
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামায তিন তাকবীরে পড়লে করনীয়৷

প্রশ্ন
একজন ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে অবগত করার পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। নামায সহীহ হয়েছে। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অভিভাবকরা এ কথায় সন্তুষ্ট না হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরের উপর নামায পড়েছে। প্রশ্ন হল, জানাযা সহীহ হয়েছে কি না? কবরের উপর দ্বিতীয় জানাযা পড়াতে কোনো অসুবিধা হবে কি না?
উত্তর
চার তাকবীরের কম হলে জানাযা সহীহ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম জানাযা নামাযে একটি তাকবীর কম হওয়ায় সেটি আদায় হয়নি। আর পরবর্তীতে কবরকে সামনে নিয়ে যে জানাযা পড়া হয়েছে তা আদায় হয়েছে এবং শরীয়তসম্মতই হয়েছে। কারণ জানাযা ছাড়া দাফন করা হলে কিংবা আদায়কৃত নামায ফাসেদ হলে দাফনের পরও লাশ পচে যাওয়ার আগে কবরকে সামনে নিয়ে জানাযা পড়া যায়। -সহীহ বুখারী ১/১৭৭-১৭৮; সহীহ মুসলিম ১/৩০৯; উমদাতুল কারী ৮/১৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১৮
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

অমুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুর জান্নাত জাহান্নাম৷

প্রশ্ন
আল্লাহ্ কেন সকল মানুষকে মুসলিম পরিবারে জন্ম না দিয়ে হিন্দু, খ্রিস্টান প্রভৃতি অমুসলিম পরিবারে জন্ম দেন? এতে ওই শিশুর কি দোষ?
উত্তর
অমুসলিম পরিবারে কোন শিশু জন্ম নেয়া কোন অপরাধ নয়। এতে শিশুটিরও কোন দোষ নেই। এ কারণেই হাদীসে পরিস্কার বলা হয়েছে প্রতিটি শিশু যার ঔরষেই জন্ম গ্রহণ করুক না কেন, সে নাবালক থাকা অবস্থায় মুসলিমই থাকে। তারপর বড় হলে তার পিতা মাতা তাকে ইহুদী খৃষ্টান ইত্যাদি কাফির বানায়।
‎ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﺭَﺿِﻲَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ
‎ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ‏« ﻛُﻞُّ ﻣَﻮْﻟُﻮﺩٍ ﻳُﻮﻟَﺪُ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟﻔِﻄْﺮَﺓِ،
‎ﻓَﺄَﺑَﻮَﺍﻩُ ﻳُﻬَﻮِّﺩَﺍﻧِﻪِ، ﺃَﻭْ ﻳُﻨَﺼِّﺮَﺍﻧِﻪِ، ﺃَﻭْ ﻳُﻤَﺠِّﺴَﺎﻧِﻪِ، ﻛَﻤَﺜَﻞِ
‎ﺍﻟﺒَﻬِﻴﻤَﺔِ ﺗُﻨْﺘَﺞُ ﺍﻟﺒَﻬِﻴﻤَﺔَ ﻫَﻞْ ﺗَﺮَﻯ ﻓِﻴﻬَﺎ ﺟَﺪْﻋَﺎﺀَ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মগ্রহণ করে। এরপর তার মাতাপিতা তাকে ইয়াহুদী বা খৃষ্টান অথবা অগ্নি উপাসকরূপে রূপান্তরিত করে। যেমন চতুষ্পদ জন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে [জন্মগত] কানকাটা দেখেছ? [বুখারী, হাদীস
নং-১৩৮৫]
উক্ত সন্তান যদি ঐ শিশু তথা নাবালেগ অবস্থায় মারা যায়, তাহলে সে জান্নাতী হবে। কিন্তু বালেগ হবার পর, যখন তার বিবেক বুদ্ধি জাগ্রত হয়। তখন আল্লাহর দেয়া আকল দিয়ে তার রবকে চিনে নেয়া দায়িত্ব। মানুষকে আল্লাহ তাআলা অন্যান্য সকল প্রাণী থেকে আলাদা করেছেন আকল দিয়ে। মানুষ সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কারণ হল, মানুষের আকল-বুদ্ধি, বিবেক আছে। অন্য কোন প্রাণীর তা নেই। একজন সুস্থ্য বিবেক সম্পন্ন মানুষই বুঝতে পারবে যে, সামান্য একটি গাড়ি ইচ্ছেমত চলতে পারে না। নিজে নির্মিত হতে পারে না, এর জন্য নির্মাতা লাগে, গাড়ি চলতে ড্রাইভার লাগে। তো এ বিশ্ব চরাচর, এ সুবিশাল সৌর জগত, অসংখ্য গ্রহ নক্ষত্র এসব কিছুই নিজে নিজে সৃষ্টি হতে পারে না। নিশ্চয় কোন নিপূণ কারিগর তার সুনিপূণ হাতে নির্মাণ করেছেন। স্বাভাবিক বিবেকই ব্যক্তিকে এক মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব বিশ্বাসের দিকে নিয়ে যাবে। এরপর তার অনুসন্ধিৎসা সত্য ধর্ম খুঁজে নিতে সহায়তা করবে। এ কারণে প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় কোন ব্যক্তি যদি এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস করা ও তার সময়কার সত্য ধর্মের উপর ঈমান আনয়ন করা ছাড়াই মৃত্যু বরণ করে, তাহলেই কেবল সে জাহান্নামী হবে। নাবালেগ তথা শিশু অবস্থায় কাফির ব্যক্তির সন্তান মারা গেলে উক্ত শিশুর কোন শাস্তি নেই। সহীহ বুখারীর ১৩৮৬ নং বর্ণনায় একটি দীর্ঘ হাদীস এসেছে। যেখানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেরাজের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘ হাদীসের এক পর্যায়ে এসেছেঃ “আমরা চলতে চলতে একটি সবুজ বাগানে উপস্থিত হলাম। এতে একটি বড় গাছ ছিল। গাছটির গোড়ায় একজন বয়ঃবৃদ্ধ লোক ও বেশ কিছু বালক বালিকা ছিল।……..”। এর ব্যাখ্যায় পরে এসেছে-“গাছের গোড়ায় যে বৃদ্ধ ছিলেন, তিনি ইবরাহীম আলাইহি সালাম এবং তাঁর চারপাশের বালক-বালিকারা মানুষের সন্তান”। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৩৮৬, ইফাবা-১৩০৩] উক্ত হাদীসে এসেছে মানুষের শিশু সন্তানরা জান্নাতে ইবরাহীম আঃ এর কাছে থাকবে। হাদীসে শব্দ হল, মানুষ। মানুষের মাঝে মুসলিম ও বিধর্মী সবাই শামিল। এ কারণেই ইমাম নববী রহঃ বিধর্মীদের নাবালগ মৃত সন্তানদের জান্নাতী হবার বক্তব্যকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
‎ﻭﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﻭﻫﻮ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﺍﻟﺬﻯ ﺫﻫﺐ ﺍﻟﻴﻪ ﺍﻟﻤﺤﻘﻘﻮﻥ
‎ﺍﻧﻬﻢ ﻣﻦ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺠﻨﺔ ‏( ﺷﺮﺡ ﺍﻟﻨﻮﻭﻯ ﻋﻠﻰ ﺻﺤﻴﺢ ‎ﻣﺴﻠﻢ - 2/337 উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪০১
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার ইমামতির অসিয়ত করলে সে অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরী কিনা৷

