Login | Register

ফতোয়া: মৃত্যু-জানাজা

ফতোয়া নং: ৭৩৩০
তারিখ: ১৯/১১/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

লাশ উল্টো তথা দক্ষিনমুখী করে জানাযার নামায পড়ার হুকুম৷

প্রশ্ন
বরাবর মাননীয় মুফতী সাহেব! বিষয়: জানাযার নামায প্রসঙ্গে৷
হযরত গতকাল আমাদের এলাকায় একটি জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। নামাযের সময় লাশটিকে ভুলবশত উত্তরমুখী করে না রেখে দক্ষিণমুখী করে রাখা হয়েছিল। এভাবেই নামায পড়া হয় ৷ পরে আর নামায পড়া হয়নি। জানতে চাই, উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়েছে কি?
উত্তর
জানাযার নামায সহিহ হওয়ার জন্য শর্ত হল, লাশ ইমামের সামনে থাকা ৷ আর উত্তরমুখী করে রাখা সুন্নত ৷ অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশ যেহেতু ইমামের সামনেই ছিল তাই উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়ে গেছে। তবে এক্ষেত্রে লাশ উল্টো করে রাখার করণে সুন্নাতের খেলাফ হয়েছে।
-শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৮৮;আলমুহীতুল বুরহানী৩/১০২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২০৯৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৭৩২৯
তারিখ: ১৯/১১/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ভূমিষ্ট হওয়া শিশুর জানাযা ও কাফন- দাফনের বিধান৷

প্রশ্ন
জনৈক মহিলার গর্ভে সন্তান মারা যাওয়ার পর সিজারে মৃত বাচ্চাটিকে বের করা হয় ৷ জানার বিষয় হল, উক্ত বাচ্চার জানাযা, কাফন-দাফন ইত্যাদি করতে হবে কি না? তার ব্যপারে শরীয়তের বিধান কি? স্ববিস্তারে জানালে উপকৃত হব ৷
উত্তর
মৃত সন্তান ভূমিষ্ট হলে নিয়ম হল, তার নাম রেখে গোসল দিয়ে একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দেওয়া। মৃত ভূমিষ্ট শিশুর জানাযা পড়ার নিয়ম নেই।
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত বাচ্চার জানাযা ও কাফন দিতে হবে না ৷ একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিবে৷
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং,১১৭২৪; বাদায়েউস সনায়ে ২/২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৭৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

উত্তর দিয়েছেন : মুফতি মেরাজ তাহসিন
ফতোয়া নং: ৭৩০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত দুই মাস আগে আমার এক আন্টি মারা যান। জানাযা...

প্রশ্ন

গত দুই মাস আগে আমার এক আন্টি মারা যান। জানাযা হয় আন্টির বাসা থেকে ৫/৭ মিনিটের দূরত্বে এক মসজিদে। আন্টির বান্ধবীরাসহ অন্যান্য অনেক মহিলা আন্টির জানাযায় শরীক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। তখন উপস্থিত এক মুরুব্বীকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে জানতে চান ওখানে মহিলাদের নামাযের আলাদা ব্যবস্থা আছে কি না? মহিলাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা আছে একথা তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, তাহলে মহিলারা জানাযায় যেতে পারবে। তখন মহিলারা জানাযায় শরীক হয়। মহিলাদের অধিকাংশই ছিল বেপর্দা।

আমার তখন ঐ মুরুব্বীর কথায় একটু সন্দেহ হয় কিন্তু নিশ্চিত না হওয়ায় কিছু বলা থেকে বিরত থাকি। হুযুরের কাছে জানতে চাই মহিলাদের জন্য জানাযায় শরীক হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

উত্তর

মহিলাদের জন্য জানাযার নামাযে বের হওয়া জায়েয নয়। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবা তাবেয়ীন থেকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আছে। তাবেয়ী যার ইবনে আব্দুল্লাহ রাহ. বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَّبِعُ جِنَازَةً، فَإِذَا بَامْرَأَةٍ عَجُوزٍ تَتَّبِعُهَا، فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى عُرِفَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِهِ، فَأَمَرَ بِهَا فَرُدَّتْ، ثُمَّ وُضِعَ السَّرِيرَ، فَلَمْ يُكَبِّرْ عَلَيْهَا حَتَّى قَالُوا: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ تَوَارَتْ بِأَخْصَاصِ الْمَدِينَةِ قَالَ: ثُمَّ كَبَّرَ عَلَيْهَا

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সাথে ছিলেন। হঠাৎ দেখলেন একজন বৃদ্ধ মহিলাও জানাযার সাথে সাথে আসছে। এটা দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্রোধান্বিত হলেন এবং তার মুখম-লে ক্রোধের ছাপ ফুটে উঠল। তখন তার নির্দেশে ঐ বৃদ্ধাকে ফিরিয়ে দেয়া হল। এরপর খাটিয়া রাখা হল কিন্তু তিনি জানাযা শুরু করলেন না। যখন লোকেরা বলল, ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে হক (সত্য)সহ প্রেরণ করেছেন ঐ মহিলা শহরের বাড়িঘরের আড়াল হয়ে গেছে, তখন তিনি জানাযার তাকবীর বললেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬২৯০)

উম্মে আতিয়্যা রা.-এর বর্ণনায় এসেছে, তিনি বলেন-

وَنَهَانَا أَن نَخْرُجَ فِي جَنَازَةٍ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে জানাযায় বের হতে নিষেধ করেছেন। (আলমুজামুল কাবীর তবারানী ২৫/৪৫)

আমর ইবনে কায়স রাহ. বলেন,

كُنَّا فِي جِنَازَةٍ وَفِيهَا أَبُو أُمَامَةَ فَرَأَى نِسْوَةً فِي الْجِنَازَةِ فَطَرَدهُنَّ .

আমরা এক জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। আবু উমামাও সেখানে ছিলেন। তিনি দেখলেন জানাযায় কিছু মহিলাও এসেছে। তখন তিনি তাদের সরিয়ে দিলেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১১৪০৮)

মুহাম্মাদ ইবনুল মুনতাশির রাহ. বলেন,

كَانَ مَسْرُوقٌ لاَ يُصَلِّي عَلَى جِنَازَةٍ مَعَهَا امْرَأَةٌ.

মাসরূক রাহ. ঐ জানাযা পড়তেন না, যে জানাযায় কোনো মহিলা উপস্থিত আছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-১১৪০৩)

শা‘বি রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, মহিলারা কি জানাযার নামায পড়বে? উত্তরে তিনি বললেন,

لَا تُصَلِّي عَلَيْهَا طَوَاهِرَ وَلَا حَائِضًا

না, মহিলা জানাযার নামায পড়বে না, চাই সে পবিত্র হোক কিংবা ঋতুমতি। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৬২৯৭)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোল্লেখিত হাদীস এবং সাহাবা-তাবেয়ীনের আছারগুলো থেকে এক থা স্পষ্ট যে, মহিলাদের জন্য জানাযার উদ্দেশ্যে বের হওয়া জায়েয নয়।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য জানাযায় অংশগ্রহণ করা ঠিক হয়নি। অবশ্য মহিলারা ঘরে থেকেই মৃতের জন্য ঈসালে সাওয়াব ও মাগফিরাতের দুআ করতে পারে।

প্রকাশ থাকে যে, দ্বীনী বিষয়ে না জেনে মন্তব্য করা ঠিক নয়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটির না জেনে মাসআলা বলা অন্যায় হয়েছে।

-হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬০৭; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭৩০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কোনো মুসলমানকে দাফন করার জন্য কোন তরীকায় কীভাবে কতুটুকু কবর...

প্রশ্ন

কোনো মুসলমানকে দাফন করার জন্য কোন তরীকায় কীভাবে কতুটুকু কবর খনন করবে? কবর খননের সুন্নত তরীকা কী, জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

যেসব জায়গার মাটি শক্ত ও মজবুত সেসব জায়গায় লাহদ (বোগলী) কবর খনন করা সুন্নত। সেটা হল-স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচে পশ্চিম (কিবলার) দিক দিয়ে একটি গর্ত করবে এবং পশ্চিম দিকের ঐ গর্তের মধ্যে লাশ রাখবে।

আর যেসব জায়গার মাটি নরম, লাহদ কবর করলে মাটি ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা আছে, সেসব জায়গায় সিন্দুক কবর করবে। অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে চার কোণা করে মাটি খোড়ার পর নীচের দিকে গিয়ে মাঝ বরাবর একটি গর্ত করবে এবং সেখানে লাশ রাখবে।

আর কবরের গভীরতা সর্বনিম্ন নাভি পর্যন্ত থেকে সর্বোচ্চ একজন মধ্যম গড়নের ব্যক্তি দু’হাত উপরে তুলে দাঁড়ালে যতটুকু লম্বা হয় ততটুকুর মধ্যে রাখবে। তবে উপরের পরিমাণের মধ্যে যে এলাকায় যেটা প্রচলন সে এলাকায় সে পরিমাণই গভীর করা উচিত।

আর কবরের দের্ঘ্য হবে মৃতের দৈর্ঘ্য সমান এবং প্রস্থ হবে দৈর্ঘ্যরে অর্ধেক বা তারচেয়ে কিছুটা কম।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৯৬৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৭৮৩, ১১৭৮৪, ১২১৭৭ হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬২২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মুহতারাম, আমার বাবা এবং বড় ভাই একসাথে ঢাকা যাওয়ার পথে...

