Login | Register

ফতোয়া: আদব-ব্যবহার

ফতোয়া নং: ৬০৫৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একজন আলেমকে এক বয়ানে বলতে শুনলাম যে, জুতা-স্যান্ডেল বাম হাতে...

প্রশ্ন

একজন আলেমকে এক বয়ানে বলতে শুনলাম যে, জুতা-স্যান্ডেল বাম হাতে বহন করতে হবে। ডান হাতে বহন করা উচিত নয়। কেননা ডান হাতে বহন করা আদবের খেলাফ। তার এ কথা কতটুকু প্রমাণসিদ্ধ?

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ কথা সঠিক। ব্যবহৃত জুতা-স্যান্ডেল বাম হাতে বহন করাই উত্তম। কেননা একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালো ও উত্তম কাজে ডান হাত ব্যবহার করতেন। আর তুলনামূলক নিম্নমানের কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন।

তাছাড়া একটি বর্ণনায় একজন সাহাবী থেকেও এরূপ আমল বর্ণিত হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদের একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, আনাস রা. বলেন, আমরা একদিন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বসা ছিলাম। তিনি বললেন, তোমাদের কাছে এ পথ দিয়ে এক জান্নাতী ব্যক্তির আগমন ঘটবে।

বর্ণনাকারী বলেন, ইত্যবসরে এক আনসারী ব্যক্তি আগমন করল, যার দাড়ি থেকে অযুর পানি ঝরছিল। আর তিনি জুতা জোড়া বাম হাতে বহন করে রেখেছিলেন। অতপর তিনি সালাম করলেন।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১২৬৯৭; মিরকাত শরহে মিশকাত ৮/২৬৯; সুনানে আবু দাউদ-বযলুল মাজহূদ, ১৭/২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমরা জানি যে, মাসবুক অর্থাৎ ইমামের সাথে যে এক বা...

প্রশ্ন

আমরা জানি যে, মাসবুক অর্থাৎ ইমামের সাথে যে এক বা একাধিক রাকাত পায়নি, ইমামের উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হলে ইমামের সাথে তাকেও সাহু সিজদা দিতে হয়। জানতে চাই, এক্ষেত্রে সাহু সিজদার পূর্বে ইমামের সাথে মাসবুকও কি সালাম ফিরাবে? না শুধু সাহু সিজদা দিবে?

উত্তর

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদার জন্য সালাম ফিরাবে না। বরং সে ঐ সময় সালাম না ফিরিয়ে আপন অবস্থায় বসে থাকবে এরপর ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২২; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪২; রদ্দুল মুহতার ২/৮২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একদিন এশার নামাযে ইমাম সাহেব প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে...

প্রশ্ন

একদিন এশার নামাযে ইমাম সাহেব প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। পরে আরো দুই রাকাত পড়ে যথারীতি উভয়দিকে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করেন কিন্তু সাহু সিজদা দেননি। তবে বিষয়টি মনে পড়ার সাথে সাথে নামায পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগে তিনি সাহু সিজদা দেন এবং পুনরায় শেষ বৈঠক করে নামায শেষ করেন। এখন জানার বিষয় হল, উভয় দিকে সালাম ফিরানোর পরেও কি ইমাম সাহেবের সাহু সিজদা দেওয়া শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় যেহেতু তিনি সালামের পর নামায পরিপন্থী কোনো কাজ করার আগেই সাহু সিজদা করেছেন, তাই তা সহীহ হয়েছে এবং ঐ নামায আদায় হয়ে গেছে।

-কিতাবুল আছল ১/২৩২; আদ্দুররুল মুখতার ২/৯১; ফাতহুল কাদীর ১/৪৫১; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩২৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৩৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি একদিন যোহরের নামায পড়ছিলাম। দুরাকাত পড়ার পর ভুলে তাশাহহুদের...

প্রশ্ন

আমি একদিন যোহরের নামায পড়ছিলাম। দুরাকাত পড়ার পর ভুলে তাশাহহুদের পর দরূদ শরীফ ও দুআ পড়ে চার রাকাত মনে করে সালাম ফিরিয়ে নিই। সালাম ফিরানোর পরপরই আমি দ্রুত সুন্নত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাই। সুন্নতের জন্য আলাদা নিয়তও বেঁধে ফেলি। কিন্তু এরপরই আমার স্মরণ হয়, আমার যোহরের ফরয পুরা হয়নি। তাই সুন্নতের নিয়ত বাদ দিয়ে মনে মনে ফরযের বাকি দু রাকাতের নিয়ত করে নিই। তারপর সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। এখন জানার বিষয় হল, আমার যোহরের নামায কি আদায় হয়েছে, নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার যোহরের নামাযটি আদায় হয়নি। তাই তা পুনরায় পড়ে নেওয়া জরুরি। কারণ দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরানোর পর সুন্নতের নিয়তে নামায শুরু করার দ্বারা যোহরের ফরয বাতিল হয়ে গেছে। অবশ্য ঐ নামাযগুলো নফল গণ্য হয়েছে।

-রদ্দুল মুহতার ১/৬২৩; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৬; ফাতহুল কাদীর ১/৩৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একবার জানাযা নামাযে চার তাকবীরের পর...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একবার জানাযা নামাযে চার তাকবীরের পর ভুলে আরও এক তাকবীর বলে ফেলেন। জানতে চাই, ঐ জানাযা কি আদায় হয়েছে? আর এক্ষেত্রে মুকতাদিদের করণীয় কী?

উত্তর

জানাযা নামাযে চার তাকবীরের বেশি বলা ভুল। তাবে এ ভুলের কারণে নামায নষ্ট হয় না। তাই ঐজানাযা আদায় হয়ে গেছে।

আর ইমাম কখনো চার তাকবীরের বেশি বলে ফেললে মুকতাদিগণ অতিরিক্ত তাকবীরে ইমামের অনুসরণ না করে চুপ থাকবে। অতপর ইমাম যখন সালাম ফেরাবেন তখন মুকতাদিগণও তার সাথে সালাম ফেরাবে।

-শরহুল মুনইয়া ৫৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৯৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমার এক প্রতিবেশী ফল বিক্রেতা। সে আমার কাছ থেকে তার...

প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী ফল বিক্রেতা। সে আমার কাছ থেকে তার ব্যবসার জন্য ৮০০০/- টাকা ঋণ নিয়েছে। এখন তার থেকে ফল কিনলে সে দাম কিছুটা কম রাখে। ঋণ নেওয়ার পর সে দু একবার হাদিয়া স্বরূপ আমার বাসায় ফলও পাঠিয়েছে। কিন্তু ইতিপূর্বে সে কখনো এমনটি করেনি। প্রশ্ন হল, আমার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে কি?

উল্লেখ্য, ঋণ প্রদানের সময় তার সাথে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার কথা হয়নি।

উত্তর

ঋণ প্রদানের আগে আপনাদের মাঝে যদি হাদিয়া আদান-প্রদানের সম্পর্ক না থাকে তাহলে ঋণ দেওয়ার পর তার পাঠানো হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে না। তদ্রূপ তার থেকে ফল কিনলে ন্যায্য মূল্য দিয়েই কিনতে হবে। কেননা এক্ষেত্রে এই ছাড় এবং হাদিয়া ঋণের কারণে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যদি কারো সাথে আগে থেকেই হাদিয়া দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্ক থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে তার হাদিয়া ও ছাড় গ্রহণ করতে অসুবিধা নেই।

আবু বুরদা রাহ. বর্ণনা করেন, আমি মদীনায় এসে আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা.-এর সাথে সাক্ষাত করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম রা. বললেন, তুমি যদি আমার ঘরে একটু তাশরীফ আনতে, আমি তোমাকে ছাতু এবং খেজুর দ্বারা আপ্যায়ন করতাম। তিনি আরো বলেন, কারো কাছে যদি তোমার কোনো পাওনা থাকে এবং সে তোমাকে কিছু খড়, যব কিংবা ঘাস হাদিয়া দেয় তাহলে তুমি তা গ্রহণ করবে না। কারণ এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত।

-সহীহ বুখারী ১/৫৩৮; উমদাতুল কারী ১৬/২৭৭; ফাতহুল বারী ৭/১৬৩; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক, হাদীস : ১৪৬৪৯; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৯/৩৯০; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআন মজীদে বলেছেন-واعبد ربك حتى يأتيك اليقين.উক্ত...

প্রশ্ন

আল্লাহ রাববুল আলামীন কুরআন মজীদে বলেছেন-

واعبد ربك حتى يأتيك اليقين.

উক্ত আয়াতে ‘আলইয়াকীন’ শব্দের অর্থ কী? কেউ কেউ এই শব্দের অর্থ মারেফত দ্বারা করে তদানুযায়ী আয়াতের ব্যাখ্যা করে থাকে। তাই হযরত মুফতী সাহেবের নিকট নিবেদন যে, নির্ভরযোগ্য তাফসীরগ্রন্থের আলোকে আয়াতের অর্থসহ সঠিক ব্যাখ্যা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

আয়াতের অর্থ : আপনি মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন।-সূরা হিজর : ৯৯

আয়াতের ‘আলইয়াকীন’ বলে মৃত্যুকেই বোঝানো হয়েছে। নিম্নে এ সম্পর্কিত কিছু দলিল পেশ করা হল :

واعبد ربك حتى يأتيك اليقين.