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি মৃত্যুর আগে এই অসিয়ত করেছিল যে, তার জানাযা নামায তার নাতী
পড়াবে। কিন্তু নাতীর পৌঁছতে দেরি করায় মৃত
ব্যক্তির ছেলে জানাযা পড়ায়। প্রশ্ন হল, অসিয়ত ভঙ্গ করে ছেলের নামায পড়ানো কি ঠিক হয়েছে? উল্লেখ্য, মৃত ব্যক্তির ছেলেও নামায পড়ানোর যোগ্যতা রাখেন।
উত্তর
কারো ব্যাপারে জানাযার ইমামতির অসিয়ত করলে সে অসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি নয়; বরং মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ানোর ব্যাপারে শরীয়ত যাদেরকে
প্রাধান্য দিয়েছে তারাই এর বেশি হকদার। অবশ্য
হকদার ব্যক্তি যদি মৃতের অসিয়তকৃত ব্যক্তি বা
অন্য কাউকে ইমামতির অনুমতি দেয় তবে সেটারও সুযোগ আছে। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মৃতের অভিভাবক হিসেবে ছেলের জানাযা পড়ানো নিয়মসম্মতই হয়েছে।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/২২১; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/৭৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; হাশিয়াতুত তহতাবী
আলাল মারাকী ৩২৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৩৭৭৯
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একজন কবিরাজ চিকিৎসার জন্য তিনটি পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা...

প্রশ্ন
একজন কবিরাজ চিকিৎসার জন্য তিনটি পুতুল বানিয়ে মানুষের মতো জানাযা পড়িয়ে দাফন করতে বলেছে। এভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করা কি জায়েয?
উত্তর
কবিরাজের নির্দেশিত ঐ চিকিৎসা পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ শরীয়তপরিপন্থী। সুতরাং তার কথা অনুযায়ী আমল করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এতে একাধিক শরীয়তবিরোধী কাজ রয়েছে। যথা- ১. পুতুল বানানো, যা নাজায়েয। হাদীসে এ বিষয়ে কঠিন সতর্কবাণী এসেছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদের, যারা প্রতিকৃতি তৈরি করে।-সহীহ বুখারী, হাদীস :৫৯৫০ ২. পুতুলের জানাযা পড়া। জানাযা শরীয়তের একটি নির্ধারিত ইবাদত, যা মৃতের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে বিশেষ পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কোনো পুতুলের জন্য জানাযা পড়া শরয়ী হুকুমের চরম বিকৃতি, যা বিদআত হওয়ার পাশাপাশি কুফরি তুল্য
গুনাহ।
৩. চিত্র, মূর্তি, ভাস্কর্য সামনে রেখে পূজা-অর্চনা করা মুশরিক- পৌত্তলিক সম্প্রদায়ের কাজ। পুতুল সামনে রেখে জানাযা পড়ার দৃশ্যটি সেসব শিরকী কাজের সঙ্গেই সাদৃশ্যপূর্ণ। আর এভাবেই মূর্তিপূজার দ্বার উন্মোচন হয়। ৪. এছাড়া মৃত ব্যক্তির মতো করে পুতুল দাফন করা একটি গর্হিত কাজ, শরয়ী বিধানের সাথে ঠাট্টার শামিল। তাই কোনো ঈমানদারের জন্য এ পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্পূর্ণ হারাম। আর এ ধরনের কবিরাজ থেকে ঝাড়-ফুঁক নেওয়া ও তদবীর গ্রহণ করাও নাজায়েয। -সহীহ বুখারী, ১/১১২, হাদীস : ৪৩৪; আলইলাম, ইবনে হাজার হায়তামী ২/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭০; ফাতহুল বারী ১০/২০৬;
ফতোয়া নং: ৩৭৫০
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমরা জানি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা জায়েয...

