Login | Register

ফতোয়া: আদব-ব্যবহার

ফতোয়া নং: ৬৭৩৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

বিতর নামায আমরা কোন নিয়মে পড়ব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

প্রশ্ন

বিতর নামায আমরা কোন নিয়মে পড়ব? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

বিতর নামায তিন রাকাত। ওয়াজিব। যা এশার পর থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়। তা আদায়ের নিয়ম স্বাভাবিক নামাযের মতই। তবে এতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যেমন এর প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মিলানো ওয়াজিব। দ্বিতীয় রাকাত শেষে বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পর্যন্ত পড়বে। এরপর তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাবে। তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহার সাথে অন্য সূরা মিলানোর পর আল্লাহু আকবার বলে দুই হাত উঠাবে। এরপর দুই হাত বেঁধে দুআ কুনূত পাঠ করবে, অতপর যথানিয়মে নামায শেষ করবে।

বিতর নামায আদায়ের উক্ত পদ্ধতি ও বিবরণ বিশুদ্ধ হাদীস ও আসার দ্বারা প্রমাণিত। যেমন :

এক. সহীহ মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদীসে ইবনে আব্বাস রা. বলেন, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট রাত্রিযাপন করলেন। রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে মিসওয়াক, ওযু করে দীর্ঘ কেরাত ও রুকু-সিজদার সাথে দুই রাকাত নামায আদায় করলেন। অতপর তিনি পুনরায় নিদ্রা যাপন করলেন। এরূপভাবে তিনবারে তিনি ছয় রাকাত আদায় করলেন অতপর তিন রাকাত বিতর আদায় করলেন। Ñসহীহ মুসলিম, ১/২৬১

দুই. আয়েশা রা. হতে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতরের দুই রাকাত শেষে সালাম ফেরাতেন না। Ñসুনানে নাসায়ী ১/২৪৮

তিন. উবাই ইবনে কা‘ব রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাত বিতির পড়তেন। প্রথম রাকাতে সূরা আ‘লা, দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফিরূন ও তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। এবং রুকুর পূর্বে দুআ কুনত পড়তেন...। Ñসুনানে নাসায়ী, হাদীস ১৬৯৯; শরহু মুশকিলিল আসার ১১/৩৬৮

চার. উবাই বিন কাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়তেন এবং রুকুর পূর্বে কুনূত পড়তেন। Ñসুনানে ইবনে মাজাহ,হাদীস ১১৮২; উমদাতুল ক্বারী ৭/১৯

পাঁচ. সাবেত আল বুনানী রাহ. বলেন, আমি আনাস রা.-এর ঘরে রাত্রি যাপন করেছি এবং তার সাথে নামায পড়েছি। তাঁকে দেখেছি রাতে দুই রাকাত করে নামায পড়েছেন এবং সবশেষে মাগরিবের নামাযের মত তিন রাকাত বিতর পড়লেন। Ñমুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস ৪৬৩৬

ছয়. সুফিয়ান সাওরী রাহ. বলেন, তারা (অর্থাৎ তাবেয়ীগণ) তিন রাকাত বিতরের প্রথম রাকাতে সূরা আ‘লা পড়তেন দ্বিতীয় রাকাতে সূরা কাফীরুন পড়তেন। তারপর বসে তাশাহহুদ পড়ে আবার উঠে দাঁড়াতেন এবং তৃতীয় রাকাতে সূরা ইখলাস পড়তেন। Ñসালাতুল বিতর লিল মারওয়াযী পৃ. ২৭৯

সাত. আসওয়াদ রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কেবল বিতর নামাযেই কুনূত পড়তেন। তিনি রুকুর আগে কুনূত পড়তেন, কেরাআত শেষ করে কুনূতের জন্য তাকবীর বলতেন। Ñশরহু মুশকিলুল আছার ১১/৩৭৪

মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় আরো এসেছে যে, তিনি কুনূতের জন্য হাত উঠাতেন। Ñহাদীস ৭০২৭; জুযউ রাফইল ইয়াদাইন, ইমাম বুখারী, ৬৮-৬৯

আট. আসেম রাহ. বলেন আমি আনাস রা. কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেছেন, কুনূত পড়ার বিধান রয়েছে। এরপর আমি জিজ্ঞাসা করলাম রুকুর পরে না রুকুর আগে? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আমি বললাম, অমুক আমাকে বলেছে, আপনি নাকি রুকুর পরে কুনূত পড়ার কথা বলেন। তিনি বললেন, সে ভুল বলেছে। রুকুর পরে নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামশুধু একমাস কুনূত পড়েছিলেন। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ১০০২

উলে­খ্য যে, বিতর নামাযে দুআ কুনূত পাঠ করা ওয়াজিব। আর হাদীসে বর্ণিত দুআই কুনূতের জন্য পাঠ করা উত্তম।

বি. দ্র. মাসিক আল কাউসারের মে/জুন/জুলাই-আগষ্ট ২০১০ সংখ্যায় বিতর নামায সম্পর্কে বিস্তারিত প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে। প্রয়োজনে তা দেখা যেতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৭০৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি যখন মুসাফির অবস্থায় থাকব তখন জামাতে নামায আদায় করা...

প্রশ্ন

আমি যখন মুসাফির অবস্থায় থাকব তখন জামাতে নামায আদায় করা যাবে কি? যদি যায় তাহলে আমি যদি ইমামের সাথে শেষ দুই রাকাত পাই তাহলে কি বাকি দুই রাকাত আদায় করতে হবে? মুসাফির হিসেবে তো আমি ইমামের সাথে দুই রাকাত পেয়েই গেছি। মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

মুসাফিরের জন্য স্বাভাবিক অবস্থায় জামাতের সাথে নামায আদায় করাই নিয়ম। সফরের কোনো তাড়া না থাকলে মুসাফির জামাতেই নামায পড়বে। আর মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার রাকাতই পড়া জরুরি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ইমামের পিছনে পুরো চার রাকাত না পেলেও মাসবুকের ন্যায় ছুটে যাওয়া রাকাতগুলো ইমামের সালামের পর আদায় করে নিতে হবে। নতুবা নামায হবে না।

উল্লেখ্য, মুসাফিরের জন্য চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামায দুই রাকাত পড়ার হুকুম কেবল তখনই যখন সে একাকী নামায পড়বে বা নিজে ইমামতি করবে কিংবা অন্য কোনো মুসাফির ইমামের পিছনে ইক্তিদা করবে। মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে ইমামের অনুসরণে তার উপরও চার রাকাত আদায় করা আবশ্যক হয়ে যায়।

-তাবয়ীনুল হাকাইক ১/৫১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৯৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের বাড়ির পাশেই এক হিন্দুর বাড়ি। খুব গরীব মানুষ তারা।...

প্রশ্ন

আমাদের বাড়ির পাশেই এক হিন্দুর বাড়ি। খুব গরীব মানুষ তারা। কুরবানীর সময় যখন গরীবদেরকে গোশত বণ্টন করি তখন সেও কখনো কখনো গোশত চায়। আর না চাইলেও সে যেহেতু আমাদের পাশেই থাকে আবার গরীব মানুষ তাই না দিতেও খারাপ লাগে। তাই আমি জানতে চাই ঐ হিন্দুকে কুরবানীর গোশত দেওয়া যাবে কি না?

উত্তর

কুরবানীর গোশত অমুসলিমদের দেওয়া জায়েয আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি আপনার পড়শী হিন্দুকে কুরবানীর গোশত দিতে পারবেন।

Ñইলাউস সুনান ১৭/২৫৮; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩০০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৮৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমরা হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি, ইহরাম করার আগে দুই রাকাত...

প্রশ্ন

আমরা হজ্বের বিভিন্ন বইয়ে পড়েছি, ইহরাম করার আগে দুই রাকাত নফল নামায পড়া সুন্নাত। কিন্তু কিছুদিন আগে এক ভাই থেকে শুনলাম, ইহরামের আগে কোনো নামায নেই। বরং তা বিদআত। কথাটি শোনার পর বিভ্রান্তিতে পড়ে যাই। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী? দলীল প্রমাণসহ জানতে চাই।

উত্তর

একাধিক হাদীসে নামাযের পর ইহরাম করার কথা এসেছে। অতএব ফরয নামায আদায় করলে এরপর ইহরাম করবে নতুবা ইহরামের উদ্দেশ্যে দুই রাকাত নফল নামায পড়ে এরপর ইহরাম করবে। এটিই সুন্নত। সহীহ বুখারীতে আছে, উমর রা. বলেন, আকীক নামক স্থানে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আজ রাতে আমার রবের পক্ষ থেকে আগমনকারী (অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালাম) এসেছিলেন। তিনি আমাকে বললেন, এই বরকতময় স্থানে নামায পড়ুন এবং বলুন, আমি হজ্বের সাথে উমরার ইহরাম করলাম। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ১৫৩৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ্বের বিবরণ সম্বলিত হাদীসগুলোতেও আছে,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলাইফাতে দুই রাকাত নামায পড়ার পর ইহরাম করেছিলেন। Ñদেখুন সহীহ মুসলিম, হাদীস ১১৮৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ৮১৯

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে এক বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুলহুলাইফার মসজিদে দুই রাকাত নামায পড়ার পর ঐ মজলিসেই হজ্বের ইহরাম করেছিলেন। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৭৭০; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৬৯৯

প্রকাশ থাকে যে, এই মাসআলায় চার মাযহাবের সিদ্ধান্ত এক ও অভিন্ন। ইমাম নববী রাহ.“আল মাজমূ শরহুল মুহাযযাব” লিখেছেন, ইহরাম করার সময় দুই রাকাত নামায পড়া উত্তম। এ ব্যাপারে সবার ঐকমত্য রয়েছে। Ñআলমাজমূ ৭/২৩২

সুতরাং ইহরামের পূর্বের নামাযকে বিদআত বলা সম্পূর্ণ ভুল ও মনগড়া কথা।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৮০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

ক) নামাযে ইমাম রুকুতে থাকলে আগত মুক্তাদির করণীয় কী? এ...