আয়াতের ‘আলইয়াকীন’ শব্দের ব্যাখ্যায় রঈসুল মুফাসসিরীন আবদুললাহ ইবনে আববাস রা. বলেন, আয়াতে ইয়াকীন শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, মৃত্যু। মৃত্যুকে ইয়াকীন শব্দ দ্বারা নামকরণের কারণ হল, মৃত্যু একটি সুনিশ্চিত বিষয়।-তাফসীরে কবীর ১৯/২২১

ইমাম বুখারী রাহ. প্রশ্নোক্ত আয়াতের ইয়াকীন শব্দের ব্যাখ্যায় বিশিষ্ট সাহাবী সালেম ইবনে আবদুল্লাহ রাহ.-এর কথা র্বণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন, আয়াতে ইয়াকীন শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত্যু।-সহীহ বুখারী ২/৬৮৩

হযরত মুজাহিদ রাহ. হযরত কাতাদাহ রাহ. ও হযরত হাসান রাহ. প্রমুখ বিশিষ্ট তাবেয়ীগণ বলেছেন, আয়াতে ইয়াকীন শব্দটি মৃত্যুর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।-দেখুন তাফসীরে তবারী ৭/৫৫৪; তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/৮৬৮; তাফসীরে কুরতুবী ১০/৪২-৪৩

আল্লামা ইবনে কাছীর রাহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে ইবনে কাসীরে (২/৮৬৮) বলেছেন, বাতিলপন্থীদের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে, যারা ইয়াকীন শব্দ দ্বারা মারেফত উদ্দেশ্য নিয়েছেন। সুতরাং যখন কেউ মারেফত পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তার থেকে শরীয়তের বিধি-বিধান রহিত হয়ে যাবে।

(তিনি বলেন) এ ধরনের মতবাদ হল কুফরী, ভ্রষ্টতা ও মূর্খতা। কেননা সমস্ত নবী আলাইহিমুস সালাম ও তাদের অনুসারীগণ সকল মানুষ অপেক্ষা আল্লাহকে অধিক ভালোভাবে জানতেন এবং আল্লাহর গুণাবলি ও সর্ববিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানতেন। তথাপি তারাই ছিলেন সর্বাধিক ইবাদতকারী ও মৃত্যু পর্যন্ত সকল নেক কাজের প্রতি অগ্রগামী ও অটল-অবিচল। সুতরাং ইয়াকীন শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত্যু।

এমনিভাবে আল্লামা মাহমুদ আলুসী রাহ., আল্লামা কুরতুবী রাহ., ইমাম তবারী রাহ., ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী রাহ., মুফতী শফী রাহ. ও আল্লামা ইদরীস কান্ধলভী রাহ. প্রমুখ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল ব্যাখ্যাকার উক্ত ব্যাখ্যাটিই গ্রহণ করেছেন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, আয়াতের প্রকৃত অর্থ হল, আপনি মৃত্যু পর্যন্ত আপনার প্রতিপালকের ইবাদত করুন।

সুতরাং যারা ‘আলইয়াকীন’ শব্দের অর্থ মারেফত বলে এবং তাদের তথাকথিত মারেফত হাসিল হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত করতে হয় এরপর আর প্রয়োজন নেই-এমন দাবি করে তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ বাতিল ও ভ্রান্ত এবং এটি নিতান্তই একটি কুফরী মতবাদ।

এ বিষয়ে আরো জানতে দেখুন : তাফসীরে তবারী ৭/৫৫৪; তাফসীরে কুরতুবী ১০/৪২-৪৩; তাফসীরে ফখরে রাযী ১৯/২২১; তাফসীরে রূহুল মাআনী ১৪/৮৭; তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন ৫/৩১৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

অনেক সময় জানাযায় নামাযে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার কারণে এক বা...

প্রশ্ন

অনেক সময় জানাযায় নামাযে বিলম্বে উপস্থিত হওয়ার কারণে এক বা একাধিক তাকবীর ছুটে যায়। এ অবস্থায় ইমাম সাহেবের সাথে শরিক হওয়ার পর দুআ পড়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়ে যাই। শুরু থেকে পড়ব নাকি ইমামের অনুসরণ করব? কখনো কখনো ইমাম কোন তাকবীরে রয়েছে জানা যায় না। মেহেরবানি করে সঠিক পদ্ধতি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জানাযার নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পর কেউ জামাতে শরিক হলে নিয়ম হল, ইমাম সাহেব সর্বশেষ যে তাকবীর বলেছেন নবাগত ব্যক্তি ঐ সময়ের দুআই পড়বে। আর ইমাম কোন তাকবীর বলেছেন তা জানা না গেলে সানা থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে দুআগুলো পড়বে। অতপর ইমাম সালাম ফিরিয়ে ফেললে চার তাকবীরের যে কয়টি সে ইমামের সাথে পায়নি সেই কয় তাকবীরগুলো খাটিয়া জমিন থেকে উঠানোর আগে আগে একাকি পড়ে সালাম ফিরাবে।

-মারাকিল ফালাহ ৩২৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২১৭; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৮০; শরহুল মুনইয়া ৫৮৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

জনৈক ব্যক্তি একজন হিন্দু নারীকে বিয়ে করেছে এবং এখনো তারা...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি একজন হিন্দু নারীকে বিয়ে করেছে এবং এখনো তারা বিবাহ বন্ধনে রয়েছে। এ অবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে সে কাফির না ফাসিক?

উত্তর

কোনো মুসলমানের জন্য কোনো হিন্দু নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়। কেউ বিবাহ করলৈও তা কার্যকর হবে না। শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের একত্রে বসবাস করা ব্যভিচার হিসাবে গণ্য হবে। কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা বলেছেন ‘‘মুশরিক নারীগণ যতক্ষণ পর্যন্ত ঈমান না আনে ততক্ষণ তাদেরকে বিবাহ করো না।’’ সূরা বাকারা-২২১

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হিন্দু নারীর সাথে ঐ ব্যক্তির বিবাহ সহীহ হয়নি। তাদের একত্রে ঘর-সংসার করাও অবৈধ ও ব্যভিচার হচ্ছে। ঐ মুসলমানের জন্য এক্ষুনি ঐ হিন্দু নারী থেকে পৃথক হয়ে যাওয়া জরুরি। এবং অতীত কর্মের জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হয়ে কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তাআলার দরবারে তাওবা ও ইস্তিগফার করা অপরিহার্য কর্তব্য।

-আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪৫; রদ্দুল মুহতার ৩/১৩১, ১৩২; আলমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ৮/১২৩; ইমদাদুল আহকাম ২/২৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৯১০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ অবস্থায় কেউ শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে যদি...

প্রশ্ন

রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ অবস্থায় কেউ শরীয়তসম্মত কোনো প্রয়োজনে যদি বাইরে যায় তাহলে সে কাউকে সালাম ও এর জবাব দিতে পারবে কি না? আমাদের এখানে কেউ কেউ বলেন যে, তার জন্য সালাম দেওয়াও নাকি সহীহ নয়। আবার কেউ বলেন, সালাম দেওয়া যাবে। তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা জানতে চাই।

উত্তর

ইতেকাফকারী কোন প্রয়োজনে মসজিদের বাইরে গেলে সালাম বা সালামের জবাবের জন্য না থেমে রাস্তায় চলতে চলতে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজটি সারতে সারতে সালাম ও সালামের জবাব দিতে পারবে। এতে তার ইতেকাফের কোন ক্ষতি হবে না। হাদীস শরীফে আছে, আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইতেকাফ অবস্থায় (প্রয়োজনে বাইরে গেলে) যখন কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে অতিক্রম করতেন তখন হাঁটা অবস্থাতেই ঐ ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়ে নিতেন।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৪৭২) মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/৫২৯; রদ্দুল মুহতার ২/৪৪৫; আহকামে ইতেকাফ, মুফতী তকী উসমানী ৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৭৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

বাদ সালাম আরয এই যে, আমি বিগত জানুয়ারি মাসের মাসিক...

প্রশ্ন

বাদ সালাম আরয এই যে, আমি বিগত জানুয়ারি মাসের মাসিক আলকাউসারের প্রশ্নোত্তর বিভাগে ২৩৮৬ নং প্রশ্নের উত্তরে দেখতে পেলাম যে, সেখানে পাঁচ দিনের জন্যও বাইয়ে সালাম সহীহ বলা হয়েছে। উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে বাদায়েউস সানায়ে ও খুলাসাতুল ফাতাওয়ার। সেখানে এ ব্যাপারে শুধু ইমাম কারখী রাহ.-এর মত উল্লেখ আছে। কিন্তু উভয় কিতাবেই এরপরে এর সর্বনিম্ন মেয়াদ এক মাস উল্লেখ করা হয়েছে এবং সে মতটিকে তাসহীহ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফিকহের আরো অনেক কিতাবে (যেমন আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ফাতহুল কাদীর ইত্যাদি) দেখলাম, এক মাসের মতটিকেই তাসহীহ করা হয়েছে।

সুতরাং ফতওয়া কোন মতের উপর-সেটি জানানোর জন্য অনুরোধ করছি।

আর প্রশ্নে শুধু কয়েকটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ বাইয়ে সালাম সহীহ হওয়ার জন্য আরো কিছু শর্ত আছে। অতএব কোন সূত্রে বলা হল যে, উক্ত নিয়মে অগ্রিম বেচা-কেনা বৈধ হবে? আর তা বাইয়ে সালামের অন্তর্ভুক্ত হবে?

উত্তর

আপনার ইলমী প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনি ঠিকই বলেছেন। অনেক ফকীহ কর্তৃক বাইয়ে সালামের সর্বনিম্ন মেয়াদ এক মাস হওয়ার বিষয়টিকে তাসহীহ করা হয়েছে। তথাপি আলকাউসারে পাঁচ দিন মেয়াদী সালামকে জায়েয বলা হয়েছে। আলকাউসার মূলত বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইমাম তহাভী, ইমাম কারখী, ইমাম জাসসাস প্রমুখ কাদীম ফুকাহায়ে কেরামের মতটিকেই অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেছে। যেটির তাসহীহ করেছেন ছাদরুশ শহীদ ও সাহেবে ফতোয়া সিরাজিয়া প্রমুখ ফকীহগণ। আর এ মতটি গ্রহণ করেছেন এ যুগের আরব আলেম শায়েখ ছিদ্দিক মুহাম্মাদ আমীন আযযারীর এবং হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম প্রমুখ আলেমগণ।

আর হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রাহ. তো এক্ষেত্রে সরাসরি শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী যেকোনো মেয়াদের জন্য বাইয়ে সালামকে জায়েয বলেছেন।

যেহেতু বাইয়ে সালামের সর্বনিম্ন মেয়াদের বিষয়টি মানসূস আলাইহি নয় এবং বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বল্প মেয়াদী বাইয়ে সালামের ব্যাপক প্রচলন হয়ে গেছে তাই এক্ষেত্রে এক মাসের কম মেয়াদেও বাইয়ে সালাম সহীহ হওয়ার ব্যাপারে যে সকল ফুকাহায়ে কেরাম মত দিয়েছেন তাদের কথার উপর আমল করা এবং ফতোয়া দেওয়ার অবকাশ রয়েছে বলে মনে হয়।

তাঁদের মতামত জানার জন্য নিম্নের কিতাবগুলো দেখা যেতে পারে :

মুখতাছারু ইখতিলাফিল উলামা ৩/৭; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/২৭৮; আলবেনায়া ১১/২৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ১০৬; মাজাল্লা মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী, নবম সংখ্যা ১/৩৮৭, ৬৪৩, ৬৫১; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/২১; ইসলামী বেনকারী কী বুনিয়াদে, মুফতী তাকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম, পৃষ্ঠা : ২০০

আরেকটি বিষয়ে আপনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তা হল, আলকাউসারের ঐ জবাবে বাইয়ে সালামের সকল শর্ত উল্লেখ করা হয়নি। আসলে বাইয়ে সালামের শর্তগুলো এর পূর্বেও আলকাউসারের একাধিক সংখ্যায় ছেপেছে। এখানে যেহেতু প্রশ্নকারীর জানার মূল বিষয় ছিল মেয়াদের বিষয়টি তাই সকল শর্ত উল্লেখ করা জরুরি মনে করা হয়নি। আপনার পর্যবেক্ষণের জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি প্রতি বছরের যাকাত রমযানের শেষ দশকে আদায় করে থাকি।...