প্রশ্ন
আমরা জানি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা জায়েয নেই। কিন্তু সেদিন আমাদের এলাকার এক লোক বললেন, ভক্তি- শ্রদ্ধার জন্য পীর সাহেবকে বা মাজারে সিজদা করা জায়েয। তার এ কথা কতটুকু ঠিক? দয়া করে কুরআন- হাদীসের দলিল-প্রমাণসহ জানাবেন।
উত্তর
সিজদার উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা সম্পূর্ণ হারাম। তা যে উদ্দেশ্যই হোক না কেন। আর ইবাদতের উদ্দেশ্যে কাউকে সিজদা করলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। গাইরুল্লাহকে সিজদা করা যে হারাম তা কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলিলাদি দ্বারা প্রমাণিত। অতএব যারা বলে, ভক্তি-শ্রদ্ধার উদ্দেশ্যে পীর সাহেবকে বা মাজারে সিজদা করা জায়েয তাদের এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিম্নে কুরআন-হাদীসের কয়েকটি দলিল উল্লেখ করা হল। ১। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
‎ﻭَّ ﺍَﻥَّ ﺍﻟْﻤَﺴٰﺠِﺪَ ﻟِﻠّٰﻪِ ﻓَﻠَﺎ ﺗَﺪْﻋُﻮْﺍ ﻣَﻊَ ﺍﻟﻠّٰﻪِ ﺍَﺣَﺪًﺍۙ
নিশ্চয়ই সিজদার স্থানসমূহের মালিক আল্লাহ তাআলা। অতএব তোমরা তার সাথে কারো ইবাদত করো না। -সূরা জিন (৭২) : ১৮ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে জুবায়ের, আতা, তলক ইবনে হাবীব প্রমুখ মুফাসসিরগণ বলেন, উক্ত আয়াতের সিজদার স্থানসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য সিজদার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। অর্থাৎ এগুলোর মালিক আল্লাহ। অতএব এগুলো দ্বারা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করো না। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬৭6. ২। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলার অভিশাপ ইহুদী-নাসারাদের উপর। তারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৯০ ৩। হযরত জুনদুব রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের তিনদিন আগে বলতে শুনেছি, সাবধান! তোমরা কবরকে সিজদার স্থান বানিও না। আমি তোমাদেরকে তা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করছি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩২ -সূরা জিন : ১৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬৭৬; তাফসীরে কুরতুবী ১৯/১৪; তাফসীরে রুহুল মাআনী ২৯/৯১; সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬৮;
ফতোয়া নং: ৩৭৪৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে তিন কাতার করার হুকুম কী? এটা কি সুন্নত-মুস্তাহাব...

প্রশ্ন
জানাযার নামাযে তিন কাতার করার হুকুম কী?
এটা কি সুন্নত-মুস্তাহাব কিছু বা এতে কি বিশেষ
কোনো ফযীলত আছে?
উত্তর
হাদীস শরীফে এসেছে, মালেক ইবনে হুবায়রা রা.
থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো মুসলমান
মারা যাওয়ার পর তার জানাযায় যদি তিন কাতার
মুসলমান শরিক হয় তাহলে তার জন্য (জান্নাত)
অবধারিত। সুনানে তিরমিযী, সুনানে আবু দাউদসহ
বহু হাদীস গ্রন্থে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। রেওয়াতে এটাও আছে যে, বর্ণনাকারী মালেক
ইবনে হুবায়রা রা. যখন দেখতেন লোক সংখ্যা অল্প
তখন তাদেরকে (উপস্থিত লোকদেরকে) তিন কাতার করে দিতেন। ফকীহগণ এ সংক্রান্ত হাদীসের আলোকে জানাযার নামাযে মুসল্লি সংখ্যা কম হলেও যথাসম্ভব তাদেরকে তিন কাতারে বিভক্ত করে
দাঁড় করানো উত্তম বলেছেন। তবে মুসল্লি সংখ্যা
অধিক হলে তিনের অধিক কাতারও করা যাবে। এবং এতে সেই ফযীলতও পাওয়া যাবে৷ -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩১৫৮; জামে তিরমিযী,
হাদীস ১০২৮; শরহুল মুসলিম নববী ৭/১৭; শরহুল মুনইয়াহ
৫৮৮; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬১৩; আলহাদিয়্যাতুল
আলাইয়্যাহ ১২৩
ফতোয়া নং: ৩৭৪০
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের বাড়ির পাশে ১৯৬৮ সালে আমার দাদিকে কবর দেওয়া হয়।...

প্রশ্ন
আমাদের বাড়ির পাশে ১৯৬৮ সালে আমার দাদিকে কবর
দেওয়া হয়। বর্তমানে যথাযথভাবে সুরক্ষা সম্ভব হচ্ছে
না। এখন কবরটিকে ভেঙে তার উপর বসবাসের
উদ্দেশ্যে কোনো ঘর নির্মাণ করা বৈধ হবে কি না?
দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কবরটি অনেক পুরনো হয়ে
যাওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই যেহেতু
প্রবল এবং প্রশ্নের বর্ণনা থেকে বোঝা যাচ্ছে
যে, কবরটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায় অবস্থিত তাই
কবরটিকে সমান করে দিয়ে তার উপর ঘরবাড়ি নির্মাণ করা এবং
সেখানে বসবাস করা জায়েয হবে।
তবে কবরটি যদি ওয়াকফিয়া জায়গায় হত তাহলে পুরাতন হলেও
তাতে অন্য কিছু করা জায়েয হত না।
-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫;
তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩; খানিয়া
৩/৩১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭০-৪৭১

ফতোয়া নং: ৩৭১৩
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযা নামাযে সালাম ফিরানোর সময় লক্ষ্য করা যায় যে, অনেকে...

প্রশ্ন
জানাযা নামাযে সালাম ফিরানোর সময় লক্ষ্য করা যায় যে, অনেকে এক সালামে এক হাত করে দুই সালামে দুই হাত ছেড়ে দেয়। এর সঠিক পদ্ধতি দলিলসহ বর্ণনা করলে উপকৃত হব।
উত্তর
জানাযা নামাযে সালাম ফিরানোর সময় হাত কখন ছাড়বে- এ সম্পর্কে ফিকহবিদগণ থেকে দুই ধরনের মত রয়েছে। একটি মত হল, চতুর্থ তাকবীর বলার পর উভয় হাত ছেড়ে দিবে এবং এরপর সালাম ফিরাবে। আরেকটি মত হল, উভয় সালাম ফিরানো পর্যন্ত হাত বেঁধে রাখবে। সালাম ফিরানোর পর উভয় হাত ছেড়ে দিবে। সুতরাং জানাযা নামাযে সালাম ফিরানোর সময় উপরোক্ত যে কোনো পদ্ধতিই অবলম্বন করা যেতে পারে। আর প্রশ্নে যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে ফিকহী দৃষ্টিকোণ থেকে তা ঠিক মনে হয় না। -খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৫; আসসিআয়াহ ২/১৫৯; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ১/২৫০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৭-৪৮৮
ফতোয়া নং: ৩৭১১
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) মায়্যেতের গোসলদাতা ও দাফনকার্য সম্পাদনকারী যেমন, কবর খননকারী, বাঁশ...