প্রশ্ন

মুহতারাম, আমার বাবা এবং বড় ভাই একসাথে ঢাকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় উভয়েই ইন্তেকাল করেন। আমরা গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করি। আমার বড় ভাইয়ের একজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে রয়েছে। জানার বিষয় হল, আমার বড় ভাই কি আমার বাবার সম্পত্তি থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোন অংশ পাবে। যা আমরা তার সন্তানদের মাঝে বণ্টন করে দিতে পারি? কেননা এমন তো হতে পারে বাবার মৃত্যু ভাইয়ের মৃত্যুর আগেই হয়েছে। তাছাড়া এক ভাই বললেন, বর্তমানে মেডিকেল টেষ্ট করার মাধ্যমে মৃত্যুর সময়কাল জানা যায়।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু কার মৃত্যু আগে হয়েছে তা সুনিশ্চিতভাবে জানা নেই তাই এক্ষেত্রে শরীয়াতের বিধান হল কেউ কারো থেকে মীরাছ পাবে না। অতএব আপনার ঐ মৃত ভাই বাবা থেকে মীরাছ পাবে না।

এক বর্ণনায় এসেছে,

عَنْ عَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ لَا يُوَرِّثُ الْمَيِّتَ مِنَ الْمَيِّتِ إِذَا لَمْ يُعْرَفْ أَيُّهُمَا مَاتَ قَبْلَ صَاحِبِهِ .

আতা রহ. বলেন, দুই ওয়ারিশের কে আগে মারা গেছে তা জানা না গেলে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. উভয়ের মাঝে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ বণ্টন করতেন না। -মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৮০৭৬

আর মেডিকেল টেস্ট এখন পর্যন্ত ঐ মানে পৌঁছায়নি যার মাধ্যমে এ ধরনের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। কোনো কোনো সময় একই রোগের টেস্ট পৃথক পৃথক ল্যাবে করালে ফলাফলে ভিন্নতাও দেখা যায়। তাই এর উপর ভিত্তি করে কার মৃত্যু আগে হয়েছে তা নিশ্চত হওয়া যায় না।

উল্লেখ্য যে, আপনার মৃত ভাই যদিও বাবার মীরাস পাবে না কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশগণ মিলে তার স্ত্রী-সন্তানদেরকে সম্পদের হিস্যা দিতে পারবে। এবং এভাবে দিলে তা উত্তম কাজ হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৩০/২৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৪০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৯১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তি মাদরাসার জন্য একটি জায়গা ওয়াকফ করেছেন।...

প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের এক ব্যক্তি মাদরাসার জন্য একটি জায়গা ওয়াকফ করেছেন। ঐ জায়গায় অনেকগুলো কাঠগাছ আছে। ওয়াকফের সময় ঐ গাছগুলো ওয়াকফ থেকে বাদ দেওয়ার কথা কিছু বলেনি। ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর এখন তার ওয়ারিসরা ঐ জায়গা থেকে বিভিন্ন সময় গাছ কেটে নিয়ে যায়। আর বলে যে, গাছের মালিক আমরা। তাদের জন্য কি এটা জায়েয হচ্ছে?

উত্তর

কোনো জায়গা ওয়াক্ফ করার সময় ঐ জায়গার গাছগুলো ওয়াকফ থেকে বাদ দেওয়া না হলে জায়গার সাথে গাছও ওয়াক্ফ হয়ে যায়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু ওয়াকফের সময় গাছগুলো বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি তাই ঐ গাছগুলো ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। গাছগুলোর মালিক এখন মাদরাসা। ওয়ারিসদের প্রশ্নোক্ত দাবি ঠিক নয়। তাদের জন্য মাদরাসার গাছগুলোর মধ্যে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা জায়েয হবে না।

-আলইসআফ পৃ. ১৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩০৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৭৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একদিন জানাযার পর দাদাকে দেখলাম, মাইয়েতের কোনো আত্মীয়ের ফরমায়েশে ছোট্ট...

প্রশ্ন

একদিন জানাযার পর দাদাকে দেখলাম, মাইয়েতের কোনো আত্মীয়ের ফরমায়েশে ছোট্ট একটি কাপড়ের টুকরোতে মাটির টুকরা দিয়ে

لا إله إلا الله محمد رسول الله، أشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن محمدا عبده ورسوله লিখে মায়্যিতের কাফনে এঁটে দিলেন।

হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এটা কতটুকু শরীয়ত সম্মত? আদৌ এর কোনো ভিত্তি আছে কি না?

উত্তর

মৃতের সাথে বা কাফনে কালিমা শাহাদাত, কোনো আয়াত বা যিকির লেখা নাজায়েয। এটি গলদ রুসম ও বিদআত। শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। এছাড়া লাশ গলে গেলে যিকর ও কালিমার অংশে ঐ নাপাকী লেগে যেতে পারে। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-রদ্দুল মুহতার ২/২৪৬; আলফাতাওয়াল ফিকহিয়্যা আলকুবরা ২/১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সে ঢাকায়...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। সে ঢাকায় থাকত। মৃত্যুর পরে তার জানাযা ও দাফনের জন্য তাকে গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সবাই মনে করেছিল, ঢাকা থেকে মৃত ব্যক্তিকে গোসল করিয়ে আনা হয়েছে। তাই তারা তার গোসল না করিয়ে জানাযা পড়ে ফেলে। হঠাৎ তার এক আত্মীয় বলল, তাকে তো ঢাকা থেকে গোসল করিয়ে আনা হয়নি। তখন এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, এখন মাইয়েতকে গোসল করিয়ে পুনরায় তার জানাযা পড়তে হবে। পরে তাই করা হয়েছে। এখন জানতে চাই, ইমাম সাহেবের কথা কি ঠিক? আমাদের জন্য কি ঐ ব্যক্তির জানাযা পুনরায় পড়া আবশ্যক ছিল? এমনটি হলে কী করণীয়?

উত্তর

হাঁ, ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো ছাড়া তার জানাযা পড়া সহীহ নয়। তাই গোসল দেওয়ার পূর্বে কোনো মাইয়েতের জানাযা পড়া হলে তা আদায় হবে না। সে ক্ষেত্রে গোসল দেওয়ার পর পুনরায় তার জানাযা পড়তে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/৩৬০; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৭৩, আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯৭; বাদায়েউস সনায়ে ২/৫৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৭০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের এলাকায় এক মহিলার জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। ভুলে লাশকে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক মহিলার জানাযা নামায অনুষ্ঠিত হয়। ভুলে লাশকে ইমামের সামনে উল্টো তথা দক্ষিণমুখী করে মাথা রাখা হয়। লাশের উপর চাদর থাকায় বিষয়টি বুঝা যায়নি। এভাবেই নামায আদায় করা হয়। জানতে চাই, উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়েছে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশ উল্টো করে রাখার করণে সুন্নাতের খেলাফ হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে লাশ যেহেতু ইমামের সামনেই ছিল তাই উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়ে গেছে।

উল্লেখ্য যে, জানাযা নামায শুরু করার আগে ইমামের কর্তব্য হল, লাশ সঠিকভাবে সুন্নত তরীকায় রাখা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হয়ে নেওয়া।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী৩/১০২; শরহুল মুনয়া পৃ. ৫৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার এক আত্মীয়ের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা ঐ...

প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয়ের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। তারা ঐ বাচ্চাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিয়েছে। ঐ বাচ্চার জানাযার নামায পড়েনি। তাদের কাজটি কি সঠিক হয়েছে? না তাদের ঐ বাচ্চার জানাযার নামায পড়া উচিত ছিল?

উত্তর

হাঁ, শিশুটির জানাযা না পড়ে তাকে দাফন করে দেওয়া ঠিকই হয়েছে। কেননা, মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে নিয়ম হল, তার নাম রাখা ও গোসল দেওয়া। তারপর একটি কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দেওয়া। মৃত ভূমিষ্ট শিশুর জানাযা পড়ার নিয়ম নেই।

জাবের রা. বলেন,

إذَا اسْتَهَلَّ صُلِّيَ عَلَيْهِ وَوُرِّثَ فَإِذَا لَمْ يَسْتَهِلَّ لَمْ يُصَلَّ عَلَيْهِ ، وَلَمْ يُوَرَّثْ.