প্রশ্ন

আমি প্রতি বছরের যাকাত রমযানের শেষ দশকে আদায় করে থাকি। তখন মুসলমান ভাইদের পাশাপাশি হিন্দুরাও যাকাত চায়। হিন্দুদেরকে যাকাত দিলে কি আমার যাকাত আদায় হবে? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

হিন্দু বা কোনো অমুসলিমকে যাকাত দিলে যাকাত আদায় হবে না। একটি দীর্ঘ হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুআয রা.কে লক্ষ করে বলেছেন, তুমি ধনী মুসলমানদের থেকে যাকাত নিয়ে তাদেরই দরিদ্রদের মাঝে তা বিতরণ কর।-সহীহ মুসলিম ১/৩৬

এই হাদীস উল্লেখ করে ইমাম কাসানী রাহ. বলেন, উক্ত হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনী মুসলমানদের থেকে যাকাত নিয়ে দরিদ্র মুসলমানদেরকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং অমুসলিমকে যাকাত দেওয়া যাবে না।-বাদায়েউস সানায়ে ২/১৬১

আরো দেখুন : রদ্দুল মুহতার ২/৩৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৬৭; আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/১৩৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একদিন ভুলে যোহরের ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে...

প্রশ্ন

একদিন ভুলে যোহরের ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা না মিলিয়ে রুকু-সিজদা করে ফেলি। পরের তিন রাকাত সাধারণ নিয়মে আদায় করি। অর্থাৎ দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য একটি সূরা মিলিয়ে পড়ি। আর শেষ দু’ রাকাতে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ি এবং তাশাহহুদ ইত্যাদি পড়ে সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে নামায পড়ার কারণে আমার নামায নষ্ট হয়েছে কি? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ফরযের প্রথম দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা বা কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করা ওয়াজিব। ভুলবশত তা ছুটে গেলে তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পর একটি সূরা মিলিয়ে নেওয়া মুস্তাহাব। আর তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা মিলানো হোক বা না হোক যথাস্থানে না পড়ার কারণে নামায শেষে সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। সুতরাং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সাহু সিজদা করা আবশ্যক ছিল। কিন্তু যেহেতু সাহু সিজদা করা হয়নি তাই ঐ নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১১২; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

সেদিন আসরের নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে...

প্রশ্ন

সেদিন আসরের নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে বসে পড়েছেন। কিন্তু কেউ লোকমা দেয়নি। এরপর চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব না বসে সোজা দাঁড়িয়ে যান। কেননা তিনি ভেবেছেন, এটি তৃতীয় রাকাত। মুসল্লিরা শেষ বৈঠকে বসে লোকমা দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম সাহেব শেষ বৈঠকে আর ফিরে আসেননি। বাধ্য হয়ে মুসল্লিরা বৈঠক ছেড়ে দাঁড়িয়ে ইমাম সাহেবের অনুসরণ করেন। মাসআলা জানা থাকায় আমি ও কয়েকজন মুসল্লি শেষ বৈঠকে বসেছিলাম। এরপর ইমাম সাহেব যখন পঞ্চম রাকাতের সিজদা করেছেন তখন আমরা সালাম ফিরিয়েছি। এরপর অবশ্য আমরাও সকলের সাথে সতর্কতাবশত পুনরায় আসরের নামায আদায় করে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, আমাদের প্রথম নামায সহীহ হয়েছিল কি না।

উল্লেখ্য, তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেব বসার কারণে যে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে আমরা তা আদায় করিনি।

উত্তর

নামাযের শেষ বৈঠক ফরয। তা তরক করলে বা ভুলে ছুটে গেলে নামায ফাসেদ হয়ে যায়। প্রশ্নে উল্লেখিত অবস্থায় ইমাম সাহেব শেষ বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে এবং পঞ্চম রাকাতের সিজদার আগ পর্যন্ত বৈঠকে ফিরে না আসার কারণে ইমাম-মুক্তাদি সকলের নামায ফাসেদ হয়ে গেছে। যে সকল মুক্তাদি পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়ায়নি তাদেরও নামায হয়নি। কারণ ইমামের নামায ফাসেদ হয়ে গেলে মুক্তাদির নামাযও ফাসেদ হয়ে যায়। সুতরাং উল্লেখিত অবস্থায় ইমাম ও সকল মুক্তাদির পুনরায় নাযায পড়ে নেওয়া সঠিক হয়েছে।

-কিতাবুল আছল ১/২৩৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২৭; ফাতহুল কাদীর ১/৪৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩২০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৫২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

জনৈক ব্যক্তি এক ব্যবসায়ী থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি এক ব্যবসায়ী থেকে ২ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ১ হাজার গেঞ্জি চার মাস পর হস্তান্তর করার চুক্তিতে ক্রয় করেছে এবং বেচা-কেনার সময়ই তার মূল্য পরিশোধ করে দিয়েছে। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তার টাকার প্রয়োজন হয়েছে। তাই সে অন্য ব্যবসায়ীর নিকট গেঞ্জিগুলো বিক্রি করতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, এই বেচা-কেনা জায়েয হবে কি না?

উত্তর

না, ওই গেঞ্জিগুলো হস্তগত হওয়ার পূর্বে অন্য কারো কাছে বিক্রি করা জায়েয হবে না। এ ব্যাপারে সরাসরি হাদীসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

হাকীম ইবনে হিযাম রা. বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করি। এর কোন পন্থাটি হালাল কোনটা হারাম? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি কোনো পণ্য ক্রয় করবে তখন তা হস্তগত হওয়ার পূর্বে অন্যত্র বিক্রয় করবে না। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫৩১৬)

হযরত উমর রা. বলেন, যখন তুমি বস্ত্ততে সালাম-চুক্তি করবে তখন তা হস্তগত হওয়ার আগে অন্যত্র বিক্রি করবে না। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৩২)

-মুসনাদে আহমদ ৩/৪০২; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ১১/৩২; হেদায়া ৩/৯৭; ফাতহুল কাদীর ৬/১৩৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৯৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করা অবস্থায় কেউ সালাম দিলে তিলাওয়াতকারীর করণীয়...

প্রশ্ন

কুরআন মজীদ তিলাওয়াত করা অবস্থায় কেউ সালাম দিলে তিলাওয়াতকারীর করণীয় কী?

উত্তর

কুরআন মজীদ তিলাওয়াতে নিয়োজিত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। সালাম দিলে তার বিঘ্ন হবে এই আশঙ্কা থাকলে সালাম দেওয়া গুনাহ। তথাপি কেউ যদি তিলাওয়াতরত ব্যক্তিকে সালাম দেয় তাহলে তিলাওয়াত বন্ধ করে তার উত্তর দেওয়া আবশ্যক নয়। তবে উত্তর দিতে চাইলে ওয়াফকের জায়গা পর্যন্ত পড়ে সালামের উত্তর দিবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৯; রদ্দুল মুহতার ১/৬১৭-৬১৮, ৬/৪১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৮২৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

ইমাম মুসলিম রাহ. কার অনুরোধক্রমে তার সহীহ মুসলিম সংকলন করতে...

প্রশ্ন

ইমাম মুসলিম রাহ. কার অনুরোধক্রমে তার সহীহ মুসলিম সংকলন করতে আরম্ভ করেন? তাঁর নাম কি ছিল? এবং তার আবেদনের ভাষ্য কীরূপ ছিল? বরাতসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

তারীখে বাগদাদ, তারীখুল ইসলাম লিযযাহাবীসহ নির্ভরযোগ্য একাধিক তারীখ ও সিয়ারগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মুসলিম রাহ. তাঁর বিশিষ্ট শাগরিদ আহমদ ইবনে সালামার (মৃত্যু : ২৮৬ হিজরী) অনুরোধে সহীহ মুসলিম সংকলন করতে আরম্ভ করেন। তারীখের ঐ সকল গ্রন্থে তার আবেদন হুবহু উদ্ধৃত হয়নি বলে আমরা তাঁর ভাষ্য কী ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে সহীহ মুসলিমের ভূমিকায় স্বয়ং ইমাম মুসিলমের বক্তব্য থেকে ঐ আবেদনের ভাষ্য সহজে অনুমান করা যায়।

-সহীহ মুসলিম ১/২; তারীখে বাগদাদ ৪/১৮৬; তারীখুল ইসলাম ওয়া ওফায়াতুল মাশাহির ওয়াল আলাম ২১/৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৭৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি যায়েদের সাথে ধান বিক্রির জন্য এ মর্মে অগ্রিম চুক্তি...

প্রশ্ন

আমি যায়েদের সাথে ধান বিক্রির জন্য এ মর্মে অগ্রিম চুক্তি করতে চাচ্ছি যে, সে আমাকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা দিবে আর পাঁচ দিন পর আমি তাকে দশ মণ নির্দিষ্ট প্রকার ধান দিব। জানার বিষয় হল, উক্ত সময়ের জন্য অগ্রিম খরিদ লেনদেন করা বৈধ হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, এত অল্প সময়ের জন্যও কারবারটি জায়েয হবে। কারণ প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি বাইয়ে সালাম (অগ্রিম খরিদ) চুক্তি। আর বাইয়ে সালাম চুক্তি স্বল্প মেয়াদের জন্যও জায়েয।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৪৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/৪; আলমাজমূ ১২/১৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একবার আমার নামাযে ভুল হয়েছিল, যার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব...

প্রশ্ন

একবার আমার নামাযে ভুল হয়েছিল, যার কারণে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল। সাহু সিজদা দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। স্মরণ হয়েছে দুআ মাছুরা পড়ার পর। ঐ সময় আমি একদিকে সালাম ফিরিয়ে সাহু সিজদা আদায় করেছি। এরপর যথানিয়মে নামায শেষ করেছি। এখন আমি জানতে চাই, ঐ সময় সাহু সিজদা করাতে নামাযের কোনো সমস্যা হয়েছে কি?

