Login | Register

ফতোয়া: ব্যবসা-চাকুরী

ফতোয়া নং: ৪৮৯৯
তারিখ: ২৭/৫/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

মসজিদে জুমার নামায না পেয়ে কয়েকজন মিলে রুমে জুমা আদায় করা ৷

প্রশ্ন
শ্রদ্ধেয় মুফতী সাহেব ! আমার ৬/৭ জন একটি রুমে ভাড়া থাকি ৷ গত সপ্তাহে ঘুম থেকে জাগ্রত না হতে পেরে আমরা জুমার নামাযের জন্য রেডি হতে বিলম্ব হয়ে যায়। এমন সময় জাগ্রত হয়েছি যে, এখন আর জুমা পাওয়া যাবে না ৷ আমাদের মধ্যে দুজন হুজুর সাথীও ছিল ৷ তাই আমরা রুমের ভিতরেই খুতবা পড়ে জুমা আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমাদের জুমার নামায সহীহ হয়েছে কি না?
উত্তর
জুমার নামায সহীহ হওয়ার জন্য মজসিদ হওয়া যেহেতু জরুরী নয়, এবং জুমা আদায়ের শর্ত খুতবাও দেওয়া হয়েছে তাই আপনাদের জুমা আদায় করা সহীহ হয়েছে। তবে বিশেষ জরুরত ব্যতীত মসজিদের জুমা ত্যাগ করা গুনাহের কাজ । এবং জেনে রাখা উচিত, জুমার প্রথম আযানের পর পরই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
সম্পন্ন করে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জরুরি। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! যখন জুমার দিনে নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয় তখন তোমরা আল্লাহর যিকির তথা জুমার নামাযের দিকে ধাবিত হও।
-সূরা জুম‘আ, আয়াত ৯ ৷
তাই আযানের পর জুমার নামাযের প্রস্তুতিমূলক কাজ ছাড়া অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত হওয়া জায়েয নয় । প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনাদের এভাবে ঘুমিয়ে থাকাটাও ঠিক হয়নি। সামনে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করবেন ৷
-শরহুল মুনইয়াহ ৫৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৫১৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৮৭
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

বিনা টিকেটে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা ৷

প্রশ্ন
ট্রেনে ঢাকা থেকে ভৈরব যাবর জন্য টিকেট কাটতে লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু সিরিয়াল আসার আগেই টিকেট শেষ হয়ে যায়। ট্রেনও ঈদের সময় খুব জ্যাম ছিল ৷ তাই টিকেট না কেটে আরো কয়েকজন মিলে ট্রেনের ছাদে উঠে যাই এবং বিনা খরচে ভৈরব পৌঁছি।
এখন আমার প্রশ্ন হল, এভাবে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা আমাদের জন্য কতটুকু ঠিক হয়েছে? এবং আমাদের উপর এর ভাড়া আবশ্যক কি না? দিতে হলে কিভাবে কতটুকু দিব?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায় বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা বৈধ হয়নি। এবং ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করাও বাংলাদেশের আইনগত নিষিদ্ধ। সরকার কর্তৃক সকল বৈধ আইন জনগণের জন্য মেনে চলা আবশ্যক। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই আইন অমান্য করার কারণে আপনাদের গুনাহ হয়েছে।
এখন আপনাদের কর্তব্য হল, উক্ত কাজের জন্য তওবা করা এবং ঐ ট্রেনে ঢাকা থেকে ভৈরবের যা ভাড়া সে মূল্যের স্ট্যান্ডিং টিকেট ক্রয় করে ছিঁড়ে ফেলা। তাহলে আপনাদের ভাড়া আদায় হয়ে যাবে ।
-ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৪৪৫ ৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৮২
তারিখ: ২০/৫/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

এনজিওতে চাকরী করা ৷ যার কাজ মানুষের মাঝে ঋণ দেওয়া ৷

প্রশ্ন
আমি একটি এনজিওতে চাকরি করছি। আমার কাজ হল, মানুষের মাঝে টাকা ঋণ দেওয়া যে টাকা ঋণগ্রহিতারা কিছু বেশিতে আদায় করে থাকে। যেমন কেউ ২০,০০০/-টাকা ঋণ নিলে সে কিস্তির মাধ্যমে ২২,০০০/- টাকা আদায় করে। প্রশ্ন হল, এই ধরনের চাকরি কি বৈধ হবে?
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনার উক্ত চাকরি
করা জায়েয নয় ৷ এবং এর বেতন ভোগ করাও নাজায়েয। কারণ তা সুদের লেনদেন ৷ যা নিকৃষ্টতম হারাম ৷ অতএব যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে উপার্জনের কোনো বৈধ পন্থা খুঁজে বের করা অপরিহার্য ৷
-সহীহ বুখারী ১/২৮০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৬ ৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮৭২
তারিখ: ১২/৫/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

বরপক্ষের দাবি ছাড়া স্বতঃফুর্তভাবে কনেপক্ষ ফার্নিচার ইত্যাদি দিলে, তা গ্রহন করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব! আমি জানতে চাই আমাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনে চুক্তি বা আবেদন ছাড়া ই যদি আমার শশুর নিজের পক্ষ থেকে ফার্নিচার ইত্যাদি ঘরের আসবাবপত্র দিতে চায়, তাহলে আমাদের তা গ্রহন করা বৈধ হবে কিনা? জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
প্রশ্নে বর্নিত সুরতে আপনাদের পক্ষের দাবি কিংবা সামাজিক কোন ধরনের চাপ ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে আপনার শশুর কনের ঘরে ব্যবহারের জন্য কোনো আসবাবপত্র দিলে তা গ্রহণ করা যাবে।
আর যদি আপনাদের দাবি কিংবা চাপের কারণে অথবা সামাজিক প্রচলনের কারণে বা অন্য কোন কারনে বাধ্য হয়ে কোনো কিছু দেয়, স্বতঃস্ফুর্তভাবে না দেয়, তাহলে তা গ্রহণ করা জায়েয হবে না।
-মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১৫৪৮৮; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/৩৪৮ ৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম গেবগ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৷


ফতোয়া নং: ৪৮৫১
তারিখ: ২১/৪/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

প্রভিডেন্ট ফান্ড ও পেনশনের অতিরিক্ত টাকা গ্রহন করা ৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব আমার একটি প্রশ্ন ৷ আমি সরকারী চাকুরী করি ৷ চাকরীর আর কিছুদিন বাকি আছে ৷ সরকার থেকে আমার পেনশন দিবে ৷ আমার বেতন থেকেই টাকা কেটে নিয়েছিল ৷ বেতনের অতিরিক্ত ইন্টারেস্টও দিবে ৷ এখন কাগজপত্র রেডি করতে বলা হয়েছে ৷ আমার জানার বিষয় হলো, আমি পেনশনের পুর্ন টাকা গ্রহন করতে পারব কি না? জানালে উপকৃত হবো ৷
উত্তর
যদি কর্তৃপক্ষ আপনাদের বেতনের নির্দিষ্ট অংশ হাতে না দিয়েই বাধ্যতামূলকভাবে জমা রেখে দেয়। যখন অবসর নিবেন , কর্তৃপক্ষ জমা টাকার সাথে যদি অতিরিক্ত টাকা প্রদান করে, তাহলে তা গ্রহণ করতে শরয়ী দৃষ্টিকোন থেকে কোন সমস্যা নেই। কারণ তা সুদের অন্তর্ভোক্ত হবে না ৷
কিন্তু যদি টাকা জমা রাখা চাকুরীজীবির ইচ্ছাধীন হয় ৷ ইচ্ছে করলে রাখতেও পারে, আবার উঠিয়েও ফেলতে পারে। এমতাবস্থায় আপনি ইচ্ছে করে টাকা জমা রেখে থাকেন ৷ মুদারাবা বা মুশারাকা বা এ জাতীয় শরয়ী কোন চুক্তি করেন নি, তাহলে অবসরের সময় জমাকৃত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা জায়েজ হবে না।
-বাহরুর রায়েক- ৭/৫১১; রদ্দুল মুহতার- ৫/১৬৬; জাদীদ ফিক্বহী মাসায়েল-১/৪৩৮; ফাতাওয়া উসমানী-৩/২৭৮।
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী:জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৮১৮
তারিখ: ১২/২/২০১৭
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