শিশু যদি (ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর) কাঁদে (অর্থাৎ জীবিত জন্ম হয়, এরপর সে মারা যায়) তবে তার জানাযা পড়া হবে ...। আর যদি সে না কাঁদে (অর্থাৎ মৃত জন্ম হয়) তবে তার জানাযা পড়া হবে না...। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৭২৪)

-বাদায়েউস সনায়ে ২/২৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৮৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৬৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার পাঁচ বছরের একটা ছোট্ট ছেলে ছিল। তার নাম ছিল...

প্রশ্ন

আমার পাঁচ বছরের একটা ছোট্ট ছেলে ছিল। তার নাম ছিল সালমান। সে পরিবারের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। প্রায় সারাদিন সে আমার সাথেই থাকত। আমি তাকে অনেক বেশি মুহাব্বত করতাম। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা হঠাৎ করে সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। দাফন কাফন হয়েছে আজ চার পাঁচ দিন। কিন্তু প্রায় প্রতিদিনই আমি ও তার আম্মু স্বপ্নে দেখি, সে বলছে, আব্বু আমি জীবিত। তুমি আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও। এখন আমরা সন্দেহে পড়ে গেছি, আসলে সে জীবিত না মৃত। এখন হুযুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি কি তার কবর খনন করে দেখে নিতে পারব আসলে জীবিত না মৃত? শরীয়ত কি আমাকে এটার অনুমতি দেয়?

উত্তর

শুধু স্বপ্নের উপর ভিত্তি করে কবরস্থ সন্তানের মৃত্যুর ব্যাপারে সন্দেহ করা ঠিক নয়। এবং এজন্য কবর খোলাও জায়েয হবে না। অধিক মুহাব্বতের কারণেই হয়ত আপনারা ঐ স্বপ্ন বারবার দেখছেন। তাই এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে এই মুছিবতের উত্তম প্রতিদান দিন এবং শিশু সন্তান মারা গেলে মা-বাবা ধৈর্য ধারণ করার পর তাদেরকে যে জান্নাতে বড় মর্যাদা দেয়ার কথা হাদীসে রয়েছে তা আপনাদের নসীব করুন।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৯৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমাদের হাসপাতালের পাশেই মসজিদ। মসজিদ সংলগ্ন বড় মাঠ। হাসপাতালে প্রায়ই...

প্রশ্ন

আমাদের হাসপাতালের পাশেই মসজিদ। মসজিদ সংলগ্ন বড় মাঠ। হাসপাতালে প্রায়ই দু চার জন করে মারা যায়। ওয়ারিসগণ মসজিদ সংলগ্ন মাঠেই জানাযার এন্তেজাম করে। একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে সময় স্বল্পতার করণে মাঝেমধ্যে একত্রে জানাযার নামায আদায় করা হয়। কিন্তু প্রতিবারেই মায়্যেতকে কীভাবে রাখতে হবে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দেয়। আমরা কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি না। জানার বিষয় হল, একাধিক জানাযার ক্ষেত্রে মায়্যেতকে রাখার সঠিক পদ্ধতিটা কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

একত্রে একাধিক লাশের জানাযা আদায় করতে চাইলে লাশগুলোকে ইমামের বরাবর সামনে কিবলার দিকে সারিবদ্ধভাবে রাখাই উত্তম।

উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে সকল লাশ যদি পুরুষ হয় তাহলে মর্যাদা ও বয়সের দিক থেকে যারা বড় হবে তাদেরকে ইমামের নিকটে রাখা হবে। আর পুরুষের সাথে যদি নারী ও শিশুর লাশও থাকে তাহলে ইমামের সামনে প্রথমে পুরুষের লাশ, তারপর শিশু অতপর নারীদেরকে রাখা হবে।

নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ كَانَ إذَا صَلَّى عَلَى جِنَازَةِ رِجَالٍ وَنِسَاءٍ جَعَلَ الرِّجَالَ مِمَّا يَلِيهِ وَالنِّسَاءَ خَلْفَ ذَلِكَ مِمَّا يَلِي الْقِبْلَةَ.

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. যখন একাধিক মায়্যেতের জানাযা পড়াতেন আর নারী-পুরুষ একসাথে থাকত তখন তিনি আগে পুরুষের লাশ তার সামনে রেখে নারীদের লাশ তার পরে রাখতেন। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৬৮২

প্রকাশ থাকে যে, শরীয়তে এক মৃতের জন্য একবারই জানাযা পড়ার হুকুম এসেছে। এক মৃতের একাধিক জানাযা পড়া ঠিক নয়।

-কিতাবুল আসার ১/২৫৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ১১৬৮৯; কিতাবুল আসল ১/৩৫০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭; মাবসূত, সারাখসী ২/৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার নানা ইন্তেকাল করেছেন। তিনি ঢাকায় বসবাস করতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি ছিল পাবনা। সেখানে তার ঘরবাড়ি এবং জায়গা-সম্পত্তি আছে। গ্রামে তিনি একটি মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। সেগুলোর মুতাওয়াল্লি তিনিই ছিলেন। তাই কিছুদিন পরপরই সেখানে যেতেন। কয়েক দিন করে থাকতেন। মাদরাসাই ছিল তার সারা জীবনের স্বপ্ন এবং তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। তার খুব তামান্না ছিল, উক্ত মাদরাসা-মসজিদের কাছেই তার কবর হবে। সন্তানদেরকে এ কথা বলেছেনও বিভিন্ন সময়। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার দাফনের বিষয় নিয়ে মতভেদ হয়। গ্রামের লোকদের দ্বীনী মুরুবিক্ষ হওয়ায় তাদের চাওয়া ছিল তাকে গ্রামে দাফন করা হোক। এ ছাড়া বাবার কবর সেখানে থাকলে স্বভাবতই সন্তানদের মাদরাসার প্রতি বিশেষ মনোযোগ থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় আনেন কেউ কেউ। আর তার নিজের তামান্না উপেক্ষা করাটাও সন্তানদের কাছে কষ্টকর হয়। তাই তাকে পাবনাতে নিয়েই দাফন করা হয়। কিন্তু আমি জানতাম, লাশ এত দূর নিয়ে দাফন করা মাকরূহে তাহরীমী ও নাজায়েয। এখন জানার বিষয় হল, উপরোক্ত অবস্থায় তাকে গ্রামে নিয়ে দাফন করাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে উচিত ছিল কি না? আর এটি মাকরূহে তাহরীমী বা নাজায়েয কাজ হয়েছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মৃত ব্যক্তি যেখানে ইন্তেকাল করে তাকে সে এলাকার নিকটবর্তী কবরস্থানে দাফন করা উত্তম। বিনাকারণে বেশি দূরে নিয়ে দাফন করা অনুত্তম। দূরে নিয়ে যাওয়ার ফলে যদি দাফনে অধিক বিলম্ব নাহয় এবং লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে তাহলে দূরে নিয়ে দাফন করা নাজায়েয হবেনা।

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লাশ স্থানান্তরের কারণে যদি উপরোক্ত সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলেস্থানান্তর নাজায়েয হয়নি।

-মুয়াত্তা, ইমাম মালেক, ৮০; আততাজনীস ২/২৮১-২৮২; শরহু সিয়ারিল কাবীর, সারাখসী ১/১৬৪; মারাকিল ফালাহ ৩৩৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৬; আলইসতিযকার ২/৫৮৩-৫৮৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭২১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কয়েক দিন আগে আমার বড় মামা মারা গিয়েছেন। গোসল দেওয়ার...

প্রশ্ন

কয়েক দিন আগে আমার বড় মামা মারা গিয়েছেন। গোসল দেওয়ার পর জানাযার নামাযের বেশ আগেই তার লাশ মসজিদের সামনে রাখা হয়। আমার এক মামাতো ভাই মাদরাসার কয়েকজন ছাত্রকে নিয়ে এলেন। কফিনের কাছে তাদেরকে তিলাওয়াত করতে বসালেন। আমার মনে একটু খটকা লাগল। কোথায় যেন শুনেছি, মৃত ব্যক্তির পাশে বসে তিলাওয়াত করা উচিত নয়। তবে স্পষ্ট কিছু মনে নেই। তাই সঠিক বিষয়টি জানতে চাই।

উত্তর

গোসল দেওয়ার পর লাশের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েয। কিন্তু গোসল দেওয়ার আগেমৃত ব্যক্তির নিকটে কুরআন তিলাওয়াত করা মাকরূহ। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাইয়্যেতের গোসলের পরেযেহেতু তার কাছে তিলাওয়াত করা হয়েছে তাই এতে দোষের কিছু হয়নি।

প্রকাশ থাকে যে, মাইয়্যেতের গোসলের আগে দূরে কোথাও যেমন অন্য ঘরে মৃতের ঈসালেসওয়াবের নিয়তে কুরআন তিলাওয়াত করতে কোনো অসুবিধা নেই।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৬৪; আলবাহরুর রায়েক ২/১৭১; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/১৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক দিন খোঁজাখুজির পরও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। একদিন হঠাৎ তার কর্তিত মস্তক নদীতে পাওয়া যায়। এ অবস্থায় এটির গোসল, নামায এবং দাফন-কাফন কীভাবে করতে হবে?