প্রশ্ন
ক) মায়্যেতের গোসলদাতা ও দাফনকার্য সম্পাদনকারী যেমন, কবর খননকারী, বাঁশ কর্তনকারী ইত্যাদি লোকদেরকে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কোনো বিনিময় দেওয়া যাবে কি না? খ) মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়- চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্রের হুকুম কী? গ) মাইয়্যেতের দাফনকার্য শেষ হলে কবরের পাশে অবস্থান করে কী কী আমল করা যেতে পারে?
উত্তর
ক) হাঁ, মায়্যেতের গোসলদাতা, কবর খননকারী ও তার সহযোগীদেরকে বিনিময় দেওয়া জায়েয। তবে এসব কাজ বিনিময়হীনভাবে করাই উত্তম। খ) মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়, আসবাবপত্রও মীরাসের অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলোও মীরাসের নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে। তবে সকল ওয়ারিশ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগুলো দান করে দিতে চায় তবে তাও জায়েয
আছে।
গ) মায়্যেতের দাফন শেষে কবরের পাশে অবস্থান করে নিম্নের আমলগুলো করার কথা হাদীসে এসেছে। ১। মৃতের মাগফিরাতের জন্য এবং
কবরের সওয়ালের জওয়াবে অটল থাকার জন্য দুআ করা। হযরত উসমান রা.
থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃতের দাফনকার্য সম্পন্ন করতেন তখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করো এবং (সওয়ালের-
জওয়াবে) অটল থাকার জন্য দুআ করো। কেননা এখনই তাকে
জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২১৩
২। মৃতের মাথার দিকে অবস্থান
করে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষের কিছু অংশ তিলাওয়াত করবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. লাশ দাফনের পর তার মাথার দিকে অবস্থান করে সূরা বাকারার শুরু এবং
শেষের অংশ পড়া পছন্দ করতেন। -সুনানে বায়হাকী ৪/৫৬
ফতোয়া নং: ৩৭০৯
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। আমার প্রশ্ন হল, আমাদের এলাকার...

প্রশ্ন
আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। আমার প্রশ্ন হল, আমাদের এলাকার সামাজিক কবরস্থানটা মুর্দা দাফন দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এখন কি এ কবরস্থানে মাটি সংস্কার করে আবার মুর্দা দাফন করা যাবে? এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। কেউ বলছে, কবরস্থানে মাটি সংস্কার করে আবার দাফন করা যাবে। আবার কেউ বলছে, এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানের ব্যবস্থা করে সেখানে দাফন করবে। দয়া করে এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম জানিয়ে বাধিত করবেন। আমরা শরয়ী সমাধানের প্রতীক্ষায় আছি।
উত্তর
কবর পুরাতন হওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হলে সেখানে নতুন কবর দেওয়া জায়েয আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের ঐ কবরস্থানের পুরাতন কবরের এলাকায় সংস্কার করে সেখানে নতুন করে কবর দেওয়া যাবে। অবশ্য কবর খননের সময় সেখানে কোনো হাড্ডি ইত্যাদি পাওয়া গেলে তা কবরের এক পাশে বা ভিন্ন স্থানে দাফন করে দিবে। তবে কম সময়ের কবর, যেগুলোতে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হয়নি সেখানে বিশেষ ওজর ছাড়া নতুন করে কবর দেওয়া যাবে না। -তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৯৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩
ফতোয়া নং: ৩৭০৮
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর কিছু মুসল্লি বলাবলি করছে যে, ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলেছেন। ইমাম সাহেব নিশ্চিতভাবে বলছেন যে, তিনি চার তাকবীরই বলেছেন। এভাবে তিন দিন গত হয়েছে। এখন এ ব্যাপারে আমাদের কোনো করণীয় আছে কি না জানাবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চার তাকবীর বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে ইমাম সাহেব যেহেতু নিশ্চিত তাই তাঁর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে এবং উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। এছাড়া মুসল্লিদের মাঝে সংশয় থাকলে তৎক্ষণাতই বলা কর্তব্য ছিল। তা না করে দাফনের পর বলাটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এখন এ নিয়ে বিতর্ক ও সন্দেহে লিপ্ত হওয়া ঠিক হবে না। -আলবাহরুর রায়েক ২/১০৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৪
ফতোয়া নং: ৩২৭৪
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একজন ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম...

প্রশ্ন
একজন ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে অবগত করার পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। নামায সহীহ হয়েছে। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অভিভাবকরা এ কথায় সন্তুষ্ট না
হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরের উপর নামায পড়েছে। প্রশ্ন হল, জানাযা সহীহ হয়েছে কি না? কবরের উপর দ্বিতীয় জানাযা পড়াতে কোনো অসুবিধা হবে কি না?
উত্তর
চার তাকবীরের কম হলে জানাযা সহীহ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথম জানাযা নামাযে একটি তাকবীর কম হওয়ায় সেটি আদায় হয়নি। আর পরবর্তীতে কবরকে সামনে নিয়ে যে জানাযা পড়া হয়েছে তা আদায় হয়েছে এবং শরীয়তসম্মতই হয়েছে। কারণ জানাযা ছাড়া দাফন করা হলে কিংবা আদায়কৃত নামায ফাসেদ হলে দাফনের পরও লাশ পচে যাওয়ার আগে কবরকে সামনে নিয়ে জানাযা পড়া যায়।
-সহীহ বুখারী ১/১৭৭-১৭৮; সহীহ মুসলিম ১/৩০৯; উমদাতুল কারী ৮/১৩৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২২৪
ফতোয়া নং: ৩২৭১
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমার বড় ভাই ইন্তেকাল করেছেন। মেঝ ভাই ঢাকা...