হারাম উপার্জনকারীর বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া ৷

প্রশ্ন
হুজুর আমি মসজিদের ইমাম ৷ বিভিন্ন বাড়িতে দাওয়াত খেতে হয় ৷ না গেলেও অনেক সমস্যা ৷ এমন বাড়িতেও যেতে হয় যিনি সুদী ব্যাংকে চাকরী করে ৷ আবার কেউ নিজেই সরাসরি সুদখুর ৷ তাই জানার বিষয় হলো, এসব হারাম উপার্জনকারীদের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া কি জায়েজ? জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।
উত্তর
হারাম উপার্জনকারীর যদি পূর্ণ টাকা-ই হারাম হয়। আর লোকটি তার হারাম টাকা দিয়েই দাওয়াত খাওয়ায় অথবা যদি লোকটির উপার্জন হালাল ও হারামের মাঝে মিশ্রিত হয় ৷ এবং হালাল উপার্জনের চেয়ে হারাম উপার্জন বেশি হয়। আর লোকটি ঐ মিশ্রিত সম্পদ দিয়ে দাওয়াত খাওয়ায় । তাহলে উক্ত ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া জায়েজ নয়।
তবে যদি দাওয়াতকারীর সম্পদ এমন হয় যে, তার হালাল উপার্জনও আছে, আবার হারাম উপার্জনও আছে। এবং হারাম উপার্জনের চেয়ে হালাল উপার্জনের পরিমান বেশি। আর লোকটি এ মিশ্রিত সম্পদ দিয়ে দাওয়াত খাওয়ায় ৷ অথবা যদি হারাম উপার্জন দিয়ে দাওয়াত না খাওয়ায় । বরং নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে বা কারো থেকে হালাল টাকা ধার করে দাওয়াত খাওয়ায়। তাহলে উক্ত ব্যক্তির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া জায়েজ আছে।
ফতাওয়ায়ে শামী ৬/২৪৭; ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩৪২৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রান ব্রাক্ষণবাড়িয়া ৷

ফতোয়া নং: ৪৭৮৫
তারিখ: ২৮/১২/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

রিকশা, অটো রিক্সা, সি এন জি নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য ভাড়া নিয়ে পথিমধ্যে অন্য যাত্রী উঠানো ৷

প্রশ্ন
আমি একদিন একাকি রিকশাকে নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য ভাড়া করি। পরে রাস্তায় পরিচিত একজনকে ডেকে নিই। তখন রিকশাওয়ালা কোনো আপত্তিও করে না এবং বাড়তি ভাড়াও দেওয়া হয় না। জানার বিষয় হলো, এভাবে পরবর্তীতে রিকশা, অটোরিক্সা, সিএন জি রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে পরে রাস্তায় কোনো আরোহী নেওয়া ও অতিরিক্ত ভাড়া সম্পর্কে শরয়ী বিধান কি?
উত্তর
আমাদের দেশের নিয়ামানুযায়ী রিকশা ও অটোরিক্সা/সি এন জি ভাড়া নেওয়ার প্রচলন ভিন্ন ধরনের৷ এজন্য তার হুকুমেও কিছুটা ব্যবধান রয়েছে ৷
রিকশা ভাড়া নেওয়ার সময় চালকের সাথে যতজন আরোহীর চুক্তি হয় ততজনই তাতে আরোহণ করতে পারবে। পরে রাস্তায় কাউকে নিতে চাইলে ভাড়ার সময় বলে নিবে, বা উঠানোর সময় চালকের সম্মতি নিতে হবে৷ এবং অতিরিক্ত কিছু ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া কর্তব্য ৷ তবে কোনো এলাকায় যদি একজন ও দু’জন যাত্রীর ভাড়ার বেলায় কোনো তারতম্য না থাকে, একজন যত টাকা ভাড়া দুজন ততটাকা ই ভাড়া হয়, তাহলে চালকের অনুমতিতে বিনা ভাড়ায় অন্যজন যাত্রীকে নিয়ে নিতে পারবে।
সিএনজি/অটোরিক্সা রিজার্ভ ভাড়া নিলে সাধারণত
যতজন যাত্রী আরোহন করা নিয়মসম্মত, পরবর্তীতে সে সংখ্যক যাত্রী নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অতএব পরবর্তিতে অন্য যাত্রীর আরোহনের সুযোগ থাকলে নিয়ে নিতে পারবে ৷ আর যদি রিজার্ভ না নেয়া হয়৷ তাহলে প্রতি সিটের ভাড়া অনুযায়ী ভাড়া দিতে হবে ৷
শরহুল মাজাল্লা খালিদ আতাসী ২/৪৯০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৭২৷
মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতীঃ জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৭৪০
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

শেয়ার ব্যবসা করার শরয়ী বিধান৷

প্রশ্ন
আমি শেয়ার বাজার এর ব্যাবসার সাথে জরিত। এই ব্যবসা কি ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী হালাল?
উত্তর
হালাল ও হারামের দৃষ্টিতে এ ব্যবসাটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যবসা। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক৷
শাইখুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ তাক্বী উসমানী দা.বা. হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর উদ্ধৃতিতে কয়েকটি শর্তে শেয়ারকে কমবেশি করে বিক্রি ব্যবসাকে জায়েজ বলেছেন। যথা-

কোম্পানীর মূল ব্যবসাটি হালাল হতে হবে। যেমন ঔষধ কোম্পানী, ইনষ্ট্রাকশন কোম্পানী ইত্যাদি।

মূল মূল্যের চেয়ে কমবেশি করে বিক্রি করার জন্য শর্ত হল, কোম্পানীর মূল সম্পদ শুধু টাকা হতে হবে না, বরং টাকার সাথে সাথে অন্যান্য সম্পদও থাকতে হবে। যেমন বিল্ডিং, জমি, মেশিন ইত্যাদি।

যদিও মূল ব্যবসা হালাল, কিন্তু যদি উক্ত কোম্পানীতে কিছু সুদী বা হারাম লেনদেনও হয়, তবে খুবই কম। তাহলেও সেই সুদী ও হারাম লেনদেনের বিরুদ্ধে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিবাদ করবে এবং সংশোধনের জন্য বলবে।

কোম্পানীর যতটুকু আয় সুদ থেকে হয়, তা হিসেবে করে বের করে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবে।
উপরোক্ত চারটি শর্ত সঠিকভাবে মান্য করলে শেয়ার ব্যবসা জায়েজ আছে। তবে বর্তমানে শেয়ার বাজারে নানামুখী ধোঁকা, প্রতারণার বিস্তার রয়েছে। আর
উপরোক্ত শর্তগুলো সঠিকভাবে পাওয়াও কঠিন। তা’ই বর্তমানে আমাদের দেশের এ ব্যবসার বিকল্প কোন ব্যবসায় জড়ানোই অধিক নিরাপদ এবং এবং তা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য৷
- ইসলাম আওর জাদীদ মায়িশাত: ওয়া তিজারাত-১০৩-১১৪; ইসলামী ব্যাংকারী কী বুনিয়াদে-২১৬-২২১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭৩২
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

সাইকেল হেফাযত করে ঘন্টা হিসেবে ভাড়া গ্রহন করা৷

প্রশ্ন
আমাদের বাড়ির পাশে একটি বড় বাজার আছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এ বাজারে আসে। অনেকেই সাইকেলে করে বাজারে আসেন এবং এক ব্যক্তির দোকানে হেফাযতের জন্য রাখেন। দোকানের মালিক এর জন্য সময় অনুপাতে নির্ধারিত ফি নিয়ে থাকে। যেমন ঘন্টা প্রতি ১/২ টাকা। জানতে চাই, সাইকেল জমা রেখে এভাবে ফি গ্রহণ করা জায়েয হবে কি না?
উত্তর
হ্যাঁ, সাইকেল হেফাযতের জন্য ঘন্টা হিসাবে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ হবে। -মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ মাদ্দা : ৭৭৭; শরহুল মাজাল্লাহ, সীলম বায ১/৪৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৬৪৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৭০৪
তারিখ: ১/১১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

ব্যাংকে চাকরীজীবির বেতন টাকার হুকুম৷

প্রশ্ন
যারা ব্যংকে চাকরী করে তাদের বেতনের টাকা কি হালাল নাকি হারাম?
উত্তর
ব্যপকভাবে তার উত্তর দেয়া তো মুশকিল কারন এ বিষয়টি তে একটু ব্যাখ্যা রয়েছে৷ ব্যাংকের ক্ষেত্রে একটি মূলনীতি হলো-
ব্যাংকে চাকরী করা হারাম হওয়ার কারণ দুইটি।
যথা-
১-হারাম কাজে সহায়তা করা। ২-হারাম মাল থেকে বেতন পাওয়ার সম্ভাবনা
থাকা।
হারাম কাজের সহায়তার বিভিন্ন ধাপ আছে। ইসলাম সর্ব প্রকারের সহায়তাকে হারাম বলে নি। বরং ঐ সব সহায়তা হারাম যাতে সরাসরি হারাম কাজে লিপ্ত। যেমন সুদী লেনদেন করা। সুদী লেনদেন লেখা। সুদী টাকা উসুল করা ইত্যাদি।
রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন।
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯৷
তবে যদি সুদী কাজে লিপ্ত না হয়, বরং তার কাজ এমন হয় যেমন ড্রাইভার, ঝাড়ুদার, দারোয়ান, জায়েজ কারবারে বিনিয়োগ ইত্যাদি হয় তাহলে যেহেতু এসবে সরাসরি সুদের সহায়তা নেই তাই এমন চাকরী করার সুযোগ আছে।
হারাম মাল থেকে বেতন পাওয়ার বিষয়ও একটি মূলনীতি রয়েছে তা হল- যদি বেতনটি হালাল ও হারাম মালের সাথে মিশ্রিত হয়, আর হালাল মাল বেশি হয়, তাহলে তা নেয়া জায়েজ। আর যদি হারাম মাল বেশি হয় তাহলে বেতন নেয়া জায়েজ হবে না৷
ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-৫/৩৪২
বর্তমানে ব্যাংকের অবস্থা হলো, তার পূর্ণ সম্পদ কয়েকটি বিষয়ের সমষ্টি। যথা-
১-মূলধন। ২-সঞ্চয়কারীদের জমাকৃত টাকা। ৩-জায়েজ ব্যবসার আমদানী। ৪-সুদ এবং হারাম ব্যাবসার আমদানী। উক্ত চারটি বিষয়ের মধ্যে কেবল ৪র্থ সুরতটি
হারাম। বাকিগুলো যদি কোন হারাম কাজ না হয় তাহলে জায়েজ।
যেসব ব্যাংকে প্রথম ৩টি বিষয়ের লেনদেন বেশি । আর ৪র্থ বিষয়টির লেনদেনের লভ্যাংশ কম সেসব ব্যাংকে সেসব ডিপার্টমেন্টে চাকরী করা যাতে হারাম কাজ করতে না হয়, তাহলে তা জায়েজ হবে। বেতন নেওয়াও জায়েজ হবে। তবে এসব চাকরী না করাই উত্তম৷
কিন্তু যদি হারাম আমদানী হালালের তুলনায় বেশি হয়৷ বা হারাম কাজে জড়িত হতে হয়, তাহলে উক্ত ব্যাংকে চাকরী করা ও বেতন নেওয়া কোনটি ই জায়েজ নয়। উক্ত ব্যাংকের চাকরীজীবির বেতনের সমস্ত অর্থ হারাম হিসেবে বিবেচ্য হবে৷
ফাতওয়ায়ে উসমানী-৩/৩৯৪-৩৯৬৷ মুফতী মেরাজ তাহসীন মুফতী জামিয়া দারুল উলুম দেবগ্রাম ব্রাক্ষণবাড়িয়া৷
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৬২
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