উত্তর

মৃত ব্যক্তির শুধু মাথা বা হাত-পা কিংবা কর্তিত অল্প অংশ পাওয়া গেলে এর গোসল, জানাযা কিছুই দিতে হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত মস্তকটি পবিত্র কাপড়ে মুড়িয়ে দাফন করে দিবে। উক্ত মাথার গোসল দেওয়া বা জানাযা পড়া যাবে না।

প্রকাশ থাকে যে, মৃতদেহের মস্তকসহ অর্ধেক পাওয়া গেলে কিংবা মাথা ছাড়া অর্ধেকের বেশি পাওয়া গেলে পূর্ণ লাশের হুকুমে ধর্তব্য হবে। সেক্ষেত্রে তার গোসল ও জানাযা সবকিছুই নিয়ম মাফিক করতে হবে।

-কিতাবুল আছল ১/৩৪১; ফাতহুল কাদীর ২/৭৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬১২; শরহুল মুনইয়াহ ৫৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৮৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

একদিন যোহরের নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা কয়েকজন মসজিদে যাচ্ছিলাম। মসজিদ সংলগ্ন...

প্রশ্ন

একদিন যোহরের নামাযের উদ্দেশ্যে আমরা কয়েকজন মসজিদে যাচ্ছিলাম। মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে দেখলাম জানাযার নামায হচ্ছে। তখন আমরা জানাযা নামাযে শরীক হই। কিন্তু নমাযে কোনো এক কারণে আমাদের একজন আওয়াজ করে হেসে উঠল। এরপর আমরা একত্রে যোহরের নামায আদায় করেছি।

জানার বিষয় হল, ঐ মুসল্লির জানাযা নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? নামাযে উচ্চস্বরে হাসার কারণে তার অযু ভেঙ্গেছে কি? নতুন অযু ছাড়া তার যোহরের নামায কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

জানাযা নামাযে উচ্চস্বরে হাসলে নামায ভেঙ্গে যায়। তবে অযু ভাঙ্গে না। তাই প্রশ্নোক্ত মুসল্লির জানাযা নামায শুদ্ধ হয়নি। তবে এ কারণে তার অযু ভাঙ্গেনি। তাই ঐ অযু দ্বারা তার পরবর্তী নামায পড়া সহীহ হয়েছে।

জানাযা নামাযে হাসা খুবই দুঃখজনক অন্যায় কাজ। এ সময় তো মৃত্যুকে স্মরণ করার সময়। তাই ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকা দরকার।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/১৩৬; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/২৫৯; রদ্দুল মুহতার ১/১৪৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

এক দুর্ঘটনায় আমাদের গ্রামের এক পরিবারের চার ভাই একসাথে মারা...

প্রশ্ন

এক দুর্ঘটনায় আমাদের গ্রামের এক পরিবারের চার ভাই একসাথে মারা যায়। আমি প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা জানাযা নামায আদায় করি। বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট ছিল না। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই যে, একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে জানাযা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রত্যেক মাইয়েতের জন্য পৃথক পৃথক জানাযা পড়া উত্তম হয়েছে। কেননা একাধিক লাশ উপস্থিত হলে সেক্ষেত্রেও প্রত্যেকের জন্য আলাদা জানাযা পড়াই উত্তম। তবে সকলের জানাযা একত্রে পড়াও জায়েয আছে।

-সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৪/১২; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৮; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী ৩২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা গিয়েছেন। আমি এবং অন্য...

প্রশ্ন

গত শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা গিয়েছেন। আমি এবং অন্য দুজন কবরে নামলাম। স্বাভাবিকভাবে লাশ কবরে রেখে বাঁশও রেখে দিয়েছি। এমন সময় একজন মাওলানা সাহেব এসে বললেন, লাশ কিবলামুখী করা হয়েছে তো? বললাম, না। এ বিষয়টি যে সুন্নত তা তখন আমরা জানতাম না। এরপর মাওলানা সাহেব নিজেই বাঁশ সরিয়ে মুর্দাকে পুরোপুরি ডান দিকে কাত করে দিলেন। পরবর্তীতে কেউ কেউ আপত্তি করল যে, মুর্দাকে কিবলামুখী করার জন্য মাওলানা সাহেব যে বাঁশ সরালেন তা ঠিক হয়নি। কিবলামুখী করা তো ফরয নয়। আবার কেউ কেউ বললেন, শুধু চেহারা ডান দিকে করা উচিত। পুরো শরীর নয়। জানার বিষয় হল, এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা কী?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাওলানা সাহেব ঠিকই করেছেন। মাইয়েতকে কবরে ডান কাতে সিনা কিবলামুখী করে দেওয়া সুন্নত। শুধু চেহারা ডান দিকে ফিরিয়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়। আর এ কাজের জন্য বাঁশ সরাতেও কোনো সমস্যা নেই। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, তোমরা মাইয়েতকে কিবলামুখী করে দাও। সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য হল, মুর্দাকে ডান কাত করে দেওয়া।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৬০৬০; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/১৯৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫৯৭; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জানাযার নামাযে দেখা যায়, অনেক লোক জুতা খুলে তার উপর...

প্রশ্ন

জানাযার নামাযে দেখা যায়, অনেক লোক জুতা খুলে তার উপর দাঁড়ায়। অনেকে মাটিতে দাঁড়ায়। আবার অনেকে জুতাসহই নামায পড়ে নেয়।

জানতে চাই, এভাবে জুতা পরে নামায পড়া জায়েয আছে কি? এক্ষেত্রে সঠিক পন্থা কী?

উত্তর

জায়গা পাক হওয়া জানাযা নামাযের জন্যও শর্ত। তাই নামাযি ব্যক্তির জুতা ও পায়ের নিচের মাটি উভয়টি যদি পবিত্র হয় তবে জুতা পরেও জানাযা নামায পড়া জায়েয আছে। আর দাঁড়ানোর স্থান পবিত্র হলে জুতা খুলেও দাঁড়াতে পারবে। আর দাঁড়ানোর স্থান অথবা জুতার নিচে অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা থাকলে জুতা খুলে তার উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়বে। কেননা জুতার উপর অংশ সাধারণত পাকই থাকে।

প্রকাশ থাকে যে, জুতার নিচের অংশ যেহেতু অপবিত্র হওয়ার আশংকাই বেশি তাই মসজিদের বাইরে জানাযার নামায পড়লে জুতা পায়ে দিয়ে নামায না পড়াই উচিত। এক্ষেত্রে সতর্কতা হল, জুতা খুলে তার উপর দাঁড়ানো।

-আলবাহরুর রায়েক ১/২৬৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬২; শরহুল মুনইয়াহ ২০৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত সপ্তাহে আমাদের এলাকায় জানাযার নামাযে আমার এক বন্ধুকে দেখলাম,...

প্রশ্ন

গত সপ্তাহে আমাদের এলাকায় জানাযার নামাযে আমার এক বন্ধুকে দেখলাম, তাড়াহুড়ো করে এসে তায়াম্মুম করে জানাযার কাতারে দাঁড়িয়ে গেল। পরে আমি তাকে ব্যাপারটা জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, জানাযার নামায অযু ছাড়া তায়াম্মুম করেও পড়া যায়। আমি জানতে চাই, তার কথা কি ঠিক? জানাযার নামায কি অযু ছাড়া তায়াম্মুম করে পড়া যায়?

উত্তর

তার ঐ কথা ঠিক নয়। বরং জানাযা নামাযের জন্যও অযু জরুরি। তবে অযু করতে গেলে যদি জানাযা নামায ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে তায়াম্মুম করে জানাযার নামায পড়া যায়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, অযু করতে গেলে যদি তোমার জানাযার নামায ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তাহলে তুমি তায়াম্মুম করে নামায পড়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৫৮৬)

-কিতাবুল আছল ১/৯৬; মাবসূত, সারাখসী ১/১১৮; বাদায়েউস সনায়ে ১/১৭৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৯; রদ্দুল মুহতার ১/২৪১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে ফজরের নামাযের আগ মুহূর্তে একটি জানাযা...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে ফজরের নামাযের আগ মুহূর্তে একটি জানাযা এসে উপস্থিত হয়। কথা ছিল, নামাযের পরপরই জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আনুষঙ্গিক কিছু কারণে বিলম্ব হয়। এমনকি সূর্যোদয়ের সময় হয়ে যায়। তখন জানাযার জন্য সবই প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও ঘোষণা করা হয় যে, এখন সূর্যোদয় হচ্ছে। জানাযা আরও দশ মিনিট পর অনুষ্ঠিত হবে। জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে আরও ১০ মিনিট বিলম্ব করার প্রয়োজন কি ছিল? অথচ আমরা জানি, জানাযা উপস্থিত হলে দেরি করতে নেই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ১০ মিনিট বিলম্ব করে সূর্যোদয়ের পর জানাযার নামায আদায় করা ঠিকই হয়েছে। কারণ আগ থেকে জানাযা প্রস্তুত থাকলে সূর্যোদয়ের সময় জানাযার নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী।

সুতরাং এক্ষেত্রে বিলম্ব করাটা জরুরতবশত ও শরয়ী কারণেই হয়েছে। তাই তা অন্যায় হয়নি।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৩১; ফাতহুল মুলহিম ২/৩৭০; কিতাবুল আছল ১/১২৮; ইলাউস সুনান ৮/৩৫৮; ফাতহুল কাদীর ১/২০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৪৯; শরহুল মুনইয়াহ ২৩৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১৪২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে...