প্রশ্ন

ক) নামাযে ইমাম রুকুতে থাকলে আগত মুক্তাদির করণীয় কী? এ সময় মুক্তাদি হাত বাঁধবে কি?

খ) ইমামের শেষ বৈঠকে মাসবুকের করণীয় কী? মাসবুক কি কিছু পড়বে? বিস্তারিত জানালে খুব উপকার হত।

উত্তর

ক) প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি দাঁড়ানো অবস্থায় তাকবীরে তাহরীমা বলে নামাযে শরিক হবে। অতপর আবার তাকবীর বলে রুকুতে যাবে। এক্ষেত্রে তাকবীরে তাহরীমার পর হাত বাঁধবে না এবং সানাও পড়বে না। Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ২৫২৮; ফাতাওয়ায়ে খানিয়া ১/৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৪৮৭; শরহুল মুনয়াহ ৩০১

খ) মাসবুক ব্যক্তি ইমামের শেষ বেঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়বে এবং কিছুটা ধীর গতিতে পড়বে। যাতে ইমাম সালাম ফেরানো পর্যন্ত তাশাহহুদ পড়া চলতে থাকে। আর যদি ইমামের সালামের আগে তাশাহহুদ শেষ হয়ে যায় তাহলে এক্ষেত্রে বাকি সময় তাশাহহুদের শেষে যে কালিমায়ে শাহাদাত আছে তা বার বার পড়তে থাকবে।Ñমুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস ৩০৯১; ফাতওয়া খানিয়া ১/১০৩; ইমদাদুল মুফতীন ২৯৬;আদ্দুররুল মুখতার ১/৫১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের এলাকায় বহুল প্রচলিত একটি বিষয় সম্পর্কে হুযুরের নিকট জানতে...

প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় বহুল প্রচলিত একটি বিষয় সম্পর্কে হুযুরের নিকট জানতে চাই। দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

সাধারণ লোকজন কবর ও মাযারের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতের ইশারায় বা কবরের দেয়াল স্পর্শ করে কবরবাসীকে সালাম দিতে দেখা যায়। এভাবে সালাম দেওয়ার প্রচলন শরীয়তসম্মত কি না?

উত্তর

কবরবাসীকে সালাম দেওয়া এবং যিয়ারত করার পদ্ধতি হাদীসে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে। সে পদ্ধতি ছাড়া কবরবাসীর সাথে অন্য কোনো আচরণ বৈধ নয়। হাতের ইশারায় কিংবা কবরের দেয়াল ছুঁয়ে সালাম দেওয়া এবং কবরকে চুমু দেওয়া বিদআত ও নাজায়েয।

কবরবাসীকে সালাম দেওয়ার সহীহ পদ্ধতি বিভিন্ন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা রা. বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে বাকী, কবরস্থানে যেতেন এবং বলতেন-

السلام عليكم دار قوم مؤمنين، وإنا إن شاء الله بكم لاحقون.

(অর্থ :) হে মুমিন কবরবাসী! তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরাও তোমাদের সাথে মিলিত হব। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৪৯

অন্য হাদীসে এসেছে, সুলায়মান রাহ. তার পিতা বুরায়দা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিতেন, তারা যখন কবরস্থানে যাবে কবরবাসীকে যেন এভাবে সালাম দেয়-

السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللَّهُ بِكُمْ لَاحِقُونَ، نَسْأَلُ اللَّهَ لَنَا وَلَكُمُ الْعَافِيَةَ

(অর্থ:) হে মুমিন ও মুসলিম কবরবাসী! আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমরাও ইনশাআল্লাহ আপনাদের সাথে মিলিত হব। আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি তিনি যেন আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে শান্তি দান করেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৫৪৭

অতএব হাদীসে বর্ণিত নিয়মেই কবরবাসীকে সালাম দিতে হবে। হাতের ইশারায় বা কবর ছুঁয়ে সালাম দেওয়া যাবে না।

-ফাতহুল কাদীর ২/১০২; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৬; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/২১৯; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ্জ ১/২৫৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৫৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কোনো কোনো ব্যক্তিকে সালাম দিলে তারা মুখে জবাব দেন না;...

প্রশ্ন

কোনো কোনো ব্যক্তিকে সালাম দিলে তারা মুখে জবাব দেন না; বরং মাথা কিংবা হাত নাড়িয়ে সালামের উত্তর দেন। প্রশ্ন হল, এভাবে ইশারার মাধ্যমে সালামের জবাব দেওয়া কি শরীয়তসম্মত? আশা করি উত্তর জানাবেন।

উত্তর

শুধু ইশারার মাধ্যমে সালামের আদান-প্রদান করা শরীয়তসম্মত নয়। সালাম আদান-প্রদানের সঠিক পদ্ধতি হল, মৌখিকভাবে দেওয়া। সালাম কোন শব্দে দিবে এবং কীভাবে দিবে তা একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং এ ব্যাপারে কুরআন কারীমেও নির্দেশনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, (তরজমা) যখন তোমাদেরকে সালাম দেওয়া হয় তোমরা জবাব দাও তার চেয়ে উত্তম পন্থায় অথবা উত্তরে তাই বল। -সূরা নিসা ৪ : ৮৬

সুতরাং মুখে জবাব না দিয়ে শুধু ইশারা করলে সালামের উত্তর আদায় হবে না। এছাড়া সালামদাতা নিকটে থাকলে তাকে শুনিয়ে জবাব দেওয়া ওয়াজিব। অবশ্য সালামদাতা যদি বধির হয় কিংবা দূরে থাকে তাহলে মুখে উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি ইশারার মাধ্যমেও জবাবের কথা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৬২২৭; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৮;আল আরফুশ শাযী ৪/১৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬৩০
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

জনৈক ব্যক্তি এক নামাযে মাসবূক হল এবং শেষ বৈঠকে ইমামের...

প্রশ্ন

জনৈক ব্যক্তি এক নামাযে মাসবূক হল এবং শেষ বৈঠকে ইমামের পিছনে ভুলবশত তাশাহহুদের অতিরিক্ত পড়ে ফেলল। উক্ত ব্যক্তির উপর নামায শেষে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে কি না?

উত্তর

মাসরূক ব্যক্তি ইমামের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের অতিরিক্ত পড়ে ফেললে তার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। তবে ইচ্ছাকৃত তাশাহহুদের অতিরিক্ত না পড়াই ভালো। এক্ষেত্রে তাশাহহুদ ধীরে ধীরে পড়বে। যেন তাশাহহুদ শেষ হতে হতে সালামের সময় হয়ে যায়।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫১১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬১২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

হিন্দুদের সালামে কী বলব?

প্রশ্ন

হিন্দুদের সালামে কী বলব?

উত্তর

কোনো হিন্দু বা বিধর্মী সালাম দিলে জবাবে শুধু ‘‘ওয়া আলাইকুম’’ বলবেন। হাদীস শরীফে এসেছে, আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করেন, কয়েকজন সাহাবী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, আহলে কিতাব আমাদেরকে সালাম দিয়ে থাকে। আমরা তাদেরকে কীভাবে এর উত্তর দিব?তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা ‘‘ওয়া আলাইকুম’’ বলবে।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৩৪; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬১১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

অনেক সময় আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে একসাথে সালাম...

প্রশ্ন

অনেক সময় আমরা সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে একসাথে সালাম দিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কী? একজন আলেম বলেছেন, এমন হলে উভয়কেই উত্তর দিতে হবে। তার কথাটি কি ঠিক? আর যেক্ষেত্রে একটু আগ-পর করে সালাম দেওয়া হয় সেক্ষেত্রেও কি উভয়কে উত্তর দিতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত আলেম ঠিকই বলেছেন। দুজন পরস্পরকে একসাথে সালাম দিলে প্রত্যেককে অন্যের সালামের জবাব দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে কারো সালাম আগে হলে পরবর্তী জনের সালাম জবাব হিসেবে ধর্তব্য হবে। উল্লেখ্য, সালামের ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয় হল, কেউ সালাম দিলে (তিনি বড় ব্যক্তি হোন বা ছোট) অপর ব্যক্তি স্পষ্টভাবে শুনিয়ে সালামের জবাব দিবে। এক্ষেত্রে পাল্টা তাকে আবার সালাম দেওয়া নিয়ম পরিপন্থী কাজ।

-সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৮৪১; শরহে মুসলিম, নববী ১৭/১৭৮; মিরকাতুল মাফাতীহ ৮/৪৫৪, ৮/৪৬৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৭৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৬০২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন লাইব্রেরির মাঝে এভাবে চুক্তি হয়ে থাকে...

প্রশ্ন

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন লাইব্রেরির মাঝে এভাবে চুক্তি হয়ে থাকে যে, ঢাকার লাইব্রেরি মালিক চট্টগ্রামের লাইব্রেরি মালিককে বলে, প্রেস থেকে বই ছেপে আসলে আপনাকে ৪০% কমিশনে বই দিব। এখন আমাকে বইয়ের অগ্রিম মূল্য দিয়ে দেন। তখন চট্টগ্রামের লাইব্রেরির মালিকগণ বইয়ের অগ্রিম মূল্য দিয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে আরো একটি লেনদেন হয়ে থাকে। তা এই যে, চট্টগ্রামের লাইব্রেরি মালিকগণ বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে এই বলে টাকা নিয়ে থাকে যে, ঢাকায় অমুক লাইব্রেরি থেকে ৪০% কমিশনে বই কিনতে চাচ্ছি। এখন আমাকে বইয়ের অগ্রিম মূল্য দিতে হচ্ছে। আপনি আমাকে টাকা দেন যেন আমি বইয়ের অগ্রিম মূল্য পরিশোধ করতে পারি। বই কেনার পর আপনার টাকার সাথে ১০% কমিশন পরিমাণ অতিরিক্ত টাকা আপনাকে দিব।

এখন আমার প্রশ্ন হল, উল্লেখিত লেনদেন দুটি শরীয়তসম্মত কি না? যদি শরীয়তসম্মত না হয় তাহলে কিভাবে শরীয়তসম্মত হবে?