প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমার বড় ভাই ইন্তেকাল করেছেন। মেঝ ভাই ঢাকা থাকেন। তার দিকে লক্ষ্য করেই জানাযার সময় ঠিক করা হয়, কিন্তু তিনি
নির্ধারিত সময়ে পৌঁছতে
পারেননি। তার জন্য অপেক্ষা করতে চাইলে লোকজন বিরক্তিবোধ করে। তাই আমি জানাযা পড়িয়ে দিই।
মেঝ ভাইও আলেম। তার সাথে জানাযা পড়ার জন্য অনেকেই প্রথম জানাযায় শরীক হয়নি। জানাযা শেষ হওয়ার পাঁচ-সাত মিনিট পর মেঝ ভাই পৌঁছে যান। তখন যারা প্রথম জানাযায় শরীক হয়নি তারা মেঝ ভাইকে দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ানোর জন্য খুবই জোর করে। কিন্তু মেঝ ভাই তা করেননি। ফলে লোকজন তার সাথে খুবই রাগ করেন এবং এ বিষয়কে কেন্দ্র করে এলাকার মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে যায়। এখন জানার বিষয় হল, আমার জন্য কি মেঝ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে মৃত বড় ভাইয়ের জানাযা পড়ানো ঠিক বা জায়েয হয়েছে? আর মেঝ ভাইয়ের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অধিকার ছিল কি না? তিনিও তো বড় ভাইয়ের ওলি এবং আমার চেয়ে যোগ্যও বেশি।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে আপনার মেঝ ভাই যেহেতু উপস্থিত হতে পারেনি তাই আপনার জন্য জানাযা পড়ানো ঠিক হয়েছে এবং জায়েযও হয়েছে। আর
এক্ষেত্রে মেঝ ভাইয়ের দ্বিতীয়বার জানাযা না
পড়াও শরীয়তসম্মত হয়েছে। কেননা মৃতের এক ভাইয়ের উপস্থিতিতে জানাযা পড়া
হয়ে গেলে অন্য ভাইয়ের জন্য দ্বিতীয়বার জানাযা পড়ার অধিকার থাকে না।
-আদ্দুররুল মুখতার ২/২২০, ২/২২৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৭৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬২-৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪
ফতোয়া নং: ৩২৬৩
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় কেউ মারা গেলে মৃত্যু উপলক্ষ্যে বিবাহের ন্যায় খাবারের...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় কেউ মারা গেলে মৃত্যু উপলক্ষ্যে বিবাহের ন্যায় খাবারের আয়োজন করা হয় এবং জানাযার পর এলান করা হয় যে, খাবার না খেয়ে কেউ যেন না যায়। শরীয়তের দৃষ্টিতে মৃতের বাড়িতে এমন আয়োজন করার বিধান কী? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
কেউ মারা গেলে মৃতের বাড়িতে দাওয়াতের আয়োজন করা বিদআত। সাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকেই এটিকে নিষিদ্ধ ও মন্দ কাজ গণ্য করা হত। হযরত জাবির বিন আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমরা মৃতের দাফন কার্য শেষ হওয়ার পর তার বাড়িতে একত্রিত হওয়া এবং (আগতদের জন্য) খাবারের আয়োজন করাকে নিয়াহা (নিষিদ্ধ পন্থায় শোক পালন) এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতাম। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৬৯০৫ এ ভিত্তিতে ফুকাহায়ে কেরাম এটিকে বিদআত বলেছেন। কেননা দাওয়াতের আয়োজন তো করা হয় কোনো আনন্দ উৎসবের সময়, কোনো বেদনার মুহূর্তে নয়। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নত তো হল মৃতের পরিবার- পরিজনদের জন্য প্রতিবেশীর পক্ষ থেকে খাবারের ব্যবস্থা করা, যেন তাদেরকে মৃতের জন্য ব্যস্ততা ও শোকাহত থাকার কারণে অনাহারে থাকতে না হয়। আর প্রশ্নোক্ত কাজটি এর সম্পূর্ণ উল্টো ও বিপরীত। তাই এর থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৬১২; ফাতহুল কাদীর ২/১০২; রদ্দুল মুহতার ২/২৪০; ইলাউস সুনান ৮/৩২৯
ফতোয়া নং: ৩২৫০
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মুসলিম, যারা কালিমা পড়েছে কিন্তু পরবর্তী জীবনে ঠিকমতো ইবাদত করেনি।...

প্রশ্ন
মুসলিম, যারা কালিমা পড়েছে কিন্তু পরবর্তী জীবনে ঠিকমতো ইবাদত করেনি। যেমন কখনো কখনো নামায পড়েছে, আবার পড়েনি। তারা কি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে? নাকি আযাবের পর জান্নাত লাভ করবে?
উত্তর
যেসব ঈমানদার ইসলামের বিধি- নিষেধ পুরোপুরি মেনে চলেনি এবং গুনাহ থেকে তওবা না করে মৃত্যুবরণ করেছে তাদেরকে আল্লাহ তাআলা আপন অনুগ্রহে ক্ষমাও করে দিতে পারেন অথবা তাদের কৃতকর্মের কারণে শাস্তিও দিতে পারেন। তবে গুনাহের কারণে তারা জাহান্নামে গেলেও চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না; বরং এক সময় আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ঈমানের কারণে নিজ অনুগ্রহে জান্নাত দিবেন। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তার সাথে শিরক করা ক্ষমা করবেন না। তবে এছাড়া অন্যান্য গুনাহ যার জন্য ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। আর যে কেউ আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করল সে মারাত্মক অপবাদ আরোপ
করল।
-সূরা নিসা : ৪৮ হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এ বিশ্বাসের উপর মৃত্যুবরণ করবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৬ অপর হাদীসে আছে, আবু সায়ীদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতবাসীরা জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। অতপর আল্লাহ তাআলা (ফেরেশতাদেরকে) বলবেন,
যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে তাকে জাহান্নাম হতে বের
করে আনো। তারপর তাদেরকে এমন অবস্থায় বের করা হবে যে, তারা (পুড়ে) কালো হয়ে গেছে। অতপর তাদেরকে বৃষ্টির নদীতে বা হায়াতের নদীতে নিক্ষেপ করা হবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে। যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখতে পাও না,সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের বক্র হয়ে
গজায়?
-সহীহ বুখারী, হাদীস ২২; উমদাতুল কারী ১/১০৪;আলফিকহুল আকবার ৫৭
ফতোয়া নং: ৩২২৩
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

বর্তমান সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়-স্বজনদের...