প্রশ্ন

আমার মহল্লার এক মহিলার ইন্তেকালের পর স্বামী তাকে দেখতে আসলে লোকজন তাকে দেখতে দেয়নি এবং তারা বলে, স্বামীর জন্য তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখা জায়েয নেই। জানতে চাই, স্ত্রীর ইন্তেকালের পর স্বামী স্ত্রীর চেহারা দেখতে পারে কি না? তেমনিভাবে স্বামীর ইন্তেকালের পর স্ত্রী তার চেহারা দেখতে পারবে কি?

উত্তর

মৃত স্ত্রীর চেহারা স্বামী দেখতে পারবে। তদ্রূপ মৃত স্বামীর চেহারাও স্ত্রী দেখতে পারবে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে লোকটিকে তার মৃত স্ত্রীর চেহারা দেখতে না দেওয়া অন্যায় হয়েছে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন পূর্বে আমার এক মামাতো ভাইয়ের জন্ম হয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার...

প্রশ্ন

কিছুদিন পূর্বে আমার এক মামাতো ভাইয়ের জন্ম হয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই সে মারা যায়। তার জানাযা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এলাকার মুরব্বীগণ বলেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মারা গেলে জানাযা দিতে হয় না। তারপরও ইমাম সাহেব জানাযা পড়ান। প্রশ্ন হল, ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বাচ্চা মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়তে হবে কি?

উত্তর

ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় শিশুর দেহের অধিকাংশ বের হওয়ার পর তার মাঝে যদি নড়াচড়া, কান্না, চোখের পলকপাত অথবা জীবিত ভূমিষ্ঠ হওয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায় তবে তার জানাযা পড়তে হবে। আর যদি অধিকাংশ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর প্রাণের কোনো আলামত না থাকে তাহলে ঐ শিশুর জানাযা পড়ার বিধান নেই।

জাবের ইবনে আবদুল্লহ রা. বলেন,

إِذَا اسْتُهِلَّ الصَّبِيُّ وُرِّثَ وَصُلِّيَ عَلَيْهِ

শিশুর কান্নার শব্দ পাওয়া গেলে সে ওয়ারিস হবে এবং তার জানাযা পড়তে হবে। -সুনানে বাইহাকী, হাদীস ৬৭৮২

উল্লেখ্য, দেহের অধিকাংশ বলতে মাথার দিক আগে বের হলে বুক পর্যন্ত আর পায়ের দিক থেকে হলে নাভী পর্যন্ত উদ্দেশ্য।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ১০৩২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৭১৮, ১১৭২৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৮০; রদ্দুল মুহতার ২/২২৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭১০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) জুমার দিন খুতবার পূর্বে বাংলায় বয়ান চলাকালে যিকির-আযকার বা...

প্রশ্ন

ক) জুমার দিন খুতবার পূর্বে বাংলায় বয়ান চলাকালে যিকির-আযকার বা কথাবার্তা বলা যাবে কি? নাকি খুতবার ন্যায় তাও চুপ করে শোনা ওয়াজিব?

খ) আমাদের এলাকায় এ কথা প্রচলিত আছে যে, মৃত ব্যক্তিকে যদি কবরে কেবলার দিক ছাড়া অন্যদিকে মুখ করে শোয়ানো হয় এটা তার ঈমানবিহীন মৃত্যুর আলামত। এ কথা কি সঠিক?

উত্তর

ক) জুমার নামাযের পূর্বে আরবীতে যে খুতবা হয় তা শ্রবণ করা সকলের উপর ওয়াজিব। আর খুতবাপূর্ব বাংলায় যে বয়ান হয় তা জুমআর অংশ নয়। তা শ্রবণ করা ওয়াজিব নয়। তবে যেহেতু এটি দ্বীনী আলোচনা তাই এ সময় কথা বলা বা ব্যক্তিগত কাজ করা দ্বীনী মজলিসের আদবের পরিপন্থী। অতএব মুসল্লিদের উচিত, ঐ সময় ব্যক্তিগত কথাবার্তা বা কাজে মশগুল না হয়ে দ্বীনী আলোচনায় মনোযোগ দেওয়া। -বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৯৩; আদ্দুররুল মুখতার ১/৬৬৩

খ) না, ঐ কথা ঠিক নয়। তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া কথা। মৃত ব্যক্তিকে ডান কাতে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো সুন্নত। এভাবে সুন্নত নিয়মে দাফন করা জীবিতদের দায়িত্ব। কোনো মৃতের যদি সুন্নত নিয়মে দাফন না হয় তাহলে কাজটি ঠিক না হলেও এটাকে কোনোভাবেই ঈমানবিহীন মৃত্যুর আলামত বলা ঠিক নয়। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮৬৭; এলাউস সুনান ৮/৩০৭;ফাতাওয়া খানিয়া ১/১৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত বছর রযমানের ঈদের নামাযের শেষ খুতবার আগেই জানাযার নামায...

প্রশ্ন

গত বছর রযমানের ঈদের নামাযের শেষ খুতবার আগেই জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে ইমাম সাহেব খুতবা পাঠ করেন। জানার বিষয় হল, খুতবার আগে জানাযা আদায় করা কি ঠিক হয়েছে? নাকি খুতবার পরে জানাযা আদায় করা উচিত?

উত্তর

খুতবা ঈদের নামাযেরই অংশবিশেষ। তাই খুতবার পরেই জানাযার নামায আদায় করা উচিত। হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ., যফর আহমাদ উসমানী রাহ. বলেন, বিশৃঙ্খলা ও ছত্রভঙ্গের কারণে যেমনিভাবে আগে ঈদ ও জুমআ পড়ে জানাযা পড়ার কথা ফকীহগণ বলেন। একই কারণে ঈদের খুতবার পরেই জানাযা পড়া উচিত। অন্যথায় অনেকেই খুতবা না শুনেই চলে যাবে। এছাড়া খুতবা তো ঈদের সাথেই সংশ্লিষ্ট। তবে খুতবার পূর্বে জানাযার নামায পড়া হলেও তা আদায় হয়ে যাবে।

-ইমদাদুল আহকাম ১/৮৩৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/৫০৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার মা গত ১০ আগস্ট ২০১৫ ট্রেন দুর্ঘটায় ইন্তেকাল করেন।...

প্রশ্ন

আমার মা গত ১০ আগস্ট ২০১৫ ট্রেন দুর্ঘটায় ইন্তেকাল করেন। তিনি ওয়ারিশদের জন্য ৬ শতক জমি রেখে গেছেন। তাঁর ওয়ারিশগণ হল- ১. স্বামী ২. এক পুত্র ও ৩. দুই কন্যা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এর বণ্টন কীভাবে হবে?

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের স্থাবর-অস্থাবর সমুদয় সম্পদ থেকে প্রথমে তার কাফন-দাফনের খরচ (প্রয়োজন হলে) পরিশোধ করবে। অতপর তার কোনো ঋণ থাকলে তা আদায় করবে। এরপর তার কোনো বৈধ অসিয়ত থাকলে তা অবশিষ্ট সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে পূর্ণ করবে।

এরপর অবশিষ্ট সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। এক্ষেত্রে মৃতের স্বামী সমুদয় সম্পদের এক চতুর্থাংশ পাবে। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَ لَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ اَزْوَاجُكُمْ اِنْ لَّمْ یَكُنْ لَّهُنَّ وَلَدٌ فَاِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْۢ بَعْدِ وَصِیَّةٍ یُّوْصِیْنَ بِهَاۤ اَوْ دَیْنٍ.