উত্তর

ঢাকার লাইব্রেরির সাথে চট্টগ্রামের লাইব্রেরি মালিকের উক্ত চুক্তিটি বাই সালাম অর্থাৎ আগাম ক্রয় লেনদেনের অন্তর্ভুক্ত। তাই চুক্তিটি সহীহভাবে করার জন্য বইয়ের পুরো মূল্য চুক্তির সময়ই দিয়ে দিতে হবে এবং বইয়ের মান, পরিমাণ ও ধরন এবং বই হস্তান্তরের তারিখ চুক্তির সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। তাহলে এ লেনদেন জায়েয হবে। মোটকথা বাই সালামের যাবতীয় শর্ত এক্ষেত্রে পাওয়া যেতে হবে। কিন্তু এ চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতার জন্য কারো থেকে এ ভিত্তিতে টাকা নেওয়া জায়েয হবে না যে, তাকে এর বিনিময়ে প্রাপ্ত বইয়ের ১০% বা কিছু কমিশন দেওয়া হবে। কেননা কমিশন দেওয়ার শর্তে কারো থেকে টাকা নেওয়া সুদী লোনের অন্তর্ভুক্ত, যা সম্পূর্ণ হারাম।

উপরোক্ত পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ক্রেতা কারো থেকে বিনিয়োগ নিতে চাইলে তাকে বই ক্রয়ে শরিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে উভয়ে নিজ নিজ মূলধন অনুযায়ী বইয়ের মালিক হবে। বই হস্তগত হওয়ার পর তা বিক্রি করে অর্জিত লাভ তারা চুক্তি অনুযায়ী ভাগ করে নিবেন। আর লোকসান হলে তা মূলধনের অনুপাতে ভাগ হবে।

উল্লেখ্য যে, এক্ষেত্রে শরিক নিজের অংশ অপর শরিককে বিক্রি করে দিতে পারবে। তবে এই ক্রয়-বিক্রয় অবশ্যই বই হস্তগত করার পর হতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১২৪; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১৭৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬০; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যাহ, মাদ্দাহ : ১৩৬৭, ১৩৬৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের সমাজে নারীদেরকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জন্য শোক প্রকাশার্থে...

প্রশ্ন

আমাদের সমাজে নারীদেরকে স্বামীর মৃত্যুর পর তার জন্য শোক প্রকাশার্থে সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়। তাছাড়া বিধবা নারীদের সাদা কাপড় পরিধান করার প্রচলন প্রায় সব অঞ্চলেই আছে। অনেকে এটিকে শুধু একটি সামাজিক প্রথা মনে করে থাকে। আবার অনেকে এটিকে শরীয়তের বিধান মনে করলেও এ ব্যাপারে এতটা যত্নশীল নয়। তদ্রূপ অনেকে এসব বিষয়কে কুসংস্কার বলেও মন্তব্য করে থাকে।

জানার বিষয় হল, আসলে এ বিষয়ে শরীয়তের নির্দেশনা কী? স্বামীর মৃত্যুর পর একজন স্ত্রীর এ ব্যাপারে করণীয় কী?

উত্তর

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর ইদ্দতকালীন সময় (অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত অন্যথায় ৪ মাস ১০ দিন) সব ধরনের সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা ওয়াজিব বিধান।

সহীহ বুখারীতে উম্মে হাবীবা রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী কোনো নারীর জন্য তার স্বামী ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যুতে তিনদিনের বেশি সময় হিদাদ (শোক করা ও সাজসজ্জা থেকে বিরত থাকা) বৈধ নয়। আর স্বামীর মৃত্যুতে ৪ মাস ১০ দিন হিদাদ পালন করবে।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৫৩৩৪

উম্মে সালামা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে স্ত্রী লোকের স্বামী মৃত্যুবরণ করে সে যেন ইদ্দতকালীন সময়ে রঙিন এবং কারুকার্যমণ্ডিত কাপড় ও অলংকার পরিধান না করে। আর সে যেন খিযাব ও সুরমা ব্যবহার না করে।-সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ২২৯৮

আল্লামা কুরতুবী রাহ. তার বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থ ‘আলজামে লিআহকামিল কুরআন’ও ইদ্দত সংক্রান্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, হিদাদ পালনের অর্থ হল, মহিলা তার ইদ্দতকালীন সুগন্ধি, সুরমা, মেহেদি,অলঙ্কারাদিসহ পোশাক-আশাকের ক্ষেত্রে যাবতীয় সাজসজ্জা ত্যাগ করবে। -আল জামে’ লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ৩/১১৮

সুতরাং কোনো মহিলার স্বামী মারা যাওয়ার পর ৪ মাস ১০ দিন অথবা অন্তঃসত্ত্বা হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত যে কোনো ধরনের সাজসজ্জা যা উৎসবাদিতে পরা হয় এমন চাকচিক্যপূর্ণ পোশাক পরিধান করা,সুগন্ধি ও অন্যান্য সাজসজ্জার প্রসাধনী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তদ্রƒপ মেহেদি লাগানো, সুরমা দেওয়া থেকেও বিরত থাকা আবশ্যক। অবশ্য ব্যবহৃত রঙিন কাপড় যদি চাকচিক্যপূর্ণ না হয় তাহলে তা পরিধান করতে কোনো অসুবিধা নেই।

ইদ্দত অবস্থায় সাদা কাপড় পরা আবশ্যক নয়। বরং সাদা কাপড় পরিধান করাকে জরুরি মনে করা ঠিক নয়।

প্রকাশ থাকে যে, ইদ্দত অবস্থায় মহিলার জন্য সাজগোজ ত্যাগ করার বিধান একাধিক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে হাদীসে অত্যন্ত গুরুত্ব এসেছে। এটি শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। সুতরাং একে সামাজিক প্রথা বা কুসংস্কার মনে করা অন্যায়। বরং আল্লাহ এবং পরকালে বিশ্বাসী সকল মুসলমানের উচিত উক্ত বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। নারীদের কর্তব্য উক্ত বিধান পালনে যত্নশীল হওয়া।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৬/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৩০-৫৩২; মিরকাতুল মাফাতীহ ৬/৪৫২; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/২৩১; বাদায়েউস সানায়ে ৩/৩৩০; ফাতহুল বারী ৯/৪০১, ৩৯৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি জানি যে, হানাফী মাযহাবে ফজরের নামায ফর্সা হওয়ার পর...

প্রশ্ন

আমি জানি যে, হানাফী মাযহাবে ফজরের নামায ফর্সা হওয়ার পর আদায় করা উত্তম। তাই আমাদের মসজিদেও দেরি করে ফজরের নামায শুরু হয়ে থাকে। কখনও কখনও সালাম ফেরানোর পর দেখি, সূর্য উদয়ের সময় একেবারেই নিকটবর্তী। এত বিলম্ব করে পড়া কি ঠিক? কতটুকু আগে জামাত শুরু করা উচিত। এ বিষয়ে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

সুবহে সাদিকের পর যখন অন্ধকার দূর হয়ে চারদিক ফর্সা হয় তখন ফজরের জামাত আদায় করা উত্তম। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ফজরের নামায ফর্সা করে আদায় কর। কেননা তা অধিক সওয়াবের কাজ। -জামে তিরমিযী, হাদীস : ১৫৪

সুতরাং ফজরের জামাত ফর্সা হওয়ার পরই শুরু করা উত্তম। তবে এতটা বিলম্বে শুরু করবে না যে জামাত শেষ করতেই সূর্যোদয় নিকটবর্তী হয়ে যায়। বরং এমন সময় শুরু করবে যেন কোনো কারণবশত যদি নামায নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সুন্নত-কেরাতসহ আবার স্বাভাবিকভাবে নামায আদায় করা সম্ভব হয়। অর্থাৎ সূর্যোদয়ের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট আগে জামাত শুরু করা উচিত। এর বেশি বিলম্ব করা ঠিক নয়।

-কিতাবুল আছল ১/১২৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৮; ফাতহুল কাদীর ১/১৯৯; শরহুল মুনইয়াহ ২৩২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৮৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

রমযানে বিতরের জামাতে কেউ মাসবুক হলে কী করণীয়? বিস্তারিত জানালে...

প্রশ্ন

রমযানে বিতরের জামাতে কেউ মাসবুক হলে কী করণীয়? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

কোনো ব্যক্তি যদি বিতর নামাযের দ্বিতীয় বা তৃতীয় রাকাতে শরিক হয় তাহলে ইমামের সাথেই দুআ কুনূত পড়ে নিবে। এরপর ছুটে যাওয়া নামায স্বাভাবিক নিয়মে আদায় করবে। অর্থাৎ অন্য নামাযে মাসবুক হলে যেভাবে আদায় করতে হয় সেভাবেই আদায় করবে।

আর যদি তৃতীয় রাকাতের রুকুতে শরিক হয় তাহলে ঐ রাকাতের দুআ কুনূত পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে। তাই এক্ষেত্রেও পরবর্তীতে আর দুআ কুনূত পড়বে না।

আর যদি শেষ রাকাতের রুকু না পায় তাহলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে সাধারণ নিয়মে তিন রাকাত পড়বে এবং তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়বে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩৪৫; আলবাহরুর রায়েক ২/৪১; শরহুল মুনইয়া ৪২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৭৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি একদিন যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম। ভুলে দ্বিতীয়...

প্রশ্ন

আমি একদিন যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম। ভুলে দ্বিতীয় রাকাতের বৈঠকের পর সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? আমাকে কি বাকি দু’রাকাত কাযা করতে হবে?

উত্তর

ভুলে সালাম ফিরিয়ে দিলে নামায ভঙ্গ হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামায পরিপন্থী কোনো কাজ না করে থাকলে দাঁড়িয়ে বাকি দুই রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করত চার রাকাত পূর্ণ করে নিতে পারতেন। কিন্তু আপনি যেহেতু তা পূর্ণ করেননি তাই যে দু’রাকাত পড়া হয়েছে তা আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বাকি দুই রাকাত কাযা পড়তে হবে না। অবশ্য যোহরের পূর্বে চার রাকাত সুন্নত যেহেতু আদায় হয়নি তাই জামাতের আগে সময় থাকলে তা পড়ে নিতে হবে। আর জামাতের আগে সময় না থাকলে জামাত শেষে দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর পূর্বের চার রাকাত পড়ে নিবে।

-কিতাবুল আছল ১/১৩৪; বাদায়েউস সানায়ে ২/৭-৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৫৯; রদ্দুল মুহতার ২/৩২, ২/৫৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৯০; ফাতহুল কাদীর ১/৪১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫৬৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি একজন কাগজ ব্যবসায়ী। দুই সপ্তাহ আগে আমি এক ব্যক্তিকে...