উত্তর

না, সমস্যা হয়নি। আপনার নামায আদায় হয়ে গেছে।

-কিতাবুল আছল ১/২৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪০৩; রদ্দুল মুহতার ২/৯১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্তের।...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় বেশ কয়েকটি হিন্দু পরিবার রয়েছে, যাদের অধিকাংশই নিম্নবিত্তের। তাই অভাব-অনটনের কারণে তারা অনেক সময় মানুষের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়। জানার বিষয় হল, তাদেরকে যাকাতের অর্থ দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

যাকাত কোনো অমুসলিমকে দেওয়া জায়েয নয়। তবে নফল সদকা অমুসলিমকেও দেওয়া যায়। সুতরাং উল্লেখিত হিন্দুদেরকে আপনারা নফল সদকার অর্থ প্রদান করতে পারেন।

বিখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, তাদেরকে (অমুসলিমদেরকে) যাকাত প্রদান করো না, নফল সদকা প্রদান কর।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫১৬; রদ্দুল মুহতার ২/৩৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২১১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭২৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী ও মাসীহ আ. ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি-এ সম্পর্কে...

প্রশ্ন

প্রতিশ্রুত ইমাম মাহদী ও মাসীহ আ. ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি-এ সম্পর্কে সহীহ দলিল জানতে চাই। তাদের প্রত্যেকের পরিচয় ভিন্ন ভিন্ন করে জানালে আমাদের জন্য বুঝতে সহজ হবে।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানী সম্প্রদায় ইমাম মাহদী ও মাসীহ আ. একই ব্যক্তি হওয়া সম্পর্কে সুনানে ইবনে মাজাহর বরাতে একটি হাদীস পেশ করে থাকে যে,

لا مهدي إلا عبيسى بن مريم

অর্থাৎ ঈসা ইবনে মারইয়ামই হলেন মাহদী। হাদীসটির তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা জানতে চাই।

উত্তর

হযরত ঈসা আ. আল্লাহ তাআলার রাসূল। যিনি বনী ইসরাইলের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আগে দুনিয়ায় তাঁর আগমন হয়েছে। কুরআন মজীদে তাঁর পরিচয় ও ঘটনা বিদ্যমান রয়েছে। পক্ষান্তরে মাহদী রা. এখনও আবির্ভূত হননি। কিয়ামতের পূর্বে তার আবির্ভাব হবে। তিনি নবী হবেন না। আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় থাকবেন। হাদীস শরীফে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ হয়েছে।

কুরআন ও হাদীসের এ সকল দলিল থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, হযরত ঈসা আ. ও মাহদী রা. ভিন্ন দুজন ব্যক্তি। তাদের সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসে যা বলা হয়েছে তা জানা থাকলে এ বিষয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এখানে কুরআন ও হাদীস থেকে তাদের প্রত্যেকের পরিচয় ও কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হল।

ঈসা আ.-এর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

ক) তিনি মারইয়াম রা.-এর পুত্র।

কুরআন মজীদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, (তরজমা) সে মারইয়ামের পুত্র ঈসা। (সূরা মারইয়াম : ৩৪)

খ) ঈসা আ. আল্লাহ তাআলার কুদরতে পিতা ছাড়া শুধু নিজ মা (মারইয়াম) এর মাধ্যমে জন্মলাভ করেছেন।

কুরআন মজীদে আছে, (তরজমা) তিনি (মারইয়ামকে) বললেন, আমি তো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য। মারইয়াম বলল, আমার পুত্র হবে কেমন করে, যখন আমাকে কোনো পুরুষ স্পর্শ করেনি এবং আমি নই কোনো ব্যভিচারিণী নারী? ফিরিশতা বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটা মামুলি কাজ। আমি এটা করব এজন্য যে, তাকে মানুষের জন্য (আমার কুদরতের) এক নিদর্শন বানাব এবং আমার নিকট হতে রহমতের প্রকাশ ঘটাব। (সূরা মারইয়াম : ১৯-২১)

গ) ঈসা আ. ছিলেন আল্লাহ তাআলার রাসূল। তিনি বনী ইসরাইলের নিকট প্রেরিত হয়েছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, (তরজমা) স্মরণ কর সেই সময়কে যখন ঈসা ইবনে মারইয়াম বলেছিল, হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ তাআলার রাসূল হয়ে এসেছি। (সূরা সাফ্ফ : ৬)

অন্যত্র বলা হয়েছে, হে নবী! আমি তোমার প্রতি ওহী নাযিল করেছি সেইভাবে যেভাবে নাযিল করেছি নূহ ও তার পরবর্তী নবীগণের প্রতি। এবং আমি ওহী নাযিল করেছিলাম ইবরাহীম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের বংশধরগণ-ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলাইমানের প্রতি। (সূরা নিসা : ১৬৩)

ঘ) ঈসা আ.কে আল্লাহ তাআলা আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন। আখেরী যামানায় কিয়ামতের কিছুদিন পূর্বে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন।

কুরআন মজীদে আছে, যখন আল্লাহ তাআলা বলেছিলেন, হে ঈসা! আমি তোমাকে সহীহ সালামতে ওয়াপস নিয়ে নিব। তোমাকে নিজের কাছে তুলে নিব। এবং যারা কুফুরি অবলম্বন করেছে তাদের (উৎপীড়ন) থেকে তোমাকে মুক্ত করব। (সূরা আলইমরান : ৫৫)

অন্য আয়াতে আছে, তারা বলে আমরা আল্লাহর নবী ঈসা ইবনে মারইয়ামকে হত্যা করেছি। অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি, শুলেও চড়াতে পারেনি। বরং তাদের বিভ্রম হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে যারা এ সম্পর্কে মতভেদ করেছে তারা এ বিষয়ে সংশয়ে নিপতিত। এবং এ বিষয়ে অনুমানের অনুসরণ ছাড়া তাদের প্রকৃত কোনো জ্ঞানও ছিল না। সত্য কথা হচ্ছে তারা ঈসাকে হত্যা করেনি। বরং আল্লাহ তাআলা তাকে নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন। (সূরা নিসা : ১৫৭)

ঙ) তিনি কিয়ামতের আগে আসমান থেকে অবতরণ করবেন। কিছুদিন দুনিয়ায় অবস্থান করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কসম সেই সত্ত্বার, যার কুদরতী হাতে আমার প্রাণ, অতি নিকটবর্তী সময়ে তোমাদের মাঝে অবতরণ করবেন মারইয়ামের পুত্র (ঈসা)। (সহীহ বুখারী ১/৪৯০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩৩)

চ) ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণের পর ৪০ বছর দুনিয়াতে থাকবেন।

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, ঈসা আ. আকাশ থেকে অবতরণ করে দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং ৪০ বছর দুনিয়াতে থাকবেন। (মুসনাদে আহমদ ৬/৭৫; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ৩৮৬২৯)

ইমাম মাহদীর পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য

ক) ইমাম মাহদী ফাতেমা রা-এর বংশে জন্মগ্রহণ করবেন্

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী হবে ফাতেমার বংশধর। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৩; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৮৬)

খ) মাহদী রা.-এর নাম হবে মুহাম্মাদ এবং তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মাত্র একদিনও বাকি থাকে তবুও-আল্লাহ তাআলা ঐ দিনকে দীর্ঘ করবেন এবং আমার বংশের এক ব্যক্তিকে প্রেরণ করবেন। তার নাম আমার নামের সাথে এবং তার পিতার নাম আমার পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। (অর্থাৎ তার নাম হবে মুহাম্মাদ ও তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮১; জামে তিরমিযী, হাদীস : ২২৩০)

উপরোক্ত হাদীসে কিয়ামতের পূর্বে ইমাম মাহদীর আগমনের বিষয়টি এবং তার নাম ও বংশের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ) মাহদী রা. নবী হবেন না। তিনি হবেন একজন নেককার ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি মুসলমানদের খলীফা হবেন।

আবু উমামা বাহেলী রা. থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নেককার লোক বলে অভিহিত করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৭৭)

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ ও মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থানে মানুষ তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবেন। (অর্থাৎ তার দিক নির্দেশনা অনুযায়ী চলার জন্য তার হাতে হাত রেখে শপথ করবে।)। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৫)

ঘ) মাহদী রা. সাত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন এবং দুনিয়াতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী আমার বংশের হবে। তার চেহারা উজ্জ্বল হবে। (তার দ্বারা) গোটা দুনিয়ায় ইনসাফ কায়েম হবে। যেমনিভাবে (ইতিপূর্বে) পুরো দুনিয়ায় অন্যায় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। তিনি সাত বছর খেলাফতের দায়িত্ব পালন করবেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪২৮৪)

উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মাহদী (খলীফা হওয়ার পর) সাত বছর বেঁচে থাকবেন। এরপর মৃত্যুবরণ করবেন। মুসলমানগণ তার জানাযা পড়বে। (সুনানে আবু দাউদ, হা: ৪২৮৬)

উপরে ঈসা আ. ও মাহদী রা. সম্পর্কে কুরআন মজীদ ও হাদীস শরীফ থেকে যে তথ্যগুলো দেওয়া হল এগুলো থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ঈসা আ. ও মাহদী রা. ভিন্ন দুই ব্যক্তি। কিয়ামতের আগে মাহদী রা.-এর আবির্ভাব হবে এবং ঐ সময় ঈসা আ.ও আসমান থেকে অবতরণ করবেন। কিছুকাল তারা দু’জন একত্রেও থাকবেন।

সুতরাং তাদেরকে এক ব্যক্তি দাবি করার অর্থ, দু’জনের কোনো একজনকে অস্বীকার করা। অথচ ঈসা আ.-এর দুনিয়ায় আসা, তাকে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া এবং কিয়ামতের আগে আবার দুনিয়াতে আগমন করার বিষয়টি কুরআন মজীদ ও মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তদ্রূপ কিয়ামতের আগে ইমাম মাহদীর আগমনও মুতাওয়াতির হাদীসে রয়েছে। তিনি ফাতেমা রা.-এর বংশধর হওয়া, একজন নেককার ও ন্যায়পরায়ণ শাসক হওয়া ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিবরণও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

জালালুদ্দীন সুয়ূতী রাহ. মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলন করে একটি আলাদা পুস্তিকাই লিখেছেন। যা তার আলহাভী লিলফাতাভী গ্রন্থের ২য় খন্ডে বিদ্যমান রয়েছে। তাতে ২১৩-২৪৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোট ৩০ পৃষ্ঠাব্যাপী ইমাম মাহদী সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সংকলিত হয়েছে। এরপর সুয়ূতী রাহ. লিখেছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ ইবনে হুসাইন বলেন, ইমাম মাহদীর আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।