সন্ত্রাসীর হাত থেকে রক্ষা পেতে বাধ্য হয়ে মুক্তিপণ বা চাঁদা দেয়া৷

প্রশ্ন
মুফতী সাহেব , আমি দুটি বিষয় জানতে চাচ্ছি; ১। নিজের বা সন্তানের বা অন্য কারো জীবন সন্ত্রাসী দের হাত থেকে বাঁচাতে মুক্তি পণ দেওয়া জায়েজ কি? ২। ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে সন্ত্রাসী বা অন্য কাউ কে চাঁদা দেওয়া ইসলামের দুষ্টিতে জায়েজ কি?
উত্তর
সুদ বা ঘুষ গ্রহণ কখনোই জায়েজ নয়। কিন্তু বিপদ থেকে রক্ষা পেতে নিরূপায় অবস্থায় সুদ ও ঘুষ দেয়া জায়েজ আছে।
দলিলঃ
রদ্দুল মুহতার ৯/৬০৭; ফতহুল কাদীর ৭/২৫৫; বাহরুর রায়েক ৬/২৬২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৫৯
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করা, একাউন্ট খোলা৷

প্রশ্ন
ইসলামী ব্যাংক লিঃ , আল- আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, শাহজালাল ইসলমী ব্যাংকলিঃ সহ বাংলাদেশে পরিচালিত
ইসলামী ব্যাংক সমূহে চাকুরী করা, একাউন্ট খোলাজায়েজ আছে কিনা । যদি জায়েজ
না থাকে তাহলে কি কারনে জায়েজ নাই তাহাবিস্তারিত জানালে উপকৃত হব৷
উত্তর
বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামীক নামে
পরিচিত ব্যাংকগুলোর সকল কার্যক্রম আমাদের জানামতে পূর্ণ ইসলামী নীতিমালা অনুসারে
পরিচালিত হতে পারছে না। তাই ওই সব ইসলামী ব্যাংকে যে কোন পদে চাকুরী করা হালাল-হারামের দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ। আর সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে কারেন্ট একাউন্ট কিংবা অন্য কোন সুদমুক্ত একাউন্টে টাকা
রাখা যেতে পারে। ইসলামী ব্যাংক গুলোতে টাকা রাখলে লাভ না নেওয়া উচিত।
দলিলঃ
সূরা বাকারা আঃ ২৭৫, ২৭৮, সহীহ বুখারী ১/২৮, সহীহ মুসলিম ২/২৭, রদ্দুল মুহতার ৭/৬৫৮, ফতওয়ায়ে উসমানী ৩/৩৯৪৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
02756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪৫
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

রসের উদ্দেশ্যে খেজুর গাছ ভাড়া নেওয়া দেওয়া৷

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় প্রচলন আছে যে, শীতকালে গাছিরা খেজুর গাছ ভাড়া নেয়। পুরো শীত মৌসুমে খেজুরের রস বিক্রি করে যে টাকা আয় হয় তা থেকে তারা মালিকের ভাড়া পরিশোধ করে। প্রশ্ন হল, উক্ত কারবারটি শরীয়তের দৃষ্টিতে সহীহ কি না?
উত্তর
রসের উদ্দেশ্যে খেজুর গাছ ভাড়া দেওয়া-নেওয়া জায়েয নয়। উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত কারবারটি শরীয়তসম্মতভাবে করতে চাইলে এভাবে করতে পারবে যে, গাছি গাছ কেটে রস সংগ্রহ করে দিবে এবং তা বিক্রি করে দিবে আর তার পরিশ্রমের বিনিময়ে সে মালিক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক নিবে। এক্ষেত্রে রস বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাবে তা পাবে গাছের মালিক। -বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৭; রদ্দুল মুহতার
৬/৮৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬৪৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

গাড়ি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার না করলে ভাড়া পরিশোধ করা৷

প্রশ্ন
ঢাকা শহর ও তার আশপাশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে বেড়ানোর জন্য আমরা একটি মাইক্রোবাস
ভাড়া নিই। চুক্তি ছিল, তেলখরচ ছাড়াও গাড়ির
মালিককে এক দিনের জন্য ১৫,০০/- টাকা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু বিশেষ কারণে আমরা যেতে পারিনি। গাড়িটি বিকেল পর্যন্ত আমাদের বাসার সামনে অপেক্ষায় ছিল।
আমাদের না যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর
গাড়িটি ফেরত যায়। জানতে চাই, এখন আমাদের
কি ব্যবহার না করা সত্ত্বেও এর নির্ধারিত ভাড়া
আদায় করতে হবে?
উত্তর
হ্যাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গাড়িটি ব্যবহার না
হলেও চুক্তিকৃত ১৫,০০/- টাকাই আদায় করতে হবে। তবে যেহেতু গাড়ি ব্যবহার হয়নি তাই তেল খরচ দিতে হবে না।
-আলআশবাহ ওয়াননাযাইর পৃ. ৩২০; শরহুল মাজাল্লাহ খালিদ আতাসী ২/৫৫৪; ফাতাওয়া খানিয়া ২/৩৭১; মাজাল্লাহ পৃ. ৮৯; আদ্দুররুল মুখতার ৬/১১৷
উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন জামিয়া মাজহারুল হক দারুল উলুম দেবগ্রাম আখাউড়া ব্রাক্ষনবাড়িয়া
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৬১৪
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

অতিরিক্ত দেয়ার শর্ত করে ঋন দেওয়া৷

প্রশ্ন
আমি এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ৪০,০০০/- টাকা ঋণ নিই এবং সেই টাকা নিয়ে আমার বেশ উপকার হয়। সে আমাকে বলেছে, তোমার যে পরিমান ইচ্ছা বাড়িয়ে দিও। আমার উপকারের বিনিময় হিসেবে তাকে অতিরিক্ত কিছু দেওয়া যাবে কি?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঋণদাতা যেহেতু ঋণের ৪০,০০০/- টাকা থেকে কিছু অতিরিক্ত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাই এ অতিরিক্ত দেওয়া-নেওয়া সুদ হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী ফুযালাহ বিন উবায়দ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ঋণের সাথে অতিরিক্ত কিছু দেওয়া নেওয়ার শর্ত থাকে তা সুদ।-আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৫/৩৫০ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা সুদ দাতা, গ্রহীতা, সাক্ষী ও লেখক সকলকে অভিসম্পাত করেন। -মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৩৭২৫; ইলাউস সুনান ১৪/৫১৫; মাবসূত, সারাখসী ১৪/৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৩৮৮৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৬১১
তারিখ: ১/১০/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

দীর্ঘ মেয়াদী ভাড়ায় বস্তু পুনারায় মালিকের নিকট ভাড়া দেওয়া৷

প্রশ্ন
আমি অগ্রিম ভাড়া প্রদান করে জনৈক ব্যক্তি থেকে দশ বছর মেয়াদে একটি গুদাম ভাড়া নেই। যার পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখন মালিক বিশেষ প্রয়োজনে ছয় মাসের জন্য ঐ গুদামটি আমার কাছ থেকে ভাড়ায় নিতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, আমার জন্য গুদামটি মালিকের নিকট ভাড়া দেওয়া বৈধ হবে কি?
উত্তর
না, মালিকের নিটক দোকানটি ভাড়া দেওয়া বৈধ হবে না। কারণ ভাড়া নেওয়া বস্ত্ত পুনরায় মালিকের নিকট ভাড়া দেওয়া বৈধ নয়। এক্ষেত্রে মালিককে যে ছয় মাসের জন্য দোকানটি দিতে চাচ্ছেন সেই ছয় মাসের জন্য আপনার ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে হবে। মালিক এ কয় মাসের ভাড়া আপনাকে ফেরত দিয়ে দিবে। আপনি ছয় মাসের জন্য যত টাকা তাকে প্রদান করেছিলেন তত টাকাই ফেরত নিতে পারবেন। এর চেয়ে বেশি নেওয়া-দেওয়া জায়েয হবে না। -ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/৫১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৯১; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২৭০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪২৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৫৩৩
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