প্রশ্ন

আমি একজন কাগজ ব্যবসায়ী। দুই সপ্তাহ আগে আমি এক ব্যক্তিকে এ শর্তে দুই লক্ষ টাকা দিয়েছি যে, সে দুই মাস পর আমাকে ঐ টাকার বিনিময়ে ৭০ গ্রামের ১০০ রিম অফসেট কাগজ দিবে। এ মুহূর্তে আমার ঐ টাকার প্রয়োজন হলে আরেক ব্যক্তি থেকে এ শর্তে এক লক্ষ টাকা নিয়েছি যে, দুই মাস পর কাগজ হস্তগত হলে তাকে চল্লিশ রিম কাগজ দিব।

জানার বিষয় হল, উপরোক্ত লেনদেন দুটি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দুই মাস পর ৭০ গ্রামের ১০০ রিম অফসেট কাগজ দিবে এ চুক্তিতে অগ্রিম মূল্য দেওয়া সহীহ হয়েছে। এটাকে শরীয়তের পরিভাষায় বাইয়ে সালাম বলা হয়।

কিন্তু দ্বিতীয় ব্যক্তি থেকে আপনার জন্য এ শর্তে টাকা নেওয়া জায়েয হয়নি যে, দুই মাস পর কাগজ হস্তগত হলে সেখান থেকে ৪০ রিম কাগজ দিবেন। কেননা ক্রয়কৃত পণ্য হস্তগত করার আগে তা বিক্রি করা নাজায়েয।

সুতরাং দ্বিতীয় চুক্তিটি বাতিল করে দেওয়া জরুরি।

- সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৫২৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/১৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/১১৯; আমওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ ২৫/২১৮-২১৯; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২১৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৫২৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমার ছোট ভাই মাদরাসায় পড়ে। একদিন ও একাকী বাসায় মাগরিবের...

প্রশ্ন

আমার ছোট ভাই মাদরাসায় পড়ে। একদিন ও একাকী বাসায় মাগরিবের নামায পড়ছিল। তাকে দেখে আমিও তার সাথে নামাযে শরিক হই। কিন্তু আমি নামাযে দাঁড়ানোর পরও সে আগের মতোই আস্তে আস্তে সূরা কিরাত পাঠ করে নামায শেষ করে। সালাম ফেরানোর পর তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আমি তো তোমার ইমামতির নিয়ত করিনি। হুযুরের কাছে জানতে চাই, সে যেহেতু ইমামতির নিয়ত করেনি তাই ঐ দিনের মাগরিবের নামায কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

মুক্তাদির নামায শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইমামের ইমামতির নিয়ত করা আবশ্যক নয়। তাই সে ইমামতির নিয়ত না করলেও আপনার নামায সহীহ হয়েছে। আর প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ছোট ভাই যেহেতু ইমামতির নিয়ত করেনি তাই তার উপর মাগরিবের নামাযে কেরাত জোরে পড়া ওয়াজিব হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনার ছোট ভাইয়ের নিম্নস্বরে কেরাত পড়াটা ভুল হয়নি এবং এ কারণে ইমাম মুক্তাদী কারো নামাযে ত্রম্নটিও হয়নি।

অবশ্য সে যদি আপনার ইক্তিদাকে লক্ষ্য করে ইমামতির নিয়ত করত তবে তখন জোরে কিরাত পড়া আবশ্যক হত।

-শরহুল মুনইয়া ২৫১, ৬১৮; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৩; রদ্দুল মুহতার ১/৫৩২; ইমদাদুল ফাতাওয়া ১/১৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৮৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

হুজুরের কাছে একটি মাসআলা জানতে চাই, অনেক সময় আমি নামাযে...

প্রশ্ন

হুজুরের কাছে একটি মাসআলা জানতে চাই, অনেক সময় আমি নামাযে মাসবুক হই, ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর আগমুহূর্তে গিয়ে জামাতে শরীক হই তখন আমি তাশাহহুদ শেষ না করে উঠে যাই। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমার জন্য কী করা উচিত? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াবো নাকি তাশাহহুদ শেষ না করে ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যাবো?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে দিলেও আপনি তাশাহহুদ শেষ করেই দাঁড়াবেন। অবশ্য তাশাহহুদ শেষ না করে দাঁড়ালেও নামায আদায় হয়ে যাবে। তবে ইচ্ছাকৃত এমনটি করা ঠিক নয়।

-রদ্দুল মুহতার ১/৪৯৬; তাতারখানিয়া ২/১৯২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪৭১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

বেশ কিছুদিন আগে একদিন আসরের নামাযে আমি ও আমার আববু...

প্রশ্ন

বেশ কিছুদিন আগে একদিন আসরের নামাযে আমি ও আমার আববু একসাথে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর বাকি নামায পড়তে যখন দাঁড়ালাম তখন নামায কত রাকাত পেয়েছি, কত রাকাত পড়তে হবে তা আমি ভুলে যাই। আববু আর আমি যেহেতু একই সাথে মাসবুক হয়েছি তাই তখন আববুকে দেখে দেখে বাকি নামায পূর্ণ করলাম। প্রশ্ন হল, আমার উক্ত নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

উত্তর

জী, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার নামায শুদ্ধ হয়েছে। কেননা ছুটে যাওয়া রাকাত সংখ্যা মনে না থাকলে পাশেরজনের প্রতি লক্ষ্য করে নিজের নামায স্মরণ করা এবং সে অনুযায়ী নামায পূর্ণ করা জায়েয আছে। এভাবে নামায পড়লে তা আদায় হয়ে যায়। তাই আপনার নামাযও আদায় হয়ে গেছে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০৪; ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৩; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; শরহুল মুনইয়াহ ৪৬৭

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

যদি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের জামাতে তিন রাকাত ইমামের পিছনে না...

প্রশ্ন

যদি চার রাকাতবিশিষ্ট নামাযের জামাতে তিন রাকাত ইমামের পিছনে না পায় তাহলে অনেককে দেখা যায়, সালাম ফিরানোর পর এক রাকাত পড়ে বৈঠক করে। আবার অনেকে দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করে এবং পরবর্তীতে বাকি নামায যথানিয়মে আদায় করে। এভাবে উভয় সুরতে নামায আদায়ের হুকুম কী? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ছুটে যাওয়া নামাযের মধ্যে প্রথম রাকাত পড়ে বৈঠক করাই সহীহ। দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করার ব্যপারে একটি মত থাকলেও প্রথম মতটিই অধিক গ্রহণযোগ্য। অবশ্য এক্ষেত্রে কেউ যদি দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করে তাহলে দ্বিতীয় মত অনুসারে তার নামায আদায় হয়ে যাবে এবং সাহু সিজদাও ওয়াজিব হবে না।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৯০; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারাহ আদায় করার পর জনৈকা মহিলার হায়েয...

প্রশ্ন

পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফে যিয়ারাহ আদায় করার পর জনৈকা মহিলার হায়েয শুরু হয়ে যায়। ফলে সে অপবিত্র অবস্থায় সায়ী করে। উক্ত মহিলার সায়ী কি আদায় হয়েছে? এই জন্য কি তাকে দম দিতে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত মহিলার সায়ী আদায় হয়েছে। কেননা সায়ীর জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। তাই মহিলাদের জন্য এ অবস্থায় সায়ী করা জায়েয। আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, তাওয়াফে যিয়ারাহ আদায়ের পর সায়ীর পূর্বে কোনো মহিলার হায়েয এসে গেলে সে যেন (এ অবস্থায়) সাফা-মারওয়ার সায়ী করে নেয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১৪৫৮৩) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা ও হযরত উম্মে সালামা রা. থেকেও এমন বর্ণনা রয়েছে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, ৮/৪৪১; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৫১; বাদায়েউস সানায়ে ২/৩১৯; যুবদাতুল মানাসিক, ১৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪২১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

এক ব্যক্তি দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত প্রথম সিজদা করার পর...

প্রশ্ন

এক ব্যক্তি দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত প্রথম সিজদা করার পর মাত্র ছয় ইঞ্চি উপরে মাথা তুলে দ্বিতীয় সিজদা করত। এখন সে বৃদ্ধ। জানতে চাই, তার এত বছরের আদায়কৃত নামাযের হুকুম কী? আর এখন তার করণীয় কী?

উত্তর

দুই সিজদার মাঝে সোজা স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব। এ ব্যাপারে হাদীস শরীফে যথেষ্ট তাকীদ এসেছে। আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করার পর এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে নামায পড়ল। অতপর এসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জওয়াব দিয়ে বললেন, ফিরে যাও। আবার নামায পড়। কেননা তুমি তো নামায পড়নি। সে পুনরায় নামায পড়ার পর এসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল। তিনি বললেন, ফিরে যাও, আবার নামায পড়। কেননা তুমি তো নামায পড়নি। (তিনবার এরূপ হল)। সে বলল, যে সত্তা আপনাকে সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন তার শপথ, আমি এর চেয়ে উত্তম তরীকায় নামায পড়তে জানি না। তাই আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি নামাযে দাঁড়াবে তখন তাকবীর বলবে, অতপর কুরআনের যতটুকু তিলাওয়াত করা তোমার জন্য সম্ভব ততটুকু তিলাওয়াত কর। তারপর ধীরস্থিরভাবে রুকু কর। অতপর সোজা স্থির হয়ে দাঁড়াও। অতপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা কর, এরপর ধীরস্থির হয়ে বস, তারপর ধীরস্থিরভাবে সিজদা কর, তোমার পুরো নামায এভাবেই আদায় কর।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৭৯৩

উক্ত হাদীসের আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম দুই সিজদার মাঝে স্থির হয়ে বসাকে ওয়াজিব বলেছেন। এ ওয়াজিব তরক করলে নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি দ্বিতীয় সিজদার জন্য ছয় ইঞ্চি পরিমাণ উঠার দ্বারা তার দ্বিতীয় সিজদার ফরয আদায় হয়ে গেছে। কিন্তু সোজা হয়ে ধীরস্থিরভাবে বসার ওয়াজিব তরক করার কারণে নামায মাকরূহ তাহরীমী হয়েছে। এখন তার কর্তব্য হচ্ছে, বিগত সময়ের কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর দরবারে ইস্তিগফার করা এবং এখন থেকে পরিপূর্ণ তরীকা মতো নামায আদায় করা।

-আলবাহরুর রায়েক ১/৩০০; রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৪; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৮৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৩; আলইখতিয়ার লিতালীলিল মুখতার ১/১৭৯; শরহুল মুনইয়াহ ৩২২-৩২৩

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪১৯
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি যখন নামাযে মাসবুক হই তখন ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম...