হাফেয ইবনে হাজার রাহ. ফাতহুল বারীতে (৬/৫৬৯) লিখেছেন, আবুল হাসান মানাকেবুশ শাফেয়ী তে বলেছেন, ইমাম মাহদী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মত হবেন এবং ঈসা আ. তার পিছনে নামায পড়বেন। তার আগমন সংক্রান্ত হাদীসসমূহ মুতাওয়াতির।

সুতরাং ইমাম মাহদীকে অস্বীকার করার অর্থ, মুতাওয়াতির হাদীস দ্বারা প্রমাণিত অকাট্য বিষয়কে অস্বীকার করা। অতএব এ ধরনের চিন্তা ও বিশ্বাস থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

উল্লেখ্য, কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রধান মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রকারের মিথ্যা দাবি করেছে। কোনো সময় নিজেকে নবী ও রাসূল, কোনো সময় আদম ও মারইয়াম হওয়ার দাবি করেছে। কখনো যুগের মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবি করেছে। এমনিভাবে নিজেকে ঈসা ও মাহদী বলেও দাবি করেছে।

এমন আরো অনেক দাবি সে করেছে যেগুলো কুরআন ও হাদীসের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট মিথ্যা ও ঈমান পরিপন্থী।

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজের ব্যাপারে এ ধরনের দাবি করায় সে সময়ের সাধারণ লোকজনও বুঝতে পারত যে, লোকটি মিথ্যাবাদী। এক সময় যখন তাকে বলা হল, মাহদী ও মাসীহ তো দু’জন। আপনি একত্রে ঐ দুজন হলেন কীভাবে? তখন সে ঐ মিথ্যা দাবির সমর্থনে উক্ত বর্ণনাটি পেশ করে। অথচ ইতিপূর্বে কুরআন ও হাদীস থেকে ঈসা আ. ও মাহদী রা.-এর যে পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, তারা দু’জন ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তি।

একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, গোলাম আহমদ কাদিয়ানী ঈসা বা মাহদী নয়। কারণ ঈসা আ. ও মাহদী রা.-এর বংশ পরিচয়ের সঙ্গে গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর বংশ পরিচয়ের কোনো মিল নেই।

গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর পিতার নাম গোলাম মুর্তজা। সে পাঞ্জাবের গুরদাসপুর জেলার কাদিয়ান নামক এলাকায় ১৮৩৯ মতান্তরে ১৮৪০ খৃস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করে।

পক্ষান্তরে ঈসা আ. পিতা ছাড়া আল্লাহর কুদরতে নিজ মা মারইয়ামের মাধ্যমে জন্মলাভ করেছেন। তিনি বনী ইসরাইলের নিকট নবী হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন এবং আল্লাহ তাআলা তাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কিয়ামতের আগে আসমান থেকে অবতরণ করবেন।

আর ইমাম মাহদী এখনো দুনিয়াতে আসেননি। তিনি ফাতেমা রা.-এর বংশে জন্মলাভ করবেন। তার নাম হবে মুহাম্মাদ। তার পিতার নাম হবে আবদুল্লাহ। তাদের উভয়ের বংশ-পরিচয়, বৈশিষ্ট্য কুরআন ও হাদীস থেকে বিস্তারিতভাবে উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর এ ধরনের দাবি ও বিশ্বাস মিথ্যা এবং ঈমান পরিপন্থী।

প্রসঙ্গ : সুনানে ইবনে মাজার হাদীস

গোলাম আহমদ কাদিয়ানী তার দাবি-(ঈসা আ. ও মাহদী রা. এক ও অভিন্ন ব্যক্তি) এর সপক্ষে সুনানে ইবনে মাজাহ-এর যে বর্ণনাটি বলে থাকে, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ বর্ণনাটিকে শরীয়তের অন্যান্য অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে মুনকার (অগ্রহণযোগ্য) বলেছেন। কেউ কেউ মাওযূও বলেছেন।

হাদীস বিশারদ ইমাম সাগানী রাহ. বলেছেন, উক্ত হাদীসটি মওযূ (জাল)। দেখুন : মীযানুল ইতিদাল ৪/১০৭; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১২/৩৫১; আলফাওয়ায়িদুল মাজমূআ, শাওকানী ২/১২৭; আলমানারুল মুনীফ ১৪১

লক্ষ্যণীয় বিষয় এই যে, সুনানে ইবনে মাজাতেই ইমাম মাহদীর আগমন সম্পর্কে বেশ কয়েকটি সহীহ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে। (দেখুন : সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস : ৪০৮৫, ৪০৮৬, ৪০৮৭)

সুতরাং হাদীস বিশারদগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেটি অগ্রহণযোগ্য বা মওযূ বর্ণনা, তার উপর ভিত্তি করে একটি অকাট্য আকীদাকে কখনো অস্বীকার করা যায় না।

আল্লাহ তাআলা সকলকে ঈমান ও হেদায়েতের উপর অবিচল রাখুন এবং ঈমান বিনষ্টকারী সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে হেফাযত করুন। আমীন।

কাদিয়ানী সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার জন্য আরো পড়তে পারেন :

ছুবুত হাজের হেঁ; আয়নায়ে কাদিয়ানিয়্যত, কাযিবাতে মির্জা, কাদিয়ানী কিউ কাফের হ্যায় (উর্দু)। কাদিয়ানী সম্প্রদায় : তত্ত্ব ও ইতিহাস, কাদিয়ানী ফিতনা ও মুসলিম মিল্লাতের অবস্থান, কাদিয়ানী মতবাদ ও উলামায়ে ইসলাম।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

জনৈক মহিলা তাওয়াফ করার পর তার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়।...

প্রশ্ন

জনৈক মহিলা তাওয়াফ করার পর তার ঋতুস্রাব শুরু হয়ে যায়। ফলে সে এ অবস্থায় সাঈ করে নেয়। জানার বিষয় হল, তার সাঈ কি আদায় হয়েছে? সাঈর জন্য কি হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত?

উত্তর

ঐ মহিলার সাঈ আদায় হয়ে গেছে। কেননা, সাঈর জন্য হায়েয থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত নয়। নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. ও উম্মে সালামা রা. বলতেন, কোনো মহিলার বাইতুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ এবং তৎপরবর্তী দু’ রাকাত নামায আদায় করার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেলে সে যেন সাফা-মারওয়া সাঈ করে নেয়। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৪৪১)

বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. এবং অনেক জলীলুল কদর তাবেয়ীগণ এই মত পোষণ করেছেন।

-মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৮/৪৪১; মাবসূত, সারাখসী ৪/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

শুনেছি, যিনি কুরবানী করবেন তার জন্য যিলহজ্বের ১লা তারিখ থেকে...

প্রশ্ন

শুনেছি, যিনি কুরবানী করবেন তার জন্য যিলহজ্বের ১লা তারিখ থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটা মুস্তাহাব। কথাটি কি সঠিক? হাদীসে কি এ ধরনের কথা আছে?

উত্তর

হ্যাঁ, কুরবানীকারীর জন্য ১লা যিলহজ্ব থেকে পশু কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত নখ, চুল না কাটার কথা হাদীসে এসেছে।

হযরত উম্মে সালামা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কুরবানী করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যেন যিলহজ্বের প্রথম দিন থেকে কুরবানী করার আগ পর্যন্ত নখ, চুল না কাটে। (সহীহ মুসলিম ২/১৬০; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫২৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২৭৯১)

উল্লেখ্য, এই বিধান তখনি প্রযোজ্য হবে যখন অবাঞ্ছিত পশম ও নখ না কাটার সময় ৪০ দিন থেকে বেশি না হয়। কেননা, সহীহ হাদীসে আছে, আনাস রা. বলেন, গোঁফ কর্তন করা, নখ কাটা, বগল পরিষ্কার করা ও নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করার বিষয়ে আমাদের জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল যে, আমরা যেন ৪০ দিনের বেশি বিলম্ব না করি।

-সহীহ মুসলিম ১/১২৯; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ২৮৭; আহসানুল ফাতাওয়া ৪/৪৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের এলাকায় কিছু হিন্দু পড়শী আছে, যারা কুরবানীর গোশত নিতে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় কিছু হিন্দু পড়শী আছে, যারা কুরবানীর গোশত নিতে চায়। তাদেরকে কুরবানীর গোশত দেওয়া যাবে কি না?

উত্তর

হ্যাঁ, হিন্দু বা অন্যান্য বিধর্মীকেও কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয। হাসান বসরী রাহ. ও ফকীহ ইবরাহীম ইবনে খালেদ আবু ছাওর রাহ. বিধর্মীকে কুরবানীর গোশত দেওয়া জায়েয বলেছেন।

-ফিকহুল ইমাম আবু ছাওর ৪০২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৭০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

শুনেছি, উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা.-এর জন্য জান্নাতে একটি বাঁশের...

প্রশ্ন

শুনেছি, উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা.-এর জন্য জান্নাতে একটি বাঁশের ঘর থাকবে। কথাটি কি সত্য? হাদীস শরীফে কি এমন কোনো বর্ণনা আছে? থাকলে সেই বাঁশ দ্বারা কি আমাদের পরিচিত বাঁশই উদ্দেশ্য, নাকি ভিন্ন কিছু? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

সহীহ হাদীসে আছে, হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, একবার হযরত জিবরীল আ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই যে খাদীজা রা. আপনার কাছে আসছেন, তাঁর সাথে একটি পাত্র রয়েছে, যাতে তরকারি আছে বা (বর্ণনাকারী বলেন) খাবার অথবা পানীয়। তিনি আপনার কাছে এসে পৌঁছলে তাঁকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে সালাম বলবেন এবং তাঁকে জান্নাতে একটি বাঁশের ঘরের সুসংবাদ দিবেন, যেখানে কোনো শোরগোল এবং ক্লান্তি থাকবে না।-সহীহ বুখারী ৫৩৯; সহীহ মুসলিম ২/২৮৪

তবারানী শরীফের একটি রেওয়ায়েতে আছে, হযরত ফাতেমা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, ঘরটি কি (দুনিয়ার) এই বাঁশের তৈরি হবে? উত্তরে তিনি বলেছেন, না; তা হবে মুক্তা ও ইয়াকূত পাথরে গাঁথা বাঁশের দ্বারা তৈরি। (তবারানী, কাবীর, ১/২৭৪; মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/৩৫৮)

সুতরাং উক্ত হাদীসে বাঁশ দ্বারা দুনিয়ার সাধারণ বাঁশ উদ্দেশ্য নয়। হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. আল্লামা ইবনুত ত্বীনী রাহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, হাদীসে বাঁশ দ্বারা উদ্দেশ্য হল ফাঁপা প্রশস্ত মণি-মুক্তা।

-ফাতহুল বারী ৭/১৭১; শরহু মুসলিম, নববী ১৫/২০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৬৫৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কাবলাল জুমআ চার রাকাত সুন্নত কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? যদি...