শর্তহীন করজ নিয়ে বেশি পরিশোধ করা৷

প্রশ্ন
আমার এক বর্গা চাষী আউশ ধানের মৌসুমে আমার প্রাপ্য পাঁচ মণ ধান করজ হিসেবে রেখে দিয়েছিল। অতপর আমনের মৌসুমে করজ পরিশোধ করতে তিন মণ সাধারণ ধান আর দু’মণ পোলাওর ধান দিয়েছে। যেহেতু পোলাওর ধানের দাম অন্যান্য ধানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তাই আমি প্রথমে নিতে অসম্মতি প্রকাশ করলেও পরে এ ধানের প্রয়োজন আছে বিধায় নিয়ে নিয়েছি। এখন প্রশ্ন হল, সাধারণ ধানের পরিবর্তে এ অধিক মূল্যের ধান গ্রহণ করা আমার জন্য বৈধ হয়েছে কি না?
উত্তর
করজ দেওয়ার সময় যদি উন্নত জাতের ও বেশি মূল্যের ধান দেওয়ার কিংবা যে কোনোভাবে ঋণদাতাকে লাভবান করার শর্ত না হয়ে থাকে এবং সমাজে এমন কোনো প্রচলনও না থাকে; বরং ঋণগ্রহীতা করজ পরিশোধ করার সময় স্বেচ্ছায় ভালো ধান দিয়ে থাকে তাহলে ঋণদাতার জন্য তা গ্রহণ করার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে তা সুদ হবে না। -সহীহ বুখারী ১/৩২২; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৯; নুতাফ ফিলফাতাওয়া পৃ. ২৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২৫
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

লাকি কুপন ও লটারীতে বিজয়ীদের পুরুস্কার গ্রহন৷

প্রশ্ন
বর্তমানে বাজারে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লাকি কুপন ছাড়া হয়। ক্রেতা নির্দিষ্ট পরিমাণ মাল কিনলে তাকে একটি কুপন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে লটারির মাধ্যমে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রশ্ন হল, এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা-বেচা করা কি জায়েয হবে? লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করা যাবে কি?
উত্তর
যদি পুরস্কারের কুপন ছাড়ার কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করা না হয় কিংবা এর কারণে ক্রেতাদেরকে কোনোরূপ ধোঁকা দেওয়ার অভিপ্রায় না থাকে যথা- নিম্নমানের মাল চালিয়ে দেওয়া ইত্যাদি এবং ক্রেতা শুধু পুরস্কার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই ক্রয় করে না থাকে। তাহলে এ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা-বেচা করা এবং লটারিতে বিজয়ী হলে পুরস্কার গ্রহণ করাও জায়েয হবে। এটি মূলত মূল্যছাড়েরই একটি পদ্ধতি। উল্লেখ্য, পণ্যের অধিক প্রচারের জন্য এভাবে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা পছন্দনীয় নয়; বরং পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির জন্য শরীয়তের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নিয়ম হল, ব্যাপকভাবে মূল্যছাড় দেওয়া কিংবা পূর্বের মূল্য বহাল রেখে পণ্যের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া কিংবা পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। -বুহুস ফী কাযায়া ফিকহিয়্যা মুআছিরাহ ২/২৩২; ফাতাওয়া মুআছিরাহ ২/৪২০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫২১
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

কাজ না থাকলে মাসিক বেতনের কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দেওয়া৷

প্রশ্ন
আমার একটি গাড়ির গ্যারেজ আছে। সেখানে বিভিন্ন কাজের জন্য মাসিক বেতন হিসেবে কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছি। কিন্তু মাঝে মাঝে দেখা যায় যে, মাসে ৭/৮ দিন পর্যন্ত কোনো কাজ থাকে না। ফলে কর্মচারীরা বেকার বসে থাকে। এতে কাঙ্খিত আয়ের চেয়ে অনেক কম আয় হয়। এখন জানার বিষয় হল, যদি কোনো মাসে এমন হয় তাহলে কর্মচারীদের মাসিক বেতন হতে বেকার দিনগুলোর টাকা কেটে রাখা বৈধ হবে কি?
উত্তর
যদি কর্মচারীগণকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় এবং তারা ডিউটির নির্দিষ্ট সময় চাকুরীস্থলে উপস্থিত থাকে ও কাজের জন্য প্রস্ত্তত থাকে তাহলে কাজ না থাকলেও পূর্ণ সময়ের বেতন দিতে হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাস শেষে তারা পূর্ণ মাসের বেতনই পাবে। কাজ না থাকায় বেকার দিনগুলোর বেতন কম দেওয়া বৈধ হবে না। -মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া মাদ্দাহ ৪২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৫০০৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১৯
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

বাংলাদেশে প্রচলিত গরু ছাগল বর্গা দেয়া ৷

প্রশ্ন
সম্মান প্রদর্শন পূর্বক আপনার কাছে আমার প্রশ্ন- বর্তমানে আমাদের গ্রামাঞ্চলে পশু বর্গা দেওয়ার একটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে। পদ্ধতিটি হল-একজনের গরু বা ছাগল অন্যকে দিয়ে দেয় এ শর্তে যে, এ গরুটি বা ছাগলটি যখন বড় হবে তখন তা বাজারে বিক্রি করে যে দাম পাওয়া যাবে এর অর্ধেক লালন পালনকারী এবং অর্ধেক পশুটির মালিক পাবে। কিংবা এভাবে চুক্তি হয় যে, পশুটির প্রথম বাচ্চা পাবে লালন পালনকারী আর মূল পশু মালিকের রয়ে যাবে। এর বিনিময়ে মালিক কিছুই পাবে না। এ দু’টি পদ্ধতিতে চুক্তি করা কি শরীয়ত
সম্মত?
উত্তর
এরকম চুক্তি থেকে বিরত থাকা উচিত। তবে হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ বলেছেন-এ পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাবে জায়েজ। তাই কোন এলাকায় যদি এটি ব্যাপক প্রচলন হয়, আর এ ছাড়া আর কোন পদ্ধতি সহজ না হয়, তাহলে উক্ত পদ্ধতিটি হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী আমাদের মাযহাবেও জায়েজ হিসেবে করা যাবে। {ইমদাদুল ফাতওয়া-৩/৩৪২-৩৪৩}
‎ﻓﻰ ﻣﺠﻤﻮﻋﺔ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﺔ- ﻟﻮ ﺩﻓﻊ ﺩﺍﺑﺘﻪ ﺃﻭ ﻧﺨﻠﻪ
‎ﺇﻟﻰ ﻣﻦ ﻳﻘﻮﻡ ﺑﻪ ﻭﻟﻪ ﺟﺰﺀ ﻣﻦ ﺛﻤﺎﻧﻴﺔ ﺻﺢ . ﻭﻫﻮ ﺭﻭﺍﻳﺔ
‎ﻋﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﻋﻦ ﺍﺧﺘﻴﺎﺭﺍﺕ 145 ، 146 ﻑ /2 220 ،
‎‏( ﻣﺠﻤﻮﻋﺔ ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺍﺑﻦ ﺗﻴﻤﺔ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﺒﻴﻊ، ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺸﺮﻛﺔ
প্রশ্নে বর্নিত ১ম সূরতের উত্তম পদ্ধতি হলো,
যে পশুটি বর্গা দিতে চাচ্ছে, একটি নামমাত্র দাম ধরে যার কাছে বর্গা দিতে চাচ্ছে তার কাছে বিক্রি করে দিবে। আর যে টাকাটি বিক্রি হিসেবে মালিক পেল তা এক বা দুই বছর নির্ধারিত করে লালন পালনের মুজুরী হিসেবে পশু গ্রহিতাকে প্রদান করবে। এখন উভয়ে উক্ত পশুটির অর্ধেক অর্ধেক মালিক। সে হিসেবে পশুটির বাচ্চা ও দুধ ইত্যাদি সমান সমান ভোগ করতে পারবে। শরয়ী কোন সমস্যা এতে নেই। ২য় সূরতের উত্তম পদ্ধতি হলো, যার কাছে বর্গা দিতে চাচ্ছে তার সাথে এভাবে চুক্তি করবে যে, তুমি এক বছর আমার পশুটি লালন পালন কর, আমি তোমাকে কথার কথা একশত টাকা দিব। তারপর এক বছর পর যদি মালিক বাছুর নিতে চায়, তাহলে একশত টাকা পরিশোধ করে বাছুর নিয়ে নিবে। আর যদি লালনপালনকারী বাছুর নিতে চায়, তাহলে একশত টাকা নেবার বদলে বাছুরটি নিয়ে নিবে উভয়ের সন্তুষ্টিতে। এভাবে চলতে থাকলে এতে কোন শরয়ী বিধিনিষেধ নেই। ইমদাদুল ফতওয়া ৩/৩৪২, ৩৪৩৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৫১৬
তারিখ: ১/৯/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