প্রশ্ন
বর্তমান সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, কারো মৃত্যু হলে নিকটাত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতির জন্য মাইয়েতের গোসল, কাফন-দাফন, জানাযা ইত্যাদি বিলম্ব করা হয়। জানার বিষয় হল, মাইয়েতের নিকটাত্মীয়ের জন্য কাফন- দাফন বিলম্ব করা যেতে পারে কি না এবং এভাবে প্রচলিত নিয়মে বিলম্ব করা বৈধ হবে কি না? উত্তর প্রদান করে উপকৃত করার আবেদন রইল।
উত্তর
কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার গোসল, কাফন, জানাযা ও দাফনের কাজ যথাসম্ভব দ্রুত সম্পাদন করা উচিত। হাদীস শরীফে এ বিষয়ে বিশেষভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আর মৃতের নিকটাত্মীয়, বন্ধু- বান্ধব ও পাড়া প্রতিবেশীদেরকে তার মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া মুস্তাহাব। যাতে তারা জানাযায় শরিক হতে পারে। তবে কোনো আত্মীয়ের উপস্থিতি বা তাদের দেখানোর জন্য মৃতের দাফনে বিলম্ব করা অনুচিত। বিশেষ করে বর্তমান সমাজে প্রচলিত প্রথা-আত্মীয় স্বজন যত দূরেই থাকুক, মৃতের মুখ দেখানোর অপেক্ষায় গোসল, কাফনদাফন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিনও বিলম্ব করা হয়-যা কোনো ক্রমেই শরীয়তসম্মত নয়। -সহীহ বুখারী ১/১৭৫; ফাতহুল বারী ৩/২১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১
ফতোয়া নং: ৩০০৪
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকার কিছু লোক স্টিমারে করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল। সাগরের মাঝে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকার কিছু লোক স্টিমারে করে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল। সাগরের মাঝে গিয়ে তাদের একজন মৃত্যুবরণ করে। এ অবস্থায় তাদের করনীয় কী-তা তাদের জানা ছিল না। তাই তারা ঐ মৃত ব্যক্তিকে নাকি সাগরে ফেলে দেয়। তাই এখন আমার জানার বিষয় হল, সাগরের মাঝে কেউ এভাবে মারা গেলে তার কাফন-দাফন সম্পর্কে শরীয়তের বিধান কী?
উত্তর
নদী ও সমুদ্রপথে কেউ মারা গেলে সেক্ষেত্রে করণীয় হল, নৌযানের অবস্থান যদি তীরের নিকটবর্তী হয় এবং তাতে অবতরণ করাও সম্ভব হয় অথবা লাশের মধ্যে কোনো পরিবর্তন ঘটার আগে আগে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা যায় তাহলে তাকে যথানিয়মে ভূমিতেই দাফন করতে হবে। আর যদি ভূমিতে অবতরণ করার আগেই লাশের মধ্যে পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা থাকে তাহলে এক্ষেত্রে নৌযানেই তার গোসল, কাফন এবং জানাযা নামায সম্পন্ন করা হবে। এরপর লাশ পানিতে ছেড়ে দিবে। এক্ষেত্রে সম্ভব হলে তার গায়ে কোনো ভারি বস্তু, যেমন পাথর ইত্যাদি বেঁধে দিবে যেন লাশ পানিতে ভেসে না থাকে বরং নিচে চলে যায়। -ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া
৩/৮৯
ফতোয়া নং: ২৮৩২
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে রেওয়াজ আছে যে, কোনো ব্যক্তির ইন্তেকাল হলে...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় ব্যাপকভাবে রেওয়াজ আছে যে, কোনো ব্যক্তির ইন্তেকাল হলে তার পরিবার খতমে কুরআন বা খতমে তাহলীলের ব্যবস্থা করে। এবং যারা পড়ে তাদের জন্য খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করা হয়। আবার অনেক সময় টাকাও দেওয়া হয়।
জানার বিষয় হল, মৃতের উদ্দেশ্যে তাহলীল খতম পড়ে বা কুরআন তিলাওয়াত করে টাকা নেওয়া বা খাবার খাওয়া বৈধ হবে কি? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর
ঈসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করে কিংবা কালিমা তায়্যিবা বা কোনো যিকির করে কোনো ধরনের বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয নেই। হাদীস শরীফে এসেছে, আবদুর রহমান ইবনে শিবল রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা কুরআনের বিনিময় গ্রহণ করো না এবং এর দ্বারা সম্পদ বৃদ্ধি করো না।-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৫৫২৯
অন্য বর্ণনায় এসেছে, হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তোমরা কুরআন পড়ো এবং বিনিময় আল্লাহ তাআলার কাছে চাও। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কুরআন পড়ে মানুষের কাছে বিনিময় চাইবে। -মুসনাদে আহমাদ,হাদীস : ১৯৯১৭
আরেক বর্ণনায় আছে, তাবেয়ী যাযান রাহ. বলেন, যে ব্যক্তি কুরআন পড়ে মানুষ থেকে এর বিনিময় গ্রহণ করে সে যখন হাশরের মাঠে
উঠবে তখন তার চেহারায় কোনো গোশত থাকবে না। শুধু হাড্ডি থাকবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৮২৪
উক্ত হাদীসসমূহের আলোকে ফকীহগণ
বলেন, কোনো কিছুর বিনিময়ে ঈসালে সওয়াবের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করলে কিংবা কোনো যিকির করলে কোনো সওয়াব হবে না। বরং বিনিময় নিয়ে পড়ার কারণে টাকাদাতা ও গ্রহীতা উভয়ে গুনাহগার হবে।
উল্লেখ্য, যদি শুধু তিলাওয়াতকারী বা তাহলীল পাঠকারীর জন্যই খাবারের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে তা বিনিময় হিসেবে গণ্য হবে এবং পাঠকারীর জন্য তা খাওয়া নাজায়েয হবে। আর যদি ব্যাপকভাবে দাওয়াতের আয়োজন করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে খতম পাঠকারীদের জন্য খাবার খাওয়াটা বিনিময় হিসেবে গণ্য হবে না।
-মুসনাদে আহমাদ, হাদীস : ১৫৫২৯, ১৯৯১৭; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৭৮২৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৫৬; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫/২৬০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/৫৩; আলমুহীতুল বুরহানী
২৩/৪১
ফতোয়া নং: ২৮২৪
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার বোনের শাশুড়ি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে আমার...