প্রশ্ন

কাবলাল জুমআ চার রাকাত সুন্নত কি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত? যদি প্রমাণিত হয় তাহলে এই সুন্নতের হুকুম কী? অনুগ্রহ করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

জুমআর নামাযের আগে চার রাকাত নামায সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। হাদীস, আছার ও সাহাবায়ে কেরামের আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত।

হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য হেলে যাওয়ার পর চার রাকাত নামায পড়তেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কিসের নামায, যা আপনি নিয়মিত পড়েন? তিনি বললেন, এটি এমন একটি সময়, যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর আমি পছন্দ করি, যেন এ সময় আমার কোনো নেক আমল উপরে ওঠে। তখন আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর প্রতি রাকাতে কি সূরা মিলাতে হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, এই নামায কি এক সালামে না দুই সালামে? তিনি উত্তর দিলেন, এক সালামে। (তিরমিযী ১/৭৭; আবু দাউদ ১/১৮০)

ইমাম তিরমিযী রাহ. হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। এই হাদীসে উক্ত চার রাকাত নামায নিয়মিত পড়ার কথা আছে। জুমআর দিনসহ সপ্তাহের সকল দিন এই হাদীসের আওতাভুক্ত।

অন্যত্র সহীহ সনদে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি জুমআর নামাযের আগে চার রাকাত নামায পড়তেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/২৪৭; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৪/১১৪)

এভাবে হযরত আবদুর রহমান আসসালামী রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে জুমআর আগে চার রাকাত নামায পড়তে দিতেন। (মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/২৪৭; আলআওসাত ৪/১০৫)

আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রাহ. ‘‘ইলাউস সুনানে’’ বলেছেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর অন্যদেরকে এই নামাযের আদেশ করা ও শিক্ষা দেওয়া প্রমাণ করে যে, এটি সাধারণ সুন্নত নয়; বরং সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এজন্যই সাহাবায়ে কেরাম এর উপর নিয়মিত আমল করতেন। যেমন হযরত ইবরাহীম নাখাঈ রাহ. থেকে বর্ণিত আছে যে, সাহাবায়ে কেরাম জুমআর নামাযের আগে চার রাকাত নামায পড়তেন। (তহাবী ১/২৩৩; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৪/১১৪; মুসনাদে আহমদ ৩/৪১১)

এছাড়া সুনানে ইবনে মাজায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে আরেকটি হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর নামাযের আগে এক সালামে চার রাকাত নামায পড়তেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ পৃ. ৭৯)

এই বর্ণনার সনদে দুর্বলতা থাকলেও এর বক্তব্য পূর্বে বর্ণিত সহীহ রেওয়ায়েতগুলোর দ্বারা সমর্থিত।

এ সকল হাদীস ও আছার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, অন্যান্য দিনের যোহরের নামাযের মতো জুমআর নামাযের আগেও চার রাকাত নামায রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম আদায় করতেন। এ সকল দলিলের ভিত্তিতেই ফকীহগণ এ নামাযকে সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন।

তিরমিযী ১/৭৭; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩৪৭; সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৪৩০; ইলাউস সুনান ৭/১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১২; নসবুর রায়াহ ২/২০৬; ফাতহুল কাদীর ২/৩৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫৬৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

জনৈক ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম...

প্রশ্ন

জনৈক ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে মাত্র তিন তাকবীর বলেই সালাম ফিরিয়েছেন। তাকে জানানোর পর তিনি বলেন, সমস্যা নেই। তাকবীর কম হলে নামায অশুদ্ধ হয় না। কিন্তু মৃতের অভিভাবকগণ এতে সন্তুষ্ট না হয়ে পরের দিন অন্য ইমাম এনে কবরকে সামনে নিয়ে নামায পড়েছে। জানার বিষয় হল, প্রথম জানাযার নামায সহীহ ছিল কি না? আর কবরকে সামনে রেখে দ্বিতীয় নামায পড়া উচিত হয়েছে কি না?

উত্তর

জানাযার নামাযে চার তাকবীর বলা ফরয। একটি তাকবীর কম হলেও নামায আদায় হয় না। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যেহেতু চতুর্থ তাকবীর না বলেই সালাম ফিরিয়েছেন তাই উক্ত নামায সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে দাফনের পূর্বেই পুনরায় সহীহ তরীকায় নামায পড়ে নেওয়া জরুরি ছিল। যেহেতু পড়া হয়নি তাই পরের দিন কবরকে সামনে নিয়ে জানাযার নামায আদায় করা সহীহ হয়েছে। কেননা জানাযা না দিয়ে দাফন করা হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে কবরকে সামনে নিয়ে জানাযা পড়ার বিধান রয়েছে।

-সহীহ বুখারী ১/১৭৭-১৭৮; জামে তিরমিযী ১/১২১; সহীহ মুসলিম ১/৩০৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৮৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২২২৩; শরহুল মুনইয়াহ ৫৮৬; বাদায়েউস সানায়ে২/৫১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫১৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কেউ যদি এইভাবে সালাম দেয়-স্লামু আলাইকুম- তাহলে কী এর উত্তর...

প্রশ্ন

কেউ যদি এইভাবে সালাম দেয়-স্লামু আলাইকুম- তাহলে কী এর উত্তর দিতে হবে? এক ব্যক্তি থেকে শুনেছি, এভাবে সালাম দিলে উত্তর দেওয়া লাগবে না।

উত্তর

এভাবে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। শুদ্ধ উচ্চারণে স্পষ্টভাবে সালাম দিতে হবে। তবে কেউ যদি প্রশ্নোক্ত অশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেয় তবুও সালামের উত্তর দিতে হবে।

হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২০৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫০৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

ইমামের সালাম ফেরানোর আগেই যদি মুক্তাদির তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ...

প্রশ্ন

ইমামের সালাম ফেরানোর আগেই যদি মুক্তাদির তাশাহহুদ, দরূদ ও দুআ সমাপ্ত হয়ে যায় তাহলে সালাম ফিরানোর আগ পর্যন্ত কী করবে?

উত্তর

প্রথম কথা এই যে, নামাযে দুআ-দরূদ বুঝে-শুনে তারতিলের সাথে পড়া উচিত। এরপরও যদি ইমামের আগে মুক্তাদির দুআ-দরূদ সমাপ্ত হয়ে যায় তাহলে কুরআন-হাদীসের কোনো দুআ জানা থাকলে তা পড়তে থাকবে। যদি জানা না থাকে তাহলে

বারবার পড়তে থাকবে। একই দুআ বারবার পড়তে কোনো বাধা নেই; বরং সুযোগ থাকলে তাই করা উচিত। প্রকাশ থাকে যে, শেষ বৈঠকে শুধু

দুআটিই পড়তে হবে এমন নয়। কুরআন-হাদীসের যে কোনো দুআ অথবা অন্য কোনো ভালো দুআও পড়া যায়। কারণ হাদীস শরীফে আছে-

অন্য হাদীসে আছে

অর্থাৎ সালামের পূর্বে মুসল্লিরা যে দুআ করতে চায় করতে পারে। হাদীস শরীফের একটি দুআ এই

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৫০১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নতে যদি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া...

প্রশ্ন

যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নতে যদি প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদ পড়া অবস্থায় ইকামত শুরু হয়ে যায় তাহলে করণীয় কী? সালাম ফিরিয়ে ফরয নামাযে শরীক হবে, নাকি চার রাকাত পূর্ণ করবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

এ অবস্থায় বাকি দুই রাকাত পড়বে না; বরং বৈঠক পূর্ণ করে সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হবে। জামাত শেষ হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত আদায় করে পূর্বের চার রাকাত সুন্নতও পড়ে নিবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৬৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২০; ফাতহুল কাদীর ১/৪১১; রদ্দুল মুহতার ২/৫৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

গুলশানে হিন্দুদের পরিচালিত একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে তারা শুধু হিন্দুদেরকেই...

প্রশ্ন

গুলশানে হিন্দুদের পরিচালিত একটি ফ্যাক্টরি আছে। সেখানে তারা শুধু হিন্দুদেরকেই চাকুরি দেয়। একজন মুসলমান সেখানে চাকুরি নেওয়ার জন্য নিজেকে হিন্দু বলে প্রকাশ করেছে। নিজের ও পিতার নাম হিন্দু নাম রেখেছে। ইন্টারভিউতে জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজেকে হিন্দু পরিচয় দিয়েছে এবং সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, আমি মুসলমান না, হিন্দু।

জানতে চাই, এর কারণে তার ঈমানের ক্ষতি হয়েছে কি না? এভাবে বলা কতটুকু অপরাধ হয়েছে? লোকটি বিবাহিত।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী ‘আমি মুসলমান নই, হিন্দু’ এভাবে বলা এবং হিন্দু হিসেবে পরিচয় দেওয়া কুফরী কাজ হয়েছে। এভাবে বলার দ্বারা ঈমান নষ্ট হয়ে যায়। তাই লোকটির জন্য এক্ষুণি তওবা করত পুনরায় কালিমা শাহাদত পড়ে ঈমান আনা জরুরি এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের চাকুরি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র চাকরি নেওয়া জরুরি, যেখানে নিজের ঈমান-আকীদা সংরক্ষণের স্বাধীনতা রয়েছে। ঈমান আনার পর স্ত্রীর সাথে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ দু’জন স্বাক্ষীর সামনে নতুন মহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।

ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৩; জামিউল ফুসুলাইন ২/৩০১; ফাতাওয়া উসমানী ১/৮৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একটি ছোট্ট বইয়ে পড়েছি, খালি ঘরে প্রবেশের সময় এভাবে সালাম...