কোম্পানীর বস এক রেটে বিক্রি করতে বলার পর এর চেয়ে কমবেশি করে বিক্রি করা 

প্রশ্ন
আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি।বিভিন্ন কোম্পানির ওর্ডার নিয়ে কাজ করি। আমি একজন র্মাকেটিং কর্মকর্তা।আমাকে একটি কোম্পানির মাল তৈরির জন্য আমার কোম্পানি রেট দিয়েছে পিছ ৫ টাকা,আমি ঐ কোম্পানিকে রেট দিয়োছি ৬ টাকা।অতিরিক্ত এক টাকা আমার জন্য হালাল ববে কিনা? উল্লেখ্য আমার এক টাকা থেকে ঐ কোম্পানির থেকে যার মাধ্যমে অর্ডার নেই তাকেও অর্ধেক দিতে হয়। না হলে আমাকে সে অর্ডার দিবেনা। তাকে দেওয়া না দেওয়া উভয় অবস্থার মাসয়ালা জানাবেন।
উত্তর
আপনি কোম্পানীর নির্দিষ্ট বেতনভূক্ত চাকরীজীবী। আপনাকে মূলত রাখাই হয়েছে অন্য কোম্পানী থেকে কাজ পাইয়ে দিয়ে কোম্পানীকে ব্যবসায় সুযোগ করে দেয়া। সুতরাং আপনার জন্য কোম্পানী নির্ধারিত রেটের চে’ বেশি টাকায় কাজ নিয়ে তা কোম্পানীকে না জানিয়ে ভোগ করা জায়েজ হবে না। কারণ আপনার নেয়া কাজটি করবে কোম্পানীর নির্ধারিত ব্যক্তিরা। যাদের বেতন- ভাতা দেয় কোম্পানী আপনি নয়। যেসকর সরঞ্জামাদী ব্যবহৃত হবে উক্ত বস্তটি প্রস্তুত করতে তার খরচও বহন করবে কোম্পানী। তাই কাজটির মূল মালিক কোম্পানী। এতে তাদের অনুমতি ছাড়া অন্য কারো মুনাফা অর্জনটা খিয়ানত হবে। অন্যায় হবে। তাই এ কাজটি কিছুতেই জায়েজ নয়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে
ইরশাদ করেছেন- ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ
‎ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦ
‎ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ‏( 29 ) অর্থাৎ হে মুমিনরা! তোমরা পরস্পরের মালকে অন্যায়ভাবে গ্রাস করনা, তবে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে পারস্পরিক সন্তুষ্টচিত্তে হল ভিন্ন কথা। {সূরা
নিসা-২৯}
তবে আপনি যদি আপনার চাকরিকৃত কোম্পানীর কাছ থেকে এভাবে অনুমোদন নিয়ে নেন যে, আপনি কোম্পানীর নির্ধারিত রেটের চে’ বেশী যদি উসুল করতে পারেন, তাহলে কোম্পানী এতে অনুমোদন দিলে আপনার জন্য তা বৈধ হবে নতুবা নয়। আর আপনার জন্য যখন বৈধ হবে তখন তাকে দেয়াও বৈধ হবে। আর অনুমোদিত না হলে কারো জন্যই তা জায়েজ হবে না। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393

ফতোয়া নং: ৪৪৫৬
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমাদের কলেজ একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর...

প্রশ্ন
আমাদের কলেজ একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অত্র প্রতিষ্ঠানের
প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর টাকা প্রতিষ্ঠান
কর্তৃক ৫০% এবং চাকরিজীবীদের বেতন থেকে ৫০% ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। উক্ত টাকা চাকরি শেষে
চাকরিজীবীদের প্রদান করার বিধান
রয়েছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ৫০%
এর উপর এফ.ডি.আর. করার সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করেছে। এ টাকাও চাকরির শেষে মূল ও বর্ধিত অংশসহ
চাকরিজীবীদেরকে প্রদান করা হবে।
অতএব এ অবস্থায় উক্ত মূল ও বর্ধিত
অংশ চাকরির শেষে গ্রহণ করা যাবে
কি না?
উত্তর
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ফান্ডে টাকা
জমা রাখা যদি ঐচ্ছিক হয় অর্থাৎ কেউ চাইলে উক্ত ফান্ডের জন্য বেতন থেকে টাকা কেটে রাখতে পারে, আবার চাইলে পুরো বেতন উঠিয়েও নিতে পারে তাহলে এই ফান্ডে টাকা জমা করা জায়েয হবে না। যদি কেউ জমা করে ফেলে তবে টাকা উঠানোর পর মূল জমা অর্থাৎ নিজ বেতনের অংশ নিজে ব্যবহার করতে পারবে। আর এর অতিরিক্ত যা পাবে তা সুদ। সওয়াবের নিয়ত ছাড়া গরীব-
মিসকীনদেরকে তা সদকা করে দিতে
হবে।
আর প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা করা যদি ঐচ্ছিক না হয়; বরং এর জন্য প্রত্যেকের বেতন থেকে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলকভাবে টাকা কেটে রেখে দেয় তাহলে ব্যাংকে সুদীভাবে টাকা জমা রাখার দায় সরাসরি চাকরিজীবীদের উপর আসবে না। বরং এর গুনাহ কর্তৃপক্ষের হবে। আর এক্ষেত্রে তারা নিজ বেতনের অংশ ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত টাকা ব্যবহার করতে পারবে। এর অতিরিক্ত টাকা সুদ। তা সদকা করে দিতে হবে।
-মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ২৫১১, ২৫১৩; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ১/৪৬৫-৪৬৯; কেফায়াতুল মুফতী ১১/২৭৫৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪৪৩৯
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

যদি কোনো ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় তাহলে সে চাকরি...

প্রশ্ন
যদি কোনো ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় তাহলে সে চাকরি থেকে যে বেতন
পাবে তা তার জন্য হালাল হবে না কি হারাম ?
কুরআন হাদীস দ্বারা সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হারাম। নবী কারীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও গ্রহিতাকে
অভিসম্পাত করেছেন। জামে তিরমিযী , হাদীস ১৩৩৭৷ তাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া জায়েয হবে না। এতে একদিকে ঘুষ প্রদানের কবীরা গুনাহ হয় ,অন্যদিকে ঘুষদাতা অযোগ্য হলে অন্য
চাকরিপ্রার্থীর হক নষ্ট করারও গুনাহ হয়। তাই এমন
কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য। অবশ্য কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে চাকরির যোগ্য
হয় এবং ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্তে ও ঘুষ দিয়ে
চাকরি নেয় আর পরবর্তীতে সে যথাযথভাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেয় তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া নাজায়েয হলেও বেতন হালাল হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সে তার কর্মক্ষেত্রের অযোগ্য হয় এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে
ব্যর্থ হয় তাহলে তার জন্য ঐ চাকরিতে থাকা বৈধ
হবে না। আর ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না। উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473394
ফতোয়া নং: ৪৪৩৭
তারিখ: ১/৮/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আগাম বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য আদায়...

প্রশ্ন
আগাম বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য আদায়
করা পর্যন্ত কোনো কিছু বন্ধক রাখা
জায়েয হবে কি?
উত্তর
আগাম বিক্রির ক্ষেত্রে বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক রাখা জায়েয আছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. , আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. , ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. , শাবী রাহ. , প্রমুখ সাহাবা-তাবেয়ী থেকে বর্ণিত আছে, তাঁরা বলেন, আগাম বিক্রিতে বিক্রেতা থেকে বন্ধক নিলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক , হাদীস ১৪০৮৬, ১৪০৮৭, ১৪০৯০; কিতাবুল আসার , হাদীস ৭৪২ ; সুনানে কুবরা বাইহাকী ৬/১৯ তবে ক্রেতার জন্য ঐ বন্ধক থেকে কোনোভাবে উপকৃত হওয়া বৈধ হবে
না।
কিতাবুল আছল ২/৩৮৩ ; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৪৪৯ ; শরহুল মাজাল্লাহ ৩/২১২ ; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২৷ উত্তর প্রদানে মুফতী মেরাজ তাহসীন
01756473393
ফতোয়া নং: ৪১৫০
তারিখ: ১/৫/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

কেউ যদি সন্তান ভাই বা এ জাতীয় কারো থেকে টাকা...