প্রশ্ন

আমি যখন নামাযে মাসবুক হই তখন ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম শুরু করলেই বাকি নামাযের জন্য দাঁড়িয়ে যাই। আর অনেককে দেখি, ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম শেষ করলে তারপর দাঁড়ায়। প্রশ্ন হল, ইমাম সাহেব প্রথম সালাম ফেরানোর পর দ্বিতীয় সালাম শুরু করার আগে যদি দাঁড়িয়ে যাই তাহলে আমার নামায হবে কি?

উত্তর

হ্যাঁ, এক্ষেত্রেও আপনার নামায হয়ে যাবে। তবে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পরই দাঁড়ানো উত্তম। কেননা ইমাম সাহু সিজদা দিবেন না-এ কথা নিশ্চিত হওয়ার পর মাসবুকের জন্য দাঁড়ানো ভালো।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/২২৫-২২৬; মারাকিল ফালাহ ২৫২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৭; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৭৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৬৮

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৪১৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

মাসবুক যদি ইমামের সালামের সাথে একদিকে বা উভয় দিকে সালাম...

প্রশ্ন

মাসবুক যদি ইমামের সালামের সাথে একদিকে বা উভয় দিকে সালাম ফিরিয়ে ফেলে তাহলে এর হুকুম কী এবং সিজদায়ে সাহু লাগবে কি না?

উত্তর

মাসবুক যদি ইমামের সালামের পূর্বে অথবা একেবারে সাথে সালাম ফিরিয়ে থাকে তাহলে তাকে সাহু সিজদা দিতে হবে না। আর যদি ইমামের সালামের পর সালাম ফিরিয়ে থাকে তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৪২২; ফাতহুল কাদীর ১/৩৩৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৭৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৯৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৯৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমার বয়স ৩৫ বছর। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমি হিন্দু ধর্ম থেকে...

প্রশ্ন

আমার বয়স ৩৫ বছর। আল্লাহর মেহেরবানিতে আমি হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছি। হুজুরের নিকট জানতে চাই যে, এ বয়সে আমার জন্য খতনা করার হুকুম কি? আর খতনার জন্য ডাক্তারের সামনে সতর খোলা জায়েয হবে কি?

উত্তর

খতনা করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং শাআয়েরে ইসলাম অর্থাৎ ইসলামের প্রতীকী বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও এ হুকুম প্রযোজ্য হবে। অতএব আপনাকে খতনা করে নিতে হবে। আর এজন্য ডাক্তারের সামনে প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলারও অবকাশ আছে।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৫৬, ৬২৯৭; ফাতহুল বারী ১১/৯২; সুনানে নাসায়ী ১/৬৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৭০; হেদায়া ৪/৪৪৩; কিফায়া ৮/৪৬২; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০৯

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৯৬
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি একটি হাইস্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক। এ হাই স্কুলে অনেক হিন্দু...

প্রশ্ন

আমি একটি হাইস্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক। এ হাই স্কুলে অনেক হিন্দু ছাত্রও আছে। বিভিন্ন সময় দেখা-সাক্ষাতে হিন্দু ছাত্ররা আমাকে সালাম দেয়। প্রশ্ন হল, তাদের সালামের জওয়াব দেওয়া কি জায়েয হবে?

উত্তর

হিন্দু বা অমুসলিরা সালাম দিলে উত্তরে শুধু ওয়া আলাইকুম বলা যাবে। পুরো উত্তর দেওয়া যাবে না।

-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬২৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২০; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪১২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৫১
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে...

প্রশ্ন

গত রমযানে আমার এক বন্ধু একাকী তারাবীর নামায পড়াতে গিয়ে একসাথে চার রাকাত পড়ে ফেলে। দুই রাকাতের পর তাশাহহুদ পড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং আরো দুই রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়। এভাবে চার রাকাত পড়ার দ্বারা কত রাকাত আদায় হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে এক সালামে চার রাকাত পড়লেও দুই রাকাতের পর বৈঠক করার কারণে চার রাকাতই তারাবীহ হিসেবে আদায় হয়েছে। তবে তারাবীহ নামায ইচ্ছাকৃতভাবে একসাথে চার রাকাত পড়া ঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ১/৬৪৬; আলবাহরুর রায়েক ২/৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৪০

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৪৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়...

প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে উভয় ঈদের নামাযের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয় এবং ঠিক সময়েই নামায শুরু করা হয়। যার কারণে অনেক মুসল্লি মাসবুক হয়। তাই আমি ঈদের নামাযের মাসবুক সম্পর্কে কিছু মাসআলা জানতে চাই।

ক) ইমাম সাহেবকে প্রথম রাকাতে কিরাত অবস্থায় পাওয়া গেলে তখন কী করবে?

খ) আর এক রাকাত ছুটে গেলে তা পরবর্তীতে কোন নিয়মে আদায় করবে?

গ) ইমাম সাহেবকে তাশাহহুদে পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে ঈদের নামায পেয়েছে বলে ধর্তব্য হবে কি? হলে এক্ষেত্রে সালামের পর দু রাকাত কীভাবে আদায় করবে?

উত্তর

ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কিরাত অবস্থায় শরিক হলে তাকবীরে তাহরীমার পর নিজে নিজে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে। অতপর বাকি নামায যথানিয়মে ইমামের সাথে আদায় করবে। আর ঈদের নামাযের এক রাকাত ছুটে গেলে ইমামের সালামের পর দাঁড়িয়ে আগে সূরা-কিরাত পড়বে এরপর রুকুর আগে অতিরিক্ত তিন তাকবীর বলবে।

আর কোনো ব্যক্তি ইমামের তাশাহহুদ অবস্থায় জামাতে শরিক হলে তার নামাযও সহীহ হবে। এক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের সালামের পর দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক নিয়মেই দুই রাকাত নামায পড়বে। অর্থাৎ প্রথম রাকাতের শুরুতেই অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলে নিবে। অতপর সূরা-কিরাত পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুর আগে অতিরিক্ত তাকবীরগুলো বলবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৬১৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৪৯২; কিতাবুল আছল ১/৩২২; ফাতহুল কাদীর ২/৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, আছর : ৫৮৬৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২১৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩৩৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি দীর্ঘদিন যাবত মাছের ব্যবসা করছি। আমি মাছের আড়ৎ এর...

প্রশ্ন

আমি দীর্ঘদিন যাবত মাছের ব্যবসা করছি। আমি মাছের আড়ৎ এর মালিক। এই ব্যবসার পদ্ধতি হচ্ছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ও সাগর পাড়ে একদল মাছ ব্যবসায়ী থাকেন, যাদের সাথে ঢাকাসহ জেলার মাছের আড়তদারগণ প্রতি এক বছরের জন্য একটি চুক্তি করে থাকেন যে, আড়তের মালিক পক্ষ ঐ নদীর পাড়ের মাছ ব্যবসায়ী-যাকে আমরা পার্টি/ব্যাপারী বলে থাকি-তাকে নির্দিষ্ট অংকের যেমন, পাঁচ অথবা দশ লক্ষ টাকা দিবে এই কথার উপর যে, ঐ পার্টি এক বছর ঐ আড়তদারকে মাছ দিবে। আর ঐ মাছ বিক্রি করে দেওয়ার জন্য আড়তদার সেই ক্রয়-বিক্রয় থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবে। কিন্তু এই ক্রয়-বিক্রয়ের লাভ/লোকসানের সম্পূর্ণ মালিক হচ্ছেন ঐ পার্টি। আর ঐ যে পূর্বে ৫/১০ লক্ষ টাকা পার্টিকে দেওয়া হয়েছে সেটা আড়তদার এবং পার্টি অর্থাৎ উভয় পক্ষের আলোচনা সাপেক্ষে পার্টির কাছ থেকে আড়তদার (মালিক পক্ষ) এক বছরে প্রতিদিন কিছু কিছু করে কেটে রাখবে। এরপর বছর শেষে আবার নতুন করে হিসাব শুরু হবে। দেশের সমস্ত আড়তের কার্যক্রম এভাবেই চলছে। শত শত আড়তদারগণ এই নিয়মেই ব্যবসা করছেন। সম্মানিত মুফতীগণের নিকট আমার জিজ্ঞাসা এই ব্যবসাটি কতটুকু শরীয়তসম্মত? হালাল নাকি হারাম? কুরআন-হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নে বর্ণিত লেনদেনটি জায়েয নয়। এটি মূলত ঋণ প্রদান করে তা থেকে উপকৃত হওয়ার একটি পন্থা। কেননা এক্ষেত্রে আড়তদার মাছের ব্যবসায়ীকে ঋণ না দিলে ঐ ব্যবসায়ী তার কাছে মাছ নিয়ে আসত না এবং সে তা থেকে আড়তদারি কমিশনও পেত না। আর কাউকে ঋণ দিয়ে তার থেকে শর্ত করে উপকৃত হওয়া সুদের অন্তর্ভুক্ত। ফাযালা ইবনে উবাইদ রা. বলেন, প্রত্যেক ঋণ, যা লাভ নিয়ে আসে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (আসসুনানুল কুবরা, বায়হাকী ৫/৩৫০)