প্রশ্ন

একটি ছোট্ট বইয়ে পড়েছি, খালি ঘরে প্রবেশের সময় এভাবে সালাম দেওয়া মুস্তাহাব-‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।’ কথাটি কি সঠিক? কোন হাদীস থাকলে বরাতসহ জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হ্যাঁ, কথাটি সঠিক। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, ‘খালি ঘরে বা মসজিদে প্রবেশকালে এভাবে সালাম দিবে-‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহীন।’’

বিখ্যাত তাবেয়ী ইকরিমা রাহ. থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে।-মুসান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ১৩/২২৩; আলআদাবুল মুফরাদ পৃ. ১০৫৫; ফাতহুল বারী ১১/২২; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৪৬০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের এলাকার একজন আলেম সালাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ‘আসসালামু...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকার একজন আলেম সালাম সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে ‘আসসালামু কাবলাল কালাম’ কথাটিকে হাদীস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আসলেও কি কথাটি হাদীস? হাদীস হলে তা কোন কিতাবে আছে উদ্ধৃতিসহ জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

উক্ত বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ সনদে (বিশুদ্ধ সূত্রে) প্রমাণিত নয়। ইমাম তিরমিযী রাহ. তাঁর জামে তিরমিযীতে উক্ত বাক্যটি উল্লেখ করার পর বলেন,

هذا حديث منكر অর্থাৎ এটি মুনকার রেওয়ায়েত। অতএব বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে সহীহ হাদীস হিসেবে বলা যাবে না। তবে সাধারণ আরবী বাক্য হিসেবে বলা যাবে। উল্লেখ্য, প্রশ্নোক্ত বাক্যটি হাদীস না হলেও সাক্ষাতের সময় প্রথমে সালাম দেওয়ার বিষয়টি শরীয়তের অন্যান্য দলিল দ্বারা প্রমাণিত।

-জামে তিরমিযী, হাদীস : ২৮৪২; আততালখীসুল হাবীর ৪/১৯২১, হাদীস : ৪১৯৯; কাশফুল খাফা ১/৪০২; আলকামিল ফিযযুআফা, ইবনে আদী ৬/২০৪, ৫/২৯১; আলফুতুহাতুর রব্বানিয়া ৫/৩২৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আছর ও ফজর নামাযের সালামের পর...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আছর ও ফজর নামাযের সালামের পর কিবলা থেকে ঘুরে মুসল্লীদের দিকে ফিরে বসেন। এক্ষেত্রে যদি কোনো মাসবুক তার মুখোমুখী থাকে চাই সে যত দূরেই হোক তিনি তার মুখোমুখী বসেন না; বরং ডানে বা বামে একটু ঘুরে বসেন। যখন মাসবুকের নামায শেষ হয়ে যায় তখন তিনি সোজা হয়ে বসেন।

জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেব ও মাসবুকের মাঝে যদি কয়েক কাতার মুসল্লী থাকে যাদের নামায শেষ হয়ে গেছে তাহলে এর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কি তার মুখোমুখী হয়ে বসা যাবে না? আশা করি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইমাম সাহেব ও মাসবুকের মাঝে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির আড়াল থাকলে ইমামের জন্য নামায শেষে ঐ মাসবুকের মুখোমুখী হয়ে বসা জায়েয আছে। তবে এক্ষেত্রেও মুখোমুখী না বসাই উত্তম। আর কোনো আড়াল না থাকলে মাসবুক বা নামাযী ব্যক্তি দূরে থাকলেও তার মুখোমুখী হয়ে বসা মাকরূহ।

হাশিয়াতুত তাহতাবী আলালমারাকী পৃ. ১৭১; ফাতহুল কাদীর ১/৩৬১; আলবাহরুর রায়েক ২/৩১; শরহুল মুনইয়াহ পৃ. ৩৪১; আননাহরুল ফায়েক ১/২৮৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৩১-৫৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কিছু কিছু মসজিদে দেখা যায়, ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবীহ...

প্রশ্ন

কিছু কিছু মসজিদে দেখা যায়, ছোট ছোট সুরা দিয়ে তারাবীহ পড়ে। এরপরও এত দ্রুত পড়া হয় যে, রুকু-সিজদাও ঠিকমতো আদায় করা হয় না। আমি জানতে পেরে বললাম, এতো নামাযের নামে প্রহসন। হাদীস শরীফে এভাবে নামায পড়াকে মুরগের ঠোকরের সঙ্গে তুলনা দিয়ে তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তখন একজন বলল, অনেকে তো নামাযই পড়ে না। তারা তো এই দ্রুত নামাযে শরীক হতে পারছে। তা মন্দ কি?

উত্তর

নামায ইসলামের অন্যতম রুকন। ঈমানের পর নামাযের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। কিয়ামতের দিন ইবাদতের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাযের হিসাব নেওয়া হবে। তাই নামায সুন্দরভাবে আদায় করার প্রতি যত্নবান হতে হবে। রুকু-সিজদা এবং অন্যান্য রোকন বেশি দ্রুত আদায় করতে হাদীসে নিষেধ করা হয়েছে। এক হাদীসে আছে-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে তাশরীফ আনলেন, এ সময় অপর এক ব্যক্তিও মসজিদে এসে নামায আদায় করল। অতঃপর তাঁর নিকট এসে সালাম করল। তিনি উত্তর দিয়ে বললেন, যাও, নামায পড়। কেননা, তুমি নামায পড়নি। সে গিয়ে নামায পড়ে পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করল। এবারও তিনি বললেন, যাও, নামায পড়। কেননা, তুমি নামায পড়নি। এভাবে তিনবার হল। এরপর লোকটি আরয করল, সেই সত্ত্বার কসম, যিনি আপনাকে হক দিয়ে প্রেরণ করেছেন। আমি এর চেয়ে উত্তম নামায পড়তে পারি না। আপনি আমাকে নামায শিক্ষা দিন। তখন তিনি ইরশাদ করলেন, যখন তুমি নামাযের জন্য দাঁড়াবে তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন মজীদ থেকে যা পার পড়বে। এরপর যখন রুকুতে যাবে, পূর্ণ শান্তভাবে রুকু আদায় করবে। তারপর রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর শান্তভাবে সিজদা করবে। তারপর সিজদা থেকে সোজা হয়ে বসবে। তুমি পুরো নামায এভাবে আদায় করবে। (সহীহ বুখারী ১/১০৯)

উক্ত হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, রুকু ও সিজদায় সর্বনিম্ন এক তাসবীহ পরিমাণ সময় অপেক্ষা করা ওয়াজিব। এতটুকু বিলম্ব না করলে, অথবা রুকু থেকে সোজা হয়ে না দাঁড়ালে কিংবা দুই সিজদার মাঝে সোজা হয়ে না বসলে ঐ নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব। কেননা, এভাবে নামায পড়লে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এটা যে কোনো নামায আদায়ের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিমাণ। আর সুন্নত হল রুকু সিজদায় অন্তত তিন তাসবীহ আদায় করা।

আর তারাবীর নামায তো রমযানের রাতের ফযীলতপূর্ণ আমল। রমযানের খায়র-বরকত ও মাগফিরাত হাসিলের জন্য এই নামায দান করা হয়েছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। তাই তা যত্নসহকারে আদায় করা উচিত।

অতএব তারাবীর নামাযে রুকু-সিজদা, কেরাত ইত্যাদি অতি দ্রুততার সাথে আদায় করা অন্যায়। রুকু-সিজদায় সর্বনিম্ন যতটুকু বিলম্ব করতে হয় ততটুকুও যদি না করা হয় তবে ঐ নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং যেভাবে নামায পড়লে তা আদায় হবে, আল্লাহর দরবারে কবুল হবে সেভাবেই পড়া কর্তব্য। এ ব্যাপারে মুসল্লীদেরকে বুঝিয়ে নিতে হবে। প্রশ্নে যে বলা হয়েছে, অনেকে নামাযই পড়ে না, তারা এই উড়ন্ত নামাযে শরীক হতে পারছে এ ধরনের কথা ইবাদতের ক্ষেত্রে চলে না। কেননা, যারা নামায পড়ে না তারা তো গুনাহ করছেই এখন যারা নামায পড়বে তাদের নামাযও যদি যথাযথভাবে না হয় তাহলে এর চেয়ে দুঃখজনক বিষয় আর কী হতে পারে? সুতরাং নামায ভালো করেই পড়তে হবে। এটাই শরীয়তের নির্দেশ।

সহীহ বুখারী ১/১০৯; শরহুল মুনইয়্যাহ পৃ. ২৯৪; আলবিনায়া ২/২৬৫; মাআরিফুস সুনান ৩/১৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৬৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের এলাকায় এক মুসলিম সন্তান গত দুর্গা পুজায় হিন্দুদের সাথে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় এক মুসলিম সন্তান গত দুর্গা পুজায় হিন্দুদের সাথে তালে তালে মূর্তিদের নাম নিয়ে তাদের মতো করে নমষ্কার করে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে জানায় যে, এগুলো দুষ্টুমি করে করেছি। জানতে চাই, এতে কোনো ক্ষতি হবে কি না?

উত্তর

পূজার সময় সেখানে অংশগ্রহণ করা মূর্তির সামনে তাদের মতো আচরণ করা এবং মূর্তির নাম নিয়ে নমষ্কার জানানো সব কিছুই কুফরি কাজ। দুষ্টুমি করে করলেও ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ঐ ব্যক্তিকে এক্ষুণি কৃত কর্মের জন্য তওবা-ইস্তেগফার করতঃ পুনরায় ঈমান আনতে হবে। এরপর সে বিবাহিত হয়ে থাকলে বিয়েও দোহরাতে হবে।

আলমুহীতুল বুরহানী ৭/৩৯৭; শরহুল ফিকহিল আকবার ১৮৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫৩০০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমরা জানি যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু অনেক...

প্রশ্ন

আমরা জানি যে, নামাযীর সামনে দিয়ে যাওয়া নিষেধ। কিন্তু অনেক সময় সালাম ফিরিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখি, আমার সোজা পিছনে একজন নামায আদায় করছে। এমতাবস্থায় আমি তার সামনে থেকে সরে যেতে পারব কি? এক্ষেত্রেও নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার গুনাহ হবে কি?

উত্তর

কেউ যদি নামাযীর বরাবর সামনে থাকে তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ আছে। এটা নামাযের সামনে দিয়ে অতিক্রম করার অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে বিনা প্রয়োজনে এমন না করা উচিত। কেননা, এতে তার মনোযোগ নষ্ট হতে পারে। আবার কেউ তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করারও আশংকা রয়েছে।

সহীহ ইবনে হিব্বান ৬/১২৯; ইলাউস সুনান ৫/৮২; ফাতহুল বারী ১/৬৯৮; উমদাতুল ফিকহ ২/১৩৫; তুহফাতুল আহওয়াযী ২/২৫৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬৩৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৪৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

অনেকে বলে মাজারকে কবর বলা যাবে না। এতে করে ওলি...