প্রশ্ন
কেউ যদি সন্তান ভাই বা এ জাতীয় কারো থেকে টাকা কর্জ নেয় এবং
দেওয়ার সময় নিজ থেকে কিছু অতিরিক্ত দেয় তাহলে সেটা বৈধ হবে কি?
উত্তর
যদি কর্জ দেওয়ার সময় অতিরিক্ত দেওয়ার শর্ত না থাকে এবং ঋণদাতার পক্ষ
থেকে কোনো চাহিদা না থাকে এবং শর্ত ছাড়াই অতিরিক্ত দেওয়ার প্রচলনও না
থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে দেনা পরিশোধের সময় কর্জগ্রহণকারী যদি নিজ
থেকে কিছু অতিরিক্ত দেয় তবে তা বৈধ হবে। হাদীস শরীফে এমন ব্যক্তিকে
উত্তম পরিশোধকারী বলা হয়েছে। দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী, হাদীস ২৩৯৩
আরেক হাদীসে এসেছে, জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি
বলেন, একবার আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে
এলাম- তিনি তখন মসজিদে ছিলেন- আল্লাহর রাসূল (আমাকে) বললেন, দু’রাকাত
নামায পড়ে নাও। অতপর তার কাছে আমার পাওনা ছিল সেটা তিনি পরিশোধ
করলেন এবং আমাকে আরো বাড়িয়ে দিলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ২৩৯৪
তবে বর্তমান সময়ে যখন মানুষ সুদ ছাড়া ঋণ দিতে চায় না তখন এ ব্যাপারে বিশেষ
সতর্কতা কাম্য। কেননা কোনো কোনো জায়গায় প্রচলন থাকে যে, ঋণ নিলে এ
পরিমাণ অতিরিক্ত দিতে হবে বা অমুক সুবিধা দিতে হবে। এটাকে নীতি- নৈতিকতা মনে করা হয়। এমন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দিলে বা অন্য কোনো সুবিধা
দিলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সাহাবী ফাযালা ইবনে উবায়েদ রা. থেকে
বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যে ঋণ কোনো মুনাফা নিয়ে আসে তা সুদের প্রকারসমূহের একটি।
-সুনানে বায়হাকী ৫/৩৫০; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৬; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২
ফতোয়া নং: ৩৭৬৭
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

জনৈক ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকে। তিনি দেশের এক ধান ব্যবসায়ীর...

প্রশ্ন
জনৈক ব্যক্তি দেশের বাইরে থাকে। তিনি দেশের এক ধান ব্যবসায়ীর কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লক্ষ টাকা দিয়ে রেখেছেন। তাদের মাঝে চুক্তি হল, ঐ ব্যবসায়ী তাকে
লাভ হিসেবে প্রতি বছর পঁচিশ হাজার টাকা করে দিবে। এখন জানার বিষয় হল, ঐ ব্যবসায়ী তাকে প্রতি বছর যে পঁচিশ
হাজার টাকা করে দিবে তা
কি জায়েয হবে, নাকি সুদ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়নি। কেননা এভাবে নিশ্চিত লাভ দেওয়ার শর্তে কাউকে টাকা দেওয়া সুদী চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। তাই তাদের চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া জরুরি। আর তারা বৈধভাবে চুক্তি করতে চাইলে উভয়ের লভ্যাংশ শতকরা হারে নির্ধারণ করবে। যেমন, ব্যবসাতে যা লাভ হবে এর ৬০% পাবে টাকার মালিক আর ৪০% পাবে ব্যবসায়ী। অথবা উভয়ের সম্মতিতে লাভের অন্য যেকোনো হার নির্ধারণ করবে। ব্যবসায় লাভ হলে চুক্তিকৃত হারে উভয়ে লভ্যাংশ পাবে, লাভ না হলে কেউ কিছু পাবে না। আর ব্যবসায় লোকসান হলে পুঁজি বিনিয়োগকারী তা বহন
করবে।
উল্লেখ্য যে, এ ধরনের কারবারে ব্যবসার পুরো হিসাব রাখা আবশ্যক। অনুমান করে লভ্যাংশ প্রদান করা অথবা লাভ-লোকসান যাই হোক নির্ধারিত পরিমাণ মুনাফা দেওয়া কোনোটিই বৈধ নয়। -মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দা ১৩৩
ফতোয়া নং: ৩৭৬৬
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

বর্তমানে আমাদের ইচ্ছা না থাকা সত্তেও একরকম বাধ্য হয়েই ব্যাংকের...

প্রশ্ন
বর্তমানে আমাদের ইচ্ছা না থাকা সত্তেও একরকম বাধ্য হয়েই
ব্যাংকের সাথে লেনদেন অর্থাৎ টাকা জমা রাখতে হয়। তাই কোন্
ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ? দলিল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
বিশেষ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারার ব্যাংকসমূহে চলতি হিসাব তথা সুদবিহীন হিসাব খুলে লেনদেন করা জায়েয। তবে এসব ব্যাংকে কোনো ধরনের সঞ্চয়ী বা মেয়াদী হিসাব খোলা জায়েয হবে না। প্রাপ্ত সুদ নিজে ভোগ না করলেও এসব সুদী একাউন্ট খোলাই জায়েয নয়। কেননা সুদী ব্যাংকে যে কোনো ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব খোলাই মূলত সুদী চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। আর এদেশে প্রচলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোতে নিজে মুনাফা গ্রহণ না করার প্রত্যয় নিয়ে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা যাবে। কেননা এসব ব্যাংকের সঞ্চয়ী হিসাবগুলো মুদারাবা ভিত্তিতে হয়ে থাকে। তাই এক্ষেত্রে সুদী চুক্তি হয় না। তবে যেহেতু এই ধারার ব্যাংকগুলোর যথাযথভাবে শরীয়া পালনের বিষয়টি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে তাই এ ধরনের হিসাব থেকে প্রাপ্ত মুনাফা সওয়াবের নিয়ত ছাড়া সদকা করে দেওয়াই নিরাপদ। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৯৮, ১৫৯৯; তাফসীরে কুরতুবী ৩/২২৫ (সূরা বাকারা : ২৭৫); তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম ১/৬১৯
ফতোয়া নং: ৩৭৫৫
তারিখ: ১/১/২০১৬
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমরা কয়েকজন মিলে একটি মেসে ভাড়া থাকি। একদিন আমাদের ঘুম...

প্রশ্ন
আমরা কয়েকজন মিলে একটি মেসে ভাড়া থাকি। একদিন আমাদের ঘুম থেকে উঠতে বিলম্ব হয়। ফলে সকলেরই
ফজরের নামায কাযা হয়ে যায়। তখন আমরা ঐ নামায জামাতের সাথে আদায় করি। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের জন্য কাযা নামায জামাতের সাথে পড়া কি ঠিক হয়েছে? এবং এক্ষেত্রে কিরাত জোরে
পড়তে হবে কি?
উত্তর
জী হাঁ। জামাতের সাথে কাযা পড়া ঠিক হয়েছে। একসাথে একাধিক ব্যক্তির নামায কাযা হয়ে গেলে
জামাতের সাথেই কাযা পড়া উচিত। আর কাযা নামায জামাতের সাথে আদায় করলে
উচ্চস্বরে কিরাতবিশিষ্ট নামাযে ইমামকে উচ্চস্বরেই কিরাত পড়তে হবে। হাদীস
শরীফে এসেছে যে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে
নিয়ে সূর্যোদয়ের পর ফজরের কাযা আদায় করেছেন এবং
তাতে উচ্চস্বরে কিরাত পড়েছেন। -কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ রহ. হাদীস
১৬৮
উল্লেখ্য যে, কাযা নামাযের জামাত করলে তা নির্জন স্থানে করা উচিত। যেন অন্য
লোকজন নামায কাযা হওয়ার বিষয়টি জানতে না পারে।
-ফাতহুল কাদীর ১/১৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭২;
ফতোয়া নং: ৩২৩৭
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

যদি কোনো ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় তাহলে সে চাকরি...

প্রশ্ন
যদি কোনো ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় তাহলে সে চাকরি থেকে যে বেতন পাবে তা তার জন্য হালাল হবে না কি হারাম? কুরআন হাদীস দ্বারা সমাধান দিলে কৃতজ্ঞ হব।
উত্তর
ঘুষ দেওয়া-নেওয়া হারাম। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও গ্রহিতাকে অভিসম্পাত করেছেন।
জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৩৭
তাই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেওয়া জায়েয হবে না। এতে একদিকে ঘুষ প্রদানের কবীরা গুনাহ হয়,অন্যদিকে ঘুষদাতা অযোগ্য হলে অন্য চাকরিপ্রার্থীর হক নষ্ট করারও গুনাহ হয়। তাই এমন কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।অবশ্য কেউ যদি প্রকৃতপক্ষে
চাকরির যোগ্য হয় এবং ঘুষ প্রদান হারাম হওয়া সত্তে¡ও ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয় আর পরবর্তীতে সে যথাযথভাবে দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়
তাহলে এভাবে চাকরি নেওয়া
নাজায়েয হলেও বেতন হালাল হয়ে যাবে। কিন্তু যদি সে তার কর্মক্ষেত্রের অযোগ্য হয় এবং যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়
তাহলে তার জন্য ঐ চাকরিতে থাকা
বৈধ হবে না। আর ঠিকমত দায়িত্ব পালন না করে বেতন নেওয়াও বৈধ হবে না৷
ফতোয়া নং: ৩২২৯
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমি এক মসজিদের ইমাম। জনৈক মুসল্লী আমাকে তার জমি চাষাবাদ...