দ্বিতীয়ত এক্ষেত্রে আড়তদার মাছের ব্যবসায়ীকে ঋণ দিচ্ছে এ শর্তে যে, ব্যবসায়ী তার মাছগুলো আড়তদারের কাছে নিয়ে আসবে এবং সে এগুলো বিক্রি করে দিয়ে ব্যবসায়ী থেকে কমিশন নিবে। আর এভাবে এক কারবারের সাথে আরেকটি চুক্তি শর্তযুক্ত করা, বিশেষ করে ঋণ প্রদানের সাথে এভাবে অন্য লেনদেনের শর্ত করা নাজায়েয। হাদীস শরীফে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই কারবারে আরেকটি চুক্তির শর্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৭৮৩)

আরেক বর্ণনায় আছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, একই কারবারে আরেকটি চুক্তি শর্তযুক্ত করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ১০৫৩)

আরেক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের সাথে ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি শর্তযুক্ত করা অবৈধ বলেছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস : ১২৩৪)

সুতরাং প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে বৈধভাবে কারবার করতে চাইলে ব্যবসায়ীর সাথে মাছের আগাম খরিদের চুক্তি করা যেতে পারে। যাকে পরিভাষায় বাইউস সালাম বলা হয়। তখন এক বছরের জন্য মাছের ব্যবসায়ী থেকে নির্ধারিত পরিমাণ মাছ অগ্রিম মূল্যে ক্রয় করে ব্যবসায়ীকে পুরো মূল্য নগদে পরিশোধ করে দিবে। এক্ষেত্রে মাছের প্রকার, সাইজ, মান ও পরিমাণ সবকিছু চুক্তির সময়ই ভালোভাবে ঠিক করে লিখে নিতে হবে।

এভাবে মাছের আগাম খরিদ চুক্তি করার পর মাছের ব্যবসায়ী যখন আড়তদারকে মাছ এনে দিবে তখন আড়তদার এগুলোর মালিক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে মাছ বিক্রির পর লাভ-ক্ষতি সব আড়তদারের হবে। যা লাভ হবে সে-ই পুরোটার মালিক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে মাছের ব্যবসায়ী যদি আগাম খরিদ চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত আরো মাছ নিয়ে আসে তবে আড়তদার তা বিক্রি করে দিতে পারবে এবং এর বিনিময়ে কমিশনও নিতে পারবে। কিন্তু বাইউস সালামের সাথে এমন কোনো শর্ত করা যাবে না।

-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ২৭৮৩; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ১০৫৩; কিতাবুল আছার ২/৬৪৭; জামে তিরমিযী, হাদীস : ১২৩৪; আলবাহরুর রায়েক ৭/৩১১; শরহুল মাজাল্লাহ, খালিদ আতাসী ২/৩৮৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬৩২২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের পাশের বাসায় এক হিন্দু পরিবার ভাড়া থাকে। একবার তাদের...

প্রশ্ন

আমাদের পাশের বাসায় এক হিন্দু পরিবার ভাড়া থাকে। একবার তাদের ছোট ছেলে অসুস্থ হলে আমি কিছু ফলমূল নিয়ে তাকে দেখতে যাই। আসার সময় বেশ কিছু টাকাও দিয়ে আসি। কিন্তু এখন আমি এটা ভেবে খুবই চিন্তিত যে, আমি একজন মুসলমান হয়েও হিন্দু ছেলেকে দেখতে যাওয়া এবং টাকা দেওয়া জায়েয হয়েছে কি না? দয়া করে জানাবেন।

উত্তর

প্রতিবেশী অমুসলিম হলেও তাদের সাথে সদাচরণ করা, বিপদ-আপদে সাহায্য করা এবং অসুস্থতার সময় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা ইসলামের শিক্ষা। হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, এক ইহুদী বালক রাসূলুলা সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম-এর খেদমত করত। একবার সে অসুস্থ হলে রাসূলুলাহ সালালাহু আলাইহি ওয়াসালাম তাকে দেখতে গেলেন। অতপর তাকে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ কর। তখন সে মুসলমান হয়ে গেল। (সহীহ বুখারী ২/৮৪৪)

তাই প্রশ্নোক্ত হিন্দুকে দেখতে যাওয়া এবং তাকে সাহায্য করা অন্যায় হয়নি। তবে বিধর্মীদের সাথে হৃদ্যতা ও অন্তরঙ্গ বন্ধুত্ব কায়েম করা যাবে না। পবিত্র কুরআন মজীদে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৮; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০৪; ইমদাদুল মুফতীন ৮৪৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৬৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

মোকছুদুল মুমিনীন ও বেহেশতের কুঞ্জি এই কিতাবের চতুর্থ অধ্যায়ে আছে,...

প্রশ্ন

মোকছুদুল মুমিনীন ও বেহেশতের কুঞ্জি এই কিতাবের চতুর্থ অধ্যায়ে আছে, ‘‘ওমরি কাযা নামায আদায়ের বিবরণ :

রুকনে দ্বীন কিতাবে বর্নিত আছে, হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরমাইয়াছেন, যদি কোনো লোকের বহু দিনের নামায কাযা হইয়া থাকে এবং উহার সংখ্যা তাহার স্মরণ নাই, তাহা হইলে ঐ লোকটি শুক্রবার দিন জুময়ার নামাযের পূর্বে নিম্ন নিয়মে এক সালামে চার রাকায়াত নামায পড়িবে। ইহার প্রতি রাকায়াতে সূরা ফাতিহার পরে ৭ বার আয়াতুল কুরসী এবং ১৫ বার সূরা কাওছার পাঠ করিবে। এই নামায কেহ আদায় করিলে তাহার ও তাহার পিতামাতার জীবনের কাযা নামায আল্লাহ তায়ালা মাফ করিয়া দিবেন।’’

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কথাটি আমি কখনো কোথাও শুনিনি। যদি বাস্তবেই তা সঠিক হয়ে থাকে এবং আপনি যদি জানাতেন তাহলে খুবই উপকার হতো।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত কথাটি হাদীস নয়। এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কথা। এটি শরীয়তের অনেক স্বতসিদ্ধ মৌলনীতির পরিপন্থী। মুহাদ্দীসগণ এসব বর্ণনাকে স্পষ্টভাষায় বাতিল ও জাল বলেছেন। (রদয়ুল ইখওয়ান আন মুহদাসাতি আখেরী জুমআতি রমাযান, আবদুল হাই লক্ষ্ণৌবী, পৃ. ৪০-৪৪)

তাছাড়া জীবনের ছুটে যাওয়া নামায কাযা করার শক্তি সামর্থ্য থাকলে কাযাই করতে হবে।

এ সম্পর্কে বিস্তারিত দলিল প্রমাণ জানতে চাইলে মাসিক আলকাউসার ফেব্রুয়ারি ’০৫ সংখ্যাটি দেখুন। সেখানে এ বিষয়ে পৃথক একটি প্রবন্ধ লেখা হয়েছে।

আর কাযা নামাযের সংখ্যা স্মরণ না থাকলে প্রবল ধারণা অনুযায়ী একটা সংখ্যা নির্ধারণ করে এর কাযা আদায় করতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, রুকনে দ্বীন, মোকছুদুল মুমিনীন ও নেয়ামুল কুরআন জাতীয় কিতাবাদি নির্ভরযোগ্য নয়। এগুলোতে অসংখ্য জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনা আছে এবং তাতে প্রচুর ভুল মাসআলা-মাসায়েল রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন অলিক ও ভিত্তিহীন কাহিনীও সেগুলোতে স্থান পেয়েছে’’। তাই এসব কিতাব পড়া ঠিক নয়। সঠিক মাসআলার জন্য বেহেশতী জেওর, মাসনূন দুআর জন্য ‘হিসনে হাসীন’ (ইমাম জাযারী রাহ. কৃত) ও বিভিন্ন বিষয়ের সুন্নত আমলের জন্য ডাক্তার আবদুল হাই আরেফী রাহ.কৃত ‘উসওয়ায়ে রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ পড়া যেতে পারে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২৬৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমরা বিভিন্ন সময় আলেমগণ থেকে দরূদ শরীফ পড়ার বিশেষ ফযীলত...

প্রশ্ন

আমরা বিভিন্ন সময় আলেমগণ থেকে দরূদ শরীফ পড়ার বিশেষ ফযীলত শুনেছি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হল, দরূদ শরীফ কি নিজ থেকে বানিয়ে পড়লেও দরূদ আদায় হয়ে যাবে? নাকি হাদীস ও আছারে বর্ণিত দরূদই পড়া শর্ত?

উত্তর

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যে সকল দরূদ শরীফ হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে সেগুলো

পড়া সর্বাপেক্ষা উত্তম। সাহাবায়ে কেরাম আরবী ভাষাভাষী হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা কীভাবে দরূদ পড়বেন তা রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জেনে নিতেন। যেমন হাদীস শরীফে এসেছে, কাব বিন উজরা রা. বলেছেন, একবার রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আগমন করলে আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার প্রতি সালাম পেশ করার পদ্ধতি তো জানলাম কিন্তু দরূদ কীভাবে পেশ করব? তখন তিনি বললেন, তোমরা বল-

اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد، اللهم بارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد.

(সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৭০)

অন্য একটি বর্ণনায় তিনি বলেছেন, তোমরা (এভাবে দরূদ) পড়)-

اللهم اجعل صلواتك وبركاتك على آل محمد كما جعلتها على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস : ৮৭২৬)

তাই যথাসম্ভব হাদীসে বর্ণিত দরূদ শরীফ পড়ার অভ্যাস করা উচিত।

এছাড়া কোনো কোনো সাহাবা থেকেও কিছু দরূদ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. তাঁর সঙ্গীদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তোমরা এভাবে দরূদ পড়-

اللهم اجعل صلاتك ورحمتك وبركاتك على سيد المرسلين وإمام المتقين وخاتم النبيين محمد عبدك ورسولك، إمام الخير وقائد الخير ورسول الرحمة، اللهم ابعثه مقاما محمودا يغبطه به الأولون والآخرون، اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وآل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

(আলমুজামুল কাবীর, হাদীস : ৮৫৯৪)

উপরোক্ত দরূদ শরীফ আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

তাই সম্ভব হলে এগুলোও পড়বে।

অবশ্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে নিজ থেকে দরূদ শরীফের বাক্য তৈরী করা বা বুযুর্গদের মামুল কোনো দরূদ পাঠ করারও অবকাশ আছে। যে বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে তা নিম্নরূপ :

ক) সালাত ও সালাম সম্বলিত বাক্য হওয়া এবং ভাষা বিশুদ্ধ হওয়া।

খ) দরূদে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশাপাশি তাঁর ‘আল’ ও ‘আযওয়াজ’ অর্থাৎ পরিবার পরিজন ও স্ত্রীগণকেও অন্তর্ভুক্ত রাখা। কেননা সালাত ও সালাম দ্বারা মূল দরূদ আদায় হয়ে গেলেও দরূদের পরিপূর্ণতার জন্য এগুলোও দরকার। (দেখুন : আলকাওলুল বাদী ৮৩)

এছাড়া প্রায় সকল হাদীস ও আছারে বর্ণিত দরূদ শরীফে ‘আল’ কে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার কোনোটিতে ‘আযওয়াজ’ কেও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সহীহ বুখারীতে (হাদীস : ৬৩৬০) এসেছে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা (এভাবে দরূদ) পড় –

اللهم صل على محمد وأزواجه وذريته كما صليت على آل إبراهيم، وبارك على محمد وأزواجه وذريته كما باركت على آل إبراهيم، إنك حميد مجيد.

গ) তাওহীদ পরিপন্থী বা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের আকীদা পরিপন্থী কোনো বিষয় না থাকা।

ঘ) হাদীস ও আছারে বর্ণিত দরূদের চেয়ে অন্য কোনো দরূদকে অধিক মর্যাদাপূর্ণ ও বিশেষ ফযীলতপূর্ণ মনে না করা।

ঙ) যেসব ক্ষেত্রে শরীয়তের পক্ষ হতে বিশেষ বিশেষ দরূদ শরীফ নির্ধারিত আছে। যেমন নামাযে দরূদে ইবরাহীমী সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ঐ দরূদ শরীফই পাঠ করবে।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২২৪
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

পাগড়ি পরিধানের হুকুম সবিস্তারে জানতে চাই। অনেককে দেখা যায়, বিশেষ...

প্রশ্ন

পাগড়ি পরিধানের হুকুম সবিস্তারে জানতে চাই। অনেককে দেখা যায়, বিশেষ বিশেষ সময় বিশেষ বিশেষ স্থানে পাগড়ি পরিধান করে থাকেন। কেউ ফরয নামাযের সময়, কেউ আবার জুমার নামাযের সময় আর কেউ ঈদ বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরিধান করেন। দলিল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

পাগড়ি পোশাকের একটি সুন্নত। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত যেসকল পোশাক ব্যবহার করতেন পাগড়িও সেগুলোর অন্তর্ভুক্ত ছিল। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীনের নিকট পাগড়ি একটি পছন্দনীয় পোশাক ছিল এটি আরবের একটি ঐতিহ্যও বটে।

স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় পাগড়ি ব্যবহার করেছেন তা বহু হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আছে। এখানে দু’ একটি হাদীস উল্লেখ করা হল।

জাবির রা. বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মক্কায়) প্রবেশ করলেন। তখন তাঁর মাথায় কালো পাগড়ি ছিল।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৫৮

মুগীরা ইবনে শুবা রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওযু করলেন এবং মাথার অগ্রভাগ ও পাগড়ির উপর মাসাহ করলেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৮১

সহীহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আমর ইবনে হুরাইস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার লোকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিলেন। সে সময় তিনি কালো পাগড়ি পরিহিত ছিলেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৫৯

তাঁর পাগড়ি পরিধান সংক্রান্ত এ ধরনের আরো অনেক বর্ণনা হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

সাহাবা, তাবেয়ীগণও নামাযে এবং নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি ব্যবহার করতেন। দ্রষ্টব্য : সহীহ বুখারী ১/৫৬

সুলাইমান ইবনে আবি আবদিল্লাহ রাহ. বলেন, আমি মুহাজির সাহাবীগণকে কালো, সাদা, হলুদ, সবুজ বিভিন্ন রঙের পাগড়ি পরতে দেখেছি।-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস : ২৫৪৮৯

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সম্পর্কে বর্ণিত আছে, তিনি মক্কা মুকাররমার উদ্দেশে বের হলে সঙ্গে পাগড়ি নিতেন এবং তা পরিধান করতেন।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৫৫২

আবু উবাইদ রাহ. বলেছেন, আমি আতা ইবনে ইয়াযিদকে পাগড়ি পরিহিত অবস্থায় নামায পড়তে দেখেছি।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১১৭৮০

উপরোক্ত হাদীস ও আছার থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, সাহাবা, তাবেয়ীন নামাযে ও নামাযের বাইরে বিভিন্ন সময় ব্যাপকভাবে পাগড়ি পরতেন। তাঁদের কাছে পোশাক হিসেবে পাগড়ির একটি বিশেষ অবস্থান ও গুরুত্ব ছিল।

তাই পোশাকের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফের অভ্যাসের অনুসরণ করা ভালো এবং তাদের মহববতে এই অনুসরণের কারণে ইনশাআল্লাহ সওয়াবও হবে।

তবে জেনে রাখা দরকার যে, পাগড়ি নির্দিষ্ট কোনো সময়, স্থান বা বিশেষ ইবাদতের সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়। পাগড়িকে নামাযের জন্য অপরিহার্য মনে করা অথবা পাগড়িসহ নামায আদায় করলে বিশেষ ছওয়াব (যেমন, এক রাকাতে পঁচিশ রাকাত বা সত্তর রাকাতের সওয়াব) হবে-এমন ধারণা করা ভুল; বরং পাগড়ি পোশাকেরই একটি ঐচ্ছিক অংশ।

পোশাক হিসাবে তা পরিধান করা বা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কোনো অনুষ্ঠানে পরা বা সকল নামাযের জন্য পাগড়ি পরা কিংবা জুমা-ঈদ ইত্যাদিতে বা কোনো কোনো নামাযে পরা সবই ঠিক আছে।

উল্লেখ্য, পাগড়িকে এমন সীমাবদ্ধতার সাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, যার কারণে বাহ্যিকভাবে বোঝা যায় যে, পাগড়ি ঐ সময়ের একটি বিশেষ আমল। এমনভাবে সীমাবদ্ধ করে নেওয়া তার ব্যবহার রীতিরও পরিপন্থী। যেমনটি কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ফরয নামাযের ইকামত যখন শুরু হয় তখন পাগড়ি বাঁধে আবার সালাম ফেরানোমাত্রই তা খুলে ফেলে। পাগড়িকে এভাবে নামাযের সাথে সম্পৃক্ত মনে করা ঠিক নয়।

আরো উল্লেখ্য যে, পাগিড় পরিধান করে নামায আদায় করলে ছওয়াব বেশি হওয়া সংক্রান্ত যেসকল বর্ণনা রয়েছে সেগুলোর কোনোটি সহীহ নয়।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬২০৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

সালামের জওয়াবের হুকুম কি? সালামের জওয়াব মনে মনে দিব না...

প্রশ্ন

সালামের জওয়াবের হুকুম কি? সালামের জওয়াব মনে মনে দিব না সালামদাতাকে শুনিয়ে দিব? আর যেভাবে দিব তার হুকুম কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

সালামের জওয়াব সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। শুধু মনে মনে উত্তর দেওয়া বা নিম্নস্বরে দেওয়া যথেষ্ট নয়।

অবশ্য সালামদাতা যদি এতটা দূরে থাকে যে, তাকে উত্তর শুনিয়ে দেওয়া কষ্টসাধ্য হয় সেক্ষেত্রে শুনিয়ে দেওয়া জরুরি নয়। এক্ষেত্রে মৌখিক উত্তরের পাশাপাশি সম্ভব হলে হাত দ্বারা ইশারাও করবে। যেন সালামদাতা বুঝতে পারে যে, তার সালামের উত্তর নেওয়া হয়েছে।

-ফাতহুল বারী ১১/২১; তাকমিলাতু ফাতহুল মুলহিম ৪/২৪৫; রদ্দুল মুহতার ৬/৪১৩; ইমদাদুল ফাতাওয়া ৪/২৭৫

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৯৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমাদের পরিবারে কুরবানীর গোশত দিয়ে গরীব মহিলাদেরকে দাওয়াত খাওয়ানোর রেওয়াজ...

প্রশ্ন

আমাদের পরিবারে কুরবানীর গোশত দিয়ে গরীব মহিলাদেরকে দাওয়াত খাওয়ানোর রেওয়াজ আছে। কিন্তু আমি ছোট বেলা থেকে লক্ষ্য করেছি, হিন্দু মহিলাদেরকে কুরবানীর গোশত দেওয়া হয় না। তাদের জন্য পৃথক গোশত আনিয়ে নেওয়া হয়। জানতে চাই, হিন্দুদেরকে কুরবানীর গোশত দিতে অসুবিধা আছে কি?

উত্তর

কুরবানীর গোশত হিন্দু বা অমুসলিমকেও দেওয়া জায়েয। এতে অসুবিধার কিছু নেই।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৩৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০০; ইমদাদুল আহকাম ৪/২০৬

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৫৮
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কিছুদিন আগে আমি ঢাকা থেকে সিলেট টিলাগড় এলাকায় সফরে যাই।...