প্রশ্ন

অনেকে বলে মাজারকে কবর বলা যাবে না। এতে করে ওলি আল্লাহদের অসম্মান হয়। আসলে কবর ও মাজারের পার্থক্য কী? কবরকে মাজার শরীফ ও মাজার শরীফকে কবর বলা যাবে কি? মাজার শরীফের উৎপত্তি কখন এবং কোথা হতে? আওলিয়ায়ে কিরামের মাজারকে কবর বললে তাদেরকে অসম্মান করা হয় কি না? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকে রওজা শরীফ বলা হয় কেন? মাজারকে সিজদা করা, চুমু দেওয়া, মাজারকে ভক্তি দেখিয়ে পিছন হয়ে বের হওয়া, মাজারে গিলাফ চড়ানো এবং মাজারের মধ্যে টাকা-পয়সা ফেলা, মাজারের সামনে গাছের গোড়ায় মোমবাতি জ্বালানো, আগরবাতি জ্বালানো, গোলাপ জল ছিটানো শরীয়তসম্মত কি না? না হলে ওলি আল্লাহদের মাজার বা কবরকে শ্রদ্ধা, ভক্তি ও যিয়ারতের পদ্ধতি কী? কুরআন-হাদীসের আলোকে দলিলসহ বিস্তারিত জানালে দ্বীন পালনে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

উত্তর

কবর শব্দের অর্থ দাফনস্থল অর্থাৎ যে স্থানে মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়। আর মাযার শব্দের অর্থ দুটি : যিয়ারত করা এবং যিয়ারত স্থল। তাই যে কোনো মুসলমানের দাফনস্থলকে যেমন কবর বলা যায় তেমনি যে কোনো মুসলমানের কবরকে আভিধানিক অর্থে মাযারও বলা যায়। কেননা, সকল মুসলমানের কবরই যিয়ারত করা বৈধ। বুযুর্গ, নেককার ও ওলিদের দাফনস্থলকে কবর বলা যাবে না এমন কোনো বিধান শরীয়তে নেই। ওলি-বুযুর্গদের কবরের জন্য কুরআন-হাদীসে কোথাও মাযার শব্দ ব্যবহার হয়নি। হাদীসে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ নবীদের দাফনস্থলকেও কবর বলা হয়েছে। এমনকি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবরকেও কবর শব্দেই উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, সহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ‘ইহুদী ও নাসারাদের উপর আল্লাহর লা’নত, কারণ তারা তাদের নবীদের কবরগুলোকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। (সহীহ বুখারী ১/১৮৬) এই হাদীসে নবীদের দাফনস্থলকে কবর বলা হয়েছে।

অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের ব্যাপারেই বলেন, আমার কবরকে তোমরা উৎসবের স্থান বানিও না। (সুনানে আবু দাউদ ১/২৭৯)

সুতরাং বোঝা গেল, যত সম্মানিত ব্যক্তিই হোক তার দাফনস্থলকে কবর বলা দোষণীয় নয়। তাই ওলি-বুযুর্গদের দাফনস্থলকেও কবর বলা যাবে।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাফনস্থলকে রওযা বলার কারণ হল, রওযা শব্দের অর্থ বাগান। এখানে রওযা দ্বারা উদ্দেশ্য, ‘জান্নাতের একটি বাগান।’

যেহেতু তাঁর কবরটি জান্নাতের নেয়ামতে ভরপুর একটি পবিত্র বাগান। তাই এ অর্থে তাঁর কবরকে ‘রওযা আতহার’ (পবিত্র বাগান) বলা হয়।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গ হচ্ছে কবরের সঙ্গে কৃত আচরণ

কবর ইবাদত বা উপাসনার স্থান নয়। কবর সংক্রান্ত যে সব বিষয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন (যথা যিয়ারত, সালাম ও দুআ) সেগুলো ছাড়া অন্য কোনো কিছু করা বৈধ নয়। কবরকে সিজদা করা, চুমু খাওয়া, তাতে বাতি জ্বালানো-এগুলো বড় গুনাহ ও শিরকী কাজ। এ বিষয়ে শরীয়তের অনেক দলীল রয়েছে। নিম্নে এ সংক্রান্ত কয়েকটি হাদীস বরাতসহ পেশ করা হল।

সহীহ মুসলিমের এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী কতক উম্মত নিজ নবী ও বুযুর্গদের কবরকে সিজদার স্থান বানিয়েছে। সাবধান! তোমরা কবরকে সিজদার স্থান বানাবে না। আমি তোমাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করছি। (সহীহ মুসলিম ১/২০১)

অন্য এক হাদীসে কবরের উপর যারা বাতি জ্বালায় তাদের উপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন। (সুনানে তিরমিযী ১/৭৩)

আরেক হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা.কে এই ফরমান দিয়ে পাঠালেন যে, কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সমান করে দিবে এবং কোনো মূর্তি দেখলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবে। (জামে তিরমিযী ১/২০৩)

ফিকহে ইসলামীর প্রসিদ্ধ কিতাব তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ পৃ. ৩৪১ বলা হয়েছে, কবর মুছবে না, কবরে চুমু দিবে না এবং কবরকে স্পর্শ করবে না। কেননা, এটা নাসারাদের রীতি। (সামনে এ সংক্রান্ত আরো বরাত উল্লেখ করা হয়েছে।)

উল্লেখ্য কবরে চুমু খাওয়া, সিজদা করা, তাওয়াফ করা, কবরের উপর ইমারত বানানো, গিলাফ চড়ানো, মোমবাতি-আগরবাতি জ্বালানো ইত্যাদি একদিকে যেমন শরীয়তের দৃষ্টিতে গর্হিত কাজ, অপরদিকে তা কবরবাসী ওলীদের প্রতি চরম অবিচার। কেননা, তাঁরা পুরো জীবন শিরক-বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন অথচ মৃত্যুর পর তাদরে প্রতি ভক্তি নিবেদনের নামে ওই সব কাজ-ই করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে সাহাবা, তাবেয়ীন এবং ওলি-বুযুর্গদের পথ-নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের ঈমান-আমল ঠিক করা, তাওহীদ ও সুন্নাহ্কে আঁকড়ে ধরা এবং শিরক-বিদআত ও সকল প্রকার কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমেই তাদেরকে প্রকৃত সম্মান করা যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন।

কবর যিয়ারতের মাসনূন তরীকা

কবর যিয়ারতের সুন্নত তরীকা হচ্ছে কবরের কাছে গিয়ে সালাম দিবে।

এরপর কবরকে পিছনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাড়িয়ে নিজের জন্য এবং কবরবাসীর জন্য মাগফিরাতের দুআ করবে। এছাড়া কুরআন মজীদ থেকে কিছু অংশ তেলাওয়াত করে কবরবাসীর জন্য ইসালে ছওয়াব করা যেতে পারে।- দেখুন :

(কবর অর্থ :) লিসানুল আরব ১১/৯; আলকামুসুল মুহীত ২/১৬০; তাজুল আরূস ৩/৪৭৮; তাহযীবুল লুগাহ ৭/১৪৮ মাযার অর্থ : লিসানুল আরব ৬/১১১; তাজুল আরূস ৩/২৪৫; (দাফনস'লকে কবর বলা :) সহীহ বুখারী ১/১৮৬; সহীহ মুসলিম ১/২০১; মুসনাদে আহমদ ২/২৪৬, ৩৬৭; কবরকে রওযা বলা : জামে তিরমিযী ২/৭৩; (কবরে নিষিদ্ধ কার্যাবলি :) সহীহ বুখারী ১/১৮৬; সহীহ মুসলিম ১/২০১; জামে তিরমিযী ১/৭৩; সুনানে নাসাঈ ১/২২২; সুনানে আবু দাউদ ২/৪৬১; সহীহ ইবনে হিব্বান ৭/৪৫২-৪৫৪; রূহুল মাআনী ৮/২৩৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৩৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২৯৮; হাশিয়া তাহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ৩৪১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৭; আননাহরুল ফায়েক ২/৪২; ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৬/৩৭২; মাদখাল ইবনুল হাজ ৩/২৭৩-২৭৪; ইগাছাতুল লাহফান ১/২২২ (কবর যিয়ারতের সঠিক পদ্ধতি :) সহীহ মুসলিম ১/৩১৩; শরহু মুসলিম নববী ৭/৪৩; হিলইয়াতুল আওলিয়া ১/১৬৯; শরহুস সুদূর পৃ. ৩১১; রদ্দুল মুহতার ২/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৫-১৯৬; ইলাউস সুনান ৮/৩৩০-৩৪৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২৩২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

লোকমুখে শোনা যায় যে, আহার অবস্থায় সালাম দেওয়া ঠিক নয়।...

প্রশ্ন

লোকমুখে শোনা যায় যে, আহার অবস্থায় সালাম দেওয়া ঠিক নয়। এমনিভাবে আগন্তুক এসে ঘরের লোকজনকে আহার অবস্থায় পেলে সালাম দিতে হয় না। প্রশ্ন হল, এই প্রচলিত কথাগুলো কি সঠিক?

উত্তর

আহারকারী অন্যকে সালাম দিতে পারবে। এ সময় অন্যকে সালাম দেওয়া নিষিদ্ধ নয়। তদ্রূপ আহারকারীকেও সালাম দেওয়া বৈধ। তবে এ সময় সালাম দেওয়া যদি তার কষ্ট বা বিরক্তির কারণ হয় তাহলে সালাম দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা, এমন হলে সে অবস্থায় সালাম দেওয়া মাকরূহ হবে।

রদ্দুল মুহতার ১/৬১৭, ৬/৪১৫; আলমাজমূ’ ৪/৪৬৯; ফাতহুল বারী ১১/১৯-২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৫২২০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একটি দোকানে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। তখন জামাতের সময় হয়ে...

প্রশ্ন

একটি দোকানে আমরা কয়েকজন উপস্থিত ছিলাম। তখন জামাতের সময় হয়ে গেলে আমাদের একজন দোকানদারকে নামাযের দাওয়াত দিল। আমরা জানি সে মুসলমান। কিন্তু সে উত্তরে বলল, আমি নামায পড়ব না। আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু। তাকে বলা হল, আপনি এটা কেমন কথা বলছেন? সে আরো জোরের সঙ্গে বলল, হাঁ, আমি হিন্দু। যান, যান। প্রশ্ন হল, এ কথা বলার পর সে মুসলমান থাকবে কি না?

উত্তর

‘আমি মুসলমান না, আমি হিন্দু’ এ ধরনের বাক্য কুফরী কথার অন্তর্ভুক্ত। স্বেচ্ছায় কেউ এমন কথা বললে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব এ কথা বলার কারণে ঐ ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে গেছে। বিবাহিত হলে বিবাহ ভেঙ্গে গেছে। অতএব এক্ষুণি কালিমা শাহাদাত পড়ে ঈমান আনতে হবে এবং বিয়েও দোহরিয়ে নিতে হবে।

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৫/৪৫৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৫৭, ২৬৮ ও ২৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.