তোমাদের স্ত্রীগণ যেসব (সম্পত্তি) রেখে যাবে তার অর্ধেক হল তোমাদের প্রাপ্য। যদি তাদের কোনো সন্তান না থাকে। কিন্তু যদি তাদের কোনো সন্তান বর্তমান থাকে তাহলে তারা যা কিছু ছেড়ে যাবে তার চার ভাগের এক ভাগ তোমাদের প্রাপ্য। অবশ্য যদি তারা অসিয়ত করে গিয়ে থাকে অথবা কোনো ঋণ রেখে গিয়ে থাকে তাহলে তা পরিশোধ করার পর এই ব্যবস্থা। -সূরা নিসা (৪) : ১২

আর স্বামীর অংশ দেওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পদ তার ছেলেমেয়েগণ ‘এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান’ হিসেবে লাভ করবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

یُوْصِیْكُمُ اللهُ فِیْۤ اَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْاُنْثَیَیْنِ.

আল্লাহ তাআলা তোমাদের সন্তান সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান। -সূরা নিসা (৪) : ১১

সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মৃতের সমুদয় সম্পদ তার ওয়ারিশদের মাঝে নিম্নবর্ণিত শতকরা হারে বণ্টিত হবে-

১। মৃতের স্বামী - শতকরা ২৫ ভাগ

২। মৃতের পুত্র - শতকরা ৩৭.৫ ভাগ

৩। মৃতের বড় মেয়ে - শতকরা ১৮.৭৫ ভাগ

৪। মৃতের ছোট মেয়ে - শতকরা ১৮.৭৫ ভাগ

উল্লেখ্য যে, উপরে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী যদি আপনার মায়ের শুধু ৬ শতাংশ সম্পত্তিই বণ্টনযোগ্য থাকে তবে তা থেকে আপনার বাবা অর্থাৎ মরহুমার স্বামী পাবেন ১৫০ অযুতাংশ এবং তার ছেলে পাবে ২২৫ অযুতাংশ। আর মরহুমার উভয় মেয়ের প্রত্যেকে পাবে ১১২.৫ অযুতাংশ করে।

-তাফসীরে কুরতুবী ৫/৫১; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ২/৮০, ২/৮২; তাফসীরে তবারী ৩/৬২৪, ৩/৬১৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২৩/৩০২, ৩০৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২০/২৬২, ২০/২৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৭০, /৭৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৪৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আগে কেউ যদি অসিয়ত করে যায় যে, আমার জানাযা অমুক...

প্রশ্ন

আগে কেউ যদি অসিয়ত করে যায় যে, আমার জানাযা অমুক পড়াবে তাহলে কি শুধু অসিয়তের কারণে সে ব্যক্তি জানাযার নামায পড়ানোর বেশি হকদার হয়ে যাবে? দয়া করে উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

জানাযার নামায পড়ানোর হকদার মৃতের ওলিগণ। তারা চাইলে মৃত ব্যক্তি যার ব্যাপারে জানাযা পড়ানোর অসিয়ত করেছে তাকে দিয়েও জানাযা পড়াতে পারবে। কোনো কোনো সাহাবা-তাবেয়ী নিজের জানাযা পড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট কাউকে অসিয়ত করে গেছেন এবং পরবর্তীতে তার ওলিরা তা পূর্ণও করেছেন। তবে ওলিরা চাইলে অসিয়তকৃত ব্যক্তি ছাড়া অন্যকে দিয়ে কিংবা নিজেরাও জানাযা পড়াতে পারবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ১/১৫৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮১; শরহুল মুনইয়াহ ৬০৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৭/২২৯-২৩০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০৪৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ানোর ক্ষেত্রে কে বেশি হকদার? মৃতের ওলি...

প্রশ্ন

মৃত ব্যক্তির জানাযা পড়ানোর ক্ষেত্রে কে বেশি হকদার? মৃতের ওলি না মহল্লার ইমাম? জনৈক আলেম বলেছেন, মসজিদের ইমামই নাকি বেশি হকদার। কথাটা কতটুকু ঠিক? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

মৃত ব্যক্তির জানাযার নামাযে মৃতের ওলি এবং মহল্লার ইমাম উভয়ে যদি উপস্থিত থাকেন এবং ইমাম ইলম-আমলে মৃতের ওলিদের থেকে বেশি যোগ্য হন তাহলে ইমামই জানাযা পড়ানোর বেশি হকদার। প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন,

يُصَلِّي عَلَيْهَا أَئِمَّةُ الْمَسَاجِدِ.

জানাযার নামায পড়াবে মসজিদের ইমামগণ। তিনি আরো বলেন,

تَرْضَوْنَ بِهِمْ فِي صَلَاتِكُمُ الْمَكْتُوبَاتِ، وَلَا تَرْضَوْنَ بِهِمْ عَلَى الْمَوْتَى.

তোমরা তাদের পেছনে ফরয নামায পড়তে রাজি। কিন্তু জানাযা পড়তে রাজি না (এটা কেমন কথা)! -কিতাবুল আসার, হাদীস ২৩৭

আরেক বর্ণনায় এসেছে, তাবেয়ী সালেম রাহ., তাউস রাহ., কায়েস রাহ., মুজাহিদ রাহ. এবং আতা রাহ. তারা সকলেই ইমাম সাহেবকে জানাযা পড়াতে আগে বাড়িয়ে দিতেন।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৪৩২

অবশ্য মৃতের ওলিরা যদি মহল্লার ইমাম থেকে বেশি যোগ্য ও বড় আলেম হন তাহলে ওলিরাই বেশি হকদার।

-কিতাবুল আছল ১/৩৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) মহিলা মায়্যেতকে কবরে রাখার সময় কবর ঢাকার হুকুম কী?খ)...

প্রশ্ন

ক) মহিলা মায়্যেতকে কবরে রাখার সময় কবর ঢাকার হুকুম কী?

খ) এই মায়্যেতকে যদি খাটিয়া না ঢেকে জানাযার নামায আদায় করা হয় তাহলে নামায হবে কি না?

গ) আমাদের দেশে প্রচলিত আছে, কোনো ব্যক্তি মারা গেলে পরিবারের সকল মহিলাদের গোসল করতে হয়। এটা ইসলাম সমর্থন করে কি না?

উত্তর

ক) মহিলা মায়্যেতকে কবরে রাখার সময় কাপড় ইত্যাদি দিয়ে ঢেকে দেওয়া উত্তম।

আবু ইসহাক রাহ. বলেন, আমি হারিস রাহ.-এর জানাযায় উপস্থিত হলাম। লোকজন তার কবর কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল। তখন আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াযিদ কাপড়টি টেনে সরিয়ে দেন এবং বলেন, তিনি তো পুরুষ।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৭৮৫

খ) মহিলা মায়্যেতের খাটিয়াও আলাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া উত্তম। যাতে বেগানা পুরুষের দৃষ্টি লাশের উপর না পড়ে। অবশ্য খাটিয়া ঢাকা না হলেও জানাযার নামায আদায় হয়ে যাবে।

গ) কেউ মারা গেলে তার পরিবারের সকল মহিলাদের গোসল করতে হবে- এমন ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কুসংস্কারের অন্তর্ভুক্ত। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১২৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/৬৩;আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৯০; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৩/৪৮৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৭০০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলাম...

প্রশ্ন

আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সবাই আলহামদু লিল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমার বাবা-মা এবং অন্যান্য আত্মীয়, যারা অমুসলিম অবস্থায় মারা গেছে, তাদের জন্য খুবই দুঃখ ও আফসোস হয়। পরকালে তাদের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতাম। এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তাদের জন্য এভাবে দুআ করা জায়েয হবে না। তাই জানার বিষয় হল, আসলেই কি তাদের জন্য দুআ করা জায়েয হবে না?

উত্তর

হাঁ, ইমাম সাহেব ঠিকই বলেছেন। কোনো ব্যক্তি কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার মাগফিরাতের জন্য বা পরকালে মুক্তির জন্য দুআ করা নাজায়েয। আল্লাহ তাআলা বলেন-

مَا كَانَ لِلنَّبِیِّ وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَنْ یَّسْتَغْفِرُوْا لِلْمُشْرِكِیْنَ وَ لَوْ كَانُوْۤا اُولِیْ قُرْبٰی مِنْۢ بَعْدِ مَا تَبَیَّنَ لَهُمْ اَنَّهُمْ اَصْحٰبُ الْجَحِیْمِ

আত্মীয়-স্বজন হলেও মুশরিকদের জন্য নবী ও মুমিনদের ক্ষমা প্রার্থনা সংগত নয় যখন তা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, তারা নিশ্চয়ই জাহান্নামী। -সূরা বারাআত (৯) : ১১৩

সুতরাং আপনি পরলোকগত অমুসলিম পিতামাতা ও অন্যান্য অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনের জন্য মাগফিরাত কামনা ও পরকালে মুক্তির দুআ করা থেকে বিরত থাকবেন।

-সূরা বারাআত (৯) : ১১৩; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৭৭১; তাফসীরে কুরতুবী ৮/১৭৩; তাফসীরে রূহুল মাআনী ১১/৩২; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৬৭; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫২২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৯০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমরা দুই ভাই। আব্বার মৃত্যুর পর কিছু জমি বণ্টন করা...