প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমি ঢাকা থেকে সিলেট টিলাগড় এলাকায় সফরে যাই। সেখানে পৌঁছে আসর নামাযে স্থানীয় মসজিদের জামাতে শরিক হই এবং মুসাফির হিসেবে ২ রাকাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে ফেলি। পরে একজন মুসল্লি আমাকে বললেন, মুকীম ইমামের পিছনে মুসাফির ব্যক্তি নামাযের নিয়ত/ইক্তিদা করলে চার রাকাত বিশিষ্ট নামায চার রাকাতই পড়তে হয়।

এখন আমার এ নামাযের হুকুম কি? যদি পুনরায় আদায় করতে হয় তাহলে কত রাকাত আদায় করতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

ওই ব্যক্তি ঠিকই বলেছে। চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযে মুসাফির ব্যক্তি মুকীম ইমামের পিছনে ইক্তিদা করলে তাকে পূর্ণ নামাযই পড়তে হবে। এক্ষেত্রে দুই রাকাত পড়লে নামায আদায় হবে না। অতএব আপনার ঐ নামাযও আদায় হয়নি। এখন ঐদিন আসরের ওয়াক্তের শেষ পর্যন্ত যদি আপনি মুসাফিরই থাকেন তবে আসরের দুই রাকাত ফরয কাযা করে নিতে হবে।

আর যদি ওয়াক্ত শেষ হওয়ার আগেই আপনি মুকীম হয়ে গিয়ে থাকেন তবে আপনাকে ঐ দিনের আসরের চার রাকাত কাযা করতে হবে।

-আদ্দুররুল মুখতার ২/১৩০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৪২; কিতাবুল আছার ১/১৯৯; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২/৫৪২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১৫৭
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

কিছুদিন পূর্বে একটি মাসিক পত্রিকায় একটি হাদীস পড়েছিলাম যে, এক...

প্রশ্ন

কিছুদিন পূর্বে একটি মাসিক পত্রিকায় একটি হাদীস পড়েছিলাম যে, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে আরয করল ইয়া রাসূলাল্লাহ! দুনিয়া আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং আমার নিকট আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি ফেরেশতাদের দরুদ এবং মানবজাতির এই তাসবীহ দ্বারা কেন কল্যাণ অর্জন কর না, যার মাধ্যমে মানুষকে রিযিক প্রদান করা হয়? লোকটি নিবেদন করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কি? তিনি এরশাদ করেন, ‘‘তুমি সুবহে সাদিক হতে ফজরের নামায আদায় করা পর্যন্ত একশত বার

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

পাঠ করিও। দেখবে দুনিয়া তোমার পায়ে লুটিয়ে পড়বে। এর প্রত্যেকটি শব্দ দ্বারা আল্লাহ তাআলা একজন করে ফেরেশতা সৃষ্টি করবেন, যে কিয়ামত পর্যন্ত তার তসবীহ পাঠ করতে থাকবে এবং তুমি এর সওয়াব পেতে থাকবে।

আমার জানার বিষয় হল, এই হাদীসটি কোন কিতাবে আছে এবং তা আমল যোগ্য কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বর্ণনাটি ইমাম গাযালী রাহ. এহইয়াউ উলূমুদ্দীন গ্রন্থে ‘যিকিরের ফযীলত’ অধ্যায়ে সনদহীন উল্লেখ করেছেন।

এই রেওয়ায়াতটি রিজাল শাস্ত্রের একাধিক কিতাবে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম তাবারীর সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে। হাদীস বিশারদগণ এই বর্ণনাটিকে মওযু ও বাতিল বলেছেন।

ইমাম ইবনে হিববান রহ. ‘কিতাবুল মাজরুহীন’ গ্রন্থে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম তাবারির সূত্রে বর্ণনাটি উল্লেখ করে বলেছেন, এই হাদীসটি ‘মওযু’ এর কোনই ভিত্তি নেই। দেখুন : কিতাবুল মাজরুহীন ১/১৪৯

আল্লামা ইবনে হাজার রহ. লিসানুল মীযানে বর্ণনাটি সম্পর্কে বলেছেন, এটি একটি বাতিল রেওয়ায়েত। তিনি আরো বলেছেন, ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ‘‘সানায় ’’ বসবাস করতেন। তাকে ইবনে আদী ‘‘মুনকারুল হাদীস’’ আখ্যায়িত করেছেন।-লিসানুল মীযান ১/৩৪৪

আরো দ্রষ্টব্য : আল লাআলিল মাসনূআ ২/২৮৭- তানযীহুশ শারীআ ২/৩১৮

সুতরাং উক্ত কথাটি হাদীস নয় এবং বর্ণিত ঐ ফযীলত প্রমাণিত নয়।

অবশ্য প্রশ্নোক্ত বর্ণনাটি ও ফযীলত প্রমাণিত না হলেও এতে যে দুআ, যিকির-আযকার ও ইস্তিগফার উল্লেখ হয়েছে তা সহীহ। এসব যিকর বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং একেকটি তাসবীহর একাধিক ফযীলত হাদীস শরীফে এসেছে।

মুসনাদে আহমাদে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন নূহ আলাইহিস সালামের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল তিনি তাঁর ছেলেকে বললেন তোমাকে দুটি উপদেশ দিচ্ছি।

১. لا إله إلا الله পাঠের নির্দেশ দিচ্ছি। কেননা সাত আসমান সাত যমীন যদি এক পাল্লায় রাখা হয় আর অন্য পাল্লায় لا إله إلا الله রাখা হয় তাহলে لا إله إلا الله এর পাল্লা ভারি হবে।

২. سبحان الله وبحمده পাঠ করবে। কেননা তা প্রত্যেক বস্ত্তর সালাত এবং তাসবীহ এবং এর দ্বারা সৃষ্টিজীবকে রিযক পৌঁছানো হয়।-মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ৬৫৮৩, ৭১০১

এছাড়া সহীহ বুখারিতে (২/১১২৯) এসেছে, দুটি কালেমা আল্লাহ তাআলার নিকট অতি প্রিয়, পড়তে খুব সহজ, মীযানের পাল্লায় অনেক ভারী তা হল

سبحان الله وبحمده سبحان الله العظيم

আর ইস্তিগফারের ফযীলত কুরআন মাজীদের অসংখ্য আয়াত ও হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে তাতো বলারই অপেক্ষা রাখে না।

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬১১৫
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

একবার জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় তাকবীরের পর সালাম...

প্রশ্ন

একবার জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় তাকবীরের পর সালাম ফিরিয়ে দেন। কিন্তু সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই পেছন থেকে মুক্তাদীগণ লোকমা দেয়। তখন ইমাম সাহেব দ্বিতীয় সালাম না বলে এ সময়ের দুআ পড়ে এবং চতুর্থ তাকবীর দিয়ে সালাম ফিরান।

জানার বিষয় হল, এ নামাযটি কি আদায় হয়েছে, না পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ জানাযা নামায আদায় হয়ে গেছে। কেননা ইমাম ভুলবশত সালাম ফিরানোর পর নামায পরিপন্থী কোন কাজ করার পূর্বেই যেহেতু চতুর্থ তাকবীর বলে সালাম ফিরিয়েছেন তাই তা আদায় হয়ে গেছে; পুনরায় পড়তে হবে না।

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬৫; আলবাহরুর রায়েক ২/১৮৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৫১; হাশিয়াতুত তহতাবী আলালমারাকী ৩২২; ইমদাদুল ফাত্তাহ ৬২১

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৮২
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

রাস্তা-ঘাটে অনেক সময় বেগানা মহিলারা পরপুরুষকে সালাম দেয়। এক্ষেত্রে তাদের...

প্রশ্ন

রাস্তা-ঘাটে অনেক সময় বেগানা মহিলারা পরপুরুষকে সালাম দেয়। এক্ষেত্রে তাদের সালামের জবাব দেওয়ার হুকুম কী?

উত্তর

এভাবে বিনা প্রয়োজনে পর পুরুষকে সালাম দেওয়া ঠিক নয়। তাই কোনো মহিলা এভাবে পরপুরুষকে সালাম দিলে তার সালামের জবাব দিবে না। তবে মনে মনে জবাব দিতে পারবে। প্রকাশ থাকে যে, পরপুরুষের সাথে কোনো বেগানা মহিলার কথা বলার প্রয়োজন হলে তখন কথার শুরুতে সালাম আদান-প্রদান করতে পারবে। এক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে খুব সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া পরপুরুষের সাথে কথা বলার যে আদব কুরআন মজীদে আছে তার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। অর্থাৎ কোমলতা পরিহার করে স্বাভাবিকভাবে শুধু প্রয়োজনীয় কথা বলবে।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/২৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩২৬; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭২

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার
ফতোয়া নং: ৬০৭৩
তারিখ: ২৭/১০/২০১৭
বিষয়: আদব-ব্যবহার

আমি একজন কাঠমিস্ত্রি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ করি। কখনো...

প্রশ্ন

আমি একজন কাঠমিস্ত্রি। মানুষের বাড়িতে বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ করি। কখনো কখনো হিন্দু বাড়িতেও কাজ করতে হয়। আর কাজ দীর্ঘ হওয়ার কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হয়। তখন হিন্দু বাড়িতেই খেতে হয়। এ অবস্থায় কি আমার জন্য হিন্দু বাড়িতে খাওয়া বৈধ হবে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

হিন্দু বা বিধর্মীদের তৈরি হালাল খাবার মুসলমানের জন্য খাওয়া জায়েয। আর প্রয়োজনে তাদের বাড়িতেও খানা খাওয়া জায়েয। তাই আপনি কাজ করতে গিয়ে প্রয়োজনে হিন্দু বাড়িতে খানা খেতে পারবেন। তবে তাদের যবাইকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম। তাই তাদের বাড়িতে মুরগী ইত্যাদির গোশত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

প্রকাশ থাকে যে, বিধর্মীদের সাথে হৃদ্যতা, অন্তরঙ্গতা ও বন্ধুত্ব হারাম। এটি কুরআন মজীদের সুস্পষ্ট বিধান। তাই কাজের প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে খাওয়ার অবকাশ আছে। কিন্তু বন্ধুত্ব ও হৃদ্যতাবশত তাদের বাড়িতে খানাপিনা করা ও তাদের দাওয়াত বা অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৬৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১৬৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৭; ফাতাওয়া সিরাজিয়া ৭৪

উত্তর দিয়েছেন : মাসিক আল-কাওসার

Execution time: 0.07 render + 0.01 s transfer.