প্রশ্ন
আমি এক মসজিদের ইমাম। জনৈক মুসল্লী আমাকে তার জমি চাষাবাদ করার জন্য সাময়িক সময়ের জন্য দিয়েছে। আমি চাচ্ছি, নিজে চাষাবাদ না করে এ জমি অন্য কাউকে ভাড়ায় দিব। প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি তা বৈধ হবে?
উত্তর
জমির মালিক অনুমতি দিলে জমিটি অন্যত্র ভাড়া দিতে পারবেন। মালিকের অনুমতি ছাড়া ভাড়া দেওয়া জায়েয হবে না। -বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩২০; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮১; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ ৮২৩-৮৩২; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯০; আলজামেউস সগীর পৃ. ৪৩৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৭৯
ফতোয়া নং: ৩২২৮
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমি এক বাড়িতে ভাড়া থাকি। বাড়িতে কয়েকটি পুরাতন টিনের ঘর...

প্রশ্ন
আমি এক বাড়িতে ভাড়া থাকি। বাড়িতে কয়েকটি পুরাতন টিনের ঘর
রয়েছে। একবার ঝড়-তুফান হলে একটি ঘরে বৃষ্টির সময় পানি পড়া শুরু হয় এবং টয়লেটটি পড়ে যায়। বাড়ির মালিক শহরে থাকে। এক বছর পরপর এসে ভাড়া নিয়ে যায়। তাকে ফোন করে জানালে তিনি মিস্ত্রি এনে ঠিক করে নিতে বলেন। আমি মিস্ত্রি এনে ঠিক করে নেই। কিন্তু মালিক পরবর্তীতে এ খরচ দিতে চাচ্ছে না। জানতে চাই, এ খরচ কার দায়িত্বে হবে?
উত্তর
ভাড়া ঘরবাড়ি মেরামতের দায়িত্ব মালিকের। প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনি যেহেতু মালিকের
অনুমতিতেই মেরামতের কাজ করেছেন তাই এই খরচ মালিককেই দিতে হবে।
উল্লেখ্য, ভাড়াটিয়ার ত্রুটির কারণে কোনো কিছু নষ্ট হয়ে থাকলে শুধু এর ক্ষতিপূরণ তাকে দিতে হবে।
-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/১৪৮; মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ ৫২৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৫৫;
ফতোয়া নং: ৩২১৭
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমি একটি এনজিওতে কর্মসূচি সংগঠক পদে চাকরি করছি। এই চাকরির...

প্রশ্ন
আমি একটি এনজিওতে কর্মসূচি সংগঠক পদে চাকরি করছি। এই চাকরির উপর আমার পরিবার নির্ভরশীল। আমার কাজ হল, মানুষের মাঝে টাকা ঋণ দেওয়া এবং সে টাকা কিছু বেশিতে আদায় করা। যেমন কাউকে ৫,০০০/-টাকা ঋণ দিলে তার কাছ থেকে কিস্তির মাধ্যমে ৬,০০০/- টাকা আদায় করা হয়। আর এ কাজের জন্য আমাকে মাসিক ৭,০০০/-টাকা বেতন দেওয়া হয়। আমার প্রশ্ন হল, এ বেতন ও এই ধরনের চাকরি কি বৈধ হবে? এ টাকা দিয়ে জীবন ধারণ করে ইবাদত করলে তা কি গ্রহণযোগ্য হবে?
উত্তর
আপনি যে পন্থায় লেনদেন করে থাকেন তা সুদেরই একটি প্রকার। আর সুদ হচ্ছে নিকৃষ্টতম হারাম। তাই এ পদে চাকরি করা জায়েয হবে না এবং এর বেতন ভোগ করাও নাজায়েয। অতএব যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে উপার্জনের কোনো বৈধ পন্থা খুঁজে বের করতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। -সূরা বাকারা : ২৭৫; সহীহ বুখারী ১/২৮০; সুনানে আবু দাউদ ২/১১৭; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৬
ফতোয়া নং: ৩২০৮
তারিখ: ১/৮/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

ট্রেনে ঢাকা যাব। এজন্য টিকেট করার জন্য লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু...

প্রশ্ন
ট্রেনে ঢাকা যাব। এজন্য টিকেট করার জন্য লাইনে দাঁড়াই। কিন্তু সিরিয়াল আসার আগেই টিকেট শেষ হয়ে যায়। আর টিকেট ছাড়া কোনো যাত্রীকে ট্রেনে উঠানো হয় না। নেত্রকোণা থেকে ঢাকার ভাড়া ১৫০/- টাকা। কোনো উপায় না দেখে আরো কয়েকজন মিলে ট্রেনের ছাদে উঠে যাই এবং বিনে খরচে ঢাকা পৌঁছি। এখন আমার প্রশ্ন হল, এভাবে ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা আমার জন্য কতটুকু ঠিক হয়েছে? এবং আমার উপর এর ভাড়া আবশ্যক কি না? ভাড়া দিতে হলে কতটুকু দিতে হবে? বিস্তারিত দলিলসহ জানালে কৃতজ্ঞ
হব।
উত্তর
প্রশ্নোক্ত অবস্থায়ও বিনা টিকেটে ট্রেনে ভ্রমণ করা বৈধ হয়নি। এছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করাও আইনত নিষিদ্ধ। উভয় ক্ষেত্রেই আইন অমান্য করার কারণে গুনাহ হয়েছে। সরকারের ব্যবস্থাগত এ সকল বৈধ আইন জনগণের জন্য মেনে চলা আবশ্যক। এছাড়া ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ করা খুবই বিপদজনক। নিজেকে এমন বিপদজনক অবস্থার সম্মুখীন করাও জায়েয নয়। এখন আপনার কর্তব্য হল, উক্ত কাজের জন্য তওবা করা এবং ঐ ট্রেনে নেত্রকোণা থেকে ঢাকার যা ভাড়া সে মূল্যের স্ট্যান্ডিং টিকেট (আসনবিহীন) ক্রয় করে ছিঁড়ে ফেলা। এতে আপনি ভাড়ার দায় থেকে মুক্ত হয়ে যাবেন। -ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৪৪৫
ফতোয়া নং: ৩০৫৭
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমাদের এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংগঠন আছে। যারা সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক...

প্রশ্ন
আমাদের এলাকায় বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সংগঠন আছে। যারা সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি মানুষকে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করে। তাদের ঋণ দেওয়ার নিয়ম হল, তারা ঋণের পরিমাণ হিসাবে বিভিন্ন ধরনের ফরম বানিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়লে ফরমের মূল্যও বাড়ে। কেউ ঋণ নিতে চাইলে ঋণের পরিমাণ হিসেবে ফরম কিনে চুক্তি করতে হয়। উল্লেখ্য যে, ফরমের মূল্য খরচের চেয়ে অধিক রাখা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে পুনরায় ফরম কিনে নতুনভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুক্তি করতে হয়। এ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়া নেওয়া সহীহ কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
ঋণ প্রদান করে ফরম বিক্রির নামে অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করা সম্পূর্ণ
নাজায়েয ও সুদের অন্তর্ভুক্ত। প্রশ্নোক্ত
পদ্ধতিতে ঋণের পরিমাণ হিসেবে ফরমের দাম বেশি নেওয়া এবং সময় মতো পরিশোধ করতে না পারলে পুনরায় ফরম কিনে নতুনভাবে চুক্তি করার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া সুদ খাওয়ার একটি অপকৌশল। লোকে যাতে এটিকে সুদ না বলে এজন্যই ফরম বিক্রির উক্ত ছুতা অবলম্বন করা হয়েছে। অতএব হিলা-বাহানা করে সুদ গ্রহণের পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করতে হবে। আর বিগত দিনে এভাবে যাদের থেকে ফরমের খরচ মূল্যের অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে তাদরকে অতিরিক্ত সকল টাকা ফেরত দিতে
হবে।
-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২১০০৭; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ২৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮; ইলাউস সুনান ১৪/৫১৪;; শরহুল মাজাল্লাহ ১/২৬৪-২৬৫

ফতোয়া নং: ৩০০১
তারিখ: ১/৬/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

সুদের টাকা দিয়ে মাদরাসা বা মসজিদের টয়লেট নির্মাণ বা পুননির্মাণ...

প্রশ্ন
সুদের টাকা দিয়ে মাদরাসা
বা মসজিদের টয়লেট নির্মাণ বা পুননির্মাণ করা জায়েয হবে কি?
উত্তর
সুদের টাকা মূল মালিককে
ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। যদি মালিক জানা না থাকে বা মালিককে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে ঐ টাকা সদকা করা ওয়াজিব।
সেক্ষেত্রে ঐ টাকা কোনো
গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিতে হবে। এ টাকা মসজিদ- মাদরাসার টয়লেটের কাজেও না লাগানো উচিত।
-শরহুল মাজাল্লাহ, মাদ্দাহ : ৯৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৮৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/১৭১

ফতোয়া নং: ২৮৫৫
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমার একটি কাপড়ের দোকান আছে। আমার সহযোগী হিসেবে দোকানে একজন...