প্রশ্ন

আমরা দুই ভাই। আব্বার মৃত্যুর পর কিছু জমি বণ্টন করা হয়েছে। আর কিছু জমি এখনো বণ্টন করিনি। আমাদের মসজিদের পাশের জমিটিও বণ্টন করিনি। ইতিমধ্যে আমার ছোট ভাই ঐ জমি থেকে তার অংশ মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে দেয়। জানার বিষয় হল, তার অংশ কি ওয়াকফ হয়ে গেছে?

উত্তর

যৌথ জমি বণ্টনের আগে তা থেকে নিজের অংশ ওয়াকফ করা জায়েয। তাই আপনার ছোট ভাইয়ের ঐ ওয়াকফ সহীহ হয়েছে। এখন আপনাদের কর্তব্য হল, জমি বণ্টন করে মসজিদের অংশ আলাদা করে বুঝিয়ে দেওয়া।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৫; আলইসআফ ২৫; মাজমাউল আনহূর ২/৫৭৪; কিতাবুল ওয়াকফ ১০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার একজন আত্মীয় যে আর্থিকভাবে মোটামুটি সামর্থ্যবান। তার বাবা ব্যাংক...

প্রশ্ন

আমার একজন আত্মীয় যে আর্থিকভাবে মোটামুটি সামর্থ্যবান। তার বাবা ব্যাংক থেকে সুদী ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছে। যেটা ভাড়া দেওয়া হবে। ঐ আত্মীয় তার বাবাকে সুদী ঋণ নিতে নিষেধ করেও বিরত রাখতে পারেনি। আবার বাবা বাড়ি তৈরি করার সময় তার থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়েছে। যা ঐ বাড়িতে কাজে লাগিয়েছে। এখন তার প্রশ্ন হল, ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া সে গ্রহণ করতে পারবে কি না? সে কি ঐ বাড়িতে থাকতে পারবে? আর তার বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সে বাড়ি থেকে অংশ পেলে তা কি সে গ্রহণ করতে পারবে? উপরোক্ত সবগুলো ছূরতে যদি তার জন্য টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে তার যে টাকা বাড়িতে লাগানো হয়েছে তা কি তিনি নিয়ে নিতে পারবেন? উত্তর জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

সুদের ভিত্তিতে ঋণ নেওয়া-দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَ اَحَلَّ اللهُ الْبَیْعَ وَ حَرَّمَ الرِّبٰوا ؕ.

আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৫

অপর এক আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَ ذَرُوْا مَا بَقِیَ مِنَ الرِّبٰۤوا اِنْ كُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ فَاِنْ لَّمْ تَفْعَلُوْا فَاْذَنُوْا بِحَرْبٍ مِّنَ اللهِ وَ رَسُوْلِهٖ.

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা কিছু অবশিষ্ট আছে তা পরিত্যাগ করো। যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তা না কর তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সংবাদ জেনে নাও। -সূরা বাকারা (২) : ২৭৮-২৭৯

হাদীস শরীফে এসেছে, জাবের রা. বলেন,

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ، وَقَالَ: هُمْ سَوَاءٌ.

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ ভক্ষণকারী, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সাক্ষীগণকে অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন, (গুনাহের ক্ষেত্রে) তারা সবাই বরাবর।’ -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ঐ আত্মীয়ের বাবার সুদী ঋণ নেওয়া হারাম হয়েছে। এখন তার কর্তব্য হল, অবিলম্বে ব্যাংকের সকল ঋণ পরিশোধ করে দেওয়া এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইস্তেগফার করা।

আর ঐ বাড়ি তৈরিতে যেহেতু তার ছেলের টাকা আছে এবং সে বাবাকে সুদী লোন নিতে নিষেধও করেছে তাই সুদী লোনের গুনাহ ঐ ছেলের উপর বর্তাবে না এবং ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত অংশে বসবাস করা এবং এর আয় গ্রহণ করা তার জন্য জায়েয হবে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার স্বামী আমাকে নিয়ে তার শশুরালয়ে অর্থাৎ আমার পিতার বাড়িতে...

প্রশ্ন

আমার স্বামী আমাকে নিয়ে তার শশুরালয়ে অর্থাৎ আমার পিতার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ঘটনাক্রমে সেখানেই তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল, আমি স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত কোথায় পালন করব? আমার স্বামীর বাড়িতে না পিতার বাড়িতে? দয়া করে উত্তরটা জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার পিত্রালয়ে স্বামীর মৃত্যু হলেও আপনাকে স্বামীর বাড়িতেই ইদ্দত পালন করতে হবে।

কেননা ইদ্দত স্বামীর বাড়িতেই পালন করা জরুরি। একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে যে, এক মহিলার স্বামী ইন্তেকাল করলে সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিজের পিত্রালয়ে চলে যাওয়ার অনুমতি চায়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন,

امْكُثِي فِي بَيْتِكِ حَتَّى يَبْلُغَ الكِتَابُ أَجَلَهُ.

তুমি ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তোমার (স্বামীর) ঘরেই অবস্থান কর। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১২০৪

আর ইদ্দত হচ্ছে চার মাস দশদিন অথবা অন্তসত্তা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত।

-সূরা বাকারা (২) : ২৩৪; সূরা তালাক (৬৫) : ৪; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫৩৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/২৩৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৭৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

গত রবিউল আওয়াল মাসের নয় তারিখে আমার আব্বু মারা যান।...

প্রশ্ন

গত রবিউল আওয়াল মাসের নয় তারিখে আমার আব্বু মারা যান। আর আমার আম্মু জীবিত আছেন। আর আমরা জানি, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হয়। এখন প্রশ্ন হল, আব্বু যেহেতু মাসের কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেছেন তাই এ অবস্থায় চার মাস দশ দিনের হিসাব কীভাবে করবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার আব্বার মৃত্যু যেহেতু মাস শুরু হওয়ার পর হয়েছে তাই আপনার আম্মা এক শত ত্রিশ দিন ইদ্দত পালন করবেন। এক্ষেত্রে মাসের হিসাব ধর্তব্য হবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৫২২; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৫৪৯-৫৫০; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩১০; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/২২৭; আলবাহরুর রায়েক ৪/১৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার আম্মার বয়স সত্তরের ঊর্ধ্বে। গত দুমাস আগে তিনি আমাকে...

প্রশ্ন

আমার আম্মার বয়স সত্তরের ঊর্ধ্বে। গত দুমাস আগে তিনি আমাকে অসিয়ত করেছিলেন, তিনি মারা গেলে তার নামে ছয় কাঠা জমি গ্রামের মাদরাসায় ওয়াকফ করতে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার ছোট বোন একটি বিপদে পড়ে, যা সারতে অনেক টাকার প্রয়োজন। এখন আম্মা চাচ্ছেন, সেই ছয় কাঠা জমির দুই কাঠা বিক্রি করে টাকাটা বোনকে দিতে। জানতে চাই, তার জন্য ঐ জমি বিক্রি করা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

কেউ কোনো ওসিয়ত করলে তা কার্যকর হয় ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর। সুতরাং জীবদ্দশায় সে চাইলে তার কৃত ওসিয়ত বাতিল করতে পারে। অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার আম্মার জন্য জমির ঐ অংশ বিক্রি করে আপনার বোনকে টাকা দেওয়া জায়েয হবে।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩১৪৪৯; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪৯৩; হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৯/৩৬৪; রদ্দুল মুখতার ৬/৬৫৮; মাবসূত, সারাখসী ২৭/১৬২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৯০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দুজন প্রতিবেশী মারা যান। তাদের...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের দুজন প্রতিবেশী মারা যান। তাদের দুজনের জানাযার নামায একসাথে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়। এতে কিছু মানুষ আপত্তি করল যে, এক সাথে দুজনের জানাযার নামায পড়লে তা সহীহ হবে না। বরং প্রত্যেকের নামায আলাদা পড়তে হবে। এই নিয়ে তুমুল বাকবিত-া হয়। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেকের নামায পৃথকভাবে পড়া হয়।

আমার প্রশ্ন হল, একসাথে একাধিক মায়্যেতের উপর একবার জানাযার নামায পড়লে তা কি সহীহ হবে? নাকি প্রত্যেকের জন্য পৃথক নামায পড়তে হবে?

উত্তর

একসাথে একাধিক জানাযা উপস্থিত হলে যথাসম্ভব প্রত্যেকের পৃথক পৃথক জানাযা নামায পড়াই উত্তম। তবে একাধিক মায়্যেতের জানাযা একসাথে পড়াও জায়েয আছে এবং এর দ্বারা সকলের জানাযা আদায় হয়ে যাবে। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধে দশ দশজন শহীদের জানাযা একত্রে পড়েছেন।Ñশরহু মাআনিল আসার ১/২৪২

নাফে রাহ. থেকে বর্ণিত আছে, ইবনে উমর রা. নয়জন পুরুষ ও নারীর উপর একসাথে জানাযার নামায পড়েছেন।

Ñসুনানে কুবরা, বাইহাকী ৪/৩২; কিতাবুল আসল ১/৩৫০; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৬৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২৪; শরহুল মুনইয়া ৬০৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৬৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। আমার প্রশ্ন হল, আমাদের এলাকার...