প্রশ্ন
আমার বোনের শাশুড়ি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর আগে আমার বোনকে বলেছিলেন, বৌ, আমার গলার হারটা তুমি নাও। আমার বোন তখন নেয়নি। বলেছিল, আম্মা, এখন রাখেন। পরে নিব। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি ইন্তেকাল করেন।
এখন তার মেয়েরা বলছে যে, আম্মা ভাবিকে কখনো
এমন কথা বলেনি। সুতরাং ভাবি এটা নিতে পারবে না। আমার প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় ঐ হারটি কি আমার বোন পাবে?
উত্তর
হেবাকৃত বস্তু হস্তগত করার পূর্বে তাতে
মালিকানা সাব্যস্ত হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত
ক্ষেত্রে আপনার বোনের শাশুড়ি যদি তাকে ঐ হারটি নেওয়ার কথা বলেও থাকেন তবুও সে ঐ
হারটির মালিক হবে না। কেননা প্রশ্নের বর্ণনা
অনুযায়ী আপনার বোন ঐ হারটি তখন গ্রহণ
করেনি এবং পরবর্তীতে শাশুড়ির জীবদ্দশাতেও তা
নেয়নি। তাই ঐ হারটি মরহুমার মীরাছের অন্তর্ভুক্ত হবে। সকল ওয়ারিশ তাদের অংশ অনুযায়ী এর মালিক হবে। -শরহুল মাজাল্লাহ ৩/৩৬২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৯০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৩৭৪
ফতোয়া নং: ২৮১৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কোনো বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পদ্ধতি কী হতে পারে? যখন তাকে...

প্রশ্ন
কোনো বেওয়ারিশ লাশ দাফনের পদ্ধতি কী হতে পারে? যখন তাকে চেনার
কোনো উপায় থাকে না যে সে মুসলমান, নাকি ভিন্ন ধর্মের?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মুসলিম হওযার বাহ্যিক কোনো নিদর্শন পাওয়া গেলে যেমন নাম পোশাক ইত্যাদি কিংবা শারীরিক নিদর্শন যেমন খতনা ইত্যাদি থাকলে মুসলমানের লাশের মত আচরণ করতে হবে। অর্থাৎ
মুসলমানের লাশের মতই গোসল দিবে এরপর
কাফন-জানাযা শেষে মুসলমানদের কবরস্থানেই দাফন করবে। আর যদি মুসলিম হওয়ার বাহ্যিক বা শারীরিক কোনো নিদর্শনই পাওয়া না যায় তাহলে মুসলমানদের এলাকায় এ ধরনের লাশ পাওয়া গেলে তাকেও মুসলমান গণ্য করা হবে এবং মুসলমানের লাশের মতই গোসল-জানাযা ও
দাফন করবে। আর যদি এ ধরনের নিদর্শনহীন লাশ অমুসলিমদের এলাকায় পাওয়া যায়
তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে গোসল দিয়ে কোনোরকম কাফন পরাবে। তবে তার জানাযা পড়বে না। অতপর অমুসলিমদের কবরস্থানে
তাকে দাফন করবে। -আলবাহরুর রায়েক ২/১৭৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/১০১; শরহুল মুনইয়া ৬০৬
ফতোয়া নং: ২৩৪৬
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা...

প্রশ্ন
জানাযার নামাযে নিয়ত করার সময় মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা কি নির্ধারণ করা আবশ্যক। মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা কেউ যদি তা না-ই জানে তবে তার জানাযা কি সহীহ হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
জানাযা আদায়ের জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানা জরুরি নয়। কারো যদি তা জানা না থাকে; বরং শুধু সামনে রাখা মৃত ব্যক্তির জানাযার নিয়ত করে তাহলেও জানাযার নামায সহীহ হয়ে যাবে। অবশ্য জানাযার প্রসিদ্ধ দুআ ছাড়াও কিছু দুআ এমন আছে, যেগুলোর জন্য মৃত ব্যক্তি পুরুষ না মহিলা তা জানার প্রয়োজন হয়। তাই জানাযার আগে এ বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া উচিত। -আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; শরহুল মুনইয়াহ ২৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬৭, ১৬৪; রদ্দুল মুহতার ১/৪২৩
ফতোয়া নং: ২৩২৫
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের পাশের ঘরে একজন মহিলা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর...

প্রশ্ন
কিছুদিন আগে আমাদের পাশের ঘরে একজন মহিলা ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর সময় তার পেটে নয় মাসের সন্তান ছিল। সন্তান জীবিত আছে এ সন্দেহে ডাক্তার তার অপারেশন করেন। কিন্তু পেটের ভেতরেই সন্তানকে মৃত পাওয়া গেছে। তাই তা আর বের না করে সেলাই করে দেন। অতপর তার আত্মীয়-স্বজন তার গর্ভের ঐ সন্তানসহ তাকে কাফন-দাফন করে দেয়। জানার বিষয় হল,
মহিলা গর্ভবতী অবস্থায় মারা গেলে শরীয়তের
বিধান কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় কোনো মহিলা মারা গেলে দেখতে হবে সন্তান জীবিত আছে কি না? যদি জীবিত থাকে তবে দ্রম্নত অপারেশন করে তা বের করতে হবে। অতপর মৃতের গোসল ও কাফন- দাফন সম্পন্ন করতে হবে। আর গর্ভের সন্তান মৃত হলে গর্ভসহই মৃতকে দাফন
করে দিতে হবে। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় গর্ভস্থ
সন্তানটি মৃত হওয়ার কারণে এ অবস্থায় রেখে দাফন করাটা ঠিক হয়েছে। -আততাজনীস ২/২৪৫-২৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাদ্দুর ১/৩৮২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৮

ফতোয়া নং: ২৩১৫
তারিখ: ১/১১/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত ১০ বছর পূর্বে আমার আববার ইন্তেকাল হয়েছে। তখন আমরা...