প্রশ্ন
আমার একটি কাপড়ের দোকান আছে। আমার সহযোগী হিসেবে দোকানে একজন কর্মচারী রেখেছি। তার সাথে আমার এভাবে চুক্তি হয়েছে যে, দোকানের মাল কেনা এবং ক্যাশে বসা আমার দায়িত্বে থাকবে। অবশিষ্ট কাজ, মাল বিক্রি করা, সময়মতো দোকান খোলা- বন্ধ করা ইত্যাদি তোমার দায়িত্ব এবং প্রতি মাসে মুনাফার ৫% তোমাকে দেওয়া হবে। প্রশ্ন হল, ঐ কর্মচারীর সাথে এভাবে চুক্তি করা সহীহ হয়েছে কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী কর্মচারীর সাথে ঐভাবে চুক্তি করা সহীহ হয়নি। কেননা সে আপনার ব্যবসার অংশিদার নয়; বরং শ্রমদাতা। আর শ্রমদাতার সাথে চুক্তির সময়ই পারিশ্রমিকের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে নেওয়া জরুরি। তাই এ লক্ষ্য মূল বেতন হিসেবে একটি ন্যূনতম পরিমাণ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে নিবে এরপর চাইলে অতিরিক্ত হিসেবে তাকে মুনাফার নির্ধারিত অংশও দিতে পারবে। কেননা এক্ষেত্রে মূল পারিশ্রমিক আর অনির্দিষ্ট থাকে না। -মাজাল্লাতু আহকামিল আদলিয়া ৮৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১১৭
ফতোয়া নং: ২৮৫৪
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমি ব্যবসা করতে চাচ্ছি। ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন।...

প্রশ্ন
আমি ব্যবসা করতে চাচ্ছি। ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আমার কাছে ৬ লক্ষ টাকা আছে। বাকি ৪ লক্ষ টাকা আমার এক বন্ধু থেকে এই চুক্তিতে নিতে চাচ্ছি যে, সে ১০ বছর ব্যবসায় অংশীদার থাকবে। প্রতি মাসে মুনাফার ৩০% তাকে দেওয়া হবে। ১০ বছর পর তার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। হুযুরের কাছে জানতে চাই- এভাবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে ব্যবসায় শরিক করে তার থেকে টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
হাঁ, নির্ধারিত মেয়াদের জন্যও অংশিদার নেওয়া জায়েয। অতএব আপনাদের প্রশ্নোক্ত চুক্তি করা সহীহ হবে। -আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৫৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬১৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩০২; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৭৩-৭৪; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/২২৬; রদ্দুল মুহতার ৪/৩১২
ফতোয়া নং: ২৮৫৩
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমি একজন পিকআপ চালক। গাড়ির এক মালিক থেকে আমি একটি...

প্রশ্ন
আমি একজন পিকআপ চালক। গাড়ির এক মালিক থেকে আমি একটি পিকআপ এ চুক্তিতে নিয়েছি যে, গাড়ির প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে বাকি আয়ের ত্রিশ শতাংশ আমি নেব। অবশিষ্ট সত্তর শতাংশ মালিক পাবে। আমাদের এ চুক্তি কি শরীয়তসম্মত হয়েছে? দয়া করে জানাবেন।
উত্তর
না, আপনাদের উক্ত চুক্তি শরীয়তসম্মত হয়নি। কারণ গাড়ির আয় চালক এবং মালিকের মাঝে শতকরা হারে বণ্টনের
চুক্তি সহীহ নয়। এক্ষেত্রে সহীহভাবে চুক্তি
করতে চাইলে হয়ত চালকের বেতন নির্দিষ্ট করে দিতে হবে এবং গাড়ির সকল আয় মালিকের থাকবে। অথবা চালক গাড়িটি মালিক থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে ভাড়া নিবে। গাড়ি থেকে আয় হোক বা না হোক সর্বাবস্থায় ভাড়ার টাকা মালিককে দিয়ে দিতে হবে। আর এক্ষেত্রে গাড়ির যা আয় হবে তা সবই চালকের
থাকবে।
-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪১১
ফতোয়া নং: ২৮৫২
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

আমার ছেলের অপারেশনের জন্য চার লক্ষ টাকা প্রয়োজন। তাই আমি...

প্রশ্ন
আমার ছেলের অপারেশনের জন্য চার লক্ষ টাকা প্রয়োজন। তাই আমি এক ব্যক্তির নিকট চার লক্ষ টাকার পরিবর্তে আমার একটি জমি বিক্রি করেছি। সে পঞ্চাশ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ
করেছে। তার সাথে কথা হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে
বাকি টাকা পরিশোধ করলে তাকে জমির রেজিস্ট্রি
দিয়ে দিব। সে এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা দেয়নি।
এদিকে একদিন পর আমার ছেলের অপারেশনের তারিখ। তাকে বাকি টাকা পরিশোধ করতে বললে সে বলে, জমির প্রকৃত মূল্য তিন লক্ষ টাকা। চার
লক্ষ টাকা দিয়ে আমি জমি নিব না। ইচ্ছা হলে তিন
লক্ষ টাকা দিয়ে জমি বিক্রি করতে পারেন। তখন
আমি আরেকজনের নিকট নগদ চার লক্ষ টাকায়
জমিটি বিক্রি করে জমির রেজিস্ট্রি দিয়ে দিয়েছি।
প্রথম ক্রেতাকে তার টাকা দেওয়ার জন্য গেলে সে
আমার সাথে অত্যন্তরাগারাগি করে। তার কথা,
আমাকে না জানিয়ে অন্যের কাছে কেন জমি বিক্রি
করেছেন? আমার কাছে বিক্রি করার পর অন্য কারো কাছে বিক্রি করা ঠিক হয়নি ইত্যাদি। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় অন্য ব্যক্তির নিকট জমি বিক্রি করা কি সহীহ হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী জমিটির প্রথম ক্রেতা
যেহেতু চার লক্ষ টাকা দিয়ে জমি নিবে না বলে
জানিয়ে দিয়েছে এবং তিন লক্ষ টাকা হলে নিবে
বলেছে তাই এর দ্বারাই ঐ ব্যক্তির সাথে
পূর্বোক্ত ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে।
সুতরাং এরপর ঐ জমি অন্যত্র বিক্রি করা
আপনার জন্য জায়েয হয়েছে। এ পর্যায়ে পূর্বের
ক্রেতার জন্য আপনার সাথে রাগারাগি করা বা
খারাপ আচরণ করা একেবারেই অন্যায়। শরীয়তের
দৃষ্টিতে সে শুধু তার দেওয়া টাকাগুলিই ফেরত পাবে।
এর অতিরিক্ত কোনো কিছু দাবি করা তার জন্য জায়েয হবে না। আর আপনার দায়িত্ব হল, অবিলম্বে লোকটির টাকা ফেরত দেওয়া। -হেদায়া, ফাতহুল কাদীর ৬/৪১৭; তাবয়ীনুল
হাকায়েক ৪/১৯৭; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়াহ
৩/২১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/৪৪৪; আলবাহরুর রায়েক ৭/৩৬; আদ্দুররুল মুখতার
৫/৪৫১
ফতোয়া নং: ২৮৩৬
তারিখ: ১/৪/২০১৫
বিষয়: ব্যবসা-চাকুরী

এক ব্যক্তি আমার থেকে তিন বছরের জন্য ২ লক্ষ টাকা...

প্রশ্ন
এক ব্যক্তি আমার থেকে তিন বছরের জন্য ২
লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে। তার থেকে বন্ধক হিসেবে
আমি একটি জমি নিয়েছি। হুজুরের কাছে জানতে চাই,
ঐ জমি আমার কাছে বন্ধক থাকা অবস্থায় ভাড়া চুক্তির ভিত্তিতে ব্যবহার করতে পারব কি না? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর
ঋণ দিয়ে বিনিময়ে গ্রহীতা থেকে কোনো ধরনের
উপকৃত হওয়া জায়েয নেই। তা সুদের অন্তর্ভুক্ত।
অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বন্ধকি জমি থেকে
আপনার জন্য কোনো প্রকার উপকৃত হওয়া জায়েয
হবে না। তবে বন্ধকী চুক্তি বাতিল করে ন্যায্য
মূল্যে তা ভাড়া নিতে পারবেন। ঋণের কারণে ভাড়া
কম করা যাবে না। তদ্রƒপ ঋণের সাথে ভাড়া
চুক্তিকে সম্পৃক্তও করা যাবে না। বরং ভাড়া
চুক্তিটি সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও ঋণের প্রভাব থেকে
মুক্ত হতে হবে। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা,হাদীস : ২১০৭৮ ১৩/৬৪৮; আননুতাফ ফিলফাতাওয়া ২৯৬;বাদায়েউস সানায়ে ৬/৫১৮;ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৫৯৬;ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৭৪;রদ্দুল মুহতার ৬/৫২৩;আলফাতাওয়াল
ওয়ালওয়ালিজিয়া ৫/৬৯;মুসনাদে আহমাদ, হাদীস :
৩৭৮৩; ফাতহুল কাদীর ৬/৮০-৮১

Execution time: 0.03 render + 0.01 s transfer.