প্রশ্ন

আমার গ্রামের বাড়ি খুলনার বাগেরহাটে। আমার প্রশ্ন হল, আমাদের এলাকার সামাজিক কবরস্থানটা মুর্দা দাফন দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এখন কি এ কবরস্থানে মাটি সংস্কার করে আবার মুর্দা দাফন করা যাবে? এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় মতানৈক্য দেখা দিয়েছে। কেউ বলছে, কবরস্থানে মাটি সংস্কার করে আবার দাফন করা যাবে। আবার কেউ বলছে, এখন প্রত্যেকে নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানের ব্যবস্থা করে সেখানে দাফন করবে। দয়া করে এ বিষয়ে শরীয়তের হুকুম জানিয়ে বাধিত করবেন। আমরা শরয়ী সমাধানের প্রতীক্ষায় আছি।

উত্তর

কবর পুরাতন হওয়ার কারণে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হলে সেখানে নতুন কবর দেওয়া জায়েয আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের ঐ কবরস্থানের পুরাতন কবরের এলাকায় সংস্কার করে সেখানে নতুন করে কবর দেওয়া যাবে। অবশ্য কবর খননের সময় সেখানে কোনো হাড্ডি ইত্যাদি পাওয়া গেলে তা কবরের এক পাশে বা ভিন্ন স্থানে দাফন করে দিবে।

তবে কম সময়ের কবর, যেগুলোতে লাশ মাটি হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হয়নি সেখানে বিশেষ ওজর ছাড়া নতুন করে কবর দেওয়া যাবে না।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৫৯৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৩৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

জনৈক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর কিছু মুসল্লি বলাবলি করছে যে, ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলেছেন। ইমাম সাহেব নিশ্চিতভাবে বলছেন যে, তিনি চার তাকবীরই বলেছেন। এভাবে তিন দিন গত হয়েছে। এখন এ ব্যাপারে আমাদের কোনো করণীয় আছে কি না জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে চার তাকবীর বলা হয়েছে, এ ব্যাপারে ইমাম সাহেব যেহেতু নিশ্চিত তাই তাঁর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে এবং উক্ত জানাযা নামায সহীহ হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। এছাড়া মুসল্লিদের মাঝে সংশয় থাকলে তৎক্ষণাতই বলা কর্তব্য ছিল। তা না করে দাফনের পর বলাটা আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং এখন এ নিয়ে বিতর্ক ও সন্দেহে লিপ্ত হওয়া ঠিক হবে না।

-আলবাহরুর রায়েক ২/১০৯; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

ক) মায়্যেতের গোসলদাতা ও দাফনকার্য সম্পাদনকারী যেমন, কবর খননকারী, বাঁশ...

প্রশ্ন

ক) মায়্যেতের গোসলদাতা ও দাফনকার্য সম্পাদনকারী যেমন, কবর খননকারী, বাঁশ কর্তনকারী ইত্যাদি লোকদেরকে কাজের পারিশ্রমিক হিসেবে কোনো বিনিময় দেওয়া যাবে কি না?

খ) মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়-চোপড় ও অন্যান্য আসবাবপত্রের হুকুম কী?

গ) মাইয়্যেতের দাফনকার্য শেষ হলে কবরের পাশে অবস্থান করে কী কী আমল করা যেতে পারে?

উত্তর

ক) হাঁ, মায়্যেতের গোসলদাতা, কবর খননকারী ও তার সহযোগীদেরকে বিনিময় দেওয়া জায়েয। তবে এসব কাজ বিনিময়হীনভাবে করাই উত্তম।

খ) মায়্যেতের পরিধেয় কাপড়, আসবাবপত্রও মীরাসের অন্তর্ভুক্ত। তাই এগুলোও মীরাসের নিয়ম অনুযায়ী বণ্টন করতে হবে। তবে সকল ওয়ারিশ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগুলো দান করে দিতে চায় তবে তাও জায়েয আছে।

গ) মায়্যেতের দাফন শেষে কবরের পাশে অবস্থান করে নিম্নের আমলগুলো

করার কথা হাদীসে এসেছে।

১। মৃতের মাগফিরাতের জন্য এবং কবরের সওয়ালের জওয়াবে অটল থাকার জন্য দুআ করা। হযরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃতের দাফনকার্য সম্পন্ন করতেন তখন কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন, তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য মাগফিরাত কামনা করো এবং (সওয়ালের-জওয়াবে) অটল থাকার জন্য দুআ করো। কেননা এখনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩২১৩

২। মৃতের মাথার দিকে অবস্থান করে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষের কিছু অংশ তিলাওয়াত করবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. লাশ দাফনের পর তার মাথার দিকে অবস্থান করে সূরা বাকারার শুরু এবং শেষের অংশ পড়া পছন্দ করতেন। -সুনানে বায়হাকী ৪/৫৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৮৩৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: মৃত্যু-জানাজা

আমরা জানি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা জায়েয...

প্রশ্ন

আমরা জানি, আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা জায়েয নেই। কিন্তু সেদিন আমাদের এলাকার এক লোক বললেন, ভক্তি-শ্রদ্ধার জন্য পীর সাহেবকে বা মাজারে সিজদা করা জায়েয। তার এ কথা কতটুকু ঠিক? দয়া করে কুরআন-হাদীসের দলিল-প্রমাণসহ জানাবেন।

উত্তর

সিজদার উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ তাআলা। আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা সম্পূর্ণ হারাম। তা যে উদ্দেশ্যই হোক না কেন। আর ইবাদতের উদ্দেশ্যে কাউকে সিজদা করলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। গাইরুল্লাহকে সিজদা করা যে হারাম তা কুরআন-হাদীসের অকাট্য দলিলাদি দ্বারা প্রমাণিত। অতএব যারা বলে, ভক্তি-শ্রদ্ধার উদ্দেশ্যে পীর সাহেবকে বা মাজারে সিজদা করা জায়েয তাদের এ কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। এটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিম্নে কুরআন-হাদীসের কয়েকটি দলিল উল্লেখ করা হল।

১। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَّ اَنَّ الْمَسٰجِدَ لِلّٰهِ فَلَا تَدْعُوْا مَعَ اللّٰهِ اَحَدًاۙ

নিশ্চয়ই সিজদার স্থানসমূহের মালিক আল্লাহ তাআলা। অতএব তোমরা তার সাথে কারো ইবাদত করো না। -সূরা জিন (৭২) : ১৮

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রসিদ্ধ তাবেয়ী সায়ীদ ইবনে জুবায়ের, আতা, তলক ইবনে হাবীব প্রমুখ মুফাসসিরগণ বলেন, উক্ত আয়াতের সিজদার স্থানসমূহ দ্বারা উদ্দেশ্য সিজদার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। অর্থাৎ এগুলোর মালিক আল্লাহ। অতএব এগুলো দ্বারা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করো না। -তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬৭৬; তাফসীরে কুরতুবী ১৯/১৪; তাফসীরে রুহুল মাআনী ২৯/৯১

২। হযরত আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলার অভিশাপ ইহুদী-নাসারাদের উপর। তারা তাদের নবীগণের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। -সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৯০

৩। হযরত জুনদুব রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর ইন্তেকালের তিনদিন আগে বলতে শুনেছি, সাবধান! তোমরা কবরকে সিজদার স্থান বানিও না। আমি তোমাদেরকে তা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করছি। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩২

৪। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো জন্য (আল্লাহ ছাড়া) অন্য কাউকে সিজদা করা জায়েয নেই। যদি কারো জন্য জায়েয হত অন্য কাউকে সিজদা করা তাহলে আমি স্ত্রীকে আদেশ করতাম স্বামীকে সিজদা করতে। কেননা আল্লাহ তাআলা স্ত্রীর উপর স্বামীর অনেক বড় হক ন্যস্ত করেছেন। -সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৪১৬৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৬১৪

সুতরাং ভক্তি-শ্রদ্ধার নিয়তেও মাযার বা কোনো ব্যক্তিকে সিজদা করা জায়েয নেই; সম্পূর্ণ হারাম।

-সূরা জিন : ১৮; তাফসীরে ইবনে কাসীর ৪/৬৭৬; তাফসীরে কুরতুবী ১৯/১৪; তাফসীরে রুহুল মাআনী ২৯/৯১; সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৯০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৩২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/২৫৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬৮; আলইলাম বিকাওয়াতিইল ইসলাম ২/৩৪৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪২৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৩; আলফাওযুল কাবীর ৬৫; তাকবিয়াতুল ঈমান ৫২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.03 render + 0.02 s transfer.