প্রশ্ন
গত ১০ বছর পূর্বে আমার আববার ইন্তেকাল হয়েছে। তখন আমরা ছোট ছিলাম। আমার বড় ভাই লেখাপড়া শেষ করেছিলেন বিধায় আমার বড় মামা তাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। ১০ বছর যাবৎ তিনি পরিবারের খরচ বহন করে আসছেন। কিছুদিন পূর্বে তিনি দেশে আসলে আমার আম্মা আমাদের মধ্যে জায়গা বণ্টন করে দিতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে, তাকে জমির ভাগ বেশি দিতে হবে। কেননা তিনি গত ১০ বছর যাবৎ পরিবারের খরচ বহন করেছে। তাতে আমার আম্মা সন্তুষ্ট হয়নি। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাইয়ের দাবি কি সঠিক? এক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কী? দয়া করে বিসত্মারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বড় ভাইয়ের জন্য অতিরিক্ত জমি দাবি করা শরীয়তসম্মত নয়। বরং এক্ষেত্রে আপনার বাবার সম্পত্তি শরীয়তের মীরাসের নিয়ম অনুযায়ী সকল ওয়ারিসের হিস্যা অনুযায়ী বণ্টিত হবে। অন্যান্য ওয়ারিসদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুমতি ছাড়া বড় ভাইয়ের জন্য বেশি নেওয়া জায়েয হবে না।
ফতোয়া নং: ২০৫৩
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের দেশে বর্তমানে দেখা একই ব্যক্তির একাধিকবার জানাজার নামাজ পড়া...

প্রশ্ন
আমাদের দেশে বর্তমানে দেখা একই ব্যক্তির একাধিকবার জানাজার নামাজ পড়া হয়। আমার প্রশ্ন হল জানাজার একাধিক জামাত করা জায়েজ আছে কি?
উত্তর
না, জানাজার একাধিক জামাত করা জায়েজ নেই। তবে যদি মৃতব্যক্তির অলি (নিকটতম অভিভাবক) এর অনুমতি ব্যতিত অন্য কেউ জামাত আদায় করে তাহলে অলির জন্য ২য় বার জানাজার নামাজ পড়া যায়েয আছে।
সুত্রঃ মাবসুত(সারাখসি) -১/১২৬, তাতারখানিয়া-২/১৩৫, মাওসুয়া-১৬/৪০, গুনইয়া-৫৩৭, আলমগিরি-১/১৬৩, রহিমিয়া-৭/৪১।

ফতোয়া নং: ২০৫০
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাজার নামাযে কখন হাত ছাড়তে হবে? সালামের আগে না পরে?

প্রশ্ন
জানাজার নামাযে কখন হাত ছাড়তে হবে? সালামের আগে না পরে?
উত্তর
জানাজার নামাজে হাত ছাড়ার ৩ টি পদ্ধতি রয়েছে।
১-প্রথমে হাত ছেড়ে পরে সালাম ফিরানো।
২-ডানদিকে সালাম ফিরানোর সময় ডানহাত ও বামদিকে সালাম ফিরানোর সময় বাম হাত ছাড়া।
৩- সালাম ফিরানোর পরে উভয় হাত ছাড়া। তবে প্রথমটি উত্তম। (-প্রথমে হাত ছেড়ে পরে সালাম ফিরানো)।
সুত্রঃ খুলাসাতুল ফতোয়া-১/১২৫, সে’আয়া-২/২২৫, শামি-১/৪৮৭, হেদায়া-১/১০২, আহসানুল ফতোয়া-৪/২২৭, মাহমুদিয়া-১৩/১০৪

ফতোয়া নং: ২০৪৮
তারিখ: ১/৮/২০১৪
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গায়েবানা জানাযা কি জায়েজ? আমার এক বন্ধু বলেছে রাসুল সা;...

প্রশ্ন
গায়েবানা জানাযা কি জায়েজ? আমার এক বন্ধু বলেছে রাসুল সা; নাকি গায়েবানা জানাযা পড়েছেন?
উত্তর
না, গায়েবানা জানাযা জায়েয নেইৎঅবে রাসুল সা; গায়েবানা জানাযা পড়েছেনযে কথা হাদীসে বর্নিত হয়েছে সেটা কেবল নাজ্জাসির উপর ছিলো এবং এটা তার বৈশিষ্ট্য ছিল। অত এব বিচ্ছিন্ন এই ঘিটনার উপর ভিত্তি করে গায়েবানা জানাযার বৈধতা সঠিক নয়। কারন এই ঘটনা ছাড়া রাসুল সা; ও সাহাবারা কখনো গায়েবানা জানাযা পড়েন নি। অথচ অনেক সাহাবি মদিনার বাহিরে ইন্তেকাল করেছেন এবং তাদের দাফন ও হুজুরের অনুপস্থিতে মদিনার বাহিরে হয়েছিল।
দলিল;
আদ দুররুল মুখতার ২/২০৮,[সাইদ] বাদায়ে ২/৪৮, [দারুক কিতাব], আলমগিরি ১/১৬৪ আমিরিয়া, হাসিয়াতুত তাহতাবি পৃ; ৫৮২, ফেখুল হানাফি ১/৩৩৯, দারুল আহসানুল ফতোয়া ৪/২০০,


Execution time: 0.03 render + 0.02 s transfer.